Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

নিউ ইয়র্কে যে কারণে প্রাণ গিয়েছিল ১২ হতভাগ্যের

বৃহস্পতিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৮

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১২ জন নিহত

বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্কের  ব্রঙ্কসে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে এক বছরের একটি শিশুসহ অন্তত ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানার কাছে একটি এপার্টমেন্ট ভবনে এই অগ্নিকান্ড ঘটে। এতে ১৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় কোনো বাংলাদেশি হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।
মেয়র বিল ডি ব্লাজিও অগ্নিকান্ডের পরপর ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি এই অগ্নিকান্ডকে ২৫ বছরের মধ্যে ভয়াবহতম বলে অভিহিত করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে মেয়র ব্লাজিও বলেন, ১২ জনের মৃত্যু ছাড়াও পনের জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানার কাছে ওই এপার্টমেন্ট ভবনটির প্রথম তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তারপর দ্রুত তা ওপর-নিচে ছড়িয়ে পড়ে।
নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কমিশনার ড্যানিয়েল নিগ্রো জানান, সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে ফায়ার ডিপার্টমেন্ট প্রথম আগুনের খবর পায়। তিন মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নেভানোর কাজে নামে। ড্যানিয়েল নিগ্রো বলেন, নিহতদের বয়স ১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। ভবনের বিভিন্ন তলায় তারা ছিল।
পুলিশ অগ্নিকান্ডের পর পুরো এলাকার বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এলাকার হতবিহ্বল বাসিন্দারা কনকনে শীতের মধ্যে ভবনের সামনের রাস্তায় ভীড় করে দাঁড়িয়ে থাকে। তারা প্রতি মুহূর্তের খবরের জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। ভীড় সামলাতে বেগ পেতে হয় পুলিশকে। ফায়ার ফাইটাররা যখন এক এক করে নিহতদের লাশ বের করে আনছিল তখন একজন নারী ছুটে ছুটে তাদের চেহারা দেখতে যাচ্ছিলেন। ওই নারীর মা আগুনের মধ্যে তিন তলায় আটকা পড়ে তাকে টেক্সট করেছিলেন। ফায়ার ডিপার্টমেন্টের কর্মীরা রাত ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়।

নিউ ইয়র্কে যে কারণে প্রাণ গিয়েছিল ১২ হতভাগ্যের

Picture

বাপ্ নিউজ : নিউ ইয়র্কের ফায়ার সার্ভিস প্রধান ড্যানিয়েল নিগ্রো বলেছেন, মনে হচ্ছে এক শিশু তাদের রান্নাঘরে জ্বলন্ত চুলা নিয়ে খেলতে গিয়ে গত ২৮ বছরে শহরের সবচেয়ে ভয়াবহ আগুন শুরু করেছিল। তিনি বলেন, আগুন খুব দ্রুত সিঁড়িঘর দিয়ে ওপরে উঠে যায়, যার ফলে ভবনের বাসিন্দারা খুব কম সময় পেয়েছিল।
শহরের ব্রঙ্কস এলাকার এই আগুনে ১২ জন মারা যায়, যাদের মধ্যে সাতটি শিশু।

ফায়ার সার্ভিস প্রধান ড্রানিয়েল নিগ্রো বলেন, যে শিশুর কারণে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে তাঁর বয়স তিন বছর। আগুনের সূত্রপাত হবার সাথে সাথে শিশুটির মা তার দুই সন্তান নিয়ে দ্রুত বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় তিনি দরজা খোলা রেখে যান। ফলে সে বাসা থেকে আগুন বেরিয়ে সিড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিস প্রধান বলেন, সিঁড়ির জায়গা একটি আগুনের চিমনি হিসেবে কাজ করেছে এবং এর মাধ্যমে আগুন দ্রুত ওপরের দিকে ছড়িয়েছে। যখন আগুনের সূত্রপাত হয় তখন শিশুটির মা জানত না। চিৎকারের ফলে তিনি আগুন লাগার ঘটনা জানতে পারেন। তখন তিনি তার দুই বছর এবং তিন বছরের দুই সন্তান নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যান।
আগুন এত দ্রুত ওপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে যে বাসিন্দারা বুঝে উঠতে পারেনি। তারা নিচে নামতে পারেনি। যারা নামার চেষ্টা করেছে তাদের কয়েজন সেখানেই পুড়ে মারা গেছে।

নিহতদের নাম এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। আগুন নেভানোর জন্য ১৭০ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী কাজ করেছে। আমেরিকার স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, দুজন শিশুকে জড়িয়ে থাকা এক নারীর মৃতদেহ পাওয়া গেছে। দেখে মনে হচ্ছে তিনি শিশুসহ নিজেকে বাঁচাতে বাথটাবে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

অগ্নিকাণ্ড থেকে যারা বেঁচে গেছেন তাদের অনেকেই পায়ে কোনো জুতা কিংবা গরম কাপড় সাথে আনতে পারেননি। তীব্র শীতের মধ্যে তারা রাস্তায় নেমে আসেন। রাস্তায় আসা বাসিন্দাদের শীত নিবারণের জন্য কম্বল দিয়ে সহায়তা করেছে রেডক্রস।