Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

ইসলামি বিপ্লব রক্ষার অঙ্গীকারে জাতীয় ঐক্য। আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ জানুয়ারী ২০১৮

ইরানে গণতান্ত্রিক দাবি নিয়ে আন্দোলনে দাঙ্গা বাঁধানোর বিদেশী উস্কানীর বিরুদ্ধে রাস্তায় রাস্তায় ইসলামী বিপ্লব রক্ষার প্রত্যয়ে নেমেছে জনতার মিছিল।এই মিছিলে বিপ্লবের নেতা খোমেনী ও সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ছবি বহন করছে মানুষ আর মানুষ।ইসলামী বিপ্লবে সমৃদ্ধ ইরানে দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টারত ডোনাল্ড ট্রাম্প,নেতানিয়াহু ও সৌদি বাদশাহর প্রকাশ্য স্বীকারোক্তির প্রেক্ষিতে জনতার প্রতিবাদ রূপান্তর হয়েছে চেতনার আগ্নেয়গিরিতে।রাষ্ট্র,সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী বিপ্লব রক্ষার অঙ্গিকারে প্রথম কোন দেশ বর্তমান যুগে এতো শক্ত অবস্থানে লৌহকঠিন ঐক্যের দৃঢ়তা দেখাচ্ছে।লেবানন,প্যালেষ্টাইন সিরিয়া মিসর তুরস্কের গণমানুষের কাছে সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রেরণার প্রতীক উঠছে ইরাণী জাতি।   
মধ্যপ্রাচ্যে প্রশ্ন বড় হয়ে উঠছে কে সন্ত্রাসী?কে নীরিহ মানুষের জন্যে বিপজ্জনক?ইরান?লেবাননের হিজবুল্লাহ  বাহিনী? মুক্তিকামি ইয়েমেনী হুতি? মুক্তিকামী ফিলিস্তিনি হামাস? নাকি ইজরাইলের সামরিক বাহিনী?নাকি সৌদি সরকারী বাহিনী?কে আগ্রাসী জঙ্গি- আক্রমণ প্রতিরোধকারী  নাকি আগ্রাসনকারী ?    
ইরানে গণতান্ত্রিক দাবিতে আন্দোলকারীদের সভা সমাবেশকে হঠাৎ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রূপান্তর করার চেষ্টায় বিশৃঙ্খলাকারীদের প্রতি সমর্থন করে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী।ইতিপূর্বে টুইটারে সমর্থন দিয়েছেন মার্কিণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।তাদের উভয়ের দাবি,তারাই ইরানে এই বিশৃংখলা ও উত্তেজনা উস্কে দিয়েছেন।কৃতিত্ব দাবিকারি এই দুজন নেতা আসলে কি সফল হলেন নাকি বিশ্ববিবেকে বিরক্তির কারণ হলেন এই আলোচনা চলছে কূটনৈতিক মহলে।
অবশ্য ইরানী প্রশাসনের দাবি তারা ওদের এজেণ্টদের চিহ্নিত এবং গ্রেফতার করেছেন।কথা হচ্ছে অন্য দেশে এভাবে হস্তক্ষেপের প্রকাশ্য রীতি কি দুনিয়ার সকল দেশের জন্যে নিরাপত্তা বয়ে আনে?জাতিসংঘ এই আচরণ মেনে নেবার কথা নয় জেনেও এই দুই সরকারপ্রধান বিশেষ স্বার্থে যে সমীকরণ মিলিয়েছেন তাতে মনে হতেই পারে এরা জাতিসংঘকে থোরাই করেননা।
এই বিশেষ ধারাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আমেরিকাকে যে জটিল অবস্থায় জড়ানো হচ্ছে,তাতে আমেরিকার ইওরোপীয় মিত্ররা চীন-রাশিয়া নেতৃত্বাধীন বলয়ে যুক্ত হবে জেনেও এই ঝুঁকি নেয়া হয়েছে।এই মিত্রেরা যে প্রেক্ষাপটে ইরাক,লিবিয়া,সিরিয়া, মিশর, আফগানিস্তান, আক্রমনে আমেরিকাকে সমর্থন দিয়েছিলো একই পরিস্থিতি কি এখনো আছে? ইরান ও প্যালেষ্টাইন প্রশ্নে ওরা কি আগ্রাসনের পক্ষে অবস্থান নেবেন? সাম্প্রতিককালে সিরিয়ায় ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু যুদ্ধ করেও হেরে গেলেন। এই পরাজয় কি গোপ্ন আছে?  
এদিকে ১জানুয়ারী সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি দিয়েছে ইরানে বিদেশী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে।ইরাণের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করার ঘটনা গ্রহন যোগ্য নয়।আমরা আশা করি পরিস্থতিতি রক্তপাত ও সহিংসতার দিকে যাবেনা।এই হস্তক্ষেপের বিরোধীতা করেছে করেছে রাশিয়া তুরস্ক ও সিরিয়া।  
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জিততে পারার মত অবস্থা থাকলে ওবামা-কেরি-হিলারী প্রশাসন কি নেতানিয়াহুর চাপে যুদ্ধ চাপিয়ে দিতেননা?  সৌদি রাজপরিবারের শক্তির উপর ভর করে কতটুকুন বেশী অগ্রসর হওয়া যাবে?সৌদী জোটের বাহিনী ইয়েমেনে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে সবচেয়ে আপন প্রতিবেশী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
 ইজরাইলের পক্ষ হয়ে সৌদি জোট লড়াই করতে গেলে ইয়েমেনি হুতি যোদ্ধারা, ইরান, তুরস্ক,ইরাক,লেবানন,ফিলিস্তিনীদের সাথে এক হয়ে লড়বেনা? পারমানবিক শক্তিধর পাকিস্তানকে ক্ষেপিয়ে তুলছেন ট্রাম্প প্রশাসন।এদিক থেকে আফগানিস্তান পাকিস্তান সহ ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো রাশিয়ার দিক থেকে আজারবাইজান,কাজাখিস্তান,কিরঘিজিয়া,তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান ইরানের পক্ষে সমর্থন দিয়ে জোটবদ্ধ হবেই।
বুঝলাম তাতে সমরাস্ত্র কারখানাগুলোর গুরুত্ব বাড়বে।এদের অনেকদিনের পুরাতন অস্ত্রগুলোর অনেকগুলো শেষ হয়ে যাবে।নতুন অস্ত্রের বাজা্রে চাহিদা বাড়বে।শক্তি সামর্থ্যের বলয়ে নয়া পরিস্থিতির উদ্ভব হবে।আমেরিকার কি হবে?  আমেরিকা দূর্বল হবে।এই দূর্বল হওয়াটা আমেরিকান নাগরিক এবং যোদ্ধাদের জন্যে কষ্টের।যন্ত্রণার।
তবে বাস্তবতা হলো, যে ফাঁদে পা ও গলা একসাথে ঢুকিয়ে ট্রাম্প ব্যবসার রাজা থেকে হোয়াইট হাউসের রাজা বনেছেন,তাতে তার যুদ্ধ বাদ দিয়ে কৌশলগত কূটনীতিতে যাওয়ার পথও খোলা নেই।সন্ত্রাস ও গোলমালের পথ আমেরিকার জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও এই পথ চলাই তার একমাত্র পথ।
এটাই তার প্রেসিডেন্ট পদ পাবার আগে পৃষ্ঠপোষকদের সাথে সম্ভবতঃ ছিল তার রফা দফা।তাই অনেক বিশ্লেষক বলছেন, আমেরিকাকে একা করে হলেও ট্রাম্প এই একেলা পথে চলবেন,পা কেঁপে কেঁপে উঠলেও তিনি চলবেন নেতানিয়াহুর হাত ধরে।রাশিয়া নিবে দুই দিকের সুবিধে।কেননা পুটিনের আছে সেই যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা।রাশিয়া তার অবস্থান পরিবর্তন না করেই তার সামর্থ্য বাড়িয়ে চলেছে।আমেরিকা যা হারাচ্ছে তা অনায়াসেই যুক্ত হচ্ছে রাশিয়ার সাথে।      
জেরুজালেমকে ইজরাইলের রাজধানী করার ইচ্ছাকে সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অসম্মানজনক কম ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন।ট্রাম্প মূলতঃ সন্ত্রাস এবং জোরপূর্বক দখলকে সমর্থন দিয়েছেন প্রকাশ্যে।ধারণা করা হচ্ছে ইরান গ্রাস করাকে শক্তিমত্তার জোরে নিজেদের অধিকার ভাবছে এই দুই নেতা।
তাছাড়া নেতানিয়াহু সস্ত্রীক সরকারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবার পর এবং আরো বড় আকারের অভিযোগগুলো প্রমাণ হবার পর তাকে রাজনীতি থেকে বিদায় নিতে হবার চূড়ান্ত পরিস্থিতি আসার  আগে এই মরণ কামড় দেয়াটা তার ছলচাতুরী বলে অনেক বিশ্লেষক দাবি করছেন।ইজরাইল জুড়ে একাধারে এক সপ্তাহের বিক্ষোভ তার ভেতরের বাহিরের পরিচয়কে তুলোধুনো করে চলেছে।তার পদত্যাগের দাবি তুঙ্গে উঠেছে।বিক্ষোভ থামছেনা।
কথা হচ্ছে ইরান বিপ্লবের পর এই প্রথম তারা  জাতীয়ভাবে আত্নরক্ষার পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ হতে বাধ্য হচ্ছে।তারা কখনো শত্রু সম্পর্কে শিথিল হয়নি।পয়ারজিত হয়ে ইরান থেকে নিয়ন্ত্রণ হারানো পরজীবিদের ব্যাপারে উদাসীনও হয়নি।দীর্ঘ অবরোধ দিয়েও ইরানের সমৃদ্ধি থামানো কি সম্ভব হয়েছে?ইরান দরিদ্রও নয়।সামরিক দিক থেকেও দূর্বল নয়।এরা আমেরিকাকে ভয় পাওয়ার জাতি নয়।এরা আমেরিকার প্রভাবিত সরকারকে উথখাত করেছে বিপ্লবের মাধ্যমে।ইরান প্রতিনিয়ত ঠান্ডা মাথায় নিজেদেরকে দুনিয়ার অপরাপর শক্তিগুলোর কাছে গ্রহনযোগ্য করেছে।এরা কেবলমাত্র মুসলমান দেশ নয়।চীন রাশিয়া ও ইওরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ইরানের সম্পর্ক বাস্তবতার নিরিখে সূতায় গাঁথা।        
সন্ত্রাসীদের দমনও ও আফগানিস্তানের নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে আমেরিকার রিপাবলিকান সরাকার এবং তার মিত্ররা আফগানিস্তানে যুদ্ধ চাপিয়ে দেয় ২০০১সালে। এতো বছর যাবত এখনো আফগানিস্তাননে আমেরিকান সেনা বাহিনী প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কাছে মার খাচ্ছে। আমেরিকান সৈন্যরা আফিম চাষ করছে এবং আফগানিস্তান থেকে আফিম রফতানী তা আমেরিকায় আমদানী করছে।আমেরিকার প্রায়ই ৭০%শতাংশের বেশী আফিম(মারিজুয়ানা)আফগানিস্তানে উৎপাদিত।
জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম আলী দাবি করেন,ইরান ৩৯বছর যাবত আফগানিস্তানের লক্ষ লক্ষ শরণার্থীদেরকে আশ্রয় ও খাবার দিয়ে চলেছে।এরা শরনার্থী হতে বাধ্য হয়েছে আমেরিকার আগ্রাসনের ফলে।সৌদি আরব সরকার ইজরাইলের নির্দেশ মেনে মধ্যপ্রাচ্যে আল্লাহর নবীদের নির্দেশিত পথ ত্যাগ করে নীরিহ  মানুষ হত্যা ও অনৈতিকতার দায় মুসলমানদের উপর চাপানোর সুযোগ দেয়ার সমালোচনার প্রমাণ মিলছে প্রতিদিন।এই অপরাধের খেসারত ইহলোক ও পরলোকে  নির্ধারিত।আমাদেরকে সৃষ্টিকর্তা আদিকাল থেকেই সতর্ক করে চলেছেন এবং সঠিক পথ ও তৈরী করে দিয়েছেন।নবী রাসুলরা কোন গোষ্ঠীর জন্যে নয়,আল্লাহ্‌ তাদেরকে সমগ্র মানবজাতির জন্যে পাঠিয়েছেন।