Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

যুক্তরাষ্ট্রের সমাজে ঘনঘন সন্ত্রাসী হামলার কারণ কি ?

বুধবার, ০৭ মার্চ ২০১৮

প্রদীপ মালাকার-:বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক,ইউ,এস,এ : আবারওযুক্তরাষ্ট্রের মাটিসন্ত্রাসীহামলায় রক্তাত হল। এবারযুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা রাজ্যে ভালোবাসার (ভ্যালেন্টিন ডে ) দিবসের দিনেও ফ্লোরিডার একটিহাইস্কুলে বহিষ্কৃত এক ছাত্র
হত্যা যজ্ঞচালিয়েছে এবং তাতে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছে ও আহত হয়েছে বহুজন।যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে , চার্চে , পরিবারে কিংবাউন্মওস্থানে সন্ত্রাসী হামলা হচ্ছে এবং সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে নিরীহ লোকজনদেরমারছে ও অনেক ক্ষেত্রে নিজেরা ও আত্নহত্যা করেছে। এই লেখা যখন শেষকরি , তখনো যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রাবাসে ১৯ বছরের এক বন্দুকধারীর গুলিতে  দুই জন নিহত হয় ।কিন্তুএইসন্ত্রাসীহামলাকারাকরছে ? কেনইবাকরছে ? এই আলোচনায় যাওয়ার আগে পৃথিবীর  সব দেশে সব সমাজে  চুরি ,ডাকাতি, রাহাজানি, সন্ত্রাসী ঘটনা কমবেশী আছে । ইউরোপ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লোকজনের মিশ্র  সংস্কৃতির এইমার্কিন সমাজেও চুরি, ডাকাতি , রাহাজানি আছে,, আছে সাদাকালোর বর্ণবাদী দাঙ্গা বা সন্ত্রাস  কিন্তু তার উপরও আছে নয়-এগারর মত জঙ্গিবাদীদের হামলা বা সন্ত্রাস ।   কিন্তু যে সন্ত্রাস  অন্য সকল সন্ত্রাসকে ছাপিয়ে হাতে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে কিভাবে মার্কিন সমাজকে কোঁকরে খাচ্ছেকিংবা অন্তসার শূন্য সমাজের অবয়বটা ।
গত ২০ বৎসর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের  স্কুল গুলোয় বড় ধরণের গুলিবর্ষণের  ঘটনাগুলো  নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স  একটি প্রতিবেদন করেছে । ওই প্রতিবেদন থেকে গত পাঁচ বছরের ঘটনাগুলো তুলে ধরা হলও । ২৩  জানুয়ারি ,২০১৮; বেনটনের  মার্শাল কাউনটি হাইস্কুলে ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্র পিস্তল দিয়ে গুলি করে তার দুই সহপাঠীকে  হত্যা করে । ৭ ডিসেম্বর ,২০১৭ ;নিউ মেক্সিকোর  অ্যাজটেকে এক যুবক স্কুল ছাত্রের ছদ্মবেশে ডুকে দুই শিক্ষার্থীকে হত্যা করে । পরে নিজেও  আত্মহত্যা করে । ১ অক্টোবর ২০১৫; অরেগনের  আম্পকুয়া কমিউনিটি কলেজের ক্যাম্পাসে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার আগে এক ব্যাক্তি গুলি  করে নয় জনকে হত্যা  করে । ২৪ অক্টোবর, ২০১৪ ; ওয়াশিংটনের  ম্যারিসভিল –পিলচাক হাইস্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় এক নবীন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করার আগে গুলি চালিয়ে চারজনকে গুরুতর আহত করে । ৭ জুন, ২০১৩; ক্যালিফোর্নিয়ার  সান্তামনিকায় এক শিক্ষার্থী বাবা ও ভাইকে গুলি করে আহত করার পর বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দেয় । এরপর সান্তা  মণিকা কলেজে গিয়ে  তিনজনকে হত্যা করে । পরে নিজেও আত্মহত্যা করে ।১৪ ডিসেম্বর ,২০১২; কানেকটিকাটায় এক ব্যাক্তি মায়ের ওপর গুলি চালানোর  পর আত্মহত্যার আগে  সান্দ্রিহুক  এলিমেনটা রি স্কুলে ঢুকে ২০ টি শিশু সহ ২৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে । ২ এপ্রিল ২০১২; ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক এক নার্সিং শিক্ষার্থী  ওইকস বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরিয়ান খ্রিস্টান কলেজে  ৭ জনকে হত্যা ও তিন জনকে জখম   করে
সন্ত্রাসকি ? সন্ত্রাসেরশুরুটাহয়অসহিস্নুতা ,হীনমন্যতা , ভারসাম্যহীনপ্রেরনা, অসুস্থবাবিকৃতমানসিকচিন্তাএবংনষ্টইলুশনেরমধ্যদিয়ে।এইনষ্টবাবিকৃতমাইন্ডসেটউদ্ভূতচিন্তাচেতনাসন্ত্রাসীরমনোজগতেএমনক্রোধওঔদবত্যপূর্ণইচ্ছাসৃষ্টিকরেযাতাকেটেনেনেয়হত্যাওধ্বংসযজ্ঞেরমধ্যে। পৃথিবীতে  কোন মানব সন্তানই সন্ত্রাসী হয়ে জন্মায়নি।   সমাজ ও মনো বিজ্ঞানীরা মনে করেন ,সন্ত্রাসের  কারন সমাজের অভ্যন্তরে গভীর ভারসাম্যহীনতা ও বিওের বউসম্য, আপন সত্ত্বার সংগে নিজের এবং নিজের সংগে পরিবারের ও সমাজের অমোচনীয় দবন্ধ , প্রত্যক্ষ সামাজিক যোগাযোগের অভাব , পারিবারিক তথা সামাজিক integration এব্যর্থতা , আত্মপরিচয়েরসংকটএবংপরিবারওসামাজিকবউসম্য ইত্যাদি। পাঠক,  উপরিউল্লেখিত হত্যাকাণ্ডগুলির বেশীরভাগ পুলিশ ও কাউনটি শেরিফ প্রদও রিপোর্টে থেকে জানা যায়,হত্যাকারী অবহেলা ,অনাদরে বেড়ে উঠা , পারিবারিক অশান্তি এবং সেই সাথে দীর্ঘদিন যাবত মানসিক বিকারগ্রস্থ ছিল।পুলিশ সন্ত্রাসীর চাওয়া-পাওয়ার সাথে সুলভে   আগ্নেয় অস্র ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করে ।
গত ১৪ ই ফেব্রুয়ারি  ফ্লোরিডা  হাই স্কুলের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারা দেশ শোকে মুরয্যমান । চলছে গান কন্ট্রোল নিয়ে আলোচনা- সমালোচনা ।এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট  ডোনালড ট্রাম্প ঘোষণা করেন  প্রত্যেক শিক্ষকের  সাথে  অস্র রাখতে হবে। বাহবা, কি অদ্ভুত সমাধান ? সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার শাসনামলে কংগ্রেসে    অস্র নিয়ন্ত্রন বিল এনেও  রিপাবলিকানদের  বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয় ।এবারওপ্রেসিডেন্টট্রাম্পডেমোক্রেটওরিপাবলিকানসিনেটরদেরঅবাককরেঅশ্রআইনেরাসটেনেধরারকথাবলেন।কিন্তুরিপাবলিকানরাতামানতেনারাজ। তাদের যুক্তি নাগরিকদের নিরাপরতা নাগরিকরাই করিবে । অর্থাৎ বত্রিশ কোটি নাগরিকের মধ্যেএকত্রিশকোট নাগরিকের বউধ্য অস্র আছে , তারাই নাগরিকের নিরাপরতার  গ্যারান্টি ।  অদ্ভুতযুক্তি।
গতসপ্তাহেস্থানীয়সাপ্তাহিক “ দ্যব্রঙ্কস”পত্রিকায়স্ট্যানফোর্ডবিশ্ববিদ্যালয়েরসাবেকঅধ্যাপকডঃকেলীপ্রেসিডেন্টট্রাম্পেরশিক্ষকদেরহাতেকলমেরপরিবর্তেবন্দুকতূলেদেওয়ারসমালোচনাকরেন।তিনিবলেন, শিক্ষকদেরহাতেরকলমকেকিভাবেআরওসন্ত্রাসেরবীরুধেবাসমস্যারমুলেকাজেলাগানোযায়সেইদিকেমনোযোগনাদিয়েসাথেঅস্ররাখাকোনগ্রহণযোগ্যসমাধাননয়।
তিনিআরওবলেন , এদেশেপ্রাথমিক ,জুনিয়রবামাধ্যমিকস্তরেসাধারণশিক্ষারসাথেপ্রতিবন্ধীবামানসিকবিকৃতছাত্র/ছাত্রদেরজন্যপৃথকবিশেষশিক্ষা( Special Education )এরব্যবস্থাআছে।এইব্যবস্থারআরওউন্নতিরপাশাপাশিশিশু-কিশোরদেরপারিবারিকশিক্ষাওপারিবারিকবন্ধনেরউপর জোর দেন । এদেশেরপরিবারগুলিদৃঢ়বন্ধনেবাঁধানেই।অনেকপরিবারেরসদস্যইজানেনাকেপিতাবাকেমাতা।হয়তোদেখাগেছেমাকেছেড়েপিতাচলেগেছেবাপিতাকেছেড়েমাবয়ফ্রেন্ডধরেচলেগেছেনিজেরসুখেরআশায়।সন্তানদেরদিকেফিরেওতাকায়নি।অনেকক্ষেত্রেখোজখবরওনেননি।এসকলছেলেমেয়েরাপিতারকাছেঅথবামায়েরকাছেকিংবাস্টেপমাদারবাফাদারঅথবাডে- কেয়ারের  তত্বাবধানে  বড় হয় ।
বড় হয়ে হয়তো একদিন জানতে  পারে কে বাবা , কে মা, তারা কোথায় থাকে ?তার পর নিদিষ্ট  ফাদার ডে  কিংবা মাদার ডেতে  ফুলের  তুঁরা দিয়ে সম্মান জানিয়েই শেষ । আবার অনেক ছেলে মেয়ে  তাদের পিতৃ- মাতৃ পরিচয়  কোণ দিনই জানতে পারেনি ।   অবহেলা- অনাদরে বেড়ে উঠা এ সকল শিশুকিশোরের  মাজে  অন্যের প্রতি স্নেহ, প্রেম প্রীতি , ভালবাসার  পরিবর্তে  স্বার্থপড়তা  , উগ্রতা, হিংস্রতা স্থান পাবে এটাই স্বাভাবিক । তাহাছারা, বর্তমান শিশুকিশোর সমাজের এক বিরাট অংশ কাল্পনিক ভিডিও গেমস , মোবাইল ,ইন্টারনেট , পূর্ণগ্রাফি, ফেসবুক তাদের মনোজগৎ দখল করে নিচ্ছে । তাদের প্রভাবিত করছে । ভিডিও গেমসে গ্রুপ বানিয়ে মারামারি করছে । হার জিত নিয়ে উতেজিত হচ্ছে । কম্পিউটার নেট নিয়ে সারা দিন ঘাঁটাঘাঁটি  করছে । ফলে তাদের মধ্যে সহন শিলতা একেবারেই  কমে  যাচ্ছে । অল্প বয়সেই তারা হিংস হয়ে উঠছে । পিতামাতার অগোচরে  বা তাদের দুর্বলতার সুযোগে  অনেক সন্তান মাদক, হিরুইন,সেবনে অবস্থ্য  হয়ে অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ছে ।
পাসাপাশিও, টিভি চ্যানেলের সিরিয়াল্গুলি তে  হিংসতা, সন্ত্রাসবাদ ও আধিপত্যবাদ দেখানো হচ্ছে । সেখানে মানুষকে তুচ্ছ কারণে হত্যা করা দেখানো হচ্ছে  সেই সব সিরিয়াল্গুলিতে ।যেহেতু শিশুরা অনুকরণ প্রিয় হয় , সেহেতু এই সব সিরিয়াল দেখে শিশুকিশোররা  এডভেঞ্চার অনুভব  করে । তারা আবেগ প্রবণ হয়ে উঠে । হয়ে উঠে আত্নকেন্দ্রিক , উচ্চভিলাষ , বাস্থবতার সাথে সঙ্গতিহীন । তারা  নীতি নেউতিকতাকে পুরনো বলে মনে করে । বড়রা বিত্ত বাড়াতে বেপরোয়া জীবনযাপনে অভ্যস্থ হয়ে পড়ছে ।  ব্যাক্তিগত সম্পর্ক গুলিতে আসক্ত ও প্রীতি উঠে যাচ্ছে।  কোথাও  স্বস্থি নাই,  জীবনে ,পরিবারে ,  ঔতিহ্যে , উত্তরাধিকার , মূল্যবোধ ইত্যাদির।  এই সকল বিষয়ে  অনেক ক্ষেত্রে পিতা-মাতা বা অভিবাবকদের  পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কষ্টকর  হয়ে পড়ছে । তাই , শিশুকিশোর , যুবকরা জড়িয়ে পড়ছে  বিভিন্ন অপরাধ কাণ্ডে । সুতরাং, প্রেসিডেন্টেরঅস্রনিয়ন্ত্রণেরাশটানাবাশিক্ষকদেরহাতেঅস্র তুলেদেওয়ামানবঅঙ্গেক্ষতবাফোঁড়ারস্থানেমলমলাগানোরমতইসামিল।মলমেউপরথেকেঘাসারলেওভিতরেরঘাথেকেইযায়।প্রেসিডেন্টেরপদক্ষেপেহয়তোসন্ত্রাসপ্রতিরোধেবাহিরথেকেকিছুকটাসাফল্যপাওয়াগেলেওমার্কিনসমাজেরভিতরেরঘাতিনিকীভাবেসারাবেন ?


Add comment


Security code
Refresh