Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

ধর্মীয় শোভাযাত্রায় অস্ত্রধারীদের উৎপাত = আবু জাফর মাহমুদ

রবিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৮

টার্গেট বাঙালি অধ্যুষিত ভারতের উত্তরপূর্ব ভারত থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত।অঞ্চল জুড়ে আসছে সহিংসতার দাবানল।এই অঞ্চল বাঙ্গালির আদি বাসস্থান।সাম্রাজ্যবাদের নয়া যুগে ভারতের আর্য্য শাসকরা তাদের বিদেশী প্রভূদের নয়া পৃষ্টপোষকতায় অতি উৎসাহে নেমে পড়েছে।বার্মায় সফলতার অভিজ্ঞতায় ধেয়ে আসছে বর্বরতার উত্তপ্ত আগুনের লাভা।ভারত মহাসাগরে চীন,ভারত আমেরিকার প্রভাবের কর্তৃত্বের প্রেক্ষাপটে উত্থান হয়ে চলেছে বিভীষিকার নয়া অধ্যায়।    

পশ্চিমবঙ্গে রামনবমীর শোভাযাত্রার মধ্যে অস্ত্র মিছিল ও সহিংসতার ঘটনা ঘটিয়ে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগে সারা বাংলা সংখ্যালঘু ফেডারেশন গভর্ণর কেশরনাথ ত্রিপাঠির কাছে স্মারকলিপি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।বিজেপি এবং উগ্রগেরুয়াবাহিনী ভীতি প্রদর্শনের এই তৎপরতা করছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এসেছে এখবর। প্রাদেশিক সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বতো চেষ্টা করলেও আক্রান্ত হবার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে মারদাঙ্গার আতংক কাটছেনা।পশ্চিম বঙ্গে তৃণ্মূল কংগ্রেসের সরাকার।মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

বিহারের ভাগলপুরে সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উসকানির অভিযোগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী চৌবের পুত্র অর্জিত শাশ্বতকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৩০মার্চ শনিবার।পরদিন রোববার ১লা এপ্রিল ভাগলপুরের অতরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে ১৪দিনের জেল হাজতের নির্দ্দেশ দিয়েছেন।বিহারে সরকার করেছে জনতা দল(ইউনাইটেড)।নীতিশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী।     

ত্রিপুরায় রাজ্য সরকার দখলে নেবার পর বিহার,আসাম,পশ্চিমবঙ্গে উৎপাত বাড়িয়েছে ভারতীয় জঙ্গিবাদী বিজেপি সরকার এবং সমাজের নীচু জাতের হিংস্র মানুষেরা।বাংলাদেশের সীমান্তে এই বর্বর ধারার গন্তব্য যে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ তাতে সামান্য সন্দেহ আর নেই।অপর সীমান্তে বার্মায় রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদেরকে বিতাড়ণ সম্ভব করার পর উৎসাহিত হয়েছে ভারতীয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজর রাজনীতি।ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায়।মুখমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।  

এদের পূর্বপুরুষরা বৃটিশ শোষক-শাসকদের হয়ে ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িক রক্তাক্ত বিয়োগান্ত অধ্যায় সাজিয়ে  ছিলো।ভারতবর্ষ বিভক্ত করেছিলো।জাতিতে জাতিতে এবং ধর্মের বিভেদের পথে হিংসা বিদ্বেষ বিষাক্ততা উস্কে দিয়ে ভারতীয় সামাজিক সম্প্রীতিকে কর্দমাক্ত করেছিলো।সেই অশ্লীল রাজনীতি ঢাক ঢোল পিটিয়ে নেচে গেয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করে সমদ্র অঞ্চল জুড়ে বিদ্বেষের আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভা ছড়াচ্ছে।ভারতে আর্য্য বেনিয়া হায়েনা জাতি আবার একই রক্তাক্ত খেলার নির্মম উৎসবে মেতে উঠেছে।বৃটেন আবার উপনিবেশ বিস্তার করেছে ভারতে।এবার বৃটেন একা নয়।সাথে আছে অন্যেরাও।সবই হচ্ছে সংঘবদ্ধতায়।স্থানীয় দালাল ও দেশী বিশ্বাসঘাতকদেরকে বশে নিয়েই চলছে বর্তমান সাম্রাজ্যবাদী শোষণ শাসন।সাম্প্রদায়িকতার চরম অশ্লীলতায় পথ নিয়েছে ভারত।    

আর্য্য-ব্রাহ্মণ জাতি ভারতীয় হয়েছে শোষণ শাসনের লক্ষ্যে।হিন্দু হবার জন্যে নয়।ধর্মের অভ্যন্তরে বিদ্বেষের কোন সুযোগ থাকেনা।ধর্ম সরাসরি স্রষ্টার নির্দেশনা।নিজের সৃষ্টির কল্যাণের পথনির্দ্দেশ থাকে ধর্মে।এরা ভারতে বসবাস করছে লুন্ঠনের সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেই।এরা বিদেশী জাতি।এসেছে রাশিয়ার পাশে জর্জিয়া সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে।ভারতে আর্য্যরাই হচ্ছে বৃটেনের প্রধান দালাল।ইংরেজীতে এরা এরিয়ান হিসেবেই পরিচিত।এরা নিজেদের হিন্দু বললেও মন্দির এদের ধর্মচর্চার যায়গা নয়।লোক দেখানো কিছু আনুষ্ঠানিকতা ওদের আছে,তাও কেবল সম্পদ আহরণের স্বার্থে।  

ভারতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং প্রতিষ্ঠানসহ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষে অবস্থান পাকাপোক্ত করে তারা প্রকৃত ভারতীয়দেরকে ঠকিয়ে শাসন করে চলছে।পশ্চিমবঙ্গে এই উৎপাতের মধ্যে হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় ঐতিহ্যকে এরা আবর্জনাময় করছে,সামাজিক সংহতিকে তারা তচনছ করছে।এরা মমতার নেতৃত্বাধীন সরকার পতন ঘটিয়ে নিজেরা জোর করে ক্ষমতা দখল করতে অগ্রসর হচ্ছে।মমতার সরকারকে অকেজো করার জন্য হিন্দু ধর্মকে অপব্যবহার করছে।সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এই বাঙালি উগ্রপন্থী বিজেপির দৃষ্টিতে ভারতবর্ষের বাঙালির পরীক্ষিত নেতা এবং মহাসংগঠক।

পশ্চিমবঙ্গে অরাজকতা সৃষ্টির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য তাই বহুমুখী।খোলা তরবারি নিয়ে মিছিল করে প্রতিপক্ষদের মনে ভয় সৃষ্টি করে ভোট আদায় করে নেয়ার জন্যে কৌশল করার রাজনীতি অবশ্যই অসভ্যতা।রাজনীতি নিজেই অসভ্যতার পৃষ্টপোষক হতে চাইলে ঐতিহ্যগত রাজনীতির বিরোধীতার মুখোমুখী তার হতেই হয়।এই পরিস্থিতি গড়তে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা বিজেপি।ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধ শক্তিগুলো এই সুযোগকে নিজেদের বদ মতলবে কাজে লাগাতে এগিয়ে আসছে।এই শক্তিকে কোনক্রমে ধর্মীয় শক্তি বলা চলেনা।তারা মন্দিরের পুজারী হলেওনা।কেনোনা ধর্ম কখনো ভয় দেখায়না।ধর্ম সব মানুষের কল্যাণের বা শান্তির জীবন-নির্দ্দেশ।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক প্রশাসনিক ধারা নিজেই জানিয়ে দিচ্ছে,জঙ্গিবাদ ভারতকে দখলে পেয়ে বসেছে।জঙ্গিবাদের কাছে সমাজের বিকাশেরপথ তার নিরাপত্তা হারায়।জঙ্গিবাদী সমাজে ক্ষমতাধর হয়ে জনগনের উপর জুলুম নিপীড়ন চালায় জঙ্গিরা।এই জঙ্গিদের প্রাতিষ্ঠানিক বর্বরতাকে আইনসিদ্ধ করে চলে সরকার এবং তার আইন ও বিচার বিভাগ।তাকে কার্যকর করতে বাধ্য থাকে সরকারের নির্বাহী বিভাগ।

সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন খৃষ্টীয় পরিসেবা দফতরে জরুরী বৈঠক করেছে চলমান পরিস্থিতিতে। এতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নীরিহ সংখ্যালঘুদের অবস্থার রিপোর্টের উপর বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে ২৮মার্চ।                    

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বিভিন্ন মিডিয়াকে বলেছেন,বিজেপি ও উগ্র গেরুয়াবাহিনী মুসলিম পাড়াগুলোকে টার্গেট করে একনাগাড়ে ভীতি প্রদর্শন করেছে। এখানে মুসলিমরা কেবল আক্রান্ত নয়,রাজ্যময় মুসলিমরা ভীত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েছে।পুলিশ সংগখ্যালঘুদেরকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।তাই ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘুদেরকে ক্ষতিপূরণ দেবার দাবি জানানো হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক অবস্থা পরিদর্শনে বের হয়েছেন গভর্ণর কেশরিনাথ ত্রিপাঠি। তিনি আসানসোল এলাকায় ঘুরলেন।পরবর্তীতে ৩০মার্চ শনিবার তিনি পুলিশের আইজি রাজীব মিশ্র এবং স্থানীয় কমিশনার লক্ষীনারায়ণ মীনা ও অপরকর্মকর্তাদের সাথে বসেন। কর্মকর্তারা গোলযোগ সম্পর্কে গভর্ণরকে অবহিত করেছেন।গভর্ণর সব কথা শোনে প্রয়োজনীয় নির্দ্দেশ দিয়েছেন।পরবর্তীতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি এসেছি শান্তির বার্তা দিতে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় শান্তি সম্প্রীতি ওপারস্পরিক সহিষ্ণুতা বজায় রাখার আহবান জানিয়েছেন তিনি।      

আসানসোল-রাণীগঞ্জে ১৪৪ধারা জারি করেছে পুলিশ।অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে আরো শান্তিভঙ্গের আশংকায়।এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস মিছিল করে যেতে চাইলে রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতিকে পুলিশ আটকে দেয়।১৪৪ধারা জারি আছে বললেও তিনি বাধা অতিক্রম করতে চান।বলেন এই ধারা জনপদে।রাস্তায় কেনো থাকবে?আমরা তো কোন পাড়ায় বা মহল্লায় ঢুকিনি।তিনি এবং তার অনুসারীরা তাৎক্ষনিকভাবে তৃণমূল এবং বেজিপির বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়।

এদিকে ১লা এপ্রিল রোববার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা শাহনেওয়াজ হুসেনের নেতৃত্বে ওম মাথুর,বি রামা রাও,এবং রূপা গঙ্গোপাধ্যায় একটা প্রিতিনিধিদলে আসানসোলের চাঁদমারি,রামকৃষ্ণ ডাঙ্গাল সহ বিভিন্ন এলাকা ঘরেছেন।বলেছেন কেন্দ্রে গিয়ে দলের প্রধান অমিত শাহকে রিপোর্ট করবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন,দলীয় ক্যাডাররা যথাযথ ভয় জারি করতে পেরেছেন কিনা তা তারা সরে জমিনে দেখতে সফরে বের হয়েছেন।তারা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গড়া ত্রাণ শিবিরেও গেছেন।কথা বলেছেন।  

পশ্চিমবঙ্গে এই রাজনৈতিক উত্তাপ রাজনীতিকে একধরণের জগাখিচুড়ী বানানোর পর্যায়ে এগিয়েছে।তবে ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে চলছেন সরকার।সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ থাকছে ৪ঠা এপ্রিল বেলা ২টা পর্যন্ত।এই পরিস্থিতি নিশ্চয়ই সকল ব্যবসা বাণিজ্যের জন্যে ক্ষতিকর।বাঙালির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিরুদ্ধে অন্যদের ষড়যন্ত্রের ফলাফল ভোগ করছে ভারতেও।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা উস্কে দিয়ে যেভাবে বছরের পর বাছর অর্থনৈতিক দুরবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করে আসছিলো যে মহল। তারাই পশ্চিমবঙ্গে বাঙালিদের মধ্যে দারিদ্রতা চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের আখের গোছানোর সুযোগ নিচ্ছে। রাজনীতি ও রাষ্ট্রপরিচালনার এই ক্ষমতার খেলা চলছে,চলবে।এই বাস্তবতার মধ্যে সমৃদ্ধির পথ সাজিয়ে সেপথে নিজেদের চলতে পারার রাজনীতি গড়ার মধ্যেই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নির্ভর করছে।

(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতাযোদ্ধা)।