Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

নানান আয়োজন

যুক্তরাস্ট্র

সোমবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৫

হাকিকুল ইসলাম খোকন:ওসমান গনি :সুহাস বড়ুয়া: বাপ্ নিউজ :মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ইংরেজি: United States of America ইউনাইটেড্ স্টেইটস অফ্ আমেরিকা) উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত পঞ্চাশটি রাজ্য ও একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় জেলা নিয়ে গঠিত এক যুক্তরাষ্ট্রীয় সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র। এই দেশটি ইউনাইটেড স্টেটস, ইউ এস, যুক্তরাষ্ট্র ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র নামেও পরিচিত। 

মধ্য উত্তর আমেরিকায় অবস্থিত আটচল্লিশটি রাজ্য ও রাজধানী অঞ্চল সহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডটি পশ্চিমে প্রশান্ত ও পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরদ্বয়ের মধ্যস্থলে অবস্থিত; 

এ অঞ্চলের উত্তর ও দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত যথাক্রমে কানাডা ও মেক্সিকো রাষ্ট্রদ্বয়। আলাস্কা রাজ্যটি অবস্থিত মহাদেশের উত্তর-পশ্চিমে; এই রাজ্যের পূর্ব সীমায় কানাডা ও পশ্চিমে বেরিং প্রণালী পেরিয়ে রাশিয়া। হাওয়াই রাজ্যটি মধ্য-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়াও ক্যারিবীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অনেক অঞ্চল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকারভুক্ত।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়তন ৩.৭৯ মিলিয়ন বর্গমাইল (৯.৮৩ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার)। দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৩০৯ মিলিয়ন। সামগ্রিক আয়তনের হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তৃতীয় অথবা চতুর্থ বৃহত্তম রাষ্ট্র। আবার স্থলভূমির আয়তন ও জনসংখ্যার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ বিশ্বের সর্বাপেক্ষা বৈচিত্র্যমণ্ডিত বহুজাতিক সমাজব্যবস্থা। বহু দেশ থেকে বিভিন্ন জাতির মানুষের অভিনিবেশের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ একটি বহুসংস্কৃতিবাদী দেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি বিশ্বের বৃহত্তম জাতীয় অর্থনীতি। ২০০৮ সালে দেশের আনুমানিক জিডিপি হার ছিল ১৪.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (নামমাত্র বিশ্ব জিডিপির এক চতুর্থাংশ এবং ক্রয় ক্ষমতা সমতায় বিশ্ব জিডিপির এক পঞ্চমাংশ)।

আমেরিকার আদিম অধিবাসীরা সম্ভবত এশীয় বংশোদ্ভুত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে এরা কয়েক হাজার বছর ধরে বসবাস করছে। তবে নেটিভ আমেরিকানদের জনসংখ্যা ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের পর থেকে মহামারী ও যুদ্ধবিগ্রহের প্রকোপে ব্যাপক হ্রাস পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে আটলান্টিক মহাসাগর তীরস্থ উত্তর আমেরিকার তেরোটি ব্রিটিশ উপনিবেশ নিয়ে গঠিত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 

১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই এই উপনিবেশগুলি একটি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে। এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে উপনিবেশগুলি তাঁদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ঘোষণা করে এবং একটি সমবায় সংঘের প্রতিষ্ঠা করে। আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে এই বিদ্রোহী রাজ্যগুলি গ্রেট ব্রিটেনকে পরাস্ত করে। এই যুদ্ধ ছিল ঔপনিবেশিকতার ইতিহাসে প্রথম সফল ঔপনিবেশিক স্বাধীনতা যুদ্ধ।

১৭৮৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়া কনভেনশন বর্তমান মার্কিন সংবিধানটি গ্রহণ করে। পরের বছর এই সংবিধান সাক্ষরিত হলে যুক্তরাষ্ট্র একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার সহ একক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়। ১৭৯১ সালে সাক্ষরিত এবং দশটি সংবিধান সংশোধনী সম্বলিত বিল অফ রাইটস একাধিক মৌলিক নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করে।

alt

ঊনবিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স, স্পেন, যুক্তরাজ্য, মেক্সিকো ও রাশিয়ার থেকে জমি অধিগ্রহণ করে এবং টেক্সাস প্রজাতন্ত্র ও হাওয়াই প্রজাতন্ত্র অধিকার করে নেয়। ১৮৬০-এর দশকে রাজ্যসমূহের অধিকার ও দাসপ্রথার বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ দক্ষিণাঞ্চল ও শিল্পোন্নত উত্তরাঞ্চলের বিবাদ এক গৃহযুদ্ধের জন্ম দেয়। উত্তরাঞ্চলের বিজয়ের ফলে দেশের চিরস্থায়ী বিভাজন রোধ করা সম্ভব হয়। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রে দাসপ্রথা আইনত রদ করা হয়। 

১৮৭০-এর দশকেই মার্কিন অর্থনীতি বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির শিরোপা পায়। স্প্যানিশ-আমেরিকান যুদ্ধ ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সামরিক শক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিষ্ঠা দান করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই দেশ প্রথম পরমানু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ লাভ করে। ঠান্ডা যুদ্ধের শেষভাগে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের একমাত্র মহাশক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয়। 

বিশ্বের মোট সামরিক ব্যয়ের দুই-পঞ্চমাংশ খরচ করে এই দেশ। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তিধর রাষ্ট্র।

১৯৩০ এর দশকে ও একবিংশ শতকের প্রথম দশকের শেষে আমেরিকার অর্থনীতি 'অর্থনেতিক মহামন্দা' বা 'গ্রেট ডিপ্রেশন'র স্বীকার হয়।

নামকরণ

১৫০৭ সালে জার্মান মানচিত্রকর মার্টিন ওয়াল্ডসিম্যুলার বিশ্বের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন। এই মানচিত্রে তিনি ইতালীয় আবিষ্কারক ও মানচিত্রকর আমেরিগো ভেসপুচির নামানুসারে পশ্চিম গোলার্ধের নামকরণ করেন "আমেরিকা"। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে পূর্বতন ব্রিটিশ কলোনিগুলি প্রথম দেশের আধুনিক নামটি ব্যবহার করে। ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই "unanimous Declaration of the thirteen united States of America" নামে এই ঘোষণাপত্রটি "Representatives of the united States of America" কর্তৃক গৃহীত হয়।

১৭৭৭ সালের ১৫ নভেম্বর দ্বিতীয় মহাদেশীয় কংগ্রেসে আর্টিকলস অফ কনফেডারেশন বিধিবদ্ধকরণের মাধ্যমে বর্তমান নামটি চূড়ান্ত হয়। এই আর্টিকেলে বলা হয়েছিল: "The Stile of this Confederacy shall be 'The United States of America.'" সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে the United States নামটি প্রামাণ্য। অন্যান্য প্রচলিত নামগুলি হল the U.S., the USA, ও America। কথ্য নামগুলি হল the U.S. of A. ও the States। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নামানুসারে কলম্বিয়া নামটি এককালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হত। "ডিস্ট্রিক্ট অফ কলম্বিয়া" নামের মধ্যে এই নামটির আজও অস্তিত্ব রয়েছে।

মার্কিন নাগরিকেরা সাধারণভাবে "আমেরিকান" নামে পরিচিত। যদিও সরকারিভাবে বিশেষণ হিসেবে "ইউনাইটেড স্টেটস" কথাটি ব্যবহৃত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংক্রান্ত বিশেষণ হিসেবে "আমেরিকান" ও "ইউ. এস. " দুইই প্রচলিত (আমেরিকান মূল্যবোধ বা ইউ. এস. সামরিক বাহিনী) ইংরেজি ভাষায় খুব অল্প ক্ষেত্রেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ব্যতীত অন্যদের বিশেষণ হিসেবে "আমেরিকা" কথাটি ব্যবহৃত হয়।[১৪] আমেরিকার অধিবাসী বা আমেরিকা সম্বন্ধীয় বোঝাতে বাংলায় 'মার্কিন' শব্দটি ব্যবহৃত হয়।[১৫]

পূর্বে "দ্য ইউনাইটেড স্টেটস" কথাটি বহুবচনে ব্যবহৃত হত ("the United States are")। গৃহযুদ্ধের পর ১৮৬৫ সালে মার্কিন সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে শব্দটিকে একবচন হিসেবে ঘোষণা করা হয় ("the United States is")। বর্তমানে একবচন রূপটিই প্রামাণ্য। বহুবচন রূপটি কেবল বাগধারা "these United States" কথাটিতেই ব্যবহৃত হয়।

পরিমাপ পদ্ধতি

যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ একক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে। তারা ব্রিটিশদের ব্যবহৃত একক হিসেবে মাইল, গজ এবং ফারেনহাইট ইত্যাদি এককগুলো ব্যবহার করে না। এর পরিবর্তে ইউ.এস গ্যালন এবং ইউ.এস পিন্ট পরিমাণের একক হিসেবে ব্যবহার করে। এছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর তিনটি দেশের মধ্যে একটি, যারা আন্তর্জাতিক একক পদ্ধতি ব্যবহার করে না। ম্যাট্রিক পদ্ধতিকে একক হিসেবে ধরে বিজ্ঞান, চিকিৎসা এবং অনেক শিল্পখাতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করছে।

সরকার ব্যবস্থা 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান। আইনসভা দ্বিকাক্ষিক। নিম্নকক্ষের নাম হাউজ অভ রেপ্রেজেন্টেটিভ্স এবং এর সদস্যসংখ্যা ৪৩৫। উচ্চকক্ষের নাম সেনেট এবং এর সদস্যসংখ্যা ১০০। ভোট প্রদানের যোগ্যতা অর্জনের বয়স ১৮। ১৭৮৭ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণয়ন করা হয় এবং ১৭৮৯ সালের ৪ঠা মার্চ থেকে এটি কার্যকর করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়।

প্রায় চার শতাব্দী আগে প্রণীত মার্কিন সরকার ব্যবস্থা সারা বিশ্বের প্রশংসা লাভ করেছে। মার্কিন জীবনের সাথে এটি ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। মার্কিন সরকারব্যবস্থা শুরু থেকেই গণতন্ত্রকে শাসনব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করেছে।

মার্কিন সরকার ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রীয়, প্রাদেশিক ও স্থানীয় আইন, এবং এগুলিকে নির্বাহকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত। ফেডারেল যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের কেন্দ্র ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের একটি মূলনীতি হল প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। এই ব্যবস্থায় লোকেরা তাদের নিজেদের নেতা নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের শাসন করে। মার্কিন গণতন্ত্র বেশ কিছু আদর্শের উপর প্রতিষ্ঠিত। জনগণকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত মেনে নিতে হবে। সংখ্যালঘুদের অধিকার সংরক্ষণ করতে হবে। নাগরিকদেরকে আইনী শাসন ব্যবস্থায় বাস করার জন্য সম্মত হতে হবে। মতামত ও ধারণার উন্মুক্ত আদানপ্রদানে কোন বাধার সৃষ্টি করা যাবে না। আইনের চোখে সবাই সমান। সরকার জনগণের সেবায় নিয়োজিত হবে এবং এর ক্ষমতা জনগণের কাছ থেকেই আসবে।

এই আদর্শগুলি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা চারটি উপাদান দিয়ে গঠন করা হয়েছে। ১) জনগণের সার্বভৌমত্ব ২) প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার ৩) ক্ষমতার পরীক্ষা ও ভারসাম্য (checks and balances) এবং ৪) ফেডেরালবাদ, যেখানে সরকারের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষমতা অংশীদারী করা হয়।


টেকোদের জন্য সুখবর

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৫

বাপসনিঊজ:মাথায় চুল না থাকায় অনেকেরই দুঃখের অন্ত থাকে না। তবে টাক নিয়ে মানুষের এই দু:খ দূর করার বিশেষ ওষুধ বোধহয় পেয়েই গেছেন গবেষকরা। তাদের গবেষণার ফলাফল  যদি সত্যি হয় তাহলে টাকে লাগানোর পর থেকেই শুরু হবে চুল গজানো। 

টেকোদের জন্য সুখবর 

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষকরা ইঁদুর এবং মানুষের চুলের ফলিকল নিয়ে বেশ কিছু দিন গবেষণা করার পরে দেখেছেন যে ওষুধগুলো জেএকে ইনহিবিটর হিসাবে কাজ করে, সেগুলি সরাসরি ত্বকে লাগালে চুল গজানো প্রায় নিশ্চিত। ইতিমধ্যে দুই ধরনের জেএকে ইনহিবিটরকে ছাড়পত্র দিয়েছে মার্কিনি ফুড অ্যান্ড ড্রাগ প্রশাসন।টাকে চুল গজানো যদি সত্যিই সম্ভব হয়, তাহলে কিন্তু চিকিত্সা বিজ্ঞান এক যুগান্তকারী মোড় নেবে। আয়নার দিকে তাকিয়ে লুপ্ত ইন্দ্রপ্রস্থে হাত বোলাতে বোলাতে পুরনো সেই চুলের বাহারের জন্য আর হা হুতাশ করতে হবে না।


আমাদের ছোট্ট রাসেল সোনা: শেখ হাসিনা

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৫

মাকে ও মা বলে যেমন ডাক দিত, আবার সময় সময় আব্বা বলেও ডাকত।আব্বা ওর জন্মের পরপরই জেলে চলে গেলেন। ৬-দফা দেয়ার কারণে আব্বাকে বন্দি করল পাকিস্তানি শাসকরা। রাসেলের বয়স তখন মাত্র দেড় বছরের কিছু বেশি। কাজেই তার তো সব কিছু ভালোভাবে চেনার বা জানারও সময় হয়নি। রাসেল আমাদের সবার বড় আদরের- সবার ছোট বলে তার আদরের কোনো সীমা নেই। ও যদি কখনও একটু ব্যথা পায় সে ব্যথা যেন আমাদের সবারই লাগে। আমরা সব ভাইবোন সব সময় চোখে চোখে রাখি, ওর গায়ে এতটুকু আঁচড়ও যেন না লাগে। কী সুন্দর তুলতুলে একটা শিশু। দেখলেই মনে হয় গালটা টিপে আদর করি।

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর রাসেলের জন্ম হয় ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় আমার শোয়ার ঘরে। দোতলা তখনও শেষ হয়নি। বলতে গেলে মা একখানা করে ঘর তৈরি করেছেন। একটু একটু করেই বাড়ির কাজ চলছে। নিচতলায় আমরা থাকি। উত্তর-পূর্ব দিকের ঘরটা আমার ও কামালের। সেই ঘরেই রাসেল জন্ম নিল রাত দেড়টায়। আব্বা নির্বাচনী মিটিং করতে চট্টগ্রাম গেছেন। ফাতেমা জিন্নাহ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটা মোর্চা করে নির্বাচনে নেমেছে। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল। তখনকার দিনে মোবাইল ফোন ছিল না। ল্যান্ডফোনই ভরসা। রাতেই যাতে আব্বার কাছে খবর যায় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাসেলের জন্মের আগের মুহূর্তগুলো ছিল ভীষণ উৎকণ্ঠার। আমি, কামাল, জামাল, রেহানা ও খোকা কাকা বাসায়। বড় ফুফু ও মেজ ফুফু মার সাথে। একজন ডাক্তার এবং নার্সও এসেছেন। সময় যেন আর কাটে না। জামাল আর রেহানা কিছুক্ষণ ঘুমায় আবার জেগে ওঠে। আমরাও ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখে জেগে আছি নতুন অতিথির আগমন বার্তা শোনার অপেক্ষায়। মেজ ফুফু ঘর থেকে বের হয়ে এসে খবর দিলেন আমাদের ভাই হয়েছে। খুশিতে আমরা আত্মহারা। কতক্ষণে দেখব। ফুফু বললেন তিনি ডাকবেন। কিছুক্ষণ পর ডাক এলো। বড় ফুপু আমার কোলে তুলে দিলেন রাসেলকে। মাথা ভরা ঘন কালো চুল। তুলতুলে নরম গাল। বেশ বড়সড় হয়েছিল রাসেল। মাথার চুল একটু ভেজা মনে হলো। আমি আমার ওড়না দিয়েই মুছতে শুরু করলাম। তারপরই এক চিরুনি নিলাম মাথার চুল আচড়াতে। মেজ ফুফু নিষেধ করলেন, মাথার চামড়া খুব নরম তাই এখনই চিরুনি দেয়া যাবে না। হাতে আঙ্গুল বুলিয়ে সিঁথি করে দিতে চেষ্টা করলাম। আমাদের পাঁচ ভাইবোনের সবার ছোট রাসেল। অনেক বছর পর একটা ছোট্ট বাচ্চা আমাদের বাসায় ঘর আলো করে এসেছে, আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আব্বা বার্ট্র্যান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে মাকে বাংলায় ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। মা রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এত ভক্ত হয়ে যান যে নিজের ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখেন। ছোট্ট রাসেল আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। মা রাসেলকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে সংসারের কাজ করতেন, স্কুল বন্ধ থাকলে তার পাশে শুয়ে আমি বই পড়তাম। আমার চুলের বেণি ধরে খেলতে খুব পছন্দ করত। আমার লম্বা চুলের বেণিটা ওর হাতে ধরিয়ে দিতাম। ও হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে হাসত। কারণ চুলের নাড়াচাড়ায় মুখে চুল লাগত ও খুব মজা পেত আর হাসত।

Picture

জন্মের প্রথম দিন থেকেই ওর ছবি তুলতাম, ক্যামেরা আমাদের হাতে থাকত। কত যে ছবি তুলেছি। ওর জন্য আলাদা একটা অ্যালবাম করেছিলাম যাতে ওর জন্মের দিন, প্রতি মাস, প্রতি তিন মাস, ছয় মাস অন্তর ছবি অ্যালবামে সাজানো হতো। দুঃখের বিষয় ওই ফটো অ্যালবামটা অন্যসব জিনিসপত্রের সাথে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লুট করে নেয়। হারিয়ে যায় আমাদের অতি যতেœ তোলা আদরের ছোট ভাইটির অনেক দুর্লভ ছবি।

বাসার সামনে ছোট্ট একটা লন। সবুজ ঘাসে ভরা। আমার মা খুবই যতœ নিতেন বাগানের। বিকেলে আমরা সবাই বাগানে বসতাম। সেখানে একটা পাটি পেতে ছোট রাসেলকে খেলতে দেয়া হতো। এক পাশে একটা বাঁশ বেঁধে দেয়া ছিল, সেখানে রাসেল ধরে ধরে হাঁটতে চেষ্টা করত। তখন কেবল হামাগুড়ি দিতে শুরু করেছে। আমরা হাত ধরে হাঁটাতে চেষ্টা করতাম। কিন্তু কিছুতেই হাঁটতে চাইত না। ওর স্বাস্থ্যও খুব ভালো ছিল। বেশ নাদুশ-নুদুশ একটা শিশু। আমরা ভাইবোন সব সময়ই ওকে হাত ধরে হাঁটাতাম। একদিন আমার হাত ধরে হাঁটছে। ওর যেন হাঁটার ইচ্ছা খুব বেড়ে গেছে। সারা বাড়ি হাত ধরে ধরে হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে পেছনের বারান্দা থেকে সামনের বারান্দা হয়ে বেশ কয়েকবার ঘুরল। এই হাঁটার মাঝে আমি মাঝে মধ্যে চেষ্টা করছি আঙ্গুল ছেড়ে দিতে, যাতে নিজে নিজে হাঁটে। কিন্তু তাতে সে বিরক্ত হচ্ছে আর বসে পড়ছে, হাঁটবে না আঙ্গুল ছাড়া। তার সাথে হাঁটতে হাঁটতে আমি বারবারই চেষ্টা করছি যদি নিজে হাঁটে। হঠাৎ সামনের বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে আমার হাত ছেড়ে নিজে হাঁটতে শুরু করল। হাঁটতে হাঁটতে চলছে। আমি পেছনে পেছনে যাচ্ছি। সেই প্রথম হাঁটা শুরু করল। আমি ভাবলাম কতটুকু হেঁটে আবার আমার হাত ধরবে। কিন্তু যতই হাঁটছি দেখি আমার হাত আর ধরে না, চলছে তো চলছেই, একেবারে মাঝের প্যাসেজ হয়ে পেছনের বারান্দায় চলে গেছে। আমি তো খুশিতে সবাইকে ডাকাডাকি শুরু করেছি যে, রাসেল সোনা হাঁটতে শিখে গেছে। একদিনে এভাবে কোনো বাচ্চাকে আমি হাঁটতে দেখিনি। অল্প অল্প করে হেঁটে হেঁটে তবেই বাচ্চারা শেখে। কিন্তু ওর সব কিছুই যেন ছিল ব্যতিক্রম। অত্যন্ত মেধাবী তার প্রমাণ অনেকভাবে আমরা পেয়েছি। আমাকে হাসুপা বলে ডাকত। কামাল ও জামালকে ভাই বলত আর রেহানাকে আপু। কামাল ও জামালের নাম কখনও বলত না। আমরা অনেক চেষ্টা করতাম নাম শেখাতে, কিন্তু মিষ্টি হেসে মাথা নেড়ে বলত ভাই। দিনের পর দিন আমরা যখন চেষ্টা করে যাচ্ছি- একদিন বলেই ফেলল ‘কামমাল’, ‘জামমাল’। তবে সব সময় ভাই বলেই ডাকত।

চলাফেয়ার বেশ সাবধানি কিন্তু সাহসী ছিল, সহসা কোনো কিছুতে ভয় পেতো না। কালো কালো বড় পিপড়া দেখলে হাতে ধরতে যেত। একদিন একটা ওল্লা (বড় কালো পিপড়া) হাতে ধরে ফেলল আর সাথে সাথে কামড় খেল। ছোট্ট আঙ্গুল কেটে রক্ত বের হলো। সাথে সাথে ওষুুধ দেয়া হলো। আঙ্গুলটা ফুলে গেছে। তারপর থেকে আর ধরতে যেত না। কিন্তু ওই পিপড়ার একটা নাম নিজেই দিয়ে দিল। কামড় খাওয়ার পর থেকেই কালো বড় পিপড়া দেখলে বলত ‘ভুট্টো’। নিজে থেকেই নামটা দিয়েছিল।

রাসেলের কথা ও কান্না টেপরেকর্ডারে টেপ করতাম। তখনকার দিনে বেশ বড় টেপরেকর্ডার ছিল। ওর কান্না মাঝে মধ্যে ওকেই শোনাতাম। সব থেকে মজা হতো ও যদি কোনো কারণে কান্নাকাটি করত, আমরা টেপ ছেড়ে দিতাম, ও তখন চুপ হয়ে যেত। অবাক হতো মনে হয়। একদিন আমি রাসেলের কান্না টেপ করে বারবার বাজাচ্ছি, মা ছিলেন রান্নাঘরে। ওর কান্না শুনে মা ছুটে এসেছেন। ভেবেছিলেন ও বোধহয় একা, কিন্তু এসে দেখেন আমি টেপ বাজাচ্ছি আর ওকে নিয়ে খেলছি। মা আর কী বলবেন। প্রথমে বকা দিলেন, কারণ মা খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন ও একা আছে মনে করে। তারপর হেসেই ফেললেন ওর টেপ করা কান্না শুনে। আমি ওকে দিয়ে কথা বলিয়ে টেপ করতে চেষ্টা করছিলাম।

আব্বা যখন ৬-দফা দিলেন, তারপরই তিনি গ্রেফতার হয়ে গেলেন। রাসেলের মুখের হাসিও মুছে গেল। সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে রাসেল আব্বাকে খুঁজত। রাসেল যখন কেবল হাঁটতে শিখেছে, আধো আধো কথা বলতে শিখেছে, আব্বা তখনই বন্দি হয়ে গেলেন। মা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন আব্বার মামলা-মকদ্দমা সামলাতে, পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখা। সংগঠনকে সক্রিয় রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম চালাতেও সময় দিতে হতো। আমি কলেজে পড়ি, সাথে সাথে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে কাজ শুরু করি। কামাল স্কুল শেষ করে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়। সেও রাজনীতিতে যোগ দেয়। জামাল ও রেহানা স্কুলে যায়। আব্বা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাসেলের খাওয়া-দাওয়া একরকম বন্ধ হয়ে যায়। কিছুই খেতে চাইত না। ওকে মাঝে মধ্যে ছোট ফুফুর বাসায় নিয়ে যেতাম। সেখানে গেলে আমার ছোট ফুফার সাথে বসে কিছু খেতে দিতেন। ছোট ফুফা ডিম পোচের সাথে চিনি দিয়ে রাসেলকে খেতে দিতেন। ঢেঁড়স ভাজির সাথেও চিনি দিয়ে রুটি খেতেন, রাসেলকেও খাওয়াতেন। আমাদের বাসায় আম্বিয়ার মা নামে এক বুয়া ছিল, খুব আদর করত রাসেলকে। কোলে নিয়ে ঘুরে ঘুরে খাবার খাওয়াত।

আমাদের বাসায় কবুতরের ঘর ছিল। বেশ উঁচু করে ঘর করা হয়েছিল। অনেক কবুতর থাকত সেখানে। মা খুব ভোরে উঠতেন, রাসেলকে কোলে নিয়ে নিচে যেতেন এবং নিজের হাতে কবুতরদের খাবার দিতেন। রাসেল যখন হাঁটতে শেখে তখন নিজেই কবুতরের পেছনে ছুটত, নিজে হাতে করে তাদের খাবার দিত। আমাদের গ্রামের বাড়িতেও কবুতর ছিল। কবুতরের মাংস সবাই খেত। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন অধিকাংশ জায়গা পানির নিচে থাকত তখন তরিতরকারি ও মাছের বেশ অভাব দেখা দিত। তখন প্রায়ই কবুতর খাওয়ার রেওয়াজ ছিল। সকালে নাস্তার জন্য পরোটা ও কবুতরের মাংস ভুনা সবার প্রিয় ছিল। তা ছাড়া কারও অসুখ হলে কবুতরের মাংসের ঝোল খাওয়ান হতো। ছোট ছোট বাচ্চাদের কবুতরের স্যুপ করে খাওয়ালে রক্ত বেশি হবে, তাই নিয়মিত বাচ্চাদের কবুতরের স্যুপ খাওয়াত। রাসেলকে কবুতর দিলে কোনোদিন খেত না। এত ছোট বাচ্চা কীভাবে যে টের পেত কে জানে। ওকে আমরা অনেকভাবে চেষ্টা করেছি। ওর মুখের কাছে নিলেও খেত না। মুখ ফিরিয়ে নিত। শত চেষ্টা করেও কোনোদিন কেউ ওকে কবুতরের মাংস খাওয়াতে পারেনি।

আব্বার সঙ্গে প্রতি ১৫ দিন পর আমরা দেখা করতে যেতাম। রাসেলকে নিয়ে গেলে ও আর আসতে চাইত না। খুবই কান্নাকাটি করত। ওকে বোঝানো হয়েছিল যে আব্বার বাসা জেলখানা আর আমরা আব্বার বাসায় বেড়াতে এসেছি। আমরা বাসায় ফেরত যাব। বেশ কষ্ট করেই ওকে বাসায় ফিরিয়ে আনা হতো। আর আব্বার মনের অবস্থা কী হতো তা আমরা বুঝতে পারতাম। বাসায় আব্বার জন্য কান্নাকাটি করলে মা ওকে বোঝাত এবং মাকে আব্বা বলে ডাকতে শেখাতেন। মাকেই আব্বা বলে ডাকত।

১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি আব্বাকে আগরতলা মামলায় আসামি করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে বন্দি করে রাখে। ছয় মাস পর্যন্ত আব্বার সাথে দেখা হয়নি। আমরা জানতেও পারিনি আব্বা কেমন আছেন কোথায় আছেন। রাসেলের শরীর খারাপ হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়া নিয়ে আরও জেদ করতে শুরু করে। ছোট্ট বাচ্চা মনের কষ্টের কথা মুখ ফুটে বলতেও পারে না, আবার সহ্যও করতে পারে না। কী যে কষ্ট ওর বুকের ভেতরে তা আমরা বুঝতে পারতাম।

কলেজ শেষ করে ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। মা আব্বার মামলা ও পার্টির কাজ নিয়ে ব্যস্ত। প্রায়ই বাসার বাইরে যেতে হয়। মামলার সময় কোর্টে যান। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন জোরদার করার জন্য ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ১৯৬৮ সালে ৬-দফা ও ১১-দফা আন্দোলন নিয়ে সবাই ব্যস্ত। আন্দোলন-সংগ্রাম তখন জোরদার হয়েছে। রাসেলকে সময় দিতে পারি না বেশি। আম্বিয়ার মা সব সময় দেখে রাখত। এমনি খাবার খেতে চাইত না কিন্তু রান্নাঘরে যখন সবাই খেত তখন ওদের সাথে বসত। পাশের ঘরে বসে লাল ফুল আঁকা থালায় করে পিঁড়ি পেতে বসে কাজের লোকদের সাথে ভাত খেতে পছন্দ করত।

আমাদের একটা পোষা কুকুর ছিল, ওর নাম টমি। সবার সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব ছিল। ছোট্ট রাসেলও টমিকে নিয়ে খেলত। একদিন খেলতে খেলতে হঠাৎ টমি ঘেউ ঘেউ করে ডেকে ওঠে, রাসেল ভয় পেয়ে যায়। কাঁদতে কাঁদতে রেহানার কাছে এসে বলে, ‘টমি বকা দিচ্ছে’। তার কথা শুনে আমরা তো হেসেই মরি। টমি আবার কীভাবে বকা দিল। কিন্তু রাসেলকে দেখে মনে হলো বিষয়টা বেশ গম্ভীর। টমি তাকে বকা দিয়েছে এটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না, কারণ টমিকে সে খুবই ভালোবাসতো। হাতে করে খাবার দিত। নিজের পছন্দমতো খাবারগুলো টমিকে ভাগ দেবেই, কাজেই সেই টমি বকা দিলে দুঃখ তো পাবেই।

১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্র“য়ারি প্রায় তিন বছর পর আব্বা গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন মুক্তি পান তখন রাসেলের বয়স চার বছর পার হয়েছে। কিন্তু ভীষণ রোগা হয়ে গিয়েছিল বলে আরও ছোট্ট দেখাত।

ওর মধ্যে আর একটি জিনিস আমরা লক্ষ্য করলাম। খেলার ফাঁকে ফাঁকে কিছুক্ষণ পরপরই আব্বাকে দেখে আসত। আব্বা নিচে অফিস করতেন। আমরা তখন দোতলায় উঠে গেছি। ও সারাদিন নিচে খেলা করত। আর কিছুক্ষণ পরপর আব্বাকে দেখতে যেত। মনে মনে বোধহয় ভয় পেত যে আব্বাকে বুঝি আবার হারায়।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন অসহযোগ আন্দোলন চলছে, তখন বাসার সামনে দিয়ে মিছিল যেত আর মাঝে মধ্যে পুলিশের গাড়ি চলাচল করত। দোতলার বারান্দায় রাসেল খেলা করত, যখনই দেখত পুলিশের গাড়ি যাচ্ছে তখনই চিৎকার করে বলত, ‘ও পুলিশ কাল হরতাল’। যদিও ওই ছোট্ট মানুষের কণ্ঠস্বর পুলিশের কানে পৌঁছত না কিন্তু রাসেল হরতালের কথা বলবেই। বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে হরতাল হরতাল বলে চিৎকার করত। সেøাগান দিত ‘জয় বাংলা’। আমরা বাসায় সবাই আন্দোলনের ব্যাপারে আলোচনা করতাম, ও সব শুনত এবং নিজেই আবার তা বলত। ১৯৭১ সালের পঁচিশ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালালে আব্বা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ছাব্বিশ মার্চ প্রথম প্রহরের পরপরই আব্বাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরদিন আবার আমাদের বাসা আক্রমণ করে। রাসেলকে নিয়ে মা ও জামাল পাশের বাসায় আশ্রয় নেয়। কামাল আমাদের বাসার পেছনে জাপানি কনস্যুলেটের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। কামাল মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে চলে যায়। আমার মা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হন। আমাদের ধানমন্ডির ১৮ নম্বর সড়কে (পুরাতন) একটা একতলা বাসায় বন্দি করে রাখে।

ছোট্ট রাসেলও বন্দি জীবনযাপন করতে শুরু করে। ঠিকমতো খাবার-দাবার নেই। কোনো খেলনা নেই, বইপত্র নেই, কী কষ্টের দিন যে ওর জন্য শুরু হলো। বন্দিখানায় থাকতে আব্বার কোনো খবরই আমরা জানি না। কোথায় আছেন কেমন আছেন কিছুই জানি না। প্রথমদিকে রাসেল আব্বার জন্য খুব কান্নাকাটি করত। তার ওপর আদরের কামাল ভাইকে পাচ্ছে না, সেটাও ওর জন্য কষ্টকর। মনের কষ্ট কীভাবে চেপে রাখবে আর কীভাবেই বা ব্যক্ত করবে। চোখের কোণে সব সময় পানি। যদি জিজ্ঞাসা করতাম, ‘কি হয়েছে রাসেল?’ বলত ‘চোখে ময়লা’।

ওই ছোট্ট বয়সে সে চেষ্টা করত মনের কষ্ট লুকাতে। মাঝে মধ্যে রমার কাছে বলত। রমা ছোট থেকেই আমাদের বাসায় থাকত, ওর সাথে খেলত। পারিবারিকভাবে ওদের বংশ পরম্পরায় আমাদের বাড়িতে বিভিন্ন কাজ করত। ওকে মাঝে মধ্যে দুঃখের কথা বলত। ওর চোখে পানি দেখলে যদি জিজ্ঞেস করতাম, বলত চোখে যেন কী হয়েছে। অবাক লাগত এটুকু একটা শিশু কীভাবে নিজের কষ্ট লুকাতে শিখল। আমরা বন্দিখানায় সব সময় দুঃশ্চিন্তায় থাকতাম, কারণ পাকবাহিনী মাঝে মধ্যেই ঘরে এসে সার্চ করত। আমাদের নানা কথা বলত। জামালকে বলত, তোমাকে ধরে নিয়ে শিক্ষা দেব। রেহানাকে নিয়েও খুব চিন্তা হতো। জয় এরই মাঝে জন্ম নেয়। জয় হওয়ার পর রাসেল যেন একটু আনন্দ পায়। সারাক্ষণ জয়ের কাছে থাকত। ওর খোঁজ নিত।

যখন ডিসেম্বর মাসে যুদ্ধ শুরু হয় তখন তার জয়কে নিয়েই চিন্তা। এর কারণ হলো, আমাদের বাসার ছাদে বাঙ্কার করে মেশিনগান বসানো ছিল, দিন-রাতই গোলাগুলি করত। প্রচ- আওয়াজ হতো। জয়কে বিছানায় শোয়াতে কষ্ট হতো। এটুকু ছোট্ট বাচ্চা মাত্র চার মাস বয়স, মেশিনগানের গুলিতে কেঁপে কেঁপে উঠত।

এর ওপর শুরু হলো এয়ার রেইড। আক্রমণের সময় সাইরেন বাজত। রাসেল এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক ছিল। যখনই সাইরেন বাজত বা আকাশে মেঘের মতো আওয়াজ হতো, রাসেল তুলা নিয়ে এসে জয়ের কানে গুঁজে দিত। আমরা বলতাম, তোমার কানেও দাও। নিজেও তখন দিত। সব সময় পকেটে তুলা রাখত।

সে সময় খাবার কষ্টও ছিল, ওর পছন্দের কোনো খাবার দেওয়া সম্ভব হতো না। দিনের পর দিন ঘরে বন্দি থাকা, কোনো খেলার সাথি নেই। পছন্দমতো খাবার পাচ্ছে না, একটা ছোট বাচ্চার জন্য কত কষ্ট নিয়ে দিনের পর দিন কাটাতে হয়েছে তা কল্পনাও করা যায় না। রাসেল অত্যন্ত মেধাবী ছিল। পাকসেনারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র পরিষ্কার করত। ও জানালায় দাঁড়িয়ে সব দেখত। অনেক অস্ত্রের নামও শিখেছিল। যখন এয়ার রেইড হতো তখন পাকসেনারা বাঙ্কারে ঢুকে যেত আর আমরা তখন বারান্দায় বের হওয়ার সুযোগ পেতাম। আকাশে যুদ্ধবিমানের ‘ডগ ফাইট’ দেখারও সুযোগ হয়েছিল। প্লেন দেখা গেলেই রাসেল খুব খুশি হয়ে হাতে তালি দিত।

ষোল ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে সারেন্ডার হয়, পাকিস্তান যুদ্ধে হেরে যায়, বাংলাদেশ মুক্ত হয়। আমরা সেদিন মুক্তি পাই নি। আমরা মুক্তি পাই ১৭ ডিসেম্বর সকালে। যে মুহূর্তে আমরা মুক্ত হলাম এবং বাসার সৈনিকদের ভারতীয় মিত্রবাহিনী বন্দি করল, তারপর থেকে আমাদের বাসায় দলে দলে মানুষ আসতে শুরু করল। এর মধ্যে রাসেল মাথায় একটা হেলমেট পরে নিল, সাথে টিটোও একটা পড়ল। দুইজন হেলমেট পরে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা শুরু করল। আমরা তখন একদিকে মুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত আবার আব্বা, কামাল, জামালসহ অগণিত মানুষের জন্য দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত। কে বেঁচে আছে কে নেই কিছুই তো জানি না। এক অনিশ্চয়তার ভার বুকে নিয়ে বিজয়ের উল্লাস করছি। চোখে পানি, মুখে হাসি- এই ক্ষণগুলো ছিল অদ্ভুত এক অনুভূতি নিয়ে, কখনও হাসছি কখনও কান্নাকাটি করছি। আমাদের কাঁদতে দেখলেই রাসেল মন খারাপ করত। ওর ছোট্ট বুকের ব্যথা আমরা কতটুকু অনুভব করতে পারি? এর মধ্যে কামাল ও জামাল রণাঙ্গন থেকে ফিরে এসেছে। রাসেলের আনন্দ ভাইদের পেয়ে, কিন্তু তখন তার দুচোখ ব্যথায় ভরা, মুখফুটে বেশি কথা বলত না। কিন্তু ওই দুটো চোখ যে সব সময় আব্বাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে তা আমি অনুভব করতে পারতাম।

আমরা যে বাসায় ছিলাম তার সামনে একটা বাড়ি ভাড়া নেওয়া হলো। কারণ এত মানুষ আসছে যে বসারও জায়গা দেয়া যাচ্ছে না। এদিকে আমাদের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাসা লুটপাট করে বাথরুম, দরজা-জানালা সব ভেঙে রেখে গেছে পাকসেনারা। মেরামত না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকতে হবে।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি আব্বা ফিরে এলেন বন্দিখানা থেকে মুক্তি পেয়ে। আমার দাদা রাসেলকে নিয়ে এয়ারপোর্টে গেলেন আব্বাকে আনতে। লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল সেদিন, আব্বা প্রথম গেলেন তার প্রিয় মানুষের কাছে। এরপর এলেন বাড়িতে। আমরা সামনের বড় বাড়িটায় উঠলাম। ছোট যে বাসাটায় বন্দি ছিলাম সে বাসাটা দেশ-বিদেশ থেকে সব সময় সাংবাদিক ফটোগ্রাফার আসত আর ছবি নিত। মাত্র দুটো কামরা ছিল। আব্বার থাকার মতো জায়গা ছিল না এবং কোনো ফার্নিচারও ছিল না। যা হোক, সব কিছু তড়িঘড়ি করে জোগাড় করা হলো।

রাসেলের সব থেকে আনন্দের দিন এলো যেদিন আব্বা ফিরে এলেন। এক মুহূর্ত যেন আব্বাকে কাছছাড়া করতে চাইত না। সব সময় আব্বার পাশে পাশে ঘুরে বেড়াত। ওর জন্য ইতোমধ্যে অনেক খেলনাও আনা হয়েছে। ছোট সাইকেলও এসেছে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই ও আব্বার কাছে চলে যেত।

ফেব্র“য়ারি মাসে আমরা ৩২ নম্বর সড়কে আমাদের বাসায় ফিরে এলাম। বাসাটা মেরামত করা হয়েছে। রাসেলের মুখে হাসি, সারা দিন খেলা নিয়ে ব্যস্ত। এর মাঝে গণভবনও মেরামত করা হয়েছে। পুরনো গণভবন বর্তমানে সুগন্ধ্যাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হতো। এবার গণভবন ও তার পাশেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কার্যক্রম শুরু করা হলো। গণভবন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসস্থান আর এর পাশেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, ভেতর থেকে রাস্তা ছিল, হেঁটেই কার্যালয়ে যাওয়া যেত।

আব্বা প্রতিদিন সকালে অফিসে আসতেন, দুপুরে গণভবনে বিশ্রাম নিতেন, এখানেই খাবার খেতেন। বিকেলে হাঁটতেন আর এখানেই অফিস করতেন। রাসেল প্রতিদিন বিকেলে গণভবনে আসত। তার সাইকেলটাও সাথে আসত। রাসেলের মাছ ধরার খুব শখ ছিল। কিন্তু মাছ ধরে আবার ছেড়ে দিত। মাছ ধরবে আর ছাড়বে এটাই তার খেলা ছিল। একবার আমরা সবাই মিলে উত্তরা গণভবন নাটোর যাই। সেখানেও সারা দিন মাছ ধরতেই ব্যস্ত থাকত।

রাসেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলে ভর্তি হয়। তবে স্কুলে যেতে মাঝে মধ্যেই আপত্তি জানাত। তখন সে যাকে সাথে নিতে চাইবে তাকেই পাঠতে হতো। বাসায় পড়ার জন্য টিচার ছিল। কিন্তু আমরা ছোটবেলা থেকে যে শিক্ষকের কাছে পড়েছি তার কাছে পড়বে না। তখন ও স্কুলে ভর্তি হয় নি এটা স্বাধীনতার আগের ঘটনা, তার পছন্দ ছিল ওমর আলীকে। বগুড়ায় বাড়ি। দি পিপল পত্রিকার অ্যাডে কণ্ঠ দিয়েছিল, টেলিভিশনে ইংরেজি খবর পড়ত। মাঝে মধ্যে আমাদের বাসায় আসত, তখন রাসেলের জন্য অনেক ‘কমিক’ বই নিয়ে আসত এবং রাসেলকে পড়ে শোনাত। যা হোক, স্বাধীনতার পরে একজন ভদ্র মহিলা রাসেলের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। রাসেলকে পড়ানো খুব সহজ ছিল না। শিক্ষককে তার কথাই শুনতে হতো। প্রতিদিন শিক্ষয়িত্রীকে দুটো করে মিষ্টি খেতে হবে। আর এ মিষ্টি না খেলে সে পড়বে না। কাজেই শিক্ষিকাকে খেতেই হতো। তা ছাড়া সব সময় তার লক্ষ্য থাকত শিক্ষিকার যেন কোনো অসুবিধা না হয়। মানুষকে আপ্যায়ন করতে খুবই পছন্দ করত।

রবিবার শেখ রাসেলের ৫১তম জন্মদিন

টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে গেলে তার খেলাধুলার অনেক সাথি ছিল। গ্রামের ছোট ছোট অনেক বাচ্চাদের জড়ো করত। তাদের জন্য ডামি বন্দুক বানিয়ে দিয়েছিল। সেই বন্দুক হাতে তাদের প্যারেড করাত। প্রত্যেকের জন্য খাবার কিনে দিত। রাসেলের ক্ষুদে বাহিনীর জন্য জামা-কাপড় ঢাকা থেকেই কিনে দিতে হতো। মা কাপড়-চোপড় কিনে টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যেতেন। রাসেল সেই কাপড় তার ক্ষুদে বাহিনীকে দিত। সব সময় মা কাপড়-চোপড় কিনে আলমারিতে রেখে দিতেন। নাসের কাকা রাসেলকে এক টাকার নোটের বান্ডিল দিতেন। ক্ষুদে বাহিনীকে বিস্কুট লজেন্স কিনে খেতে টাকা দিত। প্যারেড শেষ হলেও তাদের হাতে টাকা দিত। এই ক্ষুদে বাহিনীকে নিয়ে বাড়ির উঠোনেই খেলা করত। রাসেলকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করত, বড় হলে তুমি কি হবে? তা হলে বলত, আমি আর্মি অফিসার হব।

ওর খুব ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন থেকেই ওর এই ইচ্ছা। কামাল ও জামাল মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর সব গল্প বলার জন্য আবদার করত। খুব আগ্রহ নিয়ে শুনত। রাসেল আব্বাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করত। আব্বাকে মোটেই ছাড়তে চাইত না। যেখানে যেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব আব্বা ওকে নিয়ে যেতেন। মা ওর জন্য প্রিন্স স্যুট বানিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ আব্বা প্রিন্স স্যুট যেদিন পরতেন রাসেলও পরত। কাপড়-চোপড়ের ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই তার নিজের পছন্দ ছিল। তবে একবার একটা পছন্দ হলে তা আর ছাড়তে চাইত না। ওর নিজের একটা আলাদা ব্যক্তিত্ব ছিল। নিজের পছন্দের ওপর খুব বিশ্বাস ছিল। খুব স্বাধীন মত নিয়ে চলতে চাইত। ছোট মানুষটার চরিত্রের দৃঢ়তা দেখে অবাক হতে হতো। বড় হলে সে যে বিশেষ কেউ একটা হবে তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না।

জাপান থেকে আব্বার রাষ্ট্রীয় সফরে দাওয়াত আসে। জাপানিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দেয়। শরণার্থীদের সাহায্য করে জাপানের শিশুরা তাদের টিফিনের টাকা দেয় আমাদের দেশের শিশুদের জন্য। সেই জাপান যখন আমন্ত্রণ জানায় তখন গোটা পরিবারকেই আমন্ত্রণ দেয় বিশেষভাবে রাসেলের কথা তারা উল্লেখ করে। রাসেল ও রেহানা আব্বার সাথে জাপান যায়। রাসেলের জন্য বিশেষ কর্মসূচিও রাখে জাপানি সরকার। খুব আনন্দ করেছিল রাসেল সেই সফরে। তবে মাকে ছেড়ে কোথাও ওর থাকতে খুব কষ্ট হয়। সারা দিন খুব ব্যস্ত থাকত কিন্তু রাতে আব্বার কাছেই ঘুমাত। আর তখন মাকে মনে পড়ত। মার কথা মনে পড়লেই মন খারাপ করত। আব্বার সঙ্গে দেশেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিত। আব্বা নেভির কর্মসূচিতে যান। সমুদ্রে জাহাজ কমিশন করতে গেলে সেখানে রাসেলকে সাথে নিয়ে যান। খুব আনন্দ করেছিল ছোট্ট রাসেল। রাসেলের একবার খুব বড় অ্যাকসিডেন্ট হলো। সে দিনটার কথা এখনও মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে। রাসেলের একটা ছোট ‘মপেট’ মোটরসাইকেল ছিল আর একটা সাইকেলও ছিল। বাসায় কখনও রাস্তায় সাইকেল নিয়ে চলে যেত। পাশের বাড়ির ছেলেরা ওর সঙ্গে সাইকেল চালাত। আদিল ও ইমরান দুই ভাই এবং রাসেল একই সঙ্গে খেলা করত। একদিন ‘মপেট’ চালানোর সময় রাসেল পড়ে যায় আর ওর পা আটকে যায় সাইকেলের পাইপে। বেশ কষ্ট করে পা বের করে। আমি বাসার ওপর তলায় জয় ও পুতুলকে নিয়ে ঘরে। হঠাৎ রাসেলের কান্নার আওয়াজ পাই। ছুটে উত্তর-পশ্চিমের খোলা বারান্দায় চলে আসি, চিৎকার করে সবাইকে ডাকি। এর মধ্যে দেখি ওকে কোলে নিয়ে আসছে। পায়ের অনেকখানি জায়গা পুড়ে গেছে। বেশ গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ডাক্তার এসে ওষুধ দিল। অনেক দিন পর্যন্ত পায়ের ঘা নিয়ে কষ্ট পেয়েছিল। এর মধ্যে আব্বা অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাশিয়া যান চিকিৎসা করাতে। সেখানে রাসেলের পায়ের চিাকিৎসা হয়। কিন্তু সারতে অনেক সময় নেয়। আমাদের সবার আদরের ছোট্ট ভাইটি। ওর ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। খুবই সাবধানী ছিল। আর এখন এত কষ্ট পাচ্ছে।

১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে কামাল ও জামালের বিয়ে হয়। হলুদ ও বিয়ের অনুষ্ঠানে আমরা অনেক মজা করি। বাইরে চাকচিক্য বেশি ছিল না কিন্তু ভেতরে আমরা আত্মীয়-স্বজন মিলে খুব আনন্দ করি। বিশেষ করে হলুদের দিন সবাই খুব রং খেলে। রাসেল ওর সমবয়সীদের সাথে মিলে রং খেলে। বিয়ের সময় দুই ভাইয়ের পাশে পাশেই থাকে। দুই ভাইয়ের বিয়ে কাছাকাছি সময়ই হয়। কামালের ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই, আর জামালের ১৭ জুলাই বিয়ে হয়। সব সময় ভাবিদের পাশে ঘুরঘুর করত, কার কী লাগবে খুব খেয়াল রাখত।

৩০ জুলাই আমি জার্মানিতে স্বামীর কর্মস্থলে যাই। রাসেলের খুব মন খারাপ ছিল। কারণ জয়ের সাথে একসাথে খেলত। সব থেকে মজা করত যখন রাসেল জয়ের কাছ থেকে কোনো খেলনা নিতে চাইত তখন জয়কে চকলেট দিত। আর চকলেট পেয়ে জয় হাতের খেলনা দিয়ে দিত, বিশেষ করে গাড়ি। রাসেল গাড়ি নিয়ে খেলত, জয়ের যেই চকলেট খাওয়া শেষ হয়ে যেত তখন বলত চকলেট শেষ, গাড়ি ফেরত দাও। তখন রাসেল আবার বলত, চকলেট ফেরত দাও, গাড়ি ফেরত দিব। এই নিয়ে মাঝে মধ্যে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া লেগে যেত, কান্নাকাটি শুরু হতো। মা সব সময় আবার জয়ের পক্ষ নিতেন। রাসেল খুব মজাই পেত। পুতুলের খেলার জন্য একটা ছোট্ট খেলনা পুতুল ও প্রাম ছিল, ওই প্রাম থেকে খেলার পুতুল সরিয়ে পুতুলকে বসিয়ে ঠেলে নিয়ে বেড়াত। পুতুল এত ছোট ছিল যে, খেলার প্রামে ভালোই বসে থাকত। রাসেল খুব মজা করে জয়-পুতুলকে নিয়ে খেলত। আমি জার্মানি যাওয়ার সময় রেহানাকে আমার সাথে নিয়ে যাই। রাসেলকে সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু ওর হঠাৎ জন্ডিস হয়, শরীর খারাপ হয়ে পড়ে। সে কারণে মা ওকে আর আমাদের সাথে যেতে দেননি। রাসেলকে যদি সেদিন আমাদের সাথে নিয়ে যেতে পারতাম তা হলে ওকে আর হারাতে হতো না।

১৯৭৫ সালের পনের আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিল ছোট্ট রাসেলকে। মা, বাবা, দুই ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, চাচা সবার লাশের পাশ দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে সবার শেষে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করল রাসেলকে। ওই ছোট্ট বুকটা কি তখন ব্যথায় কষ্টে বেদনায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। যাদের সান্নিধ্যে স্নেহ-আদরে হেসে খেলে বড় হয়েছে তাদের নিথর দেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে ওর মনের কী অবস্থা হয়েছিল- কী কষ্টই না ও পেয়েছিল কেন কেন কেন আমার রাসেলকে এত কষ্ট দিয়ে কেড়ে নিল? আমি কি কোনো দিন এই কেনর উত্তর পাব?


মাত্র ৬% আমেরিকান এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারেন, আপনি পারবেন কি?

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০১৫

হাকিকুল ইসলাম খোকন:আয়েশা আকতার রুবী,বাপসনিঊজ:আপনি কতোটুকু সাধারণ জ্ঞান রাখেন বলুন তো? বলতে পারছেন না তো? ঠিক আছে, তাহলে আজ আপনি নিজের জ্ঞানের পরিধি বোঝার জন্য এই পরীক্ষাটি করুন। এই লেখায় মাত্র ৮ টি প্রশ্ন রয়েছে। এই প্রশ্নগুলো আমেরিকার প্রায় ৩,২৭৮ জন মানুষকে করা হয় তাদের জ্ঞানের পরিধি বোঝার জন্য। Pew Research Center’s American Trends Panel এর এই জরীপে মাত্র ৬% মানুষ সবগুলোর সঠিক উত্তর দিতে পেরেছেন। বাকিরা কেউ কেউ কয়েকটি ভুল করেছেন এবং কেউ একেবারেই পারেন নি। এবারে এই পরীক্ষাটি আপনি নিজের উপরেই করে দেখুন না। দেখুন তো আমেরিকার কতোজন মানুষের চাইতে আপনি বেশী জ্ঞান রাখেন। নিজের জ্ঞানের পরিধি নিজেই বুঝে নিন।

Picture

১) কয়েক মিলিয়ন মাইল বিস্তৃত একটি মহাকাশের বরফাবৃত সৌরজাগতিক বস্তু। যা সূর্যের খুব কাছ দিয়ে পরিভ্রমণ করে এবং এর লেজ ঝাঁটার মতো ও গ্যাসের তৈরি। এবার বলুন বস্তুটি কি?

ক) তারা

খ) ধূমকেতু

গ) চাঁদ

ঘ) উল্কাপিণ্ড

২) মোবাইল ফোনের কলের জন্য কোন ধরণের তরঙ্গের প্রয়োজন?

ক) বেতার তরঙ্গ

খ) আলোক তরঙ্গ

গ) শব্দ তরঙ্গ

ঘ) মাধ্যাকর্ষণ তরঙ্গ

৩) পৃথিবীর কোন স্তরটি সবচাইতে বেশী গরম?

ক) সবচাইতে ওপরের অংশ

খ) মাঝের অংশ

গ) একেবারে ভেতরের অংশ

৪) কিসের কারণে জোয়ার-ভাটার উৎপত্তি?

ক) পৃথিবীর নিজস্ব অক্ষে ঘূর্ণনের ফলে

খ) চাঁদের মহাকর্ষীয় টানের কারণে

গ) সূর্যের মহাকর্ষীয় টানের কারণে

৫) আলোকবর্ষ দিয়ে কি পরিমাপ করা হয়?

ক) আলোর উজ্জ্বলতা

খ) সময়

গ) দূরত্ব

ঘ) ওজন

৬) যদি ডেনভার ও কলোরাডো, ক্যালিফোর্নিয়া ও লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে উচ্চতর স্থানে হয়ে থাকে তাহলে নিচের কোনটি সঠিক?

ক) লস অ্যাঞ্জেলেসের চাইতে কম তাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করবে ডেনভারে

খ) লস অ্যাঞ্জেলেসের চাইতে বেশী তাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করবে ডেনভারে

গ) দুই জায়গায় একই তাপমাত্রায় পানি ফুটবে

৭) কোন উপাদানটি পারমাণবিক শক্তি ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে কাজ করে?

ক) সোডিয়াম ক্লোরাইড

খ) ইউরেনিয়াম

গ) কার্বনেট

ঘ) নাইট্রোজেন

৮) পোলিও টীকার আবিষ্কর্তা কে?

ক) আইজ্যাক নিউটন

খ) মেরি কুরি

গ) আলবার্ট আইনস্টাইন

ঘ) জোনাস সক

সঠিক উত্তরসমূহ ও ফলাফল

১. খ) ধূমকেতু

২. ক) বেতার তরঙ্গ

৩. গ) একেবারে ভেতরের অংশ

৪. খ) চাঁদের মহাকর্ষীয় টানের কারণে

৫. গ) দূরত্ব

৬. ক) লস অ্যাঞ্জেলেসের চাইতে কম তাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করবে ডেনভারে

৭. খ) ইউরেনিয়াম

৮. ঘ) জোনাস সক

যদি আপনি একটিও সঠিক উত্তর দিতে না পারেন

যদি একটিও উত্তর দিতে না পারেন তাহলে মন খারাপ করবেন না। কারণ, আমেরিকার প্রায় ১% মানুষ একটিও সঠিক উত্তর দিতে পারেন না। তবে আপনার উচিত ব্যস্ততার পাশাপাশি একটু হলেও সাধারণ জ্ঞানের দিকে নজর দেয়া।

যদি আপনি ২ টি সঠিক উত্তর দিতে পারেন

আমেরিকার প্রায় ৫% মানুষ আপনার মতো সাধারণ জ্ঞান রাখেন। আপনি প্রায় ১৭% মানুষের থেকে বেশী জানেন কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে অন্যান্য ৭৮% মানুষ আপনার থেকে বেশী জ্ঞান রাখেন।

যদি আপনি ৪ টি সঠিক উত্তর দিতে পারেন

আপনি আমেরিকার প্রায় ৯% মানুষের মতো সাধারণ জ্ঞান রাখেন। আপনি প্রায় ৩১% মানুষের থেকে বেশী জানেন কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে অন্যান্য ৬০% মানুষ আপনার থেকে বেশী জ্ঞান রাখেন।

যদি আপনি ৬ টি সঠিক উত্তর দিতে পারেন

আপনি আমেরিকার প্রায় ১৫% মানুষের মতো সাধারণ জ্ঞান রাখেন। আপনি প্রায় ৫২% মানুষের থেকে বেশী জানেন কিন্তু বাকি ৩৩% মানুষ আপনার থেকে বেশী জ্ঞান রাখেন।

যদি আপনি ৮ টিই সঠিক উত্তর দিতে পারেন

যদি প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর আপনি সঠিক দিতে পারেন তাহলে আপনি সে ৬% জ্ঞানী মানুষের মধ্যে পড়েন যারা স্বাভাবিক জীবন যাপনের পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক যোগ্যতা হিসেবে যথেষ্ট সাধারণ জ্ঞান রাখেন। এবং আপনি প্রায় ৯৪% মানুষের চাইতে বেশী জ্ঞান রাখেন।


বস্টন বাংলা নিউজের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫

ঈদ মোবারক ।

Eid card 2015  Boston Bangla 5

ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশির জোয়ার। ঈদ মানে সহমর্মিমতা ও সহযোগিতার অপূর্ব বন্ধন. এই আনন্দ ও উৎসব সবার জীবনে খুশীর বন্যা নিয়ে আসুক, ভুলিয়ে দিক সব বিভেদ- সেই প্রত্যাশায় বস্টন বাংলা নিউজ-এর সন্মানিত পাঠক, লেখক এবং শুভাকাংক্ষীদের প্রতি রইল ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ বয়ে আনুক আপনাদের সকলের জীবনে হাসি আনন্দ আর সমৃদ্ধি।

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ৪ দিন এনজেবিডি নিউজ বন্ধ থাকবে ( ২৫,২৬,২৭,২৮ সেপ্টেম্বর  ) বস্টন বাংলা নিউজ প্রকাশিত হবে না।


সবাইকে ঈদ উল আজহার শুভেচ্ছা - হাকিকুল ইসলাম খোকন

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫

BAPS NEWS

ঈদ মোবারক । হাকিকুল ইসলাম খোকন (বাপ্ নিউজ )দেশে ও প্রবাসে সবাইকে আগামী ঈদ উল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পবিত্র ঈদ সবার মনে বয়ে আনুক নব আনন্দ। ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশির জোয়ার। ঈদ মানে সহমর্মিমতা ও সহযোগিতার অপূর্ব বন্ধন. এই আনন্দ ও উৎসব সবার জীবনে খুশীর বন্যা নিয়ে আসুক, ভুলিয়ে দিক সব বিভেদ- সেই প্রত্যাশায় সকলের প্রতি রইল ঈদের শুভেচ্ছা।ঈদ মোবারক ।


ঈদ-উল-আযহা উপলখে জেএসডি’র শুভেচ্ছা

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫

2

আয়েশা আকতার রুবি,বাপসনিঊজ:জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি- যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন এবং সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন আহমেদ শামীম এক বিবৃতিতে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বাংলাদেশ ও বিশে^র মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, এ উপলক্ষে পশু কোরবানীকে অর্থবহ করতে হলে প্রত্যেকের মনের হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, পরশ্রীকাতরতা ও নারীর প্রতি কুদৃষ্টি সহ সকল পাশবিক বোধকে কোরবানী করতে হবে। নেতৃবৃন্দ কোরবানী উপলক্ষে বিত্তশালীদের দাম্ভিকতা বাদ দিয়ে গরীব দু:খী মানুষকেও এ আনন্দে অংশীদার করার উদ্যোগ গ্রহনের আহবান জানিয়েছেন।

1

আয়েশা আকতার রুবি,বাপসনিঊজ:জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও সাধারন সম্পাদক আবদুল মালেক রতন এক বিবৃতিতে পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বাংলাদেশ ও বিশে^র মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, এ উপলক্ষে পশু কোরবানীকে অর্থবহ করতে হলে প্রত্যেকের মনের হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, পরশ্রীকাতরতা ও নারীর প্রতি কুদৃষ্টি সহ সকল পাশবিক বোধকে কোরবানী করতে হবে। নেতৃবৃন্দ কোরবানী উপলক্ষে বিত্তশালীদের দাম্ভিকতা বাদ দিয়ে গরীব দু:খী মানুষকেও এ আনন্দে অংশীদার করার উদ্যোগ গ্রহনের আহবান জানিয়েছেন।


যুক্তরাষ্ট্রে পবিত্র ঈদুল আযহা ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহষ্পতিবার

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৫

বাপ্ নিউজ: বস্টন বাংলা নিউজ:উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায় আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহষ্পতিবার পবিত্র ঈদুল আযহা পালন করবে। পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে চলছে নানা আয়োজন ও কোরবানীর প্রস্তুতি।

Eid card 2015  Boston Bangla 5
নিকটস্থ মুসলিম মালিকানাধীন দোকানগুলোতে ব্যবস্থা করা হয়েছে কোরবানীর অর্ডার নেয়ার। এছাড়া অনেকেই কোরবানীর মাঠে ইসলামি শরীয়া মতে কোরবানীর আয়োজন চুড়ান্ত করবেন। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরের মসজিদে মসজিদে চলছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের আয়োজন। নামাজের সময় সূচীর জন্য নিকটস্থ মসজিদে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। বস্টন বাংলা নিউজে পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।


আব্বা মুক্ত থাকলে আমাদের ছিল ডাবল ঈদ - শেখ রেহানা

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

শেখ রেহানা : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ রেহানা জানাচ্ছেন তাঁর ছেলেবেলার ঈদের স্মৃতি। আব্বা–মা, পাঁচ ভাইবোন মিলে তাঁর ছিল সোনালি শৈশব, বর্ণালী কৈশোর। ছিল হাসি–কান্না, স্বপ্ন–আনন্দভরা দিনরাত্রি। বঙ্গবন্ধু প্রায়ই থাকতেন কারাগারে, কখনো–বা থাকতেন কারাগারের বাইরে। কেমন ছিল বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সেই সময়ের ঈদের দিনগুলো। মর্মস্পর্শী এই স্মৃতিকথায়।

Picture

ছোটবেলায় দেখতাম, আব্বা প্রায়ই থাকতেন জেলখানায়। আমাদের কাছে ঈদ ছিল তখন, যখন আব্বা জেলখানার বাইরে থাকতেন, মুক্ত থাকতেন। আর আব্বাও জেলখানার বাইরে, ঈদও এল—এমন হলে তো কথাই নেই। আমাদের হতো ডাবল ঈদ।
আব্বা জেলে থাকলে ঈদের পরের দিন মা বেশি করে ভালো খাবারদাবার রাঁধতেন। জেলে তো আব্বা একা খাবেন না, অন্য যে নেতারা আছেন, তাজউদ্দীন চাচারা আছেন, আশপাশে যাঁরা আছেন, সবাইকে নিয়ে খাবেন। আব্বার সঙ্গে দেখা করতে আমরা যেতাম জেলখানায়। ১৫ দিনে একবার দেখা করতে যাওয়ার অনুমতি মিলত। সেদিন আমি স্কুলের শেষ দুই পিরিয়ড না করেই চলে আসতাম। রাসেল তো জন্মের পর আব্বাকে বাইরে কমই দেখেছে। ও জেলখানায় গেলে আর ফিরতে চাইত না। বলত, এটা আব্বুর বাড়ি। আমি আমাদের বাড়িতে যাব না। আসো, আমরা আব্বুর বাড়িতেই থাকি। কতই-বা বয়স ছিল তখন। তিন বা চার। ও তো বুঝত না। আমাদের জেলগেট থেকে ফিরে আসতেই হতো। সেই রাতে রাসেল আর ঘুমোতে পারত না। গভীর রাতে সে কাঁদতে শুরু করত। হাছু আপাকে ডাকো, দেনা আপাকে ডাকো, (আমাকে প্রথম প্রথম সে ডাকত দেনা আপা, তারপর রেয়না আপা), বড় ভাইকে ডাকো, ছোট ভাইকে ডাকো। আমরা ছুটে যেতাম। কী হয়েছে! কোনো দিন বলত পেটে ব্যথা, কোনো দিন বলত হাতে ব্যথা, আসলে আব্বার কথা তার মনে পড়েছে, সে ঘুমোতে পারছে না, আমাদের সবাইকে কাছে পেতে চাইছে, আমরা তাকে ঘিরে বসে আছি, সে মায়ের কোলে, ছোট্ট হাত-পা-শরীরের মানুষটা, মায়াভরা মুখ, বড় বড় চোখের পাতা, একটা সময় ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ত।
শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধু, তঁার পেছনে শেখ রেহানা, শেখ জামাল, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও অন্যান্য। তঁারা কখনো একা খেতেন নাআর আব্বা বাসায় থাকলে তো আমাদের ঈদের খুশি। বাড়িতে গমগম করছে মানুষ। কতজন যে আসছেন, কতজন যে খাচ্ছেন, আমরা যা খাই, তা-ই খাচ্ছেন—আলাদা কিছু নয়। রাজনৈতিক পরিবার, যাঁরা আসেন, খান। আমাদের ডাইনিং টেবিলটা ছিল বিশাল বড়। একসঙ্গে ১২ জন ১৬ জনও খেতে বসতে পারত। বাসাভর্তি লোকজন গমগম করছে, রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে—আমরা তো পড়ারও জায়গা পাই না। ছাদে চলে যাই। কিংবা এই ভিড়ের মধ্যেই সব ভাইবোন একখানে গোল হয়ে বসে গুনগুন করে একসঙ্গে পড়ি। সব সামলাতেন আমার মা। আব্বার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে আছে, মাকে বলছেন, তুমি যা ভালো বোঝো, কোরো। কী যে সম্মান করতেন মাকে। নারীর প্রতি, স্ত্রীর প্রতি কী যে তাঁর সম্মানবোধ ছিল। আর আমার মা! তাঁর কথা ভাবি। কত অল্প বয়সে বিয়ে হয়েছে। মাত্র ৪৪ বছর বয়সে তো তিনি আমাদের ছেড়ে চলেই গেলেন। কত অল্প বয়সে এতগুলো ছেলেমেয়ে নিয়ে তাঁকে জীবন-সংগ্রামে নেমে পড়তে হয়েছিল। আব্বা আগের দিন মন্ত্রী, পরের দিন জেলখানায়, বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে সরকারি বাসা ছেড়ে দিতে হয়েছে, কিন্তু কেউ মাকে বাসাভাড়া দিচ্ছে না। আমার তখনো জন্ম হয়নি, কিন্তু এসব ঘটনা তো শুনেছি, পড়েছি, পরে নিজের চোখে দেখেছি। গ্রামে জন্ম হওয়া একজন সাধারণ নারী আমার মা, ক্লাস ফোর-ফাইভ পর্যন্ত পড়েছেন মিশনারি স্কুলে। কিন্তু কী যে প্রজ্ঞা, কী যে তাঁর ধৈর্য। আমার মায়ের কাছ থেকে আমাদের যে জিনিসটা সবার আগে শেখা উচিত, তা হলো ধৈর্য আর সাহস। সবাইকে এক করে রাখা। এতগুলো লোক বাড়িতে খাচ্ছে-দাচ্ছে, আমাদের গ্রামে কোনো মেয়ে ম্যাট্রিক পাস করেছে, তাকে এনে ঢাকায় কলেজে ভর্তি করে দাও, কাকে বিয়ে দিতে হবে! সব সামলাচ্ছেন। এর মধ্যে আমাদের সকালে কোরআন শরিফ পড়া শেখাতে মৌলভি সাহেব আসছেন, তারপর নাচ শিখছি, সেতার শিখছি, বেহালা শিখছি—সব কিন্তু মায়ের সিদ্ধান্ত। কিন্তু তাঁর নিজের বয়স কত! আমার তো মনে হয়, আমার মা কি কোনো দিন তাঁর শৈশবে কিংবা কৈশোরে একটা ফিতা বা রঙিন চুড়ি চেয়েছেন কারও কাছে! মা-ই তো সব থেকে বঞ্চিত ছিলেন। অথচ তিনি হাসিমুখে সব সামলাচ্ছেন।
আব্বা জেলে থাকলে তো আমাদের ঈদ বিশেষ কিছু ছিল না। কাপড়চোপড়ও তো নতুন তেমন কিছু আসত না।
ঈদের আগে সবচেয়ে ব্যস্ত থাকতে হতো হাসিনা আপাকে, আমাদের এখনকার প্রধানমন্ত্রীকে। আমাদের ছিল সেলাই মেশিন। তখন দরজির কাছে কেউ পোশাক বানাতে যেত না। বাড়িতে জামাকাপড় বানাতে হতো, সেটাই ছিল চল। মা আমাদের কাপড় সেলাই করতেন, তারপরে করতে শুরু করেন হাসু আপা। আমাদের বাড়িতেই কত লোকজন, তার ওপর আশপাশের পড়শিরাও এসে দিয়ে যেত কাপড়। আপা সবার জামা বানিয়ে দিতেন। সবারটা দিচ্ছেন, শুধু আমারটা দিচ্ছেন না। আমি বলি, আপা, আমার জামাটা বানাবে না? বানাও।
আপা বলেন, ‘বানাব রে। একটু মাথা ধরেছে। তুই এক কাজ কর তো। এক কাপ চা বানিয়ে নিয়ে আয়। তোর বানানো চায়ের কোনো তুলনা হয় না।’ চা বানিয়ে আনলাম। খাচ্ছেন। ‘ভালো হয়েছে’ বলে হাসলেন। তারপর আবার আরেকজনের জামা বানাতে শুরু করলেন। আমি বলি, আপা, আমারটা বানাবে না? আমারটা ধরো। তিনি হাসতেন, হয়তো বললেন, ‘যা তো, দেখ তো, কফি কোথায় পাওয়া যায়, একটু কফি খেতে পারলে ভালো হতো।’ আমি অভিমান করতাম, যাও, আমারটা তোমাকে বানাতে হবে না। আমারটা বানাতেন একেবারে চাঁদরাতে। শেষ সময়ে। উফ্। কী যে করতেন! একবার তো শেষ সময়ে তাড়াহুড়ো করে আপা জামা বানিয়ে দিয়েছেন ঈদের আগের রাতে। লুকিয়ে রেখে সকালে পরতে গেছি। দেখি, সেলাই করেছেন কাপড়ের উল্টো দিকে।
শেখ রেহানা। ছবি: সাইফুল ইসলাম কল্লোলরাসেল আব্বাকে জেলখানার বাইরে পেলে কাছছাড়া করতে চাইত না। আব্বার মতো করে কাপড়চোপড় পরত। আব্বার মতো পাঞ্জাবি-পায়জামা, মুজিব কোট, আব্বার মতো শেরওয়ানি। আবার তার একটা ছোট্ট লুঙ্গিও ছিল। আব্বার তো সবচেয়ে প্রিয় পোশাক ছিল লুঙ্গি আর গেঞ্জি। রাসেলও আব্বাকে অনুকরণ করে পোশাক পরত। আব্বার মতো করে হাঁটত। আবার আব্বা হয়তো পাঞ্জাবি-পায়জামার সঙ্গে জুতা পরে বাইরে যাচ্ছেন। রাসেল দৌড়ে গিয়ে স্যান্ডেল-শু এনে দিত। বলত, আব্বা, পায়জামার সঙ্গে জুতা পরতে হয় না। আব্বা বলতেন, কাদা-পানিতে হাঁটতে হবে বাবা। রাসেল বলত, তাহলে আরেক জোড়া সঙ্গে করে নিয়ে যাও।
ঈদের দিন আব্বা, ভাইয়েরা, বাসায় আর যাঁরা যাঁরা আছেন ছেলেরা, সবাই সকালবেলা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে ঈদের নামাজ পড়তে গেল। জামাল ভাই তো পুরো রমজান মাস টুপি পরে থাকতেন। ৩০ রোজা তো করতেনই। আব্বা নামাজ পড়তেন সোবহানবাগ মসজিদ বা ধানমন্ডি মসজিদে। তারপর সোবহানবাগে আমাদের ছোট ফুপু লিলি, সৈয়দ হোসেন ফুপার বাড়িতে গিয়ে সবাই নাশতা করতেন। নাশতা সেরে সেখান থেকে চলে আসতেন বাসায়। ফুপুরাও চলে আসতেন, সবাই মিলে আমাদের বাসাতেই কাটাতেন ঈদের দিনের বাকি সময়টা। আমরাও বিকেলবেলা বেড়াতে বের হতাম। ধানমন্ডি, কলাবাগান, শুক্রাবাদে বন্ধুদের বাসা, লেকের ধার ধরে হাঁটা। মাঠে-বাগানে চষে বেড়ানো। তখন তো সবকিছু খোলামেলা ছিল। দিনের বেলা আমাদের বেড়ানোয় কোনো মানা ছিল না।
আমাদের সময়ে জামা-কাপড়ের সংখ্যা তো কারোরই বেশি ছিল না। কামাল ভাই, জামাল ভাই, কারোরই না। কামাল ভাই খুব শৌখিন ছিলেন। খুব গুছিয়ে রাখতেন সবকিছু। কিন্তু বেশি কিছু চাইতেন না। আমার কাছেই এসে হয়তো কোনো দিন বললেন, দশটা টাকা দিবি। বিড়ি-সিগারেট কোনো দিন খাননি। খরচ তো কিছু ছিল না। কত যে তাঁর গুণ ছিল। আমি তো বলি, আমাদের ছেলেমেয়েরা যদি তাঁদের মামার একটা গুণও পায়, সেও হবে অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। কামাল ভাই সেতার বাজাতেন। ধরা যাক, বাড়িতে অনেক মানুষ। আমার পরীক্ষা। পড়ব কোথায়? পড়ার জায়গার খোঁজে ছাদে গেছি। গিয়ে দেখি কামাল ভাই। হাতে সেতার। আকাশে চাঁদ। চারদিক থইথই করছে জোছনায়। কামাল ভাই বললেন, পড়তে হবে না আজকে। অত পড়ে কী করবি। আয়, আমার সঙ্গে বস। গান ধর। আমি তাঁর সঙ্গে গান ধরলাম। একজন-দুজন করে এসে বসে পড়ল পাশে। জামাল ভাই এলেন। হাসু আপা এলেন। আমরা গান করছি। আকাশে তখন চাঁদ, নারকেলের পাতার ফাঁকে অকৃপণ আলো বিলাচ্ছে পৃথিবীর কোনায় কোনায়। হাসু আপার কোলে রাসেল, তার ঢুলু ঢুলু চোখে এসে পড়েছে চাঁদের আলো। হাসনাহেনার গন্ধ বয়ে আনছে রাতের বাতাস।
আমাদের বাসাটা তো ছিল খেলাপাগল বাসা। আমাদের নিয়ম ছিল, বিকেল হলে খেলতে যাও, কিন্তু মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে বাসায় ফিরতে হবে। এসে গোসল করে হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বসো। বাসায়ও নানা রকমের খেলা হতো। ক্যারম খেলার তো টুর্নামেন্ট হতো। মনি ভাই, সেলিম ভাইয়েরাও আসতেন। বাগাডুলি খেলা নিয়ে মজা হতো খুব। একটা ঘর আছে বাগাডুলিতে, এলটিপি, লস্ট টোটাল পয়েন্ট। কেউ একজন বলল, এইবার তোর এলটিপি হবে, তারপর যদি হতো, আমরা সবাই তার ওপরে কপট রাগ ঝাড়তাম, তুমি হলে এলটিপি ভাই, এই যে এলটিপি ভাই এসেছেন। চোর-পুলিশ খেলতাম। লুকোচুরি খেলতাম। বাইরে পেয়ারাগাছের পাতার আড়ালে লুকিয়ে আছি, বড় বড় লাল পিঁপড়া, কালো পিঁপড়া, হাত-পায়ের ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছে, কিন্তু চুপটি মেরে আছি। আরেকটা খেলা ছিল, ভূত নামিবে খেলা।
পাঁচ ভাইবোন: শেখ রাসেল, শেখ কামাল, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও শেখ জামালরোববারে ছুটির দিনে মা একটু ভালো রান্না করতেন। হয়তো লুচি বা পরোটা। মা লুচি ভাজছেন। একটা মোড়া নিয়ে আব্বা বসেছেন। তাঁর পাশে আমরা সবাই পিঁড়ি পেতে বসেছি। একটা একটা করে লুচি ভাজা হচ্ছে। আমাদের একেকজনের পাতে পড়ছে। আমাদের চার ভাইবোনের চারটা কাঁসার থালা ছিল। সেই কাঁসার থালায় আমরা খাচ্ছি।
আর আমাদের ছিল গ্রামোফোন। মা যখন গ্রামে ছিলেন, তখন থেকেই তাঁর সঙ্গী ছিল কলের গান। হাত দিয়ে হাতল ঘুরিয়ে হিজ মাস্টার্স ভয়েসের রেকর্ড চালানো হতো। মায়ের প্রিয় ছিল জগন্ময় মিত্র, শচীন দেববর্মণ, সন্ধ্যা-লতা, সুরাইয়া আর আব্বাসউদ্দীন সাহেবের নজরুলসংগীত। আমাদের বাসায় রবীন্দ্রনাথের নিজের হাতে লেখা একটা গান ছিল, মৈত্রেয়ী দেবী আব্বাকে দিয়েছিলেন, রুপার ফ্রেমে বাঁধানো ছিল। ১৯৭৫-এ কী করেছে, রুপার ফ্রেমটা নিয়ে ওই রবীন্দ্রনাথের হাতের লেখা কাগজটা দলা পাকিয়ে নিচে ফেলে রেখেছে। আমরা যখন ঢোকার অনুমতি পেলাম, আমি বহুদিন দোতলায় যাইনি, একদিন গেলাম, গিয়ে দেখি, রবীন্দ্রনাথের হাতের লেখা নিচে পড়ে আছে। আমি সেটা যত্ন করে তুলে রাখলাম। এখন আপার কাছে আছে, প্রথমে ভেবেছিলাম শান্তিনিকেতনে দেব, পরে ভাবলাম, না তা কেন, এটা তো বঙ্গবন্ধু জাদুঘরেই থাকতে পারে। কোন গানটা আছে জানেন? ‘ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো’।
বাসার মধ্যে আমিই ছিলাম একটু আদুরে, আবদার করতাম। আব্বা বাইরে গেলে আমি তাঁকে এত বড় ফর্দ ধরিয়ে দিতাম। আব্বা বলতেন—হানিফ, কী লিস্ট দেয় নে, রেখে দে, এনে দিস। ফরাশ সাহেব, দেখবেন। আর আব্বা বেশি রাত করে ফিরতেন। আমি তাঁর হাতে খাব। এই জন্য প্রায়ই ভাত খেতাম না। অজুহাত বের করতাম—জামাল ভাই আমার দিকে কটমট করে তাকাল কেন? ও আমার বইটা এখানে না রেখে ওখানে রাখল কেন? আমি ভাত খাব না। আব্বা ফিরতেন বহু রাতে। আমি ভাত খাইনি শুনে আমাকে ঘুম থেকে তুলতেন। একটা ছোট্ট তোয়ালে আমার গলার নিচে বাঁধতেন। তারপর ভাত-তরকারি হোক, দুধ-ভাত হোক, মাখাতেন। আমাকে তুলে তুলে খাওয়াতেন। তারপর তোয়ালে ভিজিয়ে আমার মুখ মুছে দিতেন। আলতো করে শুইয়ে দিতেন। আমি ঘুমের ভান করে পড়ে আছি, শুনছি—এই, তোরা রেহানাকে বকেছিস কেন? সকালবেলায় উঠে আমি হাসতাম, কেমন কাল রাতে বকা খেলে...আব্বা আমার জন্যই কেবল নিউমার্কেটে গেছেন দু-একবার। আমি এটা-ওটা কেনার বায়না ধরতাম।
আব্বা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গোপনে আমাদের টাকা দিয়ে বলতেন—নে, টাকা নে, লুকিয়ে বুড়ির জন্য ভালো শাড়ি কিনে আন। মাকে আদর করে বুড়ি ডাকতেন। আমরা মার্কেটে গিয়ে শাড়ি কিনে এনে গোপনে আব্বার হাতে দিতাম। আব্বা সেটা কোথাও লুকিয়ে রাখলেন। মা দেখলেন, শাড়ির প্যাকেট। আব্বা বলতেন, শাড়িটা কেমন? মা বুঝতেন, এ তো মার্কেটে যাওয়ার লোক নয়। নিশ্চয়ই মেয়েদের দিয়ে আনিয়ে নিয়েছেন।
রেডিও আর বই ছিল আমার সারাক্ষণের সঙ্গী। কামাল ভাই ১৯৭১ সালে যুদ্ধে গেলেন, জামাল ভাই গেলেন। কামাল ভাই যাওয়ার আগে একটা রেডিও উপহার পেয়েছিলেন, একটা সুইডিশ ফ্যামিলি দিয়েছিল। সেটা আমাদের বাসায় জোরে জোরে বাজত। স্বাধীন বাংলা বেতারের গান আমরা জোরে জোরে বাজাতাম। বাইরে পাকিস্তানি সৈন্য। ওরা তো বাংলা বোঝে না। রাসেল সেই গান শুনে শুনে মুখস্থ করে ফেলেছে। কিন্তু যখন ঘরের বাইরে গিয়ে সে গান গাইত, সে গাইত—
জয় জয় জয়
গাছের পাতা হয়...
তখনই সে বুঝেছে, জয় বাংলা বলা যাবে না পাকিস্তানি সৈন্যদের সামনে।
আব্বা তো তখন পাকিস্তানের জেলে বন্দী। রাসেল একা একা ঘরের কোণে বসে কাঁদছে। কী হয়েছে রে? জানি না আপা, আমার চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ে। আমার চোখে কী যেন হয়েছে। স্বীকার করতে চাইত না যে আব্বার জন্য তার মন খারাপ।
আব্বার সঙ্গে শেখ রেহানাকার কী মনে হয় জানি না, আমার শুধু রাসেলের কথাই মনে হয়। ৪০ বছর হয়ে গেল! আপাকে বলি, আপা, মা বেঁচেছিলেন ৪৪ বছর, আমরা তো বেশি বছর বেঁচে গেলাম। জানি না, আমরা দুই বোন কেন বেঁচে আছি। রাসেলেরও তো আমার সঙ্গে জার্মানি যাওয়ার কথা ছিল। অত ছোট ছেলে, মা ছাড়লেন না। ওর জার্মানি যাওয়া হলো না।
আব্বার ডায়েরি পাওয়া গেছে, আব্বা একটা মুরগি নিয়ে লিখেছেন, একটা পাখিকে নিয়ে লিখেছেন। কী তাঁর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, কী যে তাঁর গাছপালা-প্রাণী-প্রকৃতি আর মানুষের জন্য ভালোবাসা।
আজও তো এই আকাশে চাঁদ ওঠে। জোছনায় ভেসে যায় চরাচর। আজও রাতজাগা পাখি গান করে। আমার মনে পড়ে সেই সব দিন। আমরা সবাই ছাদে। কামাল ভাই সেতার বাজাচ্ছেন। আমাকে বললেন, তুই একটা গান ধর। মায়ের পছন্দ জগন্ময় মিত্র। ‘যত লিখে যাই, চিঠি না ফুরায় কথা তো হয় না শেষ...তুমি আজ কত দূরে।’
কিংবা শচীনদেবের গান—
‘নদী যদি হয়রে ভরাট কানায় কানায়
হয়ে গেলে শূন্য হঠাৎ
তাকে কি মানায়।’
আমাদের ভর-ভরন্ত একটা পৃথিবী ছিল। হঠাৎ করে একদিন সব শূন্য হয়ে গেল। আমরা তো আগে কোনো দিন একা একা ভাত খাইনি। এখন একা একা খেতে হয়! জানি না, আল্লাহ কেন আমাদের দুজনকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আমরা আব্বার ডায়েরি পড়ি, সেগুলো বই হয়ে বেরোবে, সেসব কাজের তদারক করি। হয়তো, আব্বার স্মৃতিরক্ষার এই কাজগুলো করিয়ে নেওয়ার জন্য আল্লাহ আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। আবার ঈদ এসেছে। আমার আবার আব্বার কথা মনে পড়বে, রাসেলের কথা মনে পড়বে। মনে পড়বে মায়ের কথা, ভাইদের কথা, ভাবিদের কথা। এভাবেই তো কেটে গেল ৪০টি বছর।

অনুলিখিত
আলোকচিত্র: সংগৃহীত—মোহাম্মদ আলম, জহিরুল হক। কৃতজ্ঞতা: মাহবুবুল হক শাকিল ও ফোকাস বাংলা।


কোরবানীর জরুরী নিয়মসমূহ!

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫

Picture

আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আসছে পবিত্র ঈদ উল আযহা । ঈদ উল আযহা মুসলমানদের ২য় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। এই দিনে আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানী করে থাকি। কোরবানীর নিয়ম ও কোরবানীর পশু নিয়ে নানা জনের নানা প্রশ্ন। তার উত্তর খুজতে গিয়ে আজকের এই আয়োজন।

প্রথমেই একটি জরুরী কথা না বললেই নয়, তা হলো অনেকে কোরবানীর শুভেচ্ছা বিনিময়ে ঈদ মোবারক না বলে হাম্বা মোবারক বলে থাকেন। এই কথাটি বলা চরম গুনাহের একটি কাজ। যেহেতু ঈদ মোবারক শব্দটি একটী ধর্মীয় শব্দ। এর ভাবার্থ আল্লাহ আপনার ঈদকে বরকতময় করুন। বলুন এমন একটি কথাকে কি করে আমরা নষ্ট করে ফেলছি?

কোরবানীর নিয়ম নিয়ে কিছু কথা:

কোরবানীর সময় হলো যিলহজ্বের ১০ তারিখ হতে ১২ তারিখ পর্যন্ত অর্থাৎ তিনদিন দুই রাত।

হুজূর আকরম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বয়ং তাঁর মৃত উম্মতের পক্ষ থেকে কোরবানি করেছেন। তাই এটা তার জন্য সৌভাগ্যের বিষয় হবে যার পক্ষে সম্ভব হুজূরে করীমের জন্য কোরবানি করা।
-[বাহারে শরীয়ত]
গরু, উট দ্বারা কোরবানী করলে নফল হিসেবে একভাগ প্রিয়নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)’র জন্যে কোরবানি দেয়া অনেক উত্তম।

কোরবানির পশুর বয়স :

কোরবানির ছাগল কমপক্ষে একবছর, গরু দুই বছর এবং উট পাঁচ বছর হতে হবে। কোরবানির জন্য সুন্দর ও নিখুঁত পশু বাছাই করা উত্তম। যেসব পশু অন্ধ, খোঁড়া এবং জবেহ করার স্থানে যেতে অক্ষম, লেজ, শিং কিংবা কান কাটা বা ভাঙ্গা বা দুর্বল ইত্যাদি কোরবানীর পশু কোরবানির উপযুক্ত নয়।

কোরবানির মাংস ও ভাগের শরিয়তসম্মত নিয়ম:

কোরবানির মাংস তিনভাগে ভাগ করে এর একভাগ গরীব ও ইয়াতিম-মিসকিনদের দান করা, একভাগ আত্মীয়-স্বজনকে দেয়া এবং অন্য ভাগ নিজে রাখা মুস্তাহাব। তবে ইচ্ছা করলে আপনি পুরো মাংসই খেতে পারেন এতে দোষের কিছু হবেনা। কোরবানির পশু যবেহকারী ও মাংস প্রস্তুতকারীকে কোরবানির পশুর মাংস থেকে পারিশ্রমিক স্বরূপ দেয়া যাবে না।

চামড়া: কোরবানির পশুর চামড়া, রশি ও ফুলের মালা প্রভৃতি সদকা করে দিতে হবে। চামড়া নিজের ব্যবহারের জন্য রাখতে চাইলে রাখতে পারবে, যেমন- জায়নামায, বিছানা, ইত্যাদি বানাতে পারবে। কিন্তু কোরবানির চামড়া বিক্রি করে এর মূল্য নিজ কর্মে ব্যয় করতে পারবে না।

মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি:

যদি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি দেয়া হয়, তাহলে মাংস উপরোল্লিখিত নিয়মে বন্টন করা উত্তম।

কোরবানির পশু জবেহ করার নিয়ম:

জবেহ করার নিয়ম জানা থাকলে কোরবানির পশু নিজ হাতে জবেহ করা মুস্তাহাব। যদি নিজে করতে না পারেন তাহলে অন্যের দ্বারা তা সমাধা করা যাবে। তবে জবেহ্’র সময় নিজে সামনে থাকা উত্তম। জবেহ্’র সময় নিম্ন লিখিত রগসমূহ কাটার ব্যাপারে বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবেঃ

(ক) শ্বাসনালী (খ) খাদ্যনালী এবং (গ) রক্ত চলাচলের নালীদ্বয়।

বক্ষস্থল হতে গলদেশের মধ্যবর্তী কোন স্থানে জবেহ করা বাঞ্চনীয়। জবেহ’র পূর্বে ছুরি খুব ধারালো করে নিতে হবে। তারপর কোরবানির পশুর মাথা দক্ষিণ এবং পেছনের দিক উত্তর দিকে রেখে কেবলামুখী করে শায়িত করে দোয়া পড়বেন।

দোয়াঃ “ইন্নী ওয়াজ্জাহ্তু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতী ওয়াল আরদা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন, ইন্না সালাতী ওয়ানুসুকী ওয়া মাহ্য়ায়া ওয়ামামা-তী লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়ালাকা বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবর” বলে কোরবানির পশু জবেহ করার পর পাঠ করবেন- “আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বাল মিন্নী (অংশীদার থাকলে- ‘ওয়া মিন’ বলার পর প্রত্যেকের নাম ও বাপের নাম বলবেন) কামা তাক্বাব্বালতা মিন খলীলিকা ইব্রাহীমা আলাইহিস্ সালাম ওয়া হাবীবিকা মুহাম্মদিনিল্ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।”

কোরবানি দিবসে করণীয়:

হাদীস শরীফ: হুজূর আক্বদাস (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঈদুল ফিত্বরের দিন মিষ্টি জাতীয় কিছু আহার করে ঈদগাহে তাশরিফ নিয়ে যেতেন, কিন্তু ঈদুল আযহার দিবসে নামায আদায় না করা পর্যন্ত কিছুই আহার করতেন না। -[তিরমিজী, দারেমী ও ইবনে মাজাহ]

আকিকা :

অনেককেই কোরবানির সাথে আকিকাও আদায় করতে দেখা যায়। আকিকা ছেলে সন্তান হলে কোরবানির পশুতে দুই অংশ আর মেয়ে সন্তান হলে এক অংশ। আকিকার অংশ পিতা-মাতা, দাদা-দাদী সবাই খেতে পারবে; কোন অসুবিধে নেই। আকিকার চামড়ার হুকূম কোরবানির চামড়ার হুকুমের আওতায় পড়বে।আল্লাহ তায়লা হযরত ইব্রাহীম আঃ এর খাতিরে আমাদের কোরবানী কবুল করুন। কোরবানীর নিয়ম মেনে সবাইকে আল্লাহর রাস্তায় কোরবানী দেওয়ার তৌফিক দান করুন।আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে ইসলামের সকল নিয়ম কানুন মেনে চলার তৌফিক দান করুন। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন
যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব
 কুরবানি আল্লাহর প্রেমের নির্দশন। যুগে যুগে আল্লাহ প্রত্যেক আম্বিয়া কেরামগণের ওপরেই এই দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন। যার ধারাবাহিকতা এখনও প্রবাহমান। আল্লাহ সামর্থ্যবান মুসলমান আকিল, বালিগ, মুকিম পুরুষ ও নারীর ওপর কুরবানি করাকে ওয়াজিব করেছেন।যাদের ওপর কুরবানি ওয়াজিব তা তুলে ধরা হলো-

যারা কুরবানি করবেন-
১. কুরবানি ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাব পরিমাণ মাল পূর্ণ এক বছর থাকা জরুরি নয়। অর্থাৎ যে ব্যক্তি ১০ জিলহজ ফজর হতে ১২ জিলহজ সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবে, তার ওপর কুরবানি ওয়াজিব।
২. পারিবারিক ব্যয় নির্বাহের জন্য যে পরিমাণ জমি বা ফসলের দরকার তা থেকে অতিরিক্ত জমি বা ফসলের মূল্য অথবা যে কোনো একটির মূল্য যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মূল্যের সমান হয়। তাহলেও কুরবানি ওয়াজিব।
৩. পরিবারের সব সদস্যের যদি আলাদা-আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তবে সবার ওপর আলাদাভাবেই কুরবানি ওয়াজিব।
৪. গরিব ব্যক্তি যদি কুরবানির নিয়্যাতে গরুক ক্রয় করে তবে তার  ওপরও কুরবানি ওয়াজিব।
৫. উদ্দেশ্য হাসিলে কুরবানির মান্নত করলে সে উদ্দেশ্য পূর্ণ হলেও কুরবানি করা ওয়াজিব।
৬. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক যত সম্পদের অধিকারী হোক না কেন তার ওপর একটি কুরবানিই ওয়াজিব। সম্পদ বেশি বলে একাধিক কুরবানি করতে হবে এমন কোনো বিধান নেই। অবশ্য একাধিক কুরবানি করলে অনেক ছাওয়াব লাভ হয়।

এক কথায় যে অবস্থায়, যার ওপর সাদাকায়ে ফিতর ওয়াজিব, সে অবস্থায় ঐ ব্যক্তির ওপর কুরবানিও ওয়াজিব।
অতএব প্রত্যেক স্বাধীন, ধনী, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক নর-নারীর উপর কুরবানি ওয়াজিব।

পরিশেষেৃ
প্রত্যেক সামর্থবান ব্যক্তিকে কুরবানি করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে এগিয়ে আসার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 


বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আরও সহজ হলো যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫

Picture

আয়েশা আকতার রুবী,বাপসনিঊজ:বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া শিথিল এবং উন্নত করা হয়েছে। এতে বহু বাংলাদেশী নাগরিক আমেরিকায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন।এখন থেকে বাংলাদেশী আবেদনকারীরা নতুন নিয়মে অনলাইনে আবেদন করে নিজের পছন্দ অনুযায়ী সাক্ষাৎকারের সময়সূচি ঠিক করে নিতে পারবেন। আবার তাদের তথ্য সুবিধার জন্য কল সেন্টারে ফোন করে বাংলা এবং ইংরেজি উভয় ভাষায় সহায়তাও নিতে পারবেন। কল সেন্টার রবি হতে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন সকাল ৮টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত চালু থাকবে।

নতুন এই পদ্ধতিতে dhaka.usembassy.gov এই ওয়েব ঠিকানায় লগ-ইন করে ভিসা আবদনকারীরা ভিসার জন্য সহযেই আবেদন করতে পারবেন।

সোমবার ঢাকার আমেরিকান সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কনস্যুলার বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত সহকারী সচিব মিশেল থোরেন বন্ড। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা, কনসাল জেনারেল এলিজাবেথ গোল্ড লে ও প্রেস অ্যান্ড ইনফরমেশন অফিসার মনিকা শাই উপস্থিত ছিলেন।

মিশেল থোরেন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী বাড়ছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদনও বাড়ছে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ হতে ৭০ হাজার ভিসার আবেদন জমা পড়ে। এরমধ্যে ৩০ হাজার জনের ভিসা অনুমোদন করা হয়। যারমধ্যে আবার প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী। সে কারণে ভিসাপ্রাপ্তি সহজ করার জন্য ভিসা প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন পদ্ধতিতে আবেদনকারীরা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি যদি পান তাহলে এইচএসবিসি ব্যাংকের ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম শাখায় ভিসা ফি জমা দিতে পারবেন ও এক বছর মেয়াদি টাকা জমার রসিদ পাবেন।

গত ৩১ আগস্ট হতে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ভিসা ফি জমা নেওয়া হচ্ছে না বলে জানানো হয়। তবে যারা এক বছরের কম সময়ের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছেন, তারা সেই টাকা জমার রসিদ ব্যবহার করেও ভিসার আবেদন করতে পারবেন।
এই লিঙ্কে ক্লিক করে ফরম পূরণ করতে পারবেন