Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

প্রবাসীদের খবর

টরন্টোয় বাংলাদেশি তরুণদের এত অকাল মৃত্যু কেন?

মঙ্গলবার, ০৬ মার্চ ২০১৮

ইমাম উদ্দিন,বাপ্ নিউজ : টরন্টো থেকে : একজনের নাম ফাহমি। অন্যজনের ফাহিম। ইউনিভার্সিটি অব টরন্টোতে পড়তো ফাহমি। ফাহিম পড়তো ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। ফাহমি আর ফাহিম দু’জনেই সম বয়সী। ফাহমি’র জানাজা হয় গত বছর মার্চে। আর এবার ২রা মার্চ বাঙালি কমিউনিটি জানাজা পড়লো ফাহিমের।
বেচেঁ থাকলে ফাহমির বয়স হতো ২২ বছর। ২৮ ফেব্রুয়ারি মিসিসাগায় ১১ তলার বাসা থেকে পড়ে ফাহিমের মৃত্যু হয়। আর ফাহমির লাশ পাওয়া যায় লেক অন্টারিওতে গত বছর মার্চে। দু’জনের শুধু নাম নয়, অনেক কিছুতেই কি অদ্ভুত মিল।
গত চার/পাঁচ বছরে টরন্টোর বাঙালি কমিউনিটি শুধু এই দুজন তরুণকে নয়, আরও বেশ কয়েকজনকে অকালে হারিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে টরন্টোয় বাংলাদেশি তরুণদের কেন এতো অকাল মৃত্যু? শুধু ফাহমি বা ফাহিম নয়। সাবিদ খোন্দকারসহ আরও অনেকেরই টরন্টোতে এভাবে অকাল মৃত্যু হয়েছে।
তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ২০১৬ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায় অন্টারিওতে প্রায় ৪৬ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক সমস্যায় ভোগে। যার মধ্যে ১৩% আত্মহত্যা করে। কানাডিয়ান মেন্টাল হেলথ্ এসোসিয়েশনের মতে কানাডায় ১ থেকে ২৪ বছর বয়সের তরুণদের মধ্যে ১৫ লাখ মানসিক সমস্যায় ভুগছে। বিষয়টি খুবই উদ্বগজনক নিঃসন্দেহে। এটি প্রতিটি পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

Picture
ফাহিমের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে এই দুঃসময়ে বাসায় নিয়ে রেখেছেন টরন্টোর রিয়েলেটর নাইমা নাজারা রহমান। তাঁর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “এই মৃত্যু আমার জন্য আরেকটি ওয়েক আপ কল”। এই ওয়েক আপ কলটা হওয়া উচিত প্রতিটি পরিবারের জন্য। বিশেষ করে যাঁদের সন্তান আছে।
টরন্টোর হোমিওপ্যাথিক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সন্তানদের ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে। ছেলে-মেয়েরা একা একা রুমে সময় কাটায়। এটা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কোনো মতেই ভাল নয়।” টরন্টোর বাঙালি কমিউনিটি সংগঠন বেঙ্গলি ইনফরমেশন এন্ড এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস (বায়েস) এর গত ২৭ ফ্রেব্রুয়ারি আয়োজিত এক কর্মশালায় বলা হয়, স্নেহ-মমতা ও ভালবাসা দিয়ে মানসিক সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রবাসে সন্তানদের একাকীত্ব দূর করতে হবে।
টরন্টোয় প্রবাসি বাংলাদেশি তরুণদের এভাবে এতো অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন হতে হবে। সন্তানদের জন্য প্রতিটি ক্ষণই করে তুলতে হবে আনন্দময়। এতে অভিভাবক হিসেবে পিতা-মাতার যেমন দায়িত্ব আছে। একইভাবে সক্রিয় হতে হবে টরন্টোর বাংলাদেশি কমিউনিটির সবাইকে। ফাহমি কিংবা ফাহিমের মতো আমরা আর এমন অকাল মৃত্যু চাই না।


অমর একুশ উপলক্ষে জার্মানির বনে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা

শুক্রবার, ০২ মার্চ ২০১৮

Picture

মো. রফিকুল ইসলাম, বাপ্ নিউজ : বন, জার্মানি থেকে : বহির্বিশ্ব ও প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কাছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে তুলে ধরার লক্ষ্যে জার্মানির সাবেক রাজধানী বনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। গত শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গেমাইন্ডেজাল এরলয়জারকিরশে, বাড গডেস বার্গে এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনাঅনুষ্ঠানের শুরুতে কেন্দ্রের পরিচালক বদরুননেসা হোসনে সুলতানা তার স্বাগত বক্তব্যে আমন্ত্রিত দেশি বিদেশি অতিথিদের সামনে বাংলা ও জার্মান ভাষায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস ও গুরুত্ব তুলে ধরেন। পরে ভাষা শহীদদের সম্মানে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর মারিনা জোয়ারদারের উপস্থাপনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথমে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সোনামণিরা অংশ নেয়। এ ছাড়া জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে আগত অতিথি শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। এ ছাড়া শিল্পী ডা. তিয়াসা হোসনে আইয়ুবের পরিচালনায় একক ও দলীয় সংগীত, নাচ ও কবিতা পাঠের আয়োজন করা হয়। কবি খুরশীদ হাসান সজীবের স্বরচিত কবিতা আবৃতি ও নাজমুল হক রাসেলের আবৃতি অতিথিদের মুগ্ধ করে।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনাজার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে আগত অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। কোলন শহর থেকে সপরিবারে আগত কোলন টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আরন ফিরোজ বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান নতুন প্রজন্মের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতকোত্তর করা মাকসুদা আফরোজ উচ্ছ্বাসিত কণ্ঠে বলেন, প্রবাস জীবনে এ ধরনের অনুষ্ঠানের এই প্রথম অভিজ্ঞতা, আমার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গেলসেনকিরশেন শহর থেকে আসা প্রকৌশলী খোন্দকার আলী প্রবাসীদের মাঝে এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজনের দাবি জানান।আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন কেন্দ্রের সভাপতি আইয়ুব উদ্দিন চৌধুরী।


আমার সকল ভালোবাসা—এর মোড়ক উন্মোচন

বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হ্যাপি রহমান,বাপ্ নিউজ : সিডনি-অস্ট্রেলিয়া থেকে :আমার সকল ভালোবাসা—শিরোনামের অ্যালবামটি প্রকাশ করেছে জি সিরিজ। এর মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে।জীবন যদি প্রতারণা করে, শিল্প দিবে ঠাঁই—মোহনীয় কথায় মালা গেঁথে আড়ম্বরপূর্ন আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লেখক,কবি ও চিকিৎসক আবুল হাসনাৎ মিল্টন। উপস্থাপক শুরুতেই বলেন, একজন শিল্পী তাঁর মন থেকে শিল্পচর্চা করেন যা মানুষের হৃদয়কে স্পর্শ করে। রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বা শাহনাজ দু'জনই শিল্পের সাধক। শিল্পীরা ঈশ্বর ছুঁতে চায়, মানুষের মনকে ছুঁতে চায়। শাহনাজের এ পথ চলা শিল্পের প্রতি মমত্ববোধ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

Picture


১০টি রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে সাজানো হয়েছে এ অ্যালবাম—'আমার সকল ভালোবাসা'। প্রথম একক অ্যালবাম প্রসঙ্গে শাহনাজ বলেন, রবীন্দ্র সুরের মায়া ছোটবেলা থেকেই আমাকে খুব টানে। এই অ্যালবামটি করার পেছনে আমার পরিবারের আন্তরিক উৎসাহ আমাকে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।শিল্পানুরাগী শাহনাজ পারভীন পেশায় একজন চিকিৎসক, কর্মক্ষেত্র সিডনি, অস্ট্রেলিয়া। ছোটবেলায় মায়ের আগ্রহে পড়াশুনার পাশাপাশি গান ও নাচ শিখেছেন। পেশাগত ব্যস্ততার জন্য সমান তালে সব কিছু চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে, আবেগ-অনুরাগ, ভালোলাগা-ভালোবাসা থেকে গান চর্চাটা নিয়মিত করে যাচ্ছেন। তাঁর গানে হাতে-কড়ি কলিম শরাফী, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, সাদী মোহাম্মদ এর কাছে। শাহনাজ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁর শিক্ষকবৃন্দের কাছে, শিল্পী শরমিন জাহান, চিকিৎসক আসাদুল কবির চপল, শিল্পী ফয়সাল আহমেদ এবং স্বামী চিকিৎসক রশিদ আহমেদের কাছে অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতার জন্য। তিনি মঞ্চের পাশাপাশি রেডিও-টিভিতেও গান করেছেন।

alt

১০টি রবীন্দ্রসঙ্গীত দিয়ে সাজানো হয়েছে এ অ্যালবাম। প্রকাশিত অ্যালবামের গানগুলো হলো—'তুমি কোন কাননের ফুল', 'আমার হিয়ার মাঝে', 'চোখের আলোয়', 'একটুকু  ছোঁয়া লাগে','আমার বেলা যে যায়', 'চাঁদের হাসি','আজি এ বসন্তে', 'আমার পরাণ', 'আজ জ্যোৎস্নারাতে', 'মোর বীণা ওঠে'।

মোড়ক উন্মোচন শেষে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি আপেল মাহমুদ, চিকিৎসক রশীদ আহমেদ, চিকিৎসক জেসি চৌধুরী ও চিকিৎসক শরীফ উদ্দৌল্লা। শব্দ সঞ্চালনায় নাদিম ও আলোকসজ্জায় ছিলেন চিকিৎসক শাহরিয়ার রানাl আমন্ত্রিত অতিথিদের অনুরুধে
শাহনাজ পারভীন অ্যালবাম থেকে তিনটি গান গেয়ে শোনান—আজি এ বসন্তে, চাঁদের হাসি ও চোখের আলোয়।

কথার ডালি সাজিয়ে আবারও মঞ্চে ফেরেন হাসনাৎ মিল্টন, বঙ্গবন্ধু কে স্মরণ করে তিনি বলেন—বঙ্গবন্ধু কবিদের মতো মানুষের মনকে ছুঁতে পেরেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কথার যাদুতে কবিতার সৃষ্টি হতো, তাই তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে মানুষ এ দেশকে স্বাধীন করেছিল। আপেল মাহমুদ তাঁর সৃষ্টি সুর ও কথায় গানে গানে বাংলার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধে। তাঁর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আক্ষরিক অর্থেই অর্থবহ হয়ে উঠে।

alt

উপস্থিত শ্রোতা-অতিথিদের অনুরুধে আপেল মাহমুদ গেয়ে শুনান—'কোকিল ডাকলে একুশের কথা মনে পড়ে', মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি', এসময় সুরের মায়াজালে মগ্ন হয়ে গিয়েছিলেন শ্রোতারা।কিন্তু গানটি শেষ করতে পারেননি তিনি, আবেগ-আপ্লূত হয়ে কেঁদে উঠেন। বাইরে সিডনির আকাশও ছিল বৃষ্টিস্নাত, আকস্মিক গুমট হয়ে উঠে অনুষ্ঠানস্থল। তিনি আক্ষেপ করে বলেন—দেশে-বিদেশে এখনও আমার গানগুলো নবীন-প্রবীণ সকল শিল্পীরাই গেয়ে থাকেন, কিন্তু আমার নামটি কেউ উচ্চারন করেন না, আফসোস!

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আপেল মাহমুদ শুধু একজন কন্ঠ যোদ্ধাই ছিলেন না, তিনি একজন অস্ত্রধারী মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন। অনুষ্ঠানের এ পর্বের পরিসমাপ্তি হয় আপেল মাহমুদের কণ্ঠে গাওয়া আরও দু'টো গান দিয়ে, 'আমার প্রিয়াকে সাজিয়ে দিয়ে', ও 'তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিব রে'।

অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের নৈশভোজে আপ্যায়িত করা হয়।


টরন্টোর শহিদ মিনারে মানুষের ঢল

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

বাপ্ নিউজ : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন এবং ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে একুশে ফেব্রুয়ারি’র প্রথম প্রহরে টরন্টোর ড্যানফোর্থে নির্মিত অস্থায়ী শহিদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা রাত ১২ টায় শহিদ বেদিতে ফুল দিতে আসেন।

28342431_1667414983324827_1453025665_o

মেয়র জন টরি এবং সিটি কাউন্সিলর জ্যানেট ডেভিস

শুরুতে রাত ১২টা ১ মিনিটে টরন্টোর মেয়র জন টরি ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানান। এরপর একে একে শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশি অধ্যুষিত স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এর এমপি বিল ব্লেয়ার, বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক এর এমপি ন্যাথানিয়েল এরিস্কিন-স্মিথ, সাবেক মন্ত্রী মারিয়া মিন্না, বিচেস-ইস্ট ইয়র্ক এর এমপিপি আর্থার পটস, ওয়ার্ড কাউন্সিলর জ্যানেট ডেভিস। তাঁদের শ্রদ্ধা জানানোর পরই শহিদ মিনারের বেদি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এসময় শহিদ মিনারে মানুষের ঢল নামে।

28343296_1667436239989368_195180868_o

বিল ব্লেয়ার এমপি

28407835_1667427783323547_2121781970_o

ন্যথানিয়েল এরিস্কিন-স্মিথ

28407530_1667427819990210_350657449_o

আর্থার পটস এমপিপি

28343103_1667435819989410_1033516604_o

মারিয়া মিন্না, সাবেক মন্ত্রী

একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা জানাতে আসেন নন্দন টিভি, জালালাবাদ এসোসিয়েশন, কানাডা বঙ্গবন্ধু পরিষদ, টরন্টো থিয়েটার ফোকস, ওবিসিএস, টাঙ্গাইল জেলা এসোসিয়েশন, টাঙ্গাইল সমিতি কানাডা, লাইট হাউস, বাংলাদেশ সেন্টার এন্ড কমিউনিটি সোসাইটি, হবিগঞ্জ জেলা এসোসিয়েশন, এনডিপি থেকে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এর এমপিপি নির্বাচনে পদপ্রার্থী ডলি বেগম, মৌলভীবাজার জেলা এসোসিয়েশন, ময়মনসিংহ সমিতি, আবাকান, কানাডা আওয়ামী লীগ, কানাডা বিএনপি, অন্টারিও আওয়ামী লীগ, সিটি আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ অব কানাডা, কানাডা ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন অব কানাডা ইনক, চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন অব কানাডা, বাংলাদেশ কানাডা হিন্দু কালচারাল সোসাইটি, বাংলাদেশ কানাডা হিন্দু মন্দির, সুনামগঞ্জ জেলা এসোসিয়েশন, বুয়েট এলামনাই এসোসিয়েশন কানাডা, কানাডা মহিলা আওয়ামী লীগ, বৃহত্তর রংপুরবাসী কানাডা, বিয়ানীবাজার সোশাল এন্ড কালচারাল সোসাইটি অব টরন্টো কানাডা ইনক, সাপ্তাহিক আজকাল, বিসিসিবি, নেত্রকোনা সমিতি টরন্টো, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কানাডা, কুয়েট এলামনাই, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী অব কানাডা, এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি ফার্মাসিস্ট ইন কানাডা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম কানাডা, গ্রেটার ফরিদপুর এসোসিয়েশন, টরন্টো ফিল্ম ফোরাম, কিশোরগঞ্জ জেলা এসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন কানাডা, ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট, বাংলাদেশ সোসাইটিসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের সদস্যবৃন্দ। এছাড়া একুশের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন সর্বজনীন একুশ উদযাপন কমিটির সদস্যরা।

 IMG_9601

ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন মেয়র জন টরি। তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, সকল ভাষা-সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানানোর এখনই সময়।

IMG_9651

টরন্টোর টেইলর ক্রিক পার্কে একটি স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য টরন্টো সিটি ইতোমধ্যেই জায়গা অনুমোদন দিয়েছে। গত প্রায় ১০ বছর ধরে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ফসল এই শহিদ মিনারের জন্য টরন্টো সিটির কাছ থেকে অনুমোদন।

28235694_1936292550018994_8905159796336305684_o

এর জন্য তিনি কাউন্সিলর জ্যানেট ডেভিস এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। এসময় তিনি টরন্টোর মেয়র হিসেবে ‘International Mother Language Day Proclamation’ পাঠ করেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিল ব্লেয়ার এমপি, ন্যাথানিয়েল এরিস্কিন-স্মিথ এমপি, আর্থার পটস এমপিপি, সাবেক মন্ত্রী মারিয়া মিন্না, এবং কাউন্সিলর জ্যানেট ডেভিস।

28276350_173124879987984_392709799594328881_n

দিনের অন্য সময় বৃষ্টি থাকলেও ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর ক্ষণটিতে কোন বৃষ্টি না থাকায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন সর্বজনীন একুশ উদযাপন কমিটি ২০১৮ এর আহ্বায়ক সৈয়দ সামছুল আলম।  তিনি আগত সকলকে ধন্যবাদ জানান।সর্বজনীন একুশ উদযাপন কমিটি ২০১৮ এর প্রধান উপদেষ্টা দারা আবু জুবায়ের সিবিএন’কে বলেন, টরন্টোতে সুশৃঙ্খলভাবে সকলে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। এরকম সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন করলে এই কমিউনিটির জন্য ভবিষ্যতেও অনেক কিছু করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।


নেদারল্যান্ডে তৈরি হচ্ছে প্রথম শহীদ মিনার

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

এদিকে শহীদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এনআরবির কাছ থেকে সহযোগিতার আশা ব্যাক্ত করেন নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মোহাম্মদ বেলাল।তিনি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। স্বাধীনতার যাত্রায় ২১শে ফেব্রুয়ারির সব ভাষা শহীদ সার্বক্ষণিকভাবে আমাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়ে এসেছে।’

alt

হেগ রবিন বালডয়সিংয়ের ডেপুটি মেয়র বলেন, ‘ভাষা স্মৃতিস্তম্ভটি বাংলা ভাষার আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হলেও বিশ্বের সব ভাষায় অনূদিত করা হয়েছে।’

এই ঐতিহাসিক ঘটনার অংশ হতে পেরে দারুণ আনন্দিত হেগ পৌর কর্তৃপক্ষ। ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের দিন আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকা সত্ত্বেও ১০০ জনেরও বেশি মানুষ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন।

বর্তমানে শহীদ মিনার নির্মাণের ডিজাইন তৈরির কাজ চলছে।


ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে কানাডা ছাত্রলীগ

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture
এতে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি খালিদ সাইফুল্লাহ, তানভীর আহমেদ, সালমান ডেভিড, যুগ্ম সম্পাদক সোহেল রানা, দপ্তর সম্পাদক শাকিল আহমেদ, সহ-সম্পাদক শাওন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক রুবেল, ত্রান ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মেহেদী হাসান সাগর, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাইনুর রশিদ, সহ-শিক্ষা ও সাহিত্য সম্পাদক নাইজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান দোহা, উপ-প্রচার সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, রাসেল, ইফতেখার ও কামরুল সহ অন্যান্য নেত্রীবৃন্দ।


ক্যালগেরিতে এবারের একুশ

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

সারা বিশ্বের সকল মাতৃভাষার প্রতিকৃতি হিসেবে। বীর ভাষা সৈনিকদের সম্মানে। বাঙালির ভাষা পাওয়ার অসীম আনন্দকে নিয়ে। বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের বিস্তর প্রশ্নের মুখোমুখি এদিন কয়েক শ বাঙালি। এটা কী? কেন? কী হয়েছিল? বাঙালিরা গর্বিত স্বরে বলে যায় ভাষা আন্দোলনের কথা। ভাষার জন্য আত্মদানের কথা। তারা বিস্মিত হন, শ্রদ্ধায় বিনীত হন।

শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণশহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ

তীব্র শীত উপেক্ষা করে প্রচুর জনসমাগম হয় এদিন। সর্বস্তরের জনসাধারণের অংশগ্রহণে বিশাল র‍্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু। র‍্যালি শেষে সারিবদ্ধভাবে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ। সর্বপ্রথম শহীদদের শ্রদ্ধা জানায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরি। এরপর ক্যালগেরিস্থ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বাংলা স্কুল পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সর্বসাধারণও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

মোড়ক উন্মোচনমোড়ক উন্মোচন

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির সম্মানিত সভাপতি কাজী এহসান-উল-করিম স্বাগত বক্তব্য দেন। ক্যালগেরির বিশিষ্টজনেরা মহান ভাষা আন্দোলন এবং এর তাৎপর্য তুলে ধরে তথ্যবহুল বক্তব্য রাখেন। শিশু-কিশোররাও তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখে। প্রজেক্টরে ভাষা আন্দোলনের ওপর ডকুমেন্টারি, মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানাদি প্রদর্শিত হয়। আর একুশের মহান সংগীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ সারাক্ষণই প্রচারিত হতে থাকে।

মোড়ক উন্মোচনমোড়ক উন্মোচন

এরপর একুশের বিশেষ আকর্ষণ ক্যালগেরির বাঙালি লেখক-লেখিকাদের সদ্য প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। বায়জীদ গালিব, লতিফুল কবির, কানিজ ফাতিমা, আলমগীর দারাইন ও নীলুফা বেগমের লেখা গল্প, কবিতা ও শিক্ষামূলক বই নিয়ে বইমেলা হয়। ছিল আমার লেখা বইও। ক্যালগেরিবাসী অত্যন্ত আগ্রহে বই দেখেন ও কেনেন।

সবশেষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালগেরির সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ রশিদ রিপন সকলেকে ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এরপর সুধীজনেরা ভাষার গান গেয়ে যার যার গন্তব্যে ফেরেন।


সিডনিতে অমর একুশ ও বইমেলা

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

কাউসার খান,বাপ্ নিউজ : সিডনি (অস্ট্রেলিয়া) থেকে : অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উদ্‌যাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও অমর একুশ। ২১ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ায় কর্মদিবস হওয়ায় ১৮ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটির দিন রোববার দিবসটি পালন করেন সিডনিপ্রবাসী বাঙালিরা।

Picture

গত বিশ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে দিনব্যাপী অমর একুশ উদ্‌যাপন ও বইমেলার আয়োজন করে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া। দিবসটি শুরু হয় প্রভাতফেরি ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধনের পর মাতৃভাষা স্তম্ভের পাশে ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে একুশে একাডেমি অস্ট্রেলিয়া পরিবেশন করে শোকগাথা একুশের গান।

জাতীয় পতাকা উত্তোলনজাতীয় পতাকা উত্তোলন

তারপর সারা দিনব্যাপী চলে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, সিডনির বিভিন্ন সংগঠনের শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, বাংলাদেশের আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনা, লেখক-সাহিত্যিকদের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, রক্তদান কর্মসূচিসহ আরও নানা আয়োজন।
সম্প্রতি বাঙালিদের গৌরবময় এ দিবসটি অস্ট্রেলিয়ায় জাতীয়ভাবে পালনের বিল পাস হয়েছে দেশটির ফেডারেল সংসদে। তাই এ বছর এই দিবস পালনে সিডনির বাঙালিদের মধ্যে ছিল এক নতুন উচ্ছ্বাস। সিডনির অনেকগুলো বাংলাদেশি সংগঠন প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ করে। প্রভাতফেরির সময় অ্যাশফিল্ড পার্কের আকাশে-বাতাসে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি …’ গানের যথার্থ অনুভূতি ভেসে বেড়ায়। সেই সঙ্গে সিডনিপ্রবাসী বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমীদের এক মিলনমেলায় পরিণত হয় অ্যাশফিল্ড পার্ক।
আদিবাসী নৃত্যআদিবাসী নৃত্য

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বইমেলায় বিভিন্ন লেখকের বই নিয়ে স্টল বসে। বাংলাদেশের বরেণ্য লেখকদের বইয়ের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী লেখকদের বইও শোভা পায় স্টলে স্টলে। নতুন নতুন বইয়ের প্রতি বেশি ঝোঁক ছিল এবারের মেলায় আগতদের। সেই সঙ্গে প্রিয় লেখকদের বইও কিনেছেন অনেকেই। এ ছাড়া বইমেলায় বেশ কয়েকটি বাঙালিয়ানা খাবারের দোকানও ছিল।
অন্যদিকে, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত রনেশ মৈত্রকে এ বছর একুশে পদক পাওয়ায় বিশেষ সম্মাননা জানান মেলা কর্তৃপক্ষ। তিনি মঞ্চে তাঁর সময়ের একগুচ্ছ ঘটনাবলি বিনিময় করেন উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে। এ ছাড়া, প্রতিবছরের মতো এবারের এই বইমেলা লেখক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এবার পুরস্কার পান খাইরুল চৌধুরী।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসাংস্কৃতিক পরিবেশনা

মেলায় অন্যান্যের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান বিরোধী দল লেবার পার্টির অন্যতম মুখপাত্র টনি বার্ক উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ফেডারেল সাংসদ জুলি ওয়েন্স, নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যের সাংসদ জিহাদ ডিবসহ অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার আরও কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তি, স্থানীয় বাংলাদেশি কাউন্সিলর, লেখক-সাংবাদিকসহ আরও অনেকে বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত থেকে দিবসটি উদ্‌যাপন করেন।
বইমেলা উপলক্ষে ‘মাতৃভাষা’ নামে একটি স্মারক প্রকাশিত হয়।
বক্তব্য দিচ্ছেন টনি বার্কবক্তব্য দিচ্ছেন টনি বার্ক
মেলায় রনেশ মৈত্রমেলায় রনেশ মৈত্রলেখকেরালেখকেরামেলায় বইয়ের স্টলমেলায় বইয়ের স্টল


জেনেভায় বসন্ত উদ্‌যাপন

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

গ্রিক, রোমান, সুমেরীয়, মিসরীয়, ব্যাবিলন থেকে শুরু করে বৈদিক পুরানে বসন্ত নিয়ে নানান গল্পগাথা কথা এখনো প্রচলিত। অবশ্য শোনা যায়, সুলতান আকবরের শাসনামল থেকে বাংলায় বসন্তবরণের প্রচলন শুরু হয়। এবার আসা যাক, আমার লেখার পটভূমিতে।

আয়োজক ও অতিথিরাআয়োজক ও অতিথিরা

গত ১ ফাল্গুন (১৩ ফেব্রুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের জেনেভার কনফিনন এলাকায় হয়ে গেল বাঙালির বসন্তবরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটিকে ব্যতিক্রম বলব এই জন্য, আয়োজকেরা ছিলেন নারী। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছায় স্বপ্রণোদিত হয়ে আন্তরিকভাবে দেশীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে এই বসন্তবরণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এক সপ্তাহ আগে আমার কাছে আমন্ত্রণ চলে আসে। ঘরের চৌহদ্দি পেরিয়ে যারা অনুষ্ঠানটিকে নিজেদের সাধ্যের মধ্যে এনে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তাদের নামগুলো না নিলেই নয়।
আমন্ত্রিত অতিথিরাআমন্ত্রিত অতিথিরা

সোমা রহমান, মিলি হোসেন, নিশাত রহমান, সৃষ্টি চৌধুরী, কেয়া চৌধুরী, পূর্ণিমা খান, দিলারা আনোয়ার, তাসলিমা চৌধুরী, মিসেস লিপি, বেলি ও লতা—তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ও পরিশ্রমে সম্পূর্ণ ঘরে তৈরি খাবার পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিতে সম্পূর্ণ ভিন্নমাত্রা যোগ হয়। কথা ছিল, প্রত্যেকে দুটি করে খাবারের পদ রান্না করে নিয়ে যাবেন বসন্তবরণ অনুষ্ঠানে।
পরিবেশিত খাবারের একাংশপরিবেশিত খাবারের একাংশ

সেই অনুসারে খাবারের মেনুতে ছিল আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার কাচ্চি বিরিয়ানি, খাসির মাংস, কাবাব, রোস্ট, চিংড়ি ভুনা, ডিম ভুনা, বোরহানি, চটপটি, বালুশাই মিষ্টি, পায়েস, তেলের পিঠা ও দই। ভোজনবিলাসী বাঙালির আর কী লাগে। আর সেইসঙ্গে চলতে থাকে মুখর আড্ডা, হাসি-গল্প ও চারুকলার বসন্তোৎসবের স্মৃতিচারণ। আমার সব সময় মনে হয়, আমাদের সমস্ত লোকজ উৎসব, আচার অনুষ্ঠান মানে হচ্ছে আমাদের সম্প্রীতি ও জাতিগত ঐক্যের মহাসম্মিলন।
ফাল্গুনের কেকফাল্গুনের কেকউৎসব

যতই ছোটখাটো হোক বিদেশের মাটিতে বসে নিজেদের সমস্ত মতভেদ ভুলে গিয়ে একই বৃত্তে এসে শুধুমাত্র দেশপ্রেম জিইয়ে থাকুক প্রতিটা বাঙালির বাঙালিয়ানায়। ঋতুরাজ বসন্ত আমাদের সবার জীবনে শুভবোধ জাগ্রত করুক। দুপুর গড়িয়ে রাত পর্যন্ত চলা অক্লান্ত পরিশ্রমের এই অনুষ্ঠানের পেছনে অনুপ্রেরণায় ছিলেন মশিউর রহমান, চৌধুরী আমজাদ, সাদাত হোসেন, মোজাম্মেল হক, চৌধুরী জাভেদ, চৌধুরী জাহিদ ও রাফিন প্রমুখ।


কানাডায় শিশুদের রঙ-তুলিতে ভাষা আন্দোলন

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

শিশু শিল্পীরা জল রং, ওয়েল প্যাস্টেল (মোমের রং) ও কাঠ পেনসিলের রঙে মনের মাধুরী মিশিয়ে ভাষার জন্য বাঙালিদের মহান আত্মত্যাগ, শহীদ মিনার আর স্মৃতিময় সেসব বীরত্বগাথার দৃশ্য ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছে। খুদে শিল্পীদের রং তুলির আঁচড়ে নান্দনিক চিত্রকর্মগুলো বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, শহীদ মিনার আর রূপসী বাংলার প্রতিচ্ছবি। কোমল হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় আঁকা ছবিগুলো প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশ ও দেশের সংস্কৃতিকে। অতিথিদের সঙ্গে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিশুশিল্পীরাদুটি বিভাগে আয়োজিত ছয় থেকে বারো বছরের শিশুদের এ প্রতিযোগিতায় যথাক্রমে সুবাহ নুর ও দিগন্ত সাহা প্রথম, ফারিসা চৌধুরী ও সারিন ইসলাম দ্বিতীয় এবং জুরাইদা খান ও আজওয়াদ সায়ার তৃতীয় হয়। চিত্রাঙ্কনে অংশগ্রহণকারীরাচিত্রাঙ্কনে অংশগ্রহণকারীরা

প্রতিযোগিতার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন চিত্রশিল্পী উৎপল নীল ও শামসুজ্জামান খান। বিচেস ইস্ট ইয়র্কের নেথেনিয়াল স্মিথ এমপি, আর্থার পট এমপিপি, টরন্টো সিটি কাউন্সিলর জেনেট ডেভিস, বাংলাদেশ সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল কাজী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সংবাদ পাঠিকা আসমা আহমেদ, বায়েসের জেনারেল সেক্রেটারি দিলরুবা খানম, অভিভাবকদের পক্ষে আশরাফ হক, শামিম আরা প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন ও বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
‘এ’ বিভাগে প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রকর্ম‘এ’ বিভাগে প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রকর্ম

বায়েসের নির্বাহী পরিচালক পরিচালক ইমাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় একুশের আলোচনা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বায়েসের সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক ও কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
‘বি’ বিভাগে প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রকর্ম‘বি’ বিভাগে প্রথম পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রকর্ম

আলোচনায় বক্তারা বলেন, কানাডায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা শিশুদের মাঝে বাংলাদেশ, এর ইতিহাস, সংস্কৃতিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বায়েস যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বাঙালি জাতির ইতিহাসে বেদনা ও চিরগৌরবদীপ্ত আর অহংকারে মহিমান্বিত মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। এটা জাতি হিসেবে বাঙালিদের জন্য অবশ্যই গর্বের বিষয়। একুশ এখন সবারই প্রেরণায় উৎস।


ইতালীতে দু’টি শহীদ মিনারেরই বেহাল অবস্থা

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বারি‘র এই শহীদ মিনার ২০০৮ সালে নির্মানের অনুমতি মেলে এবং বরাদ্দকৃত স্থান লারগো দু যোন পার্কে দুই বছরের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। যা ২০১০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ততকালীন ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী এই শহীদ মিনারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

Picture

অন্যদিকে রোমে স্থায়ী শহীদ মিনারটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় ২০১১ সালে এবং সে বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি তা উদ্বোধন করেন ততকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনি। এর দু’দিন পর একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে ওই শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং আলোচনায় অংশ নেন ইতালি সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিস স্টেফানিয়া গ্যাব্রিয়েলা অ্যানাস্তাসিয়া ক্র্যাক্সি।

ঢাকার জাতীয় শহীদ মিনারটির একই আদলে তৈরি হয় রোমের শহীদ মিনার। এর নকশায় মাঝের স্তম্ভটিতে রয়েছে বাংলায় ‘মা’ কথাটি খোদাই করা লেখা। এই নকশার আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, শহীদ মিনারে বিশ্বের ৫০৭টি ভাষার নাম লেখা আছে।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে দুইটি স্থায়ী শহীদ মিনারই সঠিক তত্বাবধানের অভাবে প্রায় ধ্বংসের মুখে।
বর্তমানে বারি শহরের স্থায়ী শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের সম্মান জানানোর অবস্থা থাকলেও রোমের স্থায়ী শহীদ মিনারে প্রায় ৪ বছর ধরে শহীদদের সম্মান জানানো হচ্ছে না।

দূতাবাস থেকে বিভিন্ন সময় উদ্দ্যোগ নেয়ার কথা জানালেও বাস্তবে তা এখনো মুখথুবরে পড়ে আছে ধ্বসে যাওয়ার মাটির শেষাংশে।

রোমের বাংলাদেশীদের অহংকার করা ভাষা আন্দোলনের নিদর্শন সম্মান জানানো পরিবর্তে পরে আছে পরিত্যাক্ত অবস্থায়। এ অবস্থা থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রতি প্রবাসীদের আহ্বান যতদ্রুত সম্ভব এই শহীদ মিনারকে রক্ষা করা