Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

প্রবাসীদের খবর

ইউনেস্কোতে বাংলাদেশ নিয়ে চিত্র প্রদর্শনী

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০১৫

Picture

এনায়েত হোসেন সোহেল,বাপসনিঊজ:প্যারিস,ফ্রান্স থেকে : ফ্রান্সে অবস্হিত ইউনেস্কো সদর দফতরের মিরো হলে বাংলাদেশের বর্তমান জলবায়ু,সামাজিকতা ও সংস্কৃতি নিয়ে চিত্র প্রদর্শনি অনুষ্ঠিত হয়েছে । গত সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় ও ইউনেস্কোর যৌথ এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের খ্যাতনামা ৩০জন চিত্রশিল্পীর চিত্রকর্ম স্থান পায়।

চিত্রকর্ম প্রদর্শনের শুরুতে বাংলাদেশ দুতাবাস ফ্রান্সের সিনিয়র কর্মকর্তা ফারহানা হোসাইনের প্রানবন্ত উপস্হাপনায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন, ফ্রান্সে নি্যুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে এ সময় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দীন,চিত্রশিল্পী রফিকুন্নবী,মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান,বিশিষ্ঠ মুখাভিনেতা পার্থ প্রথিম মুজুমদার,চিত্রশিল্পী শাহাদাৎ হোসেইনসহ প্যারিসের বাংলাদেশী কমিউনিটির গুনিজনেরা।

প্রদর্শনীতে এ সময় বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের আঁকা চিত্রকর্ম ঘুরে দেখেন দেশ বিদেশের খ্যাতনামা শিল্পী,সাহিত্যিক,বিভিন্ন দেশের কুটনিতিবিদ,রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাস কর্মকর্তাগন। বাংলাদেশের জীবন ও সামাজিক উপজীব্যকে কেন্দ্র করে আঁকা ছবিগুলো আগত অতিথিদের ব্যাপক নজর কাড়ে।

চিত্রশিল্পীরা তাদের অনুভুতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, চিরায়ত সৌন্দর্য্যের লীলাভুমি আমাদের বাংলাদেশ। এ দেশের ভুদৃশ্য শিল্পীর তুলির আচড়ে ভিন্ন রুপ পেয়েছে। তাই বাংলাদেশের ভু-প্রকৃতি ও জনমানবের নিত্য সংগ্রামের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রদর্শনীতে।

বাংলাদেশকে ইউনেস্কোর এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য মূলত এ আয়োজন।
প্রদর্শনী শেষে ফ্রান্সের উদিচী শিল্পী গোষ্ঠি দেশীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন।


ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপন

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০১৫

বাপসনিঊজ:জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিন উদযাপন করেছে ফ্রান্স আওয়ামী লীগ।স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় প্যারিসের এভিনিউ ক্লিসির একটি রেস্তোরাঁয় এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদ সেলিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন- মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ, সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবদুল্লাহ আল বাকী, ওয়াহিদ ভার তাহের, এম এ কাশেম, সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জাকির হোসেন ভূঁইয়া, সালেহ আহমেদ চৌধুরী, অধ্যাপক অপু আলম প্রমুখ।

Picture

বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের ফলে বাংলাদেশ বিশ্বে এগিয়ে যাচ্ছে।‘দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, জঙ্গিবাদ দমন, কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব, বিদ্যুৎখাতে উন্নয়নসহ বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে গৌরবের আসনে নিয়ে গেছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর চ্যাম্পিয়নস অব দ্য অর্থ পুরস্কার পাওয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে,’ বলেন তারা।আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা।


সিঙ্গাপুরে শেখ হাসিনার জন্মদিন পালিত

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০১৫

বাপসনিঊজ:সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করেছেন প্রবাসীরা।সোমবার বাংলাদেশ সেন্টারে বাংলাদেশ তরুণ লীগের পনেরতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে নবগঠিত তরুণ লীগ, সিঙ্গাপুর শাখা।অনুষ্ঠানের শুরুতে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়।অনুষ্ঠানে তরুণ লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ভুঁইয়ার পরিচালনায় সভাপতিত্ব করেন মাহবুব আবেদীন।

Picture

বক্তব্য দেন বাংলার সম্পাদক এ কে এম মোহসিন, সিঙ্গাপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমেদ, শাহজাহান, সাইদ, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ খোকন মজুমদার ও মফিজুর রহমান, বেলায়েত হোসেন, সাইফ, সম্রাট এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা।বক্তারা সিঙ্গাপুরের তরুণ লীগের শক্তিশালী করে জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে আরও গতিশীল করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করেন।উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হোসেন মোহাম্মদ খোকন, সালাউদ্দিন আহমেদ।


বাংলা সংগীতে বিলেতের শ্রোতারা মুগ্ধ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০১৫

Picture

হামিদ মোহাম্মদ, লন্ডন (যুক্তরাজ্য) থেকে : সংগীতে ভাষা কোনো প্রতিবন্ধকতা নয়। সংগীত মানব প্রাণে সুর ছন্দ ও রাগের মূর্ছনার প্রতিধ্বনি ঘটায়। সংগীত স্পর্শ করে মানবাত্মাকে। তাই যেকোনো ভাষার লোক সংগীতে মুগ্ধ হয় ও উপভোগ করতে পারে। সৌধ (সোসাইটি অব পোয়েট্রি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান মিউজিক) আয়োজিত বিলেতে বাংলা সংগীত উৎসবে আগত গুণীজন এই মতামত ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনা২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর তিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বাংলা সংগীত উৎসব বিলেতের মূল ধারাসহ বাঙালি ও ভারতীয় বিভিন্ন ভাষিক শ্রোতাদের বাংলা সংগীতের হাজার বছরের সুর মূর্ছনায় মুগ্ধ করে তোলে। সৌধের আয়োজনে সপ্তম শতকের বাংলা আদি গীতিকাব্য চর্যাপদ থেকে পঞ্চকবি, খেয়াল, ভজন, কীর্তন, ঠুমরি, টপ্পা, লোকগীতি রাধারমণ, লালন, আধুনিক গান ও হিন্দুস্তানি আদি মিউজিকের সুর মূর্ছনায় সংগীত পরিবেশনা ছিল হৃদয়গ্রাহী। ভারতের গুজরাট, পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমন্ত্রিত ও বিলেতে অভিবাসী বাংলাদেশের বাঙালি শিল্পীদের পরিবেশনায় উৎসবের চিত্রই ছিল আলাদা। বহুভাষিক শ্রোতা আর শিল্পীদের বন্ধন ব্যতিক্রমী ও ভিন্ন মূর্ছনা সৃষ্টি করে শুরু থেকে শেষাবধি।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনা 

পশ্চিম লন্ডনের কবি কীটস মিউজিয়াম হাউসে ২৫ সেপ্টেম্বর উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের টিকিট মূলধারার শ্রোতারাই সংগ্রহ করে নেন সপ্তাহখানেক আগে। এতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঠাঁই হয়নি আগ্রহী অনেক বাঙালি শ্রোতার। লন্ডনের কবি কীটস মিউজিয়াম হাউস ছাড়াও পূর্ব লন্ডনের কবি নজরুল সেন্টার ও রিসমিক্স হলে উৎসবের দুটি আয়োজনেও ছিল শ্রোতাদের ভিড়।

অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশনা 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কবি কীটস ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গানের উদ্ধৃতি পাঠ, অনুবাদ, সংযোগ সংশ্রেষণের মাধ্যমে হাজার বছরের বাংলা গানের ধারায় সংগীতের অন্তর্গত বন্ধন, মেলোডি, সুর ব্যঞ্জনায় কণ্ঠদান করেন প্রথিতযশা সংগীত শিল্পী চন্দ্রা চক্রবর্তী, চিরঞ্জীব চক্রবর্তী, অনল চ্যাটার্জি, ইমতিয়াজ আহমেদ, সুমনা বাসু, সঞ্জয় দে, গৌরী চৌধুরী, ফারজানা সিফাত, সোহানা বাজপেয়ী, শাওন গুপ্ত ও অমিত দে।

খুদে শিল্পীদের পরিবেশনা 

দ্বিতীয় দিনের নজরুল সেন্টারের পরিবেশনায় বাংলা সংগীত সংগঠন সঞ্জয় দে পরিচালিত রবিকার শিল্পীরা ছাড়াও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী যুক্তরাজ্য সংসদ পরিচালিত বাংলা সংগীত ও নৃত্যকলা প্রতিষ্ঠান সত্যেন সেন স্কুল অব পারফর্মিং আর্টসের খুদে শিল্পী আভিতা গুপ্ত, অর্পিতা চৌধুরী, অনন্যা চৌধুরী, তানিশা, নাফিজ জয়, পুরমা অধরা ও উর্বি মধুরা সংগীত পরিবেশন করে। শেষ দিনের রিসমিক্সের আয়োজনে চর্যাপদ থেকে আধুনিক গান পরিবেশনা ছিল উল্লেখযোগ্য। দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত একটানা এই দীর্ঘ অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংগীত শিল্পী চন্দ্রা চক্রবর্তী, চিরঞ্জীব চক্রবর্তী, অনল চ্যাটার্জি, ইমতিয়াজ আহমেদ, সুমনা বাসু, সঞ্জয় দে, গৌরী চৌধুরী, ফারজানা সিফাত, সোহানা বাজপেয়ী, শাওন গুপ্ত ও অমিত দে। এতে উল্লেখ্যযোগ্য পরিবেশনা ছিল বাংলা সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী সলিল চৌধুরী, হেমাঙ্গ বিশ্বাস, শচীন দেব বর্মণ, মান্না দে ও মানবেন্দ্রের গাওয়া গান ও পঞ্চকবি রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, অতুল প্রসাদ, রজনিকান্ত ও দ্বিজেন্দ্র লাল রায়ের গান। অনুষ্ঠানসমূহে যন্ত্রসংগীতের কীবোর্ডে অংশ নেন গুজরাটের বিখ্যাত যন্ত্রসংগীত শিল্পী কীরান তাকরার ও তবলায় চিরঞ্জিত মুখার্জি। এ ছাড়া অনুবাদে ছিলেন সংগীত বিশেষজ্ঞ এরিক সিল্লির। তিন দিনের অনুষ্ঠানের ইংরেজি ভাষায় গানের ব্যাখ্যাদান, শিল্পী পরিচিতসহ উপভোগ্য কথার মধুর তরঙ্গ সৃষ্টি ও সঞ্চালনায় ছিলেন সৌধের অন্যতম কর্ণধার কবি টি এম আহমেদ কায়সার।

অনুষ্ঠানে দর্শক 

টি এম আহেমদ কায়সার ও চন্দ্রা চক্রবর্তী পরিচালিত বাংলা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সৌধ (সোসাইটি অব পোয়েট্রি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান মিউজিক ২০০৯ সাল থেকে বিলেতে বাংলা সংগীতের ধ্রুপদীধারা ও শুদ্ধ সংগীতচর্চা এবং পরিবেশনার মাধ্যমে বাংলা সংগীতের প্রসার, প্রচার ও বিশ্বপরিসরে বিস্তৃতি ও পরিচয়দানে নিয়মিত সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। বিলেতের কালচারাল পল্লিখ্যাত সাউথ ব্যাংকের বিখ্যাত কুইন এলিজাবেথ হল, বারবিকান সেন্টার, রয়াল আলবার্ট হল, কবি কীটস মিউজিয়াম হাউস, রিসমিক্স হল ও বিলেতের বিখ্যাত হলসমূহসহ লিডস ও অন্যান্য শহরে উৎসব ও সংগীতায়োজন করে ইতিমধ্যেই সুনাম কুড়িয়েছে। বিলেতের মূলধারার গণমাধ্যম সৌধের পরিবেশিত এ আয়োজনসমূহকে গুরুত্ব দান ও প্রশংসা করে সচিত্র নিউজ ও ফিচার প্রকাশ ও সাক্ষাৎকার মুদ্রণ ও প্রচার করেছে।উল্লেখ্য, লন্ডনের বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সহযোগিতায় সৌধের এবারের তিন দিনের বর্ণাঢ্য বাংলা মিউজিক ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়।


তুলুজে ঈদ পুনর্মিলনী

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০১৫

নুরুল ওয়াহিদ, তুলুজ (ফ্রান্স) থেকে : ফ্রান্সের তুলুজে গত ১৫ বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে সকল স্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে ঈদ পুনর্মিলনী বা ঈদ আড্ডার আয়োজন করে আসছে বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন তুলুজ। ঈদের পরে এই সংগঠনের আহ্বানে তুলুজপ্রবাসী বাংলাদেশিরা সমবেত হয়ে একে অপরের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

Picture

এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার তুলুজের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত লা পিতিত গুয়াই রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন তুলুজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।মিলনমেলায় আগত অতিথিদের শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের সভাপতি ফখরুল আকম, সহসভাপতি জোসেফ কস্তা, জাহাঙ্গির হোসাইন, ফারুক হোসাইন, তাজিম উদ্দিন, মেহেদি হাসান, ফেরদৌস খান ও শাকের চৌধুরী প্রমুখ।

পুনর্মিলনী যোগ দেওয়া বাংলাদেশিদের একাংশ 

ফকরুল আকম তুলুজে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আপনজন ছাড়া ঈদ পালন করা অনেক কষ্টের হলেও তুলুজে আমরা একই ঘরের সন্তানের মতো দীর্ঘদিন থেকে ঈদসহ সব জাতীয় উৎসব পালন করে আসছি। এর মাধ্যমে দেশের আনন্দ দেশের বাইরে আমরা কিছুটা হলেও নিতে পারছি। ভবিষ্যতেও এ ধারা আরও গতিশীল হবে। তিনি তুলুজপ্রবাসী সকল বাংলাদেশিদের সংগঠনের সকল কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা প্রধানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ রকম আয়োজন বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে ইউরোপে বিকশিত করবে। পাশাপাশি আমাদের একে অপরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব বাড়াতে সহায়ক হবে।প্রীতি ভোজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।


রাশিয়ায় শেখ হাসিনার জন্মদিন পালিত

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০১৫

বাপসনিঊজ:প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করেছে ছাত্রলীগ রাশিয়া শাখা। রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় এক রেস্টুরেন্টে প্রধানমন্ত্রীর ৬৯তম জন্মদিন পালন করেন দলের নেতাকর্মীরা। এ উপলক্ষ্যে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন ভুঁইয়ার পরিচালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হেলাল মোর্শেদ।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী আওয়ামী পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল ওয়াব লিটন।  তিনি বলেন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, বিদ্যুৎ, নারীর ক্ষমতায়ন ও আইসিটি ক্ষেত্রে সরকারের অভূতপূর্ব সাফল্যে অর্জিত হয়েছে। শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার কারণে বাংলাদেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। পার্বত্য চুক্তি, সমুদ্র সীমান্ত চুক্তি, ছিটমহল বিনিময়সহ বিভিন্ন কার্যক্রম তাঁর তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তার কারণে হয়েছে বলে আবদুল ওয়াব মনে করেন।

Picture

পরিবেশ বিষয়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার পাওয়ায়  প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হেলাল মোর্শেদ। তিনি বলেন, শুধু পরিবেশ খাতে অবদান নয়,  বাংলাদেশের সব নাগরিকের তথ্য-প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আর তারই স্বীকৃতি স্বরুপ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের(আইটিইউ) কাছ থেকে বাংলাদেশের ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ অর্জন।সভায় আরো বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দীন ভুঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা সবুজ, আল ইমরান,  দপ্তর সম্পাদক আকিকুল ইসলাম লিয়ন প্রমুখ।সভা চলাকালিন সময়ে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে অবস্থানরত রাশিয়া ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে টেলি কনফারেন্সের মাধ্যমে জন্মদিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। আলোচনা সভা শেষে কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেন নেতা-কর্মীরা।


কাতারে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আনন্দমুখর সন্ধ্যা

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০১৫

আবু হানিফ রনি,কাতার : প্রতি ঈদের মতো এবারও বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের জন্য আলাদা আলাদা ঈদ আনন্দ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য এবারের আয়োজন ছিল আলওয়াকরা ইনডোর স্টেডিয়ামে। ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার বিকাল থেকে শুরু হয়ে রাত দশটা পর্যন্ত চলে গান, নাচসহ নানা রকমের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতাদের মধ্যে লটারির মাধ্যমে ১০০জন বিজয়ীর হাতে নানা রকম উপহার তুলে দেন কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ব্রিগ্রেডিয়ার আব্দুল্লাহ খলিফা আল মিফতাহ তার বক্তৃতায় বলেন, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিভিন্ন ভাষাভাষীর বিদেশি অভিবাসীদের জন্য আমরা কাতারের বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছি। এই ধারাবাহিকতায় আজ আলওয়াকরায় এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। আপনাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। এ সময় উপস্থিত সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
 
কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিউনিটি পুলিশ বিভাগের উপপ্রধান লে. কর্নেল সুলতান মোহাম্মদ জাবের আলকাবি বলেন, বিদেশি অভিবাসীদের জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আমরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। ঈদসহ বিভিন্ন উপলক্ষে আমরা বিভিন্ন ভাষাভাষীর জন্য এ ধরণের আয়োজন করে থাকি।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কমিউনিটির পে প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আখন্দ ও সাইফুল ইসলামকে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

Picture
 
বিকেলে সাংস্কৃতিক পর্বে দর্শক শ্রোতাদের মাতিয়ে তোলেন চিরন্তন বাউল সংঘের শিল্পীরা। শাহ আব্দুল করিমের গান ‘বন্দে মায়া লাগাইছেৎ এবং ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ গেয়ে শোনান শিল্পী মো. মোস্তফা। এছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন আব্দুল মালেক, ফয়েজ আহমদসহ সংগঠনের অন্যান্য শিল্পীরা।সন্ধ্যার পর প্রবাসী তরুণদের তিনটি ব্যান্ড দল অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শকদের উপহার দেন বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নানা ধরণের গান। অতঃপর ব্যান্ডদল তাদের পরিবেশনা শুরু করে দেশাত্মবোধক গান ‘ও আমার দেশের মাটি’ দিয়ে। অনুষ্ঠানে রাত দশটা পর্যন্ত এক আকাশের তারা তুই, সূর্যোদয়ে তুমিসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় আধুনিক বাংলা গান পরিবেশন করে আর্থ দ্য রক এবং শ্রাবণ। এতে নৃত্য পরিবেশনা করেন ডি ফর ড্যান্স গ্র“পের সদস্যরা।
 
এ সময় উপস্থিত দর্শকরা নেচে গেয়ে অংশ নেন শিল্পীদের সঙ্গে। তুমুল করতালি আর স্লোগানে মুখ হয়ে ওঠে পুরো ইনডোর স্টেডিয়ামের পরিবেশ। নেপাল, পাকিস্তান, ভারতসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোর অনেক অভিবাসী মুগ্ধ হয়ে শোনেন বাংলা সংস্কৃতির এইসব সমৃদ্ধ গান।বাংলাদেশিদের জন্য এমন সর্বজনীন আয়োজনে দর্শক শ্রোতাদের তুলনামূলক কম উপস্থিতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আখন্দ বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প থেকে ভেন্যু এবং অন্যান্য বিষয়ে জানার পর সময় স্বল্পতার কারণে সেভাবে এটির প্রচার করা যায়নি।অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম তালুকদার, আহমদ জাহেদ, প্রবাসী যুব পরিষদের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, কাতার বাংলাদেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মুসা আহমদ বখতপুরি, ইউসুফ পাটোয়ারী, গোলাম মাওলা হাজারি, সেলিম রেজা, শাহ আলম মায়া, শেখ জয়নাল, আকবর হোসেন, রানা প্রমুখ।


নভেম্বরে টরন্টোতে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল, কানাডা : অনেকটা চমক দিয়েই শুরু হলো বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালের প্রচারণা। আগামী ২১ ও ২২ নভেম্বর কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে এই ফেস্টিভ্যাল। কানাডার বাংলা পত্রিকা সাপ্তাহিক বাংলামেইলের চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে এই আনন্দ আয়োজন।গত ৫ সেপ্টেম্বর পার্কওয়ে শেরাটন হোটেলের ফোবানার মঞ্চে প্রচারণা কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলামেইল প্রকাশক ও বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল ২০১৫ এর চেয়ারম্যান রেজাউল কবির।

নভেম্বরে টরন্টোতে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল

বাংলামেইল সম্পাদক ও ফেস্টিভ্যালকনভেনর শহিদুল ইসলাম মিন্টুর সঞ্চালনায় প্রচারণা ব্যানার অবমুক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দৈনিক ইত্তেফাকের কানাডা প্রতিনিধি সাইফুল্লাহ মামুদ দুলাল, দেশে বিদেশে সম্পাদক নজরুল মিন্টো, ভোরের আলোর নির্বাহী সম্পাদক জসিম মল্লিক, বাংলামেইলের বিজ্ঞাপনদাতাদের পক্ষে রিয়েল এষ্টেট এজেন্ট রবিন ইসলাম ও রাসেল সিদ্দিকী।

এদিকে গত বছরের মতো এবারও টরন্টো থেকে প্রকাশিত বাংলা সাপ্তাহিক 'বাংলা মেইল' সেরা কমিউনিটি সংবাদপত্রের সম্মাননা পেলো। সেই সাথে চাইনিজ ‌'ইপোক টাইমস', ভারতীয় 'এশিয়ান কানেকশন্স' এই কৃতিত্ব অর্জণ করে।  গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় হেরিটেজ বিয়ন্ড বর্ডারস আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করেন ড্যান হ্যারিস এমপি।
 

এই উৎসবে অংশ নেবেন সঙ্গীত তারকা কুমার বিশ্বজিত, চন্দন সিনহা, মৌটুসী, চিত্র নায়ক ফেরদৌস, নায়িকা নিঝুম ও রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী নিলুফার বানু লিলি। ধ্রুপদী নৃত্য পরিবেশনায় থাকবে নৃত্যশিল্পী মৈত্রী সরকার, নিয়াজ মালেক নাদভী ও শাম্মী।  উপস্থাপনা করবেন আনজাম মাসুদ। বাংলা একাডেমীর সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্তিতে বাংলামেইলের দুই সম্পাদকীয় উপদেষ্টা কবি, লেখক ইকবাল হাসান ও চিত্রশিল্পী, লেখক সৈয়দ ইকবালকে সংবর্ধনা দেয়া হবে।


‘কানাডার নির্বাচন ও বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

বাপসনিঊজ:‘কানাডার রাজনীতি ও বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, প্রবাসে আওয়ামী লীগ-বিএনপি হিসেবে নয়, মূলধারার রাজনীতির মাধ্যমে নিজেদের পরিচিত করতে হবে। তারা বলেন, নির্বাচন এলে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা না করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় যোগ্যতাও অর্জন করতে হবে।শনিবার টরন্টোর ‘এক্সেস পয়েন্ট অন ডেথফোর্থ’ মিলনায়তনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা এই আহ্বান জানান।
 
সংগঠনের সভাপতি শওগাত আলী সাগরের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইলেকশন কানাডার বিচেস ইস্ট ইয়র্ক ইলেক্টোরাল ডিস্ট্রিক্ট এর রিটার্নিং অফিসার জেফ পলিন। প্যানেল আলোচক হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন জর্জ ব্রাউন কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক ড. সুজিত দত্ত, বেসরকারি সংস্থা সেটেলমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড ফ্যামিলি সাপোর্ট সার্ভিসেস (সাফস) এর সাবেক নির্বাহী পরিচালক ড. কাজী হক, বেসরকারি সংস্থা এক্সেস এলায়েন্স এর ব্যবস্থাপক (কোয়ালিটি অ্যান্ড একাউন্টিবিলিটি) ড. একেএম আলমগীর, টরন্টো স্টার এর সাংবাদিক তামারা খন্দকার।

‘কানাডার নির্বাচন ও বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারনতুন প্রজন্মের অদিতি জহিরের সঞ্চালনায় সূচনা  বক্তব্য রাখেন এলামনাইর সহসভাপতি সুধান রয় এবং ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন বাহার। প্যানেল আলোচকগণ  উপস্থিত শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। মূলধারার রাজনীতি নিয়ে টরন্টোর বাঙালি কমিউনিটিতে এই ধরনের আয়োজন এই প্রথম।ইলেকশন কানাডার রিটার্নিং অফিসার জেফ পলিন বাঙালি কমিউনিটিকে কানাডার সকল পর্যায়ের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কানাডার কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া তেমন কঠিন কোনো বিষয় নয়। রাজনৈতিক দলের হয়ে কিংবা ব্যক্তিগতভাবেও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ আছে।তিনি জানান, ইলেক্টোরাল ডিস্ট্রিক্ট-এ বাঙালি ভোটারের সংখ্যা বেশি বিধায় তারাও এই কমিউনিটির প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছেন। বাঙালি কমিউনিটির সঙ্গে ইলেকশন কানাডার সম্পর্ক আরো নিবিড় করার জন্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত একজনকে কমিউনিটি রিলেশন অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই নিয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাইর সুপারিশকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

জেফ পলিন, আগামী নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য বাঙালি কমিউনিটির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি আপনাদের অধিকার, এই অধিকার প্রয়োগে এগিয়ে আসুন। কোনো বিষয়ে কোনো ধরনের সমস্যা থাকলে তা আমাদের জানালে ইলেকশন কানাডা সেই সমস্যা সমাদানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।প্যানেল আলোচক ড. সুজিত দত্ত বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসন নিয়ে কানাডার নাগরিক হওয়া প্রত্যেকের জন্যই ভোট একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। ভোট একদিকে যেমন অধিকার, অন্যদিকে এটি দায়িত্ব এবং সুযোগও বটে। ভোট দিতে না গেলে নাগরিক দায়িত্বের প্রতিই অবহেলা করা হয়।
 
প্রবাসে বাঙালি কমিউনিটির স্বাভাবিক প্রবণতার চিত্র তুলে ধরে ড. সুজিত দত্ত বলেন, বিদেশে এসেও বাঙালিরা ঘরে বাইরে সর্বত্রই রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। তারা নিজেদের আওয়ামী লীগ-বিএনপি হিসেবে পরিচিত করতে ভালোবাসেন, কিন্তু তারা কানাডার রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন না, কানাডার রাজনেতিক দলের পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করেন না। এটি অত্যন্ত দু:খ জনক।তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবেশি ভারত- পাকিস্তান এমনকি শ্রীলংকান কমিউনিটি থেকেও হাউজ অব কমন্সে, সিটি কাউন্সিলে নির্বাচিত প্রতিনিধি আছে। কিন্তু বাংলাদেশি কমিউনিটি থেকে কোনো পর্যায়েই কোনো প্রতিনিধি নেই। গত সিটি নির্বাচনে বাঙালি কমিউনিটি থেকে অনেকেই প্রার্থী হয়েছিলেন, ফেডারেল নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছেন। যারা প্রার্থী হয়েছিলেন বা হতে চেয়েছেন- তাদের যোগ্যতা বিচার বিশ্লেষণের দাবি রাখে। ‘আমি বাঙালি’ কেবল এই যোগ্যতা নিয়ে কেউ প্রার্থী হলেই কি কমিউনিটি তাকে সমর্থন দেবে? নাকি তার যোগ্যতাও যাচাই বাছাই করবে।ড. সুজিত দত্ত কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জনের উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।


 
প্যানেল আলোচক ড. কাজী হক বলেন, নতুন আসা অভিবাসীরা সম্পূর্ণ অচেনা একটি পরিবেশে এসে নিজেদের টিকিয়ে রাখার লড়াইয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন। জীবন সংগ্রামের তীব্রতার কারণেই তাদের পক্ষে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তিনি স্বীকার করেন, কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না হলেও তারা কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়েই মেতে থাকেন। তিনি এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে কানাডার রাজনীতি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনার তাগিদ দেন। ড. কাজী হক বলেন, কানাডার আইনে কেবলমাত্র নাগরিকরাই জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন, স্থায়ী বাসিন্দাদের ভোটাধিকার নাই। নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, এই বিধানও অভিবাসীদের রাজনীতির ব্যাপারে অনাগ্রহী করে তুলে। তিনি স্থায়ী বাসিন্দাদের জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার দেয়ার প্রস্তাব তুলেন।
 
সাংবাদিক তামারা খন্দকার বলেন, প্রবাসে বাঙালি কমিউনিটি থেকে যারাই নির্বাচনে প্রার্থী হন- তাদের প্রায় সবাই নির্বাচনের মৌসুমে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। অথচ প্রার্থী হওয়া একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার, প্রস্তুতির ব্যাপার এবং অবশ্যই যোগ্যতা অর্জনের ব্যাপার। তিনি বাঙালি পরিবারের সন্তানদের স্কুল, কলেজ পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাঙালিদের বক্তব্যকে পৌঁছে দিতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই। তামারা খন্দকার বলেন, কানাডায় যারাই নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বা প্রার্থী হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বাঙালি কমিউনিটিকেও সেই পথেই এগুতে হবে। আর তার জন্য ব্যক্তিগত পরিমণ্ডলেও মূলধারার রাজনীতি, বিভিন্ন ইস্যু, নিজেদের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে হবে।সভাপতির ভাষণে সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর বলেন, কানাডার সকল পর্যায়ে বাঙালি প্রতিনিধি চাই, নির্বাচনে বাঙালি প্রার্থী চাই- তবে যোগ্য প্রার্থী চাই’- এই শ্লোগান নিয়ে কমিউনিটিতে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রার্থী হওয়ার আগে তার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, প্রবাসে বাঙালি কমিউনিটিকে বাংলাদেশীয় দলীয় রাজনীতির চর্চ্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।


শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা : ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

বাপসনিঊজ:গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার নেত্রী, শান্তির অগ্রদূত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর সভাপতি শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব মোস্তফা মজুমদার বাচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক জনাব মাহবুবুর রহমান। তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম গহণ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছার প্রথম সন্তান তিনি। উনার জন্মদিন উপলক্ষে গত ২৮শে সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ১০টায় কোপেনহেগেনের কনিয়া কাবাব পার্টি রুমে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।

১৯৭৫ সালের কালো রাতে সহপরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হবার আগে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ শেখ হাসিনা ইউরোপে অবস্থান করছিলেন। হেগ এ অবস্থানকালে তিনি স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নিহত হবার সংবাদ পান। তাৎক্ষনিকভাবে দেশে ফেরার পরিবেশ না থাকায় তিনি ইউরোপ ছেড়ে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। পরবর্তী ইতিহাস একবিংশ শতকের অভিযাত্রায় বাঙ্গালী জাতির কান্ডারী হয়ে তিনি জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখতেন, সেই স্বপ্ন রুপায়নের দায়িত্ব নিয়ে বাঙালি জাতির আলোর দিশারী হয়ে স্বদর্পনে এগিয়ে চলেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।২০০৪ সালের ২১শে আগষ্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। কিন্তু তিনি অলৌকিকভাবে বেচে যান। আজ তিনি তৃতীয় বিশ্বের একজন বিচক্ষণ বিশ্ব নেতা। সাম্প্রদায়িকতা, উদার, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও ইসলামী আদর্শের জীবন দৃষ্টি তাকে করে তুলেছে এক আধুনিক, অগ্রসর রাষ্ট্রনায়কে।

Picture

বিভিন্ন চ্যালেন্জ মোকাবেলা করে একবিংশ শতাব্দীর অভিযাত্রায় তিনি দিন বদল ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার কান্ডারি। তিনি বাঙ্গালী জাতির ঐক্যের প্রতিক এবং আশ্রয়স্থল। অতি সম্প্রতি তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে দুটি পুরস্কারে ভূষিত হন। প্রথমটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবেলায় নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসাবে “চ্যাম্পিয়ন্স অফ দ্য আর্থ” এবং দ্বিতীয়টি ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য “আই সি টি টেকসই উন্নয়ন” পুরস্কার। এই দুই পুরস্কারই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিশেষ করে তরুণদেরকে উৎসর্গ করেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দেশরতœ, ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার শেখ হাসিনার ৬৯তম জন্মবার্ষিকীতে আরো শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলী বাবু সুভাষ ঘোষ, মাহবুবুল হক, তাইফুর ভূইয়া, সাহাবুদ্দীন ভুইয়া, রিয়াজুল হাসনাত রুবেল, জাহিদুল ইসলাম কামরূল, রাফায়েত হোসেন মিঠ’, সাইফুল আলম ও ইনসান ভ’ইয়া। সহ-সভাপতি নিজাম উদ্দিন, মিজানুর রহমান (খোকন), নাসির উদ্দিন সরকার, মোহাম্মদ শহিদ, ইকবাল হোসেন মিঠু, নাসরু হক, জাহিদ চৌধুরী বাবু, আঃ নঃ মঃ খালেক, কাজী আনোয়ার। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুৎ বড়ুয়া, নাঈম উদ্দিন, নুরুল ইসলাম টিটু। সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, সরদার সাঈদুর রহমান, আমীর হোসেন জীবন, শফিউল আলম সাফি, গোলাম কিবরিয়া শামীম। এছাড়াও হিল্লোল বড়–য়া, আরিফুল হক আরিফ, সাজ্জাদ হোসেন, সম্্রাট, ইউসুফ আহম্মেদ, কোহিনুর আক্তার মুকুল, কচি মিয়া, নীরু সুমন, কামরুল ইসলাম, রেজাউল হক রেজা, তানিয়া সুলতানা চাপা, মোহাম্মাদ ইউসুুফ, মোহাম্মদ সেলিম, নাজিম উদ্দিন খান, মোতালেব হোসেন, গোলাম রাব্বি, লায়লা আক্তার সীমা, সামছু উদ্দিন, দেবাসীষ দাস, নয়ন ও তুষার বড়–য়া।


মৃত্যুপথযাত্রীর কাছে ২% কমিশন চায় দূতাবাসের নিজাম [ভিডিও]

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫

মাঈনুল ইসলাম নাসিম : কর্মস্থলে দুর্ঘটনা এবং কোরিয়ান ডাক্তারের ভুল চিকিৎসাজনিত কারণে গলা থেকে পায়ের তালু অবধি প্যারালাইজড হয়ে যাওয়া অসহায় বাংলাদেশি ইমরান হোসাইন যে পরিমান অর্থ ক্ষতিপূরণ বাবদ পাবে, তার ২ শতাংশ দিতে হবে সিউলের বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইংয়ে কর্মরত নিজামুল হককে। লোকাল রিক্রুট চিহ্নিত এই দুর্নীতিবাজ স্টাফ নেক্কারজনক অবৈধ কমিশন চুক্তিতে কৌশলে আটকে ফেলেছিল মৃত্যুপথযাত্রী হতভাগা বাংলাদেশি ইমরানকে। বহু নিরীহ বাংলাদেশির আতঙ্ক এই ‘নিজাম স্যার’ কয়েক বছর আগে ‘বাড়ি গোপালগঞ্জ’ পরিচয়ে দূতাবাসে লোভনীয় চাকরি বাগিয়ে নেয় বলে অভিযোগ।
 
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১২ সালের জুলাই মাসে সিউলের একটি থার্মোফ্লাক্স কোম্পানিতে বিধিবহির্ভূত অতিরিক্ত ওজনের কার্টন একাই উত্তোলন করতে গিয়ে ইমরান আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কয়েক দিন পরই দূতাবাসের নিজামুল হকের সাথে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চায়। দু’মাসের মাথায় হওয়া ইমরানের অপারেশনের দিনক্ষণ-স্থান সবই জানতো লেবার উইংয়ের অস্বাভাবিক প্রভাবশালী এই ‘সো-কল্ড’ অফিসার। শকুন যেমন গরু মারা যাওয়ার অপেক্ষায় থাকে, সুযোগসন্ধানী নিজামুল হক অপেক্ষায় ছিল ইমরানের সর্বোচ্চ ভয়াবহ দুঃসংবাদের, এমনটাই বেরিয়ে এসেছে অনুসন্ধানে।
 
মৃত্যু যখন ইমরানের দুয়ারে কড়া নাড়ছিল, এক রাতে তিন তিন বার মেজর অপারেশনের পরপরই সমস্ত শরীর প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার পর প্রায় মাস ছয়েক হতভাগা এই বাংলাদেশির বিন্দুমাত্র খবর নেয়নি নিজাম, শুধুমাত্র সময়মতো তার ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি নিশ্চিত করতে। এমনকি লেবার উইং বা দূতাবাসের কোনো কানামাছিও ইমরানের ভালোমন্দ কিছুই দেখাশোনা করেনি তখন। যেমন পরিকল্পনা তেমন কাজ। নিজাম তার পছন্দমাফিক পূর্বপরিচিত সিভিল উকিলকে ২০ শতাংশ কমিশন চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ দেয় ইমরানের পক্ষে মামলা পরিচালনার নিমিত্তে। একইসাথে নিজের ২ শতাংশ কমিশনের বিষয়টিও পাকাপোক্ত করে নেয় দূতাবাসের এই ধূর্ত ‘স্যার’ কাম এসিস্টেন্ট।

Picture
 
চুক্তি অনুসারে ইমরানের পক্ষে নিজামুল হকের নিয়োগকৃত উকিল কর্তৃক বহু আগেই দু’টি পৃথক মামলা দায়েরের কথা ছিল। তার মধ্যে একটি মামলা লেবার ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে, অন্যাটি কুখ্যাত সংমো হাসপাতাল ও তাদের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে। ইমরান যে কোম্পানিতে কাজ করতো সেই মালিক কর্তৃক প্রভাবিত ইনস্যুরেন্স কোম্পানি আগেই জানিয়ে দিয়েছিল ইমরান বাংলাদেশ থেকেই নাকি ইনজুরি নিয়ে কোরিয়াতে আসে ২০১১ সালে। ‘আমি যদি অসুস্থতা নিয়েই আসতাম তবে টানা একবছর কোম্পানিতে এতো সুন্দরভাবে কাজ করতাম কীভাবে?’- ভুল অপারেশনে স্পাইনাল কর্ড ড্যামেজ হওয়া ইমরানের এমন আকূতি আমলে নেয়নি লেবার ইনস্যুরেন্স।
 
নিজামের সাথে ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ও তথাকথিত উকিলের গোপন সমঝোতার কারণেই এমনটা হয়েছে বলে মনে করছেন সিউলের সচেতন বাংলাদেশিরা। দৃশ্যমান শক্তির নির্মম পরিহাস, ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা তো দূরের কথা, এমনকি সংমো হাসপাতালসহ তাদের ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগসহ কোনো মামলা করা ছাড়াই টানা ২ বছর পার করে দেয় দূতাবাসের ‘প্রভাবশালী স্যার’ নিজামের ভাড়া করা উকিল। হাসপাতালের বেডে ২৪ ঘণ্টা পড়ে থাকা ইমরানকে বোঝানো হয় ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ২ শতাংশের এগ্রিমেন্ট যাতে ঠিক থাকে। নিরীহ এই বাংলাদেশিকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেই ধুরন্ধর নিজাম গোপন বোঝাপড়া সেরে নেয় প্রতারক ওই উকিলের সাথে।
 
২০১৩ ও ২০১৪ এই দুই বছরে বাংলাদেশ দূতাবাসের জঘন্য নির্লিপ্ততা, ভয়াবহ উদাসীনতা, নেক্কারজনক দায়িত্বহীনতা এবং ঘৃণ্য খামখেয়ালিপনার কারণে সব কলকাঠি এককভাবে চলে যায় দুই প্রতারক নিজাম ও তার সাজানো উকিলের হাতে। নতুন হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা যেখানে ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন ইমরান সংমো হাসপাতাল কর্তৃক ‘রং ট্রিটমেন্ট’র শিকার, সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাসের আনাড়িপনায় প্রাপ্য ক্ষতিপূরণসহ ন্যায্য ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয় ইমরান হোসাইন। ২০১৩-১৪ সালে দায়িত্ব পালনকারী রাষ্ট্রদূত এনামুল কবির যিনি সিউলে আসার আগে প্যারিসে থাকতেই ‘স্লিপিং অ্যামবাসেডর’ হিসেবে সমালোচিত ছিলেন, ইমরান ইস্যুতে তাকেই সর্বাগ্রে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চান স্থানীয় বাংলাদেশিরা।
 
এদিকে দূতাবাসের লেবার উইংয়ের ‘কমিশন মাস্টার’ নিজামুল হকের সাথে অসুস্থ ইমরানের ২ শতাংশ চুক্তির কথা সম্প্রতি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে রাজধানী সিউলসহ কোরিয়ার বিভিন্ন শহরের বাংলাদেশ কমিউনিটিতে। তারা বলছেন, এই নিজামই নগদ অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তারই ভাড়াটে উকিলকে কুখ্যাত সংমো হাসপাতালের সাথে গোপন সমঝোতায় নিয়ে যায়। নিজামের বিরুদ্ধে সিউলের পথে-প্রান্তরে রয়েছে দালালী ও প্রতারণার আরো জঘন্য সব অভিযোগ। দূতাবাসের ভেতরে-বাইরে বহু লোকজনের সাথে তার অবৈধ আর্থিক লেনদেন রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে কেঁচো খুঁড়তে সাপও বেরিয়ে আসতে শুরু করছে এখন। ২ শতাংশ দেয়ার চুক্তি সম্পর্কে জানতে ০১০৪ ৯১৮১ ৯৬৯ এই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেনি নিজাম।
 
কাউন্সিলর খন্দকার মাসুদুল আলম ও লেবার উইংয়ের দায়িত্বে থাকা প্রথম সচিব জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ২ শতাংশ সম্পর্কে কিছুই অবগত নন বলে জানান। উল্লেখ্য, প্রতারক নিজাম কর্তৃক নিয়োগকৃত উকিল অর্থের বিনিময়ে মামলাটি বিবাদী পক্ষের অনুকূলে ছেড়ে দেয়ার পরিণতিতে নিম্ন আদালতে সুনির্দিষ্ট মামলার পরিবর্তে সামান্য ক্ষতিপূরণের ‘ক্লেইম’ করে ইমরানকে কৌশলে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করা হয়। রায় ইমরানের প্রতিকূলে যাওয়ার পর ওই একই উকিলের মাধ্যমে সম্প্রতি ‘আপিল’ তামাশার পর্বটিও সেরে নেয় নিজাম। 

ফোনালাপ ফাঁসের নেপথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি জনৈক বাংলাদেশি হাসপাতালে ইমরানকে দেখতে গেলে সবকিছু অবগত হওয়ার পর ২ শতাংশ বিষয়ে নিজামের সাথে কথোপকথন কৌশলে রেকর্ড করে রাখে। 

ফোনালাপের চুম্বক অংশটি শুনুন - https://www.youtube.com/watch?t=42&;v=YH16070-R40