Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

প্রবাসীদের খবর

'টরন্টো স্টার হাইস্কুল নিউজপেপার অ্যাওয়ার্ড' পেলেন রাফা ও চিত্তা

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৫

বাপসনিঊজ:প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিকদের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক পদক ‘দ্যা টরন্টো স্টার হাইস্কুল নিউজপেপার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনন্যা রাফা এবং চিত্তা চৌধুরী। সেরা ইলাস্ট্রেশনের জন্য ২০১৫ সালে পদকটি ছিনিয়ে নিয়েছেন অনন্যা রাফা। আর চিত্তা চৌধুরী রানার্স আপ পদক পেয়েছেন ফিচার লেখায়। বৃহত্তর টরন্টোর হাইস্কুলগুলো থেকে প্রকাশিত স্কুল পত্রিকাগুলোর সাথে জড়িত সংবাদকর্মীদের মধ্য থেকে বাছাই করে “সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ সাংবাদিক’ এর স্বীকৃতি হিসেবে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। কানাডার মূলধারার অত্যন্ত প্রভাবশালী পত্রিকা ‘টরন্টো স্টার’ গত ১৯ বছর ধরে স্কুল পত্রিকার ২১টি ক্যাটাগরির প্রতিটিতে দু'জন করে সংবাদকর্মীকে পুরস্কৃত করে আসছে। জানা গেছে, চলতি ২০১৫ সালের অ্যাওয়ার্ডের জন্য টরন্টোর বিভিন্ন হাইস্কুলের ৬০০ জন প্রতিযোগী ছিলেন। টরন্টো স্টারের একটি জুরি বোর্ড যাচাই বাছাই করে সেরা সংবাদকর্মীদের অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করে।  

Picture

সেরা ইলাসট্রেশনের জন্য অ্যাওয়ার্ড পাওয়া রাফা অনন্যা রায়ার্সন ইউনিভার্সিটিতে ফটোগ্রাফী মেজর নিয়ে ফাইন আর্টস এ পড়ছে। দশম শ্রেণীতে পড়াকালীন রাফা তার স্কলের পত্রিকা ‘রেকনার’ এর সাথে সম্পৃক্ত হয়। অল্পদিনের মধ্যেই তার ফটোগ্রাফী এবং ইলাস্ট্রেশন সবার দৃষ্টি কাড়ে। টরন্টোতে বসবাসরত অনন্যা রাফা চাকসুর জিএস আজিম উদ্দিন আহমেদ এবং মানজুমান আরার কন্যা। ফিচার রাইটিং এ রানার্স আপ অ্যাওয়ার্ড পাওয়া চিত্তা চৌধুরী নর্থ থর্নক্লিফ কলেজিয়েট স্কুলে গ্রেড টুয়েলভ এর ছাত্রী। মাত্র এক বছর আগে চিত্তা স্কুল নিউজপেপারের সাথে যুক্ত হয়। লেখালেখি শুরুর এক বছরের মাথায় সে সম্মানজনক স্বীকৃতি ছিনিয়ে আনে। ফিচার লেখায় রানার্স আপ অ্যা্ওয়ার্ড পাওয়া চিত্তা চৌধুরী টরন্টোতে বসবাসরত রুবিনা চৌধুরী এবং কবীর চৌধুরীর কন্যা।


বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ : হাসান মাহমুদ খন্দকার

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৫

বকুল খান, বাপসনিঊজ:স্পেন থেকে : স্পেনেস্থ বাংলাদেশের দূতাবাসের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। এদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী বা মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান হতে দেওয়া হবে না। আর তাদের কখনোই কোনো আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। এই দেশ শান্তিকামী বাঙ্গালিদের দেশ। এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ধর্মের সব বাঙালি রক্ত দিয়েছে। তাই এ দেশ সবার। সব ধর্মেই বলা আছে, মানবতার কথা, শান্তির কথা, সৌহার্দ্যের কথা।সকল ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখানে স্বাধীন দেশে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে। এদেশ সাম্প্রদায়িক নয়। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক।  গত ২২ অক্টোবর মাদ্রিদ পূজা  উদযাপন কমিটির উদ্যোগে পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে পুন্যার্থীদের  উদ্দেশে  তিনি এ কথাগুলো বলেন।

Picture
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে, এসময় উপস্থিত ছিলেন, হেড অফ চ্যাঞ্চেলরি হারুন উর রশিদ, কন্সুলার জেনারেল এম শাখাওযাত হুসেন, কমার্স কাউন্সিলার নাভিদ শাফিউল্লাহ, প্রথম সচিব শ্রম শরিফুল ইসলাম, কমিউনিটি নেতা আক্তার হুসেন আতা, জাকির হুসেন, মিনহাজুল আলম মামুন, এ কে এম জহিরুল ইসলাম, পার্থ সারথি দাস, জয় দেব পােদ্দার, কাজল চন্দ্র, রুবেল চক্রবর্তী আ ওনিক সাহা, তাপস দেবনাথ, শঙ্কর পোদ্দার, শিমুল রয়েল চক্রবর্তী দীপক পল, সুশীল সাহা প্রমুখ। তিনি আরো বলেন, ধর্ম যার যার-উৎসব সবার। এছাড়াও পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন স্পেন সফরত পুলিশের এআইজি মকলেছুর রহমান।


জার্মানীর ফ্র্যাঙ্কফোর্টস্থ বাইতুল আফিয়াতে প্রদত্ত হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আল খামেস (আই.)-এর ১৬ই অক্টোবর ২০১৫ তারিখের জুমুআর খুতবা

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০১৫

بسم اللہ الرحمن الرحیم : তাশাহুদ, তাঊয, তাসমিয়া ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর হুযূর আনোয়ার (আই.) বলেন, সম্প্রতি আমি হল্যান্ড-এ ছিলাম। সেখানকার স্থানীয় পত্রিকার এক সাংবাদিক যিনি জাতীয় প্রত্রিকায়ও লেখেন, আমাকে বলেন, ‘আহমদীয়া মুসলিম জামাত কি পৃথিবীতে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল জামাত’? আমি বললাম, ‘আন্তর্জাতিক জামাত হিসেবে যদি আপনি দেখেন তাহলে নিঃসন্দেহে আহমদীয়া মুসলিম জামাত পৃথিবীতে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল জামাত’। আর এখন আমাদের সেসব বিরোধী যাদের জামাতের প্রতি দৃষ্টি রয়েছে তারাও একথা স্বীকার করে। এটি হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর জামাতের সত্যতার অনেক বড় একটি প্রমাণ যে, ভারতের ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে উদ্ভূত ধ্বনী বা আওয়াজ আজ পৃথিবীর সকল শহর ও গ্রামে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। আর এর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তখন আরো সুস্পষ্টভাবে সামনে আসে বা আরো উজ্জ্বলভাবে ধরা পড়ে যখন আমরা দেখি, একজন সাধারণ মানুষ যখন চিন্তাও করতে পারতো না আর স্বপ্নেও ভাবতে পারতো না যে, আহমদীয়া জামাত সারা পৃথিবীতে পরিচিতি লাভ করবে; এমন সময় হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) দৃপ্ত কন্ঠে ও দৃঢ়তার সাথে তাঁর রচনা এবং বক্তৃতায় আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে সংবাদ পেয়ে বলতেন, “এমন এক সময় আসবে যখন সারা পৃথিবীতে এই জামাত পরিচিতি লাভ করবে আর জামাতের প্রসার এবং বিস্তার নিজ গুণে একটি নিদর্শন হবে এবং ঐশী সমর্থনের প্রমাণ হবে”।
একবার তিনি  বলেন, “আল্লাহ্ তা’লা এই জামাতকে বিস্তৃত করছেন”। আল্লাহ্ তা’লা এই জামাতকে সারা পৃথিবীতে বিস্তৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বরং একটি রেওয়ায়েত-এ এটিও উল্লেখিত আছে অর্থাৎ তিনি  বলেন, “আল্লাহ্ তা’লা ধীরে ধীরে এই জামাতকে এমনভাবে বিস্তৃত করবেন যে, জামাত সবার ওপর জয়যুক্ত হবে”। আজকের সব পরীক্ষা উবে যাবে। আল্লাহ্ তা’লার রীতি হলো, সব কাজ ক্রমান্বয়ে হওয়া। তিনি বলেন, “কোন গাছ এত দ্রুত ফল বহন করে না যত দ্রুত উন্নতি আমাদের জামাত করছে। এটি খোদার কাজ যা এক বিস্ময়কর বিষয়। এটি খোদা তা’লার একটি নিদর্শন এবং মোজিযা”।
অতএব আমরা তো এই ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত আর নিশ্চয় প্রত্যেক আহমদী যে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর সত্তায় প্রকৃত বিশ্বাস রাখে সেও এ কথার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেভাবে আল্লাহ্ তা’লা কেবল ১২৫ বছর পূর্বে একটি ক্ষুদ্র ও দূরবর্তী স্থান থেকে উদ্ভূত ধ্বনিকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে শুধু বিস্তৃতই করেন নি বরং নিষ্ঠাবানদের সমন্বয়ে একের পর এক জামাতও প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন যারা তাঁর প্রতি নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং বিশ্বাসে উন্নতি করে চলেছে। সেই খোদা নিজ অনুগ্রহে তাঁর একথাও পূর্ণ করবেন ইনশাআল্লাহ্, অর্থাৎ পরীক্ষা উবে যাবে এবং এই জামাত সবার ওপর জয়যুক্ত হবে, ইনশাআল্লাহ্। আজকাল আমরা যে যুগ অতিবাহিত করছি সে যুগে জামাত পৃথিবীতে বিস্তার লাভ করছে আর এই ক্রমোন্নতি পৃথিবীবাসীর চোখেও ধরা পড়ছে। সে কারণেই সেই সাংবাদিক আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, এই জামাত কি পৃথিবীতে সবচেয়ে দ্রুত বিস্তার লাভকারী জামাত? আরো অনেক জায়গায় অ-আহমদীরা এই প্রশ্ন করে এবং স্বীকারও করে, আহমদীয়া মুসলিম জামাত খুব দ্রুত প্রসারমান একটি জামাত। যদিও একইসাথে পরীক্ষাও দিতে হচ্ছে কিন্তু শত্রুর অভিসন্ধি ও ষড়যন্ত্রকে যদি দেখেন তাহলে এই পরীক্ষা কিছুই নয়। আর প্রতিটি পরীক্ষা, আহমদীয়াতের কারণে কোন আহমদী যখন ব্যক্তিগতভাবে এর সম্মুখীন হয় বা কোন কোন ক্ষেত্রে পুরো জামাতও যদি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়, প্রতিটি পরীক্ষা পূর্বের চেয়ে সমধিক ঐশী সাহায্য ও সমর্থনের দৃষ্টান্ত নিয়ে আসে। প্রত্যেক আহমদী যে পাকিস্তান থেকে পাশ্চাত্যের দেশ সমূহে এসেছে যদি তার মাঝে কৃতজ্ঞতার চেতনাবোধ থাকে তাহলে একথা সে অস্বীকার করতে পারবে না যে, পরিস্থিতির কারণে স্বদেশ থেকে হিজরতের পর আল্লাহ্ তা’লা তাদের ওপর কত অসাধারণ অনুগ্রহ করেছেন। শুধু তাই নয় বরং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে যেসব রিপোর্ট বা প্রতিবেদন আসে তাতে বয়আতেরও উল্লেখ থাকে এবং বয়আতকারীদের ঘটনাবলীও বিধৃত থাকে; সেগুলো পাঠ করে আশ্চর্য হতে হয়। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বিরোধিতা কোন কোন স্থানে গিয়ে পৌঁছেছে আর একইসাথে তাঁর সমর্থনে আল্লাহ্ তা’লা কত অসাধারণ নিদর্শনাবলী প্রদর্শন করছেন। এটি যদি মানুষের হাতে গঠিত কোন জামাত হতো তাহলে জামাত প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকে এবং শুরু থেকেই হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর যত বিরোধিতা হয়েছে এবং আজ পর্যন্ত পৃথিবীর সর্বত্র তাঁর মান্যকারীদের যে বিরোধিতা হচ্ছে এরফলে এই জামাত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা এবং এই জামাতের মিথ্যাচার স্পষ্টভাবে সামনে আসার কথা। কিন্তু ধ্বংস হওয়া তো দূরের কথা আল্লাহ্ তা’লা এই জামাতকে ক্রমাগত উন্নতি দিচ্ছেন।
হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) তাঁর এক বৈঠকে বলেন, “বিরোধীরা সর্বাত্মক বিরোধিতা করেছে কিন্তু খোদা তা’লা উন্নতি দিয়েছেন। এটিই সত্যতার প্রমাণ যে, পৃথিবী ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সর্বশক্তি নিয়োজিত করে কিন্তু সত্য বিস্তার লাভ করে”। তিনি (আ.) বলেন, “আমাদের বিরোধিতায় এমন কোন্ অপচেষ্টা আছে যা করা হয়নি কিন্তু অবশেষে তারা ব্যর্থতাই দেখেছে। এটি খোদা তা’লারই নিদর্শন’।
অতএব যেমনটি আমি বলেছি, বিরোধীরা শক্তি প্রয়োগ করে আসছে আর আজও করছে কিন্তু আজও বিরোধীদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করা সত্ত্বেও, আমাদের বিরুদ্ধে বড় বড় আলেমদের সমস্ত ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বরং আহমদীয়াতের বিরোধিতায় বিভিন্ন সরকারের সর্বশক্তি প্রয়োগ করা সত্ত্বেও হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর কথাই পূর্ণ হচ্ছে অর্থাৎ বিরোধীরা ব্যর্থ হবে আর এটি খোদা তা’লার নিদর্শন। আল্লাহ্ তা’লা কীভাবে নিদর্শন প্রকাশ করছেন এবং কীভাবে মানুষকে ধরে ধরে বা এক এক করে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর হাতে বয়আতকারীদের অন্তর্ভুক্ত করছেন তা লক্ষ্য করে আশ্চর্য হতে হয়। একবার হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বৈঠকে বা মজলিসে উল্লেখ করা হয়, লাহোর থেকে এক ব্যক্তির পত্র এসেছে। সে ব্যক্তিকে স্বপ্নে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) সত্য। সে ব্যক্তি এক ফকীরের ভক্ত বা মুরীদ ছিল যে দাতাগঞ্জ বখ্শ সাহেবের মাজারের পাশেই থাকতো। সেই ব্যক্তি তার পীর বা ফকীরের কাছে একথা উল্লেখ করে। সেই পীর বলেন, এত দীর্ঘকাল যাবৎ মির্যা সাহেবের উন্নতি হওয়া তাঁর সত্যতারই প্রমাণ বহন করে। তখন নিজ ধ্যানে মগ্ন আরেকজন ফকীর সেখানে আসে,  দরবারে এমন অনেকেই বসে থাকে, তিনি বলেন, বাবা আমাদেরকেও জিজ্ঞেস করার সুযোগ দাও অর্থাৎ আমাদেরকেও আল্লাহ্ তা’লার কাছে জিজ্ঞেস করতে দাও, আসল বিষয় কী। দ্বিতীয় দিন সেই ব্যক্তি বলেন, আল্লাহ্ তা’লা জানিয়েছেন, মির্যা হলেন, মওলা। তখন প্রথম ফকীর তাকে উত্তরে বলে, মওলানা বলে থাকবেন। তিনি তোমার-আমার তথা আমাদের মতো সবার মওলা বা মওলানা। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) তখন বলেন, আজকাল স্বপ্ন এবং রুইয়্যা অনেক দেখানো হচ্ছে; সম্ভবতঃ আল্লাহ্ তা’লা মানুষকে স্বপ্নের মাধ্যমে অবহিত করতে চান। খোদা তা’লার ফিরিশ্তারা সেভাবেই ঘোরাফেরা করে যেভাবে আকাশে পঙ্গপাল উড়ে বেড়ায়। তারা হৃদয়ে একথা সঞ্চার করেন, গ্রহণ কর, মেনে নাও।
আরেক ব্যক্তির অবস্থাও তিনি (আ.) বর্ণনা করেন, যে হুযূরের বিরোধিতায় একটি বই লেখার সিদ্ধান্ত নেয়। স্বপ্নে মহানবী (সা.) তাকে বলেন, তুমি মির্যা সাহেবের খন্ডন লিখছ অথচ তিনি সত্য। অতএব এই হলো, ঐশী দিক নির্দেশনা যা খোদা তা’লা পবিত্রচেতা ব্যক্তিদের দান করেন। সেই যুগের তুলনায় আজকাল তবলীগের উপায়-উপকরণ আমাদের হাতে অনেক বেশি রয়েছে যা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর যুগে ছিল; কিন্তু তাসত্ত্বেও খোদা তা’লা যেভাবে স্বপ্নের মাধ্যমে অর্থাৎ রুইয়্যা ইত্যাদির মাধ্যমে যার হৃদয় উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। নিঃসন্দেহে যার জন্য আল্লাহ্ তা’লা ইচ্ছা করেন এমন মানুষকে তবলীগও প্রভাবিত করে কিন্তু খোদা তা’লা সরাসরিও পথ-প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেন। আজও অগণিত এমন মানুষ আছেন যারা এভাবে হিদায়াত বা পথের দিশা লাভ করেছেন এবং করছেন। তারা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর দাবির সত্যতা স্বীকার করে এবং তাঁর হাতে বয়আত করে। এখন আমি গত বছরের এমন কিছু ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরব। এমন অজ¯্র ঘটনার মাঝে আমি মাত্র কয়েকটি নিয়েছি যাদেরকে আল্লাহ্ তা’লা স্বপ্নের মাধ্যমে হিদায়াত দান করেছেন। তাদের কথা শুনে আশ্চর্য হতে হয়। তারা কাদিয়ান থেকে সহ¯্র সহ¯্র মাইল দূরে অবস্থান করছেন বরং অনেকে এমন অঞ্চলে বসবাসকারী যেখানে কোন যোগাযোগ মাধ্যমও নেই কিন্তু খোদা তা’লা তাদেরকেও সঠিক পথ প্রদর্শন করছেন।
মরিশাসের কাছে একটি ছোট দ্বীপ আছে যার নাম হলো মায়ুট (গধঁঃ)। মরিশাসের মুবাল্লিগ সেখানে সফরে যান। তিনি বলেন, এক অ-আহমদী বন্ধু স্বপ্নে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর দিদার বা সাক্ষাৎ লাভ করেন। কিছুদিন পর তার এমটিএ দেখার সুযোগ হয়। এমটিএ-তে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর ছবি দেখে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, ইনিই সেই বুযূর্গ যাকে আমি স্বপ্নে দেখেছি। এভাবে যখন তাকে ইসলাম এবং আহমদীয়াত সম্পর্কে অবহিত করা হয় তখন তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে, আহমদীয়াতই সত্য ইসলাম এবং এরপর তিনি বয়আত করেন।
অনুরূপভাবে আরেকটি দূরবর্তী দেশ হলো গিনি কোনাকরি যা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে অবস্থিত এবং আফ্রিকার একটি দেশ। এখানে শহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র সোলেমান সাহেব দীর্ঘদিন যাবত যেরে তবলীগ হিসেবে ছিলেন কিন্তু বয়আত করছিলেন না। একদিন তিনি আসেন এবং বলেন, এখন আমি আহমদীয়াতের সত্যতার বিষয়ে নিশ্চিত তাই বয়আত করতে চাই। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কীভাবে আশ্বস্ত হলেন। তিনি তখন তার একটি স্বপ্ন বর্ণনা করেন, আমি একটি নৌকায় আরোহিত ছিলাম। আমাদের নৌকার পাশে দ্বিতীয় আরেকটি নৌকা ছিল যা পানিতে ডুবে যাচ্ছিল এবং সেই নৌকার আরোহীরা সাহায্যের জন্য আমাদেরকে ডাকে। আমরা তাদের সাহায্য করি আর তারাও আমাদের নৌকায় আরোহন করে। এরপর আমরা যে টেবিলের চতুষ্পার্শ্বে বসেছিলাম সেখানে ইমাম মাহদী (আ.)ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাদেরকে পান করার জন্য একটি দুধের পেয়ালা দেন। আমি সেই পেয়ালা নিজের হাতে নিয়ে পেট ভরে দুধ পান করি যা খুবই সুস্বাদু ছিল। এরপর আমার চোখ খুলে যায় আর আমি বুঝতে পারি, এই প্রাণ সঞ্জীবনী সুধা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর নৌকায় আরোহন এবং তাঁর হাতে বয়আতের মাধ্যমেই লাভ হতে পারে। এরপর তিনি বয়আত করেন।
আরেকটি দেশ হলো আইভরিকোস্ট। সে দেশের একজন অধিবাসী আল্ আহসানী সাহেব একটি স্বপ্ন শুনান। তিনি বলেন, আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি, বিশাল এক জনসমাবেশ। আমার এক সাথী বলেন, এই সমাবেশে ইমাম মাহদী (আ.)ও রয়েছেন। ঔৎসুক্যের কারণে আমি ইমাম মাহদী (আ.)-এর সাথে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেই। আমার সাথী বলেন, ইমাম মাহদী (আ.)-এর সাথে সাক্ষাতের পূর্বে আহমদীয়াত গ্রহণ কর। আমি স্বপ্নেই বয়আত করি। এরপর যখন সেই সমাবেশের কাছে যাই বাস্তবিকই সেখানে ইমাম মাহদী (আ.)-কে দেখি। আমি দেখি যে, তিনি তবলীগ করছেন। এই স্বপ্ন দেখার পর তিনি আহমদীয়াত গ্রহণ করেন।
এরপর দক্ষিণ ভারতের কেরালা জামাতের প্রেসিডেন্ট সাহেব তার রিপোর্টে লিখেন, একজন নতুন বয়আতকারী বন্ধু আছেন যিনি এমটিএ এবং স্বপ্নের মাধ্যমে পাঁচ মাস পূর্বে আহমদীয়াত গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেন। তিনি তার ঘরে ক্যাবলের মাধ্যমে টেলিভিশন দেখতেন। হঠাৎ একদিন তার এমটিএ দেখার সুযোগ হয়। তার আগ্রহ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। আব্দুল হামীদ সাহেব, যিনি আহমদী হয়েছেন, তরিকতের (সূফী মতবাদ) সাথে সম্পর্ক রাখতেন এবং একজন পীরের হাতে বয়আত করে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, দুই এক মাসই এমটিএ দেখা হয়েছে। এরপর স্বপ্নে দেখেন, তিনি হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর মাজার যিয়ারত করছেন। তার প্রয়াত পীর সাহেবকেও তিনি মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর মাজার যিয়ারত করতে দেখেন। এই স্বপ্নের পর জামাতের সন্ধানে তিনি জামাতের প্রেসিডেন্ট সাহেবের কাছে আসেন এবং বলেন, আমি বয়আত করতে চাই। প্রেসিডেন্ট সাহেব তাকে আরো গবেষণা করতে বলেন। এরপর তিনি জামাতের আমীরের কাছে গেলে তিনিও একই কথা বলেন। এরপর তিনি কাদিয়ান পৌঁছেন এবং সেখানে গিয়ে বয়আত করেন।
একইভাবে উত্তর আফ্রিকার একটি দেশের নাম হলো তিউনিসিয়া। এখানকার এক বন্ধুর নাম হলো, কাদের। তিনি বলেন, জামাতের শিক্ষায় আমি প্রভাবিত ছিলাম কিন্তু বয়আতের ব্যাপারে আমার মন সায় দিচ্ছিল না কেননা ইমাম মাহদীকে নবী হিসেবে মেনে নিতে আমার হৃদয় প্রস্তুত ছিল না। এটি মৌলিক বিষয়। কেউ যদি এই বিষয়টি বুঝে, বিশেষ করে মুসলমানরা যদি বুঝতে পারে যে, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর দাবি হলো, শরীয়ত বিহীন নবী হওয়ার এবং যা পাওয়ার তিনি তা রসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর কল্যাণেই পেয়েছেন, আর রসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর প্রতি প্রেম এবং তাঁর ভালোবাসার কারণে নবী আসতে পারে, তাঁর ভালোবাসার কারণে আল্লাহ্ তা’লা কাউকে নবীর মর্যাদা দিতে পারেন, আর আগমনকারী মসীহ্র নবীর মর্যাদা নিয়েই আসার কথা ছিল। যাহোক একথা মানতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি বলেন, এরপর আমি সিদ্ধান্ত নেই, যদি খোদা তা’লা আমাকে অবহিত করেন যে, হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.)-ই ইমাম মাহদী তাহলে আমি বয়আত করব। তিনি বলেন, ইত্যবসরে এক আহমদী বন্ধুর সাথে আমার আলোচনা হয়। তিনি আমাকে একটি রেফারেন্স দেন, যে ব্যক্তি ইমাম মাহদীকে চেনার পরও বয়আত করবে না তার মৃত্যু হবে অজ্ঞানতার মৃত্যু। তিনি বলেন, এই কথার আমার ওপর গভীর প্রভাব পড়ে। রাতে আমি ইস্তেখারা করি এবং স্বপ্নে দেখি, আমি কুরআন শরীফ পড়ছি আর এমন একটি স্থানে গিয়ে আমি দাঁড়িয়ে যাই যেখানে লেখা ছিল, ‘ইন্নী আনসুরুকা ইয়া আহমদ’। তিনি বলেন, এই স্বপ্ন দেখে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বয়আত গ্রহণ করি।
আরেকটি দেশের নাম হলো মালি। সেখানকার মুবাল্লিগ সাহেব বলেন, এক ব্যক্তির নাম হলো, কোলিবালি সাহেব। এখানকার একটি ছোট্ট শহরে তিনি বসবাস করতেন। তিনি একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। ২০১৪ সনের ডিসেম্বর মাসে তার বয়আত করার সৌভাগ্য হয়। তিনি বলেন, ১৯৬৪ সনে যখন তিনি আইভরিকোস্টে বসবাস করতেন তখন একদিন স্বপ্নে দেখেন, দু’জন শেতাঙ্গ তার কাছে এসে বলেন, ইমাম মাহদী (আ.) এসে গেছেন তাঁর হাতে বয়আত কর। এই স্বপ্ন দেখার পর জীবনের এক দীর্ঘ সময় কেটে যায়। তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং স্বপ্নের কথা ভুলে যান। কিন্তু ২০১৪ সনে একদিন তিনি রেডিও টিউন করতে গিয়ে আহমদীয়া রেডিও খুঁজে পান। সেখানে আল্লাহ্ তা’লার ফযলে আমাদের অনেক রেডিও স্টেশন কাজ করছে। যখন রেডিও শোনা আরম্ভ করেন আর ইমাম মাহদীর আগমনের সংবাদ শুনতে পান; তিনি বলেন, আমার হৃদয়ের অবস্থা পাল্টে যায় আর সেই স্বপ্নের কথাও মনে পড়ে। তিনি তখন খোদার দরবারে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, মৃত্যুর পূর্বে তিনি হযরত ইমাম মাহদী (আ.)-এর হাতে বয়আত করার সৌভাগ্য পেয়েছেন যার সংবাদ ৫০ বছর পূর্বেই আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে তাকে দেয়া হয়েছিল। নেক প্রকৃতির লোকদের আল্লাহ্ তা’লা ধ্বংস হতে দেন না। সময় কেটে গেলেও বা দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পরও আল্লাহ্ তা’লা তাকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন।
আরেকটি দেশের নাম হলো, সোয়াযিল্যান্ড। সেখানকার এক আহমদী যুবকের নাম তাহের। কিছুকাল পূর্বে তিনি বয়আত করেন। এ বছর ২৭শে রমযানের রাতে তিনি স্বপ্নে দেখেন, পূর্ণ চন্দ্র অর্থাৎ পূর্ণিমা ছিল, দিবালোকের মতো দৃশ্যের অবতারণা হচ্ছিল। স্বপ্নে আওয়াজ আসে, এটি সেই আলো যা তুমি লাভ করেছ, এটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধর, এটি এখন ধীরে ধীরে পুরো সোয়াযিল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়বে। স্বপ্নে আমাকে বোঝানো হয়েছে, এই আলো বলতে আহমদীয়াত বোঝায় যা ধীরে ধীওে পুরো দেশে বিস্তার লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ্। এই স্বপ্নের পর এই নতুন আহমদী আহমদীয়াতের বিশ্বাসে অসাধারণ দৃঢ়তা লাভ করেন।
মালিরই আরেকটি ঘটনা। একটি জামাতের নাম হলো, নান্দ্রে বোগো। সেখানকার এক বুযূর্গের নাম সাঈদ সাহেব। আহমদীয়াত সম্পর্কে তিনি শুনেছিলেন কিন্তু নিশ্চয়তার অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি এই উদ্দেশ্যে চল্লিশ রাত চিল্লা করেন আর বলেন, একুশতম রাতে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে স্বপ্নে দেখেন আর সাথে আমাকেও দেখেন। উভয়েই তার ঘরে আসেন আর তাকে সাথে করে আকাশে নিয়ে যান। তিনি বলেন, এই স্বপ্ন দেখে তিনি আহমদীয়াতের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন। এরপর তিনি আহমদীয়াত গ্রহণ করেন।
মানুষ মনে করে, আফ্রিকানরা চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই আহমদীয়াত মেনে নেয়। তাদের মাঝে যেহেতু সত্যের অনুসন্ধিৎসা রয়েছে তাই তারা শুনে এবং যাচাই করে, গোয়ার্তুমি প্রদর্শন করে না বা গোয়ার্তুমি করে না। প্রকৃতিগতভাবে তারা যেহেতু নেক তাই খোদা তা’লা পথ প্রদর্শন করেন। ধর্মের জন্য সেই ব্যক্তির হৃদয়ে এক বেদনা ছিল এ কারণেই চল্লিশ দিন চিল্লা করার কথা ভেবেছেন।
মালিরই আরো এক ব্যক্তি রয়েছেন তার নাম হলো বামা সাহেবো। তিনি আহমদীয়া মুসলিম জামাতের কথা শুনেছেন কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না যে, আহমদীয়াত সত্য কি মিথ্যা। তিনি ইস্তেখারা করেন আর তৃতীয় দিন স্বপ্নে দেখেন, তিনি একটি নৌকায় ভ্রমণ করছেন। সেই নৌকা পানিতে উল্টে যায় আর সবাই নিমজ্জমান ছিল। তখনই পানি থেকে একটি শিশু বের হয়ে বলে, যদি বাঁচতে চাও তাহলে আহমদীয়াত গ্রহণ কর। এরপর স্বপ্নেই তিনি আহমদীয়াত গ্রহণ করেন যে কারণে তিনি রক্ষা পান আর অন্য সবাই ডুবে যায়। এই স্বপ্ন দেখার পর তিনি বয়আত করেন।
সিয়েরালিওনের আব্দুল সাহেব বর্ণনা করেন, আমার পিতা আহমদী ছিলেন। (অনেক পথহারা ও ধর্মের প্রতি উদাসীন লোককে আল্লাহ্ তা’লা পিতা-মাতার দোয়া এবং নিজের পুণ্যের কারণে সঠিক পথ দেখান) তিনি বলেন, আমার পিতা আহমদী ছিলেন কিন্তু আমি কোন কারণে জামাত থেকে ক্রমশঃ দূরে সরে পড়ি আর তবলীগি জামাতে যোগ দিয়ে তবলীগে যাওয়া আরম্ভ করি। পাকিস্তান এবং ভারত থেকেও আফ্রিকাতে তবলীগি জামাত যায়। যাহোক তিনি বলেন আমাদের মুবাল্লিগ এবং আমার পিতা আমাকে অনেক বুঝিয়েছেন কিন্তু আমার ওপর এর এতটুকু প্রভাবও পড়েনি। কিছুকাল পর আমি একদিন স্বপ্নে দেখি, আকাশে অনেক বড় এবং সুন্দর একটি ছবি রয়েছে যা যুগ মসীহ্ হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ.)-এর। পরের দিনই আমি তবলীগি জামাত ছেড়ে দেই আর আহমদীয়াত তথা সত্য ইসলামে আবার যোগ দেই আলহামদুলিল্লাহ্ আর তিনি নিজেই লিখেছেন, এখন আমি সব অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করি ।
এরপর এটি স্পষ্ট করার জন্য অর্থাৎ হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) যে আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে সত্য, প্রেরিত এবং মসীহ্ ও মাহদী ছিলেন কেবল তাই নয় বরং তারপর চলমান খিলাফত ব্যবস্থাও ঐশী মদদপুষ্ট আর এই খিলাফত ব্যবস্থাই হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নিরন্তর কাজ করে চলছে। আল্লাহ্ তা’লা মানুষকে খলীফাদেরও স্বপ্নে দেখিয়ে পথ দেখান। নাইজেরিয়া থেকে একজন মুয়াল্লিম লিখেন, এক ব্যক্তির নাম হলো মুহাম্মদ। তিনি তার স্বপ্ন শোনাতে গিয়ে বলেন, তিনি সামুদ্রিক জাহাজে আরোহিত ছিলেন। জাহাজ যখন মাঝ সমুদ্রে পৌঁছে তখন হঠাৎ তুফান শুরু হয়। জাহাজ তলিয়ে যেতে থাকে এবং জীবিত থাকার সম্ভাবনা লোপ পায়। তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি হাত প্রসারিত করে আমাকে তীরে নিয়ে আসেন। আমার জানা ছিল না, আল্লাহ্র এই বান্দা কে। কিছুকাল পর এই মুহাম্মদ নামি ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ হয় আমাদের এক দাঈইলাল্লাহ্ অর্থাৎ তবলীগকারী মুয়াল্লিমের সাথে। তিনি তাকে এমটিএ দেখান। এমটিএ’তে সেই ব্যক্তি আমার চেহারা দেখে বলেন, ইনিই আল্লাহ্র সেই বান্দা যিনি আমাকে রক্ষা করেছেন। এরপর তিনি তার পুরো পরিবার সহ আহমদীয়াতভুক্ত হন।
একইভাবে সুদানের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি ঘটনা রয়েছে। (সুদানের মানুষ ধর্মীয় বিষয়ে অনেক কট্টর হয়ে থাকে) সেখান থেকে আহমদ সাহেব লিখেন, ডক্টর আমীর সাহেব ফোন করে তাকে জানান, তিনি বয়আত করতে চান। পরেরদিন জুমুআ ছিল, তিনি জুমুআয় আসেন এবং আমাদের সাথে জুমুআর নামায পড়েন। বয়আতের বিষদ বিবরণ তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, তার স্ত্রী তাকে হযরত খলীফাতুল মসীহ্ রাবে (রাহ.)-র সাথে স্বপ্নে দেখেন। হুযূর তাকে জিজ্ঞেস করছেন, আপনি এখনো বয়আত করেন নি কেন? এতে তিনি হাত উঠিয়ে বলেন, আমি বয়আত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছি। একইভাবে তার মেয়ে বলেন, তিনি আমাকে (অর্থাৎ বর্তমান হুযূরকে) হযরত উমর বিন আব্দুল আযীযের সাথে দেখেন। তিনি বলেন, এর ফলে আমীর সাহেব নিশ্চিত হন, এই জামাত সত্য। তার স্ত্রী এক খলীফাকে দেখেন আর মেয়ে অন্য খলীফাকে, এভাবে তার দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে, জামাত সত্য এবং খিলাফত ব্যবস্থা সত্য। তার সম্পর্ক সূফী বংশের সাথে। তিনি বলেন, সেখানকার এক মজযূব (পরজগতমুখী) বুযূর্গের নাম হলো ইব্রাহীম। তার স্বপ্ন ও দিব্যদর্শন পূর্ণ হয়। ডক্টর সাহেব বলেন, তিনি এই বুযূর্গ ব্যক্তিকে ফোন করে জামাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, ইমাম মাহদী কি এসে গেছেন? তিনি উত্তরে বলেন, হ্যাঁ, ইমাম মাহদী এসে ইন্তেকালও করেছেন। আপনি কি এ সংবাদ পাননি? তখন ডক্টর সাহেব জিজ্ঞেস করেন, এখন ইমাম মাহদীর পঞ্চম খলীফার যুগ চলছে, আমার কি তাঁর হাতে বয়আত করা উচিত? সেই বুযূর্গ বলেন, বয়আত করুন। যেভাবে মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর যুগে ঘটনা ঘটে অর্থাৎ দাতাগঞ্জ বখ্শ সাহেবের মাযারের পাশে বসবাসকারী ফকীর বা মজযূব (পরজগতমুখী) যেভাবে দিক-নির্দেশনা নিয়ে মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর সত্যতা সম্পর্কে এক ব্যক্তিকে অবহিত করেন অনুরূপভাবে ইনিও আর একজন পুণ্যবান ব্যক্তির কাছ থেকে দিক- নির্দেশনা পাচ্ছেন আর তাও ১২০ বছর পর। এরপর তিনি তার স্ত্রীকে ফোন দেন। তিনি সেই বুযূর্গ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, বয়আত উত্তম হবে নাকি তরিকতের সাথে সম্পৃক্ত থাকাই উত্তম হবে। মজযূব (পরজগতমুখী) উত্তরে বলেন, মানুষ যখন বয়আত করে তখন আল্লাহ্ ছাড়া আর কাউকে ভয় করে না।
আরেকটি ঘটনা হলো বেনিনের। কোতনু শহরের মুবাল্লিগ সাহেব লিখেন, এক বছর পূর্বে বেলু নামের এক নাইজেরিয়ান বন্ধু বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সেখানে আসেন। নামায পড়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে পাড়ায় দু’টো মসজিদ দেখে তিনি চিন্তায় পড়ে যান, কোন মসজিদে যাবো। (এখানে আল্লাহ্ তা’লা স্বপ্নের মাধ্যমে মসজিদ দেখিয়ে আরো এক জনকে দিক- নির্দেশনা দিচ্ছেন) তিনি বলেন, আমি এক জুমুআয় অ-আহমদী মসজিদে যাই এবং দ্বিতীয় জুমুআয় আহমদী মসজিদে যাই। তিনি বলেন, এরপর উভয় মসজিদ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা আরম্ভ করি। মানুষ আহমদীয়াত সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলা আরম্ভ করে। মানুষের কথা শুনে আমি কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি কেননা, পরিচ্ছন্নতা এবং শৃঙ্খলার দিক থেকে আহমদীয়া মসজিদ সুশৃঙ্খল কিন্তু বলা হচ্ছে, আহমদীরা ইসলাম বিরোধী, তাদের নবী ভিন্ন অথচ আমি প্রশান্তি পেয়েছি আহমদী মসজিদে। অতএব আমি দোয়ায় রত হই, হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে সাহায্য কর এবং পথের দিশা দাও, আমি এখানে বা এ অঞ্চলে নতুন। আহমদীদের মসজিদে গিয়ে প্রশান্তি অনুভব করি কিন্তু মানুষ বলে, আহমদীরা বাজে লোক ও কাফির। কিন্তু দ্বিতীয় মসজিদে আমার ভাল লাগে না। এই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়ে ঘরেই নামায পড়তে থাকি। এদিকেও যাই নি ওদিকেও যাই নি। উভয় দিকে যাওয়া বন্ধ করে দেই। তিনি বলেন, তিন চার দিন পর স্বপ্নে ঘরে আমাকে দু’টো সাবান দেখানো হয়েছে, একটি নীল রঙের জার্মান সাবান, আর দ্বিতীয়টি ছিল স্থানীয় সাবান। তিনি বলেন, অর্ধ ঘুমন্ত অবস্থায় আমাকে এর এই অর্থ বুঝানো হয়েছে যে, নীল রঙ বলতে নীল রঙের নামাযের পাটি বোঝায়। জাগ্রত হয়ে আমি ভাবলাম, জুমুআর দিন আহমদীয়া মসজিদে লাল রঙের কার্পেট দেখেছি আর পাটি ছিল সবুজ রঙের। স্বপ্ন দেখার পর আমি উভয় মসজিদে পুনরায় নিরীক্ষণ করে দেখলাম, তখন আহমদীয়া মসজিদে নিল রঙের বিছানা দেখতে পাই। এরপর আমি আহমদীয়া মসজিদে নামায পড়া আরম্ভ করি এবং দোয়ায় রত থাকি। তিনি বলেন, একদিন স্বপ্নে দেখি, ইমাম সাহেব আমাকে একটি বই দিয়েছেন যাতে খুবই সুন্দর একটি ছবি রয়েছে। পরবর্তী জুমুআর দিন নামাযের পর আহমদীয়া মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করি এবং বলি, আমি ইসলাম আহমদীয়াত সম্পর্কে ষ্টাডি বা পড়াশুনা করতে চাই। আমার একথা শোনার পরই তিনি বলেন, ২/১ দিনের ভেতর আপনাকে কোন বই পাঠিয়ে দেব। এরপর কোন মাসলা মাসায়েলের বই পাঠানোর পরিবর্তে বা মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর আবির্ভাব সংক্রান্ত কোন পুস্তিকা পাঠানোর পরিবর্তে অথবা হাদীসের কোন রেফারেন্স না দিয়ে আমাকে যে বই পাঠানো হয়েছে তাহলো, ‘ডড়ৎষফ ঈৎরংরং অহফ ঞযব চধঃযধিু ঞড় চবধপব’ (বিশ্ব সংকট ও শান্তির পথ)। সেটি খুলতেই প্রথম পৃষ্ঠায় ঠিক সেই ছবিটি ছিল যা আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম। এরফলে আমার ঈমান আরো বৃদ্ধি পায়। এরপর একবার স্বপ্নে আমাকে কুরআন শরীফ দেখানো হয়েছে। ঘরে আমার কাছে যে কুরআন শরীফ ছিল তা সেই কুরআন নয় বরং ভিন্ন কোন কুরআন ছিল। এর কয়েকদিন পর কুরআনের সেই ফ্রেঞ্চ অনুবাদ আমি মসজিদে দেখতে পাই অর্থাৎ স্বপ্নে কুরআনের যে ফ্রেঞ্চ অনুবাদ জামাত ছেপেছে তা তাকে দেখানো হয় সেটি তিনি মসজিদে দেখেন। এভাবে খোদা তা’লা আমাকে দিক-নির্দেশনা দিতে থাকেন, যেন তিনি স্বয়ং আমার হাত ধরে আমাকে সাথে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, একদিন আল্লাহ্ তা’লা আমাকে অর্ধ ঘুমন্ত অবস্থায় বলেন, দশটি নির্দেশ আছে সেগুলো পড় আর স্বপ্নেই আমাকে সেই দশটি নির্দেশ পড়ে শোনানো হয়। শব্দগুলো আমার ঠিক মনে ছিল না কিন্তু প্রতিটির বিষয়বস্তু আমার হৃদয়ে গ্রথিত হতে থাকে। তিনি বলেন, তিন চার দিন পর আমি মসজিদে মুরব্বী সাহেবের সাথে কথা বলার সময়, তখনও আমি এদিকে আসি নি যে, বয়আত কীভাবে করতে হয়, মুরব্বী সাহেব আমাকে একটি পৃষ্ঠা দেন এবং বলেন, ইসলাম অনুশীলনের জন দশটি শর্ত আছে, এগুলো পড়–ন এবং বুঝুন অর্থাৎ আহমদীয়া জামাতের সত্যতা যদি খুঁজে বের করতে হয় তাহলে এগুলো পড়–ন।  বয়আতের দশটি শর্ত পড়ে আমি অনেক কেঁদেছি, আমার খোদা আমাকে কত আশ্চর্যজনকভাবে হিদায়াত দিয়েছেন। এরপর আমি বয়আত করি এবং আল্লাহ্ তা’লার দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। বয়আতের পর প্রতিদিন আমি নিত্যনতুন স্বাদ পাচ্ছি এবং উপভোগ করছি।
মিশরের এক ব্যক্তি বলেন, ২০০৪ সনে স্বপ্নে দেখি, হযরত খলীফাতুল মসীহ্ রাবে (রাহে.) এক জায়গায় বিশ্রাম করছেন। আমি তাঁর সাথে বসে আছি। তিনি আমাকে ডেকে বলেন, তোমার এ বিষয়ে গবেষণা করা উচিত। তিনি বলেন, আমি তখন বুঝতে পারিনি আর আমি এর পূর্বে খলীফাতুল মসীহ রাবে (রাহে.)-কে কখনো দেখিওনি। স্বপ্ন দেখার চার বছর পর আমি এমটিএ দেখি এবং গবেষণা আরম্ভ করি। এভাবে আল্লাহ্ তা’লা আমাকে হিদায়াত দেন।  ২০১৪ সনের নভেম্বর মাসে বয়আতের পূর্বে আমি স্বপ্নে দেখি, আমি একটি মসজিদে প্রবেশ করেছি যা নামাযীতে পরিপূর্ণ ছিল। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) সেখানে বসে আছেন এবং আমার দিকে তাকাচ্ছেন। আমি হুযূরের নিকটবর্তী হই এবং তাঁর (আ.) জায়গায় হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল (রা.)-কে দেখতে পাই। তখন একটি আওয়াজ বা ধ্বনী শুনতে পাই যা বলছে, ইনি আবু বকর সিদ্দীক। এরপর আরো কাছে গেলে আমি হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল (রা.)-এর জায়গায় হযরত খলীফাতুল মসীহ্ খামেস (আই.)-কে দেখি। তিনি আমাকে দেখামাত্রই দোয়ার জন্য হাত উঠান আর আমিও দোয়ায় যোগ দেই। তিনি বলেন, এই স্বপ্নের তাবীর আমি এভাবে করেছি যে, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) এবং খলীফাদের অনুসরণের মাধ্যমেই দোয়া গৃহীত হয়ে থাকে
অতএব এরা সেসব সৌভাগ্যবান যারা সত্যকে উপলব্ধি করতে পেরেছেন। তাদের হৃদয়ের অবস্থা দেখে খোদা তা’লা তাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন বা করেছেন। কিছু মানুষের স্বপ্ন থেকে যেভাবে একথা সুস্পষ্ট যে, এত পরিষ্কারভাবে আল্লাহ্ তা’লা পথ প্রদর্শন করেন যে, মানুষ হতভম্ব হয়ে যায় আর যারা নিজেদেরকে ধর্মের আলেম মনে করে তারা এই ঐশী দিক-নির্দেশনা থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। একবার হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) নতুন বয়আতকারীদের এক বৈঠকে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি সেসব নতুন বয়আতকারীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “আপনারা বড়ই সৌভাগ্যবান। যারা বড় বড় মৌলভী ছিল তাদের জন্য খোদা তা’লা দ্বার রুদ্ধ করে দিয়েছেন আর আপনাদের জন্য তা অবারিত করেছেন।”
যারা এখানে বসে আছেন এবং পৃথিবীময় বিস্তৃত জামাতে আহমদীয়ার সদস্যবৃন্দের ওপরও খোদা তা’লার অনেক বড় অনুগ্রহ। আল্লাহ্ তা’লা আপনাদেরও আহমদীয়াত গ্রহণের সৌভাগ্য দিয়েছেন। অতএব যেমনটি আমি বেশ কয়েকবার বলেছি, আমাদেরও খোদার  এই অনুগ্রহকে স্মরণ রাখা উচিত এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। হতে পারে আপনাদের মাঝেও কতক এমন রয়েছেন যাদের পিতা, পিতামহ, দাদা, বড় দাদা সেই মজলিসে বা সেই বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যে বৈঠকে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) এই কথাগুলো বলে থাকবেন। এছাড়া সেসব পুণ্যাত্মার জন্য আপনাদের দোয়া করা উচিত যারা খোদার এই অনুগ্রহকে স্মরণ রেখেছেন আর নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মে আহমদীয়াতকে জারী বা চলমান রেখেছেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) জামাতভুক্তদের সম্পর্কে বলতেন, “আমাদের জামাতকেই দেখ! এদের সকলেই আমাদের বিরোধীদের তাবু থেকে বেরিয়ে এখানে এসেছেন। আর প্রতিদিন যারা বয়আত করে তারাও তাদের মধ্য থেকেই আসে। তাদের ভেতর যদি যোগ্যতা এবং পুণ্য না থাকে তাহলে তারা কীভাবে আসে? বয়আতকারীদের এমন অনেক পত্র আসে।” তিনি (আ.) বলেন, “তারা লিখে, পূর্বে আমি গালি দিতাম কিন্তু এখন তওবা করছি, আমাকে ক্ষমা করা হোক।” আজও এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের আচরণ ছিল এমনই বিরোধিতা-প্রসূত, কিন্তু এখন তারা নিষ্ঠা এবং আন্তরিকতায় উত্তরোত্তর উন্নতি করছেন অর্থাৎ বয়আত করেন এবং বয়আতের পর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতায় উন্নতি করছেন। উদাহরণস্বরূপ মালির এক মুবাল্লিগ সাহেব লিখেন, আমাদের জামাতের এক সদস্যের নাম হলো, সোলেমান সাহেব। বয়আতের পর তার স্ত্রী তার ভাই দিয়াম তাপিলে সাহেবের কাছে চলে যায় এবং বলে, তোমার ভাই আর মুসলমান নেই। এটি মুসলমান পরিবার ছিল, স্ত্রী স্বামীর ভাইয়ের কাছে গিয়ে বলে, তোমার ভাই আহমদী হয়ে গেছে এখন আর সে মুসলমান নয়। সে আহমদী হয়ে গেছে তাই তাকে গিয়ে বুঝাও। একথা শুনে তার ভাইয়ের অনেক রাগ হয়। সে সোলেমান সাহেবের কাছে আসে এবং আহমদীয়াত ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করে আর বলে, যদি আহমদীয়াত না ছাড়ে তাহলে ভাই আর তার মাঝে কোন সম্পর্কই থাকবে না এমনকি তার জানাযাও তিনি পড়বেন না, আহমদীরাই পড়বে। কিন্তু সোলেমান সাহেব ভাইয়ের কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে নিজ বিশ্বাসের ওপর অনড় ও অবিচল ছিলেন। তার বিরোধী ভাইও কিছুদিন পর আহমদীয়া রেডিও শনতে আরম্ভ করেন কিন্তু এই উদ্দেশ্যে যে, ভাইকে আহমদীয়াত থেকে দূরে রাখবেন। তিনি রেডিও শুনবেন আর আপত্তি করবেন এবং ভাইকে দূরে রাখবেন, কিন্তু কিছুকাল পর স্বয়ং তার বিরোধী ভাইয়ের হৃদয়ের অবস্থাও বদলে যায় এবং তিনিও বয়আত করে জামাতভুক্ত হন।
একইভাবে ভারত থেকে আমাদের মুরুব্বী আজমল সাহেব লেখেন, এ বছর ১৭ই জুন অর্থাৎ যখন এ পত্র লিখেছেন তখনকার কথা, পশ্চিম বঙ্গের মুর্শিদাবাদের একটি গ্রামে একটি তবলীগি অধিবেশন ডাকা হয়। মিটিংয়ে গ্রামের অ-আহমদী মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধায়ক, মসজিদের মুয়ায্যিন এবং আরো কয়েকজন শিক্ষিত অ-আহমদী যোগ দেয়। মিটিং শেষে মসজিদ কমিটির নিগরান বা তত্ত্বাবধায়ক বলেন, আমার ভাতিজা আহমদী আর আমি আহমদীদের সব সময় ঘৃণাই করতাম এবং মনে করতাম, আহমদীরা বে-দ্বীন। কিন্তু এখন আমি আল্লাহ্ তা’লার কসম খেয়ে বলছি, আহমদীরাই সত্যিকার মুসলমান আর বাকী সবাই ইসলাম থেকে যোজন যোজন দূরে। এরপর এই গ্রামে ১২টি বয়আতও হয়।
অতএব এগুলো খোদা তা’লারই কাজ যা তিনি করে যাচ্ছেন আর জামাত এসব নিদর্শন প্রত্যক্ষ করছে। নিঃসন্দেহে এসব ঘটনা আমাদের ঈমানকে আরো সুদৃঢ় করে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, “এই কল্যাণ খোদার জামাতেরই বিশেষত্ব যে, তা শত্রুর মাঝে লালিত-পালিত হয় এবং উন্নতি করে”। তিনি বলেন, “তারা অনেক বড় বড় ষড়যন্ত্র করেছে, হত্যার মামলাও দায়ের করেছে কিন্তু যেসব কথা আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে এসে থাকে তা কখনো ব্যর্থ হতে পারে না। আমি তোমাদের সত্য সত্যই বলছি, এই জামাত আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে। যদি এটি মানবীয় হাত এবং মানবীয় ষড়যন্ত্রের ফসল হতো তাহলে মানবীয় ষড়যন্ত্র এবং মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজ পর্যন্ত একে ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করে দিত। মানবীয় ষড়যন্ত্রের সামনে এর বৃদ্ধি পাওয়া এবং উন্নতি করাই এর আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে হওয়ার প্রমাণ। অতএব তোমরা বিশ্বাসশক্তিকে যত বৃদ্ধি করবে ততই তোমাদের হৃদয় জ্যোতির্মন্ডিত হবে” অর্থাৎ তোমরা আহমদীরা যদি বিশ্বাসশক্তিকে বৃদ্ধি কর তাহলে সে অনুপাতেই তোমাদের হৃদয় আলোকিত হবে।
হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর এই শব্দ নিঃসন্দেহে ঐশী শব্দ আর ঐশী সমর্থনও এর পিছনে রয়েছে এবং আমরা প্রতিনিয়ত দেখি, এই জামাত শত্রুর মাঝে থেকেও উন্নতি করছে। কিন্তু হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) আমাদেরকে যেভাবে বলেছেন, হৃদয় আলোকিত করার জন্য বিশ্বাসের শক্তিকেও বৃদ্ধি করার প্রয়োজন রয়েছে অর্থাৎ ঈমান দৃঢ় করার প্রয়োজন রয়েছে। অতএব আমাদের সবার আত্মজিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন, আমাদের বিশ্বাস শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে কি? আমাদের হৃদয় আলোকিত হচ্ছে কি? ধর্মের প্রতি আমাদের আকর্ষণ রয়েছে কি? আমরা কি ইসলামী শিক্ষা অনুসরণ করছি? আমরা কি নিজেদের আধ্যাত্মিক ও কর্মশক্তি বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছি? মানুষ অনেক ঘটনা লিখে পাঠায়। নবাগত আহমদীরা লিখে, আহমদীয়াত গ্রহণের পর আমাদের আধ্যাত্মিক অবস্থায় অকল্পনীয়ভাবে উন্নতি হয়েছে। আমাদের নামাযের মাঝে অনেক উন্নতি এসেছে, আমাদের ব্যবহারিক অবস্থায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। অনেক মহিলা স্বামীদের সম্পর্কে লিখে, আহমদীয়াত গ্রহণের পর তাদের আচার-আচরণ রাতারাতি পাল্টে গেছে। পূর্বে যেখানে ঘরে ফ্যাসাদ, অশান্তি ও ঝগড়া-বিবাদ হতো সেখানে এখন ঘরে শান্তি এবং শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। অতএব দেখুন! নবাগতরা কত সচেতনতার সাথে নিজেদের ধর্ম এবং ধর্মীয় অবস্থা সম্পর্কে ভাবছেন এবং নিজেদের মাঝে পরিবর্তন আনয়ন করছেন। একই অবস্থা আমাদের প্রত্যেকের মাঝে সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) এক জায়গায় আমাদের ধর্মীয় অবস্থার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গিয়ে বলেন,
“কুরআন শরীফ পাঠ কর আর খোদা সম্পর্কে বা খোদার প্রতি কখনো নিরাশ হবে না। মু’মিন কখনও খোদা সম্পর্কে নিরাশ হয় না, এটি কাফিরদের অভ্যাস, তারা খোদা সম্পর্কে নিরাশ হয়ে যায়। আমাদের খোদা ‘عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ’ খোদা। কুরআন শরীফের অনুবাদও পড় এবং নামায সাজিয়ে গুছিয়ে সুন্দরভাবে আদায় কর, নামাযের অর্থ বুঝ আর নিজের ভাষায়ও দোয়া কর। কুরআনকে এক তুচ্ছ গ্রন্থ মনে করে পাঠ করবে না বরং খোদা তা’লার উক্তি এবং গ্রন্থ হিসেবে পড়। মহানবী (সা.) যেভাবে নামায পড়তেন সেভাবে নামায পড়। অবশ্য মসনূন যিকরে ইলাহীর পর নিজেদের চাহিদা ও উদ্দেশ্যবালী ইত্যাদি নিজের ভাষায় উপস্থাপন কর আর আল্লাহর কাছে যাচনা কর। নিজের চাহিদা নিজের ভাষায় আল্লাহ্ তা’লার দরবারে উপস্থাপন কর আর সেজদায় আকুতি-মিনতি কর; এতে কোন অসুবিধা নেই আর এতে মোটেও নামায নষ্ট হয় না।’ তিনি (আ.) বলেন, “আজকাল মানুষ নামাযকে নষ্ট করে ফেলেছে। তারা কি নামায পড়ে? মাথা ঠোকে অর্থাৎ তারা মোরগের ঠোকর মারার মত তাড়াতাড়ি নামায শেষ করে এবং এরপর দোয়ার জন্য বসে থাকে।” এটিই অ-আহমদীদের অবস্থা। কিন্তু আমাদের মসজিদে নামাযের পরে দোয়াও হয় না আর আমি কতককে দেখেছি, তারা নামাযও খুব দ্রুত পড়ে। তিনি (আ.) বলেন, “নামাযের আসল প্রাণ এবং প্রেরণা হলো দোয়া। নামায থেকে বের হয়ে দোয়া করলে সেই আসল উদ্দেশ্য কীভাবে হস্তগত হতে পারে। এক ব্যক্তির জন্য বাদশাহ্র দরবারে গিয়ে নিজের কথা বলার সুযোগ আসে কিন্তু তখন সে কিছু বলে না অর্থাৎ বাদশাহ্র দরবারে গিয়ে সেখানে যদি সে কিছু না বলে আর দরবার থেকে বেরিয়ে যদি আবেদন নিবেদন করে তাহলে লাভ কি? একই অবস্থা সেসব লোকের যারা নামাযে আকুতি- মিনতির সাথে দোয়া করে না। যে দোয়া করতে হয় তা তোমরা নামাযে কর এবং দোয়ার পুরো শিষ্টাচার দৃষ্টিগোচর রোখো।”
তিনি (আ.) বলেন, “আল্লাহ্ তা’লা কুরআনের সূচনাতেই দোয়া শিখিয়েছেন এবং একই সাথে দোয়ার রীতিও শিখিয়েছেন। নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করা আবশ্যক আর এটি তো দোয়াই যা থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায়, প্রকৃত দোয়া নামাযেই হয়ে থাকে। এই দোয়া আল্লাহ্ তা’লা এভাবে শিখিয়েছেন,
أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ * بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ *الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ  الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ  مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ  إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ  اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ  صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ*
সূরা ফাতেহার ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি (আ.) বলেন, “দোয়ার পূর্বে খোদার প্রশংসা এবং গুণকীর্তন করা উচিত যার কল্যাণে হৃদয়ে আল্লাহ্ তা’লার জন্য এক প্রকার ভালোবাসা এবং উচ্ছাস সৃষ্টি হবে। বলা হয়েছে ‘الْحَمْدُ لِلَّهِ’ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্রই। ‘رَبِّ الْعَالَمِينَ’ যিনি সবার ¯্রষ্টা এবং লালন-পালনকারী, ‘الرَّحْمَٰنِ’ যিনি কোন কর্ম ছাড়াই অযাচিত দান করেন। ‘الرَّحِيمِ’ এরপর তিনি এই পৃথিবীতেও এবং পরকালেও মানুষের কর্মের প্রতিদান দিয়ে থাকেন বা দেন। তিনি বলেন, ‘مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ’ সকল প্রতিদান এবং শাস্তি ও পুরস্কার তাঁরই হাতে অর্থাৎ পাপ-পুণ্য সবই খোদার হাতে। মানুষ তখনই পূর্ণ এবং উৎকৃষ্ট একত্ববাদী হয় অর্থাৎ মানুষ এক আল্লাহ্র ইবাদতকারী তখনই হয় যখন সে খোদা তা’লাকে ‘مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ’ হিসেবে স্বীকার করে। দেখ! শাসকের সামনে গিয়ে তাদের সবকিছু মনে করা পাপ অর্থাৎ জাগতিক কর্মকর্তাদের সামনে গিয়ে তাদের সবকিছু মনে করা অন্যায়। এরফলে অবশ্যই র্শিক হয়। কেননা খোদা তা’লা তাদেরকে হাকেম বা শাসক নিযুক্ত করেছেন তাই তাদের আনুগত্য আবশ্যক।” শাসক নিযুক্ত হওয়ার যতটুকু সম্পর্ক আছে সেক্ষেত্রে তাদের ইতায়াত বা আনুগত্য আবশ্যক, কেননা আল্লাহ্ তা’লাই তাদের নিযুক্ত করেছেন কিন্তু তাদেরকে খোদা মনে করবে না। এটি ভেবো না যে, কেবল তারাই তোমাদের কাজ করবে। অনেকেই তাদের অফিসারদের এমনভাবে খোশামোদ এবং তোষামোদ করে এবং এমন আচরণ করে যেন নাঊযুবিল্লাহ্ তারা খোদা। তিনি বলেন, “অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’লার প্রাপ্য আল্লাহ্ তা’লাকে এবং মানুষের প্রাপ্য মানুষকে দাও এবং এরপর বলো, ‘إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ’ আমরা তোমারই ইবাদত করি আর তোমার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি। ‘اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ’ তুমি আমাদের সরল পথ প্রদর্শন কর অর্থাৎ সেসব লোকের পথ যাদেরকে তুমি পুরস্কৃত করেছো আর তাঁরা নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সালেহীনদের জামাত।” এই দোয়ায় সকল শ্রেণীর শ্রেষ্ঠত্ব এবং পুরস্কার যাচনা করা হয়েছে। পুনরায় তিনি (আ.) বলেন, “সেসব লোকের পথ হতে রক্ষা কর যাদের ওপর তোমার ক্রোধ বর্ষিত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। অতএব এক কথায় এটি সূরা ফাতেহার সংক্ষিপ্ত অনুবাদ। এভাবে বুঝে শুনে পুরো নামাযের অনুবাদ পাঠ করো। এর পর এই অর্থ বুঝে নামায পড়। এটি হলো নামায পড়ার রীতি, এভাবেই নামায পড়া উচিত। যারা তাড়াহুড়ো করে নামায পড়ে তারা নামাযের কি বুঝে? বিভিন্ন শব্দ মুখস্থ করলে কোন লাভ নেই, একথা নিশ্চিত জেনো, প্রকৃত একত্ববাদ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হতেই পারে না যত দিন সে তোতা পাখির মত নামায পড়বে। আত্মার ওপর সেই প্রভাব পড়ে না এবং সেই আঘাত আসে না যা তাকে পরাকাষ্ঠায় পৌঁছায়।” তিনি (আ.) বলেন, “এই বিশ্বাসই রাখ, আল্লাহ্ তা’লার কোন প্রতিদ্বন্দ্বি বা কোন সমকক্ষ নেই আর কর্মের মাধ্যমেও একথাই প্রমাণ কর” অর্থাৎ বিশ্বাসও এটি থাকা চাই আর কর্মও এমনটি হওয়া চাই। কর্ম এবং বিশ্বাস এক হওয়া আবশ্যক, কেবল তবেই মানুষ সত্যিকার মু’মিন হতে পারে।
অতএব আমাদের আত্মজিজ্ঞাসা করতে হবে, আমাদের কর্ম এই শিক্ষাসম্মত কি-না এবং আমাদের চিন্তাধারা এই শিক্ষাসম্মত কি-না? যদি তা না হয় তাহলে ভাবতে হবে এবং চিন্তা করতে হবে, কোথাও পরবর্তীতে আগত জাতি উন্নতি করে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে না যায়, খোদার নৈকট্যের ক্ষেত্রে কোথাও তারা এত দূরে না চলে যায় যে, যখন আমরা সম্ভিত ফিরে পাবো যে আমরা পিছিয়ে আছি এবং আমাদের প্রজন্ম পিছিয়ে আছে তখন সেই শূন্যতা পূরণে কয়েক দশক লেগে যেতে পারে, পরবর্তী প্রজন্মের সংশোধনের কাজে আমাদের পুরো সময় লেগে যেতে পারে। অতএব এদিকে লক্ষ্য রাখুন, বস্তুবাদিতায় নিমজ্জিত হয়ে কোথাও আমাদের প্রজন্ম আবার অনেক পিছিয়ে না যায়। এসব দেশে এসে কেবল বস্তুবাদিতার পিছনেই ছুটবেন না। খোদার প্রাপ্য অধিকার প্রদান করা আবশ্যক, নামায পড়া এবং বুঝে-শুনে পড়া আবশ্যক। কোথাও যেন এমন না হয় যে, আমাদের প্রজন্ম অনেক পিছিয়ে থাকবে আর নবাগতরা সেই সমস্ত নিয়ামতের উত্তরাধিকারী হবে যার প্রতিশ্রুতি আল্লাহ্ তা’লা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে দিয়েছেন। তাদের মর্যাদা অনেক উন্নত হবে আর আমরা পিছিয়ে থাকবো, এমনটি হওয়া উচিত নয়। মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর এই শব্দগুলো নিয়ে অনেক ভাবা উচিত এবং চিন্তা করা উচিত। এগুলোকে বুঝার চেষ্টা করা প্রত্যেক আহমদীর জন্য আবশ্যক। এই শব্দগুলো নিয়ে চিন্তা করুন, নিজেদের বিশ্বাসশক্তিকে বৃদ্ধি করুন, হৃদয়কে আলোকিত করে খোদার নৈকট্য অর্জন করে সেই সমস্ত নিয়ামতের উত্তরাধিকারী হোন। এমনটি যেন না হয় যে, পিছিয়ে থেকে আমরা সেই নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হবো। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর সাথে যে সম্পর্ক বন্ধন রচিত হয়েছে চেষ্টা করুন এই সম্পর্ক যেন কখনো ছিন্ন না হয়, এ বন্ধন যেন ছিন্ন না হয়। আল্লাহ্ তা’লা আমাদের সবাইকে তৌফিক দিন যেন আমরা আল্লাহ্ তা’লার সাথে আমাদের সম্পর্ককে দৃঢ় করতে পারি, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর আগমনের উদ্দেশ্য যেন বুঝতে পারি এবং জামাতের সক্রিয় কার্যকর অংশে যেন আমরা পরিণত হই, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষাকে যেন পৃথিবীময় প্রচারকারী হতে পারি আর সব সময় যেন খোদার নিয়ামতের উত্তরাধিকারী হতে পারি। (আমীন)
কেন্দ্রীয় বাংলাডেস্ক, লন্ডনের তত্ত্বাবধানে অনুদিত।


শুভ প্রবারণা পূর্নিমার শুভেচ্ছা - ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৫
শুভ প্রবারণা পূর্নিমার শুভেচ্ছা - ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ

বাপসনিঊজ:ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ এর সভাপতি মোহাম্মদ আলী মোল্লা লিঙ্কন ও সাধারণ সম্পাদক ড.বিদ্যুত বড়ুয়া , বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুভ প্রবারণা পূর্নিমার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। প্রবারণার ফানুসের আলোয় আলোকিত হউক সমগ্র বিশ্ব।  শান্তির বারতা নিয়ে আসুক সবার মনে। বাংলাদেশের সকল বৌদ্ধ সহ সমগ্র বিশ্বের সকল প্রাণী  শান্তি কামনা করেন।  বর্তমান সরকারের সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উজ্জল দৃষ্ঠান্ত হয়ে সবাই  যার যার ধর্ম নির্বিগ্নে পলন করছেন।  বিবৃতিতে এই জন্য বর্তমান সরকার প্রধান শেখ হাসিনা কে ধন্যবাদ জানান। ধর্ম যার যার উত্সব সবার- এই হউক আমাদের সবার মূলমন্ত্র। 


সুইডেন আওয়ামী লীগ এর সম্মেলন উপলক্ষ্যে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৫

ড. বিদ্যুত বড়ুয়া :বাপসনিঊজ:২১ সে নভেম্বর, ২০১৫ তে অনুষ্ঠিতব্য সুইডেন আওয়ামী লীগ সম্মেলন ২০১৫, উপলক্ষ্যে সুইডেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে একটি আনন্দময় ও উত্সবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সমগ্র সুইডেন এ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারীদের মাঝে দীর্ঘ নয় বছর পর আয়োজিত সম্মেলন কে কেন্দ্র করে উত্সাহ  উদ্দীপনার সঞ্চার হয়েছে। ইতিমধ্যেই সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ঘোষিত তারিখ অনযায়ী সম্মেলন কে আয়োজন করার নির্দেশ প্রদান করেছেন। গত ২৪শে অক্টোবর সুইডেন এর রাজধানী স্টকহোমের ফরস্টা মিলনায়তনে মনোনীত কাউন্সিলরদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সুইডেন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আম্বিয়া ঝন্টু। উপস্থিত ছিলেন সুইডেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যন জনাব শামসুদ্দিন খেতু মিয়া, সুইডেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি ও উপসালা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক, সুইডেন আওয়ামী লীগ এর সহ-সভাপতি আখতারুজ্জামান লাল্টু, লুত্ফর রহমান, ডঃ ফরহাদ আলী খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ চৌধুরী। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সুইডেন আওয়ামী যুব লীগ সাধারণ সম্পাদক যুবায়দুল হক সবুজ, সুইডেন আওয়ামী সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুহিত টুটু ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসান তপন; এবং সুইডেন ছাত্র লীগ সাধারণ সম্পাদক তানজিল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিউর রহমান।

Picture


সভায় আগামী ২১ নভেম্বর সুইডেন আওয়ামী লীগ সম্মেলন সফল ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় আসন্ন নির্বাচন এবং কাউন্সিল পরিচালনা করার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আখতারুজ্জামান লালটু কে প্রধান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন ও সোহেল আহমেদ কে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। সুইডেন আওয়ামী লীগ সভাপতি গোলাম আম্বিয়া ঝন্টু সবাইকে এক হয়ে সম্মেলন সফল করার আহবান জানান। সভার বক্তারা তাদের বক্তব্যে সুইডেন আওয়ামী লীগ এর বর্ণিল ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তারা সবাইকে ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে গিয়ে একটি শক্তিশালী আওয়ামী পরিবার গড়ে তুলতে অনুরোধ জানান। সভায় দলীয় শৃঙ্খলা বহির্ভূত কার্যকলাপ না করার জন্যেও আহবান জানানো হয়।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সর্বজনাব দলিল উদ্দিন দুলু, আখতারুজ্জামান, মোখলেসুর রহমান মিরাজ, জহিরুল ইসলাম মহসিন, জুন্নুরুল হক টুটুল, আরিফ আহমেদ, মাহমুদুল হক টিটু, শাহ আলম চৌধুরী, সোহেল আহমেদ, আজিজুর রহমান বাবুল, সৈয়দ ইফতেখারউদ্দৌলা জুয়েল, এম আলম, শহিদ হোসেন ফোটন, মোখলেসুজ্জামান, আব্দুল মালিক জলিল, গুলজার মিয়া, লাভলু মনোয়ার, মুজাহিদুল ইসলাম নওরোজ, আকরামুজ্জামান শাহিন, তায়েবুর রহমান রিফুজ, নাজমুল খান, সফিকুল আলম লিটন, কাওসার আলী, বিপ্লব হক, কামরুল হাসান, খালেদ মোঃ আলী, শফিকুল ইসলাম উতপল, হেদা্য়েতুল ইসলাম শেলী, নাসিমুল ইসলাম, চুন্নু মিয়া (মিজান), ডঃ শাহনেওয়াজ বিপ্লব, আব্দুর রাজ্জাক, সাইফুল ইসলাম দুলাল, আরিফুর রহমান প্রমুখ কাউন্সিলর বৃন্দ।  সভায় সহযোগী সংগঠন এবং শাখা কমিটি সমূহ থেকে নির্দিষ্ট সখ্যক কাউন্সিলর মনোনীত করা হয়। এছাড়া সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একই পতাকাতলে একীভূত করার লক্ষে নির্বাচন কমিশন কে সহযোগিতা করার জন্য একটি লিয়াজো কমিটি গঠন করা হয় এবং সম্মেলন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সম্মেলনের খরচ নির্বাহের জন্য উপস্থিত কাউন্সিলর বৃন্দ তাত্ক্ষণিক ভাবে বিভিন্ন পরিমানে সর্বমোট প্রায় দশ লক্ষ্ টাকার অধিক অনুদান প্রদানের ঘোষনা দেন এবং জনাব কাউসার আলী কে সম্মেলনের অর্থ বিষয়ে দায়িত্ত দেওয়া হয় । সভাশেষে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।


টরন্টোতে ‘দু’জনে দেখা হলো’ শীর্ষক অনুষ্ঠান

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৫

বাপসনিঊজ:‘দু’জনে দেখা হলো’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গান গাইলেন টরন্টোর তিন শিল্পী- ফারহানা শান্তা, রেহানা রহমান এবং অতিথি শিল্পী দীপ্তি জাহান। গত ১৭ অক্টোবর ৯ ডজ রোড মিলনায়তনে ফারহান্তা চারটি রবীন্দ্র সঙ্গীত, পুরানো দিনের চারটি সিনেমার গান ও নিজের অ্যালবাম থেকে একটি গান করেন।রেহানা রহমান নজরুল গীতি, পুরানো দিনের আধুনিক গান, হিন্দী গান ও গজল পরিবেশন করেন আর দীপ্তি জাহান কয়েকটি জনপ্রিয় আধুনিক গান করেন।

টরন্টোতে গানে গানে 'তারানা' এবং 'দুজনে দেখা হলো' 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. অমিত চাকমা, বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী, ড. মোজাম্মেল খান এবং ড. নুরন নবী। অপর দিকে গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যায় টরন্টোর সেইন্ট প্যাট্রিক স্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো সঙ্গীতশিল্পী টিটু কবির এবং নাফিয়া নজরুল উর্মী পরিবেশিত সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘তারানা’- দি কালার অব মিউজিক।

'তোমারে লেগেছে এত যে ভালো চাঁদ বুঝি তা জানে'... গান নিয়ে শিল্পীদ্বয়ের গানের পর্ব শুরু হয়। পরে তারা আধুনিক, বাংলা হিন্দি, চলচিত্রের গান গেয়ে মাতিয়ে রেখেছিলেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের। এই সঙ্গীতানুষ্ঠা উদ্বোধন করেন কবি আসাদ চৌধুরী, ড. মোজাম্মেল খান এবং তাসরিনা শিখা।


আওয়ামী কর্মজীবি লীগ ফ্রান্সের কমিঠি গঠিত

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৫

Picture

কমিঠির অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা হলেন যথাক্রমে সহ সভাপতি হলেন ময়্জুল ইসলাম,আমিনুর রশিদ ফারুক ,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন,সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী,দপ্তর সম্পাদক জুবের আহমদ,প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খালেদ আহমেদ, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাসুম আহমেদ,উপ – দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মুকিত। এ ছাড়া একটি পদ খালি রাখা হয়।সেই সাথে এই কমিঠি অনুমোদনের তারিখ থেকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে গঠনতন্ত্রের নিয়মানুযায়ী ৭১ সদস্য বিশিষ্ঠ পূর্ণাঙ্গ কমিটি করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে   জমা দেয়ার জন্য নেতৃবৃন্দের প্রতি নির্দেশ প্রদান করা হয়।


ডেনমার্ক এ শারদীয় দূর্গা উত্সব উদযাপিত

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৫

ডেনমার্ক এ শারদীয় দূর্গা উত্সব উদযাপিত ড. বিদ্যুত বড়ুয়া :বাপসনিঊজ: বাংলার ঋতুচক্রে যখন শরতের আগমন ঘটে ,তখন এই শরতেই মর্ত্যে আসেন দেবী দুর্গা। কৈলাস ছেড়ে প্রতি বছর তিনি মর্ত্যে আসেন বাবার বাড়িতে কন্যারূপে। তাঁর সঙ্গে আসেন লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক,গনেশ।দেবাদিদেব শিবও বাদ যান না।দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালনে দুর্গতনাশিনীর আগমন আনন্দে বিহ্বল সারা পৃথিবীর হিন্দু সম্প্রদায়ের মতো ডেনমার্কের কোপেনহেগেন এর সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ও।এখানে পাশাপাশি সুইডেনের মাল্মো শহরের সনাতন সম্প্রদায় এর প্রবাসীরা যোগ দেন ।
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ আয়োজনে ডেনমার্কে উদযাপিত হলো সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। কোপেনহেগেন এর হিন্দু সম্প্রদায়ের সংগঠন বাংলাদেশ কালটারাল এসোসিয়েসান  উদ্যোগে  আয়োজিত দুর্গাপূজার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে ছিল শাস্ত্রীয়মতে পূজার্চনা,অঞ্জলি,আরতি নৃত্য,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান,মহাপ্রসাদ বিতরন।এখানে পাশাপাশি সুইডেনের মাল্মো শহরের সনাতন সম্প্রদায় এর প্রবাসীরা যোগ দেন ।
  হিন্দু রমনীরা মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়।বিদায় বেলায় বেজেছে ঢাক-ঢোল-কাঁসার বাদ্য, উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়েছে সংঘ প্রাঙ্গণ।ভক্তদের চোখের জলে ভাসিয়ে সপরিবারে মর্ত্যলোকে চলে গেলেন দেবী দুর্গা। সনাতন হিন্দু ধর্মাম্বলিদের বিশিস্ট নাগরিক সুশান্ত দে, ননী গোপাল দাশ , সুভাষ ঘোষ ,টিকলু দাশ ও,হরেন্দ্র নাথ ঘোষ , সামি দাস ও দীপঙ্কর পাল এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে  ২০১২ সাল থেকে কোপেনহেগেন শহরে দুর্গাপূজা পালিত হয়ে আসছে।
শারদীয় দুর্গোৎসবের মঞ্চসজ্জা ছিল বেশ নান্দনিক। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নৃত্য অনুষ্ঠান ছিল বেশ মনোগ্রাহী। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সনাতনী হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তিনদিনব্যাপী  এই দুর্গোৎসবে অংশ নেন।হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন  ডেনমার্ক  আওয়ামী লীগের,সাধারণ সম্পাদক ড. বিদ্যুত বড়ুয়া  সহ আওয়ামী লীগের ফাহমিদ আল মাহিদ , আবু সাইদ রবিন ও হিল্লোল বড়ুয়া  সহ প্রমুখ।


লন্ডনে খালেদার সমাবেশ বাতিল; দেশে ফেরা অনিশ্চিত!!

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৫

বাপসনিঊজ:লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সহসা দেশে ফিরছেন না। তিনি কবে ফিরবেন তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর লন্ডনে তার নির্ধারিত সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। এই সমাবেশ আর না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া সমাবেশ করবেন না বলে নেতাদের জানিয়ে দিয়েছেন।কেন যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ বিএনপির বহু প্রতিক্ষিত লন্ডন সমাবেশ বাতিল হলো সে সম্পর্কে দলের দায়িত্বশীল একজন নেতা জানান,বেগম জিয়া তাদের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেছেন,তাদের মধ্যে শৃংখলা নেই। ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে যে বিশৃংলা হয়েছিলো তা নির্ধারিত সমাবেশে বড় আকারে হতে পারে। তিনি ঐ বিশৃংখলার ঘটনায় বিরক্ত।

প্রসঙ্গত যে, ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঈদুল আযহার দিন লন্ডন শহরতলির ফেয়ারলপ এলাকায় যুক্তরাজ্য বিএনপি যে শুভেচ্ছা বিনিময় সভার আয়োজন করেছিল তাতে খালেদা জিয়া আসতে রাজি হন। সেদিন তার ভাষণকে ছাপিয়ে গিয়েছিল সভায় দলের নেতাকর্মীদের একাংশের তুমুল হৈচৈ আর বিশৃংখলা। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কথা তো বাদ, তারেক রহমান পর্যন্ত বারবার অনুরোধ করেও ওই কর্মীদের থামাতে পারেননি, যে কারণে খালেদা জিয়া নিজেও প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হন।তবে একটি সুত্র জানায়,২৭ অক্টোবরের সমাবেশ নিয়ে বেপরোয়া চাদাবাজি এবং সমাবেশ ভেন্যুর সামনে আওয়ামীলীগের বিক্ষোভের খবর বেগম জিয়ার কাছে আছে। তাই তিনি চান না ২৭ অক্টোবরের সমাবেশ হোক। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই এই সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে।
ফাইল ছবি
সমাবেশ সফল করার জন্য গত বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবার দুইটি প্রস্তুতি সভা হয়। এই সভায় অধিকাংশ নেতার আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি। শুক্রবারের প্রস্তুতি সভায় মাত্র ৬ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন। সভা দুটিতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক। সভায় কয়েকজন নেতা অর্থ সংগ্র নিয়ে আলোচনা করেন।

এদিকে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের দফতর সম্পাদক শাহ শামিম আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া যেখানে সমাবেশ করবেন সেখানে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শণ করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। ইতিমধ্যে ব্যানার প্ল্যাকার্ড তৈরি করে রাখা হয়েছে।এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার চোখের চিকিৎসার অগ্রগতি হলেও তার পায়ের চিকিৎসা নিয়ে চিন্তিত আছেন। তিনি লন্ডনে চিকিৎসককে দেখিয়েছেন। তবে কেউ কেউ পরামর্শ দিয়েছেন যদি পায়ের অপারেশ করাতে চান তবে নিউইর্কের যে হাসপাতালে তিনি এর আগে চিকিতসা করিয়েছেন সেখানে অপারেশন করাতে। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তিনিএসখানকার একটি হাসপাতালে পায়ের চিকিৎসা করান। ফলে অনেকদিন ভালো ছিলেন। বর্তমানে তার পায়ের ব্যথা বেড়েছে। হাটতে সমস্যা হচ্ছে।তিনি লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে গেলে দেশে ফেরা আরো বিলম্বিত হবে। আর লন্ডনে পায়ের অপারেশন করলে কবে ফিরতে পারবেন তা নিশ্চিত নয়।

উল্লেখ্য ,বেগম খালেদা জিয়া ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে লন্ডন যান। সেখানে তার অবস্থান ৪০ দিন পেরিয়েছে। লন্ডনে ছেলের বাসভবনে ওঠার পর থেকে খালেদা জিয়ার দেখভাল করছেন তারেক রহমান। আর তার চিকিৎসার যাবতীয় তদারকি করছেন পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান। তিন নাতনি আর স্বজনদের নিয়ে সময় কাটছে খালেদা জিয়ার। একচোখে অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।


বিশিষ্ট সাংবাদিক নিজাম উদ্দিনের ইন্তেকাল

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৫

বাপসনিঊজ:জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য, বাংলাদেশ অবজারভারের সাবেক চীফ রিপোর্টার ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) কনসালটেন্ট এডিটর মোঃ নিজাম উদ্দিন বুধবার রাতে কানাডার টরেন্টো হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ….রাজেউন)।তিনি দীর্ঘদিন যাবত দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছিলেন।তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর।তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও দুই নাতি, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।কানাডার টরেন্টোতে নামাজে জানাজা শেষে তাকে সেখানে দাফন করা হবে।নিজাম উদ্দিনের জন্ম নোয়াখালী জেলার দাগনভূঁইয়ায়। তিনি ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করে তদানীন্তন ডেইলি মর্নিং নিউজ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশায় যোগ দেন।এরপর কয়েক দশক বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে বাসস-এ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।তার মৃত্যুতে জাতীয় প্রেস ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি গভীরভাবে শোকাভিভূত। জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী এক শোকবার্তায় মোঃ নিজাম উদ্দিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।জাতীয় প্রেসক্লাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা বলা হয়।


আন্তঃদেশীয় নদীভিত্তিক পর্যটনের পরিকল্পনা গ্রহন করছে সরকার : মেনন

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৫

সাগর চৌধুরী, সৌদি আরব : এটিজেএফবি ও অফরোড বাংলাদেশের আয়োজনে ভিজিট বাংলাদেশ‘পর্যটন বছর-২০১৬’ কে সামনে রেখে বাংলাদেশ-ভারতের নদী পথ দিয়ে আন্তঃদেশীয় নদীভিত্তিক পর্যটনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, দুই দেশের নদীভিত্তিক এই পর্যটনের সূচনা করতে শিগগিরই বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে একই চুক্তি স্বাক্ষর হবে । তিনি গত ২৪ অক্টোবর রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ভিজিট বাংলাদেশ ২০১৬ ক্যাম্পেইন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব কথা জানান। অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) ও অনলাইন ভিত্তিক পর্যটন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান অফরোড বাংলাদেশ এ কর্মশালার আয়োজন করে।

Picture

এটিজেএফবি সভাপতি নাদিরা কিরণের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন ,বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান খান কবির, অফরোড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ফেরদৌস মুত্তাকিন, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মার্কেটিং ম্যানেজার পারভেজ আহমেদ চৌধুরী ও এটিজেএফবি’র সাধারণ সম্পাদক তানজিম আনোয়ার।

রাশেদ খান মেনন আক্ষেপ করে বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ও পর্যটনবান্ধব জায়গা এবং মানুষ থাকা সত্ত্বেও আমরা এ শিল্পে একটি একক গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে পারছি না। সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করা হয়নি মন্তব্য করে তিনি বলেন, এ শিল্পকে গুরুত্ব সহকারে উপস্থাপন করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদেরও কাজ করতে হবে।