Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

যুক্তরাষ্ট্রের খবর

নিউইয়র্কের রকমারি ইফতার

বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন:আয়েশা আকতার রুবী,বাপসনিঊজ:নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে : নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বসবাস করেন মুজিবুর রহমান (৫৪)। বাড়ি ঢাকার চানখাঁরপুলে। প্রবাসজীবনের প্রথম বছর এসেই খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন আমেরিকার মাটিতে ইফতারি মিলবে কি না? এক বন্ধুর সাহায্যে ২০০৭ সালে বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় গিয়ে ইফতারির দেখা পেয়েছিলেন। আগ্রহ ছিল পুরান ঢাকার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ ইফতারি মেলে কি না দেখার? চুপিসারে অনেক খুঁজেছেন।মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জ্যাকসন হাইটসের একটি বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্তোরাঁয় গিয়ে এ ধরনের ইফতারসামগ্রী দেখতে না পেয়ে একটু হতাশই হয়েছিলাম। কিন্তু ছোলা, পেঁয়াজি, বেগুনি, আলুর চপ, ডিমের চপ, জিলাপির দেখা পেয়েছিলাম।’

Picture
মুজিবুর রহমান প্রবাসজীবনে সময় পার করেছেন অনেক বছর। প্রতিবছর রোজা এলেই ইফতারির বাজারে ছোটেন তিনি। এখানে দোকান বেড়েছে। কিন্তু সেই ঢাকার ঐতিহ্য বা রকমারি ইফতারসামগ্রীর দেখা মিলছে না এখনো। তাই মুজিবুর রহমানের মতো অনেকেই জ্যামাইকা থেকে জ্যাকসন হাইটস, অ্যাস্টোরিয়া থেকে ব্রঙ্কস-ব্রুকলিন—অনেক জায়গায় খুঁজছেন সেই পুরান ঢাকার রকমারি ইফতারের আস্ত মুরগির রোস্ট, খাসির রোস্ট, ঝাল খাসির রান, কোয়েল ভুনা, কবুতর ভুনা, পেঁয়াজি, বেগুনি, ঘুগনি, মোরগ পোলাও, শাহি জিলাপি, পেস্তা বাদামের শরবত, সুতি কাবাব, টিকা কাবাব, শাকপুলি, জালি কাবাব, দই বড়া ইত্যাদি। পাশাপাশি শাহি জিলাপির খোঁজও করেন অনেকে। বাদ যায় না বুটের ডাল, চিড়া, মুরগি-কবুতর-কোয়েল-খাসির মাংস, গরুর মগজ, কলিজা, ডিমের সঙ্গে প্রায় ৩৫ প্রকারের উপকরণসহ ৪২ প্রকারের মসলা মিশিয়ে তৈরি করা রকমারি ইফতারসামগ্রীও।

alt
মুজিবুর রহমান মনে করেন, রকমারি ইফতারির জন্য একটু-আধটু ব্যথা বা অপূর্ণতা থাকলেও অ্যাস্টোয়ার ক্যাবি জসিমের আক্ষেপ নেই মোটেও। তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে ব্যাচেলর থাকি। প্রতিবছর রোজা রাখি, ইফতারের সময় এলেই বাংলাদেশি রেস্তোরাঁয় ছুটি এবং বক্স আইটেমের ইফতার করি তৃপ্তির সঙ্গে। এসব বক্সে যে প্যাকেজ দেওয়া হয়, তাতে অন্তত বাংলাদেশের ইফতারির মতো অনেক কিছুই পাওয়া যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি অ্যাস্টোরিয়ার আলাউদ্দিন রেস্তোরাঁ থেকে ৭ ডলারে ইফতারির বক্স কিনি। এতে অন্তত ১০ পদের ইফতারি থাকে। যেমন ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজি, বেগুনি, আলুর চপ, পাকোড়া ইত্যাদি।’
ওই রেস্তোরাঁর এক কর্মী জানালেন, ইফতারে তাঁরা খোলা আইটেম বিক্রি করেন। তবে বক্স ভর্তি প্যাকেটের প্রতি সবার ঝোঁক বেশি। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, লোকজন কাজে যাওয়ার সময় এবং পরিবারের সদস্যদের জন্য নিয়ে যেতে পারেন বলেই বক্স ইফতারির কদর বেশি।
জ্যাকসন হাইটসের প্রিমিয়াম রেস্তোরাঁয় রোজার দিন বিকেল থেকেই ভিড় লেগে থাকে। নানা পদের ইফতারি নিয়ে রোজদারেরা ঘরে ফিরতে চান। ব্যবস্থাপক শাওন বলেন, ‘রোজার সময় আমরা লাভকে বেশি প্রাধান্য দিই না। মানুষ যাতে শান্তিতে খেতে পারে সেটিই থাকে মুখ্য, তাই আমাদের রেস্তোরাঁয় এত ভিড়।’

alt

জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি গার্ডেনে একটি ইফতারির বক্স বিক্রি হয় ৮ ডলারে। যেখানে থাকে প্রায় ১২ পদের ইফতারি। রেস্তোরাঁর অন্যতম স্বত্বাধিকারী শাকিল জানান, ‘আমাদের রেস্তোরাঁয় বসে ইফতার করার মতো প্রচুর জায়গা আছে। তারপরও লোকজন ইফতারির বক্স নিয়ে ইফতার করতে বসেন। এতে যেমন কাস্টমারদের লাভ, তেমনি আমাদেরও লাভ। কারণ কাস্টমারদের অতিরিক্ত সার্ভিস দিতে হয় না।’
লোকজন কেমন ইফতারি খোঁজেন এমন প্রশ্নে শাওন বলেন, ‘বলতে গেলে ট্র্যাডিশনাল ইফতারি আমরা বিক্রি করি। যেমন ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজি, বেগুনি, আলুর চপ, পাকোড়া। কিন্তু বক্স আইটেমে আরও কিছু বেশি আইটেম থাকে। যেমন খেজুর, খিচুড়ি, এক টুকরা বাঙ্গি বা তরমুজ, দু-একটি আঙুর বা চেরি ফল ইত্যাদি।’

alt
জ্যামাইকার তাজমহল রেস্টুরেন্টের কর্মচারী মাসুম বলেন, ‘আমাদের ইফতারির বক্সের চাহিদা অনেক বেশি। তাই আমরা মাত্র ৭ ডলারে ১৩ আইটেম সরবরাহ করে থাকি। যেমন ছোলা, মুড়ি, পেঁয়াজি, মরিচা, বেগুনি, আলুর চপ, পাকুড়া, খেজুর, খিচুড়ি, এক টুকরো বাঙ্গি বা তরমুজ, দু-একটি আঙুর এবং এক টুকরো মুরগির মাংস।
বাংলাদেশি-অধ্যুষিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রেস্তোরাঁগুলোতে ইফতারির বক্সের প্রতিযোগিতা চলে। যেসব দোকানে ইফতারির বক্স পাওয়া যায়, তার মধ্যে জ্যামাইকার তাজমহল রেস্তোরাঁ, স্টার কাবাব, কস্তুরি, পানসি ও ঘরোয়া, জ্যাকসন হাইটসের হাটবাজার, খাবার বাড়ি, ইত্যাদি গার্ডেন, মেজবান ও ঢাকা গার্ডেন, অ্যাস্টোরিয়ায় বৈশাখী ও আলাউদ্দিন, ব্রঙ্কসের পেটারসন ও নীরব, ব্রুকলিনের ঘরোয়া ও নীরব রেস্তোরাঁ উল্লেখযোগ্য।
প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে ইফতারির মান নিয়ন্ত্রণ করা হয় কি না, এমন প্রশ্নে জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়ির স্বত্বাধিকারীদের একজন হারুন ভূঁইয়া বলেন, সবাই রমজানে আরও বেশি যত্নসহকারে ইফতারি তৈরি করে থাকেন। আর বাংলাদেশের স্বাদের রকমারি ইফতারি তৈরির চেষ্টা করা হয় বাড়িতে।
তবে সবকিছুর পরও পুরান ঢাকার মুজিবুর রহমানের মতো প্রবাসীদের রকমারি ইফতারির স্বাদ অপূর্ণ থেকেই যাচ্ছে।


ব্রাক্ষণবাড়ীয়া সম্মিলনী অব নর্থ আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল ১৭ জুন শনিবার

বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ : ব্রাক্ষণবাড়ীয়া সম্মিলনী অব নর্থ আমেরিকা’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বাঙ্গালী অধ্যষিত জ্যাকসন হাইটসের নিউ মেজবান রেষ্টুরেন্টে ( ৭৪-২৪,৩৭ এভিনিউ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক,এনওয়াই-১১৩৭২)।


উক্ত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে সকল প্রবাসীদের স্বাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সভাপতি সৈয়দ মোঃ শওকত ও সাধারণ সম্পাদক আশাফ মাসুক। ১৭ জুন, শনিবার সন্ধ্যা ৭টায়।


নিউইয়র্কে ৩৬ ঘণ্টা পর মুক্তি বাংলাদেশি কূটনীতিকের - ২৮ জুন মামলার শুনানী

বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ :নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে :গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত নিউইয়র্কে গ্রেফতার বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা আটটা ২০ মিনিটে তিনি সিটির ব্রঙ্কস বরোস্থ ভারমন সি কারেকশন সেন্টার থেকে মুক্ত হন তিনি। কনসাল জেনারেল শামীম আহসান তার মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামকে আগামী ২৮ জুন আবারো আদালতে হাজির হতে হবে জানা গেছে।

ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামের মুক্তির সময় কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, কনস্যুলেটের প্রথম সচিব শামীম হোসেন এবং তৃতীয় সচিব আসিব আহমেদ সহ শাহেদুল ইসলামের কয়েকজন আতœীয়-স্বজন ভারমন সি কারেকশন সেন্টারের গেটের সমানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে কনসাল জেনারেল শামীম আহসান সহ কনস্যুলেটের একাধিক কর্মকর্তা কারেকশন সেন্টারে প্রবেশ করেন এবং শাহেদুল ইসলামের জামিনের বিষয়টি তদারকি করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্বাবধানে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিউইয়র্কে কনস্যুলেট জেনারেলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আর কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় প্রায় ৩৬ ঘন্টা পর শাহেদুল ইসলাম মুক্ত হন। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি কনস্যুলেটের গাড়ীতে চড়ে সরাসরি বাসায় ফিরে যান বলে জানা যায়।

কনসাল জেনারেল শামীম আহসান ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামের গ্রেফতার ও জামিনের বিষয় তুলে ধরে বলেন, গত বছরের মে’তে শাহেদুল ইসলামের বাসা থেকে রুহুল আমীন (মামলার বাদী) নিরদ্দেশ হন। এ ব্যাপারে নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিস থেকে স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করা হয়েছিল।

Picture

শাহেদুল ইসলামের আতœীয় পরিচয়দানকারী নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ইউএসএ’র সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ মিডিয়ার কাছে দাবী করে বলেন, শাহেদুল ইসলাম ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। আর এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেরর ভাবমূর্তি দারুনভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকারী উদ্যোগে নয়, আমরাই ব্যক্তিগতভাবে জামিনের অর্থ যোগান দিয়েছি।

শাহেদুল ইসলামের চাচা পরিচয়দানকারী মোস্তফা কামাল মিলটন বলেন, আমরা ছোট বেলা থেকেই রুহুল আমীন (শাহেদুল ইসলামের গৃহকর্মী, মামলার বাদী) চিনতাম। সে শাহেদুল ইসলামের বাড়ীতেই বড় হয়েছে এবং তার লেখাপড়ারও খরচ বহন করা হয়েছে। এক পর্যায়ে রুহল আমীন শাহেদুল ইসলামের পরিবারের সদস্যই হয়ে যায়। পরবর্তীতে রুহুল আমীনের অনুরোধে শাহেদুল নিউইয়র্কে তার বাসার কাজের লোক হিসেবে সরকারী উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে আসে। তিনি বলেন, রুহুল আমীন শাহেদুল ইসলামের বাসায় কাজ করার বিনিময়ে অর্থ দিয়ে দেশে বাড়ী করেছেন। তিনি দাবী করেন ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ মিথ্যা।

ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলামকে গ্রেফতার ও জামিন প্রসঙ্গে বাংলাদেশী-আমেরিকান এটর্নী মঈন চৌধুরী ভারমন সি কারেকশন সেন্টারের গেটের সামনে এই প্রতিবেদকে বলেন, আমি শাহেদুল ইসলামের এটর্ণী নই, তবে একজন বাংলাদেশী-আমেরিকান হিসেবে তার খোঁজ-খবর নিতেই এখানে এসেছিলাম। তিনি বলেন, শাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্ব অভিযোগ থাকায় তাকে জামিন নিতে ৫০ হাজার ডলারের বন্ড দিতে হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের দিনই নগদ অর্থ বন্ড হিসেবে দিতে পারলে তিনি সেই দিনই জামিনে মুক্তি পেতে পারতেন।

উল্লেখ্য, গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ভাইস কনসাল শাহেদুল ইসলাম ১২ জুন সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গ্রেফতার করা হয়। নিউইয়র্কের পুলিশ সিটির কুইন্সে বসবাসকারী শাহেদুল ইসলামকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করার কয়েক ঘণ্টা পর কুইন্স সুপ্রীমকোর্টে হাজির করে।

আরো উল্লেখ্য, শাহেদুল ইসলাম ঠাকুরগাঁওয়ের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত খাদেমুল ইসলামের পুত্র। রাজনৈতিকভাবে নিয়োপ্রাপ্ত হয়ে তিনি ২০১১ সালে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে যোগ দেন। এর আগে তিনি কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এর আগে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ উঠে এবং তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার আগেই মনিরুল ইসলাম তরিঘড়ি করে স্বস্ত্রীক নিউইয়র্ক ত্যাগ করে তার নতুন কর্মস্থলে (অন্য দেশ) চলে যান।

এদিকে শাহেদুল ইসলামকে গ্রেফতারের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এই প্রতিবাদ জানানো হয় বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জোয়েল রিফম্যান ও পলিটিক্যাল কাউন্সিলর আন্দ্রেয়া বি রড্রিগেজ মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মাহবুব উজ জামানের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেখা করেন। এসময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ডেপুটি কনসাল জেনারেলের অবিলম্বে মুক্তি চাওয়া হয়।


ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজ বাসার ড্রাইভওয়েতে দুর্বৃত্তের গুলিতে বাংলাদেশী খুন

বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭

বাপ্ নিউজ : ক্যালিফোর্নিয়া থেকে : সদ্য কেনা বাসার ড্রাইভওয়েতে দুর্বৃত্তের গুলিতে প্রাণ গেল বাংলাদেশী মোস্তাফিজুর রহমানের। ৪৮ বছর বয়েসী এই বাংলাদেশির বাড়ি জামালপুর জেলা সদরে।ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশী অধ্যুষিত লসএঞ্জেলেস সিটি থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূর বেকার্সফিল্ড সিটিতে দুই পুত্র, এক কন্যা এবং স্ত্রীসহ বাস করছিলেনবেকার্সফিল্ড তিনি। ১২ জুন সোমবার ভোর পাঁচটায় তার লাশ তার রক্তাক্ত নিথর দেহ অবিস্কার করেন তার স্ত্রী বাসার সামনে ড্রাইভওয়েতে। আর্তচিৎকার করে পুলিশকে ফোন করেন মিসেস মোস্তাফিজ। এ্যাম্বুলেন্সসহ পুলিশ এতে মোস্তাফিজকে নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়ার পর জরুরী বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে চিকিৎসকরা জানান যে, তার বাম বুকে ৮টি বুলেট বিদ্ধ হয়েছে। অর্থাৎ বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করা হয়েছে পরপর ৮ বার। এসব তথ্য জানান মোস্তাফিজের বন্ধু লসএঞ্জেলেস প্রবাসী কামরুল ইসলাম শিপন।

সম্প্রতি তিনি ক্রয় করেন এই বাড়ি এবং মাসখানেক আগে উঠেছিলেন। এ উপলক্ষে সোমবারই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন মোস্তাফিজ। জামালপুরের সন্তান মোস্তাফিজ ডিভি লটারিতে জয়ী হয়ে ২ পুত্র, এক কন্যা এবং স্ত্রীসহ ২০১০ সালে লসএঞ্জেলেসে এসেছিলেন। বছরখানেক পরই তিনি বেকার্সফিল্ডে ‘আমেরিকান এতক্সপ্রেস ট্যাক্সি’ নামক একটি ট্যাক্সি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। খুব দ্রুত সেটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। তিনি নিজেও ট্যাক্সি চালাতেন। রাতের শিফটে কাজ করে প্রতিদিন ভোর চারটার দিকে ঘরে ফিরতেন। সোমবার নির্ধারিত সময়ে তিনি ঘরে ফিরে না আসায় তার স্ত্রী ঘরের বাইরে এসে দেখেন তার গাড়ি পার্ক করা এবং তার লাশ ড্রাইভওয়েতে পড়ে আছে।

Picture

এই সিটিতে শিখ সম্প্রদায়ের লোক বেশী। বাংলাদেশী ২০/২৫টি পরিবার বাস করছেন। মোস্তাফিজুরের ট্যাক্সি কোম্পানীর ঈর্ষনীয় সাফল্য দেখে কেউ প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে তাকে এমন নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে কিনা, সে গুঞ্জনও রয়েছে। কারণ, ব্যক্তিগতভাবে তিনি ছিলেন খুবই অমায়িক। টার্গেট করেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রবাসীদের ধারণা। তবে এখন পর্যন্ত হত্যার কারণ উদঘাটনে সক্ষম হয়নি পুলিশ। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারকে জানানো হয়েছে যে, ঘাতক গ্রেফতারে তারা তৎপর রয়েছেন।

লসএঞ্জেলেস কম্যুনিটি লিডার মমিনুল হক বাচ্চু এ ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হলেন ৩ বাংলাদেশী। মোস্তাফিজুর রহমানের কন্যা এবারই হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। দুই পুত্র যাচ্ছে হাই স্কুলে। স্ত্রী কাজ করেন স্থানীয় একটি হাসপাতালে, নার্স হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে মোস্তাফিজুর এ্যাকনি ল্যাবরেটরির আঞ্চলিক ম্যানেজার ছিলেন। মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে ১৬ জুন শুক্রবার বাদ জুমআ ডাউন টাউন মসজিদে। একইদিন বিকেলে তাকে স্থানীয় মুসলিম গোরস্তানে দাফন করা হবে। শিপন তার আত্মার মাগফেরাত কামনায় সকলের দোয়া চেয়েছেন।


যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি প্রকৌশলে বাংলাদেশি নারী

বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭

সাইফুল আজম সিদ্দিকী, বাপ্ নিউজ : মিশিগান থেকে : মেরি বারা, যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান জেনারেল মটরসের সিইও। গাড়ি ইন্ডাস্ট্রিজে প্রধানের দায়িত্বে তিনি প্রথম নারী। জেনারেল মটরসের অত্যন্ত প্রতিকূল সময়ে হাল ধরেন তিনি। অল্প সময়ে প্রতিষ্ঠানেক বেশ ভাল অবস্থানে নিয়ে আসেন।

২০১৫ ও ২০১৬ সালে কোম্পানিটি রেকর্ড লভ্যাংশের মুখ দেখে। এর সব শ্রমিক-প্রকৌশলী টার্গেটের ১৬৭ ভাগ বেশি সাফল্য অর্জন করেন। এতে ফোর্বস ম্যাগাজিন ও ফরচুন ম্যাগাজিন সেরা নারী নেতৃত্ব, ক্ষমতাধর ব্যবসায়ী, অটো ইন্ডাস্ট্রিজে ক্ষমতাধর নারী হিসেবে মেরি বারাকে মনোনীত করে।

সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বেড়েছে নারী চালক। এছাড়া গাড়ি ক্রয় থেকে ‍শুরু করে গাড়ি চালনা ও গাড়ি প্রকৌশলে বিশ্বের অন্যান্য নারীরা যেখানে এগিয়ে, সেখানে বাংলাদেশি নারীরাই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? এ ক্ষেত্রে দিন-দিন এগিয়ে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি নারীরা। প্রকৌশল বিদ্যায় পড়াশোনা শেষে অনেকেই এখন কাজ করছেন বিখ্যাত গাড়ি নির্মাণ ও গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে। নিজেদের মেধা, মনন আর একাগ্রতা দিয়ে পুরুষের সঙ্গে সমানতালে আজ সফলতার স্তরে পৌঁছেছেন বাংলাদেশি নারীদের অনেকেই। বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তার সফল নেতৃত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উজ্জ্বল করেছেন স্বজাতি ও স্বদেশকে।

মিশিগানের গাড়ির নগরী ডেট্রয়েট এবং তার পাশের শহরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তিনি প্রতিষ্ঠান জেনারেল মটরস, ফোর্ড কোম্পানি ও ফিয়াট ক্রাইসলার। এছাড়াও রয়েছে টোয়োটা, নিসান, হুন্দাই, মার্সিডিজের প্রকৌশলী কেন্দ্র। আরও গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অনেক যন্ত্রাংশ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। প্রায় প্রতিটি অটোমোটিভ প্রতিষ্ঠানে রয়েছে বাংলাদেশি নারী প্রকৌশলী।

Picture

এদের একজন তানজিমা মুস্তারিন। ফিচার ওনার, ড্রাইভার নোটিফিকেশন,কানেক্টিভিটি পদে জেনারেল মটরসে টেকনিক্যাল লিডার হিসাবে প্রথম বাংলাদেশি নারী তিনি। বুয়েট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে উচ্চশিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পারডু ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স শেষে জেনারাল মটরসে কর্মজীবন শুরু।

১৯৯৮ সালে গাড়ি প্রকৌশলী হিসাবে কাজ শুরুর পর এরইমধ্যে কাজ করেছেন গাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যাল গ্রুপে। সফটওয়ার লিড ও ইন্সট্রুমেন্ট ক্লসাটারের দায়িত্বেও ছিলেন। কাজের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের সহায়তা দিতে সদা উন্মুখ। মার্কিন মু্ল্লুকে প্রকৌশলীদের সব অনুষ্ঠানে সক্রিয় তিনি।

একই প্রতিষ্ঠানে স্টিয়ারিং হুইল ও ড্রাইভার এয়ার ব্যাগ, প্রকৌশলী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত মৌলি আহমেদ। গাড়ি প্রকৌশলে কাজ শুরু অটোমোটিভ সাপ্লায়ার কোম্পানি ডেলফাই অটোমোটিভ সিস্টেমসে। পরে মেগনা অটোমোটিভসে। ২০১০ সালে জেনারেল মটরসের পথচলা শুরুর পর ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসাবে প্রকৌশলী ম্যানেজার হিসেবে পদোন্নতি পান।

মৌলি মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করেছেন। চাকরির পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সংগঠন ‘আবিয়া’র মিশিগান শাখার সেক্রেটারি দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

জেনারেল মটরসের লিড এনালাইসিস প্রকৌশলী আফরোজা আক্তার। গাড়ি প্রকৌশলে কাজ শুরু করেন ২০০০ সালে। ডেলফাইসহ আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। সাড়ে ১০ বছর আছেন জেনারেল মটরসে। নতুন টুল-টেকনোলজি উদ্ভাবনে কাজ করেছেন, এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে তার।

বুয়েটের যন্ত্রপ্রকৌশল বিষয়ে ব্যাচেলর ও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারলিনা থেকে মাস্টার্স করেছেন। কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি প্রোগ্রামে সক্রিয় অংশ নেন। ছিলেন প্রকৌশলীদের সংগঠনের সেক্রেটারি। এছাড়া মিশিগান সায়েন্স সেন্টারের সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথ (স্টিম) প্রজেক্টের রোল মডেল হিসাবে কাজ করছেন। উইমেন ইন মোশনেরও সদস্য তিনি।

বেকার সায়েন্স অলিম্পিক টিমের কোচ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের  জাতীয় পর্যায়েও গিয়েছেন তিনি। সফল নেতৃত্বগুণে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে জনপ্রিয় মুখ আফরোজা।

alt

বশ (Bosch) কোম্পানিতে ক্যালিব্রেশন প্রকৌশলী রেজওয়ানা হক। চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশল শেষ করে দেশেই এক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। বিয়ের পর আসেন আমেরিকায়। সন্তানের জন্ম, লালন-পালনে কিছু সময় গেলে ফের ভর্তি হন মাস্টার্স প্রোগ্রামে। মাস্টার্স শেষে জার্মান অটোমটিভ সাপ্লায়ার বশ-এ চাকরি শুরু করেন। ২০১২ সালে গাড়ির বডি ইলেকট্রিক ও হিউম্যান –মেশিন ইন্টারফেস গ্রুপে কাজ করছেন। পরিবার, কর্মজীবনে ব্যস্ততার পাশাপাশি সময় দেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সংগঠনে। বাংলাদেশি আমেরিকান ডেমোক্র্যাটিক ককাসের (বিএডিসি) কার্যনির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি ছিলেন তিনি।

ফিয়েট ক্রাইস্লার আটোমোটিভ কোম্পানির এরো থারমাল প্রকৌশলী মাসুমা খন্দকার। বুয়েট থেকে যন্ত্র প্রকৌশল শেষে বাংলাদেশে এক প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। পরে ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটি ডেট্রয়েট থেকে মাস্টার্স শেষে প্রায় সাত বছর বর্তমান চাকরিতে। এখন বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সংগঠনে সক্রিয় সদস্য। এখানে নতুন পড়তে আসা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের নাম মাসুমা।

নিগার সুলতানা রিম্পি ফোর্ড মোটর কোম্পানির সিস্টেম প্রকৌশলী। বাংলাদেশে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে তড়িৎ প্রকৌশল সম্পন্ন করে গ্রামীণফোনে বছরখানেক কাজ করেছেন। পরে উচ্চৎশিক্ষার্থে ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশলে মাস্টার্স শেষ করেন। এরপর যোগ দেন ফোর্ড-এ। এখন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সক্রিয় অংশগ্রহণ তার।

একই প্রতিষ্ঠানের গ্লোবাল ক্যাপাসিটি প্লানিংয়ে রয়েছেন মেহনাজ চৌধুরী। জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এবং সিস্টেম ইঞ্জনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর শেষে অ্যামাজন, টার্গেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। ২০১৫ সালে যোগ দেন ফোর্ড মোটরে। ইতোমধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্স ও প্লানিংয়ে সার্টিফিকেট কোর্সও করেছেন।

জেনারেল মটরসে ব্যাটারি প্রকৌশলী হিসেবে রয়েছেন নিপা দে। কাজ করছেন প্রায় ৩ বছর। এইচএসসি শেষে বাবা-মায়ের সঙ্গে আসেন যুক্তরাষ্ট্রে। নিউইয়র্কে কমিউনিটি কলেজ ও নিউইয়র্ক সিটি কলেজ থেকে কেমিক্যাল প্রকৌশলে ব্যাচেলর শেষ করে মিশিগানে জেনারেল মটরসে চাকরি নেন। উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তির বিভিন্ন টেস্ট, ভ্যালিডেশন, প্রজেক্ট লিডার বিভিন্ন পদে কাজ করে চলেছেন তিনি।

জিনাত নাজনিন লিজা ভ্যালেও এর হয়ে জেনারাল মটরসে গাড়ির রেয়ারভিও ক্যামেরার কাজ করেন। এর আগে প্যাসিভ সেফটি ডিজাইনে অটোলিভ এবং এল্পস ইলেকট্রিকের হয়ে কাজ করেছেন। জিনাত মিশিগানের ওকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর শেষ করেছেন।

ভেলিডেশন প্রকৌশলী হিসাবে ২০১২ সালে জেনারেল মটরসে আসেন অনিয়া কুতুব। বর্তমানে গাড়ি নির্মাণ লাইনের ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেস সিমুলেশনে কাজ করছেন। খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্র প্রকৌশলে ব্যাচলর শেষে  যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন। দুই সন্তানের জননী অনিয়া কাজের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন কাজ নিয়েও ব্যস্ত।

২০০৮ সালে জেনারেল মটরসে অটোমোটিভ কন্ট্রোল প্রকৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন শামসুর নাহার। কাজ করেছেন ইঞ্জিন কেলিব্রেশনে, হাইব্রিড এল্গরিথম ও সফটয়ার ডেভেলপমেন্টে।

একই প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন করবী বাশার। পাওয়ার ইলেকট্রিক ইনভারটার ডিজাইনে কাজ করেছেন ফিয়েট ক্রাইস্লার অটোমটিভসে।

জেনারাল মটরসে কম্পিউটার আইডেড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএই) হিসেবে আছেন বাংলাদেশি কানাডিয়ান ফারাহ আহমেদ। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় পরিবারের সঙ্গে কানাডায় চলে আসেন। অটোয়া ইউনিভার্সিটি থেকে কেমিক্যাল প্রকৌশলে ব্যাচেলর  ও পরিবেশ প্রকৌশলে মাস্টার্স করে আড়াই বছর ধরে জেনারেল মটরসে কর্মরত।

ফারজানা রহমান, জেনারেল মটরসের সিএই প্রকৌশলী,  স্টাকচারাল এনালাইসিস ট্রান্সমিশন সিস্টেম। বুয়েট থেকে ২০০৯ সালে যন্ত্র প্রকৌশলে ব্যাচেলর এবং আমেরিকার আউবারন ইউনিভার্সিটি থেকে  যন্ত্র প্রকৌশলে মাস্টার্স সমাপ্ত করেছেন।

সাদিয়া নাসরিন। বুয়েট থেকে যন্ত্র প্রকৌশলে ব্যাচেলর, যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স ও ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে গাড়ি নির্মাণ কোম্পানিতে চাকরি শুরু করেছেন চলতি মাসে। ছিলেন বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি সফল নারীদের তালিকায় আরও রয়েছেন ফিয়াট ক্রাইস্লার অটোমটিভ কোম্পানির ব্যবস্থাপক সোমা হক, জেনারেল মটরসের আইটি টেস্ট এনালিস্ট সায়েদা আহমেদ, ফোর্ড মোটরের সাইফা, জেনারেল মটরসে তাসনিম এলিন, তাঞ্জিন হায়দার, শারমিন আক্তার, আদিবা ইসলাম, লিসা বেগম, রেজিনা নবী, সায়েদা আহমেদ, ফিয়াট ক্রাইসলারে হোসনে আরা,  সাবরিনা রহমা সহ অনেকে।

‘যে রাঁধে সে চুল ও বাঁধে’ এ প্রবাদকে প্রতিনিয়ত সত্যে পরিণত করে চলেছেন এসব নারীরা। যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান দিন দিন নিজের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে চলেছেন তারা, সেইসঙ্গে প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল করে চলেছেন দেশের মর্যাদা।


অনুষ্ঠিত হলো শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের ইফতার মাহফিল

মঙ্গলবার, ১৩ জুন ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ :অনুষ্ঠিত হলো শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের ইফতার মাহফিল । নিউইয়র্কস্থ খান টিউটোরিয়ালে যুক্তরাষ্ট্র শাখা এটির আয়োজন করে। সম্মানিত অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত মরহুম ডক্টর মনসুর খানের সহধর্মিনী ‘খান টিউটোরিয়ালে’র কর্ণধার নাঈমা খান।

১১ জুন আয়োজিত অনুষ্ঠানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের যুক্তরাষ্ট্র সভাপতি গোলাম এম খান লিপটন ।আসছে জুলাই মাসে সংগঠনের অভিষেক আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া নিউইয়র্ক স্টেট কমিটি গঠনে ঘোষিত হয়েছে প্রস্তুতি কমিটি। ঈষিতা লস্কর আহ্বায়ক ও নাঈমা আখতার খান সদস্য সচিব হয়েছেন।

ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশ ও প্রবাসীদের কল্যাণে বিশেষ দোয়া করা হয়। ১৫ আগস্টের নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় ছিলো বিশেষ মোনাজাত। বঙ্গবন্ধু, শেখ রাসেলসহ সকল শহীদ-সমীপে নিবেদিত হয় শ্রদ্ধা।


এতে অন্যান্যের মধ্যে সংগঠনের নেতৃবর্গ অংশ নেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করেন উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান আজিজ, হেলাল মাহমুদ, ফয়েজ কবির, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকবর আলী, সোহেল রেজা, মুতাসিম বিল্লাহ, পপি চৌধুরী, মিনা ইসলাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, ফারুক লস্কর, রেজাউল করিম কিরন, মোহাম্মদ আলী বাবু,ফখরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, কামাল শেখ প্রমুখ।


ফোনে শুভেচ্ছা জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আইরিন পারভীন। সম্মানিত অতিথি নাঈমা খান বলেন, বঙ্গবন্ধু পরিবারের উত্তর প্রজন্মও বসে নেই। বৃটেনে টিউলিপ সিদ্দিক পুনরায় এমপি নির্বাচিত হয়ে তরুণ প্রজন্মের মুখ উজ্জল করেছে। রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের মাধ্যমে অসংখ্য ‘টিউলিপ’-এর বিকাশ ঘটাতে হবে। সভাপতি গোলাম এম খান লিপটন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন জেগেছে। নতুন প্রজন্মকে শেখ রাসেলের আদর্শে জাগিয়ে তুলতে হবে ।


সুনামগঞ্জ জেলা সমিতি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিলে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার

মঙ্গলবার, ১৩ জুন ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে :সুনামগঞ্জের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন সুনামগঞ্জ জেলা সমিতি ইউএসএ ্’র ইফতার মাহফিল। নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার জামে মসজিদে স্থানীয় সময় গত ৫ জুন সোমবার ধর্মীয় আমেজে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।সুনামগঞ্জ জেলা সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি জুসেফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রমজানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা ও দো’য়া মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের খতীব মাওলানা আবুল কাশেম এয়াহইয়া।

Picture

এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, ছদরুন নূর, ইকবাল আহমেদ মাহবুব, আলহাজ গিয়াস উদ্দিন, আব্দুস সহিদ প্রমুখ।মাহফিলে বক্তারা প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধভাবে যার যার অবস্থান থেকে সুনামগঞ্জের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর বিনীত অনুরোধ জানান। তারা বলেন, পবিত্র রমজান মাসে যাতে কেউ কষ্ট না পান সে দিকে সকলকে লক্ষ রাখতে হবে। সভায় বক্তারা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত অনুদান, ত্রাণ সামগ্রী সঠিকভাবে সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। কতিপয় অসাধু লোক ওই ত্রাণ সামগ্রী হাতিয়ে নিতে ততপর রয়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান বক্তারা। এসময় সমিতির কর্মকর্তারা দেশে ও প্রবাসে সুনামগঞ্জবাসীর কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার পূনর্ব্যক্ত করেন।

alt
ইফতার মাহফিলের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন সংগঠনের সভাপতি  জুসেফ চৌধুরী, সহ সভাপতি  মনির উদ্দিন আহমেদ,  আবদুল আজিজ, হিরন্ময় আচার্য্য ও নুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল আম্বিয়া টিপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির সোহেল, কোষাধ্যক্ষ এফ রহমান কামাল, প্রচার সম্পাদক হামজা কোরেশী, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কয়েছ খান, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক এমডিএস কবির, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আবদুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক অধ্যাপক আমিনুল হক চুন্নু, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রেহানা নূর, দপ্তর সম্পাদক  শুকুর আলী, কার্যকরী সদস্য : আফতাব আলী, আজিজুর রহমান রানা, মানিক আহমেদ, আলী রেজা, হাবিবুর রহমান, হোসেন আহমেদ, মান্না মুত্তাছির, রুমেল হোসেন, কয়ছর আহমেদ ও আবদুর রউফ।ইফতার মাহফিলে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র সাবেক সভাপতি মখন মিয়া, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস’র সভাপতি সাহেদ আহমদ, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট বাছির খানসহ বিপুল সংখ্যক সুনামগঞ্জ প্রবাসী যোগ দেন। মাহফিলে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের জন্য আত্মদানকারী সকল শহীদ, পরলোকগত স্বজনদের আত্মার মাগফেরাত কামনাসহ বিশ্ব মানবতার শান্তির জন্য বিশেষ দো’য়া করা হয়।


নিউইয়র্কে বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল

মঙ্গলবার, ১৩ জুন ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে :ধর্মীয় উৎসব আমেজে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশীদের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল। গত রোববার ব্রঙ্কসের আলআকসা রেষ্টুরেন্টে এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

Picture

অনুষ্ঠান থেকে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে বিশ্বনাথনাথের কৃতি সন্তান রুশনারা আলী তৃতীয় বার এবং টিউলিপ সিদ্দিক ও রুপা হক দ্বিতীয় বারের জন্য এমপি নির্বাচিত হওয়ায় শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান হয়।বিশ্বনাথ প্রবাসী কল্যাণ সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি হাজি মনির আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবদুল মনাফের পরিচালনায় সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসীর উপস্থিতিতে এই ইফতার আয়োজন বিশ্বনাথবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হয়।

alt

অনুষ্ঠানে কার্যকরী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষেদের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম  শুরু হয়।অনুষ্ঠানে রমজানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা ও দো’য়া মুনাজাত পরিচালনা করেন সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাওলানা সিহাব উদ্দিন আহমেদ। মাহফিলে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদের নাম ঘোষণা করেন সভাপতি হাজি মনির। উপদেষ্টারা হলেন : মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, ইফতেখার সিরাজ, আলমাস আলী, মখন মিঞা, হাফিজ এহিয়া মেন্দী, ছালিক সিকদার, আমিরুল ইসলাম, মাস্টার খলিলুর রহমান, আবদুল খালিক, মো: আবদুল বারী সিকদার, চমক আলী, তৈয়বুর রহমান, রফিক আহমেদ, লোকমান আহমেদ, আবদুর রাজ্জাক, আবদুল কুদ্দুস, আব্দুল কাদির রানু, শমসীদ খান এবং আব্দুল হাই।

alt

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি হাজি মনির আহমেদ, সহ সভাপতি সেবুল খান মাহবুব, আতাউল গনি আসাদ (জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের কোষাধ্যক্ষ আতাউল গনি আসাদ) ও আজাদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মনাফ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আজম আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ আলকাস মিয়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সুলতানা জেবা চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক মো: আবুল কালাম, দপ্তর সম্পাদক মটিন মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক নিজামুল মো: ইসলাম, আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক আবদুল সালাম এবং কার্যকরী সদস্য লিটন এমজি শাহরিয়ার, তৌফিকুর রহমান ফারুক, শিহাব আহমেদ, মো: আবুল কালাম ও মো: লিয়াকত আলী।

alt

সভাপতির ভাষণে হাজি মনির আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মনাফ সফল ভাবে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন করার জন্য কমিটির সকল কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী ৩০ শে জুলাই কটন পয়েন্ট পার্কে (ওয়েস্ট চেস্টার, নিউইয়র্ক) অনুষ্ঠেয় সমিতির বনভোজনে সকলকে আমন্ত্রণ জানান।অনুষ্ঠানে জামিয়া মাদানিয়া বিশ্বনাথনাথ নতুন বাজার মাদ্রাসা, দারুল কুরআন ফোরকানিয়া মাদ্রাসা নাজির বাজার ও শাহ চানবরান চানবরান মাদ্রাসায় সমিতির পক্ষ থেকে ইফতার প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান হয়।অনুষ্ঠানে নতুন উপদেষ্টারা সফল ও সুন্দর ইফতার আয়োজনের প্রশংসা করে বর্তমান কার্যকরী কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা আশ্বাস প্রদান করেন। তারা সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমিতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। মাহফিলে দেশ, প্রবাসসহ বিশ্ব মানবতার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া মুনাজাত করা হয়।


নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কূটনীতিক গ্রেফতার

মঙ্গলবার, ১৩ জুন ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে :গৃহকর্মীকে নির্যাতন, মজুরি দাবি করায় হত্যার হুমকি ইত্যাদি অভিযোগে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ডেপুটি কন্সাল জেনারেল শাহেদুল ইসলাম (৪৫)কে ১২ জুন সোমবার সকালে নিউইয়র্কের পুলিশ গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের কয়েক ঘন্টা পর অর্থাৎ নিউইয়র্ক সময় সোমবার অপরাহ্ন সাড়ে ৩টায় কুইন্সে অবস্থিত সুপ্রিম কোর্টে সোপর্দ করা হয় তাকে। বিচারক ডেনিয়েল লুইস তার জামিন মঞ্জুর করেন ৫০ হাজার বন্ড অথবা নগদ ২৫ হাজার ডলারের বিনিময়ে। আদালতে উপস্থিত কন্সাল জেনারেল শামীম আহসানসহ অন্য সহকর্মী ও স্বজনেরা ৫০ হাজার ডলারের বন্ড সংগ্রহ করতে সক্ষম হলেও মুক্তির আনুষ্ঠানিকতায় আরো ২৪ ঘন্টার মত লাগতে পারে। এ সংবাদদাতাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান।

এামলার উদ্ধৃতি দিয়ে কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্ণী রিচার্ড এ ব্রাউন বলেছেন, অভিযুক্ত শাহেদুল ইসলাম নিজ দেশ বাংলাদেশ থেকে ২০১২ সালের শেষ লগ্নে গৃহকর্মী হিসেবে নিউইয়র্কে আনেন মোহাম্মদ আমিনকে। এরপরই তার পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আটক করে দৈনিক তাকে ১৮ ঘন্টা করে কাজ করিয়েছেন। বিনিময়ে একটি পয়সাও দেয়া হয়নি। যখনই মজুরির দাবি করেছেন তখোনই তাকে প্রহার করা হয়েছে। নির্যাতনে অতীষ্ঠ হয়ে মো. আমিন কাজ ছেড়ে অন্যত্র চলে যাবার আগ্রহ পোষণ করার পর শাহেদুল তাকে হত্যার হুমকি, এমনকি বাংলাদেশে তার বৃদ্ধা মা ও পুত্র-কন্যাকেও হত্যার হুমকি দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

alt
নির্যাতনে অতীষ্ঠ হয়ে গত বছরের মে মাসে মো. আমিন পালিয়ে সরাসরি পুলিশকে সবকিছুর বিবরণ দিয়ে বিচার প্রার্থনা করেছেন। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে গত সপ্তাহে কুইন্স কাউন্টির গ্র্যান্ডজুরিরা শাহেদুলের বিরুদ্ধে অপহরন, নির্যাতন, বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো, হত্যার হুমকি ইত্যাদি গুরুতর অভিযোগ গঠনেরই পুলিশ তাকে তার কুইন্সের বাসা থেকে গ্রেফতার করেছে।
এ ব্যাপারে কন্সাল জেনারেল এ সংবাদদাতাকে আরো জানান, মো. আমিন গত বছর বাসা থেকে নিখোঁজ হবার পরই আমরা প্রচলিত রীতি অনুযায়ী স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করেছি। কন্সাল জেনারেল আরো জানান,গৃহকর্মী নিয়োগ থেকে পারিশ্রমিক-ভাতা, ভ্রমণ ভাতার সবকিছুই ডেপুটি কন্সারল জেনারেলের ব্যক্তিগতভাবে করার কথা। তাই বেতন একেবারেই পাননি বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটি সত্য না মিথ্যা তা আমি বলতে পারবো না। তা নিতান্তই শাহেদুলের ব্যাপার।
কন্সাল জেনারেল আরো বলেন, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী আমরা শাহেদুলের পাশে রয়েছি।
অপরদিকে, ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী প্রচন্ড ক্ষোভের সাথে বলেছেন, ক’টনৈতিক মর্যাদায় বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হয়ে ডেপুটি কন্সাল জেনারেল যে আচরণ করেছেন, তা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বিচারে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের ক্লার্ক জানিয়েছেন, সবগুলো অভিযোগ প্রমাণিত হলে শাহেদুলের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদন্ড এবং দীর্ঘ প্রায় ৪ বছরের অভারটাইমসহ বেতন, এবং যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করতে হবে।


বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা জাহিদ এফ সর্দার গ্রেফতার

মঙ্গলবার, ১৩ জুন ২০১৭

বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক :বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিদেশ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা জাহিদ এফ সর্দার সাদী ওরফে সর্দার ফারুককে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওরল্যান্ডো ডিভিশনে মিডল ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টের গ্রেফতারী পরোয়ানা অনুযায়ী গত ১৭ মে তাকে গ্রেফতার করা হয় ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিলের সামনে থেকে। এরপর তাকে ফ্লোরিডায় উপরোক্ত আদালতে পেশ করা হয় ৯ জুন শুক্রবার। আদালতের জজ গ্রেগরী এ প্রেসনেল সাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ শুনানী শেষে তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার নম্বর ৬:০৮-সিআর -২৯-ওআরএল-৩১ কেআরএস। ২৭ জুন তাকে একই এজলাসে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ইউনাইটেড ষ্টেটস ডিষ্ট্রিক্ট কোর্ট মিডল ডিষ্ট্রিক্ট অব ফ্লোরিডা সূত্রে জানা গেছে, জাহিদ এফ সর্দার সাদি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্থ করতে বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত ও চুরির আশ্রয় নিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, বাংকো পপুলার পর্টোরিকো, ব্যাংক অব আমেরিকা, ফিফথ থার্ড ব্যাংক, ওয়াকোবিয়া ব্যাংক, ওয়াশিংটন মিউচুয়্যাল ব্যাংক, সান ট্রাস্ট ব্যাংক, ফার্স্ট প্রায়রিটি ব্যাংক এবং আরবিসি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ডিপোজিটকৃত চেক ও অর্থ ফেডারেল ডিপোজিট ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন, ম্যাককোয় ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়ন এবং সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা এডুকেটর ক্রেডিট ইউনিয়ন শেয়ার ইন্সুরেন্স ফান্ড কর্তৃক ইন্স্যুর করা ছিল। এর প্রেক্ষিতে যেকোন চেক জমা দিলেই তার বিপরীতে তাৎক্ষনিক নগদ অর্থ উত্তোলন সম্ভব হতো।

Picture

মামলার বিবরণে প্রকাশ, ভূয়া চেক, ব্যাংকের সাথে প্রতারণা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণার বহুবিধ অভিযোগে মাননীয় আদালত ২০১৪ সালে তাকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি প্রদান করেন। এর অন্যতম ছিল, প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে নিকটস্থ প্রবেশন অফিসারের সাথে সাক্ষাত করে নিশ্চিত করতে হবে যে তিনি আর কোন অপকর্মে লিপ্ত হননি অথবা ওরল্যান্ডে সিটি ত্যাগ করেননি। কিন্তু এই শর্ত তিনি প্রথম মাস তথা ২০১৫ সালের জানুয়ারি লংঘন করে চলেছেন। এরপর ফেডারেল কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে সাদী নিউইয়র্কে পালিয়ে রয়েছে। এজন্যে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টের প্রবেশন অফিসার মাইকেল কক্সের কাছে চিঠি পাঠায় ওরল্যান্ডোর প্রবেশন অফিসার। এরপরও সাদী ওরল্যান্ডোতে গিয়ে হাজিরা দেননি। এমনকি লিখিতাকারেও সাড়া দেনি। এজন্যেই তাকে গ্রেফতারে তৎপর হয় এফবিআই।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, বরিশালের সন্তান সাদী ইতিপূর্বে নানা ধরনের প্রতারণা, জালিয়াতির মামলায় ২৭ বার গ্রেফতার হন। প্রতিবারই ছোটখাটো শাস্তি হয় তার। সর্বশেষ ২০১৫ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ৬ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের (ফরেন এফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান (ক্যালিফোর্নিয়া-রিপাবলিকান) এডোয়ার্ড রয়েস এবং কমিটির প্রভাবশালী মেম্বার কংগ্রেসম্যান (নিউইয়র্ক-ডেমক্র্যাট) এলিয়ট এঙ্গেল, কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট(রিপাবলিকান-ওহাইয়ো), কংগ্রেসম্যান যোসেফ ক্রাউলী(ডেমক্র্যাট-নিউইয়র্ক), কংগ্রেসম্যান জর্জ হোল্ডিং (রিপাবলিকান-নর্থ ক্যারলিনা) এবং কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং (ডেমক্র্যাট-নিউইয়র্ক) এর স্বাক্ষর জাল করে তারেক রহমানের পক্ষে ও শেখ হাসিনা সরকারের বিপক্ষে একটি বিবৃতি প্রচার করেছিলেন। এরপর তাকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা থেকে অপসারণ করা হলেও তার সাথে লন্ডনে বসবাসরত তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরা নিউইয়র্কে এসে দেন-দরবার করতেন। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের কোন কোন নেতাও তাকে আ¤্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন।
অতি সম্প্রতি এই সাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে ইসরাইলি নাগরিক মেন্দি সাফাদির সাক্ষাতের একটি গল্প সাজিয়েছিলেন।


প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের অঙ্গীকারে নেত্রকোনা জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

সোমবার, ১২ জুন ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ: নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে :প্রাকৃতিক দূর্যোগে নিজ নিজ এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন নেত্রকোনা জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ ইন্কের ইফতার ও দোয়া মাহফিল।

Picture

ধর্মীয় উৎসব আমেজে ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার-স্টার্লিং-ওলমস্টেড এভিনিউর মামুন’স টিউটোরিয়ালে গত ১১ জুন রোববার এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

alt

নেত্রকোনা জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ’র সভাপতি মো. বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার ড. খায়রুল কবির, বিশেষ অতিথি সংগঠনের উপদেষ্টা মো. বশির ফারুক ও ইকবাল হায়াৎ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান শফিক, ইভেন্ট কমিটির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম জামাল, সদস্য সচিব মো. জামাল উদ্দিন এবং প্রচার সম্পাদক মো মুখলেছুর রহমান সুজনসহ কমিটির নের্তৃবৃন্দ।

alt

 মাহফিলে দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন ডা. আমিরুল ইসলাম। মুনাজাতে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মানবতার শান্তি কামনাসহ প্রাকৃতিক দূর্যোগে নেত্রকোনা হাওর অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।ইফতার মাহফিলে বাংলাদেশী কমিউিনিটির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও নেত্রকোনা প্রবাসীরা স্বপরিবারে অংশ নেন।