Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

যুক্তরাষ্ট্রের খবর

কংগ্রেসওম্যান প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ালেন ড. নীনা আহমদ, লড়বেন ফিলাডেলফিয়ার ল্যুটানেন্ট গভর্নর হিসাবে

বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : ফিলাডেলফিডা কংগ্রেসনাল আসনের জন্য প্রচারণা চালানোর জন্য মেয়র ক্যানীর সাবেক সহযোগী নিনা আহমদ এখন ল্যুটান্যান্ট গভর্নর পদে লড়বেন। সরে দাড়ালেন কংগ্রেসনাল নির্বাচনী দৌড় থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তন হওয়ায় ড. নীনা এই সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। কংগ্রেসনাল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ড. নীনা এক বর্তায় বলেন. হ্যারিসনবার্গের অনেক বেশি সময় ধরে পুরুষের আধিপত্য রয়েছে এবং নতুন সংস্কৃতির পরিবর্তে নতুন সংস্কৃতির পরিবর্তন হবে না। "যৌনতা এবং যৌন হয়রানি বন্ধ করার জন্য আমি গভর্নর ওলফের সাথে কাজ করব।তিনি বলেন, রিপাবলিকান নেতৃত্বাধীন সরকারের বন্ধ করা স্কুলের অর্থ সহযোগীতা বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানীগুলোর উপর ট্যাক্স আরোপ করতে তিনি গভর্নর ওলফের সাথে কাজ করবেন। ড. নীনা আহমেদ প্রায় ৫৬০,০০০ ডলার নিয়ে নির্বাচনী প্রচারনায় নামেন এবং এ পর্যন্ত তার প্রচারাভিযান ৪৫০,০০০ ডলার নির্বচনী প্রচারনায় ব্যয় করেন বলে ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের সাথে নিবন্ধিত রেকর্ড অনুযায়ী জানা যায়।
Picture
এদিকে গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি ফিলাডেলফিয়ার একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়ে হল “অ্যালায়েন্স অফ এশিয়ান অ্যামেরিকান লেবার (অ্যাসাল ) এর আয়োজনে ড. নীনা আহমেদ এর সমর্থনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সভায় নীনা আহমেদ কংগ্রেসনাল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা পুর্নব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক কংগ্রেসনাল সীমানা পুন: নির্ধারন করায় আমি ল্যুটানেন্ট গর্ভনর পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছি। এতে আমি ফিলাডেলফিয়ার জন্য অনেক বেশী কাজ করতে পারব। সভা পরিচালনা করেন মোহাম্মেদ শহীদ  এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসালের সহ সভাপতি শাহ ফরিদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ফিলাডেলফিয়ার ডিস্ট্রিক ১ থেকে  ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী ড. নীনা আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ড. নীনা আহমেদের নির্বাচনী সমন্বয়কারী ডঃ ইবরুল চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্ত্যব রাখেন সাবেক কাউন্সিলম্যান আলাউদ্দীন পাটেয়ারী, এ আর খান লাভ্লু,শাহ্ আহম্মেদ, নুরুদ্দীন নাহিদ, ।


নিউইয়র্কে আন্তর্জাতিক ফুড ফেস্টিভালে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর স্টলে প্রচুর দর্শক সমাগম

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ হাঙ্গেরী কনস্যুলেট জেনারেল এর অডিটরিয়ামে আয়োজিত উৎসবে বিপুল সংখ্যক মার্কিন এবং বিদেশী অতিথির সমাগম ঘটে।

বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির পরিচায়ক হস্তশিল্প সামগ্রীসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে সুসজ্জ্বিত স্টলে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার (ফিংগার ফুড – সামুচা এবং পাকোরা) স্থান পায়। স্টলে প্রচুর বিদেশী অতিথির সমাগম ঘটে এবং সকলেই বাংলাদেশী খাবারের উচ্ছসিত প্রশংসা করেন। 

ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল জনাব মোঃ শামীম আহসান,এনডিসি এবং তার সহধর্মিণী মিসেস পেন্ডোরা চৌধুরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। খাবারের স্টল ছাড়াও নিউজার্সি ভিত্তিক ”সৃষ্টি একাডেমী-”র (ঝৎরংযঃর অপধফবসু) প্রবাসী শিল্পীদের চমৎকার ও অনবদ্য পরিবেশনা বিদেশী দর্শকদের অভিভূত করে। 

শিল্পীরা বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোক সঙ্গীতের সাথে নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য দেশের শিল্পীরাও সাংস্কৃতিক পর্বে অংশগ্রহণ করেন যা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের রঙ্গীন পতাকা এবং বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পোষাক পরিচ্ছদ একটি আন্তর্জাতিক আবহের সৃষ্টি করে। 

ফেস্টিভালে কনস্যুলেট জেনারেল এর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বৃহত্তর পরিসরে মার্কিন ও বিদেশী দর্শকদের মধ্যে অধিকতর ধারনা সৃষ্টিতে সক্ষম হয়। 

উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তাবৃন্দ, কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ছাড়াও মূলধারার মিডিয়া ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সোসাইটি ফর ফরেন কনসালস (ঝঙঋঈ) নিউইয়র্ক ভিত্তিক কনস্যুলেট, কনস্যুলেট জেনারেল এবং অনারারি কনস্যুলেটগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বের বৃহত্তম কনস্যুলার কোর।


মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে :যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যেগে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডঃ সিদ্দিকুর রহমান এর সভাপত্বিতে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয় সম্পকিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি , সাবেক মন্ত্রী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য কর্নেল ফারুক খান এমপি।  

Picture

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম, গোলাম ফারুক প্রিন্স, আনোয়ারুল আবেদীন খান ও জেবুন্নেসা আশরাফ। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এবং সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান ও প্রচার সম্পাদক হাজী এনামের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরো অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভীন, কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান আলী, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন, যুবলীগ নেতা সেবুল মিয়া প্রমুখ।
 alt
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফারুক খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসীদের মনে প্রাণে ভালোবাসেন। শ্রদ্ধা করেন। দেশের প্রয়োজনে যখনই প্রবাসীদের প্রয়োজন হয়েছে তখনই তারা এগিয়ে এসেছেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে যে কোনো সমস্যায় প্রবাসীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।ওয়ান ইলেভেনে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রবাসীরা সঙ্গে সঙ্গে রাজপথে নেমেছেন। হোয়াইট হাউজ ও জাতিসংঘসহ যেখানে যেভাবে দরকার প্রতিবাদ করেছেন। এমন কী পদ্মা সেতুর বিষয়ে প্রবাসীরা এ দেশের আইন-কানুন ভেঙে বিশ্বব্যাংক ঘেরাও করেছেন। আপনাদের দেখে বরং বাংলাদেশের অনেক নেতা সাহস পেয়েছেন।

alt
 
ফারুক খান এমপি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকে। ক্ষমতায় থাকে বিএনপি এবং এ কারণে তারা ক্ষমতায় থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। এ ব্যাপারে প্রবাসীদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। এজন্য সবাইকে সংগঠিত হতে হবে। সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। তিনি প্রবাসী নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের একমাত্র অস্ত্র হচ্ছে মিথ্যা প্রচারণা। এছাড়া তাদের হাতে আর কোনো অস্ত্র নেই। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কাছে অসত্য কথা বলে কোনো লাভ হবে না।  বিএনপির গোয়েবলসিয় কায়দার মিথ্যাচারের রাজনীতি করছে। দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা হলেও তারা মিথ্যা কথা বলে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা দুর্নীতি নিয়ে কথা না বলে সমবেদনা আদায়ের চেষ্টা করছে। জাতিসংঘেও তারা প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে জাতিসংঘ বলেছে যে এটা আইনের ব্যাপার।১৯৫২ সালে বাংলা ভাষাকে যারা আমাদের মুখ থেকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল আমরা তাদের সমুচিত জবাব দিতে পেরেছি। এটাই বাঙালী জাতির বৈশিষ্ট্য। তিনি বলেন, পাকিস্তানী শাসকরা চেয়েছিল বিশ্বের বুক থেকে বাংলা ভাষা মুছে দিতে। এজন্য তারা সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকের বুকে গুলি চালিয়ে ছিল। তারা ভেবেছিল বাঙালি আর ভয়ে বাংলায় কথা বলবে না এবং উর্দু শেখা শুরু করবে। কিন্তু এটা হয়নি বরং বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বাকৃতি পেয়েছে।


কিশোরগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের একুশ উদযাপন

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে :প্রবাসের বৃহত্তম সামাজিক সংগঠন কিশোরগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের উদ্যেগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অমর একুশের অনুষ্ঠান জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি রেষ্টুরেন্টের পার্টি হলে সংগঠনের সভাপতি মো: আনোয়ার উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রথমেই ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিবরতা পালন করা হয়। “একুশ আমার চেতনা” শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন,কিশোরগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের ট্রাষ্টিবোর্ড সদস্য হাবিব রহমান হারুন, ট্রাষ্টিবোর্ড সদস্য মো: জাইদুল কবীর খান সারোয়ার, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো: আব্দুর রাজ্জাক, উপদেষ্টা তারক পন্ডিত, উপদেষ্টা এ.কে.এম রফিকুল ইসলাম ডালিম, সহ সভাপতি মো: আলী আহসান আকন্দ শামীম, সহ সাধারণ সম্পাদক মো: জাবির হোসেন তাকবীর, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আলা উদ্দিন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক খালেদা আক্তার কিরণ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক তপন বিশ্বাস, সদস্য মো: সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: এনামুল হক। অনুষ্ঠানে “বাংলায় শিশুদের নাম” লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন শামীমা আক্তার ইভা, মুমু বিশ্বাস, তানিয়া জুমি।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সভাপতি মো: আনোয়ার উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো: এনামুল হকের নেতৃত্বে সকল সদস্যবৃন্দ বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্দ্যেগে আয়োজিত সম্মিলিত একুশ উদযাপনে উডসাইডের গুলশান টেরেসে নির্মিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে সম্মিলিতভাবে ভাষা শহীদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করা হয়। 


বৈশ্বিক অভিবাসন কম্পপ্যাক্টে বিবেচনার জন্য পাঁচদফা সুপারিশ পেশ করলেন এমপি ফারুক খান

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে :জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের বার্ষিক সংসদীয় শুণানীর শেষ দিনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ডেলিগেশনের দলনেতা, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বলেন, “আমরা সংসদ সদস্য। আমরা সংসদে বিতর্কের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে আইন প্রণয়ন করি। সংসদ সদস্য হিসেবে ২৩ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে আইপিইউ’র এই বার্ষিক সংসদীয় শুণানীতে বৈশ্বিক অভিবাসন কমপ্যাক্টে বিবেচনার জন্য এই সভায় আপনাদের সামনে আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরছি: ১. এমন কোন আইন পাশ করা যাবে না যা নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক ও নিয়মিত অভিবাসনের পরিপন্থী; ২. অভিবাসীদের মর্যাদা, মানবাধিকার ও স্বার্থ বিরোধী আইনও যেন আমরা পাশ না করি; ৩. অভিবাসী অবস্থা (সরমৎধঃড়ৎু ংঃধঃঁং) নির্বিশেষে অভিবাসীদের মানবাধিকার সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত রেখে আইন পাশ করতে হবে; ৪. পাশকৃত সকল আইনে নাজুক অবস্থায় পতিত অভিবাসীদের সুরক্ষার কথা থাকতে হবে; ৫. পাশকৃত আইনসমূহে অভিবাসী পাচার, প্রতারণা ও ট্রাফিকিং এর ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে”।

alt

আধুনিক অর্থশাস্ত্রের জনক হিসেবে পরিচিত ‘অ্যাডাম স্মিথ’ এর উদাহরণ টেনে এমপি ফারুক খান বলেন, “যখন অ্যাডাম স্মীথ ভূমি, শ্রম ও অর্থ নিয়ে কথা বলেন, তিনি অবশ্যই বুঝাতে চান এগুলোর সম্মিলিত ধারাই বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন। আমরা এখন শুধু বৈশ্বিক অর্থনীতি, বিশ্বগ্রাম নিয়ে কথা বলি, কিন্তু বৈশ্বিক অভিগমন, কর্মী ও শ্রমিকের বৈশ্বিক চলাচল নিয়ে কথা বলি না। এখানে অনেকেই মানবাধিকারের কথা বলেছেন। এটি অবশ্যই সেই অভিবাসী মানুষদের মানবাধিকার যারা এই পৃথিবী নামক গ্রহে একটু ভালোমতো বাঁচতে চায়”।

Picture
তিনি সভায় অংশগ্রহণকারী সকল সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আসুন আমরা সকল সংসদ সদস্যগণ জাতীয়তা, আমলাতন্ত্র ও নিরাপত্তা কেন্দ্রিক জটিলতার উর্ধ্বে উঠে অভিবাসনের এই বৈশ্বিক কম্প্যাক্টের জন্য প্রাধিকার ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং এর বাস্তবায়ন ও প্রশমন প্রক্রিয়ার উপর জোর দেই, যাতে ‘কেউ পিছনে পড়ে না থাকে”।  তিনি আরও বলেন, “অভিবাসনের বৈশ্বিক কম্প্যাক্ট এর মূল নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বাস করে এই কম্প্যাক্ট হবে বৈশ্বিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনার একটি তাৎপর্যপূর্ণ দলিল। আমরা সে প্রত্যাশার কথাই এই বৈশ্বিক ফোরামে তুলে ধরছি”।এমপি ফারুক খানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সংসদীয় দল আইপিইউ’র সভাপতির সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে আইপিইউ’র চলমান কর্মকান্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সভাপতি গ্যাব্রিয়েলা কুইভাস ব্যারণ (এধনৎরবষধ ঈঁবাধং ইধৎৎড়হ) বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের সাথে আলোচনা করেন।

alt
বিকালে ‘অভিবাসনের বৈশ্বিক কমপ্যাক্ট ও ফলোআপ: সংসদ সদস্যগণের ভূমিকা’ শীর্ষক বার্ষিক সংসদীয় শুনানীর এক সাইড ইভেন্টে প্যানেলিস্ট হিসেবে সংসদ সদস্য মো: ইসরাফিল আলম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আমাদেরকে অভিবাসন সংক্রান্ত বৈশ্বিক নীতির ঘাটতি মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে পথ দেখায়। এটা আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের যে শরণার্থী ও অভিবাসন সংক্রান্ত নিউইয়র্ক ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ‘অভিবাসনের বৈশ্বিক কমপ্যাক্ট” ধারণাটি এনেছিল এবং এ সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবনা অন্যান্য দেশ গ্রহণ করেছিল। বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে এই কমপ্যাক্টটি হবে অভিবাসন বান্ধব ও প্রাধিকারভিত্তিক যা বৈশ্বিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখবে”।
 মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত এক মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছেন মর্মে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা চাই বাস্তুচ্যুত এসকল মিয়ানমারের নাগরিক স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, নিরাপত্তার সাথে পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাবে”। তিনি গত সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে যে পাঁচ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছিলেন তার উল্লেখ করেন।
নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক ও নিয়মিত অভিগমনের কম্পাক্টের ক্ষেত্রে অভিবাসীদের মানবাধিকার সুরক্ষা, শ্রমবাজারের প্রয়োজনে নতুন নতুন চ্যানেল উন্মুক্ত করা, অভিবাসীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়াসহ বেশ কিছু প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন এমপি ইসরাফিল আলম।

alt
মাইগ্রেশন কম্পাক্টের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের বিবিধ ভূমিকা ও দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আমরা অভিবাসনের উপর একটি ‘জাতীয় সংসদীয় ককাস’ গঠন করেছি। এই ককাস গ্লোবাল কম্প্যাক্টের জন্য জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কনসালটেশনে নিয়োজিত রয়েছে”।
আইপিইউ’র বার্ষিক সংসদীয় শুণানীর দুদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আজ সমাপ্তি হল। আইপিইউ’র এবারের এই বার্ষিক শুণানীতে আরও অংশ নেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, ফখরুল ইমাম, আনোয়ারুল আবেদীন খান, আয়েন উদ্দিন, রোকসানা ইয়াসমিন ছুটি ও জেবুন্নেছা আফরোজ।


নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে সম্মিলিত একুশ উদযাপন

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

প্রবাসে বাংলা ভাষার প্রসার এবং ভাষা শহীদদের স্মরণে সম্মিলিতভাবে ২০ টি সংগঠনের সমন্বয়ে সম্মিলিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উদযাপন কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেসে উদযাপিত হয় মহান একুশে। ২০ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বিকেল

alt

থেকে শুরু হওয়া নানান কর্মসূচি শেষ হয় একুশের প্রথম প্রহরে অস্থায়ী শহীদ মিনারে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যে দিয়ে। অনুষ্ঠানমালায় ছিল আলোচনা, স্মৃতিচারণ, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও বর্ণমালা প্রতিযোগিতা, যাদু প্রদর্শণী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ নানা আয়োজন। শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও বর্ণমালা প্রতিযোগিতার স্পন্সর ছিল মামুন’স টিউটোরিয়াল।

alt

সম্মিলিত একুশ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শামীম মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান লুইস সেপুলভেদা, কমিটির আহ্বায়ক আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার, মামুন’স টিউটোরিয়ালের কর্ণধার প্রফেসর শেখ alt

আল মামুন, বিশিষ্ট রাজনীতিক আব্দুর রহিম বাদশা, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশের সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু, সম্মিলিত একুশ উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী এ. ইসলাম মামুন, কমিটির কর্মকর্তাalt

নজরুল হক, মাহবুব আলম, শাহেদ আহমেদ, নুর উদ্দিন, মঞ্জুর চৌধুরী জগলুল, আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী খসরু, সেবুল খান মাহবুব, মোঃ শামীম আহমদ, বুরহান উদ্দিন, আবুল খায়ের পলাশ, নাহিদ খান, রেক্সনা মজুমদার, মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, আব্দুর রব দলা মিয়া,

alt

সোহান আহমদ টুটুল, কফিল চৌধুরী, মো. সোলায়মান আলী, নূরে আলম জিকু, তৌফিকুর রহমান ফারুক, মোঃ রফিকুল ইসলাম, কামরুন্নাহার রিতা, মুক্তিযোদ্ধা আবু কাওসার চিশতি, পার্কচেষ্টার ব্রঙ্কস রিয়েলটির সালেহ উদ্দিন সাল, পার্কচেষ্টার ফ্যামেলী ফার্মেসীর কর্ণধার alt

গৌরব কুঠারী, খলিল বিরিয়ানী হাউজের কর্ণধার খলিলুর রহমান, সিপিএ আহাদ আলী, মেয়র অফিস প্রতিনিধি মরিয়ম, মূলধারার রাজনীতিক নাটারিয়া ফর্নান্দেস, ফয়সল চৌধুরী, মোশাহীদ চৌধুরী, সরওয়ার চৌধুরী, সামাদ মিয়া জাকের, জাকির চৌধুরী, রতন কুমার চক্রবর্তী, শাহ সুফিয়ান প্রমুখ।

alt

নতুন প্রজন্মসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শহীদদের স্মরণে নিরবতা পালন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন নাসরিন চৌধুরী, কামরুন নাহার রিতা ও জুলি রহমান। এছাড়াও কবিতা আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশন করে আমাদের পাঠশালার ছাত্র-ছাত্রীরা। এপর্ব পরিচালনা করেন মণিকা মন্ডল ও সুপ্রিয়া নন্দী।alt

সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী তাহমিনা শহিদ, ন্যান্সি খান ও আফজাল।
অনুষ্ঠানে আব্দুর রব দলা মিয়া, শেখ আল মামুন, সাইদুর রহমান লিংকন ও মেরী জুবায়দাকে জুবায়ের অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।alt

একুশের প্রথম প্রহরে অস্থায়ীভাবে নির্মিত শহীদ মিনারে ২০ টি সংগঠন সহ অন্যান্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।


কুমিল্লা সোসাইটি অব ইউএসএ ইনক এর একুশ উদযাপন

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে :মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে বিন¤্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সকল ভাষা শহীদদের স্মরণে উডসাইডের গুলশান টেরেসে অস্থায়ী শহীদ মিনারে কুমিল্লা সোসাইটি অব ইউএসএ ইনক এর পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পন করা হয়।

সোসাইটির সভাপতি আবুল খায়ের আকন্দ ও সাধারন সম্পাদক সালাউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে শহীদ মিনারে ফুল প্রদান করেন সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির অন্যতম উপদেষ্টা আবুল বাশার মিলন, সোসাইটির  সহ সাধারন সম্পাদক আ.স.ম. খালেদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক আব্দুল আলীম ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কামাল হোসেনসহ আরো অনেকে।


নিউইয়র্কে বাংলাদেশী-আমেরিকান ডেমোক্রেটিক সোসাইটির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

গত ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে ব্রঙ্কসে সম্মিলিতভাবে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন সংগঠনের সভাপতি শামীম আহমেদ, সংগঠনের সহ সভাপতি ও তিতাস মাল্টি সার্ভিস’র প্রেসিডেন্ট মেহের চৌধুরী, সংগঠনের সহ সভাপতি ফয়ছল আহমেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মশকুরুল হক সহ অন্যান্য সদস্যরা। এর আগে অস্থায়ী শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।


বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার দাবীর কথা পুনরুল্লেখ করলেন এমপি ফারুক খান

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : দ্বিতীয়বারের মতো জাতিসংঘ সদরদপ্তরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক আবহে উদযাপন করা হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতিসংঘ সদরদপ্তর, ইউনেস্কোর নিউইয়র্কস্থ কার্যালয়, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র অফিস এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনসহ  কলম্বিয়া, ফিজি ও তানজানিয়া মিশনের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় সময় বিকাল পাঁচটায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪ এ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

alt
নিউইয়র্ক সফররত বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বাংলাদেশ ডেলিগেশনের পক্ষে এসভায় বক্তব্য প্রদান কালে বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার দাবীর কথা পুনরুল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। বাংলা বিশ্বের ষষ্ঠ বা সপ্তম জনপ্রিয় ভাষা, যাতে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ কথা বলে”। বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবনা বিবেচনায় আনতে তিনি উপস্থিত জাতিসংঘের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

alt
ভাষা আন্দোলন সংগঠনে এবং আন্দোলনকে বেগবান করতে তরুন ছাত্রনেতা হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভূমিকা রেখেছেন এমপি ফারুক খান তা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে অর্জন করেছিল মহান স্বাধীনতা”।তিনি আরও বলেন, “বিশ্বসভায় বাংলাভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে জাতির পিতা ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথমবারের মতো বাংলায় ভাষণ দেন যা অনুসরণ করে প্রতিবছর সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা”। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথমবারের সরকারের সময় ২০০০ সালে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাঁরই প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ২০০১ সালে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট যা বিশ্বের সকল ভাষা সংক্রান্ত গবেষণা এবং ভাষা সংরক্ষণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে মর্মে এমপি ফারুক খান উল্লেখ করেন।

alt
এর আগে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-এই দুই পর্বে বিভক্ত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এ আয়োজনের শুরুতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাগত ভাষণ দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। রাষ্ট্রদূত মাসুদ দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণীর অংশবিশেষ উদ্বৃত করে বলেন “মহান একুশে ফেব্রুয়ারির সেই রক্ত¯œাত গৌরবের সুর বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে আজ বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মানুষের প্রাণে অনুরণিত হচ্ছে”।আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কো প্রদত্ত এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভাষাগত বৈচিত্র এবং বহুভাষাবাদ: স্থায়িত্ব ও শান্তির মূল ভিত্তি’ উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “টেকসই শান্তি ও এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নের সাথে এটি ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কিত”।
 রাষ্ট্রদূত উদ্বেগের সাথে বলেন, “ভাষা বিজ্ঞানীদের মতে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক ভাষা বিলুপ্ত হয়ে যাবে যা এজেন্ডা ২০৩০ এর সাথে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া সময়ের দাবী, আর তা হলেই হয়তো আমরা টেকসই উন্নয়ন লক্ষের ‘কেউ পিছনে পড়ে থাকবে না’ এই অন্যতম প্রতিপাদ্য অর্জন করতে পারবো”।

alt
অনুষ্ঠানটির আলোচনা পর্বে অংশ নেন জাতিসংঘে নিযুক্ত কলম্বিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মিজ্ মারিয়া ইম¥া মেহিয়া ভেলেজ (গধৎল্পধ ঊসসধ গবলল্পধ ঠল্কষবু), তানজানিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি মডেস্ট জে. মিরো (গড়ফবংঃ ঔ. গবৎড়), ফিজি’র চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স লুকে দাউনি ভালু, জাতিসংঘের জেনারেল এসেম্বিলী ও কনফারেন্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মিজ্ ক্যাথরাইন পোলার্ড (ঈধঃযবৎরহব চড়ষষধৎফ) এবং ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক ইনফরমেশন ও গ্লোবাল কমিউনিকেশনের প্রধান আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অ্যালিসন স্মেল (অষরংড়হ ঝসধষব)।আলোচকগণ পৃথিবীর প্রতিটি ভাষার সংরক্ষণ ও সুরক্ষা, বহুভাষিক শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়া এবং ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বাহন হিসেবে গ্রহণ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তাঁরা স্ব স্ব দেশের ভাষাগত বৈচিত্র, এর সংরক্ষণ ও উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।জেনারেল এসেম্বিলী ও কনফারেন্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মিজ্ ক্যাথরাইন পোলার্ড ভাষাগত বৈচিত্র ও বহুভাষাবাদের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার কার্যকর সংরক্ষণ আমরা কীভাবে করবো যদি নিজেকে বুঝাতে ও অপরকে বুঝতে না পারি, কীভাবে আমরা সকলকে নিয়ে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে অগ্রসর হবো যদি না স্থানীয় অংশীজনদের ভাষার ব্যবধান বিবেচনায় না আনি এবং সহিংসতার শিকার কোনো ব্যাক্তি যে ভাষায় কথা বলছে তা যদি বুঝতে না পারি তাহলে কীভাবে আমরা তার মানবাধিকার সংরক্ষণ করবো”।

alt
ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক ইনফরমেশন ও গ্লোবাল কমিউনিকেশনের প্রধান জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অ্যালিসন স্মেল বলেন, “আমরা যদি গোটা বিশ্বকে প্রকৃতভাবে সংযুক্ত করতে চাই, তবে অবশ্যই তা আমাদের স্থানীয় ভাষা অর্থাৎ মাতৃভাষার মাধ্যমে করতে হবে কারণ মাতৃভাষার মাধ্যমেই মানুষ নিজেকে সর্বোচ্চভাবে প্রকাশ করতে পারে”। তিনি ডিপিআই-এর যোগাযোগ ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করেন। ‘আমরা মানুষের জন্য (ডব ঃযব চবড়ঢ়ষবং)’ - প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়েছে মর্মে উল্লেখ করে মিজ্ স্মেল বলেন, “মানুষের কথা বলার অধিকারকে বৃদ্ধি করে আমরা তা করতে পারি”।

alt
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ও নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের বাণী অনুষ্ঠানটিতে পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের বিদেহী আত্মার স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার উপর রচিত একটি প্রামাণ্য ভিডিও অনুষ্ঠানটিতে পরিবেশন করা হয়।

alt
বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পর্বের সুচনায় যুক্তরাষ্ট্রের শ্রী চিন্ময় গ্রুপ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ নিয়ে থিম সঙ্গীত এবং শ্রী চিন্ময় রচিত একটি কবিতা বিভিন্ন ভাষায় আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানে ইউএন চেম্বার মিউজিক সোসাইটি সংগীত পরিবেশন করেন। তাছাড়া জাতিসংঘের জেনারেল এসেম্বিলি ও কনফারেন্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগে কর্মরত ভাষা কর্মীগণ বিভিন্ন ভাষায় মানবাধিকার চার্টারের অংশ বিশেষ পাঠ করেন।

alt
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়ক সফররত বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সংসদ ফখরুল ইমাম, আনোয়ারুল আবেদীন খান ও রোখসানা ইয়াসমিন ছুটি। জাতিসংঘে নিযুক্ত সদস্য দেশগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধি ও প্রতিনিধিগণ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাঙালি, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মিডিয়া কর্মীগণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

মিশনের বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত রাত ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহর পর্যন্ত আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শুরু হয় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন-এর স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে। এরপর বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অতপর দিবসটি উপলক্ষে দেয়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

alt

রাত দশটায় শুরু হয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে উন্মুক্ত আলোচনা।অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশের সংসদ সদস্য সংসদ মুহাম্মদ ফারুক খান, মুন্নুজান সুফিয়ান, ইসরাফিল আলম, ফখরুল ইমাম, আনোয়ারুল আবেদীন খান, জেবুন্নেছা আফরোজ ও রোখসানা ইয়াসমিন ছুটি।

alt
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাঙালির উপস্থিতিতে নিউইয়র্ক সময় ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে মিশনস্থ অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন করে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। “আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি” গানের সাথে সাথে রাত ১২টা ১মিনিটে মিশনে স্থাপিত শহীদ মিনারে সংসদ সদস্যগণ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুস্পস্তবক অর্পন করেন। এরপর জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের নেতৃত্বে মিশনের কর্মকর্তা কর্মচারিবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিস, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, গোপালগঞ্জ জেলা সমিতি, যুক্তরাষ্ট্র পেশাজীবি সংগঠন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যুক্তরাষ্ট্র, সিলেট সদর সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং উপস্থিত প্রবাসী বাঙালিগণ।

alt
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। তিনি মহান ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি জাতি উপনীত হয় ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে। আমরা পাই লাল-সবুজের পতাকা। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। জাতির পিতা ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন। বিশ্বসভায় উচ্চকিত হয় বাংলা ভাষা”।জাতির পিতার পথ ধরেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন মর্মে উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষের ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে প্রস্তাবনা রেখেছেন। এটির বাস্তবায়নে আমরা আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি”।

alt
প্রবাসী বাঙালিদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বলেন, “ আসুন, প্রবাসের সকল বাঙালি একুশের চেতনাতলে একতাবদ্ধ হই। বাংলাভাষার মর্যাদা উর্ধ্বে তুলে ধরি। পরিবার এবং সমাজে বাংলার শুদ্ধ চর্চা অব্যাহত রাখি। দেশ ও জাতির উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি”।সংসদ সদস্যগণ তাঁদের বক্তৃতায় মহান ভাষা আন্দোলনসহ সকল আন্দোলন-সংগ্রামে বাঙালি জাতির বীরত্বের কথা পুনরুল্লেখ করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বের কথা। দীর্ঘ কারাভোগের কথা। নিজের জীবন দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, একটি জাতিসত্তা সৃষ্টি করার কথা। বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য রোখসানা ইয়াসমিন ছুটি, সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান, সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম, সংসদ সদস্য মুন্নুজান সুফিয়ান ও সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান। তাঁরা সকলেই জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রবাসের সকল বাঙালিকে দলমত নির্বিশেষে কাজ করার আহ্বান জানান। সংসদ সদস্যগণ বলেন, বাংলাদেশের সাথে আপনাদের নাড়ীর টান। মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল সঙ্কটে প্রবাসী বাংলাদেশীরা সবসময়ই ভূমিকা রেখেছেন। প্রবাসীদের এই ভূমিকা সবসময় অব্যাহত থাকবে মর্মে সংসদ সদস্যগণ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম। তিনি প্রবাসীদেরকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন তাঁরা যেন তাঁদের সন্তান-সন্তন্তিদের ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানান। যাতে দেশের সাথে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

alt
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। আগামীতে আমরা বিশ্বের নেতৃত্ব দিব”। আগামী নির্বাচনে তিনি আবারও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞকে এগিয়ে নিতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।

alt
বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, উপদেষ্টা মাসুদুল হাসান, মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরীসহ প্রবাসী বাঙালি নেতৃবৃন্দ। বক্তাগণ মহান একুশের চেতনাকে ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ ও জাতির উন্নয়নকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সুধীজনদের বক্তৃতায় নতুন প্রজন্মকে মহান ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আরও ব্যাপকভাবে জানতে এবং এরই আলোকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখতে উদ্বুদ্ধ করা হয়।


খালেদা জিয়ার পুরো মামলা ও রায় রাজনৈতিক

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ: নিউইয়র্ক: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলা ও রায় পুরো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত। আর সরকারের কর্মকান্ডই প্রমান করে দেশে আইনের শাসন নেই, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থির চরম অবনতি ঘটেছে। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার পদত্যাগ, সিনিয়র বিচারপতিকে ডিঙ্গিয়ে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ওয়াহাবের পদত্যাগের ঘটনা স্বাধীর বিচার ব্যবস্থার জন্য হুমকী। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রাণের দাবী ভোটাধিকার সহ ‘নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক’ রুটে বিমান চালুর জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। এক সাক্ষাৎকারে এডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল উপরোক্ত কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধস্তন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলা ও বিধি গেজেট প্রকাশ সংক্রান্তে সুপ্রীম কোর্ট বার্সাস আইন মন্ত্রনায়ের বিতর্ক এবং পদত্যাগে বাধ্য প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার রায়, পরবর্তী ঘটনাবলী এবং বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাস্তি একই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের পদক্ষেপ। দেশে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ও দূর্নীতি, লুটপাট বন্ধ করার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়নি। তার মামলা ও রায় পুরো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

alt
জাসদ তথা বাংলাদেশের রাজনীতিতে জড়িত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭৬-৭৭ সময়ে স্বাধীনতার পতাকা উত্তেলোক প্রখ্যাত ছাত্রনেতা আসম আব্দুর রবের অনুসৃত নীতি ও কর্মসূচীর প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ের সঙ্কটকালে আসম আব্দুর রবের সাহসী ভূমিকা এবং উপনিবেশিক আমলের আইন-কানুনকে সংস্কার করে স্বাধীন দেশের উপযোগী আইন-কানুন বিধি-কাঠামো প্রণয়নের দাবীতে সংগ্রাম এবং আন্দোলনে নিজেকে যুক্ত করার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে পদার্পণ।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাসদ-এর জন্ম প্রসঙ্গে সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বলেন, যে লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, স্বাধীনতা পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ না করে অওয়ামী লীগের সরকার প্রতিষ্ঠিত করায় এবং বৃটিশের আনি-কানুনকে বলবৎ রেখে দেশ পরিচালনা করায়, স্বাধীন দেশের উপযোগী আইন-কানুন, বিধি-কাঠামো তৈরী না করায় মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একটি বিশাল জনগোষ্ঠী আশাহত হন। যার কারনেই জাসদ-এর জন্ম এবং রাজনীতি শুরু হয়। জাসদ-এর রাজনীতির আজো প্রয়োজন রয়েছে।
প্রসঙ্গত তিনি আরো বলেন, জেএসডি এখনো তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়নি, বরং জেএসডি’র লক্ষ্য সম্পর্কে দেশের জনগন অকিবহাল হচ্ছে এবং জেএসডি’র কর্মসূচীর সাথে দেশের বিপুল সংখ্যক সচেতন মানুষ একাত্বতা প্রকাশ করছে এবং কর্মসূচী বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। জেএসডি’র উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে: বাংলাদেশে ৯টি প্রদেশ গঠন করা, দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠা, ফেডারেল পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।
বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচন বাঙালী জাতির জন্য বিষফোঁড়া। ঐ নির্বাচনে যে পদ্ধতিতে যে প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ এবং নির্বাচনী কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সহায়তায় যেভাবে সরকার গঠন করা হয়েছে, যা দেশের জনগণ মেনে নেয়নি। ভোটার বিহীন নির্বাচনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বরং শেখ হাসিনার সরকার দেশে উন্নয়নের জোয়ার নয়, লুটপাট ও দূর্নীতির জোয়ারে দেশকে ভাসিয়ে দিচ্ছেন।
বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, সত্যি কথা বললে বলতে হবে- দেশে আইনের শাসন নেই, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থির চরম অবনতি ঘটেছে দেশে চাকুরী ক্ষেত্রে প্রমোশন ও লোভনীয় পোস্টিং, গুম, খুম ও ক্রস ফায়ারে কোন পুলিশ অফিসার কত পারদর্শী তার উপর নির্ভর করছে।

alt
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বলেন, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিক হলে, নির্বাচন কমিশন তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হলে, দেশের জনগণ নির্ভিঘে, নিশ্চিন্তে, নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগ করতে পারলে এবং সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের দিকে পথচলা শুরু করলে সুদূর পরাহত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন জাতির ভাগ্যে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলালের স্থায়ী বসবাস লক্ষীপুর জেলা সদর পৌরসভায়। জাসদ ছাত্রলীগের মাধ্যমে তার ছাত্র রাজনীতি শুরু। জাসদ ছাত্রলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১৯৮১ সালে তিনি লক্ষীপুর সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। বিগত ৩৭ বছর ধরে তিরি রাজনীতির জাসদ ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনীতির সাথে জড়িত এবং নির্বাহী পদের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি সৌদী আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে কানাডা হয়ে সস্ত্রীক কোহিনুর আক্তার রুমা-কে সাথে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেড়াতে আসেন ৫ ফেব্রুয়ারী। তার স্ত্রী শিক্ষকতা পেশার সাথে জড়িত।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থাকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র জেএসডি’র নেতা-কর্মী ছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থধানরত যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ এবং প্রবাসী লক্ষীপুরবাসীদের সাথে মতবিনিময় করছেন।১২ ফেব্রুয়ারী তার ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের করছেন ।
জেএসডি, যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক শাসুদ্দীন আহমেদ শামীম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জনিয়ার মীর মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন খান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় নেতা এডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলালকে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।