Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

প্রবাসীদের কাছের মানুষ নার্গিস আহমেদ

সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭

 তার নাম দিল আফরোজ আহমেদ, কিন্তু তাকে সবাই নার্গিস আহমেদ নামেই চেনে। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। প্রবাসে পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সমাজ সেবাসহ আমেরিকার মেইন স্ট্রিমে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন কৃতি এই প্রবাসী নারী। সম্প্রতি তিনি দেশে এসেছেন। নানা ব্যস্ততার ফাঁকে একদিন বিকেলে এসেছেন প্রবাস মেলা কার্যালয়ে। তার প্রবাস জীবনের নানা বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন প্রবাস মেলা’র রিপোর্টার মো: মোস্তফা কামাল (মিন্টু)। তাদের আলাপচারিতার চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করা নার্গিস আহমেদ ঢাকার আজিমপুর গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও বৈবাহিক সূত্রে এখানে পড়াশোনা না করেই ১৯৮১ সালে স্বামীর সাথে আমেরিকায় চলে যান। আমেরিকায় তিনি ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম এর উপর পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি জুরিস ওয়ার্ল্ডে ম্যানেজার হিসেবে ট্রাভেল ট্যুরিজম পেশায় যোগদান করেন। এখানে তিনি ফুলটাইম ট্রাভেল এজেন্ট এবং সাপোর্টিং হিসেবে একটানা ২৪ বছর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেন।

নার্গিস আহমেদ ১৯৮৬ সালে রুপসী বাংলা নামে একটি সাপ্তাহিক বাংলা টিভি প্রোগ্রামের নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করেন। এটি ছিলো বাংলাদেশের বাইরে প্রথম বাংলা টেলিভিশন অনুষ্ঠান।

এরপর তিনি ধীরে ধীরে কমিউনিটি অর্গানাইজার হিসেবে একটিভ হতে লাগলেন। বাঙািল কমিউনিটির ১১ জন সদস্য নিয়ে ১৯৮৮ সালে গঠন করলেন ‘বাংলাদেশ সংসদ’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। তখন ‘বাংলাদেশ সংসদ’ ছিলো আমেরিকায় বাংলাদেশিদের প্রথম এবং একমাত্র মানব হিতৈষী সামাজিক সংগঠন যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইংরেজি শিক্ষা দেয়া, আমেরিকান কাস্টমস ম্যানার এন্ড ইথিক্স প্রশিক্ষণ দেয়া, নতুন আভিবাসীদের চাকরির ব্যবস্থা করা, বাংলাদেশিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ অন্যান্য সামাজিক ও মানবহিতৈষী কাজে এগিয়ে আসে। তিনি বলেন, যখন ওপি ওয়ান ভিসা শুরু হয় তখন যাদের ভিসা হত তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে লাগলো এই সংগঠন। নার্গিস আহমেদ একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে একটি কনফারেন্স করলাম। ঘটনাক্রমে মিডিয়ার মাধ্যমে আমার নাম্বারটা অনেকের কাছে চলে যায়। ফলে অনেক জায়গা থেকে আমার কাছে ফোন আসতো। এয়ারপোর্টে আমাদের সংগঠনের নাম্বার দেয়া থাকতো। এমনও হয়েছে আমি আমার পেশাগত কাজ শেষ করে অফিস থেকে বাসায় এসে দেখি এক বাঙালি মহিলা তার বাচ্চাসহ আমার বাসার সামনে হাজির। আমি দীর্ঘ ৬ মাস তাকে আমার বাসায় রাখি।

alt

‘বাংলাদেশ সংসদ’ এর পক্ষ থেকে পুরুষদের গাইডেন্স ক্লাব খোলা হল। যেখানে আমেরিকান লাইফের বিভিন্ন করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়াবলী শেখানো হত। তিনি বলেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে যে বাংলাদেশের বর্র্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রেফারেন্সেও আমাদের কাছে বাঙালিরা গিয়েছেন। অর্থাৎ এ সংগঠনটা এত পরিচিতি পেয়েছিলো যে মানুষের একটা আস্থা তৈরি হয়েছিলো এখানে গেলে বোধ হয় কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

নার্গিস আহমেদের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি আমেরিকার বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি ২০০৬/২০০৭ সালের আমেরিকার বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। সংগঠনটি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। যার সদস্য প্রায় ১৮ হাজারের বেশি। তিনি বাংলাদেশ সোসাইটির প্রথম এবং একমাত্র নির্বাচিত মহিলা প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে তার উল্লেখ্যযোগ্য কাজের কথা জানতে চাইলে বলেন, বয়স্কদের ইংরেজি ভাষা শেখানো, বাচ্চাদের বাংলা ভাষা শেখানো, কম্পিউটার এর প্রশিক্ষণ দেয়া, সেসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য কমিউনিটি থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পাঠানো, প্রবাসীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা। তাছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোকে দলমত নির্বিশেষে পালন করতে পারাকে তার অন্যতম কৃতিত্ব বলে দাবি করেন।

এছাড়াও নার্গিস আহমেদ ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আমেরিকান পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ফ্রন্ট (বিএপিএএফ) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশিদেরকে অমেরিকান মেইন স্ট্রীম পলিটিক্সের সাথে যুক্ত করার স্বার্থে কাজ করেন। তিনি এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। এ সংগঠনটি আমেরিকায় বাংলাদেশি সম্প্রদায় এবং অভিবাসীদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন বলে নার্গিস আহমেদ জানান। তার নেতৃত্বে এ সংগঠন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এর নির্বাচনের সময় ফান্ডরাইজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

নার্গিস আহমেদ ২০০১ সালে ফোবানা’র (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা) নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন নাগরিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রবাসে বাঙালি সঙ্গীত, থিয়েটার, এবং শিল্পের উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ড্রামা সার্কেল’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সফল উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন। নার্গিস আহমেদ বলেন, আমেরিকায় বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখককে বড় আকারে পালন করতে ‘ড্রামা সার্কেল’ অগ্রণী ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, ‘ড্রামা সার্কেল’ এর মাধ্যমেই আমেরিকায় ১ বৈশাখকে ১ বৈশাখে উদযাপন শুরু হয়। এটার মাধ্যমে আমরা যে দিনের যে উৎসব সে দিনে সে উৎসব পালন করতে শুরু করি। আমেরিকাতে মাটির পাত্র সানকির প্রচলন, সুতি শাড়ীর প্রচলন ‘ড্রামা সার্কেল’ এর মাধ্যমেই শুরু হয় বলে তিনি জানান। এভাবে কাজ করতে করতে তিনি প্রবাসীদের অনেক কাছের মানুষ এ পরিণত হন।

নার্গিস আহমেদ আমেরিকার মূলধারার রাজনীতির সাথেও সক্রিয় রয়েছেন। তিনি এশিয়ান আমেরিকান ডেমোক্র্যাটিক অ্যাসোসিয়েশন অফ কুইন্স এর ভোটার নিবন্ধন কমিটির সহ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দক্ষিণ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। গত ১৫ বছর ধরে তিনি কমিউনিটি বোর্ড এইট এর দক্ষিণ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম ফিমেইল সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। জ্যামাইকাতে সিনিয়র সিটিজেন রিক্রিয়েশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মানবসেবায় নিয়োজিত নার্গিস আহমেদ তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হল, এফএল- সিআইও, ইমিগ্রান্টস ডিগনিটি কমিশন, এশিয়ান আমেরিকান ডেমোক্র্যাটিক অ্যাসোসিয়েশন অব কুইন্স, বাংলাদেশ সোসাইটি অফ নিউইয়র্ক, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্ক সহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। অামেরিকার বিশিষ্ট ব্যাক্তিকর্গ বিভিন্ন সময় তার কাজের ব্যাপক প্রশংসা করে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা হলেন, কংগ্রেসম্যান Yvette Clark, সিটি কাউন্সিল মেম্বার Jhon Liu, David Waprin, Halen Sears, Senator Jhon D. Sabini, Senator Ada L.Smith, Assemblyman Jose Peralta। এছাড়া তিনি ২০০৭ সালে William C.Thompson এবং ২০১৪ সালে ‍Scott M. Strainger পুরষ্কারে ভূষিত হন।

প্রবাস জীবনে কেমন কাটছে জানতে চাইলে নার্গিস আহমেদ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি। নিজের জীবন নিয়ে আমি অনেক খুশি। প্রবাসে দেশের মায়া বেশি অনুভব হয় জানিয়ে নার্গিস আহমেদ বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশিরাই বেশি বাঙালিয়ানা প্রকাশ করেন। প্রবাসে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাাদেশকে তুলে ধরতে পারা তার জীবনের অন্যতম সফলতা বলে তিনি দাবি করেন। আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থে কামানো রেমিটেন্সে দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কিছু করা উচিত।

ব্যাক্তিগত জীবনে নার্গিস আহমেদ দুই মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে জামাইকার হিলসে বসবাস করছেন। তার দুই মেয়ে মুনীরা আহমেদ ও কায়েনাত আহমেদ। দুজনই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। তার স্বামী মোস্তাক আহমেদ পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট।


শ্রদ্ধার্ঘের ফুল = জুলি রহমান

সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭

পন্চ পারিজাতে সাজিয়ে ছিলাম ফুল।
হয়নি তাতে কোনোই ভুল!
ভালোবাসা শ্রদ্ধার্ঘে মিলে যে তোড়া
এক ফুলেতে হয়না তাঁর জোড়া---

একাকী অতন্দ্র দেঢ়শ বছর
ঘুরেছি পৃথিবীর পথ নদী সাগর
মায়াবী মৌনতা নিয়ে চিন্তাযুক্ত
তাকে আমি বলি ভালোবাসি পাকাপুক্ত---

নয় সময় নয় বয়স সংযমী মন
বিশুদ্ধ আয়োজনে এ বন্ধন!
অকোতভয় ব্যাধিকে করে জয়
একঘেয়ে গোঙানি তাঁর সহ্য নয়--

ট্রেনের চাকায় পিষ্ট নিচের মাটি
যন্ত্রনায় ধরিত্রী ব্রুকলীনের ঘাঁটি
হঠাৎ বারতা সেতো সুস্থ এখন!
স্বস্থির শ্বাস ফেলে রেলটি থামলো তখন---

Picture

নোট-

আজ আমি বেলাল ভাইয়ের অসুস্থতায় ভীষণ রকম উদ্বিগ্ন ছিলাম।যে মানুষটি এই বিরাশিতম বয়সে ও উদিচীর বৈশাখ পার্বণে প্রাণ খোলে নাচতে পারেন;তিনি কী রকম অসুস্থ হলে হাসপাতালে সহ্যাশায়ী হন।ব্রুকলীন যাবার পথে এমনি ভাবছিলাম।এ-ছাড়া আমার অসুস্থতার সময় কড়া শাসনে নিয়মের কথা গুলোই বলতেন।শেষবার বল্লেন।দেখো জুলি তুমি যদি এমন অসুস্থ থাকো আমি কিন্তু তোমার সাথে যোগাযোগই বন্ধ করে দেবো।আরো কতো কথা।আজ উনি নিজেই হাসপাতালে।কতো যে ভয়ে ছিলাম।
আল্লাহর অশেষ মেহের বাণী যে আমাদের প্রাণপ্রিয় বেলাল ভাই সুস্থ আছেন।শাদা আর লালের যে গোলাপ তোড়া তা শত ভালোবাসার অর্ঘ্য স্বরুপ।থাকলো  থাকবে। বিনিময় আপনি দীর্ঘায়ু হউন।কবিতাটি মন দিয়ে পড়ুন।
ব্রোন্কস নিউইয়র্ক-
অন্তমিলে অক্ষর বৃ্ত্তে-


ঢাকার জলজট ও পানিবন্দি মানুষ----অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০১৭

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকার নিম্নাঞ্চলে বিশেষ করে ডিএনডি বাঁধের ভিতরে মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। অতিবৃষ্টি হলেই ঢাকার বর্ধিত এলাকাগুলো পানিমগ্ন হয়। এমনকি অভিজাত গুলশান ও বারিধারায়ও দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। মিডিয়া কর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েন মানুষের দুর্ভোগের ছবি তুলতে। ছবি সত্য কথা বলে। ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলার কথা তুলে ধরেন তারা। বেশিরভাগ সময়ই রিকশা উল্টে যায় পানিতে ও ময়লায় একাকার অর্ধ ডুবন্ত যাত্রীকে দেখানো হয়। কিন্তু ঢাকা শহরের ড্রেনগুলো কিভাবে বন্ধ হলো, কতটুকু ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখনও টিকে আছে, সেগুলো অকেজো হওয়ার পিছনে অর্ধ ডুবন্ত ব্যক্তির কোনো ভূমিকা আছে কিনা তা নিয়ে মিডিয়ায় খুব কমই প্রশ্ন তোলা হয়।

alt
কী পরিমাণ বর্জ্য আমরা যত্রতত্র এবং সরাসরি ড্রেনে ফেলছি তার হিসেব কে করবেন? ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, ঢাকার ড্রেনে পাওয়া যায় না এমন কিছু আর অবশিষ্ট নেই।  মৃত মানুষ, গরু, ফ্রিজ, মোবাইল, ভ্যাট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বা বাদ পড়া কোনো আইটেমই বাদ নেই। সীমিত সামর্থ্য, সেকেলে প্রযুক্তি এবং অদক্ষ দাস শ্রেণির (জীবনমানের বিবেচনায়) অপর্যাপ্ত জনবল নিয়ে শত চেষ্টা করেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব নয়। ধরা যাক, আমাদের বর্তমানে যতটুকু ড্রেনেজ ব্যবস্থা অবশিষ্ট আছে তার শতভাগ কাজ করছে। তাহলেও কি ঢাকার জলজট তাত্ক্ষণিকভাবে নিরসন সম্ভব? দিন-রাতে মিলে যদি ১৩৩ মিলি লিটার বৃষ্টি হয়, তাহলে তাত্ক্ষণিকভাবে এই পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা শহরের অধিকাংশ রাস্তাকেই ড্রেনে রূপান্তর করতে হবে। একদিনে এতো বৃষ্টি হলে পৃথিবীর কোনো শহরেই তাত্ক্ষণিকভাবে এতো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। নিউইয়র্ক শহরে যখন বরফ পড়ে তখন পাঁচ সাত দিন পর্যন্ত কেউ ঘর থেকে বের হতে পারে না। কোনো কোনো রাস্তায় পাঁচ ফুট পর্যন্ত বরফে ঢাকা থাকে। স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। বিমানবন্দর এবং স্টেশনে আটকা পড়ে হাজার হাজার যাত্রী। নিউইয়র্কে বরফ পড়ে, ঢাকায় পানি জমে এই যা ব্যতিক্রম। ভোগান্তি প্রায় একই রকম, শুধু ময়লা-আবর্জনা নেই। তবে এই দুর্ভোগ মোকাবিলায় আমেরিকানরা ধৈর্য দেখায়। ঘরেই বসে থাকে আর আমরা রিকশা বা অন্যের কাঁধে চড়ে স্কুল-কলেজে রওনা হই। বাচ্চাদের নিয়ে টানাটানি করি। আমি তো মনে করি জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিলে স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। যা পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লাস নিয়ে পুষিয়ে নেওয়া যেতে পারে। উন্নত দেশে বরফে ঢেকে গেলে এমনটিই করা হয়।জলাবদ্ধতার জন্য অতিবৃষ্টিকে কারণ হিসেবে দেখা হলেও এর জন্য দায়ী মানুষ। ডিএনডি বাঁধের ভিতরে জলাবদ্ধতার জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে দায়ী করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেউ কেউ বাঁধের ভিতরে মাছ চাষকে দায়ী করছেন। যারা মাছ চাষ করছেন তারা অবৈধভাবে বৈধ কাজটিই করছে। পুরো দোষ মাছ চাষি বা মাছের নয়। যেখানে পানি আর মাছ থাকার কথা ছিল সেখানে গিয়ে মানুষ থাকলে যা হওয়ার তাই হবে। আসলে হয়েছেও তাই। ষাটের দশকে যখন ডিএনডি প্রজেক্ট তৈরি করা হয় তখন সেচ প্রকল্প হিসেবে সেটা তৈরি করা হয়। প্রকল্প এলাকায় মাছ ও সবজি চাষ করে ঢাকাবাসীর প্রোটিন ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করাই এর লক্ষ্য ছিল। ওখানে হাইরাইজ ভবনাদি তৈরি করে বসতি স্থাপনের কথা ছিল না। বর্তমানে পাম্প দিয়ে সেচ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চলছে। এক রাতে যদি অঝোরধারায় বৃষ্টি হয় তারপর যদি আর দশ দিন বৃষ্টি না হয়, তাহলেই কেবল বর্তমানে চালু পাম্প দিয়ে এক রাত্রির বৃষ্টির পানি দশ দিনে নিষ্কাশন সম্ভব। বর্ষাকালে প্রতিদিনেই বৃষ্টি হয়। এ হিসেবে পানি নিষ্কাশনে পাম্পের সংখ্যা ও ক্ষমতা দশগুণ বাড়ালেও ডিএনডি বাঁধের  ভিতরের জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়। বাঁধের ভিতরের ইউনিয়নগুলোই নাকি এতোদিন বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতি দিত। প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিয়ন কাউন্সিলের এ ধরনের ভবন নির্মাণে অনুমোদনের সক্ষমতা ও ক্ষমতা ছিল কিনা? বর্তমানে ইউনিয়নগুলোকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতার সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা আমি দেখছি না। আরো অনেক দিন ডিএনডি বাঁধের ভিতরে হাওরে বসবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে থাকতে হবে বলে মনে হচ্ছে। ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট নির্মাণেও হাওরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। এখনই অবশিষ্ট খালগুলোতে ছোট নৌকা চলাচলের উপযোগী করে তোলা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখা যেতে পারে। বৃষ্টি আর পানির সাথে তাল রেখেই অবকাঠামো ও বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
আমরা যেমন ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে মানুষকে সতর্ক করি, তেমনি ঢাকায় সম্ভাব্য  জলাবদ্ধতার পূর্বাভাস দিতে হবে যাতে মালামালের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা যায়। টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে অন্তত শিশুদের স্কুলগুলো বন্ধ রাখা যেতে পারে। সিটি করপোরেশনের পানি ব্যবস্থাপনার থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেশি মনোযোগী হতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেশি দক্ষতা অর্জন করা গেলে পয়ঃব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ওয়াসার উপর না চাপিয়ে কিছু কৃতিত্ব সিটি করপোরেশনও পেতে পারে। বর্জ্যমুক্ত নগরীই কেবল এই সীমিত অকেজো ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ‘জলজট’কে কিছুটা হলেও কমাবে। আরেকটা বিষয়, আগাম সতর্ক হওয়া দরকার। সেটা হচ্ছে এ বছর বন্যার ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। ঢাকার চারপাশের নদীর পানি স্ফীত হলে জলাবদ্ধতা আরো বাড়বে বৈ কমবে না। দীর্ঘমেয়াদে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ঢাকার আশেপাশের নদ-নদী দখলমুক্ত করা বা খনন করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এ বছরের উদভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের জরুরি কৌশল গ্রহণ করতে হবে। মানুষের সাময়িক দুর্ভোগ কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই হবে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার কাজ।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান : উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


তোমাদের মাদিবা আমাদের ম্যান্ডেলা = এস এম মুকুল

বুধবার, ১৯ জুলাই ২০১৭
alt

মাদিবাখ্যাত নেলসন ম্যান্ডেলা একটি নাম, একজন নেতা, একজন অসাধারণ মানুষ। বিশ্ব রাজনীতির নেতৃত্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী। কালো মানুষের নেতা, বঞ্চিত-শোষিত মানুষের নেতা, বিশ্বনেতাসহ অনেক অভিধায় অভিহিত করা যায় তাকে। কিন্তু তার প্রয়োজন পড়ে না, কারণ তিনি নিজেই এখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বিশেষণের একটি। সাত শ কোটি মানুষের মধ্যে তিনি একজনই ম্যান্ডেলা। বৈচিত্র্য, বৈপরীত্যের মাঝে ঐক্য স্থাপনে অসাধারণ নেতৃত্বের অনুপম উদাহরণ সৃষ্টি করে পৃথিবীর রাজনীতিকদের দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রক্ষমতার মোহ, জনপ্রিয়তার দাপট এবং দলের নেতৃত্ব থেকে কিভাবে দূরে সরে যেতে হয় বিশ্ব রাজনীতিবিদদের সে শিক্ষার পথও দেখিয়েছেন তিনি। ধৈর্য ধারণের ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। নেতা নন মানুষ, মানুষ নন সেবক-তার এই জীবন দর্শন আজ বিশ্বে অনুসরণীয়। তিনিই পেরেছেন ১৯৯৯ সালে ক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরে দাঁড়াতে। ক্ষমতার বলয়ে না থেকে তিনি ঘুরে বেড়ালেন, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বিনিময় করলেন তার রাজনৈতিক দর্শন আর আদর্শের মূলমন্ত্র। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৮ জুলাইকে ‘ম্যান্ডেলা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতার ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৮ জুলাই ম্যান্ডেলার জন্মদিন বলে তার স্মরণে এ দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম ১৯১৮ সালে। তার বাবা ছিলেন ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের থেম্বো রাজকীয় পরিবারের কাউন্সিলর। বাবা নাম রেখেছিলেন রোলিহ্লাহ্লা ডালিভুঙ্গা মানডেলা। স্কুলের এক শিক্ষক তার ইংরেজি নাম রাখলেন নেলসন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার আপামর মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ‘মাদিবা’। তরুণ বয়সে নেলসন ম্যান্ডেলা চলে আসেন জোহানেসবার্গে, সেখানে তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের যুব শাখার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে।

ম্যান্ডেলা নিজের আদর্শের প্রতি ছিলেন অবিচল আস্থাবান। দূরদর্শিতা, আত্মসংযম, একনিষ্ঠতা আর সংগ্রামের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে তিনি নিজের জায়গা ঠিক করতেন। এ কারণে ম্যান্ডেলার নেওয়া জাতিগত সম্প্রীতির আদর্শ এখন অনেকের কাছেই অনুরণীয় হয়ে থাকবেন। সদা বিনয়ী ম্যান্ডেলা কখনই প্রশংসার ¯্রােতে গা ভাসাতেন না। নৈতিক আদর্শের প্রতি তার অটল অবস্থানকে আফ্রিকার সুউচ্চ পর্বত থাবানার চেয়ে দৃঢ়ত্ব হিসেবে তুলনা করেছেন কেউ কেউ। আবার রাজনৈতিক সংগ্রামে কৌশল গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন কোমলে আর কঠিনে মেশানো অসাধারণ নেতা। তার অদম্যতা তাকে ঐতিহাসিক রিভোনিয়া ট্রায়াল ও রোবেন দ্বীপে ২৭ বছর কারা নির্যাতনের পরও নীতি থেকে টলাতে পারেনি। তাই ক্ষমতাধর আফ্রিকান সাদারা কালো ম্যান্ডেলার অদম্য-অহিংসতার কাছে আত্মসমর্থন করতে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৬৪ সালে

পাতানো বিচার চলার সময় ম্যান্ডেলার সেই উক্তিটা রীতিমতো বাণী হয়ে থাকবে-‘আমি শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়েছি, কালোদের আধিপত্যের বিরুদ্ধেও একইভাবে লড়েছি।’

ম্যান্ডেলা খাপছাড়া চিন্তা করতেন না। সফল হোক বা না হোক, পরিকল্পনাগুলো লিখে রাখতেন। তার রাজনৈতিক কর্মকা- ছিল সুসংগঠিত। দক্ষিণ আফ্রিকায় শাসক গোষ্ঠীর চলমান অত্যাচার নির্যাতনের বিপক্ষে প্রতিবাদের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন মাদিবা খ্যাত ম্যান্ডেলা। কালো মানুষদের সমঅধিকারের পক্ষে, বর্ণবাদের বিপক্ষে ক্রমাগত আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদী কণ্ঠের প্রতীকী নাম পুরুষ হয়ে ওঠেন তিনি। পরিণতি হিসেবে ২৭ বছর কারাগারে বন্দি থেকে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয়। ১৯৬২ সালে পাঁচ বছর ও ১৯৬৪ সলে যাবজ্জীবন দেওয়া হয় তাকে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো জেলে গিয়েও স্বপ্নহারা হননি ম্যান্ডেলা। ১৯৯০ সালে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ক্ষমতায় গিয়ে বিরোধীদের ওপর সামান্যতমও প্রতিশোধ নিলেন না।

ম্যান্ডেলাকে বলা হয় মাস্টার কমিউনিকেটর। দেহের ভাষা থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানেও সিদ্ধহস্ত ম্যান্ডেলা কারাবন্দি থেকেও অনুসারীদের সঙ্গে আদর্শগত যোগাযোগ ঠিকই বজায় রেখেছেন। তিনি এমনি একজন নেতা, যিনি ১৯৬৪ সালে যাবজ্জীবন কারাদ- হওয়ার পর সারাবিশ্বে বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠেন। ২৭ বছর কারাগারে অন্তরীণ থেকেও বর্ণবাদ আন্দোলনের প্রাণ হারাতে দেননি। অসীম ধৈর্য আর অপেক্ষায় মুক্তির রূপরেখা এঁকেছেন জেলখানায় বসে। স্বাধীনতার স্বাদ পেয়ে, ক্ষমতার অধরা শক্তি হাতের মুঠোয় পেয়েও এককালের নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে গেলেন না। প্রতিশোধ নিলেন না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলেন। রাষ্ট্র পরিচালনা করলেন দক্ষতার সঙ্গে। দেশটির অর্থনৈতিক আদল পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখলেন। ম্যান্ডেলা শিখিয়েছেন, দেশকে বিভক্ত রাখা নয়, তাকে ঐক্যবদ্ধ করাই সফল রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রমাণ। তারপর ১৯৯৯ সালে ক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠার

সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরে দাঁড়ালেন। ঘুরে বেড়ালেন, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে, বিনিময় করলেন তার রাজনৈতিক দর্শন আর আদর্শের মূলমন্ত্র। এরপর ২০০৪ সালে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন। আর দুনিয়ার মানুষদের উদ্দেশে বললেন- ‘তোমরা আমাকে খোঁজ কর না, আমিই তোমাদের খুঁজে নেব।’

ম্যান্ডেলা কখনো নিজেকে আন্দোলনের প্রধান নেতা হিসেবে বিবেচনা করেননি। নেতৃত্বের কথা এলেই তিনি ‘আমি’ না বলে ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করতেন। তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ লং ওয়াক টু ফ্রিডমে ম্যান্ডেলা লিখেছেন, একজন নেতা হলেন মেষপালকের মতো। মেষের দল থাকবে সম্মুখে। যারা সবচেয়ে চতুর ও দ্রুত পথচলায় সক্ষম, মেষপালক তাদের সামনে এগোনোর পথ করে দেবে। অন্যরা তাকেই অনুসরণ করে চলবে, অথচ জানতেও পারবে না পেছন থেকে কে তাদের পরিচালিত করছে। তার বন্দিজীবনের রোবেন দ্বীপের কারাগারকে তিনি আখ্যা দিয়েছিলেন রোবেন ইউনিভার্সিটি হিসেবে। ম্যান্ডেলা তার জীবনীতে লিখেছেন, কারাগারে ম্যান্ডেলা ও তার সহবন্দিরা একটি চুনাপাথরের খনিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কারাগারেও বর্ণভেদ প্রথা চালু ছিল। কৃষ্ণাঙ্গ বন্দিদের সবচেয়ে কম খাবার দেওয়া হতো। সাধারণ অপরাধীদের থেকে রাজনৈতিক বন্দিদের আলাদা রাখা হতো। রাজনৈতিক বন্দিরা সাধারণ অপরাধীদের চাইতেও কম সুযোগ-সুবিধা পেত। তাকে সবচেয়ে কম সুবিধাপ্রাপ্ত বন্দিদের তালিকায় রাখা হতো। ম্যান্ডেলা সত্তরের দশকে তার জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাপঞ্জি নিয়ে স্মৃতিকথা লিখে প্লাস্টিক কন্টেইনারে ভরে জেলখানার বাগানে পুঁতে রাখেন পরবর্তীতে এ বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষের গোচরে এলে শাস্তিস্বরূপ তার কারা লাইব্রেরিতে পড়াশোনার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তারপরও তিনি উদার ও আদর্শিক মানসিকতায় সারাবিশ্বের রাজনীতিকদের জন্য একটা উদাহরণ তৈরি করে গেছেন। ক্ষমতায় আসার পর নিজের দলবল নিয়ে পড়ে থাকেননি। সব

ধরনের মন-মানসিকতার লোকদের জড়ো করে তৈরি করতেন আলাপ ও তর্কের পরিবেশ। রাজনৈতিক দূরদর্শী এই মহান নেতা আদর্শ রাজনীতির পথ দেখিয়েছেন এই বলে যে, ‘তোমার প্রতিপক্ষের সঙ্গে যদি শান্তি চাও, তাহলে তার সঙ্গে একযোগে কাজ কর। দেখবে, সে শত্রু নয়, তোমার সহযোগীতে পরিণত হয়েছে।’

২০১২ সালের ডিসেম্বরে ৯৫ বছর বয়সে এই বিশ্বনেতা পিত্তথলির সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আবার ২০১৩ সালের মার্চে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতালে যেতে হয়। জুন মাসের ৮ তারিখে ফুসফুসের সংক্রমণে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন থেকেই সারাবিশ্বের নজর তার পরিণতির দিকে। নির্যাতন, আন্দোলন, কারারুদ্ধতা, মুক্তি, ক্ষমতায়ন, সম্প্রীতির দেশ গঠন, ক্ষমতার মোহ ত্যাগ, জনগণের আড়ালে যাওয়ার মাঝ দিয়ে বিশ্ব রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ

হয়ে ওঠা মানুষটি দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পরলোকে

চলে যান ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর। ১০ ডিসেম্বর বিশ্বনেতারা তাকে সম্মান জানাতে একত্র হন এবং ১৫ ডিসেম্বর জন্মস্থান কুনু গ্রামে সমাহিত হন। নেলসন ম্যান্ডেলা, সবার প্রিয় মাদিবা চলে গেলেন। বিশ্বের মানুষদের জন্য রেখে গেলেন তার সারা জীবনের কীর্তি।

লেখক : বিশ্লেষক ও উন্নয়ন গবেষক


নিউ ইয়র্কে ‘শাহবাগের’ দেখা পেলাম

বুধবার, ১৯ জুলাই ২০১৭

সুলতানা রহমান: নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে :ফুটপাথে হাটছি। অন্য দিক থেকে হেটে আসা ২৪/২৫ বছরের একটা ছেলে আর মেয়ে আকষ্মিক ভাবে আমার পথ রোধ করে দাড়ালো। দুজনই সাদা চামড়া। মেয়েটা প্রেগনেন্ট। নিউ ইয়র্কে গ্রীষ্মের ৮৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় দুজনকেই শ্রান্ত মনে হলো।

মেয়েটা দরদর করে ঘামছে। অত্যন্ত বিনীতভাবে ছেলেটা ইংলিশে যা বললো তার মানে, তারা লং আইল্যান্ডে যাবে। কিন্তু পথে কেউ মেয়েটার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের কাছে কোনো টাকা নেই। ১৪ ডলার দিলে তারা ট্রেনের টিকিট কেটে ঘরে ফিরতে পারে।

মেয়েটা কোনও কথা না বললেও করুণ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। ছেলেটা বারবার বলছে তার বউ আট মাসের প্রেগনেন্ট, গরমে হাঁটতে হাঁটতে খুব কষ্ট পাচ্ছে।

আমার খুব মায়া হলো। ১৪ ডলার ট্রেন ভাড়া একজন অন্তঃস্বত্ত্বা বিপদগ্রস্ত নারীকে দেয়াই উচিত তা আমি নিজে যতই গরিব হই। ব্যাগের চেইন খুলতে খুলতে আমার সামনে পেছনে চলমান পথচারীদের দিকে তাকালাম। তাদের বেশির ভাগই সাদা চামড়ার মানুষ এবং কাউকেই গরিব মনে হলোনা। আমি কি দেখতে তাদের চেয়ে বড়লোক নাকি দেখতে বেকুব? খট করে মাথায় এই প্রশ্ন আসতেই নিজেরে বেকুব মনে হলো।

ব্যাগের চেইন বন্ধ করে বললাম, ‘সো সরি, আমার কাছে ক্যাশ টাকা নেই। চলো তোমাদের লং আইল্যান্ডের ট্রেনে তুলে দেই।’ মেয়েটা ‘ওহ নো’ বলে উঠল, আর ছেলেটা বলল, ‘ট্রেন তো অনেক দূর, তুমি হেঁটে যেতে পারবে আমাদের সঙ্গে?’

Picture

আমি কাছের স্টেশনটি দেখিয়ে বললাম, ‘এখান থেকে একটা ট্রেনে উঠে পরের স্টেশনে তোমাদের ট্রেন পাবে। তোমার বউকেও কষ্ট করে এতো দূর হাটতে হবে না।’

তারা আমার এ প্রস্তাবে রাজি নয়, থ্যাঙ্কু বলে হাটা শুরু করল। ওদের পথ আগলে বললাম, ‘আট মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে আমি এভাবে ছাড়তে পারব না, তোমরা দাঁড়াও, আমি ৯১১ এ কল করে হেল্প চাচ্ছি।’ জামাই, বউ এবার জোড়ে হাঁটা শুরু করলো।

মনে মনে বলি, ‘দেখতে বেকুব হলে কি হবে, তোমাদের ঠিকই চিনতে পেরেছি। তাদের হাঁটার গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমি পৌঁছে গেলাম অনেক বছর আগে, শাহবাগের মোড়ে। সেদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ এক লোক, ভিন্ন ভিন্ন বয়সী তিন নারী তার সঙ্গে, আমার পথ রোধ করে কান্না জুড়ে দিল। তাদের সঙ্গী দুটি শিশু ‘খিদা লাগছে’ বলে আহাজারি করছিল। তারা আকুতি জানালো বাস ভাড়ার। ছিনতাইকারী সব কেড়ে নিয়েছে।

ব্যাগে যে কটা টাকা ছিল, দিয়ে দিলাম। সপ্তাহখানেক বাদে একই গল্প নিয়ে তাদের পেলাম ধানমন্ডিতে! এত বছর বাদে নিউ ইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ায় শাহবাগের দেখা পেলাম…

লেখক: সাংবাদিক


ফরহাদ মজহার ও আমাদের নিরাপত্তাহীনতা = সিরাজী এম আর মোস্তাক

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

০৬ জুলাই, ২০১৭ ইং তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে বিশিষ্ট লেখক ও কবি ফরহাদ মজহারের (০৩ জুলাই) অপহরণ বিষয়ে একটি ভয়ঙ্কর রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টটি সঠিক হলে, তা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। রিপোর্টটির শিরোনাম, “ফরহাদ মজহারকে মারধর করে অপহরণহারীরা (পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দি)”। সেখানে উল্লেখ হয়েছে, ‘অপহরণকারীরা ফরহাদ মজহারকে মাইক্রোবাসে তুলেই মারধর করে এবং বলে, ‘তুই বেশি বাড়াবাড়ি করছিস।’ বর্ণণাক্রমে সেখানে আরো উল্লেখ হয়েছে, ‘সেদিন (০৩ জুলাই)  রাতে ফরহাদ মজহার হানিফ পরিবহনে যশোরের নওয়াপাড়া বাজার অতিক্রম করে বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের সামনে এলেই বাসটি থামানো হয়। অভয়নগর থানার পুলিশ বাসটির সুপারভাইজার হাফিজুর রহমানকে ফোন করে বাসটি থামাতে বলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ফরহাদ মজহারকে বাস থেকে নামিয়ে আনে। পরে র‌্যাব-৬ এর একটি দল তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে তাদের গাড়িতে তোলে। এ নিয়ে পুলিশ ও র‌্যাবের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। ্একপর্যায়ে র‌্যাব তাঁকে নিয়ে উল্টোপথে খুলনার দিকে যেতে থাকে। তখন পুলিশের গাড়িটিও র‌্যাবের গাড়ির পিছু নেয়। প্রায় ১০ কিলোমিটার যাবার পর খুলনার ফুলতলায় ডিআইজির নির্দেশে পুলিশের আরো গাড়ি র‌্যাবের গাড়িকে ব্যারিকেড দেয়। র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এই অবস্থায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর পুলিশ ফরহাদ মজহারকে ঢাকায় নিয়ে যায়।’ এ রিপোর্টটি সঠিক হলে জনাব ফরহাদ মজহারকে ০৪ জুলাই আদালতে তোলা ও জবানবন্দি নেয়ার প্রয়োজন ছিলনা। বিভিন্ন স্তরে তদন্তেরও দরকার ছিলনা। র‌্যাব-পুলিশের উল্লেখিত বিরোধে স্পষ্ট হয়েছে যে, ঘটনাটি সুপরিকল্পিত।

alt
ফরহাদ মজহার একজন সাদামাটা মানুষ। সবসময় লুঙ্গি ও পাঞ্জাবী পরেন। মানিব্যাগের পরিবর্তে মেয়েদের মতো কাছে রাখেন ছোট্ট ব্যাগ। জীবনের শেষ বয়সে এসে বিবেকের তাড়ণায় সত্যের পক্ষে সৎসাহস দেখান। হয়তো এ সৎসাহসের পরিণামই হাড়ে-হাড়ে টের পেলেন। রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পর চরম মনোভঙ্গুর অবস্থা সত্ত্বেও আদালতে জবানবন্দি দিতে বাধ্য হলেন। এখন উক্ত জবানবন্দি ও পুলিশের তদন্তে পার্থক্য দেখা গেছে। হয়তো ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে সাধারণ মানুষও বলির পাঠা হচ্ছে। প্রশাসনের বহু কর্মকর্তাও এর শিকার হয়েছে। ফরহাদ মজহার ছাড়াও বহু ঘটনা রয়েছে।
২০১৬ সালে মহামান্য আদালত জঙ্গি ফাহিম নামে এক যুবককে ১০দিনের রিমান্ড দেয়। পুলিশের কাছে রিমান্ডে থাকার ২য় দিনে হাতকড়া অবস্থায়ই কথিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে সে নিহত হয়। এতে স্পষ্ট হয়, কথিত সন্ত্রাসীরা পুলিশের চেয়েও শক্তিশালী! তারা পুলিশের যিম্মায় থাকা ব্যক্তিকেও হত্যা করতে পারে। এ ঘটনায় পুরো জাতি স্তম্ভিত হয়। এর পরপরই কথিত সন্ত্রাসীদের দ্বারা দেশে বেশকটি দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে। ০১ জুলাই, ২০১৬ তারিখে গুলশান হলি আর্টিজান রেষ্টুরেন্টে হামলা তার অন্যতম। সেদিন কথিত মাত্র ছয় জঙ্গি গ্রেনেড ছুঁড়ে ২পুলিশ হত্যা ও ৪০পুলিশকে আহত করার পর অবিশ্বাস্যভাবে ১৫বন্দিকে ছেড়ে দেয়। আর আমাদের দক্ষ প্রতিরক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিক অভিযান না চালিয়ে জঙ্গিদেরকে সারারাত অবকাশ দেয়। সন্ত্রাসীরা অবকাশ পেয়ে ২০জন বন্দিকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং হোটেলের রক্তাক্ত মেঝেতে সারারাত নিরবে কাটায়। পরদিন ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ শুরু হলে, সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করে নিহত হয়। তাদের পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়। কথিত পরিবার-পরিজন জঙ্গিদের লাশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এতে সবাই বিস্মিত হয়। বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।
এভাবে সিলেটে জঙ্গি অভিযানকালে ২/৩ মাইল জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি সত্ত্বেও আচমকা হামলায় র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান ও উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা আজাদ আহত হয়। তাকে বিমানে করে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। মুমূর্ষু সত্ত্বেও একদিনের মধ্যে দেশে ফিরে আনা হয়। এরপর ২দিনের মধ্যে সে মারা যায়। সিঙ্গাপুরের মতো সভ্য দেশে একজন বিদেশী মুমূর্ষু রোগীকে এভাবে ছাড়পত্র দেয়ার কথা নয়। মূলত সরকার যা জানায়, জনগণকে তাই মানতে হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার বা প্রতিবাদ করার সাহস কারো নেই। ফলে দেশের দক্ষ প্রতিরক্ষাবাহিনী, প্রতিবন্ধী বিরোধীদল ও সচেতন মানবাধিকার কর্মীসহ সবাই সরকার প্রদত্ত ‘সিঙ্গাপুরী বাঁশ’ মেনে নেয়। এতে দেশের নিরাপত্তাহীনতা প্রকাশ পায়।
উল্লেখিত বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোটেও ভালো নয়। র‌্যাব-পুলিশের বাগবিতন্ডা, পুলিশের যিম্মায় থাকা সত্ত্বেও কথিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে হত্যা, গুলশান হলি অর্টিজান রেষ্টুরেন্টে মাত্র ছয় জঙ্গির হলিখেলায় প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং সবশেষে সিঙ্গাপুরী বাঁশ দেখিয়ে সেনা কর্মকর্তা হত্যা, এসব মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। বরং আশংকা হচ্ছে, যেকোন সময়ে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। বিডিআর বিদ্রোহের মতো বা তার চেয়েও মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ফরহাদ মজহারের বিষয়টি একটি হুমকি ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ঢাকা।


একটি ছায়া = জুলি রহমান

রবিবার, ১৬ জুলাই ২০১৭

রুপোর টুকরোটি আমার
পেতাত্নার মতো বেজে ওঠে
প্রত্ন কন্ঠস্বর কেউ নেই
কেবল একটি ছায়া--

ও তোমার মনের প্রতিবিম্ব
খুবলে ওঠা পাপবোধ সময়ের!
নদী কিংবা সাগর তোমার নেই আর
ওখানে জেগে ওঠা চরে হাজার বসতি
সুতরাং আমাকে রৌপ্য ভেবে ছুঁরে
দিলেও তোমার মুক্তি কিংবা স্বাধীনতা
কোনোটাই নেই আগের মতো---

তরচে হৃদয়কে বিশুদ্ধ করো
প্রেমে পূর্ণ করো আত্না
দেখবে কতো সহজেই মুক্তি মেলে
আর তোমার অবয়ব ?
কী যে মোহময়তায় ভরবে সূর্য প্রীতিম--

ছায়াকে ভয় পেলেও ছায়াই তোমার আপন!আজীবন সংগ সূধায়
তোমারই নিঃসংগের সারথী--


‘আওয়ামী লীগ হওয়া যায় না, আওয়ামী হয়ে জন্মাতে হয়’

রবিবার, ১৬ জুলাই ২০১৭
পীর হাবিবুর রহমান।। ঘটনাবহুল বাংলাদেশে একের পর এক চিত্রপট বদলে যায়। একটি বিষয় বা ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি চলে আসে। কখনো রাজনৈতিক, কখনো বা প্রাকৃতিক বিপর্যয় আমাদের উদ্বিগ্ন করে তোলে। কখনো জঙ্গিবাদের আঘাত আমাদের ক্ষতবিক্ষত করে, আবার সন্ত্রাসবাদের দমন আমাদের স্বস্তি এনে দেয়। সবচেয়ে বুকভরা আনন্দ দেয়, আমাদের সোনার ছেলেরা যখন ক্রিকেট দুনিয়াকে কাঁপিয়ে দেয়। বাজেট পাস হয়ে গেছে।   এবারের মতো বাজেট নিয়ে সরকারকে অতীতে কখনো সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এত সমালোচিত হতে হয়নি। অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও অতিকথন বাজেট নিয়ে জনঅসন্তোষ তৈরি করেছিল। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার জনগণ ক্ষমতাবানদের কাছে পায় না। চায়ের দোকানে বসে সমালোচনা করে। সংসদ সদস্যরা সংসদে অর্থমন্ত্রীকে তুলাধোনা করতে ভুল করেননি। কিন্তু যে বাজেট মন্ত্রিসভায় পাস হয়ে এসেছিল, সেই বৈঠকে উপস্থিত হয়ে অনুমোদনে ভূমিকা রাখা কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীও যখন সংসদে দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেন, সেখানে আমাদের অবাক ও বিস্মিত হতে হয়।

অবশ্য, একপর্যায়ে প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান তোফায়েল আহমেদ দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রীকে ডিফেন্স করলেন। বললেন, বাজেট প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অর্থমন্ত্রী অনেককে নিয়ে করেছেন। আমরা মন্ত্রিসভায় সেটি অনুমোদন করেছি। তোফায়েল আহমেদের যুক্তিসঙ্গত বক্তব্যের পর একে একে আমির হোসেন আমু, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনুরা দাঁড়িয়ে অর্থমন্ত্রীর পক্ষেই কথা বললেন। সংসদের বাইরের পরিবেশ যাই হোক, সংসদের ভিতরে পরিস্থিতিটা পাল্টে গেল। তোপের মুখে পতিত, একা, নিঃসঙ্গ অর্থমন্ত্রীও শক্তি এবং স্বস্তি পেলেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাজেট পাসের আগে যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সেটিই কার্যকর করলেন বাজেট পাসের সময়। অর্থাৎ ব্যাংকের আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক ৫০০ টাকার পরিবর্তে ১৫০ টাকা করে দিলেন। অন্যদিকে বর্ধিত কর দুই বছরের জন্য স্থগিত করে দিলেন।

আগামী নির্বাচন ঘিরে যেসব কর্মকাণ্ড আবর্তিত হচ্ছে, চারদিকে ঘটে যাওয়া সব আলামত তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাজেট ঘিরে যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল সেটি স্তিমিত হয়ে গেছে। সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করছে। বিশাল আকারের বাজেট দিচ্ছে বছরে বছরে। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করছে। উন্নয়নের মহাকর্মযজ্ঞ দিয়ে আওয়ামী লীগ ছোট ছোট নেতাসর্বস্ব রাজনৈতিক মিত্রদের নিয়ে আগামী নির্বাচনে বাজিমাত করতে চাইছে।

ক্ষমতার জন্য যেখানে রাজনীতি সেখানে কি সরকারি দল, কি বিরোধী দল; জনগণের হৃদয় জয় করেই ক্ষমতায় যেতে চাইবে এটাই স্বাভাবিক। কিছু দিন ধরে টকশোতে ডাক পেলেও যেতে পারছি না। গোটা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ আর নিজের নিউজপোর্টাল পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ নিয়েই ব্যস্ত আছি। যে সংবাদ প্রিন্ট মিডিয়ায় ছাপালে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ৫৭ ধারা কার্যকর হয় না, তা নিউজপোর্টালে প্রকাশ হলে ৫৭-এর খড়গ নেমে আসে। ৫৭-এর খড়গ তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের এই যুগে গণমাধ্যমের একটি অংশ অনলাইন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করে রেখেছে।

এত এত প্রিন্ট মিডিয়া, এত এত ইলেকট্রনিক মিডিয়া; তার চেয়ে যে কোনো ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই ভাইরাল হচ্ছে। মানুষের মুখের প্রচারের চেয়ে শক্তিধর প্রচার আর কোনো কিছু নয়। অনলাইন নিউজ পোর্টাল তার সংবাদ পাঠকদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজে শেয়ার দিয়ে থাকে। পাঠকের একটি বড় অংশ যুক্ত হন ফেসবুক থেকে। এখানে ৫৭ আর ওখানে ব্লকের ব্যবস্থা। এতে করে অনলাইন সাংবাদিকতা এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে সময় অতিক্রম করছে।

বাংলাদেশের মানুষের আপনজন চির বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতনি অনিন্দিতা কাজী এপার ওপার বাংলা ও প্রবাসে সমান জনপ্রিয়। তিনি পশ্চিমবঙ্গ নজরুল একাডেমির সহ-সভাপতিই নন, নজরুল সংগীতের সমজদার শিল্পীই নন, টিভি উপস্থাপকই নন; একজন অনিন্দ্য সুন্দরী, রুচিশীল, উদার, সংস্কারমুক্ত রমণীও। কিছু দিন আগে গিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। নিউজার্সিতে তিনি যেতেই একজন শাহীন তরফদার, যার নাম পরিচয় মানুষ জানতেন না; তার সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অধিকাংশ গণমাধ্যম সংবাদ পরিবেশন করেছিল, অনিন্দিতা কাজী যে পুরুষকে বিয়ে করেছেন তিনি এর আগে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীনের ছোট বোন গায়িকা লীনুকে বিয়ে করেছিলেন।

নিউজার্সি প্রবাসী শাহীন তরফদারের এটি পঞ্চম বিয়ে। লিনি সাবরীনকে বিয়ে করার আগে তিনি তার প্রথম স্ত্রী ইরানিকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন। লিনির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা অবস্থায়ও কাউকে কাউকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। লিনি সাবরীনের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা হয়েছে। এরপর তিনি ঢাকায় তনুজা নামের একটি মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন। এখানে দুধের শিশুসহ পরিবাগের ফ্ল্যাট থেকে তনুজাকে বের করে দিয়েছিলেন। এ নিয়ে কঠিন মামলায়ও পড়েছিলেন। প্রখ্যাত ডিফেন্স কৌঁসুলি মোশারফ হোসেন কাজল তাকে সে যাত্রায় রক্ষা করলেও মামলা শেষ হয়নি। এরপর নানা জায়গায় প্রত্যাখ্যাত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা মুনিরাকে বিয়ে করলেও সংসার ছয় মাসও টিকেনি।

কবি নজরুলের নাতনির সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কারণে এই মানুষটি খবর হয়েছিলেন। কিন্তু খবর আমাদের ফেসবুক পেজে শেয়ার করার পর তিনি অভিযোগ দিয়ে পেজের শেয়ার ব্লক করিয়ে দেন! যে কেউ চাইলেই ৫৭ ধারায় যখন তখন মামলায় সাংবাদিকদের হয়রানি করবেন, অন্যদিকে ফেসবুক পেজে সত্য সংবাদ শেয়ার করলে তিনি যত বড় বিয়ে পাগলাই হন না কেন, বহু বিবাহের সেঞ্চুরিই করুন; আপত্তি নেই। কিন্তু সত্য সংবাদ সহ্য করার ক্ষমতা রাখবেন না, তা কেমন করে হয়?

যাক, যে কথা বলছিলাম, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ যে কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি, সেটি রাজনৈতিক অঙ্গনের আলোচনায় শুধু দৃশ্যমান হচ্ছে না, দলের নেতাদের বক্তব্যেও উঠে আসছে। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরেই আওয়ামী লীগ তার ঐতিহ্যের আন্দোলন, সংগ্রামমুখর ৬৮ বছরের পরিণত বয়সে দ্বিতীয় দফায় চূড়ান্ত বিকাশ হয়েছে। দলের প্রতিষ্ঠাতাদের কেউ দল ছেড়ে চলে গেলে, কেউ বিষাদগ্রস্ত হয়ে পথ হারালে, কেউবা মৃত্যুবরণ করলেও দলে শূন্যতা সৃষ্টি হয়নি। এই দলটি তৃণমূল বিস্তৃত জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার হাত ধরে স্বাধিকার-স্বাধীনতার পথ ধরে সত্তরের ব্যালট বিপ্লবে গণরায় নিয়ে সুমহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে বহু রক্ত আর সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিল। আর বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর কঠিন জেল-জুলুম, দমন, নির্যাতনের মুখে সংগঠিত আওয়ামী লীগ যখন নেতৃত্বের লড়াইয়ে ভাঙনের মুখে পড়েছিল তখন দিল্লি নির্বাসিত বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ঐক্যের প্রতীক হিসেবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে দলের হাল ধরেছেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামে দীর্ঘ পথই হেঁটেছেন, বার বার মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার বিপদ কাটিয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগকে জনপ্রিয় দল হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্রের নবযাত্রাকালে সামরিক শাসনোত্তর বাংলাদেশে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় এনেছিলেন।

সম্প্রতি, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেছেন, ’৯৬ সাল পর্যন্ত যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন তারাই প্রকৃত আওয়ামী লীগার। কারণ তাদের ত্যাগ অনেক বেশি। তারাই বিএনপি-জামায়াত দুঃশাসনের বিরুদ্ধে এবং ওয়ান-ইলেভেনে ভূমিকা রেখেছেন। এটাই দলের নিরেট বাস্তবতা। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের থেকে নাটোরের আওয়ামী লীগ অ্যাডভোকেট সাজেদুর রহমান খান পর্যন্ত যে হাইব্রিড বা কাউয়া তত্ত্ব হাজির করেছেন সেটি ক্যানভাসে সুবিধাবাদীদের চেহারা তুলে এনেছে। এই সুবিধাবাদীরা যখন যে ক্ষমতায় সেখানেই ভিড় করে। এই সুবিধাবাদী মতলববাজরা এতটাই আওয়ামী লীগকে গত ৯ বছরে গ্রাস করেছে যে, মন্ত্রী, নেতা, এমপি সিন্ডিকেটে ঢুকে গেছে যে; যতদূর চোখ যায় চারদিকে শুধু আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগই দেখা যায়। অনেক জায়গায় আগুন সন্ত্রাস মামলার আসামি বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরাও নৌকায় উঠে এমপি হওয়া বর্ণচোরাদের কাছে আশ্রয় পায়। চারদিকে তাকালে মনে হয়, হাইব্রিড আর কাউয়াদের ভিড়ে সোনার তরীতে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই অবস্থা।

আওয়ামী লীগ নির্বাচন সামনে রেখে অনু্প্রবেশকারী মতলববাজদের সরাতে চাইছে। কিন্তু রাজনৈতিক বাণিজ্যিকীকরণ বা রাজদুর্নীতির নেটওয়ার্কে ওরা যেভাবে নিজেদের জড়িয়ে নিয়েছে তাতে আদৌ কি সরানো যাবে। ’৭৫-পরবর্তী কিংবা বিএনপি-জামায়াত শাসনামল এবং ওয়ান-ইলেভেনে সুবিধাবাদীদের বাতি দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায়নি। দল ক্ষমতায় এলে এরা মৌমাছির মতো উড়ে উড়ে আসে। দল ক্ষমতা হারালে এরা নীরবে উড়ে যায় মধু আহরণে। আর রাজপথে নির্যাতিত হয়, মামলা খায়, জেলে যায়, পঙ্গু হয় আত্মাজুড়ে বাস করা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত শেখ হাসিনার কর্মীরা।

বিএনপির সর্বনাশ করেছিল জামায়াতে ইসলামী। জামায়াত ছিল সততার প্রতীক। আর বিএনপি হয়েছিল দুর্নীতির বরপুত্রের দল। আওয়ামী লীগে আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী জনবিচ্ছিন্ন বামরা এসে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন, নেতা হয়েছেন, ক্ষমতা ভোগ করেছেন। তারা আওয়ামী লীগার হতে পারেননি, দলের ত্যাগী কর্মীদেরও হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতে পারেননি। সংগঠন আওয়ামী লীগের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠ পর্যায়ে বাণিজ্যিক কামড়া-কামড়িই নয়; এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতায় চলছে বিভক্তির টানাপড়েন। সেখানে দলীয় প্রতীকে হয়ে যাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্য আর দলাদলি, দ্বন্দ্ব টেনেছে গ্রাম পর্যন্ত। এই কোন্দল নিরসন আওয়ামী লীগের একটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ। শেখ হাসিনা দুই হাতে উন্নয়নের প্রকল্প পাস করে দিচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ে সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘিরে একদল উন্নাসিক নেতা-কর্মী সুশাসনকে নির্বাসনে পাঠাচ্ছেন। উন্নয়নকে ধূসর করে দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগে একটি কথা প্রচলিত আছে, ‘আওয়ামী লীগ হওয়া যায় না, আওয়ামী হয়ে জন্মাতে হয়। ’ আওয়ামী লীগ হয়ে জন্মানোর আঁতুড়ঘর দুটি। একটি বঙ্গবন্ধুর তৈরি আওয়ামী লীগ পরিবার। আরেকটি ছাত্রলীগ। ষাটের ছাত্রলীগের সেই নেতারা যারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ইতিহাস সৃষ্টি করে রাজনীতির কিংবদন্তি হয়েছিলেন, তাদের একটি অংশ আদর্শিক লড়াইয়ে দূরে সরে গেছেন, নিজেদের নিঃশেষ করেছেন। আওয়ামী লীগে যারা ছিলেন তাদের অনেকেই ইন্তেকাল করেছেন। যারা জীবিত তারা চাইলে পরামর্শটুকু শুধু দিতে পারেন। বেঁচে আছেন বলেই রাজনীতি করেন। ’৭৫-উত্তর থেকে ’৯৬ পর্যন্ত ছাত্রলীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা এখন সারা দেশে অভিভাবকত্ব করছেন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়নি, আওয়ামী লীগের সংগ্রামমুখর দিনে ভূমিকা নেই, বঙ্গবন্ধু কবে তাদের পিতাকে এমপি বানিয়েছিলেন সেই কারণে দল ও জনগণ বিচ্ছিন্ন সেই পুত্রদের ওপর থেকে চাপিয়ে দিলে দলের বিভক্তি আরও বাড়বে। এক সময় ছাত্রলীগ ছিল আওয়ামী লীগ রাজনীতির পথের শক্তি। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে যুবলীগ হয়েছিল একটি সুশৃঙ্খল আদর্শিক তারুণ্যনির্ভর শক্তিশালী লড়াকু সুসংগঠিত কর্মী বাহিনীর দল। হরতালের রাজপথে পুলিশের সঙ্গে পিকেটিংয়ে মারমুখী সাহস নিয়ে আলোচিত হয়েছিল যুব মহিলা লীগ। ২৬ বছর বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ছাত্রসংসদ নির্বাচন না হওয়ায় নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। নেতৃত্ব তৈরি হয়নি আদর্শিক ছাত্ররাজনীতির ধারা বহমান না থাকায়। এমনই অবস্থায় তিন জেনারেশনের ছাত্রলীগ নেতৃত্বনির্ভর প্রবীণ ও নবীনের আওয়ামী লীগ সাজাতে না পারলে নির্লোভ আদর্শিক নেতৃত্বকে সামনে না নিয়ে আসতে পারলে গণমুখী আওয়ামী লীগ গড়ে তুলে জনগণের হৃদয় জয় করা কঠিন চ্যালেঞ্জ। যারা আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে নির্যাতন সহ্য করে রাজপথ দখল করে রেখেছিলেন তারা অনেকেই আজ উপেক্ষিত। এদের সবাই কি আজ দল করতে পারছেন? তাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে এই কঠিন চ্যালঞ্জ মোকাবিলায় মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে।

এত এত টিআর, কাবিখা, এত এত উন্নয়ন বরাদ্দ জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে সঠিকভাবে মানুষের দুয়ারে গেছে কিনা, নাকি এমপিদের সিন্ডিকেটকে খোরাক জুগিয়েছে সেটি বিচার করার সময় এখন। এক কথায় আওয়ামী লীগের একটি পোস্টমর্টেমের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির জন্য আত্মসমালোচনা ও আত্মসংযমের পথ জরুরি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন আজীবন মানুষের ভোটাধিকারের আন্দোলনের, গণতন্ত্রের সংগ্রামের চিরসংগ্রামী আওয়ামী লীগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রাজনৈতিকভাবে বা প্রশাসনিকভাবে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ওই নির্বাচন হজম করে বিরোধী দলের আন্দোলন সংগ্রাম দমন করে দাপটের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারলেও গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগের আদর্শিক সংগ্রামের অবিচল দল আওয়ামী লীগের জন্য গৌরব নয়।   ইতিহাসের বিচারে লজ্জারও।

আগামী জাতীয় নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অবাধ করা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই সঙ্গে এমন নির্বাচনে জনরায় নিয়ে পুনরায় ক্ষমতায় আসা আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখনো অনড়, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে, শেখ হাসিনার অধীনে নয়। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় সরকারকে যে প্রবল ঝাঁকুনি দিয়েছে, সংসদে তুমুল আলোচনা, বক্তৃতা আর্তনাদ হয়ে উঠে এসেছে। বেগম খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফিরে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় আদালতের আশ্রয় নিতে পারেন। বছরের শেষে রাজনীতির চিত্রপট দৃশ্যমান হবে।   সেখানে আওয়ামী লীগের জন্য ক্ষমতার রাজনীতিতে একের পর এক চ্যালেঞ্জ শুরু হয়েছে। ভোটের লড়াই সামনে রেখে আগামীতে আওয়ামী লীগের সামনেও কঠিন চ্যালেঞ্জ।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।


সাহসী নারীরা ধর্ষকের যৌনাঙ্গ কাটছে ।আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ০৬ জুলাই ২০১৭

উত্তর প্রদেশের সাবেক মন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির সিনিয়র নেতা মুহাম্মদ আজম খান সম্প্রতি বলেন, একদিকে সীমান্তে লড়াই চলছে, অন্যদিকে নারীরা সেনা জওয়ানদের হত্যা করছেন। নিশ্চয়ই কিছু ঘটেছে, এই ঘটনা কিন্তু আমাদের সেটাই ভাবতে বাধ্য করছে।’ তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র নারীরা এসে ভারতীয় সেনার যৌনাঙ্গ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ হল জওয়ানদের শরীরের ওই অঙ্গটি নিয়ে তাদের অসুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে কড়া বার্তাই দিতে চেয়েছে তারা। এই ঘটনা পর্দা সরিয়ে ভারতের আসল রূপ সকলের সামনে তুলে ধরেছে।এজন্যে  গোটা দেশের  লজ্জিত হওয়া উচিত।’

 ভারতীয় কাশ্মীরের অধিবাসীরা  অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক।ওখানে আন্দোলন নির্মূলে উৎসাহিত করতে মুসলমান মেয়েদেরকে ধর্ষণ করার আদেশ ভারতীয় বাহিনীগুলোকে দেয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।এতে জন্ম নেয়া সন্তানদেরকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে কাশ্মীরে হিন্দু সংখ্যা বাড়ানো এবং স্বাধীনতাকামী    মানুষের মনোবল কমাবার লক্ষ্যে এই নৃশংস নীতি গ্রহন করা হয়েছে বলে অনেক সূত্রের দাবি।মেয়েরা শসস্ত্র হয়ে গেছে।নিজেদের সম্ভ্রম রক্ষা করতে গিয়ে ধর্ষকের লিঙ্গ কেটে দিচ্ছে তারা।ভারত সরকার ও সেনাবাহিনীর এই লোমহর্ষক নীতির বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে ভারতের মুসলমান সমাজে।তবে ধর্ষণের পক্ষে থাকা সরকারী জোটের নেতা কর্মীরা বিশ্বের সকল সন্ত্রাসকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ান হয়ে গেছে।            

 বিশ্ব হিন্দু পরিষদের ফায়ারব্রান্ড নেত্রী সাধ্বী প্রাচি উত্তর প্রদেশের সাবেক মন্ত্রী ও সমাজবাদী পার্টির সিনিয়র নেতা মুহাম্মদ আজম খান ও কাশ্মিরের হুররিয়াত নেতাদের ফাঁসি দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।অন্যদিকে,  উগ্রহিন্দুত্ববাদী বজরং দলের পক্ষ থেকে আজম খানের মুণ্ডচ্ছেদ করতে পারলে ৫১ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করাসহ তার মুখে কালী লেপে দিয়ে শূকরের গোশত খাওয়াতে পারলে ১ কোটি টাকার পুরস্কারের ঘোষণা করেছে।

সোমবার গণমাধ্যমে প্রকাশ, হরিদ্বারে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে সাধ্বী প্রাচি বলেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে খারাপ মন্তব্যকারী আজম খানকে চৌরাস্তায় চাবকিয়ে ফাঁসি দেয়া উচিত। তিনি কাশ্মিরে সহিংসতা এবং পাথর ছোঁড়ার ঘটনার জন্য হুররিয়াত নেতাদের দায়ী করে তাদের কাশ্মিরের লালচকে ফাঁসি দেয়ার দাবি করেছেন। সম্প্রতি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সাজাহানপুর জেলা সভাপতি রাজেশ অবস্তি আজম খানের জিভ কাটতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন।

বিজেপি’র সিনিয়র নেতা ও এমপি সুব্রামনিয়াম স্বামীর দাবি,  আজম খান যা বলেছেন তা যদি কোনো মুসলিম অধ্যুষিত দেশে বলতেন তাহলে তার শিরশ্ছেদ করা হতো।সাধ্বী প্রাচি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে দেশে গরু জবাই বন্ধ করতে কঠোর আইন তৈরি করার দাবি জানিয়ে বলেন, এমন আইন করতে হবে যাতে গরু জবাইকারীকে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা থাকে।

 বাংলাদেশে সংবাদ মাধ্যম এবং বুদ্ধি ও মুক্ত চিন্তা দমনে সফল হবার অভিজ্ঞতায় ভারতে সাংবাদিকতার জগতে নির্মমতা চালুর খবর  আসছে।ওখানে “জয় শ্রীরাম” স্লোগান দিয়ে সিনিয়র এক মুসলিম সাংবাদিক সপরিবারে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। এম আতাহারউদ্দিন মুন্নে ভারতী নামে ওই সাংবাদিক জেডিইউশাসিত বিহারে গিয়ে উগ্রহিন্দুত্ববাদী বজরং দলের দুর্বৃত্তদের কবলে পড়েন।এম আতাহারউদ্দিন গত ২৬ বছর ধরে দিল্লিতে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি এনডি টিভি ইন্ডিয়া চ্যানেলের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর।

গত ২৮ জুন তিনি সপরিবারে একটি গাড়িতে করে বিহারের বৈশালী জেলা থেকে সমস্তিপুর জেলার রহিমাবাদ গ্রামের উদ্দেশ্যে যেতে গিয়ে বজরং দলের কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হন।তার সঙ্গে ৯১ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা,৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও  দুই সন্তান ছিলেন। ওই সাংবাদিক তার অসুস্থ মামাকে দেখতে একাটি গাড়িতে সপরিবারে সফরে রওয়ানা হয়েছিলেন।

২৮ নম্বর মুজাফফরপুর জাতীয় সড়কে টোল ট্যাক্স ব্যারিয়ার থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মারগন চকে যানজট সৃষ্টি হলে ওই সাংবাদিকের গাড়ি সেখানে থেমে যায়। এ সময় গেরুয়া গামছা পরা লাঠিধারী বজরং দলের সদস্যরা তার গাড়িকে ঘিরে ফেলে এবং গাড়ির মধ্যে বসে থাকা তার মা-বাবা এবং স্ত্রীর দিকে ভাল করে লক্ষ্য করে। কারণ, তার বাবার মুখে দাঁড়ি এবং স্ত্রী বোরখা পরে ছিলেন।

 তাদের দেখতেই লাঠিধারী বজরং দলের সদস্যদের “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি জোরালো হয়ে ওঠে। অজানা আশঙ্কায় ভয়ে কাঁপতে থাকেন সাংবাদিক পরিবার। তারা হুমকি দিয়ে  বলে “জয় শ্রীরাম” বলুন নইলে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হবে। দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের কাছ থেকে সেসময় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখে ওই সাংবাদিক  কোনও গাড়িকে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে অনুভব করেন। যদিও বিপদ তাদের  সামনেই উপস্থিত হওয়ায় ঐ  সাংবাদিক সহ পরিবারের সদস্যরা “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি দিতে বাধ্য হন। এরপর তিনি কোনোভাবে সেখান থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে জীবন বাঁচাতে সফল হন। সাংবাদিক এম আতাহারউদ্দিন মুন্নে ভারতী বলেন, রামকে আমি সম্মান করি। কিন্তু যে আতঙ্কের মধ্যে তাকে “জয় শ্রীরাম” বলতে হয়েছে তা মোটেও ভালো লাগেনি।

ওই ঘটনার পরেই তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাহায্যে বিষয়টি জানান। এর পাশাপাশি তিনি জেডিইউ মুখপাত্র নীরজ কুমার এবং স্থানীয় বিধায়ক আখতার উল ইসলাম শাহিনকে ফোন করে বিষয়টি জানান। তিনি পুলিশকে দ্রুত সক্রিয় হয়ে পদক্ষেপ করার দাবি জানান যাতে আর কারো সঙ্গে এ ধরণের অপ্রিয় ঘটনা না ঘটে।তীব্র আতঙ্কের মধ্যে থাকা ওই সাংবাদিকের প্রশ্ন কিছু মানুষ এভাবে ধর্মের নামে মানুষ মারার সাহস কীভাবে পেয়েছে? সমাজে কী হচ্ছে এসব? কার নজর পড়েছে? বিহারে জেডিইউ, আরজেডি এবং কংগ্রেস জোট সরকার ক্ষমতায় রয়েছে।  

 ভারতের মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) বিধায়ক আকবরউদ্দিন ওয়াইসিকে চ্যালেঞ্জ জানানোসহ তাকে হত্যার হুমকি দিলেন উগ্রহিন্দুত্ববাদী বজরং দলের এক নেতা।৪ঠা জুন মঙ্গলবার হিন্দি গণমাধ্যম ‘জনসত্তা’য় প্রকাশ, গোবিন্দ পরাশর নামে ওই ব্যক্তি এক ভিডিও বার্তায় আকবরউদ্দিন ওয়াইসিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, যদি সাহস থাকে তাহলে আগ্রায় এসে সমাবেশ করে দেখান, আপনার শিরচ্ছেদ করে দেব।দেড় মিনিটের ভিডিও বার্তায় গোবিন্দ বলেন, ওয়াইসি আপনি বলেছেন, ভারত যতটা মোদির ততটাই আমারও। কিন্তু আপনি ‘ভারত মাতার জয়’ বলেন না। কেউ যদি আপনার গলায়


জীবনে এমন শান্তির দিন খুব বেশি আসেনি - সোহেল রহমান

মঙ্গলবার, ০৪ জুলাই ২০১৭

Picture

ত্রিশ বছর পার হয়ে গেছে। তেমন কিছুই করতে পারিনি। একটা স্বপ্ন দানা বাঁধছিল একটু একটু করে। সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ পর্তুগালে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ এশীয় চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসর্গ তারেক মাসুদ ও বাংলাদেশ।

আহ! তিনটা দিন। লিসবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সিনেমা সাঁও জর্জে ইউরোপীয় দর্শকের ভীড়। তাদের প্রচণ্ড আগ্রহের নাম বাংলাদেশ। এদেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি। আর তারেক মাসুদ। সাঁও জর্জের চারপাশের স্ক্রিনে দেখাচ্ছে বাংলাদেশের ছবির ট্রেইলার।  

alt

বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপকের তারেক মাসুদ নিয়ে বিশেষ আলোচনা। এদেশের পত্রিকা, টেলিভিশনে আমাদের উৎসবের খবর।  

হেলেনা এসে বলছে, লিসবন যখন প্রবল অর্থনৈতিক মন্দার ভেতর যাচ্ছিল, তখন বাংলাদেশিরা এসে এখানে নাইট শপ খুলেছে, রেস্টুরেন্ট করেছে, নানা ব্যবসা শুরু করেছে। অথচ তাদের নিয়ে খুব বেশি কিছু আমরা জানি না। বাংলাদেশের সিনেমা দেখে সে সুযোগটা পেলাম। বেশ ভালো লাগলো। একটা দিনও মিস করিনি।  

alt

অতিথিদের সঙ্গে লেখক (সর্বডানে)

হেলেনার মতো করে এই রকম আরও অনেকেই আমাদের টিমকে বলছে, আমরা যেন এ উৎসব প্রতি বছর করি। দক্ষিণ এশিয়ার আরও ছবি দেখতে চায় তারা। এই বিশাল কমিউনিটি নিয়ে জানতে চায়।

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় মাথা নুয়ে আসে। চোখ ভিজে যায় খুব অজান্তেই। গর্বে কেমন করে যেন বুকটা ফুলে উঠে। কী চমৎকারভাবে সফল হয়ে গেলো আয়োজনটা। ইস! তারেক ভাই যদি আজ বেঁচে থাকতেন! আমি নিশ্চিত, সেই দরাজ কণ্ঠে সবার আগে এই মানুষটির কাছ থেকে শুনতাম, অভিনন্দন সোহেল!

alt

দর্শক সমাগম ছিল উল্লেখযোগ্য

দেশের, দেশের বাইরের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালবাসা যারা নানাভাবে এই আয়োজনে পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাহস দিয়েছেন। সমবেদনা ও ধন্যবাদ, যারা হিংসায় পুড়েছেন, প্রতিবন্ধকতা ও অবজ্ঞা করেছেন। ওতে আসলে আমার কিছুই হয়না, স্রেফ ভেতরের আগুনটাকে আরও জ্বালিয়ে দেন।

বাই দা ওয়ে, এবার পুরো মনোযোগ আমার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি "মায়া´স ল্যান্ড"। একটু বিরতিতে যাবো। আটলান্টিকের এক দ্বীপে থাকব কিছু দিন। স্ক্রিপ্টের কাজ করব নিরিবিলি বসে। দোয়া করবেন সবাই। ভালোবাসা সবার জন্য।

লেখক: পর্তুগাল প্রবাসী চলচ্চিত্রকার, সাংবাদিক


নিউইয়র্কে ঈদ অনুষ্ঠানে হরে কৃষ্ণ হরে রাম এবং ভারতে শূয়রের মাথা ।আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ০৩ জুলাই ২০১৭

মানুষ সমাজের ঘৃণিত হিংস্যুটে স্বভাবগুলোকে মাঝে মাঝে পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে শান্তিকামীদের চিন্তা ও আদর্শ লন্ডভন্ড করার জন্যে প্রয়োগ করা হয়  এবং তা সমাজজীবনে শান্তি ভঙ্গের কারণ ঘটায়।নিজেদের হীন উদ্দেশ্যে ইদানিং সরকার এবং রাষ্ট্রের পৃষ্টপোষ্কতায় এই অপরাধ করা হয়।এবারে ঈদের দিনে নিউইয়র্ক এবং উত্তরপ্রদেশে দুই দেশে দুইস্থানে একই লক্ষ্যে ঈদের গায়ে ময়লা ছুঁড়ে উসকানির চেষ্টা করেছে মুখোশধারী হায়েনারা। হায়েনাদের গতিবিধি সম্পর্কে জানা থাকায় হতবাক হতে হয়নি।তবে ভাবছি,মানুষ পেটের পীড়া থেকে  নিরাপদ থাকার জন্যে ভালো খাবার সন্ধান করে মন্দটা বাদ দেয়।এই মানুষরাই নিজে এবং আন্যান্যদেরকে নিরাপদে রাখার জন্যে চিন্তাচেতনার মধ্যে কল্যাণের চিন্তা সন্ধান করতে তো পারে।করতে পারছেনা কেনো?কারণ,সব ক্ষমতার উৎস ও নিয়ন্ত্রক এক এবং অদ্বিতীয় সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌।নির্ভর করছে তাঁরই অনুগ্রহের উপর।           
 নিউইয়র্কে  এবারে মুসলমানদের ঈদের দিন রবিবার সন্ধ্যায় ঈদ উদযাপনের অনুষ্ঠানের নামে উডসাইডের একটি ক্লাবে ‘হরে কৃষ্ণ হরে রাম’ গেয়ে রোজা রাখা মুসলমানদের চেয়ে বেশী ঈদ উৎসব করার উদ্যোগ হয়েছে। কণ্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ এই গান দিয়ে ঈদের পবিত্রতা খন্ডনে বীরত্ব দেখালেও এই বিষাক্ততা নিষ্কৃয় করলাম ধৈর্যের সাথে।আমি যেহেতু আল্লাহ্‌র দরবারে ভিখারী,কারো উপর রেগে গিয়ে আক্রমণ করা আমাকে মানায়না। তাছাড়াওএটা বুঝি,প্রতিশোধে তাড়াহুড়ো করার চেয়ে আমাদের জন্যে জঘন্য কাজ আর হতে পারেনা।তাই,বাধা অথবা আপত্তির পথে না গিয়ে পরিস্থিতি নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলাম।সমস্যা নিয়ে হৈচৈ করার সুযোগ ও ব্যার্থ করলাম,ঈদের শান্তি ও পবিত্রতার ধারা রক্ষায় শতভাগ সতর্ক হলাম। কেননা  উত্তেজনা ও বিবাদে শত্রুই লাভবান হতো।বলতো ঈদের অনুষ্ঠানে ঝামেলা হয়েছে।বদনাম করা সহজ হয়ে যেতো।    
 রথীনের গান থামার পরবর্তীতে কাছাকাছি থাকা কন্ঠশিল্পী রানু এবং শাহ মাহবুবকে ঈদের গানের বিষয়ে মনোযোগী করি এবং ঈদের দিনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ব্যাপারে করণীয় দায়িত্ব পালনে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে অনুষ্ঠানের শেষ পর্যন্ত পর্যবেক্ষনে থাকি।রানুর কণ্ঠে ঈদের কথায় গানের সুরে আমার দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রুর ধারা কিছুক্ষণ আগে চাপিয়ে দেয়া আত্নার কষ্ট ধুয়ে দিলো।শান্তির সান্ত্বনায় পরম সুখ অনুভব করলাম।স্নেহ ধন্য রানুকে কাছে টেনে অভিবাদন জানালাম আল্লাহ্‌র মেহেরবাণীর প্রার্থনায়।মাহবুব একই অনুভূতির গানে মুদ্ধ করলো।তারপর দরাজ কন্ঠে করিম হাওলাদার গাইলেন।এদুজন নজরুলের বিখ্যাত ঈদের গানই গাইলেন।এভাবেই পরিস্থিতি বিপদ থেকে রক্ষা পায়।অনুষ্ঠানে অন্যান্য শিল্পীরা আর কেউ হরে কৃষ্ণ ধারায় যায়নি।
 আমাদের জানা থাকলে ভালো,ঈদ হচ্ছে তাদের জন্যে,যারা রোজা রেখে নামাজ পড়ে আল্লাহ্‌র পছন্দের বান্দা হয়েছেন তার কাছে সম্পূর্ণ সমর্পণ করে। হাদিসে আছে,যে রোজা রাখেনি সে  যেনো আমার ঈদের জামাতে আসেনা।ঈদের জামাত হচ্ছে রোজা রাখা মানুষের প্রার্থনা কবুল হবার এক বিশেষ স্থান ও সময়।তাই মুসলমানের ঈদের দিনে তাড়াহুড়ো করে কয়েকজন পরিচিত হিন্দু বাঙালি সংগঠক ঈদের অনুষ্ঠান আয়োজন করে তাতে এই  অনুষ্ঠানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়।
কথা হচ্ছে হিন্দু শিল্পী তার পছন্দের এই গান তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অথবা অন্যান্য অনুষ্ঠানে গাইবেন, শ্রোতার পছন্দে তা হতেই পারে।ঈদ অনুষ্ঠানে তো এই গান হচ্ছে আল্লাহ্‌ এবং ঈদের সরাসরি শত্রুতা।তা শিল্পীও জানেন, অনেকেই জানেন।জেনে শোনে মুসলমানদেরকে উত্তেজিত করার জন্যে ঈদের দিনে এই আয়োজন নিশ্চয়ই হিন্দু টেরোরিষ্টদের নীচমনা পরিকল্পনার অংশ।মনে হচ্ছে নিউইয়র্কে বাংলাদেশকে মার্কিণ সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে বাংলাদেশকে হেয় করার জন্যে নিয়োজিত থাকা ভারতপন্থী সন্ত্রাসী সিন্ডিক্যাট আরো বেশী সক্রিয় হয়েছে।তারা একটা সুযোগ খুঁজছিলো।
নিউইয়র্কের এই পরিকল্পনার সাথে ভারতে ঈদের পিঠে ছুরি মারার রহস্যজনক মিল হলো,একই দিন সকালে বিজেপিশাসিত উত্তরপ্রদেশের আমেথির একটি ঈদগাহে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা শূকরের কাটা মুণ্ডু ছুঁড়ে ফেলায় সেখানে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।বিশ্লেষণকালীন যুক্ত হওয়া আরো তথ্যে দেখা যায় ভারতের সীমান্তে যুদ্ধে যাবার খায়েশ।    
পুলিশি তৎপরতায় এবং মুসলিমদের বুদ্ধিমত্তার পরিচয়ে সেখানে দাঙ্গার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।গণমাধ্যমে প্রকাশ, মুসাফির খানা তহসিলের বাদলগড় গ্রামে অসামাজিক লোকজন ঈদের নামাজের আগে সেখানকার ঈদগাহে শূকরের কাটা মুণ্ডু ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে যায়। ওই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ক্ষুব্ধ জনতার টার্গেটে পরিণত হন তারা। এরপর কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনায় ঈদগাহ পরিচ্ছন্ন করা হয়।
সীমান্তে উত্তেজনা   অব্যাহত রেখে ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্রে রূপান্তরের আইন পাশের দিকে প্রায়ই প্রস্তুত কেন্দ্রীয় সরকার।ওরা চীন সীমান্তে নিজেদের সীমানা অতিক্রম করেছে বলে খবর এসেছে।একই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও সংখ্যালঘু কমিশন বাতিলের দাবিতে প্রস্তাব পাস করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে ‘গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা’র পক্ষ থেকে  গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ) চুক্তির প্রতিলিপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। এর পাশাপাশি মোর্চা সমর্থকরা গায়ে টিউবলাইট ভেঙে রক্তাক্ত আন্দোলনে শামিল হয়েছেন।
ভারত থেকে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও সংখ্যালঘু কমিশন বাতিলের দাবিতে প্রস্তাব পাস করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। ২৬জুন সোমবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা সুরেন্দ্র জৈন সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত দাবির কথা প্রকাশ করেন।গুজরাটের খেদা জেলার বডতালে ২৪/২৫ জুন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের বৈঠক শেষে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস করে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে ওই