Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

স্মৃতি বেলায় - এস ইবাদুল ইসলাম

সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

বৃষ্টি ¯œাত শুপ্রভাত
পদ্ম দিঘির জল,
লাজুক, শালুক, দোলে।
শান্ত দিঘির জলে।
রাজহংস পাখনা মেলে খেলে
 গগনে জেগেছে রবি,
স্বোনালী আবির ঢেলে
এ এক অপূর্ব ভোরের ছবি।
ধানের শীষে লেগেছে দোল,
 প্রজাপতি উরে বেড়ায়,
মৌ মৌ ফসলের গ্রানে!
দিগবিদিগ দিশে হারা সন্ধ্যায়,
বিহঙ্গ ফিরে যায় আপন ঠিকানায়।
ডুবে থাকি আমি,
মুছে যাওয়া দিনের
স্মৃতির আঙ্গিনায়।
হিয়ার মাঝে জেগে আছে ওরা,
পুষ্পরাগে বিকশিত তারা।
উঁকি দিয়ে যায় মোর জানালায়,
সকাল বিকাল সাঁঝে!
স্মৃতির ভেলায় আমি ভেসে যাই,
হৃদয়ের অসীম অনুরাগে।

প্রকৃতিতে নামলো শীতের আমেজ
লেখক: এস ইবাদুল ইসলাম

শীতের শীতল পরশ নামলো প্রকৃতিতে। শীতল হাওয়া বইছে। কন-কন ঠান্ডা হাওয়া শুরুর সময় এসে গেছে। সত্তর দশকের একজন বাংলা ভাষী কবি লিখেছেন শীতকাল কবে আসবে সমপূর্ন ? জবাবে, এবার আমরা বলছি আগাম আসছে শীত। যদিও প্রকৃতিতে এখন হেমন্ত কাল। দিনের বেলায় গরম পরলেও রাতের শেষে  শীত পড়ছে। তবে তা এখনও তীব্র হয়নি। ষড় ঋতুর এদেশে একেকটি ঋতু আসে ভিন্ন ভিন্ন সাজে সেজে। তবে জলবায়ুর বিরাট পরিবর্তনের ধকলে ঋতুর কাল বদলে যাচ্ছে। এবার তো গ্রীষ্ম ও বর্ষা একাকার হয়ে গেছে। প্রকৃতির পালা বদলে বদলে যায় মানুষের জীবন ধারা। আর প্রকৃতিতে সাড়া জাগায়  তার পরিবর্তনে বদলে যায় সময়ের স্বাভাবিকতাও অস্বাভাবিকতায়। অনিবার্যভাবেই প্রকৃতিতে ঘটে কিছু পরির্বতন। শীতকালেই হেমন্তের ফসল কাটা শেষ হয়। নবান্নের সঙ্গে পিঠে পায়েসের আয়োজন হয়। এটা বাঙ্গালীর একটি অতি পরিচিত পর্ব।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে শীতের পিঠা বিক্রেতারা পিঠা বিক্রির পসরা সাজিয়ে বসেছে। শীত যেমন পিঠা পায়েস ওখেজুর গুর নতুন শাক-সবজির আমেজ নিয়ে আসে তেমনি তীব্র শীত প্রন্তিক মানুষের জীবন যাত্রাকে বিপন্ন করে তোলে। বিশেষ করে দারিদ্র জনের পর্যাপ্ত শীত ব¯্ররে অভাবে  দূর্ভোগের শিকার হয়। গৃহহীন, ছিন্নমুলেরা অসহনীয় কষ্টের শিকার হয়। এ সময় শীত জনিত নানা রোগ ব্যধির আক্রমন দেখা যায়, বিশেষ করে ঠান্ডা জনিত সমস্যা। শীতে অনেকের কাছে অনেক পছন্দের ঋতু। কাতির্কের মাঝামাঝি শীতের তীব্রতা বেশী থাকে। এসময় কুয়াশার চাদর বিছিয়ে ডেকে দেয় প্রকৃতিকে। শীতের প্রকপতা বাড়ে শত্য প্রবাহ বয়ে যায়। গুটি শুটি দিয়ে বসে থাকে ফুটপাতের মানুষ গুলো। লেপ তৈরীর ধুম পরে যায়। অর্থবান ব্যক্তিরা কিনে নতুন কম্বল ও শীতের বাহারী পোষাক। এই শীতে আমাদের দেশে সরকার সহ অর্থ বিত্তবান ব্যাক্তিরা শীতার্থদের শীতব¯্র ও কম¦ল বিতরন করেন। এর উপর নির্ভর করে দরিদ্রদের শীত কেটে যায়। দরিদ্র ব্যক্তিরা তো দেশে আছেই  এছাড়া এর সাথে যুক্ত হয়েছে মায়ানমারের বাস্তুচ্যুত দশ লাখ রোহিঙ্গা। যাদের জন্য শীত ব¯্র, কম্বল সাহায্য প্রদানের জন্য এখনই তৎপরতা হতে হবে সরকার সহ সাহায্য প্রদান দাতা সংস্থা গুলোও সাহায্য প্রদানে বন্ধু বৎসল রাষ্ট্র গুলোকে।

‘কিশোর কবি শুকান্ত-সুর্যের কাছে উত্তাপ চেয়ে ছিলেন।
রাস্তার ধারের উলঙ্গ ছেলেটির জন্য’।

তেমনি ভাবে আমাদের ও মানবিকতার উ¤েœষ ঘটাতে হবে। আর তখনই শীত ঋতু কষ্টের না হয়ে হবে  উৎসবের ঋতু। শীতের নবীন ফসলের সাজে ও শিউলি ফুলের সেত ও জাফরানী রং এর সাজে সেজে উঠুক আমাদের  মন। সৌরভ ছড়িয়ে যাক বাংলার সকল প্রন্তরে।
আর শীতের আগুনের উত্তাপ সতেজ করুক আমাদের দেহ মন। সকালের শিশির বিন্দু ভরা ঘাস সুর্যের আলোয় উত্তাপিত হোক। দিগন্তে ভরে উঠুক হলদে রং এর শরিষার ক্ষেত্রের মনোরম শোভা নিয়ে, গাধা ফুলের রং এ রঙ্গিন হোক বিয়ে বাড়ির প্রঙ্গন। শীত আসুক আর্শীবাদ নিয়ে জীবন গতিকে গতিশীল করে ভরে উঠুক প্রাণ নির্মল সতেজতায়।


নারীর ওপর সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতন প্রসঙ্গে : এস ইবাদুল ইসলাম

সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

নারীর ওপর সহিংসতা বা নির্যাতনের বিষয়টি নানাভাবে আলোচনায় এলেও মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়। বেশির ভাগ ভুক্তভোগী-নারীই জানেনা যে এই নির্যাতনের বিষয়ে যে আইন সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের নারীদের ওপর মানসিক নির্যাতনের সবচেয়ে বেশী ঘটনা ঘটেছে তার স্বামীর ঘরে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান (বিবিএস) প্রথম বারের মতো নারী নির্যাতন নিয়ে করা ভায়োলেন্স অ্যগেইনস্ট উইমেন (ডি এ ডব্লিউ) সার্ভে ২০১১ শীর্ষক জরিপ অনুযায়ী বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই স্বামীর মাধ্যমে কোন না কোন সময়ে, কোন না কোন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮২ শতাংশই মানসিক নির্যাতনের শিকার। কোন ধরনের নির্যাতন কোথায় হয়, এ প্রশ্নের উত্তরে অধিকাংশ নারীই স্বামীর ঘরে মানসিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ্য করেন। নারী নির্যাতন নিয়ে বিবিএস প্রথম জরিপ প্রকাশ করে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। এরপর ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন (ডি এ ডব্লিউ) সার্ভে ২০১৫ সালের শীর্ষক নতুন জরিপ সম্পন্ন করেছে বি বি এস। এ জরিপের ফলাফল আনুষ্টানিক ভাবে প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।
অন্যদিকে, ২০১০ সালের পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইনে অন্যান্য নির্যাতনের পাশপাশি মানসিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে। তবে এ আইনের আওতায় মানসিক নির্যাতনের জন্য আইনি সহায়তা চেয়ে মামলার সংখ্যা হাতে ঘোনা বিগত ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাষ্ট (ব্লাস্ট) পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইনের আওতায় করা ৮০ টি মামলায় ভুক্তভুগী ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেয়। এর মধ্যে ৩২ টি মামলা বিশ্লেষন করেন ব্লাষ্টের গবেষক মুহসিন হোসেন। এতে দেখা যায় ৩২ টির মধ্যে কেবল তিনটিতে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং আইনের সঙ্গেঁ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন দেশের নারীদের বেশীর ভাগই শারীরিক ও অর্থনৈতিক সহ অন্যান্য নির্যাতনকেই অপরাধ মনে করেন। মানসিক নির্যাতন ও যে অপরাধ এবং এই বিষয়ে আইন আছে সেটাও অনেকে জানেনা।
আবার মানসিক নির্যাতন পরিমাপ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার ফলে ও আইনের ব্যবহার কম হচ্ছে। পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে পরিবারের অন্য কোনো নারী বা শিশু সদস্য শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন অথবা আর্থিক ক্ষতির শিকার হলে একে পারিবারিক সহিংসতা বোঝানো হয়েছে। মৌখিক নির্যাতন, অপমান, অবজ্ঞা ভয় দেখানো বা এমন কোন উক্তি করা যার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত ব্যক্তি মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাকে মানসিক সহিংসতা অর্থে বোঝানো হয়েছে। এছাড়া হয়রানি ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ অর্থাৎ স্বাভাবিক চলাচল, যোগাযোগ বা ব্যক্তির ইচ্ছা বা মতামত প্রকাশে বাধা দেওয়ায় ও এ নির্যাতনের অর্ন্তভুক্ত আইনে সংক্ষিপ্ত ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি হলে বা ক্ষতির আশংকা থাকলে আদালতের কাছে ক্ষতি পুরনের জন্য আবেদন করার ব্যবস্থা বিধান রাখা হয়েছে।
যদিও এ আইনটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারনা এখনো কম। আইনের ব্যবহারটা ততোটাই বাড়ানো যাইনি। শিক্ষিত নারীরা মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি বোঝতে পারলেও বিভিন্ন কারনে আইনি সহায়তা নিতে চান না। এর কারন হিসাবে রাজধানীর মিরপুরে বসবাস কারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ¯œাতকোত্তর পাশ এক নারী বলেন। স্বামীর টাকা আছে তবে পড়াশোনায় আমার থেকে কম। তাই স্বামী আমাকে চাকুরী দিতে চায়নি। সারাক্ষণ আমাকে সন্দেহ করে তবে সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে সব কিছু সহ্য করে যাচ্ছি।



তুমি শুধু আমার
 লেখক: এস ই ইসলাম    

তুমি নদী হয়ে এসো,
আমার নয়ন তাঁরায় বসো।
আমি তোমারই-তোমারই,
তুমি শুধু আমারই।
যখন তখন আমার প্রাণে
দুলা দিয়ে যাও আনমনে,
তোমার চলার শব্দের প্রতিধ্বনি,
শুনতে পাই দিবা রজনী
তোমার চুলের সুবাসে,
ফিরে পাই সেই প্রভাতের
স্পর্শ খানি ¯œান শেষের ।
তুমি শুধুই আমারই।
নদী তুমি স্বপ্ন হয়ে এসো,
আমার নয়ন তাঁরায় বসো।
মুক্ত ঝরা হাসির বদন,
ব্যাকুল করে আমায় যখন।
আমি তখন ভাবি।
তুমি শুধুই আমারই,
হাতটি বাড়িয়ে  ছুয়েঁ দেখবো যখন
অনেক যতনে ঘুম পাড়িয়ে দিবো তখন,
কপোল চুমে বলবো আমি।
নদী তুমি শুধু আমারই,
আমি তোমাই তোমারই।
বেলী ও বকুল ফুলের মালাটিও,
 পরাবো তোমার গলে।
রংধনুর সাত রং নাচিবে,
কেবল প্রজাপতি হয়ে।
নদী তুমি শুধু আমারই।


‘হুজুর, আবার কীয়ের ইশটুডেন্ট’

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর ২০১৭

আর হুজুর মানেই পাড়াগাঁয়ের মসজিদের ইমাম, নামাজ পড়ায়, মানুষের বাড়িতে বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে বেড়ায়, এই তো।

জানে না কিচ্ছু । কোন জ্ঞান গরিমা নাই, কুয়োর মধ্যে থাকে।

রাজাকার, দেশ বিরোধী। জঙ্গি। ধর্মে উন্মত্ত।

এরা কেবল ধর্ম-কম্ম নিয়েই থাকবে। বাদবাকি আর যা কিছু আছে, তাঁর সব অন্যদের জন্যে।

এই ব্যাপারটা ঠিক ছেলেবেলা থেকেই দেখে আসছি।

বাসের হেল্পার , “এই হুজুর, ভাড়াটা দেন”। “স্টুডেন্ট” বলতে চাইলে, “হুজুর, আবার কীয়ের ইশটুডেন্ট”।

এ তো গেল বাসের হেল্পার। তারপর আমি ক্রমশ সমাজের উপরের দিকে উঠব, ঠিক একই বক্তব্য পাব। ঘুরেফিরে।

আমি একটা জাতীয় দৈনিকের ফিচারে লিখি, বিভাগীয় সম্পাদক আমাকে দেখেই বলেছিলেন, “আপনাকে দেখেই ভয় পেয়ে গেছিলাম”।

হু, ভয়ের পরে জয়, তারপর আমি দিব্যি ফিচার করে যাচ্ছি ভাইয়ের পাতায়।

Picture

একটা অনলাইন নিউজ পোর্টালে কাজ করতাম, তাঁদের হয়ে এক মস্ত বাম নেত্রীর সাক্ষাৎকার নেব। আমার কথা বলে তারপর সম্পাদক বললেন, “আপা, ও একটু জুব্বা জাব্বা পরা, ভয় পায়েন না”। তারপর অবশ্য একটু লাজুক হয়ে আমাকে বললেন, “মানুষের ধারনা তো পালটায়নি, কী করবো, বলো!”

ক্লাসে, আমার মত করে কিছু করতে চাইলেই সহপাঠীরা প্রথমেই মনে করিয়ে দেয়, “এই তুই না হুজুর!”। এদের প্রায় প্রত্যেকেই আমার নাম ভুলে গিয়েছে। তাঁদের কাছে আমার নাম; হুজুর। আমার পিতৃপ্রদত্ত নামে আর ওরা ডাকে না আমাকে।

একবার জগন্নাথ হলে আমার এক বন্ধু, ওরও আমার মতই পোশাক, ঢুকতে গেলে দারোয়ান বাধা দিচ্ছিল, আর সবাই দিব্যি ঢুকছে তখন। ওকেই বাধা দিয়েছে, “হুজুর” বলে।

বইমেলায় আমি আর আমার দুই বন্ধু ঢুকছিলাম, পুলিশটা আমাকে দেখিয়ে বলল, “এই হুজুরটারে ভাল কইরা চেক কর”। আমার বন্ধুরা সেইবেলা পুলিশের দিকে তেড়ে গিয়েছিল, আমি অভ্যস্ত বলে মুচকি হাসছিলাম।

আমার প্রতিটা কাজেই আমাকে প্রথমেই একটা ক্যাটাগরিতে ফেলে দেওয়া হয়, আমার যোগ্যতা বিচারের আগেই। “হুজুর”।

বেশ অনেক আগে একদিন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে ঢুকলাম, কী একটা অনুষ্ঠান হচ্ছিল। বেশ ৪/৫ জন পুলিশ আমাকে ঘিরে ধরে পরিচয় জানতে চাইল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলাতে তাঁদের আশাভঙ্গ হতে দেখেছি, নতুবা হয়ত ধরেও নিয়ে যেত। কেবল এই পোশাক বলেই।

এই পাঞ্জাবি, পাজামা এসব আমার নিজস্বতা। এ দেশে এটা ধর্মীয় পোশাকের মর্যাদা পেলেও ধর্মের কোনো নিজস্ব পোশাক বলে দেওয়া নেই। তবু সবাই ধরেই নিয়েছে এটাকে “ধর্ম” বলে। আর যদি ধর্ম হয়ও বা, তাতেও তো আপনি কাউকে তাকে মাপার আগেই বিচার করে ফেলতে পারেন না!

সাংবাদিকতায় পড়ি। টিভি সাংবাদিকতা করতেই চাইবো। আমার সেখানেও হয়ত বাদ পড়ে যেতে হবে, “হুজুর” বলে।

আমি জানি না।

মজার ব্যাপার হলো, আমাকে জাজ করবার পরও আমি যাদের সাথে মিশেছি কিংবা যারা আমার সাথে, সবাই নিজের ধারণাকে পালটেছে। আমাতে মুগ্ধতা এসেছে কমবেশি।

আপনিও, বিচার করা বাদ দিয়ে মিশেন এসব টুপি পাঞ্জাবিওয়ালার সাথে। ধারণা বদলাবেই। আপনি-ই তো পরিবর্তন। আপনাতেই তো পরিবর্তন।

মীর হুযাইফা আল মামদূহ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিতেই জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর ২০১৭

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলার ইতিহাসে ঘটে আরেকটি নির্মম ঘটনা। ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালনকারী বঙ্গবন্ধুর চার সহকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামরুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুরতম হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়েছিল গোটা বিশ্ব। সেই ভয়াল সময়, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও শহীদ পিতা এম মনসুর আলীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তার ছেলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভোরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার ঝর্ণা মনি ও স্টাফ রিপোর্টার মুহাম্মদ রুহুল আমিন

ভোরের কাগজ : কলঙ্কিত জেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দুঃসংবাদ আপনারা কখন, কীভাবে পেলেন?
মোহাম্মদ নাসিম : জাতির জন্য জেলহত্যা দিবস আর আমাদের পরিবারের জন্য শোকের মাস। অবশ্য এর আগে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট আমরা স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে হারাই। শুধু বিদেশ থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। স্বাধীনতাযুদ্ধে সফল নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর আজীবন সহচর বাবা মৃত্যুতেও সহচর হলেন, সঙ্গে জাতীয় তিন নেতাও। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি মোশতাক নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে আমার বাবাকে পাশে পেতে চেষ্টা করে; কিন্তু পাশে পায়নি। পরে নানারকম হুমকি দেখানো হয়।

সেই হুমকিতেও আমার বাবা মাথা নত করেননি। বেঈমান মোশতাক জানতো আসামির কাঠগড়ায় তাকে দাঁড়াতেই হবে। কারণ খুনি মোশতাক ও জিয়া ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। যে কারণে বন্দি অবস্থায় স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বন্দি অবস্থায় হত্যা ও শারীরিক নির্যাতন ইতিহাসে বিরল। বাবার মৃত্যুর সময় আমি আত্মগোপনে ছিলাম। কারণ আমার নামে হুলিয়া জারি করা হয়েছিল। বারবার আমাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। আত্মগোপনে থেকেই আমি বাবাসহ জাতীয় চার নেতা হত্যার খবরাখবর পেয়েছি। এটা কতটা কষ্টের, কতটা নির্মম, কতটা নিষ্ঠুর- এটা কখনো কাউকে বুঝাতে পারব না।

একদিকে আমি আত্মগোপনে, অন্যদিকে সব মিলিয়ে থমথমে পরিস্থিতি- কারো সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছিলাম না। জেল কর্তৃপক্ষ কবে, কখন, কার কাছে লাশ হস্তান্তর করবে- কিছুই জানতে পারছিলাম না। পরে জানতে পারলাম, চার নেতাকে হত্যার পর যেহেতু তাদের লাশ পরিবারকে দেয়া হয়নি, সেহেতু কারাগারেই একদিন ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে সেনা প্রহরায় লাশ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাবা মারা যাওয়ার সময় তার মুখখানি শেষ বারের মতো দেখতে পারিনি আমি। মোশতাক-জিয়ার ভয়ে দেশের বাইরে পলাতক ছিলাম। তবুও মৃত্যুর হুলিয়া মাথায় নিয়ে দেশে ফিরতে চেয়েছি কিন্তু আমার মা, ভাইয়েরা ফিরতে দেননি। তারা চাননি, বাবার মতো আমারও নির্মম মৃত্যু হোক।

ভোরের কাগজ : কবে এবং কীভাবে আপনার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়?
মোহাম্মদ নাসিম : পবিত্র শবেবরাতের রাতে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে তাকে প্রথমে রমনা পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং পরে সেন্ট্রাল জেলে নেয়া হয়। এ সময় জাতীয় নেতা হিসেবে তার প্রতি সামান্য সৌজন্যবোধও দেখায়নি। সাধারণ বন্দিদের মতোই আচরণ করা হয়েছিল। বন্দি অবস্থায় কেন্দ্রীয় কারাগারে তার সঙ্গে আমার মা একবার কি দুইবার দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

ভোরের কাগজ : জেল হত্যাকাণ্ডের পর আপনাদের পরিবারের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
মোহাম্মদ নাসিম : রাজনৈতিক জীবনে আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর মতোই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। সারা জীবন দেশের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তাই তার মৃত্যুর পর আমরা অস্বাভাবিক রকমের অভাব-অনটনে পড়ে যাই। আমাদের ঢাকায় থাকার কোনো জায়গা ছিল না। সরকারি বাসভবন ছাড়ার পর ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় থাকতাম। পরে কাঁঠালবাগানের সেন্ট্রাল রোডে এক ভাড়া বাড়িতে উঠি। বড় ভাই লন্ডন থেকে কিছু টাকা পাঠাতেন, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলত।

ভোরের কাগজ : ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের সময় আপনার বাবা দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ওই রাতে আপনি তার পাশে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অধীনস্থদের ওপর আপনার বাবার কী নির্দেশ ছিল তখন?
মোহাম্মদ নাসিম : ১৫ আগস্টের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি বাবার সঙ্গেই ছিলাম। রাতে শুধু একটু সময়ের জন্য মণি (শেখ ফজলুল হক মণি) ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাই। ভোর রাতে যখন খবর পেলাম তখন দেখেছি কী উদ্বেগ ও প্রচণ্ড বেদনা নিয়ে একদিকে বঙ্গবন্ধুকে হারানোর কথা মনে করছেন, অন্যদিকে প্রতিশোধ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার অদ্যম ইচ্ছে নিয়ে দলীয় সহকর্মী এবং তদানীন্তন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।

শুধু তাই নয়, পরবর্তী সময়ে আত্মগোপন অবস্থায়ও চেষ্টা করেছেন নানাভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য। কিন্তু কিছু সহকর্মীর ভীরুতা, আপসহীনতা এবং জীবন রক্ষার প্রাণান্ত চেষ্টা, অন্যদিকে তখনকার সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা, চরম কাপুরুষতায় জাতীয় চার নেতা ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং হতাশ হয়েছিলেন। কিছু করতে না পারার বেদনা এবং অশ্রুসিক্ত চেহারা আমি দেখেছিলাম। কিন্তু একটা জিনিস ধ্রুবতারার মতো ছিল সত্য, তারা জীবন দেবেন, কিন্তু মোশতাকের সঙ্গে হাত মেলাবেন না। তারা তাদের কথা রেখেছেন। জাতীয় চার নেতা আপস করেননি, আত্মসমর্পণ করেননি, জীবনের ভয়ে মাথানত করেননি, ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে বন্দি অবস্থায় ঘাতকের হাতে জীবন দিয়েছেন।

জাতীয় চার নেতা জীবনেও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন, মরণেও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। আমার বাবা তার পরিবারের বাইরে প্রতিটি মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুর কথা ভাবতেন, বঙ্গবন্ধুর কথা বলতেন। বঙ্গবন্ধু ছাড়া যেন তার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। মাঝে মাঝে আমার মনে হতো তিনি যেন আমাদের চাইতে বঙ্গবন্ধুকে বেশি ভালোবাসতেন। তিনি যখন রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছেন সেই মুহূর্ত থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ছাড়া তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো কিছু করারই চিন্তা করতেন না।

ভোরের কাগজ : ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক গুণ কী ছিল বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ নাসিম : তার সবচেয়ে বড় গুণ একনিষ্ঠতা। আমি তার সন্তান হিসেবে দেখেছি ৬ দফা আন্দোলনে যখন বঙ্গবন্ধুর অনেক সহকর্মী তাকে ত্যাগ করে চলে গেছেন, কারাবন্দি অবস্থা থেকেও আমার পিতা এম মনসুর আলী শত প্রলোভন ও চাপের মুখেও তখনকার পিডিএমপন্থী আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান, সালাম খানদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অথচ দীর্ঘ কারাজীবন ভোগ করেছেন। কিন্তু নেতা শেখ মুজিবের সঙ্গে বেইমানি করেননি। আমার পিতার দৃঢ় অভিব্যক্তি মনোভাবকে দেখেছি তখন আমি। ১৯৬৬-৬৭ সালে যখন বাবা পাবনা কারাগারে বন্দি ছিলেন, আমিও ছাত্রাবস্থায় পিতার সঙ্গে সে মুহূর্তে একই কারাগারে আটক ছিলাম।

দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, সংগ্রাম শেষে যখন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি তখন আমার বাবাসহ জাতীয় চার নেতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে মুজিবনগর সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব দেন। সেই বিরল মুহূর্তগুলো দেখার বা জানার আমার সুযোগ হয়েছে। আমি দেখেছি সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে বাবা কী দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ মনোভাব নিয়ে স্বাধীনতার বিজয় এবং জীবিত বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করার জন্য অন্য তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কাজ করে গেছেন। খন্দকার মোশতাকের মতো একজন সুযোগ সন্ধানী বিশ্বাসঘাতক ওই প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের মুহূর্তেও চেষ্টা করেছে এই চারজনের মধ্যে ফাটল ধরাবার জন্য এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করার নানা প্রলোভনের জাল বিস্তার করে মুজিবনগর নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করার। কিন্তু একটি বিপজ্জনক এবং জাতির যুগসন্ধিক্ষণে এম মনসুর আলী অন্য তিন নেতার সঙ্গে থেকে সব ভয়-ভীতি, অনিশ্চয়তা ও প্রলোভন উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধকে সফল করেছেন।

সফেদ-সাদা-পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে আমার অত্যন্ত সাধারণ জীবন-যাপনের মধ্য দিয়ে মুজিবনগরের রণাঙ্গনে ছুটে বেড়িয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন। প্রবাসী সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে শত শত তার দলীয় সহকর্মী, দেশ থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার কর্মীকে আর্থিক সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। আমি দেখেছি হাজারো অনিশ্চয়তা ও অমানিশা অন্ধকারের মধ্যেও সাধারণ বাঙালির চেয়ে দীর্ঘদেহী আমার পিতার উজ্জ্বল প্রত্যয়ী মুখচ্ছবি। তিনি সর্বদা বলতেন, ‘জীবিত বঙ্গবন্ধুকে আমরা ইনশাল্লাহ মুক্ত করব।’ আসলে জাতীয় চার নেতার নেতৃত্বে মুজিবনগরে যে মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব সংগঠিত হয়েছিল তা নিয়ে একটি মহাকাব্য রচনা করা যেতে পারে।

একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম ও খুলনা পোর্ট পুনরায় চালু করে কার্যকর বন্দরে পরিণত করা, সর্বোপরি এক নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্বাধীনতাবিরোধী এবং তথাকথিত হটকারী বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী নামধারীদের অপতৎপরতা রোধ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবু তিনি সেসবের মোকাবেলা করেছেন।

ভোরের কাগজ : জেলহত্যার বিচারের রায় কার্যকরে আপনি ও আপনার পরিবার সন্তুষ্ট?
মোহাম্মদ নাসিম : কতটা ভয়ঙ্কর ছিল সেই বেইমানরা। কারাগারের মধ্যেও মানুষকে হত্যা করেছে। আজকের প্রজন্ম এ কথা জানলে বিশ্বাসই করতে চাইবে না। আজকাল অনেকের মুখেই শুনি আইনের শাসনের কথা। ছোট কোনো ঘটনাতেও হুমড়ি খেয়ে পড়ে আইন ব্যবস্থার সমালোচনা করতে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, কোথায় ছিল সেই আইন, কোথায় ছিল মানবতা যেদিন এতটা নির্মমভাবে রাতের অন্ধকারে বাবাসহ চার নেতাকে খুন করা হয়েছিল।

যেদিন বঙ্গবন্ধুসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না এলে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডর বিচার হতো না। পাহাড়সম বাধা দূর করে এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর নানা অজুহাতে জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলা ঝুলিয়ে রেখে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আপিলের মাধ্যমে আমরা এ মামলার বিচারের রায় পেয়েছি। এ জন্য বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

ভোরের কাগজ : আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় অহঙ্কার কী বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ নাসিম : ১৯৮০ সালে আমি কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলাম। যে কক্ষে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই কক্ষেই আমি বন্দি ছিলাম। চার নেতার রক্তের দাগ এখনো মুছেনি। আমার বাবার শেষ নিঃশ্বাসের উত্তাপ আমি এখনো পাই। বাবার মুখ শেষবারের মতো দেখতে পারিনি। বাবার মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ না পেলেও দুঃখ নেই। আমি তখন রাজনীতি করতাম। আমাকে পেলে তখন মেরে ফেলা হতো। কিন্তু আমি গর্ব ও অহঙ্কারের সঙ্গে বলতে পারি, আমি মোশতাকের মতো বেইমানের সন্তান নই। আমার পিতা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেননি। যখনই আমি কোনো কাজ করি, চিন্তা করি সে সময় আমার চিন্তা-চেতনায় সব সময় আমার বাবার স্পর্শ- আবেগ অনুভব করি।

যিনি আমার গর্বিত পিতা এবং সব সময় সব মুহূর্তে আদর্শিক নেতা। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ও আমার জীবনের বড় পরিচয় আমার বাবা শহীদ এম মনসুর আলী। এটিই আমার অহঙ্কার। আমার শহীদ পিতার এই আদর্শ ধরেই আমি কাজ করছি, কাজ করে যাব।

ভোরের কাগজ : জাতি আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে মহান স্বাধীনতার চার বীর সেনানীকে। ৩ নভেম্বরে নতুন প্রজন্মের প্রতি আপনার কী আহ্বান থাকবে?
মোহাম্মদ নাসিম : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের পরেই চার মৃত্যুঞ্জয়ী নেতার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে চিরদিন। যারা জীবন দিয়েছেন কিন্তু জাতির জনকের সঙ্গে বেইমানি করেননি। নেতা বা নেতার আদর্শের সঙ্গে বেইমানি নয়, বিশ্বাসঘাতকতা নয়, কোনো আপসকামিতা নয়। ৩ নভেম্বরে শহীদ জাতীয় চার নেতার প্রতি এটাই আমার প্রত্যয়দীপ্ত শ্রদ্ধা। আর তরুণ প্রজন্মকে বলব, তোমরা ইতিহাস পড়, ইতিহাস জান। দেশকে ভালোবাসো। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।


আমি বাংলাদেশ! -মতিউর রহমান লিটু

বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৭

বুকের পাঁজর ছিন্ন ভিন্ন,
মাথার খুলী ভঙ্গুর,
মগজে মৃদু কম্পন,
রক্ত নালী ছেঁড়া আমার
হচ্ছে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ!!

বাহু পেশী ছিঁড়ে হাড্ডি বেড়িয়ে-
রক্তাক্ত আমি দাঁড়িয়ে আছি,
আশা ছাড়িনি, বেঁচে আছি তবু
আমি বাংলার গণতন্ত্র, আমি বাংলাদেশ!!
ভেবেছিস কি তোরা-
আমি হয়ে গেছি শেষ?

ওরে মূর্খের দল,
বাজিয়ে উন্নয়নের মিথ্যা ঢোল
শয়তানের হাসি হেঁসে-
কতদিন পাড় পাবি তোরা?
সময় যখন শেষ!

ব্রিটিশ করেছে আহত আমায়,
ছাড়েনি পাকিস্তান!
আমার বুক ঝাঁজরা করেছে
পাপী, রাক্ষুসী মানুষ রুপি শয়তান!

সিংহাসনের লোভ যায় নাকো কভু
আমার রক্তের জবাব চাইবে যেদিন প্রভু-
মিলিবে না ক্ষমা, ছাড়িব না আমি
অনেক পাপ তোদের, অনেক অন্যায়,
আমার কাছে আছে জমা!

আমি রক্তাক্ত, আমি দুর্বার
আমি হইনা কভু শেষ,
আমি বাংলার গণতন্ত্র
আমিই বাংলাদেশ!!


আমেরিকার বক্তব্যে খুশী বাংলাদেশ।আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৭

বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমার(বার্মা)নিয়ে অঞ্চলটি রক্তপাত,ষড়যন্ত্র এবং বিদ্বেষের নির্মম কৌশলের খেলায় পর্যুদস্থ।দুনিয়ার বৃহৎ শক্তিদের উম্মাতাল লোভের নয়া টার্গেট এই অঞ্চল। আরাকান রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে নির্মূল ও বিতাড়নের অভিযানে ইজরাইল-ভারত-চীনের খোলামেলা ও সক্রিয় সমর্থনে পরিস্থিতির আন্তর্জাতিক রূপ প্রকাশ পেয়েছে।বাংলাদেশকে জঙ্গিদের মাফিয়া সর্দাররা ব্যবহার করছে রাজনৈতিক বেহায়পনা ও অরাজকতার সুযোগে।
অর্থাৎ রাখাইনে যে বর্বরতার তান্ডব চলছে,তা কেবল একটা সরকারের রাজনৈতিক প্রশাসনিক বিষয় নয়,এই দুর্যোগের ভেতরে বাহিরে রয়েছে শক্তিধরদের সংশ্লিষ্ঠতা।ওরা বাংলাদেশের সরকারকে ব্যবহার করছে তাদের নীরব সমর্থনে  সহকারীর ভূমিকায়।বাংলাদেশের সরকার নিজের পায়ে ভর করে চলতে অপারগ হওয়ায় তাকে ভারত ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় জঙ্গি সন্ত্রাসীদের আজ্ঞাবহ থাকতে হচ্ছে।বাংলাদেশ চলছে মুক্তিযুদ্ধ ও মানবতার বিপরীত চেতনার পথ ধরে, পরাধীন দাসের চরিত্রে।মুক্তি ও মানবতাকে নির্বাসন দেয়া হয়েছে রাজনীতি ও রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে।রাজনীতি লুন্ঠন ও মানবতার হাতিয়ার একইসাথে হয়না,হতে পারেনা বিধায় মানবতা এখানে কাতর যন্ত্রণায় করছে ছটপট।  
এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার সুযোগ আছে বাংলাদেশে সরকারকে জনভিত্তিক রূপ দেয়ার চাপ দেয়া এবং বাংলাদেশকে মানবতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে যথার্থ মডেল করা।ভারতের উপর নির্ভর থাকায় বাংলাদেশকে ওরা ঠেলে দিয়েছে অরাজকতার খাদে।এই দুরবস্থা দিনে দিনে  হচ্ছে আরো ভয়াবহ।বাংলাদেশে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার অনুপস্থিতি আরো দীর্ঘ করা হলে মিয়ানমারে গণতন্ত্র এবং মানবতার দুর্দশা আরো ভয়াবহ হতে বাধ্য।আমেরিকাকেই তাই ভাবতে হবে তার স্বার্থ এবং বাংলাদেশের স্বার্থ খাপ খায় কিনা।এই সরল প্রশ্নের জবাব আসবে ওয়াশিংটন থেকে,ঢাকা থেকে নয়।সমুদ্র এবং স্থলে চোরাকারবার এবং অন্যান্য ভয়াবহ অপরাধের রাজনৈতিক সর্দাররা ভারত-বাংলাদেশ-মিয়ানমার সরকারে কর্তৃত্বের নেটওয়ার্ক সাজিয়েছে।বঙ্গোপসাগরে রাষ্ট্রের সরকার এবং অপরাধীর সরকারের আধিপত্য বিশ্বসংবাদ হয়েছে অনেকবার।
এদিকে আমেরিকার রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট টমাস এ শ্যানন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়ে যাবে। রাখাইন থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিতে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ওপর চাপ ও আলোচনা অব্যাহত রাখবে।রোববার ৩নভেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলার সময় তিনি তা বলেছেন।কথা বলেছেন,প্রভাবশালী বিরোধী দলীয় রাজনীতিক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে।বাংলাদেশের জনগণের আশার প্রতিফলন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এই  আশ্বাসে। মার্কিণ জনগণের মতামতের ছাপও রয়েছে এই মন্তব্যে।আমেরিকার এই নেতার এবারের বাংলাদেশ সফর খুবই গুরুত্ববহ।     
 জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নৃশংসতা ও জাতিগত নিধন বন্ধের জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন।রোহিঙ্গা সঙ্কটের অবসান চেয়ে ৬ই নভেম্বর  সোমবার বেশ কিছু প্রস্তাব সহকারে একটি বিবৃতি দিয়েছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা।নিরাপত্তা পরিষদের  পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিয়ো গুতেরেসের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, তিনি যেন  একজন বিশেষ উপদেষ্টা নিয়োগ করেন, যিনি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মহাসচিবের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করবেন।
তাঁর বাংলাদেশ গমণের সংবাদ আগেই জানানো ছিলো বিধায় ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তাদের বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজে এসে ঢাকায়  তার মুখ ধুয়ে গেছেন।সরকারের সংশ্লিষ্টদের সাথে দেখা করেছেন এবং সাংবাদিকদের বলে গেছেন,নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে তারা থাকবেন।কেবলমাত্র প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদেরকে ভারতে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ভারত সরকার।যারা ঢুকে গেছে তাদেরকে বের করে দেয়া অথবা খুন করার জন্যে ভারত সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়নি।রোহিঙ্গা  ভারতের আদালতের যৌক্তিক মতামত এসেছে।তারা সরকারের নির্মম সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করেছে।তাই রোহিঙ্গাদেরকে নিশ্চিত মৃত্যুতে ঠেলে দিয়ে মুসলমান নির্মূলের আরেক অভিযান এড়ানো সম্ভব হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মনে একভাব ও মুখে বিপরীত কথাকে হালকাভাবে নিয়েছে পর্যবেক্ষকরা।
তবে মিয়ানমারে মুসলমান হত্যার রক্তাক্ত দাগ মুছে মার্কিণ নির্দ্দেশ পালন করে গেছেন।বুকের ভেতরের রোহিঙ্গা মুসলমান-বিদ্বেষ লুকিয়ে রেখে মুখে রোহিঙ্গাদের জন্যে সমব্যদনা প্রকাশ করে গেছেন মিডিয়ায় ছাপানোর জন্যে।একই মুখে ভারতীয় জঙ্গি সরকারের মুখে দুই বিপরীত কথা। সকাল বেলা বৌদ্ধ জঙ্গিদের পক্ষে দৌঁড়ানি।বিকেল বেলায় বাংলাদেশের পাশে এসে রোহিঙ্গাদের পক্ষে সুর মিলানো।ভারতীয় জঙ্গিরাজনীতির নীতিহীন অবস্থা প্রকাশ্য হয়ে গেলো আরেকবার। আমেরিকার ঠ্যালাটা খুব মজা দিয়েছে।উই আমেরিকান লাইক দিস লয়েল স্লেইভস্‌! অর্থাৎআমরা আমেরিকানরা এরকম অনুগত দাসদেরই পছন্দ করি।        
মার্কিণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্ফের চীন সফরের প্রাক্কালে দেশের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারীর বাংলাদেশ সফরের গুরুত্ব নিয়ে উঠছে কথা।এদিকে সেক্রেটারী অব ষ্টেটের মিয়ানমার সফরের কথা রয়েছে।এশিয়ায় আমেরিকার এই গুরুত্ব পূর্ণ সফর শুরুকে মার্কিণ অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার অগ্রাধিকারে বিবেচনা করা যেতে পারে।চীন এবং জাপানে যেমন কোরিয়া প্যানেন্স্যুয়েলার ইস্যু প্রাধান্যে থাকতে পারে,বাংলাদেশ সফরে রাখাইন রাজ্য ও বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিণ প্রভাব নিশ্চিত করার নয়া ধাপের অগ্রগতিই প্রাধান্যে থাকছে।   
মিয়ানমারে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং এই নির্বাচনে অংশান সুকির দল বিপুল জনসমর্থন অর্জন করে সরকার গঠণ করাকে আমেরিকা ও পশ্চিমা শক্তি বলয় নিজেদের নীতির বিজয় বলে দেখে।ওদিকে চীনাপন্থি সামরিকবাহিনী এতে একচেটিয়া ক্ষমতা থেকে পিছু হটেছে সামান্য।রাজনৈতিক দলের সাথে সমঝোতা করতে বাধ্য হয়েছে সামরিকবাহিনী।    দরিদ্রদেশ মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তারপরও অসংগঠিত রাজনৈতিক কাঠামোর অসুস্থ রোগাক্রান্ত অবস্থাকে কড়া নিয়ন্ত্রণে নজরদারি করতে থাকে।
রাখাইন রাজ্যে তেল গ্যাস ও ইওরোনিয়াম সহ মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের উপর  বড়শক্তি চীন এবং আমেরিকার স্বার্থ রয়েছে।এই স্বার্থের প্রতি মনোযোগ রেখেই রাখাইন প্রদেশে নারকীয় গণহত্যা চালু করে রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে বাংলাদেশে বিতারণের ক্ষেত্র সাজানো হয়েছে।দুর্বল বাংলাদেশের সরকারও দূর্বল এবং জনগণের ভয়ে ভয়ে দিন কাটায় রাত শেষ করে।এক্ষেত্রে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অরাজনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক আকাংখার সাথে বাংলাদেশ সরকারের একটা চমৎকার মিল আছে দেখা যায়।
মিয়ানমারে জনগণের ইচ্ছার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ক্ষমতাধর সেনাবাহিনী।বাংলাদেশে ঠিক তার বিপরীত অবস্থা।তবে প্রথম পক্ষে ক্ষমতাধররা নিজেরা উর্দি পরা এবং শসস্ত্র।নিজেদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হচ্ছে বৌদ্ধ জঙ্গি সন্ত্রাসী।দ্বিতীয়টা নিজেরা রাজনৈতিক স্বৈরাচার।ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রভাবাধীনে বাংলাদেশে প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হচ্ছে ভারতীয় হিন্দু জঙ্গি সন্ত্রাসী।মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়তে প্রধান বাধা হচ্ছে  ক্ষমতাধর  সেনাবাহিনী এবং বৌদ্ধ জঙ্গি।
বাংলাদেশে রাজনীতির গণতান্ত্রিক কাঠামো সহ রাষ্ট্রীয় কাঠামো অকেজো করছে ক্ষমতাধর সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।এরা যুক্তি দেয়,যে দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাবা মা ভাইদের মেরে ফেলেছে,সেই দেশের বিরুদ্ধে বেঁচে থাকা দুই কণ্যার প্রতিশোধ যুক্তিযুক্ত। রাজনৈতিকভাবে এই যুক্তিগ্রহন করার ফলে বাংলাদেশের পরিণতিকে যেদিকে ধাবিত করা হচ্ছে,তারই ফল হচ্ছে মেরুদন্ডহীন বাংলাদেশ।ভেতর থেকে বাংলাদেশকে নিরাপত্তাহীন করে দেয়া এবং সীমান্তের পরপার থেকে বাংলাদেশকে আঘাত করার রাষ্ট্রনীতি ও রাজনীতির কবলে কি বাংলাদেশ?এই প্রশ্নে তোলপাড় দেশ বিদেশ।এই জবাবও বের করতে হবে আমেরিকাকে।কেননা আমেরিকার স্বার্থ আছে বাংলাদেশ নিরাপদ থাকায়।      
 মিয়ানমারে সুকির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার সেনাবাহিনী ওতার সমর্থিত বৌদ্ধধর্মীয় জঙ্গিদের অপরাধের কাছে মাথা নুইয়ে চলতে হয়।বাংলাদেশে পুলিশ সেনাবাহিনী বিচার ব্যবস্থা সবই রাজনৈতিক ক্ষমতাসীন নেতাদের দাপটের অধীনে জীবন বাঁচিয়ে চলতে হচ্ছে বাধ্য।মিয়ানমারের এই ভয়ানক পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে চীন এবং ইজরাইল এবং ভারতের জঙ্গি সরকার।


জেলা চেয়ারম্যান খান মোশাররফের মৃত্যু ও আমার কিছু স্মৃতি কথা!- মতিউর রহমান লিটু

বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৭

চিরবিদায় নিয়ে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন দক্ষিণাঞ্চলের বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ও পটুয়াখালী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা খান মোশাররফ হোসেন। গত ১ নভেম্বর বুধবার মধ্য রাতে ভারতের শংকর নেত্রালয়ের একটি আবাসিক হোটেলে তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।
তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আমার কিছু স্মৃতিকথার অবতাড়না করতে চাই।  

৯০ দশকের রাজনীতিতে সহনশীলতা, শ্রাদ্ধাবোধ, ভালবাসা ছিল আমাদের সকলের প্রথম বৈশিষ্ট। বর্তমান বাংলাদেশের ধংসাত্বক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে চিন্তা করলে হয়তবা আমার স্মৃতিকথা টুকু সকলের অবিশ্বাস্যই রয়ে যাবে! তারপরেও আমার ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা টুকু বলে নিজেকে দায় মুক্ত করতে চাই!

খান মোশাররফ সাহেব বরাবরই আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেছেন, তার সাথে আমার কোনদিন পরিচয় ছিল না। আমি করতাম বিএনপি রাজনীতি অর্থাৎ ছাত্রদল আর তিনি তখন পটুয়াখালী সদর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক।  ১৯৯১ সনের নভেম্বর মাসের কোন এক সময় (তারিখ মনে করতে পারছি না) পটুয়াখালী সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ গেইটে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মিদের মারামারি হয়েছিল। আমি তখন সদ্য ছাত্র রাজনীতিতে আসা ছাত্রদলের একজন কর্মী, তেমন নাম ডাক হয়ে ওঠেনি। আউয়াল দারোগা নামে এক দারগা ছিলেন তিনি সহিংসতায় জড়িত কোন অপরাধীকে গ্রেফতার করতে না পেরে আমাকে সহ পাচজন নির্দোষ ছাত্রকে গ্রেফতার করেছিলেন। আমি তখন সদ্য মনোনীত শহীদ জিয়া ছাত্রাবাসের হোষ্টেল মনিটর হিসাবে দায়ীত্ব পালন করতাম তাই মুহুর্তেই খবর পৌছে যায় কলেজে, কলেজ থেকে স্থানীয় বিএনপি ও আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের কাছে। সেদিন কোন দলমতের ভেদাভেদ না করে আমি সহ বাকী পাঁচজনকেই নিজ দায়ীত্বে ছাড়িয়ে এনেছিলেন জনাব খান মোশাররফ সাহেব। এমনকি তিনি আউয়াল দারগাকে আমাদের সামনেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছিলেন আমাদের মত নিষ্পাপ ছাত্রদের কেন গ্রেফতার করা হয়েছিল! সেদিনের সেই মহানুভবতা আমাকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তুলেছিল।

তাই কোন দলীয় দৃষ্টিকোন থেকে নয় একজন মানুষ হিসাবেই খান মোশাররফের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন, আমীন!


৭ নভেম্বর : আজও বলি হচ্ছে বাংলাদেশ!

বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৭

রুদ্র সাইফুল: আজ ৭ নভেম্বর বিএনপির নেতৃত্বে স্বাধীনতা বিরোধী চার দলীয় জোট জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করছে, ৭ নভেম্বরের ঘাতকচক্রের অন্যতম অংশীদার জাসদ পালন করছে সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস; অথচ এই ৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস। এই দিনটি পালন সম্পর্কে আমার সংশয় এবং বিভ্রান্তি কোনদিন কাটেনি। বিএনপি ও জাসদের এই দিবসটি পালনীয় শব্দগুলো বরাবরই আমার কাছে অবোধ্য, অন্তত ৭ নভেম্বরের প্রেক্ষিতে। ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে ঘটা হত্যাযজ্ঞের মূল খলনায়ক কর্নেল আবু তাহের। মূল হত্যাকারী সংগঠন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), গণবাহিনী এবং তথাকথিত বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা।

alt

স্বাধীন বাঙলার ইতিহাসে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ও জাতীয় চারনেতা হত্যাকাণ্ডের পরে সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হত্যাকাণ্ডের সূচনা হয় এই ৭ নভেম্বরে। ইতিহাসে এই দিনটি মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যার একটি কালো দিন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে খালেদ মোশাররফ বীরউত্তম, কে এন হুদা বীরউত্তম, এ টি এম হায়দার বীরবিক্রম ও নাজিয়া ওসমানের হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা কর্নেল আবু তাহের।১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরে বিএনপি বলে কোনো দল জন্মগ্রহণ করেনি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী তখনও নিষিদ্ধ। আজকের জাতীয় পার্টির নেতা জেনারেল এরশাদ তখন পদোন্নতি পেয়ে সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হয়েছেন। আর ইসলামী ঐক্য জোটের শায়খুল হাদিসরাও তখন রাজনীতির অঙ্গনে ছিলেন না।

alt

তাহলে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর কি ঘটেছিলো? ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে জানার পূর্বে ঘুরে আসতে হবে ১৫ আগস্ট ১৯৭৫। সিআইএ ও আইএসআই-এর মদপুষ্ট হয়ে জিয়া ও তাহেরের নির্দেশে একদল সামরিক অফিসার আর সেনাবাহিনীর এক অংশবিশেষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে সকালে দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারির এক অফিসার কর্নেল তাহেরকে টেলিফোন করে বলে যে, মেজর রশীদের পক্ষ থেকে তিনি তাকে টেলিফোন করেন। তাকে বাংলাদেশ বেতার ভবনে যেতে বলে। সে টেলিফোনেই ওই অফিসার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ বিবরণ তাহেরকে বলে; টেলিফোনেই কর্নেল তাহের খুনীচক্রকে সাধুবাদ জানান। এটা পরিষ্কার যে, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান এই ঘটনার নেপথ্য নায়ক।

alt

১৫ আগস্ট সকাল নটায় তাহের বেতার ভবনে উপস্থিত হন। মেজর রশীদ তাকে একটা কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তিনি খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, মেজর ডালিম আর মেজর জেনারেল এম. খলিলুর রহমানকে দেখতে পান। খন্দকার মোশতাক সহ উপস্থিত খুনীচক্রের সঙ্গে তিনি কিছুক্ষণ রূদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। সেই সময়ে মেজর রশীদ তাকে আরেকটা কক্ষে নিয়ে গেলে তাহের মেজর রশীদকে অনুরোধ করেন যাতে জিয়া তাহেরকে মন্ত্রীসভায় জায়গা দেন। তাহের রশীদকে পরামর্শ দেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে অবস্থা পর্যালোচনা করে একটা শক্তিশালী মন্ত্রীসভা গঠন করতে। তাহের মেজর রশীদ আর লে. কর্নেল জিয়াউদ্দিনকেই এই অবস্থা সামাল দেওয়ার পরামর্শ দেন। তাহের মেজর রশীদকে আরও বলেন যে, অন্য কোনো বাহিনীর প্রধান কিংবা কোনো রাজনীতিবিদের উপর তার কোনো আস্থা নেই। তাহের আরও পরামর্শ দেন বাকশালকে বাদ দিয়ে অন্যসব রাজনৈতিক শক্তিকেও তথাকথিত ওই সামরিক সরকারের সম্মুখভাগে রাখতে হবে; যাতে আন্তর্জাতিক মহল মনে করেন যে বাংলাদেশে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠন করা হয়েছে। তাহের খোন্দকার মোশতাকের সামনে বিবেচনার জন্য পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন:

১) অবিলম্বে সংবিধান স্থগিতকরণ
২) দেশব্যাপী সামরিক শাসন ঘোষণা ও তার প্রবর্তন
৩) দলমত নির্বিশেষে জাসদ ও ইসলামপন্থি সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তিদান
৪) বাকশালকে বাদ দিয়ে একটা সামরিক সরকার গঠন করা
৫) সামরিক বলয়ের জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটা লোক দেখানো জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

alt

খোন্দকার মোশতাক কর্নেল আবু তাহের’র এসব কথা শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এইদিকে তাহের প্রিয় বন্ধু খুনী জিয়া মোশতাককে সতর্ক করে দেন যাতে তাহেরের কথা তিনি না মানে। তাই তো জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে খোন্দকার মোশতাক কর্নেল আবু তাহের’র সঙ্গে আলোচিত কথাগুলোর উল্লেখ করেনি। ঘাতক তাহের-জিয়ার হাত থেকে ক্ষমতা ফিরিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর, খালেদ মোশাররফ ক্ষমতা গ্রহণ করেন। খালেদ মোশাররফের ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও অন্যান্য কোরের মধ্যে প্রচণ্ড উত্তেজনা; পুরো সেনাকমান্ড ভেঙে পড়তে পারে।

সশস্ত্রবাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের কর্তব্য হচ্ছে সীমান্ত এবং প্রজাতন্ত্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা, রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে নাক গলানো নয়। দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে তার চূড়ান্ত রায় দেওয়ার মালিক হচ্ছে জনসাধারণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সশস্ত্রবাহিনীর অভ্যুত্থান ও পালটা অভ্যুত্থান, এর মূলে ছিলো খুনী তাহের-জিয়া গংয়ের ক্ষমতা দখলের দ্বন্দ্ব। তারা তাদের নিজ স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই বোঝেনি। আর তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য তারা সাধারণ সৈন্যদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর রিয়ার-অ্যাডমিরাল এম এইচ খান এবং এয়ার ভাইস-মার্শাল এম জি তাওয়াব খালেদ মোশারফকে মেজর জেনারেলের ব্যাজ পরিয়ে দেন। ৪ নভেম্বর বিকালে জিয়াউর রহমান তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে কর্নেল আবু তাহের’র কাছে খবর পাঠান। জিয়াউর রহমান অনুরোধ করে তিনি যেন সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে তার প্রভাব কাজে লাগিয়ে তাকে মুক্ত করে খালেদ মোশাররফ গংকে হত্যা করে। তিনি জিয়াউর রহমানকে প্রতিশ্রুতি দেন খালেদ মোশাররফের অবসান ঘটানো হবে, হত্যা করা হবে খালেদ মোশাররফ’সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের। এই মিশন নিয়েই কর্নেল আবু তাহের সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপক যোগাযোগ, আলোচনা ও মতবিনিময়ের পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা প্রস্তুত করেন। ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় সবাইকে সতর্ক করে দেওয়া হয় যে ৭ নভেম্বর ভোর রাত, খালেদ মোশাররফদের হত্যার পক্রিয়া শুরু করা হবে। তাহেরের সিদ্ধান্তগুলো ছিলো:

১) খালেদ মোশাররফ চক্রকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে হত্যা করা
২) বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করা
৩) তাহেরের নেতৃত্বে একটা সামরিক কমান্ড কাউন্সিল গঠন করা
৪) ইসলামপন্থি ও জাসদের সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তিদান
৫) জাসদ ও গণবাহিনীর রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহার
৬) বাকশালকে বাদ দিয়ে একটি সামরিক সরকার গঠন করা

alt

তাহেরের পরিকল্পনা মাফিক বেতার, টেলিভিশন, টেলিফোন, টেলিগ্রাফ, পোস্ট-অফিস, বিমানবন্দর ও অন্যান্য সব গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো প্রথম আঘাতেই দখল করে নেওয়া হয়। আর ভোর রাতে তাহেরের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে দ্বিতীয় ফিল্ড আর্টিলারির সদর দফতরে নিয়ে আসা হয়। তারপর বেতার থেকে মিশন কমপ্লিটের খবর প্রকাশ করে জিয়াউর রহমানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়, ফাঁকা ফায়ার করতে করতে তাহেরের জাসদ-গণবাহিনী ও সৈনিকরা ঢাকা শহরের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। খোন্দকার মোশতাক ও বিচারপতি সায়েম জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে কর্নেল আবু তাহের’র সঙ্গে আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই, ৮ নভেম্বর মেজর জলিল ও আসম আবদুর রবকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, মুক্তি দেওয়া হয় জামায়াতে ইসলামী কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে।

তাহেরের নির্দেশে জাসদের গণবাহিনী ও জিয়ার সৈনিকেরা নির্মমভাবে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী খালেদ মোশাররফ বীরউত্তম’কে, কে এন হুদা বীরউত্তম’কে, এ টি এম হায়দার বীরবিক্রম’কে ও কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরীকে বাসায় না পেয়ে তাঁর স্ত্রী নাজিয়া ওসমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে তাহেরের গণবাহিনী।

alt

পাপ বাপকেও ছাড়ে না, তাই তো জিয়াউর রহমান তার প্রাণরক্ষার জন্য কর্নেল তাহের’র নিকট দূত পাঠিয়ে ছিলেন; কিন্তু তিনি মুক্তি পাওয়ার পর কর্নেল তাহের’র প্রাণদণ্ডের আয়োজন করেন, তা খুবই স্বাভাবিক। ৭ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত কর্নেল তাহেরের সঙ্গে জিয়াউর রহমান ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করলেও ১২ নভেম্বর থেকে তাকে আর পাওয়া যায়নি। যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। জিয়াউর রহমান তাকে এড়িয়ে যান। ১৩ নভেম্বর, পুলিশের একটা বড় দল কর্নেল আবু তাহের’র ভাই আনোয়ার হোসেন, মেজর জলিল ও আসম আব্দুর রবসহ অনেক জাসদ নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নিয়ে আসে। এই ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে কর্নেল আবু তাহের জিয়াউর রহমানকে টেলিফোন করেন, কিন্তু অন্যপ্রান্ত থেকে জানানো হয় তিনি নেই; বরং তার পরিবর্তে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান এরশাদ কথা বলে জানান যে, এই ব্যাপারে সেনাবাহিনী কিছুই জানে না, এটা হচ্ছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ পুলিশী তৎপরতা। নিজের পাপে ফেঁসে যান তাহের, যাকে ৭ নভেম্বর ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন তাহের সেই জিয়াই আবার এক নতুন ষড়যন্ত্রের খেলায় মেতে উঠে।

২৪ নভেম্বর এক বিরাট পুলিশ বাহিনী কর্নেল তাহেরকে ঘিরে ফেলে। কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার জানায় যে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে কথা বলার জন্য তাদের সঙ্গে যাওয়া দরকার। তারপর তাকে একটি জিপে তুলে সোজা জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবেই নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই পা দিলেন কর্নেল তাহের। তাহের-জিয়া খুনীচক্রের ৭ নভেম্বরের সেই ষড়যন্ত্রের বলি আজকেও হতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

সাংবাদিক, ঢাকা।


শেয়ারে বিনিয়োগের সাধারণ ভুল

বৃহস্পতিবার, ০৯ নভেম্বর ২০১৭
শেয়ারে বিনিয়োগের সাধারণ ভুল

শেয়ারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব দেশের বিনিয়োগকারীরাই ভুল করে, তবে আমাদের বাজারে ভুলটা বেশিই করে। অন্য পরিস্থাপক বাজারগুলোতে একটা যৌক্তিক স্পেকুলেশন হয়। কিন্তু আমাদের বাজারটাতে স্পেকুলেশনের স্থলে স্রেফ জুয়া খেলা হয়। সত্য হলো, আমাদের বাজারে হঠাৎ করে কোনো শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকলে এ কারণে নয় যে, ঐ শেয়ারের পেছনে হঠাৎ করে কোনো স্বর্ণখনি আবিষ্কৃত হয়েছে।.

বরং এ কারণেই বেড়ে চলেছে যে এক ধরনের জুয়ার, সিন্ডিকেট চাহিদা সৃষ্টির পেছনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় সারা বছরই দেখা যায় এবং আমার এও ধারণা, এক ধরনের জুয়া খেলা সারা বছর অনুষ্ঠিত হয় বলে বাজার বাড়তি কিছু বিনিয়োগকারীকে ধরে রাখতে পেরেছে। 

জুয়ার উপাদান কী? জুয়ার প্রধান উপাদান হলো গ্রিড বা লোভ। অতি অল্প সময়ে বেশি ধনী হওয়ার আশায় বারবার শেয়ারবাজারে ট্রেডার্স হিসাবে আছে এমন লোকরা জুয়ার কোর্টে অংশ নেয়। শেষপর্যন্ত আসল জুয়াড়িরা জিতে এবং সাধারণ জুয়াড়ীরা শেষপর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা হেরে যায়। জুয়াড়িদের আসল উদ্দেশ্য হলো, লোভকে উসকে দেওয়া এবং এটা করতে গিয়ে যত বেশি সংখ্যার কথিত শেয়ার বিনিয়োগকারীর নামে আসলে শেয়ার ট্রেডার্সকে এ জুয়ার কোর্টে টেনে নিতে পারে ততটাই জুয়াড়িরা তাদের খেলাতে সফল হয়।

বাজারে যখন প্রকৃত বিনিয়োগকারীর তুলনায় শেয়ার ট্রেডার্সদের সংখ্যা বেশি হয় তখন জুয়া খেলাটা ভালো করে জমে। শেয়ার ট্রেডার্স হলো ওরা যারা চারদিন, ছয় দিন, দশদিনের দিন কেনা শেয়ারের লাভ লোকসান থেকে আবার বেচে দেয়। এরা কয়েক বছর তো দূরে থাক, কয়েক মাসের জন্যও শেয়ার ধারণ করতে চায় না।

আমাদের বাজারে যে কয়েকজন কথিত বিনিয়োগকারী অ্যাকটিভ বা তৎপর আছে তার ৮০%ই হলো ট্রেডার্স। ফল হচ্ছে, সিন্ডিকেট সদস্যরা এক একবার এক এক শেয়ারকে কৃত্রিম চাহিদা বৃদ্ধি করে, চূড়ান্ত মূল্যে নিয়ে যায়। চূড়ান্তে নেওয়ার সময়কাল তিন থেকে সাতদিন লাগে, বা একটু বেশি সময়ও লাগতে পারে। গুজব ছড়িয়ে দিতে এরা বিভিন্ন মাধ্যমকে ব্যবহার করে। এবং যখনই অতি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর মুখে শোনা যায় অমুক শেয়ারের মুল্য বাড়বে তখন বুঝতে হবে জুয়াড়িরা তাদের খেলায় সফল হচ্ছে।

অন্য ব্যপারটি হলো, অধিকাংশ স্বল্প মেয়াদের জন্য বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির পেছনের আয় ব্যয়ের ব্যাপারটি বেমালুম ভুলে যায়। ফলে তারা সদ্য কথিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য দ্বারা বেশি প্রভাবিত হয়। তথ্য পাওয়ার অনেক বৈধ পথ আছে বটে। তবে ৮০-৯০% ক্ষুদে এমনকি কখনো শত কোটি টাকার ফান্ড ম্যানেজাররা ঐ সব তথ্য ঘেটে দেখে না, ঐগুলো নিয়ে মিনি রিসার্চ করা তো দূরে থাক।

মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ম্যানেজারের যদি পাওয়ার অর্থে বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ হতো তাহলে মাত্র একবছরের মধ্যে তারা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের ৪০/৫০% হারিয়ে বসতো না। আমার কাছে মনে হয়ে অধিকাংশ ফান্ড ম্যানেজারই অজ্ঞ। তারাও জুয়াড়িদের খপ্পরে পড়ে ধনবানের অর্থকে লোপাট হতে দিচ্ছে।

বর্তমানে শেয়ারবাজারে সবচেড়ে বড় দুর্দিন তো হলো মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ক্ষেত্রে। অবস্থা এমনই যে নতুন করে কেউ আর মিউচুয়াল ফান্ড স্পন্সর করতে সাহস করবে না। কারণ হলো, মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য এখন প্রাইমারি বা আইপিও বাজারের অভাব। কেউ এ সব ফান্ড কিনতে আর আগ্রহী নয়।

শেয়ারবাজার বিনিয়োগে সাফল্যের জন্য তিনটি উপাদান অত্যাবশ্যক, যেগুলো আমি ট্রেনিং সেশনগুলোর লেকচারেও বলে থাকি। এ তিনটি উপাদান হলো, অর্থ, দক্ষতা এবং ধৈর্য। আমাদের বাজারে কতজন বিনিয়োগকারী এ তিনটি উপাদান এবং তা সে ধারণ করে? ওয়ারেন বাফেট বলেছিলেন, আপনি ঐ সব শেয়ারই কিনবেন যেসব শেয়ার কেনার পর বাজার বন্ধ হলেও ক্ষতি নেই, আপনি বছর শেষে ভালো মুনাফা পেতে থাকবেন। বাফেটের এ কথা মানে এমন বিনিয়োগকারী আমাদের বাজারে আছে কি?

আমি একটা কথা সব সময়ই বলি, তা হলো সফল বিনিয়োগকারী হওয়ার জন্য একজন সফল গবেষক হতে হবে। গবেষক হতে হবে কোনো একাডেমিক পেপার স্টাডি করার জন্য নয়, গবেষক হতে হবে নিজের বিনিয়োগ থেকে বেশি উপকার তুলে নেওয়ার জন্য। গবেষণার বিষয়বস্তুগুলো কী? বিষয়বস্তু হলো কোনো শেয়ারের ইনটেনসিভ ভ্যালু বা অর্থনৈতিক উপাদানগুলো দ্বারা নির্মিত অন্তর্নিহিত মূল্য কী। এটা বের করা এ জন্যই প্রয়োজন যাতে করে এ মূল্যের পেছনে আশ্রয় নেওয়া যায়।

যারা অভিজ্ঞ তারা আগে থেকেই তাদের পছন্দের শেয়ারগুলোর অন্তর্হিত মূল্যের ব্যাপারে সম্যক ধারণা রাখার কথা। একজন বিনিয়োগকারীর জন্য সব শেয়ারে অর্থ খাটানোর বিষয়টি কখনো বিবেচিত হতে পারে না। সে শুধু কয়েকটি শেয়ারেই তার পছন্দ সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অন্য বিষয়টি হলো, মার্কেট ট্রেন্ড। মার্কেট ট্রেন্ড অন্তর্নিহিত মূল্যকে বদলে দিতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে আন্তর্নিহিত মূল্য ততটা বদল হবে না। যেটা বদল হবে সেটা হলো বিনিয়োগকারীর অবস্থান। অর্থাৎ কোন মূল্যে কিনবে, কোন মূল্যে বেচবে। আপ-ট্রেন্ড মার্কেটে বিনিয়োগকারী অন্তর্নিহিত মূল্যের উপর শেয়ার কিনতে পারে। কারণ আপ-ট্রেন্ড যদি ভোলোটাইল অবস্থার দিকে গড়ায় তাহলে শেয়ার মূল্য অন্তর্নিহিত মূল্যের অনেক উপরে প্রবাহিত হতে পারে।

তবে দীর্ঘ মেয়াদে বাজার অর্থনৈতিক ফান্ডাম্যান্টালস দ্বারাই নির্ধারিত হবে। আর বিনিয়োগকারীদের অন্য ভুল হলো, তার লাভকে যত মূল্য দেয়, লোকসানকে সেইভাবে মূল্যায়িত করে না। লোকসানে বেচাও যে ক্ষতি সেটা অধিকাংশ বিনিয়োগকারী বুঝতে চায় না।

অন্য ভুল হলো, তারা ভোলোটাইল মার্কেটকে নর্মাল মার্কেটের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে। ভোলোটাইল মার্কেটে স্পেকুলেটিভ শেয়ার বাই- সেল করে লাভ বেশি পাওয়া যায়। ডাউন ট্রেন্ড মার্কেটে বা বটমের কাছাকাছি মার্কেটে ডিফেন্সিভ বা রক্ষণাত্মক শেয়ারের পেছনে আশ্রয় নেওয়া উচিত। তবে সত্য হলো, অধিকাংশ বিনিয়োগকারী স্পেকুলেটিভ এবং ডিফেন্সিভ শেয়ারের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। ডাউন-ট্রেন্ড মার্কেটে স্পেকুলেটিভ শেয়ার তাড়াতাড়ি মূল্য হারায়।

শেয়ার মূল্য কোন কোন উপাদান দ্বারা নির্মিত হয়। উত্তর হলো, অনেক উপাদান দ্বারা। উল্লেখযোগ্য উপাদনগুলো হলো শেয়ার প্রতি আয় বা ইপিএস, শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য বা এনএভি, শেয়ার প্রতি নগদ প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লো পার্চেস। শেয়ারের ধারণ কাঠামো, ম্যানেজমেন্টের গুণাগুণ ইত্যাদি।

তবে এর বাইরেও কিছু উপাদান আছে যেগুলো শেয়ারমূল্যকে প্রভাবিত করে। যেমন অর্থনীতিতে সুদের হার, মূল্যস্ফীতি এবং জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি। আস্থার ব্যাপারটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। বাজারের উপর আস্থা বৃদ্ধি পেলে অন্য অর্থনৈতিক কারণগুলো যে দিকেই যাক না কেন সাময়িকভাবে হলেও শেয়ার মূল্য বেড়ে যাবে।

মনোস্তাত্ত্বিক উপাদান শেয়ারের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে, এবং ব্যক্তি নিজেও এই উপাদান দ্বারা প্রভাবিত হয়। অধিকাংশ লোক যদি মনে করে, সামনের দিনগুলোতে বিশেষ বিশেষ কারণে শেয়ারের মূল্য বেড়ে যাবে তাহলে অবশ্যই শেয়ারের মূল্য বেড়ে যাবে।

আমরা যে গবেষণার কথা বলেছি, ওই গবেষণা করতে তথ্য-উপাত্ত কোথায় পাওয়া যাবে? যে সব সূত্র থেকে ওই সব পাওয়া যায় ওই সব সূত্র যে সব তথ্য উপাত্তকে সঠিকভাবে পরিবেশন করছে তার নিশ্চয়তা কি? সেই জন্যই গবেষককে সাবধান হতে হবে।

আবু আহমেদ: অর্থনীতিবিদ; অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


বিরহ ,সুখ ,শোকের দিন = জুলি রহমান

শুক্রবার, ০৩ নভেম্বর ২০১৭

একত্রিশে অক্টোবর। হ্যালোয়িন ডে। দীর্ঘ বিশদিন পর ঘরের বার হতেই দেখি ভূতের মিছিল। যেমন খুশি তেমন সাজ। দোকানে দোকানে ট্রিক অর ট্রিটক ক্যান্ডি কালেকশন দেখতে দেখতে সিক্স ট্রেনে উঠলাম।
জ্যাকসনহাইট যেতেই নন্দীর ফোন। মেয়েদের খবর নাও।ম্যানহাটনে আততায়ীর গুলিতে নিহত আটজন।
আমি বিদায়ী বন্ধু শিশু সাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালী ভাইয়ের জন্য ফুল কিনছিলাম।আমার হাত ফসকে ফুলের তোড়া পড়ে গেলো।মেয়েদের নিরাপদ অবস্থান জেনে আশ্বস্ত হলেও মন টা খারাপ হলো। শোকের এই কালো বাতাসে থমথমে পরিবেশেই ঢালী এলেন। সাংবাদিক বন্ধু মনিজা কবি রওশন হাসান সহ কাটালাম কিছুটা সময়।

ঢালীকে বিদায় দেবার পালা।ফুলগুলো কবির হাতে তুলে দিতে দিতে-
বলি-
আজ দুঃখের নীলে সেজেছে আকাশ
মেঘহীন মেঘের ভূতলে
আর তোমাকে বেঁধে রাখি কোন ছলে?
দক্ষিণা বাতাস কাঁপে থরথর মুকুলিত কুসুম দলে
স্তব্ধ বাতাস বিরহের কথা বলে
ফুলেদের কানে-

ফুটে যে ফুল;সেইতো ঝরে,
বাতাস তারে মেশায় মাটিতে
গন্ধ দিয়ে হাসি দিয়ে শেষ হলো খেলা
তৃষিত হৃদয় ঋণের দাহে চিরদিন জ্বলে
বিদায়ের করুন বিহাগ বাজে প্রাণে
যাবার যে জন সে তো যাবে চলে
আর তাঁরে বেঁধে রাখি কোন ছলে-?

http://www.mujibsenanews.com/uploads/images/1509702517_jully.jpg" alt="">

ঢালীর কর্ণ কোহরে সব কথা পৌঁছুলো কি-না জানি না।রওশন মনিজার উচ্ছল হাসির তোড়ে বিদায় ক্ষণটিও আনন্দ মুখর হলো। কিছুক্ষণ পর এলেন বিশিষ্ট লেখক গবেষক ও প্রথম আলোর সম্পাদক শ্রদ্ধেয় আহমদ মাযহার। আবার একচোট আড্ডা।

ঢালীকে বিদায় দিয়েই নাট্যকার রেখা আহমদের বাসার দিকে ছুটি আমি আর রওশন।আমার অসুস্থ থাকা কালীন সময় বহুবার ফোন করেছেন আমাকে। শুনেছিলাম আপার বাস স্থানটি অতি সন্নিকটেই। বহুবার যেতে চেয়েও যাওয়া হয়নি।রেখা আহমদ আমাদের অহংকার।সদালাপী আপা আমাদের সংগে বন্ধুর মতোই মিশেন।আবার কখনো বড় বোনের আসনে বসে মধুর শাসন করেন। কিছু কিছু মানুষ আছেন এই পৃথিবীতে যারা আপন অধিকারে নিভৃতে হৃদয়ে আসন পেতে বসেন। আমাদের রেখা আপা সেই আপন জন। বাসার নিচে এক মুখহাসি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তারপর যথারীতি সেই শাসন। এই এতো কাছে তা-ও চিনিস না? মনে হয় যেনো কলেজে পড়া বন্ধু আমাদের।
ঘরে ঢুকেই সুখের ভেতর একটা কষ্টের মিহি বাতাস ঢেউ খেলে গেলো।তেরো তারিখে আপার মেজর অপারেশন।নির্বিকার হাসি মুখেই বলছেন।যদি এমন হয় তোদের সাথে এ দেখাই শেষ দেখা!আমি আপাকে জড়িয়ে ধরলাম ।এমন কথা বলতে নেই আপা। কিছুক্ষণ মন খারাপ! তার পর হ্যালোয়িন মাক্স  পরে মজা করা শুরু করলাম। আপাও চির তরুনী হয়ে মিশে গেলেন আমাদের সাথে।আমিও এই প্রথম আমেরিকান জীবনে মাক্স পরলাম। ছবি তুল্লাম।
এরপর আপা তার গহনার বাক্স খুলে বসলেন।আমার হাতে দিলেন চূড়। ক্রিস্টাল স্টোনের চুরি।রওশনকেও তাই দিলেন।আমি তো অবাক বিস্নয়ে তাকিয়েই আছি। আপা কী করছেন এসব?একটা তরুনী বয়সের ছবিও দিলেন।আর বার বার একই কথা সেই মৃত্যু ভাবনা।আপাকে এর আগে কখনো তো এতো বিমর্ষ দেখিনি।
কথার ভেতর দিয়েই প্রিমিয়ামে ডিনারে গেলাম।নিজের হাতে তুলে তুলে খাওয়ালেন।কফির ধূমায়িত কাপে হঠাৎ কী যেনো ধূপছায়া মনে হলো।আপা কী কিছুটা অস্বাভাবিক?অথচ এই বয়সেও আপার সাজগুজ শাড়ি পরার স্টাইল;চুল বাঁধা সবই গুছানো পরিপাটি।এই তো মাত্র দু বছর আগে ক্লাব সনমের কবিতার অনুষ্ঠানে তার খোঁপার উপর চোখ পড়তেই বিস্নিত হই।মনজুর ভাইয়ের সামনেই রেখা আপার খোঁপা নিয়ে গান মুখে মুখে করলাম।আপার সে কী হাসি ভরা মুখ।তারপর একটু বকলেন।পরক্ষণেই বলেন-গানটা পাঠাবি আমাকে।আর সেই গান আপাকে পাঠানো হয়নি-

আজ আপার জন্য গানটি দিচ্ছি-
এলোচুলে বাঁধলো কন্যা খোঁপা।
সে মোদের রেখা আপা।
খোঁপার উপর তুলে দিলো
গন্ধরাজের ফুল রাতের আকাশ হলো ক্ষ্যাপা--ঐ

তারার বাসর হলো যেনো
খোঁপার গতর
হরেক কাঁটায় শোভা ছড়ায়
ও তার কেশের ভেতর
জুঁই চামেলী বকুল আর চাঁপা--ঐ

চুলের শোভায় এমন বিভায়
চোখ হলো রঙিন তায়
ও তার সিঁথির পথটা পদ্নাবতীর
জোছনা তরঙ্গ স্রোতে মাপা---ঐ

মনে মনে আমি গানটির স্নৃতিচারণ করছিলাম।ইতিমধ্যে নন্দী হাজির।আপাকে বাসায় নামিয়ে দিতেই মনটা আমার খারাপ হয়ে গেলো। কী এক অজানিত আশংকায়। রেখা আপার অস্ত্রপাচার সার্থক হোক এমনি কামনায় সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী।
ম্যানহাটনের উপর দিয়ে গাড়ি গড়িয়ে চলেছে।রাতের ম্যানহাটনের রুপ যেনো রাজপুরীর রাজকন্যার।কী হলো পৃথিবীময়?কেনো মানুষ মানুষকে কেনো খুন করে?এমন শান্তির দেশে কেনো অশান্তির সূত্রপাত?পৃথিবীর বুক থেকে কী ভাবে এই অশুভ কালো ছায়া সরে যাবে?পররাজ্য লোভী যুদ্ধরীতি সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক নৈরাজ্যের  নিরসন কী কখনো কোন দিন হবে?কাঠমোল্লা তন্ত্রের দুঃশাসনের রাহু গ্রাস থেকে মানবজাতির মক্তির পথ কোথায়?
এতো শত ভাবনার ভেতর পথের সীমা শেষ হলেও আজকের বিরহ ,সুখ ও শোকের দিনটি যেনো  অন্তরে সেঁটে রইলো।

৩১ শে অক্টোবর।২০১৭ইং।


মুজিব ভাই স্বপ্নে বললেন তাজউদ্দীন তুমি চলে আসো : রিমি

শুক্রবার, ০৩ নভেম্বর ২০১৭

শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ্ : বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের স্মৃতিচারণা করে আবেগঘনভাবে কিছু কথা বলেন তার মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি এমপি। তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তাজউদ্দীন আহমদসহ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়।
ওই সময় আমি নবম শ্রেণির ছাত্রী। ’

এমপি রিমি বলেন, ‘আজ থেকে ঠিক ৪২ বছর আগে এই দিনে হারালাম প্রিয় বাবাকে।
আমরা ভাই-বোনেরা তখন ছোট। সবার ছোট ছিল সোহেল। আমরা বোনদের সঙ্গে বাবার কিছু স্মৃতি থাকলেও ছোট ভাই সোহেলের সঙ্গে ছিল খুবই কম। সোহেল তখন পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু। ’ বুধবার গাজীপুরের কাপাসিয়া ডাকবাংলোতে বসে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বঙ্গতাজকন্যা রিমি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবাকে গৃহবন্দী করা হয়। তারপর গৃহবন্দী অবস্থা থেকে আমার বাবা তাজউদ্দীনকে জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। ওনাকে কোথায় নিয়ে গেছে আমরা তখন জানতাম না।
পরে খবরের কাগজে পড়ি, বাবাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে গেছে। আমরা গৃহবন্দী ছিলাম প্রায় এক মাস। বাবার সঙ্গে জেলখানায় সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে দেখা হয়। পরে, আমার মনে আছে, অক্টোবরের ২৪ বা ২৫ তারিখে সর্বশেষ বাবার সঙ্গে দেখা হয়। আমরা যাই দেখা করতে। তখন জেলের ভিতর প্রবেশের পর বাবা বলেন, “আমাদের আর বাঁচিয়ে রাখবে না”। এটা বলে তিনি একটু হেসে বললেন, “মুজিব ভাইকে আমি স্বপ্নে দেখেছি। উনি বলছেন, তাজউদ্দীন, তুমি চলে আসো। তুমি ছাড়া আমার ভালো লাগে না”। ’ এমপি রিমি বলেন, ‘বাবার এই আটকাদেশের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন করা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে যেদিন ওনাকে কবর দেওয়া হয়, অর্থাৎ ৫ নভেম্বর, সেদিন রিট পিটিশনটা হাই কোর্টে ওঠার কথা ছিল। ’

তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্টের পর ঢাকার পরিবেশ ছিল অন্য রকম। এর মধ্যে আবার বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত কাছের চার নেতাকে জেলে বন্দী করা হয়। সব মিলিয়ে ঢাকার চিত্র ছিল থমথমে। ঠিক ৩ নভেম্বর সকালবেলায় ফাইটারের শব্দে আমাদের ঘুম ভেঙে যায়। প্রচণ্ড শব্দ। মনে হচ্ছে বাসার সামনে ভেঙে পড়বে ফাইটার। তখন তো এমনিতেই একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তো আমরা একেবারেই স্বস্তিতে ছিলাম না। আর আমাদের ফোন লাইনসহ সবকিছুর লাইন কাটা ছিল ১৫ আগস্ট থেকে। আমরা আশপাশের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করি। কেউ কিছু জানে না। কী হচ্ছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার সকালবেলা শোনা গেল, জেলখানায় গোলাগুলি হয়েছে। তো জেলখানায় গোলাগুলি হয়েছে শুনেও অনেক জায়গায় যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারে না। পরে বেলা সাড়ে ৩টা বা ৪টার দিকে আমি আবার ফোন করার জন্য আমাদের বাসার পেছনের দিকে ১৯ নম্বর বাসায় যাই। যাওয়ার সময় দেখি, আমাদের বাসার সামনে মানুষের ভিড়। এর পরও আমি কিছু বুঝতে উঠতে পারিনি। আমি যখন বাসার সামনে আসি, তখন দেখি হাজার হাজার মানুষ। রাস্তায় কোনো গাড়ি চলছে না। তখন শুনি, মানুষ বলছে, “আমরা আমাদের নেতার লাশ চাই”। আমি বাসায় যাচ্ছি। যখন বাসার গেটে যাই ঠিক তখন আব্বার ছোটবেলার বন্ধু ডা. করিম আর ফকির সাহাব উদ্দিন আহমদকে দেখতে পাই। তারা দুজন আমার সঙ্গে বাসায় ঢোকেন। তারা বাসায় ঢুকে আম্মুকে বলেন, তাজউদ্দীন ভাই আর নেই। আমাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। আমরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়ি। ’