Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

সিরিয়ার আকাশে অনুপ্রবেশের কড়া শাস্তি পেলো ইসরাইল।আবু জাফর মাহমুদ

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

ইসরাইলের এফ-সিক্সটিন যুদ্ধবিমান চিবিয়ে ছোবরা করে দিলো সিরিয়ার আসাদ বাহিনী!এই “রাক্ষস-খেকো” খবরটি  দিলো  সংবাদ মাধ্যম।শোনেছিলাম রাক্ষসে মানুষ খেয়ে ফেলছে।দেখছি,রাক্ষসদেরও এক থাবায় খেয়ে ফেলার শক্তি অর্জন করেছে ছোট্টরা।এহলো পরিবর্তনের খবর।আমেরিকান বিশ্লেষকরা বলছেন,এটি ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যনীতির কপালে প্রতিরোধের আঙুলের নিশানা।   
শনিবার সিরিয়ার আকাশে অনুপ্রবেশ করলে ইজরাইলি এফ-সিক্সটিনটির গুঁড়িয়ে দেয় সিরিয়ার বিমানবাহিনী।ইসরাইলি পাইলট দুজনের অবস্থা আশংকাজনক।তবে এখনো চিকিৎসাধীনে আছেন।খবর পেয়ে ইসরাইল আরো বেশী ফায়ার ওপেন করে।সিরিয়ার বিভিন্ন অবস্থানে বিমান হামলা করে।সিরিয়াকে আক্রমন করলে আক্রমণ হয় রাশিয়াকে,আক্রমণ হয় চীন-ইরান এবং ইরাক, লেবানন,ফিলিস্তিন এবং ইয়েমেনকে।তাই,সিরিয়ার পক্ষে সমর্থনের চূড়ান্ত প্রস্তুতির খবর জানাচ্ছে মিত্ররা। এতে শিয়া-সুন্নী বিভেদের নেকাব ফেলে দেয়ার নয়া চেহারার উত্থান আসছে।  
এই উত্তেজনার মধ্যে নেতানিয়াহুকে টেলোফোন করেন বিশ্বনেতা পুটিন।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দেন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হয় এমন যেকোন পদক্ষেপ যেনো ইসরাইল না নেয়।এই অনুরোধ তিনি করেছেন। ১০ফেব্রুয়ারী শনিবারের এই ফোনালাপ ইসরাইলের পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয়েছে।
ক্রেমলিনের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে,“সিরিয়ার বিভিন্ন অবস্থানে ইসরাইলী বিমানবাহিনীর ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ যে হয়েছে সে সম্পর্কে পুতিন-নেতানিয়াহু কথা বলেছেন।টেলিফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভয়াবহ সংঘাত যেতে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়”।  
 
বাস্তবতা হচ্ছে আমেরিকা জোর করে সিরিয়ায় সামরিক ঘাঁটি করতে দখল নিচ্ছে।যে কারণে সিরিয়াতে প্রেসিডেণ্ট বাশারকে উৎখাতে ব্যর্থ হয়েও মার্কিণ সেনারা ফেরত আসেনি।অবস্থান নিয়ে রেখেছে সিরিয়ায়।কেবল তা নয়।তুরস্কের সীমান্তে অনুগত সন্ত্রাসীবাহিনী লেলিয়েছে এই যুদ্ধের প্রয়োজনে।

অতর্কিতে ৭ইফেব্রুয়ারী রাতে সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর উপর হামলা করে শতাধিক হত্যা করার পর নতুন করে সামরিক হামলা বাড়ানোর পথে অগ্রসর হচ্ছে হোয়াইট হাউস।ইজরাইলের এফ-সিক্সটিন যুদ্ধ বিমান সিরিয়ার আকাশে অনুপ্রবেশ করানো এবং ইসরাইলের ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপের মধ্যে এই উস্কানীরই ইঙ্গিত আছে মনে করা  যায়।আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের সাথে ফ্রান্স যুক্ত থাকার কথা আলাপ হচ্ছে কূটনৈতিক মহলে। রাশিয়া এই ক্ষেত্রে সংযত অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ এড়ানোর কূটনৈতিক পথ নিয়েছে।      
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাট্টিসের কড়া আপত্তির মুখে ইরান আক্রমণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যর্থতা প্রকাশ্যে এসে যায়।তবে মুখ রক্ষার একটা সুযোগ তজ্জন্য দরকার।ও সামান্য সুযোগ যেনো এখন উঁকি দিলো। নেতানিয়াহু এবং যুদ্ধোম্মাদ গোষ্ঠীটির জন্যেই যেনো সিরিয়ায় এই নয়া উত্তেজনা।কোন বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক ছাড়াই এই সব আক্রমণ।বিগত পরাজয়ের প্রতিশোধের ছায়া রয়েছে এতে।তা ছাড়া ইজরাইলের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চুরিদারির অভিযোগে বেকায়দায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নিজের গুরুত্ব দেখানোর সর্বশেষ ধাপে অঘটনের ঘটনাকে তার অবলম্বন করতেই পারেন।   

ইসরাইলে নেতানিয়াহুকে মন্ত্রীপরিষদ সহ পদত্যাগ এবং প্রধানমন্ত্রীকে তার স্ত্রীসহ গ্রেফতার করার দাবিতে চলমান লাগাতার বিক্ষোভ সোয়া দুই মাসে পৌঁচেছে।এই পরিস্থিতিতে গদি রক্ষা এবং রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার জন্যেই সিরিয়ার উপর বলপ্রয়োগের বাড়াবাড়ি বলে ধরে নিয়েছেন বিশ্লেষকরা।    

ওয়াশিংটন পোষ্ট তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে,২০১৭সালের মে মাসে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আয়োজনের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা পেশ করতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসকে আদেশ দিলে মিঃ জিম তা প্রত্যাখ্যান করেন তাস্র সামরিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে। ট্রাম্প কোন চিন্তাভাবনা না করেই তাৎক্ষণিকভাবে যা মনে আসে সে নির্দ্দেশই  দিয়ে দেন বলে ম্যাট্টিসের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোষ্ট প্রতিবেদন করে।
 
তবে ফিলিস্তিনের হামাস বরাবরের মতো শক্ত অবস্থান নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে সিরিয়ার সমর্থনে।বার্তা সংস্থা কুদস প্রেস ইন্টার ন্যাশানালকে দেয়া বক্তব্যে হামাস মেতৃবৃন্দ বলেছেন,“আমরা নিশ্চিত করছি যে,ইসরাইলে শত্রুতার ও  আগ্রাসনের যে সাহসী জবাব সিরিয়া দিয়েছে আমরা তার প্রশংসা করি এবং ফিলিস্তিনের জনগণ ও হামাস অবশ্যই সিরিয়ার পক্ষে দাঁড়াবো”। হামাসের সামরিক শাখা  ইজ্জাদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডআরেকটি বিবৃতি দিয়েছ।তারা বলেছে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার মোকাবেলার জন্যে তাদের সামরিক প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেয়া হয়েছে।মজুখপাত্র আবু ওবায়দা জানিয়েছে সিরিয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রাখছি।  
গোলানে দায়েশদের এবং আফরিনে অপর সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিতে গিয়ে ইজরাইল এবং আমেরিকা যে সিগনাল পেয়েছে তাতে তারা সিরিয়ার সাথে আগের ধারায় বেয়াদবি করা স্থগিত রাখতে পারে।ওরা হয়তো ভাবতেই পারেনি এফ-সিক্সটিনকে উলটাপালটা করে দেবার যোগ্যতা সিরিয়ার থাকতে পারে।নিতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের বাহিনীকে কৌশল পাল্টাতেই হবে।নতুবা ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ খবর হতে পারে।

রাশিয়া-চীন-ইরান-তুরস্ক-সিরিয়ার মিত্রতার কথা নতুন নয়।সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে ফেলার পর সোভিয়েত রাশিয়াকে সম্পুর্ণ বিকলাঙ্গ করা সম্ভব হয়নি।ইজরাইলের হয়ে ভাড়াটিয়া খাটতে ট্রাম্প এর চদেয়ে বাড়াবাড়ি কেন করতে যাবে?এতে আমেরিকার জন্যে ঝুঁকি বাড়ছে নিজেদের বৈদেশিক স্থায়ী শত্রুদের শক্তি বাড়িয়ে দেবার বাস্তবতায়। চীন নিজের প্রতিরক্ষার জন্যে শক্তির ইতিহাসের যে ঈর্ষণীয় সফলতা অর্জন করেছে তা তা আমেরিকাকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছে।চীন এবং রাশিয়া সিরিয়া হারাতে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারকে উদাসীন থেকে কেবল চেয়ে চেয়ে দেখবে মনে করার কোন কারণ নেই।
    
আমেরিকান শক্তিশালী এফ-৩৫ মোকাবেলার ব্যবস্থা হাতের মুঠোয় এখন চীনের। রাশিয়ায় সহযোগীতা এতে রয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন আভাসে ইঙ্গিতে। এই আবিস্কার হচ্ছে জে-২০ ষ্টিলথ। আমেরিকার পঞ্চম প্রজন্মের বিমান গুলোর জবাবে গড়া হয়েছে এই নয়া শক্তিরাজ।আমেরিকান এফ ২২ এবং এফ ৩৫কে মনে করা হয় শ্রেষ্ঠ স্মার্ট শক্তি। ওগুলোর অপারেশন স্তব্ধ করে দিতেই চীনের এই নয়া উদ্ভাবন।প্রেসিডেণ্ট পুটিন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ফোন করে যে সতর্ক করেছেন তা কেবল একটি ঘটনাকে ঘিরে নয়,আর যাতে সামনে না যায় সে বিষয়ে আমেরিকা এবং ইজরাইল উভয়ের জন্যে তা মঙ্গলের বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি করা হলে সেই যুদ্ধে অনেকেই জড়িয়ে পড়বে।
যাহোক,সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণলয় জাতিসংঘ মহাসচিব এবং নিরাপত্তাপরিষদের প্রধানের কাছে ইজরাইলের সাম্প্রতিক হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে।সিরিয়ার বাহিনী ইজরাইলে কোন আঘাত হানতে চায়নি।এমতাবস্থায় ইজরাইল ও আমেরিকা কে যুদ্ধাপরাধী বলে  অভিযোগ করছে সিরিয়া।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থেমেছে বলা যায়না।দখলের জোর প্রচেষ্টায় এই যুদ্ধনক্সা আকস্মিক কোন ঘটনা নয়,যা নিয়ে গণতান্ত্রিক যুক্তিতে সমাধান সন্ধান করা যেতে পারে।ওখানে যুদ্ধ এবং তার প্রতিরোধ,শত্রুতা এবং দালালির দীর্ঘ ইতিহাস ঐতিহ্যকে এড়িয়ে সমাধানের কোন হিসেব যুক্তির কিনারা পাবেনা।শক্তির বিপরীতে শক্তির সাথে কৌশলের সাথে বিশ্বজনমতের সমর্থনের একটা বাস্তব গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে।


রায়ের আগেই খালেদাকে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ ও ‘কুখ্যাত’ হিসেবে চিহ্নিত করল বিএনপি

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

স্বদেশ রায় : বিএনপিতে অনেক সিনিয়র আইনজীবী আছেন। তাদের অনেকেই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়ার পক্ষে বক্তব্য রাখেন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বর্তমান সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার প্রমুখ। এ ছাড়াও যিনি দীর্ঘদিন মামলাটি পরিচালনা করেছেন, আবদুর রেজ্জাক খান, তিনিও বিজ্ঞ আইনজীবী। বিএনপির বর্তমান আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, এই বিজ্ঞ আইনজীবীরাই মামলার মেরিট দেখে বুঝতে পেরেছেন, এ মামলায় বেগম জিয়ার সাজা হওয়াটাই স্বাভাবিক।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়ার এই বিজ্ঞ আইনজীবীগণ খালেদার পক্ষে যে কোন ভাল গ্রাউন্ড পাননি তার প্রমাণ মিলেছে ৭১ টেলিভিশনের একটি নিউজে। তরুণ প্রজন্মের শক্তিশালী রিপোর্টার ফারজানা রূপার এই রিপোর্টটিই বিজ্ঞ আইনজীবীদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে দিয়েছে। ফারজানা রূপা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক, সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও খুবই ভাল আইনজীবী হিসেবে পরিচিত মাহবুব উদ্দিন খোকনের কাছে জানতে চান, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ঠিকানা কোথায়? জনাব মাহবুব অত্যন্ত সদালাপী ও খুবই উৎফুল্ল মানুষ হিসেবে কোর্ট প্রাঙ্গণে পরিচিত ও জনপ্রিয়। তিনি ফারজানা রূপার এ প্রশ্নে বিব্রত হয়ে অনেকটা সঙ্কুুচিত মুখে বলেন, এ বিষয়ে আমাদের লার্নেড সিনিয়রদের একটি প্যানেল আছে, তারা বলতে পারবেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এতিমখানা তো হয়নি। ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারকে প্রশ্ন করলে তিনি অত্যন্ত রাগত স্বরে বলেন, ঠিকানার জন্য এত ওয়ারিড হচ্ছেন কেন? আর বিএনপি নেতা আবদুল্লা আল নোমান একেবারে অসহায় মুখে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে তার পরে কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন, ঠিকানাটা আমার জানা নেই।

যে সকল বিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে ফারজানা রূপা কথা বলেছেন, এই বিজ্ঞ আইনজীবীরা কোনরূপ গ্রাউন্ডওয়ার্ক না করে মামলা করবেন তা কখনও হতে পারে না। তবে এই সব মামলার রিপোর্ট এডিট করতে বসে আমাদের মতো আইনের বাইরের লোকদের সামনেও দুটো বিষয় পরিষ্কার হয়। এক. কোন আইনজীবী খুবই কোর লিগ্যাল পয়েন্টে বক্তব্য রাখছেন। দুই. কোন আইনজীবী পল্টনের ময়দানের বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন বা প্রতিপক্ষের যুক্তি খ-ন না করে তথাকথিত রাজনৈতিক বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন। যেমন, যখন ষোড়শ সংশোধনীর মামলা চলছিল তখন খুবই ডিটেলইস রিপোর্ট করা হয় জনকণ্ঠে। রিপোর্টার আরাফাত মুন্নাকে নির্দেশই দিয়ে রেখেছিলাম তুমি সবার বক্তব্য টেপ করে হুবহু লিখবে। তারপরে কতটুকু ছাপা হবে সেটা পরের বিষয়। ওই ডিটেইলস রিপোর্ট পড়তে পড়তে অনেক সময় জনকণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক প্রবীণ সাংবাদিক তোয়াব খান ভাইকে বলেছি, কেন যেন মনে হচ্ছে আমাদের বিজ্ঞ এ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য পল্টনের রাজনৈতিক বক্তব্য হচ্ছে। তিনি প্রতিপক্ষের হাল্কা যুক্তিগুলোও খ-ন করছেন না। ঠিক তেমনিভাবে এখানে মওদুদ আহমদসহ বিজ্ঞ আইনজীবীদের বক্তব্যগুলো যখন এডিট করেছি, তখন পড়তে পড়তে সেগুলোকে আইনী বক্তব্যের থেকে রাজনৈতিক বক্তব্য মনে হয়েছে বেশি- যা তাঁরা প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধনে বলেন। বিশেষ করে মওদুদ আহমদের বক্তব্যকে তো শতভাগ রাজনৈতিক বক্তব্যই মনে হয়। বিএনপির অন্য সিনিয়র আইনজীবীদেরও বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল এটা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলা। দুর্নীতির বিষয়টি খ-নের চেষ্টা থেকে তাঁরা বেশি জোর দিয়েছিলেন রাজনৈতিক বিষয়ে। কেন তাঁরা এমনটি করেন সেটা তাঁরাই ভাল বলতে পারবেন। তবে এখন বিএনপি নেতাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তাঁদের সকল বিজ্ঞ আইনজীবী মামলার মেরিট দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন- এখানে প্রকৃত অর্থে দুর্নীতি করা হয়েছে। তাই রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নেই। এ কারণেই তাঁরা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে কোর্ট থেকেই রাজনীতিটা শুরু করেন।

Picture

এখন তারা মামলার রায় প্রভাবিত করার জন্য ইতোমধ্যে দুটো কাজ করেছেন। এক, তারা নানান বক্তব্য ও বিবৃতিতে বলছেন, মামলার রায় তাদের বিপক্ষে গেলে তারা রাজপথে নামবেন। এমনকি তাদের অঙ্গ সংগঠন নিয়ে তারা সেভাবে মিটিংও করছেন। সেই মিটিংয়ের ঘোষণাপত্র পত্রিকায় আসছে। অর্থাৎ, তারা বিচার বিভাগকে রাজপথের হুমকি দেখাচ্ছেন। ষোড়শ সংশোধনী মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি অবাঞ্ছিত, জাতীয় চেতনা ও স্বাধীনতাবিরোধী কথা লিখলে তা নিয়ে যখন পার্লামেন্টে আলোচনা হয়, তখন তারা বলেছিলেন, এই আলোচনা বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ। পার্লামেন্ট সার্বভৌম। পার্লামেন্টই আইন তৈরি করে। পার্লামেন্টই বিচার বিভাগের কাঠামো দেয়। তার পরেও তাঁরা সেদিন এ কথা বলেছিলেন। অন্যদিকে এখন তারা একটি দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা হওয়ার আগেই কেমন রায় হলে তারা মানবেন, কেমন রায় হলে মানবেন না- এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন। এগুলো কি বিচার বিভাগতে প্রভাবিত করা নয়? সর্বোপরি, বিচারকে প্রভাবিত করার জন্য তাদের পার্টির থেকে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। তাদের পার্টির নেতা নজরুল ইসলাম খান নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে এসেছেন, বেগম জিয়ার সাজা হলে তারা নির্বাচনে যাবেন না। নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ পক্ষান্তরে বিচার বিভাগের ওপর চাপ প্রয়োগ। নির্বাচন কমিশনকে এই কথা বলার পরে এখন তারা বিদেশী কূটনীতিকদের বলবেন, বেগম জিয়ার সাজা হলে তারা নির্বাচনে যাবেন না।

শুধু এখানেই শেষ নয়, বিএনপির বিজ্ঞ আইনজীবীরা বিএনপিকে বেগম জিয়ার সাজার বিষয়ে এতটাই নিশ্চিত করেছেন যে, তারা তাদের দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭ নম্বর ধারা ইতোমধ্যে বদল করেছেন যা ইতোমধ্যে মিডিয়ায় এসেছে। যেখানে বলা আছে, ‘নিম্নোক্ত ব্যক্তিরা জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যে কোন পর্যায়ের যে কোন নির্বাহী কমিটির সদস্য পদের কিংবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী পদে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তারা হলেন : (ক) ১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৮ এর বলে দ-িত ব্যক্তি, (খ) দেউলিয়া, (গ) উন্মাদ বলে প্রমাণিত ব্যক্তি, (ঘ) সমাজে দুর্নীতিপরায়ণ ও কুখ্যাত বলে পরিচিত ব্যক্তি।’ এই ধারা বাদ দিয়ে গত ২৮ তারিখ তাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার কাছে সংশোধিত গঠনতন্ত্র জমা দেন। অবশ্য একটি সূত্র থেকে সর্বশেষ যে সংবাদ পেয়েছি- সেখানে দেখা যাচ্ছে বিএনপি ভিন্ন কিছু পরিবর্তন করেছে। তবে সেটাও দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

যা হোক, তাদের এই দলের গঠনতন্ত্র বদলের বিষয়ে দলীয় যুগ্ম সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত তাদের দুই বছর আগে হয়েছিল। তবে অন্য কয়েক নেতা টেলিভিশনে বলেছেন, সরকার তাদের দল ভাঙ্গার চেষ্টা করছে বলে তারা এ কাজটি করেছে। অন্যদিকে জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত দৈনিক প্রথম আলোর রিপোর্টে বলা হয়েছে- ‘বিএনপি দল ভাঙ্গার চেষ্টায় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হতে পারে- এই আশঙ্কায় গঠনতন্ত্রের একটি ধারা বাদ দিয়েছে বিএনপি।… বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের একাধিক নেতা জানান, তাদের কাছে তথ্য আছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে ভাঙতে সরকারের একটি মহল থেকে চেষ্টা ও তৎপরতা চালানো হবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের পর এই তৎপরতা গতি পেতে পারে। এই মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সনের সাজা হলে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ ব্যক্তি দলের সদস্যপদের অযোগ্য হবেন বলে যে কথাটি গঠনতন্ত্রে আছে, তা সামনে এনে একটি মহল বিএনপিতে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য দলের একটা অংশকে ব্যবহার করতে পারে।’

রায়ের আগেই বিএনপির এই গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে এটা স্পষ্ট যে, বিএনপির বিজ্ঞ আইনজীবীরা তাদের নিশ্চিত করেছেন, এই মামলায় বেগম জিয়ার দুর্নীতি স্পষ্ট। এখানে সাজা হবেই। আর তাদের আইনজীবীদের কাছ থেকে বিএনপি এতটাই নিশ্চিত হয়েছে যে, তারা দলের গঠনতন্ত্র বেগম জিয়ার সাজা হওয়ার আগেই পরিবর্তন করলেন। যার ফলে বেগম জিয়ার সাজা হওয়ার আগেই তারা প্রমাণ করলেন, বেগম জিয়া দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি। যিনি সমাজে কুখ্যাত হিসেবে পরিচিত। তাই মামলার রায়ের পরে যে কথা বিএনপির প্রতিপক্ষ বিএনপিকে বলত সে কথা তারা নিজেরাই তাদের নেত্রীকে কাজের মাধ্যমে বললেন এবং এমনভাবে উপস্থিত করলেন যে, বেগম জিয়াকে তারা নিজেরাই দুর্নীতিপরায়ণ মনে করে। অবশ্য এটা বিএনপির জন্য একটা শুভ লক্ষণ। কারণ, সত্যকে উপলব্ধি না করলে সঠিক রাজনীতি করা যায় না। বেগম জিয়া হাওয়া ভবনের মাধমে দেশে যেভাবে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন, তা বাংলাদেশের কোন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী কখনই করেননি। বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ সরকার থেকে পদত্যাগ করে বাসে চড়ে কোর্টে যেতেন আইন পেশা চালানোর জন্য। দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর সততা, তাঁর ইতিহাস পৃথিবীজোড়া। এ নিয়ে কোন কিছু লেখারও নেই, মন্তব্য করলে তাঁকে বরং ছোট করা হয়। এর পরের প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী। তাঁর সততা ও নিষ্ঠা ইতিহাসের একটি উদাহরণ। এর পরের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার পরে শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক জরিপে শেখ হাসিনা বিশ্বের পাঁচজন সৎ নেতার ভেতর তৃতীয় অবস্থানে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের একমাত্র নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াই দুর্নীতিপরায়ণ। একটা সরকারের প্রধান যখন দুর্নীতিপরায়ণ হয় তখন ওই দেশে কোন ভাল কিছু আশা করা যায় না। তাই দলীয়ভাবে বিএনপি তাকে দুর্নীতিপরায়ণ চিহ্নিত করে শুধু তাদের দল ভাঙ্গা ঠেকাতে যে পথ নিয়েছে অর্থাৎ এখন থেকে যে কোন দুর্নীতিপরায়ণ ও সামাজিকভাবে কুখ্যাত ব্যক্তি বিএনপির সদস্য হতে পারবে। এর ভেতর দিয়েও একটা প্রকৃত সত্য বেরিয়ে এলো, বাস্তবে সামাজিকভাবে অনেক কুখ্যাতরা এখন বিএনপিতে- নইলে পেট্রোলবোমা মেরে তারা মায়ের পেটের শিশুকেও হত্যা করে কীভাবে? আর ভবিষ্যতে বিএনপি একটি দুর্নীতিবাজ ও কুখ্যাত ব্যক্তিদের ক্লাবে পরিণত হবে।


লন্ডনে বিএন‌পি-অা’লী‌গের জু‌তাবাজি অার জা‌লিয়া‌তির রাজনী‌তি

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

মুন‌জের অাহমদ চৌধুরী : বুধবার লন্ড‌নে বাংলা‌দেশ হাইক‌মিশ‌নে ঢু‌কে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমা‌নের ছ‌বি ভাংচুর ক‌রে‌ছে যুক্তরাজ্য বিএন‌পির নেতাকর্মীরা।এর অা‌গে এই হাইক‌মিশ‌নে হামলা হ‌য়ে‌ছিল ১৩ বছর অা‌গে। বুধবার শুধু ভাংচুর করেই থামেনি তারা। জা‌তির জনক, ‌যে মানুষ‌টির হাত ধ‌রে এ‌সে‌ছে বাংলা‌দে‌শের স্বাধীনতা, অামরা পে‌য়ে‌ছি একটা স্বাধীন দেশ সে নেতার ছ‌বি‌টি হাইক‌মিশন ভব‌নের বাই‌রে এ‌নে জু‌তোপেটা ক‌রে তারা।ঐ অসভ্য, অসুস্থ কর্মকা‌ন্ডের ভি‌ডিও অার ছ‌বি তুলে তারা অাপ‌লোড ক‌রে নি‌জে‌দের ফেসবু‌কে।

অা‌মি বি‌স্মিত হই,যারা এ কান্ড‌টি ঘ‌টি‌য়ে‌ছেন তারা কেউ নিরক্ষর নন। তা‌দের সবার প‌রিবার অা‌ছে। তা‌দের অ‌নে‌কে এ‌দে‌শে বহুবছর ধ‌রে অা‌ছেন,সভ্যতা,মানবতা মানবার শপথ নি‌য়ে নি‌য়ে‌ছেন ব্রি‌টিশ পাস‌পোর্ট। এ‌দের ক‌য়েকজন বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের সরোচ্চো ডি‌গ্রিধারী। তারা বাস ক‌রেন ব্রি‌টে‌নের ম‌তো এক‌টি সভ্য রা‌ষ্ট্রে। বেগম খা‌লেদা জিয়ার দুর্নীতির মামলার রা‌য়ের অা‌গের দিন ঘটা‌নো হয় এ ঘটনা। অামার খুব জান‌তে ই‌চ্ছে ক‌রে এ ঘটনা ঘ‌টি‌য়ে বিএন‌পির ম‌তো এ‌কটি দল কী রাজ‌নৈ‌তিকভা‌বে অজর্ন করলো ? যারা জু‌তো মারার কী‌র্তি‌টি কর‌লেন, তারা এ ঘটনার মধ্য দি‌য়ে কী বার্তা দি‌তে চাই‌লেন?

দুই.

বৃহস্প‌তিবার দুপুরবেলা অা‌গের দি‌নের বিএন‌পির এ কুকী‌র্তির প্র‌তিবা‌দে বি‌ক্ষোভ সমা‌বেশ ডাকে যুক্তরাজ্য অাওয়ামীলীগ। স্থান সেই বাংলা‌দেশ হাইক‌মিশন চত্বরই। সভার অা‌গেই অাওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা নি‌য়ে অা‌সেন শহীদ রাষ্ট্রপ‌তি জিয়াউর রহমান,খা‌লেদা জিয়া ও তা‌রেক রহমা‌নের ব‌ড়ো অাকৃতির কিছু ফ‌টো। সভা চলাকা‌লে মি‌ডিয়ার সাম‌নেই নেতাকর্মীরা মহান‌ন্দে জু‌তোপেটা কর‌তে থা‌কেন বিএন‌পির এ তিন নেতার ছ‌বি। সেসব উ‌চিত শিক্ষা,অার জু‌তোর জবা‌বে জু‌তো দি‌য়ে দ্যার্হীন(!)

প্র‌তিবা‌দের ছ‌বি অাওয়ামীলী‌গের কিছু নেতা অাপ‌লোডও ক‌রেন নি‌জে‌দের ফেসবু‌কে। ভি‌ডিও‌তে দেখলাম,ঐ সভায় অাওয়ামীলী‌গের একা‌ধিক নেতা নি‌জে‌দের বক্ত‌ব্যে ব‌লে‌ছেন, ‘তা‌রেক রহমা‌নের নি‌র্দে‌শে বিএন‌পি লন্ডন হাইক‌মিশ‌নে হামলা চা‌লি‌য়ে‌ছে’।  অামার ভেত‌রে প্রশ্ন জা‌গে,জু‌তো মারামা‌রির প্র‌তিবা‌দের ধারায় তারা বঙ্গবন্ধু অার তা‌রেক রহমান‌কে কোন কাতা‌রে নামা‌লেন বা উঠা‌লেন?

Picture

‌তিন.

বাংলা‌দে‌শে অাওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাক‌লে এখানকার বিএন‌পির নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী লন্ডন সফ‌রে এ‌লে বি‌ক্ষো‌ভের না‌মে প্রধানমন্ত্রীর গা‌ড়িবহ‌রে জু‌তো ও ডিম ছু‌ড়ে মা‌রেন। অাবার,‌বিএন‌পি ক্ষমতায় থাক‌তে একই কায়দায় কাজ‌টি কর‌তেন অাওয়ামীলী‌গের নেতাকর্মীরা। এই কাজ‌টি‌কে অাবার দু দ‌লের নেতাকর্মীরাই ব‌লেন বি‌ক্ষোভ প্রদর্শন অার প্র‌তিবাদ ! অা‌মি যুক্তরাজ্য অাওয়ামীলীগ অার বিএন‌পির ক‌য়েক সি‌নিওর নেতা‌দের এ ব্যাপা‌রে প্রশ্ন ক‌রে‌ছি। তাদের উত্তর ঐ পরস্প‌রের প্র‌তি দোষা‌দোষী‌তেই সীমাবদ্ধ। অাওয়ামীলী‌গের নেতারা ব‌লেন,অামরা নই,‌বিএন‌পি যুক্তরা‌জ্যে জুতো অার ডিম ছোঁড়াছু‌ড়ির রাজনী‌তি অা‌গে শুরু ক‌রে‌ছে। বিএন‌পি নেতারা ব‌লেন,না অাওয়ামীলীগই অা‌গে শুরু ক‌রে‌ছে।

ইদা‌নিং, নতুন এক ধর‌নের ভন্ডামীবাচক নির‌পেক্ষতার কথা বল‌ছেন ক্ষমতাসীনরা।  সরকা‌রের কোন অন্যায় কা‌জের সমা‌লোচনা কর‌লেই বলা হয়, বিএন‌পি তো ক্ষমতায় থাক‌তে এর‌চে‌য়েও খারাপ কাজ ক‌রে‌ছে।

এমন উত্ত‌রে অা‌মি ভে‌বে পাই না,‌কোন রাজ‌নৈ‌তিক দ‌লের নেতা বা কর্মী কী ক‌রে অতটা নীচতায় ভু‌লের জা‌ষ্টি‌ফি‌কেশন ক‌রেন।

চার.

বাংলা‌দেশ হাইক‌মিশন এ‌দে‌শে বাংলা‌দে‌শের প্র‌তি‌নি‌ধিত্ব ক‌রে,‌ অাওয়ামী‌লীগ বা বিএন‌পির নয়। মা‌নি, যখন যে দল ক্ষমতায় থা‌কে দে‌শে,এখানকার সে দ‌লের নেতা‌দের কথা হাইক‌মিশ‌নের কর্াদের শুন‌তে হয়। বাংলা‌দে‌শেও তো সব সেক্ট‌রে একই বাস্তবতা। ক্ষমতা দল  পাল্টা‌য়,‌ বাস্তবতা ঘু‌রে-‌ফি‌রে একই থা‌কে।

লন্ড‌নে বাংলা‌দেশ দুতাবা‌সে কিন্তু এবারই প্রথম হামলা নয়। প্রায় তে‌রো বছর অা‌গে সা‌বিহ উদ্দীন অাহ‌মেদ যখন লন্ড‌নে বাংলা‌দে‌শের হাইক‌মিশনার তখন হাইক‌মিশ‌নে হামলা চা‌লি‌য়ে‌ছিল তখনকার বাংলা‌দে‌শের বি‌রোধীদল অাওয়ামীলীগ ও তা‌দের সহ‌যোগী সংগঠ‌নের নেতাকর্মীরা।

অা‌মি একজন পরবাসী বাংলা‌দেশী। দেশ ছে‌ড়ে যতদু‌রে যাই বাংলা‌দেশ‌কে ঠিক ততখা‌নি হৃদ‌য়ের মমতায় লালন ক‌রি অন্ত‌রে। একজন বাংলা‌দেশি হি‌সে‌বে এখানকার বিএন‌পি জামাত,অাওয়ামীলীগের রাজনীতি অামা‌কে ল‌জ্জিত ক‌রে। রাজনী‌তির নাম ভাঙ্গি‌য়ে প্রবা‌সের বু‌কে মি‌ডিয়া কাভা‌রেজ পাবার না‌মে এখানকার বি‌বি‌সির প্রধান কার্যালয় তারা ঘেরাও ক‌রেন। উ‌দ্দেশ্য,য‌দি বি‌বি‌সির খব‌রে একটুখা‌নি তা‌দের ছ‌বি অার নামটা ছা‌পে। কিন্ত‌,হায়। বি‌বি‌সি কর্পক্ষ উ‌ল্টো পু‌লিশ ডে‌কে অাপদ তাড়ায়। এখানকার বাংলা‌দেশী রাজনী‌তি‌বি‌দেরা সংবাদ স‌ন্মেলন ক‌রে ঘোষণ দেন তারা বাংলা‌দে‌শের প্রধানমন্ত্রীর বিরু‌দ্ধে অার্ন্তজা‌তিক অাদাল‌তে মামলা ক‌রে‌ছেন। এ বিরল কৃ‌তিত্ব (!) দে‌খি‌য়ে তারা নিজ দ‌লের নেতার কা‌ছে ক্রে‌ডিট নেন,বাহবা কুড়ান,‌মি‌ডিয়ায় কাভা‌রেজ পান। সংবাদ স‌ন্মেল‌নে প‌রিচয় ক‌রি‌য়ে দেন মামলার সং‌শ্লিষ্ট ব্যা‌রিষ্টার‌কেও।

প‌রে খোজঁ নি‌য়ে দেখা যায়,মামলা তো দু‌রের কথা,‌কোন অ‌ভিযোগই নেই হে‌গে অব‌স্থিত অান্তর্জা‌তিক অাদাল‌তে এ না‌মে। জে‌নেভার অার্ন্তজা‌তিক অাদাল‌তের ও‌য়েবসাই‌টে যোগা‌যো‌গের জন্য দেয়া ই-‌মেই‌লে এক‌টি বা‌রো লাই‌নের টাইপ করা চি‌ঠি পা‌ঠি‌য়েই তারা দাবী ক‌রে‌ছেন মামলা করার! অার অার্ন্তজা‌তিক অাদাল‌তের প্যা‌নেল ভুক্ত অাইনজী‌বি ছাড়া কেউ সে অাদাল‌তে মামলা প‌রিচালনাও কর‌তে পা‌রেন না।

এখানকার বাংলা‌দেশি রাজ‌নৈ‌তিক দ‌লের এক শ্রেনীর নেতারা নিয়‌মিতই প‌ত্রিকা অার টিভি চ্যা‌নে‌লের অ‌ফি‌সে হা‌জির হন। ভাই,‌নিউজ ক‌রে দি‌তে হ‌বে। ‘অমুক…ইস্যু‌তে ব্রি‌টিশ প্রধানমন্ত্রী‌কে স্মারকলি‌পি দি‌য়ে অাসলাম’। প‌রে খোজঁ নি‌য়ে দেখা যায়,,তারা টেন ডাউ‌নিং ষ্ট্রি‌টে ব্রি‌টিশ প্রধানমন্ত্র‌ীর কার্যাল‌য়ের বাই‌রে নিরাপত্তার দা‌য়ি‌ত্বে কর্মরত পু‌লিশ কনষ্টেবলের সা‌থে হা‌সিমু‌খে করমর্দন ক‌রে দি‌য়ে এ‌সে‌ছেন স্মারক‌লি‌পি।যে কন‌ষ্টেবলের দা‌য়িত্ব অাস‌লে গেটম্যা‌নের।

এ‌দে‌শে বিএন‌পি অাওয়ামীলী‌গের কমপ‌ক্ষে একডজন সি‌নিয়ার নেতা‌কে চি‌নি, যারা এদে‌শে নি‌জে‌দের নাম পা‌ল্টে‌ছেন একা‌ধিকবার। ব্যাংক থে‌কে নি‌জে‌দের কোম্পানির  না‌মে লোন নি‌য়ে কোম্পানি গা‌য়েব ক‌রে নি‌জে‌দের না‌মেরও এক দুইটা অক্ষর বা টাই‌টেল এ‌দিক সে‌দিক ক‌রে ব‌নে গে‌ছেন অন্য  ব্যা‌ক্তি ! অ‌নে‌কের পাস‌পো‌র্টের নাম এক,এ‌দে‌শে রাজনী‌তি ক‌রেন ভিন্ন না‌মে। অ‌নে‌কের ভিন্ন ভিন্ন না‌মে র‌য়ে‌ছে বাংলা‌দেশি, ব্রি‌টিশ ও ইউ‌রোপিয়ান পাস‌পোর্ট। ইন্সু‌রেন্স,‌সা‌র্টি‌ফি‌কেট,‌ জা‌লিয়া‌তির বহু ঘটনায় এ‌দে‌শে জেল খে‌টে‌ছেন এখ‌নো খাট‌ছেন বাংলা‌দেশি রাজনী‌তির  বি‌শিষ্ট রাজনী‌তি‌বিদ ও সমাজ‌সেবক (!) প‌রিচয় দেয়া এসব নেতারা।

থাক,লজ্জার কথা অার না ব‌লি। লজ্জার জবা‌বে লজ্জা দি‌য়ে,ঘৃনার জবা‌বে ঘৃনা দি‌য়ে কোন‌দিন সুস্থ রাজনী‌তির দিন অাস‌বে না। বিকৃ‌তির ধারায় কখ‌নো উ‌ন্মেষ হ‌বে না সু‌দি‌নের স্বরূপ। কিন্তু,মুশ‌কিল হ‌লো,অামা‌দের রাজনী‌তি‌বিদ‌দের সেটা কে বোঝা‌বে? রাজনী‌তির না‌মে তারা প্রবা‌সের বু‌কে অার কত ল‌জ্জিত কর‌বেন অামা‌দের? অার কতটা কা‌লিমা লেপন কর‌বেন বাংলা‌দেশী প‌রিচ‌য়ে?

উত্তর কার কা‌ছে চাইব?

বাংলাদেশের একজন সন্তান হিসেবে অামি লজ্জিত অাজ খুব প্রিয় জন্মভূ‌মি, তোমার কা‌ছে। বি‌দে‌শের বু‌কে বাংলা‌দেশ, তোমার নামটাকে বা‌রে বা‌রে অপমা‌নিত হ‌তে দেখ‌তে হ‌চ্ছে ব‌লে।

লন্ডন ১২ই ফেব্রুয়ারী

‌লেখক,সাংবা‌দিক,সদস্য রাইটার্স গীল্ড অব গ্রেট ব্রি‌টেন।


জিয়া পরিবার ও বিএনপির দুর্নীতি

মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

 

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয় বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০০১-০৬ সাল পর্যন্ত চার দলীয় জোট সরকারের আমলকে। সেই সময় ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিরা দুর্নীতির মাধ্যমে আয় করা টাকার ভাগ নিতেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তার কুলাঙ্গার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো’র দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে খুব বাজেভাবে পরিচিতি পেতে হয়েছিল। দেশে ব্যাপকভাবে দুর্নীতির কারণে টান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স (সিপিআই) এ বাংলাদেশে পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বের মধ্যে প্রথম হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমল ছিল সর্বগ্রাসী দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। দুর্নীতিপরায়ন এই সরকারের শাসনামলে খুব একটা প্রকাশিত না হলেও ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিকে বিএনপির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং সার্বিক সমর্থন দেওয়ার খবর প্রকাশিত হতে থাকলে খালেদা জিয়া, তার দুই ছেলে ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। ওই সময়েই তাদের দুর্নীতির জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় যা এখন বিচারাধীন রয়েছে। এই প্রবন্ধে বেগম খালেদা জিয়া এবং তার দুই কুলাঙ্গার পুত্রের আলোচিত দুর্নীতি মামলা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

কোকোর সিমেন্সের দুর্নীতি কেলেঙ্কারী:

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করে সিমেন্স। বিভিন্ন অভিযোগ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট আরাফাত রহমান কোকোর কয়েকটি ব্যাংক হিসাবের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ৮ জানুয়ারি সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মামলা করে যা নম্বর 1:09-cv-00021(JDB)। এই ব্যাংক হিসাবগুলোতে ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গচ্ছিত ছিল। আরাফাত রহমান কোকো সিমেন্স এবং চাইনা হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাছ থেকে তার অ্যাকাউন্টে ঘুষ হিসেবে নিয়েছিল ওই টাকা। মার্কিন বিচার বিভাগ কোকোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বায়েজাপ্ত করার মামলা করেছিল কারণ তার সিঙ্গাপুরের ব্যাংক অ্যাকউন্টের কিছু টাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছিল। কোকোর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মার্কিন ডলারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই তার ঘুষের টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করে বিদেশ থেকে ঘুষ ও জোরপুর্বক টাকা আদায় করলে তা যুক্তরাষ্ট্রের মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় পড়ে । তার মামলার বিষয়টি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তার অ্যাকাউন্টের লেনদেন হয়েছে বিদেশে বসে এবং ঘুষ ও জবরদস্তিমূলকভাবেই তিনি ওই অর্থ নিয়েছিলেন। যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে কোকোর ওই অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল তাই বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে কোকোর মানি সিমেন্স ঘুষ কেলেঙ্কারী নিয়ে কাজ করে। কোকো জাসজ (ZASZ) নামে একটি সিঙ্গাপুরে একটি কোম্পানীর নামে তার ঘুষের অর্থ রেখেছিল যা তার পরিবারের সদস্যদের অদ্যাক্ষর নিয়ে গঠিত। ( যাফরিয়া কোকোর বড় মেয়ে, আরাফাত রহমান কোকো নিজে, কোকোর স্ত্রী শর্মিলা এবং জাহিয়া কোকোর ছোট মেয়ে এই চার জনের নামের অদ্যাক্ষর নিয়ে জাসজ নামের কোম্পানীটি গঠিত হয়েছিল।) আরাফাত রহমান কোকো ঘুষের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে বিপুল পরিমাণে অর্থ জমা করেছিল, এমন প্রমাণ পাওয়ার পর সেদেশের সরকার ২০১৩ সালে বাংলাদেশ সরকারকে ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত দিয়েছিল। এর আগে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনকারী হিসেবে আরাফাত রহমান কোকোকে বাংলাদেশের একটি আদালত ২০১১ সালে ৬ বছরের জেল দিয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর সিঙ্গাপুরে ফেয়ারহিল নামে একটি কোম্পানীর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাকে আরো ৫.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছিল।

তারেক ও মামুনের মানি লন্ডারিং দুর্নীতি:

মার্কিন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার ঘনিষ্ট বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে ঘুষ ও মানি লন্ডারিং নিয়ে তদন্ত করেছে এবং বাংলাদেশের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন এফবিআইয়ের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি। এফবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে যে, তারেক ও মামুন তাদের সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্মান কনস্ট্রাকশন লিমিটেড এর পরিচালক এবং চীনের হারবিন ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন এর এদেশীয় এজেন্ট খাদিজা ইসলামের কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ মার্কিন ডলার ঘুষ নিয়েছিল। হারবিন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানীর লোকাল এজেন্ট হিসেবে টঙ্গীতে ৮০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের কাজ পাওয়ার জন্য তারেক ও মামুনকে ওই টাকা দিয়েছিল ঘুষ হিসেবে। এফবিআইয়ের এজেন্ট ডেব্রা লাপ্রিভেট গ্রিফিথ এই বিষয়ে তারেক ও মামুনের দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের আদালতের সামনে সাক্ষ্য দেন যে, ব্যবসায়ী খাদিজা ইসলাম সিঙ্গাপুরে মামুনের সিটি ব্যাংকে (তারেকের বন্ধু মামুনের সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার: ১৫৮০৫২-০১৬-০০৮) ওই টাকা জমা দিয়েছিলেন। ওই একই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তারেক রহমানের নামে সাপ্লিমেন্টারি গোল্ড ভিসা কার্ড ( যার নাম্বার: ৪৫৬৮-৮১৭০-১০০৬-৪১২২) ইস্যু করা হয়। সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকের কাছ থেকে সাপ্লিমেন্টারি গোল্ড ভিসা কার্ড নিতে তারেক রহমান তার পাসপোর্টের একটি ফটো কপি জমা দিয়েছিল ( তারেক রহমানের পাসপোর্ট নাম্বার: Y ০০৮৫৪৮৩) যেখানে তার পিতার নামের জায়গাতে লেখা ছিল মৃত জিয়াউর রহমান এবং মাতার নাম ছিল বেগম খালেদা জিয়া। তারেক রহমান এই কার্ড বিভিন্ন দেশে যেমন; গ্রিস, জার্মানী, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রমোদ ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করেছিল এমন তথ্যই উঠে এসেছে এফবিআইয়ের তদন্তে। এভাবে মোয়াজ্জেম হোসাইন এবং মারিনা জামান ঘুষের টাকা মামুনের সিঙ্গাপুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দিয়েছিল যে অ্যাকাউন্টে তারেক রহমানের সরাসরি ছিল। ২১ জুলাই ২০১৬ সালে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত তারেক রহমানকে সাত বছরের জেল এবং ২০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে মানি লন্ডারিং এর জন্য। দেশের সর্বোচ্চ আদালত শুধু রায়ই দেননি তখন রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল যে, এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ ‘ ফিনানশিয়াল ক্রাইম’ ছিল এবং এ ধরনের কাজ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বড় ধরনের একটি বাধা। মামুনের অ্যাকাউন্টে খাদিজা ইসলামের দেয়া ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে খোঁজ পেয়ে সুপ্রীম কোর্ট তারেক সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন ওই টাকাটা ঘুষের টাকা। কিন্তু তারেক রহমান এবং তার বন্ধু মামুন ওই টাকাকে পরামর্শক ফি হিসেবে নিয়েছে।

Picture

নাইকো দুর্নীতি কেলেঙ্কারী:

২০১১ সালেল ২৩ জুন কানাডার একটি আদালত বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তার সরকারের জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসাইনের দুর্নীতি মামলার বিষয়ে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ পেয়েছিল। মোশাররফ কানাডার কোম্পানী নাইকোকে অনৈতিকভাবে সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে একটি দামি গাড়ি উপহার পেয়েছিল নাইকোর কাছ থেকে যার আর্থিক মূল্য ছিল কানাডিয়ান ডলারে ১,৯০,৯৮৪ ডলার। নাইকো আরো ৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার ঘুষ দিয়েছিল মোশাররফকে তার স্বপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের জন্য। আর নাইকো একেএম মোশাররফ হোসাইনকে ওই ঘুষ দিয়েছিল এটা নিশ্চিত করতে যে, নাইকো বাংলাদেশ থেকে তাদের ঠিক করা দামে গ্যাস কিনতে পারবে এবং তা বিক্রী করতে পারবে এবং গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরনের কারণে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত জরিমানা আরো কমানো হবে।। ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট রিট পিটিশনের ( পিটিশন নাম্বার: ৫৬৭৩) রায় দেয়। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ, এফবিআই এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমস্ত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, ২০০৩-০৬ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বকালীন সময়ে নাইকোর কাছ থেকে বড় ধরনের ঘুষ লেনদেনের ঘটনা ঘটেছিল অনৈতিকভাবে তাদের সুবিধা দেয়ার নামে। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আদেশের লক্ষণীয় বিষয় হলো, নাইকো একেবারে নির্লজ্জভাবে ঘুষ দিয়েছিল। নাইকোর এজেন্ট কাশিম শরীফকে ৪ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিল এবং ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভুইয়ার মাধ্যমে ৫ লাখ ডলার দিয়েছিল। আর নাইকো তাদেরকে পরামর্শক হিসেবে এইসব টাকা দিয়েছিল যা তৎকালীন সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্তাদের প্রদান করতে এবং তাদের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন। আর এইসব সকল তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করেছে রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। তাদের তথ্যপ্রমাণ এটাই প্রমাণ করে যে, নাইকো তাদের বাংলাদেশী এজেন্টদেরকে সুইস ব্যাংকের মাধ্যমে প্রথমে বার্বাডোজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কাশিম শরিফ এবং সেলিম ভুইয়ার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকাগুলো দেন। পরে ওই টাকা চলে যায় তারেকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের অ্যাকাউন্টে।

জিয়া পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে এফবিআইয়ের বিশেষ প্রতিনিধির সাক্ষ্যঃ

বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন -এফবিআই’য়ের সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি ডেবরা লাপ্রিভেট গ্রিফিথ কয়েক বছর দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করেছেন। বাংলাদেশে ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কিভাবে দুর্নীতি হয়েছিল তা নিয়েই মূলত তিনি তদন্ত করেছেন। ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে এবং বিএনপির দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা তারেক রহমান এবং তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে তিনি যে জবানবন্দী দিয়েছেন সেখানে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং জিয়া পরিবার নিয়ে বাস্তবতার নিরীখে কিছু মন্তব্য করেন। সেই সময়ের সরকার এবং জিয়ার পরিবারের ঔদ্ধত্যের কারণে কিভাবে তখন দেশে সর্বগ্রাসী দুর্নীতি হয়েছিল তা তিনি তুলে ধরেন। এখানে গ্রিফিথের করা কিছু মন্তব্য কোন প্রকার সম্পাদনা ছাড়াই আক্ষরিকভাবে তুলে ধরছি।

কিছু “পরামর্শক” এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া হয়েছিলো যারা টাকাটা ঐসকল সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের কাছে পৌছে দেন। গিয়াসউদ্দিন আল মামুন ও তার ভাই হাফিজ ইব্রাহিম, এই দুইজনই মুলত তারেক রহমান ও মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপুর্ন ক্ষমতাসীনদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের কাছে টাকা স্থানান্তর করে। যারা পরে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ঘুষ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়। বাংলাদেশ কাজ করতে ইচ্ছুক এমন অনেক প্রতিষ্ঠান এধরনের মধ্যস্ততাকারীদের পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিতো যাদের আসলে টেলিযোগাযোগ, জলবিদ্যুৎ, তেল বা গ্যাস এধরনের ক্ষেত্রে কোন বিশেষ জ্ঞান নেই। ক্ষমতাশালী লোকদের সাথে তাদের সুসম্পর্ককে ব্যবহার করেই ঘুষ প্রদান করতো।

কয়েকজন আমার কাছে এই বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, বাংলাদেশে যে কোন ধরনের কাজের চুক্তি পেতে হলে প্রতিষ্ঠানটিকে মামুন বা তার ভাই হাফিজ ইব্রাহিমকে টাকা দিতে হতো যারা পরে সেই টাকা প্রধানমন্ত্রীর দুই ছেলে তারেক ও কোকোর কাছে পৌঁছে দিতো। আমরা যতগুলো দুর্নীতির মামলার তদন্ত করেছি প্রতিটি তদন্তই একথা সমর্থন করে, এবং আরো প্রমাণ বের হয় যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এমনকি নিচুপদস্থ অনেক সরকারী কর্মকর্তারাও ঘুষের টাকা পেতেন।

উদাহরস্বরুপ, সিমেন্স দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিঙ্গাপুরে আরাফাত রহমানের ঘুষের ব্যাপারে সেদেশের তদন্ত কর্মকর্তারা একটি অফিসে তল্লাশী চালান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওয়ারিদ টেলিকমের আরাফাত রহমানকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে একটি ‘পরামর্শক চুক্তি’র কাগজ খুজে পান। আরাফাত রহমানের টেলিকম খাতে কোন দক্ষতা বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোন প্রমাণ নেই এবং পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্যতাও তার নেই। আরাফাত রহমান আরব আমিরাতে বাড়ি কেনেন এবং আরব আমিরাত থেকে টাকা তার সিঙ্গাপুরের একাউন্টে টাকা জমা করার তথ্য আমার তদন্তে উঠে আসে।

তারেক রহমান সম্পর্কে উইকিলিকস যা বলেছিল:

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রদূত জেমস এফ মরিয়ার্টি মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে এক গোপন তারবার্তায় তারকে রহমান সম্পর্কে লেখেন। যা পরে সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী উইকিলিকসের ফাঁস করা নথিতে পাওয়া যায়। মরিয়ার্টি তারেক রহমান সম্পর্কে লিখেন:

“তারেক রহমান বিপুল পরিমাণ দুর্নীতির জন্য দায়ী যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলছে…

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ও ভয়ঙ্কর এবং একটি দুর্নীতিপরায়ণ সরকার ও বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রতীক।

তারেক রহমানের প্রকাশ্য দুর্নীতি মার্কিন সরকারের তিনটি লক্ষ্যকে, যথাঃ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন এবং জঙ্গিবাদ নির্মুল করার মিশনকে প্রচণ্ডভাবে হুমকির সম্মুখীন করেছে…… আইনের প্রতি তার প্রকাশ্য অশ্রদ্ধা বাংলাদেশে জঙ্গিদের মূল শক্ত করতে সহায়তা করেছে”

জিয়া পরিবারের অন্যান্য দুর্নীতির মামলা যেগুলো বিচারাধীন রয়েছে:

যেসব মামলায় জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে সেই মামলার বাইরেও জিয়ার পরিবারের বেগম খালেদা জিয়া,তার পুত্র তারেক রহমান এবং বিএনপির অন্য শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আর ওই সব মামলাগুলো বিগত ২০০৭-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতি দম কমিশন করেছিল। এর একটি মামলাও বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা হয়নি।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাঃ ২০১১ সালের ৮ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন তেজগাঁও থানায় এই মামলা করে। জিয়াউর রহমানের নামে একটি চ্যারিটেবল ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করে ৩ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার বেআইনি লেনদেনের কারণে এই মামলা করা হয়। খালেদা জিয়াসহ চার জনকে আসামী করে চার্জশীট প্রদান করা হয়।

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাঃ ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন রমনা থানায় খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমান ও আরো চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দেশের এতিমদের জন্য বিদেশি দাতা সংস্থা থেকে আসা ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকার অনুদান আত্মসাৎ করে। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট কোর্টে চার্জশীট দাখিল করা হয়। মামলার কাজ শেষ হয়েছে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে রায় ঘোষনার কথা রয়েছে।

বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলাঃ ২০০৮ সালের ২৬ জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন শাহবাগ থানায় খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে এই মামলা দায়ের করে। মামলায় বলা হয়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে কন্ট্রাক্টর নিয়োগের ব্যাপারে অভিযুক্তরা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং প্রায় ১৫৯ কোটি টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করেছেন। মামলাটি এখন ঢাকা জজকোর্টে প্রক্রিয়াধীন আছে। খালেদা জিয়া এই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করেন যা ২০১৬ সালের ২৫ মে আদালত খারিজ করে দেন। মামলার প্রক্রিয়া চলতে এখন আর কোন বাধা রইলো না।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলাঃ ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন খালেদা জিয়াসহ আরো ১৪ জনের নামে এই মামলা দায়ের করে। মামলায় বলা হয় চট্টগ্রাম বন্দর ও ঢাকা ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর কন্টেইনার ওঠানামার কাজ গ্যাটকোকে দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ১৪৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। খালেদা জিয়া দুই দফায় এই মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেন যা আদালতে খারিজ হয়ে যায়। বর্তমানে অভিযোগপত্র দাখিলের অপেক্ষায় আছে মামলাটি।

নাইকো দুর্নীতি মামলাঃ ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন খালেদা জিয়াসহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ এগারো জনের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করে। খালেদা জিয়া মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। ২০১৫ সালের ১৮ই জুন হাইকোর্ট এই আবেদন খারিজ করে দিলে খালেদা জিয়া সুপ্রিম কোর্টের আপিল ডিভিশনে লিভ টু আপিলের আবেদন করেন। ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগ খালেদা জিয়ার এই আবেদন খারিজ করে দেয় এবং বিচারিক আদালতকে মামলার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আদেশ দেয়। মামলার চার্জ গঠনের শুনানির কাজ এখন প্রক্রিয়াধীন।


পুটিনের মাথায় বিশ্বসমর্থনের রাজমুকুট আসছে।আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি প্রকৃতই প্রাণের শক্তিতে আরো সজিব হতে দেখে নিজেই প্রাণশক্তিতে আরো প্রেরণা অনুভব করলাম।মার জাতির জন্যে লিখতে বসলাম।শারীরিক জোরের দিকে আর তাকেতে পারলামনা।ইচ্ছে হলোনা ওটা ভাবি।আল্লাহ্‌ তার সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখার এই বৃষ্টি দেখিয়ে যেনো আমাকেই জানালেন,জীবনের জন্যে আমার দিকে তাকাও।আমিই তোমাদের সকলের স্রষ্টা এবং মৃত্যুর একমাত্র মালিক।আমিই একমাত্র শক্তি,আর কোন শক্তি নেই।সবই আমার ইচ্ছার ফসল।তোমরা যুদ্ধ বোঝ,পারমানবিক বোমা বুঝ-আমাকে বুঝোনা?  

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যে লাল সংবাদ ইজরাইলের রাস্তায় রাস্তায়।প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তার মন্ত্রীপরিষদের সবার দূর্নীতির বিরুদ্ধে রাজধানী তেলাবিবের একটানা নবম সপ্তাহের বিক্ষোভ চলছে।গত রাতের বিক্ষোভেও হাজার মানুষের মিছিলের আগ্নেয়গিরি ক্ষোভের উত্তপ্ত লাভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছে।এখনো তিনি এবং তার বিভ্রান্ত খেলোয়াড়রা যেনো সাবধান হন।বিক্ষোভকারীরা বলেছেন এবং হাতে উত্তোলিত প্ল্যাকার্ডের ভাষায় জানিয়েছেন নিতানিয়াহু তার পরিবার এবং মন্ত্রীপরিষদের সকলেই দূর্নীতিগ্রস্থ এবং ভয়ানক অপরাধী।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘুষনেয়া,প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের।তাকে গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করে চলেছে দুটি আলাদা মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে।এর একটি হচ্ছে;ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে নেয়া উপহারের নামে ঘুষ গ্রহণ এবং বিনিময়ে পত্রিকায় ভালো কভারেজ দেয়ার জন্যে পত্রিকার মালিকের সঙ্গে সম্পর্ক করে দেয়া। অপর মামলা হচ্ছে, জার্মানি থেকে সাবমেরিন কেনার ক্ষেত্রে দূর্নীতি।    

এই ক্ষমতাধর রাজনীতিকের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ অনেক আগে থেকেই।দাগি দূর্নীতিবাজরূপে ইজরাইলে তিনি কুখ্যাতি পেয়েছেন এবং তাদের কাছে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ভয়ানক অপরাধী।এই দেশে বড় দাগের রাজনীতিকরা বড় অপরাধী হয়েই থাকেন এবং এটা যেনো তাদের নৈতিকতার অংশ.২০১৪সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইহুদ ওলমার্টের বিরুদ্ধে আনীত ঘুষবৃত্তি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দেড় বছর জেলখাটতে হয়েছে।এখন নেতানিয়াহু তার স্ত্রী এবং মন্ত্রীদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি উঠেছে প্রবল বিক্ষোভে।  
Picture
আমেরিকার প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হবার সময় রাশিয়ার সাথে দেশের স্বার্থ বিরোধী সমঝোতার অভিযোগ তদন্তরত সেরা গোয়েন্দাদেরকে একের পর এক বরখাস্ত করে তিনি এখনো ক্ষমতায় আছেন প্রবল সমালোচনার পরেও।তার একই পথের দোস্ত নেতানিয়াহুও ইজরাইলে ক্ষমতায় টিকে আছেন পরিবারশুদ্ধু দূর্নীতিগ্রস্থ হবার অভিযোগ কাঁধে নিয়ে।সেক্ষেত্রে তিনি আরো এগিয়ে আছেন কয়েকডিগ্রী।তার সমগ্র মন্ত্রী পরিষদকেই অপরাধী বলছেন বিক্ষোভকারীরা। সবার বিদায়ের মধ্যেই ইজরাইলে দূর্নীতির বিচার দেখতে চেখতে চেয়েছে তারা।   
নিজেরদের মহাঅপরাধগুলো ঢাকবার উপায় হিসেবে তারা  নিজেদের দেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে ব্যস্ত করে রাখছেন। আমেরিকার দীর্ঘকালের মিত্রদেরকে আমেরিকার শত্রুশিবিরে ঠেলে দিচ্ছেন অন্যদের সাথে নিজ নিজ হিসেব নিকেশের নয়া বিবেচনায়।পঞ্চাশদশকের শুরু থেকে আমেরিকার প্রধান মিত্র পাকিস্তান্র উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন। ভেবেছেন,ভারতের নয়া জঙ্গি শাসকদের সাথে নেতানিয়াহু ষ্টাইলে পীড়িত বাড়িয়ে আমেরিকার জনগণের মুখে টেপ লাগাবেন।অস্ত্র বিক্রয় করে লাভবান হয়েছে নেতানিয়াহু এবং তার দেশ।বিক্রীর কমিশনে লাভের মধু নেতানিয়াহু এবং মোদীর জিহবায় লেগেছে,আমেরিকার সাথে অস্ত্র কেনার চুক্তি করে যে চুক্তিভঙ্গ করে হোয়াইট হাউসকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছে তার কি হলো?জবাব কি হোয়াইট হাউসের?    

আমেরিকার নয়া ধরনের রাজনীতিকের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কি পাকিস্তান হা করে থাকে?  তাতো নয়।নিজের হাঁটুর জোর থাকলে নয়াদিগন্ত উম্মোচনের ক্ষমতা মানব জাতির জন্যে স্রষ্টা নিজেই দিয়ে রেখেছেন।প্রশ্নটা হচ্ছে,কে কিসের উদ্দেশ্যে স্রষ্টার উপহার কাজে লাগায়।   

পাকিস্তান-চীন যৌথভাবে পাকিস্তানে তৈরী জে এফ-১৭ জঙ্গিবিমান থেকে দৃষ্টি সীমার বাইরে বিমান থেকে ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ’ এবং ‘ইনফ্রারেড’ ধীর গতির লক্ষ্যবস্তুর উপর সফল নিক্ষেপ করেছে ২ফেব্রুয়ারী শুক্রবার।পাক বিমানবাহিনী নিশ্চিত  করেছে এটি লক্ষ্যবস্তুকে যথার্থভাবে আঘাত করেছে। পাকিস্তানী সোনমিয়ানি ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে ছোঁড়া এই বিমান উড্ডয়ন করেছিলো।    

পারমানবিক অস্ত্রের অধিকারি মুসলমান দেশ পাকিস্তানকে আফগানিস্তানের সাথে বিবাদে জড়িয়ে ব্যস্ত রেখে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলমান দেশগুলোয় যুদ্ধের দামামার আওয়াজ তুলে নেতানিয়াহুদের পক্ষে আমেরিকাকে ঝুঁকিতে ফেলছেন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ইরানের ইসলামী গার্ড বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, শিগগীরই আমেরিকা ইসরাইল,সৌদি আরব এবং তাদের মিত্রদের পতন হবে।ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের উরমিয়া শহরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

এদিকে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর ফিলিস্তিনি হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে কথিত সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।৩১জানুয়ারী তিনি এই সিদ্ধান্ত জারি করেন।তুরস্ক ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করে বলেছেন,তার এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি ও সঙ্ঘতি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করবে।আরো বলেছেন,ট্রাম্পের এই ঘোষণা জেনেও আঙ্কারা হামাসকে দেয়া মানবিক সহায়তা চালু রাখবে এবং গাজায় উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ফেব্রুয়ারী শুক্রবার লেবাননের হিজবুল্লাহকেও কালোতালিকাভুক্ত ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং  পররাষ্টমন্ত্রণালয় বিব্ব্রিতি দিয়েছে একইদিন।মার্কিণ পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে,হামাসের সামরিক শাখা যারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করছে তাদের সঙ্গে হানিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।ইসমাইল হানিয়া ইসরাইলের নাগরিক হত্যায়ও জড়িত বলেও দাবি মার্কিণ পররাষ্ট্র দফতরের।

হোয়াইট হাউস ৩ফেব্রুয়ারী বিবৃতিতে বলেছে,নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় বাণিজ্য বন্ধ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থা হয়েছে।


আমিনুল ইসলাম মামুনের গল্পের বই বিড়াল ও তেলাপোকা

বৃহস্পতিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : ছোটদের জন্য সাতভাই চম্পা প্রকাশনী থেকে এবারের বইমেলায় এলো সাহিত্যিক ও সাহিত্য সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম মামুনের গল্পের বই ‘বিড়াল ও তেলাপোকা’। বইয়ের গল্পে একটি কর্মঠ তেলাপোকা ও একটি অলস বিড়ালের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। ছোটদের জন্য শিক্ষণীয় এ গল্পের বইয়ের কভার ও ভেতর পুরোটাই চার রঙে ছাপা; যা বইটি পাঠে শিশুদেরকে একটু বেশিই মনোযোগী করে তুলবে।     

শিশুদের জন্য ইতোপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে লেখকের বেশকিছু বই। বইগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ দুষ্টু ছেলের দল (ছড়া-২০০৪), কানামাছি (ছড়া-২০০৭), তারা জ্বলে কথা বলে (ছড়া-২০১৪), পরীর নাম লজ্জাবতী (শিশুতোষ গল্প-২০১৫), ভূত দেখেছি কয়েকবার (শিশুতোষ গল্প-২০১৫), ছড়ায় ছড়ায় বর্ণমালা (ছড়া-২০১৬), ঘুড়ির মাঠে আয় রে সবে (ছড়া-২০১৬), ঝুমঝুম রেলগাড়ি (ছড়া-২০১৬) প্রভৃতি।     
আমিনুল ইসলাম মামুন সম্পাদনা করছেন ‘তুষারধারা’ নামক একটি সাহিত্য বিষয়ক ম্যাগাজিন। তার এবারের বইমেলায় সাতভাই চম্পা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘বিড়াল ও তেলাপোকা’ বইটি মেলার ৫৫২ নং স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। বইটির প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ করেছেন শিল্পী সোহাগ পারভেজ। মূল্য রাখা হয়েছে ১০০ টাকা মাত্র।  

বইটির রকমারি লিংক:  https://www.rokomari.com/book/154641/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%93-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE
==০==

Picture

বই পরিচিতিমূলক তথ্য:

বই   : বিড়াল ও তেলাপোকা
লেখক  : আমিনুল ইসলাম মামুন
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান: সাতভাই চম্পা প্রকাশনী    
বইয়ের ধরণ : শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ
প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ: সোহাগ পারভেজ
বাঁধাই: পিন বাইন্ডিং   
ফর্মা সংখ্যা : ২ ফর্মা
মূল্য: ১০০ টাকা মাত্র
প্রকাশনার ঠিকানা    : সাতভাই চম্পা প্রকাশনী ৪৫ পি. কে. রায় রোড, বাংলাবাজার (৫ম তলা) ঢাকা-১১০০।
              
বইটির রকমারি লিংক: https://www.rokomari.com/book/154641/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%93-%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%BE


লেখকের প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থ :
১.    দুষ্টু ছেলের দল (ছড়া-২০০৪)
২.     কানামাছি (ছড়া-২০০৭)
৩.    তারা জ্বলে কথা বলে (ছড়া-২০১৪)
৪.    পরীর নাম লজ্জাবতী (শিশুতোষ গল্প-২০১৫)
৫.    ভূত দেখেছি কয়েকবার (শিশুতোষ গল্প-২০১৫)
৬.    ছড়ায় ছড়ায় বর্ণমালা (ছড়া-২০১৬)
৭.     ঘুড়ির মাঠে আয় রে সবে (ছড়া-২০১৬)
৮.     ঝুমঝুম রেলগাড়ি (ছড়া-২০১৬)   
৯.    বিড়াল ও তেলাপোকা (শিশুতোষ গল্প-২০১৭)    
            
বইমেলায় প্রাপ্তিস্থান: সাতভাই চম্পা প্রকাশনী [স্টল # ৫৫২]  


অনুপ্রেরণার এক আঁধার সুলতানা নাহার

শনিবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

কিন্তু পরিবারকে কী করে বোঝাবেন তিনি? এর মধ্যে মেডিকেল ও বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিলেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে সুযোগ পেলেন। পরবর্তীতে বুয়েটে সুযোগ পেয়ে সেখানে ভর্তিও হয়ে গেলেন। কিন্তু তাঁর মগজের নিউরন দখল করে নিয়েছিল নক্ষত্র, গ্রহ-গ্রহাণু আর ধূমকেতুরা। সেখান থেকে মুক্তির কোনো উপায় ছিল না। স্বপ্নতাড়িত সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন ফিজিকস পড়তে। তিনি অ্যাস্ট্রনমি (জ্যোতির্বিদ্যা) পড়বেন—এটাই তার তীব্র ইচ্ছা।
সুলতানা নাহার লাজুক প্রকৃতির। সত্তরের দশকের মেয়ে। সমাজ তখনো অনেক চুপসে আছে। সুলতানার কর্ম ও ধর্ম একটাই—পড়াশোনা। বাসা, বিশ্ববিদ্যালয় আর পড়াশোনার বাইরে তেমন সময় কাটেনি তাঁর। অনার্সের রেজাল্ট বের হলো। তাঁর শিক্ষক এসে জানালেন, তুমি ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়েছ! সুলতানা উচ্ছ্বসিত। পরিবারের কাছে খুব গর্ব নিয়ে সে খবর দিলেন। যে মেয়েটি ডাক্তার হয়নি বলে পরিবার কষ্ট পেয়েছে, সে এখন ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট! তাও আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিকস ডিপার্টমেন্ট থেকে! আত্মীয়-স্বজনরা বাবা-মাকে বোঝাল, মেয়েটা যেনতেন নয়! কয়েক দিন পর এল ইতিহাস গড়ার সংবাদটা। তাঁর শিক্ষক এসে বললেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিকস ডিপার্টমেন্ট থেকে এর আগে কোনো মেয়ে অনার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হয়নি। সুলতানাই প্রথম নারী! প্রথম হওয়ার গল্পটা এখানেই শেষ নয়। সুলতানা মাস্টার্সেও ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট হলেন। সত্যিকারের অধরা হয়ে গেলেন!গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সুলতানা নাহারগেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সুলতানা নাহারঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই তাঁর গবেষণায় হাতেখড়ি। অধ্যাপক এ এম হারুন-অর-রশিদের অধীনে গবেষণা করলেন। এবার দেশের পাট চুকাতে হবে। স্বপ্ন যাঁর যত বড়, শ্রম তার তত বেশি—সুলতানা সেটা জানতেন। ১৯৭৯ সালের বাংলাদেশে যখন অসংখ্য ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করতে চাইত না, সুলতানা তখন পাড়ি দিলেন আটলান্টিক মহাসাগর। পৌঁছালেন আমেরিকায়। পিএইচডি করলেন অ্যাটমিক থিওরিতে। পোস্টডক করলেন। এরপর শুরু করলেন নিজের গবেষণা। এই সুলতানা নাহারকে খুঁজে পাই আমি। যোগাযোগ করি। দীর্ঘ সময়ের কথায় তাঁকে জানি। তাঁর কর্মকে জানি। তাঁর লক্ষ্যের অটুটতা আমাকে শিহরিত করে।
সুলতানা নাহার অ্যাস্ট্রো ফিজিকসের গবেষক। মহাকাশের বস্তুদের নিয়ে তাঁর গবেষণা। আমেরিকার ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির রিসার্চ প্রফেসর তিনি। কথা বলার আগে খুব দ্বিধা ছিল মনে। তাঁর কয়েকটি গবেষণাপত্র পড়ে নিলাম আগেই। পড়ে বুঝলাম, সাদামাটা মনের মানুষ। প্রচণ্ড পরিশ্রমী! আমেরিকা ছাড়াও তিনি ভারত, মিশর ও অন্যান্য কয়েকটি দেশে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশে স্কুল-কলেজ পরিচালনাসহ অন্যান্য কাজ করার চেষ্টা করেন। বাবা-মায়ের নামে চালু করেছেন ফাউন্ডেশন ও বৃত্তি। পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় অবদানের জন্য প্রতি বছর দিচ্ছেন ‘রাজ্জাক-শামসুন’ গবেষণা পুরস্কার।
সুলতানা নাহারের দৃঢ় প্রত্যয় আর সাহস আমাকে মুগ্ধ করেছে। ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে, আশির দশকের একটি মেয়ে গবেষক হতে চেয়েছে-এটা অভাবনীয়! আমার কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা তাঁকে নিবেদন করলাম। যদিও এর চেয়ে অধিক প্রাপ্য তাঁর। তিনি বললেন, এই যে মহাবিশ্বকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানছি, এই জানাতেই আমার আনন্দ! এর চেয়ে বড় আনন্দ যে আমারও জানা নেই, হে বিদুষী! আপনি আমাদের গৌরব! বাঙালি নারীর জন্য অনুপ্রেরণার আঁধার!

ড. রউফুল আলম: গবেষক, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া (UPenn), যুক্তরাষ্ট্র।


অবচেতন মনের খেলা - জুলি রহমান

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

সবাই নেমে পড়লো ।কে কোথায় ছিটকে পড়লো কে জানে?কেউ ওয়াশ রুমে।কেউ টি স্টলে।কেউবা বসে গ্যাছে গানের সরন্জাম নিয়ে। তরিকুল
একা হয়ে গেলো।সে জমিদার বাড়ির অন্তে প্রবেশ করে।কতো পুরনো জীর্ণ বাড়িটির গতর।কাঠের ফ্লোরে পা ফেলতেই মচমচ করে উঠলো।পেঁচানো সিঁড়ির ভাঁজ।তরিকুল উঠছে তো উঠছেই।নিচ থেকে কেউ একজন বলে ওঠে-আর উপরে যাবেন না।নামুন!
তরিকুল সিঁড়ির ভাঁজে দৃষ্টি গাঁথে।কই কেউ তো নেই।তবে কার কন্ঠ?হঠাৎ ফোন বেজে ওঠে।হ্যালো বলতেই আমিনূলের কন্ঠ ভেসে আসে।কইরে তুই কোথায় হাওয়া হয়ে গেলি? খাবো আমরা চলে আয়।নিচে নামতেই তমা।
বাহব্বা পারিস বটে।কই একটু ছবিটবি তুলবো সে লা পাত্তা।
তরিকূল হাসে। আসলাম তো জমিদার ভবনটা দেখতে এটাই তো আসল কাজ।

তমা-আর আমরা বুঝি নকল? হ্যা দেখবো!খেয়ে দেয়ে সবাই মিলে।চল ক্ষুধায় পেট একবারে চুঁ চুঁ করছে।

খাবার আয়োজনে নাজিমূলের জুড়ি মেলা ভার।সাহায্যের নিপুন হাত অমার।অমা কঠিন দৃষ্টিতে তরিকূলকে দেখে নিলো।আগে তো পেট পূজা।তারপর ব্রম্যচারী হও।লুট করো সাম্রাজ্য!শরীরে শক্তি তো করে নাও।

তরিকূল নমিত ভঙ্গিতে বলে জু হুকুম রানী মাতা।

অমা এবার আগুন।ভালো হবে না বলছি।তরিকূল দুহাত এক করে বলে গুস্তাকী মাফ করবেন মাহাতারা মা।

এবার অমা উঠে দাঁড়ায়! খাবোই না!যা খুশি তাই কর তোরা।

আমিনূর এবার বলে বেড়াতে এসে রাগ করতে নেই।তাহলে এনজয় দূরে থাক বদ হজমে পাকস্থলির বারোটা বাজবে।জানিস তো আমাদের কেউ একজন ও ডাক্তারি বিদ্যায় পারদর্শী নই।

খাওয়ার পর্ব শেষ হতেই আবার দল ভাঙার প্রস্তুতি। কে কোথায় এবার ছিটকে পড়লো কে জানে।তরিকূল এবার জমিদার বাড়ির পুকুরে এসে পানিতে পা ডুবিয়ে বসলো।বরফের মতো ঠান্ডা জল।চারপাশে প্রাচীর বেষ্টিত পুষ্করিনি লাল দিঘী নামে সবাই জানে।পুকুরের একপাশে লাল শাপলা ফুটে আছে আয়ত পাতা সহ।একটু একটু কাঁপছে পদ্নপাতার মতো শরীর সেই সাথে ফুল গুলোও।তরিকুলের দৃষ্টি পিনদ্ধ হয় ঐ কুমুদে।ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে তাল সুপোরী নারিকেল গাছের চিড়ল পাতায়।নাম না জানা হরেক রঙের বাহারী ফুলেবাতাসের মৃদু দোলায় হেসে হেসে গলে গলে পড়ছেযেনো ।হঠাৎ একটি মুখ অর্ধ ডুবন্ত জলের ভেতর।দীঘল নাসারন্ধ্রে মতির ফুল পরন্ত বিকেলের সোনা রোদে সপ্ত আলো ছড়িয়ে পুকুরের শান্ত জলে অতি কিরণ প্রভার সন্চার করলো।অবাক তরিকূল ,অমা!

এই অমা?তুই কখন জলে নামলি রে? আয় উঠে আয় বলছি।দ্যাখ ভাই আমি ভালো সাঁতার জানি না।শেষে বিপদ হবে।উঠে আয় বলছি।

অমা এবার তাঁর হীরায় খচিত চুড়িতে পূর্ণ দু হাত যথা সাধ্য পানির উপরে তোলে। মুখটা তাতে পানির গর্ভে বিলীন হতে থাকে।চুড়ির নিক্কনে পুকুরের চারপাশ মধুর আওয়াজে ভরপুর হয়ে উঠে।তরিকুলের মনে হলো যে,এস্রাজে কে বা মিহি সুর তুলেছে।পরক্ষণেই অমার মুখটি তার মনের ভেতর পায়চারী করে বেড়ায়।অমা কী ডুবে যাচ্ছে?ও কখন এলো?আমি তো একাই এসেছিলাম।

তরিকুল ভুলে যায় সে সাঁতার জানে না।এবার অমাকে উদ্ধার করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ।কিন্তু অমা কোথায়?কেউতো নেই!
পাড়ে থেকে তমা চিৎকার করে ।এই সন্ধায় কেউ স্নানে নামে।লোকে যে বলে তুই একটা বাউলা ঠিকই ই বলে।উঠে আয় বুদ্ধু কোথাকার।গেলাম আমি।এই অমা কই রে?দিয়েছিস তো ক্ষেপিয়ে এবার ঠেলা সামলাও।
তরিকুল পাড়ে এসে বসে।কিন্তু তার পরনে পোশাক তো ভেজা না।অমার কথা কাউকে বলাই যাবে না।তাহলে ওরা আমাকে আস্ত ছিঁড়ে খাবে।মাগরিবের আযান পড়ছে।বাঁশিতে ফুঁক। দ্বার রুদ্ধ হবে।এখনই বেরিয়ে যাবে সবাই।পুকুরটি প্রাসাদের পেছন দিকে।একদম অন্দরে। তরিকুল উঠে দাঁড়ায়।বন্ধুদের খুঁজে।কোথাও কেউ নেই।
জোড়ে লোহার গেইট লাগলো এমন শব্দ কানে এলো ।একবার !দু বার !তিন বার !চারবার।তরিকুল দ্রুত পা চালায়। গাছে গাছে জোনাক আর মৌমাছি গুন্জন তুলে।দালানের গলি ঘুঁপচি মাড়িয়ে চিপা গলিতে পরতেই একটা চিকন মিহি সুর তাঁর দুকান ছাপিয়ে সুরের ইন্দ্রজালে যেনো তাকে লতার মতো পেঁচিয়ে নিচ্ছে।সেই সুর ধরে ধরেইতরিকুল অগ্রসর হতে থাকে।এবার যেনো সুরবাণী উভয়ের খেলা চলে-
তুমি যে আমাকে গিয়েছো ফেলে চিরতরে।
আলেয়ার আলো আমি এই আঁধারে
ভুলতে পারিনি কোনদিন আমি তোমাকে
যে তুমি ছিলে আমার মনের গভীরে--ঐ
প্রদ্বীপের কাছে জেনে নিও কোনো ক্ষণে
পতঙ্গ কেনো পুড়ে মরে আগুনে
ধূপের ধোঁয়ার আড়ালে গন্ধ বিলাপ
তাজা খুনে বেদীতে বিলায় যে ফুলেরে---ঐ

হতে পারিনি দেবী কোন দেবতার!
প্রেমের অর্ঘে তাই সাজে নাই জীবন আমার।
আজ এই ক্ষণে দেখে তোমায় নিজেকে পেলাম ফিরে---ঐ
বাতাসের কোষে কোষে কে যেনো অধরা হয়ে শূণ্যে মিলে যাচ্ছে।মুখ তাঁর বহু যুগের চেনা।কন্ঠ তাঁর কান্নার বেহাগ। অতি দূর থেকে ধীরে ধীরে সন্নিকটে ।
একি অমা? তুমি এখানে?তুমি এতো ভালো গাইতে পারো?আগে তো শুনি নি।
অমা এক রহস্যময়ী হাসি টেনে বলে শোনার সময় হয়নি তাই শোন নি।হঠাৎ অন্ধকার যেনো উভয়ের পৃথিবী ঢেকে দিলো।তরিরুল চিৎকার করে উঠে।

কোথায় তুমি অমা? আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না ।এতো অন্ধকার কেনো?ওরা সবাই কোথায়?
একটা নরম বাহুর স্পর্শ পেলো তরিকুল।ইরানীগোলাপের সুগ্নধে মধুরতা ছড়ালো চারপাশ।

হঠাৎ হাজার বাতির ঝালরে সমাদৃত মহলে তরিকুলের প্রাদুর্ভাব।গজল পরিবেশন করছেন ওস্তাদ শমসের।তার সেই মধুর কলতানে মন্ত্র মুগ্ধের মতোই ক্রমোজম গীতের রসাস্বাদনে ব্যাপৃত মন তরিকুলের।ঘুঙুরের কিঙক্কিনি বেজেই চলেছে অমার সোনা রঙ পায়ে।

এক সময় ক্লান্ত দেহ লুটিয়ে পড়ে তরিকুলের কোলে।অমা আঁখি খুলে। সে চোখের দৃষ্টিতে তরিকুলের নজর বন্দী হতেই এক সন্মোহনী সূধা রসে সিক্ত হলো তাঁর দেহ ও মন।কী এক অজানা মোহে সিন্চিত শরীর গভীর আবেগে ঘন ঘন কাঁপতে থাকে সুখের পরশে।তরিকুলের মনে হলো জন্ম তাঁর সার্থক আজ এমন অবলা সুশীল রমনী পরশে।কী যাদু আছে তাঁর সঙ্গ সূধায়?

তরিকুল?ডাকে অমা।এতোদিন পর তুমি এলে?আমাকে এই প্রাসাদে জমিদারের কাছে মাত্র ক টা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দিতে পারলে তুমি?ভালোবাসা হীন জীবন যে কতো দুর্বিসহ যন্ত্রনার তুমি কী করে বুঝবে?
এক বৃদ্ধের কাছে যৌবনা মেয়ের অর্ধমৃত জীবন যাপন;না পাওয়ার গভীর বেদনা তুমি কী একটু ও উপলবদ্ধি করেছো? করোনি।তা-ছাড়াও ঐ জমিদারের ছিলো চার বৌ।
তাঁরা প্রতিরাতে অপেক্ষার পাথর সময় কাটাতো।জমিদার পড়ে থাকতো মক্ষী বাঈ ঘরে।একরাতে জমিদার আমাকে এই বাঈ ঘরে নিক্ষেপ করে আমি অপরুপা তাঁর জমিদারীতে ধন বাড়ানোর হাতিয়ার করে আমাকেই।বিভিন্ন দেশ থেকে জমিদার গন আসতেন তাদের মনোরন্জনে।আমি হলাম তাঁদের নিত্য রাতের দোসর।কচি বয়সে তারা আমার দেহটাকে ছিঁড়ে ছুবড়ে তুলে নিতে চায়।কিন্তু না আমি যে শুধু তরিকুলের।এই দেহ মন সবই যে তাঁর।আমি যে শুধু তার আমানতদার!এই দেহ পূঁত পবিত্র রাখা যে আমার কর্তব্য।তাই প্রতিরাতে তাদের সরাবে অতিমাত্রার নিকুটিন ঢেলে তাদের মাতাল করাই ছিলো আমার কাজ।নিজেকে রক্ষা করার আর কোন পথই খোলা ছিলো না।

Picture

একদিন প্রাসাদে প্রাসাদে এলার্ন হতে থাকলো পারশ্য থেকে আসছে এক অপরুপা বাঈ।তাঁর সাথে পাকিস্তানের যুবা জমিদার দৌহিত্র।উভয়েই উভয়ের প্রাণের দোসর।তাঁরা এক সপ্তাহ অতিথি শালায় অবস্থান করে জমিদারের কাচারী ঘরে বৈঠকে বসবে বানিজ্য কর্মে। যথা সময়ে সেই দিন এলো।

ঘোড়ার গাড়ি থেকে পারশ্য নারী বেরহলো জমিদার দৌহিত্রের হাত ধরে।আমাদের প্রাসাদের জমিদার আমাকে তাঁর সেই বন্ধুর পানি প্রাথী করার অভিপ্রায়ে বৈঠক খানায় বসলেন।আমার দিকে নজর পড়তেই পাকিস্তানী জমিদার দৌহিত্র ধীরে ধীরে পারশ্য রমনীর হাত ছেড়ে আমার হাত ধরে।এতে জমিদার ধনন্জয় সুখের ঢেকুর তোলে যাক কাজ বাগিয়ে নেবার শ্রেষ্ট উপায় এখন তাঁরই ছোট রাণী।

রাত্রি গভীর থেকে গভীরতর।ঝিঁঝিঁ পোকারাও নিঃশব্দ।ধনন্জয় বাহির থেকে তালা বন্ধ করেছে আমাদের।কারণ আমি ধনন্জয়েকই ধরা দেইনি কোনদিন।এবার বুঝি আর বাঁচার উপায় নেই।দৈর্ঘ্য প্রস্থে একুশ বর্গ গজের প্রকোষ্ঠে জমিদার দৌহিত্র আমাকে নিয়ে রঙ্গ তামাশায় মেতে উঠে।সে আমাকে বসন মুক্ত করে।আমার দেহ সৌষ্ঠব চোখের দ্বারা লেহন করতে থাকে।তাঁর জীবনে সে না-কি এতো নিটোল দেহ আর দেখেনি।সে আমার স্তনকে সুউচ্চ পর্বতের সাথে তুলনা করতে করতে সামনে

অগ্রসর হতে থাকে। সে আমার অধরে অধর গুজে দেবার চেষ্টা করে বার বার ব্যর্থ হতে থাকে।গো-ধূলির সপ্তরঙা আলোকিত প্রভা আমার অধর।নরম শিমুল তুলো তাঁর স্পর্শ সূধা।জঠরস্থ মোহরসে তাকে ভিজাতে থাকে।চিতোর চিকুর কপোলে ঠোঁট লাগিয়ে শিউরে শিউরে উঠে।

আমার উঁড়ুতে তাঁর উড়ার বাঁধন তৈরী করার বহুবিধ চেষ্টার নিষ্ফল আর্তনাদ ঘরময় বিরহের শ্বাস ছড়াতে থাকে।কী ধন চাও তুমি সব সব এনে দেবো তোমার পায়।জমিদার দৌহিত্র হাপাতে থাকে।একসময় আমার নগ্নদেহটা তাঁর নগ্নদেহে লেপ্টে যেতে থাকে।দেহের কামে তাপে সে অধীর পাগল হয়ে ওঠে।আমার ভেতরও কী এক অজানা সুখ না দুঃখ ।না কষ্ট ।না ,না পাওয়ার যাতনা।সুখহয়ে বিবশ চিত্ত কেঁপে কেঁপে ওঠে।পুরুষ শরীরের প্রথম স্পর্শ এমন ?আমারও ছিলো অজানা।সমস্ত রাত্রির এই শরীর যুদ্ধের অবসান ঘটলো।

রাতের আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ।সেখানে দৃষ্টি ফেলতেই চাঁদের কালিমায় নিজের দেহটাকে অসূচি মনে হতে থাকে।নারী জন্মের গ্লানি এক জমিদারের গৃহ লক্ষী অন্যের সহ্যা সঙ্গীনি।একদলা থুতু উগলে উঠতে চাইলো।ভাবনায় এলো আজ পাকিস্তান,কাল কাশ্মীর পরশু ভারত? আমি হয়ে যাব দেহ পশারিনী।নিত্যদিনে পুরুষের মনোরন্জনকারী।বার বার তরিকুল তোমার মুখটাই মনে পড়তে থাকে।আজ এই জোড়পূর্বক সম্ভোগে তোমার থেকেও বিচ্ছন্ন যখন তখন বেঁচে থাকার আগ্রহটা হারিয়ে ফেলি।বিষ পান করি।মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে ভোরের সূ্র্য ওঠার আগেই ঐ পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

ঐ অতৃপ্ত মৃত্যু আমাকে শান্ত করেনি।বাড়িয়েছে অস্থিরতা।জগতে অতৃপ্ত আত্নার মৃত্যু নেই ধ্ংশ নেই।থাকে সম্ভোগ প্রিয়তার এক মোহ।টান!যার থেকে তাঁর মুক্তি নেই।তাই প্রতি চাঁদনি রাতে একটু ভালোবাসার জন্য আমার প্রাণটি ব্যাকুল হয়ে ওঠে।সেই না পাওয়ার ধনকে কাছে পাবার প্রবল তৃষ্ণা আমাকে পাগল করে তুলে।
এই পৃথিবীতে আমার অতৃপ্ত আত্নার ঘোরাফেরা।আজ তোমার দেখা পেয়ে খুশিতে আমি আত্নহারা।কিন্তু তোমার সাথে তো আমার দেহের মিলন হতে পারে না।তোমাকে আমার কাছে নিতে হলে যে তোমাকেও আমার পথেই আসতে হবে। তাই তোমাকে ঐ পুকুরে ফেলে মেরে ফেলেছি। এখন তুমি আমার।কেউ কোনদিন তোমাকে আমাকে আলাদা করতে পারবে না।

তরিকুল ভয়ে পিছাতে থাকে এ তুমি কী বলছো অমা! তুমিতো আমার বন্ধু অমা।

না আমি অমা নই।আমি এতোদ এলাকার গরীব কৃষকের কণ্যা নবীতুন।আর তুমি সেই গ্রামের ছেলে তরিকুল।একদিন জমিদারের পাইক পেয়াদা জোর করে আমাকে তুলে নিয়ে আসে।জমিদার ধনন্জয় আমাকে বিয়ে করে।কিন্তু আমাদের প্রেম?আমার তরিকুলকে আমি ভুলতে পারি না।দিনের পর দিন মানষিক অত্যাচার চলে আমার উপর।এ ই দ্যাখো চাবুকের আঘাত;বলেই অমা তার পিঠ উন্মুক্ত করে।তাঁর দুধে আলতা পিঠে কাঁটা কাঁটা দাগ।তরিকুলের মায়া হয়।
অমা এবার হাসে।তাঁর হাসিতে যেনো মুক্তো ঝরে।

অমা আমার আর কোন দুঃখ নেই।তুমি আমার পাশে আছো।

তরিকুল এবার ডাকে অমা ওরা কোথায়?তমা আমিনূল রশিদূল জবা ওরা কোথায়?

অমা এবার রেগে ওঠে তুমি কী ভুল বকছো।আমি নবীতুন।তোমার নবীতুন।তরিকুল আমতা আমতা করে বলে-নবীতুন?কোনোদিন তো এমন নাম শুনি নি।অমা তরিকুলকে অন্যমনস্ক দেখে কোলের উপর ফেলে ডাগর নয়নে অপলক চেয়ে থাকে।আর সে চোখের ভেতর রাজ্যের মায়া।তরিকুল ডুবে যেতে থাকে নবীতুনের চোখের সাম্রাজ্যে ।তরিকুলের চোখে অমাই ঘুরছে সারাক্ষণ।তরিকূল অমাকে ছাড়া আর কিছুই দেখছে না।

নবীতুন তাঁর মখমলি সুগন্ধী মাখা আঁচলে তরিকুলের চোখ ঢেকে দেয়।ঘনঘোর বর্ষার গর্জন ।প্রাসাদ ময় বাতি জ্বলে ওঠে।বাইরে বিদ্যুতের তীব্র হুংকার।ঘরে মজলিসে সুরের ঐকতান!অহির ভায়রু ক্ষণে ক্ষণে খাম্বাজ উর্দু হিন্দি মিশেল ক্লাসিক ধ্রুপদ।

ভিজে হাওয়া কী মেদুর শ্রাবণ ধারা
একেলা  যায় না থাকা বাসর ছাড়া!
দক্ষিণা বলে কথা বাতাসের কানে কানে
প্রিয় মোর এসেছে ঘরে বয় সুখের ধারা--ঐ

বিরহ কেটেছে মোর যামিনী উছলা
হায় !বাজুবন্দ বেজে বেজে উতলা!
প্রিয় মোর সহে না যাতনা দূরে থাকার
আজ এই বরষা ভরা ভাদরা---ঐ

কাটেনা প্রহর আর মোহ মায়া
জড়ায়ে কাজরী দেখি শুধু প্রেম ছায়া
বৃথা নয় এ রজনী প্রিয় ওগো প্রিয় মোর
খোলো আঁখি পাতা ডেকে হই সাড়া--

তরিকুল নবীতুন নাম্নী অমার শরীরে লেপ্টে পড়ে আছে।সুরের ঐন্দ্রজালিক মায়া মোহ তাকে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কোথায়?কী সুখ ?অনন্তের এ সুখের ফল্গুধারা বর্ণনায় আনা যায় না।তরিকুল যেনো স্বর্গের সোনার পালকে শুয়ে ষোলো কলা সুর সঙ্গীতে মুগ্ধ!সকল রাগিনী তাকে বশ করে ফেলেছে।মেঘের ঘন ঘোর আলিঙ্গনে
বৈরী আবহাওয়া ভোগের মোহের অন্তরায় হয়ে দঁড়িয়েছে।

অমা তাঁর দীঘল ডানার  চোখের কোনে
স্বপ্নতুলির ক্যানভাস আঁকে।যে ছবিতে তরিকূল ভিন্ন জগতের অন্ন কোন বস্তুদৃশ্যত নয়।জড়তার  সকল নাগপাশ ছিন্ন করে দোঁহার প্রেমে দোঁহে বন্দী হতেই বৈলাপুরের ট্রাকের বিকট সাইরেন তন্দ্রাচ্ছন্ন তরিকুলের দেহে প্রবল ঝাঁকুনী তোলে। অমা তমা আমিনূল সবাই এক সংগে বলে ওঠে তুই পারলি এমন একটা ঘুম দিতে?হাঁদারাম মফিজ্জা।

তরিকুলের তখনো স্বপ্নের ঘোর কাটেনি।সে অপলক অমার দিকেই চেয়ে আছে।আমিনূল মাথার পেছনে থাপ্পর মেরে বলে এই নাম ব্যাটা।নইলে তোরে নিয়েই চলে যাবো।পরে বাসে ঝুলে ঝুলে বাসায় যাওয়ার মজাটা টের পাবি।

তরিকুল নেমে পড়ে গন্তব্যে।চলে যাওয়া বন্ধুদের গাড়িটির দিকে তখনো সে চেয়ে আছে।এ যাবৎ ঘটে যাওয়া অবচেতন মনের খেলার কথা ভাবতে ভাবতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধূপছায়া বৃক্ষের গতরে ঠেস দিয়ে দাঁড়ায়!রাতের অন্ধকারের চাদর তাকে এবার সত্যিই আড়াল করে নিলো।

নিউইয়র্ক-২০১৮ইং গল্পের প্লট নির্মান
গাজীপুর ,জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছায়া ঢাকা বৃক্ষ কূলের কাছে আমি দায়বদ্ধ।


কবিদের দালাল = জুলি রহমান

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

আমি একজন কবি হতে চাই।
আমার অনেক কবিতা আছে।
একশো ,দুইশো ,হাজার লক্ষ!
এখন কবি হওয়ার উপাধিটা জরুরী--

কেউ একজন বল্লেন-
তাহলে তো তোমাকে কবিদের দালালের কাছে যেতে হবে!
একশত গ্যালন তৈল কিনতে হবে!
প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে তথাকথিত
পন্ডিতদের পায়ে তা মর্দন করতে হবে-

তাদের চিনবো কেমন করে?
তাদের নামের আগে লিখা থাকে
সুসাহিত্যিক;তোষামুদকারী ,সুপন্ডিত
তাদের মনটা জয় করতে পারলেই
রাতারাতি তুমি কবি হয়ে যাবে।
নচেৎ আজীবন কবিতার ঘানি টেনেও
কেউ উপাধি বিহীন কবি হতে পারে না

কিন্তু আমি তো জানি কবিতার ছন্দ ,মাত্রা ,তাল ,লয় সব ঠিক থাকলেই কবিতা হয় আর যিনি তা লিখেন তিনিই কবি।

আরে ধ্যাত;স্বরবিত্ত মাত্রাবিত্ত অমিত্রাক্ষরে যতোই তুমি ছন্দোবদ্ধ হও না কেনো তোমার কবিতা কোনো কবিতাই নয় ;যতোক্ষণ না তুমি কবিতার দালালের কাছে যাও!
এখন কবিতার জমিন দালাল বিহীন ক্রয় বিক্রয় হয়ই না।

এক্ষেত্রে পুরুষ হলে যতোটা সহজ।
নারীর বেলায় ভীষণ দুর্বোদ্ধ!
তবে সুন্দরী রমনীর জন্য মোটেও দুরহ নয়!
মহা ভাবনার কথা;তাহলে কী দীর্ঘ
ছত্রিশ বছরের সাধনা কবিতা লিখা ব্যর্থ?
তাঁরা কী আমার বইটা ছুঁয়েও দেখবে না?
তাহলে যে আসরে আসরে গাল ভরা বক্তৃতা হয়।কঠিন কাব্যের অমীয় বাণী
শুনান। কেউ কেউ তাঁরা এই শহরে গন্যমান্য
ব্যাক্তি।প্রথম আসনে বসেন মাইক হাতে নিয়ে।

তাদের মুখের ভাষার নীরেট শ্রবণে কখনো কখনো অরিজিনাল দন্তপাটি খুলে পড়ার উপক্রম হয় যে বড়ো!

হ্যা;তবে আর বলছি কী!যাও তাদের কাছে।চাও কবি হওয়ার স্বীকৃতি।দেখবে
আসরে আসরে তোমার কত্তো সুনাম!

বাতাসের কোষে কোষে শিমুল তুলোর মতো উড়বে তোমার নাম।
জলের ধারার মতো সুনীল সায়রে
গা ভাসিয়ে তুমি সুখের নেশায় জাবর কাটছো ।কাঁধ ঝাঁকিয়ে ঝুঁকিয়ে এঁকে ওকে জ্ঞাণ বিলাচ্ছ।আহা তখন তোমার কী শান্তি!

একটু যে সমস্যা হয়ে গেলো !আমি যে
তৈল মর্দন বিদ্যায় তেমন পারদর্শী নই।
কারো পা চেটেপুটে শাদা করার বিদ্যা অর্জন করিনি যে;

তাহলে তোমাকে আরো একটা বুদ্ধি দেই।
তুমি মাইক হাতে নিয়েই নিজের পরিচয় দিবে অত্যান্ত সাহসের সাথে ।বুক চাপড়িয়ে বলবে;এই শহরের আমিই দশক ওয়ারী কবি।কবিতা লিখলেই সবাই কবি নয় ;কেউ কেউ কবি।

আরে ছিঃতুমিতো ভীষণ বাজে বুদ্ধির লোক হে!
জানো একবার কী হলো ?
একদিন।
এক আসরে মহাজ্ঞাণী তাপসদের মাঝে মুখ ফসকে আমি নিজেকে কবি জাহির করতেই -ওমা!কী মস্তবড়ো একটা তীর আমার বুকে বিঁধে গেলো!
ভুলের হুল আর তীরের যন্ত্রনায়
আমি ছটফট করতে থাকলাম।
জানো ;ঐ আসরের কেউ আমার বুকে
বেঁধা তীরটি খোলার চেষ্টাতো দূরে থাক ,একটু ডেটল তুলো ব্যান্ডেজ পর্যন্ত এগিয়ে দিলো না!তাই আমি ঐ সব কবিতার মহাজনদের খুব ভয় পাই।না বাবা;
আমার কবি উপাধীর কোনো দরকার নাই!তুমি চলে যাও !অন্য কাউকে তোমার এই অনেক টাকায় ত্রুয় করা কবিতার দালাল চালান দাও।ভুলেও কিন্তু আমার কাছে আর এসো না!


টরন্টোতে নির্মিতব্য শহিদ মিনার এবং কিছু ভাবনা

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

টরন্টোতে একটি স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণ করার জন্য ‘অর্গানাইজেশন ফর টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে মনুমেন্ট ইনক (OTIMLD)’ নামে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা হয় তিন বৎসর আগে। এই সংগঠনটির কর্মকর্তারা গত তিন বছর যাবৎ বিভিন্ন প্রচেষ্টায় তাদের মেধা ও শ্রমের বিনিময়ে এবং দেন দরবার করে কানাডিয়ান সরকারের কাছ থেকে স্থায়ী শহিদ মিনার নির্মাণের জন্য একখণ্ড জমির বন্দোবস্ত পায়। বলা যেতে পারে স্থায়ী শহিদ মিনারের Planning & Designing পর্ব ভালভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে। সামনে আসছে Implementation, Execution, 21st Celebration, এবং Maitenance পর্ব। বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এমন অভাবনীয় একটা অবদান ও সাফল্যের জন্য এই সংগঠনের সবাইকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

Picture
কিন্তু দুঃখের বিষয় বাঙালি কমিউনিটির সে আনন্দ বেশিদিন দীর্ঘস্থায়ী হল না, সংগঠনের কেউ কেউ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে দুই স্থানে কমিউনিটির সবাইকে মতবিনিময় সভার ডাক দেয়। প্রথম সভায় গিয়ে আমার ফ্রাস্ট্রেশন থেকে দু চারটে কথা বলার লোভ সামলাতে পারি নাই। কিন্তু অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পারিবারিক প্রোগ্রাম থাকায় দ্বিতীয়টিতে উপস্থিত হইতে পারি নাই। আশা করি ১ম ও ২য় মিটিংয়ের আউটকাম আমাদের জন্য ভাল ফল বয়ে আনবে। আমরা এক সাথে কাজ করতে গেলে ভুল ভ্রান্তি হবেই এবং ডিজ এগ্রিমেন্ট হতেই পারে, তাই বলে কি OTIMLD এর এই দুর্বল মুহূর্তে আমরা তাদের থেকে আমাদের মুখ ফিরিয়ে নিব? তাদের এই অসাধারণ এক অর্জন কি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে? যেহেতু স্থায়ি শহিদ মিনার নির্মাণ গ্রেটার টরন্টোবাসির অনেক দিনের আকাঙ্খা এবং তাদের প্রাণের দাবি, আসুন আমরা সবাই সব কিছু ভুলে প্রকৃত সহযোগিতার হাত নিয়ে এগিয়ে আসি। এ ব্যপারে আমার একান্ত ব্যক্তিগত কয়েকটি প্রস্তাব সবার অবগতির জন্য নিম্নে তুলে ধরছি-
১। OTIMLD এর সকল সদস্যগন তাদের আভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ভুলে গিয়ে আপনাদের ইঊনিটি কমিউনিটির সামনে তুলে ধরুন এবং আপনাদের পরবর্তী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ কমিউনিটিকে অবহিত করুন।
২। কমিউনিটি থেকে আরো কিছু নিরপেক্ষ, পেশাজীবী, নেতৃস্থানীয় এবং কমিউনিটি সার্ভিসে অভিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গকে OTIMLD এর সাথে সমন্বয় করে Implementation/Execution পর্বের জন্য মনোনীত করা যেতে পারে। এই নতুন মুখদের ভিতরে সর্বাগ্রে একজনের নাম আসা উচিৎ, যিনি বিগত অনেক বছর যাবৎ এই টরন্টোতে তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের পাশে একুশ উদযাপনের সার্বিক ব্যবস্থাদি করে আসছেন।
৩। নতুন সদস্য সংখ্যা ৭, ১১ বা ১৫ পর্যন্ত করা যেতে পারে।
৪। কমিউনিটির নেতৃস্থানীয়দের সংযুক্ত করার অভিপ্রায়ে একটি ২১শে উদযাপন’ কমিটি করা যেতে পারে, যেখানে বাহিরের আরো কিছু সদস্য যোগ করা যেতে পারে।
৫। কমিউনিটির নেতৃস্থানীয়দের সংযুক্ত করার অভিপ্রায়ে ‘শহিদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণ’ এর জন্য একটি কমিটি করা যেতে পারে।
আমার উপরের কোন প্রস্তাব গ্রহণ না করেও যদি আমাদের ভালবাসার শহিদ মিনার নির্মাণ করা যায় তাহলেও আমার বা আমাদের একান্ত সহযোগিতা থাকবে বলে ওয়াদা করছি। কিন্তু শহিদ মিনার এই টরন্টোর মাটিতে হতেই হবে…
নওশের আলী,  সাধারণ সম্পাদক, ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন কানাডা


আমরা কী জহির রায়হানকে ভুলে গেলাম!

বৃহস্পতিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাংলা চলচ্চিত্রের মেধাবি কিংবদন্তি পরিচালক জহির রায়হানের ৪৪ তম অন্তর্ধান দিবস ছিল মঙ্গলবার। দিবসটি নিয়ে মাথাব্যাথা তো দূরের কথা দিনটির কথাই যেন ভুলে বসে আছে গোটা চলচ্চিত্র পরিবার। প্রতিবার এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাবে দিবসটি নিয়ে ছোটো-খাটো আয়োজন দেখা গেলেও এবারের চিত্রটা একেবারেই বিচিত্র।

জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবসে এফডিসি আজ যেন আজ নিরব, স্তব্ধ আর নিরেট হয়ে পড়ে আছে। জনমানবহীন এফডিসিতে কেবলই হাহাকার বিরাজ করছে। শোকের বদলে হই-হুল্লোরে মেতে উঠেছে চলচ্চিত্র পরিবার। এফডিসি ছেড়ে গাজীপুরে উল্লাস-উদ্দীপনায় কাটছে চলচ্চিত্রের সকল শিল্পী এবং কলাকুশলীদের।

জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবসেই এবার উদযাপন হচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বার্ষিক বনভোজন। চলচ্চিত্রের রেকর্ড সংখ্যক তারকা এবং শিল্পীদের মহা সমাবেশ হচ্ছে আজ। দিনভর সেখানে নাচ, গান এবং খেলাধূলার আয়োজন থাকলেও জহির রায়হানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এক মিনিট নিরবতা পালন করার সময়ই যেন ছিল না কারও।

Picture

জহির রায়হানের চলচ্চিত্র জীবন

শুরুতেই জহির রায়হান সম্পর্কে একটু জেনে নিই। জহির রায়হান বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তার সাহিত্যিক ও সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। ১৯৫০ সালে তিনি যুগের আলো পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি খাপছাড়া, যান্ত্রিক, সিনেমা ইত্যাদি পত্রিকাতেও কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি সম্পাদক হিসেবে প্রবাহ পত্রিকায় যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ’ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। চলচ্চিত্র জগতে তার পদার্পণ ঘটে ১৯৫৭ সালে, জাগো হুয়া সাবেরা ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে।

তিনি সালাউদ্দীনের ছবি যে নদী মরুপথেও সহকারী হিসেবে কাজ করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম তাকে এ দেশ তোমার আমার এ কাজ করার আমন্ত্রণ জানান; জহির এ ছবির নামসঙ্গীত রচনা করেছিলেন। ১৯৬১ সালে তিনি রূপালী জগতে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন কখনো আসেনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।

১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সঙ্গম নির্মাণ করেন (উর্দু ভাষার ছবি) এবং পরের বছর তার প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র বাহানা মুক্তি দেন। জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক আমতলা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ভাষা আন্দোলন তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল, যার ছাপ দেখতে পাওয়া যায় তার বিখ্যাত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেওয়াতে। তিনি ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে অংশ নেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন। কলকাতায় তার নির্মিত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেওয়ার বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হয় এবং চলচ্চিটি দেখে সত্যজিত রায়, মৃণাল সেন, তপন সিনহা এবং ঋত্বিক ঘটক প্রমুখ ভূয়সী প্রশংসা করেন। সে সময়ে তিনি চরম অর্থনৈতিক দৈন্যের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও তার চল”িচত্র প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ তিনি মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করে দেন।

উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র

১৯৫৭ সালে ‘জাগো হুয়া সবেরা’ দিয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি নির্মাণ করেন উর্দুতে পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’। এরপর ‘বরফ গলা নদী’, ‘শেষ বিকালের মেয়ে’, ‘আর কত দিন’, ‘তৃষ্ণা’, ‘হাজার বছর ধরে’, ‘জীবন থেকে নেয়া, ‘কাঁচের দেয়াল’, ‘স্টপ জেনোসাইড’ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে মাইলফলক হিসেবে পরিচিত। পরিচালনার পাশাপাশি ছবি প্রযোজনাতে তাকে পাওয়া গেছে। তার প্রযোজনায় নির্মিত হয় মনের মতো বউ, জুলেখা, দুই ভাই, সংসার, শেষ পর্যন্ত এবং প্রতিশোধ।

জন্ম, অন্তর্ধান এবং মৃত্যু

জহির রায়হান ১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার অন্তর্গত মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তিনি তার পরিবারের সাথে কলকাতা হতে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) স্থানান্তরিত হন। তিনি ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে দু’বার বিয়ে করেন: ১৯৬১ সালে সুমিতা দেবীকে এবং ১৯৬৬ সালে তিনি সুচন্দাকে বিয়ে করেন, দুজনেই ছিলেন সে সময়কার বিখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।
জহির রায়হান দেশ স্বাধীন হবার পর ১৯৭১ এর ১৭ ডিসেম্বর ঢাকা ফিরে আসেন এবং তার নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে শুরু করেন, যিনি স্বাধীনতার ঠিক আগমুহূর্তে পাকিস্তানী আর্মির এদেশীয় দোসর আল বদর বাহিনী কর্তৃক অপহৃত হয়েছিলেন। জহির রায়হান ভাইয়ের সন্ধানে মীরপুরে যান এবং সেখান থেকে আর ফিরে আসেন নি। ১৯৭২ এর ৩০ জানুয়ারির পর তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়না। মীরপুর ছিল ঢাকা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত বিহারী অধ্যুষিত এলাকা এবং এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে সেদিন বিহারীরা ও ছদ্মবেশী পাকিস্তানী সৈন্যরা বাংলাদেশীদের ওপর গুলি চালালে তিনি নিহত হন।

(সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)