Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

প্রাপ্তি : এস ইবাদুল ইসলাম

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

সূর্যকে ভালোবাসি?
 হ্যা ভালোবাসি! জীবিকার জন্য
জোৎ¯œাকে ভালবাসি?
হ্যা ভালোবাসি!
 জীবন কে বাচিঁয়ে রাখতে।
 সূর্য তো প্রখর তাপে পূর্ন,
জোৎ¯œা কেমন শীতল, শান্ত
ফসল জন্মে সূর্যের তাপে।
মানব বেঁচে থাকার সাথে
জোৎ¯œার যোগাযোগ রয়েছে?
আছে তো ! আমাকে ভাবিয়ে তোলে।
সূর্য যখন চোখ বুজে বিশ্রামে যায়
জোৎ¯œা তখন নৃত্য করে
আলোর চোখ খোলে।
পৃথিবীর রুপ সেকি অনন্য
বাগান বিলাস ও শূন্য লতায়,
জোনকীরা আলোর পস্রা বসায়
আভাবী দূবর্ল ব্যক্তিটিও
জোৎ¯œাার আলোয় প্রান খুজে পায়।
নদীবক্ষে রুপালী ইলিশ
দলে দলে নৃত্য করে
জোৎ¯œার আলোক ¯œানে।
সূর্যের আলোয় সেই ইলিশ
প্রান হারায়।
এখানইে প্রকৃতির সৃষ্টির
প্রশ্ন থেকে যায়,
তবুও ভালবাসি প্রকৃতি
ভালবাসি সূর্যের তাপ
জোৎ¯œার হাসি ,
ভালবাসি তো আমি
এ অসিম প্রাপ্তি!!


রাজনীতি, গনতন্ত্র ও নির্বাচন প্রসংগে:এস ই ইসলাম

মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭

লেখক : এস ই ইসলাম : রাজনীতি, গনতন্ত্র,নির্বাচন এ তিনটি বিষয়ের গুরুত্ব ব্যপক। এখানে এ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কিছু অলোচনা করা হলো।
রাজনীতি  (চড়ষরঃরপং): রাজনীতি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত কোন গোষ্ঠী সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। মুলত নাগরিক সরকার বোঝানো হয়। এছাড়াও অনেক সামাজিক, ব্যবসায়িক, শিক্ষা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেখানে মানুষের মধ্যে পারস্পারিক সম্পর্ক বিদ্যমান। সেখানে রাজনীতি চর্চা করা হয়। রাষ্ট্র বিজ্ঞান হচ্ছে শিক্ষার এমন একটি শাখা যা রাজনৈতিক  আচরন শেখায় এবং ক্ষমতা গ্রহন ও ব্যবহারের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করে। ইতিহাসে খ্্্্ুজে পাওয়া যায় রাজনৈতিক চিন্তার প্লেটোর রিপাবলিক, এরিস্টটলের রাজনীতি এবং কনফু সিয়াসের কিছু লেখনিতে।
একটি রাজনৈতিক দল হচ্ছে লোকদের এমন একটি দল যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করা এবং ক্ষমতায় গিয়ে সরকার গঠন করার উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়।দলটি সমষ্ঠিগত কল্যান কিংবা তাদের সমর্থকদের চাহিদা অনুযায়ী কিছু প্রস্তাবিত নীতি মালা ও কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যমত পোষন করে। আর্ন্তজাতিক ভাবে রাজনৈতিক দলের পরিচয়ও পরিচালনা পদ্ধতিতে কিছু মিল থাকলেও অনেক ভিন্নতাও দেখা যায়। গনতান্ত্রিক দেশ গুলিতে নির্বাচক মন্ডলী সরকার পরিচালনার জন্য রাজনৈতিক দলসমুহ নির্বাচন করে। অনেক দেশেই বহুসংখক শক্তিশালী রাজনৈতিক দল থাকে, যেমন জার্মান ও ভারত। আবার কিছু দেশে এক দলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রচলিত আছে, যেমন চীন ও কিউবা। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক গুলো ছোট রাজনৈতিক দলের অংশ গ্রহনের সঙ্গেঁ দ্বিদলীয় রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রচলিত আছে।এদেশের সব চেয়ে শাক্তশালী  দুটি দল আছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও রিপাবলিকান পার্টি।
গনতন্ত্রের ধারনা : সাধারন অর্থে গনতন্ত্র হচ্ছে মুলত সংখ্যাগরিষ্ঠদের স¦ার্থে গঠিত ও পরিচালিত সরকার। এর অর্থ এই নয় যে গনতন্ত্র সংখ্যালঘুর মতামত ও স্বার্থকে উপেক্ষা করবে। বরং গনতন্ত্রে আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান। সুতরাং গনতন্ত্র বিশ শতকে একটি জনপ্রিয় ধারনা, যা বতর্মানে সরকার পরিচালনার সর্বশ্রেষ্ট ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আধুনিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান। প্রতিনিধিত্ব মূলক সরকার বলতে দলীয় সরকারই বোঝায়। রাজনৈতিক দল ব্যতীত গনতান্ত্রিক  রাষ্ট্রের কথা কল্পনাই করা যায়না। রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করেই জনমত গঠন,দলীয় আদর্শের প্রচার সমর্থক গোষ্ঠী  এবং রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে উঠে।
নির্বাচন: গনতন্ত্রেক একটি মৌলিক বিষয় হলো নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া গনতন্ত্র চিন্তা করা যায়না। গনতন্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যদে শাসন পরিচালনার জন্য নিবার্চনের বিকল্প নেই। রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন স্তরে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের জন্য নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে  অংশ গ্রহন করে ভোট দানের মাধ্যমে জনগন তার এই গনতন্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে। এজন্যই আমরা ও আশা করি বাংলাদেশের মত একটি গনতন্ত্রিক দেশেও একটি সুষ্ঠ ও সার্বজনিন গ্রহন যোগ্য নির্বাচন প্রয়োজন। তাই দৃষ্টি আকর্ষন করছি ঐ সকল দ্বায়িত্বে রত থাকা প্রতিষ্ঠান গুলোর প্রতি যারা তাদের উপর অর্পিত দ্বায়িত্ব যেন যথাযথ ভাবে পালন করেন। নাগরিক তাদের প্রতিনিধি নিবার্চনে সুষ্ঠ ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সাংবাদিক ও অন্যান্য নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিরা যেন তাদের প্রতি অর্পিত দ¦ায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন। ভোটকেন্দ্র যেন ভোটাদের জন্য নিরাপদ থাকে। এ বিষয়ে সরকার সহ সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি তারা তাদের দৃষ্টি ভঙ্গি যে কোন আবেগের বর্শিভুত হয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন না করেন যাতে দেশ ও দেশের জনগনের ভাবর্মুতি উন্নত বিশ্বের কাছে ক্ষুন্ন না হয়। তাই আমাদের দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার আবেদন, আপনারা অবশ্যই একত্রিত হয়ে আমাদেরকে একটি সুষ্ঠ নিবার্চনের পরিবেশ উপহার দিবেন।
পরিশেষে বলবো, ইতিহাসের পাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,হোসেন শহিদ সরওয়ার্দী, শের-ই বাংলা একে ফজলুর হক, মাওলানা অবদুল হামদি খান ভাষানী, রুশবেল্ট, চার্চিল, এদের কথা উল্লেখযোগ্য। তাদের কথা আজও স্মরণীয়। মরিয়াও তারা অমর হয়ে আছেন তাদের কর্মের মাঝে।


‘লন্ডন -লুটনের গল্প ‘ - নুরুল ইসলাম খলিফা

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৭

যুক্তরাজ্য ভ্রমনের বিষয়টি ফেসবুকে প্রকাশ করার শুরু থেকেই ফেসবুক বন্ধু লন্ডন প্রবাসী ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম সাহেব যোগাযোগ রাখছিলেন । ব্যক্তিগতভাবে তাকে আমি চিনতাম না , কিন্তু লন্ডনে দেখা হওয়ার পরে তিনি বলছিলেন যে, আমি যখন ইসলামী ব্যাংক বরিশাল শাখার ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলাম , তখন তিনি বরিশাল পলিটেকনিকে পড়াশুনা করছিলেন এবং ব্যাংকে তার আসা যাওয়া ছিল । সেই সুবাদে আমাকে তিনি চিনতেন । তার লেখা ‘নির্বাচিত কলাম ‘ বইটি পড়ে তাকে একজন বোদ্ধা লেখক ও সুপন্ডিত বলেই মনে হলো ।
দেখা হওয়ার পরথেকেই তিনি আমাকে কিছুটা সময় দিতে চাইলেন । শীত এবং শারিরীক অসুস্থতার জন্য দূরে কোথাও যাওয়ার আগ্রহী ছিলাম না , তাই কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসবো বললাম । নির্দিষ্ট দিনে তিনি লন্ডন থেকে চলে আসলেন লুটনে এবং লুটনের কাছেই একটি পাঁচ তারা হোটেল লুটন হু (Luton hoo ) দেখতে গেলাম । লুটন শহর থেকে লন্ডনস্ট্রীট ধরে মাইল তিনেক রাস্তা হবে হয়তো । আমরা আট দশ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেলাম । স্থানটি লুটন ও হারপেনডেন শহরের মাঝামাঝি । রেজাউল করিম সাহেবের সাথী জনাব বরকত উল্লাহ গাড়ী ড্রাইভ করছিলেন । ফাঁকে ফাঁকে গল্প করছিলাম আমরা তিন জন । প্রচন্ড শীতে যতক্ষন গাড়িতে থাকা যায় ততক্ষনই আরাম । গাড়ীর দরজা খুললেই শীত যেন ঝাপটে ধরে । লুটন শহরের কাছেই এমন একটি চমৎকার বাগান বাড়ি এবং তৎসন্নিহিত একটি অত্যাধুনিক পাঁচ তারা হোটেল আছে দেখে চমৎকৃত হলাম । ইতোপূর্বে এসে প্রায় মাস খানেক লুটনে থাকলেও এটা গোচরে আসেনি । খোঁজ খবর নিয়ে জানলাম এটি একটি ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ি । জনৈক স্যাকসন জমিদার ( Lord ) ডি হু পরিবারের মালিকানায় এ বাড়িটি ছিল প্রায় চার শ’ বছর । পরবর্তীতে হাত বদল হয়েছে অসংখ্যবার । বাড়িটি এর বাগান ও লেক সহ প্রায় ১২০০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত । এরই সামনের অংশে ২০০৭ সালের পয়লা অক্টোবর এই বিলাসবহুল হোটেলটি চালু হয় ।


সামনে চমৎকার সুসজ্জিত গার্ডেন ,ঝর্না ইত্যাদি । ফেব্রুয়ারীর এই কনকনে শীতে স্বাভাবিক ভাবেই গাছ গুলো পাতা শূন্য ; সামনের গার্ডেনটিও অনেকটা বিবর্ণ । কিন্তু বুঝতে অসুবিধা হয়না যে ,বসন্তের ছোঁয়া পাওয়ার সাথে সাথে কতটা মোহনীয় ও মাধুর্যমন্ডিত হয়ে ওঠবে এই গার্ডেন এবং পত্র পল্লবে পরিবেষ্টিত বাগানবাড়ি । আমরা হোটেলে সংক্ষিপ্ত লাঞ্চ সেরে নিলাম যেহেতু দুপুর প্রায় পার হয়ে যাচ্ছিল । হোটেল লবিতে বসে গল্পসল্প করছিলাম । হোটেলের গেষ্ট আসছে যাচ্ছে যা মাঝে মধ্যে দৃষ্টি আকর্ষন করছিল । এই বিষয়গুলো মাঝেমধ্যে আমার মনকে ভিন্নদিকে ঘুরিয়ে দেয় । যেমন খেয়া ঘাটে নৌকার জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের দেখে একই অনুভূতি জাগ্রত হয় । একদল এসে এপারে নামে , অপেক্ষমান লোকেরা আবার খেয়ায় ওঠে বসে । এপারে নেমে যাওয়া লোকেরা পথ ঘাট মাঠ-প্রান্তর পেরিয়ে তাদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায় । ধীরে ধীরে তাদের কন্ঠশব্দ মিলিয়ে যায় , হ্রস্ব হতে হতে মিলিয়ে যায় তাদের ছায়া । নিজ গন্তব্যের দিকে ধাবমান এই যাত্রীরা অদৃশ্যের আড়ালে হারিয়ে যায় - খেয়াঘাটে তাদের তেমন কোনো প্রভাব আর থাকে না । কিন্তু ইতোমধ্যে আবার নতুন যাত্রীরা এসে ঘাট সরগরম করে তুলে ; তারা ওপারের যাত্রী । তারাও ওপারে নেমে এমন করেই এগিয়ে যাবে তাদের গন্তব্যে । খেয়া ঘাটে তাদের ক্ষনিকের পদচারণা ছাড়া আর কোনো চিহ্ন থাকবে না । লুটনহুর লবিতে বসে বোর্ডারদের ব্যাগ-ব্যাগেজ নিয়ে বিদায় হওয়া , হোটেলের ওয়েটারদের স্যালুট দেয়া এবং ব্যাগ-ব্যাগেজ গাড়িতে তুলে দেয়া একই সাথে নতুন বোর্ডাদের আগমন , তাদের অভ্যর্থনা দেখে আমার কেবলই দুনিয়ার জীবনে আসা যাওয়ার কথা মনে হচ্ছিল । বিমানবন্দরে কিংবা রেল স্টেশনে অথবা বাস স্ট্যান্ডে ঠিক একই অনুভূতি সৃষ্টি হয় আমার ।
ভাবছিলাম এই ক্ষনিকের আসা যাওয়ার ষ্টপেজে আমাদের কতইনা দর্প-কতইনা অহংকার ! অন্যের ঘাড়ের উপর পা রেখে নিজেকে উপরে তোলার এক কুৎসিত প্রতিযোগিতা দেখে অবাক হয়ে যাই । এ ধরনের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থেকে জীবনের লক্ষ ভুলে যাই আমরা -ভুলে যাই নিজের অবস্থান । ভুলের ঘুর্নাবর্তে ঘুরপাক খেতে খেতে দেখি ওপারের খেয়া এসে গেছে । তখন হুঁশ হলেও লাভ নেই , কেননা পরপারের খেয়া এসে গেলে ওঠা না ওঠার কোনো স্বাধীনতা থাকে না । লুটন হু থেকে বের হয়ে আসতে আসতে এমন একটি ভাবনা আমার মনকে আচ্ছন্ন করছিল । রেজাউল করিম সাহেবকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ‘বাড়ির পাশের এই আরশী নগরের’ সন্ধান দেয়ার জন্য এবং আমার জন্য এতটা সময় ব্যয় করার জন্য । আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন !!


মিয়ানমারে ভবিষ্যত্ যুদ্ধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলো কি? নাদিরা মজুমদার

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৭

শান্তি কী, শান্তি কাকে বলে—ব্রিটিশ ও জাপানি উপনিবেশের অধীনস্থ বার্মা
বা মিয়ানমার কোনোদিন জানেনি। কমসে কম ১৩৫টি নৃতাত্ত্বিক দল নিয়ে গঠিত
মিয়ানমারীয় সমাজ মোজাইকের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তারা নিরন্তর বিবাদে
লিপ্ত। দশকের পর দশক ধরে সামরিক একনায়কত্ব দেশের বিরাট অংশে আপাত
প্রতীয়মান শৃঙ্খলা বজায় রাখে। মিয়ানমারীয়রা নিষ্ঠুর দমননীতি নামক মূল্যকে
মেনে নিতে বাধ্য হয়। অবশেষে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলের
ভিত্তিতে সেনাবাহিনী দেশের এক সাগর পরিমাণ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান
করতে অং সান সূ চি’র সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে রাজি হয়। বসবাসের জন্য,
রোহিঙ্গারা আরাকানের উত্তরাংশে (আধুনিক রাখাইনে) আসে ষোড়শ শতাব্দীতে।
ব্রিটিশ দখলদারির আমলে, কয়েকশ বছর আগে, বিশাল শ্রম-শক্তির অভিবাসন ঘটে।
এরা প্রায় সবাই মুসলমান, মিয়ানমারের সংখ্যাগরিষ্ঠরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
রোহিঙ্গাদের জন্মহার স্থানীয় আরাকানি বৌদ্ধদের চেয়ে বেশি। মিয়ানমারের
চৌহদ্দি ছাড়িয়ে সুদূর করাচিতে, আরাকানাবাদে রয়েছে আরো লাখ পাঁচেক
রোহিঙ্গা। সত্তর ও আশির দশকে এরা আফগান সরকার ও আফগানিস্তানে সোভিয়েতদের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশের জন্মের পূর্ব থেকেই মক্কা শরীফে রয়েছে
তিন লাখ রোহিঙ্গা শ্রম-শক্তি, পরিবার ছাড়া। প্রকৃতপক্ষে, রোহিঙ্গারা পৃথক
নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী নয়, সংখ্যালঘু।রোহিঙ্গা-ইস্যুর স্থায়ী সমাধানের
দৃঢ়সংকল্প নিয়ে সুচি কফি আনানের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন।
অজস্র প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সমস্যা সমাধানের সুপারিশসহ কমিটি একটি
রিপোর্ট তৈরি করে। এরপরে কী ঘটে সে প্রসঙ্গে আসার আগে সংক্ষেপে সু চি’র
পারিবারিক আবহের খবর নেওয়া যাক।

অং সান সু চি’কে পশ্চিম ‘গণতন্ত্রের আইকন’ হিসেবে প্রচার করে, তিনি
পশ্চিমের ‘ডার্লিং’য়ে পরিণত হন। যেমন : প্রেসিডেন্ট ওবামা দক্ষিণ এশিয়ায়
গেলেই সু চি’কে তার মিয়ানমারের বাড়িতে ‘হ্যালো’ না বলে দেশে ফিরে যেতেন
না। তবে সু চি’ সর্বাগ্রে খাঁটি জাতীয়তাবাদী। কোয়ালিশন সরকারে সু চি’র
পজিশন উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো মনে হলেও আসলে ক্ষমতার রত্ন-ভাণ্ডার
জেনারেলদের হাতেই থেকে যায়।সূ চি’র বাবা ‘থেকিন আউং সান’ ছিলেন বার্মা
ইনডিপেন্ডেন্স আর্মির (বিআইএ) স্বনামধন্য নেতা ও ‘জাতির পিতা’। বার্মা
ব্রিটেনের উপনিবেশ। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় বার্মাকে স্বাধীন করতে তিনি
রাজকীয় জাপানি সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়ে ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে গেরিলা
যুদ্ধ করেছিলেন।বার্মাকে নিয়ে ব্রিটিশ-জাপানি সংঘর্ষের দিনগুলোতে
নৃতাত্ত্বিক-বিবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৪২ সালে
জাপানি-বাহিনী রাখাইনে প্রবেশ করে এবং ব্রিটিশ রাজের (বর্তমানে
বাংলাদেশের) সীমান্তের কাছে ‘মংডু’ শহরে চলে আসে। ব্রিটিশ-বাহিনী
পশ্চাদপসরণ করে, ফলে রাখাইন তখন ‘ফ্রন্ট লাইন’ হয়। আরাকানের স্থানীয়
বৌদ্ধরা ‘বিআইএ’ ও জাপানিদের সঙ্গে সহযোগিতা করে, কিন্তু রোহিঙ্গারা
ব্রিটিশদের পক্ষে জাপানিদের (ও মিয়ানমারীয়দের) বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এটি
হলো ফ্যাসিস্ট-ইউফোবিয়ার ঝাপ্টায় মানুষ কেমন বোধশক্তি হারায় তার
ট্র্যাজিক উদাহরণ।বলাই বাহুল্য যে, ব্রিটিশ ও জাপানি, দুই বাহিনীই
নিজেদের সামরিক স্বার্থ হাসিলের জন্য স্থানীয় জনসমষ্টির বিদ্বেষ, সংঘর্ষ
ও সক্রিয় শত্রুতাকেই ইচ্ছামতো অপব্যবহার করে।জাপানের বিরুদ্ধে ব্রিটিশরা
বিজয়ী হয়, আলোচনার মাধ্যমে ‘থেকিন আউং সান’ বার্মার স্বাধীনতা অর্জন
করেন, কিন্তু ১৯৪৭ সালে তিনি নিহত হন, সু চি তখন দুই বছরের শিশু। সেই
১৯৪৭ থেকে বার্মা, পরে মিয়ানমার নামে পরিচিত দেশটিকে সেনাবাহিনীর
প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্যাকশনগুলো শাসন করে আসছে।সু চি ব্রিটিশ শিক্ষায়
শিক্ষিত, আশি ও নব্বইয়ের দশকে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঝগড়া করেছেন তিনি।
তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়, ‘পশ্চিমের’ শিক্ষিত সমাজ তাকে
‘মানবাধিকারের প্রগতিশীল রক্ষক’ বলে আখ্যায়িত করে। সু চি পশ্চিমের মাথার
‘তাজ’ এখন।

সু চি ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে স্বদেশের
প্রতিনিধিত্ব করেন। সরল, কাঁচা বলতে যা বোঝায় (ইংরেজিতে বোধহয় হবে: নাঈভ)
ঠিক সেভাবে তিনি তার দেশের জনসমষ্টির সমস্যাবলীর বিস্তারিত বর্ণনাসহ
কিভাবে, কী উপায়ে সেগুলোর দ্রুত সমাধান করতে চান তার ব্যাখ্যা দেন, এবং
সর্বাগ্রে যে রোহিঙ্গা-ইস্যুর হিল্লা করা হবে, তাও বলেন। অর্থাত্
ক্ষণিকের জন্য কাঁচামনের সু চি স্বপ্ন দেখেন যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ
সমস্যা সমাধানের উদ্যোগে অ্যাংলো-স্যাক্স মিত্রদের সহানুভূতি পাবেন। দেশে
ফিরে আসার পরে, সু চির আক্কেলগুড়ুম হয়, হাড়ে হাড়ে টের পান যে তার
প্রাক্তন মার্কিন মিত্ররাসহ পশ্চিম আসলে তার দেশের মিত্র নয়, শত্রু।
‘ফেইথ মুভমেন্ট’ তথা ব্রিটিশদের কল্যাণে নতুন নামকৃত “আরাকান রোহিঙ্গা
স্যালভেশন আর্মি” (অক্টোবর, ২০১৬) মংডু’র সীমান্ত পুলিশ ঘাঁটিতে
সন্ত্রাসী আক্রমণ চালায়, এবং অস্ত্রশস্ত্রের লুটপাট, কাস্টমস অফিসার ও
সৈন্যদের হত্যার ঘটনা ঘটে।কফি আনান ২৫ আগস্ট (২০১৭) যে রিপোর্টটি দেন,
তাতে প্রকৃত সমাধানের পরামর্শ/সুপারিশ রয়েছে। কিন্তু সেই দিনই
টার্বো-ক্ষিপ্রতার সঙ্গে “আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি” কয়েকটি
কমান্ডে বিভক্ত হয়ে সেনা-ব্যারাক ও পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায়। এ পর্যন্ত
যতগুলো সশস্ত্র হামলা পরিচালিত হয়েছে, সবসময় আফগান যুদ্ধে অভিজ্ঞ
আতাউল্লাহ্ আবু আমার জুনজুনির নাম শোনা যাচ্ছে। (আতাউল্লাহ্র জন্ম করাচির
রোহিঙ্গা পরিবারে)। মিয়ানমার সেনাবাহিনী জিহাদিদের সন্ত্রাস দমনে এক
সপ্তাহব্যাপী অভিযান চালায়। ফলস্বরূপ, তাদের পরিবাররা বাংলাদেশে পালিয়ে
আসে।পরবর্তী ঘটনা প্রবাহ সম্বন্ধে আমরা মোটামুটি জ্ঞাত। যেমন : সামরিক
অপারেশন স্থগিত হওয়ার পরেও উত্তর আরাকানে জ্বালাও-পোড়াও অব্যাহত থাকে,
এবং রোহিঙ্গারা দুর্গম পথ ঠেলে বাংলাদেশেই আসে। অথচ আক্রান্ত স্থানীয়
বৌদ্ধরা দেশের অভ্যন্তরে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। এবং আজগুবি মনে হলেও দক্ষিণ
আরাকানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা উদ্বাস্তু হয়নি। ‘পশ্চিমের’ মিডিয়া উদ্বাস্তু
রোহিঙ্গাদের প্রাধান্য দেয়, হাইলাইট করে।আটাশে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ সালে
ইসলামিক অর্গানাইজেশন অব কো-অপারেশনের অনুরোধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা
পরিষদের মিটিং ডাকা হয়। সেই মিটিংয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং সু চি’র
কয়েকজন মিত্র মিয়ানমারের কোয়ালিশন সরকারকে ‘গণহত্যা’র অভিযোগে অভিযুক্ত
করে। ইউরোপীয় আইনিবিধি অনুযায়ী বিপুল সংখ্যক মানুষের হত্যাকাণ্ডকে
‘গণহত্যা’ বলে চিহ্নিত করা হয়, অপরদিকে মার্কিন আইনবিধি অনুযায়ী
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত পদ্ধতি বা ‘মেথড’ গুরুত্বপূর্ণ, তাই অপরাধী যদি
একজনকেই মাত্র হত্যা করে তো নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন ছাড়াও ওয়াশিংটন
যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারে। যেমন: যুগোস্লাভিয়া। ‘গণহত্যা’ নামক অভিযোগে
অভিযুক্ত মিয়ানমারে ভবিষ্যত্ যুদ্ধের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হলো
কি?কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স ২০০৭ সালের ‘সাফ্রান
বিপ্লব বা রিভিউলেশন’র সময় (পূর্ব-ইউরোপের দেশগুলোর “কালার রেভিউলেশন”র
কথা মনে করিয়ে দেয়) একনায়কের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিরোধ সৃষ্টির জন্য
‘ডার্লিং’ সু চি এবং বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রতি অপরিমেয় ভক্তি-শ্রদ্ধা কি
প্রদর্শন করেনি? করেছে। তাহলে ২০১৭ সালে সহসা মিয়ানমারীয় সেনাবাহিনী,
এমনকি সু চি, এবং দেশের তাবত্ বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী ‘খারাপ লোক/ব্যাড গাইজ’ হয়ে
গেল! সু চি’র, সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতিশ্রুতির এবং জিহাদি
সন্ত্রাসীদের হামলার নিন্দা করা হোক— এর আবেদন কোথায় তলিয়ে গেল...২০১৩
সাল থেকে পশ্চিমের মিডিয়া সু চি ও মিয়ানমারকে অপছন্দ করতে থাকে। এই
সময়টায় আবার সিরিয়াতে বিভিন্ন নামে পরিচিত জিহাদিদের বিস্তার ঘটে।
কাকতালীয় কি? কে জানে! কিন্তু এই যে বিগত কয়েক বছর ধরে রাখাইনে সুসংহত
জিহাদি কমান্ডো আক্রমণ ঘটছে—কে বা কারা তাদের অর্থায়ন, ট্রেনিং, অস্ত্র
সজ্জিত করছে?তদুপরি আরাকান রাজ্যের ভূ-কৌশলগত গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায়
না। ভৌগোলিক সমস্থানিকতার কারণে, চীনের অভিনব সিল্ক-রোড ওরফে ‘বেল্ট এন্ড
রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এর ‘ইউনান পাইপলাইন’ রাখাইনের মধ্য দিয়ে যাবে
এবং বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত হবে,
গভীর-সমুদ্রের বন্দর, তেল গ্যাস, নৌ-পথের পাহারাদারিতে চীনাদের
ইলেকট্রনিক সার্ভেইলেন্স পোস্ট—সে এক এলাহী কর্মকাণ্ড। কিন্তু
‘বিআরআই’-য়ের বিরোধীদল তো রয়েছে, এবং সু চি বিআরআই-য়ের ‘মোহ’ ত্যাগ করতে
ব্যর্থ হয়েছেন।সু চি কি হতোদ্যম হবেন? না, হবেন কেন? নিশ্চয়ই আসল খাঁটি
বন্ধুর খোঁজ পাবেন, যারা মিয়ানমারকে নৈরাজ্যের ভারে অবনত হতে দেবে না।n
লেখক : প্রবাসী সাংবাদিক এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


আপ নেত্রীর ট্যুইট,‘গরু মা, কিন্তু পিরিয়ড হয় না’!

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৭

Picture

বর্তমানে স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর ১২ শতাংশ জিএসটি ধার্য করা হয়েছে।বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিরোধীদের পক্ষ থেকে স্যানিটারি ন্যাপকিনকে জিএসটি-র আওতার বাইরে রাখার দাবি জানানো হচ্ছে। তাঁদের যুক্তি, দাম বেশি হওয়ার কারণে গ্রামীন তথা দরিদ্র মহিলারা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে পারেন না। তাঁরা চিরাচরিত পদ্ধতির ব্যবহার করেন। এতে ওই মহিলাদের বিভিন্ন ধরনের অসুখের শিকার হতে হয়।

অসমের শিলচরের কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেবও স্যানিটারি ন্যাপকিনের ওপর থেকে কর তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন। এ ধরনের দাবির সূত্র ধরেই আপ নেত্রী মোদি সরকারকে নিশানা করেছেন। গত শুক্রবার জিএসটি-তে রদবদল করা হয়। অনেক সামগ্রীকে ২৮ শতাংশের তালিকা থেকে কমিয়ে ১৮ এবং ১৮ শতাংশের আওতায় থাকা অনেক সামগ্রীর জিএসটি ১২ শতাংশ করা হয়। কিন্তু স্যানিটারি ন্যাপকিনের ক্ষেত্রে জিএসটি হারের কোনও বদল করা হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে ট্যুইটের মাধ্যমে বিঁধেছেন অলকা।


সনেটের ভিন্নরুপ ভিন্নভাবে = জুলি রহমান

সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

নিয়মিত তোমরা যা করছো তা নিয়ে ভাবি আমি।
এই শহরের মাথাগুলো কিনেছো তোমরা চড়াদামে!
সুনামের ঝড় তাই  তোমাদের ভাগে
বাকীসব মস্তক বির্বণতার রুপ ভাবনা এমন?
কাকের পাখায় ঢাকেনা পৃথিবী ;সূর্যের প্রভা তাই সকলের।
বিটপী থেকে তৃণ পরিমান;সকলে সমান পায় রবির কিরণ।

মানুষ ও অমানুষে পার্থক্য কেমন ?
স্বীয় স্বার্থ মোহপাশ নিজের করে সুখ ভোগী যে জন?
শেকড়ে আগুন ঢেলে পাতায় পানি?
ধোঁয়াশার মগডালে থাকে না বীজের ফলন।
নিয়ম ভাঙার নিয়মে তোমরা বদনামী।
ঘোলা করো যত জল ;ইতিহাসে লিখা নাম
মুছবে কোন কালিতে?


মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতির নয়া অধ্যায় = আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করিয়ে খুশীর চোটে যে হাসি হাসতে ইসরাইলি নেতা বেঞ্জামিন এবং সৌদি রাজপরিবার যতো বড় হা করে মুখ খুলেছেন,ততোটুকু হাসি দিতে পারলেন কি না জানা যায়নি।তবে লেবানন,হিজবুল্লাহ্‌ এবং মিশর,ইরান ও রাশিয়া যে পরিস্থিতির উপর নিয়ন্ত্রণ লাভে প্রস্তুত হয়ে আছে,তা অনুমান করা সহজ।
লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন বলেছেন, তার দেশের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে সৌদি আরব অপহরণ করেছে।এখন তাকে অবশ্যই সেখান থেকে মুক্তি দিতে হবে।লেবাননের রাজধানী বৈরুতে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট আউন এ কথা বলেছেন এবং ১১নভেম্বর শনিবার দেশটির একজন সরকারি কর্মকর্তা বিষয়টি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট তার দেশের জনগণের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।বলেন, নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হচ্ছে দেশের রেড-লাইন এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগুলো রক্ষা করতে হবে।
পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি প্রতি সংহতি জানাতে রোববার দেশটির রাজধানী বৈরুতে ম্যারাথন দৌড়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।এ কথা জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন।রোববারের এ ম্যারাথন দৌড়ে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেবে বলে তিনি আশা করেন। প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, এর মাধ্যমে সাদ হারিরির দেশে ফেরার দাবির প্রতিও সংহতি প্রকাশ করা হবে।
লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহর মহাসচিব সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে আটক রেখে এবং তাকে পদত্যাগে বাধ্য করে সৌদি আরব লেবাননের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, লেবানন ও সৌদি আরবের মধ্যকার চলমান বিবাদ  মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।তিনি আরো বলেছেন, “যদি দু’দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়,তাহলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।”  নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের গুতেরেস বলেন, “আমরা সত্যিই অনেক বেশি চিন্তিত এবং আশাকরি পরিস্থিতির আর অবনতি দেখতে হবে না।মধ্যপ্রাচ্যে যাতে আর কোনো যুদ্ধ না হয়,তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির পদত্যাগের ঘটনায় লেবানন ও সৌদি আরবের মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা চলছে তখন জাতিসংঘ মহাসচিব এসব কথা বললেন।তিনি আরো বলেছেন, সৌদি আরব, লেবানন ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং সংঘাত কবলিত এ অঞ্চলে নতুন করে আর কোনো দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হতে দেয়া ঠিক হবে না।
হারিরির পদত্যাগের ঘটনায় লেবানন সরকার ও ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ সৌদি আরবকে দায়ী করছে। অন্যদিকে, পদত্যাগের সময় হারিরি অভিযোগ করেছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহ লেবাননসহ কয়েকটি আরব দেশে হস্তক্ষেপ করছে। এছাড়া, তার জীবনের শংকাও দেখা দিয়েছে।এসব অভিযোগ নাকচ করেছে হিজবুল্লাহ ও ইরান।
লেবাননের সঙ্গে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ালে সেখান থেকে ইসরাইলের দিকে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে আসবে বলে ধারণা করছে ইহুদিবাদী সামরিক বিশেষজ্ঞরা।আরবি দৈনিক 'রায় আল ইউম' এ খবর দিয়েছে।ইহুদি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও লিখেছে, সৌদি আরব লেবানন ইস্যুতে যুদ্ধের উন্মাদনা ছড়ালেও ইহুদিবাদী ইসরাইল সম্ভাব্য যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে ভাবছে।
রাই আল ইউম ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আরও জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কমান্ডাররা এখন এ আশঙ্কা করছেন,যুদ্ধ শুরু হলে লেবানন থেকে ইসরাইলের দিকে প্রতিদিন হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে আসবে।এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের গভীরেও আঘাত হানতে সক্ষম।
ইতিপূর্বে ইসরাইলের যুদ্ধমন্ত্রী এভিগডোর লিবারম্যান বলেছেন, হিজবুল্লাহ একটি বিশাল সেনাবাহিনীর মতো।ন্যাটোর কোনো কোনো সদস্য দেশেরও হিজবুল্লাহর মতো শক্তি-সামর্থ্য নেই।‌ইসরাইলি জঙ্গিবিমানগুলো আকাশসীমা লঙ্ঘন করে সব সময় দক্ষিণ লেবাননে টহল দিলেও হিজবুল্লাহ চুপচাপ থেকে দ্রুততার সাথে তার সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে বলে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সামরিক বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।  
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান পরোক্ষভাবে সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানকে উদ্দেশ করে বলেছেন, "সৌদি আরবের এ কর্মকর্তা ইসলামি চেতনাকে ধারণ করেন না।" ১০নভেম্বর শুক্রবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরো বলেছেন, 'উদারপন্থি' ইসলাম আর 'অনুদারপন্থি' ইসলাম মূল ইসলামকে দুর্বল করার জন্য পশ্চিমাদের সৃষ্টি করা একটি ধারণা।গত ২৪ অক্টোবর সৌদি রাজধানী রিয়াদে এক বিনিয়োগ সম্মেলনে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন, সৌদি আরবকে তিনি 'উদারপন্থি ইসলামে' ফিরিয়ে আনবেন।"
এ প্রসঙ্গে এরদোগান বলেন, "উদারপন্থি ইসলামের ধারণা পশ্চিমা দেশগুলো থেকে তৈরি হয়েছে।কিন্তু ইসলামে কোনো উদারপন্থি বা অনুদারপন্থি বলে কিছু নেই; ইসলাম একটাই। এ ধরনের পরিভাষা ইসলামকে দুর্বল করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এখন এই ধারণা যে ব্যক্তি উচ্চারণ করছেন মনে করছি তিনি নিজেই এই ধারণা বিশ্বাস করেন।কিন্তু আপনাকে জানতে হবে এটা আপনার বিষয় নয়।" এরদোগান এসব কথা বলেছেন তবে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের নাম উল্লেখ করেন নি।
সৌদি আরবে ইসলাম যদিও সরকারিভাবে অনুসৃত আদর্শ তবে দেশটির সরকার ওয়াহাবি মতবাদ নামে একটি আদর্শ প্রচারের জন্য আলেমদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। এই একই আদর্শ চর্চা করে তাকফিরি সন্ত্রাসীরা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় বর্বরতা চালাচ্ছে।
সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সৌদি আরব ও কাতারসহ কয়েকটি আরব দেশ সরাসরি অর্থ ও অস্ত্র সাহায্য দিয়েছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ইয়েমেনে এখনও সৌদি আরবের নেতৃত্বে আগ্রাসন চলছে। এ হামলায় সৌদি আরবকে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সিরিয়ায় দায়েশ বা আইএসের পেছনে আমেরিকা ও ইসরাইল রয়েছে বলে তথ্য-প্রমাণে জানা গেছে।ইসরাইল বহু আহত দায়েশ সন্ত্রাসীকে সেদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে।দায়েশ সন্ত্রাসীদেরকে চিকিৎসা করার ছবিও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে সিরিয়ায় দায়েশ পরাজিত হয়েছে এবং ইয়েমেনেও সৌদি আরব তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারে নি।এসব তৎপরতার ফলে কেবল মুসলমানরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।আর লাভবান হচ্ছে কেবল মুসলমানদের শত্রুরা।কোনো কোনো আরব দেশ যে অন্য মুসলিম দেশগুলোকে ধ্বংসের লক্ষ্যে কাজ করছে সে বিষয়টি এবার আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকেও বেরিয়ে এসেছে।
আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেছেন, উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের সঙ্গে আমেরিকার গোপন সমঝোতা রয়েছে এবং এ গোষ্ঠীকে মার্কিন সরকার আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিয়েছে।
তিনি বলেন, "আমার মতে আমেরিকার পূর্ণ উপস্থিতি, নজরদারি, সামরিক, রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতায় দায়েশের উত্থান ঘটেছে।"কাতারের আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলকে তিনি এসব কথা বলেছেন।
২০১৪ সালে ইরাক ও সিরিয়ার বিরাট অংশ দখল করে নেয়ার এক বছর পর  উগ্র এগোষ্ঠী আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তার শুরু করে।দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার প্রদেশে তাদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে এবং সেখানে বর্বর হামলা চালিয়েছে।হামিদ কারজাই বলেন, "গত দু বছর ধরে আফগানিস্তানের লোকজন এ সমস্যায় ভুগছে এবং এর বিরুদ্ধে কথা বলছে কিন্তু এ বিষয়ে কিছুই করা হয় নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়েশের দোহাই দিয়ে আফগানিস্তানে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্যাপক বোমা ফেলেন।"হামিদ কারজাই বলেন, আগামী দিনগুলোতে দায়েশ আফগানিস্তানের আরো এলাকা দখল করবে।  
এদিকে, হারিরির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, "সৌদি আরব সিদ্ধান্তে পৌছেছে যে, লেবাননের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহকে মোকাবেলায় নিজের অনিচ্ছা প্রকাশ করায় সাদ হারিরিকে আগেই ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর উচিত ছিল।"
ওই সূত্রটি আরো বলেছে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়ার আগে সাদ হারিরি সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন।তিনি বলেন, "ওই সব বৈঠকে যা ঘটে থাকতে পারে,সে ব্যাপারে আমার বিশ্বাস হলো, হারিরি সৌদি কর্মকর্তাদের একথা বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে গেলে লেবানন অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।আমার বিশ্বাস, সৌদি কর্মকর্তারা তার বক্তব্যে খুশি হতে পারেনি।
ফলে যা ঘটার তাই ঘটেছে।"গত ৪ নভেম্বর শনিবার সৌদি আরব সফরে গিয়ে টেলিভিশনে দেয়া ভাষণের মাধ্যমে সাদ হারিরি লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন এবং এখন সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন।এসময় তিনি লিখিত বক্তব্যে আকস্মিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে শুক্রবার সন্ধ্যায় হিজবুল্লাহ সমর্থকদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে হিজবুল্লাহ মহাসচিব একথা বলেছেন।ইমাম হোসেইন (আ)’র শাহাদাতের চেহলাম বার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া তার এ ভাষণ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, ফিউচার দলের প্রধান ৪৭ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরিকে সৌদি আরবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এবং তার সঙ্গে কাউকে যেতে দেয়া হয় নি। রিয়াদে যাওয়ার পর হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনার মধ্যদিয়ে সৌদি আরব লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মারাত্মকভাবে হস্তক্ষেপ করেছে। হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, হারিরি যে ভাষায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তা থেকে পরিষ্কার হয় যে, তাকে এসব বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং তাকে এখন গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।
হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, “হারিরি এখন সৌদি আরবে কারাবন্দী এবং নিজের দেশে ফিরতে পারছেন না। সৌদি আরব নিজের ইচ্ছা লেবানন সরকারের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। এখানকার বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনে মধ্যে বিভেদের বীজ বোনার চেষ্টা করছে রিয়াদ এবং একে অপরের মুখোমুখি কর দিতে চাইছে।”
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, “লেবাননে সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য সৌদি আরব ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এবং এ লক্ষ্য অর্জনে কোটি কোটি ডলার খরচ করতে প্রস্তুত রয়েছে। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধের অজুহাতে সৌদি আরব লেবাননকে ধ্বংস করতে চায়। এই সৌদি আরবই ছিল ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ-ইসরাইল যুদ্ধের প্রধান কারিগর।
হাসান নাসরুল্লাহ বলেন, সাদ হারিরিকে আটক রেখে তাকে অপমান করা হয়েছে এবং এঅপমান গোটা লেবাননের জনগণের জন্য অপমান।তাকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়েছে এবং এর কোনো মূল্য নেই। লেবাননের চলমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন চমৎকারভাবে দেশ সামলে নিচ্ছেন এবং তাকে কাজের ক্ষেত্রে সব দল ও মতের লোকজনকে সহযোগিতা করতে আহ্বান জানান হাসান নাসরুল্লাহ।
সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ শিগগিরি দেশ পরিচালনার ভার নিজের ছেলে যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের কাছে হস্তান্তর করবেন বলে খবর বের হয়েছে।যুবরাজ মুহাম্মাদ চলতি সপ্তাহে রাজপরিবারের বেশ কয়েকজন প্রিন্স ও বর্তমান এবং সাবেক মন্ত্রীকে দুর্নীতির দায়ে আটক করার পর এ খবর বের হলো।যুবরাজ মুহাম্মাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে; সাম্প্রতিক আটক অভিযানের মাধ্যমে সে পথ সহজ করা হয়েছে বলেও মনে করা হচ্ছে।১৯৩২ সালে সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটিতে রাজতন্ত্রের আদলে পারিবারিক স্বৈর-শাসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
গত মাসে অর্থাৎ ৫ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সৌদি রাজা সালমান মস্কোয় ক্রেমলিনে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন।বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈঠকে রাশিয়া ও সৌদি আরবের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা অংশ নিয়েছেন।বৈঠক শেষে পুতিন বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বিস্তারিত বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।ওপেক মিটিং হবার আগে এই তেল বিষয়ক ব্যবসায়িক আলোচনা শেষ করে নিয়েছেন পুটিন।তেলের উপর উভয় দেশের অর্থনীতি নির্ভরশীল থাকায় বাস্তবতাই তাদেরকে বৈঠকে টেনেছে।
অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে রাশিয়ার সাথে সৌদি রাজপরিবারের সম্পর্ককে কাছে টানার কাজটি হয়েছে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের মনোযোগে।মে মাসে রাশিয়া সফর করে রাশিয়ার ডাইরেক্ট ইনভেষ্টমেন্ট ফান্ডে ১০বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা বলে এসেছিলেন তিনি।এই দুইদেশ বহুদিন যাবত বিভিন্ন বিরোধে যুক্ত।সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থান সৌদির বিপরীতে।ইরান সিরিয়ার প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি জরুরী হয়ে গেছে।আমেরিকার সম্পুর্ণ সমর্থন পেয়েও সৌদি রাজপরিবার ইয়েমেন-সিরিয়ায় কড়া মার খেয়ে চলেছে।তাই রাশিয়াও পরিস্থিতির সুযোগটা নিয়েছে বলা যায়।
রাজা সালমান তার মস্কো সফরের মধ্যদিয়ে রুশ-সৌদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন গতির সূচনা হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।এটি সৌদি রাজার প্রথম সফর।আগেরদিন বুধবার রাতে দেড় হাজার সঙ্গী নিয়ে চারদিনের সফরে রাশিয়ায় পা রাখেন সৌদি রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদ।বিমান থেকে নামার সময় তিনি ব্যবহার করেন সোনার তৈরি চলন্ত সিঁড়ি।কিন্তু হুট করেই নষ্ট হয়ে যায় সেই সিঁড়ি।    
(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের  চেয়ারম্যান)।


স্মৃতি বেলায় - এস ইবাদুল ইসলাম

সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

বৃষ্টি ¯œাত শুপ্রভাত
পদ্ম দিঘির জল,
লাজুক, শালুক, দোলে।
শান্ত দিঘির জলে।
রাজহংস পাখনা মেলে খেলে
 গগনে জেগেছে রবি,
স্বোনালী আবির ঢেলে
এ এক অপূর্ব ভোরের ছবি।
ধানের শীষে লেগেছে দোল,
 প্রজাপতি উরে বেড়ায়,
মৌ মৌ ফসলের গ্রানে!
দিগবিদিগ দিশে হারা সন্ধ্যায়,
বিহঙ্গ ফিরে যায় আপন ঠিকানায়।
ডুবে থাকি আমি,
মুছে যাওয়া দিনের
স্মৃতির আঙ্গিনায়।
হিয়ার মাঝে জেগে আছে ওরা,
পুষ্পরাগে বিকশিত তারা।
উঁকি দিয়ে যায় মোর জানালায়,
সকাল বিকাল সাঁঝে!
স্মৃতির ভেলায় আমি ভেসে যাই,
হৃদয়ের অসীম অনুরাগে।

প্রকৃতিতে নামলো শীতের আমেজ
লেখক: এস ইবাদুল ইসলাম

শীতের শীতল পরশ নামলো প্রকৃতিতে। শীতল হাওয়া বইছে। কন-কন ঠান্ডা হাওয়া শুরুর সময় এসে গেছে। সত্তর দশকের একজন বাংলা ভাষী কবি লিখেছেন শীতকাল কবে আসবে সমপূর্ন ? জবাবে, এবার আমরা বলছি আগাম আসছে শীত। যদিও প্রকৃতিতে এখন হেমন্ত কাল। দিনের বেলায় গরম পরলেও রাতের শেষে  শীত পড়ছে। তবে তা এখনও তীব্র হয়নি। ষড় ঋতুর এদেশে একেকটি ঋতু আসে ভিন্ন ভিন্ন সাজে সেজে। তবে জলবায়ুর বিরাট পরিবর্তনের ধকলে ঋতুর কাল বদলে যাচ্ছে। এবার তো গ্রীষ্ম ও বর্ষা একাকার হয়ে গেছে। প্রকৃতির পালা বদলে বদলে যায় মানুষের জীবন ধারা। আর প্রকৃতিতে সাড়া জাগায়  তার পরিবর্তনে বদলে যায় সময়ের স্বাভাবিকতাও অস্বাভাবিকতায়। অনিবার্যভাবেই প্রকৃতিতে ঘটে কিছু পরির্বতন। শীতকালেই হেমন্তের ফসল কাটা শেষ হয়। নবান্নের সঙ্গে পিঠে পায়েসের আয়োজন হয়। এটা বাঙ্গালীর একটি অতি পরিচিত পর্ব।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে শীতের পিঠা বিক্রেতারা পিঠা বিক্রির পসরা সাজিয়ে বসেছে। শীত যেমন পিঠা পায়েস ওখেজুর গুর নতুন শাক-সবজির আমেজ নিয়ে আসে তেমনি তীব্র শীত প্রন্তিক মানুষের জীবন যাত্রাকে বিপন্ন করে তোলে। বিশেষ করে দারিদ্র জনের পর্যাপ্ত শীত ব¯্ররে অভাবে  দূর্ভোগের শিকার হয়। গৃহহীন, ছিন্নমুলেরা অসহনীয় কষ্টের শিকার হয়। এ সময় শীত জনিত নানা রোগ ব্যধির আক্রমন দেখা যায়, বিশেষ করে ঠান্ডা জনিত সমস্যা। শীতে অনেকের কাছে অনেক পছন্দের ঋতু। কাতির্কের মাঝামাঝি শীতের তীব্রতা বেশী থাকে। এসময় কুয়াশার চাদর বিছিয়ে ডেকে দেয় প্রকৃতিকে। শীতের প্রকপতা বাড়ে শত্য প্রবাহ বয়ে যায়। গুটি শুটি দিয়ে বসে থাকে ফুটপাতের মানুষ গুলো। লেপ তৈরীর ধুম পরে যায়। অর্থবান ব্যক্তিরা কিনে নতুন কম্বল ও শীতের বাহারী পোষাক। এই শীতে আমাদের দেশে সরকার সহ অর্থ বিত্তবান ব্যাক্তিরা শীতার্থদের শীতব¯্র ও কম¦ল বিতরন করেন। এর উপর নির্ভর করে দরিদ্রদের শীত কেটে যায়। দরিদ্র ব্যক্তিরা তো দেশে আছেই  এছাড়া এর সাথে যুক্ত হয়েছে মায়ানমারের বাস্তুচ্যুত দশ লাখ রোহিঙ্গা। যাদের জন্য শীত ব¯্র, কম্বল সাহায্য প্রদানের জন্য এখনই তৎপরতা হতে হবে সরকার সহ সাহায্য প্রদান দাতা সংস্থা গুলোও সাহায্য প্রদানে বন্ধু বৎসল রাষ্ট্র গুলোকে।

‘কিশোর কবি শুকান্ত-সুর্যের কাছে উত্তাপ চেয়ে ছিলেন।
রাস্তার ধারের উলঙ্গ ছেলেটির জন্য’।

তেমনি ভাবে আমাদের ও মানবিকতার উ¤েœষ ঘটাতে হবে। আর তখনই শীত ঋতু কষ্টের না হয়ে হবে  উৎসবের ঋতু। শীতের নবীন ফসলের সাজে ও শিউলি ফুলের সেত ও জাফরানী রং এর সাজে সেজে উঠুক আমাদের  মন। সৌরভ ছড়িয়ে যাক বাংলার সকল প্রন্তরে।
আর শীতের আগুনের উত্তাপ সতেজ করুক আমাদের দেহ মন। সকালের শিশির বিন্দু ভরা ঘাস সুর্যের আলোয় উত্তাপিত হোক। দিগন্তে ভরে উঠুক হলদে রং এর শরিষার ক্ষেত্রের মনোরম শোভা নিয়ে, গাধা ফুলের রং এ রঙ্গিন হোক বিয়ে বাড়ির প্রঙ্গন। শীত আসুক আর্শীবাদ নিয়ে জীবন গতিকে গতিশীল করে ভরে উঠুক প্রাণ নির্মল সতেজতায়।


নারীর ওপর সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতন প্রসঙ্গে : এস ইবাদুল ইসলাম

সোমবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৭

নারীর ওপর সহিংসতা বা নির্যাতনের বিষয়টি নানাভাবে আলোচনায় এলেও মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি অনেকটাই আড়ালে থেকে যায়। বেশির ভাগ ভুক্তভোগী-নারীই জানেনা যে এই নির্যাতনের বিষয়ে যে আইন সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের নারীদের ওপর মানসিক নির্যাতনের সবচেয়ে বেশী ঘটনা ঘটেছে তার স্বামীর ঘরে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান (বিবিএস) প্রথম বারের মতো নারী নির্যাতন নিয়ে করা ভায়োলেন্স অ্যগেইনস্ট উইমেন (ডি এ ডব্লিউ) সার্ভে ২০১১ শীর্ষক জরিপ অনুযায়ী বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই স্বামীর মাধ্যমে কোন না কোন সময়ে, কোন না কোন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮২ শতাংশই মানসিক নির্যাতনের শিকার। কোন ধরনের নির্যাতন কোথায় হয়, এ প্রশ্নের উত্তরে অধিকাংশ নারীই স্বামীর ঘরে মানসিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ্য করেন। নারী নির্যাতন নিয়ে বিবিএস প্রথম জরিপ প্রকাশ করে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। এরপর ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন (ডি এ ডব্লিউ) সার্ভে ২০১৫ সালের শীর্ষক নতুন জরিপ সম্পন্ন করেছে বি বি এস। এ জরিপের ফলাফল আনুষ্টানিক ভাবে প্রকাশের অপেক্ষায় আছে।
অন্যদিকে, ২০১০ সালের পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইনে অন্যান্য নির্যাতনের পাশপাশি মানসিক নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে। তবে এ আইনের আওতায় মানসিক নির্যাতনের জন্য আইনি সহায়তা চেয়ে মামলার সংখ্যা হাতে ঘোনা বিগত ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাষ্ট (ব্লাস্ট) পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইনের আওতায় করা ৮০ টি মামলায় ভুক্তভুগী ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেয়। এর মধ্যে ৩২ টি মামলা বিশ্লেষন করেন ব্লাষ্টের গবেষক মুহসিন হোসেন। এতে দেখা যায় ৩২ টির মধ্যে কেবল তিনটিতে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি এবং আইনের সঙ্গেঁ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন দেশের নারীদের বেশীর ভাগই শারীরিক ও অর্থনৈতিক সহ অন্যান্য নির্যাতনকেই অপরাধ মনে করেন। মানসিক নির্যাতন ও যে অপরাধ এবং এই বিষয়ে আইন আছে সেটাও অনেকে জানেনা।
আবার মানসিক নির্যাতন পরিমাপ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার ফলে ও আইনের ব্যবহার কম হচ্ছে। পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে পরিবারের অন্য কোনো নারী বা শিশু সদস্য শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন অথবা আর্থিক ক্ষতির শিকার হলে একে পারিবারিক সহিংসতা বোঝানো হয়েছে। মৌখিক নির্যাতন, অপমান, অবজ্ঞা ভয় দেখানো বা এমন কোন উক্তি করা যার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত ব্যক্তি মানসিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাকে মানসিক সহিংসতা অর্থে বোঝানো হয়েছে। এছাড়া হয়রানি ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ অর্থাৎ স্বাভাবিক চলাচল, যোগাযোগ বা ব্যক্তির ইচ্ছা বা মতামত প্রকাশে বাধা দেওয়ায় ও এ নির্যাতনের অর্ন্তভুক্ত আইনে সংক্ষিপ্ত ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি হলে বা ক্ষতির আশংকা থাকলে আদালতের কাছে ক্ষতি পুরনের জন্য আবেদন করার ব্যবস্থা বিধান রাখা হয়েছে।
যদিও এ আইনটি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারনা এখনো কম। আইনের ব্যবহারটা ততোটাই বাড়ানো যাইনি। শিক্ষিত নারীরা মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি বোঝতে পারলেও বিভিন্ন কারনে আইনি সহায়তা নিতে চান না। এর কারন হিসাবে রাজধানীর মিরপুরে বসবাস কারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ¯œাতকোত্তর পাশ এক নারী বলেন। স্বামীর টাকা আছে তবে পড়াশোনায় আমার থেকে কম। তাই স্বামী আমাকে চাকুরী দিতে চায়নি। সারাক্ষণ আমাকে সন্দেহ করে তবে সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে সব কিছু সহ্য করে যাচ্ছি।



তুমি শুধু আমার
 লেখক: এস ই ইসলাম    

তুমি নদী হয়ে এসো,
আমার নয়ন তাঁরায় বসো।
আমি তোমারই-তোমারই,
তুমি শুধু আমারই।
যখন তখন আমার প্রাণে
দুলা দিয়ে যাও আনমনে,
তোমার চলার শব্দের প্রতিধ্বনি,
শুনতে পাই দিবা রজনী
তোমার চুলের সুবাসে,
ফিরে পাই সেই প্রভাতের
স্পর্শ খানি ¯œান শেষের ।
তুমি শুধুই আমারই।
নদী তুমি স্বপ্ন হয়ে এসো,
আমার নয়ন তাঁরায় বসো।
মুক্ত ঝরা হাসির বদন,
ব্যাকুল করে আমায় যখন।
আমি তখন ভাবি।
তুমি শুধুই আমারই,
হাতটি বাড়িয়ে  ছুয়েঁ দেখবো যখন
অনেক যতনে ঘুম পাড়িয়ে দিবো তখন,
কপোল চুমে বলবো আমি।
নদী তুমি শুধু আমারই,
আমি তোমাই তোমারই।
বেলী ও বকুল ফুলের মালাটিও,
 পরাবো তোমার গলে।
রংধনুর সাত রং নাচিবে,
কেবল প্রজাপতি হয়ে।
নদী তুমি শুধু আমারই।


‘হুজুর, আবার কীয়ের ইশটুডেন্ট’

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর ২০১৭

আর হুজুর মানেই পাড়াগাঁয়ের মসজিদের ইমাম, নামাজ পড়ায়, মানুষের বাড়িতে বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে বেড়ায়, এই তো।

জানে না কিচ্ছু । কোন জ্ঞান গরিমা নাই, কুয়োর মধ্যে থাকে।

রাজাকার, দেশ বিরোধী। জঙ্গি। ধর্মে উন্মত্ত।

এরা কেবল ধর্ম-কম্ম নিয়েই থাকবে। বাদবাকি আর যা কিছু আছে, তাঁর সব অন্যদের জন্যে।

এই ব্যাপারটা ঠিক ছেলেবেলা থেকেই দেখে আসছি।

বাসের হেল্পার , “এই হুজুর, ভাড়াটা দেন”। “স্টুডেন্ট” বলতে চাইলে, “হুজুর, আবার কীয়ের ইশটুডেন্ট”।

এ তো গেল বাসের হেল্পার। তারপর আমি ক্রমশ সমাজের উপরের দিকে উঠব, ঠিক একই বক্তব্য পাব। ঘুরেফিরে।

আমি একটা জাতীয় দৈনিকের ফিচারে লিখি, বিভাগীয় সম্পাদক আমাকে দেখেই বলেছিলেন, “আপনাকে দেখেই ভয় পেয়ে গেছিলাম”।

হু, ভয়ের পরে জয়, তারপর আমি দিব্যি ফিচার করে যাচ্ছি ভাইয়ের পাতায়।

Picture

একটা অনলাইন নিউজ পোর্টালে কাজ করতাম, তাঁদের হয়ে এক মস্ত বাম নেত্রীর সাক্ষাৎকার নেব। আমার কথা বলে তারপর সম্পাদক বললেন, “আপা, ও একটু জুব্বা জাব্বা পরা, ভয় পায়েন না”। তারপর অবশ্য একটু লাজুক হয়ে আমাকে বললেন, “মানুষের ধারনা তো পালটায়নি, কী করবো, বলো!”

ক্লাসে, আমার মত করে কিছু করতে চাইলেই সহপাঠীরা প্রথমেই মনে করিয়ে দেয়, “এই তুই না হুজুর!”। এদের প্রায় প্রত্যেকেই আমার নাম ভুলে গিয়েছে। তাঁদের কাছে আমার নাম; হুজুর। আমার পিতৃপ্রদত্ত নামে আর ওরা ডাকে না আমাকে।

একবার জগন্নাথ হলে আমার এক বন্ধু, ওরও আমার মতই পোশাক, ঢুকতে গেলে দারোয়ান বাধা দিচ্ছিল, আর সবাই দিব্যি ঢুকছে তখন। ওকেই বাধা দিয়েছে, “হুজুর” বলে।

বইমেলায় আমি আর আমার দুই বন্ধু ঢুকছিলাম, পুলিশটা আমাকে দেখিয়ে বলল, “এই হুজুরটারে ভাল কইরা চেক কর”। আমার বন্ধুরা সেইবেলা পুলিশের দিকে তেড়ে গিয়েছিল, আমি অভ্যস্ত বলে মুচকি হাসছিলাম।

আমার প্রতিটা কাজেই আমাকে প্রথমেই একটা ক্যাটাগরিতে ফেলে দেওয়া হয়, আমার যোগ্যতা বিচারের আগেই। “হুজুর”।

বেশ অনেক আগে একদিন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে ঢুকলাম, কী একটা অনুষ্ঠান হচ্ছিল। বেশ ৪/৫ জন পুলিশ আমাকে ঘিরে ধরে পরিচয় জানতে চাইল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বলাতে তাঁদের আশাভঙ্গ হতে দেখেছি, নতুবা হয়ত ধরেও নিয়ে যেত। কেবল এই পোশাক বলেই।

এই পাঞ্জাবি, পাজামা এসব আমার নিজস্বতা। এ দেশে এটা ধর্মীয় পোশাকের মর্যাদা পেলেও ধর্মের কোনো নিজস্ব পোশাক বলে দেওয়া নেই। তবু সবাই ধরেই নিয়েছে এটাকে “ধর্ম” বলে। আর যদি ধর্ম হয়ও বা, তাতেও তো আপনি কাউকে তাকে মাপার আগেই বিচার করে ফেলতে পারেন না!

সাংবাদিকতায় পড়ি। টিভি সাংবাদিকতা করতেই চাইবো। আমার সেখানেও হয়ত বাদ পড়ে যেতে হবে, “হুজুর” বলে।

আমি জানি না।

মজার ব্যাপার হলো, আমাকে জাজ করবার পরও আমি যাদের সাথে মিশেছি কিংবা যারা আমার সাথে, সবাই নিজের ধারণাকে পালটেছে। আমাতে মুগ্ধতা এসেছে কমবেশি।

আপনিও, বিচার করা বাদ দিয়ে মিশেন এসব টুপি পাঞ্জাবিওয়ালার সাথে। ধারণা বদলাবেই। আপনি-ই তো পরিবর্তন। আপনাতেই তো পরিবর্তন।

মীর হুযাইফা আল মামদূহ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিতেই জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর ২০১৭

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলার ইতিহাসে ঘটে আরেকটি নির্মম ঘটনা। ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালনকারী বঙ্গবন্ধুর চার সহকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এ এইচ এম কামরুজ্জামান এবং ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলীকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। ইতিহাসের এই নিষ্ঠুরতম হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়েছিল গোটা বিশ্ব। সেই ভয়াল সময়, নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও শহীদ পিতা এম মনসুর আলীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তার ছেলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ভোরের কাগজের সিনিয়র রিপোর্টার ঝর্ণা মনি ও স্টাফ রিপোর্টার মুহাম্মদ রুহুল আমিন

ভোরের কাগজ : কলঙ্কিত জেল হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দুঃসংবাদ আপনারা কখন, কীভাবে পেলেন?
মোহাম্মদ নাসিম : জাতির জন্য জেলহত্যা দিবস আর আমাদের পরিবারের জন্য শোকের মাস। অবশ্য এর আগে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট আমরা স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবাইকে হারাই। শুধু বিদেশ থাকায় প্রাণে বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। স্বাধীনতাযুদ্ধে সফল নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতাকে ১৯৭৫-এর ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুর আজীবন সহচর বাবা মৃত্যুতেও সহচর হলেন, সঙ্গে জাতীয় তিন নেতাও। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনি মোশতাক নানা রকম প্রলোভন দেখিয়ে আমার বাবাকে পাশে পেতে চেষ্টা করে; কিন্তু পাশে পায়নি। পরে নানারকম হুমকি দেখানো হয়।

সেই হুমকিতেও আমার বাবা মাথা নত করেননি। বেঈমান মোশতাক জানতো আসামির কাঠগড়ায় তাকে দাঁড়াতেই হবে। কারণ খুনি মোশতাক ও জিয়া ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। যে কারণে বন্দি অবস্থায় স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই জাতীয় চার নেতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। বন্দি অবস্থায় হত্যা ও শারীরিক নির্যাতন ইতিহাসে বিরল। বাবার মৃত্যুর সময় আমি আত্মগোপনে ছিলাম। কারণ আমার নামে হুলিয়া জারি করা হয়েছিল। বারবার আমাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। আত্মগোপনে থেকেই আমি বাবাসহ জাতীয় চার নেতা হত্যার খবরাখবর পেয়েছি। এটা কতটা কষ্টের, কতটা নির্মম, কতটা নিষ্ঠুর- এটা কখনো কাউকে বুঝাতে পারব না।

একদিকে আমি আত্মগোপনে, অন্যদিকে সব মিলিয়ে থমথমে পরিস্থিতি- কারো সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছিলাম না। জেল কর্তৃপক্ষ কবে, কখন, কার কাছে লাশ হস্তান্তর করবে- কিছুই জানতে পারছিলাম না। পরে জানতে পারলাম, চার নেতাকে হত্যার পর যেহেতু তাদের লাশ পরিবারকে দেয়া হয়নি, সেহেতু কারাগারেই একদিন ফেলে রাখা হয়েছিল। পরে সেনা প্রহরায় লাশ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। বাবা মারা যাওয়ার সময় তার মুখখানি শেষ বারের মতো দেখতে পারিনি আমি। মোশতাক-জিয়ার ভয়ে দেশের বাইরে পলাতক ছিলাম। তবুও মৃত্যুর হুলিয়া মাথায় নিয়ে দেশে ফিরতে চেয়েছি কিন্তু আমার মা, ভাইয়েরা ফিরতে দেননি। তারা চাননি, বাবার মতো আমারও নির্মম মৃত্যু হোক।

ভোরের কাগজ : কবে এবং কীভাবে আপনার বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়?
মোহাম্মদ নাসিম : পবিত্র শবেবরাতের রাতে হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে তাকে প্রথমে রমনা পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং পরে সেন্ট্রাল জেলে নেয়া হয়। এ সময় জাতীয় নেতা হিসেবে তার প্রতি সামান্য সৌজন্যবোধও দেখায়নি। সাধারণ বন্দিদের মতোই আচরণ করা হয়েছিল। বন্দি অবস্থায় কেন্দ্রীয় কারাগারে তার সঙ্গে আমার মা একবার কি দুইবার দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

ভোরের কাগজ : জেল হত্যাকাণ্ডের পর আপনাদের পরিবারের অবস্থা কেমন হয়েছিল?
মোহাম্মদ নাসিম : রাজনৈতিক জীবনে আমার বাবা বঙ্গবন্ধুর মতোই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। সারা জীবন দেশের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তাই তার মৃত্যুর পর আমরা অস্বাভাবিক রকমের অভাব-অনটনে পড়ে যাই। আমাদের ঢাকায় থাকার কোনো জায়গা ছিল না। সরকারি বাসভবন ছাড়ার পর ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় থাকতাম। পরে কাঁঠালবাগানের সেন্ট্রাল রোডে এক ভাড়া বাড়িতে উঠি। বড় ভাই লন্ডন থেকে কিছু টাকা পাঠাতেন, তা দিয়েই আমাদের সংসার চলত।

ভোরের কাগজ : ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের সময় আপনার বাবা দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ওই রাতে আপনি তার পাশে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে অধীনস্থদের ওপর আপনার বাবার কী নির্দেশ ছিল তখন?
মোহাম্মদ নাসিম : ১৫ আগস্টের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি বাবার সঙ্গেই ছিলাম। রাতে শুধু একটু সময়ের জন্য মণি (শেখ ফজলুল হক মণি) ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাই। ভোর রাতে যখন খবর পেলাম তখন দেখেছি কী উদ্বেগ ও প্রচণ্ড বেদনা নিয়ে একদিকে বঙ্গবন্ধুকে হারানোর কথা মনে করছেন, অন্যদিকে প্রতিশোধ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার অদ্যম ইচ্ছে নিয়ে দলীয় সহকর্মী এবং তদানীন্তন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন।

শুধু তাই নয়, পরবর্তী সময়ে আত্মগোপন অবস্থায়ও চেষ্টা করেছেন নানাভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য। কিন্তু কিছু সহকর্মীর ভীরুতা, আপসহীনতা এবং জীবন রক্ষার প্রাণান্ত চেষ্টা, অন্যদিকে তখনকার সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা, চরম কাপুরুষতায় জাতীয় চার নেতা ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং হতাশ হয়েছিলেন। কিছু করতে না পারার বেদনা এবং অশ্রুসিক্ত চেহারা আমি দেখেছিলাম। কিন্তু একটা জিনিস ধ্রুবতারার মতো ছিল সত্য, তারা জীবন দেবেন, কিন্তু মোশতাকের সঙ্গে হাত মেলাবেন না। তারা তাদের কথা রেখেছেন। জাতীয় চার নেতা আপস করেননি, আত্মসমর্পণ করেননি, জীবনের ভয়ে মাথানত করেননি, ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে বন্দি অবস্থায় ঘাতকের হাতে জীবন দিয়েছেন।

জাতীয় চার নেতা জীবনেও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন, মরণেও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। আমার বাবা তার পরিবারের বাইরে প্রতিটি মুহূর্তে বঙ্গবন্ধুর কথা ভাবতেন, বঙ্গবন্ধুর কথা বলতেন। বঙ্গবন্ধু ছাড়া যেন তার কোনো অস্তিত্ব ছিল না। মাঝে মাঝে আমার মনে হতো তিনি যেন আমাদের চাইতে বঙ্গবন্ধুকে বেশি ভালোবাসতেন। তিনি যখন রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছেন সেই মুহূর্ত থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু ছাড়া তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোনো কিছু করারই চিন্তা করতেন না।

ভোরের কাগজ : ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক গুণ কী ছিল বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ নাসিম : তার সবচেয়ে বড় গুণ একনিষ্ঠতা। আমি তার সন্তান হিসেবে দেখেছি ৬ দফা আন্দোলনে যখন বঙ্গবন্ধুর অনেক সহকর্মী তাকে ত্যাগ করে চলে গেছেন, কারাবন্দি অবস্থা থেকেও আমার পিতা এম মনসুর আলী শত প্রলোভন ও চাপের মুখেও তখনকার পিডিএমপন্থী আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান খান, সালাম খানদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অথচ দীর্ঘ কারাজীবন ভোগ করেছেন। কিন্তু নেতা শেখ মুজিবের সঙ্গে বেইমানি করেননি। আমার পিতার দৃঢ় অভিব্যক্তি মনোভাবকে দেখেছি তখন আমি। ১৯৬৬-৬৭ সালে যখন বাবা পাবনা কারাগারে বন্দি ছিলেন, আমিও ছাত্রাবস্থায় পিতার সঙ্গে সে মুহূর্তে একই কারাগারে আটক ছিলাম।

দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, সংগ্রাম শেষে যখন একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি তখন আমার বাবাসহ জাতীয় চার নেতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে মুজিবনগর সরকার গঠন করে মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব দেন। সেই বিরল মুহূর্তগুলো দেখার বা জানার আমার সুযোগ হয়েছে। আমি দেখেছি সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে বাবা কী দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ মনোভাব নিয়ে স্বাধীনতার বিজয় এবং জীবিত বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করার জন্য অন্য তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কাজ করে গেছেন। খন্দকার মোশতাকের মতো একজন সুযোগ সন্ধানী বিশ্বাসঘাতক ওই প্রবাসী মুজিবনগর সরকারের মুহূর্তেও চেষ্টা করেছে এই চারজনের মধ্যে ফাটল ধরাবার জন্য এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে আপস করার নানা প্রলোভনের জাল বিস্তার করে মুজিবনগর নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করার। কিন্তু একটি বিপজ্জনক এবং জাতির যুগসন্ধিক্ষণে এম মনসুর আলী অন্য তিন নেতার সঙ্গে থেকে সব ভয়-ভীতি, অনিশ্চয়তা ও প্রলোভন উপেক্ষা করে মুক্তিযুদ্ধকে সফল করেছেন।

সফেদ-সাদা-পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে আমার অত্যন্ত সাধারণ জীবন-যাপনের মধ্য দিয়ে মুজিবনগরের রণাঙ্গনে ছুটে বেড়িয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থেকেছেন, সাহস দিয়েছেন। প্রবাসী সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে শত শত তার দলীয় সহকর্মী, দেশ থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার কর্মীকে আর্থিক সাহায্য করার চেষ্টা করেছেন। আমি দেখেছি হাজারো অনিশ্চয়তা ও অমানিশা অন্ধকারের মধ্যেও সাধারণ বাঙালির চেয়ে দীর্ঘদেহী আমার পিতার উজ্জ্বল প্রত্যয়ী মুখচ্ছবি। তিনি সর্বদা বলতেন, ‘জীবিত বঙ্গবন্ধুকে আমরা ইনশাল্লাহ মুক্ত করব।’ আসলে জাতীয় চার নেতার নেতৃত্বে মুজিবনগরে যে মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব সংগঠিত হয়েছিল তা নিয়ে একটি মহাকাব্য রচনা করা যেতে পারে।

একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা, চট্টগ্রাম ও খুলনা পোর্ট পুনরায় চালু করে কার্যকর বন্দরে পরিণত করা, সর্বোপরি এক নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্বাধীনতাবিরোধী এবং তথাকথিত হটকারী বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রী নামধারীদের অপতৎপরতা রোধ করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবু তিনি সেসবের মোকাবেলা করেছেন।

ভোরের কাগজ : জেলহত্যার বিচারের রায় কার্যকরে আপনি ও আপনার পরিবার সন্তুষ্ট?
মোহাম্মদ নাসিম : কতটা ভয়ঙ্কর ছিল সেই বেইমানরা। কারাগারের মধ্যেও মানুষকে হত্যা করেছে। আজকের প্রজন্ম এ কথা জানলে বিশ্বাসই করতে চাইবে না। আজকাল অনেকের মুখেই শুনি আইনের শাসনের কথা। ছোট কোনো ঘটনাতেও হুমড়ি খেয়ে পড়ে আইন ব্যবস্থার সমালোচনা করতে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, কোথায় ছিল সেই আইন, কোথায় ছিল মানবতা যেদিন এতটা নির্মমভাবে রাতের অন্ধকারে বাবাসহ চার নেতাকে খুন করা হয়েছিল।

যেদিন বঙ্গবন্ধুসহ পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না এলে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডর বিচার হতো না। পাহাড়সম বাধা দূর করে এবং নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার করেছেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর নানা অজুহাতে জাতীয় চার নেতা হত্যা মামলা ঝুলিয়ে রেখে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আপিলের মাধ্যমে আমরা এ মামলার বিচারের রায় পেয়েছি। এ জন্য বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে অন্তর থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

ভোরের কাগজ : আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় অহঙ্কার কী বলে আপনি মনে করেন?
মোহাম্মদ নাসিম : ১৯৮০ সালে আমি কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলাম। যে কক্ষে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল, সেই কক্ষেই আমি বন্দি ছিলাম। চার নেতার রক্তের দাগ এখনো মুছেনি। আমার বাবার শেষ নিঃশ্বাসের উত্তাপ আমি এখনো পাই। বাবার মুখ শেষবারের মতো দেখতে পারিনি। বাবার মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ না পেলেও দুঃখ নেই। আমি তখন রাজনীতি করতাম। আমাকে পেলে তখন মেরে ফেলা হতো। কিন্তু আমি গর্ব ও অহঙ্কারের সঙ্গে বলতে পারি, আমি মোশতাকের মতো বেইমানের সন্তান নই। আমার পিতা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেননি। যখনই আমি কোনো কাজ করি, চিন্তা করি সে সময় আমার চিন্তা-চেতনায় সব সময় আমার বাবার স্পর্শ- আবেগ অনুভব করি।

যিনি আমার গর্বিত পিতা এবং সব সময় সব মুহূর্তে আদর্শিক নেতা। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ ও আমার জীবনের বড় পরিচয় আমার বাবা শহীদ এম মনসুর আলী। এটিই আমার অহঙ্কার। আমার শহীদ পিতার এই আদর্শ ধরেই আমি কাজ করছি, কাজ করে যাব।

ভোরের কাগজ : জাতি আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে মহান স্বাধীনতার চার বীর সেনানীকে। ৩ নভেম্বরে নতুন প্রজন্মের প্রতি আপনার কী আহ্বান থাকবে?
মোহাম্মদ নাসিম : জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের পরেই চার মৃত্যুঞ্জয়ী নেতার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে চিরদিন। যারা জীবন দিয়েছেন কিন্তু জাতির জনকের সঙ্গে বেইমানি করেননি। নেতা বা নেতার আদর্শের সঙ্গে বেইমানি নয়, বিশ্বাসঘাতকতা নয়, কোনো আপসকামিতা নয়। ৩ নভেম্বরে শহীদ জাতীয় চার নেতার প্রতি এটাই আমার প্রত্যয়দীপ্ত শ্রদ্ধা। আর তরুণ প্রজন্মকে বলব, তোমরা ইতিহাস পড়, ইতিহাস জান। দেশকে ভালোবাসো। জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।