Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

আনন্দে ভাসছে আমেরিকা, হলিডেতে দেশ বিদেশ ছুটছেন প্রবাসীরা

বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫

Picture

আমেরিকার ভেতর প্রধান প্রধান প্রবাসী অধ্যুষিত বাংলাদেশী শহর গলো বা ষ্টেট মিশিগান যেখানে ৫০ হাজার বাংলাদেশী বসবাস করেন রয়েছেন তিন জন নির্বাচিত কাউন্সিলম্যান , নিই ইয়র্ক যেখানে ৩ লক্ষ বাংলাদেশী বসবাস করেন, বোষ্টন, আটলান্টা, নিউজার্সি, মায়ামী , ফ্লোরিডা , কানেকটিকাট , ওয়েষ্ট পাম বিচ ( ফ্লোরিডা ) যেখানে ২০ হাজার র্বাংলাদেশী থাকেন । পুরো আমেরিকার ৫০ টি ষ্টেটের মধ্যে ২৫ টি ষ্টেটে বাংলাদেশীরা রয়েছেন এবং কয়েক শত ছোট বড় শহরে বাংলাদেশীদের অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়। ক্রিস মাসের হলিডেতে প্রবাসীরা ছুটে বেড়ান এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় । এ সময়টাতে বিয়ে র ধুম পড়ে যায় , লম্বা ছুটি থাকায় অনেকে বিয়ের জন্য উপযুক্ত সময় হিসাবে এ সময়টাকে বেছে নেন । প্রফেশনাল ডাক্তাররা তাদের চেম্বার স্লো হয়ে যায় এ সময়টায় তাই তারা ছুটেন বাংলাদেশ সহ আশে পাশের দেশগুলোতে । অনেকে ছুটে আসেন আমেরিকার স্বর্গ খ্যাত ফ্লোরিডার ডিজনি ওয়ার্ল্ডে পুরো পরিবার সহ । আমেরিকায় দ্বিতীয় প্রজন্ম চলছে , প্রবাসী র্বাংলাদেশী যারা আশির দশকে আমেরিকায় এসেছিলেন তাদের বেশীর ভাগের ছেলে মেয়েরা বর্তমান সময়ে পড়ালেখা শেষ করে নতুন জীবন শুরু করেছে । আবার যারা ভাই বোন দের জন্য এপ্লাই করেছিলেন তারা ১৪ /১৫ বছর পর বর্তমানে সপরিবারে আমেরিকায় আসছেন , সব ষ্টেটে নতুন বাংলাদেশী ইমিগ্রান্টদের এক জোয়ার বইছে । পাশাপাশি ভিজিট ভিসায় বাংলাদেশীরা আসছেন ৬ মাস ঘুরে আবার ফিরে যাচেছন, আবার অনেকে চেষ্টা করছেন থেকে যাবার । নতুন টুরিষ্ট ইমিগ্রান্টদের নিয়ে হলিডেতে প্রবাসী বাংলাদেশী পরিবার গুলো ঘুরে বেড়াচেছন ।

10398078_10208122821692354_5910286309571866596_n[1] copyফ্লোরডার ডেন্টিষ্ট ডা : কাশেম গোপালগঞ্জের বাসিন্দা , বাংলা সাহিত্যের অতিব পন্ডিত । তার সাহিত্যের চর্চা আমাকে মুগ্ব করে । ৪৫ মিনিট ড্রাইভ করে তার ব্যস্ততম চেম্বারে যাই রবিন্দ্রনাথ ও নজরুল বিষয়ে জানতে । গান্ধী মুভির বিমুগ্ধ শুভাকাঙ্কি, সপ্তাহে ৬ দিন রোগী দেখেন ডেনচার এর পন্ডিত ৩৫ বছর থেকে ডেন্চার করেন, ৬৭ বছর বয়স । এই বয়সে জার্মান -ফ্রান্স ঘুরে বেড়ান চিক্যিসার আধুনিক বিষয়কে জানার জন্য । যত দেখী মুগ্ব হয়ে যাই, একজন লেখক সাংবাদিক হিসাবে আমাকে খুব মুল্যায়ন করেন । এত ব্যস্ত ডাক্তার আমি ১৪ বছরে দেখিনি দুটো চেম্বার, ৭ বছর পর দেশে গেলেন ৯ দিনের জন্য । ওরলান্ডোর বিশিষ্ট ব্যাবসায় প্রকৌশলী আরিফ সপরিবারে আর্জেন্টিনা গেলেন , প্রকৌশলী নিপুন পরিবার নিয়ে ছুটলেন বাংলাদেশে । কিসিমির জনাব আশিক ছেলে বিয়ে দিতে ফ্লোরিডা থেকে ছুটলেন পরিবার পরিজন নিয়ে মিশিগান । অর্থনীতি ঘুরে দাড়ায় আমেরিকানরা ক্রিসমাস পালন করল অনেক ব্যয়বহুল । বাড়ীতে বাড়ীতে লাইটিং, মার্কেটে উপচে পড়া ভিড় অনেকদিন পর নতুন আমেরিকা দেখলাম । আমার প্রতিবেশী ব্রাজিলিয়ান এভেলিন তার বোন ব্রাজিল থেকে এসেছে বোনের সাথে হলিডে করতে । প্রতিবেশী হিসাবে আমার ছেলে মেয়েরা প্রতিবছরের মত এবার ৮ বক্স গিফট উপহার দিল , এভেলিন খুব খুশি । আমি ছাড়া তার বন্ধু বলতে বা গিফট দেবার কেউ নেই ।

10296641_10208094653588169_4089704088038724455_n[1]আমার কাজ ছিল, আমরা যারা ক্রিস মাস সেলিব্রেট করি না তারা ক্রিস মাসে ইভ ও ক্রিসমাসের দিন কাজ করি । আমেরিকায় হলিডেতে কাজ করলে ডাবল টাকা পাওয়া যায় । তা্ই অনেকে ডাবল টাকার জন্য করতে চেষ্টা করে । আবার অনেক হলিডে করার জন্য রিকোয়েস্ট অফ চায় । যদি কেউ ৯ ডলারে কাজ করে তাহলে ক্রিসমাসে সে ১৮ ডলার ঘন্টায় কাজ করবে, এটা অনেকে ছাড়তে চায় না । আমি কাজ করি ডিজনি ওয়ার্ল্ডে আমাদের কাজের জায়গায় ক্রিস মাসে ছিল অনেক খাবার আমাদের জন্য । পুরো রিসোর্টে ছিল না কোন ব্যস্ততা তাই টিভি দেখে সময় কাটালাম । নতুন বছর আসছে বছরের শেষ দিন কে আমেরিকানরা সেলিব্রেট করে । শ্যাম্পেনের বোতল খুলে রাত ১২ টায় ২০১৬ কে জানাবে স্বাগত । হাজার হাজার ডলার ব্যায় করে নতুন বছরক স্বাগত জানাবে । শুরু হবে নতুন বছর, কাজ পাগল আমেরিকানরা আবার ঝাপিয়ে পড়বে জীব্ন যুদ্বে । চলবে ক্রেডিট কার্ডে জড়িয়ে পড়া তাদের জীবনের বিল পরিশোধের টানাটানিতে । তবে তারা আনন্দ করে, ফুর্তি করে , ট্রেস থেকে তারা থাকে অনেক দুরে । আমরা ভারত পাকিস্তান ও র্বাংলাদেশীরা সঞ্চয় ও পরবর্তি প্রজন্মদের জন্য চিন্তা করতে করতে শেষ হয়ে যাই । তাই অকাল বয়সে আমাদের পড়তে হয় বুকের মধ্যে রিং । আমরা ঠিক মত আনন্দ করতে পারি না তাই আমরা বেশী দিন বাচতে ও পারি না । আমেরিকানরা কখনও আগামী কালের জন্য চিন্তা করে না, তারা ভাবে আজ আমার এবং আমি আজকের দিনকে সেলিব্রেট করব ।


Are we ready for Grameen-Nagariyo Bangladesh?

মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০১৫

Once, Bangladesh was a rural country. Now, Bangladesh is a rural-urban country; both are not same, challenges and problems are not same, developmental plans and goals are not same, and their administrative structures and functions should not be the same. It should be soon understood by the people of Bangladesh, and it should be understood and officially recognized by the government of Bangladesh. As we see, the rural villages in the unions are constantly changing in many ways, and the fast pace of urbanization is a reality in Bangladesh. In fact, Bangladesh is also heading towards becoming a completely unban country. As predicted, 50% of the Bangladesh will be urban by the year 2020, and Bangladesh will fully become an urban country by the year 2050. In other words, right now about 35% of the Bangladesh’s people live in the urban areas; by 2020, 50% of the people will live in the urbanized areas, and by 2050, 100% people will live in the fully urbanized Bangladesh. The question is, as a nation, are we prepared for that? And as a country, is Bangladesh preparing for that? The answer is clearly no. So, facing and shaping the challenges in the rapidly changing rural areas and facing and shaping the grave challenges in the urban areas simultaneously,

Baps4

Bangladesh needs now to establish a dynamic administrative structure at its all administrative tiers. Bangladesh also needs to systematize its disorganized local administrative layers and units, and it needs to reduce the number of local administrative layers and units. Towards that end, attached please find a proposed dynamic systematized administrative structure of Bangladesh prepared on the basis of predicted/projected changes and challenges by the years 2020 and 2050. The structure has two parts; unlike a rural country, one part of the structure is designed for the present-day rural-urban Bangladesh; and, unlike a rural-urban country, another part of the structure is designed for the future 100% urbanized Bangladesh. In the proposed graphical structure, it is clearly shown that the rural local administrative units in Bangladesh will be progressively abolished; in other words, the unions and villages will be transformed into nagars and nagar sarkars (urban administrative units); and, as a result, Bangladesh will consist of a number of nagars (urban units) and nagar sarkars only. Ultimately, as designed, Bangladesh will have a two-tier local government system, and, it could have a reduced number of local administrative units as desired, as needed. Thus, the operational costs, on the one hand, will be reduced and the developmental costs, on the other hand, will be increased. By the way, it should be mentioned that the proposed systematized administrative structure was prepared by Mr. Abu Taleb and presented by him at a national seminar held in Dhaka on 13 January 1997. Since then, because of the CDLG’s continual campaign and targeted advocacy on the proposal, we sense that the importance of the proposed structure is increasing among the different groups of people. In reality, we are now more confident that either of the two proposed administrative structures, if implemented now, could shape the present and future of Bangladesh and its people. However, if the attached graphical governmental structures (one for the present-day rural-urban Bangladesh and another for the future urban Bangladesh) and their significances are not fully clear to you, please let us know your informational questions on them, and feel free to express your opinions on them as well. Since the future Bangladesh means an urban Bangladesh, since the present-day Bangladesh means a  rural-urban Bangladesh, and since present Bangladesh is not a rural Bangladesh, everyone, especially members of the government policy and law making bodies, should know understand deeply the proposed administrative structure prospect for the present-day 65% rural-35% urban Bangladesh as well as for the future 100% urban Bangladesh, and everybody should prepare and act accordingly.


পাকিস্তান-ভারত কোলাকুলির ছন্দময় নৃত্যের দোলায় - আবু জাফর মাহমুদ।।

সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের বাগান বাড়ী এবং নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠানে উচ্চমর্যাদার মেহমান হয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।গত কলামে একই পত্রিকায় লিখেছিলাম পাকিস্তানের সাথে হ্যান্ডশেক করতে উঠেপড়ে লেগেছেন ভারতীয় নেতৃত্ব।এবারের বিষয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রীর সাথে ব্যক্তিগত,পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মিশে গিয়ে ইতিহাসের উজ্জ্বল অধ্যায়ে শিরোনাম হলেন। 
ভারত-পাকিস্তানের জন্মের ইতিহাস বৃটিশ চক্রান্তে এবং মুসলমান-হিন্দু সহ নানা ধর্মাবলম্বী সরল সিধা মানুষের জীবন,সম্ভ্রম এবং ভিটে-মাটি হারানোর কাপুরোষোচিত ব্যাদনার অধ্যায়ে গড়া।হিংসা-বিদবেষ, প্রতিহিংসা চাপিয়ে মানবিক ঐতিহ্যের পবিত্রতার স্থলে একই অঞ্চল-সমাজের মানুষের ভেতর যুদ্ধ-বিগ্রহ ও নিরন্তর সন্দেহ ছড়ানোর অনির্দ্দিষ্টকালের অনিশ্চিত রাজনীতির হুলিখেলার নিরীক্ষায় ভরা।
এই বিশাল দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা বিদায় দেয়ার ঢেউ দেখা যাচ্ছে এক সময়ের ভারতীয় ভিলেন মোদীর রাজনীতিতে নায়ক হবার পর।তিনি দিনের পর দিন প্রশংসিত হয়ে উঠছেন রাজনৈতিক অভিনয় মঞ্চে নিজ জীবন কাহিনীর অতীতের পাতায় টেপ লাগিয়ে।তিনি হয়ে উঠেছেন ঝানু কূটনীতিক-রাজনীতিক।আফগানিস্তানের পার্লামেন্টে পাকিস্তানকে তুলাধুনা করলেন।আবার এক ঘণ্টার মাথায় নিজে পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তার বাড়িতে এবং নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠানে হলেন পারিবারিক মেহমান।
রাশিয়া থেকে আফগানিস্তান হয়ে ভারতে ফিরে আসার পথে ২৫ডিসেম্বর শুক্রবার লাহোর কবি আল্লামা ইকবাল  ইন্টারন্যাশানাল এয়ারপোর্টে বিমান বন্দরে  নরেন্দ্র মোদীকে বহনকারী বিমান অবতরণ করলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তাকে কোলাকোলি করে অভ্যর্থনা জানান বিমান বন্দরে।পাঞ্জাবের চীফ মিনিষ্টার শাহবাজ ও ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রীর সাথে। শাহবাজ নওয়াজ শরীফের ভাই।সংবাদ মাধ্যম চিএনএন মোদির এই সফরকে শত্রুতা সম্পর্কে বরফ গলানোয় ভীষণ তাৎপর্য্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে।    
ওখান থেকে পাকিস্তানের মেহমানকে নিজের গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয়।এদিন ছিলো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ  শরীফের জন্মদিন।জন্মদিন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়া ছাড়াও মোদী নওয়াজ শরীফের নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভারত-পাকিস্তানের শত্রুতার ধারাকে উষ্ণ আন্তরিকতার পথে মোড় ঘুরানোর পথ রচনায় হলেন অন্যতম উদ্যোক্তা।
পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় বর্ননায় দাবী করেছে,ভারত-পাকিস্তানের জনগনের কল্যাণের সুনির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যে কথোপকথন অগ্রসর করার জন্যে উভয় নেতা তাদের আকাংখার কথা ব্যক্ত করেছেন।সুপ্রতিবেশীর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার জন্যে উভয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন এবং তা কার্যকর করার প্রশ্নে একমত হয়েছেন।
এদিকে পাকিস্তান মুসলিম লীগ কায়েদে আযম গ্রুপের সভাপতি চৌধুরী সুজাত হোসেইন এক বিবৃতিতে  বলেছেন,ইসলামাবাদের প্রতি নয়াদিল্লীর আগ্রাসী মনোভাবের অবসান হওয়া উচিত।তাঁর ভাষায়,লাহোরে পাকিস্তান ও ভারতের প্রধানঅমন্ত্রীর বৈঠকের পর যদি নয়াদিল্লীর আগ্রাসী মনোভাবের অবসান হয়,তবেই এই বৈঠককে ইতিবাচক বলা যাবে,অন্যথায় নয়।সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধ করতে হবে,করাচী,বেলুচিস্থানেবং উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোয় গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ভারতের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
১৯৪৭সনে বৃটেনের কলোনী থেকে আলাদা হবার পর কাস্মীরের দখল নিয়ে দুইবার যুদ্ধ এবং বাংলাদেশ সংক্রান্ত একবার যুদ্ধ হয়েছে বিবদমান ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে।উভয় দেশই কাস্মীরের মালিকানা দাবী করে আসছে ৬০ বছর যাবত।পরস্পর পরস্পরকে অস্তিত্বের শত্রুরূপে দেখে আসছে।যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে ২০০৩ সনে।উভয়েই আবার এই যুদ্ধ বিরতি ভেঙ্গেও আসছে পরস্পরের অভিযোগ মতে।
ইতিমধ্যে এমন কি শান্তির ঝর্ণা দেখেছে তারা,যাতে উভয় দেশের এতো গদগদ প্রেম উঠেছে যে,যুদ্ধের পরিবর্তে আলিঙ্গনে মেতেছে উভয় শত্রু?ঘটনার গভীরে ডুব দিয়ে অনুসন্ধান করে চলেছেন বিশ্লেষকরা।এই ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোও সরব হয়েছে দেখা যায়।

PK
বিবিসি সহ অনেক সংবাদ মাধ্যম এই সফরকে আকস্মিক সফর বলেছেন।কিন্তু ভারতের জাতীয় কংগ্রেস খোলাসা করে দাবী করেছে এই সফর পূর্ব পরিকল্পিত।তারা কিছুটা দাঁতে দাঁত চাপ দিয়েই ওকথা খোঁচা দিয়ে  বলেছে,যাতে উগ্র ওকট্টরপন্থী হিন্দুরা যাতে নরেন্দ্রকে সমালোচনার তুলোধুনো করে কংগ্রেসের গা জ্বালাপোড়ায় চুলকানি যোগ করে আগুনে কেরোসিন ঢালার সুযোগ পায়।শিবসেনা অবশ্য সেই মেজাজেই মোদীজীকে সমালোচনার এক হাত পুরোটাই তুলেছে বলে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম বলেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন,এতে মোদীজী পথ ছাড়ার মতো কিছু ঘটছেনা।   
ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র নালিন কোহলি বলছেন,“পাকিস্তান সফর করা একটি দুঃসাহসী, সৃষ্টিশীল পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে।ভারত-পাকিস্তানের অনেক ইস্যু আছে যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে,বেশ জটিল এই পরিস্থিতি অতিক্রম করে সামনে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ।তবুও দুই নেতা তাদের ব্যক্তিগত ইক্যুয়েশন থেকে তাদের নেয়া পথ প্রতিষ্ঠা করতে যার পর নেই চেষ্টা করছেন আগামীতে উভয়দেশের সরকারি পর্যায়ে কথাবার্তা এগিয়ে নিতে”।
পাকিস্তানী বিদেশ সচিব আইযাজ চৌধুরী বলেছেন,ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী সুব্রাহ্মানিয়াম জেই শংকর আগামী মাস জানুয়ারীতে ইসলামাবাদ সফর করবেন আলোচনা অগ্রসরের ধারাবাহিকতায়।কাস্মীর ইস্যু সহ অনেক বিষয়ে দুই প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার  করেছেন বলে আল-জাজিরা খবর দিয়েছে।খবরে মন্তব্য করা হয়েছে,মোদীর পাকিস্তান সফর সূচী হয়েছে আকস্মিকভাবে।
অবশ্য সোস্যাল মিডিয়া টুইটারে ঘোষণা দেয়া ছিলো মোদী নওয়াজ শরীফের জন্মদিন অনুষ্ঠানে যাবেন কাবুল সফরের পর।কড়া হিন্দু উগ্রবাদী রাজনীতিক ২০১৪ সনে ক্ষমতায় এসে নিজের অতীতের টেরোরিষ্ট পরিচয় গোপন করার এবং ভারতের ইমেজ আলোকিত করার জন্যে নাটকীয় বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করে চলেছেন বারে বার।পাকিস্তানের মুসলিম লীগ নেতা এবং প্রধানমন্রী নেওয়াজ শরীফ ও ভারতের বিজেপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এবার যে কাজটি করে চলেছেন তার প্রশংসা কূটনীতিক পর্যায়ে প্রচুর হবে।
অবশ্য বিশ্ব শক্তিগুলোর প্রতিযোগীতা এবং প্রধান মোড়ল আমেরিকার নির্দ্দেশনাতেই এই সাবেক বৃটিশ উপনিবেশ থেকে ভাগ হয়ে আলাদা দেশ হওয়া ভারত-পাকিস্তান যে অস্ত্র নামিয়ে নিজেরা কোলাকুলিতে লেগেছে তা সহজেই অনুমেয়।এই ঘটনায় চীন-রাশিয়ার নিকটে মার্কিণ জোটের নয়া বিস্তৃতির প্রমাণ আসছে।পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় উৎপাদন,বাণিজ্য ও স্মঝোতার শান্তির পথ রচনার আভাস মিলেছে।
পারমানবিক অস্ত্রের মালিক দুই শত্রুদেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা জিইয়ে রেখে মানব সমাজ নির্মূলের পথে থাকা দুই বর্বর শক্তি উল্টো দিকে ফিরে নিজেদের এবং দেশবাসীদের বাঁচাবার পথ করায় একধরণের শান্তির আবহ তৈরি হতে চলেছে পুরো অঞ্চল জুড়ে।পারমানবিক অস্ত্র মানুষের ধ্বংসের জন্যে,মানুষের কল্যাণের জন্যে কখনো ব্যবহার হয়নি,হবেওনা।  কঠিন কাজটি সম্ভব হয়েছে আমেরিকার হস্তক্ষেপে।এরকম তথ্য দিয়েছেন উচ্চ পর্যায়ের গোয়েন্দা সূত্র।তাদের বক্তব্য হচ্ছে,চীনের পাশে আমেরিকার দুই মিত্র হচ্ছে পাকিস্তান এবং ভারত।দু’দেশের এই দুই নেতার ক্ষমতায় আসার পেছনে আমেরিকার সমর্থন চলে আসছে বহুদিন আগে থেকেই।এখন সময় মতো নির্দ্দেশ পালন করছেন ভারত-পাকিস্তানের দুই ক্ষমতাধর রাজনীতিক।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বাড়ন্ত প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক ধারার ঝোঁক অনুযায়ী আমেরিকা পাকিস্তান-আফগানিস্তানের এক দেশ বা এক কনফেডারেশনের দিকে প্রস্তুতি অগ্রসর করে চলেছে।ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধংদেহী অবস্থার পরিবর্তন হওয়ায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নাশকতা সৃষ্টিকারী ভারতীয় টেরোরিষ্টদের তৎপরতা থেমে যেতে পারে এমনকি সেই টেরোরিষ্টদের তালিকা পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার কাছে হস্তান্তর হয়ে যেতে পারে খুব শীঘ্রই।
অবাক করে দিয়ে বাংলাদেশেও নাটকের দৃশ্য অন্যরকম হবার সম্ভাবনা উঠে আসতে পারে দ্রুত।নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশের বর্তমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া সম্পর্কে সন্তোষজনক মনোভাব পোষণ করেননা।পাকিস্তানকে ক্ষেপিয়ে তুলতে ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টারা অতি উৎসাহী ‘অকূটনৈতিক সম্পর্ক’ উস্কে দিয়ে চলেছেন আমেরিকাকে আমেরিকা-চীন-ভারত-পাকিস্তানকে সঠিকভাবে বুঝতে ব্যর্থ হওয়ায়।
স্থানীয় রাজনীতিতে সরকারকে বাড়তি সুবিধা দেয়ার কৌশলে পাকিস্তানী কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করার পলিসি নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।ওসব কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা জঙ্গি অর্থায়নে জড়িত।এসব খেলায় পাকিস্তান সরকার ইদানিং বিরক্তির আগুনে কেরোসিন পেয়েছেন বলে জানা গেছে।পাকিস্তান ও ভারতের সরকার নীতিগতভাবে শেখ হাসিনা সরকারের বিদায় না চাইলেই কোন আকস্মিকতা নেই।কিন্তু যদি অন্য কিছু ঘটে যায়,তাতে বাংলাদেশের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আর বাংলাদেশী রাজনীতিকদের হাতে নাও থাকতে পারে।কেননা বাংলাদেশের রাজনীতি বহুদিন যাবত বাংলাদেশী রাজনীতিকরা নিয়ন্ত্রণ করেননা।
বর্তমান পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা শেখ হাসিনা সরকারকে ভয়ানক বিব্রতকর অবস্থায় ছুঁড়ে দিচ্ছে।তাদের ভেতরে আশংকার তীব্রতার পরিস্থিতি্র পরিস্কার


কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের জন্মদিন আজ

সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫

বাপ্ নিউজ: আজ প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের ৮০তম জন্ম উৎসব। কথাসাহিত্যিক হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও রাবেয়া খাতুন এক সময় শিক্ষকতা করেছেন। সাংবাদিকতার সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। ছোটগল্প দিয়ে শুরু হলেও লেখক পরিচয়ে প্রথমত তিনি ঔপন্যাসিক। প্রথম উপন্যাস মধুমতী (১৯৬৩) প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই শক্তিমান কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি পান। রাবেয়া খাতুন ভ্রমণসাহিত্য রচনাকে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের জন্মদিন আজ  করেছেন বলে তার ভ্রমণসাহিত্যের বইও অনেকগুলো। বেশকিছু আত্মজৈবনিক স্মৃতিমূলক রচনা লিখেছেন। একাত্তরের নয় মাস (১৯৯০) বইয়ে লিখেছেন একাত্তরের শ্বাসরূদ্ধকর দিনগুলোর কথা। সাহিত্যচর্চার জন্য পেয়েছেন একুশে পদক (১৯৯৩), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৩), নাসিরুদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৯৫), হুমায়ূন স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮৯), কমর মুশতারী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৪), বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯৪), শের-ই-বাংলা স্বর্ণপদক (১৯৯৬), ঋষিজ সাহিত্য পদক (১৯৯৮), লায়লা সামাদ পুরস্কার (১৯৯৯) ও অনন্যা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯৯)। ছোটগল্পের জন্য পেয়েছেন নাট্যসভা পুরস্কার (১৯৯৮)। সায়েন্স ফিকশন ও কিশোর উপন্যাসের জন্য পুরস্কৃত হয়েছেন শাপলা দোয়েল পুরস্কার (১৯৯৬), অতীশ দীপঙ্কর পুরস্কার (১৯৯৮), ইউরো শিশুসাহিত্য পুরস্কার (২০০৩)। ছোটগল্প ও উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছে প্রেসিডেন্ট (১৯৬৬), কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি (২০০৩), মেঘের পরে মেঘ (২০০৪), ধ্রুবতারা, মধুমতি (২০১০)। টিভি নাটকের জন্য টেনাশিনাস পুরস্কার (১৯৯৭), বাচসাস (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি) পুরস্কারসহ এ যাবত অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন।


সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনের শুভ জন্মদিনে

সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫

শারমিন আহমদ:আমার ১২তম জন্মদিনের একটি উপহার ছিল সুকান্তসমগ্র। পরাধীন ভারতের এক মুক্তিপিয়াসী এবং বৈষম্যর বিরুদ্ধে অন্তহীন বিদ্রোহী সুকান্তর কবিতাগুলো আমার মনে এতখানিই আলোড়ন তোলে যে সেই জন্মোৎসবের রাতেই আমি কবিকে অভিনন্দন জানিয়ে এক চিঠি লিখে ফেলি। কবির ঠিকানা খুঁজতে গিয়ে জানতে পারি যে এই প্রতিভাধর কবি মাত্র ২১ বছর বয়সে যক্ষ্মা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেছেন। অনন্তলোকের কোনো অধিবাসীর কাছে লেখা আমার সেই প্রথম চিঠি আর পোস্ট করা হয়নি। তবু কেন যেন সে সময় মনে হয়েছিল সুকান্ত আমার চিঠিখানি পড়েছেন।

আমার আম্মা, সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন অমর্ত্যলোকবাসী হয়েছেন (২০ ডিসেম্বর, ২০১৩) দুই বছর হলো। ২৪ ডিসেম্বর, তাঁর ৮১তম জন্মদিনের চার দিন আগে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তাঁর জন্মদিনের জন্য নিয়ে আসা উপহারমালা আর তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় না। সুদূর প্রবাসেও আসে না তাঁর আর কোনো চিঠি। তাঁর কাছে লেখা আমার অগণিত চিঠি হৃদয়ের মুক্ত পাতায় কেবলই জমা হতে থাকে, প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ। আমার বিশ্বাস, সেই মুক্তিপাগল কবির মতোই তিনিও আমার চিঠিগুলো ঠিক ঠিকই পড়েছেন। অনন্তর ডাকঘরে প্রেরিত, তাঁর জন্মদিনের জন্য লেখা, আজকের এই চিঠিও।

প্রিয় আম্মা
শুভ জন্মদিন।
পৌষ মাসের পিঠার উৎসব এবং নরম শীতের আমেজভরা দিনটিতে আপনি পৃথিবীতে এলেন। আপনার নানির হাতে বানানো সবুজ উলের জামাটির মধ্য দিয়ে আপনার হংসধবল কোমল মুখখানি ফুটে রইল আলোকিত পদ্মর মতো। সেই জামা আমি ফ্রেমে বাঁধিয়ে রেখেছি। যতবারই ওই পুতুলের মাপের জামাটির দিকে তাকাই, ততবারই মনে হয় সৃষ্টির একি লীলাখেলা। ‘আমার আম্মা কি এতটুকু বাচ্চা ছিলেন!’ ঠিক যেমন আমার শিশুকালের ছবিগুলো দুহাতে ধরে আপনি স্নেহ-বিস্ময়ের আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলতেন, ‘রিপি কেমন করে বড় হয়ে গেল।’ আমার ধারণা, বসন্ত ঋতু যখন গ্রীষ্ম পেরিয়ে হেমন্তর দুয়ারে পৌঁছায়, তখন মায়েরা আবারও হয়ে যায় শিশু, আর মেয়েরা মা। সে কারণেই বোধ হয় আমার প্রথম প্রকাশিত বই (হৃদয়ে রংধনু), যা আপনাকে উৎসর্গ করি, তাতে রয়েছে আনন্দ গ্রহের অধিবাসী সেই মেয়ের গল্প, যে তার জন্মের আগেই খুঁজছে এক আদর্শ মাকে, যিনি সন্তানকে দেবেন জ্ঞানের শক্তি ও শান্তির ঠিকানা।

নানা-নানি আপনার ভালো নাম রেখেছিলেন জোহরা। আরবিতে যার অর্থ ‘ফুটন্ত ফুল’ বা ‘জগতের ফুল’। ডাকনামেও ফুলের সুবাস। আমার ফুলের টব দুটি যখন সাদা লিলি ফুলে ভরে গেল, তখন আমার সেকি আনন্দ! আমার প্রতিবেশী অ্যানি জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি লিলি ফুল এত পছন্দ করো!’ আমি বললাম, ‘লিলি আমার মায়ের ডাকনাম, আর সাদা তাঁর সবচেয়ে প্রিয় রং। আমার বাবার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল সাদা বেলি ফুলের গয়না পরে এবং বেলি ফুলের মালা বদল করে। আমার মা সোনার গয়না চাননি, চেয়েছিলেন শুভ্রতার প্রতীক সাদা বেলি ও তার সৌরভ।’ অ্যানি বিমুগ্ধ চিত্তে সে কথা শুনে বলল, ‘কী রোমান্টিক! কী অনন্য তোমার মা।’ আম্মা, আসলেই কী মহাভাগ্যই না আমাদের ভাইবোনদের, এমন অনন্য মা ও বাবার সন্তান হতে পেরে। আমার ধারণা, অনন্য তাঁরাই, যাঁদের বিশাল দৃষ্টি এড়িয়ে যায় না অতি ক্ষুদ্র ও নগণ্যর ব্যথা, মহৎ আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্দ্বিধায় যাঁরা করেন আত্মত্যাগ এবং আত্ম-উন্নয়নের সুকঠিন সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন আজীবন। এমন মানুষই হতে পারেন ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের আলোকিত পথনির্দেশক।

জাতির এক মহাদুর্যোগকালে আব্বু, তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আর নেতৃত্বের চরম সংকটকালে, (স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তির হাতে বঙ্গবন্ধু এবং আব্বুসহ চার জাতীয় নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের দায়িত্ব যখন আপনার কাছে ন্যস্ত হয়, তখন আপনি অসামান্য ত্যাগ, নিষ্ঠা, সাহস ও সততার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেন। আপনি ছিলেন দুর্দিনের কান্ডারি এক অসাধারণ নারী। আপনি যে দৃষ্টি দিয়ে জীবনকে দেখতেন, তা আমাদের জীবনসংগ্রামের মহত্তম সাথি হতে পারে; জীবনের ক্ষুদ্র পরিধিকে করতে পারে বৃহত্তর ও অর্থবহ। আমার জন্মদিনে আপনার লেখা চিঠি সেই বৃহৎ জীবনবোধেরই এক সুগভীর প্রতিফলন। আপনি লিখেছিলেন, ‘প্রিয় মা রিপি, আমার ভালোবাসা, দোয়া প্রাণভরে তোমাকে জানালাম। তোমার জন্মদিন এসে গেল, (২৯ ফেব্রুয়ারি)। আল্লাহ সর্বদিকে তোমার মহা কল্যাণ করুক, মঙ্গল করুক। এই কিছুমাত্র ক্ষণস্থায়ী জগতের কত লীলাখেলা দেখলাম, বুঝলাম, শুনলাম। মনের গভীরে উপলব্ধিবোধের তাগিদ অনুভব করছি। সেই সংগ্রামে একাকার হয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় লালায়িত আমি। সে আরেক মহাজগৎ। এই জগতে বসবাস করেও তীক্ষ্ণ চেতনায় সেই জগতে অনুপ্রবেশ করা যায়। লক্ষ্য সেদিকেই, সে পথেই এগিয়ে নেবে। …তোমার আম্মা।’

আরেকটি চিঠিতে আপনি লিখেছিলেন, ‘আত্মাকে প্রতিটি মহান কাজে নিয়োজিত রাখার সংগ্রামই প্রকৃত মানবজীবনের সংগ্রাম।’ নিঃস্বার্থ সেবা যে সেই মহৎ কাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তার অগণিত উদাহরণ তো আপনি প্রতিনিয়ত নিজ কাজের মধ্যেই রেখে গিয়েছেন। জাতি ধর্ম-শ্রেণি-বর্ণের ঊর্ধ্বে মানুষকে আপনি কেমন অনায়াসেই আপন করে নিতেন। আপনার হাতের অতুলনীয় রান্নার স্বাদ এবং আপনার মমতাভরা নিজ হাতে পরিবেশনের স্মৃতি সাধারণ ও অসাধারণ সবার মনকেই ছুঁয়ে যেত। আমাদের পুরো বাড়িই ছিল গরিব-দুঃখী ও আর্তের ভরসাস্থল।
ছোটবেলায় আমি ছিলাম দুরন্ত-চঞ্চল। আমাকে শান্ত করার একটি উপায় ছিল, গল্প বলা। আর গল্পের ফাঁকে ফাঁকে আমাকে খাইয়ে দিতে পারলে তো কথাই নেই। সিংহ রাজা ও ময়না পাখির গল্প, দেশ-বিদেশের কাহিনি, ইতিহাস কিছুই বাদ পড়ত না আপনার মনোমুগ্ধকর কথার ছন্দে। স্বদেশ ভাবনা ও বিশ্বের সঙ্গে সেতুবন্ধ আমার হয়েছিল ওই গল্পগুলোর মধ্যেই।
ফুল, পাখি, প্রকৃতি ও প্রেমকে একই নিবিড়তায় ধারণ করে আমাদের জন্য আপনি রেখে গেলেন নিজেকেই।
অনন্ত ভালোবাসা
আপনার স্নেহের রিপি, সিলভার স্প্রিং, ম্যারিল্যান্ড।
শারমিন আহমদ: সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন ও তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে।


নির্বাচনের আদর্শ পরিবেশ বিদ্যমান - ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ

সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫

ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ : আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য পৌরসভা নির্বাচন একযোগে সারাদেশের ২৩৪টি জনপদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আমার মতে, এই নির্বাচন স্থানীয় পর্যায় ছাপিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও সবিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ নানা কারণে। প্রথমত, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্থানীয় সরকারের মেয়র পদে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকের ব্যবহার হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। সাম্প্রতিক অতীতে বিরোধীদলীয় ওই জোট বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন শুধু বয়কট করেই ক্ষান্ত ছিল না, প্রতিরোধের নাশকতামূলক চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছিল। সেই অবস্থান থেকে তারা সরে এসে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনের মাঠে নেমেছে।

তৃতীয় বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যাযোগ্য। দেখা যাচ্ছে, ১৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনো নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত জোটহীনভাবে অংশ নিচ্ছে। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যদিও দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকের ব্যবহার ছিল না, তা সত্ত্বেও দল দুটি আসন ভাগাভাগি বা 'বোঝাপড়া' করেছিল। এবার দেখা গেল দৃশ্যত বিএনপির দিক থেকে আগ্রহ থাকলেও জামায়াতে ইসলামী পিছটান দিয়েছে। জোটভিত্তিক নির্বাচন বিষয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সর্বশেষ বৈঠকে জামায়াতের প্রতিনিধি অনুপস্থিত ছিল। আমরা ধারণা, দু'পক্ষই জোটবদ্ধ নির্বাচনের লাভ ও ক্ষতির দিকগুলো হিসাব-নিকাশ করে দেখেছে। দু'পক্ষেরই এমন উপলব্ধি অস্বাভাবিক নয় যে, জোটের ফলে সাময়িক লাভ হলেও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামী এতদিন বিএনপির ঘাড়ে বন্দুক রেখে নির্বাচনের কৌশল গ্রহণ করলেও এখন দেখছে যে, গত দেড় দশকে তারা এমন রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা স্বাধীনতার পর সবচেয়ে গভীর। এ ছাড়া দলটির নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাওয়ায় তারা নিজেদের প্রতীক ব্যবহার করেও নির্বাচন করতে পারছে না। ফলে তারা যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতিনিধিত্ব করছে, তার কী প্রমাণ। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাদের মানবে কেন? অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদে মদদদানকারী একটি দলের সঙ্গে জোট বেঁধে বিএনপি ঘরে ও বাইরে এত চাপের মুখে পড়েছিল যে তাদের পক্ষে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছিল। জামায়াতের সঙ্গে জোট তাদের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে বিএনপি কেন আবারও জোটবদ্ধ নির্বাচনে আগ্রহ দেখাচ্ছিল? আমার ধারণা, এটা নেহাত 'লিপ সার্ভিস'। যেভাবে ডাকলে জামায়াতে ইসলামী আসবে, সেভাবে ডাকা হয়নি বা আসন বণ্টনের আভাস দেওয়া হয়নি।
অনেকে বলেছেন, এই নির্বাচনে বিএনপি বা জামায়াত অংশ নিচ্ছে 'রাজনৈতিক কৌশল' হিসেবে। যদি কোনো কারণে নির্বাচনের ফল তাদের বিপক্ষে যায়, তাহলে আবার আন্দোলনের 'ইস্যু' পেয়ে যাবে। আমার কাছে মনে হয় না সংসদের বাইরের বিরোধী দলের আর সেই শক্তি ও প্রভাব অবশিষ্ট রয়েছে। এই নির্বাচন তাদের জন্য বরং রাজনৈতিক মুখ রক্ষার সুযোগ তৈরি করেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল বিরোধী দল করেছিল, তা শোধরানোর সুযোগ পেয়েছে। তাহলে, পৌর নির্বাচন নিয়ে বিএনপির রণদেহী মূর্তি কেন? এটা হচ্ছে 'অফেন্স ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স' কৌশল। নির্বাচন নিয়ে বিরোধীদলীয় জোটের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়ের করা হচ্ছে_ এটাও একই কৌশলের অংশ। কমিশনের ওপর চাপ বজায় রেখে যতটা সুবিধা আদায় করা যায়। কারণ এই নির্বাচনের ফলের ওপর বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

alt
এই নির্বাচনকে ঘিরে পরবর্তীকালে রাজনৈতিক আন্দোলন দানা বাঁধার আশঙ্কা না থাকার আরেকটি কারণ হচ্ছে, এর মাধ্যমে তো কোনো দলের ক্ষমতা থেকে বিদায় বা ক্ষমতায় অভিষেকের সম্পর্ক নেই। ভোটারদেরও এ বিষয়টি নিঃসন্দেহে মাথায় থাকে। বরং এর মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে। কারণ যে পৌরসভাগুলোতে নির্বাচন হচ্ছে, সেগুলোর নির্ধারিত মেয়াদ শেষেই নতুন প্রশাসন আসবে। আগে অনেক ক্ষেত্রে নানা গড়িমসি করে নির্বাচন পিছিয়ে যেত; এবার সেটা ঘটেনি। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে সাধুবাদ দিতে হয়। দিতে হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কেও। কারণ তাদের সবুজ সংকেত ছাড়া এই নির্বাচন আয়োজন সম্ভব ছিল না।
সব মিলে, আমি মনে করি নির্বাচনের আদর্শ একটি পরিবেশ বিদ্যমান। আমরা জানি, শীতকাল হচ্ছে নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে ভালো সময়। এই নির্বাচন শীতকালেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে যেসব উত্তেজনা ও রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি এখন দেখা যাচ্ছে, তাও মোটা দাগের বাংলাদেশি নির্বাচনী সংস্কৃতি থেকে বাইরে নয়। এমন উত্তেজনা চলতে চলতে প্রচারকাজ নিষিদ্ধ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পরই আসলে নির্বাচন 'উৎসবমুখর' হয়ে ওঠে। আর এবার যেহেতু বিরোধী দলের দিক থেকে নির্বাচন 'প্রতিরোধের' ঘোষণা নেই, বরং সাগ্রহ অংশগ্রহণ করেছে, ফলে এই নির্বাচন কেবল উৎসবমুখর হবে না, শান্তিপূর্ণও হবে বলে আমার ধারণা।
আমরা দেখছি, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে নির্বাচন কমিশন এবার শুধু সতর্কীকরণে সীমিত থাকছে না; কিছু কিছু ক্ষেত্রে অর্থসহ অন্যান্য দণ্ড প্রদানের দৃষ্টান্তও স্থাপন করছে। নির্বাচনের দিন এ ধরনের পদক্ষেপ আরও বাড়াতে হবে, অন্যথায় নির্বাচন কমিশন বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেঁরোর খপ্পরে পড়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন যদি একদিনে গোটা দেশে আয়োজন না করে থেমে থেমে কয়েকদিন ধরে বিভাগওয়ারি অনুষ্ঠিত হতো, তাহলে সেটা আরও ভালো হতো। এতে করে সীমিত জনবলের সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব হতো। এবার যে সামান্য কিছু ক্ষেত্রে আচরণবিধি লঙ্ঘন সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, তাও এড়ানো যেত।
একই সঙ্গে আরেকটি বিষয় আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তা হচ্ছে, নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা জানি, বিশ্বব্যাপী যে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে, তার ছোঁয়া বাংলাদেশেও লেগেছে। কারণ আমরা কোনো মরূদ্যান বা বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নই। সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছে_ যেমন বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলা, তাজিয়া মিছিল-পূর্ব সমাবেশে হামলা, শিয়া ও আহমদীয়া সম্প্রদায়ের মসজিদে হামলা_ এসবই সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য শঙ্কাজনক; ভোট গ্রহণের দিন ও তার আগের দিনগুলোতে এসব বিষয় আরও বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে ও পরে যাতে কোনো পক্ষ ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে, সে জন্যও অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনের 'আদর্শ' পরিবেশ এখনও রয়েছে বলে আত্মপ্রসাদের সুযোগ নেই।
অধ্যাপক, লোকপ্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; চেয়ারম্যান, জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক পরিষদ, জানিপপ


মন ভালো নেই -------রওশন হাসান

শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫

R Hasan Baps New

তুমি সেদিন এসেছিলে বলে
বৃক্ষে লাল-হলদে পাতার বৃষ্টি  ঝরেছিলো
পথের দু'ধারে ফুটেছিলো কত বনফুল, নদীটি ছাপিয়ে দুকূল
জানিয়েছিলো একাত্মতা
ভ্রাম্যমাণ তারারা জ্বলা-নেভায়
দিয়ে ইশারা,নানা ভঙ্গিতে
লিখেছিলো শায়েরী সংকলন
প্রহর হয়েছিলো আপ্লুত আধখানা চাঁদের হাসিতে, অকপটে মেঘেদের ভেসে যাওয়া আকাশের পথে l
সেই মুখোমুখি, চোখাচোখি
অনুভূতির মাখামাখি
তবুও কিছু ছিলো বাকী
আসা-যাওয়া, চঞ্চল হাওয়া
প্রাণে প্রাণে ছিলো চাওয়া-পাওয়া
তবুও হয়নি বুঝি পরম পাওয়া l
সহস্র বছরের পথপানে চাওয়া অশ্রুপাত
হলো না যবনিকাপাত
আজ সারাদিন বিষাদর্পব, সারাদিন তুষারপাত,
নিবিষ্ট আচ্ছন্নতায়
আমি তোমাতে হারিয়েছি কবে সেই
ওপাশে বিপরীতে তোমার একাকীত্বের দীর্ঘশ্বাস
 লুন্ঠন করে আমার যতো উচ্ছ্বাস
ভাবাবেগের বিচ্ছিন্নতায় রঙহীন আমি
মোহগ্রাসে আশাহত হয়ে রই
মন ভালো নেই, মন ভালো নেই।


ভবঘুরে পাখি বড়ঠোঁটি গাংচিল - আলম শাইন

শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৫

আলম শাইন : ভবঘুরে প্রজাতির পাখি। সিøম গড়ন। উপকূলীয় অঞ্চলের নদ-নদীতে দেখা মেলে। বিচরণ করতে দেখা যায় বালুবেলাতেও। এছাড়া কৃষি জমিতে বিচরণ রয়েছে। মিঠা জলের চেয়ে লবণ জলে বিচরণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। সাগরের কাছাকাছি এলাকায় বেশি দেখা যাওয়ার মূল কারণই এটি। বিচরণ করে ঝাঁক বেঁধে। কলোনি টাইপ বাসা বাঁধে। চলাচলরত নৌযানকে অনুসরণ করতে দেখা যায় প্রায়ই। নৌযানের পেছন পেছন চক্কর মেরে উড়ে জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে। স্বভাবে শান্ত। ঝগড়াঝাটি পছন্দ নয়। তবে নিজেদের মধ্যে কমবেশি ঝগড়া বাধে। এ সময় বিরক্ত হয়ে কর্কশ কণ্ঠে ডেকে ওঠে ‘ক্রাআ-ক্রাআ’ সুরে। প্রজাতির উপস্থিতি দেশে সন্তোষজনক। শিকারি পাখি ব্যতীত এদের পারতপক্ষে কেউ তেমন একটা বিরক্ত করে না। ফলে এরা আমাদের দেশে ভালো অবস্থানে রয়েছে বলা যায়।
ভবঘুরে পাখি বড়ঠোঁটি গাংচিলবাংলাদেশ ছাড়াও বৈশ্বিক বিস্তৃতি, পূর্ব এশিয়ার উপকূল, উত্তর আমেরিকার, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, নিউজিল্যান্ডে ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা যাওয়ার তথ্য রয়েছে। সোজাসাপ্টা বলতে গেলে একমাত্র এন্টার্কটিকা মহাদেশ ছাড়া বাদবাকি সব মহাদেশেই কমবেশি নজরে পড়ে। পাখির বাংলা নাম: ‘বড়ঠোঁটি গাংচিল’, ইংরেজি নাম: ‘গাল-বিল্ড টার্ন’ (এঁষষ-নরষষবফ ঞবৎহ), বৈজ্ঞানিক নাম: এবষড়পযবষরফড়হ হরষড়ঃরপধ। এরা ‘কালাঠোঁট পানচিল’ নামেও পরিচিত।
দৈর্ঘ্য ৭৬-৯১ সেন্টিমিটার। ওজন ১৫০-২৯২ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম। প্রজনন পালক ভিন্ন। মাথায় টুপি আকৃতির ঘন কালো পালক, যা ঘাড় অবধি নেমে গেছে। ঘাড়ে মিশে যাওয়া কালো অংশ ছাড়া ঘাড়ের দু’পাশ সাদা দেখায়। পিঠ ও ডানা ধূসর। লেজ গাঢ় ধূসর। দেহতল ধবধবে সাদা। ওড়ার পালক সাদা। চোখের বলয় কালো। ঠোঁট মোটা কালো। পা ও আঙ্গুল কালো।
প্রধান খাবার ছোট মাছ, সামুদ্রিক কৃমি। এছাড়াও বালুচরে ঘুরে পোকামাকড়, সরীসৃপ, শুককীট খেতে দেখা যায়।
প্রজনন মৌসুম মধ্য মার্চ থেকে মে পর্যন্ত। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। জলাশয়ের কাছাকাছি বেলাভূমি এলাকায় ঘাস, লতাপাতা বিছিয়ে বাসা বানায়। ডিম পাড়ে ২-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২২-২৩ দিন। শাবক শাবলম্বী হতে সময় লাগে ২৮-৩৫ দিন।
লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।


কাঙ্খিত ১৬ই ডিসেম্বর - জান্নাতুল ফেরদৌস তন্বী

বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫

মুক্ত আকাশ
সূর্যটা যেন রক্তলাল
¯িœগ্ধ সবুজ মাঠের বুকে
ফসলেরা তুলেছে রঙ্গীন পাল
রাজপথ জুড়ে শুনি আজ
সেই একাক্তরের গুঞ্জন
বাংলার রাজ পথে বাজে
বীর যোদ্ধাদের পদধ্বনি
হে বিজয় তবে কি তুমি এসেছো
ত্রিশ লক্ষ্য শহিদের প্রানের সন্ধান দিতে
তবে কি এসেছো ছেলেহারা মায়ের
বুকে একটু সুখের ছোঁয়া দিতে
হে বিজয় কি এসেছো সত্যিই?
ষোল কোটি বাঙ্গালীর মনে শিহরণ জাগাতে
তুমি এসেছো কি
শহীদদের অগাধ রক্তের দাম দিতে
কোটি বাঙ্গালীর রক্তের বিনিময়ে
আজকের এই কাঙ্খিত ১৬ই ডিসেম্বও মহান বিজয় দিবস।
Tonn
শিশু কবি জান্নাতুল ফেরদৌস তন্বী
এসএসসি পরীক্ষার্থী ২০১৬
বাজিতপুর রাজ্জাকুন্নেছা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ।


Strategies for Reducing Secular and Sacred Crisis in Bangladesh - Mohammad Ahsanul Karim

বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

Democracy
In his historical speech, US President Abraham Lincoln said “--this nation, under God, shall have a new birth of freedom; and that government of the people, by the people, for the people, shall not perish from the earth”. The first part of his statement on democracy is freedom of the people. The other part of statement on democracy is government of the people.
Except freedom, the concept of equal rights of the people as democratic human rightsdid not yet developed in the USA at the time of President Lincoln. Without equal rights,freedom of the people is undefined, incomplete, conflicting, and unprotected.Almost a hundred years before President Lincoln, French philosopher Rousseau preached the ideology of Liberty and Equality of the people in Europe as fundamental human rights.   
A human life is comprised of social, economic, cultural and political issues. Democracy is not ideologies for running those lives. It is an inductive and situational political system that ensures equal/equitable rights, freedom, non-conflicting people’s relations and protection of the citizens in a state for those. So, freedom of religions, ideologies and sciences for running individuals social, economic, cultural and political lives are also protected in democracy based on equal/Equitable rights.
Inmodern era,many social, economic, cultural and political initiatives are inseparable and run concurrently for technologies and interdependencies. Without laws, institutions and regulations state life is poem or anarchy and rule of might rather a political systems. While excessive regulations with laws is autocracy or bondage. Both extremes are undesirable for human lives. The Democratic structures and institutions can reduce the both extremes into desirable political systems.

Religion and Democracy
Religion played the most important role in history of civilization by its family-social statues and institutions. The inheritance statues primarily generate political economic system, while marriage statues primarily generate political social system. As those are not similar, family statues of different religions generated different social systems and evolutions in history.
As Economics has no theory, religious inheritance statues still play the major role in capital distribution. The monopolistic or undemocratic inheritance statues as like as Roman-Catholic generate oligarchic economic system and antagonistic economic inequalities, classes and relations. While quasi-democratic family inheritance statues as like as Hindu-Buddha generate static social classes and quasi-competitive economic system.
Both the family statutes of Christian-Islam religions are democratic and generate competitive market economy. Both do not generate antagonistic economic or social classes, relations or inequalities. But Equal-democratic Cristian family statutes produce increasing divorce and other crises. While Equitable-democratic Islamic family statues minimizes those.
Social or citizen statues of both Christian and Islam religions are equal-democratic. Both the Christian-Islamicfamily statues generate representative government system in larger state. Christianfamily statues with representative government system is Christian-Democracy; whileIslamic family statues with representative government system is Islamic-Democracy. Thought there have some difference but Christian-Democracy and Islamic-Democracy are congruent and is not conflicting.
Though France enacted in 1790 as state laws during Democratic Revolution, Europe gradually replaced the Christian democratic inheritance laws after World War I (Britain in 1925) to get rid the curse of Feudalism-Capitalism i.e. oligarchic economic systems of Roman-Catholic inheritance statues, People got release of long antagonistic economic and citizen rights crises with these new laws, but fell into increasing divorce and others family crises concurrently. With the spread of Islam since 7th century, the curse of those crises minimized in Africa and Asia.
With development of democratic state, citizen laws have become equal rights as like as Social statues of Christian-Islamwith religious freedom. Undemocratic family statues of ancient religions are also replacing by Christian or Islamic one for better/democratic human rights. Social Sciences are also becoming major sources for many state and citizen issues. Religious statues are deductive and dogmatic, while social sciences are inductive and situational. The democratic family-social laws is one among the fundamental other institutions.
M A Karim
SAI Institution and Democracy
Ancient initial states were small and gradually integrated into larger unitary or federal states. Most modern larger states are sub-divided into Provinces/Regions, Districts/Counties, sub-Districts/Counties and Cities/Villages. Structure of hierarchical sub-divisions of national area forms the State Area Infrastructure (SAI) institution of local division and national integration.  
Anarchic, autocratic or democratic SAI institution also generates corresponding social, economic, cultural and political relations, values and culture among the citizens. The role/impact gradually decrease in lower stages sub-divisions. As first sub-division, region/division is most important for the character of the larger state as well as citizen relations, rights and culture in the state.
Historical studies of the model states says that hierarchical sub-divisions into NINE sub-unites is best democratic for a unitary state. Its democratic character gradually decreases when sub-divisions increases; and becomes more and more anarchic when it is over Thirteen unites or more. Its Democratic character also gradually decreases when sub-divisions decreases and becomes more autocratic when it below Five unites or less.  
The forces, relations and culture generated from the SAI institution are natural, structural, inductive and unbiased. It can be changed, increased or decreased by the law institutions. With the increase of area and population, personal relations among citizens gradually decrease and role of the SAI institution becomes more influential in generating anarchic, autocratic or democratic relations and culture among citizens.
Bangladesh inherited autocratic SAI institution with four unites or less in three hierarchical sub-divisions. It also accelerated autocratic cries during 1972-81 in unitary state. This author proposed for democratic SAI institution reform (1982). As Bangladesh had not been divided into proposed NINE Divisions after creating 64 Districts (1984), the SAI institution turned into anarchic and generated increasing anarchy. The SAI institution of square Bangladesh has become democratic after creating 8th division (October, 2015). After creating the 9th Division, the Terrorism/Radicalism would reduce for developing democratic values and culture out of the higher democratic SAI institution.    

Bicameral Parliament and Democracy
Relation between Bicameral Parliament and democratic governing is well tested since ancient era. Though it have some limitations, but Bicameral Parliament ensures many democratic advantages. Greek states were less democratic as it was based on Unicameral Parliament. While Roman Democracy was higher democratic and prosperous as it was based on Bicameral Parliament. The Bicameral Parliaments at federal and state levels are fundamental institutions for the US Democracy.
Samuel Huntington could not identified that Bicameral Parliament and democratic SAI institution are basic institutions of consolidating democratic government. 47 republican states were transited to democratic government system in 1st and 2nd Waves. 11 states were successful in consolidating that as those enacted Bicameral Parliament. Only 3 states among the 36 were successful in consolidating democratic government with Unicameral Parliament which have democratic SAI institution.    
Though the Parliament is elected but the parliamentary government based on unicameral parliament and party control system is autocratic. Its autocratic character increases with the higher share of the government in parliament. It produces cyclic higher majority of two parties/fronts and ends by People’s Uprise or Coup when it is brutal. Bangladesh suffers from political crises of autocratic governing since constituting this type of parliamentarygovernment system.
Autocratic government always abuse the public authority for private interest. The minor opposition parties always become terrorists especially the radical ones when government parties becomes higher autocratic and animatic. Democratic government and SAI institutions always reduces terrorism by ensuring democratic environment, equitable and freedom rights, participation, dialogue, and changing leaderships.  

Secular vs. Sacred Crisis
Islam, Bangla language and Bangali-Culture are integral issues of 90% Bangladeshi Muslim people over thousand years. Bangladesh emerged from two democratic and nationalist Movements. After Partition-Independence of 1947, increased emotion of Muslim Nationalism was decreased. Similarly, after Partition-Independence of 1971, increased emotion of Bengali Nationalism also was decreased. Now Bengali-Muslim Ethnic population is over 90%. Other Bengali religious-ismic Ethnics are below 10.0%. Atheist-Communists may not be over 0.5%.  
Nationalism, Socialism, Democracy and Secularism were crafted as Basic Principles of state-governing in the Constitution of Bangladesh. Democracy and Socialism is contrary ideologies. Secularism with Democracy refers religious neutrality and freedom. It is not against Religion. But Secularism with Socialism refers non-religion and is against the Faith of 99.0% people including 90% Bangali-Muslim people in Bangladesh.
The Constitution (1972) was crafted against the Democratic Movement of 6 Points, People’s Mandate and Proclamation of Independence as well as culture of Bangladesh. Consequently, it generated additional emotion of Muslim nationality. It also has helped to revive Islamist parties/forums defeated in 1971. As a result, people of Bangladesh has gradually polarized into Bengali (Bengali-Muslim) and Bangladeshi (Muslim-Bangali)nationalisms. Wilson Scholar Ambassador Milam identifies this scissors crisisas Burden of History.
Socialist occupation in Afghanistan, Islamic Revolution in Iran, Saddam-Gaddphi’s pro-socialist autocracies, snow-balling of Islamic extremists, inhuman combating of Islamic extremism, etc. also have increased religious emotions in Bangladesh. For maintaining 4 Divisions after creating 64 Districts (1984), the SAI institution had generated increasing anarchic values. Increasing anarchic values coupled with increased religious emotion driven some to extremism. Under this condition, extremist Atheists-Marxists striking on the Faith of the Islamic extremists have increased the crisis of secular and sacred.    

Remedy and Conclusion
Islam cannot be separated from the life-philosophy of 90% Bangladeshi Muslims without replacing a better one. Islamic family and social institutions coupled with agriculture-environment of alleviated soil have made People of Bangladesh inherent liberal. If the governing institutions and the SAI institution is made democratic, the both shall generate more liberal and democratic values and culture. Consequently, conflict and crisis between the secular and sacred would gradually reduce and ultimately would eliminate.
In a Seminar on 26 February, 2012,this author advised for creation of Mymensingh and Comilla Divisions and Bicameral Parliament. Government has created Mymensingh in October, 2015. Still enacting Bicameral Parliament is less discussed as South Asia had no tradition of Parliament before 20th century.
Now the most important steps for eliminating Islamic extremism in Bangladesh are enacting Bicameral Parliament and creating Comilla Division for democratic institutions and regulations in development of liberal minds and culture (Unpublished).
================
*Mohammad Ahsanul Karim is conceptual initiator of the incomplete basic democratic structural and institutional reforms in Bangladesh since 1982. He is author of the books, Progressive Democracy (1991) and Points of ConstitutionAmendment (2011) and few articles on democratic reforms. He was a Deputy Secretary of Bangladesh Government.


বঙ্গবন্ধুকে ‘ভারতের দালাল’ বানাতে কারা উদগ্রীব ছিল?

বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৫

একইসঙ্গে ওই প্রামাণ্যচিত্রে ত্রিপুরার খোয়াইয়ের তৎকালীন সাবডিভিশনাল অফিসার স্মরজিৎ চক্রবর্তীর ১৯৬২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ডায়েরির পাতা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ‘শেখ মুজিবুর রহমান নামে একজন ব্যক্তি এবং তাঁর সঙ্গে আমীর হুসেন এবং টি চৌধুরী (মনে করা হচ্ছে তারেক চৌধুরী) আসারামবারিতে (খোয়াই আর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত) পৌঁছেছেন আজ দুপুর একটায় এবং তাদের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট বা জেলাশাসকের নির্দেশে তেলিয়ামুড়ায় পাঠানো হয়েছে’।

এমনকী প্রামাণ্যচিত্রের গবেষক মানস পালের ভাষায় ‘ত্রিপুরার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্রলাল সিংহ শেখ মুজিবের আর্জি পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন নেহরুর কাছে। তবে আইএসআই এই খবর জেনে যাওয়ায় তাঁকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর জন্য কিছুটা আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন হয়েছিল। তাঁকে পুশব্যাক করার আগে নিয়মরক্ষার জন্য একরাত আগরতলায় জেলে রাখতে হয়েছিল’।

ওই বিষয়টির স্বপক্ষে ১৯৮১ সালে ভারতের বিকাশ পাবলিশিং হাউজ থেকে প্রকাশিত অশোকা রায়না’র ‘ইনসাইড র (আরএডব্লিউ): স্টোরি অব ইন্ডিয়াজ সিক্রেট সার্ভিস’  গ্রন্থ ছাড়াও ২০১৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান অবজারভারে প্রকাশিত ব্রিগেডিয়ার আসিফ হারুন রাজা’র নিবন্ধ ‘মুজিব সট্ ইন্ডিপেনডেন্ট বাংলাদেশ’ অর্থাৎ ‘মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন’ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তবে পাকিস্তান অবজারভারে প্রকাশিত নিবন্ধটির আগে ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আগরতলা মামলার অন্যতম আসামী ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী পয়েন্ট অব অর্ডারে আগরতলা মামলার অভিযোগকে সত্য বলে স্বীকার করে নেন। তার ভাষায় সেখানে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে শুনানির প্রথম দিনই যে অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হয় তার সবটাই ছিল সত্য’। তিনি আরো বলেন, ‘সশস্ত্র বিক্ষোভে পূর্ব পাকিস্তানকে মুক্ত করতে আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেছিলাম’।

Picture

এ সময় সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ আগরতলা মামলার পূর্বাপর নিয়ে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মামলাটি প্রত্যাহার বিষয়ে আলোকপাত করেন। আগের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বাস্তবে আগরতলা মামলার অভিযুক্তরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন’। এই বিচ্ছিন্নতাবাদের মামলাটি পাকিস্তান সরকার তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করেছিল।

কিন্তু অশোকা রায়না’র ‘ইনসাইড র: স্টোরি অব ইন্ডিয়াজ সিক্রেট সার্ভিস’ গ্রন্থের ৫০ পৃষ্টায় ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ বিষয়ে কী রয়েছে? এতে বর্ণিত- আগের ঘটনার সূত্র ধরে ঘটে যাওয়া পর্যায়ক্রমিক ঘটনাবলি (ছোট কিংবা বড়) সবিস্তরে তুলে ধরা দুরূহ। তবে ‘র’-এর ‘বাংলাদেশ অপারেশন’-এ সংশ্লিষ্ট কাউকে অনুধাবন করতে সূচনালগ্নের পর্যাক্রমিক ঘটনাবলি পর্যালোচনা করতেই হবে। কিন্তু ততদিনে ভারতীয় এজেন্টরা পূর্ব পাকিস্তানের ‘প্রো-মুজিব’ বা ‘মুজিবপন্থী’ একটি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। আগরতলায় ১৯৬২-৬৩ সালে ভারতীয় এজেন্ট ও মুজিপন্থীদের মাঝে অনুষ্ঠিত বৈঠক পরবর্তী গৃহীত কার্যক্রম থেকে তার সুষ্পষ্ট ধারণা মেলে।

কর্নেল মেনন যিনি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও মুজিবপন্থী অংশের মাঝে সংযোগ রক্ষাকারী ছিলেন (আসলে কর্নেল মেনন ছিল শংকর নায়ারের গৃহীত ছদ্মনাম), তিনি আগরতলা বৈঠকের পর ইঙ্গিত পান যে, মুজিবপন্থীরা আন্দোলন শুরু করতে যথেষ্ট সচেষ্ট। কর্নেল মেনন তাদের এই বলে সতর্ক করে দেন যে, তার মতে ‘সঠিক ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে পৌঁছার সময় এখনো হয়নি’। এক্ষেত্রে তারা যে পরিকল্পনা নিয়েছে তা অসম্পূর্ণ এবং তাতে বিফল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কর্নেল মেনন সঠিকই বলেছিলেন, ‘তারা অস্ত্রের জন্য বেপরোয়া হয়ে ওঠে’ এবং ঢাকার ‘ইস্ট বেঙ্গল রাইফেলস’-এর অস্ত্রাগারে হামলা চালায়, কিন্তু তা সফল হয়নি।

সেটি একটি বিপর্যয় ডেকে আনে, যেমনটি কর্নেল মেনন ধারণা করেছিলেন। ওই ঘটনার কয়েক মাস পর ৬ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সরকার ঘোষনা দেয় যে, ভারতের সাহায্যে পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার চক্রান্তে জড়িত থাকায় ২৮ জনের বিচার করা হবে। শেখ মুজিবকেও ১২ দিন পর একজন দোষী হিসেবে যুক্ত করা হয়। এ মামলাই পরবর্তীতে ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

অমানবিক নির্যাতনের মুখে কামালউদ্দীন আহমেদের ‘সত্য বলে’ স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে অভিযোগটি গঠিত হয়। পাকিস্তানি পত্রিকা ডন-এ হাইকোর্টের যে বিবরণী প্রকাশিত হয়, তাতে উল্লেখ করা হয়, ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে ‘মেজর মেনন’ ও ‘কর্নেল ত্রিপাটি’ নামে দুজন ভারতীয় এজেন্টের যোগাযোগ ছিল। এটি নিশ্চিত যে, পাকিস্তান সরকার ভারতকে সংশ্লিষ্ট করতে এদের উল্লেখ করে, তদুপরি তাদের প্রাপ্ত তথ্যাদি পূর্ণতা পায়নি। তারা এ দুজন কর্মকর্তার পদমর্যাদা নির্ধারণেরই ভুল করে, প্রকৃত অর্থে যারা ছিলেন ‘কর্নেল মেনন’ ও ‘মেজর ত্রিপাটি’, যা পাকিস্তানিদের ধারণা মতে উল্টোটা নয়। এই হচ্ছে ইনসাইড ‘র’ গ্রন্থে আগরতলা মামলা বিষয়ক উপস্থাপন।

আর পাকিস্তান অবজারভারে প্রকাশিত নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে- ১৯৬৩ সালে মৌলভী তমিজউদ্দীন ও খাজা নাজিমউদ্দীনের মৃত্যুর পরের বছরই ১৯৬৪ সালে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুতে পাকিস্তানকে একীভূত রাখার পূর্বাঞ্চলীয় ‘সেন্ট্রিফিউগাল ফোর্স’ বা ঘূর্ণনশক্তির অনুপস্থিতি মুজিবুর রহমানকে আঞ্চলিকতা ভিত্তিক বিচরণে মুক্তবিহঙ্গ করে দেয়। ১৯৬৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের সহায়তায় সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানকে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করতে মুজিবের নেতৃত্বে একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠিত হয়। ভারত কেবল অস্ত্র ও অর্থ দিতেই সম্মত হয়নি, বরং চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে দুই অঞ্চলের মাঝে বিমান ও নৌপথ বন্ধেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ভারতের সহায়তায় স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে এই ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটিত হয় মুজিবসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে।

লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের ডায়েরিতে তার বিশদ পরিকল্পনাটি রয়েছে। অশোকা রায়নার গ্রন্থ ‘ইনসাইড র: স্টোরি অব ইন্ডিয়াজ সিক্রেট সার্ভিস’-এ মুজিব নেতৃত্বাধীন টিমের সঙ্গে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার পরিকল্পনাটির উল্লেখ রয়েছে। অথচ মুজিব সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, কিন্তু ১৯৭২ সালে তা প্রকারান্তরে স্বীকার করেছেন। জি ডব্লিউ চৌধুরীর ‘দ্য লাস্ট ডেইজ অব ইউনাইটেড পাকিস্তান’ বইয়ে লিখেছেন, ‘মুজিব বাঙালিদের জন্য নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বেশি আগ্রহী ছিলেন’। ওই বইয়ের লেখকের ভাষায়, ‘আমার সঙ্গে মুজিবের সুদীর্ঘ আলোচনায় আমি উপলব্ধি করেছি তিনি কখনোই সম্মিলিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি হতে আগ্রহী ছিলেন না। তার ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশ নামের নতুন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া’।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর মুজিবের ভাষ্যসহ ভারতীয় ও পশ্চিমা লেখকদের বিবরণী থেকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, মুজিব ছিলেন ‘ইন্ডিয়াজ ম্যান’ বা ভারতের লোক এবং সব সময়ই স্বাধীনতা চেয়েছেন। তিনি স্বাধীনতার লক্ষ্যটি অর্জন করেছেন, প্রথমে অর্থনৈতিক বৈষম্যতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং পরে আঞ্চলিক স্বায়ত্বশাসন দাবি করে পূর্ব-পশ্চিমের বৈষম্য দূরের দাবিতে।

ছয়-দফা দাবিটি স্বায়ত্বশাসনের ছিল না, ছিল বিচ্ছিন্নতার। অথচ শেখ মুজিব, তাজউদ্দীন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও কামাল হোসেন ১৯৭১ সালের ১৫-২৪ মার্চ ঢাকায় জেনারেল ইয়াহিয়া ও তার টিমের সঙ্গে সমঝোতার আলোচনায় বসেছেন, কিন্তু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তটি তারা আগেই নিয়ে রেখেছিলেন এবং তা ছিল অপরিবর্তনীয়। তারা মুখোমুখি কনফেডারেশনের কথা বললেও বিচ্ছিন্নতাই চেয়েছিলেন। তাই পরিশেষে এই নিবন্ধে বলা হয়েছে, হামিদ মীর ও নাজাম সেথীর মতো পাকিস্তানি সাংবাদিকরা এবং অন্যরা ভারতীয় মন্ত্রেই প্রচারণা করে বেড়ান যে মুজিব মিওয়ালী জেলে থাকতে পাকিস্তানি মনোভাবাপন্ন ও ভারতবিদ্বেষী স্মৃতিচারণ করেছেন। এতে মুজিব সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে যে, তিনি ১৯৭০-৭১ সময়ে ছয়-দফার অবস্থানটি ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন করেছেন, অথচ ১৯৭২ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সম্মিলিত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী না হতে পারার বিষয়টি নিয়ে কখনোই অনুশোচনা প্রকাশ করেননি।

বাস্তবে, শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার আগরতলা মামলায় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে সশস্ত্র বিপ্লবে বিচ্ছিন্ন করার গুরুতর অভিযোগ আরোপ করে। এই সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত নেভি ষ্টুয়ার্ড মুজিবুর রহমান ও শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ আলী রেজা আগরতলায় গিয়েছিলেন। সেটি পাকিস্তান গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় ডাইরেক্টরেটের কমান্ডার লেফটেনেন্ট কর্নেল সামসুল আলম উন্মোচন করতে সক্ষম হন। সেটা সম্ভব হয়েছিল যখন তিনি জীবনের ঝুকি নিয়ে এই মামলার আসামী ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কর্মকর্তা রউফ উর রহমানকে তাড়া করতে সক্ষম হন এবং সেজন্য ‘সেতারায়ে বাসারাত’ পান।

ফলে ১৯৬৭ সালে ওই মামলার চক্রান্তে প্রায় ১৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে সশস্ত্র বিপ্লবের বিষয়টি ঘোষনা দেয়। ওই বছরের ১৮ জানুয়ারি মুজিবকেও তাতে অভিযুক্ত করা হয়। পরে একই বছরের ৯ মে সকলকে গ্রেফতার করে চূড়ান্তভাবে সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার কোর্ট মার্শালের প্রস্তুতি নেয়। পরে সত্তরের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে মামলাটি সাধারণ কোর্টে স্থানান্তরিত হয় এবং সে অনুযায়ী আসামীদের ঢাকা কেন্টনমেন্ট থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। মামলায় ২২৭ জন স্বাক্ষী ও ৭ জন রাজস্বাক্ষী ছিলেন।

অবাঙ্গালী বিচারপতি এস এ রহমানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারকদের মাঝে অপর দুই বাঙ্গালী বিচারক ছিলেন- এম আর খান ও মাকসুমুল হাকিম। আর আসামীদের বিরুদ্ধে সরকারকে প্রতিনিধিত্ব করেন এটর্নি জেনারেল টি এইচ খান এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মঞ্জুর কাদের। শেখ মুজিবের পক্ষে ব্রিটিশ আইনবিদ থমাস উইলিয়ামসসহ স্থানীয় আইনজীবিরা অংশ নেন। এতে কোর্টে রাজস্বাক্ষীরা তাদের বক্তব্য চাপের মুখে দিয়েছিলেন বলে জানান। জনগণ তাতে বিস্ময় নিয়ে দেখেছে কী করে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসনের দাবিতে উচ্চকিত মুজিবকে ‘ভারতের দালাল ও বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বানাতে পাকিস্তান সরকার উদগ্রীব হয়ে উঠে। কিন্তু গণআন্দোলনের কারণে সরকার রায় ঘোষণার তারিখটি ১৯৬৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মুলতবী করলে, ১৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মামলার আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হক-কে তার কারাকক্ষের দরজায় জনৈক হাবিলদার কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করে।

এতে ক্ষিপ্ত গণআন্দোলনকারীরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন এবং অপরাপর ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়, যেখানে মামলার প্রধান কৌশলী ও ট্রাইবুনালের প্রধান অবস্থান করছিলেন। ঘটনায় তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হলেও মামলার বেশ কিছু ফাইল ও প্রমাণাদি পুড়ে যায়। তাতে এক সপ্তাহের মাথায় ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয় এবং সকল আসামীকে মুক্ত করে দেয়। পরিণতিতে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রমনা রেসকোর্স ময়দানে আয়োজিত সকল আসামীর এক বিপুল গণসংবর্ধনায় শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এই ঐতিহাসিক ঘটনার এক মাস না যেতেই অর্থাৎ একই বছরের ২৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের কাছ থেকে বাংলার নরঘাতক ইয়াহিয়া খান ক্ষমতা ছিনিয়ে নেয়।