Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

ফকির ইলিয়াস এর কবিতা ( নিউইয়র্ক )

মঙ্গলবার, ০২ মে ২০১৭
 

বিনয়ী কোদাল হাতে

ভাবনাগুলো লেখকের নিজস্ব অথবা মতামতের জন্য সম্পাদক
দায়ী নহেন, এমন কিছু নিয়মাবলি মেনে শুরু হয় দুপুরের দ্বৈত
জ্যোতিকরণ। বিপণন প্রভাতের কাছে বন্ধক রেখে মানুষের মেধা
সূর্য উঁকি দেয় এই ভূপালে, কেউ কুড়োয় রোদ- কেউ কুড়োয় কষ্ট
আর কেউ ঘামলব্ধ সংবিধানে হামাগুড়ি দিতে দিতে ভিজায় গামছা।

কারো মতের জন্য কাউকে দায়ী থাকতেই হয়। কারো চেতনার
বিকাশ ঘটাতে কাউকে মেনে নিতে হয় গারদের লৌহজীবন।
গাণ্ডিব হাতে উষর মরুর দিকে কিংবা কোদাল হাতে চৈত্রের
খরার দিকে তাকাতে তাকাতে , বলে দিতে হয়
আমি ভেঙেছি আল, তুমি পারো তো ভেঙে দিও সব আর্যবলয়।

প্রকাশিত ভবিষ্যতের দিকে

কারারক্ষীর ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দরোজা। আমরা
অতিক্রম করবো বলে ভেদ করছি সবটুকু সংবেদ, আর
পালিয়ে বেড়ানো রাতের পালকে মুখ গুঁজে অনেকটা
পার করে দিতে চাইছি ঘোর মৈথুনের কংক্রিট কালাকাল।

জমাট ভোরগুলো তাকিয়ে আছে প্রকাশিত ভবিষ্যতের দিকে
মিথাশ্রয়ী পায়ের নুপুর বেজেই চলেছে। মধ্যরাতের পর বাঈজী
তারাদের নাচ থেমে গেলে মাটিও যেমন নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

আবার জড়িয়ে ধরার উষ্ণতা খুঁজে কে যেনো হারায়, কে যেনো
জাগে । মাথার উপর ঝুলে থাকে কিছু দণ্ডাদেশ , কিছু পদছাপ।

Picture

সাজানো জলের ছায়া

কিনারার কদর জানে নদী। ভাঙার শব্দ পেলেই ছাড়ে
নি:শ্বাস আর তাকায় নিজের উচ্চতার দিকে।ঢেউ এলে
যে গভীর শ্রাবণের নিদ্রা আমাদের দুপুর ঘিরে রাখে,ঠিক

তেমনি কোনো ছায়াকে সাজায় নদী, বিভাসূত্রের তন্দ্রায়।

জীবন তন্দ্রা ভালোবাসে।
আর ঋতু ভালোবাসে একটু উষ্ণতা

নদীতে বটপাতা ভাসিয়ে কার মুখ দ্যাখে ঋতু
কার অনামিকা বাজায় দোতারার গোধূলিয়া সুর ! 

পরিণয়ের নেপথ্য কাঠি

কেউ হাত বুলিয়ে দেয়। মাথায় ,মননে চাঁদের বিন্দু জমে
নামে মেঘ। ভারী বর্ষণ হবে রাতের নদীতে। জলে জল মিশে
একাকার হয়ে যাবে প্রাণের পরত। শরত এলে কাশফুলে ভরে
যাবে বন, এমন গুন্জন নিয়ে ভোর এসে ডাকে কাছে , এসো

মানব-মানবী । ভাবি , এই হাত কার ? কোন জনম তার গর্বের
আকাশে প্রথম ছড়িয়েছিল রঙের নিদ্রা। ঢুলুঢলু চোখে সমুদ্র
সান্নিধ্যে গিয়ে বসেছিল একজোড়া দোয়েল। তবে কি তাদের
হাতেও ছিল পরিণয়ের নেপথ্য কাঠি। এতোটুকু নতুন নৃত্যমেঘ !

সার্বজনীন সন্ধ্যার ঘ্রাণ

বলয় নিয়ে বাড়ন্ত আকাশের ও একটা গৌরব থাকে। দিন
কিংবা রাতের শরীরে নির্মাণ করে যাবার প্রহর এবং প্রত্যয়
ধারন করে শিল্পীর চোখ তাকায় জ্বলন্ত ইচ্ছেগুলোর দিকে।
কে পোড়ায় এই প্রতিশ্রুতির নন্দন কানন! কার পদছায়া
জমা থাকে মনের শোকেসে! কোন নিখিলের প্রথম অভিজাত
অভিষেকে বার বার প্রবাহিত হয় সারিবদ্ধ মানুষের বিমূর্ত পরাণ।

অনেক মেঘ উড়ে। অনেক সার্বজনীন সন্ধ্যার ছায়া মাড়িয়ে ঝরে
বৃষ্টির বহুগামী রূপ। প্রথম কে এলো তৃষ্ণার সমুদ্রপাড়ে, তার নাম
লেখা থেকে যায় তিস্তাতোরণের দৈর্ঘ্যে, নিঃশ্বাসের বিনম্র আষাঢ়ে।

নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে


সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ইসলাম

সোমবার, ০১ মে ২০১৭

Picture

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) অনন্য নজির স্থাপন করে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সাবধান! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো মুআহিদ (ইসলামি রাষ্ট্রের চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিক)কে অত্যাচার করবে, তার কোনো অধিকার নষ্ট করবে, তার সামর্থ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেবে, মনের একান্ত ইচ্ছা ছাড়া তার কোনো সম্পদ নিয়ে নেবে তাহলে জেনে রেখো, আমি তার বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন তর্ককারী হব।’ (অর্থাৎ তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে নালিশ করব) (আবু দাউদ: ২/৪৩৩)

অমুসলিমের ওপর অত্যাচার করলে পরকালেও রয়েছে কঠোর শাস্তি।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ যে ব্যক্তি কোনো মুআহিদকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ ৪০ বছরের দূরত্ব থেকে জান্নাতের ঘ্রাণ পাওয়া যাবে’। (বোখারি: ৬৫১৬)

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ‘ মুআহিদ বা অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি জুলুম করা থেকে আমার রব আমাকে নিষেধ করেছেন।’ (কানজুল উম্মাল: ২/২৭০) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সাবধান! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এমন মুআহিদকে হত্যা করবে, যাকে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল নিরাপত্তা দান করেছেন, তাহলে অবশ্যই সে আল্লাহ তায়ালার নিরাপত্তা বিধানের খেয়ানত করল। সুতরাং সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ ৪০ বছরের দূরত্ব থেকে জান্নাতের ঘ্রাণ পাওয়া যাবে।’ (তিরমিজি:১৪০৩)

উপর্যুক্ত আলোচনা দ্বারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষার গুরুত্ব এবং এটি কেউ নষ্ট করলে তার শাস্তির কথা বুঝে আসলো। তাই আসুন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর আদর্শ অনুকরণ করি এবং সংখ্যালঘু অমুসলিমদের সঙ্গে উদার আচরণ করি।


স্থানীয় সরকারের প্রকার, স্তরসংখ্যা ও গন্তব্য ঠিক করুন; ‘উপজেলা’ ও ‘গ্রাম সরকার’ বিষয়ে মিথগুলো জানুন, বুঝুন ---- হাকিকুল ইসলাম খোকন

শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭

আগে স্থানীয় সরকারের প্রকার, স্তরসংখ্যা ও শেষ গন্তব্য কেন ঠিক করতে হবে তা জানতে হলে, বুঝতে হলে বিদ্যমান স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও এর অতীত সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতে হবে; পাশাপাশি অতীতে স্থানীয় সরকার কেন্দ্রীক অবৈধ শাসকদের অসৎ উদ্দেশ্যমূলক কর্মকান্ড, তার ধারাবাহিকতা, কুফলগুলো ও মিথগুলো কিভাবে জনগণ, সরকার, রাজনৈতিক দল, সুশীলসমাজ ও এনজিওগুলিকে প্রভাবিত করে চলেছে তাও ভালভাবে জানতে হবে, বুঝতে হবে। এই লেখাটি অবয়বে ছোট্ট রাখতে কেবল বাংলাদেশ আমলের দুইজন অবৈধ শাসক এর অপকর্মের স্মারক হিসেবে “উপজেলা” ও “গ্রাম সরকার” সংক্রান্ত মিথগুলো ও এগুলোর কুপ্রভাব কীভাবে গোটা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে সাংঘাতিকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে, করছে তা জানার, বুঝার প্রয়াস নেয়া যেতে পারে। এই প্রয়াসের মধ্য দিয়ে আগে স্থানীয় সরকারের প্রকার, স্তরসংখ্যা ও গন্তব্য কেন ঠিক করতে হবে তা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। সেসঙ্গে এই নিবন্ধে সামগ্রিকভাবে স্থানীয় সরকার বিষয়ক অনেক অনেক দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গক্রমে উপস্থাপিত ও আলোচিত হয়েছে বিধায় ২০২০ সাল ও ২০৫০ সাল নাগাদ পরিবর্তনশীল বিষয়গুলি (জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষিত) বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১, স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২, এমপো, ১১ দফা ও সমাধানমূলক অন্যান্য উপায়গুলো জানতে, বুঝতে সহজতর হবে (স্তরবিন্যাসকরণদ্বয়, এমপো ও ১১ দফা এই নিবন্ধের শেষে সংযুক্ত রয়েছে)। এবং ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারিতে ঢাকায় উপস্থাপিত ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’টি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা, এর সুদূরপ্রসারী উপকারীতা ও তাৎপর্য অনুধাবন করতে সহায়ক হবে। স্থানীয় সরকারের প্রকার ও শেষ গন্তব্য সঠিকভাবে বুঝা ও ঠিক হওয়া কেন জরুরি তাও স্পষ্টভাবে জানা, বুঝা যাবে;  তা বুঝা ও ঠিক হওয়ার সঙ্গে কেন সঠিকভাবে স্থানীয় সরকারের স্তরগত কাঠামো নির্ধারিত হবার বিষয়টি যুক্ত রয়েছে তাও স্পষ্ট হবে; ১৯৯৭ সালে শুরুতেই উপস্থাপিত এই রূপরেখায় নির্দিষ্ট সময় বিবেচনায় ২০২০ সাল ও ২০৫০ সাল নাগাদ স্থানীয় সরকারের গন্তব্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, স্থানীয় সরকারের প্রকারভেদকরণ ও স্তরবিন্যাসকরণ কি অবস্থায় গিয়ে পৌঁছাবে, বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজ কোন স্তরীয় হবে, ১৯৯৭ সালে কারও কারও কাছে এসব কেবল কাল্পনিক অবাস্তব বলে মনে হলেও এখনকার বাস্তবতায় সেসবের দৃশ্যমান অবস্থা কতটুকু বোধগম্য হচ্ছে তা সুনির্দিষ্টভাবে, সুস্পষ্টভাবে জানা যাবে, বোঝা যাবে। এই নিবন্ধে একসময়ের কৃষিজ সমাজ, কৃষিপ্রধান দেশ তথা গ্রামীণ দেশ থেকে বর্তমানকার গ্রামীণ-নগরীয় সমাজ তথা গ্রামীণ-নগরীয় দেশ এবং গ্রামীণ-নগরীয় সমাজ থেকে পরিপূর্ণ নগরীয় সমাজ তথা পরিপূর্ণ নগরীয় দেশ তথা পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশমুখী পরিবর্তনসমূহ ও সময়ের সাথে সাথে রূপান্তর প্রক্রিয়াটির চলমান অবস্থা বোঝা যাবে, জানা যাবে; তা জানা, বোঝা ও নির্দিষ্ট সময় ভিত্তিক ভবিষ্যৎ অনুমানে ঘোষিত ফোরকাস্টের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের জন্য প্রস্তাবিত প্রকারভেদকরণ ও স্তরবিন্যাসকরণ বিষয়দ্বয় ভালভাবে বোঝা ও জানার সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে কেন জড়িত রয়েছে তা পরিষ্কার হবে। স্থানীয় সরকারের একটি সমন্বিত স্তরবিন্যাসকরণ গ্রহণ ও তা একইসঙ্গে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জোর না দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে একেক সময় একেকটি ইউনিট (যেমন কখনও গ্রাম সরকার, কখনও উপজেলা) নিয়ে প্রবল টানাটানি ও হইচই করা হয়েছে, হচ্ছে; দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই বিষয়টি বৈধ-অবৈধ সব শাসকদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়; তারই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক কালে অসফল অর্থমন্ত্রি মুহিত সাহেবও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় কেবল জেলা ও জেলা বাজেট নিয়ে অনুরূপ হইচই, টানাটানি করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন, যেটি মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদ বাকহীন থেকে অনুমোদন দিয়ে চলেছে; এখানে সেই বিষয়টি এবং বিশেষভাবে দুইজন অবৈধ শাসকের অপকর্মমূলক, অপরাধমূলক বিষয় (এরশাদের উপজেলা ও জিয়ার গ্রাম সরকার) আলোচনায় সমালোচনায় এনে তা গভীরভাবে জানার, বোঝার প্রয়াস নেয়া হল।
অবৈধ শাসক এরশাদ প্রবর্তিত উপজেলা হচ্ছে মূলত একটা মিথ, একটা মিথ্যা নোশান এবং এটি বেশ দায়দায়িত্বহীন, স্বশাসনহীন একটি মধ্যবর্তী প্রশাসনিক ইউনিট। উপজেলা নামকরণটিও সার্থক ও যথার্থ নয়; দেশের আইনকানুন ও বইপুস্তকে বর্ণিত এর সংজ্ঞাটিও বাস্তবতার নিরিখে সঠিক নয়। অথচ গোটা জাতি এই মিথ, এই দায়দায়িত্বহীন ইউনিট, এই স্বশাসনহীন মধ্যবর্তী ইউনিট, এই অসার্থক নামকরণ আর ভুল সংজ্ঞার বেড়াজালেই ঘুরপাক খেয়ে চলেছে। এই বিষয়গুলো বিশেষভাবে তলিয়ে দেখলে তা বুঝতে কারও অসুবিধা হবার কথা নয়; কিন্তু তা বুঝতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, মন্ত্রীপরিষদ, নিকার, একনেক, পরিকল্পনা কমিশন ও জাতীয় সংসদ’র বেশ অসুবিধা হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। অনুরূপভাবে আরেক অবৈধ শাসক জিয়া প্রবর্তিত ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ এবং পরবর্তীতে একে ঘিরেই ‘পল্লী পরিষদ,’ ‘গ্রাম সভা,’ ‘গ্রাম পরিষদ,’ ‘গ্রাম সরকার’ ও ‘ওয়ার্ড সভা’ নিয়ে গোটাদেশ মিথ্যা নোশানের বেড়াজালে ঘুরপাক খেয়েছে, খাচ্ছে; ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত প্রতিটি গ্রাম কেন্দ্রীক কিংবা প্রতিটি ওয়ার্ড কেন্দ্রীক এসব অপ্রয়োজনীয় ইউনিট নিয়ে এক সময় প্রচুর মাতামাতি, লাফালাফি হয়েছে, হচ্ছে; সবাই ভালভাবে জানে যে, তাতে কাজের কাজ কিছু-ই হয়নি, হচ্ছেনা। দেশের এই দু’জন অবৈধ শাসক (প্রেসিডেন্ট জিয়া ও প্রেসিডেন্ট এরশাদ) এর সাংঘাতিক অপকর্ম আর হিমালয়সম দুর্নীতির স্মারক হিসেবে এই গ্রাম সরকার ও উপজেলাকে নিয়ে গোটা জাতির প্রচুর মাতামাতি ও লাফালাফিটা ইতিহাসের পাতায় জাতিগতভাবে ও সমষ্টিগতভাবে ভুল করার, ভুলের মধ্যে ডুবে থাকার এক মহা জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। এবং এর মাধ্যমে জনগণও যে সমষ্টিগতভাবে ভুল করতে পারে, ভুলের মধ্যে ডুবে থাকতে পারে তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল; তাতে, জনগণ ভুল করেনা, জনগণ ভুল করতে পারেনা-এই ধরনের আপ্ত বাক্য যাঁরা কথায় কথায় বলে থাকেন, তাঁদেরও বোধদয় হবে বলে আশা করা যায়।
কেবল ‘উপজেলা’ কেন একটা মিথ, কেন একটা মিথ্যা নোশান, কেন মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে এটি বেশ দায়দায়িত্বহীন তার কারণগুলি ভালভাবে জানা ও বোঝাই জরুরি নয়, পাশাপাশি, এই মিথ্যা নোশানের বেড়াজাল থেকে গোটাদেশ যেন বের হয়ে আসতে পারে তার জন্য সঠিক করণীয় ঠিক ও তা বাস্তবায়ন করাও খুবই জরুরি কর্তব্য। মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক ইউনিটগুলির মধ্যে উপজেলা হচ্ছে অন্যতম মধ্যবর্তী ইউনিট। এর উপরে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট যেমন জেলা ও বিভাগ, এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট যেমন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, এবং কোনো কোনো জেলায় এর পাশে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট যেমন “সিটি কর্পোরেশন”; এই অবস্থাটা হচ্ছে একটি চরম হ-য-ব-র-ল অবস্থা;  এসব স্থানীয় ইউনিটের মধ্যে উপজেলায় অর্পিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিলে অনুপোযুক্ত বলে প্রতীয়মান হয়; স্থানীয় ইউনিটগুলির, স্থানীয় সরকারগুলোর এমনতরো এলোমেলো, গোজামিল অবস্থা কারও কাছেই কোনোভাবেই কাম্য নয়; তাই আমরা সবসময় বলি যে, এই এলোমেলো গোজামিল অবস্থার নিরসনকল্পে স্থানীয় সরকারের একটি সঠিক ও সমন্বিত স্তরবিন্যাস তথা স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো আগে গ্রহণ করতে হবে; সেই গৃহীত প্রশাসনিক কাঠামোয় সর্বাদিক গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট (জেলা সরকার কিংবা বিভাগীয় সরকার) ও সর্বনিম্ন ইউনিটদ্বয়কে (একদিকে গ্রামীণ এলাকায় ‘ইউনিয়ন সরকার’ ও  অপরদিকে নগরীয় এলাকায় ‘নগর সরকার’) কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে; তা না করে স্থানীয় ইউনিটগুলি ও স্তরগুলির এলোমেলো অবস্থা বজায় রেখে, স্থানীয় ইউনিটগুলির অসঠিক প্রকারভেদকরণ বজায় রেখে, স্থানীয় ইউনিটগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ইউনিট ও সর্বনি¤œ ইউনিটদ্বয় ঠিক না করে এবং তাতে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে কেবল একটি মধ্যবর্তী ইউনিট তথা ছাগলের তৃতীয় বাচ্চা তুল্য উপজেলাকে নিয়ে গোটাদেশ অতি উৎসাহ, অতি মনোযোগ, অতি তৎপরতা দেখিয়ে আসছে; ফলে এই উপজেলার জন্মলগ্ন থেকে প্রতিটি নির্বাচনে প্রতিটি উপজেলায় সংশ্লি¬ষ্ট পদপ্রার্থীদের সহিংস কর্মকান্ড অতি মাত্রায় চলে আসছে। পাশাপাশি, হীন রাজনৈতিক স্বাথর্, ব্যক্তি বিশেষের প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্নীতি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মন্ত্রিপরিষদ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, নিকার ও একনেক’র অদূরদর্শি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে উপজেলার সংখ্যা কমে আসার পরিবর্তে এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, এবং আরও নতুন নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া, প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে; তাতে প্রশাসনিক সিস্টেম কস্ট বাড়ছে; উন্নয়ন ও সেবামূলক ব্যয়ে ঘাটতি থাকছে। অথচ বাংলাদেশে উপজেলার সংখ্যা বাড়ানোর অপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে সিডিএলজি, বাপসনিউজ ও এমপো বাস্তবায়ন ফোরাম ছাড়া অন্য কারও বক্তব্য শোনা যায় না; এ এক আশ্চর্য ব্যাপার নয় কি?
বাস্তব ঘটনাগুলো হল, উপজেলায় তেমন কোনো কাজকর্ম নেই, দায়দায়িত্ব নেই, এতে পরিপূর্ণ স্থানীয় সরকার কাঠামো নেই, স্বশাসন নেই, এর নিজস্ব আয়ের তেমন কোনও উৎস নেই, নিজস্ব রাজস্ব আয়ের উৎস সৃষ্টির সুযোগও তেমন একটা নেই বললে চলে, এটির নিজস্ব রাজস্ব আয় সৃষ্টির কিছু সুযোগ তৈরী করতে গেলে তৃণমূলের ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের রাজস্ব আয়ের বেশ কিছু উৎস কর্তন করতে হবে, আর তা করতে গেলে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে বিরোধ অনিবার্য হয়ে পড়বে; উপজেলায় জনগণকে সেবামূলক সার্ভিস দেয়ার মত তেমন কোনো সুযোগ নেই বললে চলে, কিংবা এর মাধ্যমে যেসব সেবামূলক সার্ভিস দেয়ার কথা বলা হয় তা দেয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই, কারণ সেসব সার্ভিস অনায়াসে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে দেয়া সম্ভব; অন্যসব স্থানীয় ইউনিটগুলি যেমন ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা, বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এর সম্পর্ক কেমন হবে, কিভাবে কতটুকু থাকবে তা সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট করা নেই; বিশেষত ইউনিয়ন ও পৌরসভার সঙ্গে উপজেলার এক ধরনের সাপে নেউলে সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে, এই সাপে নেউলে সম্পর্ক যে কোনো সময় সংঘাতরূপে প্রকাশ্যে রূপ নিতে  পারে, যা কোনো অবস্থাতেই কারোরই কাম্য নয়।
এই ধরনের একটা নাজুক দৃশ্যমান চলমান অবস্থার মধ্যে অন্য ধরনের আরেকটা দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায় তা হল, উপজেলার প্রতিনিধিগণের জন্য গাড়ী, ড্রাইবার, বাসা, বিশাল দাপ্তরিক ভবন, পিয়ন, সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে লোভনীয় পদবী, বেতন-ভাতা, সামাজিক মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, বিদেশ ভ্রমণ, অপক্ষমতা ও নানাবিধ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সুযোগসুবিধার দৃশ্য; এসব লোভনীয় বিলাসবহুল সুযোগসুবিধা থাকায় পদপ্রার্থী হবার জন্য, পদাধিকারী হবার জন্য এক ধরনের প্রচন্ড মোহ, লোভ তৈরী হয়; পাশাপাশি, উপজেলা নির্বাচনে যারা চেয়ারপারসন ও ভাইস-চেয়ারপারসন পদপ্রার্থী হয়, হতে চায়, তাদের লক্ষ্য কিন্তু উপজেলায় দায়িত্ব পালন করা নয়, উপজেলা কেন্দ্রীক উন্নয়নমূলক, সেবামূলক কর্মকা- নিয়ে চিন্তাভাবনা করাও নয়, তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারী সুযোগসুবিধা ও পদবী কাজে লাগিয়ে জাতীয় সংসদ এর সদস্য হবার পথে উপজেলাকে মই হিসেবে ব্যবহার করা, এবং অন্যসব উপায় অবলম্বনে কেবল নিজস্ব ভাগ্য উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালানো; আর কাজকর্ম, দায়দায়িত্ব ছাড়া কেবলই ‘বাবুগিরি,’ ‘নেতাগিরি’ করার, কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে সদায় তৎপর থাকার, নিজেকে একজন বিকল্প ‘এমপি’ ভাবার যে সুযোগসুবিধা রয়েছে তা কার না ভাল লাগে; ফলে এই উপজেলা নির্বাচনে দলীয় ও নির্দলীয় প্রার্থীগণের বেশী বেশী আগ্রহ ও বেশী বেশী সহিংস আচরণ দেখা যায়।
এতে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, এই উপজেলার জন্মগত অসৎ উদ্দেশ্য ও জঘন্য কলংক এখনো বহাল রয়েছে; জেনারেল এরশাদ অবৈধ উপায়ে ক্ষমতায় এসে অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত ও পাকাপোক্ত করতে এবং স্থানীয় মধ্যবর্তী পর্যায়ে নিজস্ব অনুগত দলীয় মোড়ল তৈরী করতে উপজেলা সৃষ্টি করেন, এবং তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় সমস্ত আইনকানুন লংঘন করে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও ক্ষমতা বিলিয়ে দিয়ে উপজেলার প্রতি প্রবল মোহ ও একটি অনুগত মোড়লগোষ্ঠী তৈরী করতে সক্ষম হন। আর এই অনুগত মোড়লগোষ্ঠীই পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী মধ্যবর্তী খুঁটি হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়; একটু খোঁজ নিলে দেখা যাবে এঁরাই এখনকার জাতীয় পার্টির স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে মূল খুঁটি হিসেবে কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় অর্থে ও সরকারী ক্ষমতাবলে নিজস্ব দলীয় খুঁটি, মোড়ল তৈরী করাটা হচ্ছে মহা অপরাধ, মহা দুর্নীতি; এই মহা অপরাধ, এই মহা দুর্নীতির কথা মনে রাখা, আমলে নেয়া উচিত নয় কি? অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় এসব অপরাধ, এসব দুর্নীতি যেন কিছু-ই না। এসব বিষয়ে দেশের অন্য সব রাজনৈতিক দলও নীরব; তাই তো দেখা যায়, অবৈধ শাসক এরশাদ, তাঁর দল জাতীয় পার্টি, তাঁর শাসনিক মিত্র জেএসডি, কিছুসংখ্যক অবুঝ ব্যক্তি ও চরম চাটুকারকে এখনও ‘উপজেলা’ তথা ‘উপজ্বালা’ নিয়ে গর্ব করতে, উদাহরণ দিতে শোনা যায়! এবং কথায় কথায় বলতে শোনা যায়, জেনারেল এরশাদ ও তাঁর দল না কি এই ‘উপজেলা’র জন্যই চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে! প্রশ্ন হল, যেখানে কোনও একদিন জনাব আবু তালেব প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ অথবা স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ অনুযায়ী “উপজেলা” নামটি থাকবেনা, যখন উপজেলা সম্পর্কীয় মিথগুলি জনমনে খোলাসা হতে থাকবে, এবং যখন মানুষ চাটুকারীয় গর্বমূলক তাৎপর্যহীন কথামালায় একদম কর্ণপাত করবে না; তখন সেখানে অবৈধ শাসক এরশাদ ও তাঁর দল চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে কীভাবে? অনুরূপভাবে, জনাব আবু তালেব প্রস্তাবিত স্তরবিন্যাসকরণদ্বয় অনুযায়ী নগরায়িত প্রবাহে উপনিবেশিক শাসক বৃটিশ প্রবর্তিত ও আয়ুবীয় গন্ধযুক্ত “ইউনিয়ন” নামটিও থাকবেনা, এবং তাতে এই নামটিকে ঘিরে আবর্তিত বৃটিশ উত্তরাধিকার ও আয়ুবীয় গন্ধও মুছে যাবে। আরও বলা প্রয়োজন যে, এই রূপরেখা অনুযায়ী “বিভাগ” স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট হলে মধ্যবর্তী ইউনিট হিসাবে “জেলা” নামটিও এক পর্যায়ে মুছে যাবে, আর জেলাকে স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট করা হলে বিভাগকে একইসঙ্গে মুছে দিতে হবে। তা হলে স্বাধীন দেশে স্বাধীন ভাবনায় নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো সর্বস্তরীয় অর্থাৎ তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত অথবা কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একটি গণতান্ত্রিক প্রশাসনিক কাঠামো পাওয়া যাবে। এটি ভালভাবে অনুধাবন করতে এই নিবন্ধের শেষে সংযুক্ত প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ ও স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ মনোযোগ দিয়ে ভালভাবে লক্ষ্য করার জন্য, বুঝার জন্য পাঠক-পাঠিকাকে বিনীত অনুরোধ করছি।
সে যাই হোক, এই ধরনের একটি শাসনিক অবস্থার মধ্যেই আরও অনেকে ক্ষমতা, সুবিধা ও অর্থ লোভের পাশাপাশি বুঝে, না বুঝে উপজেলার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যান। বেশ কিছু এনজিও দাতা সংস্থার টাকায় দেশীয় শাসকের চাহিদায় আয়োজিত সভা-সমাবেশে এই উপজেলাকে নিয়ে বেশ মাতামাতি, লাফালাফি করে; আবার কিছু কিছু এনজিও কর্মকর্তার মধ্যে নিজস্ব ব্যক্তিগত স্বার্থে এনজিও কমসূচী, অর্থ, জনবল ইত্যাদি কাজে লাগিয়ে নিজস্ব উপজেলায় চেয়ারপার্সন, ভাইস-চেয়ারপার্সন হবার খায়েশ ও লোভ প্রচন্ডভাবে ক্রিয়াশীল থাকায় উপজেলা কেন্দ্রিক অতি তৎপরতাও লক্ষ্য করা যায়। এদের সঙ্গে যুক্ত হয় জাতীয়ভাবে পরিচিত কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি, যাঁরা প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বোঝে না, মওকা বুঝে কথায় কথায় গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে অথচ গণতন্ত্রায়ন বোঝে না, গণতন্ত্রায়ন শব্দটি উচ্চারণ করতে চায়না, গণতন্ত্রায়ন কর্মসূচী সম্পর্কে ধারণা নেই; বিশেষত এঁরা সুবিধাবাদী অবস্থান থেকে সুবিধাজনক শব্দ “সং¯কার” শব্দটি নিয়ে সব ধরনের শাসনিক আমলে পাগলপ্রায় থাকে, থেকে কেবল সুযোগসুবিধা হাতিয়ে নেয়; এঁরা মূলত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ, প্রকারভেদকরণ, সার্থক নামকরণ, সঠিক সংজ্ঞায়িতকরণ, অর্থায়ন, দায়িত্ব বণ্টন, পারস্পরিক সম্পর্ককরণ, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, নির্বাহিক ও বিধানিক পরিষদের পার্থক্য সম্পর্কে জানেনা বুঝেনা, বুঝতে চায়ওনা; এঁরাই স্থানীয় সরকার আর কেন্দ্রীয় সরকারের কাঠামোতে নারীর শতভাগ (১০০%) প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিগতভাবে (যা অবশ্যই চমক, দয়া, করুণা বা বাহাবা কেন্দ্রিক নয়) নিশ্চিত করতে এমপো ও ১১ দফার প্রয়োগ চায়না, ইত্যাদি ইত্যাদি; অথচ তাঁরা নিজেদেরকে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ হিসেবে সবসময় পরিচয় দিয়ে থাকে এবং এনজিও আয়োজিত সভা, সেমিনার, মানববন্ধন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার টকশোতে কখনও অতিথি বক্তা, কখনও অযাচিত বক্তা হয়ে বিশেষত উপজেলা কেন্দ্রিক অসার কথামালা জোর গলায় ব্যক্ত করেন। এঁদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মিডিয়ার বেশকিছু সাংবাদিক, সম্পাদক, উপস্থাপক কর্মকর্তা, যাঁরা আর্থিক সুযোগসুবিধার বিনিময়ে উপজেলা বিষয়ক সংবাদ প্রকাশে প্রচারে সহযোগিতা দিয়ে থাকেন; এই সম্পর্কিত বিভিন্ন সভায় সঞ্চালক  হয়ে সভা সঞ্চালনায় বিশেষ কৃতিত্ব নিয়ে থাকেন; এবং এঁদেরই কেউ কেউ মাঝেমধ্যে স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত অসার প্রতিবেদন প্রচার প্রকাশের মাধ্যমে ‘স্থানীয় সরকার বিষয়ক সাংবাদিক/প্রতিবেদক’ এর পরিচয় দাঁড় করিয়ে বিশেষ সুবিধা-সুনাম আদায়ে সচেষ্ট থাকেন। এ কি হল স্থানীয় সরকার বিষয়ক সাবাদিকতা?

alt
পাশাপাশি, খুবই দুঃখজনক হলেও শতভাগ সত্যি যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠায় ও তার ক্রমাগত উন্নয়নে আকাংখা, পরিকল্পনা, কর্মসূচী ও প্রস্তুতি রয়েছে এমনতরো একটি রাজনৈতিক দলও খুঁজে পাওয়া যায় না, যায়নি; অথচ রাজনৈতিক দলগুলি গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সবসময় লিপ সার্ভিস দিয়ে থাকে; এই লিপ সার্ভিস আর অন্তর্গত বিশ্বাস কখনো এক ছিলনা, এখনো নেই বলে প্রতীয়মান হয়; অপ্রিয় হলেও সত্য কথা হল, বাংলাদেশে কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনই হয়নি, হচ্ছেনা; বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে মিশ্রিত লক্ষ্য প্রসূত রাস্তার, মাঠের আন্দোলন হয়েছে, হয়; আপাত দৃষ্টিতে ওইসব আন্দোলনে সফলতা দেখা গেলেও সেই সফলতা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তার উন্নয়নে কাজে লাগেনি; কারণ সমাজ, দল ও দেশের সার্বিক অর্থে গণতন্ত্রায়ন সম্পন্ন করার শিক্ষাগত ও মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ প্রক্রিয়া এসব আন্দোলনে, সংগ্রামে একেবারেই ছিলোনা বললে অত্যুক্তি হবেনা। সে যাই হোক, বড় দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সময়ে সময়ে বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করতে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিগণকে, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হতে আগ্রহী দলীয় ব্যক্তিবর্গকে ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ব্যবহার করতে দেখা যায়; এবং জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার উন্নয়ন প্রসঙ্গ বেশ জোরালোভাবে উপস্থাপিত করা হয়। তা করতে গিয়ে এসব দলের কিছু সুচতুর নকলবাজ ব্যক্তি প্রতিটি জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বলগ্নে দলীয় ইশতেহার প্রণয়ন কালে স্থানীয় সরকার ও গণতন্ত্র বিষয়ে নকল করার মহড়ায় নেমে থাকে। এসব নকলবাজ ব্যক্তিরা অন্য কারো আইডিয়া, স্লোগান, গবেষণা কর্ম, প্রণীত বিষয়, প্রস্তাবিত বিষয় ও কর্মসূচী জাতীয় স্বার্থে অনুসরণের জন্য, গ্রহণের জন্য নিয়মনীতি মেনে দলীয় ইশতেহারে কিংবা দলীয় কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করেন না, করতে চান না; তাঁরা দেশের ব্যক্তি বিশেষের নিজস্ব স্ট্যাডি, গবেষণা, কর্মসূচী, শ্লোগান, ক্যাম্পেইন, অবদানকে অস্বীকার করার, চুরি করার বাতিকগ্রস্ততা থেকে কেবল নগ্নভাবে চুরিতে, নকলেই সিদ্ধহস্ত; এঁরা মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক চোর এবং জনগণের অর্থ ও সম্পদ চোর তো বটেই। অথচ এঁরা স্ব স্ব দলের কাছে সম্মানীয় বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, নির্বাচনী ইশতেহার প্রণেতা, দলীয় কর্মসূচী প্রণেতা, ইত্যাদি ইত্যাদি! এ এক মহা আজব কারবার নয় কি! তাই তো দেখা যায়, এসব দলের উপজেলা সম্পর্কীয় ইশতেহারগত অংগীকার শুধু কথার ফুলঝুরি আর অন্তঃসার শূন্য কথামালায় ভরপুর; কারণ স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে উপজেলার অবস্থান, গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, ক্ষমতা, দায়দায়িত্ব, স্বশাসন, অর্থায়ন, কাঠামো ইত্যাদি সম্পর্কে এসব দলের জেনে বুঝে কোনও সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট অবস্থান, কর্মসূচী নেই; এ হচ্ছে একজন অবৈধ শাসকের চরম অপকর্মের কুফলে প্রভাবিত হয়ে উত্তরাধিকার বহনে রাজনৈতিক দলগুলোর অশুভ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকা ছাড়া অন্য কিছু নয়; এ যেন এক চরম হ-য-ব-র-ল অবস্থার মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকহারা হয়ে ছোটাছুটিতে লিপ্ত থাকা। পাশাপাশি দেখা যায় যে, জনগণেরও একটা বিরাট অংশ উপজেলা নির্বাচন কালীন সময়ে নগদে পাওয়া আদর আপ্যায়ন আর কদরেই তুষ্ট থাকে। নির্বাচনে ও তার পরে কি হল তা তাঁদের নজরদারি ও তদারকির বিষয় হিসেবে থাকে না। ভোটারগণ মূলত জানেওনা উপজেলায় কি কি দায়িত্ব সম্পন্ন করানোর জন্য উপজেলা চেয়ারপারসন-ভাইস চেয়ারপারসনদ্বয় নির্বাচিত করেছে, করছে; ঠিক যেমন পদপ্রার্থীগণ ভালভাবে জানেনা কি কি দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্বাচিত হতে চায়, হয়েছে। অতএব, সার্বিক অর্থেই বলা যায়, উপজেলা হচ্ছে একটা মিথ, একটা অলীক স্বপ্ন, একটা মিথ্যা নোশান, একটা দায়দায়িত্বহীন, স্বশাসনহীন মধ্যবর্তী ইউনিট। গোটাদেশ এই মিথ্যার বেড়াজালে ঘুরপাক খাওয়াটা, সরব থাকাটা হচ্ছে এক মহা আশ্চর্যজনক ব্যাপার!
অনুরূপভাবে, গোটা জাতি আরেকটা মিথ, আরেকটা মিথ্যা নোশানের বেড়াজালে ঘুরপাক খেয়ে আসছে; সেই মিথ আর মিথ্যা নোশানটা হল, অবৈধ শাসক প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রবর্তিত তথাকথিত ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’। এই মিথ তথা অপকর্মের কুফলে প্রভাবিত হয়ে এবং একে ঘিরেই পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শাসক দ্বারা সৃষ্ট পল্ল¬¬ী পরিষদ, গ্রাম সভা, গ্রাম পরিষদ, গ্রাম সরকার ও ওয়ার্ড সভা নামের অপ্রয়োজনীয় ইউনিটগুলি নিয়ে গোটা জাতি মিথ্যার বেড়াজালে জড়িয়ে থাকে; ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিটি গ্রাম কিংবা প্রতিটি ওয়ার্ডে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অবৈধ ও বৈধ শাসকগণ দ্বারা এসব অপ্রয়োজনীয় ইউনিট গঠিত হয় কিংবা গঠন করার অপচেষ্টা চলে; এসব ইউনিট কেন অপ্রয়োজনীয়, কেন মিথ, কেন মিথ্যা নোশান, কেন অপচয়মূলক আর অসৎ উদ্দেশ্যমূলক তার স্বরূপ বুঝাটাও খুবই জরুরী। এর স্বরূপ বুঝার মাধ্যমে এও বুঝা যাবে যে, কেন স্থানীয় সরকারের স্তরসংখ্যা, প্রকার ও শেষ গন্তব্য আগে ঠিক করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
মূলত, ইউনিয়ন-ই হওয়া উচিত গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের মৌলিক গ্রামীণ প্রশাসনিক ইউনিট; সাধারণত ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম নিয়ে একেকটি ইউনিয়ন গঠিত হয়ে থাকে; এই ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত হাট-বাজার-ঘাট-গঞ্জগুলিও কোনো না কোনও গ্রামের মধ্যেই অবস্থিত। সেজন্য দেশের মানুষের কাছে ইউনিয়ন মানে গ্রাম আর গ্রাম মানেই ইউনিয়ন; গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী নগরীয় স্থানীয় সরকারের নগরীয় প্রশাসনিক ইউনিট (পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড) এর সংখ্যা ও আয়তন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ ইউনিট হিসেবে ইউনিয়নের মোট সংখ্যা ও আয়তন কমে আসার কথা; কিন্তু প্রশাসনিক দুর্নীতি আর অশুভ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ইউনিয়নের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে, এবং আরও কিছু নতুন নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রচেষ্টা চালু রয়েছে; তাতে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক সিস্টেম কস্ট অনেক অনেক গুণ বেড়ে গেছে, এবং তা আরও বাড়তে থাকবে; অথচ ইউনিয়নের সংখ্যা যথাসম্ভব কমিয়ে এনে প্রশাসনিক সিস্টেম কস্ট যথাসম্ভব সীমিত রেখে তাতে উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক ব্যয় বাড়ানো খুবই জরুরি প্রয়োজন বলে প্রতীয়মান হয়।
গ্রামীণ এলাকায় প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ইউনিয়ন কেন্দ্রীক সার্বিক উন্নয়ন মানেই ১০-১৫টি গ্রামের উন্নয়ন, গ্রামীণ মানুষের উন্নয়ন; অথচ, প্রকৃত ঘটনা হল, এই ইউনিয়ন ভিত্তিক গণতন্ত্রায়ন ও তার  সার্বিক উন্নয়ন সাধনে আজ অবধি কোনো বিশেষ উদ্যোগ, বিশেষ আয়োজন গৃহীত ও দৃশ্যমান হয়নি, হচ্ছেনা। বরং এই ইউনিয়নকে পাশ কাটিয়ে এর নীচে যেমন গ্রাম সরকার ও এর ওপরে যেমন উপজেলা নামক অপ্রয়োজনীয় ইউনিটগুলো গঠনের নামে নানান সময়ে নানান রকমের অপতৎপরতা চালানো হয়েছে, হচ্ছে; ওই সব অপতৎপরতার সঙ্গে দেশের অনেক নামকরা, নামী দামী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অবৈধ উপায়ে ক্ষমতায় এসে ও থেকে, রাষ্ট্রীয় অর্থে ও সরকারী ক্ষমতায় নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন ও গ্রামীণ তৃণমূলে অনুগত, চাটুকার দলীয় কর্মী-সমর্থক তৈরীর লক্ষ্যে ইউনিয়নের মধ্যে ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ গঠন করার উদ্যোগ নেন; এবং এই ইউনিট কেন্দ্রীক বেশী বেশী দলীয় কর্মী-সমর্থক তৈরী করার লক্ষ্যে নতুন নতুন গ্রাম সৃষ্টিতে প্রবল উৎসাহ যোগায়; তাতে গ্রামের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে ৬৮ হাজার থেকে ৮৭ হাজারের বেশী সংখ্যক গ্রামে উন্নীত হয়ে যায়; কারণ যত বেশী বেশী গ্রাম, তত বেশী বেশী গ্রাম সরকার, আর তত বেশী বেশী অনুগত, চাটুকার, টাউট, সুবিধাবাদী, নীতিহীন, আদর্শহীন দলীয় সদস্য; এতে দীর্ঘকালের প্রতিটি গ্রামভিত্তিক দৃঢ় সামাজিক বন্ধন ও একতা ভেঙ্গে তছনছ, চুরমার হয়ে যায়; জাতীয় অর্থ, শ্রম ও সময়ের বিপুল অপচয় ঘটে; ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে পড়ে চরম উপেক্ষিত, এবং গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক গ্রামীণ ইউনিটের পরিবর্তে ইউনিয়ন হয়ে পড়ে গুরুত্বহীন এক মধ্যবর্তী ইউনিট। বহুল পরিচিত প্রচারিত শ্লোগান “৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে, বাংলাদেশ বাঁচবে” শ্লোগানটি হয়ে পড়ে প্রকৃত তথ্যভিত্তিক ঘটনায় অসঙ্গতিপূর্ণ; বিদ্যমান বাস্তবতায় এই শ্লোগানে গ্রামের সংখ্যাগত ভুল তো রয়েছেই; পাশাপাশি প্রশ্ন এসে যায় এই শ্লোগানে নগর, নগরীয় এলাকা আর নগরীয় মানুষ কোথায়? তা তো এই কবিতে কবিতায় অনুপস্থিত রয়েছে; কবিকে কবিতা লেখায়ও যে তথ্যগতভাবে আপডেট থাকতে হবে তা ভুললে চলবে কী? প্রকৃত ঘটনা হল, বাংলাদেশ এখন গ্রামীণ-নগরীয় দেশ; তাই গ্রাম আর নগরকে নিয়েই বাংলাদেশকে বাঁচতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে; তাই কবিতায়, গানে, শ্লোগানে, ভাবনায়, পরিকল্পনায়, কর্মপ্রচেষ্টায় গ্রাম আর নগর একসঙ্গে থাকতে হবে; এটি একসঙ্গে ততদিন পর্যন্ত বজায় রাখতে হবে, যতদিন পর্যন্ত গ্রাম বজায় থাকবে। সে যাই হোক, অবৈধ শাসক জিয়া কর্তৃক রাষ্ট্রীয় অর্থে, দাপটে কেবল-ই ব্যক্তিগত ও নতুন রাজনৈতিক দলীয় কর্মী-সমর্থক তৈরীর স্বার্থে পরিচালিত এই সরকারী উদ্যোগ ছিলো এক মহা দুর্নীতি, এক মহা অপরাধ; এ হল অবৈধ শাসকের অবৈধ ক্ষমতায় সৃষ্ট এক মারাত্বক বিষফোঁড়া, যার যন্ত্রণায় গোটা জাতি এখনো খেসারত দিয়ে চলেছে। অবৈধ শাসক জিয়ার এই মহা অপরাধ, এই মহা দুর্নীতি আর এই সাংঘাতিক বিষফোঁড়ার বিষয় হালকাভাবে নেয়া একদম উচিত নয়। এই মহা অপরাধ, এই মহা দুর্নীতির কথা অবৈধ ক্ষমতাবলে সৃষ্ট সংশ্লিষ্ট দলটি (বিএনপি) স্বার্থগত কারণেই হালকাভাবে নিয়ে থাকে এবং তা চাপিয়ে রাখতে চায়, লুকিয়ে রাখতে চায়; কারণ একটু অতীতে গেলে, একটু অতীত স্মরণ করতে চেষ্টা করলেই মনে পড়ে যাবে যে, জিয়াউর রহমান তখনকার গ্রাম সরকারের মাধ্যমেই তৃণমূলে সুবিধাবাদী, নীতিহীন, আদর্শহীন, টাউট ও বাটপার জাতীয় লোকদের নিয়ে বিএনপি’র সমর্থক ও কর্মী গোষ্ঠী তৈরী করে ছিলেন; পরবর্তী কালে এঁরাই গ্রামে বিএনপি’র শক্ত খুঁটি হয়ে দাঁড়িয়ে যায়; তৃণমূলের মত জাতীয় পর্যায়েও অনুরূপ চরিত্রের লোকজন নিয়েই জিয়াউর রহমান বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তৈরী করেছিলেন; তখন একটি কথা বেশ চালু ছিল তা হল, ‘দিনে বায়তুল মোকাররম, রাতে বঙ্গভবন’; ওই সময়ে পল্টন ময়দানে সভা সমাবেশ করা বন্ধ রেখে বায়তুল মোকাররমে পার্শ্ব রাস্তায় সভা সমাবেশ করতে বাধ্য করা হয়। মূলত, ওই সময় থেকেই বাংলাদেশে অবৈধ ক্ষমতাবলে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী বেচাকেনা শুরু হয়, সেজন্য ওই কথা মনুষ্য মুখে মুখে এমনিতেই দেশময় চালু হয়ে যায়। সেজন্য অবৈধ শাসক জিয়ার এসব অপকর্ম স্বার্থগত, জন্মগত কারণেই বিএনপিকে ভুলে থাকতে হয়, চাপিয়ে যেতে হয়। কিন্তু অন্যসব রাজনৈতিক দল ও  গোটা জাতি কেন তা ভুলতে বসেছে? তা কি ভুলে যাওয়া উচিত? এই প্রশ্ন থাকল সকল মানুষের প্রতি। একই ধারায় পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন স্থানীয় সরকার বিষয়ক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রি ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের নেতৃত্বে একবার ‘গ্রাম সভা’ গঠন করার অপচেষ্টা চালায় এবং আরেকবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁঞার নেতৃত্বে প্যাডসর্বস্ব ‘গ্রাম সরকার’ গঠন করতে গিয়ে দেশের প্রচুর অর্থ, শ্রম ও সময় নষ্ট করা হয়, এবং এই প্যাডসর্বস্ব গ্রাম সরকারের জন্য রাষ্ট্রীয় শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে করাপশনকে গ্রামীণ তৃণমূলে বিস্তৃত করা হয়। উভয় বার ক্ষমতায় থাকা কালে বিএনপির যেসব নেতা স্থানীয় সরকার বিষয়ক দায়িত্বে পরামর্শে ছিলেন, তাদের দ্বারা স্থানীয় সরকারের কেবল ক্ষতিই সাধিত হয়েছে; তারাসহ এই দলের গোটা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার স্থাপন ও তার উন্নয়নমুখী কোনো চিন্তাভাবনা করেছে কিংবা করতে চেয়েছে এমনতরো নজির একদম খুঁজে পাওয়া যায়না, যদিও ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ বিএনপির নীতিনির্ধারকগণের কাছেও বার বার তুলে ধরা হয়েছিল; তা তারা সবাই এক কান দিয়ে শুনেছে, আরেক কান দিয়ে তা বের করে দিয়েছে; তারা দেশ, দল ও সমাজের সার্বিক গণতন্ত্রায়ণ ও গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত হিসেবে স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আমলে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা কখনও উপলব্ধি করেনি, করতে চায়নি, আর এখনও এই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এসব বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলে, করতে চায় বলে একদম প্রতীয়মান হয়না; আর এই দলের জন্মগত কলংকিত চরিত্র একটুও পরিবর্তনমুখী হয়েছে বা হতে চেয়েছে বলে কোনও নজির কি দলে কিংবা রাষ্ট্রে রয়েছে? তারপরও কি বিএনপি’র স্থানীয় সরকার, গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রায়ন বিষয়ক অবস্থান, আকাংখা বুঝতে আর কিছু বাকি থাকে? সেসঙ্গে অবৈধ শাসক জিয়ার ওই অপকর্মের প্রভাব কিভাবে অন্যসব রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রভাবিত করেছে তাও গভীরভাবে জানার, বুঝার প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রসঙ্গে ধরা যাক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কথা; এই দল ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে গ্রামীণ তৃণমূলে দলীয় ভিত্তি আরও মজবুত করার এক অলীক স্বপ্নে তাড়িত হয়ে এ্যাডভোকেট রহমত আলীর নেতৃত্বাধীন স্থানীয় সরকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান (পরে তিনি মাননীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন) এর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে তেমন কোনো আলাপ আলোচনা ছাড়াই অত্যন্ত তাড়াহুড়ার সহিত স্বল্প সময়ে ইউনিয়নের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ড কেন্দ্রিক ‘গ্রাম পরিষদ’ গঠন করার বিল পাস করা হয় ও তা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়ে আইনে পরিণত হয়, এবং তাঁরই নেতৃত্বে তা বাস্তবায়নের জন্য অপচেষ্টা চলে; বিন্তু সেই অপচেষ্টা কেবল জনাব আবু তালেব এর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবল বাধার মুখে বন্ধ হয়ে যায়; প্রসঙ্গক্রমেই বলা প্রয়োজন যে, এ্যাডভোকেট রহমত আলী কমিশনের ওয়ার্ড ভিত্তিক তথাকথিত ‘গ্রাম পরিষদ’ গঠনের সুপারিশটি ও অন্যসব সুপারিশগুলো একদম অপরিপক্ক, ভঙ্গুর, খন্ডিত আর গোজামিলে ভরপুর; এক কথায় বলা যায় যে, রহমত আলী কমিশনের গোটা প্রতিবেদনটি সার্বিক বিবেচনায় বাস্তবায়নের অযোগ্য একটি প্রতিবেদন। তা সত্ত্বেও, বাস্তব অবস্থা দেখে মনে হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকগণ এ্যাডভোকেট রহমত আলী কমিশনের ওই গারবেজ তুল্য প্রতিবেদনটি নিয়ে এখনও সন্তুষ্ট কিংবা দ্বিধাগ্রস্ত রয়েছেন; পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রায় সকল কেন্দ্রীয় নেতাগণ ও রহমত আলী কমিশনের সকল সদস্যগণ ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ সম্পর্কে বার বার অবগত হয়েছেন, এবং এর সবিস্তার ব্যাখ্যা শুনেছেন, জেনেছেন; তার পরও এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে, উপলব্ধিতে নিতে, বাস্তবায়নে যেতে এতবেশী সময় লাগার কারণ একদমই বোধগম্য নয়। সে যাই হোক, এখন তো বিএনপিকে ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার,’ ‘গ্রামসভা’ ও ‘গ্রাম সরকার’ নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় না, শোনা যায় না। জাতীয় পার্টিকে ‘পল্ল¬ী পরিষদ’ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় না, দেখা যায় না; অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, অবৈধ শাসক এরশাদকে “পল্লী” শব্দ কেন্দ্রীক, “পল্লী পরিষদ” কেন্দ্রীক ও “পল্লীনিবাস” কেন্দ্রীক ‘পল্লীবন্ধু’ বানানোর খায়েশও এই দলের ফুরিয়ে গেছে বলে মনে হয়! আর আওয়ামী লীগকে ইউনিয়নে ওয়ার্ড ভিত্তিক তথাকথিত ‘গ্রাম পরিষদ’ নিয়ে কোনও বক্তব্য দিতে, টুঁ শব্দ করতে দেখা যায় না, শোনা যায় না। তবে প্রতি গ্রামে কিংবা ইউনিয়নের প্রতি ওয়ার্ডে ওইসব তথাকথিত ইউনিট গঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে যেসব ব্যক্তি নানাবিধ ফায়দা লুঠেছে, অপ্রয়োজনীয় বই-টই লিখে প্রচুর টাকাপয়সা কামিয়েছে, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ পরিচিতি মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেছে, দাতা গোষ্ঠীর টাকায় সভা-সেমিনার করেছে, নতুন নতুন এনজিও যেমন ‘স্থানীয় সরকার সহায়ক কমিটি’ গঠন করেছে, তারা এখনো মাঝেমধ্যে ওইসব অপ্রয়োজনীয় ইউনিট গঠনের পক্ষে আড়ালে-আবড়ালে, চুপিসারে সাফাই গাইতে দেখা যায়। এসব অপকর্মকান্ডের বিরুদ্ধে, ইউনিয়নের মধ্যে ওইসব অপ্রয়োজনীয় ইউনিট গঠনের বিরুদ্ধে সিডিএলজি’র লাগাতার ক্যাম্পেইন ও তীব্র প্রতিবাদ এর কারণে এক দিকে ওইসব ব্যক্তির জোরগলা বেশ ক্ষীণ ও দুর্বল হয়েছে; অপর দিকে ওইসব রাজনৈতিক দল বুঝতে পেরেছে যে, ইউনিয়নের মধ্যে ওইসব অপ্রয়োজনীয় ইউনিট গঠন করার নামে আবার লাফালাফি, মাতামাতি করলে হালে আর পানি পাওয়া যাবে না; তাই তারাও চুপসে গেছে বা চুপসে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে বোঝা যায়। শেষ তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গঠিত একটি স্থানীয় সরকার বিষয়ক কমিটিও ইউনিয়নের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ডে ‘ওয়ার্ড সভা’ ও নগরীয় ওয়ার্ডে ‘ওয়ার্ড কমিটি’ গঠনের সুপারিশ করে; এই কমিটির জন্য অন্যসব খরচ ছাড়া শুধু ওই তথাকথিত সুপারিশ প্রকাশের জন্য ঢাকায় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক সভার জন্য ব্যয় করা হয়েছে প্রায় সোয়াশ কোটি টাকা, এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থের অপচয় কারে কয়, তা ওই কমিটি ও স্থানীয় সরকার বিভাগ ভালভাবে দেখিয়েছে! ওই কমিটির প্রধান ড. শওকত আলী পুরস্কার স্বরূপ শেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও হয়েছেন; তথাকথিত ওয়ার্ড সভা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের সুপারিশসহ ওই কমিটির অন্য সুপারিশগুলিও বড্ড সেকেলে, খন্ডিত ও বাস্তবায়নের একদম অযোগ্য; প্রথম দিকে মিডিয়াসহ অনেকেই না জেনে, না বুঝে ওই কমিটির প্রতিবেদনটির প্রতি সমর্থন জানায়, আবার জেনেবুঝেই কেবল স্বার্থগত কারণে তার পক্ষে শেষ তত্বাবধায়ক সরকারের গর্ভে সৃষ্ট ‘গভার্নেন্স কোয়ালিশন’ নামের একটি এনজিও গ্রুপ দাতা সংস্থার টাকায়, শেষ তত্বাবধায়ক সরকারের সেবাদাস হিসেবে সভা-সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে বেশ হইচই করে থাকে, ‘হাঙ্গার প্রজেক্ট’ নামের আরেকটি এনজিও’র বাংলাদেশস্থ কর্ণদার (ড. বদিউল আলম মজুমদার) এর বিশেষ ব্যক্তিগত স্বার্থে ওই এনজিওটিও অনুরূপ কাজে লিপ্ত থাকে, আর এই হাঙ্গার প্রজেক্ট এরই পকেট সংগঠন ‘সুজন’ও ওই প্রতিবেদন নিয়ে মাঠ গরম করার অপচেষ্টা চালায়, ‘ডেমক্রেসিওয়ার্চ’ নামের আরেকটি সুবিধাভোগী এনজিও ওই প্রতিবেদনের পক্ষে প্রচার প্রচারণায় সচেষ্ট থাকে, এবং এই এনজিও ইউনিয়ন পরিষদের তথাকথিত ‘স্থায়ী কমিটি শক্তিশালীকরণ’র নামে দাতা সংস্থার লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে লোক দেখানো সভা সেমিনারও আয়োজন করত; অথচ ওই এনজিও বিধানিক পরিষদীয় বা সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কি, তা-ই বুঝত না, বুঝে না; মিসেস তালেয়া রেহমান কর্তৃক পরিচালত এই এনজিওটি গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার চায়, বুঝে তার কোনও লক্ষণ এর কর্মকা-ে কখনও প্রতিফলিত হয়নি, হয়না। ওই অসার প্রতিবেদনটির পক্ষে বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রও নিজস্ব স্বার্থগত কারণে প্রবল প্রচার প্রচারণায় যুক্ত হয়ে পড়ে; ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামক একটি এনজিও অনুরূপ কর্মকা-ে লিপ্ত থাকে, যদিও এই এনজিওতেও স্থানীয় সরকার বুঝে, জানে এমন কোনো কর্মকর্তা দেখা যায়নি; তখন এই এজিও’র এক বিশেষ সুবিধাভোগী কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার বিষয়ক গার্বেজ তুল্য একাধিক নিবন্ধ ডেইলি স্টার নামক একটি ইংরেজী পত্রিকায় প্রকাশ করায় এবং ইউরোপের একটি দেশ থেকে একটি স্কলারশিপ বাগিয়ে নেয়। অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ‘সিপিডি’ও ওই অসার প্রতিবেদনের পক্ষে জোর অবস্থান নেয়, যদিও এই প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার, গণতন্ত্রায়ন বুঝে, জানে এমন কোনও গবেষক, কর্মকর্তা আছে বলে আমাদের অন্তত জানা নেই; কিন্তু সিডিএলজির বুদ্ধিবৃত্তিক তীব্র আন্দোলনের ফলে ওই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলির অসারতা, দুর্বলতা খোলাসা হতে থাকায় তার প্রতি অনেকের সমর্থন ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়েছে, এবং ওই কমিটির সদস্যদের উচ্চকণ্ঠ আস্তে আস্তে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতম হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়; ওই কমিটির সুপারিশগুলি (মূলত একেও নকলবাজদের নকল বলাই শ্রেয়) এবং ওইগুলির ভিত্তিতে প্রণীত আইনকানুন বিধিবিধান যত দ্রুত সম্ভব বাতিল হয়ে যাওয়া উচিত। এই শেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্যোগেই তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি স্থানীয় সরকার কমিশনও গঠিত হয়; এ কমিটির সদস্যরা কেবল বেতন, ভাতা, অফিস, গাড়ী, বাড়ি, পদমর্যাদা ও নানা রকমের সুযোগসুবিধা নিয়েই ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে; এঁদের একজনেরও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার, বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও এর অভ্যন্তরীণ স্ট্যাটাসগত ও গুণগত পরিবর্তন সম্পর্কে তত্ত্বগত ও বাস্তব ধারণা ছিলোনা; এঁদেরই একজন (ড. তোফায়েল আহমেদ) এখনও বিলুপ্ত কমিশনের পদবী ব্যবহার করে মিডিয়াসহ অন্যসব জায়গায় নানা রকমের সুযোগসুবিধা নিয়ে থাকেন, এবং তিনি তার অসার গার্বেজ তুল্য বক্তব্য কথায় লেখায় সবসময় তুলে ধরেন। তাজ্জব ব্যাপার হল, এই তিনি, যিনি আর্থ-সামাজিক স্তরীয় অবস্থা বুঝে স্থানীয় সরকারের প্রকার ঠিকভাবে করতে পারেন না, সর্বনি¤œ ইউনিট কতটি তা বুঝতে পারেন না, সর্বোচ্চ ইউনিট বিভাগ না জেলা তা ঠিক করার ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ করার প্রয়োজনীয়তা বুঝেন না, নির্বাহিক ও বিধানিক পরিষদের পার্থক্য বুঝেন না, সমন্বিত স্তরবিন্যাসকরণ ও তার গুরুত্ব বুঝেন না, সার্থক নামকরণ ও যথার্থ সংজ্ঞায়িতকরণের গুরুত্ব অনুধাবন করেন না, ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন না, নারীর গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়নে ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি তথা এমপোতে বিশ্বাস করেন না, গ্রামীণ তথা কৃষিপ্রধান থেকে গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশের রূপান্তরিত উপস্থিতি এখনও টের-ই পাননা, বিদ্যমান গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ থেকে একটি পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ এ উন্নীত হবার চলমান প্রক্রিয়া উপলব্ধিতে নিতে চাননা, স্থানীয় সরকারের শেষ গন্তব্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা জানেন না, বোঝেন না, বোঝতে চাননা, ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ মিডিয়া কর্মিরা তাঁকে (এবং ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ড. আকবর আলি খান, ড. শওকত আলী সহ আরও কয়েক জনকে) স্থানীয় সরকার “বিশেষজ্ঞ” হিসেবে প্রচার প্রকাশ করেই চলেছে; এতে তাঁরা খুবই পুলকিত বোধ করেন! প্রশ্ন হল, এসব ব্যক্তিসহ আরও কিছু ব্যক্তি (কারা তা বুঝে নিলে খুশী হব) ও কিছু এনজিও সম্পর্কে মিডিয়া কর্মিরা কবে সচেতন হবে? কবে শেষ হবে স্থানীয় সরকার নিয়ে সব ধরনের অপতৎপরতা, অপপ্রচার? আর কবে শেষ হবে অসার, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার প্রকাশের লাগাতার মহড়া?
প্রকৃতপক্ষে, স্থানীয় সরকার বিষয়ক যত রকমের মিথ আর অপতৎপরতা রয়েছে, তার বিরুদ্ধে সর্বাত্বক বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে সূচিত হয় ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারী থেকে। ওই দিন ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরে এক জাতীয় সেমিনারে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ উপস্থাপিত করেন স্থানীয় সরকার ও গণতন্ত্রায়ন বিষয়ক গবেষক আবু তালেব, এবং সেই ১৩ জানুয়ারী ১৯৯৭ সাল থেকেই তাঁর উদ্যোগে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ও ২০২০ সালের মধ্যে একটি উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তথা “গণস্বপ্ন ২০২০” প্রতিষ্ঠার বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন সূচিত হয়, প্রকৃত অর্থে স্বপ্ন (ভিশন) ভিত্তিক আন্দোলন সংগ্রাম সূচিত হয়; আর এই আন্দোলনই স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত যত রকমের মিথ, মিথ্যা নোশান, আনফাউন্ডেড নোশান, অপচেষ্টা, অপতৎপরতা রয়েছে তা আস্তে আস্তে দূরীভূত করে আসছে; শুরুতে অনেকেই এই আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য বুঝতে পারেননি; ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিটি গ্রাম কিংবা ওয়ার্ড ভিত্তিক স্থানীয় সরকারের ইউনিট স্থাপনের কোনো প্রয়োজন নেই, জনাব আবু তালেবের এই দৃঢ় বক্তব্যের, অবস্থানের সারবত্তাও অনেকে একেবারেই বুঝতে পারেননি, এবং অনেকেই তাঁর এই দৃঢ় বক্তব্যকে, অবস্থানকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেননি বলে তাঁকে অনেকেই ভুল বুঝেছেন, ক্ষুরধার সমালোচনা করেছেন। অনুরূপ কঠোর সমালোচনায় পড়তে হয়েছিল “গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা” নামকরণে “গণতান্ত্রিক” শব্দটি লাগানোর জন্যও। তাতে কিন্তু তিনি একটুও দমে যাননি; তিনি তাঁর সুদৃঢ় বক্তব্য নিরলসভাবে গোটা জাতিকে সাধ্যমত লাগাতার জানিয়ে বুঝিয়ে চলেছেন। এটা তো ঠিক যে, সমষ্টিগত কিংবা জাতিগত ভুল ভাঙ্গানো সহজ কাজ নয় এবং এও ঠিক যে, যে কোনো সত্য বিষয় সহজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়না, যায়নি। এসব বিষয় মাথায় রেখেই সিডিএলজি লাগাতার বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার স্থাপন, কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক না হওয়া পর্যšত সিডিএলজি’র এই বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন, সংগ্রাম অবশ্যই চলতে থাকবে। ফলে, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, স্বনির্ভর গ্রাম সরকার, পল্ল¬ী পরিষদ, গ্রাম সভা, গ্রাম পরিষদ, গ্রাম সরকার ও ওয়ার্ড সভার মত উপজেলাও একটা মিথ ও অপ্রয়োজনীয় ইউনিট হিসেবে একদিন না একদিন অবশ্যই প্রমাণিত হবে; এবং তথাকথিত ‘গ্রাম সরকার’র মত উপজেলার প্রতিও দেশবাসী ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রবল মোহ ভঙ্গ হবে; আর সেজন্য, ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারী থেকে পরিচালিত দেশের সার্বিক গণতন্ত্রায়নের ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিরতিহীন বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন ও তার অপরিসীম গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে, এই ১৩ জানুয়ারীকেই “স্থানীয় সরকার দিবস” হিসেবে ঘোষণা ও পালন করার জন্য সিডিএলজি, এমপো বাস্তবায়ন ফোরাম ও বাপসনিউজ জোর দাবী জানিয়ে আসছে। আমরা আশা করি সরকার তা বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
প্রাসঙ্গিকভাবে দুইটি বিষয় পাঠক-পাঠিকা সমাজের অবগতির জন্য স্পষ্ট করা দরকার বলে মনে হয়; তার একটি হল, “সিটি কর্পোরেশন” শব্দবন্ধটি নিয়ে; অনেকে ভুলবশত “সিটি” শব্দটির বাংলা “মহানগর” বলে থাকেন, লিখে থাকেন যেমন ঢাকা মহানগর, চট্রগ্রাম মহানগর, রাজশাহী মহানগর ইত্যাদি; গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দলগুলো, স্থানীয় প্রতিনিধিগণ, আইনপ্রণেতাগণ ও নীতিপ্রণেতাগণও তাই বলে-কয়ে চলেছেন। মূলত “নগর” শব্দটির ইংরেজী অনুবাদ হবে “সিটি” কিংবা “সিটি” শব্দটির  বাংলা অনুবাদ হবে “নগর”; “মহানগর” হল কীভাবে? তা তো মাথায় আসেনা। এবং সবাই জানে যে, “কর্পোরেশন” শব্দটি সাধারণত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ব্যবহার হয়ে থাকে, এবং এই “কর্পোরেশন” শব্দটি বললে বা শুনলে মানুষের মানসপটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কথাই ভেসে ওঠে, এবং মুনাফা, লাভালাভ কেন্দ্রিক কর্মকান্ডের কথা চলে আসে; প্রশ্ন হল, স্থানীয় সরকার কি মুনাফামুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান? তা তো নয়; তাইলে “কর্পোরেশন” শব্দটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে কেন? এ কি “ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি” তুল্য নাম? এই দুইটি বিষয় বিবেচনায় এনে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখায় জনাব আবু তালেব কেবল “নগর” আর “নগর সরকার” শব্দবন্ধদ্বয় ব্যবহার করেছেন। তাই তো আমরা সবসময় বলে আসছি যে, গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী কল্যাণমূলক, সেবামূলক ও উন্নয়নমূলক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে ভুল নামকরণ “মহানগর” নামটি থেকে আর মুনাফার গন্ধ যুক্ত নামকরণ “কর্পোরেশন” নামটি থেকে অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে; আমরা আশা করি এই ধরনের বড় ভুল আর গোজামিল থেকে সরকারসহ সবাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দায় স্বীকার করেই বের হয়ে আসবেন। অপরটি হল, সরকারসহ অনেকেই ভুল ধারণা বশত শুধু সিটি কর্পোরেশনগুলোকে আরবান ইউনিট মনে করে থাকে; এই ভুল ধারণাটি ভাঙ্গতে ও প্রকৃত বিষয় তুলে ধরতে এই প্রতিবেদনে ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ অনুযায়ী নগর, নগরীয় ইউনিট ও নগরীয় এলাকা বলতে সিটি কর্পোরেশনগুলোর পাশাপাশি দেশের সকল পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলোকেও বুঝানো হয়েছে। প্র্রকৃত অর্থে, নগর ও নগরায়ন বোঝেনা, গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বোঝেনা এমন সব ব্যক্তি ও সরকারী কর্মকর্তাগণ (বিশেষত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, একনেক, নিকার, মন্ত্রিপরিষদ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, সংসদ, বিচার ও রাষ্ট্রপতির সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের কর্মকর্তাগণ) এর কারণে নগরীয় এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিটগুলোকে বিভিন্ন নীতি, আইন ও বিধিতে বিভিন্ন নাম দিয়ে একটা বিভ্রান্তিকর অবস্থায় রাখা হয়েছে; একই আইনে গ্রামীণ এলাকার স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট “ইউনিয়ন” নামকরণের মত একই আইনে নগরীয় এলাকার স্থানীয় ইউনিটগুলিও শুধু “নগর” নামে পরিচিত হতে পারতো, হতে পারে, এবং ইউনিয়ন ও নগরে যথাক্রমে ইউনিয়ন সরকার ও নগর সরকার গঠিত হতে পারত, হতে পারে। ইউনিয়নগুলির মধ্যে আয়তন, জন সংখ্যা, রাজস্ব আয়-ব্যয় ও গুরুত্বে যেমন পার্থক্য রয়েছে, ঠিক তেমনি নগরগুলোর মধ্যেও আয়তন, জনসংখ্যা, রাজস্ব আয়-ব্যয় ও গুরুত্বে পার্থক্য রয়েছে; যদি গ্রামীণ এলাকায় “ইউনিয়ন” নামকরণে অসুবিধা না থাকে, নগরীয় এলাকায় এক ধরনের নাম “নগর” হতে অসুবিধা কোথায়? সেই বিষয়টি একেবারেই বোধগম্য নয়। আবার, ইউনিয়নের জন্য ‘ইউনিয়ন সরকার’ গঠন করার বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ইউনিয়নের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ‘ওয়ার্ড সভা’ গঠনের আইন রয়েছে, এবং নগরগুলির জন্য ‘নগর সরকার’ গঠন করার বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে প্রতিটি নগরীয় ওয়ার্ডে অপ্রয়োজনীয় ‘ওয়ার্ড কমিটি’ গঠন করার আইনও রয়েছে; এও এক ধরনের পাগলামি ছাড়া অন্য কিছু নয়। সে যাই হোক, বাংলাদেশ এখন আর শুধু গ্রামীণ দেশ নয়, কেবল কৃষিজ সমাজ নয়; বিদ্যমান বাস্তবতায় এখনকার বাংলাদেশ হচ্ছে গ্রামীণ-নগরীয় দেশ, গ্রামীণ-নগরীয় সমাজ, অর্থাৎ একটি মিশ্র সমাজ; গ্রামীণ বাংলাদেশ আর গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ এক বিষয় নয়; এই দু’টোর সম্ভাবনা, সমস্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ধরনের নয়; কৃষিজ সমাজ আর গ্রামীণ-নগরীয় সমাজের ধ্যান-ধারণা ও জীবনাচরণ এক নয়; তাই এই দু’টোর প্রশাসনিক কাঠামো ও তার কার্যাবলীও এক ধরনের হওয়া উচিত নয়; দুঃখজনক বিষয় হল, অন্যান্য পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনার মত ৭ম পঞ্চ বার্ষিক (২০১৬-২০২০) পরিকল্পনার চূড়ান্ত খসড়ায়ও তার ইঙ্গিত, স্বীকৃতি ও প্রস্তুতিমূলক বিষয় একদম নেই বললে চলে। রাজনৈতিক দলসহ মিডিয়াও এই বিষয়টি বুঝতে পারছেনা বলে প্রতীয়মান হয়। জনাব আবু তালেব বাংলাদেশের স্ট্যাটাসগত ও গুণগত এই বিরাট পরিবর্তনের কথা সর্বপ্রথম ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারী ঢাকায় আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তুলে ধরেন; সেই থেকে অনেক সময় পার হয়েছে; নতুন কোনও কিছু বুঝে ওঠতে সময় লাগতেই পারে; কিন্তু এত বেশী সময় লাগাটা একদম মেনে নেয়া যায়না। এই বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব মিডিয়া, নীতিপ্রণেতাগণ, আইনপ্রণেতাগণ ও গোটা সমাজকে বুঝতে হবে, এবং সরকার কর্তৃক বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রামীণ-নগরীয় দেশ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে; গ্রামীণ সমাজ তথা কৃষিজ সমাজ থেকে গ্রামীণ-নগরীয় সমাজের ধ্যান-ধারণায় ও জীবনাচরণে অভিযোজন প্রক্রিয়া সচেতনভাবে সম্পন্ন করতে হবে, তার ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রণীত, গৃহীত ও বাস্তবায়িত হতে হবে, এবং তারই ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো, ক্ষমতা ও কার্যাবলী ঠিকঠাক করতে হবে। এই তো গেল একটা দিক; অন্য দিক হল দ্রুত নগরায়নের ফলে বিদ্যমান গ্রামীণ-নগরীয় দেশ থেকে বাংলাদেশ একটি পরিপূর্ণ নগরীয় দেশ হবার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; একটি গ্রামীণ দেশ, কৃষজ সমাজ থেকে একটি পরিপূর্ণ নগরীয় দেশ, নগরীয় সমাজ হবার পথে গ্রামীণ-নগরীয় দেশ, গ্রামীণ-নগরীয় সমাজ হচ্ছে একটা মধ্যবর্তী পর্যায়; তবে এর স্থায়িত্ব কালও কম সময় নয়; তা মাথায় রেখেই পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ এর সমস্যা ও তার সম্ভাব্য সমাধানসূত্র বাস্তবায়নের জন্য সামগ্রিকভাবে মানসিক ও শিক্ষাগত প্রস্তুতিও এখন থেকে নিতে হবে। এক হিসাব অনুযায়ী দ্রুত নগরায়নের ফলে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৫০% এলাকা হয়ে যাবে নগরীয় এলাকা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১০০% এলাকা হয়ে যাবে নগরীয় এলাকা; অন্যভাবে বলা যায়, গ্রামীণ ইউনিটগুলি যেমন ইউনিয়নগুলি বিলুপ্ত হয়ে যাবে; তাতে কি হবে? তাতে গোটাদেশ নগরীয় ইউনিটে বিভক্ত হয়ে পড়বে। ফলে আজকের যে গ্রাম কিংবা আগের যে সনাতন গ্রাম তা মূলত জাদুঘরে ও বই-পুস্তকে ঠাঁই পাবে; বাস্তবে সেই গ্রামের চিহ্ন কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। এই বিষয়টি আরেকভাবে অনুধাবন করা যেতে পারে, বর্তমানে প্রায় ৩৫% জনগোষ্ঠী নগরীয় এলাকায় বসবাস করে, ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০% জনগোষ্ঠী নগরীয় এলাকায় বসবাস করবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০% জনগোষ্ঠী নগরবাসী হয়ে যাবে। চলমান এই নগরায়ন প্রক্রিয়ায় একদিকে গ্রামীণ কৃষি পেশাতে কর্মসংস্থান বিপুলভাবে কমছে, কমতে থাকবে, এবং অন্যদিকে অন্যসব নতুন নতুন অকৃষি পেশাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, হতে থাকবে। তার আলামত প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে, বুঝা যাচ্ছে। সুতরাং, দৃঢ়তার সঙ্গে বলা যায় যে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ মানে পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ; তাই গ্রামীণ বাংলাদেশ থেকে বিদ্যমান গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশও চিরকাল গ্রামীণ-নগরীয় দেশ থাকবেনা; এটি একটি মধ্যবর্তী পর্যায়; এই মধ্যবর্তী পর্যায় থেকে দ্রুত নগরায়নের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায় হচ্ছে পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ, নগরীয় সমাজ, নগরীয় সভ্যতা; বাংলাদেশ খুব দ্রুত তালে সেদিকেই এগিয়ে চলেছে। এই বিষয়টি বিশ্বাসে রেখে, তারই ভিত্তিতে একটি পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত নগরীয় বাংলাদেশ, নগরীয় প্রশাসনিক ইউনিট ও তার জন্য গতিশীল ‘নগর সরকারের রূপরেখা’ ও তা স্থাপন সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট সুস্পষ্ট প্রস্তাব সর্বপ্রথম ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারীতে ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’য় উপস্থাপিত করা হয়েছে; এটি একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বিধায় তখন অনেকেই তা বুঝে উঠতে পারেনি, দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও এখনও অনেকে তা বুঝে উঠতে পারছেনা বলে প্রতীয়মান হয়; বিশেষত দুঃখজনক বিষয় হল, ১৯৯৭ সাল থেকে সিডিএলজি’র এই বুদ্ধিবৃত্তিক ক্যাম্পেইন চলমান ও দৃশ্যমান থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, কৃষি মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ, একনেক, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, মন্ত্রীপরিষদ ও জাতীয় সংসদ তা পুরোপুরি বুঝতে অপারগ কিংবা বুঝতে চায়না বলে প্রতীয়মান হয়; এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণের সেকেলে চিন্তাভাবনা ও কর্মকা- জাতিকে অনেক অনেক পেছনে ফেলে রেখেছে; বাংলদেশকে পিছনে ফেলে রাখার সেই অদূরদর্শি ধারা পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক প্রণীত ৭ম পঞ্চ বার্ষিক (২০১৬-২০২০) পরিকল্পনার চূড়ান্ত খসড়ায়ও রয়েছে; আর যারা নগরীয় ইউনিটে মেয়র ও কাউন্সিলর হয়েছে কিংবা হতে চায় তারাও “পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত” নগর, নগরায়ন, নগরবাদ, নগরীয় কৃষি, নগরীয় সভ্যতা, নগরীয় কালচার, নগরীয় জীবনধারা ও নগর সরকারের রূপরেখা নিয়ে তেমন একটা চিন্তাভাবনা করে বলে প্রতীয়মান হয়না; সেই ১৯৯৭ সালে জনাব আবু তালেব “পরিকল্পিত” শব্দটির আগে “পরিবেশবান্ধব” শব্দটি জুড়িয়ে দিয়ে আগে “পরিবেশ” বিষয়টি সকলের সামনে নিয়ে আসেন-যার গুরুত্ব ও তাৎপর্য এখনও অনেকে বুঝেন না বলে বুঝা যায়; তবে “পরিবেশবান্ধব” শব্দটি আস্তে আস্তে হলেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে; বুঝে হোক আর না বুঝে হোক লেখালেখিতে শব্দটি প্রায়োগিক গুরুত্ব পাচ্ছে। শুরুতে অনেকেই এই শব্দটির ব্যবহার বাঁকা চোখে দেখতেন, এ নিয়ে জনাব আবু তালেব কর্তৃক বাড়াবাড়ি বলে আলোচনা-সমালোচনা করতেন এবং এই শব্দ আর স্থানীয় সরকারের রূপরেখা-এ দু’য়ে সম্পর্ক কোথায় তা নিয়েও প্রশ্ন করতেন। এতো সত্য যে, ২০২০ ও ২০৫০ সালদ্বয়কে সামনে রেখে প্রতিটি নগর ভিত্তিক পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সেবামূলক সার্ভিস পরিচালিত করার লক্ষ্যে নগরীয় প্রশাসনিক ইউনিটগুলো সাজানো ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা ও কর্মসূচী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেই, তা স্পষ্টভাবে বুঝা যায়; এ এক মহা হতাশাজনক চিত্র; এর অবসান হওয়া খুবই জরুরি বৈকি। সেক্ষেত্রে আশার আলো হল, এটি নিয়ে সিডিএলজি, বাপসনিউজ, এমপো বাস্তবায়ন ফোরামসহ আরও অনেকে লাগাতার ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছে; ফলে একদিন না একদিন এই হতাশাজনক চিত্র একটি আলোকিত চিত্রে পরিণত হবে, হতে বাধ্য।
সে যাই হোক, সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের প্রয়োজন হচ্ছে একটি দুই স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার পদ্ধতি; আর কেন্দ্রীয় সরকারসহ বাংলাদেশের প্রয়োজন হচ্ছে একটি তিন স্তরবিশিষ্ট সরকার পদ্ধতি। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে একটি দুই স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করার দিকে যেতে হবে; দুইয়ের চেয়ে বেশী স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো থাকলে তাতে মধ্যবর্তী ইউনিট থাকবে, এখন যেমন উপজেলা রয়েছে; এই অপ্রয়োজনীয়, দায়দায়িত্বহীন, স্বশাসনহীন মধ্যবর্তী ইউনিটের অস্তিত্ব বজায় রাখাটা হচ্ছে, হবে কেবলই অপচয়মূলক ও অসৎউদ্দেশ্যমূলক; এই মধ্যবর্তী ইউনিট নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক সময় ও অর্থ নষ্ট করা হয়েছে; আশাকরি, আর কাল বিলম্ব না ঘটিয়ে এই বিষয়টি নীতিপ্রণেতা ও আইনপ্রণেতাগণ যত দ্রুত সম্ভব বুঝার চেষ্টা করবেন এবং তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ভুল ধারণা বশত বাংলাদেশকে এখনও একটি গ্রামীণ দেশ (রুরাল কান্ট্রি) মনে করা হয়; কিন্তু বাংলাদেশ এখন আর শুধু গ্রামীণ দেশ নেই; এই ভুল ধারণার পরিবর্তে বিদ্যমান বাস্তবতায় বাংলাদেশকে একটি গ্রামীণ-নগরীয় (রুরাল-আরবান) দেশ হিসেবে ধরে নিয়ে এবং ২০২০ ও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ ও বিশ্বময় পরিবর্তনশীল বিষয়গুলি বিবেচনায় নিয়ে ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সরকার ও গণতন্ত্রায়ণ বিষয়ক গবেষক আবু তালেব স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ ও স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ প্রণয়ন করেন, এবং তিনি তা ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারী ঢাকায় জতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় সেমিনারের মাধ্যমে জনগণ ও বাংলাদেশ সরকারের বিবেচনার্থে উপস্থাপিত করেন; এটি গ্রামীণ বাংলাদেশ এর পরিবর্তে গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ এর জন্য গণতান্ত্রিক স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রথম উদ্যোগ, প্রথম প্রচেষ্টা; দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকা- ধাপে ধাপে (কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত) ধারাবাহিকতায় স্থিতিশীল গতিশীল প্রক্রিয়ায় পরিচালিত করার জন্য স্থানীয় সরকারের একটি স্তরবিন্যাসকরণ দেশের সূচনা লগ্ন থেকে ঠিক করার প্রয়োজন থাকলেও আজ অবধি এই কাজটি সচেতনভাবে সঠিকভাবে করার কোনো উদ্যোগ গৃহীত হয়নি, হচ্ছেনা; তা অবশ্যই দুঃখজনক ঘটনা; সে যাই হোক, তিনি উক্ত স্তরবিন্যাসকরণদ্বয়ে মধ্যবর্তী ইউনিটগুলি, যেমন উপজেলা, ও অন্যান্য গ্রামীণ ইউনিটগুলি, যেমন ইউনিয়ন, কীভাবে আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাবে তা রেখাচিত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন; এবং, ওই প্রস্তাবিত স্তরবিন্যাসকরণদ্বয়ে গোটা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কীভাবে একটি দুই স্তরবিশিষ্ট কাঠামো হয়ে ওঠবে তাও গ্রাফে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন; তাতে তিনি সরকারের আকার আয়তন আস্তে আস্তে ছোট করার ব্যবস্থা করেছেন, ফলে কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সিস্টেম কস্ট কমে গিয়ে উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। উভয় কাঠামোতে ২০৫০ সালে কিংবা তার আগেই একটি পরিপূর্ণ ‘নগরীয় (আরবান) বাংলাদেশ’ গঠনের স্বপ্ন ও তার বাস্তবরূপ তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যমান ‘গ্রামীণ-নগরীয় (রুরাল-আরবান) বাংলাদেশ’ কি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে আস্তে আস্তে পরিপূর্ণ ‘নগরীয় (আরবান) বাংলাদেশ’ হয়ে ওঠবে এবং পরিপূর্ণ ‘নগরীয় বাংলাদেশ’ এ কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় সরকার তথা শুধু নগরীয় স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ কি রূপ নিবে, নিতে পারে, তা ওই স্তরীয় কাঠামোগত রেখাচিত্রে সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ও বোধগম্য করা হয়েছে; এ এক মহা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কাজ; এ এক মহা বিস্ময়কর ব্যাপার, বিষয়। যে কেউ এই কাজের গভীরতা ও তাৎপর্য বুঝতে পারলে শ্রদ্ধায় ভালবাসায় নত হয়ে যাবারই কথা; আমাদের প্রবল বিশ্বাস হচ্ছে, জনাব আবু তালেব ২০৫০ সালের মধ্যে “নগরীয় বাংলাদেশ” এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও ক্যাম্পেইনার হিসেবে, আগে পরিবেশ এই বিষয়টি মাথায় রেখে “পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত নগর ও নগরায়ন” শব্দবন্ধের ইনকুবেটার ও ক্যম্পেইনার হিসেবে, ২০২০ সালের মধ্যে একটি ‘উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা ও তার বাস্তবায়নমূলক পরিকল্পনার প্রণেতা ও ক্যাম্পেইনার হিসেবে, দেশের সকল ক্ষেত্রে সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০২০ ও ২০৫০ সাল কেন্দ্রিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মান্য করানোর প্রবক্তা ও ক্যাম্পেইনার হিসেবে, নারীর ৫০% প্রতিনিধিত্বের প্রচলিত ত্রুটিপূর্ণ ধারণার পরিবর্তে নারীপুরুষের জন্য এমপো তথা একশো একশো (১০০-১০০) প্রতিনিধিত্ব ফর্মুলা ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত বিবেচনায় প্রণীত ১১ দফার ইনকুবেটার ও ক্যাম্পেইনার হিসেবে, গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’র প্রণেতা হিসেবে, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের রূপরেখার প্রণেতা হিসেবে, গণতান্ত্রিক আইনসভার রূপরেখার প্রণেতা হিসেবে, গণতন্ত্রায়ন বিষয়ক অনেকগুলি শ্লোগানের রচয়িতা হিসাবে, গ্রামীণ বাংলাদেশ এর পরিবর্তে বর্তমান বাস্তবতায় একটি “গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ” এর ধারণা তুলে ধরার জন্য ইতিহাসের পাতায় চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এখানে আরও জানিয়ে রাখা উচিত হবে যে, তার এই প্রশাসনিক স্তরীয় কাঠামোগত রূপরেখা হচ্ছে ২০২০ সাল ও ২০৫০ সাল ভিত্তিক কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রথম প্রস্তাবিত পরিকল্পনা, প্রথম দৃষ্টান্ত; যেটি দেশের অন্যসব ক্ষেত্রের জন্য ২০২০ সাল ও ২০৫০ সাল ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সবাইকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে আসছে। প্রসঙ্গত বলা দরকার যে, তিনি এই রূপরেখায় ২০২০ সালের মধ্যে একটি ‘উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ (যেটি ‘গণস্বপ্ন ২০২০’ নামে বহুল পরিচিত) নির্মাণ করার যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা হাজির করেছেন তা অনেকে পরিপূর্ণভাবে না বুঝে কিংবা বুঝে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ‘উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ‘ ও ‘উন্নত বাংলাদেশ’ এর মধ্যেকার বিশাল তফাতকে গুলিয়ে ফেলে বক্তব্য হাজির করার অপচেষ্টা করছেন বলে প্রতীয়মান হয়; ঠিক যেমন অনেকে না বুঝে এক সময় ‘জাতীয় সরকার/কেন্দ্রীয় সরকার’ আর ‘জাতীয় একতা সরকার’ বিষয়দ্বয়ের মধ্যেকার তফাত গুলিয়ে ফেলতেন; ওই তফাতের বিষয়টি গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখায় সর্বপ্রথম সুস্পষ্টভাবে হাজির করার পর তা গুলিয়ে ফেলার বিষয়টি প্রায় বন্ধ হয়েছে বলে মনে হয়। এখন একইভাবে ‘উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ আর ‘উন্নত বাংলাদেশ’ এর মধ্যেকার ফারাক গুলিয়ে ফেলার বিষয়টি বন্ধ হলে ভাল হয়; এটি যাঁদের উদ্দেশ্যে বলা হল, আশা করি, তাঁরা তা বুঝবেন এবং নিজেদেরকে সংশোধন করবেন। সে যাই হোক, বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অনেকেই ২০২০ সালের কথা বলছে, ২০২১ সালের কথা বলছে, ২০৩০ সালের কথা বলছে, ২০৪০ সালের কথা বলছে, ২০৪১ সালের কথা বলছে, ২০৫০ সালের কথা একটু আধটু উচ্চারণ করছে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বলছে এবং সর্বোপরি এডহক ভিত্তিক পরিচালিত কর্মকা-ের পরিবর্তে স্বপ্ন (ভিশন) ভিত্তিক কর্মকা- পরিচালনার কথা বলছে; মনে রাখা দরকার যে, তার উৎস, অনুপ্রেরণা, পথপ্রদর্শক, অনুঘটক হচ্ছে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা, ওই রূপরেখায় উপস্থাপিত স্তরবিন্যাসকরণদ্বয় অর্থাৎ জনাব আবু তালেব, যার লাগাতার ক্যাম্পেইন তিনি নিউ ইয়র্ক থেকে সূচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সফলভাবে পরিচালিত করেন। তবে জনাব আবু তালেব এর আহবান ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৯৭ সাল থেকে যদি ২০২০ ও ২০৫০ সাল ভিত্তিক দেশের সকল স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন, গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হত, যদি ‘গণস্বপ্ন ২০২০’ ভিত্তিক ২৫টি ক্ষেত্রে ২৫টি গণতস্ত্রায়ন কর্মসূচী নিয়ে ‘উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ নির্মাণ প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন শুরু হত, যদি ‘গ্রামীণ বাংলাদেশ’ এর পরিবর্তে ‘গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ’ এর ধারণা সবাই বুঝত ও গ্রহণ করত, যদি ‘গণস্বপ্ন ২০৫০’ ভিত্তিক পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত ‘নগরীয় (আরবান) বাংলাদেশ’ মুখী নির্মাণ প্রক্রিয়া প্রচেষ্টা সচেতনভাবে শুরু হত, যদি ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি তথা ‘ এমপো’ ও ১১ দফা অনুযায়ী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে শুরু হত, যদি স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ অথবা স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ অনুযায়ী স্থানীয় সরকার কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হত, তাহলে আজ বাংলাদেশ আরো অনেক অনেক দূর সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে পারতো; কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল তথা ইউনিয়ন ও নগর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ক্ষমতাশীল দায়িত্বশীল দায়বদ্ধ গতিশীল সরকার কাঠামো দাঁড়িয়ে যেতে পারতো; সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে উঠতে পারতো। তবে বিলম্বিত হলেও স্বপ্ন ভিত্তিক কর্মকান্ডের প্রয়োজনীয়তা বোঝা ও কোনো কোনো বিষয়ে স্বপ্ন ভিত্তিক কর্মকান্ড শুরু হওয়াটা অবশ্যই প্রশংসনীয়; এতে বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা রয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই; তা সত্ত্বেও একে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাই। সে যাই হোক, বরাবরের মত এখনো জাতীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের সবিনয় অনুরোধ হল, প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ ও স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ আরও ভালভাবে জানুন এবং তা আরও গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। আমরা তো সবসময় বলে আসছি যে, আগে স্থানীয় সরকারের একটি সমন্বিত স্তরবিন্যাসকরণ গ্রহণ করতে হবে, এবং সে অনুযায়ী গ্রামীণ-নগরীয় স্থানীয় সরকার হিসেবে সর্বোচ্চ ইউনিট (বিভাগীয় সরকার অথবা জেলা সরকার) ও সর্বনিম্ন ইউনিটদ্বয় (একদিকে গ্রামীণ স্থানীয় সরকার হিসেবে “ইউনিয়ন সরকার” ও অন্যদিকে নগরীয় স্থানীয় সরকার হিসেবে “নগর সরকার”) কার্যকর করতে হবে। স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট বিভাগ, না জেলা তা আজ অবধি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত করা হয়নি; ক্ষমতা ও দায়িত্ব বিভিন্ন স্তরে যথাযথভাবে বণ্টনের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কেন ঠিক করা হয়নি সে প্রশ্ন রেখেই বলব সর্বোচ্চ ইউনিট কোন্টি তা অবশ্যই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঠিক করতে হবে। বর্তমানে বিভাগ হচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোয় মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ইউনিট; এই বিভাগ স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট হলে উপজেলার পাশাপাশি জেলাও হয়ে যাবে মধ্যবর্তী ইউনিট এবং জেলার ক্ষমতা ও দায়িত্ব মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে নির্ধারিত করতে হবে; বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিভাগ বজায় থাকায় উপজেলার মত জেলাও মধ্যবর্তী প্রশাসনিক ইউনিট; ফলে জেলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে কতটুকু থাকবে তা বুঝতে হবে; বর্তমান কাঠামোয় মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে জেলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপজেলার মতই হবে, হতে বাধ্য; মনে রাখা দরকার যে, বহু স্তরীয় স্থানীয় সরকার কাঠামোয় মধ্যবর্তী ইউনিট থাকলে তা সাধারণত বেশ গুরুত্বহীন হয়ে থাকে। এই বিষয়টি সেকেলে মনোভাবগত কারণে অনেকেই বুঝতে পারছেন না বলে প্রতীয়মান হয়; এই অনেকেরাই “বিভাগ” বিষয়েও অন্ধ-বোবা সাজেন; অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে? বিভাগ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত অবশ্যই নিতে হবে। মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে জেলা সম্পর্কিত বিষটি উদাহরণ দিয়েই দেখা যাক; পার্বত্য ৩ জেলা ছাড়া বাকি ৬১টি জেলায় ৬১ জন নিযুক্ত ‘নিধিরাম’ জেলা পরিষদ প্রশাসক রয়েছেন, যাদের সঙ্গে দায়দায়িত্ব পালনের কোনো সম্পর্ক নেই, যাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই, যাদের উপস্থিতি, কর্মতৎপরতা একদম টেরযোগ্য নয়; এর বড় কারণ হচ্ছে উপজেলার মত জেলাও বিদ্যমান ব্যবস্থায় গুরুত্বহীন, কামকাজহীন মধ্যবর্তী ইউনিট; এতে ক্ষমতা ও দায়িত্ব তথা কর্মকান্ড দৃশ্যমান নয়। কিন্তু এই ৬১ জন প্রশাসকের জন্য আরাম আয়েস ও সুযোগসুবিধার কোনো কমতি নেই; এটি হচ্ছে স্থানীয় সরকারের নামে সংকীর্ণ স্বার্থে সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রয়োগ; ঠিক যেমন স্থানীয় সরকারের নামে কেবল ব্যক্তিগত ও দলগত স্বার্থে অবৈধ শাসক প্রেসিডেন্ট জিয়া ও অবৈধ শাসক প্রেসিডেন্ট এরশাদ যথাক্রমে গ্রাম সরকার ও উপজেলাকে নিয়ে করেছেন। তাতে তখনকার সময় ও পরিস্থিতিতে উভয় অবৈধ প্রেসিডেন্টদ্বয় ব্যক্তিগতভাবে ও দলগতভাবে লাভবান হয়েছেন; কিছু সুবিধাবাদী ক্ষমতালোভী নীতিহীন টাউট লোককে নতুন দল দু’টির জন্য হাতিয়ার হিসেবে পেয়েছেন, এবং ওইসব সুবিধাবাদী মানুষগুলোই ওই দু’টো দলের বর্তমানকার আসল কান্ডারি হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ৬১টি জেলায় ৬১ জন প্রশাসক দ্বারা এই সরকার ও এই দল (আওয়ামী লীগ) এখন লাভবান হবার কোনও সম্ভাবনা নেই; কারণ এই দু’টো কাজের সময় ও পরিস্থিতি একদম এক রকম নয়। তা বর্তমান সরকারকে, আওয়ামী লীগকে অবশ্যই বুঝতে হবে; আশাকরি, বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগ চিন্তাভাবনা করবে, এবং সেজন্য প্রয়োজনীয় উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিকভাবে জেলা সংক্রান্ত আরেকটি বিষয় নিয়ে কিছু কথা বলা উচিত হবে, তা হল সার্বিক বিবেচনায় একজন অসফল অর্থমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত জনাব মুহিত কর্তৃক উপস্থাপিত জাতীয় বাজেটে বার বার কেন্দ্রীয় সরকারের তথাকথিত ‘জেলা বাজেট’ প্রসঙ্গ উত্থাপন; জেলা বাজেট হবার কথা জেলা সরকারের, কেন্দ্রীয় সরকারের নয়; প্রশ্ন হল, জেলা সরকার কোথায়? স্বাভাবিকভাবে মনে এই প্রশ্নও এসে যায় যে, কেন্দ্রীয় সরকার কি তাইলে বিভাগীয় বাজেট, উপজেলা বাজেট, নগরীয় বাজেট, ইউনিয়ন বাজেটও করবে? জেলা বাজেট বিষয়টি জাতীয় বাজেট বক্তৃতায়, দলিলে বার বার আসাটা শুধু অর্থমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রণালয় নয়, মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদের অপরিপক্কতারই পরিচয় বহর করে; সিপিডিসহ কয়েকটি এনজিও এবং কিছু ব্যক্তি স্বার্থগত কারণে এই বাজে বিষয়টিকে সমর্থন দিয়ে থাকে; প্রকৃত অর্থে স্থানীয় সরকার না বুঝলে, ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন সম্পর্কিত বিষয় জানা না থাকলে এমনটি-ই হয়! হবার কথা! জনাব আবু তালেব ১৯৯৬ সালে সর্বপ্রথম ‘জেলা সরকারের রূপরেখা’ প্রণয়ন করেন এবং সেসঙ্গে একটি শ্লোগানও প্রণয়ন করেছিলেন; শ্লোগানটি হল, ‘জেলায় জেলায় গণতন্ত্রায়ন, জেলার জনগণের ক্ষমতায়ন’; জনাব মুহিত জনাব আবু তালেবের সঙ্গে এক ফোনালাপে ‘জেলা সরকার’ নামকরণ ও ‘জেলা সরকারের রূপরেখা’ বিষয়ক প্রস্তাবনার প্রতি প্রবল আপত্তি জানিয়ে ছিলেন; অথচ এই মুহিত সাহেব পরবর্তীতে ‘জেলায় জেলায় গণতন্ত্রায়ন’ শ্লোগানের আদলে ‘জেলায় জেলায় সরকার’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছিলেন; তাতে তিনি জনাব আবু তালেব ও তাঁর জেলা সরকারের রূপরেখা প্রসঙ্গ একটুও উল্লেখ করেননি; এই হল জনাব মুহিত কর্তৃক বুদ্ধিবৃত্তিক চুরির, ডাকাতির, অসততার একটি নজির মাত্র। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলতে চাই যে, কোনো না কোনো একদিন অর্থমন্ত্রীর এই তথাকথিত ‘জেলা বাজেট’ বিষয় হারিয়ে যাবে; এই ভুলের জন্য অর্থমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে; সিপিডি’রও তোষামোদী মুখোশ উন্মোচিত হবে; আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, জনাব আবু তালেব কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘জেলা সরকার’ ও ‘জেলা সরকারের রূপরেখা’ একদিন না একদিন বাস্তব প্রয়োজনে সামনে চলে আসবে; তাতে শয়তানিপনা না থাকলে জাতি বিশেষভাবে উপকৃত হবে; তবে, সিডিএলজির সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০১৬-১৭ তে তথাকথিত ‘জেলা বাজেট’ বিষয় উবে গেলেও এই বাজেটে জেলা নিয়ে অন্য শয়তানিপনা প্রকাশ পেয়েছে; জনাব মুহিতের সেই শয়তানিপনা কি মন্ত্রীগণ ও সাংসদগণ বুঝতে পেরেছেন? তা তো বাজেট আলোচনায়-সমালোচনায় একদম বোঝা যায়নি। অনুরূপ আরেকটি চুরি-ডাকাতি কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার ঘটনা ‘বিভাগীয় সরকার’ ও বিভাগীয় সরকারের রূপরেখা’ নিয়ে ঘটিয়েছেন ‘কবিতা চোর’, ‘বৌ চোর’ ও ক্ষমতা দখলদার হিসেবে খ্যাত জেনারেল এরশাদ, তাঁর দল জাতীয় পার্টি ও তাঁর রাজনৈতিক ও শাসনিক সহযোগী জেএসডি; ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারী ঢাকায় এক জাতীয় সেমিনারে জনাব আবু তালেব গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখায় বিভাগ এর বিলুপ্তি কিংবা বিভাগের গণতন্ত্রায়ন এই নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন, এবং বিভাগ থাকলে বিভাগগুলির গণতন্ত্রায়নের লক্ষ্যে ‘বিভাগীয় সরকারের রূপরেখা’ উপস্থাপিত করেন; তখন রাষ্ট্রপতি এরশাদ কারাগারে ছিলেন এবং তাঁর দল ও তাঁর শাসনিক মিত্র জেএসডির বিভাগ নিয়ে কিংবা বিভাগীয় সরকার নিয়ে কোনো ধরনের বক্তব্য, কর্মসূচি ছিলনা; জনাব আবু তালেব এর প্রস্তাব অনুযায়ী বিভাগের বিলুপ্তি কিংবা বিভাগীয় সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন যখন বুদ্ধিবৃত্তিক গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছিল, ঠিক তখনই, এরশাদ সাহেব কারাগার থেকে বের হবার কয়েক বছর পর বিভাগকে ‘প্রদেশ’ নামকরণ ও তাতে বিভাগীয় সরকারের রূপরেখার আদলে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ‘প্রাদেশিক সরকার’ করার দাবী করেন; এর কিছুদিন পর এরশাদের অনুসরণে জনাব আ.স.ম. আবদুর রব, জনাব সিরাজুল আলম খান ও জেএসডি অনুরূপ বক্তব্য, দাবী উপস্থাপিত করেন, অথচ উভয় দল কোথাও কখনও জনাব আবু তালেব কিংবা গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখার কথা বলেননি, বলেননা; একে এক কথায় বলা যায় চরম রাজনৈতিক অসততা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি কিংবা ডাকাতি। এইসঙ্গে প্রাসঙ্গিকভাবে আরও একটি বিষয় তুলে ধরা দরকার তা হল, ১৯৯৭ সালে ১৩ জানুয়ারীতে এই রূপরেখায় পার্বত্য চট্রগ্রাম সমস্যার রজনৈতিক সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে ‘পার্বত্য বিভাগ’ নামে একটি নতুন বিভাগ গঠন করার প্রস্তাব করা হয়, এবং তাতে দেশের অন্যান্য বিভাগের মত, যেমন বরিশাল বিভাগে ‘বরিশাল বিভাগীয় সরকার’, পার্বত্য বিভাগে ‘পার্বত্য বিভাগীয় সরকার’ প্রতিষ্ঠার আহবান জানানো হয়, কারণ পার্বত্য চট্রগ্রামের বিষয়টিও অনেকাংশে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ক, স্থানীয় শাসনিক বিষয়ক একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ১৯৯৭ সালেই শেষ মাসে তথা ডিসেম্বরই সম্পাদিত পার্বত্য শান্তি চুক্তিতে ‘আঞ্চলিক পরিষদ’ গঠন মূলত ‘বিভাগীয় সরকারের রূপরেখা’র আদলে কিছুটা বিকৃত রূপে করা হয়; কিন্তু এই চুক্তি প্রণয়নে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার জন্য ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’, বিভাগীয় সরকারের রূপরেখা তথা জনাব আবু তালেব এর অবদানের কথা, প্রস্তাবের কথা কোথাও বলা হয়নি, হয়না; অথচ, জনাব আবু তালেব তাঁর প্রণীত গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখার কপি নিজ হাতে নিউ ইয়র্কে সরকার কর্তৃক গঠিত পার্বত্য চট্র্রগ্রাম বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক জনাব আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রদান করেছেন এবং তাঁর প্রস্তাবিত পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক সমাধানমূলক প্রস্তাবনা বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন; সেই সময় এই প্রতিবেদকসহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক যথাক্রমে জনাব আব্দুস ছালাম ও আতাউর রহমান শামীম উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে এই দলেরই বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদগুলির মধ্যে একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এই পার্বত্য এলাকার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়; তার মাধ্যমে ‘পার্বত্য বিভাগ’ গঠনের নীতিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ গ্রহণ করেছে, কবুল করেছে, অথচ এই বিষয়টিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোথাও স্বীকার করেননি, করেননা; এও একটি চরম বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা নয় কি? অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও; ৮ জন বুদ্ধিবৃত্তিক ডাকাতের ডাকাতির ফসল হচ্ছে বর্তমানকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর; এই অপকর্ম সম্পর্কে দেশের কয়েকশত বিশিষ্ট ব্যক্তি জানেন; তিনি সরকারীভাবে মুক্তিসংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান কেন্দ্রিক আরও একটি যুগান্তকারী প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন; দেখা যাক এ নিয়ে কি ঘটে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কি ঘটান! এসব কারণে বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা যে একটা বড় ধরনের অপরাধ, বড় ধরনের রোগ তা বাংলাদেশে মানুষকে বুঝানোর জন্য, জানানোর জন্য এবং তা বন্ধ করানোর জন্য একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবল আন্দোলন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়; প্রাসঙ্গিকভাবে আরো উল্লেখ করা সমীচীন হবে যে, জনাব আবু তালেব প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে অন্যান্য বিষয়ক সম্পাদক পদ যেমন রয়েছে, ঠিক তেমন ‘স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক’ পদ সৃষ্টি করতে আহবান জানিয়ে আসছেন; যাতে স্থানীয় সরকার বিষয়টি দলীয় কমিটিতে, দলীয় ভাবনায়, দলীয় কাজে বিশেষ গুরুত্ববহ হয়; প্রায় সব রাজনৈতিক দলেই শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, ক্রীড়া, সমাজকল্যাণ, সাংগঠনিক, দপ্তর, প্রচার, প্রকাশনা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ত্রাণ, শ্রম, জনশক্তি, বন, সমবায়, প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক, মহিলা ইত্যাদি বিষয়ক সম্পাদকীয় পদ রয়েছে, অথচ স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদকীয় পদ নেই; কেন? এতে এটা কি বোঝা যায়না, রাাজনৈতিক দলীয় কাঠামোতে স্থানীয় সরকার ও তার ভাবনাচিন্তা চরমভাবে গুরুত্বহীন রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক পদ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও আজ অবধি সাড়া দেয়নি; আমরা আশা করেছিলাম, জনাব আবু তালেবের আহ্বান অনুয়ায়ী, এই বছর ২০১৬ সালে ঢাকায় ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনে ৬ হাজার ৭০ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ‘স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক’ এর পদ সৃষ্টি করবেন, সেজন্য ড. আব্দুর রাজ্জাক নেতৃত্বাধীন গঠনতন্ত্র উপকমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনাব আবু তালেব এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে উদার হবেন, এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার দায় থেকে নিজ দলকে মুক্ত রাখতে প্রয়াস নেবেন; কিন্তু ৬ হাজার ৭০ সদস্যবিশিষ্ট একটি মহাঢাউস কাউন্সিলে কয়েকজন চাটুকারের অপ্রাসঙ্গিক চাটুকারিতা ছাড়া দলীয় ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র নিয়ে আালোচনায়-সমালোচনায় অংশ নেয়া কি সম্ভব ছিল? গঠনতন্ত্র উপকমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটি কি স্থানীয় সরকার উন্নয়ন বিষয়ে আপডেট ও আন্তরিক ছিল? আমরা হ্যাঁ সূচক লক্ষণ তো একটুও দেখিনা। সে যাই হোক, জেলা স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট হলে বিভাগ অবশ্যই বিলুপ্ত হতে হবে; সেক্ষেত্রে উপজেলা শুধু মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে থাকবে, এবং তা আস্তে আস্তে কিংবা দ্রুততার সঙ্গে বিলুপ্ত হতে থাকবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট ও সর্বনিম্ন ইউনিটদ্বয় নির্ধারিত না হলে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি ধাপে ক্ষমতা ও দায়িত্ব যথাযথভাবে ঠিকঠাক হবে-ই বা কেমন করে? সর্বোচ্চ ইউনিট এবং সর্বনিম্ন ইউনিটদ্বয়ে ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রদান করার পর মধ্যবর্তী ইউনিট যেমন উপজেলায় ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেয়ার মত কিছু থাকলেই তো তা দেয়া যাবে। স্থানীয় সরকারের এসব জটিল ও কঠিন বিষয়গুলির একটি সুনির্দিষ্ট সমন্বিত সমাধান ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’য় রয়েছে। এতে সর্বপ্রথম বিভাগীয় সরকারের রূপরেখা, জেলা সরকারের রূপরেখা, উপজেলা সরকারের রূপরেখা, ইউনিয়ন সরকারের রূপরেখা ও নগর সরকারের রূপরেখা একসঙ্গে উপস্থাপিত করা হয়েছে; যাতে একটি সমন্বিত স্তরবিন্যাসকরণ (প্রশাসনিক কাঠামো) গৃহীত হলে তার প্রতিটি টায়ার এ প্রয়োজন মত সুনির্দিষ্ট সরকার কাঠামো বসানোর কাজটি সহজে করা সম্ভব হয়। এই রূপরেখায় ইউনিয়ন ও নগর এর মধ্যে অন্য কোনো ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তা, প্রচেষ্টা একদম সমর্থন করা হয়নি, তার পরিবর্তে সর্বনি¤œ ইউনিট হিসেবে সমস্ত মনোযোগ, কর্মপ্রচেষ্টা এক দিকে গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়ন কেন্দ্রীক ও অপর দিকে নগরীয় এলাকায় নগর কেন্দ্রিক করার সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে; এবং এর মাধ্যমে শুধু গ্রামীণ এলাকা কেন্দ্রীক স্থানীয় সরকারের সর্বনি¤œ ইউনিট বিষয়ক দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা ধরিয়ে দিয়ে গ্রাম ও নগর কেন্দ্রীক একই স্তরে সর্বনি¤œ ইউনিটদ্বয় (ইউনিয়ন ও নগর এবং ইউনিয়ন সরকার ও নগর সরকার ) কেন্দ্রীক ধারণা উপস্থাপিত করা হয়। সম্প্রতি সরকার জেলায় ‘জেলা সরকারের রূপরেখা’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ না নিয়ে অত্যন্ত তড়িগড়ি করে অত্যন্ত ভঙ্গুর, সেকেলে জেলা পরিষদ অধ্যাদেশ জারী করেছে এবং তা অল্প কয়েকদিনের মাথায় মন্ত্রিপরিষদ সংশোধনও করেছে; তাতে স্থানীয় সরকার বিষয়ে ভাল মানসিক, শিক্ষাগত ও আইনগত প্রস্তুতি যে এই মন্ত্রিসভার নেই তা ভালভাবে ফুটে উঠেছে; এবং সব জেলায় গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার তেমন কোনো প্রস্তুতি যে আওয়ামী লীগেরও নেই তা জোর দিয়েই বলা যায়; দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিরও একই অবস্থা। আরও দুঃখজনক ঘটনা হল এই যে, এই সংক্রান্ত বিলও কোনো ধরনের আলোচনা-সমালোচনা ছাড়া স্বল্প সময়ে জাতীয় সংসদে পাস হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হল যে সংসদ সদস্যগণেরও স্থানীয় সরকার বিষয়ে কোনো আইনগত, গবেষণামূলক ও শিক্ষামূলক প্রস্তুতি নেই; এতে আরও প্রমাণিত হল যে, শুধু হাত তোলা আর নামানোর মধ্য দিয়ে জাতীয় সাংসদগণ নিজ নিজ বিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন! জাতীয় সংসদে পাসকৃত এই বিলটি অসম্পূর্ণ, ভঙ্গুর, সেকেলে ও গারবেজতুল্য; তাছাড়া, এই বিলটি হচ্ছে প্রত্যাখাত আয়ুবীয় মৌলিক গণতন্ত্র বাংলাদেশে র্চ্চা করতে নগ্ন প্রয়াস। এই ধরনের একটি কঠিন অথচ চরম খারাপ পরিস্থিতিতে আমরা জোর দাবী করছি যে, জনাব আবু তালেব প্রণীত জেলা সরকারের রূপরেখাটি গভীরভাবে বিবেচনায় নিয়ে পার্বত্য তিন জেলাসহ সকল জেলায় একরূপ জেলা সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হোক; জেলা স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট না মধ্যবর্তী ইউনিট তা ঠিক করা হোক; জেলা মধ্যবর্তী ইউনিট হলে এতে গ্রামীণ স্থানীয় সরকার হিসেবে জেলা সরকার প্রতিষ্ঠা করা হোক, আর জেলা সর্বোচ্চ ইউনিট হলে এতে গ্রামীণ-নগরীয় স্থানীয় সরকার হিসেবে জেলা সরকার স্থাপন করা হোক; তাতে ক্ষমতার পৃথকীকরণ করা হোক; এতে নারীর ১০০% প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এমপো’র প্রয়োগ করা হোক; জেলা সরকারের বিধানিক পরিষদ হিসেবে “জেলা সংসদ” গঠন করা হোক; প্রতি জেলায় জেলা সাংসদ কতজন থাকবে তা সংশ্লিষ্ট জেলায় কত জনসংখ্যা রয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে জেলা নির্বাচনী ওয়ার্ড/এলাকা নির্ধারিত করা হোক; প্রতিটি জেলা নির্বাচনী ওয়ার্ডে/এলাকায় এমপো অনুযায়ী ১জন মহিলা জেলা সাংসদ ও ১জন পুরুষ জেলা সাংসদ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করা হোক; জেলা সরকারের প্রধান হিসেবে জেলা চেয়ারপারসন ও দুই জন ভাইস-চেয়ারপারসন (১ জন নারী ও ১ জন পুরুষ) এর পদ সৃষ্টি করা হোক এবং ওসব পদ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করা হোক; প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখা উচিত হবে যে, এমপো অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রেক্ষিতে প্রণীত ১১ দফায় ৯ম দফা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক প্রণীত খসড়া জেলা পরিষদ অধ্যাদেশে ১জন মহিলা ভাইস-চেয়ারপারসন ও ১জন পুরুষ ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত করতে একটি বিধান ছিল, তা কেন সংসদে পাসকৃত জেলা পরিষদ বিলে যুক্ত হলো না? এই প্রশ্ন থাকল। সে যাই হোক, জেলা ন্যায়পালের পদ সৃষ্টি করা হোক; জেলার সঙ্গে সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য স্থানীয় ইউনিটের সম্পর্ক কিরূপ হবে তা ঠিক করা হোক; জেলা নির্বাচনী বোর্ড গঠিত হোক; তথাকথিত আয়ুবীয় কায়দায় পরিচালিত চলতি নির্বাচনী প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা হোক, ইত্যাদি ইত্যাদি; এক কথায় বলব যে, জনাব আবু তালেব প্রণীত, প্রস্তাবিত গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখায় উপস্থাপিত জেলা সরকারের রূপরেখাটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হোক, এবং “জেলায় জেলায় গণতন্ত্রায়ন, জেলার জনগণের ক্ষমতায়ন” এই শ্লোগানে প্রতিটি জেলাকে মুখরিত করা হোক, আন্দোলিত করা হোক।
এই গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখায় গ্রামীণ বাংলাদেশ তথা শুধু কৃষি ভিত্তিক সমাজ, দেশ এর চিরায়ত ধারণার পরিবর্তে বিদ্যমান বাস্তবতার নিরিখে গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ তথা কৃষি ও অকৃষি পেশা ভিত্তিক সমাজ, দেশ এর ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, যার মাধ্যমে এই প্রথম বাংলাদেশের স্ট্যাটাসগত ও গুণগত পরিবর্তন জনিত নতুন পরিচিতি উপস্থাপিত করা হয় এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারীভাবে গ্রহণ করার দাবী জানানো হয়, তবে এই বিষয়টি তখন ও এখন অনেকেই বিশেষত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, একনেক, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মন্ত্রিপরিষদ, জাতীয় সংসদ, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলগুলো বুঝতে পারছেনা বলে প্রতীয়মান হয়; প্রসঙ্গত এই বিষয়ে আরও জানানো উচিত হবে যে, গ্রামীণ বাংলাদেশ আর গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ এক বিষয় নয়, এক রূপ নয়, এক অবস্থা নয়; এ দু’টোর সমস্যা, সমাধান প্রক্রিয়া, গুরুত্ব ও তাৎপর্য এক রকম নয়; তাই, এই দু’টোর প্রশাসনিক কাঠামো, ক্ষমতা ও দায়িত্বও একরূপ হতে পারেনা; এই দু’টোতে মানুষের মনোগত, ভাবনাগত পার্থক্য থাকে, থাকবে। তাই এখন থেকে, গ্রামীণ বাংলাদেশ ভিত্তিক নয়, গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ ভিত্তিক সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণীত, গৃহীত ও বাস্তবায়িত হতে হবে; এটি যত দ্রুত সম্ভব দেশের নীতিপ্রণেতাগণ, আইনপ্রণেতাগণ, বিধি-প্রবিধি প্রণেতাগণ ও মিডিয়াকে বুঝতে হবে এবং তার স্বীকৃতি ও পরিচিতি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান দিতে হবে যে, বাংলাদেশ এখন হচ্ছে একটি গ্রামীণ-নগরীয় দেশ; বাংলাদেশ একদা গ্রামীণ তথা কৃষিজ দেশ ছিলো, এখন আর তা নেই, এবং একে অবশ্যই একটি গুণগত পরিবর্তন হিসেবে নিতে হবে; সেইসাথে এও মনে রাখতে হবে যে, এই স্ট্যাটাসগত ও গুণগত পরিবর্তন কয়েক দশক স্থায়ী থাকবে; তা রাতারাতি উবে যাবেনা; আবার এও মনে রাখতে হবে যে, এই সময়টাতেই একটি পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ এর জন্য গোটা জাতিকে মানসিক ও শিক্ষাগত প্রস্তুতি যথাসম্ভব সম্পন্ন করতে হবে, এবং এই সময়ের মধ্যেই একটি নগরীয় বাংলাদেশের মানে, গুরুত্ব ও তাৎপর্য যথাসম্ভব অনুধাবন করতে সচেষ্ট থাকতে হবে। সেসঙ্গে যাঁরা অকৃষি পেশায় যুক্ত রয়েছেন, সন্তানগণকে অকৃষি পেশায় নিযুক্ত করছেন, নগরীয় সুযোগ-সুবিধা বেশ উপভোগ করছেন, অথচ অন্যদেরকে কেবল কৃষি পেশায় রাখতে, গ্রামীণ সমাজ হিসেবে রাখতে ওকালতি করছেন, কান্নাকাটি করছেন, কুমতলব আঁটছেন, গলাবাজি, লেখাবাজি করছেন, তাঁদেরকে অবশ্যই চোখে চোখে রাখতে হবে, নজরদারিতে রাখতে হবে; এটি যেন আমরা ভুলে না যাই।
গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের এই রূপরেখায় কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের জন্য প্রস্তাবিত সংসদগুলো গঠনের ক্ষেত্রে এমপো ও ১১ দফা’র প্রয়োগ করা হয়েছে; এমপো ও ১১ দফা এই নিবন্ধের শেষে সংযুক্ত করা হয়েছে, তা বিশেষভাবে দেখুন ও জানুন; এমপো তথা নারীপুরুষের জন্য একশো একশো প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি অনুযায়ী, উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইউনিয়ন সংসদ ও নগর সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ১ জন নারী সদস্য ও ১ জন পুরুষ সদস্য প্রতিনিধিত্ব করবে, জেলা সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলা সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা/ওয়ার্ড হতে একজন নারী সাংসদ ও একজন পুরুষ সাংসদ জেলা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবে এবং জাতীয় সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিটি সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে ১ জন নারী সাংসদ ও ১ জন পুরুষ সাংসদ প্রতিনিধিত্ব করবেন; যদি তা হয়, তার মাধ্যমে বিধানিক সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে নারীর জন্য অবমাননাকর “সংরক্ষিত আসন” শব্দবন্ধটি আর থাকবে না এবং তা এক কলংকিত অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে। প্রসঙ্গক্রমে মনে রাখতে বলব যে, এমপো শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা দুনিয়ার প্রতিটি দেশের প্রতিটি ধাপের/স্তরীয় সরকারের প্রতিটি বিধানিক সংসদ/পরিষদ গঠন করার জন্য বাস্তবায়নযোগ্য এক নতুন গণপ্রতিনিধিত্ব ফর্মুলা হিসেবে উপস্থাপিত করা হয়েছে; এর মাধ্যমে নারীর জন্য অবমাননাকর সংরক্ষিত পদ্ধতি, ৩৩% পদ্ধতি, ৫০% পদ্ধতি, প্রতি তিন ওয়ার্ডে একজন সংরক্ষিত নারী সদস্য পদ্ধতি, সংরক্ষিত ঘূর্ণায়মান নারী সদস্য পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাগুলো, দুর্বলতাগুলো সংশোধিত হয়ে যাবে; নারী ও পুরুষ উভয় একই সাধারণ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন; নারী যে পদ্ধিতে নির্বাচিত হবেন সেই একই পদ্ধতিতে পুরুষও নির্বাচিত হবেন বলে নারীর জন্য প্রয়োগকৃত “সংরক্ষিত” শব্দটি ইতিহাসে স্থান পাবে; চমক সৃষ্টি করতে দু’একজন নারীকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে দিয়ে বাহবামূলক কাজের পরিবর্তে নারীর জন্য পদ্ধতিগত ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। তার জন্য বিশ্বজুড়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্যাম্পেইন চলছে; এই এমপো তথা একশো একশো প্রতিনিধিত্ব ফর্মুলার সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য হচ্ছে এক বিস্ময়কর ব্যাপার। নারী ও পুরুষ উভয়ের যে কেহ এই ফর্মুলার সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য বুঝতে পারলে, অনুধাবন করতে পারলে নিজ থেকে নিজ নিজ শক্তিতে বলিয়ান হয়ে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে; তাই দেশের প্রতিটি মানুষের প্রতি আমাদের বিশেষ অনুরোধ হল, একশো একশো প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি তথা এমপো গভীরভাবে জানার বুঝার চেষ্টা করুন; নিজেকে একুশ শতকের এই মহান আন্দোলনের সঙ্গে, সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করুন; তাতে আপনার ও গোটা মানব জাতির জন্য যারপর নাই এক মঙ্গলময় পরিবেশ বয়ে আনবে। (প্রিয় রিডার এই বিষয়টি আরও ভালভাবে জানতে চাইলে, বুঝতে চাইলে এই নিবন্ধের শেষে সংযুক্ত এমপো ও ১১ দফা বিশেষ মনোযোগ দিয়ে পড়–ন, দেখুন ও বিবেচনা করুন।)
সে যাই হোক, সুচতুর দলীয় ও নির্দলীয় নকলবাজগণ এই গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখার কিছু কিছু জনপ্রিয়, পছন্দনীয় বিষয় বারবার কাটাছেঁড়া ও বিকৃত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে, এবং এর কিছু কিছু বিষয় নকলবাজরা নিজেদের নামে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে; কিন্তু নকলবাজগণ, বুদ্ধিবৃত্তিক চোর-ডাকাতগণ এই রূপরেখার সমন্বিত রূপের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব একটুও খাটো করতে সক্ষম হননি, হবেনও না; বরং এই রূপরেখার কালজয়ী উপযোগিতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই, সরকারের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ হল, যদি গ্রামীণ বাংলাদেশ এর পরিবর্তে বিদ্যমান বাস্তবতায় গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ এর জন্য সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত হিসেবে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান, যদি গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ এর জন্য তিন প্রকারের স্থানীয় সরকার তথা গ্রামীণ স্থানীয় সরকার, নগরীয় স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ-নগরীয় স্থানীয় সরকার স্থাপিত হোক চান, যদি স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা ও দায়িত্ব ধাপে ধাপে পাশাপাশি অর্পিত ও পালিত হোক চান, যদি স্থানীয় সরকারের একটি সমন্বিত স্তরবিন্যাসকরণ (প্রশাসনিক কাঠামো) প্রতিষ্ঠিত ও কার্যকরী হোক চান, যদি দ্বি-স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা স্থায়ী রূপ নিক চান, যদি স্থানীয় সরকারের প্রতিটি ধাপে নারীর শতভাগ (১০০%) প্রতিনিধিত্ব তথা এমপোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চান, যদি স্থানীয় সরকারের প্রত্যেক ধাপে ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি কার্যকর হোক চান, যদি স্থানীয় সরকারে বিধানিক পরিষদ (যেমন ইউনিয়ন সংসদ, নগর সংসদ) স্থাপিত হোক চান, যদি প্রতিটি স্থানীয় ইউনিটে ন্যায়পাল এর পদ চালু হোক চান, যদি ২০২০ সালের মধ্যে ২৫টি ক্ষেত্রে ২৫টি গণতন্ত্রায়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ তথা “গণস্বপ্ন ২০২০” বাস্তবায়িত হোক চান, যদি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বস্তরীয় গণতন্ত্রায়ন দ্বারা জনগণের সর্বস্তরীয় ক্ষমতায়ন হোক চান, যদি ২০৫০ সাল কিংবা তার আগে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত “নগরীয় বাংলাদেশ” তথা “গণস্বপ্ন ২০৫০” বাস্তবায়িত হোক চান, যদি পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ এর জন্য প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ অথবা স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ বাস্তবরূপ নিক চান, যদি খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে “নগরীয় কৃষি” ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক চান, যদি “নগর মানে কৃষি নয়” এর পরিবর্তে “কৃষিকে নিয়েই নগর” বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হোক চান, যদি দক্ষ সরকার গড়তে সরকারের আকার আয়তন আস্তে আস্তে ছোট হোক চান, তাইলে আর কালবিলম্ব না করে ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’র প্রতিটি বিষয় স্থাপন ও কার্যকর করার প্রকৃত উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করুন; প্রসঙ্গত এও বলব যে, তা যেন নকলবাজী না হয়, তা যেন বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি, ডাকাতি না হয়, তা যেন জনাব আবু তালেব এর অবদান অস্বীকার করার অভিপ্রায়, প্রয়াস না হয়। যিঁনি স্বপ্ন দেখেন, যিঁনি স্বপ্ন দেখান, যিঁনি স্বপ্ন বাস্তবায়নের উপায় বাতলান, যিঁনি স্বপ্ন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন, যিঁনি স্বপ্নের বিষয়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেন, সর্বোপরি যিঁনি স্বপ্ন বিষয়ে লাগাতার বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন পরিচালিত করেন, তাঁকে অস্বীকারের সামান্যতম প্রয়াসও মহা অপরাধ, মহা অন্যায়, মহা কলংক হয়ে থাকবে; ঠিক যেমন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ৮ (আট) জন অসৎ লোক তা করেছে এবং তার জন্য এদেরকে মহা অপরাধের দায়ে মহা কলংক বহে বেড়াতে হচ্ছে, হবে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় এই মহা কলংকজনক বিষয়টি সম্পর্কে জনাব সৈয়দ হাসান ইমাম, জনাব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, জনাব ড. মুনতাসির মামুন, জনাব ডা. মুশতাক হোসেন, জনাব শাহরিয়ার কবির সহ দেশ ও বিদেশের কয়েক শত বিশিষ্ট ব্যক্তি বিশেষভাবে অবগত রয়েছেন, সেসব ব্যক্তিরকথা লিখতে গেলে অনেক অনেক পৃষ্ঠা কাগজ লাগবে বইকি; নিউ ইয়র্ক থেকে পরিচালিত মুক্তিসংগ্রাম বিষয়ক গবেষণা ও স্মৃতি সংরক্ষণ করতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও ক্যাম্পেইন বিষয়ে প্রয়াত কবি সুফিয়া কামাল, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, ভাষা সৈনিক এডভোকেট গাজিউল হক, অধ্যাপক কবির চৌধুরী, কবি শামসুর রাহমান, সাহিত্যিক শওকত ওসমান, কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদসহ আরও অনেকে ভালভাবে জানতেন। তথাপি এই কয়জন (৮ জন) লোক তাদের অসৎ কর্ম থেকে শুদ্ধতায় যায়নি, যাচ্ছেনা; এঁরা যেন দুই কান কাটা মানুষের মত রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলার আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে; সে ধারা বজায় রেখে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে চরম বানোয়াট কাহিনী সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলোতে (১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ সংখ্যায়) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বিবৃত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে দেয়া বক্তব্যও চরম মিথ্যাচার; কারণ, ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় নির্বাচনী ইস্তেহারটিতে সরকারী উদ্যোগে “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর” প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা ছিল; সেই সালেই প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি কোথায় প্রতিষ্ঠিত হবে তা স্পষ্টভাবে জাতিকে জানিয়ে ছিলেন; কেন তা বাস্তবায়িত হয়নি সেই প্রশ্ন থাকলেও এ কথা দৃঢ়তায় বলা যায় যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নূরগংয়ীও অপকর্ম ভালভাবেই জানতেন। সেসব কারণেই, স্বভাবতই প্রশ্ন এসে যায় যে, মহান মুক্তিসংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনে নির্মিত প্রতিষ্ঠান গড়ার স্মৃতি নিয়ে, মানুষের আবেগ জড়িত বিষয় নিয়ে যাঁরা মিথ্যাচার করে বেড়ায়, কল্পিত কাহিনী শোনায় তাঁদের হাতে মুক্তিসংগ্রামের স্মৃতি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন কতটুকু নিরাপদে আছে, থাকবে? তা নিয়ে ভাবা উচিত নয় কি? “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর” শব্দবন্ধটি যাঁর কাছ থেকে জানা যায়, সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর” প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব সম্পর্কে যাঁর কাছ থেকে জানা যায়, তাঁকে ও তাঁর ক্যাম্পেইনকে, উদ্যোগকে, প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করে চরম মিথ্যাচার করার জন্য মন্ত্রী হিসেবে, সাংসদ হিসেবে নূরের এখনই পদত্যাগ করা উচিত, আর সংস্কৃতিবিষয়ক একজন কর্মী হিসেবে তাঁর লজ্জিত হওয়া উচিত। যাইহোক, তাই তো বলি, অনুরূপ ঘটনা যেন স্থানীয় সরকার স্থাপনের ক্ষেত্রে না ঘটে, সেটি সরকারসহ সবাই মনে রাখবেন বলে আশা করি। আরও মনে রাখা দরকার যে, জনাব আবু তালেব তদবির চালিয়ে নবেল প্রাইজ নেয়ার লোক নয়, প্রতিবাদ আর দাবিতে স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পুরস্কার আদায় করার লোকও নয়; তিনি নিজস্ব মিডিয়ায় কিংবা তোয়াজী কায়দায় অন্য মিডিয়ায় আতœ-প্রচারণায় বিশ্বাসী মানুষও নন।
পুনশ্চ: প্রতিবেদনটি পাঠক সমাজের ভালভাবে বোঝার সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার ও গণতন্ত্রায়ন বিষয়ক গবেষক এবং সিডিএলজি’র নির্বাহী পরিচালক জনাব আবু তালেব প্রণীত ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ থেকে প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১, স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ এবং মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো) ও তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রেক্ষিত বিবেচনায় প্রণীত ১১ দফার কপি নিচে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাতে, আমরা আশা করি, পাঠক-পাঠিকাগণ, গবেষকগণ, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিগণ, নীতিপ্রণেতাগণ, আইনপ্রণেতাগণ, বিধিপ্রণেতাগণ, মন্ত্রীগণ, সরকারী কর্মকর্তাগণ, সাংবাদিকগণ, আইনজীবীগণ, প্রকৌশলীগণ, কৃষিবিদগণ ও দেশের সকল পর্যায়ের সকল জায়গার নীতিনির্ধারকগণ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। এসব বিষয়ে যে কোনো ধরনের প্রশ্ন থাকলে, তথ্যমূলক প্রশ্ন থাকলে, কোনো কিছু অস্পষ্ট বলে মনে হলে তার জন্য সঠিক উত্তর যোগাতে আমরা যথাসাধ্য সচেষ্ট থাকব বলে অঙ্গীকার থাকল। পাঠক-পাঠিকার বোঝার সুবিধার্থে আরও একটি বিষয় বলতে চাই তা হল, জনাব আবু তালেব এর গবেষণামূলক প্রস্তাবনাগুলোর উপস্থাপন পদ্ধতি হচ্ছে একজন দক্ষ চিত্রকরের মত; দক্ষ চিত্রকরের চিত্র দেখে তাঁর বিষয়, তাৎপর্য ও গভীরতা যেমন বুঝে নিতে হয়, ঠিক তেমনি তাঁর উপস্থাপিত রেখাচিত্র দেখে ও স্বল্প কথা পড়ে এর বিষয়গত সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য ও গভীরতা পাঠক-পাঠিকাকে গভীর মনোযোগ দিয়ে বুঝতে হবে, অনুধাবন করতে হবে। তবে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রায় দুই দশক সময় লেগে যাচ্ছে দেখে খুবই দুঃখ লাগে বইকি?

মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো)

alt
একশো একশো প্রতিনিধিত্ব; একশো একশো ক্যাম্পেইন
alt

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এমপো অনুযায়ী প্রণীত ১১ দফা
(১) জাতীয় সংসদের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা হতে একজন মহিলা জাতীয় সংসদ সদস্য ও একজন পুরুষ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে হবে; (২) জাতীয় সংসদে একজন মহিলা ডেপুটি স্পীকার ও একজন পুরুষ ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত করতে হবে; (৩) ইউনিয়নের প্রতি ওয়ার্ডে একজন মহিলা মেম্বার ও একজন পুরুষ মেম্বার নির্বাচিত করতে হবে; (৪) ইউনিয়নে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করতে হবে; (৫) পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতি ওয়ার্ডে একজন মহিলা কাউন্সিলর ও একজন পুরুষ কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে হবে; (৬) পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে একজন মহিলা ডেপুটি মেয়র ও একজন পুরুষ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত করতে হবে; (৭) উপজেলায় ‘মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো)’ অনুযায়ী নির্বাচিত একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন এর ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে; (৮) উপজেলা সংসদ, জেলা সংসদ ও বিভাগীয় সংসদ এর প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা হতে একজন মহিলা সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য নির্বাচিত করতে হবে; (৯) জেলা ও বিভাগে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে; (১০) জাতীয় সভা (জাতীয় আইনসভার উচ্চকক্ষ হিসেবে যদি কখনও এটি গঠিত হয়) গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলাকে একেকটি নির্বাচনী এলাকা ধরে নিয়ে প্রত্যেক জেলা হতে একজন মহিলা জাতীয় সভাসদ ও একজন পুরুষ জাতীয় সভাসদ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করতে হবে; (১১) ‘মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো)’ এর আলোকে অন্যান্য ক্ষেত্রেও ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর ক্ষমতায়ন যথাসম্ভব সুনিশ্চিত করতে হবে। (১১তম দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দ্বয়ে একজন মহিলা উপ-উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ-উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; এই প্রদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর করা যেতে পারে। এই এমপো অনুযায়ী উপজেলায় একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন, ৭তম দফা অনুযায়ী তাঁর ক্ষমতা ও দায়িত্ব যথাসম্ভব সুনির্দিষ্ট করতে হবে। ১১ দফার ২য় দফা অনুয়াযী জাতীয় সংসদে সরকার একজন মহিলা ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে পারতেন। তাতে না গিয়ে কেবল চমক সৃষ্টি করতে, কেবল বাহবা পেতে একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে স্পিকার করেছেন, এবং তাতে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি বিধানিক প্রধান পদে দায়িত্ব পালনে বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা নারীর ক্ষমতায়নের নামে চমক, করুণা আর দয়া চাইনা, চাই এমপো অনুযায়ী, ১১ দফা অনুযায়ী নারীর পদ্ধতিগত গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন হোক; যেখানে অভিজ্ঞতায় ঘাটতি দিয়ে নির্বাহিক, বিধানিক ও বিচারিক কাজে দেশের কোনও ক্ষতি সাধিত হবে না, ক্ষতি সাধনে সম্ভাবনা থাকবে না; তাই আমরা সবাইকে এমপো ও ১১ দফা গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব; এবং নারী মানুষের ক্ষমতায়ন পদ্ধতি বিষয়ক স্থানীয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, কর্মসূচী বুঝতে, জানতে বলব। তা হলে এমপোর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে কিছুটা সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়।)
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক,সিনিয়র সাংবাদিক,রাজনীতিক,সদস্য ও মুখপাএ সিঊিএলজি যুক্তরাষ্ট্র,এডিটর বাপসনিঊজ এবং সভাপতি আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন।ফোন:৯১৭-৮৩৭-৪৭০০


বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে ‘মীজানুর রহমান মডেল’

শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭

প্রশ্ন হলো, নিয়োগের এই অভিনব তত্ত্ব যিনি আবিষ্কার করেছেন, তিনিও বিশেষ যোগ্যতায় নিয়োগ পেয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে তিনি উপাচার্য পদে আসার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হয়েছিলেন বিশেষ যোগ্যতা ছাড়াই। এখন যে তিনি বিশেষ যোগ্যতায় চাকরি দিয়েছেন, সেটি যে তাঁর নিজের ইচ্ছেয় নয়, তা-ও স্বীকার করেছেন। বলেছেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চাকরি দিতে তিনি বাধ্য। এরপর সম্ভবত বলবেন, বিশেষ যোগ্যতাধারীদের পাস করিয়ে দিতেও তিনি বাধ্য। তাহলে তো বিশ্ববিদ্যালয়ে এত শিক্ষকেরই দরকার পড়ে না।

এর আগে তাঁর পূর্বসূরি মেসবাহউদ্দিন আহমেদ নিয়োগ দিয়েছিলেন ২২ জনকে। সেদিক থেকে মীজানুর রহমান সাহেব একটু পিছিয়ে আছেন। তিনি মেজবাহউদ্দিন আহমদের সমসংখ্যক ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়োগ দিতে না পারলেও সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন এ কথা বলে যে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্র বা চাকরিপ্রার্থী বলতে কিছু নেই। এখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই চাকরি পাবেন। এটাই তাঁদের বিশেষ যোগ্যতা।’

Picture

আমরা জানি না, দেশে এখন এই বিশেষ যোগ্যতার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধিতে সংযুক্ত করা হয়েছে কি না। করা না হলে উপাচার্য মহোদয় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য তা বাধ্যতামূলক করতে পারেন। তাতে সুবিধা হবে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী নন, এমন কেউ চাকরির আবেদনই করবেন না। চাকরিদাতাদেরও অযথা বহুসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর দরখাস্ত যাচাই-বাছাই করতে হবে না। বিশেষ যোগ্যতা আছে, এমন প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া সহজ হবে। এখনো দেশে অনেক মানুষ আছেন, যারা মনে করেন, ছাত্রলীগ না করেও হয়তো পড়াশোনার যোগ্যতা দিয়ে চাকরি পাওয়া সম্ভব। উপাচার্য মহোদয়ের এই বার্তার পর তারা নিশ্চয়ই অনুধাবন করবেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে হলে বিশেষ যোগ্যতাই একমাত্র যোগ্যতা। সাম্প্রতিককালে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির থেকে শত শত নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে, তার পেছনেও বিশেষ যোগ্যতা অর্জনের তাগিদ আছে কি না, উপাচার্য মহোদয় জানালে বাধিত হব।

পত্রিকার খবর অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে সৃষ্ট পদটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুমোদন করেনি। অননুমোদিত কোনো পদে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেতন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যাওয়ার কথা নয়। হয়তো বিশেষ যোগ্যতায় তা-ও পেয়ে যাবেন।
আওয়ামী লীগ একটানা আট বছর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও অভিযোগ আসে প্রশাসনে অনেক ‘দুষ্টচক্র’ রয়ে গেছে। এ কারণে সরকারের নীতি ও কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে না। মীজানুর রহমান সাহেবের পথ অনুসরণ করলে সেই সমস্যা থাকবে না। বিশেষ যোগ্যতায় বিশেষভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারবেন। আশা করি, সারা দেশে এখন থেকে নিয়োগের ক্ষেত্রে মীজানুর রহমান মডেল অনুসৃত হবে। তখন ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি কেউ রুখতে পারবে না।

পত্রিকার খবর অনুযায়ী, গত ১৯ মার্চ উপাচার্যের আগের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগে ফেব্রুয়ারিতে অস্থায়ীভাবে ও চুক্তিভিত্তিক এই ১২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ওপর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে। ২০ মার্চ মীজানুর রহমান দ্বিতীয় মেয়াদে আরও চার বছরের জন্য উপাচার্যের দায়িত্ব পান। এর আগে ২০১২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রলীগের ৩১ জন নেতা-কর্মী নিয়োগ পেয়েছেন।

মীজানুর রহমান বেশ জোরের সঙ্গে বলেছেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চাকরি দিতে আমি বাধ্য। নিয়োগপ্রাপ্ত ওই ১২ জন কঠোর পরিশ্রমী নেতা-কর্মী ছিলেন। এর মধ্যে দুজন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা। এটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।’

বিশেষ কর্মকর্তা পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য আনোয়ার হোসাইন ও মিজানুর রহমান; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি দানেশ মিয়া, আরেফিন কাওসার, প্রশান্ত মৃধা, আবদুল্লাহ আল মামুন, এ কে এম কামরুজ্জামান, জিয়াউর রহমান ও আবদুস সালাম; আপ্যায়ন সম্পাদক নুরুল হুদা, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আশিকুজ্জামান, কর্মী বিশ্বজিৎ মল্লিক। তাঁরা রেজিস্ট্রার দপ্তরের অধীনে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের নিয়োগপত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপত্র কথাটি উল্লেখ রয়েছে। তবে কত দিনের জন্য নিয়োগ তা বলা হয়নি।

২০১৩ সালের মার্চে উপাচার্য নিযুক্ত হন মীজানুর রহমান। এর ছয় মাসের মাথায় সেকশন অফিসার গ্রেড-২ পদে চারজন ও স্টোর অফিসার পদে একজনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবেদন করেছিলেন ছাত্রলীগের ৫০ নেতা-কর্মীসহ ৪৭০ জন। কিন্তু ছাত্রলীগের নয়জনসহ ১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য দুজন ছিলেন উপাচার্যের ‘পছন্দের কোটার’। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসারের (গ্রেড-১) মধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীই দুই-তৃতীয়াংশ।
উপাচার্য মহোদয় আরও চার বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন। আশা করি, দ্বিতীয় মেয়াদে এটি শতভাগ পূরণ করতে পারবেন।


বয়স বেড়েছে = কুলসুম আক্তার সুমি

বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৭

মেঘের আড়াল থেকে শত চেষ্টা করেও সূর্যটা উঁকি দিতে পারছে না।

বাতাসে এখনো হিমেল আবেশ।

মন ভালো করা খুনসুটি হয় না কতদিন!

ব্যস্ত পৃথিবীর সাথে সবাই আমরা ব্যস্ত।

প্রতিদিনই তো পূব আকাশ রাঙ্গিয়ে সূর্য উঠে,

দিন শেষে ডুবে ও যায় যথারীতি।

দেখা হয়না কতদিন!

শেষ কবে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ শুকেছি...

মনে পড়ে না।

ফেব্রুয়ারি হারিয়ে গেছে স্মৃতির ভীড়ে।

'ছি ছি তুমি এত খারাপ?'...  

কিংবা,

'হাওয়া মে উড়তা জা য়ে'...

ঠোঁটে ঠোঁটে আওড়াই না যেন যুগান্তর ধরে।

ঋতুপর্ণার উদ্ভট পোশাক,

অসামঞ্জস্যপূর্ণ ডায়লগ

আর বস্তাপঁচা চিত্রনাট্য নিয়ে...

চায়ের কাপে ঝড় তুলি না, সেও তো বহুকাল।

আজিজে ফতুয়া, গাউসিয়ায় অন্তর্বাস,

বসুন্ধরায় কসমেটিক...

কেনা

কেনার ভান করা

দেখে দেখে দিন কাটানো....

আলস্যমূখর দিনগুলো কোথায় হারিয়ে গেল!

সে রকম ইচ্ছা কি হবে আর কখনো???

হবে না, হওয়ার উপায় নেই....

পৃথিবীর বয়স বেড়েছে, আমারও।


ফ্রান্সে সন্ত্রাস, নির্বাচন এবং আমার একটি সন্দেহ - আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

সোমবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৭
ঘটনাটি ঘটেছে প্যারিসে। গত বৃহস্পতিবার রাতে করিম সেরমি নামে এক মুসলমান যুবক প্যারিসের প্রাণ কেন্দ্রে (Champs Elysees) গুলি করে একজন পুলিশকে হত্যা এবং আরো দু’জনকে আহত করেছে। লন্ডনে বসে আমার মনে সন্দেহ জেগেছে আসলে ঘটনাটি ঘটিয়েছে কারা? হয়তো আমার সন্দেহটি হাস্যকর এবং অমূলক। তবু সন্দেহটি ব্যক্ত করতে চাই অতীত ইতিহাসের কথা ভেবে। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, “যা কিছু হারায় গিন্নি বলেন কেষ্টা ব্যাটাই চোর।” তেমনি বর্তমান বিশ্বে যত সন্ত্রাস ঘটে তার দায়িত্ব বর্তায় আইএসের ঘাড়ে। আইএসও বাহবা কুড়োবার জন্য সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব স্বীকার করে নেয়।

বাংলাদেশের ব্যাপারেও আমরা দেখেছি, ব্লগার হত্যা থেকে বিদেশি হত্যা, রেস্টুরেন্টে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত অধিকাংশ সন্ত্রাসের দায় স্বীকার করে বাহবা পেতে চেয়েছে আইএস। কিন্তু দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশে আইএস নেই। আইএসের নাম ভাঙিয়ে এই সন্ত্রাস চালিয়েছে দেশেরই উগ্র মৌলবাদী দল-উপদলগুলো। প্যারিসের গত বৃহস্পতিবারের ঘটনার পেছনেও আইএসের মুখোশের আড়ালে অন্য কোনো অশুভ শক্তির খেলা রয়েছে কিনা এ সন্দেহটিই আমার মনে প্রথম জেগেছে।

ফ্রান্সে নির্বাচন শুরু হওয়ার মাত্র ৭২ ঘণ্টা আগে এই সন্ত্রাস ঘটতেই উগ্র বর্ণবাদী দল ফ্রন্ট ন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ম্যারিন লে পেনের জয়ের সম্ভাবনা বেড়ে গেছে এবং তিনি হুংকার ছেড়ে বলেছেন, ‘তার দেশ থেকে ইসলামিজমের সঙ্গে সম্পর্কিত সব মুসলমানকে বের করে দিতে হবে। ইসলামিস্ট, সালাফিস্ট মতবাদের কোনো স্থান ফ্রান্সে নেই। আমরা এখন ইসলামিস্টদের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত, আমরা এ যুদ্ধে পরাজিত হতে পারি না। ফ্রান্সে বিদ্বেষপ্রচারকারী মসজিদের ইমামদের বহিষ্কার করতে হবে এবং মসজিদ বন্ধ করে দিতে হবে।’
ফ্রান্সে সন্ত্রাস, নির্বাচন এবং আমার একটি সন্দেহ

আমেরিকায় যে বহিরাগত বিদ্বেষ প্রচার ও মুসলিম বিতাড়নের ঝড় তুলে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতার অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটিয়েছিলেন এবং হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়েছিলেন, ফ্রান্সে সেই একই পন্থা গ্রহণ করে লে পেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হতে চান। প্যারিসের সন্ত্রাসের ঘটনাটি তার অনুকূলে গেছে এবং তার জয়ের সম্ভাবনা বেড়েছে। এ সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, ‘এই সন্ত্রাস ফ্রান্সের নির্বাচনে বিরাট প্রভাব ফেলবে এবং সম্ভবত লে পেনকে জয়লাভে সাহায্য জোগাবে। কারণ, লে পেন ফ্রান্সের সীমান্ত রক্ষা (বহিরাগতদের আটকানো) এবং আভ্যন্তরীণ সমস্যার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর নীতি অনুসরণ করতে চান।’ ট্রাম্প এ কথা গোপন রাখেননি, তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদে লে পেনকে দেখতে চান।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী চারজনের মধ্যে লে পেন এবং ফ্রাঙ্কোয়েজ কিলন দু’জনেই উগ্র বর্ণবাদী এবং মুসলিম-বিদ্বেষী। প্যারিসের ঘটনার পর কিলনও বলেছেন, ‘তার দেশ এখন রেডিক্যাল ইসলামের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত।’ নির্বাচন সংক্রান্ত জনমত সমীক্ষায় তিনি এখন তৃতীয় স্থানে আছেন। লে পেনের একেবারে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইমানুয়েল ম্যাকরন একজন সংস্কারবাদী, উদারপন্থি প্রার্থী। কিন্তু ফ্রান্সে এখন চরম ডানপন্থি রাজনীতির অনুকূলে যে হাওয়া বইছে, তাতে অনেকের আশঙ্কা, তিনি আমেরিকায় হিলারি ক্লিনটনের ভাগ্য বরণ করতে পারেন।

সবচাইতে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার, ফ্রান্সে বামপন্থিরা এখন বিভক্ত। প্রেসিডেন্ট পদে বাম প্রার্থী জাঁ লুক মেলেনচনের রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত ক্যারিশমা আছে। কিন্তু সারা ইউরোপ জুড়ে উগ্র ডানপন্থায় যে ঝড় বইছে, তার মোকাবিলায় তিনি টিকতে পারবেন কিনা সন্দেহ। আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট পদে চরম উগ্র কথাবার্তা বলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে নির্বাচিত হয়েছেন, ফ্রান্সে লে পেন সেভাবে জিতলে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। এই চরম ডানপন্থি নেতা ফ্রান্সের নির্বাচনে জয়ী হলে সারা ইউরোপে তার বিপজ্জনক প্রভাব বিস্তার লাভ করবে।

ফ্রান্সের নির্বাচনের ফার্স্ট রাউন্ড শুরু হয়েছে। প্যারিসে গত বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি যদি না ঘটত, তাহলে লে পেনের সম্ভাব্য বিজয় সম্পর্কে একশ্রেণির পর্যবেক্ষক এতটা নিশ্চিত হতে পারতেন না। লে পেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উদারপন্থি ম্যাকরন ফার্স্ট রাউন্ড নির্বাচনে তার ‘নেক টু নেক’ অবস্থানে আছেন। প্যারিসে বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর এই অবস্থানের পরিবর্তন ঘটতে পারে। লে পেন আরো এগিয়ে যেতে পারেন। ম্যাকরন তার দুই উগ্র ডানপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পর্কে অভিযোগ করেছেন। তারা এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলছেন বটে, কিন্তু এই ঘটনাটিকে তারা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করছেন।

এই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। দেখা যাচ্ছে এই সন্ত্রাস লে পেনের নির্বাচন জেতার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে। তার মুসলিম বিদ্বেষী প্রচার এবং জেনোফেভিক নির্বাচন-প্রচারণার মাত্রা বাড়িয়েছে। এদিক থেকে বৃহস্পতিবারের সন্ত্রাসের নায়ক করিম লে পেনের শত্রু নয়, বরং মিত্রের ভূমিকাই পালন করে গেছেন। এখানেই আমার সন্দেহটি জাগে। তিনি কি জিহাদিস্ট বা আইএসের লোক না কোনো ভাড়াটে সন্ত্রাসী? উগ্র ডানপন্থিরাই তাকে জিহাদিস্ট সাজিয়ে, নির্বাচন শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে প্যারিসে তার দ্বারা পুলিশ হত্যা করিয়ে নিজেদের অনুকূলে জনসমর্থন ঘোরাতে চেয়েছে কি?

পুলিশের রিপোর্টেই দেখা যায়, ৩৯ বছর বয়সী করিম একজন দাগি আসামি। তার অপরাধের দীর্ঘ তালিকা আছে পুলিশের কাছে। তিনি পুলিশ বিদ্বেষী এবং তার বিরুদ্ধে দুটো হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগ আছে। তার উপর গোয়েন্দা পুলিশের নজর ছিল। করিম জিহাদিস্টদের তালিকাভুক্ত ছিলেন না। এই অবস্থায় কী করে পুলিশের নজরবন্দি এই সন্ত্রাসী প্যারিস শহরের একেবারে প্রাণকেন্দ্রে এই সন্ত্রাস ঘটায়? তাকে কারা ভাড়া করেছিল এবং নির্বাচন শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পুলিশ হত্যা করিয়ে নির্বাচনী হাওয়া ঘোরাবার কাজে নিয়োগ করেছিল তার তদন্ত ফরাসী পুলিশ কি করবে? এই লোন মার্ডারারকে তো পুলিশই আবার হত্যা করেছে।

প্যারিসের এই ঘটনা সম্পর্কে আমার মনে সন্দেহ জাগার কারণ, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে জার্মানিতে নািস দলের নায়ক হিটলারের ক্ষমতা দখল পর্বে প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছিল। হঠাত্ একরাতে জার্মান রাইটসট্যাম্প (পার্লামেন্ট) ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। হিটলার ঘোষণা করেছিলেন, ‘একজন ইহুদীর দ্বারা জার্মানির কম্যুনিস্ট পার্টি এই কাজটা করিয়েছে।’ তারপর শুরু হয় ইহুদী ও কম্যুনিস্টদের উপর চরম নির্যাতন। সাধারণ জার্মানদের ইহুদী ও কম্যুনিস্ট বিদ্বেষী করে তোলা হয়। হিটলারের জনপ্রিয়তা বাড়ে।

অনেকদিন পর ঘটনার আসল রহস্য ফাঁস হয়। প্রকাশ পায়, নািসরাই একজন দলত্যাগী ইহুদি কম্যুনিস্টকে পার্লামেন্টে আগুন ধরাবার জন্য প্রচুর অর্থ দিয়ে ভাড়া করেছিল। এই খবর যখন জানাজানি হয় তখন নািসরা ক্ষমতায়। ফ্রান্সের ঘটনাটি নিয়ে তাই সন্দেহ হয়, প্যারিসের বৃহস্পতিবারের ঘটনার পেছনে সে দেশের নব্য নািস পার্টি ফ্রন্ট ন্যাশনালের কোনো হাত আছে কিনা?

পড়ন্ত পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ এখন মিথ্যা প্রচারণায় নািস জার্মানির গোয়েবলসকেও হার মানিয়েছে। গালফ যুদ্ধ বাঁধানোর জন্য ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের হাতে বিশ্বধ্বংসী মারণাস্ত্র আছে এই মিথ্যা প্রচার চালানো হয়েছিল। এই মিথ্যা প্রচারটি যে ব্রিটিশ গোয়েবলস চালিয়েছিলেন, সেই সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এখনো বুক ফুলিয়ে জনসমক্ষে হাঁটেন এবং বিশ্ববাসীকে নানা উপদেশ দেন।

অতীতের অন্য উদাহরণে যাব না। সিরিয়ার আসাদ বিদ্রোহীদের ঘাঁটিতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে এবং সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই আমেরিকা সিরিয়ায় ভয়াবহ মিসাইল হামলা চালিয়ে অসংখ্য লোক হত্যা করেছে। এখনতো প্রশ্ন উঠেছে, সিরিয়ায় আসাদ সরকার এই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে না মার্কিন মদদপুষ্ট বিদ্রোহীরাই এই অস্ত্র নিজেরা ব্যবহার করে আসাদ সরকারকে দায়ী করার চেষ্টা করেছে? কারণ, আসাদ সরকারের সঙ্গে যুদ্ধে তারা পেরে উঠছে না। একথাতো এখন সকলেরই জানা ইরান-ইরাক যুদ্ধে ইরানে রাসায়নিক বোমা ব্যবহারের জন্য ওই বোমা সাদ্দাম হোসেনের হাতে আমেরিকাই তুলে দিয়েছিল। পরে সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ তারাই আবার তুলেছে।

প্রবাদ আছে, ‘সর্প হইয়া দংশন করো, ওঝা হইয়া ঝাড়ো’, পড়ন্ত সূর্য পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের এখন এই নীতি। আইএস গঠন তারাই করেছে, এখন আইএসের সন্ত্রাসকে অজুহাত হিসেবে খাড়া করে সারা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস দমনের নামে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ছড়াচ্ছে। আফগানিস্তানে, ইরাকে, সিরিয়ায় অবৈধ বোমা হামলার এবং শ’য়ে শ’য়ে নিরীহ নর-নারী হত্যার অধিকার আমেরিকাকে কে দিয়েছে সে প্রশ্ন কেউ তুলছে না। তার প্রতিক্রিয়ায় সারা পশ্চিমা দেশগুলোতেই যদি প্রতিহিংসাকামী সন্ত্রাস ছড়াতে থাকে, তার জন্য দায়ী কারা?

প্যারিসের সন্ত্রাস, একজন পুলিশের মর্মান্তিক মৃত্যু নিশ্চয়ই নিন্দনীয়। কিন্তু এই মানবতা বিরোধী নিন্দনীয় কাজের পেছনে কাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গোপন হাত লুকানো রয়েছে তা হয়তো এখন জানা যাবে না। জানা যাবে বহু পরে, অলিখিত ইতিহাসের একটি অধ্যায় হিসেবে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের আগে ইউরোপে নািসবাদের অভ্যুদয় পর্বে যেসব ঘটনা ঘটেছিল, তার আলামত আবার দেখা যাচ্ছে, বর্তমান ইউরোপ ও আমেরিকা জুড়ে। এর পরিণতি কি তা বলার সময় এখনো আসেনি।



সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় চৌধুরী এহসান সম্পাদিত সাহিত্য সাময়িকী একতারা প্রকাশিত

রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৭

গোলাম সাদত জুয়েল ,বাপ্ নিউজ : সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা থেকে : প্রথম বারের মত একটি নিয়মিত সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশ করার ঘোষনা দিয়েছেন চৌ্ধুরী এহসান । তারই ধারাবাহিকতায় বাংলা নতুন বছরে একতারা নামের সাহিত্য পত্রিকাটির প্রথম  সংখা প্রকাশিত হয়েছে ১৫ এপ্রিল । সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় ক্রমবর্ধমান হারে প্রবাসীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাওয়ায় নানা জায়গা ধেকে প্রবাসী কবি সাহিত্যিক ও সাংবাদিকরা সেন্ট্রাল ফ্লে্ারিডার ওরলান্ডোয় বসতি স্থাপন করছেন । সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় দীর্ঘ দিন থেকে নানা দিবসে সাময়িকী বের হয়ে আসছে , বিভিন্ন সংগঠন তাদের নানা অনুষ্টানে ম্যাগাজিন প্রকাশ করে থাকে ,সেখানে বেশ কিছু প্রবাসী লেখার সুযোগ পান । বাংলাদেশ সোসাইটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা ও সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা মহানগর আওয়ামী লীগ নানা দিবসে ম্যাগাজিন প্রকাশ করে থাকে ।

Picture

পুর্বে আমেরিকা থেকে ম্যাগাজিন প্রকাশিত হলেও বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ছাপা হয়ে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় ম্যাগাজিন প্রকাশিত হচেছ জাতীয় দিবস বা বর্ষবরন সহ নানা উপলক্ষে । সেন্টাল ফ্লোরিডা থেকে একমাত্র অনলাইন পত্রিকা প্রবাসের নিউজ ডট কম প্রকাশিত হলেও নিয়মিত প্রিন্ট পাবলিকেশন না থাকায় ওরলান্ডোয় লেখক ও কবিদের ছাপা পত্রিকা বা ম্যাগাজিনের শুন্যতা দীর্ঘদিনের । চৌধুরী এহসান তার একতারা মাসিক নিয়মিত প্রকাশ করার প্রত্যয় ব্যাক্ত করায় প্রবাসী ওরলান্ডোবাসী সাধুবাধ জানিয়েছেন । সম্পাদক চৌধুরী এহসান এর সাথে নৈপথ্যে সহযোগীতা করছেন ওরলান্ডোর আরেকজন খ্যাতনামা লেখক জাহান রীমা । জাহান রীমা প্রবাসের নি্উজ সহ নানা অনলাইনে লিখে থাকেন । একতারা নামের সাহিত্য সাময়িকীর প্রথম সংখ্যায় কবিতা লিখেছেন আখতারুজ্জামান আজাদ, রাশিদুল বারী, সুজন সুপান্থ,নীলাঞ্জনা সাহা,জাহান রীপা, হাবিবুল্লাহ নাসরীন,চৌধুরী এহসান । প্রবন্ধ লিখেছেন চৌধুরী এহসান,জাহান রীমা,স্বকৃত নোমান, রুদ্র গোস্মামী, জয়নুল আবেদীন,ফাহমিদা দৃষ্টি,সাদাত হোসা্ইন,জাজাফী,জসিম মল্লিক, সেজান মাহমুদ ও রাজিব হাসান ।
একতারা সাহিত্য সামিয়িকীর উপদেষ্টা হিসাবে আছেন , কাজী আসিফ, আওরংজেব , শামীম চৌধুরী,জাবেদ কাজী, হাবিব চৌ্ধুরী, মোহাম্মদ হোসাইন শাহিন, মোজাম্মেল হোসাইন, আশিক চৌধুরী মুন্না, রফিকুল হক খছরু, রেহমান খন্দকার, সাজ্জাদ চৌধুরী ও শাহ এম সজল প্রমুখ । ৩৪ পৃষ্টারি ৪ রংয়ের পচছদের একতারা উদ্ভোধনী সংখ্যয় স্পন্সর হিসাবে আছে বাংলা বাজার , মিলেনিয়াম ট্রাভেলস,হাসান কনসালটিং,চাট হাউস,কম্পিউটার এন্ড সারভিলেন্স প্রস ইনক, ডিসেল এন্ড গ্যাস ( এ ফ্লিট সার্ভিসেস ওরলান্ডো ),আপনা বাজার ।


Four Schools of Fundamental Political Economic Thoughts--An Institutional analysis of differences -Mohammad Ahsanul Karim

রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৭

[This paper analyses the concept and institutional differences of four schools of fundamental political economic thoughts. Capitalistic Economic Thoughts emerged from Catholic economic institutions based on private property, quasi-freedom rights, monopolistic inheritance laws, oligopolistic markets and state taxes; Socialistic Economic Thoughts emerged from rebellion against the curse of Roman-Catholic Feudal-Capitalist economic institutions based on public property, public policy and monopoly authority; Market Economic Thoughts arebased on private property, existing institutions, freedom rights, free markets,state taxes and prevailing institutions; and Democratic Economic Thoughts are based on democratic (freedom and equal/equitable) rights, private property, democratic inheritance laws, democratic SAI institution, democratic public policy, competitive markets and state taxes.]

alt
In ancient and medieval eras, global economies of small kingdoms/states were agrarian, local and less diversified. Capital and technologies were less important in relation to labor and land/natural resources. Natural resources were abundance for less population. Those economies basically run by religious ethics, statues and monarch’s regulations. Roman institutions took universal shape in Europe as Roman imperial authority was sovereign almost all over the Europe about a half millennium; and Roman, Catholic or Protestant religion was State-religion about two millennium with same inheritance institutions during and after the liquidation of Roman Empire.
Roman-Catholic Political Economywas based on private property, monopolistic inheritance laws, quasi-freeom, oligopolistic markets and state taxes institutions.Consequently, production, marketing and trading of Roman kingdoms’ economies were also free and competitive under tax-tariff structures. Mercantile and colonial economic thoughts were also based on same economic institutions. With the expansion of economic horizons of larger kingdoms/states and development of the non-agricultural sectors, capitalistic economic thoughts of Roman-Catholic Economics also developed side by side of the Feudal one based on same economic institutions.
Market competition depends on various non-law based structures and institutions. After forming Union in 1707 with Wales, Scotland and England, the character of its State Area Infrastructure (SAI) institutionof Great Britain changed into higher democratic which were more or less autocratic when were separate states. (Democratic indicates here the systems, structures, institutions and principles those based on/and ensure equal/equitable rights and privileges as well as ensure mass individuals’ interactions in freedom and equal/equitable rights. As the both words indicate large numbers of buyers and sellers, Competitive or Democratic are also used here as exchangeable as second best in absence of appropriate one.)
The new structural institution, democratic SAI institution, ensured higher human rights, freedom and motion with integrated more counties, districts and divisions of Great Britain in social, economic, cultural and political lives. As a result, urbanization, communication network, non-economic organizations and enterprises, retail and wholesalemarket centers, etc. grew rapidly. All ensured competitive retail and wholesale markets, non-agriculture sectors, etc. Protestant ideology also played role, but the unveiled democratic SAI institutionplayed multiple times role in all respects for higher developing Great Britain including industrial Revolution.It gave situationalandInductive new thoughts ofModern Economics against deductive religious statues and principles as like as other areas of Science.
Adam Smith identified that freedom and competition in production-marketing-trading are the underlying issues of higher growing British economy; and postulated the advantages of “Free Market Economics” (Smith, 1977). As those work on the prevailingBritish situations, Smithian Economicsalso maintains all institutions including Roman-Catholic as given (Adams, 1901, North, 1998, Waters, 1998); and seldom dealt with the issues of structure and institutions other than British. Smithian economic thoughts are further developed as Modern Economics with classical, neo-classical and post-classical theories.

(2)
A federal or larger unitary state is not as small as ancient Greek states in area and population. Rather those hierarchical integration of hundreds city-states into sub-counties/districts, counties/districts, regions/provinces/states, and finally into a federal, union or unitary state in ascending way. In descending way, a typical modern state is hierarchically sub-divided into states/provinces/regions, counties/districts, sub-counties/districts, cities/communes, etc. The units structure as a whole that formed from the hierarchical sub-division or integration of the state territory in descending or ascending way is the SAI institution of the state.
The SAI institution is conventionally identified as decentralized administrative structure of a larger state. It not only sub-divides the area, people and decentralizes national-local administrations, but also de-concenters public and private economic, social, cultural and political units, agencies and enterprises of the state. Historically those are by-products of decentralized administrative sub-structures of state but their socio-economic impacts and activities are many times greater than of that. Not only the socio-economic and physical infrastructures, but the local affinities and the nature of national integrity of the peoples are also shaped by that SAI institution. So, it is appropriate to identify it as the SAI institution instead of administrative structure.
Democratic SAI institution developed liberal values and liberated the prevailing feudal-capitalistic institutions in addition to Protestant reformations and ensured more freedom and competitive market in Great Britain as well as ensured better resource mobilization, utilization and growth of the national economy (Karim, 1991 and 2011). However, economy gradually went through the cyclic crises for monopolistic transition of oligarchic capital; and thereby higher income inequalities for prevailing same monopolistic inheritance institution of the Catholic and Protestant.
The scenarios of other kingdoms/states in Europe were worse than Great Britain where less democratic or autocratic SAI institutions were prevailing. With various taxes, those crisis could not be eliminated except reduction. By criticizing private property system, its monopolistic transformation, capitalistic political economy and classical Economics, Karl Marx postulated Socialist Economic Thoughts based on public property, policy and authorities (Marx and Engels, 1980). Marx has further clarified the Roman-Catholic Economic system in his economic literatures, Capital and others.  

-3-
France solved the feudal political economic crisis i.e. the increasing oligopolistic structure of land-capital by democratic land-reforms and by introducing the democratic Christian inheritance statues as state law in place of long prevailing monopolistic Catholic ones. Britain brought many democratic reforms in 1832-33, but oligopolistic economic crisis could not be removed except some reduction. After Socialist Revolution in Russia (1917), Britain introduced the democratic Christian inheritance laws in 1925 in place of monopolistic Catholic-Protestant ones. (Emperor Justinian-I first introduced this laws in the Eastern Roman Empire in 6th century under the name of  Christian Inheritance Laws following the principles of Orthodox Christian Church at Constantinople. British and others also enacted the same laws in modern era in the same name as Christian Inheritance Laws: Encyclopedia Britannica, 1980).
After World War I and II, most European countries have introduced democratic Christian inheritance laws following Great Britain; and those feudal-capitalistic i.e. oligopolistic economic structures gradually have transformed into democratic i.e. competitive ones by generations. Now European economies are running under democratic market economy based on democratic inheritance laws and democratic laws and governance with or without democratic SAI institutions.  
In ancient and medieval eras, kings or king-lords were owner of lands in Asian states. However, subjects enjoyed tenure-ship by semi-democratic or democratic inheritance institutions of Hindu-Buddha, Confucian, Muslim or others (New Encyclopedia Britannica, 1980, Goyal & others, 2009; Carroll, 1991). Non-agricultural property/capital in feudal system was also conventionally private. So, a type of quasi-private ownership and quasi-competitive market economy were prevailed in different states or regions in Asia; and corresponding economics were prevailing as depicted by Kautilya and others.
Though original Hindu-Buddha or others major religions in Asia have their own distinctiveness, but has less uniqueness than theChristian-Muslim Democratic Institutions. In agrarian economy, the differential SAI institutions also made them less differential.The character of those economies, therefore, were in between Roman-Catholic oligopolistic and Christian-Muslim democratic Economies. During European colonial rules, land-system was introduced as like as private and feudal in Europe. Asian economies gradually have become democratic for democratic land-reforms and Christian-Muslim inheritance institutions after Independence.
-4-
Basic inheritance statute of Roman-Catholic religion transfers and distributes the property only to the eldest male off-spring of the deceased (Smith, 1904). This inheritance statute is monopolistic institution for the family; and oligopolistic institution for the society/state in distributing property/capital; and generates increasing oligopolistic economic and market institution as well as increasing income inequalities, property-less individuals, antagonistic economic classes, relation and crises in the family, society and state.
Basic inheritance statute of Hindu-Buddha transfers and distributes the property equally only to all male off-springs of the deceased (Carroll, 1991 and Goyal, 2009). As female off-springs are deprived, this statute is half-democratic for the family and quasi-democratic for the society/state. Hindu-Buddha inheritance statutes generate semi-democratic or lower competitive economic and market institutions. Though generates lower inequalities, but it does not generate economic classes. Rather it generates social (kinship) classes and division of profession as like as sub-castes those emerged in Asiatic states or regions.
Basic inheritance statute of Christian or Islam religion transfers and distributes property to all male and female off-springs of the deceased (Britannica, 2002 and Kimber, 1998). Both inheritance statues are democratic institutions in distributing property in the family and the society/state. Both statues generate democratic economic institutions, competitive markets and equitable income distribution among the factors of production. Both statues neither generate economic or social classes nor antagonistic economic relation, crisis or conflict in the society/state.  
Many scholars confuse Roman-Catholic’s oligopolistic or Capitalistic Economics as part of “SmithianorModern Economics. The former is deductive and emerged from Roman-Catholic’s statues and institutions; while the later are scientific thoughts based on situational and inductive process. Modern Economicsisneither monopolistic, oligopolistic nor competitive qualification.It is simply analysis of different theories and policies based on assumptions and situations.  

-5-
Roman-Catholic Economics and Marxian Economics are nearlyopposite. The former is based on private property, quasi-freedom rights, monopolistic inheritance laws, oligopolistic markets and state taxes; while the later is based on public ownership, non-freedom, non-market and public authorities-policies-regulations. However, both Roman Economics is Marxian Economics is based on non-equal/equitable economic rights-institutions. Smithian Economics is also based on private ownership, competition and markets (Samuelson &, 2004); but it has no self-controlling structures and institutions for social, economic, cultural and political destinations (North, 1998).
Democratic Economics, this author postulates, is also based on private property, freedom rights, competitive markets and state taxes; but it has democratic structures and institutions for self-maintaining democratic political, economic social and cultural destinations (Karim, 1991, 2011)). Smithian Economics is based on freedom and competition without maintaining of any quality of economic rights except freedom. While the Democratic Economics is based on freedom, equal/equitable rights andcompetition. DemocraticEconomics and Smithian Market Economics are not contradictory, but complementary as it towards freedom and completion. Both Roman Economics and Marxian Economics are structurally and institutionally different from Democratic Economics.
Oligopolistic or Capitalistic economic thoughts emerged primarily from private property and monopoly inheritance laws of Roman-Catholic. Monopolistic dynamics of the oligopolistic economy and cries gave birth the Marxian rebellion economic thought i.e. Socialistic Economic Thoughts based on public property, policies and authorities by abolition of private properties. Primarily the democratic SAI institution of Great Britain liberated the oligopolistic economy towards more freedom and competition; and gave birth the situational Market Economic Thoughts. While democratic inheritance laws of Christian-Islam and democratic SAI institution are basic foundations of Democratic Economic Thoughts. Economic Democracy is consistent to emerging political democracy, cultural democracy and social democracy.
Fundamental limitation of Modern Economics is that it has still no capital distribution theory (Karim, 1991). Still today the inheritance statutes of various religions are used for the distribution of property/capital over generations. Marx was also aware of the inheritance institution and set a major demand for abolition of itin order to transfer property from private to public. He never raised the nature of inheritance statutes in distributing private property.  Last two thousand five hundred years, property inheritance institutions of different religion played major role in determining economic system and it evolution. Now Economist have responsibly to develop capital distribution theories and policies.
=================================================
*Mohammad Ahsanul Karim is conceptual initiator of the incomplete basic democratic structural and institutional reforms in Bangladesh since 1982. He is author of the books, Progressive Democracy (1991) and Points of Constitution Amendment (2011) and few articles on democratic reforms. (contact: এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে। )


অপরাধবোধ - কুলসুম আক্তার সুমি

রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৭

আজ আকাশের মন ভালো নেই,
বুক ভাঙ্গা আর্তনাদে কেঁদে চলেছে সকাল থেকে।
এমন দিনে যাসনে ঘরের বাহিরে,
কম্বল মোড়া দিয়ে অলস সময় কাটাতাম...
কাটিয়েছি বিগত বছরগুলোতে।
আর.....
জেনেছি-ভেবেছি-কখনো কখনো কেঁদেছি
বছরের পর বছর এমন দিনে
ঝড়-বৃষ্টি-তুষারপাত মাথায় করে
খেটে মরছে একজন।
অথচ আমি সময় পার করছি আরামে।
আজ আমার আনন্দ হচ্ছে,
মুক্তির আনন্দ
আহা মুক্তি।


মেকআপ করা বৃষ্টি..........রুহুল আমীন রাজু

রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৭

মোহাম্মদ মতিউর রহমান। সবাই ডাকে মতি স্যার বলে। একটি বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মতি স্যারের নানাবিধ সমস্যা থাকলেও বর্তমানে দু’টি সমস্যা তাকে ভয়ানক কষ্ট দিচ্ছে। একটি হচ্ছে- সেদিন দশম শ্রেনীর ছাত্র/ছাত্রীদের নদী বিষয়ে রচনা লেখার অবΖা দেখে তিনি দারুন মর্মাহত। শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ’ই লিখেছে- ’বাংলাদেশ একটি নদী মার্তৃক দেশ। মাঝি নৌকায় পাল তোলে ভাটিয়ালি গান গেয়ে ছুটে চলে গ্রাম থেকে শহরে.....’
মতি স্যার Ζানীয় আড়িয়ালখাঁ-ѓমপুত্রসহ তিন দিনের ছুটি নিয়ে আরো বেশ কয়েকটি নদী সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেছেন, নৌকায় কোনো পাল নেই। সব নৌকা ইঞ্জিন চালিত। এমন বিকট ভট ভট শব্দের মাঝে মাঝির গান শুনলো শিক্ষার্থীরা কোথায় থেকে...? তাও আবার বর্ষাকালে এখন আর মাঝির ভাটিয়ালি গান নয়; নৌকার ভটভটি সঙ্গীত... এরপরতো শুধু’ই নদীগুলো ধূ ধু বালুচর। অথচ ওরা এসব কি কাল্পনিক কথা লিখেছে.. ?
মতি স্যার সকল শিক্ষাত্রীকে এই নদী রচনায় শূণ্য নম্বর দিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে অভিভাবক মহল ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বর্তমান এমপি মোখলেস ভ’ইয়া খবরটি শুনে সাংঘাতিকভাবে ক্ষেপে গেছেন। তার ছোট ছেলেও এই শূণ্য প্রাপ্তির দলে। এমপি সাহেব শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে জরুরী বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে -  প্রাইভেট প্র্যাক্টিস, ছাত্র/ছাত্রীদের দিয়ে স্কুলের কাজ করানো... ইত্যাদি।
তবে শূণ্য নম্বর প্রাপ্তিতে শিক্ষার্থীদের  মাঝে কোনো ক্ষোভ নেই, দুঃখও নেই। ওরা সবাই শূণ্য পেয়েছে ফার্ষ্টবয়সহ- বিষয়টি নিয়ে এক প্রকার আনন্দ উল্লাস করছে তারা।
অপরদিকে মতি স্যারের দ্বিতীয় সমস্যাটা হচ্ছে, উনার ছোট ছেলেটা গরুর গোস্ত দিয়ে ভ’না খিচুরি খাওয়ার বায়না ধরেছে। পাশের বাড়িতে বৃষ্টি আসলেই খিচুরি খাওয়ার ধুম পড়ে। ওদের বাড়িতে বৃষ্টির দিন মানেই- খিচুরি খাওয়ার দিন। কিন্তুু মতি স্যার চার’শ আশি টাকায় এক কেজি গরুর গোস্ত ক্রয় করার মতো এতো টাকা যোগাড় করতে অপারগ। মাস আসতে আরো বেশ বাকী। স›ধ্যায় স্কুল ঘরে যে টিউশনি করেন, তাতে তিনি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কোনো ফি নেন না। মাস শেষে  কেউ একটা লাউ মিষ্টি কুমড়া কচু আবার কেউ কেউ কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে থাকে। ইদানীং শূণ্য নম্বর দেওয়ার পর টাকা-পয়সাতো দূরের কথা, লাউ কুমড়া পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তুু মতি স্যার তাদের পড়ানো বন্ধ করেন নি। বরং মূল কøাস এবং প্রাইভেটে লেখাপড়া আরো জোড়দার করেছেন।
ঘরে ফিরলেই ছেলেটির প্রশ্ন- খিচুরির কি খবর বাজান..? গোস্ত কই..? চাইল- ডাইল কই..? ছেলের এই প্রশ্ন এড়াতে বেশ রাত করে বাড়ি ফিরেন তিনি। ছেলেটি ঘুমিয়ে পড়ার পর এক পরাজিত সৈনিকের মতো ঘরে ঢুকেন তিনি। তার ċী রাবেয়া বেগমের মুখে শুনেন ছেলেটির খিচুরি খিচুরি করে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়ার গল্প..।
একটা দীর্ঘ নিঃশ^াস ছেড়ে মতি স্যার বলেন, এইতো আর ক’টা দিন- বেতনটা পেলেই খিচুরির আয়োজন করা হবে। ঐদিন মেয়ে দুইটারেও জামাইসহ দাওয়াত দিও রতনের মা।
রাবেয়া বেগম চাপা কষ্ট কন্ঠে বলেন, হ আপনে যহন বেতন পাইবাইন তহন আর বর্ষা থাকতো না। আপনের পোলা বৃষ্টির মইধ্যে খিচুরি খাইবো- লইদের মইধ্যে না।
ঃ আরে বৃষ্টি নিয়া চিন্তা কইরো না রাবেয়া। আবহাওয়া এখন আর আগের মতো নাই। দেখবা বৃষ্টি ঠিকই থাকবো। শোনো- জলবায়ুর প্রভাবে বিশ^ এখন.....
ঃ রাহুইন আপনের কেলাস। মাষ্টরি করতে করতে অহন ঘরটারেও ইসকুল মনে করতাছুইন, খিচুরি লইয়া কেলাস শুরু অইছে। এই লইন কানের দোল , এইডা বেইচ্চা চাইল ডাইল গোস সব লইয়া আইয়্যুন।
ঃ এইডা তুমি কি কইলা ?
ঃ কেরে আমি কি হিন্দিতে কইছি ? জানুইন না কানের একটা দোল হেই কবেঅই হারাইয়া গেছে। এক কানো কেউ কি আর দোল পিন্দে ? নেইন এইডা বেইচ্চা পোলারে খিচুরি খাওয়াইন আর চালের দুইডা টিন বদলাইন। ট্যাহা কিছু বাড়লে আফনের লাইগগা একটা নীল পাঞ্জাবী কিনুইনযে।

alt
মতি স্যার কাঁপা কাঁপা হাতে রাবেয়ার কানের দোলটা নিলেন। বিয়ের দোল। তার মায়ের দেওয়া দোল। একটা দোল সেই কবে হারিয়ে গিয়েছিলো। হুবহু আরেকটা দোল বানিয়ে দেওয়ার কথা দিয়েছিলেন । আজো পারেননি। কিন্তু মায়ের দেওয়া এই দোল কিভাবে হাত ছাড়া করবেন তিনি..? দোলটাতে যে অনেক স্মৃতি........
এমপি সাহেব স্কুলে আসছেন। পুলিশের গাড়ীর কু কু শব্দ শোনা যাচ্ছে। ম্যানেজিং কমিটির সদস্য অভিভাবক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সবাই উপস্থিত হয়েছেন স্কুলের মাঠে। এমপি সাহেব পাঁচ মিনিট ধরে বসে আছেন। প্রধান শিক্ষক মতি স্যার এখনো বৈঠক স্হলে আসেননি। তিনি নদী রচনাটি কিভাবে বাস্তব ভিত্তিক লিখতে হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে কথা বলছেন। অপরদিকে ক্লাস ছেড়ে দিয়ে সকল শিক্ষক/শিক্ষিকারা এমপির সামনে গিয়ে হাজির। কচি ডাবের পানি লেবুর শরবত বেনসন সিগারেট দিয়ে এমপি সাহেব ও তার সফর সঙ্গীদের  আপ্যায়নে মহা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
মতি স্যার বৈঠকে উপস্হিত হওয়া মাত্র’ই ইউপি মেম্বার নিয়ামত আলী চড়া গলায় বললেন, কি মাষ্টর সাব এমপি ছ্যার হেই কোন সময় আইয়া বইয়া রইছে আর আপনে পলাইয়া আইছলাইন নাকি ?
মতি স্যার ধরাজ গলায় বললেন, সংযত ভাষায় কথা বলুন মেম্বার সাহেব। আমি পালাবো কেন ? আমি কøাস নিচ্ছিলাম।
মেম্বার এবার বেশ চেঁিচয়ে বললেন, এমপি ছ্যার বড় না কেলাস বড় ??
ঃ আমার কাছে কøাস বড়।
এমপি সাহেব বললেন, বেশ তাই যদি হয় – তাহলে নদী রচনায় সকল ছাত্র/ছাত্রীরা শূণ্য পেলো কেনো ?
ঃ স্যার,ওরা রচনাটি ভুল লিখেছে। তাই আমি শূণ্য দিতে বাধ্য হয়েছি।
ঃ ওরা কি বই থেকে লেখেনি ?
ঃ জি¦ স্যার বই থেকেই লিখেছে। বইয়ে রচনাটি সম্পূর্ণ ভুল।
ঃ দেশের বড় বড় পন্ডিত আর ডক্টর ডিগ্রিধারী ব্যক্তিগন এই বই লিখেছেন। আপনি বলছেন উনারা ভুল লিখেছেন !! আপনার কি মাথা ন্ষ্ট হইয়া গেছে ?
ঃ মাফ করবেন, আমার মাথা ঠিক’ই আছে স্যার।
ঃ মাথা যদি ঠিক থাকে, তাহলেতো দেখছি আপনি রাষ্ট্রদ্রোহী। জানেন মতি সাহেব রাষ্ট্রদ্রোহীর শাস্তি কি ভয়াবহ ?
ঃ জানি স্যার। কিন্তুু আমি রাষ্ট্রদোহীতার মতো কোনো কাজ করিনি। রচনাটি ভুল ছিলো- আমি তা সংশোধনী করে দিয়েছি। এছাড়া নবম শ্রেনীর অংক বইয়েও একটা হাস্যকর ও নিন্দাজনক ঐকিক নিয়মের অংক ছিলো, যা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে । তৈলাক্ত পিচ্ছিল বাঁেশ এক বানরের ওঠা নামা নিয়ে ... আমি এই বানরের লাফালাফি অংকটার স্থলে অন্য একটা কিছু সংযোজনের দাবি জানাচ্ছি। বাংলাদেশে খুব শীঘ্রই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হচ্ছে... এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ঘটনাটি দিয়ে অংক করার জন্য আপনার কাছে জোড় দাবি জানাইতেছি। সামনের অধিবেশনে বিষয়গুলি জাতীয় সংসদে তুলবেন মাননীয় এমপি সাহেব।
ঃ বানরের লাফালাফি..না ? ষ্টপ ষ্টপ ইউর মাউথ । স্যাটেলাইট নিয়া অংক..? সরকারের শিক্ষানীতির উপর  বিরুদ্ধচারন... কত বড় সাহস, আমার সাথে বেয়াদবি ! কড়া একটা ধমক দিলেন এমপি সাহেব।
সাথে সাথে  চারদিক থেকে হৈচৈ শুরু হয়ে গেলো। বিশেষ করে এমপি সাহেবের  লোকজন মতি স্যারের বরখাস্ত চায়লো এবং এখনি করতে হবে। এই হট্্রগোলের মাঝে কে যেনো ছড়িয়ে দিলো- মতি স্যার সরকার বিরোধী শুধু না ; ইসলামও বিরোধী। মসজিদের মাইকে বিষয়টি ঘোষণা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। গ্রামের মানুষের কানে এই খবর পৌঁছার পর  স্কুল মাঠ এখন লোকে লোকারণ্য।  
মতি স্যারকে এমপি সাহেব দশবার কান ধরে উঠবোস করার জন্য নির্দেশ দিলেন। মতি স্যার অগ্নিমূর্তি ধারণ করে বললেন, আমাকে গুলি করে মেরে ফেলুন। কিন্তুু কানে ধরে উঠবোস করবো না। আমি শিক্ষক, কানে ধরে উঠবোস আমি অন্যকে করাই।
এমপি সাহেব মতি স্যারের গালে মারলেন কষে এক থাপ্পর। মূহুর্তে’ই তার গালে পাঁচ আঙ্গুলের চিহ্ন এঁকে গেলো। মতি স্যার বরফ জমা পাথর হয়ে গেলেন। বাকরুদ্ধ.. যেনো রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে তার। ত্রিশ বছরের  আলোর বার্তিকা বাহক মতি স্যার আজ পাথর। হাজার পাওয়ারের চোখ দু’টো ঝাপসা হয়ে আসছে...
মতি স্যারের মতো আকাশের һপও হঠাৎ পাল্টে গেলো। আকাশে কালো মেঘের ভেলা। টিপ টিপ বৃষ্টি ঝরতে শুরু করলো। মতি স্যার বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ির দিকে রওয়ানা দিলেন। রাস্তার পাশে চোখ পড়্েরলা কসাইখানার দিকে। গরুর রান ঝুলছে। এ দেখে মনে পড়ে গেলো তার ছেলেটার খিচুরি খাওয়ার কথা...।
বাড়ি পৌঁছার পর ছেলেটি আজ খিচুরির বায়না করেনি। বাবার গালে হাত বুলিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললো. বাজান তোমার গালো যেই ব্যাডা চড় মারছে আমি বড় অইয়া তার গালোও াকেটা চড় মারাম বলেই জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলো। পাশে দাঁড়ানো রাবেয়া বেগম মুখে শাড়ীর আঁচল গুজে নিঃশব্দে কাঁদছে। মতি স্যার বুঝতে পারছেন না এতো তাড়াতাড়ি এ খবর বাড়ী পৌঁছলো কি ভাবে ?
মোবাইল ফোনে দৃশ্যটি ধারণ করে কে যেনো ফেইসবুকে ছেড়ে দিয়েছে। সামাজিক এই মাধ্যমে ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ব্রেকিং নিউজ প্রচার হচ্ছে।
 পরের দিন সব পত্রিকার শিরোনাম- ’ এবার শিক্ষককে প্রকাশ্যে চড় মারলেন এমপি’। এ ঘটনায় বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ বিচারের দাবিতে প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে। চলছে মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ। শিক্ষার্থীরা রাজপথে দাঁড়িয়ে নিজেই নিজের গালে চড় মেরে অভিনব এক প্রতিবাদ জানাচ্ছে।  
মতি স্যার এখন কেবলি পাথর। পাথর মানুষ। শুয়ে আছেতো আছে’ই, বসে আছেতো আছে’ই। বাইরে অঝর ধারায় বৃষ্টি। বৃষ্টির শব্দগুলো তার কাছে একটি ধ্বনি’ই উচ্চারিত হচ্ছে- ’খিচুরি’। ছেলেটাকে কি ভাবে গরুর গোস্ত দিয়ে খিচুরি খাওয়ানো যায় ... কিন্ত, তার ছেলে পাঁচ বছর বয়সের রতন ভুলে গেছে খিচুরি বিষয়টি। ওর মাথায় এখন একটি বিষয়’ই বার বার ঘুরপাক খাচ্ছে- কবে সে বড় হবে.. বাবার গালে যে চড় মেরেছে, তার গালেও একটা চড়  মারার...
মতি স্যারের বাড়িতে সহমর্মিতা জানাতে প্রতিদিন ছুটে আসছে শ’ শ’ শিক্ষার্থী। যারা শূণ্য পেয়েছিলো তারাও স্কুলে যাওয়ার পথে এবং ফেরার পথে দল বেঁধে তাকে দেখে শান্তনা দিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে জাতীয় সংসদ সদস্য মোখলেস ভ’ইয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ’ঘটনাটি সম্পূর্ন ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত। ঐদিন এ ধরনের কোনো ঘটনা’ই ঘটেনি। প্রতিপক্ষ রাজনৈতীক মহল আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বীত হয়ে ঘটনাটি সাজিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ পরিবেশন করেছে।’ এমপি সাহেবের এ বক্তব্যে দেশের মানুষ আরো প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠে।
মতি স্যারের সাবেক ছাত্র/ছাত্রীরা ফেইসবুকে সামনের শুক্রবারে ঐ স্কুল মাঠে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করার ষ্ট্যাটাস দিয়েছে। এতে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
স্কুলের মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ন হয়ে গেছে। মতি স্যারকে মঞ্চে চেয়ারে বসিয়ে শুরু হলো জ¦ালাময়ী বক্তৃতা। তিনদিনের মধ্যে এমপি মোখলেস সাহেবকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে, নতুবা সংসদ ভবন ঘেরাও করার কর্মসূচী ঘোষণা করেছে তারা। এছাড়া ছাত্ররা সবাই মিলে সাহসী মতি স্যারকে এক ভরি ওজনের একটি সোনার মেডেল উপহার দিয়েছে। এর’ই মাঝে এক ছাত্র বর্তমানে সাংাবাদিকতায় নিয়োজিত ও গীতিকার  মতি স্যারকে নিয়ে একটি গান লিখেছে। গানটি গাওয়ার জন্য বাদ্যযণ¿ও আনা হয়েছে । গানটি সে নিজেই গাইছে -                                                                  
লেখা পড়া করে যদি ঘোড়া চড়া যায়
তবে কেনো মতি স্যারের কোনো ঘোড়া নাই
লেখা পড়া করে যদি গাড়ি চড়া যায়
তবে কেনো মতি স্যারের কোনো গািড় নাই ।।
কাঠ ফাটা রোদ্রে ছেঁড়া ছাতা মাথায়
মতি স্যার পায়ে হেঁটে স্কুলে যায়
লেখা পড়া করে যদি ঘোড়া চড়া যায়
তবে কেনো মতি স্যারের কোনো ঘোড়া নাই
লেখাপড়া করে যদি গাড়ি চড়া যায়
তবে কেনো মতি স্যারের কোনো গাড়ি নাই।।
উত্তর পাড়ার ঐ মোখলেস
লেখা পড়ার নেই কোনো লেশ
তবুও তার আছে ঘোড়া বিএম ডব্লিউ গাড়ি
টাকা আছে কাড়ি কাড়ি
নাই নাই কোনো অভাব যে নাই।।
লেখা পড়া করে যদি ঘোড়া চড়া যায়
তবে কেনো মতি স্যারের কোনো ঘোড়া নাই
লেখা পড়া করে যদি গাড়ি চড়া যায়
তবে কেনো মতি স্যারের কোনো পাড়ি নাই
কাঠ ফাটা রোদ্রে ছেঁড়া ছাতা মাথায়
মতি স্যার পায়ে হেঁটে স্কুলে যায়..।।
পায়ে হেঁটে মতি স্যার হাজার ফুল ফোটায়-
এই সূর্যের সম্মান ফেরৎ চাই ফেরৎ চাই
মোখলেস গাড়ি হেঁকে হুল ফোটায়-
এই বেয়াদপের বিচার চাই বিচার চাই... ।।

বিচারের ধ্বনিতে কম্পমান বাংলাদেশ। বহু টিভি চ্যানেল এই অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করেছে।  
এতো কিছুর পরও মোখলেস সাহেব গাড়ি হাঁকিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। মাননীয় শিক্ষামণ¿ী একটি তদন্ত কমিটি করে দিয়ে কি সুন্দর বগল বাজাচ্ছেন। আর যে আমলা কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে, তিনি কেমন প্রতিবেন তৈরী করবেন- তা বোঝার কারো বাকী নেই । বিচারের বাণী নিভৃতে আর কতকাল কাঁদবে..?
  মতি স্যারের হাতে এখন এক ভরি স্বর্ন। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা। বৃষ্টির জন্য প্রতিদিন অপেক্ষা করছেন তিনি। কিন্তুু বৃষ্টির খবর নেই। এখন কাঠ ফাটা রোদ্র । ছেলেটি বৃষ্টির মাঝে খিচুরি খেতে চেয়েছিলো... খিচুরি আয়োজন করার মতো পর্যাপ্ত টাকা আছে- বৃষ্টি নেই। তিনি মনে মনে চিন্তা করলেন- কৃত্রিম বৃষ্টি তৈরী করবেন।
একদিন সোনার মেডেলটি দূরের এক বাজারে বিক্রি করে দিলেন। গরুর গোস্ত চাল ডাল কিনলেন। তার সহধর্মিনীর জন্য হুবহু আরেকটি কানের দোল বানালেন । দুইটা টিনও কিনলেন। আর কিনলেন কিছু পলিথিন।
খিচুরি রান্নার আয়োজন শুরু হলো। মতি স্যারের দুই মেয়ে মেয়ের জামাই ও নাতী/নাতনীরা বেড়াতে এলো। কিন্তু রাবেয়া বেগমের আপত্তি- রতন বৃিষ্ট ছাড়া খিচুরি খাইতো না। মতি স্যার বললেন, তোমার রান্ধা তুমি রান্ধো- একটু অপেক্ষা করো দেখবা কেমনে বৃষ্টি আনি...
মতি স্যার দশ/বারোটা পলিথিনে পানি ভরে চালে উঠলেন। চালের উপর বড়ই গাছের ডালে পানি ভর্তি পলিথিন গুলো বিভিন্ন জায়গায় বাঁধলেন। অদ্ভ’ত এক ছেলে মানুষী খেলা শুরু  করেছেন তিনি।
   বাড়িতে ভালো কিছু রান্না হলে রতন সবার আগে খেতে বসে। আজও তাই করলো। মতি স্যার পানি ভর্তি পলিথিন গুলোকে ফুটো করে দিলেন। রিম ঝিম শব্দে বৃষ্টি ঝরতে শুরু করলো... রতন মাটিতে শীতল পাটিতে বসে কি আনন্দ করে খিচুরি খাচ্ছে। মতি স্যার চালের এক ফুটোতে দেখছেন সে দৃশ্য... ঠিক তার বাবার মতো আসন পেতে বসে কত মজা করে রতন খিচুরি খাচ্ছে। আনন্দে মতি স্যারের দু’চোখে ঝরছে বৃষ্টি। কিন্তু মেকআপ করা বৃষ্টির তোড়ে তার চোখের জল ঠিক বুঝা যাচ্ছে না। চোখের জল কেউ না দেখাটাই ভালো । এটা মানুষের একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়।
 হঠাৎ পা পিচলে চাল থেকে পড়ে যায় মতি স্যার। ঘরের পেছনে বিকট এক শব্দে সবাই ছুটে গিয়ে দেখে, মতি স্যার নিঃশব্দে কাঁতরাচ্ছেন । মাথায় ও বুকে প্রচন্ড আঘাতের কারনে কথা বলতে পারছেন না।
   ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাকে। চিকিৎসকদের ভাষ্য- মাথায় প্রচন্ড আঘাতের কারনে মস্তিষ্কে প্রচুর রক্তক্ষরণ ঘটেছে। বাঁচার আশা ক্ষীণ। এতোক্ষন আইসিইউতে কড়াকড়ি থাকলেও এখন শিথিল করা হয়েছে । তার একমাত্র ছেলে রতনকে রোগী দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে । রতন মতি স্যারের মাথায় ও গালে হাত বুলাচ্ছে। সন্তানের ষ্পর্শে মতি স্যারের চেতনা কিছুটা ফিরেছে। কিন্তু তা চারদিকে তাক করা কোনো মেশিনে ধরা পড়েনি। তিনি তার ছেলের হাতের ছোঁয়ায় খিচুরির গন্ধ অনূভব করতে পেরেছেন। ছেলেটি হাত ধোয়ার সময় পায়নি। কাজেই ওর হাতে খিচুরির গন্ধটা এখনো লেগে আছে। রতন বার বার  তার পিতার ডান পাশের গালে আলতো করে আঙ্গুল ছোঁয়াচ্ছে আর মৃদু সুরে ডাকছে- বাজান বাজান ও বাজান...মতি স্যার তার মায়াভরা ডাক স্পষ্ট শুনতে পারছেন এবং দেখতেও পারছেন তাকে। কিন্তু উত্তর দিতে পারছেন না। অনেক চেষ্টা করছেন কিছু বলার- পারছেন না। বুকে মনে হচ্ছে, বিশাল এক পাথর চাপা দিয়ে রয়েছে। পাথরটা কেউ সরিয়ে দিলেই তিনি কথা বলতে পারতেন। মতি স্যারের বলতে ব্যাকুল ইচ্ছে হচ্ছে- ’ বাবা রতন খুব মন দিয়ে শোনো, আমার গালে যে চড় মেরেছে সে নির্বোধ, বোকা। দেখো, তার এই বোকামীর প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে বাংলাদেশ। এখনো নির্বোধটা আমার কাছে ক্ষমা চায়নি। যাক, আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। বাবা রতন, তুমি মনে মনে যে প্রতিশোধ নেওয়ার পণ করেছো - তা ভুলে যেও।  
ছেলেটির মায়াভরা ছল ছল চোখে তিনি আর তাকাতে পারছেন না। চোখের কর্ণিয়া একটু অন্য দিকে ঘুরালেন। চোখে পড়লো- ডেক্ট্রোজ স্যালাইনের দিকে। উনার কেবলি মনে হচ্ছে- কৃত্রিম বৃষ্টি বর্ষণ হচ্ছে সরাসরি তার দেহে। তিনি কয়েক ঘন্টা আগে ছেলের বৃষ্টিতে খিচুরি খাওয়ার বায়না মেটাতে পলিথিন দিয়ে এমন বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছিলেন তার ভাঙ্গা চালার ঘরে। ছেলের মতো তারও বায়না ধরতে ইচ্ছে হচ্ছে- ডিম ভাজি দিয়ে খিচুরি খেতে। সাথে থাকবে শুকনা মরিচ ভাজি। সবই আনা হয়েছে। শুকনা মরিচ ভাজির সুন্দর ঘ্রাণ নাকে ভেসে আসছে। কিন্তু তিনি আর এখন কিছুই দেখতে পারছেন না- শুকনা মরিচের ঘ্রাণও পাচ্ছেন না। চারদিক ঢেকে গেছে অন্ধকারে, এক ভয়াবহ অন্ধকার...                         
                                                 ###
রুহুল আমীন রাজু
কটিয়াদী , কিশোরগঞ্জ ।


‘গণপরিবহন’ যখন ‘গণভোগান্তি পরিবহন’

রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৭

লীনা পারভীন : হাজারো সমস্যাবহুল একটি দেশের সমস্যাবহুল একটি শহরের নাম ঢাকা যেখানে বর্তমানে বাস করে প্রায় ২ কোটি লোক। বিশাল জনসংখ্যা বহুল একটি শহর চলছে অপরিকল্পিত নিয়মে। অন্তহীন সমস্যার তালিকায় একটি বড় সমস্যা হচ্ছে পরিবহন সমস্যা যেখানে এখনো পর্যন্ত পরিকল্পনামাফিক নেয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ।

যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নাই সেরকম মানুষের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে বাস বা টেম্পো; যার বেশিরভাগই আনফিট বা পরিবেশ অনুপযোগী। পাশাপাশি রয়েছে নানারকম অব্যবস্থাপনা যা পরিবহন খাতের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে করে তুলেছে বেপরোয়া। পরিবহনের মালিকদের কাছে যেন আমরা সবাই জিম্মি। এসব দেখার মতো কেউ আছে বলেও মনে হয় না। ২ কোটি মানুষের বাস যে শহরে সে শহরে নেই পর্যাপ্ত গাড়ি। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তাই যেন নিত্যসঙ্গী। যাত্রীর তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কম হওয়াতে গাড়িগুলো বাধ্য হয় ধারণ ক্ষমতার বাইরে লোক উঠাতে হয় যেখানে ঠাসাঠাসিতে পা ফেলাতো দূরের কথা শ্বাস নেয়াও কষ্টদায়ক হয়ে পড়ে। প্রতিদিনের এই লড়াই যেন রাজধানীবাসীর ভবিতব্য হিসাবেই লেখা হয়ে গেছে। তাও যদি সবাই ঠিকঠাক মতো যেতে পারত একটা কথা ছিল। প্রতিটি জায়গায় জায়গায় লম্বা লাইনে মানুষ চাতকের মতো অপেক্ষায় থাকে বাসের জন্য। একটা বাসের দেখা পেলে এমনভাবে দৌড়ায় যেন প্রচণ্ড খরায় এক পশলা বৃষ্টি পাওয়ার মতো অবস্থা। লাখ লাখ লোক রাস্তায় কাটায় জীবনের এক কঠিনতম সময়। এই যে উদ্বিগ্ন অবস্থা এই যে উৎকণ্ঠার জীবন এর বিনিময়ে তারা কী পায়? বাসগুলো যেখানে সেখানে থামছে, নেই কোনো নির্দিষ্ট পয়েন্ট। তাই যাত্রী উঠানোরও নেই কোন নিয়ম-কানুন। যেখানে যাত্রী পাচ্ছে সেখানেই উঠচ্ছে বা নামাচ্ছে। দেখার কেউ নেই।
আর যাত্রীদের মাঝে নারীদের অবস্থা ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়। বহুল প্রতীক্ষিত একটা বাসের দেখা যাও মিলে নারীদের জন্য সেটা যেন আরেক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে আসে। তারা না পারে পুরুষের মতো দৌড়ে গিয়ে বাসে উঠতে না পারে ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করে নিজের জায়গাটুকু করে নিতে। ভাগ্যবান কেউ যদি উঠেও যায় তার কপালে নেমে আসে আরো ভয়াবহ পরিণাম। প্রথম কথা নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের আইন করলেও কোনো বাসেই থাকে না তার ব্যবস্থা। যেগুলোতে থাকে সেখানে বসে থাকে পুরুষ যাত্রীরা। কোনো নারী এর প্রতিবাদ করলে তার জন্য উপহার হিসেবে ফিরে আসে তির্যক কথার বাণ এমনকি মাঝে মাঝে তাদেরকে অশ্রাব্য গালিও শুনতে হয়। সেসব গালি হজম করা ছাড়া আর কোনো রাস্তা থাকে না। প্রতিদিন সকালে প্রায় ৩০/৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে যদিও বা বাসের দেখা পাওয়া যায় কপালে জুটে না কোনো সিট। নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন সম্পর্কিত সরকারের সদ্য পাস করা আইনের কথা বলতে গেলে অশ্রাব্য গালি শুনতে হয়। প্রতিবাদ করলে অপমান ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না বলে সবাই এখন মেনে নিয়েছেন। কেউ কী আছে মনিটর করার?

লীনা পারভীন


হাজারো নারী এখন বাইরে আসছেন। নানারকম কাজে তাদের ছুটতে হয় শহরের বিভিন্ন প্রান্তে। আর এই ছুটে চলার একমাত্র সুবিধাজনক পরিবহন হচ্ছে গণপরিবহন। কিন্তু সেটাও তাদের মিলছে কই? সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কেবল আইন করেই দায়িত্ব শেষ করেছে। তার মনিটর বা বাস্তবায়নের সঠিক ব্যবস্থা নেয়ার কোনো নামদিশা নাই। নারীদের প্রতি এই যে দৃষ্টিভঙ্গি তার পরিবর্তনে সরকারের ব্যবস্থা কী? আমাদের জানা নেই।
এই লেখাটি যখন লিখছিলাম তখনই জানতে পারলাম সিটিং সার্ভিস রাখা না রাখা নিয়ে যে নতুন ভোগান্তি যোগ হয়েছিল আপাতত তার সমাধান হয়েছে। কিন্তু তার আগে যা হয়রানি হওয়ার তা কোনো দিক থেকেই কম ছিল না। সিটিং সার্ভিস বন্ধের উসিলায় রাজধানীতে শুরু হয়েছিল এক অনির্ধারিত পরিবহন ধর্মঘট। বাসের সংখ্যা ছিল কম। একজন যাত্রী হিসেবে আমি বলতে পারি সিটিং সার্ভিস নামে থাকলেও বাস্তবে কয়টা গাড়ি সিটিং ব্যবস্থা ধরে রাখতে পারে সেটা একটা প্রশ্ন। অফিসের সময় সবারই তাড়া থাকে তাই অনেক সময় বাসওয়ালাদের ইচ্ছা না থাকলেও অধিক যাত্রী নিতে বাধ্য হয়। একই ভাড়ায় স্ট্যান্ডিং যাত্রী নিলেও অন্তত যাওয়ার ব্যবস্থা হয়। বাস্তবে সমস্যা সিটিং বা স্ট্যান্ডিং নয়। সমস্যা আমাদের ব্যবস্থাপনায়। কর্তৃপক্ষ কী কখনও কোন রুটে কত ভাড়া নেয়া হবে কোন হিসাবে নেয়া হবে তার কোনো চার্ট সরবরাহ বা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন? করেননি। আর এর সুযোগেই ভাড়া নিয়েও চলছে অরাজকতা। মালিকদের মাস্তানির কাছে যেন আমরা সবাই অসহায়!

অল্পসংখ্যক বাসের কারণে এখন বাসে সিটতো দূরের কথা, উঠাটাই ভাগ্যের ব্যাপার। শত শত নারী এই কাঠফাটা রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে বাসের অপেক্ষায়। নেই কোনো যাত্রী ছাউনি। মাথায় চলতে থাকে কখন গিয়ে পৌঁছাবে গন্তব্যে? অফিস যাত্রীদের জন্য এই মানসিক চাপ যেন মুগুরের আঘাতের মতো। টাইমলি পৌঁছাতে পারব তো অফিসে? দেরিতে পৌঁছালে বসকে কী উত্তর দেব? উনি তো আর বাস সংকটের কথা শুনবেন না … ইত্যাদি প্রশ্নের উত্তর ঠিক করতে করতে চলতে থাকে বাসের জন্য অপেক্ষা। এই যে মানসিক যন্ত্রণা এর উপশম কী আছে সরকারের কাছে?
সড়কমন্ত্রী দুইদিন পরপর রাস্তায় নামেন, পেছনে বিশাল দলবল নিয়ে তিনি পর্যবেক্ষণে যান আর কিছু সুন্দর সুন্দর বাণী দিয়ে থাকেন। তারপর কী? তিনি কী যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে চাইছেন না বাড়াতে? পরিকল্পিত পরিবহন ব্যবস্থার বদলে দুইদিন পরপর পরিবহন নেতাদের হুমকি-ধমকির কাছে তিনি কতটা ক্ষমতাবান? কয়দিন আগেই দেখলাম একজন ড্রাইভারের বিরুদ্ধে আদালতের নেয়া শাস্তিমূলক রায়ের প্রতিবাদে তারা আইনি লড়াইয়ের পরিবর্তে জিম্মি করল সাধারণ যাত্রীদের। এই যে যাত্রীদের মানসিক ও শারীরিক ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে এর সমাধান কী দিয়ে করবেন? আপনি কী নিজে নিজের উপর আস্থাবান যে আমাদের একটি সুশৃঙ্খল পরিবহন সেক্টর উপহার দিতে পারবেন? জানি না। কখনো কী শুনার চেষ্টা করেছেন ঢাকা শহরের যাত্রীদের প্রকৃত সমস্যাটা কী? নারী যাত্রীদের জন্য কেমন করে আপনি একটি সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারবেন? আপনার মন্ত্রণালয়কে বলেন একটি সার্ভের ব্যবস্থা করতে। আগে শুনুন নগরবাসী কী বলতে চায়? সমস্যার মূল খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। এলোপাথাড়ি হাতড়ালে কেবল ধিক্কারই পাবেন, প্রশংসা কপালে জুটবে না কখনো। দয়া করে এই ভোগান্তি থেকে রক্ষা করুন সাধারণ মানুষগুলোকে। আমরা কিছু চাই না আপনার কাছে, কেবল চাই সম্মানের সঙ্গে রাস্তায় চলতে। মানসিক যন্ত্রণা বিহীন হোক প্রতিটি যাত্রীর প্রতিটি যাত্রা।
লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা