Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

আমার দাদা -আব্দুল আজিজ

শনিবার, ২২ এপ্রিল ২০১৭

আমার দাদা খান না গরু
মিলছে নাতো সুত্র,-
যিনি গরুর দুগ্ধ খেয়ে
হয়েছেন গো-পুত্র।

শুধু গরুর দুগ্ধই নয়
ক্ষীর-মাখনও খান,-
দই, ছানা, ঘি-এ ভাজা
বেশি-বেশি চান।

টনে-টনে মূত্র পানেও
হন না দাদা তুষ্ট,-
নিত্য দাদার দেহ করেন
এসব খেয়েই পুষ্ট।

এসব খেয়েও খান না গরু
দাদা বলতে চান,-
আর সবারে খেতে শুনলে
তাতেই ক্ষ্যাপে যান।
আমার দাদা খান না গরু
কেমন মিথ্যাচার!-
গরু দাদার মায়ের মত
মা-ই করবেন পার।

আসল মা যেন নয়রে আসল
গরুই আসল মা,-
তাইত গরুর অপমানে
জ¦লে দাদার গা।

নিজকে রাখেন সারাক্ষণই
গো-দুগ্ধে শুদ্ধ,-
একটি গরুর হত্যা হলে
তাতেই বাঁধান যুদ্ধ।

গরু মায়ের পূঁজা করেন
পেতে দিব্যশক্তি,-
মার চামড়ার জুতা পরলে
হয় কি মাতৃভক্তি?
ও দাদা! হয় কি মাতৃভক্তি???
নিউ ইয়র্ক


জঙ্গিদের বাঙলা আগ্রাসন - আবু জাফর মাহমুদ

বুধবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৭

বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রনে নেয়ার পর পশ্চিম বাংলা নিয়ন্ত্রণ করতে বিজেপি সরকার শক্তি প্রয়োগে উদ্যোগী হবার কার্যক্রম তীব্র হয়েছে। পশ্চিমবাঙলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা কেটে আনলে ১১ লাখ  রুপির পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের বিজেপি যুবনেতা যোগেশ ভারশনে।হিন্দুমন্দিরের জঙ্গি পুরোহিত যোগী আদিত্যকে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী করার মধ্য দিয়েই যুব হিন্দুজঙ্গিদের প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী মহড়া রফতানি হলো পশ্চিমবঙ্গে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপির কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শাহ সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের পশ্চিমবঙ্গ সফরের ঘোষণা দিয়েই ওখানে বাঙালি খৃষ্টান-বৌদ্ধ- মুসলমান-হিন্দুদের ভেতর চালু করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের  চাপ। ইতিমধ্যে হয়েছে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে খোলা তলোয়ার হাতে বিজেপিপন্থীদের জঙ্গিমিছিল।বাঙালি সমাজ কাঠামোর ঐতিহ্যগত ভিত্তির নৈতিক মূল্যবোধ এবং নৃতাত্ত্বিক কাঠামোর মেরুদন্ডে আঘাত করতে নেমেছে ওরা।
এতে  যে চিত্রটি ফুটে উঠছে,তাতে সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বর্তমানের রাজ্যমুখ্যমন্ত্রীকে জোরপূর্বক দমনের জঙ্গিপনা এবং বাঙালি রাজ্যে অস্থিরতার উত্তাপ লাফিয়ে উঠেছে।একদিকে ভারতের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির চিত্র যেমন বের হচ্ছে।তেমনি সমগ্র অঞ্চল জুড়ে সন্ত্রাস এবং দাঙ্গা ছড়িয়ে শেষমেশ সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্র তৈরীর আলামত দেখা দিয়েছে।অর্থাৎ একটা যুদ্ধের পরিস্থিতি করে গণহত্যা উস্কে দিয়ে বাঙালি জাতির মধ্যে স্থায়ী রক্তক্ষয়  চালু রাখার চেষ্টা দেখা দিয়েছে।
এই প্রেক্ষাপট নিয়ে চিন্তা চেতনায়  লুটেরা বিশেষ গোষ্ঠীর শাসক থাকা ও অবারিত লুন্ঠনের আন্তর্জাতিক মারপ্যাঁচ চলছে বলে বিশ্লেষক দের অভিমত।মনে রাখা দরকার, এই লুটেরা বিশেষ গোষ্ঠীর শাসক ও আন্তর্জাতিক লুটেরা আন্তর্জাতিক শক্তি বলতে কেবল কোন দেশের রাজনৈতিক দলকে বা ক্ষমতাসীন দলকে বুঝায়না।এই শক্তির বলয়ে থাকে অনেক ধরণের ক্ষমতাবান ফ্যাক্টর।
একটা উদাহরণ দেই।বাংলাদেশে সরকারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব করছেন শেখা হাসিনা।তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং দাপুটে রাজনীতিক।তাকেই  ক্ষমতায় আনার পরিবেশের জন্যে তৎকালীনপ্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে তাকেও ঢাকায় আটক করা হয়েছিলো।তিনি জানতেন শেষ পর্যন্ত তাকেই করা হবে প্রধানমন্ত্রী।সামরিক কর্মকর্তাদেরকে ব্যবহার করে তখন মাইনাস ওয়ান করতে গিয়ে দেখানো হয়েছিলো মাইনাস টু’র হাবভাব।


যে সব বিদেশী শক্তি তা করিয়েছিলো তারা আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামাত কিছুই পছন্দ বা অপছন্দ করেনা। তাদের টার্গেট হচ্ছে ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় তাদের যথার্থ দালালকে নিরাপদে ক্ষমতাবান করা। এতোদিন যাকে দিয়ে সম্ভব যতটুকু করার তা হয়ে গেছে অথবা তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে।
মাইনাস ওয়ান করা সম্পন্ন একদিনে বা একটা ঘটনায় হয়না।ধারাবাহিক পর্যায়ক্রমিক অনেক কৌশল বাস্তবায়ন করেই আন্তর্জাতিক শক্তি নিজের লক্ষ্য হাসিল করে।দীর্ঘ নৃশংস নাটকিয়তার ধারায় দেখা গেলো আওয়ামীলীগ বা বিএনপি, জামাতে ইসলামী এবং জাসদ সহ কোন দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস ঘাতক বানানো যায়না।তাই,দরকার হচ্ছে,প্রভাবশালী দেরকে বাগে আনার জন্যে “হয়তো বাধ্য হও,না হয় বিক্রয় হও”-নীতি কার্যকরে যাওয়া।দুটোর কোনটাতে কাজ না হলে হত্যা মেনে নাও।
 মুজিব হত্যা,জিয়া হত্যা আমরা দেখেছি।জেলখানায় নেতা হত্যা,সেনানিবাসে বীরমুক্তিযোদ্ধা সেনাঅফিসার হত্যা আমরা দেখেছি।পিলখানা সেনা অফিসারদেরকে হত্যা করে অতঃপর বি.ডি.আর নাম মুছে দেবার ব্যবস্থা আমরা দেখেছি।তার আগে এরশাদের দীর্ঘকাল ক্ষমতা   
চালনা দেখে আসছি।হাসিনার প্রধানমন্ত্রীত্ব দেখে আসছি,দেখছি।  খালেদা জিয়া সরকার-বিরোধী সমর্থনের কেন্দ্র হয়েও কোন রাজনীতি ছাড়াই রাজনৈতিক দলের অফিস করে চলছেন,তাও দেখছি।মঈন ইউ আহমেদ চাকরি থেকে বের হয়েও সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বের সাথে আছেন,দেখছি।
ভারতেরও একই চেহারা।নেহেরু-ইন্দিরার বংশের মাইনাস হয়েছে ওখানে।রাজনৈতিক শক্তির পরিবর্তে জঙ্গিশক্তিকে বাছাই করতে হয়েছে ভারতের সরকার পরিচালনায়।রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়েই প্রধানমন্ত্রিত্ব চলছে ভারতে।এই সরকার সর্বনাশ করছে ভারতীয় কাঠামোর।  এই জঙ্গিরা প্রভূর লক্ষ্য পূরণে সফল হলে একধরণের ফলাফল হবে, নতুবা ভারতে আসবে অন্য ফলাফল।শেষের অবস্থা আমরা কখনো চাইনে। তাতে সবদিকের আক্রমণে আম ছালা দুটোই যাবে ভারতের,আমি নিশ্চিত।       
এদিকে ঢাকায় চারু কলা কলেজে পহেলা বৈশাখে ভারতীয় হিন্দুজঙ্গি  সমর্থকরা খাবার তেহারির সাথে গরুর মাংস দেয়ার প্রতিবাদে ক্যন্টিন ম্যানেজারকে মারধর এবং ক্যন্টিনে ভাংচুর করেছে।কেন্টিন ম্যানেজার জাকির হোসেনের দাবি গরুর মাংস রান্না অথবা পরিবেশন করা যাবেনা এমন তথ্য তার জানা নেই।আর মঙ্গল শোভাযাত্রা উদযাপনের সমন্বয়ক সাগর হোসেন সোহাগ এই ম্যানেজারকে বিতাড়নের দাবি করেছেন।উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।বাঙালির কে কোথায় বৈশাখী শুভেচ্ছার রঙিন ফুলের ছবি আঁকলেন আর আঁকলেননা সে দিকে আবেগের গাড়ি থামিয়ে লুটেরারা বিশ্রাম নেয়না,তারা এই মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগায় মানুষের আবেগে সারপ্রাইজ দিয়ে।
 পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ মিলে এই বিশাল অঞ্চল ঘিরে অশান্তি ও দারিদ্রতার লক্ষ্যে আদিম রাজনীতি করছেন লুটেরা শোষক শাসকরা।
ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী  এবং কয়লামন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন  ১৯৯৭সনে ইন্ডিয়ান ন্যাশানাল কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে।তিনি এই দলের চেয়ারম্যান।তার আগে তিনি মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়,যুব ক্রীড়া,মহিলা ওশিশু উন্নয়ন মন্ত্রোণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সুনামের অধিকারি হয়েছিলেন.২০১১সাল থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে ৩৪বছরের শাসক কম্যুনিষ্ট পার্টিকে ভোটে  বিপুল ব্যবধানে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন।গরীব কৃষকদের জমি সরকারি আদেশে বিশেষ শিল্পায়নের নামে দখলের অপরাধের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন করে সাধারণ মানুষের গার্ডিয়ান হন।কম্যুনিষ্টদের বিভ্রান্তি এবং লুটেরাদের অরাজকতার প্রতিরোধ করেই তিনি প্রশংসিত ভারতীয় রাজনীতিক।
বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন তাকে ২০১২সালে বিশ্বের সেরা ১০০জন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের মধ্যে ৫০নং তালিকায় মুল্যায়ণ করেছিলো।২০১৩সালে তাকে “ভারতের সবচেয়ে দূর্ণীতিমুক্ত রাজনীতিবিদ”রূপে চিহ্নিত করে ভারতের প্রধান দূর্নীতি-বিরোধী কোয়ালিশন সংস্থা “ইন্ডিয়া এগেনষ্ট করাপসান”।


বাড়ির পাশে বৈশাখী মেলা ও প্রবাসী বাবার চোখে জল

শনিবার, ১৫ এপ্রিল ২০১৭

ফারুক আহমেদ : জেদ্দা, সৌদি আরব থেকে : বাংলা নববর্ষের আনন্দ সবার মনে একটু হলেও নাড়া দেয়।   শহর বন্দর গ্রামের ছড়িয়ে পরে উৎসবের আমেজ। তবে গ্রাম আর শহরের বর্ষবরণে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। গ্রামের মানুষ সেই কাক ডাকা ভোরে উঠে গরু ছাগল নিয়ে মাঠে চলে যায়। তারপর নতুন বছরে ভাল করে গোসল করায়। গোয়াল ঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ধোঁয়া দেয়।

গ্রামের ছোট ছোট শিশু কিশোররা ভোরে বেরিয়ে পড়ে নানান জাতের শাক সংগ্রহ করতে। পুকুর পাড়ে, ঝিলের ধারে যত ধরনের শাক পাওয়া যায় তা তুলে আনে  গ্রামের ভাষায় যাকে বলে 'বারো জাতের শাক। '  গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে চলে সাধ্যমতো ভালো রান্না বান্না। দুপুরে গোসল সেরে সবাই এক সাথে খেতে বসে।

শহরের মতো গ্রামে নতুন বৈশাখী কাপড় কেনার তেমন তেমন আগ্রহ না থাকলেও গ্রামীণ পল্লী মেলার আকর্ষণ অনেক বেশি। বিকালে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা বাবার হাত ধরে মেলায় ছুটে চলে নেচে নেচে। এমন সুন্দর দৃশ্য যেন গ্রামের চিত্রকে আরো আকর্ষণীয় করে পহেলা বৈশাখে।

Picture

দীপ্তের বয়স যখন সাত মাস তখন ওকে নিয়ে পহেলা বৈশাখের মেলায় গিয়ে ছিলাম। বাড়ির পাশে পুলেরঘাট বাজারে মেলা। নিজের সন্তানকে কোলে করে মেলায় যাওয়ার সেই আনন্দ অনুভূতির কথা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।   মনে হয়েছে পৃথিবীর সকল আনন্দ যেন ঘিরে ছিল আমায় ।

ছোট্র দীপ্ত সেই দিন কোনও কিছু স্পষ্ট করে বলতে বা চাইতে পারত না। অনেক সময় আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিত এটা সেটা। আর বাবা হিসেবে তাকে কিনে দিয়ে কি আনন্দটাই না পেয়েছিলাম সেই দিন। দীপ্তের মুখে হাসি দেখে বুঝেছিলাম ও অনেক খুশী।   আজ দীপ্তের বয়স প্রায়  তিন  বছর হতে চলেছে। এখন সব কিছু বলতে পারে, চাইতে পারে। আগামীকাল কাল নববর্ষ। পহেলা বৈশাখে কি চায় জানতে চেয়েছিলাম!

দীপ্ত বলল, বাবা আমাকে নিয়ে মেলায় যাও। তুমি তাড়াতাড়ি আসো। আমি তোমার হাত ধরে, কোলে উঠে মেলায় যাব। আমাকে অনেক খেলনা কিনে দিবে। আরো কত বায়না।   আমি শুধু শুনছিলাম। কোনও কথা মুখ থেকে বের হচ্ছিল না আমার। তাকে কি বলে সান্তনা দেব! আবারো মিথ্যে বলতে হবে তাকে। প্রবাসীদের এমন জীবন যেখানে সন্তানের আনন্দকে মাটি করে দেয়। সন্তানের ডাকে কাছে আসার সুন্দর স্বপ্ন  বা গল্প অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। চোখের জলে হাসি মেখে বলতে হয়, আসব বাবা।


যুক্তরাষ্ট্রে বিমানভ্রমণ আর অসভ্যতা

বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল ২০১৭

ডঃ শোয়েব সাঈদ, মন্ট্রিয়ল থেকে: শিকাগোর ও-হের এয়ারপোর্টটি ইউনাইটেড এয়ালাইন্সের হাব হিসেবেই পরিচিত। গত রোববার শিকাগোর এই এয়ারপোর্টটি থেকে কেনটাকির  লুইসভিলগামী ইউনাইটেড এয়ালাইন্সের একটি ফ্লাইট এখন বিশ্বময় আলোচিত। ঘটনার জের হিসেবে স্টার এলায়েন্সের সদস্য  যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম এয়ারলাইন্স ইউনাইটেড এয়ালাইন্সের আচার-আচরণ ভীষণভাবে সমালোচিত।  ডঃ ডেভিড ডাওকে বিমান থেকে জোর করে পিটুনি দিয়ে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি হচ্ছে অহরহ ঘটে যাওয়া আর  নিয়মিতই চেপে যাওয়া অসংখ্য ঘটনার কেবল একটির রক্তাক্ত প্রকাশ মাত্র। ঘটনার প্রথম দিকে ইউনাইটেডের সিইও অস্কার মুনজের বিবৃতিটি ছিল দায় এড়ানো আর দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া, দ্রুত শেয়ার পড়ে যাওয়া,  রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে নিন্দাসূচক বিবৃতিতে ইউনাইটেড ভোল পাল্টায়, দায়দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে বিবৃতি দেয়।

বিশ্বের সেরা এয়ারলাইন্সের তালিকায় আমেরিকার বড় দুটো বিমান সংস্থা ইউনাইটেড আর আমেরিকান এয়ারলাইন্সের অবস্থান যথাক্রমে ৬৮তম এবং ৭৭তম। সেরা ৫টি এয়ারলাইন্সসহ অধিকাংশ প্রথম সারির এয়ারলাইন্স মূলত এশিয়া থেকে। দশম অবস্থানে আছে জার্মানির লুফথান্সা। উল্লেখ্য করা যেতে পারে গ্লোবাল রেঙ্কিং এ নর্থ আমেরিকার এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে  ভাল অবস্থানে (৩১তম) আছে এয়ার কানাডা। যাত্রী সেবায় আমেরিকার বিমান সংস্থাগুলোর মান বরাবরই নীচু। নিউইয়র্ক থেকে  লসএঞ্জেলেসে প্রায় ৬ ঘণ্টার ফ্লাইটে  বিনামুল্যে পানি ছাড়া কিছুই পাবেন না অথচ বছর বছর শীর্ষ নির্বাহীদের বেতন ভাতা, বোনাস বেড়েই চলেছে।  কেবিন ক্রুদের এরোগেন্সি অনেক ক্ষেত্রেই মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।

মিলিয়ন্স মাইল বিমান ভ্রমণের সুবাদে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান সবগুলো এয়ারলাইন্সে আর প্রায় শতাধিক বিমানবন্দর ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় দেখেছি নিরাপত্তার নামে কেমন করে নিরীহ যাত্রীরা এমন কি শিশুরাও হেনস্থার শিকার হয়।  বিমানের ভেতরে এবং বাইরে অনেক সময়ই  ফ্লাইট এটেনডেন্টদের  আচরণ  ভীষণ  রকম আপত্তিকর। এই প্রসঙ্গে  আমার একটি ঘটনা  উল্লেখ করতে চাই।

Picture

টোকিও থেকে আমেরিকান এয়ারলাইন্সে ২০১০ সালের  এপ্রিলে সপরিবারে যাচ্ছিলাম টেক্সাসের ডালাসে। আমার ১০ বছরের মেয়েটির সিটের এয়ার ফোনটি কাজ করছিলনা। বেশ বয়স্ক একজন বিমানবালাকে বিষয়টি জানালে উনার উত্তর ছিল “আই এম নট এ মেকানিক’’। উনার উত্তরে আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলে সার্ভিস পরিচালক এসে বিষয়টি সুরাহা করেন। একটি ছোট বাচ্চাকে “আই এম নট এ মেকানিক” বলা রীতিমত অনৈতিক আর  অপেশাদার। এশিয়ান এয়ারলাইন্সগুলোতে ডাইনামিক ফ্লাইট এটেনডেন্টদের বিপরীতে আমেরিকান এয়ারলাইন্সগুলোতে মেজাজী ফ্লাইট এটেনডেন্টদের প্রাধান্যই বেশি। অনেক ক্ষেত্রেই মেজাজ পাওয়ার হ্যারাসমেন্টের জন্ম দেয়।

মুসলিম নামের কারণে হেনস্থা হবার বিষয়টি এখন মোটামুটি নিয়মিত হয়ে মুসলিম নামধারী যাত্রীদের গা সওয়া  হয়ে গেছে।  আমেরিকার এয়ারলাইন্সগুলোর  যাত্রী হেনস্তার বিষয়টির ব্যাপ্তি অবশ্য অনেক ব্যাপক, অনেক ক্ষেত্রেই  মোটা মাথা, মোটা বুদ্ধি আর  ষ্টুপিডিটি মূল কারণ। আইভী  লীগের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় পেনসেলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির  এক অধ্যাপক আমেরিকান এয়ালাইন্সের বিমানে নিজ সিটে বসে অংক কষছিলেন। পাশের সিটের ভদ্রমহিলা অংক করার বিষয়টিকে সন্দেহ করলেন  সিকিউরিটি কন্সার্ন হিসেবে এবং নিজের অভিব্যক্তিটি প্রকাশ করলেন  ফ্লাইট এটেনডেন্টের কাছে। ফ্লাইট এটেনডেন্ট পাইলটকে জানালে পাইলট উড্ডয়নে অস্বীকার করেন এবং সিকিউরিটি কল করেন। অতপর নিরাপত্তা বাহিনী  অধ্যাপককে প্লেন থেকে নামিয়ে দীর্ঘক্ষণ জেরা করেন। পরে অধ্যাপক মহোদয়কে নিয়ে বিমানটি বেশ কয়েক ঘণ্টা বিলম্বে উড্ডয়ন করলেও অভিযোগকারী ভদ্রমহিলা বিমানে উঠতে আর সাহস পাননি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে  ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় বারক্লে থেকে স্নাতক খাইরুলদিন মাখজুমি গত বছরের অক্টোবরে সাউথ ওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইটে বসে চাচার সাথে ফোনে কথা বলছিলেন। আগের রাতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সাথে কথা বলার অভিজ্ঞতা চাচার সাথে শেয়ার শেষে “ইনশাল্লাহ” বলে কথা শেষ করেন।  ইনশাল্লাহ শব্দটি শোনামাত্র এক ভদ্রমহিলা ফ্লাইট এটেনডেন্টকে  নিরাপত্তা বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানান।  ব্যস, লস এঞ্জেলেস বিমান বন্দরে প্লেন রানওয়েতে  যাবার  বদলে বোর্ডিং গেটে ফিরে  আসে  এবং  নিরাপত্তা কর্মীরা খাইরুলদিনকে প্লেন থেকে নামিয়ে নিয়ে যায়।

দুই বোন ডেবি  হার্টমেন  এবং  তৃষা বেকার অসুস্থ বাবাকে শেষ দেখা দেখবার জন্যে ফ্লোরিডার সানফোর্ড থেকে নর্থ ক্যারোলিনার এশভিল যাচ্ছিলেন। পরিবারের এই সঙ্কট মুহূর্তে এক বোন সিট ছেড়ে গিয়ে আরেক বোনের পাশে বসলেন। এই নিয়ে ফ্লাইট এটেনডেন্টের সাথে বচসা এবং পরিণতিতে তাঁদের প্লেন থেকে নেমে যেতে হয়। বাবার মৃত্যুশয্যার আকুতি কোনো কিছুই ফ্লাইট এটেনডেন্টদের টলাতে পারেন নি।

ফয়সাল আর নাজিয়া আলি ডেল্টা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ওহাইও থেকে প্যারিস যাচ্ছিলেন দশম বিবাহ বার্ষিকী  উদযাপন করার জন্যে। প্লেনে নাজিয়া আলির মুখ থেকে “আল্লাহ্” শব্দটি শোনার পরপরই  বিমানবালা ছুটে যান পাইলটের কাছে তাঁর অস্বস্তির কথা জানাতে। পাইলট প্লেন ফিরিয়ে নিলেন গেটে, নামিয়ে দিলেন মুসলিম দম্পতিকে।

৩৮৫ পাউন্ড ওজনের এরল নারভেজ  ইউনাইটেডের ফ্লাইটে লাসভেগাস থেকে নিউজার্সি যাচ্ছিলেন। পাশের মহিলা এই মোটা  মানুষটির পাশে বসতে অস্বীকার করলেন। পাশের ভদ্র মহিলার অন্য খালি সিটে বসার সুযোগ ছিল। কিন্তু মাথা মোটা ফ্লাইট এটেনডেন্ট সমস্যাটির সমাধান করল সিকিউরিটি  ডেকে এনে এরলকে প্লেন থেকে নামিয়ে দিয়ে। এরল অনেক বিলম্বে অন্য ফ্লাইটে গন্তব্যে পৌঁছায়।

ইউনাইটেডের কেচ্ছা কাহিনীর শেষ নেই। এইতো মার্চের ২৭ তারিখ  ডেনভার থেকে মিনিয়াপলিশের ফ্লাইটে তিন টিনএজ মেয়েকে লেগিংস (টাইট  পাজামা ধরণের) পড়ার কারণে প্লেনে উঠতে দেওয়া হয়নি।  একজনকে  ড্রেস পরিবর্তন সাপেক্ষে উঠতে দেওয়া হয়। অন্য দুজনকে অন্য এয়ারলাইন্সে ব্যবস্থা করা হয়। এই বিষয়টি নিয়ে মিডিয়াতে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়তে হয় ইউনাইটেডকে।

ডঃ ডেভিড ডাওকে হেনস্থা করার সাম্প্রতিক ঘটনাটি বেশ আলোড়ন তুলেছে।  বিশ্বব্যাপী  প্রতিক্রিয়ায় বেশ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে ইউনাইটেডের। কিছুদিন আগে ৮টি মুসলিম দেশের  এয়ারলাইন্সে ল্যাপটপ বহন করার যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্ক চলছে। অনেকে ভাবছেন এটি যত না নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট তারচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক। দুর্বল ব্যবস্থাপনা, যাত্রী সেবায় অদক্ষতায় নিমজ্জিত যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সগুলোকে সুবিধে দেবার জন্যেই এই আয়োজন। ইউনাইটেডের ঘটনার পর এমেরিটারসসহ শীর্ষ  এয়ারলাইন্সগুলো  এই ঘটনা থেকে বাণিজ্যিক সুবিধে নেবার চেষ্টা করবে বৈকি।


পহেলা বৈশাখের কবিতা - জুলি রহমান

রবিবার, ০৯ এপ্রিল ২০১৭

জীবন রৌদ্রময়
জুলি রহমান

চৈত্রের চিতায় পুড়ে খাঁটি হও
স্ফটিক পাথরে চোখ রেখে
হীরকসন্ধানী-

লাঙলের ফলা বোনে স্বর্নবীজ
সোনার চেয়েও দামী আছে কিছু
সোদাঁগন্ধ মাটি-

মেঘলা সন্ধায় নেই শস্য- সম্ভাবনা
জীবনটাইএমন ঝাঁঝালো
রৌদ্রময়-

আকাশের নীল মেখে গায়
গোধূলি-মদির রামধনু রঙ ফেলে যায়
ময়ূরের পেখমে ছড়ায় দ্যোতনা
জীবনের প্রলাপ পরতে পরতে-

সকাল থেকে সন্ধা কাহিনী সকল
বাঁধে বুনট পাখির ঘর
পালিত সূ্র্যের আলোয় কুসুমস্তর-

টলোমলো হাওয়ার সবুজের ডানা
জীবনের সংগীত আনে সুখ -দুঃখ
ঘিরে স্রোতময় সময়ের ধারা


এ কী হাল স্বাস্থ্যের! উদ্বিগ্ন আমেরিকা

রবিবার, ০৯ এপ্রিল ২০১৭

বাপ্ নিউজ : সমৃদ্ধির জোয়ার চারপাশে। ঝাঁ চকচকে হাসপাতাল, আধুনিকতম পরিকাঠামো, দক্ষ ডাক্তার, গবেষণায় অন্যান্য দেশের থেকে বহু যোজন এগিয়ে। তবু স্বাস্থ্য নিয়ে আমেরিকার ‘সুখ নেইকো মনে’।

মার্কিন সরকারের ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রাম-এ ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে এই দেশে এসে দেখা যাচ্ছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক-গবেষক, নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, কলেজ পড়ুয়া, ব্যাঙ্ক কর্মী থেকে শুরু করে সান দিয়েগোর পার্কের বাইরে বসে থাকা গৃহহীন, একটা বড় অংশেরই হা-হুতাশ, মোটে ভাল নয় স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল। মাস কয়েক আগে কাইজার ফাউন্ডেশনের এক সমীক্ষাতেও ধরা পড়েছে স্বাস্থ্য নিয়ে ৪৫% মানুষের মনোভাব নেতিবাচক। মোটামুটি ইতিবাচক মনে করেন ৪৩%। বাকিরা মতামত দেননি।

এই মুহূর্তে ‘ওবামা কেয়ার’ তথা আমেরিকার ‘অ্যাফর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ নিয়ে সরগরম গোটা বিশ্ব। ৭ বছর আগে বারাক ওবামার চালু করা এই আইনকে নস্যাৎ করতে চেয়ে বারবার ধাক্কা খাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এই টানাপড়েনে রীতিমতো বিভ্রান্ত আমজনতা। তাঁদের একটা বড় অংশের মতে, স্বাস্থ্য পরিষেবা সকলের নাগালের মধ্যে থাকাটাই কাম্য। তাই তাঁরা চাইছেন, ‘ওবামা কেয়ার’ থাকুক। শুধু এর ত্রুটিগুলি শুধরে নেওয়া হোক। বিমা সংস্থাগুলির উপরে নিয়ন্ত্রণ বাড়াক প্রশাসন। তাঁদের বক্তব্য, উন্নয়নের জোয়ার বইছে আমেরিকার স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে। কিন্তু তার খরচ এত বেশি যে, সেই উন্নয়নের সুফল কাজে লাগাতে পারছেন না তাঁরা।

মেয়ো ক্লিনিক বা ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হসপিটালে বেশ ক’জন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঘৃণা করেন। ‘‘কারণ সাধারণ মানুষ এই উন্নত চিকিৎসার সুযোগ পান না। আমরা চিকিৎসক হিসেবে তখন অসহায় হয়ে পড়ি,’’ বলছেন এক শল্য চিকিৎসক।

Picture

হার্ভাড এবং এমআইটি-র এক সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছে, আমেরিকার প্রায় অর্ধেক মানুষ এই স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে বীতশ্রদ্ধ। মার্কিন নাগরিকরা এই সমীক্ষায় জানিয়েছেন, বিমা থাকা সত্ত্বেও সব সময়ে তাঁরা এই চিকিৎসার সুযোগ নিতে পারেন না। বিমা সংস্থা খরচ দেওয়ার পরেও যে অংশটা রোগীকে মেটাতে হয়, সেটা বিপুল। ব়ড়সড় অসুখ হলে তো দেউলিয়া হওয়ার জোগাড়!

সান দিয়েগোর এক অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এমা রবার্ট বললেন, ‘‘আমি যে বিমা করিয়েছি, তার প্রিমিয়াম যথেষ্ট বেশি। বিমা সংস্থা ৮০% দেয়। কিন্তু যে বাকি ২০% মেটাতে গিয়েই ফতুর হয়ে যাচ্ছি। আমাদের পোষা কুকুরের জন্যও চিকিৎসা বিমা করানো আছে। নয়তো বড় অসুখ হলে চিকিৎসাই করানো যাবে না খরচের ধাক্কায়।’’

এ দেশে সাধারণ ভাবে কর্মীদের বিমার ব্যবস্থা করেন নিয়োগকর্তারাই। কিন্তু রাস্তার ধারের ফাস্টফুড সেন্টার বা ছোট কল সেন্টারের মতো খুব ছোট সংস্থার কর্মীদের বিমা থাকে না বহু ক্ষেত্রে। এঁরা ‘আংশিক সময়ের কর্মী’, এই যুক্তি দিয়ে কর্তৃপক্ষ দায় এড়ান। এই বিপুল সংখ্যক কর্মী ও আরও বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষ যাঁরা গরিবদের জন্য তৈরি হওয়া ‘মেডিকেড’ প্রকল্পের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের সকলকেই বিমার আওতায় আনতে চেয়েছিলেন ওবামা। কিন্তু অধিকাের হস্তক্ষেপ ও বেশি প্রিমিয়ামের অভিযোগ তুলে অনেকে এই বিমা করাননি।

এঁদের অনেকের বক্তব্য, ‘ওবামা কেয়ার’ গরিবদের জন্য ভাল। কিন্তু গরিবদের ভর্তুকি দিতে হবে বলে বিমা সংস্থাগুলি যে ভাবে বাকিদের বিমার প্রিমিয়াম বাড়াচ্ছে, তাতে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠছে। গরিবদের সাহায্য করতে হলে সরকার করুক, নাগরিকরা কেন তার দায় নেবে সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

বস্তুত, গরিব নাগরিকদের জন্য যে ‘মেডিকেড’ প্রকল্প চালু আছে, এই মুহূর্তে তার আওতায় আছেন ৭ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মার্কিন। ওবামা চেয়েছিলেন, এই প্রকল্প আরও বিস্তৃত হোক। ট্রাম্প এসে তাতেও বাদ সাধছেন। ট্রাম্পের পরিকল্পনা— ‘মেডিকেড’ বদলে আমেরিকার প্রদেশগুলিকে আলাদা ভাবে কিছু অর্থ (ব্লক গ্রান্ট) দেওয়া হোক। তারা গরিবদের জন্য প্রয়োজন মতো তা খরচ করবে। আমেরিকার সাধারণ গরিব মানুষ এতে আতঙ্কিত। তাঁদের বক্তব্য, ‘মেডিকেড’ বাতিল হলে তাঁরা বিনা চিকিৎসায় মরবেন। যে ভাবে কাগজে-কলমে প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও তার সুযোগ পান না বহু গৃহহীন, যে ভাবে টাকা না থাকা গরিবদের এমার্জেন্সি চিকিৎসা করতে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও বহু হাসপাতাল তা মানে না, সেই ভাবেই এই ব্লক গ্রান্টও কাগজে-কলমেই থেকে যাবে। তার সুফল পাওয়া যাবে না।

এই কারণে শুধু ওবামার প্রতি বিদ্বেষ থেকে ‘ওবামা কেয়ার’ নস্যাৎ না করে, বরং তার ত্রুটিগুলো শুধরে সেটাকেই নতুন রূপ দেওয়া হোক, একটা বড় অংশের আমেরিকাবাসী এখন সেটাই চান। তাঁদের বক্তব্য, প্রযুক্তি-গবেষণায় এগিয়ে থাকা দেশ এ বার এ দিকটা নিয়েও ভাবুক!


নিউইয়র্ক টাইমসে তাহমিমা আনামের কলাম - যেভাবে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক সৃষ্টি করল বাংলাদেশ

বুধবার, ০৫ এপ্রিল ২০১৭

লাইনে আমি একমাত্র ব্যক্তি ছিলাম যাকে অধিক সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হত এবং আমার পেছনের মানুষরা অধৈর্য হয়ে ঘোরাফেরা করতেন। আমি যে দেশেই যেতাম আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র, ব্যাংকের তথ্য, কলেজের অনুলিপি পর্যন্ত নিয়ে যেতাম।

একবার আমার বার্সেলোনায় পারিবারিক সফরে যাওয়ার কথা ছিল। ভিসার জন্য রাতে আমি ঢাকার স্পেন দূতাবাসে যাই। আমি দূতাবাস থেকে বের হই সকালের সূর্য দেখে। আমার সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা, জর্ডান, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা। এরা সবাই আমার মত পাসপোর্ট জটিলতায় পড়েছিলেন।

যদিও আমার এই পাসপোর্টের মূল্য অসীম। কারণ এটি অনেক কষ্টে অর্জিত হয়েছিল। আমার দাদা ভারতীয় উপমহাদেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আমার বাবা-মা জন্মেছিলেন পূর্ব-পাকিস্তানে। ১৯৭১ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ স্বাধীনতা পায় নি এবং আমার শৈশবের আগেই সেই কঠিন দিনগুলো আমার দেশ পার করেছে। নিজের কাছে প্রশ্ন জাগে, আমারা পাকিস্তানের আওতাভূক্ত থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক ছিলাম আজ আমি স্বাধীন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে কতটা সৌভাগ্যবান। জন্মসূত্রে এই দেশে জন্মগ্রহণ করে আমি আমার অধিকার কতটা পেয়েছি।

Picture

ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে মন্ত্রীসভা ২০১৬ সালের নাগরিক আইনের খসড়া প্রণয়ন করে। এতে দ্বি-নাগরিকত্বের প্রস্তাবনা দেয়া হয়। বেশিরভাগ দেশই এখন স্থায়ী নাগরিক এবং দ্বি-নাগরিকত্ব অনুমোদন দিচ্ছে।

বাংলাদেশে আগে দ্বি-নাগরিকত্বের বিষয়ে কোন বিধি-নিষেধ ছিল না। নতুন আইনে এটি পাল্টে গেল। দ্বি-নাগরিকত্বধারীরা কোন রাজনীতিক সংগঠন এবং সরকারী কাজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। সবচাইতে খারাপ দিক টি হলো তাদের সন্তানদের জন্যও বিভিন্ন বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে। যদি এগুলো পালন না করা হয় তাহলে তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে।

এই আইনের সবচাইতে অশুভ দিকটি হল রাষ্ট্র চাইলে কিছু নির্দিষ্ট কারণে নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারবে। যেমন, যদি বাংলাদেশে সঙ্গে কোন দেশের যুদ্ধ লাগে এবং বাংলাদেশি দ্বি-নাগরিকত্বধারী কোন নাগরিক যদি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বা সংবিধানকে অমান্য করেন অথবা তার বাবা-মা যদি শত্রদের মিত্র হয়ে থাকেন তাহলে তার নাগরিকত্ব রাষ্ট্র বাতিল করতে পারবে।

এই দুইটি শর্তই অশুভ এবং অস্পষ্ট। এই আইনে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বা সংবিধানকে অমান্য বলতে কি বোঝানো হয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর হল, সরকার এই সমস্ত বিষয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে একশ্রেণীর কর্মকর্তাদের প্রস্তাব দিবেন ( আমরা জানি না তারা কারা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা না কি সেনাবাহিনীর লোক অথবা সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত কি না)। তবে এরা যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেটিই চুড়ান্ত বলে গণ্য হবে। কোন আদালত তাদের সিদ্ধান্তের বাহিরে যেতে পারবে না। এর মাধ্যমেই বোঝা যায়, প্রস্তাবিত এই আইনে কি ঘটতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে রাষ্ট্র তার পছন্দমত নাগরিক বাছাই করতে পারবে এবং রাষ্ট্রের বিবেচনা মোতাবেক ও শর্তানুযায়ী নাগরিকত্ব দেয়া হবে।

পরিশেষে এটিই দাঁড়ায় যে, এই আইন দ্বৈত নাগরিকত্বের আইন নয়। এটি রাষ্ট্রের ক্ষমতা একীভূতকরন ও কি কি বিষয় থাকলে যোগ্য নাগরিক হওয়া সম্ভব এবং নাগরিকত্ব বাতিলের আইন।

এটি একটি নির্মম পরিহাস। যারা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক এবং ভবিষ্যতে যারা নাগরিকত্ব দাবি করতে পারবেন বাংলাদেশ তাদের অধিকার সীমিত করতে চাইছে। কিন্তু এটি মৌলিকতার ওপর মিথ্যারোপ। আমাদের মত লক্ষ লক্ষ মানুষ অর্থনীতিক, সামাজিক এবং রাজনীতিক কারণে জন্মস্থান ছেড়ে আসেন। আমরা অন্য দেশের দরজায় কড়া নাড়ি। আমাদের ভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক হয় এবং আমরা সন্তান ধারণ করি। আমরা শান্তিরক্ষী, নির্মাতা, গৃহকর্মী এবং ড্রাইভার হিসেবে কাজ করি। আমরা শরণার্থী এবং অভিবাসী।

এটি আমার মত ১৫ লক্ষ বাংলাদেশি অভিবাসীর জন্য চিন্তার বিষয়। কারণ বাংলাদেশে তারা রেমিটেন্স পাঠায় এবং ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের হিসেব মতে এর পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির ৮ শতাংশ। তারা সরকারের কাছ থেকে জন্মগত অধিকার ছাড়া আর কোন কিছুই আশা করে না।

বাংলাদেশ সরকারের এর নাগরিকত্বের সুযোগ সহজ করা উচিত। দ্বি-নাগরিকত্ব ও ভিন্ন ধরণের নাগরিকত্বের মত শাস্তি না দিয়ে অভিবাসনের শক্তিকে কাজে লাগানো উচিত। ইতিহাসবিদ এবং লেখক বেনেডিক্ট অ্যান্ডারসন যাকে ‘গভীর আনুভূমিক সঙ্গী’র কথা বলেছেন যা নাগরিকত্ব থেকে আসে।

আমি বিদেশে বসবাস করা কোন বাংলাদেশি অভিবাসীর আশা আকাঙ্খার কথা জানি না। জানি না তারা তাদের ঘর-বাড়ি নিয়ে কি আশা করে। ২০১০ সালে আমি একজন আমেরিকানকে বিয়ে করি। এক বছর পর আমি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাই। আমাদের বিয়ে পরবর্তী অনুষ্ঠান লন্ডনের ক্যামডান টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমাদের সন্তান ইস্ট লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেছে। তাদের ব্রিটিশ পাসপোর্ট আছে। যার জন্য তাদের কখোনোই ভিসা পাওয়ার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না এবং ইমিগ্রেশন দপ্তরে তারা কোন রকম অস্বস্তি বোধ করবে না। তাদের দুইটি পরিচয় আছে, যেখানে তার জন্মেছে এবং তার মা যে দেশে জন্মগ্রহণ করেছে। আমার প্রত্যাশা বাংলাদেশ সরকার এটি কখোনোই অবহেলা করবে না।

লেখক ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনামের কন্যা।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস থেকে অনুবাদ করেছেন লিহান লিমা।


এপ্রিল ফুল - মোহাম্মদ নাসিরুল্লাহ

রবিবার, ০২ এপ্রিল ২০১৭

আমি স্বপ্নের মধ্যে ঘুমাই

ঘুমের মধ্যে ঘুম থেকে জেগে

দেখি নতুন শহর,

পানির ধারা,

আমার রোমকূপে|

নতুন শহরে অনেক দূর হেটে

একটা পাথরে হেলানো লতা দেখে

মনে হল বুকের জমাট কথা গুলি

দুর্বলতা|

রচনা কাল এপ্রিল ১, ২০১৭ নিউ ইয়র্ক


স্বাধীনতার অপর নাম বঙ্গবন্ধু - ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ

রবিবার, ০২ এপ্রিল ২০১৭

২৬ মার্চ, আমাদের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার সেনারা নিরীহ বাঙালির প্রতি যে বর্বর গণহত্যা চালিয়েছিল, সেই মৃত্যুর বিভীষিকা থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল দেশের মুক্তিপাগল বীরসন্তানরা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে অস্ত্র কাঁধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল রণাঙ্গনে। আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটেছিল বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। ডাক এসেছিল দেশকে হানাদারের কবল থেকে মুক্ত করার। এই মার্চ মাস এলেই সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা খুবই মনে পড়ে।

আমি দেখেছি, কীভাবে রক্তস্নাত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। ২৫ মার্চ রাতে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে গ্রেফতার হওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে নিরস্ত্র বাঙালিরা যেভাবে একটি সুশৃঙ্খল অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, পৃথিবীর ইতিহাসে তার দৃষ্টান্ত বিরল। বাংলাদেশ যে মুক্তিযুদ্ধের দিকে ধাবিত হবে, সে বোধ তৈরি হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্যে দিয়ে। তার ভাষণ শোনার পর কোনো বাঙালির মনেই আর দ্বিধা রইল না। সেদিন থেকেই সারাদেশের মানুষ প্রস্তুতি নিতে থাকল স্বাধীনতার জন্য। সে ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা তাই প্রত্যাশিত ছিল। সেদিন থেকে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ মৃত্যুভয় তুচ্ছ করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে অংশ নিল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে। পাকিস্তানের বিমাতাসুলভ বৈষম্যের সম্পর্কে যাদের কখনো কোন ধারণা ছিল না, গ্রামের সেই খেটে খাওয়া দিন মজুর কৃষক তারাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে। মুক্তিসংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার অগণিত মানুষ। যারা সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করার সুযোগ পায়নি, তারা মুক্তিযোদ্ধাদের খাবার দিয়ে, আশ্রয় দিয়ে, বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিল।

কুমিল্লার জেলার হোমনা থানার মানুষের মাঝে সেদিন আমি স্বাধীনতার যে দৃঢ়তা ও শক্তি দেখেছি তা ভাষায় লিপিবদ্ধ করে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মার্চের ২৬ তারিখ গণহত্যা চালানোর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানিসেনারা ঢাকার কর্তৃত্ব গ্রহণের পর সারাদেশে তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কাজে রত হয়ে পড়ে।

স্বাধীনতার অপর নাম বঙ্গবন্ধু

২৬ মার্চের কায়দায় বড় বড় জেলায় ও মহকুমায় প্রবেশ করতে থাকে। এছাড়া কিছু কিছু শহর ও থানাগুলোও তাদের দখলে নিয়ে যায়। ফলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে মুক্তিযোদ্ধারা। মে মাসের শেষ দিকে আমার বন্ধু আমিন, খুখুসহ কয়েকজন ভারত থেকে ট্রেনিং নিয়ে প্রথমে পঞ্চবটি তারপর বাতাকান্দি বাজারে মুসলিম লীগ নেতা বারেক ডাক্তারের চেম্বারে গ্রেনেড হামলা চালায়। এতে বারেক ডাক্তার মারাত্মক আহত হয়। আর দু’জন লোক চেম্বারের ভেতরেই মৃত্যুবরণ করে। এ হামলার ফলে হোমনাতে মুক্তিযোদ্ধারা আছে জেনে পাকিস্তানিবাহিনীর সেনারা আসতে পারে- এ ধারণা থেকে মুক্তিযোদ্ধারা হোমনা লঞ্চঘাটের রাস্তায় গ্রেনেড পুঁতে রাখে। পাকিস্তানিসেনারা অগ্রগামী হিসেবে সাধারণ জনগণকে আগে হাঁটায়, সেজন্য গ্রেনেড বিস্ফোরণে সাধারণ জনগণ আহত হয়। তারপর হোমনা থানার সিও অফিসের বাংকার করে পাকিস্তানিসেনারা শান্তি কমিটির সহায়তায় আশপাশের গ্রামে মেয়েদের ওপর অত্যাচার, বাড়িঘর পোড়ানো, গরুছাগলসহ মূল্যবান দ্রবাদি লুটপাট শুরু করে।

জুলাইয়ের শেষদিকে পাকিস্তানিবাহিনী আামদের এলাকার জয়পুর গ্রামে তিতাস নদী দিয়ে লঞ্চযোগে প্রবেশের চেষ্টা করলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা সশস্ত্র আক্রমণ চালায়। আক্রমণে টিকতে না পেরে পাকিস্তানিবাহিনী দ্রুত মাছিমপুরের দিকে চলে যায়। পরে পাকিস্তানিবাহিনী জগন্নাথকান্দি মাথাভাঙ্গার হিন্দু জেলেপাড়ায় প্রবেশ করে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ দেড় শতাধিক লোককে হত্যা করে। লাশগুলো নদীতে ভাসতে থাকে। মুসলিমপাড়ার দেলোয়ার মাস্টার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে তার বাবা হোরা মিয়াকে (ডাক নাম) পাকিস্তানিবাহিনী গুলি করে মেরে ফেলে। একের পর এক হামলার ফলে স্থানীয় লোকজন জীবনরক্ষার ট্রলারে করে বিক্রমপুর হতে ভারতের যাওয়া পথে হোমনার পাকিস্তানিবাহিনী দুইশ’ নারীপুরুষকে আটক করে, তাদেরও হত্যা করে।

১ অক্টোবর সকাল ১০টায় পাকিস্তানিসেনারা মিরশ্বিকারী ও ভবানীপুর গ্রামে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে লুটপাট শুরু করলে ওপারচর গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্ধারা মর্টারশেল নিক্ষেপ করে। হামলায় পাকিস্তানিসেনারা টিকতে না পেরে হোমনা থানার ফিরে আসে। এর পরদিন রাতে ইব্রাহিম কমান্ডারের নেতৃত্বে হোমনা থানার আক্রমণ করলে বাহের খোলার খোরশেদ এবং হারুন নিহত হয়। আমার ২ ব্যাচ সিনিয়র আলী আহম্মদ (যুগ্ম-সচিব) গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতের ফলে অর্ধেকটা আঙ্গুল কেটে ফেলা হয়। এতে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা আহত এবং ৩০ জন রাজাকার ধরা পরে।

alt

২ নভেম্বর পাকিস্তানিবাহিনী জয়পুর গ্রামে প্রবেশ করে ব্যাপক লুটপাট ও বাড়িঘর পোড়ায়। তারা গরুছাগল, হাঁসমুরগি জবাই করে খেয়ে বিকালের দিকে আবাইত্তা (তিতাস নদীর শাখা) নদী দিয়ে গান বোটের ছাদে উল্লাস করে যাওয়ার পথে ইব্রাহিম কমান্ডারের নেতৃত্বে মনির, কাদের, মোশারফ, তাজুল ইসলামসহ আরো অনেকে মিরাশ, শ্যামনগর ও পঞ্চবটির বট গাছের নিচে থেকে আক্রমণ করে।

এতে পাকিস্তানিবাহিনীর অনেক সেনা মৃত্যুবরণ করে। কিন্তু একটানা যুদ্ধ করায় অনেকের গুলি শেষ হয়ে যায়। ফলে তাদের প্রতিরক্ষার অবস্থান নাজুক হয়ে পড়ে। অসীম সাহসী মনিরের গুলি ছিল। একাই সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তানিবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন। এক পর্যায় মনির মাথার উঁচু করলে তাদের একটা গুলি তার মুখের ভেতর দিয়ে মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে সে শহীদ। ২ দিন যুদ্ধ চলে। দ্বিতীয় দিনে ঢাকা থেকে পাকিস্তানির গানবোট এসে জীবিত ও মৃত্যু সেনাদের নিয়ে যায়।

১৫ ডিসেম্বর ফজরের নামাজের পর বাঞ্ছারামপুরের অবস্থানরত চার শতাদিক পাকিস্তানিবাহিনী হোমনা থানায় ঘাগুটিয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মসজিদের মধ্যে প্রবেশ করে বাংকার করে শক্ত অবস্থান নেয়। এ খবর মুক্তিবাহিনী অবগত হলে দুই শতাদিক মুক্তিযোদ্ধা দুলালপুর চন্দ্রমনি উচ্চ বিদ্যালয়ে একত্রিত হয়ে পাকিস্তানিবাহিনীকে দুই দিক থেকে একদিকে রামপুর, নুরালাপুর, উত্তরে শেখ আলমের বাগ দিয়ে অন্যদিকে সাপলেজী অতিক্রম করে ছোট ঘাগুটিয়ার উত্তর দিক থেকে অতর্কিত সাড়াশি আক্রমণ করে। সরাসরি যুদ্ধে পাথালিয়াকান্দির অলেক মিয়া শহীদ হন এবং ১৭ জন আহত হন। এর মধ্যে কমান্ডার ইব্রাহিমের ঊরুতে গুলি লাগে। হানাদার বাহিনীর অনেকে নিহত ও আহত হয়। যার সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। কৌশলগত কারণে মুক্তিবাহিনী পিছিয়ে তিন দিক থেকে বাংকার করে পজিশন নিয়ে পাকিস্তানিবাহিনীকে অবরুদ্ধ করে রাখে। সময় সময় পাকিস্তানিবাহিনী গুলি ছুড়লে মুক্তিবাহিনীও পাল্টাগুলি ছুড়ে অবস্থানের কথা জানান দেয়। এতে অনেক সৈন্য নিহত ও আহত হয় যা পাকিস্তানিবাহিনীর আত্মসমর্পণকালে জানা যায়। ১৮ ডিসেম্বর ময়নামতি ক্যান্টমেন্ট থেকে মিত্র বাহিনীর তিনজন সৈন্য মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে এসে হানাদার বাহিনীকে ওয়ারলেসের মাধ্যমে আহ্বান জানান আত্মসমর্পণ করার জন্য। হানাদার বাহিনী মিত্রবাহিনী হিসেবে তাদের বিশ্বাস করেনি। যার জন্য পাকিস্তানিবাহিনী আত্মসমর্পণে রাজি হয়নি।

পাকিস্তানিবাহিনী মনে করেছিল মুক্তিবাহিনীর হাতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের মেরে ফেলা হবে। ২৩ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর সদস্যরা পুনরায় তিনটি ট্যাংক নিয়ে আসে। হানাদারবাহিনীতে পুনরায় ওয়ারলেসের মাধ্যমে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। পাকিস্তানিবাহিনী এতেও রাজি না হওয়ার মিত্রবাহিনী ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণসহ সরাসরি আক্রমণ করে। এ আক্রমণের কারণে হানাদার বাহিনীর বিশ্বাস জন্মে যে তারা মিত্রবাহিনীর লোক। মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের সম্মত হয়ে তারা ঘাগুটিয়া গ্রাম থেকে বাহির হয়ে আসে। ১৮১ জন জীবিত ও আহত হানাদার সদস্য আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণের পরে অবশিষ্ট হানাদার বাহিনীর সদস্যরা ঘাগুটিয়াতেই মৃত্যুবরণ করে।

আত্মসমর্পণের পর মিত্রবাহিনী পাকিস্তানি সৈন্যদের ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। এরপর হতে ২৩ ডিসেম্বরকে হোমনা মুক্তদিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। উপজেলার চম্পক নগর, ঘাগুটিয়া, নিলখী বাজার, দুলাল বাজার-হোমনা সদর ও পঞ্চবটি প্রভৃতি জায়গায় সংঘটিত পাকিস্তানিবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের একাধিক লড়াইয়ে ২৩জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ২৪জন আহত হন। তাছাড়া পাকিস্তানিবাহিনী বর্তমান হোমনা ডিগ্রি কলেজের পাশে বহুসংখ্যক নারী, পুরুষ ও শিশুকে জীবন্ত কবর দেয়। গনেশ নাথের পুকুর পাড়ে কারো হাত, কারো খুলি মাটির নিচ থেকে বের হয়েছিল। এ স্থানটি বধ্যভূমি হিসেবে বিবেচনা করে স্মৃতিস্তম্ভ করা দরকার। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার মা ভাত, মাংস, ডাল প্রভৃতি রান্না করে দিলে আমরা এ খাবার মাথায় করে ৪ মাইল দূরে ঘারমোড়া মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে পৌঁছে দিতাম। ক্যাম্পে আমার বন্ধু করিম, নাজিমউদ্দিনসহ অনেকের সঙ্গে গ্রেনেড ব্যবহার ইত্যাদি নিয়ে নানা অভিজ্ঞতার কথা আলোচনা করতাম। আমাদের গ্রামের মিজান, বেলাল, আউয়াল, তমিজ উদ্দিন, মতিন, হায়েত আলী ও হক মিয়া (সামসুল হক), রূপসদি-বেলানগর থেকে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিয়েছে। শুনলাম তাদের নাম নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসে নয়, বিশ্বেও ছিল সাড়া জাগানো একটি ঘটনা। শুধু মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি। এ জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ এ পথপরিক্রমায় বঙ্গবন্ধু দুঃসাহসিক ভূমিকা পালন করেন। মৃত্যুকে তুচ্ছ ভেবে তিনি এগিয়ে গেছেন অবিচল চিত্তে। এ জন্যই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রাণপুরুষ। ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’, ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’, ‘বাঙালির স্বাধিকার’, ‘জয় বাংলা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’- যাই বলি না কেন এগুলোর অপর নাম ‘বঙ্গবন্ধু’। লাল-সবুজের পতাকায় তিনি হয়ে আছেন চিরস্মরণীয়। আজ বিশ্বব্যাপী যেখানেই মুক্তির সংগ্রাম, সেখানেই অনুপ্রেরণা বঙ্গবন্ধু। তার নির্ভেজাল স্বদেশী চিন্তা-চেতনা থেকে তারা শিক্ষা নেন।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা লাভ ও বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মৌলিক ধারণা ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, শোষণহীন সমাজ গঠন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা। যে নীতি অনুসরণ করে তার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে চলছেন। নতুন প্রজন্মকে বলছি- ইসলামের ধারণা সম্পূর্ণই নিহিত রয়েছে গঠনতন্ত্রে এবং শোষণহীন সমাজ গঠনের সব উপাদান রয়েছে সেখানে। শুধুমাত্র সঠিকভাবে অনুধাবনের মাধ্যমে আমাদের একটি বৈষম্যহীন শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করতে হবে।

দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে ঐক্যবদ্ধভাবে আরো শক্তিশালী এবং সব ষড়যন্ত্রকারীকে প্রতিহত করব- এটাই হোক স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।

লেখক: ভাইস-চ্যান্সেলর, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়


মহাকাব্যের মহাকবি ’বঙ্গবন্ধু অবদানে’ স্বাধীনতা প্রসঙ্গ : সোনা কান্তি বড়ুয়া

রবিবার, ০২ এপ্রিল ২০১৭

বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ঠ্রের জন্মদাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ আমাদের বাঙালি জাতির মহাকাব্যের নাম ”বঙ্গবন্ধু অবদান।” সেই মহা গৌরবময় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অমর স্বাধীনতা মহাকাব্যের মহাকবি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ঢাকার রেসকোর্সের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মহাজনসমুদ্রে জনগণমনের মুক্তির মঞ্চে দাঁড়িয়ে জলদ গম্ভীর স্বরে ঘোষণা করেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এমন অকুতোভয় বঙ্গবন্ধুর মতো মহাবীর কে কবে দেখেছেন? পাল রাজত্বের পর আগামি দিনের ইতিহাসে “বঙ্গবন্ধু অবদান” কাহিনী হয়ে বিজয় সিংহ এর ‘সিংহল অবদান’ এর পাশে সগৌরবে দেদীপ্যমান হয়ে থাকবে।
বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির মহাবীর ’বিহঙ্গ ’ হয়ে আবির্ভাব হয়েছিলেন এবং আজ হাজার হাজার বাঙালি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে বিরাজমান। স্বাধীনতার অতন্দ্র প্রহরী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদান ”বাংলাদেশ স্বাধীনতার মহাকাব্য” শীর্ষক মহাকাব্যের মহাকবি শেখ মুজিব। স্বাধীনতার মহাকবি শেখ মুজিবের কন্ঠ ভরা থাকতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা. ” নমো নমো সুন্দরী মম / জননী জন্মভ’মি / গঙ্গার তীর ¯িœগ্ধ সমীর/ জীবন জুড়ালে তুমি। ” ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্ত হয়ে আসেন এবং ঢাকার জন সভায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা বলেছিলেন, ” সাত কোটি সন্তানের হে মুগ্ধ জননী / রেখেছ বাঙালি বাঙালি করে মানুষ কর নি।” তারপর বঙ্গবন্ধু তাঁর পরমপ্রিয় রবি ঠাকুরকে উদ্দেশ্যে করে বঙ্গবন্ধুর মনের কথা মুখে আনলেন, ”বাঙালি আজ মানুষ হইয়াছে। কবির কথা মিথ্যা প্রমান হইয়াছে।” হায় রে ইতিহাস! তুমি কথা কও! হারে হারে বজ্জাত ধর্মান্ধ অমানুষ বাঙালিকে বঙ্গবন্ধু চিনে ও ভাল করে বুঝতে পারলেন না। কারন অমানুষ গুলো দেখতে অবিকল মানুষজাতির মতো, কিন্তু আসলে তা’রা ভয়্কংর বিশ্বাসঘাতক এবং পশুর চেয়ে ও অধম। সময় এসেছে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার।
বাঙালিত্বের খোঁজে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস বাঙালি জাতির পরশমনি। জগতে মনুষ্যত্বের আসনে আজ বাঙালি জাতি স্বাধীনতার পরশমনির জোরে বিরাজমান। তাই আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা মহাকাব্যের মহাকবি এবং মানবতার পরশমনি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে পাকিস্তানের সামরিক সরকার বেঈমানী করে বাংলাদেশের বাঙালি জাতিকে সর্বনাশ করার গভীর ষড়যন্ত্র করেছিল। আজ ও সেই ষড়যন্ত্র শেষ হয় নি। ধর্মের নামে ও মিথ্যা বন্ধুত্বের মুখোষ পরে পাকিস্তান সর্বদা বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে প্রস্তুত। ১৯৪৭ সালে ধর্মকে পূঁজি করে ভারত বর্ষ দ্বিখন্ডিত হয়ে হিন্দুস্থান ও পাকিস্তান হল। ১৯৭১ সালে ৭ই মার্চ ধর্মকে বাদ দিয়ে মানবতার মনুষ্যত্ব রক্ষার জন্যে পুর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ হবার স্বপ্ন দেখলেন।
পৃথিবীর ইতিহাসে একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই জনসমুদ্রে বিনা অস্ত্রে অভিনব অহিংসার বাণী দিয়ে “বাংলাদেশের স্বাধীনতা” ঘোষণা করেছিলেন ; এবং পালিয়ে না গিয়ে নব রসে (১. আদি ২. রৌদ্র ৩. বীভৎস ৪. ভয়ানক ৫. বীর ৬. হাস্য ৭. কারুণ্য. ৮. অদ্ভূত ও ৯. শান্ত) স্বাধীনতার মহা কাব্য রচনা করতে শত্রুর কারাগারে বসে দেশের স্বাধীনতার জন্যে নিজের প্রাণদান করতে প্রস্তুত ছিলেন।া বঙ্গবন্ধুর আশা ছিল বাঙালি জাতি সুখী হোক।

মহাকাব্যের মহাকবি ’বঙ্গবন্ধু অবদানে’ স্বাধীনতা প্রসঙ্গ : সোনা কান্তি বড়ুয়া

বাংলা আমার, মাতা আমার চির বিজয়ী বাংলাদেশ,
জগৎ জুড়িয়া বাঙালি জাতি জয় বাংলা গাইছে বেশ!
হাজার বছর আগের বাঙালির ইতিহাস কি কথা কয়?
অতীশ দীপঙ্করের বাংলাদেশ বাংলাভাষা অমর অক্ষয়।
আমার স্বপ্ন বাংলাদেশ মহাজাতক বুদ্ধের বাংলাদেশ
বাংলার অমোঘ বাণী মহাশান্তি মহাপ্রেম অশেষ।
জন্ম লগনে বাংলাদেশ, কান্নায় আমার বাংলাদেশ
মন্ত্র আমার বাংলাদেশ হাঁসিতে আমার বাংলাদেশ।
কথায় কথায় বাংলাদেশ, রক্তে আমার বাংলাদেশ।
তীর্থ আমার বাংলাদেশ, বিত্ত আমার বাংলাদেশ,
আমার আমি বাংলাদেশ, পরিচয় আমার বাংলাদেশ।
প্রেমিকা আমার বাংলাদেশ, সেবিকা আমার বাংলাদেশ,
পিতা আমার বাংলাদেশ, ভাই বোন আমার বাংলাদেশ।
অস্তিত্ব আমার বাংলাদেশ, রাজত্ব আমার বাংলাদেশ ।
জীবন আমার বাংলাদেশ, মরন আমার বাংলাদেশ,
সুখ আমার বাংলাদেশ, দুঃখ আমার বাংলাদেশ।
অনুভূতি আমার বাংলাদেশ, দর্শন আমার বাংলাদেশ,
কবিতা আমার বাংলাদেশ, রক্ষক আমার বাংলাদেশ ।
প্রসঙ্গত: হিন্দু ধর্মের নাম অপব্যবহার করে আজ ও ভারতে মানুষ জাতিকে চন্ডাল, দলিত, চামার ও ছোট লোক বানিয়ে ধনী ও শাসকগণ মানব জাতির মাববতা বা আশরাফুল মাকলুকাত কেড়ে নিয়েছে। ধনীরা মানুষ হলে, সর্বহারা গরীবগণ চন্ডাল হবে কেন? ইতিহাসের কালো অধ্যায় একাত্তর থেকে আজ ও অবধি বাঙালির বুকে পাথর হয়ে বসে আছে। ভাই বলে যেই পাকিস্তানকে জড়িয়ে ধরে ছিলুম, কিন্তু সে শত্রু হয়ে বাঙালির সর্বনাশ করেছে। সাইকোলিজিক্যাল ধর্মান্ধ রোগ থেকে বাঙালি বের হতে পারবে কি?
স্বরচিত কবিতায় আমার বাংলাদেশ :
একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর ভাষনের ৭ই মার্চের বজ্রকন্ঠস্বর
বাঙালি জাতির নব জন্ম হ’ল, পাল রাজত্বের পর।
ইতিহাস কথা কয়, ভুলতে দেয়না সেই দিন,
সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর কাছে আমাদের অনন্ত ঋণ ।
বাংলাদেশ মহাকাব্যের মহাকবি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি
বাংলাদেশের জাতির পিতাকে মোদের সাষ্ঠাঙ্গ প্রনতি।
বঙ্গবন্ধুকে কা’ারা মেরেছে, কেন মেরেছে, জনতা জানতে চায়,
জাতির পিতৃ হত্যা মহাপাপ, বিশ্বাসঘাতকদল তিলে তিলে ক্ষয়।
স্বাধীনতার দীপ ছিল, শিখা ছিল সব ছিল হায়
জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আজ তুমি কোথায়?
যখন জাতির মাথায় ভেঙ্গে পড়লো বাংলার আকাশ
নিশুতি রাত গুমরে কাঁদে দেশে বিশ্বাসঘাতকতার বাতাস!
৭৫সালের ১৫ই আগষ্ট বঙ্গবন্ধুর মুকুট তো পড়ে আছে,
জাতির পিতা সহ তাঁর পরিবার স্বজন শুধু নেই।
দেশের রক্তাক্ত আকাশের উপর সূর্য ওঠেছে ওই
জন্মভূমি বাংলা মা গো তোমার শহীদ ছেলেরা কই?
প্রাচীন মহাকাব্য যুগের পরে জয় বাংলাদেশে। কালজয়ী মহাপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ’ জীবন বাংলাদেশের জন্যে, পরার্থে কামনা।’ অধিকার কি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছিল না? “রেখেছ বাঙালি করে, মানুষ করনি।” আজ ও বাঙালি বিবেক প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে আছে। বিশ্বাসঘাতক আমাদের বিশ্বাসের ছায়ায় ছায়ায় ঘুরে। সামরিক শাসকগণের দুর্নীতির মাফিয়াচক্র থেকে বাঁচতে বঞ্চিত সর্বহারা মানুষ তাই আশ্রয় খুঁজেছে শেখ মুজিবের ভাষণে এবং বুদ্ধিজীবিদের লেখার মাধ্যমে। আমার লেখা কবিতায়:
সমতট থেকে আমি হাঁটিতেছি বাংলার পথে,
পাল রাজত্বের ইতিহাস বলেছি পদ্মা ব্রহ্মপুত্রের সাথে।
অনেক ঘুরেছি আমি ধর্মপাল ভুসুকুপাদ চর্যাপদের জগতে
সেখানে ছিলেম আমি, দূরে বগুড়ার পুন্ড্রবর্দ্ধন নগরে।
ঐতিহাসিক পাহাড়পুর জুড়ে কত কী যে হল
টুপি ঠিকির বাহারে বাহারে ইতিহাসের রং বদলালো।
অতীশ দীপঙ্কর বাঙালি সভ্যতা ও ধর্মের প্রচারক,
তিব্বতের ইতিহাসে তিনি বিশ্ব শান্তির শিক্ষক।
ঘরে বাইরে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত শ্রান্ত আমি
কয়েকদন্ড শান্তি দিয়েছিল মোরে মহাস্থানের সুমি।
মা বোন সেই বাঙালি নারী একাত্তরে বীরাংগনা গণ
হল বলিদান লভিতে স্বাধীনতা কত লক্ষ ভাই বোন ।

মানব জাতির মুক্তির মন্দির সোপাানতলে এমনতরো মানবতাবাদী কবিতার প্রথম আলোতে বাংলাদেশ প্রতিবিম্বিত আলোয় আলোয়। স্থিতপ্রজ্ঞ শেখমুজিবুর রহমানের সুখ্যাতি ছিল – দেশ জুড়ে, বাংলার দূরতম প্রান্ত থেকে জনতা এসেছিলেন “বাংলাদেশ স্বাধীনতার ঘোষনা”ঐতিহাসিক প্রথম শুভক্ষণ অনুভব ও অবলোকন করতে। আমার কবিতার ভাষায়:
জয় বাংলায় জয় বঙ্গবন্ধুর জয় !
যিনি মহাকাল করেছেন জয়।
বাংলার জন গণ মন অধিনায়ক বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা মহা ভাগ্যবান,
জয় হে বাংলার মর্মভেদী দেবদূত শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধুর সাধনা ছিল বাংলাদেশে স্বাধীনতার আলো জ্বালাতে
দুষ্টের দল আঁধারের যাত্রী মার্কা রাজাকার মিশে গেছে জামায়তে।
“এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম” বজ্রযোগীনির বজ্রকন্ঠে আহ্বান।
“এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অমর অবদান।
বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ বীর পুরুষ সর্বকালের ইতিহাস প্রধান
জয় হে, জয় স্বাধীনতার বীর পুরুষ করে গেলে শতাব্দীর অগ্নিø¯œান।
আমাদের স্বাধীনতার জাতীয় ইতিহাসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু একটি নাম নয়, একটি জাতির পরিচয় ও অস্তিত্বের অভিনব স্বাক্ষর। আমার দেশ, আমার জন্মভূমি আমার কাছে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ তীর্থভূমি। “অশোক যাহার কীর্তি গাইল. / হিমালয় থেকে জলধি শেষ।” ইতিহাস সত্যের জয় ও মিথ্যার পরাজয় ঘোষণা করে। বাঙালী মহাপ্রাণ নেতাগণ সহ বঙ্গবন্ধু বহু চড়াই-উৎরাইর মধ্যে দিয়ে এবং ষড়যন্ত্রের দুর্ভেদ্য প্রাচীর বিদীর্ণ করে সমাজে সত্য এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত প্রাণ। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ‘এই সব মূঢ়¤¬ান মুখে দিতে হবে ভাষা, / এই সব শ্রান্ত শুস্ক-ভগ্ন বুকে ধ্বনিয়া তুলিতে হবে আশা’ নিয়ে দেশ ও দশের মঙ্গল সাধন করার ।
কবির ভাষায়: “পথ ভাবে আমি দেব, / রথ ভাবে আমি। / মূর্তি ভাবে আমি দেব/ হাঁসে অন্তর্যামী।” বাঙালি একতাবদ্ধ হবে কি? বিবেদ ও হিংসায় বাঙালি সমাজ ক্ষত বিক্ষত। অতীশ দিপংকরের সময়ে (৯৮২ খৃষ্ঠাব্দ থেকে ১০৫৪ খৃঃ) বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম ছিল না। বিগত ১১০০ খৃষ্ঠাব্দ থেকে ১৮০০ সাল পর্যন্ত ভারতীয় কোন গ্রন্থে বুদ্ধ ও অশোকের নাম লেখা ছিল না। বাংলা ভাষার সাথে বৌদ্ধধর্মের অবস্থান ঐতিহাসিক মিলন এবং তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের অনুবাদ আজ ও বিরাজমান। বাংলা বর্ণমালায় প্রতিবিম্বিত হয় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার সহ নাম না জানা অনেক শহীদ ভাই বোনদের স্মৃতি রাশি।
সপ্তম শতাব্দীতে মহাচীনের পরিব্রাজক হিউয়েন সাং বাংলাদেশের পাহারপুর ও বগুড়ায় এসে আমার দেশের মাটিতে অবনত মস্তকে আমাদের আলোকিত প্রাচীন ঐতিহ্য ও ধর্মকে পূজা করেছেন। বলে গেলেন যে বাংলাদেশে সাধনার ধন অহিংসা পরম কমের্, বাংলাদেশ বিশ্বমানবতার তীর্থভূমি। কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ভাষায়, “বাঙালি অতীশ লভিল গিরি তুষারে ভয়ঙ্কর,/ তিব্বতে জ্বালিল জ্ঞানের প্রদীপ বাঙালি দীপংকর।” বাঙালি জাতি জ্ঞানের প্রদীপের আলোকে পৃথিবীর বুকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” প্রতিষ্ঠা করে প্রমান করে দিয়েছেন, বিশ্বমানবতার সভায় মোরা বাংলা ভাষার জন্যে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের শহীদ মিনার হৃদয় বাংলায় সর্বদা বিরাজমান। জয় বাংলা।

“আমার বাপের ঘরে আগুন দিল কে রে, আমি খুঁজিয়ে বেড়াই তারে।” গত ২৪শে অক্টোবর ২০০৯ (ইং) দৃষ্ঠিপাত (সমিতি), আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসি চ্যাপ্টারের উদ্যোগে ডিরি র “বাস বয়েস এন্ড পোয়েটস” রেস্তেরায় বাংলাদেশের বিশিষ্ঠ সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেতা শাহরিয়া কবিরের “পোট্রেইট অব জিহাদ” শীর্ষক ডকুমেন্টরিতে দেখানো হয় ‘হারকাতুল এবং বাংলাভাইয়ের’ মতো উগ্রপন্থীদের উৎস জামাত যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজাকার ও আলবদর ছিল। ছবিটির বিষয় বস্তু ও প্রেক্ষাপট : ‘জামাত-যুদ্ধাপরাধীরা পাকি ফৌজিবাবাদের সুতনয় বটে। বাংলাদেশের তারা কেউ নয়, মগজে বিকার, চিন্তায় পাপী, পা-চাটা জাদু অতিশয়।’ কথায় বলে, জামাত তুমি ঘুঘু পাখীর মতো বার বার খেয়ে যাও ধান, এই বার ঘুঘু তোমার বধিব পরান।
আজ দেশ ও জগৎ জুড়ে যে গভীরতম অসুখ তার জন্যে মানুষের সর্বগ্রাসী লোভ এবং অমানবিক সাম্রাজ্যবাদই তৈরী করেছে “আহা রে মানুষ একটি বিপন্ন প্রজাতি।” সমাজের মুষ্টিমেয় রাজনীতিবিদগণ ও ধনিরা উচ্চশিখরে বসে সমস্ত ভোগবিলাস ভোগ করেছে। আর দুঃখীদের শ্রেণীতে চলছে নিদারুণ অভাব, দারিদ্র, ক্ষুধা, পীড়ন, শোষণ, বর্জন, যন্ত্রণা ও মৃত্যুভয় এখনও সর্বত্র নৈরাশ্য-নৈরাজ্য। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির পিতা। আমাদের মনে পড়ে বাংলার বিখ্যাত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬ -১৯৪৭) লিখেছিলেন, ”হে মহামানব একবার এসো ফিরে, / শুধু একবার চোখ মেলো এই গ্রাম নগরের ভিড়ে,/ এখানে মৃত্যু হানা দেয় বার বার;/ লোক চক্ষুর আড়ালে এখানে জমেছে অকাল। / এই যে আকাশ , দিগন্ত মাঠ স্বপ্নে সবুজ মাটি,/ নীরবে মৃত্যু গেড়েছে এখানে ঘাঁটি।/ কোথাও নেই কো পার, / মারী ও মড়ক, মন্বন্তর, মহামানব, এখানে শুকনো পাতায় আগুন জ্বালো। (বোধন)” বার বার অনেক বারের পর বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের আলোকে প্রমান করে দিলেন যে বাঙালি বীরের জাতি এবং বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা “আমরা যখন মরতে শিখেছি, কেউ আমাদের মারতে পারবে না।” জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর এমন শিক্ষা জগতে বড়ই দুর্লভ।
যে কোন ধর্মের নামে মানব সন্তান হত্যা ও রক্তপাত ধর্ম নয়। আমাদের দেশ আমাদের জন্মান্তরের জীবনের অস্তিত্ব। সম্প্রতি ২৩শে অক্টোবর টরন্টোর এক পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় সংবাদের রক্তিম হেড লাইন ছিল, “সারাদেশে রেড এলার্ট।” দেশের সাথে আমাদের নাড়ীর সম্পর্ক। দেশের স্বাধীনতার ৪৫ টা বছর চলে গেল। আমরা প্রবাস থেকে দেশে শান্তির কথা শুনবার অপেক্ষায় থাকি। আমার দেশ আমার পরম তীর্থভূমি শান্তির ধর্ম ইসলামকে রক্তাক্ত রাজনীতির জন্য অপব্যবহার করে রাজাকার ও আলবদর বাহিনী আজ সার্বজনীন ইসলামকে অপমানিত করেছে। বিশ্বমানবতার আলোতে ইসলাম মহাকরুনায় জেগে ওঠে “আশরাফুল মাকলুকাত” মঙ্গললোকে। হিংসায় ধর্মের দারিদ্র দূর করবে কে? ধর্মের নামে হিজবুত তাহরির দিন শেষ।
সুদীর্ঘ রক্তাক্ত ভাষা আন্দোলনের পর মাযের ভাষাকে হালাল করতে সর্ব প্রথম বাংলাদেশের বুকে গড়ে তোলা হলো “শহীদ মিনার।” পাকিস্তানের আক্রমন থেকে বাঁচতে ৩০ লক্ষ দেশবাসী শহীদ হয়ে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সুপ্রতিষ্ঠিত হলো “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ।” ঢাকা থেকে মামুন অর রশিদ লিখেছেন, “তারা জনপ্রশাসনে ধর্মান্ধ রাজনীতির অনুসারীদের প্রবেশের ব্যবস্থা করেন (জনকণ্ঠ, অক্টোবর ২৬, ২০০৯ ইংরেজী)।” জামাত ও যুদ্ধাপরাধীরা রাষ্ঠ্রদ্রোহী হয়ে ইসলামকে কলঙ্কিত করেছে। আজকের বুড়িগঙ্গার পানির মতো জামাত, মুজাহিদীন সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধীদের ধর্ম পুরোপুরি বিষ এবং জামাতকে বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করতে হবে। ঘর পোষে চোর আর ও কহে জোর এ বড় কুটিনী ঘাগী।
এই প্রসঙ্গে ইহা ও বিশেষভাবে উলে¬খযোগ্য যে, ১৯৭১ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পাকিস্তানের পাঞ্জাবি কবি আহমদ সেলিমের লেখা “সদা জিও বাংলাদেশ” শীর্ষক কবিতা করাচীর উর্দূ পত্রিকা ‘আওয়ামি আওয়াজে’ প্রকাশিত হলে; তদানিন্তন ইয়াহিয়া সরকার উক্ত কবির রাষ্ঠ্রদ্রোহীতার অপরাধে ছয়মাস জেল ও ডজন খানেক বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়েছিল।
মানুষ নিজের ভুবনে নিজেই সম্রাট। সেই ভুবনে বিচরণকারী অন্যান্য বাসিন্দারা পার্শ্ব চরিত্রমাত্র।। ধর্মের নামে যে পশু আমাদের অন্তরে প্রবেশ করেছে সেই পশুকে মানবতার অস্ত্র দিয়ে ধ্বংস করে মানবতার দেশ গড়ে তুলতে হবে। অহিংসার মহব্বতই মানবিক কর্মযজ্ঞ। অপেক্ষার সময় ফুরিয়ে গেছে। বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া সহ জামাত মার্কা চার জোটে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পাশবিক শক্তি বিরাজমান।
জামাত দ্বারা বাঙালী সমাজ শোষিত, নিপীড়িত, লাঞ্ছিত ও পাকি দালারদের দ্বারা অপমানিতের সমাজ। দেশবাসীরা নৈরাশ্য, নৈরাজ্য, অভাব ও দারিদ্র সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে থাকার জন্য দায়ী আমাদের শাসক ও রাষ্ঠ্রক্ষমতার দুর্নীতির মাফিয়াচক্র। দুর্নীতি বধে রাষ্ঠ্রক্ষমতার পরাজয় হল কেন? বাংলাদেশে প্রতারক রাজনীতিবীদ ও আমলাগণের চরিত্র কয়লার মত শত ধু’লে ও ময়লা যায় না। প্রতারণার রাজনীতিতে দেশ ও জাতি স্বাধীনতায় অমৃতের সাধ ভোগ করতে করতে ও ভোগ করতে পারেন নি।

তুমি রাজাকার মুসলিম মৌলবাদী, আমার বাংলা ছাড়ো।
হাতেই আছে আমার দেশের যত আলো।
তুমি মৌলবাদী জঙ্গী, সরাও তোমার ছায়া,
তুমি আমাদের বৌদ্ধ বসতি ছাড়ো।
রামুর বড়–য়া পাড়ায় আগুন লাগায় ইসলামি জঙ্গী
পুলিশ প্রশাসন হল না আজ বৌদ্ধদের সঙ্গী ।
আমার দেশে তুমি কে জঙ্গী ইসলামি ?
জঙ্গীদের ভয়ে দেশ থেকে পালাবো না আমি।
দেশে মাটির নীচে বুদ্ধ থাকেন,
উপরে ধ্যানে জ্ঞানে বুদ্ধ আছেন।
পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বিহারে এসেছে জনতার ঢল
গৌতমবুদ্ধের অহিংসা পরম ধর্ম স্বদেশের বল।
জয় বাঙালি জয়
বাংলাদেশের জয়।
হাজার বছর ধরে চলেছেন বাঙালি বগুড়ার পুন্ড্রবর্ধনের পথে,
বঙ্গোপসাগর থেকে সিংহল সমুদ্রে মহাকালের রথে।
পালরাজ্যে ঘুরেছি আমি, ধর্মপালের অতীত জগত,
দেখেছি শালবন বিহার ও চট্টগ্রামের পন্ডিত বিহার যত।
ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত আমি, মনে পড়ে কত ঝর্ণা
আমারে কিছুক্ষণ শান্তি দিয়েছিল উৎপলা বর্ণা।
প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার জাতিধর্ম নির্বিশেষে ঐতিহ্যের ধন,
নববর্ষে বাঙালি ভাই বোনের পাহাড়পুরে মিলন।
আমরা কি মানুষ না আমাদেরকে ধর্মের নামে অধর্মের ভূতে পেয়েছে। বাংলাদেশে অর্পিত সম্পত্তি বা শত্র“ সম্পত্তির অর্থ কি? মানুষ জাতি বা আশরাফুল মাকলুকাত শয়তানের গোলাম হয়ে পাকিস্তানের লাল মসজিদ রক্ত গঙ্গায় ভাসানোর দরকার ছিল না। ধর্মের নামে নর নারী হত্যা কোন ধর্মেরই পবিত্র বাণী নয়। ্বৈজ্ঞানিকগণ গভীর গবেষনা করার পর বুঝতে পারলেন যে, মানুষ প্রকৃতির সৃষ্ঠি। নদী ও প্রকৃতি ধ্বংস হলে মানুষ ও ধ্বংস হবে। অমানবিক ধর্মের এতো উলঙ্গ দর্প কেন? বিশ্বপ্রেম ও অহিংসা ব্রতে প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে মানুষকে বাঁচতে হবে। অহিংসা মানব জাতির পরম আশ্রয়। বিগত জোট সরকারের ধর্ম ও রাজনীতির অপপ্রয়োগের কারনে আজ বাংলাদেশে জনতা একটি বিপন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
জয় বাংলা ! জয় বঙ্গবন্ধু!

সোনাকান্তি বড়ুয়া, বিবিধ গ্রন্থ প্রণেতা, কলামিষ্ট এবং মানবাধিকার কর্মী।

সোনাকান্তি বড়ুয়া, বিবিধ গ্রন্থ প্রণেতা, কলামিষ্ট এবং মানবাধিকার কর্মী।


প্রবাসের ভাবনা- পারভীন বানু

শনিবার, ০১ এপ্রিল ২০১৭

প্রবাসের ভাবনা- পারভীন বানু

প্রবাসে এই রঙের খেলা,

গ্রীস্মে বসে কত মেলা।

শত শত সংগঠন,

কি করে হয় দেশ গঠন।

স্বেচ্ছাচারের নিয়মনীতি

নেই পরোয়া নেইকো ভীতি।

মুখোশ পড়ে হয়ে বাহির,

করছে কেহ নেতা জাহির।

পদটি নিয়েই কাড়াকাড়ি,

সভার মাঝেই মারামারি।

ধর্ম বলো রাজনীতি,

কোথায় আছে সুনীতি।

হাজার হাজার বিভক্তি,

নেই সুজনের আসক্তি।

হিংসা কিংবা বিদ্বেষে,

সময় কাটে পরদেশে।