Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

প্রবাসীদের খবর

লেবাননে বাংলাদেশ সপ্তাহ ২০১৭ উদযাপিত

শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

Picture

লাল- সবুজ রংঙের পাজামা- পাঞ্জাবী, টি-শার্ট, মাথায় বাঁধা পতাকা, সকলের হাতে হাতে বাংলাদেশের পতাকা এ র‍্যালীতে প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ছবিসহ বিভিন্ন প্লে-কার্ড এ যেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের মাঝে মিলন মেলা ও লেবাননের ভিতরে আরেকটি বাংলাদেশ।ইউনিফিল কর্তৃক লেবাননে অবস্থিত বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর সদস্যরা যোগদেন এ আনন্দ মেলায়। র‍্যালীতে প্রায় ৩/৪ শত লেবানন প্রবাসী বাংলাদেশীসহ দূতাবাসের সকল কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসী, একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার,সারা বিশ্বের বিস্ময় তুমি আমার অহংকারসহ দেশীয় গানে বৈরুতে ভূমধ্য সাগড়ের পাড় আঁকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে।

alt
র‍্যালী আল মানারা শেষ হওয়ার পর মান্যবর রাষ্ট্রদূত আবদুল মোতালেব সরকার প্রেস ব্রিফিং এ বলেন, বাংলাদেশ বা বাংলাদেশের সাংস্কৃতি সম্পর্কে লেবানিজদের সঠিক ধারণা ছিলনা। ১৯৭৩ সালে লেবানন রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃৃতি দিয়েছিল। বর্তমানে লেবানন ১ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার বাংলাদেশী শ্রমকর্ম নিয়া এখানে বসবাস। লেবানন মনে করেন বাংলাদেশ শুধু মাত্র শ্রমিক পাঠান। কিন্তু বাংলাদেশের সাংস্কৃতি, বাংলাদেশের অবকাঠামো সম্পর্কে এদের ধারণা ছিল না। ইতিপূর্বে লেবানিজদের জন্য বেশ কিছু কালচারাল অনুষ্ঠানের আয়োজন, এদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে মিটিং করে আমরা তাদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে বাংলাদেশ কতটা আধুনিক। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশকে সমগ্র লেবাননে পরিচিত করতে ” বাংলাদেশ সপ্তাহ ২০১৭” এ আয়োজন।
অন্যদিকে প্রবাসী বাংলাদেশীরা জানান, লেবানন এই প্রথম এমন আয়োজনে আসতে পেরে অনেক আনন্দিত ও অনেক খুশী। এই র‌্যালী ও যে সব কর্মসূচী করার আয়োজন করেছে দূতাবাস এতে বাংলাদেশকে জানতে পারবে লেবানিজরা। বাংলাদেশ ও লেবাননের সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হবেন বলে আশাবাদী এখানে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীরা।


অস্ট্রেলিয়ায় ‘আনন্দধারা'র বর্ষপূর্তি উদযাপন

শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

বাপ্ নিউজ : মেলবোর্ন থেকে : অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে জমজমাট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘আনন্দধারা’র বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। ‘আনন্দধারা’ এক বছরেই মেলবোর্নে বসবাসরত বাংলাদেশিদের কাছে খ্যাতি পেয়েছে পূর্ণাঙ্গ এক সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় হিসেবে। সম্প্রতি বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে আনন্দধারার আর্ট-এর শিক্ষার্থীদের ছবি নিয়ে সাজানো হয় প্রদর্শনী।

Picture

প্রবাসী বাঙালি খুদে শিশুরা নেচে-গেয়ে মাতিয়ে দেয় সবাইকে। বাচ্চাদের বর্ণিল, ছান্দসিক নৃত্যে মুগ্ধ দর্শকদের অনেকের কাছেই মনে হয়েছিল এ জাঁকজমক সন্ধ্যাটি যেন নেমেছে মেলবোর্নে নয়, বাংলাদেশে। অনুষ্ঠান শেষে শিশুদের নৃত্যশিক্ষক সৈয়দা সায়েরা তার অসাধারণ এক জাদুকরি নৃত্য পরিবেশনায় উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন। সবশেষে গানের শিক্ষক সাদিয়া হামিদ নিঝুমের সুরের মূর্ছনা দর্শককে আচ্ছন্ন করে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।


অস্ট্রেলিয়ায় গুণীজন সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি আজাদ

শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

Picture

সম্প্রতি সিডনির বারউড আর এস এল ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এ বছরের বার্ষিক স্বেচ্ছাসেবক পুরস্কারের স্বীকৃতিপ্রাপ্তদের অনুষ্ঠান। প্রতিবছর ভলান্টারিদের অসামান্য অবদানের জন্য স্বীকৃতি সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হয়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সেন্টার ফর ভলান্টারির সিইও জিমা রেগেট। এছাড়া মন্ত্রী, এমপি ও কাউন্সিলরাও এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সেন্টার ফর ভলান্টারির সিইও জিমা রেগেট বলেন, স্বেচ্ছাসেবকরা অস্ট্রেলিয়ায় অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বছরে ২৯০ বিলিয়ন ডলার সেভ করে থাকে। স্বেচ্ছাসেবকদের এই কঠোর পরিশ্রম দায়িত্বশীলতার পরিচয় মেলে। অস্ট্রেলিয়ায় এই বছরে সব বিভাগ জুড়ে সম্মাননা দেয়া হয়।

australia

আবুল কালাম আজাদের গ্রামের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ীতে। তিনি সিডনি থেকে প্রকাশিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম নবধারার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। বর্তমানে আবুল কালাম আজাদ নিউ সাউথ ওয়েলস স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত। এছাড়াও তিনি হোয়াইট রিবন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাম্বাসিডর। মানষিক স্বাস্থ্য পিয়ার এডুকেটর, জাস্টিস অব দ্য পিস পদমর্যাদায় কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, আবুল কালাম আজাদ এ নিয়ে পাঁচবার এন এস ডব্লিউ ভলান্টারি অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন। সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৫০টিরও বেশি সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন আবুল কালাম আজাদ। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ান অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ড সার্টিফিকেট, সিটিজেন অব দ্য ইয়ার সার্টিফিকেট, হারমনি ডে অ্যাওয়ার্ড, স্টার অ্যাওয়ার্ড, কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড, পার্লামেন্ট অ্যাওয়ার্ড পুরস্কারসহ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।


সালমান শাহ্ র হত্যার বিচারের দাবীতে আলতাব আলী পার্কে মানববন্ধন

বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৭

alt

উল্লেখ্য যে , জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। প্রথমে এই হত্যাকান্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে এর বিচার কাজকে বিলম্বিত করা হয় । কিন্তু সময়ের কালক্রমে ধীরে ধীরে এটা একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রকাশিত হয় ।

Picture

ঘটনার অন্যতম আসামী রাবেয়া সুলতানা রুবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় নিজে খুনের সাথে সম্পৃক্ত বলে জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি আদালতের কাছেও জবানবন্দি দিতে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন; তাহলে আর সালমান হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে আইনি বাঁধা থাকার কথা নয়।

alt
মানব বন্ধনে বক্তাদের বক্তব্যে এই সব তথ্য জানানো হয় । বক্তারা যতদ্রুত সম্ভব রুবিকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মাধ্যমে তার জবানবন্দি রেকর্ড করত আসামীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।এই মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রয়াত নায়ক সালমান শাহর মা নীলা চোধুরী, মামা আওরঙ্গজেব বুলবুল , ছোটভাই শাহরিয়ান চৌধুরী বিল্টু ,নজরুল ইসলাম ভাষন , ডালিয়া লাকুরিয়া,শামসুল জাকি স্বপন, হুমায়ুন খান , প্রিন্স শাহেদ ,আজাদ খান , ফরিদা , সালমা, শিপার রহমান , মজিদ রহমান , রেহা আহমেদ , মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম , পিনাক রহমান প্রমুখ।


কানাডার টরন্টোয় ‘বাঙালি লেখক সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত

শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭

বাপ্ নিউজ : টরন্টো থেকে : ১৪ অক্টোবর শনিবার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাঙালি লেখক সম্মেলন ২০১৭। গতবারের মতো এবারও সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন বিপুল সংখ্যক কবি- সাহিত্যিক। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কানাডীয় কবি-সাহিত্যিকও বেঙ্গলি লিটারারি রিসোর্স সেন্টার (বিএলআরসি) আয়োজিত এবছরের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে সম্মেলন চলেছে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত।লেখক সম্মেলন নিয়ে বিএলআরসি’র নির্বাহী পরিচালক সুব্রত কুমার দাস সিবিএন’কে বলেন,  গতবারের লেখক সম্মেলনের চেয়ে এবারের লেখক সম্মেলনে লেখকদের সংখ্যা অনেক বেশি, উপস্থিত দর্শক এবং গুণগ্রাহীর সংখ্যাও অনেক বেশি। 

Picture

সাহিত্য সম্মেলনের মত এমন আয়োজনকে কানাডার বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশাপাশি অন্য কমিউনিটির মানুষরা উৎসাহিত করছেন, তাঁরা এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, বিএলআরসি’র পরবর্তী কর্মকাণ্ডেও সাহিত্যপ্রেমীরা এগিয়ে আসবেন। সকলে মিলে এই প্রবাসে বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করে যাবেন বলেও মনোভাব ব্যক্ত করেন সুব্রত। কানাডীয় সাহিত্যের পাশাপাশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় প্রজন্মের সাথেও সংযোগ স্থাপনের এই প্রচেষ্টা তাঁদের সংগঠন চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

IMG_7500

‘আমি খুবই আশাবাদী, আমার খুবই ভালো লাগছে, যে স্বপ্ন নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বল্প পরিসরে, আজ এই স্বপ্ন কানাডাতে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী যারা আছে তাঁদের কাছে সুন্দর রূপ পাচ্ছে। এবং আমি খুবই আশাবাদী আমাদের এই উদ্যোগ সম্পূর্ণরূপে সফল হবে’ – বলছিলেন বিএলআরসি’র বর্তমান সভাপতি ড. রাখাল সরকার।দেশে বিদেশে টেলিভিশন-এর প্রধান সম্পাদক এবং লেখক নজরুল মিন্টু সিবিএন’কে বলেন,  এত বড় একটি সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন দেখে অনেক ভালো লাগছে। দুই বাংলার লেখক-লেখিকা এবং কানাডার মূলধারার লেখকরাও যে আমাদের সাথে মত বিনিময় করেছেন, একে অন্যকে জানতে পেরেছি এতাইতো সবচেয়ে বড় পাওয়া। তাঁর ভাষ্য, ‘শুধু লেখকদের নিয়ে এমন আয়োজন খুব কম জায়গাতেই হয়। কানাডার মত জায়গায় এমন আয়োজন করতে পেরে আমি নিজেই গর্বিত’।
টরন্টো শহরের ৯ ডজ রোডের কানাডিয়ান লিজিয়ন হলে অনুষ্ঠিত এই লেখক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন কানাডীয় সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব টরন্টো পোয়েট লরিয়েট অ্যান মাইকেলস, বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক আসাদ চৌধুরী, কবি ইকবাল হাসান, লেখক ড. দিলীপ চক্রবর্তী, রাইটার্স ইউনিয়ন অব কানাডার নির্বাহী পরিচালক ঔপন্যাসিক, কবি ও কলামিস্ট জন ডেগেন এবং কানাডার সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রাইটারস ট্রাস্ট অব কানাডার নির্বাহী পরিচালক মেরি অসবর্ন। উদ্বোধনী পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিচেস-ইস্টইয়র্ক এলাকার এমপিপি আর্থার পটস।
সম্মেলনে কানাডার কবিতার বাংলা অনুবাদ নিয়ে ছিল একটি আড্ডা-পর্ব। এ পর্বে যে দুজন কানাডীয় কবি অংশ নেন তাঁরা হলেন রোনা ব্লুম এবং আনা ইয়িন। বাঙালি যে দুজন কবি ও অনুবাদক এ পর্বে অংশ নেন তাঁরা হলেন ঢাকা থেকে পারভেজ চৌধুরী এবং ভ্যাঙ্কুভার থেকে শাহানা আকতার মহুয়া।

IMG_7474
উল্লেখ করা যেতে পারে, এবার সম্মেলনে বিএলআরসি সাহিত্য পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। নতুন এই সংখ্যাটিতে কানাডার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত ৭২জন বাঙালি লেখকের রচনা প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, সংখ্যাটিতে কানাডার কেন্দ্রীয় হেরিটেজ মন্ত্রী মেলানি জলির শুভেচ্ছাবার্তা প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্য পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক গবেষক সুজিত কুসুম পাল সম্পাদকমণ্ডলীর অন্য সদস্যদের নিয়ে সংখ্যাটির পাঠ উন্মোচন করেন।বিভিন্ন পর্বে কবিতা, কথাসাহিত্য, প্রবন্ধসাহিত্য নিয়ে আলোচনা ও পাঠে অংশ নেন বাঙালি-অবাঙালি তরুণ ও প্রবীন কবি ও লেখক।কথাসাহিত্য পর্বে আলোচনায় অংশ নেন সৈয়দ ইকবাল, ফরিদা রহমান, সালমা বাণী, মামুনুর রশীদ, অটোয়া থেকে শাহিনুর ইসলাম এবং কুইবেকের লংগেইল শহর থেকে আব্দুল হাসিব।

IMG_7455

প্রবন্ধসাহিত্য পর্বে যে লেখকেরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তাঁরা হলেন হাসান মাহমুদ, রিসমন্ড হিল থেকে সুধীর, সৈকত রুশদী এবং নজরুল মিন্টো।কবিতা পর্বে পাঠ এবং আলোচনায় ছিলেন অশোক চক্রবর্তী, রূমানা চৌধুরী, শওকত সাদী, অটোয়া থেকে সুলতানা শিরিন সাজি, মৌ মধুবন্তী, শিউলী জাহান এবং মানজু মান আরা।লেখক সম্মেলনে টরন্টোর কয়েকজন বাঙালি সাহিত্যিক কথা বলেছেন যারা প্রধানত ইংরেজিতে লিখে থাকেন। ইংরেজিভাষী বাঙালি লেখকেরা হলেন: আয়েশা চ্যাটার্জী, শুক্লা দত্ত, শচী নাগ, দয়ালী ইসলাম, সঞ্চারী সূর এবং রেজা সাত্তার।

সম্মেলনে উপস্থিত লেখক ও দর্শকদের একাংশ; ছবিঃ নাদিম ইকবাল।

এছাড়ারও যে বাঙালি তরুণরা লেখক সম্মেলনে একটি পর্বে লেখালেখির অভিজ্ঞতার নিয়ে কথা বলেন তাঁরা হলেন অর্ক ভট্টাচার্য, সূচনা দাস বাঁধন, ব্রতী দাসদত্ত এবং মেরিলিন সামান্থা পাণ্ডে।অনুষ্ঠানের শুরুতে সকল অতিথি দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালনের মধ্য দিয়ে কানাডার বাঙালি কমিউনিটির প্রয়াত লেখক ড. মীজান রহমান, মোল্লা বাহাউদ্দিন, ড. জহিরুল ইসলাম, মাহফুজুল বারী এবং প্রশান্ত সরকারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।কবি ও লেখকদের পরস্পরের বই সম্পর্কে ধারণা লাভ এবং তাঁদের গ্রন্থ সম্পর্কে পাঠকদের ধারণা বৃদ্ধির জন্যে গতবারের মতো এবারও সম্মেলনে বিনা খরচে লেখকদের বই প্রদর্শন ও বিক্রির ব্যবস্থা ছিল।সম্মেলনে বিভিন্ন পর্ব পরিচালনায় ছিলেন আকবর হোসেন, চয়ন দাস, দেলওয়ার এলাহী, তাসমিনা খান, সারিয়া তানজিম সুমনা, অর্ক ভট্টাচার্য এবং অদিতি কাজী। সংগঠনের সচিব ফায়েজুল করিম সবাইকে ধন্যবাদ দেন।


ইতালির নাপোলিতে গার্মেন্টস শিল্পে বাংলাদেশিদের আধিপত্য

শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭

ইতালিতে বাংলাদেশিদের আগমন আশির দশকে, তবে তা ছিল হাতেগোনা। নব্বই দশকের পর ইতালিতে বাড়তে থাকে বাংলাদেশির সংখ্যা। তবে ইতালিতে সরাসরি ভিসা বন্ধ থাকায় অধিকাংশ সময় তারা বেছে নেন ঝুঁকিপূর্ণ গ্রিস ও লিবিয়ার সীমান্ত।

শুরু থেকেই ইতালিতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশিদের বাস রোম, মিলান, ভেনিস, মেরানো, সিসিলিয়া, পাদোভা, আনকোনা, লাতিনা ও সালেরনো এসব শহরে। তবে এদের সবাইকে ছাড়িয়ে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছে বন্দরনগরী নাপোলিতে। আর এই নাপোলিতেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা গড়ে তুলেছেন বেশ কিছু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি।

নাপোলির পালমা কোম্পানিয়া, সানজেননারো, সানজুসেফফেসহ অন্যান্য স্থানে বাংলাদেশি মালিকানায় প্রায় ৩৭০টিরও বেশি ছোট-বড় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। ফ্যাক্টরিগুলোতে বেশিরভাগ শ্রমিকই বাংলাদেশি। এতে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। নাপোলির ওইসব এলাকার বেশকিছু বাংলাদেশি মালিকানাধীন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে পুরুষের পাশাপাশি অনেক নারী শ্রমিকও কাজ করছেন। ইতালির আইন মেনেই চালাতে হয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। তবে শ্রমিকদের সাথে পুরোপুরি নিয়ম মেনে কন্ট্রাক্ট বা চুক্তি করতে হলে মালিকপক্ষকে অনেক বেশি ট্যাক্স গুনতে হয়। তাও সবার সঙ্গে চুক্তি করা মালিকদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই শ্রমিকদের মধ্যে এ ব্যাপারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

Picture

তারা বলেন, এখানে আমরা যারা কাজ করছি আমাদের অনেকেরই ইতালির স্থায়ী বসবাসের পারমিট বা অনুমতি নেই, যার ফলে স্থানীয় আইন অনুসারে কন্ট্রাক্ট করা সম্ভব হয় না। এতে করে অন্য শ্রমিকদের তুলনায় আমরা অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আছি। পরিশ্রমের যে ন্যায্য পাওনা তা থেকে আমাদের পুরোপুরি দেয়া হয় না। এত কষ্টের ভেতরেও জীবিকার জন্য এসব কাজ করে যাচ্ছি। কারণ ইতালির অর্থনৈতিক মন্দার কারণে কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। মাস শেষে থাকা-খাওয়ার খরচ উপার্জনের কথা ভেবে এবং দেশের পরিবারের কথা মাথায় রেখে আমাদের কাজ করতে হয়।

নাপোলিতে এসব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় ইতালিতে অনেক বাংলাদেশি দক্ষ শ্রমিক রয়েছে। তারা বলেন, এসব ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত বস্ত্র ইতালি ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, পর্তুগালসহ অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা হয়। ইউরোপের গার্মেন্টস শিল্পের বাজারে বাংলাদেশিদের অনেক সুনাম হয়েছে। যার ফলে নাপোলির সব জায়গায় বাংলাদেশি মালিকানায় এরইমধ্যে ছোট-বড় শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে। একসময় এখানে চীনাদের বিশাল বাজার ছিল, তা এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। সেই বাজার এখন বাংলাদেশিদের কাছে আসছে।

এই মালিকরা আশা করেন বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা পেলে এখানে তারা আরও বেশি ভালো করতে পারবেন। যে সমস্যাগুলো রয়েছে তা দু’দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়িয়ে সমাধান করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন। তারা আরও জানান, দেশের কিংবা ইতালির বিত্তবানরা গার্মেন্টস শিল্পের জন্য এগিয়ে এলে নাপোলিতে গার্মেন্টস শিল্পে বাংলাদেশিদের একক আধিপত্য বিস্তার করা সম্ভব হবে। এই শিল্প থেকে বাংলাদেশিরা যেমন রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখছেন, তেমনি ইতালির অর্থনীতিতেও তারা বিশেষ অবদান রাখছেন।


ফ্রাঙ্কফুর্টে বঙ্গবন্ধু বইমেলা

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

বিটু বড়ুয়া, ফ্রাঙ্কফুর্ট, বাপ্ নিউজ : জার্মানি থেকে : দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জার্মানিসহ ইউরোপের আরও বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু বইমেলা। ফ্রাঙ্কফুর্টের স্থানীয় একটি মিলনায়তনে জার্মান বাংলা সোসাইটি ও আওয়ামী লীগের হেসেন শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলার কর্মসূচির মধ্যে ছিল বাংলাদেশি বিভিন্ন গ্রন্থের প্রদর্শনী, সাহিত্য সভা, প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

Picture

গতকাল শনিবার (১৪ অক্টোবর) এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।সংক্ষিপ্ত এক আলোচনায় জার্মান বাংলা সোসাইটির সভাপতি ও মেলার উদ্যোক্তা হামিদুল খান ও আওয়ামী লীগের হেসেন শাখার সভাপতি কামাল ভূঁইয়া বলেন, শিল্পসাহিত্য, সংস্কৃতি ও বাংলার সত্যিকারের ইতিহাস তুলে ধরে বাংলাদেশ ও জার্মানির চলমান সম্পর্ক আরও জোরদার করাই মেলার আয়োজনের উদ্দেশ্য।মেলায় স্টলঅন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন রোকেয়া রোথে, মাবু জাফর স্বপন, কাজল দাস, খালেকুজ্জামান ও আবদুর রশিদ প্রমুখ। তারা বলেন, ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। কিন্তু হত্যা করতে পারেনি তাঁর সৃষ্টির অনবদ্য ইতিহাসকে।এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লেখা গণতন্ত্র, দারিদ্র্যতা ও শান্তি বিষয়ে লেখা বইটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জার্মানি সফররত বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. শামসুজ্জামান খানসহ স্থানীয় জার্মান ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের প্রবাসীরা ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন কারিন, সুইবিলে, উশি, র্হোস্ট, ক্লাউস ও মানি। রোহিঙ্গা সমস্যা ও উত্তরণ বিষয়ে প্রবন্ধ পাঠ করেন অঙ্কুর প্রকাশনীর পরিচালক ও লেখক মেসবাহউদ্দিন আহমেদ।

লাবণি ভূঁইয়া ও শান্তার কবিতা আবৃত্তি দিয়ে শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান পরিবেশন করেন ৯৩ বছর বয়সী জার্মান গায়িকা গিজেলা নুইমান ও কারো কনরাডসহ অন্যান্যরা। ছিল ছদরুল ও তার দলের বাউল গানের সুন্দর পরিবেশনা।


প্রধান বিচারপতিকে পদত্যাগ করাতেই অভিযোগের নাটক: সুইডেন বিএনপি

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

জাকির হোসেন, বাপ্‌স নিউজ : স্টোকহোম থেকে: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সুইডেন শাখা ১৬ই অক্টোবর সোমবার সেপ্টেম্বর রাজধানী স্টোকহোমে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে।

সুইডেন বিএনপির সভাপতি এমদাদ হোসেন কচির সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক নাজমুল আবেদীন মোহনের পরিচালনায় এই প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের প্রধান উপদেষ্টা মহিউদ্দিন আহমেদ জিনটু, মো: বাহার, মিজানুর রহমান, শাহানশাহ সোহেল, নাজমুল ভূঁইয়া, আফতাব জায়গীরদার, মো: শিপার প্রমুখ।

এতে চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সুইডেন বিএনপির সভাপতি এমদাদ হোসেন কচি বলেন জনরোষের ভয়ে অবৈধ সরকার পাগল হয়ে গেছে। তারা দিকবিদিক হারিয়ে একের পর এক হাস্যকর মামলায় দেশনেত্রীকে হয়রানির অভিপ্রায়ে মিথ্যা, বানোয়াট এবং আজগুবি মামলা দিচ্ছে।

সাধারন সম্পাদক নাজমুল আবেদীন মোহন বলেন প্রধান বিচারপতিকে এখন চূড়ান্তভাবে পদত্যাগ করাতেই হঠাৎ করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের নাটক সাজানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতি সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি তার বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ পেয়েই থাকেন, তিনি কেন সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ করলেন না? নিয়ম হলো, প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ উঠলে অভিযোগগুলো রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের জুডিশিয়াল বিভাগে তদন্তের জন্য পাঠাবেন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অপসারণ করবেন। আর প্রমাণ না হলে তাকে স্বপদে বহাল রাখবেন।

প্রধান উপদেষ্টা মহিউদ্দিন আহমেদ জিনটু বলেন আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করে ক্ষমতায় এসেছিল। তাই তারা গণতন্ত্রকে ভয় পায়। এই ভয়ের কারণেই তারা সংবিধানসহ আইন কাঠামো পর্যন্ত ধ্বংস করে দিয়েছে।

প্রতিবাদ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন সুইডেন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন, মোহাম্মদ হারুন, শরিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান এমি, আজিম খান। মাকসুদুল হক আফতাবি, মজনু,  আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো: কায়জার, সাইফুলমিথুন, আনোয়র হেলাল উদ্দীন হেলু, আশরাফুল, সুইডেন যুবদলের সভাপতি মো: লিংকন,  সাধারন সম্পাদক মো: খোকন, সুইডেন ছাত্রদলের সভাপতি নিক্সন, সাধারন সম্পাদক মাকসুদ।


বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে প্যারিসে মানববন্ধন

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

বাপ্ নিউজ : প্যারিস থেকে : বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধের দাবিতে প্যারিসের রিপাবলিক চত্বরে মানববন্ধন করেছে প্যারিস বাংলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা। শনিবার বিকালে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।বক্তারা বলেন, যারা বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে আলাদা আসীনে তুলে ধরার চেষ্টা করছে তাদের ওপর পুলিশের হামলা সভ্য সমাজে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। এ সময় তারা মানবজমিনের ফটোগ্রাফার নাসির উদ্দিনের ওপর পুলিশের হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান।

Picture

প্যারিস বাংলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনায়েত হোসেন সোহেলের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক লুৎফুর রহমান বাবুর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অল ইউরোপিয়ান বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহির, প্যারিস বাংলা প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক নয়ন মামুন প্রমুখ।


মুুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ গ্রন্থ ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ নিয়ে কানাডায় প্রাণবন্ত আলোচনা

শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৭

বাপ্ নিউজ : টরন্টো থেকে : মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরন নবী রচিত ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ গ্রন্থ নিয়ে টরন্টোয় স্থানীয় মিজান কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। দীর্ঘ ছুটির শনিবার সন্ধ্যায় অডিটোরিয়ামে একে একে শ্রোতাদর্শক পিনপতন নীরবতায় শুনলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অসমসাহসী কাহিনীর সাথে গ্রন্থে উল্লেখিত অনেক অজানা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর প্রামাণিক বয়ান।
‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ গ্রন্থ নিয়ে আলোচনা করেন কথাশিল্পী সালমা বাণী, সাহিত্যিক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক তাজুল মোহাম্মদ, কবি ড. দিলারা হাফিজ ও লেখক ড. নূরন নবী। সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ চৌধুরী। কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, ড. নূরন নবী শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই না বরং একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীও। ভাবা যায় একজন বিজ্ঞানী ড. নূরন নবীর আবিষ্কৃত পেটেন্টই ৫৫ টি! ভাগ্যিস আমরা তাঁকে কাছে পাই।’ তিনি আরো বলেন, ‘দুর্নীতি পরিহার করে, বৈষম্য ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এখনই আমাদের জাতীয় স্বার্থে সকলে মিলে কাজ করা ছাড়া এতো বড় ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধের সফলতার স্বাধীন বাংলাদেশের সাফল্য পাওয়ার আর কোনো বিকল্প পথ নেই।’

Picture
কথাশিল্পী সালমা বাণী বলেন, ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ গ্রন্থটি সাহিত্যমর্যাদায় যেমন উত্তীর্ণ, তেমনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তুলনাহীন’।লেখক সুব্রত কুমার দাস বলেন, ‘নিজে অনেক ঘটনার সাথে জড়িত; এমনকি স্বয়ং ঘটনার নায়ক হয়েও কীভাবে ‘আমি’কে আড়াল করতে হয় লেখক এই গ্রন্থে তা দেখিয়েছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের অনেক নায়কের অনেক কালো অধ্যায় ও ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। নিজের দ্বিধান্বিত মনে অনেক প্রশ্ন জমা ছিল। উত্তর পাইনি। এই বইটি পাঠ করে সেই উত্তর যেমন পেয়েছি; তেমনি মনে জমে থাকা অনেক সংশয় দূর হয়েছে।’মুক্তিযুদ্ধ গবেষক তাজুল মোহাম্মদ বলেন, ‘এই অমর কাহিনীগল্প শুধুই গল্প নয়; একটি জাতির ইতিহাসও। এই গ্রন্থের কাহিনীকার এমন এক ব্যক্তি যিনি ষাটের দশক থেকে ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের যুদ্ধে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন।’ তাজুল মোহাম্মদ সবাইকে আহবান জানান যার যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতি আছে, ঘটনা আছে বা গল্প আছে তা এখনই লিপিবদ্ধ করে রাখতে। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধপরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশের অনেক অজানা কাহিনীর অসামান্য বর্ণনার এই গ্রন্থটি রচনার জন্য ড. নবীকে আমাদের সকলের পক্ষ থেকে অভিবাদন, অভিবাদন, অভিবাদন।’
কবি ড. দিলারা হাফিজ বলেন, ‘হৃদয় ছোঁয়া বর্ণনায় আমাদের সবচেয়ে গৌরবের দিনগুলোর ঐতিহাসিক ঘটনাবলির সংকলন এই ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ গ্রন্থটি। আমার কাছে ড. নূরন নবী শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই নন; আমার স্বামী কবি রফিক আজাদের সহযোদ্ধা হিসেবে আলাদা মর্যাদায় আসীন। আমি তাঁকে অভিবাদন জানাই এই গ্রন্থটি রচনার জন্য।’ কবি রফিক আজাদের মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট না নিয়ে পরবর্তীকালে যে বিড়ম্বনা তিনি ভোগ করেছেন তা থেকে পরিত্রাণের জন্য এবং বংশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মর্যাদার জন্য হলেও ড. নবীকে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেটটি সংগ্রহ করে রাখতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন।

alt
শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ড. নূরন নবীর ভগ্নিসম কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান কাদের সিদ্দিকীর বোন সেলিনা সিদ্দিকী সুশু। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লেখক শিল্পী সৈয়দ ইকবাল। ড. নূরন নবীর সহধর্মিণী মুক্তিযোদ্ধা ড. জিনাত নবী তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ‘ড. নূরন নবীর সাথে পরিচয়, পথ চলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে। ছাত্র রাজনীতির দুটি আদর্শিক দলের সাথে আমরা দুজন যুক্ত ছিলাম। কিন্তু আমাদের পারস্পরিক সম্মান-শ্রদ্ধা প্রকাশে দলের ভিন্ন আদর্শ কখনোই বাঁধা হয়নি। নবীর আচরণেই এই সম্মানবোধটা প্রকাশ হয়ে পড়তো। আমরা দুজনেই দুইভাবে মুক্তিযুদ্ধের সাথে যুক্ত ছিলাম। দুজনেই পিএইচডি করতে জাপান যাই। আমাদের পথ চলা একই গন্তব্যকে কেন্দ্র করে, আমরা দুজন সারা জীবনের বন্ধু!’
মুক্তিযোদ্ধা ড. জিনাত নবীর বক্তব্যের পর মিলনায়নের সকলে দাঁড়িয়ে তাঁর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
সবশেষে লেখকের বক্তব্যে ড. নূরন নবী সবাইকে ধন্যবাদ জানান। ধন্যবাদ জানান তাঁর স্ত্রী ড. জিনাত নবী বকুলকে; যিনি বন্ধু হয়ে তাঁর পাশে আছেন ও সকল কাজে সহযোগিতা ও প্রেরণা দান করে যাচ্ছেন। ড. নবী সকল আলোচকবৃন্দকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। গভীর কৃতজ্ঞতা জানান সভাপতি কবি আসাদ চৌধুরীকে। যাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি আলাদা মর্যাদা পেয়েছে। উপস্থিত শ্রোতাদর্শককে ধন্যবাদ জানিয়ে নবী বলেন, ‘আমি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে মুক্তিযুদ্ধের অজানা কাহিনী লিপিবদ্ধ করে যাচ্ছি নতুন প্রজন্মের জন্য। যাতে তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা অথচ সত্য কাহিনী জানতে পারেন।’ পরিশেষে তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আলোচনা অনুষ্ঠানটি গ্রন্থনা ও সঞ্চালনা করেন দেলওয়ার এলাহী।


বাংলাদেশিদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেনি টরন্টোর মিয়ানমার কনস্যুলেট

শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৭

বাপ্ নিউজ : অবিলম্বে নির্যাতন বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিতে কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেনি টরন্টোর মিয়ানমার কনস্যুলেট অফিসের কর্মকর্তারা।বাংলাদেশিদের একটি প্রতিনিধি দল কনস্যুলেট কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের মেইল বক্সে স্মারকলিপিটি রেখে আসে। এর আগে সকাল ১০টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত মিয়ানমার কনস্যুলেটের নিকটস্থ ৮৭৭৯ ইয়াং স্ট্রিটে এক প্রচার বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় রোহিঙ্গা নির্মূল বন্ধে মিয়ানমারকে বাধ্য করা, অবিলম্বে দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা, বাংলাদেশের এই মানবিক দায়িত্ব পালনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমর্থন আদায় করা, কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ঘটমান মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর বর্বর-জাতি-বিদ্বেষমূলক অমানবিক ঘটনার বিরুদ্ধে সারা পৃথিবীকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াবার আহ্বান সম্বলিত ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টার বহন করা হয়।

Picture

বিক্ষোভ শেষে আজিজুল মালিক এবং নাসির উদ দুজা সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিক্ষোভের সমাপ্তি ঘোষণা করেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে উল্লেখ করেন। বিক্ষোভ সমাবেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক উদ্যোগ (পিডিআই)-সহ বিভিন্ন বামপন্থী দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এছাড়াও বিশিষ্ট কবি আসাদ চৌধুরী, আব্দুল আউয়ালসহ উদীচী, বাচনিক, এবাকানসহ বিভিন্ন সংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।