Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

প্রবাসীদের খবর

ডেনমার্কের সাব্বির মুন্সী কে অব্যাহতি

রবিবার, ১৪ মে ২০১৭

বাপ্ নিউজ : সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক এম,এ,গনি স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলেন ,- সাব্বির আহমেদ  কে  ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ এর সকল  পদ ও প্রাথমিক সদস্য  থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। সাব্বির আহমেদ এর বিরুদ্ধে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত পূর্বক একজন রোহিঙ্গা প্রমাণিত  হওয়ায় ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্য থেকে অব্যাহতি প্রদান  করা হল। দীর্ঘদিন ধরে সোস্যাল মিডিয়ায় ইউরোপ আওয়ামী লীগ এর শীর্ষ  নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কুৎসিত কটূক্তির অভিযোগ ছিল। সেই অভিযোগ ও প্রমাণিত হয়।  একজন রোহিঙ্গা  জাতিগত ভাবে মায়ানমার দেশের নাগরিক।জাতিগত ভাবে অন্য দেশের কোন  নাগরিক  আওয়ামী লীগ কোনরূপ সদস্য হইতে  পারিবে না। সাব্বির আহমেদ এর অব্যাহতি  অদ্য ১১ মে থেকে  কার্যকর বলিয়া  গণ্য  হইবে ।দীর্ঘদিন ধরে পরিচয় গোপন করে আওয়ামী লীগ এর পদ ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হইবে। আগামীতে ইউরোপ আওয়ামী লীগ কে মজবুত ও শক্তিশালী করার জন্য যে কোন সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে আরো বেশি কঠোর হবেন বলে উল্লেখ করেন। কেননা সুশৃঙ্খল কর্মীও নেতাদের মাধ্যমে সংগঠন শক্তিশালী হয়। জাতির জনকের আদর্শ বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সংগঠনে ঘাপটি মেরে থাকা বেঈমান মুনাফেকদের চিন্নিত করে শাস্তির আওতায়  আনতে হবে।


ব্রিসবেনে নানান আয়োজনে বৈশাখী মেলা|| উপচে পড়া ভীড়

রবিবার, ১৪ মে ২০১৭

alt

এই আমি যখন বিদেশ বিভুঁইয়ে বৈশাখী মেলার কথা শুনি, মঙ্গল শোভাযাত্রার কথা শুনি, পিঠা পুলির কথা শুনি, বাংলাদেশিদের নাচ গান আবৃত্তির কথা শুনি, তখন কি আর বসে থাকতে পারি? গত ৬ মে শনিবার আমাদের ব্রিসবেন শহরের স্টেফোর্ডের কিয়ং পার্কে হয়ে গেল এখানকার বাঙালিদের সবচেয়ে বড় মেলা, যে মেলার জন্য সারা বছর মানুষ প্রতীক্ষায় থাকে, সেই বৈশাখী মেলা | প্রতিবারের মতো এবারও মেলার আয়োজনে ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন ব্রিসবেন | এবারই প্রথমবারের মতো মেলা চলেছে সারা দিন জুড়ে | সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত | অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে মেলার প্রথম পোস্টার যখন ছাড়া হলো, আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না | বলে কী? সারা দিন অনুষ্ঠান করার মতো কলাকুশলী এবং শিল্পী ব্রিসবেন শহরে পাবে কোথায়?

Picture

এ বছর মেলায় আরেকটি নতুন সংযুক্তি ছিল বাংলা ব্যান্ডের ওপেন এয়ার কনসার্ট | সকাল ১১টায় মেলার মাঠে পৌঁছে দেখি বিশাল কিয়ং পার্কের চারপাশে ১৫-২০টি স্টলে বাঙালি খাবার, গয়নাগাটি ও পোশাক আশাকের সমারোহ | কয়েকটি স্টলে ইলিশ পান্তা আর ভর্তার আয়োজনও দেখলাম | চায়ের আয়োজনও ছিল | অনুপদা ও আমার কাছে এই চায়ের দোকানটি অল্পক্ষণের মাঝেই প্রিয় হয়ে উঠেছিল | কন্ডেন্সড মিল্কের এই চা কমপক্ষে পাঁচবার তো খেয়েছি | এইবারই প্রথম দেখলাম বাংলাদেশিদের স্টলের পাশাপাশি ৩-৪টি বিদেশি স্টলও মেলায় যোগ দিয়েছে | কিয়ং পার্কের বিশাল সবুজ প্রাঙ্গণ চেহারা বদলিয়ে মেতে উঠেছিল লাল, সাদা আর বাসন্তী রঙে | পায়জামা পাঞ্জাবি পড়ে ছোট ছোট বাচ্চারা বাবা-মায়ের হাত ধরাধরি করে হাঁটছে, ফুচকা খাচ্ছে | কী অপূর্ব সুন্দর লাগছিল সবাইকে! অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান শামিমের তথ্য মতে এবার প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি এবং আড়াই শ বিদেশি মেলায় এসেছিলেন | আমার এত বছরের ব্রিসবেন জীবনে এত বাঙালির সমাগম একসঙ্গে আগে কখনো দেখিনি |

alt

স্টল দেখতে দেখতে হঠাৎ আমার চোখ আটকে গেল অ্যাসোসিয়েশনের স্টলের পাশের জাকারান্ডা গাছের নিচে মাদুরের ওপর রাখা একটি ডোনেশান বক্সের ওপর | আমাদের জয় সেখানে বসে আছে | পাশে তার দুই শিশুপুত্র | বাক্সে লেখা—সুনামগঞ্জ হাওরের দুর্গতদের জন্য সাহায্য করুন | জয়ের মতো আমি নিজেও হাওর পাড়ের মানুষ | জয় জানাল, সে পাকা ফলের ভর্তা বানিয়ে বিক্রি করছে | বিনিময়ে যা পাবে সব সুনামগঞ্জের দুর্গতদের কাছে পাঠিয়ে দেবে | অনুপদা আমাদের পরিচিত সকলকে উৎসাহিত করছেন | অনেককেই দেখলাম ৫-১০ ডলারের বিনিময়ে ভর্তা কিনে খাচ্ছেন | জয়ের দুই শিশুপুত্রকে দেখলাম ডোনেশান বাক্সে টাকা ভরছে | পরম মুগ্ধতায় উদ্ভাসিত তাদের চোখমুখ | দেশের জন্য কিছু করার এমন প্রত্যয় আর শিক্ষা নিয়েই আমাদের সন্তানেরা বেড়ে উঠুক |

alt

গত বছরের মেলায় অতিথি হয়ে এসেছিলেন কুইন্সল্যান্ড সরকারের মন্ত্রী ড. অ্যান্থনি লেইনহ্যাম | এবারেও তাঁকে অতিথি করা হয়েছে | তিনি আমাদের সঙ্গে মঙ্গল শোভাযাত্রায়ও অংশ নিলেন | সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুনমুন আফরোজ ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান শামিমের যৌথ পরিচালনায় এই পর্বটি খুবই উপভোগ্য ছিল | ছোট ছোট বাচ্চারা নেচে গেয়ে শোভাযাত্রায় ঘুরল | আমরাও ঘুরলাম | শোভাযাত্রার ঘুরতে ঘুরতে মনের অজান্তে চলে গিয়েছিলাম শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ফেলে আসা বৈশাখী মেলার দিনগুলোতে |

১৯৯৮ থেকে ২০০১ সালের বৈশাখী মেলায় সারা সিলেট শহর যেন নেমে আসত ক্যাম্পাসের এক কিলোতে | বাসন্তী রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবি আর বেলি ও গোলাপ ফুলে একাকার হয়ে যেত চারদিক | বর্ষবরণের গানগুলোর মাঝে এখনো কানে বাজে মাকসুদের সেই বিখ্যাত গান—‘লেগেছে বাঙালির ঘরে ঘরে একি মাতন দোলা, লেগেছে সুরেরই তালে তালে হৃদয় মাতন দোলা’ | মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষে, অ্যান্থনি লেইনহ্যাম খুব সংক্ষিপ্ত একটি বক্তব্য রাখেন | এখানকার মন্ত্রীদের কথা বরাবরই খুব উপভোগ্য হয় | তারা আমাদের দেশের মন্ত্রীদের মতো বাচাল না | দুই-চার বাক্যে যা বলার সব বলে দেন | এই ভদ্রলোকের কথা আমি আগেও কয়েকবার শুনেছি | আজকে আবার বিমোহিত হলাম | কয়েকটি বাক্যে তিনি বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে পুরোপুরি তুলে ধরলেন | খুব স্পষ্ট করে বললেন যে, ‘তোমাদের সংস্কৃতি অনেক কালারফুল এবং সমৃদ্ধ’ | 

alt

শিশুদের উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণকে তিনি খুব প্রশংসা করলেন | এক ফাঁকে তার সরকার যে বহু সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে এবং বাঙালি সংস্কৃতি যে তার সরকারের বহু সংস্কৃতি নীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে, তা বলতেও ভোলেননি | আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি অ্যান্থনি লেইনহ্যামের অংশগ্রহণ এবং এমন স্বীকৃতি ব্রিসবেন বাঙালি কমিউনিটির জন্য একটি বড় পাওয়া | কারণ আমাদের কমিউনিটির বয়স এখন ২৫ বছরেরও বেশি | আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্ম ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রবেশ করা শুরু করেছে | মন্ত্রীর এমন বক্তব্য তাদের মনে অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে |

এর পরের টানা দেড় ঘণ্টা একে একে গান, নাচ, আবৃত্তি আর অভিনয় মাতিয়ে গেল ব্রিসবেনের বাঙালি শিশুদের কমিউনিটি স্কুল ‘ব্রিসবেন বাংলা স্কুল’-এর ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা | এখানে কিছু কথা বলা প্রাসঙ্গিক | বিদেশে আসার পর অনেকের কাছে প্রায়ই একটি কথা শুনতে হয়, বাংলা সংস্কৃতির চর্চা নাকি দেশের বাইরে হয় না | বিশেষ করে বিদেশে যে সব ছেলেমেয়েরা বড় হয়, তারা নাকি বাংলা সংস্কৃতি তেমন জানে না, রীতিনীতি মানে না, আদবকায়দাও জানে না | তাদের যতই বাংলাদেশি রীতিনীতিতে দীক্ষিত করা হোক, তারা তা মেনে চলতে চায় না বা পারে না | এইতো কিছুদিন আগেও বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস এসেছিলেন আমাদের গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ে | একটি ভিডিওতে দেখলাম, ব্রিসবেনের কমিউনিটি সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বাংলা স্কুলের শিশুদের নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘প্রথম জেনারেশন দেশীয় সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করে যায়, সেকেন্ড জেনারেশনে এসে সেটা আর থাকে না।’ কথাটি শুনে খুব বড় একটা ধাক্কা খেয়েছিলাম | তাহলে কি আমাদের বাচ্চারা বাংলাদেশের কোনো কিছুই ধারণ করবে না? এটা কী ঠিক? আমার কিন্তু তা মনে হয় না |

alt

মেলার এই পর্বে আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্ম বাঙালি সংস্কৃতিকে যেভাবে উপস্থাপন করল, নিজ চোখে সেটা না দেখলে বিরাট একটি অতৃপ্তি থেকে যেত | প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন ছোট ছোট বাচ্চা ছেলেমেয়ে নাচ-গান, আবৃত্তি ও অভিনয়ে পুরো স্টেজ মাতিয়ে রাখল | শুদ্ধ উচ্চারণে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশের ষড়্ঋতুর যে বর্ণনা দিল তা সত্যি মনে রাখার মতো | আর এদের নাচ এবং গানের কথা কী বলব? ‘আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে’—আরিয়ান, সাবেহ ও নীল অসম্ভব সুন্দর করে গাইল | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চল রে’ নিয়ে এল আমাদের জারিবা এবং তার বন্ধুরা | এদের গানের ঘোর কাটতে না কাটতেই লামিয়া, আবসারা, মালিহা, অরিন পরপর নিয়ে এল অনেকগুলো নাচ | সুন্দর সুন্দর সব গানের সঙ্গে যেমন ‘ধিমতানা’ (যাও বলো তারে, মেঘের ওপারে বৃষ্টি বন্দনা জুড়ে ধরণিতল), ‘আকাশে-বাতাসে চল সাথি উড়ে যাই চল ডানা মেলে’ অথবা ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’ ওরা খুব সুন্দর করে নাচল | ‘সোহাগ চাঁদ বদনী ধ্বনি নাচো তো দেখি’ গানের তালে তালেফা রিশা ও তার বন্ধুদের নাচ দেখতে দেখতে হুমায়ূন আহমেদের একটি নাটকের দৃশ্য মনে পড়ে গেল যেখানে শাওন এবং একদল গায়ক-গায়িকা এই গানটির তালে তালে নাচছেন | আজ মনে হলো আমাদের ফারিশা এবং তার বন্ধুরাও শাওনের দলটি থেকে কোনো অংশে কম না। নাচের এই পর্বে আমি এবং আমার মেয়ে রিদার জন্য অপেক্ষা করছিল সবচেয়ে বড় বিস্ময় | রিদার বান্ধবী সাহার ‘ভালো করিয়া বাজান গো দোতারা সুন্দরী কমলায় নাচে’ এই গানের সঙ্গে কী অপূর্ব করে নাচল | ওর নাচ এবং নাচের সাজে দেখে রিদা আস্তে করে আমাকে বলল, বাবা দেখো সাহারকে একদম ছোট একটা বাঙালি কনের মতো লাগছে | এখানে মনে রাখতে হবে, এই ৩০ থেকে ৪০ জন ছেলেমেয়ের সবাই এখানে জন্মেছে | এখানকার স্কুলে পড়াশোনা করে | এদের কারও বয়স ১০ বছরের বেশি নয় | শুধু তাই নয়, আমাদের এই দ্বিতীয় প্রজন্ম যাদের বয়স পনেরোর ওপরে তারাও মেলায় এসেছে পুরো বাঙালি সেজে | অনেক ক্ষেত্রে আমাদের থেকেও এদের বেশি বাঙালি মনে হয়েছে | এরা স্টেজে যা করে দেখাল তা আমাদের অনেকেই কখনো করেছে বা করতে পারবে বলে মনে হয় না | ব্রিসবেনের বাঙালি শিশুদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির শক্ত এই গাঁথুনিটি গড়ে দেওয়ার কৃতিত্বের অনেকটাই বাংলা স্কুলকে দিতে হবে |

alt

নাসিমা কালাম মিতুর উপস্থাপনায় এর পরের পর্বটি সাজানো হয়েছিল মূলত আমাদের কমিউনিটির নিজস্ব শিল্পীদের নিয়ে | জেডি, এলিন শারমিন, কুশল, মাহবুব, লাজ পারিশা, মিথুন, বন্দিতা, প্রিন্স, মাইশা রহমান, অজয়, রুদ্র শোভন, কান্তা ও পাশা প্রমুখ প্রায় দুই ঘন্টা নাচ গান এবং আবৃত্তি দিয়ে আমাদের আবিষ্ট করে রেখেছিল | এই পর্বে ব্রিসবেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে | তবে ব্রিসবেন বাংলা রেডিওর নিয়মিত কয়েকজন শিল্পীর পরিবেশনা আমাকে বেশি আকৃষ্ট করেছে | বিশেষ করে অবনি মাহবুবের গান এবং স্বাগতা দাসের আবৃত্তি ভোলার মতো নয় | অবনি তার মতো করেই রবীন্দ্রসংগীত গেয়েছেন কিন্তু স্বাগতা মহাভারতের চরিত্র দ্রৌপদীর নিজস্ব কিছু কথা নিয়ে লেখা একটি কবিতা এবং পশ্চিমবঙ্গের জেলা বাঁকুড়ার আঞ্চলিক ভাষার আরেকটি কবিতা পড়ে আবৃত্তির যে কারুকাজ দেখালেন, তা খুব সচরাচর চোখে পড়ে না | এই পর্বে আরও দুজন শিল্পীর পরিবেশনা আমার অনেক দিন মনে থাকবে | সুচরিতা দাস এবং ইমন চৌধুরী | সুচরিতা দাস ব্রিসবেনের খুব পরিচিত একজন শিল্পী | অনেক অনুষ্ঠানে তাকে একাই পাঁচটি সাতটি গান গাইতে আমি দেখেছি। ইমন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষক, এখানে কিউইউটিতে পিএইচডি করছেন | ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে কখন আপনি’ গানের তালে তার মনকাড়া নৃত্য দেখে আমার পাশে দাঁড়ানো এক অস্ট্রেলিয়ান দর্শকের অভিমত সোজা বাংলায় অনুবাদ করলে হয়-আমি জীবনে খুব কম এমন সুন্দর নৃত্য দেখেছি |

alt

এই পর্বের সমান্তরালে বাচ্চাদের আঁকিবুঁকি, ফানগেম এবং পেইন্টিংয়ের আরেকটি পর্ব চলছিল | অনেকেই বাচ্চাদের গালে হাতে তুলি আর রঙের ব্যবহারে নানান রঙের আলপনা আর ফুলের চিত্র এঁকে দিচ্ছেন | ছবির মতো সুন্দর এই বাচ্চাগুলো গালে, হাতে আলপনা নিয়ে নিয়ে চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে | কী অপূর্ব রকম ভাবে মানিয়ে গিয়েছিল! আমার মেয়ে রিদা তার বান্ধবী সাহারকে নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে ছবি আঁকল | রিদা সাধারণত প্রকৃতির ছবি আঁকে | মেলায় লাল সাদার এত জমকালো উপস্থিতি দেখেই হোক অথবা সাহারকে বাঙালি পোশাকে দেখেই হোক, সে লাল সাদার জমিনে কুলা এবং প্রজাপ্রতির ছবি আঁকল | এই পর্যায়ে এসে হঠাৎ খেয়াল করলাম, মেলার মাঠ লোকে লোকারণ্য | কারণটি অবশ্য আগেই জানা ছিল | তাই অবাক হইনি | মুনমুন আফরোজের পরিচালনায় ঠিক ৪টা থেকেই স্টেজে ওঠার কথা ছিল নব্বই দশকের জনপ্রিয় উইনিং ব্যান্ডের বর্তমান ভোকালিস্ট ও গিটারিস্ট জামান আলী চন্দন |

বাংলাদেশ থেকে কোনো জনপ্রিয় শিল্পী এখানে আনতে অনেক খরচের হিসাব করতে হয় | সাধারণত একটি নির্দিষ্ট টিকিটের বিনিময় মূল্য ছাড়া চন্দনের মতো জনপ্রিয়দের কনসার্টের ব্যয় বহন করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় | ব্রিসবেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন সেই কঠিন কাজটি করে দেখাল | এখানে আমরা যারা প্রবাসী, তাদের প্রায় অর্ধেকের বেশি চন্দনদের সমসাময়িক শিল্পীদের গান শুনে শুনে বড় হয়েছি | সুতরাং চন্দনের গান শুনতে ব্রিসবেনের বাঙালিদের ঢল নামবে সেটা মোটামুটি আমার ধারণাতেই ছিল | কিন্তু যা ধারণাতে ছিল না সেটা হলো এত বছর পরেও, তিনি ঠিক সেই ৯০ দশকের মতো করেই গাইবেন ও বাজাবেন | উইনিং থেকে যেহেতু চন্দন একাই এসেছিলেন স্থানীয় কয়েকজন তার সঙ্গে বাজিয়েছেন | যদিও তার সঙ্গে যারা বাজিয়েছেন তাদের দু-একজন তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এর পরেও চন্দনতো চন্দনই | তিনি একাই টেনে নিয়ে গেছেন | মন্ত্রমুগ্ধের মতো সবাইকে আটকে রেখেছেন প্রায় তিন ঘণ্টা | একে একে শুনিয়েছেন ‘হৃদয় জুড়ে যত ভালোবাসা’, ‘ইচ্ছে করে’, ‘ওগো সোনার মেয়ে’, ‘ওই দূর পাহাড়ের ধারে’—দর্শক নন্দিত সবগুলো গান |

alt

সভাপতি বিকাশ সিকদার যখন মেলার সমাপ্তি টানতে তার পুরো কার্যকরী পরিষদকে নিয়ে স্টেজে উঠলেন, তখনো আমি একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম | সংবিৎ ফিরে যখন বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলাম তখনো বিশ্বাস হচ্ছিল না যে পুরো একটি দিন এমন উন্মাদনা আর উৎসবের মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছি | আমার মতো হতভাগারা যারা বাংলাদেশের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, রূপ, গন্ধ, বর্ণ বুকে নিয়ে মৃতের মতো প্রবাসী জীবনে পড়ে আছে, তাদের জন্য এই রকম অনুষ্ঠান এক পরম পাওয়া | আর এই সুযোগটি করে দেওয়ার জন্য ব্রিসবেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সকল কর্তাব্যক্তিদের অসংখ্য ধন্যবাদ |

শেষ করার আগে অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি দুটি অভিমত দিতে ইচ্ছে করছে | তারা যদি বৈশাখী মেলা এত দেরিতে না করে বৈশাখের প্রথম শনিবারে করেন তাহলে ভালো দেখায় | আর সে কাজটি করার জন্য তারা তাদের বাৎসরিক কার্যসীমা এমনভাবে নির্ধারণ করতে পারেন যাতে বৈশাখী মেলাটি নতুন কমিটির হাতে না পড়ে বিদায়ী কমিটির শেষ অনুষ্ঠান হিসেবে পড়ে | এতে নতুন কমিটিকে দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মাথায় এমন বড় অনুষ্ঠানের ঝামেলায় মধ্য দিয়ে যেতে হবে না | একই সঙ্গে বিদায়ী কমিটির শেষ অনুষ্ঠান হিসেবে থাকলে তারাও এক বছর সময় হাতে নিয়ে আরও জমকালো, আরও পরিপাটি করে বৈশাখী মেলা করতে পারবেন |

আর দ্বিতীয়টি হলো—অ্যাসোসিয়েশনের উচিত বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে শুধু বাঙালি বা পরিচিত গণ্ডির মধ্যে না রেখে অন্যান্য যেসব দেশ বাংলা নববর্ষ পালন করে সেসব দেশের প্রবাসী কমিউনিটিকেও সম্পৃক্ত করা | ভারতের ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ আমাদের সঙ্গেই বাংলা নববর্ষ পালন করে | নেপালেও ‘ফুলেল নববর্ষ’ নামে বাংলা নববর্ষ পালিত হয় | এ দিনটি নেপালে সরকারি ছুটি থাকে | ব্রিসবেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন যদি ব্রিসবেনভিত্তিক এই সবগুলো কমিউনিটিকে সম্পৃক্ত করতে পারে তাহলে আমাদের সংস্কৃতির যেমন প্রসার ঘটার একটি সুযোগ থাকবে তেমনি এই ‘বৈশাখী মেলা’ এক সময় ব্রিসবেনের অন্যতম প্রধান বহুসাস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও স্বীকৃতি পাবে বলে আমি মনে করি |

*মুহম্মদ জে এ সিদ্দিকী (শামিম): বিজ্ঞানী ও শিক্ষক, গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিসবেন, অস্ট্রেলিয়া |


শেখ হাসিনার নেতৃত্ব বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে

রবিবার, ১৪ মে ২০১৭

Picture

বাহরাইন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. শাহজালালের সভাপতিত্ব ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম ও গোলাম কিবরিয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) কে এম মমিনুর রহমান, বাহরাইন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, বাংলাদেশ সমাজের সভাপতি ফজলুল করিম বাবলু, বাংলাদেশ সোসাইটি সভাপতি ফুয়াদ তাহির শান্তনু, বাংলাদেশ সমাজ সাধারণ সম্পাদক ঈমাম হোসেন বাবুল, সৌদি আরব পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ (দামমাম) আওয়ামী পরিষদ সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী আলী হায়দার, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সদস্য হোসাইন মনির, বাঞ্ছারামপুর থানা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম রেজা, বাহরাইন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানিক হোসেন মিলু, হাকিম মৃধা, আব্দুস সবুর, মো. রহমতুল্লাহ, মুজিবুর রহমান, শরীফুল ইসলাম প্রমুখ।অনুষ্ঠানে বাহরাইন আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ সমাজ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও যুবলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


জাপানে মাছে-ভাতে বৈশাখী বিনোদন

রবিবার, ১৪ মে ২০১৭

এরই ধারাবাহিকতায় গেল রোববার সাইতামা কেনের ওয়ারবীর কুরুরু হলে স্থানীয় প্রবাসী নারীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী মাছে ভাতে বৈশাখী বিনোদন। চমৎকার ও গোছানো এই অনুষ্ঠানটির কথা প্রবাসীরা অনেক দিন মনে রাখবেন। নিশাত সুলতানা শিখার নেতৃত্ব এবং মণি, পলি, নাজমা, রুনা, জনি, শারমিন, বিলকিস ও লিপির উদ্যোগে এই বৈশাখী বিনোদন অনুষ্ঠিত হয়।

Picture

শত প্রতিকূলতা কাটিয়ে একটি সুন্দর আয়োজন করায় অংশগ্রহণকারী সকল নারীদের ঐকান্তিক সহযোগিতার জন্য সবাইকে অভিনন্দন জানাতেই হয়। তারা নিজেরাই চাঁদা তোলেন এবং প্রত্যেকেই একাধিক পদ রান্না করেন। পদগুলো হলো ইলিশ, ভাত, ভুনা মুরগি, গরুর মাংস, পাঁচ মিশালি ডাল, ব্রকলি, আলু, শুঁটকি ও ডিমসহ নানান ধরনের ভর্তা এবং নাশতার জন্য শিঙারা ও হাতে বানানো মিষ্টিসহ নানান বাহারী আইটেম। আয়োজনে বেশ কয়েকজন আমন্ত্রিত অতিথিসহ শিশু কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জাপানপ্রবাসী সাংবাদিক কাজী ইনসানুল হককে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়।

একই দিন একাধিক অনুষ্ঠান থাকলেও আমন্ত্রিত প্রায় সবাই এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সমবেত ভোজনরসিকেরা সুস্বাদু খাবার দাবার খেয়ে সবাই মিলে মনোরম আনন্দ সন্ধ্যায় মেতে ওঠেন। শিশুদের জন্য ছিল নানান প্রতিযোগিতা এবং উপস্থিত যুগলদের জন্য অভিনব কৌতূহলী গেমস।

শিশু–কিশোরসহ সকল প্রবাসী স্বামী-স্ত্রী জুটিদের আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কার দেন অতিথি কাজী ইনসানুল হক, কমল বড়ুয়া ও আশরাফুল ইসলাম শেলি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মো. মিজানুর রহমান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন হক মো. ইমদাদুল, মইনুল ইসলাম মানিক, ইকরামুল ইসলাম সুমন, নজরুল ইসলাম, কুমার নন্দী, মো. জামান, শহিদুর রহমান শহিদ, সাইফুল, ফয়সাল ও কবির প্রমুখ।


গ্রীস আওয়ামী লীগ এর প্রতিবাদ

শনিবার, ১৩ মে ২০১৭

Picture

ইতিমধ্যে গ্রীস আওয়ামী লীগ এর সফল সম্মেলন এর খবর বাংলাদেশ ইউরোপ এর বিভিন্ন জাতীয় চ্যানেলে ব্যাপক প্রচারিত হয়। বিভিন্ন অনলাইন পত্রিয়াকে সমূহে প্রচারিত হয়। এমন জনাকীর্ন সম্মেলন ইউরোপের ইতিহাসে আগে ও কখনো হয়েছে কিনা জানা নেই। বিএনপি জামাতের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীদের যে বা যাহারা প্রশ্রয় দিয়ে সম্মেলন পন্ড করার চেষ্টা করেছেন তারা কখনো সত্যিকার আওয়ামী লীগ হতে পারে না। আগামী দিনে সত্যিকার আওয়ামী লীগ এর কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সব ষডযন্ত্রের প্রতিবাদ করতে হবে। বিভিন্ন দেশের আওয়ামী বিরোধী চক্র এক হয়ে আওয়ামী লীগ এর কিছু কচ্ছপ শ্রেণীর নেতাদের প্রশ্রয়ে ষড়যন্ত্র করছে এবং মিথ্যা প্রচার করছে। মিথ্যা প্রচার ও মিথ্যা লেখা দিয়ে সত্যকে ঢাকা যাবে না। একাত্তর, যমুনা , সময় ,এনটিভি ,বাংলা টিভি সমূহ ,এবং জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ , বাংলাদেশ প্রতিদিন , আমাদের সময় সহ অন্যান্য সকল খবরের কাগজ দেখলেই বুজা যাবে গ্রিস আওয়ামী লীগ এর সম্মেলন কত সফল ছিল। আমরা গ্রীস আওয়ামী লীগ সকল কুচক্রী মহল এর ষডযন্ত্র গুড়িয়ে দেবার অঙ্গীকারবদ্ধ।

এছাড়া ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কটুক্তিকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা করার আহবান জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন নবনির্বাচিত সভাপতি রাকিব মৃধা , এম এ সামাদ মাতুব্বর , নান্নু খালাসী , আলিম খালাসী , করিম চাচা, মোশারফ হোসেন লিয়াকত, রানা মল্লিক, সোহেল উজির , ও যুবলীগের রাসেল , জাকির , আহমেদ আলী ,গাজী নিপু ,সুমন পাটোয়ারী ,রমজান ,অকিল জামাল আরো অনেকে।


কাতারে এম এ গনিকে সংবর্ধনা

মঙ্গলবার, ০৯ মে ২০১৭

বাপ্ নিউজ : কাতার প্রতিনিধি : কাতারে সর্ব ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ গনিকে সংবর্ধনা দিয়েছে কাতার আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। রোববার কাতারের রাজধানী দোহা জেদিদ ঢাকা রেস্টুরেন্টে  সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।

Picture

কাতার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে ও আবু ইউসুফ বাবুল ও বাবুল আহমেদ এর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বিমানের কান্ট্রি ম্যানেজার মো. মোস্তফা, কাতার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাসেম সরকার, কাতার বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি মাহফুজ আহমেদ, কাতার আওয়ামী লীগ নেতা কপিল উদ্দিন, আবিদুর রহমান ফারুক, বদরুল আলম, আব্দুল অদুত, রায়হান আলী, আবুল হাসান, শেখ আহাদুল ইসলাম, মুহসিন সরকার, ইসমাইল খান বাদল, নজরুল ইসলাম তুহিন, আক্তার ফারুক, দেলোয়ার হোসেন প্রধান, আজিজুল ইসলাম জয়, নুর নবী, লোকমান সিদ্দিক, ফয়েজ উদ্দিন, মো. শাওন প্রমুখ।বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে উন্নয়নের দিকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রবাসীদের আরও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।


লেবার পার্টির প্রার্থী টিউলিপ সিদ্দিকের প্রচারে মেয়র সাদিক খান

রবিবার, ০৭ মে ২০১৭

বাপ্ নিউজ : যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন আসনে লেবার পার্টির প্রার্থী টিউলিপ সিদ্দিকের পক্ষে প্রচারে নেমেছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ ২০১৫ সালের মে মাসের নির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে যান। ব্রেক্সিট সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে আগামী ৮ জুন আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় এখন দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার দৌড়ে নেমেছেন তিনি।

শনিবার হ্যাম্পস্টেড থিয়েটারের সামনে সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন টিউলিপ। ওই সমাবেশে অংশ নেন সাদিক খান, যিনি গত বছর ১১ প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে লন্ডনের প্রথম মুসলমান মেয়র নির্বাচিত হন।নির্বাচনী প্রচারের কার্যক্রমের পর এক ফেইসবুকে স্ট্যাটাসে সাদিক খানসহ অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান টিউলিপ। ওই সভার একটি ছবিও ফেইসবুকে আপলোড করেন তিনি।

সমাবেশের পর লন্ডনভিত্তিক সংবাদপত্র ক্যামডেন নিউ জার্নালকে সাদিক খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী টেরিজা মে আগাম নির্বাচন দিয়েছেন, যাতে তিনি অত্যন্ত কঠোরভাবে ব্রেক্সিট সম্পন্নের ক্ষমতা পান।এভাবে ব্রেক্সিট না চাইলে টিউলিপকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

alt

যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে সংক্ষেপে বলা হচ্ছে ব্রেক্সিট। গত বছর গণভোটে দেশটির জনগণ ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরে যান ডেভিড ক্যামেরন, দায়িত্ব নেন কনজারভেটিভ পার্টির নতুন নেতা টেরিজা মে।শুরু থেকে ব্রেক্সিটের বিরুদ্ধে অবস্থান জানিয়ে আসছেন টিউলিপ সিদ্দিক। এ প্রক্রিয়া ত্বরাণ্বিত করতে যুক্তরাজ্য সরকারের আনা একটি বিলে সমর্থনের দলীয় সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে গত জানুয়ারিতে লেবার পার্টির ছায়া সরকারের দায়িত্ব ছাড়েন তিনি।

গণভোটে যুক্তরাজ্যের জনগণ ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিলেও টিউলিপের আসনের ৭৫ শতাংশ ভোটারই ইউরোপীয় ইউনিয়নে থেকে যাওয়া পক্ষে রায় দিয়েছিলেন।ছায়া সরকারে ‘শ্যাডো মিনিস্টার ফর আর্লি ইয়ার্স এডুকেশন’র দায়িত্ব থেকে পদত্যাগপত্র দিয়ে টিউলিপব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেছিলেন, “আমি সব সময় পরিষ্কার- হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্নে আমি ওয়েস্টমিনস্টারের প্রতিনিধিত্ব করি না, আমি ওয়েস্টমিনস্টারে হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্নের প্রতিনিধিত্ব করি।

Picture

“. . .পেছনের কাতারে থেকে টেরিজা মে’র ত্বরিত ব্রেক্সিটের বিরোধিতা করাই আমার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলে আমি মনে করি।”

টিউলিপের ওই দৃঢ়তার কথাই তুলে ধরছেন সাদিক খান।

“সেই ব্যক্তি যিনি ইইউ’র সঙ্গে আমাদের একটি ভালো চুক্তির জন্য বলছেন, কারণ এতে কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে, তিনি টিউলিপ সিদ্দিক,” নিউ জার্নালকে বলেন তিনি।


কটূক্তির প্রতিবাদে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

রবিবার, ০৭ মে ২০১৭

বাপ্ নিউজ : ডেনমার্ক প্রতিনিধি : ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে বহিষ্কৃত, অন্য দলের এজেন্ট, চক্রান্তকারী ও ইউরোপ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কটূক্তির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ। তারা অভিযোগ করে বলেন, কিছু রোহিঙ্গা যারা বাংলাদেশের না, তারা কিভাবে আওয়ামী লীগ করে? সেই রোহিঙ্গা, বহিষ্কৃত, চাটুকার ও যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে আসন গ্রহণ করতে চায়। তারা ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের ইমেজ নষ্ট করতে চায়। আমরা এদের নিন্দা জানাই।

Picture

ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি ইকবাল হোসেন মিঠুর সভাপতিত্বে কোপেনহেগেনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. বিদ্যুৎ বড়ুয়া।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ বহিষ্কৃত অংশ সম্মেলনের নামে নাটক করছেন। গত কয়েকদিন ধরে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত অংশ সংবাদ সম্মেলন করবেন এবং সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী অনিল দাশ গুপ্ত ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম হকসহ অন্যান্য ইউরোপিয়ান নেতারা উপস্থিত থাকবে বলে প্রচার করা হয়। কিন্তু তাদের অনুপস্থিতিই এই মিথ্যা প্রচারের প্রমাণ করল।

alt

সম্মেলনে আরও বলা হয়, ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র আমাদের অদম্য যাত্রাকে থামাতে পারবে না। কোনো ব্যক্তি বিশেষের ইচ্ছার উপর সংগঠন চলবে না। জাতির জনক এর মহান আদর্শের অকুতোভয় সৈনিক, শেখ হাসিনার অসীম সাহসী নেতৃত্বের প্রতি আসরা আস্থাশীল।

এ সময় ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, শুধু ডেনমার্ক নয়, ইউরোপের সকল নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানাই এসব ভণ্ড, ঠকবাজ, স্বার্থবাদীদের কর্মকাণ্ডে বিভ্রান্ত না হয়ে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকুন। আসুন আমরা সবাই জাতির জনকের সোনার বাংলা বিনির্মাণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রবাসে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে জাহাঙ্গীর আলম, মোহাম্মদ ইউসুফ, মোতালেব হোসেন, হিল্লোল বড়ুয়া, ফাহমিদ আল মাহিদ, আমির হোসেন, আহসান উজ্জামান, রেজাউল করিম, আলোক ধরে, শোয়েব আহমেদ, রিয়াদ হোসেন, ফয়সাল হোসেন, জামশেদ রহমান, ইমরান হোসেন, সুবীর, শাওন, কোহিনূর মুকুল, সাগর, তানভীর শুভ, সুকান্ত দে, আসিফ মুস্তারিন, সুমন বিশ্বাস, তাসনুভা বিনতে দিশা প্রমুখ  উপস্থিত ছিলেন।


মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের রানার আপ পুরস্কার

রবিবার, ০৭ মে ২০১৭

Picture

আহমাদুল কবির, বাপ্ নিউজ : মালয়েশিয়া থেকে : মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম রানার আপ পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। সেরা কালচারাল বুথ- প্রথম রানার আপ-কে পাঁচ হাজার রিঙ্গিত পুরস্কার দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি দেশটির লিমকুক উইং ইউনিভার্সিটিতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

maloysia

সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, বাংলাদেশসহ ১০০ দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা তান দাতো পাডুকা ড. লিম কোক উইং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

maloysia

তুয়াংকু হাজ্জাহ সুলতানাহ কালসোম বিনতি আবদুল্লাহ, মালয়েশিয়ার রাণী সুলতানা ফাং লিম্বোকিংয়ের মেয়ে দাতো তিফানি মারি, বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সেক্রেটারি এমএসকে শাহীন, বিএসএমএমর  সভাপতি জিয়া, বাংলাদেশ ক্লাবের সাইফুল হক সূর্য, ইব্রাহিম খান, মেহরিন সুলতানা, মো. জুয়েলসহ ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত ৩০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন।

maloysia

মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সাফল্যের বিষয় উল্লেখ করে ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’গড়ার আহ্বান জানান দূতাবাসের  প্রথম সেক্রেটারি এমসেকে শাহীন। লেখাপড়ার পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে দেশীয় কালচার তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।


মে দিবস উপলক্ষে সৌদিতে আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা

রবিবার, ০৭ মে ২০১৭

মোহাম্মদ আল-আমীন, বাপ্ নিউজ : সৌদি আরব থেকে : মহান মে দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করেছে সৌদি আরব প্রবাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম। সম্প্রতি রিয়াদের একটি অভিজাত কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সভায় নাট্য অভিনেতা কামাল হোসেন বাবরকে সংবর্ধনাও দিয়েছে সংগঠনটি।  সভায় সভাপতিত্ব করেন ফোরামের সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি। ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আব্দুল হালিম নিহনের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রিয়াদে বাংলাদেশি পণ্য আমদানি সমিতির সভাপতি মো. কাপ্তান হোসেন।

Picture

সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাট্য অভিনেতা কামাল হোসেন বাবর। এসময় বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুসা বাবু, বিপ্লব দেওয়ান, মসি সিরাজ, সৌদি আরব প্রবাসী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আবুল বশীর, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরামের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আল আমীন, মোহাম্মদ হাসান, মোহাম্মদ আশরাফ প্রমুখ।অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মে দিবস নিয়ে আলোচনা করেন এইচ এম প্রিন্স আহমেদ, সাইফুল অপূর্ব, শরিফুল ইসলাম স্বপন, মাসুদ পারভেজ, রুবিনা সলতানা, কাকন বকুল, আরিফুর রহমান টিটু প্রমুখ।  পরে অভিনেতা কামাল হোসেন বাবরকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক সংগঠন রংধনু ও রিয়াদের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতা করেন ডাকা মেডিকেল সেন্টার।


জাপানে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা

শনিবার, ০৬ মে ২০১৭

Picture

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম মাসুম, জাপান যুবলীগ সভাপতি বি এম শাজাহান, ব্যবসায়ী শিপার সরকার, সেচ্ছা সেবক লীগের সভাপতি আমিন রনি, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কিরন চৌধুরী, মীর হোসেন মিলন, ব্যবসায়ী লায়জু, জুয়েল, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন, জয় ইসলাম, হাসান প্রমুখ। এছাড়া যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ , ছাত্রলীগ ও  বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।