Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

নিউয়র্কের খবর

নিউইয়র্কে “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বাংলাদেশের গ্রাম” গ্রন্থের ওপর আলোচনা

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ ঃ বাংলাদেশে বিদ্যমান স্থানীয় সরকার কাঠামোগুলোর মতো যদি গ্রাম পর্যায়েও গ্রাম পরিষদ নামে আরেকটি স্থানীয় সরকার কাঠামো গড়ে তোলা হয় সেটা এলিট বা বিত্তবানদের দ্বারা দখল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা অন্যান্য কাঠামোগুলোর তুলনায় কম থাকবে। কারণ এটা সাধারন মানুষের নাগালের মধ্যে একটি প্রতিষ্টান হবে। যদি কোন প্রতিষ্টান সাধারন মানুষের কাছ থেকে  দূরে থাকে তাতে সাধারন মানুষের অভিগম্যতা কম থাকে। সাধারন মানুষের শক্তি হচ্ছে তার সংখ্যা আর এলিট শ্রেণী বা বিত্তবানদের শক্তি হচ্ছে অর্থ। আর অর্থ বেশী বলে তাদের পেশী শক্তি বেশী। গ্রাম পরিষদ নাগালের মধ্যে বলে সাধারন মানুষের সংখ্যার শক্তি প্রকাশের সুযোগ থাকে। যার ফলে এই প্রতিষ্টান থেকে গ্রামের কৃষক, ক্ষেতমজুর, ভূমিহীনসহ দরিদ্র মানুষদের উপকার হবে। তাই স্থানীয় সরকার কাঠামোগুলোর মধ্যে গ্রাম পরিষদ হলে সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ বেশী উপকৃত হবে।


প্রোগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ এর উদ্যোগে গত ২৭ আগষ্ট রবিবার বিকেলে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বাংলাদেশের গ্রাম” গ্রন্থের ওপর এক আলোচনায় গ্রন্থের লেখক জাতিসংঘের সিনিয়র অর্থনীতিবিদদের অন্যতম ড. নজরুল ইসলাম উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন। খবর বাপসনিঊজ।


প্রোগ্রেসিভ ফোরামের সহ সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বাবুলের সভাপতিত্ত্বে ও সাধারন সম্পাদক আলীম উদ্দিনের সঞ্চালনায় ড. নজরুল ইসলাম রচিত “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বাংলাদেশের গ্রাম” গ্রন্থের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনার শুরুতে লেখকের গ্রন্থের সার সংক্ষেপ নিয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রোগ্রেসিভ ফোরামের সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম। তিনি লেখকের গ্রন্থের ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, গ্রাম পরিষদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে। একদিকে তা স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বনিন্ম ধাপের ভূমিকা পালন করবে,অন্যদিকে তা সমবায়ী গ্রামের পরিচালনা পরিষদ হিসেবে কাজ করবে। সমবায়ী গ্রাম গ্রামের সুপ্ত সম্ভাবনার সর্বোত্তম বাস্তবায়নের পথ উন্মোচিত করবে। তিনি বলেন, সমাজতন্ত্রের সমবায়ে সাধারনতঃ জমির ওপর ব্যক্তিগত মালিকানা থাকতো না,ফলে নীট উৎপাদনের প্রায় পুরোটাই শ্রমের ভিত্তিতে বিতরণ হতো। বিপরীতে বঙ্গবন্ধুর সমবায়ে জমির ওপর ব্যক্তিমালিকানা অক্ষুন্ন ছিল। ফসলের তিনভাগ হওয়ার কথা ছিল। এক ভাগ জমির মালিকানার ভিত্তিতে,এক ভাগ শ্রমের ভিত্তিতে আরেক ভাগ “গ্রাম তহবিল”এর জন্য। এই তহবিল দ্বারা গ্রামের বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম পরিচালনা হওয়ার কথা ছিল।


অনুষ্ঠানে লেখকের গ্রন্থের আরো আলোচনা করেন,  ওয়ার্কাস পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য মাহমুদুল ইসলাম মানিক, উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ড. প্রদীপ কর, লেখক ও গবেষক আহমেদ মাযহার, ড. জিয়া উদ্দিন আহমদ, নারীনেত্রী গণমাধ্যমকর্মী নিনি ওয়াহেদ,নারীনেত্রী লেখিকা সামসাদ হুসাম, সৈয়দ ফজলুর রহমান, ওবায়দুল্লাহ মামুন, জাকির হোসেন বাচ্চু, সংগীত শিল্পী তাহমিনা শহীদ, হারুন,হিরু চৌধুরী প্রমূখ।


সভায় বক্তারা বলেন, ড. নজরুল ইসলাম তাঁর বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাংলাদেশের গ্রাম গ্রন্থে অত্যন্ত সুন্দরভাবে বাংলাদেশের জন্য গ্রামভিত্তিক একটি গণমানুষের উন্নয়নে কার্যকর স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। লেখক বঙ্গবন্ধু যে সমবায়ী গ্রামের স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বহুবছর পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও যে প্রয়োজনীয়তা রয়েছে তা তুলে ধরেছেন। বক্তারা গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামো সৃষ্টির দাবীতে ব্যাপক জনমত সৃষ্টির জন্য বাংলাদেশে নীতি নির্ধারকমহল থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ পর্যন্ত লেখকের এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান। তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল সমূহ জনমতের ওপর গুরুত্ত্ব দিতে আগ্রহী হবে এবং গ্রাম পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোতে যে শূন্যতা বিরাজ করছে তা পূরণে এগিয়ে আসবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে লেখক ড. নজরুল ইসলাম তাঁর রচিত গ্রন্থের ওপর আলোচনা করার জন্য এধরনের প্রোগ্রাম আয়োজনে প্রোগ্রেসিভ ফোরামকে এবং আলোচনায় অংশগ্রহণকারী ও উপস্থিত সকল কে ধন্যবাদ জানান। তিনি অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের ওপর তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে বাংলাদেশের এ যাবত কালের সকল সরকার গ্রাম পর্যায়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আইন প্রনয়ণ করেছে। কিন্তু বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে সরকারগুলোর উদাসীনতা বা গুরুত্ব না দেয়ার কারণে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি বা উপেক্ষিত। তবে যেহেতু সরকারসমূহ তা একেবারে বাদ দিয়ে রাখেনি তাই গ্রাম পর্যায়ে একটি স্থানীয় সরকার কাঠামো প্রতিষ্ঠার দাবী সকল রাজনৈতিক দল অবহেলা বা না মানার কারণ নেই। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সমবায়ী গ্রামের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ বর্তমান সরকার করবে না অন্য কেউ করবে তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না। তবে বাংলাদেশে যে সকল বাম প্রগতিশীল সংগঠনসমূহ তাদের যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে তা পূরণেও তাদের এই অভিমূখে নজর দেয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ইউনিয়ন পরিষদ থেকে টাউটদের বিতাড়নের কথা বলেছিলেন। যদি শক্তিশালী গ্রাম ভিত্তিক আরেকটি স্থানীয় সরকার কাঠামো গড়ে ওঠে তাহলে ইউনিয়ন পরিষদে টাউটদের দৌরাত্ত্ব কমবে। লেখক বলেন,তিনি তার এই গ্রন্থে গ্রামভিত্তিক স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা ্এবং ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরেছেন। ভবিষ্যতে গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামোর গঠন পদ্ধতি ও কার্যক্রম কেমন হবে তা সকলের মতামতে ঠিক হবে। লেখক সবশেষে তাঁর গ্রন্থের প্রস্তাবনাকে আরো সমৃদ্ধ করতে প্রোগ্রেসিভ ফোরামের মতো অন্যান্য সংগঠন, ব্যক্তি সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


 সভায় “বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বাংলাদেশের গ্রাম” গ্রন্থের ওপর অনুষ্ঠিত আলোচনার শুরুতে লেখকের গ্রন্থের সার সংক্ষেপ নিয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রোগ্রেসিভ ফোরামের সভাপতি খোরশেদুল ইসলাম বলেন,

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও বাংলাদেশের গ্রাম-নজরুল ইসলাম- পুস্তক আলোচনা

পৃষ্ঠাঃ২  গ্রামের সকল সকল প্রাপ্ত বয়স্কদের  ভোটে নির্বাচিত ‘গ্রাম
পরিষদ’ গঠন।গ্রাম পরিষদের দ্বৈত ভূমিকা থাকবে।একদিকে তা স্থানীয় সরকার
কাঠামোর  সর্বনিম্ন ধাপের ভূমিকা পালন করবে; অন্যদিকে  তা সমবায়ী গ্রামের
পরিচালনা পরিষদ হিসেবে কাজ করবে।

পৃষ্ঠা ৩  সমবায়ী গ্রাম গ্রামের সুপ্ত  সম্ভাবনার সর্বোত্তম  বাস্তবায়নের
পথ উন্মোচিত করবে। সমবায়ীকরণের ফলে গ্রামের জমি ও জল সম্পদের  সঙ্গে
গ্রামের শ্রমজীবিরা সম্পৃক্ত হবেন; এবং তার ফলে  এসব সম্পদের যথাযথ
ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। যৌথচাষ ছাড়াও  অনুকুল জাতীয় পরিস্থিতি
এবং গ্রামের আভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সাপেক্ষে সীমাবদ্ধ পরিধির  এবং
স্বেচ্ছামূলক ভূমি সংস্কার  এবং প্রগতিশীল এবং  গণমুখী  উদ্যোগ  গ্রহন
সম্ভব হবে, এবং তা গ্রামের  সমবায়ীকরণকে অপেক্ষাকৃত গভীর চরিত্র দিতে
পারবে।

৪পৃষ্ঠাঃ  সমাজতন্ত্রের সমবায়ে সাধারনত জমির উপর ব্যক্তিগত মালিকানা
থাকতোনা,ফলে নিট উতপাদনের প্রায় পুরোটাই শ্রমের ভিত্তিতে বিতরিত হতো।
বিপরীতে, বঙ্গবন্ধুর সমবায়ে জমির উপর ব্যক্তিমালিকানা অক্ষুন্ন ছিল।
ফসলের তিন ভাগ হওয়ার কথা ছিল। একভাগ জমির মালিকানার ভিত্তিতে, একভাগ;
একভাগ শ্রমের ভিত্তিতে;আর একভাগ ‘গ্রাম তহবিল’এর জন্য।এই তহবিল দ্বারা
গ্রামের কল্যাণমুখী বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার  কথা ছিল।

পৃষ্ঠা ৫ ইতিমধ্যে সমাজতন্ত্রের  মডেলের পরিবর্তন ঘটেছে।বিশেষত, গণচীন
এবং ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, নিম্ন মানের উৎপাদিকা শক্তির
কৃষিতে যৌথচাষ সফল করা কঠিন। এমনকি যেসব ‘সমাজতান্ত্রিক’ দেশে কৃষি
প্রযুক্তি উন্নত পর্যায়ে পৌছেছিল,সেসব  দেশেও যৌথচাষ সম্বলিত সমবায়
কাঙ্খিত সাফল্য প্রদর্শন করতে পারেনি। জাতিয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে
বর্তমান পর্যায়ে পুরো গ্রাম-ভিত্তিক যৌথচাষের প্রস্তাবনাটি পরিত্যাগ করাই
শ্রেয়।

পৃষ্ঠা৮ শুধু কৃষি উৎপাদন নয়,বঙ্গবন্ধুর সমবায়  ছিল ‘বহুমুখী সমবায়’।তিনি
গ্রামোন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয়,তথা গ্রামের বাইরের সকল সম্পদও গ্রাম
সমবায়ের মাধ্যমে প্রবাহিত করার কথা ভেবেছিলেন।

পৃষ্ঠা ১৩ সমবায়ের মাধ্যমে  গরিব কৃষকরা  যৌথভাবে উৎপাদন যন্ত্রের
মালিকানা লাভ করবে।অধিকতর উৎপাদন বৃদ্ধি ও ম্পদের সুষম বন্টন ব্যবস্থায়
প্রতিটি ক্ষুদ্র চাষী গনতান্ত্রিক অংশ ও অধিকার পাবে। জোতদার ,ধনী চাষীর
শোষণ থেকে তারা মুক্তি লাভ করবে সমবায়ের সংহত শক্তি দ্বারা।–বঙ্গবন্ধু

পৃষ্ঠা ১৯ ঃ ১৭৯৭ সালে কর্নওয়ালিস বাংলায় চিরস্থায়ী ব্যবস্থা প্রবর্তন
করেন। একটি নির্দিষ্ট খাজনার বিনিময়ে জমির উপর জমিদারদের নিরঙ্কুশ
মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়।খাজনা অনাদায়ে ‘সানসেট ল’ তথা ‘সূর্যাস্ত আইনে’
জমিদারি নিলামে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়।নবাবী  আমলে বাংলার
জমিদারদের-যাদের বেশিরভাগ ছিলেন মুসলমান-এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ
খাওয়াতে বেগ পেতে হয়। তদুপরি কোম্পানির রাজস্ব সর্বোচ্চ করার উদ্দেশ্যে
জমিদারদের উপর আরোপিত খাজনা বেশ উচ্ছহারেই নির্ধারিত  হয়। এই উভয়বিধ
কারণে এবং সূর্যাস্ত আইনের কঠোর প্রয়োগের ফলে ক্রমে ক্রমে পূর্বেকার
জমিদারী সমূহ আংশিক কিংবা  সম্পূর্ণভাবে নব্য ধনী
বেনিয়া(ব্যবসায়ী)শ্রেণির হাতে চলে যেতে থাকে,যারা  কিছুটা হলেও বাণিজ্যে
পারদর্শী ছিল। শেষোক্তদের বেশিরভাগ ছিলেন হিন্দু। এভাবেই কালক্রমে বাংলার
(বিশেষত পূর্ব বাংলার) মুসলমান কৃষক শ্রেণির উপর  একটি মূলত হিন্দু
জমিদার শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।

পৃষ্ঠা ২২  ১৯৪০ সনে ফ্লাউড কমিশন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তথা জমিদারী প্রথা
বাতিল এবং সকল প্রকার মধ্যস্বত্ত্বের বিলোপ সাধনের সুপারিশ করে। তার ঠিক
আগেই শেরে বাংলা একে ফজলুল হক মহাজনী শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৩৮এ
বঙ্গীয় কৃষি ঋণগ্রস্থ আইন ও তা বাস্তবায়নে ‘ঋণ শালিসী বোর্ড ও খাজনা
বৃদ্ধি ১০ বছরের জন্য স্থগিত করতে ‘বংঙ্গীয় প্রজাস্বত্ত্ব (সংশোধন) আইন
করেন।

ভূমি সংস্কার ও  জমির সিলিং করার আন্দোলন

১৭৯৭ সালের কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে সামন্ত যুগে জমির
তুলনায় মানুষ কম ছিল। অনেক জমি পতিত প
জমিদারি ব্যবস্থা বা মধ্যস্বত্ত্বার বিলোপ করে যারা প্রকৃত চাষাবাদ করে
ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে জমির সর্বোচ্চ সিলিং ধার্য করে বাড়তি জমি চাষীদের
হাতে জমি দেয়ার চিন্তা চেতনা বহু পুরোনো।

পৃষ্ঠা ২২-২৪,  ১৯৪০ সনে ফ্লাউড কমিশন চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত তথা জমিদারী
প্রথা বাতিল এবং সকল প্রকার মধ্যস্বত্ত্বের বিলোপ সাধনের সুপারিশ করে।
তার ঠিক আগেই শেরে বাংলা একে ফজলুল হক মহাজনী শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে
১৯৩৮এ বঙ্গীয় কৃষি ঋণগ্রস্থ আইন ও তা বাস্তবায়নে ‘ঋণ শালিসী বোর্ড ও
খাজনা বৃদ্ধি ১০ বছরের জন্য স্থগিত করতে ‘বংঙ্গীয় প্রজাস্বত্ত্ব (সংশোধন)
আইন করেন।

১৯৫১ সালে ইষ্ট বেঙ্গল  স্টেট  একুইজিশন এন্ড টেন্যান্সি বিল আইনে পরিণত
হয় যা সাধারন ভাবে ‘জমিদারী উচ্ছেদ আইন’ বলে পরিচিত; এই আইনে খোদ কৃষকদের
‘মালিক’ বলে অভিহিত করা হয়;সরকার বা রাষ্ট্রকে রাজস্ব বা জমি-খাজনার
একমাত্র দাবিদার হিসেবে ঘোষণা করে সকল মধ্যস্বত্ত্ব বাতিল করা হয়। তবে
বর্গা প্রথা বাতিল হয়না। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের ফলে বেশিরভাগ হিন্দু জমিদার
ভারতে অভিগমন এই আইন পাশ করাকে সহজ করে দেয়। এই আইনে আরও ছিল ১০০ বিঘা
সিলিং। কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত হয়না। ১৯৫৪ সনে  যুক্তফ্রন্টের  ২১ দফাতেও
১০০ বিঘা  সিলিংয়ের দাবিটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু যুক্তফ্রন্ট সরকারকে
অচিরেই উচ্ছেদ করা হয়। আইয়ুব আমলে (১৯৫৮ থেকে ১৯৬৯) সিলিং৩৬৫ বিঘায়
উন্নীত করা হয় ফলে কোন ভূমি সংস্কার বাস্তবায়িত হয় না। ১৯৭০ সালে  আওয়ামী
লীগ কর্মসূচিতে ১০০ বিঘা সিলিং অন্তর্ভুক্ত করে। ১৯৭২ সালের ১৫ আগস্ট
‘বাংলাদেশ জমি মালিকানা(সীমাবদ্ধকরণ) আদেশ জারি হয়।এই আদেশ বলে জমির
মালিকানার উপর ১০০বিঘা সিলিং আরোপিত হয়। এই আদেশ অমান্যকারিদের ৬ বছর
কারাদন্ড অথবা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান
রাখা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের ভিতরেই প্রতিরোধ দেখা দেয়।
পৃষ্ঠা ৩০ ভূমি সংস্কারের পক্ষে  প্রবল যুক্তি থাকা সত্ত্বেও তা
বাস্তবায়িত হচ্ছেনা কেন ? ভূমি সংস্কারের  পথে দুই ধরণের সমস্যা
বিরাজমান।১।জমি স্বল্পতার সমস্যা ২।প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক শক্তি ভারসাম্যের
সমস্যা। এই ২ সমস্যা নিয়ে লেখক ১০ পৃষ্ঠাব্যাপি আলোচনা করেছেন।যাতে
রাশিয়া,চীন, ভিয়েতনাম,কিউবা এবং ২ য় বিশ্বযুদ্ধোত্তর জাপান, কোরিয়া ও
তাইওয়ানের ভূমি সংস্কার যা বিদেশি শাসক শক্তির প্রভাবে করা তা আলোচিত
হয়েছে।


সংস্কারের জন্য প্রয়োজন ভূমি স্বার্থ বিরোধী শক্তির রাজনৈতিক ক্ষমতা।
সেটা হতে পারে সামাজিক বিপ্লবের মাধ্যমে কিংবা  ভূমি স্বার্থ বিরোধী
বিদেশি শাসন প্রতিষ্ঠার ফলে। এই শর্ত পূরিত না হওয়ার কারণেই বিশ্বের বহু
দেশে  ভূমি সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি। বঙ্গবন্ধুর মতো অবিসংবাদিত নেতার
পক্ষেও  বাংলাদেশে ভূমি সংস্কার  বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। ৪০ এর দশকে
ময়মনসিংহ,রংপুর,দিনাজপুর,সিলেটে মনিসিংহ, বারীন রায়, এদের নেতৃত্বে
তেভাগা,টংক, নানকার  বিরোধী বিশাল আন্দোলন গড়ে ওঠে। এসব কৃষক আন্দোলন
সমসাময়িক জাতীয়  এবং বৃহত্তর আন্দোলনের সঙ্গে তেমন সম্পর্কযুক্ত
ছিলনা।পূর্ব বাংলার রাজনীতি তখন  পাকিস্তান আন্দোলনের খাতে প্রবাহিত হয়।
ফলে কৃষকদের বীরত্বপূর্ণ আন্দোলন কোন বৃহত্তর রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক
পরিবর্তন আনতে পারেনা। অচিরেই বাংলাদেশের রাজনীতি ‘বাঙালি জাতিয়তাবাদের
ধারায় অগ্রসর হয়।

বঙ্গবন্ধুর সমবায়ের প্রস্তাব এবং রাজনৈতিক আপোষ

পৃ ৪১-৪৩ বঙ্গবন্ধু একাধারে ক) উৎপাদন বৃদ্ধি খ)গ্রামের ভিতর ন্যায় ও
সমতা প্রতিষ্ঠা গ)জমির মালিকদের রাজনৈতিক বাধা প্রশমন ঘ)গ্রামের পরিধিতে
সমতা এবং জাতীয় পরিধিতে সমতার মধ্যে সঙ্গতি স্থাপন (তেভাগা আন্দোলনের
দাবিও ছিল অর্ধেকের পরিবর্তে ফসলের এক তৃতীয়াংশ পাবে জমির মালিক।)সমবায়
কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি কারো জমি নিয়ে নিচ্ছেন না বঙ্গবন্ধু তাঁর এই
আপোষের প্রতিই জমির মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছিলেন।
পৃ ৪৪-৫০ পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি আলোচনায় লেখক সমাজতান্ত্রিক
দেশ গুলোর পতন  এবং সোভিয়েত,চীন,ভিয়েতনাম ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর উপর
আলোচনা করে দেখিয়েছেন,এসব দেশে সাধারনভাবে কৃষিতে যৌথ মালিকানা এবং যৌথ
চাষের পরিবর্তে পরিবারভিত্তিক মালিকানা ও চাষের প্রসার ঘটেছে।

পৃ ৫২-৫৫  ভূমি মালিকানা পরিস্থিতি

১৯৬০ সনে গড় জমির জোতের আয়তন ছিল১,৪ হেক্টর ২০০৮ সালে তা কমে ০,৪৬ হেক্টর
হয়েছে। আবাদি জমিহীন গ্রামীন পরিবারের সংখ্যা মোট

পরিবারের  সংখ্যার অনুপাত হিসাবে ১৯৭০ সনে ২০ শতাংশ থেকে ২০০৮ সনে ৪০ %
শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে । এক হেক্টরের কিমি. আবাদী জমি সম্পন্ন পরিবারের
সংখ্যা মোট পরিবারের সংখ্যার

অনুপাত হিসাবে ১৯৮৩-৮৪ সনের ৬২ শতাংশ থেকে ২০০৮ সনে  ৮৬ শতাংশে
পৌছেছে।১৯৭৮ এর জরীপ অনুযায়ী উপরের ৯ শতাংশ পরিবারের নিয়ন্ত্রণে ৪৮ শতাংশ
জমি ছিল।বর্গায় দেয়া জমির

পরিমান১৯৮৮ সালের ১২ শতাংশের তুলনায়২০০৪

সনে ৩২ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।মাত্র এক পঞ্চমাংশ বড় চাষী  আজকাল নিজের জমি
নিজেরাই চাষ করেন।মাঝারি ও বড় চাষীরা যেন কৃষিকাজ একরকম ছেড়েই দিয়েছেন।
অর্থাৎ অর্ধেক  জমির মালিকরা এখন বহুলাংশে খাজনাভোগী(রেন্টিয়ার),

পরজীবি শ্রণিতে পরিণত হয়েছে।

অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক গ্রমীণ পরিবারের কোন আবাদী জমি নেই,এবং দেশের মোট
কৃষি জমির প্রায় তিনভাগের একভাগের বেশি  বিভিন্ন ধরণের বর্গায় চাষ হচ্ছে।
গবেষণা মতে বড় জোতের তুলনায় ছোট জোতের এবং বর্গা জমির তুলনায় নিজ জমির
উৎপাদনশীলতা সাধারণত বেশি হয়। সেজন্য ভূমি সংস্কার প্রয়োজন,সেক্ষেত্রে ২
বাধা রাজনৈতিক  শক্তির ভারসাম্যের সমস্যা এবং জমি স্বল্পতার সমস্যা আজো
আছে বা তীব্র হয়েছে। আগে বর্গার সাধারণ রূপ ছিল ভাগ চাষ।এখন তা চুক্তি
প্রথাতে বিবর্তিত হয়েছে। বর্গাদাররা অর্থের বিনিময়ে জমি ভাড়া নিয়ে নিজেরা
উৎপাদনের সব খরচ বহন করেন এবং পুরো ফসলের অধিকারি হন।
পৃ ৫৭-  সমবায়ী গ্রামের অব্যাহত প্রয়োজনীয়তা
গ্রামের প্রধান সম্পদ হলো জন-জমি-জল।গ্রামের সমবয়ীকরণ জমি এবং জল সম্পদের সঙ্গে সকল

শ্রমজীবিকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করতে পারে। ফলে তা গ্রামের শ্রম
সম্পদের বিভিন্নমুখী বিনিয়োগ এবং নিয়োজনের ক্ষেত্র উন্মোচিত করতে
পারে,এবং গ্রামের জীবনে আমূল ইতিবাচক পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশে
সবচেয়ে দৃশ্যগোচর বিষয় হলো ‘প্রচুর কাজ সম্পাদনের অপেক্ষায় পড়ে আছে,অথচ
প্রচুর লোক কাজ ছাড়া বিচরণ করছে। তাই কিভাবে উৎপাদনশীল কাজ সবচেয়ে শ্রমঘন
পদ্ধতিতে এবং সবচেয়ে কম বাড়তি মজুরী-দ্রব্যাদির প্রয়োজনীয়তা উদ্রেক করে
সম্পাদন করা যায়,নীতি নির্ধারকদের জন্য তা একটি জরুরী প্রশ্ন। কৃষিকাজ
ছাড়াও গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন পুঁজি নির্মাণমূলক কাজে,যেমন ভৌতিক অবকাঠামো
নির্মাণে শ্রমের উৎপাদনশীল নিয়োগের বহু এবং  বিভিন্ন  সুযোগ  রয়েছে।
সমবায়ী গ্রামের পক্ষে মূল যুক্তি সমূহ
১।সমবায়ীকরণের  মাধ্যমে গ্রামের জমি ও জল সম্পদের উপর গ্রামের সকলের অংশীদারিত্ব

প্রতিষ্ঠা  দ্বারাই  এ কর্মোদ্যোগ সম্ভব হতে পারে।

২।নদনদী এবং জলাশয়সমূহের সংস্কার এবং উন্নয়ন--সমবায়ীকরণের মাধ্যমে
গ্রামকে নিজস্ব শক্তি ও উদ্যোগের মাধ্যমে এরূপ স্থবিরতা ও চলৎশক্তিহীনতা
থেকে মুক্তি দিতে পারে।দেশের নদ নদী এবং জলাশয়ের  বর্তমান দুরবস্থা এবং

ক্রমবর্ধমান জলাবদ্ধতার জন্য বিদেশিদের পরামর্শে নদ নদীতে বাঁধ দেয়ার
অবরোধ  পন্থাই মূলত দায়ী।

প্লাবন ভূমি এবং নদী খাত –উভয়ের জন্যই এই পন্থা ক্ষতিকর হয়েছে(ব্যাখ্যা)।
৩।নদ-নদী সংস্কার ও পরিচর্যা এবং আন্তগ্রাম সহযোগিতা—বাংলাদেশের জনসংখ্যা
প্রতি বর্গমাইলে ১০০০ ছাড়িয়ে গেছে।যদি বড় নদ-নদীর আয়তন দেশের মোট আয়তনের
৫% হয় তাহলে তাহলে প্রতি বর্গমাইলে নদীখাতের জন্য ২০,০০০ বাংলাদেশি পাওয়া
সম্ভব।এই বিপুল জন সম্পদ দ্বারা নিশ্চয়ই নদী খাতের এক বর্গমাইল সংস্কার
সম্ভব।

৪ঃ। সমবায়ী গ্রাম এবং বিকল্প নদী কৌশল-বদ্বীপ পরিস্থিতিতে নদীখাত এবং
প্লাবনভূমি একে অপরের পরিপূরক। অথচ বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে অবরোধ
পন্থা বা বেড়ীবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে  প্লাবনভূমিকে নদীখাত থেকে অবরুদ্ধ
বা বিচ্ছিন্ন করে প্লাবন ভূমিকে বন্যা থেকে রক্ষা করা ও বেশি ফসল উৎপন্ন
করা।প্রতিবছর উন্নয়ন বাজেটের ২০ ভাগ এখাতে ব্যয় হয়।দেশের নদ-নদী জলাশয়ের
বর্তমান দুরাবস্থা ও জলাবদ্ধতার জন্য অবরোধ পন্থাই দায়ী। প্লাবন ভূমি ও
নদী খাত উভয়ের জন্যই এই পন্থা ক্ষতিকর হয়েছে।
গ্রামের সমবায়ীকরণ নদ-নদীর প্রতি অবরোধ পন্থা

পরিত্যাগ করে উন্মুক্ত পন্থা গ্রহনের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। উন্মুক্ত
পন্থা বাস্তবায়নের জন্য যে বিপুল পরিমান শ্রমের প্রয়োজন হবে,তা গ্রামের
সমবায়ীকরণ  ভিন্ন সংগঠিত করা কঠিন।উন্মুক্ত পন্থাজনিত কর্মকান্ডের ফলে
জমি ও পানি সম্পদের উন্নয়ন হবে।সম্পদ উন্নয়নের কাজে  শ্রম দিতে
শ্রমজীবিরা এগিয়ে আসবেন কারন এসব সম্পদ উন্নয়নের সুফলের ভাগিদার তাঁরাও
হবেন। সুতরাং নদ-নদীর উন্মুক্ত পন্থা বাস্তবায়নের জন্যও গ্রামের
সমবায়ীকরণ প্রয়োজন।শুধু দেশে নয় ভারতেও এই অবরোধ প্রথায় পানি
প্রত্যাহারের নীতি  অনুসরণের কারনে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ ।
৫।জলবায়ু পরিবর্তন ও সমবায়ী গ্রাম- জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের গ্রামের
সমবায়ীকরণের প্রয়োজণীয়তাকে  আরও জরুরী করে তুলেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন- নদ-নদীর প্রতি উন্মুক্ত পন্থা-সমবায়ীগ্রাম।
৬। নিয়োজন এবং বিনিয়োগের অন্যান্য ধারা- উপযোগী  প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর
উপস্থিতিতে গ্রামবাসীরা নিজেরাই স্বনির্ভরতার ভিত্তিতে এসব উদ্যোগ নিতে
পারে।কৃষি ছাড়াও যৌথ বিনিয়োগের দ্বারা হিমাগার,প্রক্রিয়াজাতকরণের লক্ষ্যে
শিল্প প্রতিষ্ঠা,গ্রামে সোলার প্যানেল,বায়ুচালিত টারবাইন,কম্পিউটার
কেন্দ্র ইত্যাদি স্থাপনেও গ্রাম স্বনির্ভরভাবে উদ্যোগ নিতে পারে।

৭। আন্তঃখাত সংযোগ ,শিল্প,ও বৃহত্তর গ্রামীন অর্থনীতি-

৮। জনসংখ্যা উত্তরণ-জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমলেও মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি বছরে
১৯’২ লক্ষ। সমবায়ী গ্রামে শ্রমজীবি দরিদ্রদের জীবনে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা
বৃদ্ধির ফলে অধিক (পুত্র) সন্তান

গ্রহনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা হ্রাসের যে প্রবণতা,তা ক্রমে হ্রাস
পাবে। সমবায়ী গ্রামের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন ও বাস্তবায়নে
অংশগ্রহনের সুযোগ তাদেরকে একটা নতুন মর্যাদাশীল নতুন অবস্থানে উন্নীত
করবে এবং তা জনসংখ্যা উত্তরণেও সহায়ক হবে।
৯। গ্রামের স্বস্থানভিত্তিক নগরায়ন-কে সুগম করবে। বিদ্যুৎ,
পানি,গ্যাস,পয়নিস্কাশন ইত্যাদি ভৌতিক উপযোগ এবং
শিক্ষা,চিকিৎসা,সাংস্কৃতিক সেবা ইত্যাদি সামাজিক উপযোগ  সৃষ্টি হলে
গ্রামেই মানুষ থাকবে জাপানের মতো।
১০। সমবায়ী গ্রামের অন্যান্য সম্ভাবনা-গ্রামকে যুথবদ্ধ এককে রূপান্তরিত
করা গেলে তা এক নতুন প্রাণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করতে পারে।বিভিন্নমুখী
সহযোগিতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকশিত হতে পারে।  এতটুকু পর্যন্ত নজরুল ভাইকে
পাঠিয়েছি ২৩ আগষ্ট রাতে ই মেইলে খ

পৃ ৭১    সমবায়ী গ্রাম ও স্বেচ্ছামূলক ভূমি সংস্কার – এর ক্ষেত্রে জাতীয়
পর্যায়ে ভূমি সংস্কার ও সমবায়ী গ্রামের নিজস্ব উদ্যোগ।– গ্রামের
বিষয়গত(অবজেকটিভ)উদ্যোগ-গ্রামে কি পরিমান জমি লভ্য,কি তার বিতরণ ইত্যাদি
দ্বিতীয়ত বিষয়ীগত(সাবজেকটিভ), অর্থাৎ গ্রামে সচেতনতার মাত্রা
কতটুকু,প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা সম্পন্ন কর্মীদের উপস্থিতি কতটুকু,গ্রামের
শ্রমজীবি ও দরিদ্ররা কতখানি সংগঠিত ইত্যাদির উপর।পাশাপাশি বহিস্থ জাতীয়
পর্যায়ের রাজনৈতিক শক্তি ভারসাম্যও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করবে।গ্রাম কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তরিত জমির পরিমাণ যতো বেশি হবে,ততোই
জমি ও জল সম্পদের সঙ্গে  শ্রমজীবিদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামের
সমবায়ীকরণ অর্থবহ ও গভীর হবে। এক্ষেত্রে মূল করনীয় হলো গৃহীত নিয়মাবলী
এবং তার বাস্তবায়ন পদ্ধতিকে সকলের নিকট স্বচ্ছ রাখা,এবং গ্রামের সকলের
সমান ভিত্তিতে (গনতান্ত্রিক)অংশগ্রহন নিশ্চিত করা।ছোট পরিবর্তনের মধ্য
দিয়েই বড় পরিবর্তনের পটভূমি ও পূর্বশর্ত সৃষ্টি হয়।একলাফে বড় পরিবর্তন
কদাচিৎ ঘটে।

পৃ৭৫ সমবায়ী গ্রাম ও গ্রাম তহবিল – সমবায়ী গ্রামে গ্রাম তহবিলের মৌলিক
ভূমিকা।স্বেচ্ছামূলক ভূমি সংস্কার সত্ত্বেও  অনেক ভূমিহীন ও ভূমিস্বল্প
পরিবার জমি পুনর্বিতরনের পরিধির বাইরে থেকে যাবেন।সুতরাং গ্রামের জল ও
জমি সম্পদ থেকে প্রাপ্ত আয়ের একটি অংশ গ্রাম তহবিলে জমা হতে হবে।তবেই এসব
সম্পদের উপর যাদের প্রত্যক্ষ মালিকানা নেই তারাও (তথা দরিদ্র শ্রমজীবিরা)
এসব সম্পদের উন্নয়নের কাজে শরীক হওয়ার  প্রণোদনা অনুভব করবে। সেটাই হলো
সমবায়ী গ্রামের সম্ভাবনার চাবিকাঠি।–গ্রামীন জীবনের জন্য তা একটি মৌলিক
পরিবর্তন ডেকে আনার সম্ভাবনা রাখে।(গ্রাম তহবিলের দুই উৎসঃ অভ্যন্তরীণ ও
বহিস্থ সূত্র-ব্যাখা)।–সম্পর্ণত গ্রামের উদ্যোগেও অভ্যন্ত্রীণ সূত্রের আয়
অর্জন সম্ভব।অর্থাৎ ,এ ধরনের আয়ের জন্য বহিস্থ আইনের প্রয়োজন নেই।গ্রামের
সকলের সম্মতির ভিত্তিতে তা অর্জিত হতে পারে।
জমি ও জল সম্পদের উপর চাঁদা সমবায়ী গ্রামের সাফল্যের জন্য
গুরুত্বপূর্ণ,কারণ এই চাঁদার মাধ্যমেই গ্রামের শ্রমজীবীদের কাছে দৃশ্যমান
হবে যে,তাদের শ্রম নিয়োজনের ফলে সাধিত জমি ও জল সম্পদের উন্নয়নের সুফলের
ভাগিদার তাঁরাও হতে পারছেন। সমবায়ী গ্রামের সাফল্যের চাবিকাঠি এই সংযোগ
প্রতিষ্ঠার মধ্যেই বহুলাংশে নিহিত।

পৃ ৭৮ সমবায়ী গ্রাম কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন ইস্যু—বঙ্গবন্ধুর
সমবায়ী গ্রামের স্বপ্নটি এখনও প্রাসঙ্গিক এবং যৌথচাষের প্রবর্তন ছাড়াও তা
গ্রামের জীবনে মৌলিক পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের
উন্নয়ন প্রক্রিয়ার গনতন্ত্রায়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে
পারে।কীভাবে ? --আভ্যন্তরীণ সক্ষমতা-(গ্রামে শিক্ষিত লোকে
উপস্থিতি,যোগাযোগ ও প্রচার মাধ্যমের উন্নতি,জনশক্তি রপ্তানি,ক্ষুদ্রঋণ
কর্মসূচি ও মহিলাদের হিসাব,এন জি ওর উপস্থিতি ও মানুষের সাংগঠনিক
অভিজ্ঞতা।গ্রামের সমবায়ীকরণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি
করতে পারে;সময়ে গ্রামের ইতিবাচক পরিবর্তন জাতীয় পরিস্থিতির উপরও শুভ
প্রভাব ফেলতে পারে।)পর্যায়ক্রমতা- (প্রথমে গুচ্ছ গ্রামে,পাইলট
প্রকল্প,সচেতন ও অগ্রসর,অতীত সংগ্রামের গ্রামে শুরু করা,দক্ষতায়
স্বতঃস্ফূর্তভাবে অন্যত্র প্রসার)।
বৈচিত্র্যের স্বকৃতি—প্রতিটি গ্রামের পরিস্থিতির দিকে নজর দেয়া।

পৃ-৮১ গ্রাম পরিষদ গঠন-সমবায়ী গ্রামের লক্ষ্যে প্রথম পদক্ষেপ-স্থানীয়
সরকার ও অর্থনৈতিক একক বা সমবায়ী গ্রাম পরিষদ।সামাজিক একক হিসেবে গ্রামের
যথার্থতা।
প্রাক ঔপ্নিবেশিক আমল-- ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত-মৌর্য্য
সাম্রাজ্যে,সম্রাটের গ্রাম,কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে গ্রামের
বিবরণ,কারুশিল্পীদের পরে গ্রামে ছড়িয়ে দেয়া হয়ও শস্য চাঁদা চালু;এভাবে
“স্বয়ংসম্পূর্ণ”  গ্রামের উদ্ভব ঘটে।শ্রম বিভক্তি বর্ণ বিভক্তিতে
পরিণত।গ্রাম পঞ্চায়েত প্রথা খাজনা আদায় ও গ্রামের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব
ছিল।বৃটিশ আমল- ওয়ার্ড-ইউনিয়ন বৃটিশের সৃষ্টি।সিপাহী বিদ্রোহের পর সনাতন
গ্রাম পঞ্চায়েতকে পুনরুজ্জীবিত করে,গ্রাম চৌকিদার নিয়োগ,পাকিস্তান
আমল—কিছুই করেনি গ্রামের জন্য বঙ্গবন্ধু আমল—তিনি জানতেন ইউনিয়ন-ওয়ার্ড
বৃটিশ সৃষ্ট কৃত্রিম একক-কোন ঐতিহাসিক শেকড় নেই।ইউনিয়নের দুর্নীতিতে
বিক্ষুব্ধ ছিলেন তাই ১৯৭৫ সনে সরাসরি প্রতিগ্রামে সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে
সমবায় গঠনের কর্মসূচি ঘোষনা করেন।তারপর বঙ্গবন্ধু হত্যা। জিয়াউর রহমানের
আমল---১৯৮০ সনে “স্বনির্ভর গ্রাম সরকার” বিধিমালা জারি করেন।এতে
“স্বনির্ভর গ্রাম তহবিল” গড়ার বিধান রাখা হয়।৮০ সনে গ্রাম সরকার নির্বাচন
অনুষ্ঠিত হয়,এবং নির্বাচিত সদস্যদের একটি মহা-সমাবেশ রাজধানী ঢাকায়
অনুষ্ঠিত হয়।এর পর জিয়ার মৃত্যু। এরশাদ আমল—এরশাদ নিজেকে
“পল্লীবন্ধু”হিসেবে জাহির করেন। এবং১৯৮৯ সনে “পল্লী পরিষদ আইন” করেন,তা
কার্যকরী করার আগেই তার পতন হয়।
খালেদা জিয়া সরকার---৯১ তে নির্বাচিত হয়ে “স্থানীয় সরকার কাঠামো
পর্যালোচনা কমিশন” গঠিত হয়। এই কমিশন “গ্রাম সভা” গঠনের সুপারিশ করে।
কিন্তু এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়না।
শেখ হাসিনা সরকার---৯৬ তে ক্ষমতা গ্রহনের পর স্থানীয় সরকার (গ্রাম পরিষদ)
আইন ৯৭ প্রণীত হয়। এতে ওয়ার্ড ভিত্তিতে গ্রাম পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা।
ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিবেদন পেশকেই মূল কাজ বিবেচনা করা হয়। আইন প্রণীত হলেও
বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
খালেদা জিয়া সরকার ---হাসিনা সরকারের ৯৭ গ্রাম পরিষদ আইন বাতিল করে ২০০৩
সালে  গ্রাম সরকার আইন প্রনয়ন করে। কিন্তু নির্বাচনের পরিবর্তে
“মনোনয়ন”এর বিধান রাখা হয় যার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ হলে
সুপ্রীম কোর্ট ২০০৩ সালে  গ্রাম সরকার আইনকে ‘সংবিধান পরিপন্থী বলে রায়
দেয়।

পৃ-৯২ গ্রাম পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বিষয়ক বিভিন্ন প্রস্তাবের
তুলনা—বাংলাদেশে গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়ে
আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ঠ ভিত্তি আছে। দেশের সংবিধানে স্থানীয় সরকার বিষয়ে
জোরালো সমর্থন ব্যক্ত হয়েছে। আরো আছে এগুলো গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে
নির্বাচিত হবে এবং এগুলোর এখতিয়ার বেশ সম্প্রসারিত চরিত্রের হবে।
সংবিধানের এই সমর্থনকে ভিত্তি করে গ্রাম পর্যায়ে  গনতান্ত্রিক
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ সহজেই অগ্রসর হতে পারে। স্বাধীনতার
পর প্রায় সব সরকারই গ্রাম পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো  গড়ার কোনো না
কোনো উদ্যোগ গ্রহন করেছে। অর্থাৎ গ্রাম পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো
গড়ার বিষয়ে দেশে একটি সাধারণ ঐক্যমত্য আছে।এটাও একটা ইতিবাচক দিক।

স্বাধীনতার পর  গ্রাম পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ার বিভিন্ন উদ্যোগ সন উদ্যোগ গ্রহনকারী সরকার উদ্যোগ

১৯৭৫

বঙ্গবন্ধু

সমবায়ী গ্রাম

১৯৮০

জিয়াউর রহমান

্স্বনির্ভর গ্রাম সরকার

১৯৮৯

হুসেইন মু এরশাদ

পল্লী পরিষদ আইন

১৯৯১

খালেদা জিয়া

গ্রাম সভা গঠনেরসুপারিশ

১৯৯৭

শেখ হাসিনা

গ্রাম পরিষদ আইন

২০০৩

খালেদা জিয়া

গ্রাম সরকার আইন

গ্রাম পরিষদের জন্য ৪ টি প্রস্তাবনাঃ ১। ওয়ার্ড নয় গ্রাম হবে ভৌগলিক ও
সামাজিক একক । ২। গ্রাম পর্যায়ের স্থানীয় সরকারের কাঠামোকে মৌলিক ধাপ
হিসেবে গ্রহন করা।৩।সাধারন মানুষের গনতন্ত্র চর্চার সহজলভ্য সুযোগ দিয়ে
গনতান্ত্রিকতাকে গ্রাম পরিষদ গঠন ও কার্য সম্পাদন।৪। গ্রামকে অর্থনৈতিক
একক হিসেবে স্থানীয় সরকারও সমবায়ী গ্রাম পরিচালনা পরিষদের দ্বৈত ভূমিকা
পালন।

এক্ষেত্রে প্রতিবেশি ভারত ও চীনের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।
পৃ ১০০ ভারতের অভিজ্ঞতা –মহাত্মা গান্ধী “গ্রাম স্বরাজ”এর স্বপ্ন
দেখেছিলেন। ভারতে সংবিধানেও রয়েছে যে, “রাজ্য সমূহ গ্রাম পঞ্চায়েত গঠন
করবে এবং তাদেরকে স্বশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব প্রদান
করবে”।এখন ভারতে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বেশ সুসংহত হয়েছে।২’৪ লক্ষ পঞ্চায়েত
রয়েছে।মোট প্রতিনিধি সংখ্যা২৮ লক্ষ,যার ৩০ শতাংশের বেশি মহিলা,১৯ শতাংশ
নিচু জাতি বা শিডিউল কাষ্ট,১২শতাংশ শিডিউল ট্রাইব ও অন্যান্য পশ্চাদপদ
কাষ্ট(বেশিরভাগ রাজ্যে)।৫০হাজার গ্রাম পঞ্চায়েতের দৈনিক আয় ব্যয়ের হিসাব
এখন ইন্টারনেটে পাওয়া যায়।ওমবাটসম্যান,সামাজিক হিসাব-পরীক্ষা,আদর্শ হিসাব
ব্যবস্থা,ইত্যাদির প্রবর্তন পঞ্চায়েতের হিসাব রক্ষনকে  একটি নতুন পর্যায়ে
নিয়ে যাচ্ছে।পঞ্চায়েতের কাজের মূল্যায়নের ইন্টারনেটে প্রচার ভাল কাজকে
উৎসাহিত করছে এবং মন্দ কাজকে নিরুৎসাহিত করছে।এখন পঞ্চায়েতকে আদায়কৃত
করের অংশীদারী করে দিয়েছে।এছাড়া ভাল কাজের জন্য “সম্পাদনা”
(পারফরমেন্স)বরাদ্দের ব্যবস্থা করেছে। তদুপরি কিছু রাজ্য পঞ্চায়েতসমূহকে
পাঁচটি মন্ত্রনালয়ের ফান্ড,ফাঙ্কসানস এবং ফাঙ্কশানারীর অংশীদারী করে
দিয়েছে। এগুলো হলো  কৃষি,শিক্ষা,স্বাস্থ্য,সমাজ-কল্যাণ,মহিলা ও শিশু।
“মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ নিয়োজন নিশ্চিত আইন” এবং “পশ্চাদপদ এলাকার
অনুদান তহবিল” বাস্তবায়নে পঞ্চায়ত ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করছে।ভারতের উন্নয়নের জন্য পঞ্চায়েত ব্যবস্থা সহায়ক বলে প্রমাণিত হচ্ছে।
লক্ষণীয়,দক্ষিণ এবং পশ্চিম ভারতের অপেক্ষাকৃত উন্নত রাজ্য সমূহে পঞ্চায়েত
ব্যবস্থাও অধিকতর শক্তিশালী।

পৃ ১০৩ চীনের অভিজ্ঞতা—চীনে গ্রাম সরকারের ভূমিকা ভারতের গ্রাম
পঞ্চায়েতের চেয়ে আরও অগ্রসর চরিত্রের।আইন অনুযায়ী  গ্রাম সভায় গ্রাম
নির্বাচন কমিটি কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচনে  প্রত্যক্ষ এবং গোপন ভোটে এবং
প্রকাশ্য ভোট গণনার ভিত্তিতে তিন বছরের জন্য গ্রাম সভার সদস্যদের মধ্য
থেকে “গ্রাম কমিটি” নির্বাচিত হবে। গ্রাম কমিটিকে  স্বশাসনের  মূল
গণ-সংগঠন হিসেবে  বিবেচনা করা হবে, এবং এই কমিটি গ্রাম সভার নিকট দায়বদ্ধ
থাকবে এবং প্রতিবেদন পেশ করবে। গ্রাম কমিটি ৩ থেকে ৭ সদস্য বিশিষ্ট হবে।
একজন চেয়ারম্যান,একজন ভাইস চেয়ারম্যান,বাকীরা সদস্য হবেন। মহিলা এবং
সংখ্যালঘু নৃতাত্বিক গ্রুপ থেকে সদস্য রাখার বিধান আছে। গ্রামবাসীরা শুধু
নির্বাচনের অধিকারী নন এসব সদস্যদের প্রত্যাহারও করতে পারবেন।
নির্বাচকমন্ডলীর (তথা গ্রাম সভার সদস্যদের মধ্যে) এক পঞ্চমাংশ কাউকে
প্রত্যাহারের প্রস্তাব করলে গ্রাম সভায় সঙ্গে সঙ্গে এসব প্রস্তাব ভোটে
দেবে। গ্রাম কমিটি বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে গ্রাম গ্রুপ গঠন করতে
পারবে এবং প্রতি গ্রাম গ্রুপ নিজেদের নেতা নির্বাচিত করতে পারবে। চীনের
গ্রাম সরকারের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সমবায়ী
গ্রাম সংক্রান্ত বঙ্গবন্ধুর যে স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নের জন্য যে গ্রাম
পরিষদ গঠন করা দরকার তার এখতিয়ার কিছুটা বিস্তৃত হওয়া দরকার। গ্রাম
পরিষদকে স্থানীয় সরকারের ভূমিকার পাশাপাশি  সমবায়ী গ্রামের পরিচালনা
পরিষদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।গ্রাম পরিষদকে ম্যাক্রো বা গ্রামের
পরিধিতে  বিভিন্ন ভৌতিক ও সামাজিক অবকাঠামো নির্মাণ,উপযোগ সরবরাহ, এবং
উৎপাদন  কার্যক্রম  সংগঠন এবং  পরিচালনার উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশের
গ্রাম পরিষদের আইনকে  এমন হতে হবে, যাতে  তারপক্ষে উপর্যুক্ত উদ্যোগ
গ্রহনের  সুযোগ থাকে।
পৃ১১০ সমবায়ী গ্রামের রাজনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং উপসংহার—গ্রাম কর্তৃপক্ষ
মানুষের সবচাইতে নাগালের মধ্যকার প্রতিষ্ঠান হবে। তাদের প্রাত্যহিক
জীবনের সমস্যাবলী  নিয়ে আলোচনা ও সমাধান প্রয়াসে এর বিকল্প নেই।
প্রতিযোগী হওয়ার পরিবর্তে ইউনিয়ন পরিষদ পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে।
--গ্রাম কর্তৃপক্ষের অবস্থান গ্রামের মানুষের অত্যন্ত নাগালের মধ্যে
হওয়ায় তাতে সাধারন মানুষের সংখ্যার শক্তির প্রকাশ অপেক্ষাকৃত সহজ হবে। সে
শক্তির উপর নির্ভর করে গ্রামের সমবায়ী চরিত্রকে আরও গভীরতার দিকে  নিয়ে
যাওয়ার পথ সুগম হবে।এরজন্য প্রয়োজন হবে উপযোগী প্রয়াস ও নেতৃত্বের
-গ্রামের অভ্যন্তরে এবং গ্রামের  বাইরে,স্থানীয় এবং জাতীয়  পর্যায়ে।
বস্তুত সূচনায় গ্রামের সমবায়ীকরণকে একটি পৃথক লক্ষ হিসেবে উপস্থিত করার
প্রয়োজনও নেই।  গ্রাম ভিত্তিক স্থানীয় সরকার গঠন,সেই সরকারের তহবিল
প্রতিষ্ঠা,এই তহবিলের মাধ্যমে বিভিন্ন  উন্নয়নমূলক এবং কল্যানধর্মী
কর্মকান্ডের উদ্যোগ গ্রহন এবং সম্পাদন, ইত্যাদি কাজই  গ্রামকে একটি
সমবায়ী চরিত্র দেবে। এই সমবায়ী চরিত্রকে আরো গভীর করা যায় কিনা,সে
প্রশ্নের উত্তর সময় এবং পরিস্থিতিই নির্ধারন করবে।– এই কর্মসূচির মধ্যে
গোটা জাতির  স্বার্থ নিহিত। গণমানুষের কাছে এই কর্মসূচি তুলে ধরা,এই
কর্মসূচী কীভাবে  গ্রামের মানুষের জীবনের গুনগত ইতিবাচক পরিবর্তন সূচনা
করতে সক্ষম তা পরিস্কার করা,এবং জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে গোটা
জাতির টিকে থাকার সংগ্রামে এই কর্মসূচি কীভাবে সহায়ক হবে তা
যুক্তিনিষ্ঠভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। এই কাজগুলি যদি উদ্যম সহকারে সঠিকভাবে
করা যায় তবে সমবায়ী গ্রাম এবং গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামো
সৃষ্টির দাবীর পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তখন  রাজনৈতিক
দলসমূহ এই জনমতের প্রতি  সম্মান দেখাতে প্রবুদ্ধ হবে এবং গ্রাম পর্যায়ে
প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত যে শূণ্যতা বিরাজ করছে তা পূরণে এগিয়ে যাবে।


নিউইয়র্ক প্রবাসী দিলরুবা’র মৃত্যুতে প্রবাসীদের শোক

বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ ঃ নিউইয়র্ক প্রবাসী দিলরুবা বেগম (৫৮) গত ২৩ আগষ্ট বুধবার অপরাহ্ন দেড়টায় নিউইয়কের কুইন্সের জ্যামাইকা হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহী.......রাজেউন) মৃত্যুকালে তিনি এক কন্যা আনিলা ও নাতনী রেখে গেছেন। উল্লেখ্য, মরহুমার দেশের বাড়ী ব্রাক্ষণবাড়ীয়ার ঐতিহ্য পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ৯০ দশক থেকে এষ্টোরিয়ায় বসবাস করেন। ২০০৬ সাল থেকে নিউইয়র্কের জ্যামাইকা বসবাস করেন। দীর্ষদিন অসুস্থ থাকার সময় তার মেয়ে নিউইর্কের নাট্যকর্ম আনিলা এবং তার মেয়ের স্বামী রিয়েলেটর শাহরিয়ার দিলরুবা বেগমকে দেখা শুনা করতেন।

ছবিতে মৃত্যুর এক সপ্তাহ পূর্বে কুইন্সের ফ্লাশিং এ রিহাব সেন্টারে বাথেকে দিলরুবা বেগমকে দেখতে যান মেয়ে নিউইর্কের নাট্যকর্ম আনিলা ও  মাসুদা ইয়্সমীন রুমাূকে দেখা য়াূচেছ।ছবি:বাপসনিঊজ:
মরহুমা দিলরুবা বেগমের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন  আমেরিকা-বাংলাদেশ এলাইন্সের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম,এবিসিডিআই সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর,লেখক ও এক্টিভিষ্ট সিকদার গিয়াসউদ্দিন, সিডিএলজি নির্বাহী পরিচালক আবু তালেব,যুক্তরাষ্ট্র সোহরাওয়ার্দী স¥ৃতি পরিষদের সভাপতি শিশু সাহিত্যিক হাসানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন,সংগঠক আবদুর রহিম বাদশা, নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ওসমান গণি ও সাধারণ সম্পাদক সুহাস বড়ুয়া, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুর রহামন মিলন ও সাধারণ সম্পাদক আলো আহমেদ,আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন  সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন ও সাধারণ সম্পাদক হেলাল মাহমুদ,  মুক্তিযোদ্ধা বিএম জাকির হোসেন হিরু ভূইয়া, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কুদ্দুস,বোস্টনবাংলানিউজ ডটকম সহযোগী সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা ,নাসিম পারভীন,সামসুল আলম ও আয়েশ আক্তার রুবি, ইউএসএবাংলানিউজ এর সম্পাদক আবু সাঈদ রতন, কবি ও সঙ্গীত শিল্পী শামীমআরা আফিয়া, কবি আব্দুল আজিজ, ফিরোজ মাহমুদ, আশাফ মাসুক,জাহাঙ্গীর কবির জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক শামসুউদ্দিন আহমেদ শামীম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি দেওয়ান শাহেদ চেীধুরী, এর সভাপতিত্ত্বে ও সাধারান সম্পাদক নূরে আলম জিকু এবং শেখ হাসিনা মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি হাজী জালাল উদ্দিন জলিল ও সাধারণ সম্পাদক কায়কোবাদ খান আবুল কাসম ভুইয়া,কাজি বাবুল,মাসুদা ইয়াসমিন রুমা প্রমুখ।এদিন মরহুমার জানাযা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে অনুষ্টিত হয়। পরে লংআইল্যান্ডের ওয়াশিংটন ম্যামোরিয়াল কবর স্থানে সমাধিস্থ করা হয়।


নিউইয়র্কে জাতীয় শোক দিবসের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলো মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ শক্তির সম্মিলিত জোট

শুক্রবার, ২৫ আগস্ট ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ: নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র)থেকে : নিউইয়র্ক, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের প্রথম প্রহর ০০০১ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্জলন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করলো মুক্তিযোদ্ধারা ও মুক্তিযুদ্ধ শক্তির সম্মিলিত জোট। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো নিউইয়র্কের বাঙ্গালী অধ্যূসীত এলাকা জ্যাকসন হাইস্টে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির সামনে সর্বস্তরের প্রচুর মানুষের সমাগমে ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দিবসটি পালিত হলো।

alt
আয়োজক সংগঠনের প্রধান মুক্তিযোদ্ধা ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর শোককে শক্তিতে পরিনত ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে স্বাগত বক্তব্য বলেন ১৫ আগস্ট বাঙ্গালীর জাতির জীবনে অত্যন্ত শোকাবহ একটি দিন। এদিন সংঘটিত হয়েছিলো ইতিহাসের ঘৃণ্য কলঙ্কিত এক অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অমানিশায় হায়েনারা সপরিবারে হত্যা করলো ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে।

alt

সেদিন দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে চেয়েছিলো বঙ্গবন্ধু নাম ও আদর্শকে মুছে দিতে। কিন্তু না, তাদের সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বাঙালি জাতির হৃদয়ে যে আদর্শ গেঁথে আছে, সে আদর্শকে হত্যা করতে পারে নি ঘাতকরা। তাই বঙ্গবন্ধু মরেনি। বঙ্গবন্ধু বাঙালির হৃদয়, মননে চির অবিনশ্বর ও অবিনাশী। তাঁর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

alt
বিশেষ ব্যক্তিদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রথমে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্জলন করে নিবেদন করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় সদস্য জনাব মিজানুর রহমান(খুলনা) ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ আহসান রাসেলল,

Picture

এরপর জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাননীয় এ্যামবাসেডর জনাব মাসুদ বিন মোমেন ও নিউইয়র্কে নিযুক্ত মাননীয় কনস্যাল জেনারেল জনাব মোঃ সামীম আহসান,জাতির শ্রেস্ট সন্তান মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি ও মুক্তিযোদ্ধা শহিদুর রহমানের নেওৃএে মুক্তিযোদ্ধারা, যুক্তরাস্ট্র আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সনপাদক আবদুস সামাদ আজাদ, যুগ্ন সনপাদক আইরিন পারভিন, দপ্তর সনপাদক মোহন্মদ আলী সিদ্দিকী, মানবাধীকার সনপাদক কাজী কয়েসের নেওৃএে যুক্তরাস্ট্র আওয়ামীলীগের বিভিন্ন শ্রেনীর নেতাকমী; শাহিন আজমল, ডি এম রনেল ও মোঃ আলমগীরের নেওৃএে নিউইয়ক স্টেট আওয়ামীলীগের নেতাকমী;

alt

যুক্তরাস্ট্র আওয়ামী যুবলীগের নেতাকমী; হাকিকুল ইসলাম খোকনের নেওৃওে আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন; আজিজুল হক খোকন ও মিঃ জুয়েলের নেওৃএে যুক্তরাস্ট্র শ্রমিকলীগ, নূরুজ্জামান ও সুবল দেবনাথের নেওৃএে যুক্তরাস্ট্র স্বেচ্ছাসেবকলীগের বিভিন্ন শ্রেনীর প্রচুর নেতাকমী; জাহিদ হাসানের নেওূএে যুক্তরাস্ট্র ছাএলীগের বিভিন্ন শ্রেনীর নেতাকমী; যুক্তরাস্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের নেএীবৃন্দ; নূরে আলম ঝিকুর নেওৃএে যুক্তরাস্ট্র জাসদের নেতাকমী; আশরাফুজ্জামানের নেওৃএে বঙ্গমাতা পরিষদ; এ্যাডভোকেট মোর্শেদা জামানের নেওৃএে আওয়ামী আইনজীবি পরিষদ; আশরাফুজামানের ও ইঞ্জিঃ মিজানুল হাসান নেওৃওে পোশাজীবি সমম্নয় পরিষদ; আলী হাসান কিবরিয়া অনুর নেওৃএে আমেরিকা বাংলাদেশ কমিউনিটি ডেভলেপমেণ্ট ইনিটিয়েটিফ (এবিসিডিআই); মিথুন আহমেদ ও লুৎফুল নাহার লতা ও মিনহাজ আহমেদের নেওৃএে উওর আমেরিকা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের নেএবৃন্দ; ওবায়দুল্লা মামুনের নেওৃএে একুশের চেতনা পরিষদ; বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলার নেওৃবৃন্দ,

alt

এছাড়া অন্যান্ন যে সকল সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে তাদের মধ্যে জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন; মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্জ; স্বাধীনতা চেতনা মঞ্জ; বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম, স্বদেশ ফোরাম।

alt

এছাড়াও অন্যান্নের মধ্যে জেড এ জয়, মোঃ জাহাঙ্গীর, আশরাফ মাসুক, মঞ্জুর চৌধুরী, প্রবীর গুন, আবুল কাসেম ভূইয়া সহ আরো অনেকই বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ ও মোমবাতি প্রজ্জলনে অংশগ্রহন করেন। শেষপর্বে সম্মিলিত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।


বঙ্গবন্ধুকে ঘাতকরা ঠান্ডা মাথায় হত্যা করেছে -----ড. প্রদীপ রঞ্জন কর

বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০১৭

Picture

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিউজ: যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা,বাকসু সাবেক জিএস ও বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম ইউএসএ-এর প্রধান উপদেষ্টা এবং মুক্তিরযাদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে ঠান্ডা মাথায় স্বপরিবারে হত্যা করেছে। কিন্তু তার আদর্শকে হত্যা করতে পারেনি।

alt

ভবিষ্যতেও আর পারবে না। বাঙ্গালি জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। বাঙ্গালি জাতি এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবে।

alt
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে গত ২০ আগস্ট রবিবার, সন্ধ্যা ৭.৩০টায়, 

alt

নিউইয়র্কের  এষ্টোরিয়াস্থ বৈশাখী  রেষ্টুরেন্টে বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম ইউএসএ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের সভায় প্রধান অতিথীর বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন প্রধান অতিথি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর।খবর বাপসনিঊজ:

alt
বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম ইউএসএ সভাপতি মাইন ঊদিদন মঈন সভাপত্তিত্বে ও সাধারন সম্পাদক হারুন-অর রশীদ এর সুন্দর ও সাবলীল পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় শোক দিবসের সভায় প্রধান অতিথি মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর।

alt

বিশেষ অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম ইউএসএ উপদেষ্টা সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, উদয়ন শিল্পগোষ্ঠী নিউইয়র্কের সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম ইউএসএ মুক্তিযোদ্ধা ডা: টমাস দুলু রায়, 

alt

আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন সাধারন সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম ইউএসএ হেলাল মাহমুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম ইউএসএ উপদেষ্টা আকতার হোসেন , বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম ইউএসএ স্ট্যাডিং কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি,

alt

ষ্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ইমাদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম ইউএসএ মুক্তিযোদ্ধ উলফৎ আলী মোল্লা , সাবেক ছাত্রনেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বাবুল ,আওয়ামী লীগ নেতা রাজু আহমেদ মোবারক, লেখক,কবি ও মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরকার,

alt

নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ এম.এইচ. মতিন,  গোলাপগঞ্জ  জেলা সমিতি ইঊএসএ  সাবেক সভাপতি মতিঊর রহমান ফুলু,নরসিংদী জেলা সমিতি ইঊএসএ সভাপতি জাহিদুল হক খান অরুন,

alt

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সাধারণ নাফিকুর রহমান তুরান নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সদস্য এমএন জিন্নাত, আবদুল মুহিত মুক্তা, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট মীর জাকির , মোঃ খোরশেদ আলম,মিসেস রিচি এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সাধারণ নাফিকুর রহমান তুরান।

alt
সভায় অন্যান্যদের সাঝে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ নেতা এমএন জিননাত, বাংলাদেশ আওয়ামী ফোরাম ইউএসএ সহ সভাপতি  আবুল বাশার মিলন,সহ সভাপতি মাহমুদুল হাসান,সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম,সহ সাধারন সম্পাদক শহীদুল ইসলাম শহীদ,আবল হাসিব,সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ আবদুল হক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সবিতা দাস,ফারুক হোসাইন,মহিলা সম্পাদক নিলুফার রশিদ, সহ মহিলা বিষয়ক সম্পাদক কানিজ আয়েশা ,শ্রম ও কর্মসংস্থান সম্পাদক শান্তি রঞ্জন, সদস্য এহসানুল হক বাবুল, আশিকুর রহমান , রমজান আলী ও রফিকুল ইসলামপ্রমুখ।

alt
সভার শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত, গীতা পাঠ ও বাইবেল পাঠ করা হয়। ৭৫ এ ১৫ই আগষ্ট নিহত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু সহ পরিবারের সকলের রূহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মেীলানা সাইফুল ইসলাম সিদিদকী।

alt
সবার প্রারম্ভে ১৯৭৫-এর ১৫ আগষ্ট স্বপরিবারে নিহত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, কেন্দ্রিয় কারাগারে চার জাতীয় নেতা, একাত্তর-এর মুক্তিযুদ্ধ ও  ১৯৫২- এর মহান ভাষা আন্দোলনসহ আজ পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরনে সভায় দাঁড়িয়ে  এক মিনটি কাল নিরাবতা পালন করা হয়।

alt

শেষে নৈশভোজে সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়।

alt


কিশোরগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন ইঊএসএ বার্ষিক বনভোজন চড়াই ভাতি ২০১৭ অনুষ্ঠিত

বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০১৭

Picture

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ: গত ২০ আগষ্ট রবিবার কিশোরগঞ্জ প্রবাসীদের বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় অন্যতম বৃহৎ ও সুশৃংখল সংগঠন প্রবাসের অন্যতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন কিশোরগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন ইউএসএ-এর বার্ষিক বনভোজন ও মিলন মেলা নিউইয়র্কের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভুমি ঘেরা নয়নাভিরাম নিউইয়র্কের লং-আইল্যান্ডের হেকশেয়ার ষ্টেট পার্কে অনুষ্ঠিত হয়।

alt

এই মিলন মেলায় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী কিশোরগঞ্জ জেলাবাসী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ইউএসএ-র বিভিন্ন স্টেট (ওয়াশিংটন, নিউজার্সি, পেনসেলভিনিয়া) থেকে এসে অংশগ্রহন করেন, এমনকি সুদুর বাংলাদেশ থেকেও অনেকে উপস্থিত হন।

alt

বনভোজনের অনুষ্ঠান মালার মধ্যে ছিল বাচ্চাদের খেলাধুলা, যাদু প্রদর্শনী, মহিলাদের বালিশ খেলা, পুরুষদের ফুটবল খেলা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সারাদিন পালাক্রমে বিভিন্ন রকমের সুস্বাধু খাবার পরিবেশন ছিল লক্ষ্যনীয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীদের জন্য ছিল আকর্ষনীয় পুরস্কার, এছাড়াও উপস্থিত সকল মহিলা ও শিশুদের বিশেষ উপহার এবং প্রবীন প্রবাসীদের জন্য উপহার ছিল।খবর বাপসনিঊজ ।

alt
সকাল ৯টায় জ্যাকসন হাইটস, ব্রংঙ্কস এবং জ্যামাইকা থেকে প্রায় ২৫/৩০টি প্রইভেট কার ও ৩টি বিলাসবহুল বাস সহকারে প্রবাসী কিশোরগঞ্জ জেলাবাসী নিউইয়র্কের লং-আইল্যান্ডের হেকশেয়ার স্টেট পার্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সকাল ১০টায় বনভোজনস্থলে পৌছার পর আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে সাথে নিয়ে কিশোরগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন ইঊএসএ-এর আহবায়ক আবদুল আওয়াল সিদ্দিকী, সদস্য একেএম. আশরাফুল হক, সাবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, জাইদুল কবীর খান সারোয়ার এবং পিকনিক কমিটির আহবায়ক আহবায়ক আঃ রাজ্জাক যুগ্ম আহবায়ক আলী আহসান আকন্দ শামীম, সদস্য সচিব জাবির হোসেন তাকবীর ,সদস্য জয়ন্ত শর্মা বিশ^, আনোয়ার উদ্দিন খান, এনামুল হক, হুমায়ুন কবীর ও আঃ আলীম। পিকনিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে হেলাল উদ্দিন আহমেদ এবং সমন্বয়কারী জাইদুল কবীর খান সারোয়ার। ফেস্টুন ও বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের শুভ উদ্বোধন করেন এবং অতিথিসহ সকলে মিলে ফেস্টুন ও বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

alt
বনভোজনে আগত অতিথিদের স্বাগত জানান সভাপতি কিশোরগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন ইঊএসএ-এর আহবায়ক আবদুল আওয়াল সিদ্দিকী, সমন্বয়কারী  জাইদুল কবীর খান সারোয়ার ,বনভোজন কমিটির আহবায়ক আহবায়ক আঃ রাজ্জাক যুগ্ম আহবায়ক আলী আহসান আকন্দ শামীম, সদস্য সচিব জাবির হোসেন তাকবীর ,সদস্য জয়ন্ত শর্মা বিশ^, আনোয়ার উদ্দিন খান, এনামুল হক, হুমায়ুন কবীর ও আঃ আলীম। অনুষ্ঠানের অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন  সাবেক উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ আনিসুজ্জামান খোকন ।

alt

সকালের নাস্তা পরিবেশনের পর শুরু হয় শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন ইভেন্টের খেলাধুলা প্রতিযোগীতা। এত প্রথমে বাচ্চাদের দৌড় প্রতিযোগীতা, বালক-বালিকাদের মোট ৬টি ইভেন্টে খেলাধুলা প্রতিযোগীতা হয়। তারপর শুরু হয় পুরুষদের প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা, এতে প্রতিদন্ধিতাকারী সাদা ও হলুদ দলের মধ্যে গোল শূন্য ড্র-এর মাধ্যমে ফুটবল খেলা শেষ হয়।

alt
জ্যাকসন হাইটস্থ জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট খাবার বাড়ী’র সুস্বাধু খাবার দিয়ে অতিথিদের দুপুরের খাবার পেিরবেশন করা হয়, এতে মহিলাদের জন্য অতিরিক্ত খাদ্য হিসাবে ছিল সুটকি ভর্তা ও আমের আচার। বিকালে ছিল পায়েশ, জর্দা ও ঝাল মুড়ি। হাতে বানানো আচার যেন দুপুরের খাবারের পরিপূর্ণতাকে বাড়িয়ে দেয়। বেলা ১২টায় ছিল তরমুজ এবং বাচ্চাদের জন্য বিভিন্ন রকমের জুস। এছাড়াও সকল প্রবাসীদের জন্য ছিল পান সুপাড়ি।

alt
বিভিন্ন ক্রিড়া প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করেন এবং বিজয়ীদের মাঝে বালকদের দৌড় (৩-৬) বছর ।১ম পুরস্কার বিজয়ী ঃ আতাহার-কিশোরগঞ্জ সদর,২য় পুরস্কার বিজয়ী ঃ আদনান রহমান কটিয়াদী,৩য় পুরস্কার বিজয়ী ঃ ইফরান মাসুদ বাজিতপুর,বালকদের দৌড় (৭-১০) বছর,১ম পুরস্কার বিজয়ী ঃ আবিদুর রহমান,কটিয়াদী,২য় পুরস্কার বিজয়ী ঃ মোঃ ফরহাদ - বাজিতপুর,৩য় পরস্কার বিজয়ী ঃ তানভীর আহমেদ --বালকদের দৌড় (১১-১৫) বছর, ১ম পরস্কার বিজয়ী ঃ সাদিব আনোয়ার – কিশোর গঞ্জ সদও, ২য় পুরস্কার বিজয়ী ঃ তাছিন,৩য় পুস্কার বিজয়ী ঃ প্রীয় –কিশোরগঞ্জ সদও,বালিকাদের দৌড় ( ৩-৬) বছর,১ম পুরস্কার বিজয়ী ঃ সামিহা - সদও,২য় পুরস্কার বিজয়ী ঃ আইজা কটিয়াদী, ৩য় পুরস্কার বিজয়ী ঃ মাদিহা মোবারক – বাজিতপুর,বালিকাদের দৌড় ( ৭-১০) বছর,১ম পুরস্কার বিজয়ী ঃ মারিয়া আক্তার – বাজিতপুর,২য় পুরস্কার বিজয়ী ঃ আনিছা আনোয়ার সদও,৩য় পুরস্কার বিজয়ী ঃ নাদিয়া হক - হোসেনপুর,বালিকাদের দৌড় (১১-১৫) বছর, ১ম পুরস্কার বিজয়ী ঃ মৌ –বাজিতপুর,২য় পুরস্কার বিজয়ী ঃ রাদিয়া জামিন - কোদালিয়া,৩য় পুরস্কার বিজয়ী ঃ রীয়া-কটিয়াদী,বিশেষ খেলা বালক ঃ ১ম পুরস্কার বিজয়ী শামীম-সদর, ২য় পুরস্কার বিজয়ী  পুরস্কার বিজয়ী চাদমান-বাজিতপুর, ৩য় পুরস্কার বিজয়ী ফয়সাল-বাজিতপুর, মহিলাদের হাড়ি ভাঙ্গা ১ম পুরস্কার বিজয়ী নুসরাত কবীর, ২য় পুরস্কার বিজয়ী ঊর্মী ৩য় পুরস্কার বিজয়ী দিপ্তী,মহিলাদেও চামিচ দৌড়  ঃ ১ম পুরস্কার বিজয়ী লাবিবা-সদর , ২য় পুরস্কার বিজয়ী নাজিয়া-সদর, ৩য় পুরস্কার বিজয়ী যৌথভাবে ঃ সামা ও আসিয়া,মহিলাদের (বালিশ) মিউজিক পিলো ১ম পুরস্কার বিজয়ী তানিয়া শামীম-সদর , ২য় পুরস্কার বিজয়ী তাসলিমা ৩য় পুরস্কার বিজয়ী রোজিনা মোবারক - বাজিতপুর ,পুরুষ/মহিলাদের মধ্যে ডিম নিক্ষেপ (স্বামী-স্ত্রী) ১. শাকিল ২. ফয়সল কবীর ৩. ফয়সল ( হেল্ভ) ।

alt

দুপুরের খাবারের পর শুরু হয় যাদু প্রদর্শনী। বাচ্চা ও শিশু-কিশোর সহ সকলকে মুগ্ধ করে যাদু। তারপর শুরু হয় সংগীতের সুরে ও তালে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
  alt
সবশেষে অনুষ্ঠিত হয় বনভোজনের সবচাইতে আকর্ষনীয় ইভেন্ট র‌্যাফেল ড্র।

alt

এতে প্রথম পুরস্কার সরনের সেট বিজয়ী রোজিনা মোবারক, ২য় পুরস্কার সরনের চেইন বিজয়ী আবু হাসান বুলবুল, তৃতীয় পুরস্কার লাপটপ বিজয়ী জাহাঙ্গীর জামিল দিপুসহ সর্বমোট ১২টি আকর্ষনীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।দুপুরের খাবারের পর শুরু হয় যাদু প্রদর্শনী। বাচ্চা ও শিশু-কিশোর সহ সকলকে মুগ্ধ করে  যাদু। তারপর শুরু হয় সংগীতের সুরে ও তালে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

alt

কিশোরগঞ্জ প্রবাসী শিল্পীদের  পরিবেশিত গান সকলকে মোহিত করে। প্রায় শতাধিক নারীর অংশগ্রহনে শুরু হয় বনভোজনের আকর্ষনীয় ইভেন্ট মিউজিক্যাল পিলো গেম (বালিশ খেলা)। অংশগ্রহনকারী সকলকে দেয়া হয় একটি করে স্কার্ফ।

alt

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিজদীদের মাঝে পুরস্কার বিতরন করেন আহবায়ক  আবদুল আওয়াল সিদ্দিকী, সদস্য একেএম. আশরাফুল হক, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, হাকিকুল ইসলাম খোকন, জাইদুল কবীর খান সারোয়ার,হাবিব রহমান হারুন, নির্বাচন পরিচালনার  পাঁচ সদস্যে এএসএম. ফেরদৌস অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন, অধ্যক্ষ মোক্তার হোসেন, তারক চন্দ্র পন্ডিত,ও হাবিব রহমান হারুন।

alt

এবং পিকনিক কমিটির আহবায়ক  আঃ রাজ্জাক , যুগ্ম আহবায়ক আলী আহসান আকন্দ শামীম, সদস্য সচিব  জাবির হোসেন তাকবীর সদস্য  জয়ন্ত শর্মা বিশ^, আনোয়ার উদ্দিন খান, মোঃ এনামুল হক,  হুমায়ুন কবীর , সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক হেলাল উদ্দিন আহমেদ এবং সমন্বয়কারী জাইদুল কবীর খান সারোয়ার।

alt

সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে এযাবৎকালের সেরা এই বনভোজন ও মিলন মেলার সমাপ্তি ঘোষনা করেন আহবায়ক  আবদুল আওয়াল সিদ্দিকী ,সমন্বয়কারী জাইদুল কবীর খান সারোয়ার ও পিকনিক কমিটির আহবায়ক  আঃ রাজ্জাক  ।


নিউইয়র্ক প্রবাসী সঙ্গীত শিল্পী রিনা চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রবাসীদের শোক প্রকাশ

মঙ্গলবার, ১৫ আগস্ট ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ ঃ চট্রগ্রাম সমিতি ইউএসএ’র সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক লিটন চৌধুরীর সহধর্মিনী নিউইয়র্ক প্রবাসী সঙ্গীত শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শাহনাজ বেগম রিনা চৌধুরী প্রায় ৪ বছর দুরারোগ্য ক্যান্সারের সাথে লড়াই করে সম্প্রতি ফিরে এসেছিলেন স্বাভাবিক জীবনে। কিন্তুু বিধির বিধান আবারো হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরেন এবং সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন। খবর বাপসনিউজ। গত ৮ আগষ্ট সঙ্গলবার রাতে নিউ¦য়ির্কের কুইন্সের জ্যামাইকা  হাসপাতালে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহে......রাজেউন)। পরে ৯ আগষ্ট বুধবার ওজন পার্কের আল আমান জামে মসজিদে মরহুমার নামাজের জানাজা সম্পন্ন হয়। ১০ আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকালে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবরস্থানে প্রয়াত রিনা চৌধুরীকে সমাধিস্থ করা হয়। মৃত্যুকালে স্বামী,  ১ কন্যা ১ পুত্র সহ অসংখ্যক বন্দু-বান্ধব গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।


রিনা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সমÍপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ-এর মাঝে শোক ও শোক সম্পপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ, আমেরিকা-বাংলাদেশ এলাইন্সের প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম,এবিসিডিআই সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর,লেখক ও এক্টিভিষ্ট সিকদার গিয়াস উদ্দিন, সিডিএলজি নির্বাহী পরিচালক আবু তালেব,যুক্তরাষ্ট্র সোহরাওয়ার্দী স¥ৃতি পরিষদের সভাপতি শিশু সাহিত্যিক হাসানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন,সংগঠক আবদুর রহিম বাদশা, নিউইংল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ওসমান গণি ও সাধারণ সম্পাদক সুহাস বড়ুয়া, সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুবুর রহামন মিলন ও সাধারণ সম্পাদক আলো আহমেদ,আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন  সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন ও সাধারণ সম্পাদক হেলাল মাহমুদ,  মুক্তিযোদ্ধা বিএম জাকির হোসেন হিরু ভূইয়া, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কুদ্দুস,বোস্টনবাংলানিউজ ডটকম সহযোগী সম্পাদক বিশ্বজিৎ সাহা ,নাসিম পারভীন,সামসুল আলম ও আয়েশ আক্তার রুবি, ইউএসএবাংলানিউজ এর সম্পাদক আবু সাঈদ রতন, কবি ও সঙ্গীত শিল্পী শামীমআরা আফিয়া, সঙ্গীত শিল্পী তানভির শাহীন, সঙ্গীত শিল্পী মনিকা রায়, সঙ্গীত শিল্পী হাফিজুর রহমান, সঙ্গীত শিল্পী ডা.শাহানাজ আলম,কবি আব্দুল আজিজ, ফিরোজ মাহমুদ, আশাফ মাসুক,জাহাঙ্গীর কবির,আবুল কাশেম ভুইয়া, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন ও সাধারণ সম্পাদক শামসুউদ্দিন আহমেদ শামীম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি দেওয়ান শাহেদ চেীধুরী ও সাধারান সম্পাদক নূরে আলম,শেখ হাসিনা মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি হাজী জালাল উদ্দিন জলিল ও সাধারণ সম্পাদক কায়কোবাদ খান, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাফজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুর রহমান চৌধুরী, বিশিষ্ট সংস্কৃতি ও ফ্যাশান ডিজাইন সংগঠন নিসার জামিল শুড্ডু এবং  বিশ^নন্দিত ফ্যাশান ডিজাইনার রোজিনা আহমেদ রুনি প্রমুখ।

alt
ছবিতে সাংস্কৃতিক সংগঠক লিটন চৌধুরী ও সহধর্মিনী নিউইয়র্ক প্রবাসী সঙ্গীত শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক শাহনাজ বেগম রিনা চৌধুরীকে দেখা য়াচেছ।ছবি:বাপসনিঊজ।


নিউইয়র্কে কুষ্টিয়া জেলা সমিতির উদ্যোগে চন্দনা মজুমদারকে সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত

সোমবার, ১৪ আগস্ট ২০১৭

Picture

হাকিকুল ইসলাম খোকন ,বাপসনিঊজ:নিউইযর্ক ।। গত ৭ আগষ্ট নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসে পালকি পার্টি সেন্টারে কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ - এর উদ্যোগে বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত লালনগীতি খ্যাত স্বনামধন্য শিল্পী চন্দনা মজুমদার এর সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয় ।

alt

উক্ত সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাই সভাপতিত্ব করেন উদযাপন কমিটির আহবায়ক কুষ্টিয়া জেলা সমিতির উপদেষ্টা  ইমদাদুল হক ।

alt

সংবর্ধনা সভা পরিচালনা করেন কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সাধারন সম্পাদক  আনিসুজ্জামান সবুজ ।

alt

সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাই অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি বিশিস্ট ব্যবসাযী এমএ আজিজ , এনওয়াই ইন্সুরেন্সের সিইও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ , আব্দুল কাদের মিয়া ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসাযী সমাজ সেবক আব্দুল কাদের মিয়া , সংগীত শিল্পী রানু নেওয়াজ , উদযাপন কমিটির সমন্বয়কারী উপদেষ্টা এমএ রহমান ,  উদযাপন কমিটির সদস্য সচীব কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ ,

alt

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী  নুরুল আমিন বাবু , আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন  , সাংবাদিক উপদেষ্টা সাহাবুদ্দিন কিসলু , সাংবাদিক বেলাল আহম্মেদ   গ্রেটার কুমিল্লার সভাপতি  আব্দুল খালেক , 

alt

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক , কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সহ সভাপতি  রবিউল ইসলাম , যুগ্ম সম্পাদক  রুহুল আমিন রিপন ,বিদ্যুৎ হোসেন , আহসান হাবিব লিটন , হামিদুল ইসলাম ,দপ্তর সম্পাদক  মমতাজ উদ্দিন , বাপ্পি ইসলাম , অতুল প্রসাদ রায় , শিমুল খান , তুহিন আজাদ ,

alt

নারী নেত্রী মিনা ইসলাম , সাংবাদিক কানু দত্ত , সাংবাদিক বুলবুল হোসেন , বেলাল আহম্মেদ ,সাইফুল ইসলাম শাওন, নান্টু মিয়া , মাইরুল ইসলাম , হোসেন আলী , জুবায়ের সহ আরো অনেক প্রবাসী গুনিজন ও অনেক ইলেকট্রনিক্স প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন, ।

alt

উক্ত সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাই অনুষ্ঠান শুরুর প্রথমেই লালনগীতি খ্যাত স্বনামধন্য শিল্পী চন্দনা মজুমদারকে কুষ্টিয়া জেলা সমিতির পক্ষ্য থেকে রবিউল ইসলাম , রুহুল আমিন রিপন , বিদ্যুৎ হোসেন , আহসান হাবিব লিটন , মমতাজ উদ্দিন ,বাপ্পি ইসলাম ও হামিদুল ইসলাম ফুল দিয়ে বরন করে নেন এবং সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষে শিল্পীকে কুষ্টিয়া জেলা সমিতির পক্ষ্য থেকে ইমদাদুল হক , আব্দুল হামিদ , এমএ রহমান ও আনিসুজ্জামান সবুজ ক্রেষ্ট উপহার দেন ।

alt

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে লালনগীতি খ্যাত স্বনামধন্য শিল্পী চন্দনা মজুমদার লালন সাঁইজির উপর সংগীত পরিবেশন করেন ।

alt

সব শেষে রাতের খাবার পরিবেশন করেন।


আহসানিয়া মিশনের মার্কেটিং ম্যানেজার আনিসুল কবির জাসিরের সম্মানে আলোচনা সভা ও নৈশভোজ

শুক্রবার, ১১ আগস্ট ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ : গত রবিবার ৬ আগষ্ট সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক সম্পতি জাহাঙ্গীর কবির এবং আসফিয়া কবিরের উদ্যোগে জ্যামাইকার ১৬৫-২০ হাইল্যান্ড এভিনিউতে আহসানিয়া মিশনের (ক্যানসার হাসপাতাল) মার্কেটিং ম্যানেজার এবং ইউএসএ-এর সাধারণ সম্পাদক আনিসুল কবির জাসিরের সম্মানে আলোচনা সভা এবং নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।খবর বাপসনিঊজ।

Picture
 আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধীন কবি রাশেদুল কবির চিশতী । বিশেষ অতিথি ছিলেন আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন-এর সভাপতি সিনিয়র  সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন,  প্রবাসের বিশিষ্ট কবি  ও লেখক এবিএম সালেউদ্দিন,অধ্যাপক মোস্তাইজ বিল্লাহ ও   রাব্বি সৈয়দ।

alt

অতিথিগন  তাদের বক্তব্যে আনিসুল কবির জাসিরের মহতী কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং আনিসুল কবির জাসিরের বিভিন্ন কর্ম কান্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। জাসির দুই যুগের ও বেশী সময় ধরে সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কার্যক্রমের সাথে জড়িত ছিলেন।

alt

২০১৪ সালের গোড়ার দিকে মানব সেবার মহান ব্রত নিয়ে দেশে গিয়ে আহসানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতালের মহান কার্যক্রমের সাথে জড়িত হন। সেই থেকে তিনি এই প্রতিষ্টানটির সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলছেন। উল্লেখ্য, আনিসুল কবির জাসির আহসানিয়া মিশনের প্রতিষ্টাতা কাজী রফিকুল আলমের সাথে এক শুভেচছা শফরে আসেন । আহসানিয়া মিশনের (ক্যানসার হাসপাতাল)এবং শিশু পললী-এর তহবিলসহ সেিমনরের আয়োজন কওে এই প্রতিষ্টানের  বিভিন্ন সেবামুলক কার্যক্রম প্রবাসীদের কাছে তুলে ধরেন ।

alt

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিটি টিচার নাগিস বিল্লাহ, মাসরুর কবির,তামান্না কবির, হাসি কবির, দিব্যদা, মাহিরা, মোহসিনা, আশরাফুল কবির, মোহিত বিল্লাহ,মাহবুল আলম,মানিকপ্রমুখ। প্রবীন কবি রাশেদুল কবির চিতশী তার স্বরচিত কাব্য গ্রন্থ “হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে দূরে” কবি এবিএম সালেউদ্দিনকে উপহার দেন।অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সম্মানিত অতিথিদের নৈশভোজ-এ আপ্যায়িত করা হয়, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন জাহাঙ্গীর কবির।


কিশোরগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন ইঊএসএ-এর গণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

শুক্রবার, ১১ আগস্ট ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন ,বাপসনিউজ ঃ গত ৫ আগষ্ট জ্যাকসন হাইটসের ইত্যাদি রেষ্টুরেন্টে কিশোরগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন এর উদ্দ্যোগে সংগঠনের সাবেক উপদেষ্টা এএসএম ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নতুন নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি আহবায়ক কমিটি, নির্বাচন কমিশন এবং পিকনিক কমিটি গঠন করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সাবেক উপদেষ্টা বৃন্দ  আবদুল আওয়াল সিদ্দিকী, আনিসুজ্জামান খোকন এএসএম ফেরদৌস , জাইদুল কবীর খান, হাবিব রহমান হারুন,সাবেক সভাপতি বৃন্দের মধ্যে একেএম আশরাফুল হক,হেলাল উদ্দিন আহমেদ, প্রকৌশলী ফজলুল হক ।

এছাডাও নরুল ইসলাম খান , মোঃফজলুল হক ,আঃ রাজ্জাক, শহীদুল হাসান, আনোয়ার উদ্দিন খান,এনামুল হক, হুমায়ুন কবীর, তারক চন্দ্র পন্ডিত, গোলাম মোস্তফা, জয়ন্ত শর্মা বিশ^, আলী আহসান আকন্দ শামীম, আঃ আলীম, শাহীন খান,কাজী হাসীব হাসান, অধ্যক্ষ, নাজিম উদ্দিন অধ্যক্ষ মোক্তার হোসেন, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম, জাহাঙ্গীর জামিল দিপু, তপন বিশ^াস,জাবির হোসেন তাকবীর, ফয়সাল উদ্দিন খান,হাবিবুর রহমান সুজন, মহিবুর রশিদ সুজন, আরিফুল ইসলাম, তানবীর রায়হান মিঠু, আনোয়ার খান, মোঃ আদির উদ্দিন, প্রমুখ। আগামী এক মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পাঁচ জনের একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সদস্যরা হলেন আহবায়ক  আবদুল আওয়াল সিদ্দিকী, সদস্য একেএম. আশরাফুল হক, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, হাকিকুল ইসলাম খোকন, জাইদুল কবীর খান সারোয়ার। নির্বাচন পরিচালনার জন্য একেএম. ফেরদৌসের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় সদস্যরা হলেন অধ্যক্ষ নাজিম উদ্দিন, অধ্যক্ষ মোক্তার হোসেন, তারক চন্দ্র পন্ডিত,ও হাবিব রহমান হারুন।খবর বাপসনিঊজ:


আগামী ২০ আগষ্ট পিকনিক সম্পন্ন করার লক্ষ্যে  শহীদুল হাসানকে আহবায়ক  আঃ রাজ্জাক ও আলী আহসান আকন্দ শামীমকে যুগ্ম আহবায়ক এবং জাবির হোসেন তাকবীরকে সদস্য সচিব করে এগারজনের পিকনিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন  নূরুল ইসলাম খান, জয়ন্ত শর্মা বিশ^, আনোয়ার উদ্দিন খান, মোঃ এনামুল হক, মহিবুর রশিদ সুজন, হুমায়ুন কবীর ও আঃ আলীম। পিকনিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে হেলাল উদ্দিন আহমেদ এবং সমন্বয়কারী জনাব জাইদুল কবীর খান সারোয়ার।


উল্লেখ্য, ৩১জুলাই ২০১৭ বর্তমান কমিটির বর্ধিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ৩১ আগষ্ট এর মধ্যে  আহবায়ক কমিটির তত্ত্বাবধানে নির্বাচন কমিশন আগামী দুই বছরের জন্য নির্বাচনের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করবেন। জেলাবাসীর চিত্তবিনোদনের জন্য বার্ষিক মিলন মেলা হাওর ভাত বনভোজন অনুষ্ঠিত হবে ২০ আগষ্ট রবিবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভুমি   নিউইয়র্কের হেকসেয়ার ষ্টেট পার্কে ।  এতে সকল প্রবাসীদের স্বাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আহবায়ক  আবদুল আওয়াল সিদ্দিকী, সদস্য একেএম. আশরাফুল হক, হেলাল উদ্দিন আহমেদ, হাকিকুল ইসলাম খোকন, জাইদুল কবীর খান সারোয়ার। এবং আহবায়ক শহীদুল হাসান , যুগ্ম আহবায়ক আঃ রাজ্জাক ,যুগ্ম আহবায়ক আলী আহসান আকন্দ শামীম, সদস্য সচিব জাবির হোসেন তাকবীর,সদস্য  নূরুল ইসলাম খান, জয়ন্ত শর্মা বিশ^, আনোয়ার উদ্দিন খান, মোঃ এনামুল হক, মহিবুর রশিদ সুজন, হুমায়ুন কবীর ও আঃ আলীম। পিকনিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে হেলাল উদ্দিন আহমেদ এবং সমন্বয়কারী জনাব জাইদুল কবীর খান সারোয়ার।

এদিকে সংগঠনের মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি মফিজুর রহমান দুলাল ও সাধারণ সম্পাদক সুজন রায়ের তত্তাবধানে ২০ আগষ্ট রবিবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সানকিন ম্যাডো স্টেট পাকে হাওর ভাত বনভোজনের আয়োজন করেছে। ১৩ আগষ্ট রবিবার জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়ীতে ভোটার সংগ্রহের শেষ সময় নির্ধারণ করেছে রাত ১০টা পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় ও পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা হস্তান্তর করবে ২৭ আগষ্ট রবিবার নিউইয়র্কের জ্যামাইকার পানসি রেষ্টুরেন্টে।


১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ মাসব্যাপী কর্মসূচী জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় মোমবাতি প্রজ্জলন

শুক্রবার, ০৪ আগস্ট ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ: ১৫ই আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ মাসব্যাপী কর্মসূচী গ্রহণ করে। তারই ধারাবাহিকতায় ১লা আগষ্ট ১২:০১ মিনিটের সময় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় মোমবাতি প্রজ্জলন, কালো ব্যাজ ধারন এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের আয়োজন করে।

Picture

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সামসুদ্দিন আজাদের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পরিচালনায় ১৫ই আগষ্টের শহীদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য যথাক্রমে  ডাঃ মাসুদুর হাসান ও সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন,যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, আবদুর রহিম বাদশা, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস, শিল্প বাণিজ্য ফরিদ আলম, প তত্ত্ব গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক  রুমি, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক মাহবুবুর রহমান টুকু, উপ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, উপ-প্রচার তৈয়বুর রহমান টনি, সদস্য হিন্দাল কাদির বাপ্পা, আলী হোসেন গজনবী, শরিফ কামরুল হিরা, খোরশেদ খন্দকার, আশরাফ মাসুক, ্এম আনোয়ার ও আওয়ামীলীগ নেতা আনিছুর রহমান, ষ্টেট আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি একেএম আলমগীর,সাধারণ সম্পাদক শাহিন আজমল, মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মমতাজ শাহনাজ, শ্রমিকলীগ সভাপতি কাজি আজিজুল হক খোকন, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহম্মদ, যুবলীগ নেতা সেবুল মিয়া, সেচ্ছাসেবক লীগ সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাখাওয়াত বিশ্বাস, সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, সাধারণ সম্পাদক সুবল দেব নাথ, ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন আকন্দ ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


হাসানুর রহমানের ৭১তম জন্মতিথি ২২ আগস্ট

শুক্রবার, ০৪ আগস্ট ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ:আগামী ২২ আগস্ট মংলবার নাটোরের কৃতি সন্তান নিউইয়র্ক প্রবাসী সুপরিচিত প্রবীণ শিশু সাহিত্যিক হাসানুর রহমানের ৭১তম জন্মতথি আগামী ২২ আগস্ট মংলবার।ইংরেজি ১৯৪৬ সালের ২২ আগস্ট (৫ ভাদ্র, ১৩৫৩ বাংলা) বাংলাদেশের নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার অন্তর্গত ছায়াঘেরা ঘুঘু ডাকা লালোর গ্রামের দারোগা বাড়ি‘র সুপরিচিত শিরি পরিবারে তাঁর জন্ম। হাসানুর রহমান মাত্র দু‘বছর দু‘ মাস বয়সকালে তাঁর মমতাময়ী মা‘কে হারান। মাতৃস্নেহ বিবর্জিত এই শিশুটি বেড়ে ওঠেন অব্যক্ত মানঃকষ্টের মধ্য দিয়ে।

কৈশোরই লেখালেখি শুরু করেন পঞ্চাশের দশকের শেষ দিক থেকে। তাঁর ‘খোকার সাধ‘ শিরোনামের প্রথম কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালের ২০ নভে¤¦র ঢাকার দৈনিক ইত্তেফাকের ‘কচি কাঁচার আসরে‘। ষাটের দশক ছিল শিশু সাহিত্যিক হাসানুর রহমানের লেখালেখির সোনালী যুগ। এই দশকে তাঁর অসংখ্য কবিতা, ছড়া, কিশোর কবিতা, রূপকথা, নিবন্ধ, ছোট গল্প, বরণীয় মনীষীদের স¥রণীয় কথা, একাংকিকা, ইত্যাদি ইত্তেফাক ‘কচি কাঁচার আসর‘, আজাদ ‘মুকুলের মাহ্ফিল‘, সংবাদ ‘খেলাঘর‘, মাসিক আলাপনী, মাসিক ‘খেলাঘর‘, মাসিক ‘মধুমেলা‘, মাসিক ‘রংধনু‘, মাসিক ‘মুকুল‘, মাসিক ‘টাপুর-টুপুর‘, মাসিক ‘কচি ও কাঁচা‘, মাসিক ‘সবুজ পাতা‘, মাসিক দিলরুবা‘র ‘সবুজ সংঘ‘, সাপ্তাহিক পাকিস্তানী খবরের ‘কিশোর মেলা‘য়, ইত্যাদিতে নিয়মিত প্রকাশিত হত।

তখনকার রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্রের ছোটদের আসরে প্রচারিত হয় তাঁর চারটি শিশুতোষ নাটিকা। ১৯৬২-৬৪ সালে কুষ্টিয়ায় থাকাকালীন কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘যোগাযোগ‘ পত্রিকার শিশু সাহিত্য পাতা ‘খেয়াল খুশির আসর‘ পরিচালনা করেন।

alt

হাসানুর রহমান বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শিশু-কিশোর সংগঠন কচি-কাঁচার মেলার সাথেও জড়িত ছিলেন। ১৯৬০-৬১ সালে নোয়াখালীতে থাকাকালীন নোয়াখালীর মাইজদীতে ‘মৌমাছি কচি-কাঁচার মেলা‘ গঠন করেন এবং ১৯৬২-৬৪ সালে কুষ্টিয়া থাকাকালীন সময়ে কুষ্টিয়া ‘কোরক কচি-কাঁচার মেলা‘ প্রতিষ্ঠা করে এর সর্বপ্রথম আহবায়ক (১৯৬২-৬৩) নির্বাচিত হন। এসএসসি পাশ করেন ১৯৬৩ সালে কুষ্টিয়া জেলা ¯কুল থেকে এবং এইচএসসি পাশ করেন ১৯৬৫ সালে পিতার তৎকালীন কর্মস্থল বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে। ১৯৬৫-৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুললাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র থাকাকালীন বিপুল ভোটাধিক্যে এই হলের প্রথম বর্ষ ছাত্রদের সাং¯কৃতিক সংগঠন ‘সমন¦য়‘ -এর সভাপতি নির্বাচিত হন।জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ড. একে আবদুল মোমেনকে বিজিত করে একই বছর বাংলা নববর্ষে এই হলের ছাত্রদের তরফ থেকে তাঁকে ‘লিডার অব দ্য কালচারাল রিভোলিউশন‘ নামে আখ্যায়িত করা হয়।
১৯৬৬-৭০ সালে হাসানুর রহমান ঢাকার অধুনালুপ্ত শিল্পী-সাহিত্যিক গোষ্ঠ ‘পূর্বাশা‘র  দফতর সম্পাদক ছিলেন। একই সময়ে ঢাকায় শান্তিবাদিী সংগঠন ‘এক ঝাক পায়রা‘ র সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ হতে কৃতিত্বের সাথে ১৯৬৮ সনে সম¥ান সহ বিএ এবং ১৯৬৯ সালে এমএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।


১৯৬২-৬৪  সালে কুষ্টিয়ায় অবস্থানকালে তিনি কুষ্টিয়ার তৎকালীন সাপ্তাহিক ‘যোগাযোগ‘ পত্রিকার শহর সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি  ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবেও  ঢাকার বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রের সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৭২ সালে প্রয়াত আবুল বাশার মৃধার সম্পাদনায় প্রকাশিত ঢাকা অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক সমাজ‘ পত্রিকার সাব-এডিটর হিসেবে কাজ করেন। অতঃপর পাট ও গ্যাস সেক্টরে পর্যায়ক্রমে খুলনা ও কুমিললায় তের বছর কাটিয়ে ১৯৮৬ সালে নভে¤¦রে ঢাকায় ফিরে এসে আবার লেখালেখি শুরু করেন।

অকাল প্রয়াত মা দৌলতুন নেসা শিরি‘র একমাত্র সন্তান হাসানুর রহমান স্নেহময়ী মায়ের স¥ৃতিকে জাগিয়ে রাখতে ১৯৯২ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মহানগরীতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিষ্ঠা করেন শিশু সাহিত্য ও সাং¯কৃতিক সংগঠন ‘শিরি শিশু সাহিত্য কেন্দ্র‘। ঢাকার কেন্দ্রীয় শাখা ছাড়াও আমেরিকার নিউইয়ার্ক মহানগরীতে সংগঠনটি শাখা  গঠন হয়েছে ৩১ মে ১৯৯৮ সনে।
হাসানুর রহমানের স্ত্রী পারভীন রহমান ঢাকার ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনের ডিপ্লোমা প্রাপ্ত (১৯৭৯) একজন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। সত্তরের দশকে ছায়ানটের বিদ্যার্থী ও শিল্পী হিসেবে ঢাকার রমনার বটমূল এবং বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে সংগীত পরিবেশন করেছেন অনেকবার। হাসানুর রহমান নব্বই দশকের গোড়ার দিকে সপরিজনে নিউইয়র্কে আগমন করেন। এখানেও শিশু সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি তিনি  সাংবাদিকতার সাথে জড়িত রয়েছেন। তাঁর এ যাবৎ প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৩টি। এগুলো হলো-
১। চুমকি (ছড়া) ১৯৮৯ ইং,
২। একাত্তরের কথা (স¥ৃতি কাহিনী) ১৯৯০ ইং,
৩। বিবিজানের ডায়েরি (রম্য কাহিনী) ১৯৯০ ইং,
৪। ওরা ক‘জনা মুক্তিসেনা (কীর্তিময় মুক্তিযোদ্ধার গল্প) ১৯৯১ ইং,
৫। আল্পিনাপিন্ (ছড়া) ১৯৯২ ,
৬। বরণীয়দের স¥রণীয় কিছু ১ম খন্ড ১৯৯৫ ইং,
৭। সোনারঙ পাখি (উপকথা/রূপকথা) ১৯৯৭ ইং,
৮। ক্যামেরাপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী (জীবনালেখ্য) ২০০২ ইং,
৯। বরণীয়দের স¥রণীয় কিছু ২য় খন্ড ২০০৫ ইং,
১০। নাটোরের বনলতা সেন ২০০৯ ইং,

১১। নিশি ভিলা (ছড়া /কবিতা)২০১৫ইং,
১২। দুধে আলতা  (ঊপকথা/রুপকতা)২০১৫ইং,
১৩ ।তুতু বাবা  (গল্প  )২০১৬,
সৃজনশীল প্রতিভার স¦ীকৃতিসুরূপ  হাসানুর রহমান  হাজী মোহাম¥দ মহসিন স¦র্ণপদক ১৩৯৭ বাংলা, ভাস্কর নাট্যদল মিলেনিয়াম পুরস্কার ২০০০ ইং, খাজার স¥ৃতি পাঠাগার ফেলোশীপ ২০০২ ইং, প্রক্লেসেশন অব এপ্রেসিয়েসন (বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোকেপ্সি, নিউইয়র্ক প্রদত্ত) ২০১০ পুরস্কার পেয়েছেন। সাংবাদিকতা চর্চার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সাং¯কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথেও জড়িত রয়েছেন।
একজন সাংবাদিক হিসেবেও হাসানুর রহমানের অনন্য ভূমিকা রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। ১৯৬২-৬৪ সনে পিতার তৎকালীন কর্মস্থল কুষ্টিয়ায় থাকাকালীন কুষ্টিয়ার অধুনা লুপ্ত সাপ্তাহিক যোগাযোগ পত্রিকার শহর সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা করেছেন তৎকালীন ঢাকার বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের পর ঢাকার অধুনালুপ্ত দৈনিক ‘সমাজ’-এ সাব-এডিটর হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। এরপর ১৯৯৬ সনের আগষ্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্ক মহানগরীতে প্রবাসী হবার পর এখানকার বাংলাদেশ কম্যুনিটির অন্যতম আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থ্ া‘বাপসনিউজ’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে অদ্যবধি সমাসীন আছেন। একাত্তোর বছরের প্রবীণ মনীষা হাসানুর রহমান আরো অনেক-অনেক বছর বেঁচে থাকুন এই আমাদেরও কামনা।

হাসানুর রহমানের পিতা প্রয়াত এ এফ সামসুর রহমান বৃহত্তর ঢাকা জেলার (বর্তমানের ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার সমন¦য়ে) এককালীন জেলা জজ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সর্বপ্রথম সলিসিটর (১৯৭২-৭৬) ছিলেন। নাটোরের কৃতি সন্তান হাসানুর রহমান দুই ছেলের জনক। বড় ছেলে বাজীর রহমান একজন তরুণ গীতিকার, সুরকার ও কন্ঠশিল্পী। ছোট ছেলে প্রকৌশলী আশেক রহমান নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।  ।