Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

নিউয়র্কের খবর

জ্যাকসন হাইটসে স্বদেশ ফোরামের আয়োজনে সাহিত্য আসর ও সভা

বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০১৭

Picture

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিঊজ:সাহিত্য জীবনের প্রতিচ্ছবি। সাহিত্য চর্চা মানেই সত্য সুন্দরের সাধনা।

alt

সুখ দুঃখ, হাসি-কান্না সাহিত্যের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। মাতৃভাষা ও মাতৃভূমির টানে প্রবাসে লেখকরা ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে সাহিত্য চর্চায় নিজেদের সম্পৃক্ত রেখে দেশ-মা-মাটি শিকড়ের সন্ধানে কাজ করছেন।খবর বাপসনিঊজ। 

alt

গত ২২ মে সোমবার বিকেলে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠণ স্বদেশ ফোরামের আয়োজনে জ্যাকসন হাইটস্থ বাংলাদেশ প্লাজা মিলনায়তনে সাহিত্য আসর ও সভায় আলোচকরা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। স্বদেশ ফোরামের সভাপতি কবি অবিনাশ চন্দ্র আচার্যের সভাপতিত্বে আয়োজিত সাহিত্য আসর  ও সভায় অতিথি ছিলেন আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন-এর  সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন ও সমাজ সেবী শিবতোষ চক্রবর্তী।

আলোচনা ও লেখা পাঠে অংশ নেন সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী, আবুল বাশার, জাকির হোসেন বাচ্চু,  কাজী জামান, এডভোকেট এমাদ উদ্দিন, অধ্যাপক সুধীর দাশ, আহমেদ শামসুদ্দিন কুটি, মোহাম্মদ আব্দুল জলিল, সৈয়দ সিদ্দিকুল হাসান ও কুতুব আলী প্রমুখ।

সমগ্র সাহিত্য আসর  পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন স্বদেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সুফিয়ান আহমেদ চৌধুরী।

alt

সাহিত্য সভা শেষে উপস্থিত সকলকে  মিষ্টি মুখে আপ্যায়িত করা হয়।


নিউইয়র্কে ঢাকার আমেজে বই মেলা ও আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব

বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০১৭

বাপ্ নিউজ : বাংলা ভাষাকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যয়ে ‘বই হোক প্রজন্মর সেতু’ এই সেøাগান ধারণ করে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ঢাকার বাংলা একাডেমীর আমেজে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো ২৬তম বইমেলা ও আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব-২০১৬। এবারের মেলায় চ্যানেল আই-মুক্তধারা ২০১৭ সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। 

alt

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইসস্থ পিএস ৬৯ মিলনায়তনে ১৯ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত যথাক্রমে শুক্র, শনি ও রোববার চলে মলা ও উৎসব। মেলা উপলক্ষ্যে র‌্যালী হয় ডাইভারসিটি প্লাজায়। এবারের মেলা আয়োজনের ব্যবস্থাপনায়  কোন কমতি না থাকলেও বই কেনা-কাটায় ছিলো ‘খড়া’। ফলে মেলায় বইয়ের চেয়ে খাবার-শাড়ীর স্টলে বেশী ভীড় পরিলক্ষিত হয়। অপরদিকে আশানুরুপ বই বেনাকেনা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন লেখক-প্রকাশকগণ।

alt

অপরদিকে মেলায় প্রতিদিন দর্শক-শ্রোতা ছিলেন উৎসবমুখর।  তারা জমিয়ে আড্ডা দিয়েছেন, উপভোগ করেছেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর প্রিয়জন, প্রিয় লেখক-প্রকাশক, শিল্পী আর তারকা অতিথিদের সাথে সেলফী তোলার হিড়িক ছিলো চোখে পড়ার মতো। তবে মেলা ও উৎসব উপলক্ষ্যে বাংলাদেশী অধুষ্যিত জ্যাকসন হাইটস এলাকা ছিলো লেখক, সাংবাদিক ও শিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত।

alt

উদ্বোধনী দিন শুক্রবার পড়ন্ত বিকেলে ফিতা কেটে উৎসবের উদ্বোধন করেন কলকাতার বিশিষ্ট লেখক ও বিশ্বভারতীর সাবেক অধ্যাপক পবিত্র সরকার। এ সময় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কবি, সাহিত্যিক, লেখক ও প্রকাশকেরা উপস্থিত ছিলেন। খবর ইউএনএ’র। 

alt

মেলার আয়োজক সংগঠন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের বিশ্বজিৎ সাহা জানান, এবারের মেলায় ঢাকার ১৪টি, নিউইয়র্কের ৫টি, কানাডার একটি বইয়ের স্টল স্থান পেয়েছে। এছাড়াও  প্রবাসী লেখকদের তিনটি স্টল, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশ সমিতি ও কলকাতার পাবলিসার্স এন্ড বুক ফেয়ারের একটি করে বইয়ের স্টল রয়েছে। দর্শক-শ্রোতাদের সুবিধার্থে চারটি শাড়ী আর একটি খাবার স্টল রয়েছে।

alt

মেলার প্রথম দিন: জ্যাকসন হাইটসের পিএস ৬৯ প্রাঙ্গনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী আর মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে শুরু হয় তিনদিনব্যাপী বই মেলা ও আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব। এতে নিউইয়র্ক ছাড়াও উত্তর আমেরিকার সহ বাংলাদেশ, ভারত ও জার্মানী থেকে কয়েক ডজন কবি, লেখক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক যোগ দিচ্ছেন। উদ্বোধনী দিনে মেলা প্রাঙ্গনে বিপুল সংখ্যক বইপ্রেমীরও সমাবেশ ঘটলে এদিন পুরোপুরো জমে উঠেনি মেলা ও উৎসব।

alt

এদিন রাত ৯টার দিকেও অনেক স্টল সাজাতে দেখা যায়। মেলার প্রথম দিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে অনুষ্ঠিত র‌্যালীর পর সন্ধ্যা সাড়ে আটটায় মূল মঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসময় দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি ছিলো কম। তবে মেলায় আগত অতিথি, বন্ধু-বান্ধব ও প্রবাসীদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় ছিলো চোখ পড়ার মধ্যে। তারকা লেখক-লেখিকা আর শিল্পীদের সাথে ছিলো সেলফী তোলার ভীড়। 

alt

উৎসবের শুরুতেই ছিলো মঙ্গল শোভাযাত্রা। এরপর মঞ্চে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠানমালা। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ড. লীনা তাপসী, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, কবি ইকবাল হাসান, বিশিষ্ট ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, লেখিকা নাজমুন নেসা পিয়ারী, কবি আমীরুল ইসলাম, প্রকাশক আহমদ মাযহার, আহবায়ক ফেরদৌস সাজেদীন, বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল হোসেন হোসেন, ড. হুমায়ূন কবীর, জসিম মল্লিক, কণাবসু মিশ্র, আলমগীর শিকদার লোটন, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, নিনি ওয়াহেদ, দুলাল তালুকদার, সব্যসাচী ঘোষ দস্তিদার, খায়রুল আনাম, তাজুল ইমাম, তাপস কর্মকার, লতিফুল ইসলাম শিবলী, হাসান ফেরদৌস প্রমুখ। এর আগে তাদের সবাইকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়।

alt

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ২৬তম মেলা ও উৎসবের আহ্বায়ক ফেরদৌস সাজেদীন। তিনি এবারের আয়োজন সফল করার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত ‘আলো আমার আলো’ পরিবেশন করে আনন্দধ্বনি। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক পবিত্র সরকার, আমীরুল ইসলাম, ড. লীনা তাপসী, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, জামাল উদ্দিন হোসেন, ফেরদৌস আরা, রোকেয়া হায়দার এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান।

alt

শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, দেশের গন্ডি পেরিয়ে প্রবাসীরা প্রবাসেও বাঙালী সংস্কৃতিকে মনেপ্রাণে লালন করছেন। তিনি বলেন, ২৬তম বাংলা উৎসব ও বইমেলা বাঙালীর বিশ্বায়ন।

alt

অধ্যাপক পবিত্র সরকার বলেন, বিশ্বজুড়ে বাঙালীর জয়জয়কার। বাঙালী সংস্কৃতি পৃথিবীর দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে। বাঙালীর কবিতা, সঙ্গীত, চিত্রকলা বিশ্বের পাঠকের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে।

alt

ড. লীনা তাপসী বলেন, আমাদের বাঙালী সংস্কৃতির মৌলিক গুণ বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যে ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি সেই রক্তের দাগ কখনো মুছে যাবে না। সেই দাগকে আমরা জিইয়ে রাখতে চাই। আমাদের প্রজন্মরা যেন জানতে পারে এই বাংলা ভাষার এই বর্ণিল শব্দগুলোর জন্য এই বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার যে ক্ষমতা, এই ভাষার যে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ তা অনেক ক্ষমতাবান। আমরা বাংলা ভাষা জানি বলেই পৃথিবীর যে কোনো ভাষা অতি সহজেই আমরা উচ্চারণ করতে পারি।

alt

শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে ‘আবহমান বাংলা’ শীর্ষক নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যাঞ্জলি। এটি পরিচালনা করেন চন্দ্রা ব্যানার্জি। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা পরিবেশন নৃত্য, আবৃত্তি ও গান। এতে অংশ নেয় অন্তরা সাহা, মার্জিয়া স্মৃতি, রিতিকা দেব, চন্দ্রিকা দে, শ্রুতিকণা দাশ, বিরশা ও শতাব্দী রায়। রবীন্দ্র সঙ্গীতের একক পরিবেশনায় অংশ নেন শামা রহমান।

alt

মেলা ও উৎসবের প্রথম দিনের (১৯ মে, শুক্রবার) কর্মকান্ডের মধ্যে ছিলো: বিকেলে উদ্বোধন জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায়। এরপর জমায়েত, বিশিষ্ট অতিথিদের বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সঞ্চালনায় ছিলেন ফাহিম রেজা নূর ও মোশাররফ হোসেন। 

alt

সন্ধ্যায় ছিলো মঙ্গল শোভাযাত্রা (ডাইভারসিটি প্লাজা থেকে পিএস-৬৯ পর্যন্ত)। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মোশাররফ, গোপাল, শুভ, মিশুক সেলিম। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মুক্তমনা মঞ্চে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার। ব্যবস্থাপনায় ছিলেন রানু ফেরদৌস। সহযোগিতায় নাসরিন চৌধুরী, রাহাত কাজী, উম্মে কুলসুম পপি। পৌনে ৭টায় উদ্বোধনী সঙ্গীত : আলো আমার আলো। পরিবেশনায়: আনন্দধ্বনি। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক বইমেলা ও আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ২০১৭ এর আহ্বায়ক ফেরদৌস সাজেদিন। পরবর্তীতে ছিলো মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন ‘আগুনের পরশমণি’। পরিবেশনায় ছিলো আনন্দধ্বনি। 

alt

এরপর বক্তব্য রাখবেন শামসুজ্জামান খান, পবিত্র সরকার, কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, সায়মন জাকারিয়া, আমিরুল ইসলাম, অনিন্দিতা কাজী, ড. লীনা তাপসী, ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, মনজুর আহমদ, জামাল উদ্দিন হোসেন ও রোকেয়া হায়দার।রাতে ছিলো আবহমান বাংলা (উদ্বোধনী পরিবেশনা)। অংশগ্রহণে ছিলো নৃত্যাঞ্জলি। এরপর ছিলো  নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুষ্ঠান। অংশগ্রহণে ছিলো অন্তরা সাহা ও মার্জিয়া স্মৃতি (নৃত্য), রিতিকা দেব (আবৃত্তি), চন্দ্রিকা দে (সঙ্গীত), শ্রুতিকতা দাশ (ভায়োলিন), বিরশা (স্যাক্সোফোন), শতাব্দী রায় (সঙ্গীত)। সবশেষে ছিলো শামা রহমানের কন্ঠে রবীন্দ্রনাথের গান পরিবেশনা।

alt

মেলার দ্বিতীয় দিন:  মেলা ও উৎসবের দ্বিতীয় দিন শনিবারের কর্মকান্ড চলে বেলা ১১ টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। এদিন মেলায় ছিলো উপচে পড়া দর্শক শ্রোতার ভীড়। এদিনের কর্মকান্ডের মধ্যে ছিলো বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্মল বাঙালী আড্ডা, সাথে বাঙালী প্রাতরাশ। অংশগ্রহণে ছিলেন সকল লেখক ও সাহিত্যামোদী। সঞ্চালনায় ছিলেন ইকবাল হাসান।বেলা ১টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত ছিলো লেখক-প্রকাশক-পাঠক-এর মধ্যৈ উন্মুক্ত আলোচনায় মুখোমুখি। সঞ্চালনায় ছিলেন ফাহিম রেজা নূর। এরপর ১টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত ছিলো আমার নজরুল শীর্ষক আলোচনা। আলোচক ছিলেন ফেরদৌস আরা। বেলা ২টা ৫ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ছিলো কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি। সঞ্চালনায় ছিলেন মনজুর কাদের।

alt

বিকেল ৩টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ৫ মিনিট পর্যন্ত ছিলো নতুন বই নিয়ে লেখকদের হাজিরা।  লেখকদের মধ্যে ছিলেন সুনীল কৃষ্ণ দে, দুলাল তালুকদার, আহমেদ ছহুল, আহম্মদ হোসেন বাবু, মনজুর কাদের, খালেদ সরফুদ্দিন, স্বপ্ন কুমার, মনিজা রহমান, শামস আল মমীন, শামস চৌধুরী রুশো, রওশন হাসান, তাহমিনা জামান, রোমেনা লেইস, শাহ আলম দুলাল, কাজী জহিরুল ইসলাম, নাসরীন চৌধুরী। এই  পর্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন পবিত্র সরকার ও শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আদনান সৈয়দ।বিকেল ৪টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ছিলো ‘পেশা ও প্রতিতী’। পেশাজীবী যখন লেখক শীর্ষক চিকিৎসক লেখকদের নিয়ে আড্ডা। অংশগ্রহণে ছিলেন ডা. সিনহা আবুল মনসুর ও শিহাব আহমেদ। সঞ্চালনায় ছিলেন ড. হুমায়ুন কবীর। অতিথি ছিলেন পবিত্র সরকার ও আহমদ মাযহার।বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ছিলো মোহাম্মদ আহকাম উল্লাহ’র একক কবিতা আবৃত্তি। বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে ছিলো মূলধারার বাঙালী লেখক। অংশগ্রহণে ছিলেন নাদিয়া চৌধুরী। উপস্থাপনায় ছিলেন সাপ্তাহিক বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমদ। এরপর বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে ছিলো নাটিকা ‘সোনার ছেলে’। পরিবেশনায় ছিলো রঙ্গালয়।

alt

এরপর বিকেলে একাত্তরের সহযোদ্ধা শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্যালি উলোবিকে সম্মাননা জানানো হয়। এসময় তাকে উত্তরীয় পড়িয়ে দেন শামসুজ্জামান খান ও ফাহিম রেজা নূর। পরবর্তীতে চ্যানেল আই-মুক্তধারা ২০১৭ সাহিত্য পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়। এবারের পুরষ্কার লাভ করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। ঘোষণা করেন আমিরুল ইসলাম ও ফেরদৌস সাজেদিন।সন্ধ্যায় ছিলো কবি সৈয়দ শামসুল হক ও শহীদ কাদরীর কবিতা নিয়ে বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠান। পরিবেশনায় ছিলো পেইন্টেড পোয়েমস। ভূমিকায় ছিলেন সউদ চৌধুরী। সন্ধ্যঅ ৭টা ৫ মিনিটে ছিলো প্রয়াত লোকশিল্পী কালিকা প্রসাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। এই পরিচালনায় ছিলেন সেমন্তী ওয়াহেদ। পরবর্তীতে ছিলো হুমায়ুন আহমেদের গান ‘ অয়োময়’। এর গান পরিবেশনায় ছিলেন শাহ মাহবুব। এরপর ছিলো মুক্তধারা বইমেলা-২০১৭ ভাষণ। ‘অভিবাসী লেখকের ভাষা ও দেশকাল।’ বক্তা ছিলেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার। এরপর ছিলো ‘লেখক বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক আলোচনা। এই পর্বে বক্তব্য রাখেন শামসুজ্জামান খান। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘আতœজীবনী ও কারাগারের রোচনামচা’ বইয়ের বিভিন্ন বিষয় তলে ধরে বলেন, তিনি (বঙ্গবন্ধু) দেশ-বিদেশের অনেকে জ্ঞানী-গুনীর বই পড়তেন। তার লেখা গ্রন্থ দুটিও সুলিখিত গ্রন্থ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু রাজনীতি না করে যদি লেখালেখি করতেন তাহলে তিনি অনেক বড় মাপের লেখক হতে পারতেন। শামসুজ্জামান খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর নতুন বই প্রকাশ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। 

alt

পরবর্তীতেমূল মঞ্চে পবিত্র সরকার ও শামসুজ্জামান খানকে সম্মাননা দেয়া হবে। এই পর্বে পবিত্র সরকারকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন এবং তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। অপরদিকে শামমসুজ্জামান খানকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন এবং তার হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ড. মাহফুজুর রহমান। 

রাত ৯টায় ছিলো উত্তর আমেরিকার শিল্পীদের গানের অনুষ্ঠান ‘হে নিরুপমা’। এতে অংশ নেন নাফিয়া উর্মি, শিখা আহমেদ, জাফর বিল্লাহ ও জাভেদ ইকবাল। সবশেষে ছিলো বাংলাদেশ থেকে আগত শিল্পী ফেরদৌস আরা’র একক সঙ্গীত।

মেলার তৃতীয় দিন: মেলার তৃতীয় অর্থাৎ শেষ দিনেও ছিলো দর্শক-শ্রোতাদের উপচেপড়া ভীড়। এদিনের অনুষ্ঠানমালা চলে বেলা ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। এদিন স্বরচিত কবিতা পাঠের আসরের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমাল সূচনা হয়। এই পর্ব সঞ্চালনায় ছিলেন মোশাররফ হোসেন। এরপর ছিলো কবিতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা,তর্ক-বিতর্ক। পরিচালনায় ছিলেন ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন। আর অতিথি ছিলেন আবুল হাসনাত।

বেলা ১টায় ছিলো নতুন বই নিয়ে অনুষ্ঠান। অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে নিজেদের লেখা নতুন বই নিয়ে এই পর্বে অংশ নেন তমিজ উদ্দীন লোদী, প্রতীপ দাশগুপ্ত, মোখলেসুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হুদা, মিশুক সেলিম, রিমি রুম্মান, মাকসুদা আহমেদ, খায়রুল আনাম, অরপি আহমেদ, শামসাদ হুসাম, কামরুন নাহার ডলি, আলম সিদ্দিকী, সালমা বাণী। সঞ্চালনায় ছিলেন কানাডা থেকে আগত লেখক জসীম মল্লিক।

বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে ছিলো ‘নতুন বই: মুক্তিযুদ্ধ ও সাহিত্য’ শীর্ষক আলোচনা। এই পর্বে অতিথি ছিলেন আবুল হাসনাত অনুষ্ঠানে অংশ নেন ফকির ইলিয়াস, শরিফ মাহবুবুল আলম, আলী সিদ্দিকী। সঞ্চালনায় ছিলেন ওবায়দুল্লাহ মামুন।

বেলা ২টা ৫মিনিটে ছিলো ‘ছোট ছোট গল্পপাঠ’। অংশ নেন কথাবসু মিশ্র ও খায়রুল আনাম। এপর ছিলো ‘বাংলা শিশু সাহিত্য: শিশু সাহিত্য উপেক্ষিত কেন?’ আলোচনায় অংশ নেন শামসুজ্জামান খান, আমিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর ঢালী, কাজী জহিরুল ইসলাম, শাহ আলম দুলাল। সঞ্চালনায় ছিলেন ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন।

alt

বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে ছিলো নতুন প্রজন্মের লেখক। অংশগ্রহণে ছিলেন ততী নন্দিনী ইসলাম ও আবীর হক। লেখকদের পরিচয় করিয়ে দেন সেমন্তী ওয়াহেদ। এরপর ছিলো সম্পাদকের আড্ডা: কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাতের সাথে আলাপচারিতা। সাথে ছিলেন কবি তমিজ উদ্দীন লোদী ও কবি শামস আল মমীন। বিকেল ৪টায় ছিলো ‘বাংলার লোক সংস্কৃতি: অজানা খনি’ শীর্ষক আলোচনা ও সঙ্গীত। অংশগ্রহণে ছিলেন শামসুজ্জামান খান ও সায়মন জাকারিয়া। সঙ্গীত পরিবেশন করেন কাবেরী দাশ। সঞ্চালনায় ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী তাজুল ইমাম।

বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ছিলো সম্মাননা: দুলাল ভৌমিক। শিল্পীকে পরিচয় করিয়ে দেন শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়। এই পর্বে তাকে উত্তরীয় পড়ান শামসুজ্জামান খান। পরবর্তীতে ছিলো রঞ্জনীর পরিবেশনায় নৃত্য। এরপর বিকেল ৫টা ৫ মিনিটে ছিলো দুই বাংলার সাহিত্য নিয়ে মতবিনিময় ‘একই আকাশ একই বাতাস’। অংশগ্রহণে ছিলেন আবুল হাসনাত, সালমা বাণী, ফজলুর রহমান, নাজমুন নেসা পেয়ারী, কতাবসু মিশ্র, আমিরুল ইসলাম, ফকির ইলিয়াস। সঞ্চালনায় ছিলেন নিনি ওয়াহেদ।

বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ছিলো উত্তর আমেরিকার শিল্পীদের গানের আসর ‘গানগুলি মোর’। অংশগ্রহণে ছিলেন সাইফুল্লাহ পারভেজ, কৃষ্ণা তিথী, দেলোয়ার হোসেন ও তাহমিনা শহীদ। ৬টা ৩৫ মিনিটে ছিলো একক অভিনয় ‘অপর পুরুষ’। আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত এই পর্বে অভিনয় করেন শিরীন বকুল। সন্ধ্যা ৭টায় ছিলো মুখোমুখি। আলাপচারিতায় ছিলেন শামসুজ্জামান খান, পবিত্র সরকার, সায়মন জাকারিয়া, ফেরদৌস সাজেদিন, লুৎফর রহমান রিটন, আহমদ মাযহার, আবুল হাসনাত। সঞ্চালনায় ছিলেন ইকবাল হাসান।

রাত ৮টায় ছিলো একক সঙ্গীতের অনুষ্ঠান ‘রবি প্রণাম’। পরিবেশনায় ছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী দেবাঙ্গনা সরকার। ৯টা ৫ মিনিটে অপর একক সঙ্গীত ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’-তে পরিবেশনায় ছিলেন জনপ্রিয় শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করেন শেরা ও উৎসব কমিটির আহ্বায়ক ফেরদৌস সাজেদিন।

উল্লেখ্য, এবারের আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার অনুষ্ঠান মঞ্চের ব্যবস্থাপনা, অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিশ্বজিত সাহা, নিনি ওয়াহেদ, হাসান ফেরদৌস, রানু ফেরদৌস ও সেমন্তী ওয়াহেদ। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মোশাররফ হোসেন, গোপাল স্যানাল, শাহাদৎ, শুভ, ফাহিম রেজা নূর, জাকিয়া ফাহিম, স্বপ্ন কুমার, মণিকা রায়, পূর্ণিমা রায়, মিশুক সেলিম, মকসুদা আহমদ, রওশন হাসান ও আলপনা গুহ।


নিউইয়র্কে ২৫তম আন্তর্জাতিক বাংলা উত্সব ও বইমেলা শুরু - লেখক-সাহিত্যিক-শিল্পী সমাগমে মুখরিত নিউইয়র্ক

সোমবার, ২২ মে ২০১৭

Picture

উৎসবের শুরুতে একটি মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এরপর মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠানমালা। এতে অংশ নেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার, অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, জামাল উদ্দিন হোসেন, ড. লীনা তাপসী, নাজমুন নেসা পিয়ারী, রোকেয়া হায়দার, ইকবাল হাসান, লুৎফর রহমার রিটন, আমীরুল ইসলাম, আহমদ মাযহার, ফেরদৌস সাজেদীন, ড. হুমায়ূন কবীর, জসিম মল্লিক, কণাবসু মিশ্র, আলমগীর শিকদার লোটন, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, নিনি ওয়াহেদ, দুলাল তালুকদার, সব্যসাচী ঘোষ দস্তিদার, খায়রুল আনাম, তাজুল ইমাম, তাপস কর্মকার, লতিফুল ইসলাম শিবলী, হাসান ফেরদৌস প্রমুখ। এর আগে তাদের সবাইকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়।
 alt
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবারের উৎসবের আহ্বায়ক ফেরদৌস সাজেদীন। তিনি এবারের আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী সঙ্গীত ‘আলো আমার আলো’ পরিবেশন করে আনন্দধ্বনি। এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, অধ্যাপক পবিত্র সরকার, আমীরুল ইসলাম, ড. লীনা তাপসী, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, জামাল উদ্দিন হোসেন, ফেরদৌস আরা, রোকেয়া হায়দার এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান।  শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসীরা প্রবাসেও বাঙালি সংস্কৃতিকে মনেপ্রাণে লালন করছেন। তিনি বলেন, ২৬তম বাংলা উৎসব ও বইমেলা বাঙালির বিশ্বায়ন।  
 alt
অধ্যাপক পবিত্র সরকার বলেন, বিশ্বজুড়ে বাঙালির জয়জয়কার। বাঙালি সংস্কৃতি পৃথিবীর দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে। বাঙালির কবিতা, সঙ্গীত, চিত্রকলা বিশ্বের পাঠকের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে।ড. লীনা তাপসী বলেন, আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির মৌলিক গুণ বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যে ভাষার জন্য আমরা রক্ত দিয়েছি সেই রক্তের দাগ কখনো মুছে যাবে না। সেই দাগকে আমরা জিইয়ে রাখচোই। আমাদের প্রজন্মরা যেন জানতে পারে এই বাংলা ভাষার এই বর্ণিল শব্দগুলোর জন্য এই বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিয়েছে। তিনি বলেন, বাংলা ভাষার যে ক্ষমতা, এই ভাষার যে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ তা অনেক ক্ষমতাবান। আমরা বাংলা ভাষা জানি বলেই পৃথিবীর যে কোনো ভাষা অতি সহজেই আমরা উচ্চারণ করতে পারি।শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে ‘আবহমান বাংলা’ শীর্ষক নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যাঞ্জলি। এটি পরিচালনা করেন চন্দ্রা ব্যানার্জি। নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা পরিবেশন নৃত্য, আবৃত্তি ও গান। এতে অংশ নেয় অন্তরা সাহা, মার্জিয়া স্মৃতি, রিতিকা দেব, চন্দ্রিকা দে, শ্রুতিকণা দাশ, বিরশা ও শতাব্দী রায়। রবীন্দ্র সঙ্গীতের একক পরিবেশনায় অংশ নেন শামা রহমান।
 alt
দ্বিতীয় দিন শনিবার উৎসব শুরু হবে বেলা ১১ টা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এবং শেষ দিনের অনুষ্ঠানও শুরু হবে বেলা ১১টা থেকে এবং তা চলবে রাত ১১টা পর্যন্ত। এবারের আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ও বইমেলার অনুষ্ঠান মঞ্চের ব্যবস্থাপনা, অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন নিনি ওয়াহেদ, হাসান ফেরদৌস, সেমন্তী ওয়াহেদ এবং উৎসবের আয়োজক মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা।নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধুষ্যিত জ্যাকসন হাইটস এখন লেখক, সাংবাদিক ও শিল্পীদের পদচারণায় মুখরিত। আজ শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ২৫তম নিউইয়র্ক বইমেলা ও আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব। এদিন সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের পিএস-৬৯ স্কুলের মিলনায়তনে তিনদিনব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করবেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক পবিত্র সরকার। এবারের বইমেলার বিশেষ অতিথি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। নিউইয়র্ক বইমেলা ও আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসবের এবারের আহ্বায়ক লেখক-সাহিত্যিক ফেরদৌস সাজেদীন।

alt
এছাড়াও বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, নর্থ আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও স্থান থেকে লেখকেরা বইমেলায় যোগ দিচ্ছেন। এদের মধ্যে আছেন আবুল হাসনাত, কণা বসু মিশ্র, ড. লীনা তাপসী, ইকবাল হাসান, হুমায়ুন কবীর ঢালী, নাজমুন নেসা পিয়ারি, জসিম মল্লিক। প্রকাশকদের মধ্যে মেলায় যোগ দিচ্ছেন আহমেদ মাহমুদুল হক,ফরিদ আহমেদ, মনিরুল হক, মেজবাউদ্দিন আহমেদ, জাফর আহমেদ রাশেদ, রেদোয়ানুর রহমান জুয়েল, জহিরুল আবেদীন জুয়েল, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, তাপস কর্মকার, আলমগীর শিকদার লোটন, মোহাম্মদ মাশফিকুল্লাহ তন্ময় প্রমুখ। প্রকাশনা সংস্থা গুলো হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে যোগ দিচ্ছে মাওলা ব্রাদার্স, সময় প্রকাশন, অনন্যা, কথাপ্রকাশ, ইত্যাদি, গ্রন্থপ্রকাশ, নালন্দা, ভাষাচিত্র, স্টুডেন্ট ওয়েজ, থিয়েটার এবং কলকাতা থেকে যোগ দিচ্ছে পত্রভারতী ও সাহিত্যম।মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে অংশ নিবেন সৈয়দ আবদুল হাদী, ফেরদৌস আরা, শামা রহমান, দেবাঙ্গনা সরকার, শিরীন বকুল ও আহকাম উল্লাহ।২৫তম নিউইয়র্ক বইমেলা ও আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসবের তিনদিনব্যাপী কর্মসূচি নিচে দেওয়া হলো।

alt
প্রথম দিন, ১৯ মে, শুক্রবার:
বিকেল ৬টায় উদ্বোধন: উন্মুক্ত অনুষ্ঠান হবে জ্যাকসন হাইটসে। ব্যবস্থাপনায়: মোশাররফ হোসেন, গোপাল স্যানাল, শাহাদৎ, শুভ, ফাহিম রেজা নূর, জাকিয়া ফাহিম, স্বপ্ন কুমার, মণিকা রায়, পূর্ণিমা রায়, মিশুক সেলিম, মকসুদা আহমদ, রওশন হাসান ও আলপনা গুহ।
এরপর জমায়েত, বিশিষ্ট অতিথিদের বক্তব্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে ফাহিম রেজা নূর ও মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায়।
সন্ধ্যা ৭টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা ( পিএস-৬৯ । ব্যবস্থাপনায়: মোশাররফ, গোপাল, শুভ, মিশুক সেলিম।
(পরবর্তী সকল অনুষ্ঠান হবে পিএস-৬৯ এর মিলনায়তনে)
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মুক্তমনা মঞ্চে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে উদ্বোধন করবেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার। ব্যবস্থাপনায় রানু ফেরদৌস। সহযোগিতায় নাসরিন চৌধুরী, রাহাত কাজী, উম্মে কুলসুম পপি। পৌনে ৭টায় উদ্বোধনী সঙ্গীত : আলো আমার আলো। পরিবেশনায়: আনন্দধ্বনি।
সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন নিউইয়র্ক বইমেলা ও আন্তর্জাতিক বাংলা উৎসব ২০১৭ এর আহ্বায়ক ফেরদৌস সাজেদিন।
রাত ৮টায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন। প্রজ্বলনের সময় গান: আগুনের পরশমণি। পরিবেশনায়: আনন্দধ্বনি।
রাত সাড়ে ৮টায় স্বাগত বক্তব্য রাখবেন শামসুজ্জামান খান, পবিত্র সরকার, কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, সায়মন জাকারিয়া, আমিরুল ইসলাম, অনিন্দিতা কাজী, ড. লীনা তাপসী, ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, মনজুর আহমদ, জামাল উদ্দিন হোসেন, রোকেয়া হায়দার।
রাত ৯টায় আবহমান বাংলা (উদ্বোধনী পরিবেশনা), অংশগ্রহণে: নৃত্যাঞ্জলি। সাড়ে ৯টায় আগামী (নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের অনুষ্ঠান), অংশগ্রহণে: অন্তরা সাহা ও মার্জিয়া স্মৃতি (নৃত্য), রিতিকা দেব (আবৃত্তি), চন্দ্রিকা দে (সঙ্গীত), শ্রুতিকতা দাশ (ভায়োলিন), বিরশা (স্যাক্সোফোন), শতাব্দী রায় (সঙ্গীত)।
রাত ১০টায় রবীন্দ্রনাথের গান, একক পরিবেশনা। অংশগ্রহণে শামা রহমান।

alt
দ্বিতীয় দিন, ২০ মে, শনিবার:
বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নির্মল বাঙালি আড্ডা, সাথে বাঙালি প্রাতরাশ। অংশগ্রহণে সকল লেখক ও সাহিত্যামোদী। সঞ্চালনায় ইকবাল হাসান।
দুপুর ১টা থেকে পৌনে ১টা পর্যন্ত উন্মুক্ত আলোচনায় মুখোমুখি হবেন: লেখক-প্রকাশক-পাঠক। সঞ্চালনায় ফাহিম রেজা নূর।
১টা ৫০ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত: আমার নজরুল শীর্ষক আলোচনা করবেন ফেরদৌস আরা।
২টা ৫ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত হবে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি। সঞ্চালনায়: মনজুর কাদের।
বিকেল ৩টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ৫ মিনিট পর্যন্ত নতুন বই নিয়ে হাজিন হবেন সুনীল কৃষ্ণ দে, দুলাল তালুকদার, আহমেদ ছহুল, আহম্মদ হোসেন বাবু, মনজুর কাদের, খালেদ সরফুদ্দিন, স্বপ্ন কুমার, মনিজা রহমান, শামস আল মমীন, শামস চৌধুরী রুশো, রওশন হাসান, তাহমিনা জামান, রোমেনা লেইস, শাহ আলম দুলাল, কাজী জহিরুল ইসলাম, নাসরীন চৌধুরী। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পবিত্র সরকার ও শামসুজ্জামান খান। সঞ্চালনায় আদনান সৈয়দ।
৪টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত পেশা ও প্রতিতী: পেশাজীবী যখন লেখক শীর্ষক চিকিৎসক লেখকদের নিয়ে আড্ডা। অংশগ্রহণে সিনহা আবুল মনসুর ও শিহাব আহমেদ। সঞ্চালনায় ড: হুমায়ুন কবীর। অতিথি: পবিত্র সরকার ও আহমদ মাযহার।
৪টা ৪০ মিনিটে একক কবিতা আবৃত্তি: মোহাম্মদ আহকাম উল্লাহ। ৪টা ৫৫ মিনিটে মূলধারার বাঙালি লেখক। অংশগ্রহণে: নাদিয়া চৌধুরী। উপস্থাপনা কৌশিক আহমদ। ৫টা ২৫ মিনিটে ‘সোনার ছেলে’ নাটিকা। পরিবেশনায়: রঙ্গালয়।
৫টা ৫০ মিনিটে একাত্তরের সহযোদ্ধা শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্যালি উলোবিকে সম্মাননা জানানো হবে। তাকে উত্তরীয় পড়াবেন শামসুজ্জামান খান ও ফাহিম রেজা নূর। ৬টা ২০ মিনিটে চ্যানেল আই-মুক্তধারা ২০১৭ সাহিত্য পুরষ্কার। ঘোষণা করবেন আমিরুল ইসলাম ও ফেরদৌস সাজেদিন।
৬টা ৩৫ মিনিটে স্মরণ: কবি সৈয়দ শামসুল হক ও শহীদ কাদরীর কবিতা নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান। পরিবেশনায়: পেইন্টেড পোয়েমস। ভূমিকা: সউদ চৌধুরী। ৭টা ৫ মিনিটে কালিকা: প্রয়াত লোকশিল্পী কালিকা প্রসাদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। পরিচালনায়: সেমন্তী ওয়াহেদ। ৭টা ৩০ মিনিটে অয়োময়:  হুমায়ুন আহমেদের গান। পরিবেশনায় শাহ মাহবুব। ৭টা ৫০ মিনিটে মুক্তধারা বইমেলা ২০১৭ ভাষণ। ‘অভিবাসী লেখকের ভাষা ও দেশকাল।’ বক্তা অধ্যাপক পবিত্র সরকার। রাত ৮টা ১৫ মিনিটে ‘লেখক বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক বলবেন শামসুজ্জামান খান। ৮টা ৪০ মিনিটে পবিত্র সরকার ও শামসুজ্জামান খানকে সম্মাননা দেওয়া হবে।
রাত ৯টায় হে নিরুপমা: উত্তর আমেরিকার শিল্পীদের গানের অনুষ্ঠান। অংশগ্রহণে: নাফিয়া উর্মি, শিখা আহমেদ, জাফর বিল্লাহ, জাভেদ ইকবাল। ৯টা ৪০ মিনিটে একক সঙ্গীত: পরিবেশনায় ফেরদৌস আরা।

alt
তৃতীয় ও সমাপনী দিন, ২১ মে, রবিবার
বেলা ১১টায় কবিতা পাঠের আসর: স্বরচিত কবিতা পাঠ। সঞ্চালনায় মোশাররফ হোসেন। এরপর কবিতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক। পরিচালনায় লুৎফর রহমান রিটন। অতিথি: আবুল হাসনাত। আপ্যায়নে থাকবেন শুভ।
দুপুর ১টায় নতুন বই নিয়ে অনুষ্ঠানে থাকবেন তমিজ উদ্দীন লোদী, প্রতীপ দাশগুপ্ত, মোখলেসুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হুদা, মিশুক সেলিম, রিমি রুম্মান, মাকসুদা আহমেদ, খায়রুল আনাম, অরপি আহমেদ, শামসাদ হুসাম, কামরুন নাহার ডলি, আলম সিদ্দিকী, সালমা বাণী। অতিথি: শামসুজ্জামান খান। সঞ্চালনায় জসীম মল্লিক।
১টা ৪৫ মিনিটে নতুন বই: মুক্তিযুদ্ধ ও সাহিত্য শীর্ষক অনুষ্ঠানে ফকির ইলিয়াস, শরিফ মাহবুবুল আলম, আলী সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে অতিথি থাকবেন: আবুল হাসনাত। সঞ্চালনায়: ওবায়দুল্লাহ মামুন।
২টা ৫ মিনিটে ছোট ছোট গল্পপাঠ। পড়বেন কতাবসু মিশ্র ও খায়রুল আনাম। ২টা ২০ মিনিটে বাংলা শিশু সাহিত্য: শিশু সাহিত্য উপেক্ষিত কেন? আলোচনায় অংশ নিবেন শামসুজ্জামান খান, আমিরুল ইসলাম, হুমায়ুন কবীর ঢালী, কাজী জহিরুল ইসলাম, শাহ আলম দুলাল। সঞ্চালনায়: লুৎফর রহমান রিটন।
বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে নতুন প্রজন্মের লেখক। অংশগ্রহণে: ততী নন্দিনী ইসলাম ও আবীর হক। লেখকদের পরিচয় করিয়ে দেবেন সেমন্তী ওয়াহেদ। সাড়ে ৩টায় সম্পাদকের আড্ডা: কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাতের সাথে আলাপচারিতা। সাথে থাকবেন তমিজ উদ্দীন লোদী ও শামস আল মমীন। ৪টায় বাংলার লোক সংস্কৃতি: অজানা খনি শীর্ষক আলোচনা ও সঙ্গীত। অংশগ্রহণে শামসুজ্জামান খান ও সায়মন জাকারিয়া। সঙ্গীত পরিবেশন করবেন কাবেরী দাশ। সঞ্চালনায়: তাজুল ইমাম।
৪টা ৪০ মিনিটে সম্মাননা: দুলাল ভৌমিক। শিল্পীকে পরিচয় করিয়ে দেবেন রথীন্দ্রনাথ রায়। উত্তরীয় পড়াবেন শামসুজ্জামান খান। ৪টা ৫৫ মিনিটে নৃত্য। পরিবেশনায় রঞ্জনী। ৫টা ৫ মিনিটে একই দুই বাংলার সাহিত্য নিয়ে মতবিনিময় ‘একই আকাশ একই বাতাস’। অংশগ্রহণে আবুল হাসনাত, সালমা বাণী, ফজলুর রহমান, নাজমুন নেসা পেয়ারী, কতাবসু মিশ্র, আমিরুল ইসলাম, ফকির ইলিয়াস। সঞ্চালনায়: নিনি ওয়াহেদ।
৫টা ৪৫ মিনিটে উত্তর আমেরিকার শিল্পীদের গানের আসর ‘গানগুলি মোর’। অংশগ্রহণে: সাইফুল্লাহ পারভেজ, কৃষ্ণা তিথী, দেলোয়ার হোসেন, তাহমিনা শহীদ। ৬টা ৩৫ মিনিটে একক অভিনয় ‘অপর পুরুষ’। অভিনয় করবেন শিরীন বকুল। রচনা: আব্দুল্লাহ আল মামুন। ৭টায় মুখোমুখি আলাপচারিতায় থাকবেন শামসুজ্জামান খান, পবিত্র সরকার, সায়মন জাকারিয়া, ফেরদৌস সাজেদিন, লুৎফর রহমান রিটন, আহমদ মাযহার, আবুল হাসনাত। সঞ্চালনায় ইকবাল হাসান।
রাত ৮টায় একক সঙ্গীতের অনুষ্ঠান ‘রবি প্রণাম’। পরিবেশনায় দেবাঙ্গনা সরকার। ৯টা ৫ মিনিটে একক সঙ্গীত ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, পরিবেশনায় সৈয়দ আব্দুল হাদী। ১০টা ১০ মিনিটে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপ্তি ঘোষণা করবেন ফেরদৌস সাজেদিন।


বাংলা সাহিত্যের দুই বরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম কে নিয়ে শতদল সাংবাদিক সম্মেলন

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭

alt

হাকিকুল ইসলাম খোকন,আয়েশ আক্তার রুবি,বাপ্‌স নিউজ : বাংলা সাহিত্যের দুই বরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম কে নিয়ে শতদল আয়োজন করতে যাচ্ছে আগামী ২১শে মে , রবিবার পিএস ১৪৯, ৯৩-১১, ৩৪ এভিনিউ , জ্যাকসন হাইটস এ একটি নিরীক্ষা মূলক অনুষ্ঠান "এক হাতে বাজে অগ্নিবীণা কণ্ঠে গীতাঞ্জলি "গত শুক্রবার ০৫/১২/২০১৭ মেজবান রেস্টুরেন্ট এ এক সাংবাদিক সম্মেলনে শতদল এর প্রেসিডেন্ট কবির কিরণ এই তথ্য দেন।

Picture

তিনি জানান এই অনুষ্ঠানটির মূল পরিকল্পনা দুই মহান কবির জীবন দর্শন , চিন্তা , চেতনায়, গানে কবিতায় , নৃত্যে  কিভাবে মানুষের অন্তরের গভীরে প্রবেশ করা যায়, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় বসবাস রত বাঙালি প্রজন্মদের আরো কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায় সেই উদ্দেশ্য নিয়ে এ অনুষ্ঠানটির আয়োজন।

alt

বাংলাদেশ , ভারত , উত্তর আমেরিকার অনেক গুণী শিল্পীরা এই অনুষ্ঠানে  অংশগ্রহণ করবেন, আর তাঁরা হলেন কাজী নজরুলের নাতনী , বাচিক শিল্পী অনিন্দিতা কাজী ,বিখ্যাত নজরুল সঙ্গীত শিল্পী সুজিত মুস্তফা ,জনপ্রিয় রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী শ্রেয়া গুহঠাকুরতা ,উদীয়মান তরুণ শিল্পী শবনম আবেদী , নজরুল সঙ্গীত শিল্পী উলফাৎ পারভীন রোজি ,শতদল , বিপা ,সুরছন্দ ,ইন্ডিয়ান কালচারাল কমিউনিটি ,সৃজনী ,শিল্পকলা একাডেমী ও স্থানীয় বিশিষ্ট শিল্পীরা।

alt

অনুষ্ঠানে শিশু কিশোরদের জন্য অডিটোরিয়ামের ভিতরে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।সময় দুপুর ১:০০ টা থেকে ৩:২০টা।

alt

ক গ্রুপ(১-৫ গ্রেড ) -রবীন্দ্র ,নজরুলের ছবি আঁকা , খ গ্রুপ (৬-৮ গ্রেড ) -কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা , শুধুমাত্ৰ রবীন্দ্র -নজরুল এর যেই কোনো সংক্ষিপ্ত কবিতা ,গ গ্রুপ (৯-১২ গ্রেড)- রচনা প্রতিযোগিতা ,বিষয় -রবীন্দ্র -নজরুল এর সম্পর্ক ,২০০ শব্দের মধ্যে হতে হবে (ইংরেজী অথবা বাংলায় লেখা যাবে ) প্রতিটা বিষয়ের উপর প্রথম স্থান অধিকারীকে পুরস্কার দেওয়া হবে এবং মূল মঞ্চে ডাকা হবে। ইভেন্ট এর পক্ষ থেকে কাগজ ও পেন্সিল সরবরাহ করা হবে। দুপুর ৩:৩০টা থেকে স্থানীয় শিল্পীদের অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু হবে এবংঅতিথি শিল্পীদের পরিবেশনার মাধ্যমে রাত ০৯:১৫ টা অনুষ্ঠান শেষ হবে।

alt

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন অনুষ্ঠানের কনভেনার কবির কিরণ ও মেম্বার সেক্রেটারি  দেবল গুপ্ত এবং তার সাথে সাথে কিভাবে উত্তর আমেরিকাতে বাঙালীদের মাঝে ,বিশেষ করে নুতন প্রজন্মের মাঝে একটি সুস্থ ধারার বাংলা সংস্কৃতি চর্চা চালু রাখা যায় তার উপর গুরুত্ব দেন। ।

alt

অনুষ্ঠানে নজরুল গবেষক ,কবি,সংগীত শিল্পী ,রবীন্দ্র , নজরুল প্রেমী অনেকে উপস্থিত ছিলেন।নজরুল গবেষক ড:মাহবুব হোসেন তাঁর বক্তব্যে নজরুলের কর্ম , চিন্তা ও চেতনাকে কে তুলে ধরেন এবং নজরুলের গান কে উত্তর আমেরিকা তে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্ববান জানান।

alt

আরও বক্তব্য রাখেন কবি এবিএম সালেহ উদ্দিন , চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি আজিজ নাঈমী ,শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিকা রায় ,কমিউনিটি এক্টিভিটিস আবু তালেব চৌধুরী চান্দু ,বাংলাদেশ সোসাইটির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব,আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন-এর সভাপতি হাকিকুল ইসলাম খোকন, ইঊএনএ সম্পাদক এবিএম সালেহ উদ্দিন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর এলামনাই এসোসিয়েশনের অফ আমেরিকার সিনিয়র সদস্য মহম্মদ গোফরানুল হক ,জাহাঙ্গীরনগর এলামনাই  এসোসিয়েশনের অফ আমেরিকার  ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন কবির ,সঙ্গীত শিল্পী তুহিন আজাদ রোজি ,শতদলের ট্রেজারার সাবরিনা কবির ছন্দা ও অন্যান্য গুণী ব্যক্তিরা।কবির কিরণ ও দেবল গুপ্ত সবাইকে আবারো শতদলের এই বিশেষ পরিবেশনা দেখার জন্য , উপভোগ করার জন্য একুশে মে , রবিবার দুপুর থেকে আসার আহ্ববান জানান । শেষে সবাইকে প্রীতিভোজে আপ্যায়ণ করা হয়।


তিন ছড়াকারের বইয়ের মোড়ক উন্মোচন নিউইয়র্কে

মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০১৭

Picture

স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ার ক্লাব সনমে শিশু-কিশোর ও বড়দের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপভোগ করতে দর্শকদের প্রায় হুমড়ি খেতে হয়। 

alt

নিউইয়র্ক প্রবাসী জনপ্রিয় তিন ছড়াকার মনজুর কাদেরের ‘গোলাপ বাগান আগলে রাখি’ খালেদ সরফুদ্দীনের ‘কুটুম কুটুম’ এবং শামস চৌধুরী রুশো’র ‘গোলকের উল্টা পিঠে’ মোড়ক উম্মোচন করেন  সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহম্মদ ফজলুর রহমান,  কলামিষ্ট হাসান ফেরদৌস এবং বিশিষ্ট লেখক ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক কর্মকর্তা বেলাল বেগ।

alt

এসময় তিন ছড়াকারদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন  মনজুর কাদেরকে অভিনেত্রী রেখা আহমেদ, খালেদ সরফুদ্দীনকে কবি কাজী আতিক এবং শামস চৌধুরী রুশোকে কবি সোনিয়া কাদের।মনের অভিব্যক্তি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো ভাষা আর সে ভাষা ছন্দে প্রকাশ করাই হলো কবিতা বা ছড়া। কবে থেকে কাব্যকথার জন্ম, তা নিয়ে গবেষণার শেষ নেই।

alt

 তবে হাজার বছরের কম যে নয়, তা নিশ্চিত। ছোটবেলায় যেটি প্রথম শেখা হয়, তা হলো ছন্দ বা ছন্দমিল। প্রাচীন যুগে কবিতা লেখা এত সহজ ছিল না। ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে মানুষ গল্প বলত কবিতার মতো। এটা হয়ে যেত ভীষণ বড়। এ ধরনের লেখা বংশানুক্রমভাবে স্মরণ করা হতো। অনেক আগে না লিখে শুধু মুখে মুখেও কবিতা বলা হতো।

alt

অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন সাহিত্য একাডেমি  নিউইয়র্কর  পরিচালক মোশাররফ হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, প্রবাসে নানা প্রতিকূলতার মাঝে তিন ছড়াকারের একত্রে তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের আয়োজন করা একটি দূরহ কাজ। সাহিত্য একাডেমি এই কঠিন কাজটি সফল করতে সক্ষম হয়েছে। যারা নেপথ্যে থেকে এ কাজে সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে তিনি ধন্যবাদ জানান।  তিন ছড়াকার মনজুর কাদের, খালেদ সরফুদ্দীন ও শামস চৌধুরী রুশো’র সাফল্যও কামনা করেন তিনি। তিন ছড়াকার মঞ্চে পরিচয়

alt

করিয়ে দেওয়া হয়।মনজুর কাদের, খালেদ শরফুদ্দিন ও শামস চৌধুরী রুশোর জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরেন যথাক্রমে জুলি রহমান, মনিজা রহমান ও রওশন হাসান। গোলাপ বাগান আগলে রাখি,কুটুম কুটুম ও গোলকের উল্টা পিঠে ছড়ার বই নিয়ে আলোচনা করেন লেখক প্রাবন্ধিক ফেরদৌস সাজেদীন, সঙ্গীতশিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম এবং সঙ্গীতশিল্পী মুত্তালিব বিশ্বাস।

alt

এছাড়াও বক্তব্য দেন বিপার এনী ফেরদৌস, সুর ও ছন্দ’র এমদাদzj nK , বাফার ফরিদা ইয়াসমিন, উদীচীর সাবিনা হাই উর্বি ও  বহ্নিশিখার সবিতা দাস। ছড়াকারদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন খালেদ সরফুদ্দিন।

alt

মনজুর কাদের এর ৪টি ছড়া আবৃত্তি করেন নজরুল কবীর (স্বভাব),নজরুল ইসলাম (প্রিয়ার মতো), হাসান হাবিব (পথ) ও পারভিন সুলতানা (বিলাই)। খালেদ সরফুদ্দিন এর ৪টি ছড়া 

alt

আবৃত্তি করেন কনিকা ধর (পাখিদের সাথে আজ উড়বো), লুবনা কাইজার (লাল বৈশাখী), শিরিন ইসলাম ( চাই কি যাদুর চাবি) ও তাহরীনা প্রীতি ( ইচ্ছে হলে অন্যভাবে আকো) এবং শামস চৌধুরী রুশোর ৪টি ছড়া আবৃত্তি করেন বাহাউদ্দিন পিয়াল (বয়স যখন চার),নীরা বাহাউদ্দিন (কুটুম কুটুম),রোশনা শামস (দোল খায় মিলে মিলে) ও শুক্লা রায় (লজ্জা কি যদি শিখি)।

alt

দ্বিতীয় পর্বে মুমু আনসারীর নির্দেশনায় শিশু কিশোরদের নিয়ে ছড়াসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন মুমু আনসারী, হোসেন শাহরিয়ার তৈমুর ও দুররে মাকনুন নবনী।

alt

অংশগ্রহনকারী  শিশু শিল্পীরা হলেন আওসাফ আহমেদ,সাফওয়ান নাহিন, রাখি বালা,লাম মীম, আশরাফ আসীম, কাব্য, রাহুল দেব, লিউনা মুহিত্‌ তাহমিদ, মুন জেবিন হাই, নাহ রীন ইসলাম, রিতিকা দেব, কৈশী, অরজিতা প্রবর্তনা দাশ, ইশিকা

alt

আহমেদ অহনা, ঋতু বালা, সুমাইয়া আহ মেদ, রাইসা, নুশ রাত নাবিলা, মেহজাবীন, সারাহ শামস ও আকাশ।

alt

ছড়াগানের সঙ্গে শিল্পীদের তবলায় সঙ্গত করেন সাত্তার মাহমুদ। 


বাংলা ভাষা নিয়ে নতুন প্রজন্মের ভাবনা

সোমবার, ১৫ মে ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,আয়েশ আক্তার রুবি,বাপ্‌স নিউজ : শনিবার নিউইয়র্কে সারাদিন ছিল অঝোর ধারায় বৃষ্টি, সাথে ঝড়ো হাওয়া। এই বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে শতাধিক শিশু – কিশোর ও তাদের অভিভাবকেরা সমবেত হয়েছিল জ্যাকসন হাইটসের পাবলিক স্কুল ৬৯-এ।

Picture

এখানেই আয়োজিত হয়েছিল প্রথম আলো (উত্তর আমেরিকা)-র সহায়তায় ও মুক্তধারার উদ্যোগে সারাদিন ব্যাপী শিশু-কিশোর মেলা। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মেলায় নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও আলোচনার মাধ্যমে আমেরিকা প্রবাসী বাঙালিদের মাঝে তৈরী হয়েছে এক নতুন ইতিহাস। 

alt

পেছন থেকে আহ্বায়ক হাসান ফেরদৌস এর নেতৃত্বে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের একদল কমী কাজ করলেও মূলত পুরো দিনের অনুষ্ঠানটি আগা-গোড়া অংশগ্রহণ ও পরিচালনা করে আমেরিকায় বেড়ে ওঠা-শিশু-কিশোররা। ইতিপূবে প্রবাসের নতুন প্রজন্ম বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠানে অংশ্রগহণ করলেও এভাবে ইতিপূবে কখনো এমনটি ঘটেনি বলে তারাই তাদেরে বক্তব্যে উল্লেখ করেছে। বাংলা ও ইংরেজী দুই ভাষাতেই্ প্রায় পুরো অনুষ্ঠানটি পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পবে উঠে আসে বাংলা ভাষা নিয়ে নতুন প্রজন্মের ভাবনা।

alt

সকাল থেকেই ভিড় জমে যায় আগ্রহী প্রতিযোগীদের।  ঠিক দুপুর বারোটায় সাতটি ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে সকল প্রতিযোগীকে বয়সানুক্রমে বিভক্ত করে শুরু হয়ে যায় প্রতিযোগিতা। সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগী ছিল ছবি আঁকা বিভাগে। মূল মঞ্চের ওপর উপুড় হয়ে বসে গভীর মনোযোগে দিয়ে তারা যখন ছবি আঁকছিল, মনে হচ্ছিল ঢাকায় কচিকাঁচার আসরের শিশু মেলা।  ছবির বিষয়বস্তু আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল – বাংলাদেশের পতাকা, শহীদ মিনার ও বাংলাদেশের গ্রাম। 

alt

এছাড়াও ছিল কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাচ। আরো ছিল গল্পবলা প্রতিযোগিতা, ছোটদের জন্য প্রিয় রূপকথা, বড়দের জন্য মুক্তিযুদ্ধের গল্প। এদেশে বড় হওয়া ছেলেমেয়েদের ভাষা সমস্যার কথা মাথায় রেখে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে অধিকাংশই হয় বাংলায়, নয়ত বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে রচনা লেখায় বা গল্প বলায় অংশ নেয়।

alt

প্রায় ছয় ঘন্টা ধরে প্রতিযোগিতা চলার পর শুরু হয় পুরষ্কার বিতরণ। বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন বিজয়ী প্রতিযোগীদের হাতে পুরষ্কার ও সনদপত্র তুলে দিতে। সব গ্রুপের সেরা প্রতিযোগীরা যখন সবাই মঞ্চে জামাল উদ্দিন হোসেন ও মেলার অন্যান্য ব্যবস্থাপকদের নিয়ে ছবি তোলার জন্য ঘিরে দাঁড়ায়, শিশুদের মুখে তখন ছিল উল্লাস, তাদের পিতামাতার মুখে গর্ব।

alt

সন্ধ্যায় ছিল বিজয়ী প্রতিযোগী ও অতিথি শিশু তারকাদের অনুষ্ঠান। এই পর্বটি পরিচালনা করে দুটি কিশোর ও কিশোরী।  সন্ধ্যার অপর প্রধান আয়োজন ছিল শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে 

alt

একটি উন্মুক্ত আলোচনা, যার বিষয়বস্তু ছিল, বাবা-মা আমাকে বোঝে না। বিপুল কলরব ও হৈ-হুল্লোড়ের ভেতর দিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোররা খোলামেলা ভাবে পিতামাতার সাথে তাদের প্রজন্মগত ব্যবধানের সংকটের চিত্রটি তুলে ধরে। অভিভাবকেরাও ছেলেমেয়েদের কাছে তাঁদের প্রত্যাশার কথা বলেন। অধিকাংশ শিশু-কিশোর বক্তা অবশ্য একথায় একমত হয় যে বাবা-মায়ের কাছ থেকেই তারা বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের ইতিহাসের গল্প শুনেছে। সেজন্য তারা কৃতজ্ঞ, একথাটা তারা নিজেদের মত করে জানায়।

alt

উল্রেখ্য, ১৯৯২ সাল থেকে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত বইমেলায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাংলা লেখা, চিত্রাঙ্গণ প্রতিযোগিতা চালু হয়। ২৫ বছর পর এবারই প্রথম বইমেলার আগের সপ্তাহে অনিুষ্টিত হলো শিশু-কিশোর মেলা।

alt

আগামি ১৯ থেকে ২১ মে পযন্ত চলবে নিউইয়ক বইমেলা ও আন্তজাতিক বাংলা উৎসব। এই উৎসব উপলক্ষে যোগ দিচ্ছে ঢাকা, কলকাতা, ইউরোপ থেকে বিভিন্ন অতিথিবৃন্দ।


তুষার সভাপতি ও সিদ্দিক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত - ময়মনসিংহ জেলা সমিতি নির্বাচিত ইউএস’র অভিষেক ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

বুধবার, ১০ মে ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন ,বাপসনিউজঃ ময়মনসিংহ জেলা সমিতি ইউএসএ’র নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটি ( ২০১৭-২০১৮) এর অভিষেক ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গত ৬ মে , শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ১৪৮-১৫, হিলসাইড এভিনিউ, নিউইয়র্কের ষ্টার কাবাব রেষ্টুরেন্ট এন্ড পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হয়। খবর বাপসনিউজ।

ময়মনসিংহ জেলা সমিতি ইউএস’র আহবায়ক  ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আইনুল হক আমিনের সভাপতিত্বে  এবং সদস্য সচিব ও প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুল হকের পরিচালনায়

অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বে নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের শপথ গ্রহন ও অনুষ্ঠানের উদ্ধোধন করেন ময়মনসিংহ জেলা সমিতি ইউএস’র প্রধান উপদেষ্ঠা মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার ।

alt
দ্বিতীয় পর্বে নবনির্বাচিত সভাপতি মনজুরুল হক তুষারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম সিদ্দিকুর রহমান  সিদ্দিক ও সদস্য হুমায়ুন কবির খান-এর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠান শুরু হলে রাত সাড়ে ৯টায় প্রধান অতিথি জাতিসংঘের বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ-বিন মোমেন,বিশেষ অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ এবং  উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ জেলা সমিতি ইউএসএ’র প্রধান উপদেষ্ঠা মুক্তিযোদ্ধা শরাফ সরকার , মুক্তিযোদ্ধা সংসদ যুক্তরাষ্ট্র কমান্ডের আহবায়ক ড. আব্দুল বাতেন, সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ  ফজলুর রহমান , মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল করিম,  ময়মনসিংহ বিভাগ ও উন্নয়ণ কমিটির সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আইনুল হক আমিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি আজিজুল হক, অধ্যাপক হুসনে আরা যুক্তরাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রধান উপদেষ্ঠা একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম।
অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন  ময়মনসিংহের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুদৌল্লাহ ও  হাফিজুর রহমান এবং এমডি এ বারী।


সংগঠনের নবনির্বাচিত কর্মকর্তা (২০১৭-২০১৮) হলেন সভাপতি মঞ্জুরুল হক তুষার , সিনিয়র সহ-সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সহ-সভাপতি এমডি এ বারী,সাধারণ সম্পাদক এটিএম সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক, সহ- সাধারন সম্পাদক খালেকুজ্জামান সুমন, সহ-সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল ইসলাম রাসেল,

সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মাসুদ, প্রচার সম্পাদক ইমরুল কায়েস, কোষাধ্যক্ষ আকরাম হোসেন, দপ্তর সম্পাদক এমডি আসাদুজ্জামান মুকুল, মহিলা সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া ,মহিলা বিষয়ক সম্পাদক তাসলিমা মন্ডল দীনা, সদস্য এমডি মাফজুর রহমান ঠুঠুল, হুমায়ুন কবির খান ও আনোয়ার হোসেন সেলিম।অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির সবাইকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিশিক্ত ও শপথ বাক্য পাঠ করেন শরাফ সরকার।


মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী শাহ মাহবুব ও ফিলাডেলফিয়া প্রবাসী সংগীত শিল্পী শিলা আজিজ।

উল্লেখ্য, সংগঠনটি ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ময়মনসিংহ বাসীদের কল্যাণে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে ৫০টি কবর কেনা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে সবাইকে প্রীতিভোজে আপ্যায়ণ করা হয়।  


যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ আয়োজিত জননেতা আহসান উল্লাহ মাষ্টার স্বরণ সভা

বুধবার, ১০ মে ২০১৭

Picture

হাকিকুল ইসলাম খোকন ,বাপসনিউজ : জাতীয় শ্রমিক লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত অনন্য জননেতা আহসান উল্লাহ মাষ্টারের ১৩তম মৃত্যু বার্ষিকীর সভায় প্রধান অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আব্দুর রহীম বাদশা বলেছেন, মেয়াদ উর্ত্তীন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে সাংগঠনিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে হবে।

alt

গত ৭ই এপ্রিল রবিবার রাত ১০টায় নিউইয়র্কের বাঙ্গালী অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসের পালকির চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে জাতীয় শ্রমিক লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জননেতা আহসান উল্লাহ মাষ্টারের ১৩তম স্বরণ সভায় প্রথম পর্বে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি বজলুর রহমান ।খবর বাপসনিঊজ।

alt

দ্বিতীয় পর্বে জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, শিক্ষক, শ্রমিক নেতা এমপি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহসান উল্লাহ মাষ্টারের স্বরণে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন  আব্দুর রহিম বাদশা। বিশেষ অতিথির  বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা ও জালাালাবাদ এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকার সভাপতি বদরুল হোসেন খান , যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম দুলাল মিয়া, দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ মোঃ বখতিয়ার, জন সংযোগ বিষয়ক সম্পাদক কাজী কয়েস আহমেদ , যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা হিন্দাল কাদির বাপ্পা, যুব আবুল কাশেম, শাহদত হোসেন, ওয়ালী হোসাইন ও আহমেদ মোস্তফা পারভেজ ।

alt

স্বরণ সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন সহ সভাপতি মঞ্জুর চৌধুরী, টি-মোল্লা, ইলিয়ার রহমান, সৈয়দ আতিকুর রহমান, আল-আমিন হক পান্না প্রমুখ।

alt
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আব্দুর রহীম বাদশা বলেন, জননেতা আহসান উল্লাহ মাষ্টার অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের উচ্চারণে ছিলেন নির্ভীক।

alt

মাথা উচুঁ কওে ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতেন সবসময়। রাজপথে তিনি আগলে রেখেছেন কর্মীদের।পুলিশের লাঠি মাথায় নিয়ে নেতা কর্মীদের রক্ষা করতেন সবসময়।

alt

অধিকার প্রাতষ্ঠার আন্দোলনে রাজপথে থেকে আহত হয়ে তিনি হাসপাতালে গেছেন কয়েক বার। একজন শিক্ষিক, একজন ইউপি চেয়াম্যোন ও সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকার উন্নয়ন এবং সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ গঠনে ও শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় তিনি যে ভুমিকা রেখে গেছেন, তা যুগে যুগে স্বরণীয় হয়ে থাকবে সর্ব মহলে।

alt

সভায় আহসান উল্লাহ মাষ্টারের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। শেষে সবাইকে নৈশ্যভোজে আপ্যায়ণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সভাপতি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।


প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় নিউইয়র্কে এইচআরপিবি’র সম্মেলন

রবিবার, ০৭ মে ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে :প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় নিউইয়র্কএ অনুষ্ঠিত হলো হিউম্যান রাইটস এন্ড পীস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)-এর সম্মেলন। সম্মেলনে বক্তারা বাংলাদেশে প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং প্রবাসীদের অধিকার বিষয় আলোচনা করেন।

Picture

সিটির জ্যাকসন হাইটসস্থ বেলোজিনো হলে গত ৩০ এপ্রিল রোববার অপরাহ্নে আয়োজিত এইচআরপিবি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির নিউইয়র্ক শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মাদ আলী বাবুল।

alt

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন এইচআরপিবি’র কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ এবং বিশেষ অতিথি এটর্নী অশোক কর্মকার। সভায় বক্তব্য রাখেন আবুল কাশেম রাজু, অ্যাডভোকেট আব্দুল হাই কাইয়ুম, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট সামসুদ্দোহা,দেওয়ান বজলু চেীধুরী,সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, অ্যাডভোকেট জাকির এইচ মিয়া, এটর্নী হাসান মালিক,এম রহমান কিবরিয়া,সিরাজ ঊদিদন আহমদ , অ্যাডভোকেট এমাদঊদিদন আহমদ,অ্যাডভোকেট পরনা ইয়াসমিন প্রমুখ। সম্মেলন পরিচালনা করেন এইচআরপিবি নিউইয়র্ক শাখার অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ।

alt
সম্মেলনে মনজিল মুরশেদ বলেন, বাংলাদেশে প্রবাসীদের একটি বড় ধরনের ভুমিকা থাকলেও বর্তমানে বাংলাদেশে প্রবাসীরা ভ্রমণে গেলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানী ও অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন। যার কারণে দেশের প্রতি তাদের মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। খুব দ্রুত প্রবাসীদের অধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে এর সমাধান না করলে বাংলাদেশ পিছিয়ে যাবে।তিনি সরকারের প্রতি সকল প্রবাসীদের বিশেষ প্রজেক্টের মাধ্যমে আইডি কার্ড সরবরাহ এবং জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদেরকে ভোটের মাধ্যমে অধিকার প্রদান পূর্বক ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাদের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং সরকারের নাগরিক আইনের পরিবর্তনের বিষয়ে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার আহবান জানান।

alt
এটর্নী অশোক কর্মকার বলেন, দেশপ্রেম নিয়ে কোন পরীক্ষার প্রশ্ন অবান্তর বরং বাংলাদেশে যারা প্রশাসনে ঘুষ নেন তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ঐক্যের কোন বিকল্প নেই।

alt

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট বাবুল প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় এইচআরপিবি’র লিগ্যাল সার্ভিস-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।

alt
সম্মেলনে সর্ব সম্মতিক্রমে মোহাম্মাদ আলী বাবুলকে সভাপতি, আবুল কাসেম রাজুকে সাধারণ সম্পাদক, অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে একটি কার্য নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

alt
সম্মেলনে এইচআরপিবি’র নিউইয়র্ক শাখার উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। উপদেষ্টারা হলেন: এটর্নী অশোক কুমার কর্মকার, অ্যাডভোকেট শামসুদ্দোহা, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, মাহবুবুর রহমান চৌধুরী,দেওয়ান বজলু চেীধুরী,সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, গাজী শামসুদ্দিন ও সহিদুজ্জামান।


ট্রাম্পবিরোধী সমাবেশের আহ্বান গ্রেস মেংয়ের

শনিবার, ০৬ মে ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন ,বাপসনিউজঃনিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে : ট্রাম্প প্রশাসনের গণবিরোধী পদক্ষেপ রুখে দিতে জনমত গড়ার লক্ষ্যে রবিবার নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ডেমক্র্যাটিক পার্টির ভাইস চেয়ার কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং এ সমাবেশে সর্বস্তরের লোকজনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সমাবেশ চলবে স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।  কংগ্রেসে দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কিত কমিটির প্রভাবশালী সদস্য মেং বলেছেন, নির্বাচনের পর থেকেই অসংখ্য মানুষ প্রশ্ন, তারা এখন কী করবেন। সে প্রশ্নের জবাব দিতেই এ সমাবেশ। আমরা যারা ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ, এবং যারা প্রকৃত অর্থেই আমেরিকার ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে চায়, অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে চায়, তাদের এক পতাকার নিচে জড়ো হতে হবে।

Picture

এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন দিয়েছে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন, মেইক দ্য রোড নিউইয়র্ক, নিউইয়র্ক ডেমক্র্যাটিক ল’ইয়ার কাউন্সিল, উইমেন্স মার্চ এলায়েন্স, ব্ল্যাক লাইভস মেটার অব গ্রেটার নিউইয়র্ক, আসাল, ইন্ডিভিজিবল এনওয়াই, কোড ব্লু, সুইং লেফট, শোয়িং আর ফর রেসিয়াল জাস্টিস, জুইশ ফর রেসিয়াল অ্যান্ড ইকনোমিক জাস্টিস, মুসলিম ফর প্রগ্রেস, প্রগ্রেসিভ ভয়েস ইউনাইটেড, ভেটারান্স ফর পিচ, ফরেস্ট হিলস হাডেল, ৩৮তম এ্যাসেম্বলী ডিস্ট্রিক্ট ডেমক্র্যাটিক ক্লাব, উইমেন্স এ্যাকশন গ্রুপ অব ফরেস হিলস, ফরেস্ট হিলস এশিয়ান এসোসিয়েশনসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন।

 


যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের মে দিবসের সভা প্রতিবাদ সভায় পরিণত ‘অবিলম্বে আওয়ামী লীগের সম্মেলন দাবী’

শনিবার, ০৬ মে ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন ,বাপসনিউজঃনিউইয়র্ক: মহান মে দিবস পালন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা মে দিবসের আলোকে সমাজের সকল স্তরে অধিকার আদায়ের প্রত্যয়ের পাশাপাশি অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দাবী জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ উর্ত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তিন বছরের কমিটি ছয় বছর ধরে চলছে। এটা অগঠনতান্ত্রিক ও অসাংগঠনিক। বক্তারা দল পরিচালনায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা ব্যর্থতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, বহি:র্বিশ্বে যদি কোন সংগঠন থাকে তাহলে শ্রমিক লীগই থাকবে। কেননা, প্রবাসে আমরা সবাই শ্রমিক। যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ কোন অনিয়ম বরদাস্ত করবে না। দলের সকল অনিয়ম সাংগঠনিকভাবেই মোকাবেলা করা হবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত মুজিবনগর দিবস পালন অনুষ্ঠানের অপ্রীতিকর ঘটনা এবং দলের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষাপটও বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসায় দৃশ্যত: সভাটি প্রতিবাদ সভায় পরিণত হয়।এদিকে জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ শুকুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ঢাকা থেকে ফোনে শুভেচ্ছা জানান এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারা সাংগঠনিক নিয়মনীতি মেনে চলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

alt
সিটির জ্যাকসন হাইটসস্থ পালকি পার্টি সেন্টারে ১ মে সোমবার রাতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় জাতীয় শ্রমিক লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুর রহীম বাদশা। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সহকারী এটর্নী জেনারেল, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন-এর নব মনোনীত সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের কার্যকরী পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য অ্যাডকেট আব্দুর রকীব মন্টু। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন  যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা mvsevw`K হাকিকুল ইসলাম খোকন,উপদেষ্টা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী,প্রচার সম্পাদক দুলাল মিয়া হাজী এনাম,দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী,আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ বখতিয়ার, জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস, কার্যকরী সদস্য হিন্দাল কাদির বাপ্পা,শরীফ কামরুল আলম হিরা, ও যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজউদ্দিন আহমেদ সোহাগ।যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আব্দুল মমিন। এরপর ১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগোর হে মার্কেটে নিহত শ্রমিকসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহত শ্রমিকদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মঞ্জুর চৌধুরী। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ।

alt
সভায় সাপ্তাহিক ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান ও অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম সহ অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহাদৎ হোসেন,  শ্রমিক লীগের সহ সভাপতি হোসেন সোহেল রানা, হাসনাত হাসন, আব্দুর রকিব উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন নান্নু, ইলিয়ার রহমান ইলিয়াস, টি মোল্লা, আশ্রাব উদ্দিন, মওলানা বজলুর রহমান ও এম এ আলম বিপ্লব, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুবল দেবনাথ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক সাইকুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিকুর রহমান তোরণ প্রমুখ।
সভায় কেন্দ্রীয় জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি আলহাজ শুকুর মাহমুদ তার বক্তব্যের শুরুতেই মে দিবসে নিহতদের স্মরণ আর যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেন। পরবর্তীতে স্বাধীনতা বিরোধীতা চক্র তাকে হত্যা করে। আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হাটি হাটি পা পা করে বাংলাদেশ স্বনির্ভর হচ্ছে। প্রবাসীদের অর্থে দেশ শক্তিশালী হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের শ্রমিকরা ন্যায্য মুজুরী পাচ্ছে, সরকার শ্রমিকদের নানা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ রোল মডেল। ফলে জাতিসংঘের নানা পুরষ্কার পাচ্ছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার সরকার শ্রমিক বান্ধব সরকার। দেশের শ্রমিকরাও তার পাশে রয়েছেন। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগকে আরো শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

alt
কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম তার বক্তব্যে হে মার্কেটের ঘটনা স্মরণ করে বলেন, বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ যুক্তরাষ্ট্রে মে দিবস পালন করেছে। এজন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শেখ মুজিব আর শেখ হাসিনাকে ভালোবেসে প্রবাসেও শ্রমিক লীগ করছেন। প্রসঙ্গত তিনি বলেন, দলের অঙ্গ-সংগঠন সম্পর্কে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য সঠিক নয়। জাতীয় শ্রমিক লীগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন। বিশ্বের যেখানেই বাংলার শ্রমিক থাকবে সেখানেই শ্রমিক লীগ থাকবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধ শ্রমিক লীগের দেখার বিষয় নয়। শ্রমিক লীগকে তার স্বকিয়তা আর সাংগঠনিক শালিনতা বজায় রেখেই কাজ করতে হবে।
 মুহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, মে দিবস প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে দাবী প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কিনা জানিনা, তবে শ্রমিকদের অধিকারের চেতনা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মে দিবসের মধ্য দিয়ে শ্রমজীবী মানুষের আন্তর্জাতিকতা রূপ পেয়েছে। এই দিবসের চেতানা মনে প্রাণে আশ্বস্ত আর ধারণ করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের নেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকায় দেশে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চেতনাকে ধারণ করেই আমাদেরকে আজীবন বেঁচে থাকবে হবে। তিনি শিকাগোর হে মার্কেটে মহান মে দিবস পালন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের প্রতি প্রস্তাব করেন।
 অধ্যাপিকা হুসনে আরা বেগম বলেন, অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে নারী শ্রমিকদেরও যথেষ্ট ত্যাগ সহ অবদান রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নর-নারীর সমতায় বিশ্বাসী ছিলেন। শ্রমিক লীগে নারী সমাজকে সম মর্যাদা আর অধিকার দেয়া উচিৎ।
আব্দুর রহীম বাদশা বলেন, আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে রাজনীতি করি। শ্রমিক লীগ কখনোই কোন অন্যায়, অসাংগঠনিক আর অগঠনতান্ত্রিক কর্মকান্ড মেনে নেবে না। যারা দলবে ব্যবসার স্বার্থে ব্যবহার করেন তাদের ব্যাপারে তিনি সবার প্রতি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজিব ওয়াজেদয়ের
প্রসঙ্গত তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে ঘাপটি মেরে থাকা সুবিধাবাদী একটি চক্র গত ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবস পালন অনুষ্ঠানের ঘটনা ভিন্নঘাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, ঐদিন আমরা কোন সভা-সমাবেশ প্রতিহত করতে যাইনি। আমরা ঐ ঘটনার নিন্দা জানাই।

alt
 অ্যাডকেট আব্দুর রকীব মন্টু মুজিব সৈনিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ব্যক্তি স্বার্থের চেয়ে দল আর দেশের স্বার্থ বড়। ব্যক্তিগত রাগ-ক্ষোভের কারণে দল যেনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। দলের গঠনতন্ত্র আর অভিভাবকদের মেনে চলতে হবে। প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশে করে নিজেদের মধ্যে কথা কাটাকাটি না করে কারো প্রতি যদি কারো কনো অভিযোগ থাকে তা লিখিতভাবে দায়িত্বশীলদের জানিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
 মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী বলেন, আমরা সকল প্রবাসীই শ্রমিক। আর আমরা যারা মুজিব সৈনিকরা বুলেট প্রুফ। আমারা লোভ, পদ-পদবীর কাছে বিক্রি হবো না। আমরা সুবিধাবাদী নেই। হুমকী-ধুমকী দিয়ে রাজপথের লড়াকু সৈনিকদের স্তব্ধ করা যাবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ করে বলেন, তারা সুবিধাবাদী লোক, ষড়যন্ত্রকারী। ড. সিদ্দিক কখনো ছাত্রলীগ, যুবলীগ এমনকি মুক্তিযুদ্ধও করেননি। তার কাছে দল নিরাপদ নয়। আর নিজাম চৌধুরী রাজাকার পরিবারের সদস্য। তারা দুজন দলকে ব্যবসায়ীক স্বার্থে ব্যবহার করছেন। তিনি বলেন, দলের কেউ কেউ বলছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র নেই। তাহলে দলের সভা-সমাবেশ আর আবিষ্কার-বহিষ্কার কিভাবে হয়? তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ কারো লীজ দেয়া হয়নি। তিন বছরের কমিটির ছয় বছর হলো। আমরা সম্মেলনের মাধ্যমে দলের নতুন কমিটি চাই। তিনি দলের ষড়যন্ত্রকারী, সুবিধাবাদীদের প্রতি হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
 হাজী এনাম বলেন, আমরা ২৫/৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী করছি। আমরা উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। দলের ৪/৫জন সিনিয়র নেতার মধ্যে আমিও একজন। আমরা কি হাসিনা-জয়কে মানি না? তিনি বলেন, আমরা দল বা দলের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিপক্ষে নই, আমরা দলের নেতাদের অন্যায়, অনিয়ম, অবিচার আর সুবিধাবাধীদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক লীগের সরকার না থাকলে সভাপতি শ্রমিক লীগকে ভেঙ্গে দিতে পারেন। তিনি বলেন, যারা বেশীরভাগ সময় দেশে থাকেন তাদের দিয়ে সঠিকভাবে দল পরিচালিত হতে পারে না।
 অ্যাডভোকেট শাহ বখতিয়ার বলেন, আমি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। ছাত্রলীগ, যুবলীগ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করিেছ। বিগত ২২ বছর ধরেই আমি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। অথচ মুবিজনগর দিবসের সভায় আমাদেরকে বিএনপি-জামায়াতী বলা হয়, খন্দকার মোস্তাকের লোক বলা হয়। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ হচ্ছে সকল সংগঠনের অভিবাবক। সকল অঙ্গ আর সহযোগী সংগঠনকে নিয়ে দণলকে শক্তিশালী করাই আওয়ামী লীগের দায়িত্ব। কিন্তু দলের সভাপতি ড. সিদ্দিক তা না করে তার কর্মকান্ডের মাধ্যমে মূলত: জননেত্রী শেখ হাসিনা আর দলের সাথেই বিশ্বাস ঘাতকতা করছেন, সংগঠনকে বিভক্ত, দূর্বল করছেন। তিনি বলেন, আমরা নই ড. সিদ্দিকই খন্দকার মোস্তাকের লোক। আর মুবিনগর দিবসের ঘটনা দলের ব্যর্থ নেতৃত্বই দায়ী।

Picture


কাজী কয়েস বলেন, বহি:বিশ্বে কোন সংগঠন থাকলে হলে শ্রমিক লীগই থাকার যুক্তিকতা রয়েছে। আমরা শ্রমিক শ্রেনীর পক্ষে। আর শ্রমিকদের নিয়েই দলকে ‘জামায়াত-রাজাকার’ মুক্ত করতে চাই। আমরা সকল অসাংগঠনিক, অগঠনতান্ত্রিক, সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে আজ আমরা নির্যাতিত। আমাদের আন্দোলন চলবেই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে শোষক আর শোষিত রয়েছে। আমরা শোষিতের পক্ষে। তিনি দলের সুবিধাবাধীদের প্রতিরোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রথম পরিচয় আমরা শ্রমিক। শ্রমিক লীগকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না।
 হিন্দাল কাদির বাপ্পা বলেন, আমরা নতুন আওয়ামী লীগার নই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৭ সালে টুঙ্গী পাড়ায় ১৫ আগষ্ট ‘জাতির জনক’-এর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে প্রথম গ্রেফতার হই। তিন তিনবার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি, দলের জন্য জেল-জুলুম খেটেছি। তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, ‘যারা বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত সৈনিকদের নিয়ে কটাক্ষ করে কথা বলবে তাদের জিভ কেটে ফেলবো। প্রয়োজনে শেখ হাসিনার সামনে জুতাপেটা করবো। কেউ মুজিব সৈনিকদের গায়ে আছড় দিলে তার নখ কেটে ফেলবো’। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ তো দূরের কথা যারা ছাত্রলীগ-যুবলীগও করেনি তারা আজ দলের নেতা হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মেয়াদ তিন বছরের জায়গায় ছয় বছর চলছে উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে সম্মেলন দেয়ার জন্য দলের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গঠনতন্ত্র মোতাবেকই আওয়ামী লীগ চলবে।
 সিরাজউদ্দিন আহমেদ সোহাগ বলেন, পৃথিবীতে যতদিন উৎপাদন ব্যবস্থ্যা থাকবে, ততদিন শ্রমিক শ্রেনী থাকবে। দেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্র আন্দোলনের পরই শ্রমিক সংগঠনগুলো মূলদলের ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করে চলেছে। তিনি মহান মে দিবসের চেতনায় অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সকল শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
শাহাদৎ হোসেন দলের পদ-পদবী বিক্রি চলছে। আমাকেও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পদেও লোভ দেয়া হয়েছে। এসব বন্ধ করতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক সফরে আসার আগেই আমাদের জয় হবেই।
 হোসেন সোহেল রানা বলেন, আমরা দলের গঠনতন্ত্র মেনেই দলের রাজনীতি করতে চাই। দলের মধ্যে কোন অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবেই। তিনি বলেন, শ্রমিক লীগ সহ দলের সকল অঙ্গ সংগঠন ছাড়া আওয়ামী লীগ ‘সম্পূর্ণ লীগ’ হবে না। তিনি হুশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগকে ‘মাইনাস’ করে নিউজার্সী থেকে নিউইয়র্কে কোন ট্রাক ‘লোড-আনলোড’ করতে পারবে না। দল বা দলের পদ-পদবীকে ব্যবহার করে কাউকে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধা নিতে দেয়া হবে না। তিনিও মেয়াদ উত্তীর্ণ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে অবিলম্বে সম্মেলন দাবী করেন।
 সেবুল দেবনাথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে। নেতাদের মধ্যে ‘বিচার মানি তাল গাছটা আমার’ আবস্থা বিরাজ করছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সবাই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মানলে দলের মধ্যে বিভক্তি থাকবে কেনো। তিনি সবাইকে গঠনতন্ত্র মেনে চলার আহ্বান জানান।
সভায় অন্যান্য বক্তা বলেন, ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে গড়া জাতীয় শ্রমিক লীগ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগ কারো পকেটের অর্থে চলেনা, কারো তাবেদারী করে না। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শ্রমিক লীগ আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। আমরা চাই দলের মধ্যে গণতন্ত্র, গঠনতন্ত্র মোতাবেক দল চলুক।
 
 
সভাপতির বক্তব্যে খোকন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা কেন্দ্রীয় জাতীয় শ্রমিক লীগ নেতৃবৃন্দের পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে শ্রমিক লীগ করছি। কেউ শ্রমিক লীগের রাজনীতি বন্ধ করতে পারবে না। এটা আমাদের চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আমাদের রিুদ্ধে যারা নিয়েছেন বা নিচ্ছেন তাদের রাজনীতি আর কর্মকান্ডের খবর আমরা জানি। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকায় দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাত সাড়ে ৯টার দিয়ে শুরু হয়ে সভাটি শেষ হয় মধ্য রাত দেড়টায়।