Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

ইতিহাসের বিরল বিস্ময়।আবু জাফর মাহমুদ

শুক্রবার, ১৬ মার্চ ২০১৮

আমেরিকান প্রশাসনে আবার বড় ঘটনা ঘটলো।সেক্রেটারী অব ষ্টেট রেক্স টিলারসনকে বিনা নোটিশে দায়িত্বচ্যুত করেছেন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।আমেরিকার ইতিহাসে ১২০বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে ঘটলো এঘটনা।বিশ্লেষকরা বলছেন,উগ্রবর্ণবাদী ধারার অভ্যুত্থানের ক্ষমতায়ন হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে।

তুমুল বিশ্লেষণ চলছে ট্রাম্পের অস্বাভাবিক পদেক্ষেপের।তবে কেউ কেউ বলছেন,নীতিগতভাবে দ্বিমতে পথ  চলার চেয়ে একমতে পথ চলা অধিক নিরাপদ,সেই পথ যতই ঝুঁকিপূর্ণ হউক।আন্তর্জাতিক বিষয়ে,বিশেষ করে ইরান চুক্তি এবং উত্তর কোরিয়া নীতি সহ যাবতীয় কূটনৈতিক পদ্ধতিতে দ্বিমতের কারণেই এই পরিবর্তন হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।অপরবিশ্লেষকরা বলছেন,ট্রাম্প এই রদবদল করেছেন,প্রশাসনে তার কৃতকর্মের সমালোচনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এবং বিশেষ বলয়ের পক্ষে তার ওয়াদা কার্যকর করার অম্ভাব্য অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার পরিকল্পনায়।   

একান্ত অনুগত এবং উগ্রইহুদী বলয়ের পছন্দের লোক বলে পরিচিত মাইক পাম্পিওকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে ।মাইককে কিছুদিন আগে সিআইএ পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো।তার রেখে আসা পদের দায়িত্বভার গ্রহন করেছেন জিনা হেস্পেল।তিনি ছিলেন সি আইএ’র উপ-পরিচালক।সিআইএ’র ইতিহাসে প্রথম মহিলা পরিচালক হলেন তিনি।ট্রাম্পের এই আকস্মিক বজ্রপাতে আমেরিকা সহ বিশ্বময় বিস্ময় ছড়ালেও ইসরাইলে চলছে ফুর্তি-নৃত্যের ঢেউ।   

১৩ইমার্চ মঙ্গলবার দুপুরে টিলারসন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটা ফোন কল পেয়েছেন।তাঁকে বহিস্কার করার তিন ঘণ্টারও বেশী সময় পর ওয়াশিংটন পোষ্টই প্রথম এই সংবাদ করেছে।যদিও এর আগেই প্রেসিডেণ্ট টুইট করে নিজেই জনসমক্ষে তার ক্ষমতা প্রকাশ করেছেন।জানিয়ে দিয়েছেন তিনি প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দু’পদে  পরিবর্তন এনেছেন।

টিলারসন ছিলেন আফ্রিকা সফরে।সেখানেই তিনি জানলেন তাকে দায়িত্বচ্যুত করা হয়েছে।বিষয়টি সব দিক থেকেই বিস্ময়ের।গত সপ্তাহে উত্তর কোরিয়ার নেতার দাওয়াত নিয়েছেন প্রেসিডেণ্ট সামিটে অংশ নিতে।এই অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেক্রেটারী অব ষ্টেট কিছুই জানেন না।তাকে জানানো হয়নি।তাই সংশয় দেখা দিয়েছে,ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত নিয়ে।তিনি কি বাহিরের সূতার টানেই আমেরিকার ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘাড় ভেঙ্গে চলেছেন? ট্রাম্পের টুইটের হুবুহুঃ

Mike Pompeo, Director of the CIA, will become our new Secretary of State. He will do a fantastic job! Thank you to Rex Tillerson for his service! Gina Haspel will become the new Director of the CIA, and the first woman so chosen. Congratulations to all!

5:44 AM - 13 Mar 2018

এদিকে আমেরিকার পররাষ্ট্রবিষয়ের কুটনৈতিক তৎপরতায় পেশাদার কূটনীতিকদের সততা এবং মর্যাদাবোধ, দেশবাসী  জনগণের মহানুভব কার্যক্রমের প্রশংসা এবং বিশেষভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম মেট্রিসের সাথে ভাবে মিল সহ পারস্পরিক কূটনৈতিক সমর্থনের কথা বলিষ্টতার সাথে স্বীকার করেছেন পদচ্যুত টিলারসন।লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো তিনি সামান্যও প্রশংসা করেননি ট্রাম্প বা তাঁর পলিসির।তিনি ৩১মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাঁর ডেপুটি সেক্রেটারি জন সুলিভান নিয়মানুসারে এবং যর্থার্থতায় দায়িত্ব হস্তান্তর নিশ্চিত করেই তিনি দায়মুক্ত হবেন।রাশিয়ান হস্তক্ষেপ সম্পর্কে তিনি সুস্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন।

টিলারসনের সাথে ট্রাম্পের মতবিরোধ প্রথম থেকেই শোনা যাচ্ছিলো।কয়েক মাস আগেই টিলারসনকে অপসারণের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিলো।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছেন বিতর্ক কাঁধে নিয়ে।ন্যাটো এবং রাশিয়া,ইরান ও উত্তর কোরিয়া,মুসলিম রাষ্ট্র ও স্পেনিশ জাতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের উপায় নিয়েই মূলতঃ মতান্তরের সূচনা।এছাড়া সৌদি আরবের সঙ্গে কাতারের উত্তেজনাময় সম্পর্ক,মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলকে সরাসরি আক্রমণাত্নক পৃষ্টপোষকতা,আফগানিস্তান ও সিরিয়ার ভবিষ্যত প্রশ্নেও গভীর মতবিরোধ চলে আসার কপ্তহা নানাভাবে প্রকশা হয়ে এসেছে।

অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিতে অভিজ্ঞতাশুণ্য একজন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।আমেরিকায় উগ্র জাতিয়তাবাদী চেতনা উস্কে দিয়ে তিনি আমেরিকার সামাজিক ঐতিহ্যগত মূল্যবোধে যে আঘাত এনেছেন,তাকে নিজের আকাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক পথ বলেই গ্রহন করেছেন বলে অনেকের ধারণা।সেনেটে ডেমক্র্যাটিক পার্টির সদস্য সংখ্যা ৪৯।আর মাত্র দুটা সদস্য হলেই অর্থাৎ ৫১হলেই তারা সংখ্যাগরিষ্ট।আজ পেনসেল্ভেনিয়ায় নির্বাচনে কংগ্রেস জিতলো।অর্থাৎ রিপাবলিকান আসনটি ১৫বছর দখলে রাখার পর ট্রাম্পের ইমেজ এবং নীতির প্রভাবে আসন হারালো।নভেম্বর পর্যন্ত আরো অনেক আসন জিতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাট পার্টি।

সম্ভবতঃকংগ্রেসেও রিপাবলিকান পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে।যেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির দায় নিতে হবে ট্রাম্পকে।রিপাবলিকানরা ইচ্ছে করলেও ট্রাম্পের বিরোধীতা করতে পারছেনা এবং কষ্টের সাথে হজম করতে হচ্ছে এই অরাজনৈতিক বেপরোয়া স্বৈরাচারকে।ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও তা হারাতে হচ্ছে কেবল একজনের স্বেচ্ছাচারিতার ফলে।

আমেরিকায় রিপাবলিকান অথবা ডেমোক্র্যাট পার্টির মেজরিটি বা মাইনরিটিতে তেমন কিছুই যায় আসেনা।বড় ভয়ংকর বিষয়টি হলো উগ্রডানপন্থী সাধা বর্ণবাদী ধারা উস্কে দিয়ে যে অস্থিরতা ছড়াচ্ছেন,তাতে আভ্যন্তরীণ সংঘাত বিস্তৃতির দাবানলের উত্থান ঘটেছে।বর্ণবাদী সংঘাত কোন যুক্তিতেই কারো জন্যে আনন্দের নয়।ট্রাম্প প্রশাসন ট্রাম্পের নামে হলেও ব্যবসায়ী ক্ষ্যাপা ক্ষমতাবান এই প্রেসিডেণ্ট দেশটাকে দুনিয়ার প্রধানশক্তি থেকে তলানির তলদেশে নিয়ে চলেছেন।এই নির্গমণ পথ হতে যত তাড়াতাড়ি রক্ষা পাওয়া যায়,ততই নিরাপদ।

ট্রাম্প নিশ্চয়ই আরও অনেককে এভাবেই দায়িত্বচ্যুত করবেন।সহসাই করবেন।যে ধারা আমেরিকার রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে বিপর্যস্থ করে তুলতে পারে।বিশ্লেষকরা ভাবছেন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের  অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাদের ভেতর ভালো যোগসাজশ রয়েছে যাতে জাতীয় স্বার্থে তারা দলীয় সংকীর্ণতাকে অতিক্রম করবেন।সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করবেন।উগ্রবর্ণবাদী এবং ষড়যন্ত্রকারী শক্তি বনাম আমেরিকার বিজ্ঞ দেশপ্রেমিকদের সচেতনতা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রনে টেনে রাখবে।দেশের ভেতরে বর্ণবাদীদেরকে সশস্ত্র করার পথ থেকে ফিরে দাঁড়াবে।  

এদিকে রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন,সিআইএ ডাইরেক্টরের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্বময় আমেরিকার স্বার্থরক্ষায় ট্রাম্পের নেয়া উগ্রপন্থাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।ইরান এবং উত্তর কোরিয়ার হুমকি সম্পর্কিত ঘটনার ভেতরের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তার মত আর কেউ জানেননা। পাম্পিউ জটিল ইন্টেলিজেন্স ইস্যুতে এবং সাম্প্রতিক দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সাথে উত্তর কোরিয়ার নেতাদের সাথে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে ওভাল অফিসে সবসময় ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেণ্টের সাথে পরামর্শ করেছেন।

আমেরিকার ইতিহাসে বিরল বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন ট্রাম্প।ইতিহাসে নাম লিখালেন তিনি ভিন্ন ভাবে।অতীতের রেকর্ডের বাইরে নিজের নাম আসছে তাঁর।বর্তমান বিশ্বপরিস্থিতিতে উগ্রবর্ণবাদে আমেরিকার কল্যাণ চিন্তায় তিনি সুফল দেখাতে পারলে তাকে স্বাগতঃ জানানো হবে।আর প্রচলিত চিন্তার সাথে সংঘাতে জড়িয়ে এইবর্ণবাদী কৌশল কাউকে সাময়িক পরচিতি দিলেও মানব সভ্যতার নিরন্তর ধারায় আমেরিকার নেতা কি দাপট বজায় রাখতে পারবেন?নাকি গোপনে আপোষ করে মাথা নীচু করবেন?

আমেরিকান নাগরিকরা দেশকে বিশ্বনেতার মর্যাদায় আশা করে কুটনৈতিক বন্ধুত্ব বজায় রেখে,মিত্রশক্তির সাথে সংঘাতে গিয়ে প্রতিযোগীদের শক্তি বাড়িয়ে নয়।বাহিরে আমেরিকা নেতৃত্ব রক্ষার ঝুঁকির মধ্যে আভ্যন্তরীণ একতার মেরুদন্ডে আঘাত করে করে কি জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ হবে?নাকি নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ করার চেষ্টা হচ্ছে এটা?আমেরিকার সমৃদ্ধির পক্ষে আমেরিকান জনগণ।         

 

(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতাযোদ্ধা)।


Who is Architect of Higher Developing Bangladesh

শনিবার, ১০ মার্চ ২০১৮

Mohammad Ahsanul Karim ||

In response to a recent article in the “Bangladesh Insider” which states that Professor Graham Allison, Professor Arthur Applbaum and Professor Christopher Avery of Harvard Kennedy School (HKS) of Government have produced `a number of research studies’ on Prime Minister Sheikh Hasina of Bangladesh for her policies and programs regarding miracle development of Bangladesh. I am expressing my thanks to Learned Professors of HKS for their interest and research studies.

Paddy and vegetable grow faster as its life are seasonal and give one seasonal output. But tree whose life is over hundred years, needs about a decade years growing to give output in many season-years. Usually a set of structures and institutions of larger state remain effective over hundred years. So minimum a decade takes to re-build those and also a decade may need for expected full output.  

Building of ‘Higher Developing Bangladesh’ has been stared from in 1982.  Here I shall inform and complement to Learned Professors of HKS the chorological initiatives and reform events including the thoughts and programs for enriching their research studies. Bangladesh was familiar as a ‘Global Beggar Basket’ in 1970s. Over 69% people were under poverty. Per capita GDP growth rate was about 0.9% (=3.4-2.5) in 1970s. Same is now about 6.0% (=7.3-1.3) in 2017 and 22.5% people are under poverty. None would remain hardcore poor after couples of years. Now Bangladesh is a ‘Global Role-Model’.

Most global economies suffered from recession during 2008-13, but Bangladesh maintained over 6.0% growth rate. Global and national including UN agencies and institutions have mentioned it miracle/wonder. Based on data of 2010s, those agencies and institutions credited it to PM Sheikh Hasina as she is the head of Government during the time. If the thoughts-programs-initiatives, implementing- maturity time for impacts, and output of reforms are considered, virtually her role is still very less in relation to prior-others for appreciation.

Higher Developing Bangladesh is generating from my thoughts, reform programs and initiatives (Progressive Democratic Reform Programs. 1985 and Progressive Democracy, 1991, Points Regarding Amendment, 2010 and Statement Submit to Supreme Court, 2011). A unison grew amid the Leaders of four parties (JP, BNP, AL & JSD) about the programs also for joint-lettering. So Governments changed but same set of reforms are continued on my reminding.

Bangladesh inherited autocratic state area infrastructure (SAI) institution and autocratic defense structure institution in 1947 and 1971 respectively; and also crafted autocratic government system after Independence. Increasing autocratic governance and decreasing citizen rights, therefore, were self-generating from those structures-institutions. Without democratic reforms of those (SAI institution, defense structure and government system), Bangladesh was a poor and various crises country.

Successfully I could able to re-structure the bottom two-layers of SAI institution in 1982-84. President Ershad did not agree to reduce his autocratic power even after constitutional approval of Military Rule. So I could not to re-structure Bangladesh into 9/10 divisions, the most vital part of the SAI institution in building “Higher Growing Democratic Bangladesh”. As a result, country changed from autocratic to growing anarchic/terrorist state after 1984.

During severe political instability in 1988-90, there was another possibility of Coup. As president agreed, I could successfully able to upgraded Regional Cantonments from 5 (five) to 8 (eight) (one remain quasi-regional as was without GoC). Afterwards, new defense structure ensures self-cheek and made difficult for Coup. My proposal is defense structure shall be based on 9 Regional Cantonments with 2 personnel per 1000 people for internal defense/security. It is neither PM Hasina’s theory nor her programs and initiatives.

The SAI institution was loose after creating 64 districts maintaining earlier 4 divisions. For this reason, Ershad-Government also faced increasing budget crisis for deceasing revenue collection even by raising tax-rates. As a result, Government fell for the people’s up-rise in end of 1990 after two consecutive severe flood.  I could not able to enacting Bicameral Parliament for want of time and opportunity, but become succeed in bringing a constitution amendment of “Maximum two terms president system” (9th Amenmend).

Next, BNP formed Government with PM Khaleda Zia. Of basic reform programs, she implemented income tax-structure from long prevailing 0-50% rates to democratic 0-25% (1992); and also two new divisions (1995) out of 5/6 ones. Both made the market economy gradually more effective and added over 2.0% Growth rate. Though rate become about half, but those reforms also raised collection of income tax-revenue from 1.1% to now 3.0% of the GDP by 2003/04. It is also neither PM Hasina’s theory nor her initiative.

Afterwards AL formed Government headed also by heart political leader PM Sk. Hasina with my little help. So she re-divided Village-Union into 9 Wards (that added only about 0.3% to prevailing growth rate) and Old-age Allowance in 1997, the first part of my programs for reduction poverty. But did not create remaining 3/4 divisions to add 3.0% growth rate for keeping her autocratic power. Next BNP Government did not brought any changes as was not fell in severe crisis in the tenure. I utilized the severe crises situation or benefit opportunities of Government in reforming.

AL again formed Government in 2009. PM Hasina created only Rangpur Division (2010) as no easy and least cost alternative to solve the regular mass famine. It did not add 1.0% growth rate as her negative 7th National Pay Scale (NPS). Government agencies become more corrupted as she deliberately delayed to revise NPS or allowance as per time. She also knows if NPS as like as India-Pakistan is implemented as per my advice, model and yearly revision policy, 3.0% growth rate would be added immediately for a couple decades.

AL Government also would not face severe political crises for a decade if enacted the CTG system during election in the 15th Anmd for which she fought and established. It has also national consensus and Supreme Court’s direction. So I advised the following ‘time-needed reforms’ on necessity in continuation of earlier implemented ones (also mentioned in my CV) in a Seminar on February 26, 2012 before coming to USA:

 

  1. Creation of Mymensingh and Camilla Divisions;
  2. Upgrading Sylhet Cantonment into a regional one and founding another;
  3. Creation of Bicameral Parliament and a followable Model;
  4. Care Taker Government (CTG) from the Second House and a followable Model;

Govt. completed Upgradation of the 8th regional (Sylhet) Cantonment by creating GoC in 2013; and for her interest, immediately founded permanent another in Barisal with a temporary the 9th (Ramu) one for strengthening the self-check against a Coup. During a student-mov against VAT on academic fees, Government withdrew it and committed for the Mymensingh and Comilla divisions in Feb, 2015 on my reminder. But she only created only the Mymensingh division in Oct, 2015.

As it may add 20.0m votes to AL in coming election, PM Hasina implemented 2nd part of my poverty elimination program, Universal Child Allowances (2017) upon my reminders. Knowing that it shall also add 1.3% growth rate, she did not create rest 2 divisions over 3 years as it shall reduce her despotic power and shall ensure better governance and citizen rights. So, poverty reduction is neither PM Hasina’s theory nor her initiative.

After discussing several times about my reform programs in late 1980s, she also committed to enact for Bicameral Parliament if AL Government earn with necessary majority. She added my four advice in the 15th Amnd, but dishonored her commitment of Bicameral Parliament for autocratic power. As the political crisis is increasing, she may create rest Mymensingh and Comilla divisions. But it may reduce, but may not be sufficient against the growing political crisis. State life is not economic only, but also social, cultural and political.

Without knowing the chronological time of reforms, maturity time for impact, output of those, etc. evaluating PM Hasina based on current data as smart statesman would be “incorrect” where she had virtually no role. The actual reality is that she tries for increasing her despotic and mal-practices power even by the cost democracy and development for the nation. Another example would clear it further.  

As new 8th division (Mymensingh) would increase about 0.8% to running growth rate, she has made 8th NPS institution more negative (0.3%). Consequently, government financed agencies including education sector are becoming more ineffective and corrupted. The intention is to weaken the morality and impact of gentles-educates for creating better environment of marshal-men and corrupted political leaders.

After dividing Bangladesh into planned 10 divisions, the sustainable growth rate shall be added 1.3% by five years. Optimal National Pay-scales shall add 3.0% growth rate immediately. Afterward Unitary Bangladesh based on 10 divisions would remain higher growing as Japan, S.Korea; and future federal Bangladesh based on10 provinces would be also as W.Germaney and Malaysia. Bicameral Parliament shall ensure political stability, democracy, citizen rights and better governance. After completing DID Model, Bangladesh would be a ‘Global Role-Model of “Higher Developing Democratic Country”.

List of implemented programs of mine has become larger day by day since 1982. Now it has become unbelievable that how a person brought so many basic reforms without state-authority! However, higher developing Bangladesh is not only generated from my thoughts, reform programs and initiatives, but also agreements and actions of Ex-President H M Ershad, Ex-PM Khaleda Zia and PM Sheikh Hasina. Ex-President Ershad’s reforms generated less growth rate (0.8%), but were the most difficult and fundamental parts of the DID model. PM Hasina (1.0%) would surpass Ex-PM Khaleda (1.8%), if she created rest two divisions.

PM Hasina would surpass Ex-President H M Ershad if she implemented Bicameral Parliament. If the rest two divisions are implemented which PM Hasina committed over three years with Bicameral Parliament, those reforms shall institutionalize developing democracy, governances, human rights, public security as well as lowering terrorism and corruption. Human laws and enforcement institutions are not as neutral, impersonal, powerful and continuous as structural institutional of the state.

Higher Developing Bangladesh is not output of 3 years but over 33 years of my constant and repeated initiatives and reminders. I had to suffer a lot also. Without recognizing my thoughts, reform programs and initiatives as well as actions of Ex-President H M Ershad and Ex-PM Khaleda, only recognizing PM Hasina as “The Architect” of Sustainable Higher Developing Democratic Bangladesh” shall be bogus, ridiculous, incorrect, injustice, nepotism or favoritism for Learned Professors of HKS and UN Agencies. I have trust on them.

================================================= 
*Mohammad Ahsanul Karim is conceptual initiator of DID (Democratic Institutional Development) Model and the incomplete basic democratic structural and institutional reform programs in Bangladesh since 1982. He is author of the books, Progressive Democracy (1991) and Points of Constitution Amendment (2011) and few articles on democratic reforms. He is also Initiator of Democratic Political Economic Thoughts against Capitalist and Socialist Schools (contact: এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।  ).


সেই সব না পাওয়ার দিনগুলো

মঙ্গলবার, ০৬ মার্চ ২০১৮

অনেক জল্পনা কল্পনা শেষে একবার আমরা তিন বোন মনস্থির করলাম এবার সমুদ্র দেখতে যাবই যাব। সঙ্গে যাবে আর একটি প্রিয় পরিবার। সেই মোতাবেক তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই আমি আর নীলা লেগে পড়লাম বাজেট প্রস্তুতিতে। কবে কোন বাসে যাব, কয়টায় যাব, কয়দিন থাকব, কোন বেলায় কী খাব আর সঙ্গে কী কী শুকনো খাবার নেব, সবকিছুর একটা খসড়া তালিকা তৈরি করে ফেললাম। শুধু কী তাই, সমুদ্র দেখতে যাওয়া বলে কথা, কোন সময়ে কোন ড্রেস পরব, কী পরে সমুদ্রে নামব, আর সানগ্লাস পরে ছবি না তুললে তো সমুদ্র দর্শনই বৃথা। অতীতে যারা গেছেন তাদের সবাইকে তো এমনই দেখেছি। অতএব আড়াই জোড়া সানগ্লাস কিনতে হবে সেই সিদ্ধান্তটাও পাকাপাকি হলো। সুতরাং এর জন্য বলাকা সিনেমা হলের সামনের ফুটপাতে একবার ঢুঁ মারতে হবে। তা ছাড়া, ওখানে গিয়ে আরও কোথায় কোথায় যাব সেসবেরও একটা লিস্ট করে ফেললাম। বলা যায় কল্পনা বিলাসেই আমাদের প্রাথমিক সমুদ্র দর্শন হয়ে গেল। শুনতে বাড়াবাড়ি মনে হলেও এটাই সত্যি আমরা তিন বোন তখন আনন্দ আবেগে কল্পনায় ভর করে সমুদ্র স্নানে পর্যন্ত নেমে পড়েছিলাম।

Picture

যত দূর মনে পড়ে আমি আর নীলা মিলে অনেক যোগ-বিয়োগ গুণ-ভাগ করে পনেরো হাজার টাকার একটা জুতসই বাজেট প্রণয়ন করেছিলাম। যাতে আধা আধি বিনিয়োগ করলে দুই পরিবারের কারওরই এটা মনে না হয় অর্থের অপপ্রয়োগ হচ্ছে। কারণ আমার সীমিত আয়সম্পন্ন আব্বার বাৎসরিক পারিবারিক বাজেটে ভ্রমণ বিলাসিতার জন্য আলাদা করে কখনো এক টাকাও বরাদ্দ থাকত না। এটা খুব সহজেই অনুমেয় যে, আব্বাকে ম্যানেজ করে সমুদ্র দেখতে গিয়ে এতগুলো টাকা সমুদ্র দর্শনের নামে সমুদ্রের পানিতে ঢেলে আসা আমাদের জন্য বেশ কঠিন ছিল। তাই তিন বোন মিলে আগেই আব্বাকে সমুদ্রের সৌন্দর্য বর্ণনা করে একরকম জোরপূর্বক রাজি করিয়েছিলাম।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বাবা-মা ও ছোট বোনের সঙ্গে লেখিকাকক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বাবা-মা ও ছোট বোনের সঙ্গে লেখিকা

ঠিক সেদিনের জন্য মনে হয়েছিল, আমাদের রাত ও দিনের সময়সীমা ২৪ ঘণ্টার জায়গায় কেউ ৭২ ঘণ্টা করে দিয়েছে। কারণ আমরা তিন বোন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম আগামী দিনের জন্য। আগামী দিনই টিকিট কাটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। যথারীতি প্রিয় পরিবার থেকে সকাল সকাল ফোন এল এবং আমরা যে যার অবস্থান থেকে সবাই মুহূর্তের মধ্যে একত্রিত হয়ে ওপাশের কথা শোনার প্রয়াসে উদ্‌গ্রীব হয়ে রইলাম। কুশলাদি বিনিময় শেষে ক্ষণকালের মধ্যেই জানতে পারলাম, ট্যুরটা তারা বাতিল করেছেন। নীলা সেই বাজেটের খাতাটা আমাদের জরাজীর্ণ দুই কামরার সংসার, মিরপুরের বাসার বেডের ওপর ছুড়ে ফেলে বলেছিল—‘আর কোনো দিন প্ল্যান করব না, যা করার তাৎক্ষণিক করব’। আমি ভূগোল বিভাগে পড়ার সুবাদে একবার সমুদ্র দর্শন করার কারণে দ্বিতীয়বার সমুদ্র দর্শন করতে পারব না ভেবে যে কষ্ট কম পেয়েছিলাম তা কিন্তু নয়। আমার কষ্ট আরও বেশি লেগেছিল নীলা আর নীপা মনির স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার কারণে। অর্থই যে অনর্থের মূল কারণ সেদিন আমি তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম। আর নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলাম কোনো উচ্চবাচ্য না করে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই শুনতে পেলাম, আমাদের সেই প্রিয় পরিবার সমুদ্র দর্শন করে এসেছেন। সত্যি বলছি এটা শুনে আমার একটুও খারাপ লাগেনি, তবে প্রথমবারের মতো খারাপ লেগেছিল নিজেদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার কথা ভেবে।
মাঝখানে কেটে গেছে প্রায় আটটা বছর। শেষ সময়ে অস্ট্রেলিয়া আসার আগে নীলার কথা মাথায় রেখে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্তে আব্বা-মা আর নীপা মনিকে নিয়ে হেঁটে এসেছি সমুদ্রের বালুকাবেলায়। সমুদ্রজলে স্নান করে ভাসিয়ে দিয়ে এসেছি পুরোনো শোকগাথা। তারপরও হৃদয়ের গহিনে একটা ছোট্ট দুঃখবোধ রয়েই গিয়েছিল নীলার জন্য। সময়ের ব্যবধানে পট পরিবর্তনের ধারায় সবচেয়ে শৌখিন নীলাকে সঙ্গে নিতে পারিনি, কারণ স্বামী আর একমাত্র মেয়েকে নিয়ে সে থাকে থাইল্যান্ডে। বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত দেখতে না পাওয়ার সে দিনের সেই দুঃখ বোধের পুরস্কার হিসেবে থাইল্যান্ডের বৈচিত্র্যময় বিচিত্র সব সমুদ্র সৈকত দর্শন করে বেড়াচ্ছে সময়ে-অসময়ে, কখনো বা ভালো লাগার অবসরে।
থাইল্যান্ডের ফুকেটে লেখিকার বোন নীলা তার স্বামী ও মেয়ের সাথেথাইল্যান্ডের ফুকেটে লেখিকার বোন নীলা তার স্বামী ও মেয়ের সাথে

ঠিক একইভাবে বলা যায় আমিও এখন স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে ঘর পেতেছি সাগরের মধ্যখানে। গজফোর্ডে আমার বাসার চারপাশে এত সমুদ্র যে, কোনটা রেখে কোনটায় যাব তা নির্বাচন করাই দুষ্কর। তার চেয়ে বড় কথা, হাতের মুঠোয় পাওয়া সহজলভ্য সাগর এখন আর আমাকে আগের মতো টানে না। তবে খুব আশ্চর্যের ব্যাপার হলেও সত্যি, আমার মেয়ে আমাদের মতো সাগর দেখার স্বপ্ন দেখে না, সে স্বপ্ন দেখে মহাকাশ দেখার। আমাকে বলে—‘মা, জানো এলিয়েনরা চাঁদে থাকে। ওখানে অনেক স্টার আছে, আমি ওখানে যাব।’ তাজরীর মুখে প্রথম যেদিন এটা শুনলাম আমি ভাবলাম ভুল কিছু বলছে, দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করায় একই কথা বলল। আমি অবাক হয়ে ওর কাছে জানতে চাইলাম—‘কীসে দেখেছ মা এগুলো।’ সে বলল ‘কার্টুনে’। সে যেতে পারুক আর না পারুক আমি তার ইচ্ছাকে সম্মান করি। আমার আর আমার মেয়ের ইচ্ছেগুলোর মধ্যে কত ফারাক মাঝে মাঝে তাই ভাবি! আমি জানি আমার এই লেখাগুলো একদিন তাজরী পড়বে আর চোখ বাঁকিয়ে বলবে—‘ইটস রিয়েলি ইন্টারেস্টিং, বাজেট ফর ট্রাভেলিং।’
সেই বাজেট তৈরির খাতাটা আজও হয়তো ঘর ঘাঁটলে নীপা মনির পুরোনো বইয়ের স্তূপে পাওয়া যাবে। শুধু ফিরে পাওয়া যাবে না আমাদের সেই সব দিনরাত্রির রোমাঞ্চকর অনুভূতি। তবে এটা মানতেই হবে সেই সব না পাওয়ার দিনগুলো আমাদের জীবনে আছে বলেই আজ আমাদের ফেলে আসা অদূর অতীতের স্মৃতি ভান্ডার এত সমৃদ্ধ!

লাভলী ইয়াসমীন: গজফোর্ড, নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া।


জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস = প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

শুক্রবার, ০২ মার্চ ২০১৮

আপনাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই। শুরুতেই ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। শহীদ দিবস থেকে অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে আপনার যে অবদান তা আমরা ভুলিনি। কানাডাপ্রবাসী দুজন বাংলাদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত উদ্যোগকে সম্মান দেখিয়ে সেটিকে আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছে দিয়েছিলেন আপনি। আপনার প্রচেষ্টার প্রতিফলনে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। পরের বছর থেকে দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালন করা হচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজ আপনাকে লিখছি বড় বেদনা নিয়ে। এই বেদনার জায়গা আবারও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। জাতিসংঘের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইভেন্টের বর্ণনার কোথাও বাংলা, ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের কথা উল্লেখ নেই।
দ্রষ্টব্য:
বিষয়টি আমার চোখে পড়লে গত ৪ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের ওয়েবপাতায় গিয়ে তাদের একটি ইমেইল করি। তাদের জানাই, জাতিসংঘের অফিশিয়াল ওয়েবপাতার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইভেন্টের বর্ণনার কোথাও বাংলা, ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের কথা উল্লেখ না থাকা আমাদের ব্যথিত করেছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পূর্ব প্রেক্ষাপট অংশে বাংলা, ভাষা আন্দোলন, শহীদ দিবস ও বাংলাদেশের বিষয়গুলো যুক্ত করার অনুরোধ জানাই।
জাতিসংঘকে পাঠানো ইমেইলের উত্তর পাই পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি। জাতিসংঘের ইংরেজি ওয়েব টিম ইমেইলে জানায়, আমাদের ভাষা আন্দোলন ও শহীদ দিবসকে সম্মানপূর্বক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের বিষয়ে জাতিসংঘ এর কোনো নির্ভরযোগ্য লিংক যেন তাদের পাঠাই। তারা তাদের ইভেন্টের পাতায় তথ্য যোগ করে দেবেন। অন্ধকারের মাঝে একটা আলোর খোঁজ পেলাম মনে হলো। শুরু হলো আমার ভাষার জন্য ডিজিটাল সংগ্রাম। সারা রাত নির্ঘুম কাটিয়েও কোনো নির্ভরযোগ্য লিংক খুঁজে পেলাম না। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার হলো, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও এর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে যে লিংকগুলো আছে একমাত্র উইকিপিডিয়া ছাড়া তা কেবল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশিদের পরিমণ্ডলে আবদ্ধ।
উল্লেখ্য, উইকিপিডিয়াকে তো নির্ভরযোগ্য উৎস বিবেচনা করা হয় না।

Picture
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি জানেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত মূলত ইউনেসকোর। কেবল জাতিসংঘ নয়, ইউনেসকোর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইভেন্টের ওয়েব পাতায়ও বাংলা, ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার বিষয়ের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করি।

ইউনেসকোর ক্যাটাগরি ২–এর যে পাতায় ইনস্টিটিউট হিসেবে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে লেখা আছে সে পাতাতেও ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষার আন্দোলন, ভাষা শহীদদের কথা উল্লেখ নেই।

এমনকি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৬ ও ২০১৭–এর ইউনেসকোর মহাপরিচালক ইরিনা বুকোভার বাণীতে ১৯৫২ সালের বাংলা ভাষার আন্দোলন, ভাষা শহীদের স্মরণের কথা অনুপস্থিত।
তাদের ওয়েবপাতা খুঁজে ২০০০ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের ওপর ৩৪ পাতার একটি রিপোর্ট পাই। যেখানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইতিহাস বর্ণনার কোথাও বাংলা, ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ নেই! ২০০০ সালে প্যারিসে ইউনেসকোর ও ফ্রান্সের বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে বাংলা গান ও নাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয় এবং ২০০১ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়, এ দুটি বিষয় কেবল উল্লেখ আছে।
পাশাপাশি আমি সুইজারল্যান্ডের জেনেভার বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের রাষ্ট্রদূতকে জাতিসংঘের ইভেন্ট পাতায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অনুপস্থিতির বিষয়টি ইমেইলে জানাই। স্থায়ী মিশনের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে আলাপ হলে তিনি জানান রাষ্ট্রদূত ইমেইল পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন এবং তিনি ২১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে এ বিষয়টি তুলে ধরবেন বলে জানান। এর মাঝেই ক্ষীণ আশা নিয়ে উইকিপিডিয়াসহ দুটি লিংক জাতিসংঘের ঠিকানায় ইমেইল পাঠাই। যেহেতু সূত্র দুটি জাতিসংঘের নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র নয় তাই তারা কোনো জবাব দেননি।কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। ছবি প্রথম আলোকেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
শুরু থেকেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। তারা কোনো নির্ভরযোগ্য লিংক খুঁজে পেলে তাদের পাঠানোর অনুরোধ জানাই। এ বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ করি। দুঃখজনক হলেও সত্যি, সাত দিন অপেক্ষা করেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটকে পাঠানো ইমেইলের কোনো জবাব পাইনি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ওয়েবপাতা খুঁজে জাতিসংঘে পাঠানোর মতো নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওয়েবসাইটের প্রথম পাতায় পৃথিবীর বিকাশমান ও বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় গবেষণা করার জন্য ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপনের বিষয়ে বলা থাকলেও বাংলা ভাষা আন্দোলন ও ভাষা শহীদদের অবদানের বিষয়টির অনুপস্থিতি আমাকে অবাক করে। ওয়েবপাতার পূর্ব কথা অংশের পাঁচটি উপভাগের ভাষা আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অংশ ব্যতীত অন্য তিনটি পাতা খালি। সে তিনটি পাতা হলো ভাষা শহীদ, ভাষাসৈনিক রফিক ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যেখানে আমাদের দেশের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের ওয়েবপাতায় ভাষাশহীদ, ভাষাসৈনিক রফিক ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অংশে কোনো তথ্য নেই সেখানে জাতিসংঘের পাতায় তথ্য না থাকা কোনো বড় বিষয় নয়। আমাদের নিজেদের ঔদাসীন্য দেখে এবার আরও বেশি আহত হলাম। জাতিসংঘকে পাঠানো ইমেইলের উত্তর পেয়ে যতটুকু আশান্বিত হয়েছিলাম গত কয়েক দিনের গবেষণায় আশার আলোটা ক্রমশ ক্ষীণ হতে লাগল।
এবার ফেসবুকের মাধ্যমে সকলের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা চালালাম। কেউ কোনো নির্ভরযোগ্য লিংক খুঁজে পেলে তাদের পাঠানোর অনুরোধ জানাই এবং এ বিষয়ে তাদের পরামর্শ চাই। বিষয়টি সবাইকে কম বেশি নাড়া দেয়। প্রত্যেকে তার নিজস্ব জায়গা থেকে পরামর্শ দেন। প্রথম আলোর জ্যৈষ্ঠ প্রতিবেদক মানসুরা হোসাইন জাতিসংঘের মহাসচিব কর্তৃক ২০০১ সালের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি যুক্ত করে একটি মেইল করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পড়ে একটি বড় অসংগতি লক্ষ্য করি। একটি ইংরেজি চিঠিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ দুটিকে রোমান হরফে বাংলায় লেখা হয়েছে। শব্দ দুটি হলো ‘শহীদ দিবস’। আমার অনুমান যদি ভুল না হয়ে থাকে, ২০০০ সালের পর বাংলাদেশের যে নতুন প্রজন্ম আমরা পেয়েছি তাদের কাছেই ‘শহীদ দিবস’ শব্দ দুটি বেশ অপরিচিত। কারণ ২০০০ সালের পর থেকে শহীদ দিবস পালন করা হয়ে আসছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে। যেখানে বাংলা ভাষীদের কাছেই শহীদ দিবস ক্রমশ অপরিচিত হয়ে যাচ্ছে, সেখানে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে রোমান হরফে লেখা ‘শহীদ দিবস’ শব্দ দুটি কতখানি তাৎপর্য বহন করে তা সহজেই অনুমেয়। বিষয়টি ইংরেজিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ইউনেসকোকে (প্রথম ইমেইল) ও জাতিসংঘকে (তৃতীয়বারের মতো) ইমেইল করি। সঙ্গে ২০০১ সালের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি যুক্ত করে দিই। ১৪ ফেব্রুয়ারি জার্মান সময় রাত ১০টা ২২ মিনিটে জাতিসংঘ ওয়েব টিম ইমেইলের মাধ্যমে ধন্যবাদসহ আমাকে অবহিত করে যে, জাতিসংঘের অফিশিয়াল ওয়েবপাতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ইভেন্টের বর্ণনার বাংলা ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার বিষয়টি যোগ করা হয়েছে।
যোগ করা ওই তথ্যের অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, ‘২১ ফেব্রুয়ারি, এই তারিখটি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন দিবসের সঙ্গে মিল রেখে নির্বাচন করা হয়েছিল, যেটি এই রেজ্যুলেশনের অন্যতম সহপৃষ্ঠপোষক। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালের রেজ্যুলেশনে এই দিবসের ঘোষণাকে স্বাগত জানায়।’
জাতিসংঘ বিষয়টি যদিও সংক্ষেপে যুক্ত করেছে, তবু আমার ইমেইলকে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সঠিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন বিধায় আমি জাতিসংঘের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইমেইল করি।
এরপর ২০ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জেনেভার জাতিসংঘ দপ্তরের স্থায়ী প্রতিনিধি মো. শামীম আহসান আমাকে ইমেইল করেন। তাতে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে আমাকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, ‘জাতিসংঘের অফিশিয়াল ওয়েব পাতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিত বর্ণনায় বাংলা ভাষা, ভাষা আন্দোলন ও ভাষা দিবসের কথা যুক্ত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আপনার একক উদ্যোগ ও অবদানের কথা সব বাংলা ভাষাভাষীর জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’ ভাষার মাসে আমার জন্য এর চেয়ে বড় উপহার আর কী হতে পারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
যেভাবে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে যুক্ত হলো বাংলাদেশের নাম।
কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কোনো এক অদৃশ্য কারণে যোগ করা নতুন তথ্য জাতিসংঘের ওই ওয়েব পাতা থেকে উধাও হয়ে গেছে। জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে মাত্র একটি বাক্যে ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে এটির যোগসূত্রের কথা বলা আছে। এ বিষয়টি নিয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার প্রথম আলোতে মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস বিশ্ববাসী এখনো জানে না শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে জাতিসংঘের ওয়েব পাতায় নতুন তথ্য সংযোজনের কথা উল্লেখ ছিল। তবে এখন ওয়েব পাতায় দিবসের ইতিহাসে বাংলাদেশের কোনো নাম নেই।
আমি জাতিসংঘের ওয়েব টিমকে বিষয়টি নিয়ে জানতে আবার ইমেইল করি। তারা আমাকে ২১ ফেব্রুয়ারি জার্মান সময় রাত ৯টা ৪৩ মিনিটে জানান এ জন্য তারা দুঃখিত। গতকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা জাতিসংঘের ওয়েব পাতা থেকে বাংলাদেশ সংক্রান্ত তথ্য মুছে দিতে বলায় তারা মুছে দেন। আমার প্রশ্ন তারা বাংলাদেশের নাম যুক্ত করার পর আবার কেন মুছে দিল? একজন বাংলাদেশি হিসেবে আমি এতে মানসিক ভাবে প্রচণ্ড আহত হই।
দেখুন: জাতিসংঘের ওয়েব পাতায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, যুক্ত করেও মুছে ফেলা হলো বাংলাদেশের কথা!
একই দিনে আমি ইউনেসকো জার্মানির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পাতায় গিয়ে দেখি যে, তারা আমাদের ভাষা আন্দোলনের বিস্তারিত ইতিহাস তাদের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পাতায় তুলে ধরেছেন। যে দেশ আমাদের প্রিয় ভাষাকে সম্মান জানায়, আমাদের ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে কুণ্ঠাবোধ করেনি তাকে লাখো সালাম জানাই। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আয়োজকদের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের ওয়েব পাতায় বাংলাদেশের নাম যুক্ত করেও চার দিন পর মুছে ফেলার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমরা জাতিসংঘ ও ইউনেসকোর মূল পাতায় ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের নাম যোগ করার দাবি জানাই। এরপর আমি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে এ বিষয়ে ফোনে আলাপ করি এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য ইমেইল করি। তিনি ইমেইলের প্রাপ্তি স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে আমরা আপনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
আপনি বঙ্গবন্ধুকন্যা। আমাদের থেকে আপনার দেশপ্রেম কোনো অংশে কম নয় আমরা জানি। আমার দেশের নাম, আমার ভাষা আন্দোলনের নাম মুছে দেওয়া মানে আমার কাছে আমার পরিচয় মুছে যাওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। মা-মাতৃভাষা-মাতৃভূমি এই তিনটি শব্দ ছকে আমাদের পরিচয়গাথা। ছোটবেলা থেকে এখানে কোনো ছাড় দিতে শিখি না আমরা। এমনকি দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থাকলেও! আমরা যখন আপনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি, যখন জাতীয় পরিমণ্ডলে বাংলাকে জাতিসংঘের অফিশিয়াল ভাষা ঘোষণার দাবি তুলছি, তখন জাতিসংঘের এই প্রতিক্রিয়া আমাদের ব্যথিত করেছে।
আমরা আবার আপনার নেতৃত্বে বাংলাকে আন্তর্জাতিক আসনে তার পূর্ব গৌরব ফিরে পেতে দেখতে চাই। আজ বড় আবেগের জায়গা থেকে একজন আপন মানুষের কাছে চিঠি লিখেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আমার ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর ভাবে নেবেন। আপনিতো আমাদের মা। সন্তানের এ বেদনা নিশ্চয়ই আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করেছে। আপনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে আমার বিশ্বাস।
আপনার জন্য সব সময় শুভকামনা প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়, শান্তা তাওহিদা।

শান্তা তাওহিদা: সহকারী অধ্যাপক, যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এমএস শিক্ষার্থী, কগনিটিভ সায়েন্স টিইউ কাইজার্সলাউটার্ন, জার্মানি।


প্রবাসীদের সচেতন হতে হবে

শুক্রবার, ০২ মার্চ ২০১৮

প্রবাসে আসার মাধ্যমে শারীরিক পরিশ্রমের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মতের মানুষের সাথে বসবাস করতে হয় প্রবাসে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রকারের সংস্কৃতির দেখা মেলে। দেশ থেকে বহুদূর প্রবাস জীবন শুধুই যে কষ্টের সেটাও কিন্তু সঠিক নয়। প্রবাসে কিছু অর্জনের জন্য আসা আর সেই অর্জনে সামান্য কষ্ট হবে এটা স্বাভাবিক। তাছাড়া প্রবাস হচ্ছে ত্যাগের জীবন এবং ত্যাগীর বাস। যে যত বেশি ত্যাগ স্বীকার করতে পারবে সে তত সফল হতে পারবে। মা - বাবা, আত্মীয় স্বজন রেখে দূর প্রবাসে এসে যদি সফল হওয়া না যায় তাহলে প্রবাসে আসার সার্থকতা থাকেনা। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে প্রবাসে নিজেকে পরিচালিত করতে হয়।

বর্তমান বিশ্বে চলছে অপসংস্কৃতির জয়জয়কার। সেই অপসংস্কৃতিতে আমাদের বাংলাদেশি প্রবাসী ভাইদের মধ্যে অনেকেই কিছুটা হলেও নিজের শরীর এবং মন ভাসাচ্ছেন। ত্যাগের প্রবাস জীবনকে বিলাসিতায় পরিণত করে ফেলেছেন। অপসংস্কৃতির ছোয়ায় পথভ্রষ্ট হচ্ছেন অনেক যুবক। পরিবারকে স্বচ্ছলতা এনে দিতে প্রবাসে আসা যুবক নিজেকে খারাপ পথের পথিক বানিয়ে ফেলছেন। একাকীত্বের প্রবাসে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অন্যায় এবং ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়েছেন শত শত প্রবাসী। যার ফলে নিজের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে ফেলছেন পাশাপাশি পরিবারের আশা ভরসা নির্মূল করে দেওয়া হচ্ছে। সর্বনাশা জীবন সমাজের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। সমাজে একজন ব্যক্তি খারাপ পথের পথিক হলে তার সঙ্গী হয় সেই সমাজের আরও অনেকেই। সেই সাথে হারিয়ে যায় শত শত পরিবারের লালিত স্বপ্ন।

Picture

আমিরাতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের স্বল্প সংখ্যক প্রবাসী খারাপ পথের পথিক। প্রবাসীর প্রবাস যদি হয় সর্বনাশ তাহলে একজন প্রবাসীর সাথে পরিবারের অন্যরাও সেই সর্বনাশের ফল ভোগ করেন। সে জন্যই সন্তানকে প্রবাসে পাঠিয়ে প্রবাসীর পরিবার নিশ্চিন্তে থাকা একদম উচিৎ নয়। প্রবাসী সন্তানের জীবনযাপন সম্পর্কে তদারকি করতে হবে। বর্তমান আধুনিক যুগে দেশ থেকে প্রবাসীর তদারকি করা আহামরি কিছু নয় বরং অতীব সহজ। দিনে একবার নয় একাধিকবার যোগাযোগ করা সম্ভব। ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরপ্রবাসী সন্তানের খবর রাখা পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বলতে হয় খুবই জরুরী। মোবাইলে হাত দিয়ে টাচ করলেই খবর নেওয়া যায়। অডিও ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি প্রবাসী সন্তানের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যায়। ইন্টারনেট ব্যবহার করার জন্য শিক্ষিত হতে হবে তাও কিন্তু নয়। কেউ যদি দু একবার দেখিয়ে দেয় মোবাইল ব্যবহার করা শিখে নেওয়া যায়। তাছাড়া বর্তমানে স্বল্প খরচে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়। শুধু ইচ্ছে থাকলেই প্রবাসী সন্তানের সাথে প্রতিদিন যোগাযোগ করা সম্ভব।

মদ্যপায়ী কিছু প্রবাসীর ঘৃণিত জীবনযাপন নিজ চোখে দেখে আতঙ্কিত হয়েছি বলে এসব কথা লিখছি। কিছু যুবক প্রবাসে এসে মদ্যপানের মধ্যদিয়ে নিজ রক্তের বিনিময়ে উপার্জিত টাকা নষ্ট করে দিচ্ছে। বিয়ার নামের ড্রিংক দিয়ে তারা নেশার প্রথম শুরু করে। এমন কিছু প্রবাসী আছে বিয়ার পানে বাধা দিতে চাইলে বলে এটা এখন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। আরও বলে বিয়ার পান স্টাইল। বিয়ারের পরেই শুরু হয় ফেন্সিডিল, ইয়াবা, বিদেশী মদ। মদপান করে শুধু নিজের শারীরিক ক্ষতি করছে না; সঙ্গে পরিবারের জন্য কষ্টের কারণ হচ্ছে। প্রবাসী সন্তানকে নিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারের যে স্বপ্ন তা স্বপ্নই থেকে যায় বাস্তবতার মুখ দেখে না। রক্তের বিনিময়ে উপার্জিত টাকায় মদপান করে কিছু প্রবাসী ভাই নিজের রক্তের সাথে বেঈমানি করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। পাশাপাশি বিদেশের মাটিতে দেশের নাম খারাপ করছে। মদপান করে নিজেদের মধ্যে মারামারি করে পরিবেশ নষ্ট করছে।

বলা বাহুল্য ভিন্নদেশীয় মদ্যপায়ী ব্যক্তিদের সাথে অতিরিক্ত মাখামাখির ফলে কিছু বাংলাদেশি প্রবাসীরা নেশাখোর হচ্ছে। তবে এটাও সত্য যে, আরও কিছু বাংলাদেশি ভাই আছেন দেশ থেকেই নানান প্রকারের নেশায় আসক্ত। অনেকে অন্যদের দেখা দেখি নতুন মদপান করা শিখে মাতাল হয়ে মারামারিতে লিপ্ত হচ্ছে। মদ ব্যবসায়ীদের সাথে অনেকের বন্ধুত্ব রয়েছে যার ফলে মদপানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

২০১৪ সালের এপ্রিল মাসে বিশেষ কারণে আজমান শহরে বসবাসরত এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম। দুপুরের খাবার খেতে হয়েছিল বন্ধুর বাসায়। পরিতাপের বিষয় হলো বন্ধুর বাসায় দুপুরের খাবারের পর যে কান্ড দেখেছিলাম তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। তিন রুম বিশিষ্ট ভিলায় প্রায় ১৫ জন লোক থাকেন। আর সবাই বাংলাদেশি প্রবাসী। খাবার শেষে আমি হাত এবং প্লেট ধোঁয়ার জন্য রান্নাঘরে গিয়ে চমকে গেলাম। রান্নাঘরে বসে দুই জন বাংলাদেশি ভাই বিয়ার পান করছে। যারা আমিরাতে আছেন তারা জানেন আজমান শহর মদের জন্য আলাদা শপ আছে যা সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে এরকম ঘরে ঘরে উন্মুক্ত তা আমার জানা ছিলো না।

এসব দেখে বন্ধুকে প্রশ্ন করলাম এরকম পরিবেশে সে কিভাবে রয়েছে। উত্তরে বন্ধু বলেছিলো কোম্পানির ফ্রি ঘর তাই অন্যত্রে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গেলো কয়েকমাস পূর্বে বাসার নিচে কয়েকজন বাংলাদেশি জড়ো হওয়া দেখে এগিয়ে গেলাম। গিয়ে দেখি একজনের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে অনেক রক্ত ঝরছে। কারণ জানতে চাইলে একজন আস্তে করে বললো মদ পান করে নিজে নিজেই ব্লেইট দিয়ে শরীর কেটে ফেলছে। কোনো এক ছুটির দিনে ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম। বিকট শব্দ শুনে রান্নাঘরে গিয়ে দেখি একজন বাংলাদেশি রান্নাঘরে রাখা থালা বাসন ছুড়ে মারছে। তাকে থামাতে চাইলে আরেকজন বাঁধা দিয়ে বললো সে মদ পান করেছে আপনি থামাতে গেলে আপনাকে ও মারতে পারে। তার কথা শুনে আমি সাহস পেলাম না সামনে এগিয়ে যাওয়ার।

অল্পসংখ্যক মদ্যপায়ী প্রবাসীর জন্য সকল প্রবাসীর দুর্নাম মেনে নেওয়া যায় না। বিদেশের মাটিতে দেশের নাম খারাপ করবে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। সেজন্য পারিবারিক তদারকীর মাধ্যমে, প্রবাসী কমিউনিটির সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে মদপান থেকে সরিয়ে আনতে হবে প্রিয় জন্মভূমির প্রিয় মানুষদের। অপসংস্কৃতির কালো থাবা থেকে আমাদের ভাইদের আমরাই পারি ফিরিয়ে আনতে। দেশের সম্মান রক্ষার্থে, দেশীয় ভাইকে নেশার হাত থেকে বাঁচাতে সকল সচেতন প্রবাসীকে এগিয়ে আসতে হবে। মদ ব্যবসায়ী ভারতীয়দের সাথে অতিরিক্ত মাখামাখি বন্ধ করাতে হবে। আন্তরিকতার সাথে মদ পানের কুফল সম্পর্কে বুঝিয়ে খারাপ পথ থেকে সরিয়ে আনতে হবে।

আমাদেরকে একটি কথা ভুলে গেলে চলবে না; আমরা প্রবাসে আসছি বাবা-মা, ভাই-বোন আর স্বজনদেরকে একটু সুখ স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে। আমরা প্রবাসীরা প্রতিকুল পরিবেশে সময় অতিবাহিত করি। কুসুমাস্থিন্ন ফুলেল রাস্তায় আমাদের বিচরণ নয়। সময় থাকতে সময়ের মূল্য দিতে হবে। আজ হয়তো দেহে শক্তি আছে তাই যেভাবে ইচ্ছে সেভাবেই নিজেকে জাহির করতে পারা যায়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে হয়তো একদিন আজকের সময়কে খুব মনে আসবে কিন্তু লাভ হবে না। হয়তো এমন একদিন আসতে পারে পরগাছা হয়ে লালিত জীবন কাটাতে হবে। সেটা নিশ্চিয় ভালো দেখাবে না। তাই বর্তমান সময়কে মূল্য দিয়ে সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়ে প্রবাস জীবনকে অতিবাহিত করতে হবে।


জেনারেল বিপিনের অসত্য তথ্যে ।আবু জাফর মাহমুদ

বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

উত্তর-পূর্ব ভারতের জাতি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ভারতে শাসক শ্রেণীর মধ্যে হীনমন্যতা ১৯৪৭ সনে রাষ্ট্রগঠনের সময়কাল থেকেই,যেরকম পূর্বপাকিস্তানীদের প্রতি ছিলো পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর।আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখেছি-কেবল রাজনীতিবিদ নয়,সেনাবাহিনী সহ বেসামরিক প্রশাসন সর্বত্রই দেখা গেছে একই ধরণের বৈষম্যের বা বিদ্বেষের প্রতিফলন।জেনারেল বিপিন রাওয়াত ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদাধিকারী পেশাগত জীবনে অনেক কৃতিত্ব অর্জনকারী মেধাবি সৈনিক,যিনি পিতার পেশাগত জীবন অনুসরণ করেই শেষপর্যন্ত সেনাপ্রধানের পদে এসেছেন।তার পিতা ছিলেন সেনাবাহিনীর লেঃজেনারেল।

প্রথমেই মনে হতে পারে জেনারেল বিপিন হীনমন্যতার ক্ষুদ্র গন্ডি পেরিয়ে ভারতবর্ষের দিগন্ত ছুঁতে পারেননি। এটা তার সীমাবদ্ধতা,যদি তা কেবলমাত্র মানসিকতার বিষয় হয়ে থাকে।আর যদি সামরিক কৌশলগত একটা মনস্তাত্তিক বিতর্ক ছড়ানোর লক্ষ্যে তিনি একটা সংঘাত উস্কিয়ে থাকেন,সেটা তার পেশাগত বিষয়।এতে  আমার মন্তব্য নিস্প্রয়োজন।বাঙালি হিন্দুদের বিতাড়নের বা খেদাও শুরু করেছে অসমীয়রা ১৯৪৮সনে।

এই আভ্যন্তরীণ সংঘাত বিস্তৃতও হয়েছে ক্রমাগত।৬০এর দশকে এটা লক্ষ্যণীয় পর্যায়ে বেগবান হয়।এই সময় অসমী দাঙ্গাবাজদের আক্রমণে বাঙালিরা পশ্চিমবাংলায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।তাদেরকে বহিস্কার করা হয়েছিলো আসাম থেকে।গৌহাটির হিন্দু বাঙালিদের সব দোকানবাড়ী ওরা লুটপাট ও আগুনে পুড়েছিলো।আড়াই শত মাধ্যমিক স্কুলকে রাতারাতি অসমি মাধ্যমিক স্কুলে রূপান্তর করা হয়েছিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঘটিয়ে।

আসামিজ বা অসমীয় ভাষা হচ্ছে,উত্তর-পূর্ব ভারতীয় ইন্ডো-এরিয়ান বা ইন্দো-আর্য্য ভাষা।এই ভাষা আসাম রাজার রাজ্যসভার ভাষা ছিলো।আসামে অন্যান্য ভাষা যেমন নাগাদের ভাষা আছে।অরূণাচল প্রদেশের আগে নাম ছিলো নেফা।নেফাদের ভাষা আলাদা।এই ভাষার লোক ও আছে।বাঙালির বাঙলা ভাষা আছে।বিখ্যাত লেখক রবীন দে কিশোর গল্পের লেখক ছিলেন।তাকে আসাম ত্যাগ করতে বাধ্য করলে তিনি কলকাতা গিয়ে বসবাস করেন।অনেক লেখক কবি শিল্পী বিতাড়িত হয়েছেন কলকাতায়।

৬০দশকে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিত্ব এতো ব্যাপক হয়েছিলো যে, কে.সি.চক্রবর্তী নামক একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট যেহেতু বাঙালি ছিলেন তার বাসা ঘেরাও করে শতাধিক জঙ্গি।তারা তাকে পিটায় এবং ছুরিকাঘাতে মেরে ফেলে।ঘটনা ঘটে ৩০জুলাই ১৯৬০।ইকোনমিক উইকলি এই সংবাদ দিয়েছে।পুরো ব্রম্মপুত্র উপত্যকায় ছড়ানো হয়েছিলো এই “বংগাল খেদাও” সন্ত্রাস।এসময় প্রায় ৫লক্ষ বাঙালি পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

১৯৬০ জুলাই ৫ থেকে ১১র মধ্যে শরণার্থীদের প্রথম ব্যাচ প্রায়ই ৪হাজার জনের ছিলো।১২ থেকে ২০ জুলাই শরণার্থী আসেন ৪৪৭জন।জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে আসেন প্রায়ই ৫০হাজার শরণার্থী।দুনিয়ার ইতিহাসে এসব তথ্য আছে।উইক্লিপেডিয়াতেও আছে অনেক তথ্য।রাজনৈতিক দলের নেতাদের বানানো রাজনৈতিক মিথ্যাচারের গল্প এটা নয়।এই তথ্য কেউ আর চ্যালেঞ্জ করতে পারেননা।খুব সংক্ষেপে বিষয়টি টেনে আনলাম পাঠকদের চিন্তাশক্তির সহায়তার জন্যে।

জেনারেল বিপিন রাওয়াত ভারতের সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক।তিনি শিক্ষিত শ্রোতাদের মধ্যে তার লিখিত বক্তব্যে যখন বলেন,“ভারতের উত্তর সীমান্তের প্রতিবেশি দেশের সাহায্যে পরিকল্পিতভাবে দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে পশ্চিম দিকের প্রতিবেশি দেশ। ‘ছায়াযুদ্ধের অঙ্গ হিসেবেই সুপরিকল্পিতভাবে এমন করছে ভারতের পশ্চিম দিকের প্রতিবেশি দেশ। এতে সমর্থন জোগাচ্ছে উত্তর সীমান্তের দেশটি, যাতে ওই অঞ্চলে গোলযোগ বজায় রাখা যায়” তখন নিশ্চয়ই অন্যান্যরা বিরক্ত হয়েছেন সেনাপ্রধানের মতো উচ্চপদমর্যাদার লোক,যিনি নাকি এম এ পাশ করেছেন,তিনি এতো দুঃসাহস দেখালেন মিথ্যে তথ্য দিয়ে ভদ্রলোকদেরকে অপমান করতে।তবে অনেক মানুষও আছেন,যারা এক কানে শোনেন এবং অপর কান একেজো।অর্থাৎ ওরা শোনা কথাতেই  বিশ্বাস করে।ওদের কোন চিন্তা শক্তিই নেই।তারা কেবল নির্দ্দেশ দাতার কথা শোনেন,আর কিছু কানে ঢোকেনা।  

তার পদমর্যাদার বিভিন্ন দেশের অনেককে নিয়ে আমাদের কাজ করার সুযোগ হয়েছে জীবনে।তাকে সম্মান করি।এটাও মনে রাখতে হবে ভারতীয় জেনারেলের বাঙালি-বিদ্বেষী বক্তব্যটি উপস্থাপনের সময়কাল বুধবার  ২১ফেব্রুয়ারী।রাওয়াত সম্ভবতঃ একজন হিন্দু পাঞ্জাবি।ভারতে হিন্দুজনগোষ্ঠীর মধ্যে জাত-গোষ্ঠীর এই ঘৃণ্য বর্ণবাদ শেকড় গেঁড়ে আছে।তা আর্য্যরা ভারতবর্ষে তাদের শাসন লুন্ঠন ও প্রতারণাকে সর্বত্র মানিয়ে নিতে বা গ্রহনযোগ্য করতে কৌশল হিসেবে কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিতও করেছে।

তিনি নিজে আর্য্যবংশের হয়ে নিজেকে বাঙালি হিন্দুদের চেয়ে উঁচু জাত ভাবেন,তার ভাবনা নিয়ে আমাদের কলম ধরার কাজ নেই।আমরা লিখি মানুষকে মানুষ জেনে।উঁচু নীচু চিন্তার এই মানুষরা স্রষ্টার মুখোমুখী হবার বিচারদিনেই প্রকৃত পরিচয় পাবেন স্রষ্টার নির্ধারিত রায়ে।স্রষ্টাই জানেন,কাকে তিনি কি করতে দুনিয়ায় সৃষ্টি করেছেন এবং তার কাছে গিয়ে কে কি হিসেব দেন তা স্রষ্টার এখতিয়ারেই থাকুক।   

উত্তর-পূর্ব ভারতে বাংলাদেশীদের অনুপ্রবেশ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন একটা সেমিনারে।বক্তব্যের মধ্যে উত্তরপূর্ব ভারতে জনবিন্যাসও বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে বলেছেন,“এ.আই.ইউ.ডি.এফ নামে একটা দল  আছে।খেয়াল করে দেখবেন,বিজেপি বছরের পর বছর ধরে যেহারে বেড়েছে,ওরা একই সময়ে তার চেয়েও দ্রুত বেড়েছে। সংসদে দুজন সদস্য নিয়ে শুরু করে জনসংঘ যেখানে পৌঁছেছে,সেখানে সেই তূলনায় অনেক দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে এ আই ইউ ডি এফ।চীন বা পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে জেনারেল রাওয়াত বলেন,ভারতের উত্তর সীমান্তের প্রতিবেশী দেশের সাহায্যে পরিকল্পিতভাবে দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে বাংলাদেশীদের অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে পশ্চিম দিকের প্রতিবেশী দেশ।ছায়াযুদ্ধের অঙ্গ হিসেবেই সুপরিকল্পিতভাবে পশ্চিমদিকের দেশটি।এতে সমর্থন জোগাচ্ছে উত্তর সীমান্তের দেশটি,যাতে ঐ অঞ্চলে  গোলযোগ বজায় থাকে”।

 অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমক্র্যাটিক ফ্রন্ট-সংক্ষেপে এ.আই.ইউ.ডি.এফ।এই দল্টি ধর্ম নিরপেক্ষ ও জাতিগোষ্ঠী নিরপেক্ষ।এই দলের প্রধান মাওলানা বদর উদ্দীন আজমল।দরিদ্র ও নীরিহ মানুষদের জন্যে দলটি সামাজিক  রাজনৈতিকভাবে নিবেদিত।ধর্ম সংক্রান্ত কোন ঝগড়া তাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়না।তাই সংগঠনটি মানুষের কল্যাণকেই ঐক্যের একমাত্র অবলম্বন করেছে।     

জেনারেল বিপিন রাওয়াতের বাংলাদেশ সম্পর্কিত বক্তব্যকে নিছক রাজনৈতিক বলা হলেও তিনি যা বলেছেন,তা  অবশ্যই সামরিক রাজনীতি।সরকার,গোয়েন্দা সংস্থা এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ হয়েই ভারতের সেনাপ্রধান তার ভবিষ্যত আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ্যে চিহ্নিত করে দিলেন।লেঃজেনারেল লাছু সিং রাওয়াতের পুত্র জেনারেল বিপিন রাওয়াত পিতার পথ ধরে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে সম্মানিত হয়েছেন।সেনাবাহিনীর প্রধান তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ওয়াদাবদ্ধ।     

ভারতীয় সেনাবাহিনীর বাংলাদেশ সম্পর্কিত সামরিক কৌশলের আক্রমণাত্নক দিকের প্রতিফলন ঘটেছে এই  বক্তব্যে।বাঙালি সম্পর্কে মন্তব্যে বুঝা গেলো,ভারতের নাগরিকদের বংশীয় উৎপত্তি সম্পর্কে তার তেমন আগ্রহ নেই।ভারতীয় সেনাবাহিনীতে নৃবিজ্ঞান বা এনথ্রোপলজি পড়ানোর গুরুত্ব সম্ভবতঃ কমে গেছে।বহুজাতিক ভারতীয় সেনাবাহিনীতে উগ্রজাতীয়তাবাদের ইন্ধন দেয়ার দায়িত্ব পালন করলেন তিনি।

ভারতে বাঙলাভাষীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী এবং সংঘ পরিবার,ক্ষমতাসীন ভিজেপি,বজরঙ,অভিনব ভারত, বিশ্বহিন্দু পরিষদ,আর.এস.এস ও সাফরণ টেররদের নীতির সাথে হুবহু মিল এক এবং অভিন্ন হয়েছে।এই সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থী বাহিনীগুলো প্রকাশ্যে মন্দির এবং পাঠশালায় ভারতের বিকৃত রাজনৈতিক ইতিহাস শেখায়  এবং অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ দিয়ে চলেছে।জেনারেলের এই ভাষনের পেছনে কি তাহলে বড় কোন আঞ্চলিক উৎপাতের পরিকল্পনা আছে?  

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল  বিপিন রাওয়াত বাংলাদেশকে দায়ী করছেন চীন পাকিস্তানের পরিকল্পনা অনুযায়ী আসামে বাংলাভাষীদেরকে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ তুলে।তার বক্তব্যের প্রতিবাদ বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে কি হয়েছে?ভারতীয় হাই কমিশনারকে ডেকে কৈফিয়িত তলব কি হয়েছে?  

প্রশান্ত  মহাসাগর থেকে ভারত মহাসাগর ঘিরে প্রভাব রক্ষা নিয়ে প্রতিবেশী মাঝারি ও ক্ষুদ্র দেশের মধ্যে অস্থিরতা চালু হয়েছে আকস্মিক আতংকের বিভীষিকায়।ইতিমধ্যে চীনের ভয়ে ভারত পশ্চিমে কাস্মীর এবং উত্তর-পূর্বে নেপাল ও বাংলাদেশ সীমান্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার কথা।এই প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ চীন অথবা ভারতের পক্ষ নিয়ে পক্ষপাতিত্ব করতে গেলে বর্তমানের নিরাপত্তাহীনতার সীমা হিসেবের বাহিরে চলে যেতে বাধ্য।

যদিও ভারত বাংলাদেশকে চীনের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমর্থন বাংলাদেশের সরকারে আছে।তাছাড়া চীনের বিরুদ্ধে আমেরিকার পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা প্রশ্নাতীত।তাই বাংলাদেশকে নিরপেক্ষ রাখা কঠিন হবে।বার্মার রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার নতজানু থেকে কারো ব্যক্তিগত লাভ হলেও বাংলাদেশের বর্তমানের চেয়ে ভবিষ্যত ক্ষতির পথ আগে থেকে করে রাখা হয়েছে।এক্ষেত্রে বাংলাদেশে অনিবার্য্য সংঘাত এড়ানোর জন্যে পথ অনুসন্ধান জরুরী হয়ে পড়েছে।বাংলাদেশে সংঘাত এড়ানোর পথে ভারত  সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি প্রবন্ধ প্রকাশ করা হলেও “সংঘাতময় বাংলাদেশ”ই তাদের সামরিক চাহিদায় যথাযথ-আমি স্বীকার করি।তাই জেনারেল বিপিনের বক্তৃতায় আমার অস্বাভাবিক কিছুই মনে হয়নি।             

ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আসাম ফ্রন্টে যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত করার আভাস দিয়ে তিনি ভারতবাসীকে এই যুদ্ধে সমর্থনের লাইনে টানার চেষ্টা করছেন।পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ত্রিপুরা আসাম মণিপুর সহ উত্তর-পূর্বভারত ও নেপাল সীমান্তের “চিকেন নেক” নামে খ্যাত সামরিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি করছেন।এই সুযোগে বাংলাদেশের দিকে দখলের চোখে দৃষ্টি দিয়েছেন।সবশেষে বিপিনের প্রসঙ্গেই ফিরে আসি,বাংলাদেশের বিষয়ে ওয়াশিংটনে একধরনের কথা বলে আর নিজেরা আরেক ধরনের পলিসি নিয়ে তৎপর থাকার বিষয়ে দিল্লীর সাউথ ব্লক সম্পর্কে ওয়াশিংটন অবশ্যই জ্ঞাত আছে।

বিএসএফকে দিয়ে বাংলাদেশে ড্রাগ এক্সপোর্ট করার অপরাধে জেনারেল বিপিন সহ বাকিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে কথা উঠছে ওয়াশংটনে।বাংলাদেশ সীমান্তে অসংখ্য ফেন্সিডিল সহ নেশাজাত দ্রব্যের ফ্যাক্টরির ফটো সহ তথ্য আছে ওখানে।বিপিনদের কৌশল নিয়ে আমাদের খুব মাথাব্যথা নেই।সময়েই সব দেখা যাবে।       

(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বাধীনতাযোদ্ধা)।    


একুশে বই মেলায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লেখক এম জসীম উদ্দিনের “ রক্সি টেরস্” এর মোড়ক উন্মোচন

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

Picture

হাকিকুল ইসলাম খাকন,বাপসনিঊজ:গত ২২ শে ফেব্রুয়ারী ঢাকার অমর একুশে বই মেলার কেন্দ্রিয় মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে এক অনাড়ম্বর আনুষ্ঠানিকতায় বাংলাদেশী-আমেরিকান, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট লেখক এম জসীম উদ্দিনের লেখা রোমন্টিক উপন্যাস “রক্সি টেরস্” এর মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড.শাহেদা ওবায়েদ।

alt

উপন্যাসটি প্রকাশ করেন বাংলাবাজারের আকাশ প্রকাশনী।

alt

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ফকির আবুল কালাম আজাদ, সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব দিলদার হোসেন, বাংলা একাডেমীর পরিচালক ও নাট্য ব্যাক্তিত্ব শাহদাত হোসেন নিপু, বাসস এর ষ্টাফ রিপোর্টার এনামুল হক বাবুল, বিশিষ্ট ফ্রিলেন্স সাংবাদিক জামাল উদ্দিন জামাল, জনকন্ঠের এজিএম জাহাঙ্গীর আলম, অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক নূর মামুন, আওয়ামীলিগের সহ সাধারন সম্পাদক (উপ কমিটি) মঞ্জুরুল ইসলাম মিঠু,বিশিষ্ঠ অভিনেতা ও নাট্য সংগঠক কামরুল হাসান বাবুল, বিশিষ্ট চিত্র গ্রাহক এমজিএস সোহেল রানা, সমাজ সেবক এজাজ আহমদ,আওয়ামীলিগের কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিটু, খিলগাঁও এর বিশিষ্ট সমাজ সেবক অব্দুল মান্নন।


বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি : মীজানুর রহমান

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বাপ্ নিউজ : অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দেখা মিলল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের। এনটিভি অনলাইনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এবারের বইমেলা নিয়ে কথা বলেন।

বইমেলার পরিসর বৃদ্ধি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মীজানুর রহমান বলেন, ‘বইমেলা আগের চেয়ে বিস্তৃত হয়েছে। তবে মানুষ যাতে সহজেই বিভিন্ন স্টল খুঁজে পেতে পারে, সেদিকে আরেকটু নজর দিলে ভালো হতো।’

মেলায় বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য বই বের হয়। শুধু গল্প-উপন্যাস-কবিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বেরোচ্ছে প্রবন্ধ, ভ্রমণ সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ নানা গবেষণামূলক বই। এ প্রসঙ্গে মীজানুর রহমান বলেন, ‘অমর একুশে বইমেলায় প্রচুর বই বের হচ্ছে। শুধু যে কবিতা, গল্প বা উপন্যাসের বই বের হচ্ছে, তা নয় কিন্তু। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস-ঐতিহ্যসহ বিভিন্ন গবেষণাধর্মী বইয়ের প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। সব ধরনের বই পাঠক কমবেশি কিনছে।’

Picture

তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশে ছাপা বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি বলে মনে করেন মীজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম আমাদের তরুণ প্রজন্ম ইন্টারনেট, ফেসবুক, টুইটার নিয়েই থাকে। কিন্তু মেলায় এসে দেখলাম, তরুণ প্রজন্ম প্রচুর বই কিনছে। তথ্যপ্রযুক্তির কারণে বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি।’

বইয়ের মান যেন যথাযথ ঠিক করে বই প্রকাশ করা হয়, সেদিকে লেখক-প্রকাশক সবার প্রতি নজর দিতে আহ্বান করেন মীজানুর রহমান। প্রকাশনাশিল্প আগের চেয়ে উন্নতর হলেও সম্পাদনার ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। মীজানুর রহমান বলেন, ‘বইয়ের প্রচ্ছদ, ছাপা, বাঁধাইসহ নানা ক্ষেত্রে আমরা আগের চেয়ে অনেক ভালো করেছি। কিন্তু বই সম্পাদনা যাকে বলে, সেদিকে একটা সংকট রয়েই গেছে। প্রকাশকদের উচিত হবে তাঁরা যেন ভালো সম্পাদক ও প্রুফরিডার রাখেন। সম্পাদনার অভাবে অনেক বই ভুল বাক্য ও বানানে প্রকাশিত হয়। তাই এদিকে খুব নজর দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি।’

বাংলা আন্দোলনের অমর স্মৃতিকে ঘিরে অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজিত হচ্ছে। আমাদের ভাষা আন্দোলন পেয়েছে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। কিন্তু বাংলা ভাষার সাহিত্যকে আমরা সেভাবে অনুবাদ করে অন্য ভাষার মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারিনি। এ প্রসঙ্গে মীজানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের এখানে অনুবাদের ক্ষেত্র অত্যন্ত দুর্বল। এদিকে আরো জোর দিলে ভালো অনুবাদ আমরা পেতে পারি।’

এ বছর বইমেলায় মীজানুর রহমানের ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও উন্নয়ন ভাবনা’ নামে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বইটি প্রকাশ করেছে মেরিট ফেয়ার প্রকাশনী।


মার্কিন প্রেসিডেন্টদের যৌন কেলেঙ্কারি ও ফার্স্ট লেডিদের অসহায়ত্ব

মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পর্ণস্টার স্টোমি ড্যানিয়েল ও প্লেবয়-প্লেমেট কারেন ম্যাকডোলের অবৈধ সম্পর্কের খবর চাউর হয়েছে। তাদের দাবি, মেলানিয়ার সঙ্গে বিয়ের পর অবাধে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে গিয়েছেন ট্রাম্প। তবে প্রেসিডেন্টের এই ধরণের যৌন কেলেঙ্কারির কথা মার্কিন জনগণের গা সওয়া হয়ে গিয়েছে, সেই সঙ্গে মেলানিয়া ও অন্য ফার্স্ট লেডিদেরও। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে ফ্লোরিডা সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে একসঙ্গে হাঁটতে দেখা যায় নি মেলানিয়াকে, এছাড়াও কয়েকটি ইভেন্টে ট্রাম্পকে এড়িয়ে যেতে মেলানিয়ার শারীরিক ভাষা সবার নজর কেড়েছে, সিএনএন জানায়, এটিকে ‘মি টু’ মুভমেন্টের একটি অংশ বলা যায়।

তবে এর আগে ট্রাম্পের মত ক্ষমতাশালী প্রেসিডেন্টদের অন্য নারীর প্রতি আসক্তি তাদের স্ত্রীরা অন্যদিকে তাকিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার ভান করেছিলেন। সিএনএন জানায়, এই ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের স্ত্রী হয়ে তারা খ্যাতি ও সম্পদের বাহিরে আর কিছুই পান নি। এক্ষেত্রে অন্যতম উদাহরণ সাবেক ফার্স্ট লেডি জ্যাকি কেনেডি ও হিলারি ক্লিনটন। বুদ্ধিমত্তা,পারদর্শিতা ও মেধার কারণে তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নেই। বাদ যান না প্রেসিডেন্ট লিনডন জনসনও, কোন পার্টিতে তার সুন্দরী তরুণীদের বগলদাবা করে এক কোণে নিয়ে যাওয়াটা ছিল ওপেনসিক্রেট। দিনশেষে তার মুখে লেগে থাকত লিপস্টিকের ছোঁয়া, তার এহেন আচরণে তার স্ত্রী লেডি বার্ড অনেকসময় নিজেকে বিব্রত না করতে তার কাছে অনুরোধও করেছিলেন। একবারতো তিনি বলে বসেছিলেন, এমন কার্যকলাপের জন্য তোমার বন্ধুরাই তোমাকে অগ্রাহ্য করছে।

Picture

স্বামীর মৃত্যুর পর একাধিক নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্লের উত্তরে লেডি বার্ড অট্টহাসি দিয়ে বলেছিলেন, ‘ল্যানডন ছিল জনগণের প্রেমিক, তবে বিশ্বের অর্ধেকের মত নারী হয়তো এই সংখ্যার বাহিরে।’ লেডি বার্ডের উত্তরসূরী জ্যাকি কেনেডিও এই ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার অন্যতম উদাহরণ। জ্যাকি একবার তার বন্ধু জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আদলাই স্টেভেনসনকে বলেছিলেন, জ্যাক কত নারীর সঙ্গে ঘুমিয়েছেন তা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যাথা নেই, যতদিন না আমি জানি যে, ‘সে নিজেই জানে সে ভুল করছে, আমি মনে করি এখনও সে তাই করছে।’ জ্যাক ও জ্যাকি দম্পতির ঘনিষ্ঠ বন্ধু স্যার অ্যালস্টার গ্র্যানভিলি ফোর্বস একবার বলেছিলেন, ‘জ্যাক সেই সব নারীর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত, যে সব নারী তার প্রতি আসক্ত।’ তবে জ্যাকি চাইতেন কেনেডির এই সব কথা যেন মিডিয়ায় না আসে, তার মতই ছিলেন হিলারি ক্লিনটন। তনে মনিকা লিওনেস্কির ঘটনায় তাদের সম্পর্ক অনেক টানা-পোড়নের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। ওই সময় বিল ক্লিনটনও হিলারিকে অনেক অপদস্থ করেছেন। কিন্ত দিনশেষে ক্লিনটনকে ছেড়ে যান নি হিলারি, উল্টো পত্রিকা পড়া বন্ধ করা সহ অন্যদের দোষারোপ করেছেন।

ক্লিনটনের এই স্বভাব ঢাকতে টেনে এনেছেন রাজনীতিকে, বলেছেন, রিপাবলিকানরা তার স্বামীর বিরুদ্ধে স্ক্যান্ডাল ছড়াচ্ছে। ক্লিনটন দম্পতির আইনজীবি ও বন্ধু সুশান থমাস বলেন, ‘বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাটা হিলারির কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।’ তাই মনিকার সঙ্গে হিলারির সম্পর্ক বিশ্বের মুখরোচক আলোচনায় পরিণত হওয়ার পরও হিলারি গ্রীষ্মকালিন ছুটিতে মেয়ে চেলসি ক্লিনটনকে নিয়ে দিব্যি বিলের হাত ধরে হেঁটেছিলেন। তাই ট্রাম্পের কেলেঙ্কারির পর মেলানিয়া ও তার সম্পর্কে এখন কিছুটা চিড় ধরতে দেখা গেলেও হয়তো দিনশেষে তাদের একসঙ্গে হাঁটতেই দেখা যাবে। কারণ মেলানিয়া ভিন্ন কেউ নন, স্বামীর দ্বারা ঠকা ও নাকাল হওয়া ফার্স্ট লেডিদের মধ্যেই একজন। সিএনএন।


জম্মু-কাস্মীরে চীন পাকিস্তান ঐক্যের ভয়!আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

ভারত-মার্কিণ দম্ভ কেঁপে কেঁপে উঠছে এই ছোট্ট সংবাদে।জম্মু কাস্মীরে চীনের প্রভাব বেড়ে চলেছে অতিমাত্রায়।কাস্মীরিদের উপর জুলুম নিপীড়নের রাজনৈতিক-সামরিক দখলদারিত্বের নেহেরু ধারা এখন চীনা ভয়ে পালাবার পথ নিয়েছে।কাস্মীরিদের স্বাধীন জীবনযাপনের অধিকারের দাবীর মুখে দলন নিপীড়ন ওগণহত্যার বিজাতীয় আগ্রাসন  যুদ্ধাপরাধে রূপ নিয়েছে।চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর বিস্তৃতির পথ ধরে জম্মু-কাস্মীরের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব আসছে।

এই প্রভাবের প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় কেন্দ্রীয় রাজনীতির সন্ত্রাসধারার পিঠে বজ্রপাতের ভয় দেখা দিয়েছে।বাংলাদেশ স্বাধীন যোগাযোগ অর্জন করার পর প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিবেশীরা ভয় পায় বাংলাদেশ সীমান্তের গরীব ভারতীয় প্রদেশগুলো যদি বাংলাদেশের প্রেরণায় পেট ভরে খাবার পাবার পথ নিতে থাকে?পশ্চিম ভারতীয়দের শাসকগোষ্ঠীর তাতে হিংসা।উত্তর পূর্ব ভারতের ভারতীয়রা তাই আঞ্চলিক বিদ্বেষের শিকার।চীনা সমৃদ্ধির সামান্য বাতাসের দোলায় জম্মু-কাস্মীরে অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষার জোয়াড় দেখা দিলে নতুন ভয় মাথা তুলছে।তারই লক্ষণ প্রকাশ পেলো জম্মু-কাস্মীর সরকারে।  

ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত বলেছিলেন,ভারতীয় সেনাবাহিনী দু’টি ফ্রন্টে মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।তাকে এখন  জানতে বুঝতে হবে ‘দুই’ এখন একিভূত হয়ে একশক্তিতে রূপ নিয়েছে।ভূটান থেকে অরূণাচল প্রদেশ পর্যন্ত, লাদাখ থেকে জম্মু কাস্মীর পর্যন্ত এবং শ্রীলংকা থেকে মালদ্বীপ পর্যন্ত একটাই ফ্রন্ট হয়ে গেছে।চীন-পাকিস্তান এখন অভিন্ন হয়ে গেছে।ঘিরে ফেলেছে ভারতকে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লাফালাফি এবং মুসলমান তাড়িয়ে ভারতকে হিন্দু-রাষ্ট্র ঘোষণা করার লেফট রাইট করতে করতে উত্তর প্রদেশ সহ উগ্রহিন্দু প্রভাবিত রাজ্যগুলোয় যে উম্মাতাল অস্থিরতার দাবানল চালু করেছে তাদেরকে ভারতের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যে সীমান্তমুখী করার পরিস্থিতি হয়ে গেছে।স্বাধীন বাংলাদেশকে ত্রিপুরা মনিপুরের স্ট্যাটাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদেশ বিভাগের একজন যুগ্মসচিবের অধীনে নিয়ন্ত্রণ করে  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাড়ানো জিহবার অবস্থা নড়বড়ে হয়ে গেছে ভেতরে ভেতরে।এই জয়ন্ত বিশ্বাস উল্লেখিত এলাকা ছাড়াও মরিশাস,টেগো এবং আসামের বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করেন।

আমরা বাঙালিরা জনতার স্বাধীনতাযুদ্ধ করে নিজেদের বাংলাদেশ গড়েও যেখানে সার্বভৌম থাকতে পারলামনা প্রতিবেশী দের বিশ্বাসঘাতকতায়,এই বাঙালিরা নিশ্চয়ই কোমর সোজা করার জন্যে নিশ্বাসের ব্যায়াম করার সুযোগ পাবো।মাথা তুলে নিজের দেশবাড়ীতে বসবাস ও নাগরিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ পাবো।নয়াদিল্লীর হুকুমের দাসথেকে মুক্ত থাকার জন্যে একটা ভারসাম্যমূলক আঞ্চলিক পরিবেশ পাবো।অথবা রাজনৈতিক জীব জানোয়ারদের অনৈতিক লিপ্সার পক্ষে ‘সেনাদাস’ হয়ে পশ্চিম ভারতীয়দের পুরোপুরি অধীনস্থ হবার পক্ষে জাতীয় সংসদ এবং সরকারে শপথ নেবো।দুটোর একটা।

অতীতে প্রধান প্রধান রাজনীতিবিদরা নিজের ক্ষমতা ও অর্থ লিপ্সার গোপন পথে জনগণকে প্রতারিত করেছেন।ব্যবসায়িক লুটেরাদেরকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজেরা লুটের সর্দারি করেছেন,দেশপ্রিয় সেনাবাহিনীকে হত্যা ও চাকরিচ্যুত করে পরদেশী সেনাবাহিনীর প্রভাবে বাংলাদেশকে ঠেলে দিয়েছেন এবং রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিদেশীদের নিয়ন্ত্রণে দিয়ে লুন্ঠনের ভাগাভাগি করেছেন।রাজনীতির নামে দেশের মানুষদেরকে বিভক্ত করে দেশব্যাপী কৃত্রিম নৈরাজ্য বিস্তৃত করেছেন। বাংলাদেশকে ভাবতে হবে নিজের ভবিষ্যত নিয়ে।এই ভাবনার ফল যা-ই হয়,সাহসী ও দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সম্মিলিত নেতৃত্বই সম্ভাব্য সুযোগে পরিস্থিতির সদব্যবহার করতে পারবে।এই ধারণা বিশ্লেষকদের। ভৌগোলিক বিশেষ সুবিধার কারণে ভারত,চীন,আমেরিকা,রশিয়া,আরব দেশগুলো এবং ইওরোপীয় ইউনিয়ন সহ সবার কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম।   

জম্মু-কাস্মীর রাজ্য সরকারের গণপুর্ত মন্ত্রী নঈম আখতার যথার্থ সময়ে গণমাধ্যমে আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাজির করার সাহস করেছেন।যেকথা তার দেশের কেন্দ্রীয় সরকার গোপনে রেখে ভারতবাসীদের বিভ্রান্তির অতলে ডুবিয়ে রেখেছেন। তিনি ২০ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার সাক্ষাতকারে বলেছেন,জম্মু কাস্মীরে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যাপক হারে এবং এবিষয়ে পাকিস্তানের সাথে ভারত সরকারের কথা বিনিময় হওয়া জরুরী।
তার এই দায়িত্বজ্ঞানবোধ তাকে রাজনীতিক ও মন্ত্রিত্বের সীমানার অনেক উর্ধে তুলেছে। বলেছেন,"কাস্মীরে আগের মতো পরিস্থিতি আর নেই,পরিস্থিতি অনেক খারাপ হয়ে গেছে। বিষয়টি এখন আর কেবলমাত্র ভারত পাকিস্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।এর মধ্যে বড় শক্তির হস্তক্ষেপ দেখা যাচ্ছে"। বলেছেন,এখন তো পাকিস্তান একা নয়,এখন চীনও এসে পড়েছে।জেনারেল বিপিনকে একথা বুঝতে হবে।পাকিস্তানওচীন এখন আর ভিন্ন নেই।  

পিপলস ডেমোক্রাটিক পার্টি(পিডিপি)র নেতা নঈম আখতার বলেন,“এটা কেউ কেন দেখছেনা যে,চীন সন্ত্রাসী সংগঠন জৈশ-ই-মুহাম্মদকে কোলে তূলে নিয়েছে।যারা বারবার জাতিসংঘে মাওলানা মাসুদ আজহারকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করার বিরোধীতা করছে।পাকিস্তানের হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা শোনা যাচ্ছে,তবে চীনের প্রভাব থাকায় মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছেনা।এরকম পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থে পাকিস্তানের সাথে সংলাপ চালানো ভালো। কেন্দ্রীয় সরকারকেই এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।আমরা এব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকার ছাড়া কারো কাছে দাবি জানাচ্ছিনা এবং এটা আমাদের অধিকার”।

পিডিপি সম্পর্কে কিছুটা আলোচনা হওয়া দরকার।ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী১৯৯৮সনে মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ পিডিপির প্রতিষ্ঠাতা।জম্মু কাস্মীরের সরকার গঠন করেন ২০০২সনে।২০১৬সনে জানুয়ারী মাসে তার মৃত্যুর পর তারই উত্তরাধিকারী ও কণ্যা মুফতি মেহবুবা দলের নেতৃত্ব নিয়েছেন এবং জম্মু কাস্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

পিডিপি ভারতীয় জনতা পাটি(ভিজিপি)র সাথে কোয়ালিশন সরকার চালাচ্ছে।পিডিপি ক্ষমতাসীন থাকলেও এই দলের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক নেতাদের অনেকে দল ছেড়ে চলে গেছেন দলে দূর্নীতি ও অরাজকতার অভিযোগে।

দল ছাড়া নেতাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে মুফতি সাঈদের অনুপস্থিতিতে দলের অবস্থা রাজনীতি থেকে সরে গেছে।তার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী তে অর্থাৎ গতমাসে দল ত্যাগ করলেন গুজ্জার অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা চৌধুরী জাফর আলী খাতানা।পিডিপি নেতারা গুপ্তহত্যার ভয়ে থাকে।তাদের অনেকেই ইতিমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে অজ্ঞাত মানুষের গুলির আঘাতে। কাস্মীরের স্বাধীনতাযোদ্ধারা তাদেরকে রাজাকার বলেই চিহ্নিত করেছে।

জম্মু কাস্মীর ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় একটি প্রদেশ।এটা হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশে হিমাচল এবং দক্ষিণে পাঞ্জাব প্রদেশের সীমান্তে অবস্থিত।দুদেশের নিয়ন্ত্রণ রেখা পাকিস্তান প্রশাসিত আজাদ কাস্মীর এবং গিল্গিট-বাল্টিস্তানথেকে জম্মু কাস্মীরকে   বিভক্ত করেছে। প্রকৃত বিভক্তিরেখা চীনা শাসিত পূবে আক্সাল চীন।ভারতীয় শাসনতন্ত্রের ৩৭০ আর্টিক্যাল অনুযায়ী জম্মু কাস্মীর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।তিব্বতের সীমান্তে আক্সাই চীন ১৯৬২সন থেকে চীনের দখলে আছে।চীন-ভারত যুদ্ধে যায়গাটা ভারতের হাতছাড়া হয়ে যায়।


জম্মু কাস্মীরে তিনটি অঞ্চল রিয়েছে।জম্মু, কাস্মীর উপত্যকা এবং লাদাখ।শ্রীনগর হচ্ছে গ্রীস্মের এবং জম্মু হচ্ছে শীতকালীন রাজধানী।ভারতের প্রদেশগুলোর মধ্যে জম্মু এন্ড কাস্মীরই হচ্ছে একমাত্র মুসলমান অধ্যুষিত অঞ্চল।


আবু সাঈদ রতন এর“মাকড়সার জালে মুক্ত জীবন”

বৃহস্পতিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাকিকুল ইসলাম খোকন, বাপসনিঊজ:আবু সাঈদ রতন দীর্ঘদিন ধরেই নিউইয়র্কে স্বপরিবারে বসবাস করছেন। বহুমাত্রিক তার কর্ম ও জীবন। একাধারে সাংবাদিক, নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা, সংগঠক। “মাকড়সার জালে মুক্ত জীবন” বি‌ভিন্ন পত্র‌িকায় প্রকা‌শিত ২৬ টি ন‌ির্বা‌চিত কলাম ন‌ি‌য়ে তাঁর প্রথম বই ।


“মাকড়সার জালে মুক্ত জীবন” বইটি পাওয়া যাচ্ছে ।প্রকাশক সাহিত্য বিকাশ। ‘সাহিত্য বিকাশ’ (স্টল নং ১৫৬-১৫৭) সোহরাওয়ার্দি উদ্যান এবং মুক্তধারা নিউইয়র্ক(স্টল নং ১০০/১০) বাংলা একাডেমী চত্বর