Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দূর্নীতি চলছে পৌর কর্পোরেশন গুলোতে ---এস ই ইসলাম

সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

যেভাবে নতুন করে ভ্যালুয়েশন ধার্য্য করা হয়েছে। কোন ভাবেই সেটা আইনত সঠিক হয় নাই। ইচ্ছাকৃত ভাবে জনগনকে হয়রানী করার জন্যই তাদের এই পরিকল্পনা। তাছাড়া জনগনের ঐ পরিমান টাকা দেওয়ার সামর্থ নাই। যেখানে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন এর প্রতিটি এলাকায় ১৫০০ টাকা ত্রয় মাসিক ফি ধার্য্য করা ছিলো। যা বর্তমানে অনেক গুন বেড়ে গেছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এভাবে প্রতিটি ফ্ল্যাট ও বাড়ীর ভ্যালুয়েশন করে পার স্কয়ার ফিট ১৫ টাকা থেকে ২০-৩০ টাকা ধরা হয়েছে। পৌর কর অফিসে আপীল করলেও নাকি ১০% উপরে কমানো সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন। পৌর কর কমিশন হঠাৎ করে এভাবে পৌরকর বাড়িয়ে দেওয়ার কারন আমাদের বোধগম্য নয়। পৌর কর্মকর্তা  (মেয়র) সাহেবরা মন্ত্রীর পদমর্যাদা পাওয়ায় তাদের কাজ এতই বেড়ে গেছে যে তাদের সাথে দেখা করার ও ক্ষমতা নাই সাধারন জনগনের। তাই সাধারন মানুষের পক্ষ থেকে আজ আমি এ বিষয় টি তুলে ধরছি আমার লেখনির মাধ্যমে। যাতে করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী মহোদয়ে ও সংশ্লিষ্ট দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নিকট আমার অনুরোধ অতিদ্রুত পৌরকর সাধারন জনগনের কর প্রদান করার নাগালের মধ্যে ধার্য্য করে কর পরিশোধের আওতায় আনা যায়। সেটি ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলর দ্বারা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বিষয়টি আলোচনা, পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষন পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মন্ত্রণালয়ে নির্দেশ প্রদান করে সাধারণ জনগনের ভোগান্তি লাগবে দেশের পৌরকর কাটামোর আশু পরিবর্তন একান্ত কাম্য। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নিজ গৃহে বা ফ্ল্যাট বসবাস করে তাদের ক্ষেত্রেও বাণিজ্যিক পৌরকর ধার্য্য করা হয়েছে। নিজের বসতবাড়ী যেটি কোন ভাবেই আয়ের উৎস নয় (ভাড়াটিয়া) নাই সেটিও তাড়া খতিয়ে না দেখে বেশী অংকের পৌরকর ধার্য্য করে নোটিশ প্রদান করেন বাড়ীর মালিকদের। যা পরিশোধ করার সামর্থ নাই। তাই পৌরকর বকেয়া পড়ে যায়। রাষ্ট্রীয় খাতে রাজস্বের ঘাটতি দেখা যায়। যার জন্য এটি একটি প্রধান কারন। উল্লেখ্য, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে যে পদ্ধতিতে পৌরকর আদায়ের প্রচলন ছিলো সেভাবেই যেন পূন: নির্ধারণ করা হয়। যেহেতু পৌর এলাকাবাসিরা কোন প্রকার পৌর মেয়রদের থেকে নাগরিক সেবা পাওয়া তো দূরের কথা প্রতিকারের দাবী নিয়ে গেলে তাদের দেখা পাওয়া যায় না। এহেন দ্বায়িত্ব কর্তব্য উদাসিনতার কারনই হলো তাদেরকে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা প্রদান। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিশেষ আবেদন উপযুক্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখে নাগরিকদের প্রাপ্ত সেবা পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা।
সিনিয়র আয়কর উপদেষ্টা এবং লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, অর্থনৈতিক বিষয়ক সমালোচক---এস ই ইসলাম


যে সকল কারণে শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত --শাহ্ শহীদুল হক সাঈদ

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মহাজোট সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে গত ৬ বছরে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রের অন্তত ২০৪টি সেবাখাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সংযুক্ত হয়েছে-যা পূর্বে ছিলনা। এখন তৃতীয় বিশ্বের মত একটি দেশের জনগণ প্রত্যক্ষভাবে এর সুফল পাচ্ছে। ইতিমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের এ উদ্যোগের স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রধামমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুয়াই) প্রোগ্রামের বর্তমান সরকারের অর্জন সম্পর্কিত প্রতিবেদন আছে। তাছাড়াও এসব-ই সেবার সাথে জনগণের পরিচিতির লক্ষ্যে সরকার দেশের ৬টি বিভাগীয় শহর-ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুরে বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করছে। এতে জনগণের মনে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা ও চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪৫০১টি তথ্যসেবা কেন্দ্র-সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪৫০১টি তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে গ্রামীণ জনগনের তথ্যসেবা ও একই সাথে ৯ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যকেন্দ্রগুলোতে সরকারি ফরম, বিজ্ঞপ্তি, সরকারি বিধিবিধান, জন্ম নিবন্ধন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার এমপিও ভুক্তির তথ্য, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডধারীদের ৫০টিরও বেশি অনলাইন সেবা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের আইটি প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার ফরম পূরণ-শিক্ষাকে আকর্ষনীয় করে তুলতে শিক্ষকদের যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে প্রতিবছর। তাছাড়া শারীরিক শিক্ষা বিষয়টি ২০১৩ থেকে বাধ্যতামূলক করার পর থেকে শিক্ষকদের প্রতিবছর দু-বার রি-ফ্রেশার কোর্স করানো হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজ ইউনির্ভাসিটি ভর্তির ফরম পূরণ অনলাইনে ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্যাটেলাইট, ২য় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন ইত্যাদি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ, ভিওআইপি মুক্তকরণ, মোবাইল ব্যাংকিং চালুু-এসব অনন্য কার্যক্রমের স্বীকৃতি স্বরূপ দক্ষিণ এশিয়ার সম্মানজনক মন্থন এওয়ার্ড, ২০১০ এ মোট ৯টি পুরস্কার লা করেছে বাংলাদেশ। এর ৩টি বিশেষ পুরস্কারের মধ্যে একটি অর্জন করে বাংলাদেশ চিনি শিল্প করর্পোরেশনের ডিজিটাল পূর্তি ব্যবস্থাপনা বা ই-পূর্জি। বিশ্বেও ১৩৪টি দেশের মধ্যে নেটওয়ার্ক সক্ষমতা সূচকে এ বছরে ১২ ধাপ এগিয়ে গেছে। আর জিআইটি এর ২০১০ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৮তম। ২০১০ সালে প্রতিনিধি সম্মেলনে ১৩টি পদের মধ্যে বাংলাদেশ ৬ষ্ঠ স্থান লাভ করে। সমুদ্র বিজয় ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণী মামলার রায়ে বাংলাদেশের বিপুল বিজয় হয়েছে। নেদারল্যান্ডের হেগে সালিশি ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিরোধপূর্ণ আনুমানিক ২৫৬০২ বর্গ কিঃ মিঃ সমুদ্র এলাকার মধ্যে ১৯৪৬৭ বর্গ কিঃমিঃ এলাকা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়েছে। ফলে সমুদ্রসীমা এখন ১,১৮,৮১৩ বর্গ কিঃমিঃ। তাছাড়া এর বেশি টেরিটোরিয়াল সমদ্র ২০০ নটিক্যাল মেইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। বাংলাদেশ ভারত ছিটমহল চুক্তি ১৯৪৭ সালের রেডক্লিফের মানচিত্র বিভাজন থেকেই উদ্ভব ছিলমহলের। সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ হেডকাউন্টিং এ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রয়েছে ১১১টি। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে (অঙ্গরপোতা, দহগ্রাম ব্যতিত) ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের ছিটমহল ভারতের কাছে এবং বাংলাদেশের ভেতর অবস্থিত ভারতের ছিটমহল বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা এবং উভয় দেশের অপদখলীয় এলাকাও সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি মোদী সরকার আসার পর ভারতের লোক সভায় এই ছিটমহল বিল পাস হয়েছে। এটি মহাজোট সরকারের অবশ্যই কূটনৈতিক বিজয়। এছাড়া পার্বত্য শান্তি  চুক্তি, বিদেশ নীতি ও নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্য নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট।  শান্তিবাহিনী ও বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সঙ্গে সুদীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে যেভাবে বিনা রক্তপাতে বন্ধ করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে মহাত্ম গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনকে হার মানায়। তিনি বিনা যুদ্ধে বিনা রক্তপাতে হাজার হাজার জীবন বাচিঁয়েছেন। “ঝযব রং ঃযব ঋরবষফ গধৎংযধষষ ড়ভ চবধপব.

লেখকঃ প্রতিষ্ঠাতা  ও সভাপতি, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেভেলপমেন্ট, ইউএসএ ।


নারী নির্যাতন বনাম পুরুষ নির্যাতন ---শাহ শহীদুল হক সাঈদ

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতা সমাজকে নরকে ডুবায়। আমরা আধুনিক বিশ্বে নারীর মর্যাদা, নারীর সমান অধিকার রক্ষার্থে নারী আন্দোলনে যোগ দিয়ে আসছি। ইসলাম নারীকে সমহারে মর্যাদা দান করার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছে অথচ আল্লাহ কোন নারীকে নবী বা রাসূল রূপে দুনিয়াতে পাঠাননি। পশ্চিমা বিশ্বে নারীকে স্বাধীনতা দিয়েছে, ৯১১ কল দেয়ার সুযোগে ৬৫% তালাকের কোঠায় নারী তার অধিকার গ্রহণ এবং হরণ করছে। পুরুষ যদি নারী অধিকার হরণ করে তাহলে ৯১১ কল করে তাকে জেলে দেয়া যায়, কিšু‘ নারী যখন পুরুষকে নির্যাতন নিপীড়ন এবং পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয় তখন পুরুষ নির্যাতনের বিধান কোথায়?

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক তালাকের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কেননা মোটা অংকের কাবিন নিয়ে নারী তিন মাস না যেতেই মামলা এবং কাবিনের মোহরানা এখন বিরাট ব্যবসা। অতীত সরকার নারীর নির্যাতন আইন এবং কবিননামার মোহরানা স্ত্রীর অধিকার বলে আইন পাশ করে পুরুষ নির্যাতনের কায়দা করে দিয়েছে অথচ দিন দিন নারীর দ্বিচারীনী ব্যাস্যাবৃত্তির কোন বিধান আইনে নেই, তাই উচ্চ আদালতে হাজার হাজার মামলা ঝুলছে। নারী বর্তমানে আইনের ফাঁকে বেপোরোয়া, বেগতিক পুরুষ নির্যাতনে মারমূখী হয়ে উঠছে। অতএব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট নারী নির্যাতনের পাশাপাশি পুরুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন পাশ করে দুষ্ট নারীদেরকে সোজা করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।

লেখক সভাপতি, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভলপমেন্ট ইউএসএ
৩৪৭-৪৭৬-৯৪২৪


মানবতার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী--- এস ই ইসলাম

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে কক্সবাজার এসে সেখানে থেকে উখিয়ার কুতুপালংয়ে আশ্রিত ও শরণার্থী-ক্যাম্প পরিদর্শণ কালে বক্তব্য রাখেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আমরা সকল দেশের সঙ্গে সু-সর্ম্পক রাখতে চাই। নির্যাতন বন্ধ করুন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিন’। আর রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে করে বললেন, ‘যতদিন তারা নিজ দেশে ফিরতে পারবেনা ততদিন বাংলাদেশ তাদের পাশে থাকবে’। ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইং তারিখ আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পরিদর্শণ কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বোন শেখ রেহানা মিয়ানমারের বর্বরতার কাহিনী শুনে কাঁদলেন।
আর্ন্তজাতিক ভাবে পূর্ব কোন সমর্থন ও প্রতিশ্রুতি না পেয়েও বাংলাদেশ সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাজেশন (এ আর এন ও) মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত ও বিতাড়িত বিপুল সংখ্যক (প্রায় ৫ লাখ) রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সংগঠনটি। এক বিবৃতিকে তারা জানিয়েছেন, আমাদের মতো অসহায় এক জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারময় মুর্হুতে মানবতার প্রথম হাতটি বাড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিরাপত্তা বিধানে সকল ব্যবস্থা করবেন এবং কুটনীতিক সহায়তার মাধ্যমে তাদেরকে নিজ দেশ ফিরে যাবার ব্যবস্থা চলছে।
রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার জন্য বলেছেন, ‘আমি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। নাগরিকত্বের অধিকারসহ সব ধরনের অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। এই জন গোষ্ঠীর অস্তিত্বের সঙ্কট, নিষ্ঠুরতা এবং উৎখাতের শিকার সিমান্ত দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার কারনে বাংলাদেশ এ সমস্যায় সরাসরি আক্রান্ত। একমাত্র মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার। এই সমস্যার কারনে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা স্মরণার্থীদের সবাইকে একত্রে ও এক সাথে করে সন্ধীপের কাছে ঠেঙ্গারচরে সাময়িক ভাবে আশ্রয় দেয়া হবে। এ লক্ষে ইতোমধ্যে সরকার থেকে প্রায় ১০ হাজার একর জমি শনাক্ত করা হয়েছে। মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এরই সাথে বিশ্ববাসীকে জাগ্রত করতে কুটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে আপাতত রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার উখিয়া অঞ্চলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে চলমান জাতিগত নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা পাঁচ লাখের বেশী মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ইতিমধ্যে। গত ২৪ আগষ্ট রাখাইন পুলিশ পোষ্ট ও সেনা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশণ আর্মির হামলার পর সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের ধারনা এবার প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা এ পর্যন্ত বাংলাদেশে এসেছে। লেখক নিজেই এই ঘটনায় কবলিত রোহিঙ্গাদের স্বচোখ্যে দেখে এসেছেন।
মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া তো দুরের কথা রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক হিসাবে মেনে নিতে ও তারা রাজি নয়।
রবিবার কাজাখস্থানের রাজধানী অস্তনার রাষ্ট্রপতি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ, এরদোগানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি ‘সেফ জোন’ করে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানান।
দক্ষিণ আফ্রিকার বনবাদ বিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটু। মিয়ানমারের নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সূচির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এই ধর্মযাজক এক খোলা চিঠিতে বলেছেন বাধক্য আমাকে গ্রাস করেছে। আমি এখন জরা গ্রস্ত। সব কিছু থেকে অবসর নিয়েছি, আর কিছু বলব না। কিন্তু আজ তোমার দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের গভীর সঙ্কটে সেই নীরবতা আমি ভাঙ্গছি। ৮৫ বছর বয়সী টুটু দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে রেখেছেন। তিনি প্রোষ্টেট ক্যান্সারের ভূগছেন প্রায় দুই দশক ধরে।
সূচীর উদ্দেশ্যে টুটু লিখেছেন হে, ‘আমার ভগ্নি মিয়ানমারের রাজনৈতিক ক্ষমতার শিখরে পৌঁছানোই যদি তোমার নীরবতার কারন হয়ে থাকে তার জন্যই সত্যিই বড় বেশী দাম দিতে হচেছ। আমার প্রার্থনা তুমি ন্যায় বিচারের পক্ষে মুখ খোল। মানবতার পক্ষে কথা বলো। দেশের মানুষের ঐক্যের কথা বলো। আমরা প্রার্থনা করি যাতে তুমি হস্তক্ষেপ কর’।
রাখাইনে চলমান সহিংসতার জন্য মুসলিম বিশ্বের তীব্র সমালোচনা সইতে হচ্ছে। গণতন্ত্রের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসাবে ১৯৯১ সালে নোবেল পুরষ্কার জয়ী সূচির দল এখন মিয়ানমারের ক্ষমতায়।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ট মিয়ানমারের যুগ যুগ ধরে নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানের বিষয়ে নীরবতার কারনে পশ্চিমা বিশ্বে সুচীর কড়া সমালোচনা হচ্ছে। এমন কি তার নোবেল পুরষ্কার কেড়ে নেওয়ার দাবী তুলেছে কেউ কেউ। জয় হোক বিশ্ব মানবতার এটিই আমাদের কাম্য।

তুমি শুধু আমার
লেখক: এস ই ইসলাম

নদী তুমি স্বপ্ন হয়ে এসো,
আমার নয়ন তারায় বসো।
আমি তোমারই তোমারই,
তুমি শুধুই আমারই।
যখন তখন আমার প্রানে,
কাছাকাছি শুধু শুনি।
তোমার চলার শব্দের প্রতিধ্বনি,
বিভোর হয়ে হারিয়ে যাই।
তোমার চুলের সুবাসে,
ফিরে পাই সেই প্রভাতের।
স্পর্শ খানি ম্লান শেষের।
তুমি শুধুই আমারই,
নদী তুমি স্বপ্ন হয়ে এসো,
আমার নয়ন তারায় বসো ॥
মুক্ত ঝড়া হাসির বদন,
ব্যকুল করে আমায় যখন।
আমি তখন ভাবি,
তুমি শুধুই আমারই।
নদী তুমি স্বপ্ন হয়ে এসো,
আমার নয়ন তারায় বসো,
তুমি শুধু আমারই ॥
হাতটি বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেখবো
অনেক যতনে ঘুম পাড়িয়ে দিবো
কপোলে চুমে বলবো
নদী তুমি শুধু আমারই,
আমি তোমাইর তোমারই।

হাচার হাফিজুর রহমান
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস


মায়ানমার বঙ্গোপসাগরের তেল-গ্যাস টার্গেট,বলি হলো বাংলাদেশ = আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আজ থেকে ৬৫বছর আগে ১৯৪৮সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ভারতের শেষ স্বাধীন মুসলিম সালতানাত বা রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পতন ঘটে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হায়দ্রাবাদের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পরাজয় ও ভারতীয় সেনাদের মাধ্যমে সংঘটিত ব্যাপক গণহত্যায় ২লক্ষাধিক মুসলমানের জীবন কেড়ে নিয়ে।এদের বেশীর ভাগ ছিলেন নারী শিশু ও বেসামরিক মুসলমান।পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌র মৃত্যুর একদিন পর ১২ই সেপ্তেম্বরে শুরু হয়েছিলো এই অভিযান।ভাবতে ভাবতেই আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমান ও হিন্দুদের মেরে ফেলার নৃশংসতা ও বাংলাদেশে বিপর্যয় পাঠানোয় ভারতীয় ও মায়ানমারের যৌথ সামরিক কৌশলে মনোযোগ গেলো।আসছে বাংলাদেশে বিপর্যয়ের চ্যালেঞ্জ!       

প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের ভান্ডার লুন্ঠনের লক্ষ্যে আরাকানের রোহিঙ্গা জাতির নিধনযজ্ঞ এবং রাজনীতিতে  পরস্পরিক শত্রুতায় বিভক্ত অসংগঠিত বাংলাদেশের উপর ১০লক্ষাধিক সর্বহারা রোহিঙ্গার স্থায়ী বসবাসের গোপন সমঝোতা হবার চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে গোয়েন্দা সূত্রে।বাংলাদেশ প্রথমে প্রকাশ্যেই রোহিঙ্গা জাতি নির্মূলে মায়ানমার সরকারকে যৌথ অপারেশনের প্রস্তাব দিয়েছিলো ভারতের পথ ধরে।সেটা দেখতে লাগে মায়ানমার-ভারত-বাংলাদেশ সরকারের সিন্ডিক্যাট।তবে বিশ্বপরিস্থিতি ও বাংলাদেশের সমাজ জীবনের  আকাঙ্ক্ষার নিরীখে লোকদেখানো মায়ার অভিনয় চালু হয়েছে বলিউড,ঢালিউড এবং হলিউডের ষ্টাইলে।ধন্যবাদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে! জাতিসংঘে অনেক বক্তা সর্বহারা মানুষ রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে বক্তৃতা দিয়ে মানবতা নিয়ে রাজনৈতিক ঠাট্টা করবেন ।সবাই নীচ জাতের মানুষ নন,অনেকে তাদের বিশ্বাষ বা নীতির আলোকে ভূমিকা নেবেন।তবে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা সরিয়ে নেবার জন্যে ভিক্ষা অথবা বিনয়ে কোন ফল আসবেনা। দরকার হবে যোগ্যতার।  

 রোববার ১৭ই সেপ্টেম্বর ইরান এবং পাকিস্তানের সামরিক প্রধান যথাক্রমে মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে আরো পদক্ষেপ নেবার জন্যে মুসলমান বিশ্বের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।তারা বলছেন রোহিংগা শরণার্থীদের জন্যে যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা খুবই সামান্য। রোহিঙ্গাদের ত্রান বিতরণে গোটা মুসলিম বিশ্বের সকল সামরিক ও বেসামরিক সংস্থাগুলোর সম্পদ এবং স্থাপনা ব্যবহারের আহবানও জানিয়েছেন তারা।

  রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নয়,ভারতের উচিত মিয়ানমারের স্বার্থকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া– প্রকাশ্যে এই প্রস্তাব দিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব কানওয়াল সিবাল। প্রভাবশালী সাবেক এই কূটনীতিক বাংলা ট্রিবিউনকেও ১৭ই সেপ্টেম্বর রোববার  সরাসরি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ যদি ভারতের কাছ থেকে এ ব্যাপারে বেশি কিছু আশা করে, তাহলে ভুল করবে।ঢাকাকে বুঝতে হবে, দিল্লির পক্ষে এর বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।’ তিনি ভারত সরকারের অন্যতম নীতি নির্ধারক। মোদী যেকথা নিজের মুখে বলেননি,সেকথাটাই ভারত সরকারের পক্ষে মিঃ কানোয়াল বলেছেন।বাংলাদেশ এই সহজ কথাটা বুঝেই পথ নির্দ্দিষ্ট করে নিতে পারে।    

বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতির চাপে সরে এসেছে মিয়ানমারের সাথে যৌথভাবে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মোকাবেলা করার নিজের প্রস্তাব থেকে।বিজিবি আর কোন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাচ্ছেনা,ঠেলে দিচ্ছেনা নাফ নদীতে।রোহিঙ্গাদের প্রতি দেশের ভেতরে বাহিরে বাংলাদেশীদের সহানুভূতির তুফান এবং আন্তর্জাতিক সমর্থনের বাস্তবতায় ভারতীয় হিংসাত্নক ধারা থেকে বাস্তবতার পথে চলে আসে সরকার।এতে মূল অবদান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা ডিজি এফ আই এর।

বলতে গেলে তারাই বিপজ্জনক অবস্থান থেকে সরকারকে রক্ষা করেছে এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার কাজে প্রশাসনের পেছনে সক্রিয় সহায়তা দিয়ে চলেছে।নেগোসিশনটাও করেছে তারা।প্রতিরক্ষা শক্তি থেকে এই পদক্ষেপ না নিলে শেখ সরকারের কি বিপর্যয় হতো,তা কল্পনার অতীত।বাংলাদেশ সরকারকে ধন্যবাদ পরিস্থিতির সাথে তাল মিলাতে পারার জন্যে।প্রতিরক্ষাবাহিনী রাজনৈতিক কৃতিত্ব নেয়না,তা পছন্দ ও করেনা এই মহান পেশা। সুনাগরিকরা যা করে এনন জাতীয় ইস্যুতে কৃতিত্ব হবার কথা সরকার প্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধানের পদের নামে।

বাংলাদেশে ৪০টির বেশী রাষ্ট্রের দূতাবাস বা হাই কমিশনের কর্মকর্তারা ১২ই সেপ্টেম্বর উখিয়া টেকনাফ এবং বান্দর বনের নাইক্ষংছড়ি সফর করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে সরাসরি কথা বলে নৃশংসতার চিত্র বুঝবার চেষ্টা করেছেন। সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।কুটনীতিবিদদের এই প্রতিনিধিত্বকে মনে করা যায় ঘটনা রেকর্ড করা এবং নিজ নিজ রাষ্ট্রের স্বার্থের সাথে মায়নমার এবং আমেরিকা,চীন,রাশিয়া,ভারত ও ইজরাইলের সাথে স্বার্থের সম্পর্কের ভিত্তি অনুযায়ীই ওসব রাষ্ট্র ভূমিকা নেবেন।জাতিসংঘের অধিবেশনে আলোচনায় সুবিধার জন্যে এসব কূটনীতিবিদদের শরণার্থী শিবির সরেজমিনে দেখার গুরুত্ব অবশ্যই প্রচুর।দুপুর বেলা পর্যন্ত তারা ওখানে থেকে ফিরে আসার পর পর মায়ানমার সেনাবাহিনী আবার আগুন দেয় মংডু এলাকায় রোহিঙ্গাদের ঘর বাড়ীতে।  

ভেবে দেখা দরকার জাতিসংঘের মহাসচিব মানবাধিকার কমিশন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান,বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব,নোবেল লরিয়েটসদের অনুরোধ বা নিন্দাকে পরোয়া না করে জাতিনিধনে কেনো তারা এতো উম্মাদনায় মেতেছে?কিসে তাদের এতো শক্তি?কোথেকে আসে তাদের এই প্রশ্রয়?নিশ্চয়ই মায়ানমারের হানাদারগোষ্ঠী এখানে কেবলমাত্র প্রচলিত কূটনীতি দিয়ে এই মহাসমর্থন অর্জন করেনি।গোপন রহস্য রয়েছে ঘটনার পেছনে।মায়ানমারে অনেকগুলো গেরিলা গোষ্ঠী আছে চীন থাইল্যান্ড সীমান্তে।সেসব গেরিলা গোষ্ঠীদেরকে নির্মূল বা তাদেরকে দেশান্তর করে দিচ্ছেনাতো মায়ানমার সরকার।তাহলে রোহিঙ্গাদের অপরাধটা কি?অথবা আরাকান বা রাখাইন রাজ্যের দোষটা কি?  

ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে বঙ্গোপসাগরের পারের এই রাজ্যটি হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের খনির অঞ্চল।  অপরদিকে এই এলাকাটা সামরিক ঘাঁটির জন্যে বেশ চমৎকার পছন্দের স্থান সামরিক কৌশলগত বিবেচনায়।তাই এই যায়গা জনশুন্য করা হয়েছে জাতি নিধন কর্মসূচীর মাধ্যমে।ফলে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি ও প্রকৃতি থেকে তাড়িয়ে গরীব এই রোহিঙ্গাদেরকে আরো মানবেতর দারিদ্রতায় ঠেলে দেয়া হয়েছে।দুনিয়ায় নরকের চিত্র করা হয়েছে আরাকানে। অপরদিকে দুর্দশাগ্রস্থ ও দূর্নীতিগ্রস্থ বিভেদ বিভক্ত ও নেতৃত্বহীন প্রতিবেশী বাংলাদেশকে বাধ্য করা সহজেই সম্ভব হয়েছে যেখানে লোভী ও সেরা দূর্নীতির লোকরাই রাজনীতি ও নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রক।                    

প্রধানমন্ত্রীকে আসতে হয়েছে জাতিসংঘে অধিবেশনে যোগ দিতে।চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে ত্রাণবাহী কার্গো বিমান।এতে স্থানীয় জেলাপ্রশাসক সরকারের পক্ষে ত্রান গ্রহ্ন করছেন এবং চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থেকে কয়েকবার নির্বাচিত  বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সদস্য ও জাসদের কেন্দ্রীয় কার্য্যকরী সভাপতি মঈনুদ্দীন খান বাদল উপস্থিত থাকেন বলে টেলিভিশনে দেখা যায়।


তিনি আমাদের গর্বের ধন

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭

এম. নজরুল ইসলাম : টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক এখন নিজের পরিচয়েই পরিচিত। কিন্তু তাঁর আরেকটি পরিচয়ে বাঙালি মাত্রই শ্লাঘা অনুভব করে। তিনি যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের উত্তরাধিকার।

হ্যাঁ, তাঁকে নিয়ে গর্ব করতেই পারে বাঙালি। বিলেতে নতুন প্রজন্মের বাঙালি প্রতিনিধি তিনি। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাঙালির ঘরে জন্ম নিয়ে ব্রিটেনের শীর্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের তালিকায় যে চার বাংলাদেশির নাম এসেছে, সে তালিকায় তিনিও আছেন। রাজনীতি যাঁর রক্তের উপাদান উত্তরাধিকার সূত্রে, তিনি বিদেশেও সক্রিয় হবেন, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। মায়ের একনিষ্ঠ যতœ ও পারিবারিক ঐতিহ্য, এই দুইয়ের মিশেলে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন। তাঁর পরিচয় এখন কারো কাছে অজানা নয়। সেই কোন সময় থেকেই আমরা শুনে আসছি, ‘বাঙালির ছেলে বিজয় সিংহ হেলায় লংকা করিল জয়’।

Picture

একালের বাঙালি মেয়ের লন্ডন জয় বাঙালিকে নতুন গৌরবে অভিষিক্ত করে। এই বাঙালি মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক। যিনি উচ্চারণ করতে পারেন, ‘গ্রান্ডফাদারের আদর্শই আমার চরিত্র গঠন করেছে। পারিবারিক ঐতিহ্যই আমাকে একজন স্ট্রং সোস্যালিস্টে পরিণত করেছে।’ এই গ্রান্ড ফাদার আর কেউ নন, বাঙালির হাজার বছরের আকাক্সিক্ষত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই বাঙালি কন্যাকে নিয়েই সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর শংসা উচ্চারণ, ‘সন্দেহ নেই, বঙ্গবন্ধুও চাইতেন, বাঙালি তার জাতীয় স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীনতা নিয়ে জেগে উঠুক এবং বিশ্ব জাতীয়তার মোহনায় আপন বৈশিষ্ট্য নিয়ে মিলিত হোক। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার ছেলেমেয়েরা তাঁর সেই সাধই পূর্ণ করেছে বলে মনে হয়। যদি তা না হতো তাহলে বিলাতে বাস করে, উচ্চশিক্ষা লাভ করে, চারদিকে এত অর্থবিত্তের পেশা থাকতে টিউলিপ রাজনীতিকে তাঁর পেশা হিসেবে গ্রহণ করতেন না।’ বাঙালি মেয়ে টিউলিপ নিজের চেষ্টাতেই আজকের এই অবস্থানে উঠে এসেছেন। হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্ন আসন থেকে ২০১০ সালে টিউলিপ প্রথম কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০১৫ ও ২০১৭ সালে এ আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। নিজের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভবনা নিয়ে সংসদে কথা বলছেন নিয়মিত।

রাজনীতি ও সমাজকর্মে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন নানামুখি কাজের ভেতর দিয়ে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফিলিপ গ্লউড অ্যাসোশিয়েটস, সেভ দ্য চিলড্রেন, বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনের সাবেক লেবার এমপি ওনা কিং, টুটিং এলাকার লেবার এমপি, সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমানে লন্ডনের নির্বাচিত মেয়র সাদেক খান, লেইটন ওয়ানস্টেড এলাকার সাবেক লেবার এমপি হ্যারি কোহেনের সঙ্গে কাজ করেছেন। ক্যামডেন ও ইজলিংটন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের গভর্নর, কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ইউকের সদস্য ও এমপি টিসা জোয়েলের পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। লেবার পার্টির ইয়ং লেবার অফিসার হিসেবে কাজ করছেন টিউলিপ সিদ্দিক। লেবার নেতা এড মিলিব্যান্ড-এর লিডারশিপ ক্যাম্পেইনের ফিল্ড ডেপুটি ডিরেক্টর ছাড়াও লন্ডন লেবার পার্টির প্রেস অফিসার, গ্রেটার লন্ডন অথরিটির রিসার্চার হিসেবে কাজ করার ব্যাপক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ তিনি ।

২০১৫ সালে ব্রিটিশ সংসদ সদস্য হিসেবে লেবার পার্টির ছায়া মন্ত্রিসভায় সংস্কৃতি, মিডিয়া ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী মনোনীত হয়েছিলেন টিউলিপ। ২০১৭ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে চাইল্ড কেয়ার এবং আর্লি এডুকেশন অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) নিযুক্ত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে ওয়েস্টমিনিস্টারে ১০ ভালো বক্তার তালিকায় প্রথম কোনো বাঙালি এমপি হিসেবে জায়গা করে নেন তিনি। ব্রিটিশ রাজনীতিতে তিনি ্এরই মধ্যে একটি পাকা আসন তৈরি করতে পেরেছেন। আমরা আশা করি, এটা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী শুভ প্রভাব বিস্তার করবে।

মানুষের ইচ্ছাশক্তি তাঁকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ আমরা পাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারে। ১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে জাতির জনককে হত্যার পর তাঁর জীবিত দুই কন্যার রাজনীতির প্রতি বিমুখ হওয়ার কথা ছিল। তাঁরা দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হতে পারতেন। কিন্তু তাঁরা সেপথে যাননি। দেশের প্রতি ভালবাসার টানে দেশসেবাকেই ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য টিউলিপ নিজেকে তাঁর পরিসরে যোগ্যতার সঙ্গে থাকতে চেয়েছেন। এবং তিনি তা পেরেছেন। যেখানে সংস্কৃতি সম্পূর্ণ আলাদা, সেখানে তিনি শুধু নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেননি, নিজেকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গড়েতুলেছেন। এ সবই সম্ভব হয়েছে তাঁর ইচ্ছাশক্তির গুণে, যা তিনি অর্জন করেছেন তাঁর পারিবারিক সংস্কৃতি থেকে। তিনি সেই ঐতিহ্যের ধারক, যেখানে চ্যালেঞ্জ নেওয়া থেকে কাওকে পিছিয়ে আসতে দেখা যায়নি। টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক প্রমাণ করেছেন, দূরপ্রবাসেও বাঙালি নিজেকে তুলে ধরতে পারে। টিউলিপের এই অর্জন আমাদের সবাইকে গৌরবান্নিত করে। বাংলাদেশের মানুষও তাঁর কৃতিত্বের অংশীদার।

আজ তাঁর জন্মদিন। দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের মেরটন কাউন্সিলের মিটচাম এলাকায় ১৯৮২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর টিউলিপ সিদ্দিকের জন্ম। বিশ্ব নাগরিক হিসেবে যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা বিষয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তাদের তালিকার শীর্ষে আছেন টিউলিপ। বিলেতে বাঙালির প্রতিনিধি হিসেবে এই সংগ্রামী জাতির মুখ আরো উজ্জ্বল করুন তিনি। বিশ্বের দরবারে বাঙালিকে পৌঁছে দিন বিশ্ব নাগরিকের সম্মানজনক অবস্থানে। জন্মদিনে তাঁকে আমাদের অন্তহীন শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন টিউলিপ। লেখক: অস্ট্রিয়া প্রবাসী লেখক, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক


“দুঃখের দহনে, করুন রোদনে, তিলে তিলে তার ক্ষয়!” : ফারুক ওয়াহিদ

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৭

হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী- ষাট ও সত্তর দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত প্রিয় কণ্ঠশিল্পী, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক পাওয়া শিল্পী আবদুল জব্বার- ‘দুঃখের দহনে, করুন রোদনে, তিলে তিলে তার ক্ষয়’ হয়ে চিরদিনের জন্য আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন- আমাদের আর কোনোদিন গান শোনাবেন না। ৩০ আগস্ট বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে ও সারা বাংলায় অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন- মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। আবদুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৬ সালে তিনি মেট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

বঙ্গবন্ধুকে গান শোনাচ্ছেন আব্দুল জব্বার

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে গান গেয়ে রণাঙ্গনে যুদ্ধ মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা যুগিয়েছিলেন। এই শিল্পীর গাওয়া ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অংসখ্য গানে গানে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর গান শুনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা ও মনোবল বাড়িয়েছে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে তিনি প্রখ্যাত ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের ‍মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করেছিলেন। এছাড়াও তখন ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘুরে ঘুরে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গণসঙ্গীত পরিবেশন করেছেন যা ট্রেনিংরত মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি মুজিবনগর বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে সেসময় বিভিন্ন সময় গণসঙ্গীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ রুপি দান করেছিলেন।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক, ১৯৮০ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করেন বাংলাদেশ সরকার। এছাড়াও ২০০৩ সালে বাচসাস পুরস্কার, ২০১১ সালে সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস(আজীবন সম্মাননা) এবং জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তাঁর গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়?/ দুঃখের দহনে, করুন রোদনে,/ তিলে তিলে তার ক্ষয়!’, ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’ ও ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ কালজয়ী গান তিনটি ২০০৬ সালে মার্চ মাস জুড়ে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
আবদুল জব্বার ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানে পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। তিনি ১৯৬২ সালে প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গিন চলচ্চিত্র ‘সংগমের’ গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৬৮ সালে ‘এতটুকু আশা’ ছবিতে সত্য সাহার সুরে তার গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু’ গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৬৮ সালে পীচ ঢালা পথ ছবিতে রবীন ঘোষের সুরে ‘পীচ ঢালা এই পথটারে ভালবেসেছি’ এবং ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’ ছবিতে রাজা হোসেন খানের সুরে ‘সুচরিতা যেওনাকো আর কিছুক্ষণ থাকো’, ‘এক বুক জ্বালা নিয়ে বন্ধু তুমি’ গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৭৮ সালে সারেং বৌ চলচ্চিত্রে আলম খানের সুরে ‘ও রে নীল দরিয়া’ গানটি দর্শক জনপ্রিয়তা পায়। তার প্রথম মৌলিক গানের অ্যালবাম ‘কোথায় আমার নীল দরিয়া’ ২০১৭ সালে মুক্তি পায়। আব্দুল জব্বারের প্রথম স্ত্রী গীতিকার শাহীন জব্বার যার গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন আব্দুল জব্বার, সুবীর নন্দী, ফাতেমা তুজ জোহরার মত জনপ্রিয় বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পীরা। তাদের সন্তান মিথুন জব্বারও একজন সঙ্গীতশিল্পী। জব্বারের দ্বিতীয় স্ত্রী রোকেয়া জব্বার মিতা যিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
এই কিংবদন্তি শিল্পী অসংখ্য চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন- যেগুলো অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং এখনও মানুষের মুখে মুখে। যেসব চলচ্চিত্রে গান গেয়েছিলেন- সংগম (১৯৬৪), নবাব সিরাজউদ্দৌলা (১৯৬৭), পীচ ঢালা পথ (১৯৬৮), এতটুকু আশা (১৯৬৮), ঢেউয়ের পর ঢেউ (১৯৬৮), ভানুমতি (১৯৬৯), ক খ গ ঘ ঙ (১৯৭০), দ্বীপ নেভে নাই (১৯৭০), বিনিময় (১৯৭০), জীবন থেকে নেয়া (১৯৭০), নাচের পুতুল (১৯৭১), মানুষের মন (১৯৭২), স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা (১৯৭৩), ঝড়ের পাখি (১৯৭৩), আলোর মিছিল (১৯৭৪), মাস্তান (১৯৭৫), সূর্যগ্রহণ (১৯৭৬), তুফান (১৯৭৮), অঙ্গার (১৯৭৮), সারেং বৌ (১৯৭৮), সখী তুমি কার (১৯৮০), কলমিলতা (১৯৮১) এবং আরো অনেক ছবিতে অসংখ্য গান গেয়েছেন।
১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের তীর্থভূমি তাঁর ধানমন্ডি ৩২ নং রোডের বাড়িতে ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই তরুণ শিল্পী আবদুল জব্বারকে আটকিয়ে রেখেছিলেন- উদ্দেশ্য প্রতিদিন ধানমন্ডি ৩২ নং রোডের বাড়িতে শত শত মিছিল আসতো এবং বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য এবং শ্লোগান শেষ হলেই বলতেন ‘এই জব্বার লাগা’ বলার সাথে সাথেই জব্বারের ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অংসখ্য দেশাত্ববোধক জ্বালাময়ী গান গেয়ে মিছিলকারীদের উৎসাহ দিতেন এবং অনুপ্রাণিত করতেন। কিংবদন্তি শিল্পী বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত প্রিয় কণ্ঠশিল্পী আবদুল জব্বার এই দুঃখিনী বাংলায় শুধু একবারই আসেন শুধু একবারের জন্য- শিল্পীর গাওয়া ‘প্রতিদিন কত খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে’- কিন্তু আজ সেই দিনটি এসেছে শিল্পীর নিজের খবরই কাগজের পাতা ভরে।

alt

লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা; ২ নং সেক্টর, বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া


ষোড়শ সংশোধনী বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে এই ‘আত্মঘাতী যুদ্ধ’ বন্ধ হোক = সোহরাব হাসান

বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট ২০১৭

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ খাড়া করেছেন, তার অনেকটাই অসার প্রমাণিত হয়েছে প্রথম আলোয় প্রকাশিত সাংবাদিক মিজানুর রহমান খানের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। এই প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পারি কেবল সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ নয়, অতীতে আরও পাঁচ প্রধান বিচারপতিসহ উচ্চ আদালতের অনেক বিচারপতি রাষ্ট্রপতির এ-সংক্রান্ত ক্ষমতা (নিম্ন আদালতের ১৫শ বিচারকের নিয়ন্ত্রণ, অপসারণ ইত্যাদি প্রশ্ন) বাতিল চেয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায় ও প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে আওয়ামী লীগের প্রধান অভিযোগ—এতে সামরিক শাসক প্রবর্তিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বহাল রাখা, সংবিধানে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে খাটো করে দেখা হয়েছে। এই তিন অভিযোগের প্রথমটি রায় এবং পরের দুটি শুধুই পর্যবেক্ষণ, তবে এ জন্য প্রধান বিচারপতিকে দোষারোপ করার ভিত্তি নেই। এর কোনোটিই সত্য নয়।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জিয়াউর রহমান করলেও এর উৎস চতুর্থ সংশোধনী। চতুর্থ সংশোধনীতে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদ থেকে সরিয়েরাষ্ট্রপতির হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। জিয়াউর রহমান সেটি নিজের হাতে না রেখে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে ন্যস্ত করেন। ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীতেও তা টিকিয়ে রাখা হয়। দ্বিতীয়ত, ১৫শ বিচারক নিয়ন্ত্রণে ১১৬ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, মাসদার হোসেন মামলার রায় অনুযায়ী বিচার বিভাগ পৃথক করার পর সেটি আর কার্যকর থাকে না। মূল সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ ও বদলির কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের হাতে প্রত্যর্পণের কথা থাকলেও সরকার সেখানে ফিরে যেতে চায় না। অথচ সেই সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফেরত নেওয়ার আইন করেছে। অধস্তন আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে বাহাত্তরের সংবিধানে যে ক্রান্তিকালীন বিধানাবলি সংযোজন করা হয়েছিল, স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও তার অবসান হয়নি। স্বাধীনতার আগের আইন (যখন বিচার বিভাগ পৃথক ছিল না)দিয়েই অধস্তন আদালত পরিচালনার কথা ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ নতুন করে পুনর্ব্যক্ত করেছে। অর্থাৎ এই ক্ষমতা তারা রাষ্ট্রপতির হাতেই রাখতে সংকল্পবদ্ধ। এমনকি একে তারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো হিসেবেও ঘোষণা করেছে।

আরও বিস্ময়কর হলো আওয়ামী লীগ জিয়া-এরশাদের সামরিক শাসনকে অবৈধ দাবি করলেও সেই শাসনের এমন কিছু ধারা
বহাল রেখেছে, যা বাহাত্তরের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আদি সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মের নামে কোনো দল বা সংগঠন করা যাবে না। জেনারেল জিয়া সেটি বাতিল করে দেন এবং অদ্যাবধি তাঁর ফরমানই সংবিধানে বহাল আছে। আওয়ামী লীগ ধর্মবাদী দল জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করলেও পঞ্চম সংশোধনীর সংশ্লিষ্ট ধারা এবং রাষ্ট্রধর্ম সম্পর্কে নীরব। এই স্ববিরোধিতা নিয়ে আর যা-ই হোক সেক্যুলার বা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কায়েম করা যায় না।

আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের তিনটি স্তম্ভ—নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা, বিচার বিভাগ। কিন্তু ব্রিটিশ রাজনীতিক এডমন্ড বার্গের মতবাদ
মেনে নিলে উল্লেখিত তিনটি স্তম্ভের সঙ্গে স্বাধীন গণমাধ্যমকে যুক্ত করা যায়। গণমাধ্যম স্বাধীন হলে রাষ্ট্র গণতান্ত্রিক নাও হতে পারে, কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব মনে করে রাষ্ট্র মানেই সরকার বা নির্বাহী বিভাগ, তার হাতেই সব ক্ষমতা থাকবে, অন্যরা উপগ্রহ মাত্র। তাঁরা ভুলে যান যে রাষ্ট্র পরিচালনায় নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগ একে অপরের পরিপূরক, কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়। এই তিন স্তম্ভের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তার সমাধান পাওয়ার ব্যবস্থা সংবিধানেই আছে।

আমরা জাতি হিসেবে যে কতটা অদূরদর্শী ও অবিবেচক ষোড়শ সংশোধনী রায় নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করে সেটাই প্রমাণ করেছি। রায়ে আদালত যদি কোনো ভুল করে থাকেন, আইনি পথেই তার প্রতিকার খোঁজা উচিত ছিল। কিন্তু রাজপথে-মঞ্চে বিচার বিভাগকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো কিংবা প্রধান বিচারপতিকে গণ-আদালতে বিচার করার রণহুংকার দেওয়া কেবল সংবিধান লঙ্ঘন নয়, গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারেরও পরিপন্থী। আদালতের রায় যেমন সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়, তেমনি সংসদে পাস করা কোনো আইনকেও শাশ্বত ভাবার কারণ নেই। জাতীয় সংসদের আইনই যদি চূড়ান্ত হতো তাহলে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের খুনিদের বিচার বন্ধে প্রণীত ইনডেমনিটি আইনটি কখনোই বাতিল করা যেত না।

দুর্ভাগ্যজনক যে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল-সংক্রান্ত রায় এখন আর আইনি বিতর্কের মধ্যে সীমিত নেই। এটি হয়ে পড়েছে মির্জা ফখরুলের ভাষায় ‘আগুন নিয়ে খেলা’ এবং ওবায়দুল কাদেরের ভাষায় ‘সাপ নিয়ে খেলা’। এই রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের ক্ষুব্ধ ও বিএনপির নেতাদের আহ্লাদিত হওয়ার কারণ দেখি না। আদালত যদি রাজনীতিকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে থাকেন, দলনির্বিশেষে করেছেন। রায়ে সব আমলের সমালোচনা করা হয়েছে। বিএনপি সরকার যে আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগকৃত হাইকোর্টের ১০ জন বিচারককে চাকরি থেকে বাদ দিয়েছিল, তাও কিন্তু করা হয়েছিল রাষ্ট্রপতির আদেশবলে। উচ্চ আদালত সেই আদেশকে বাতিল করেছেন বলেই তাঁরা পরবর্তীকালে চাকরি ফেরত পেয়েছিলেন। নিয়োগকর্তা রাষ্ট্রপতির আদেশের পবিত্রতা রক্ষা করলে তাঁরা চাকরি ফেরত পেতেন না। রাষ্ট্রপতির নাম ভাঙিয়ে এ ধরনের অনিয়ম-বিচ্যুতি কেবল বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগ আমলেও হয়েছে।

তিন সপ্তাহ ধরে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যে ভাষায় প্রধান বিচারপতিকে গালমন্দ করেছেন, কোনো গণতান্ত্রিক দেশের রাজনীতিকেরা সেটি করতে পারেন না। রায়ের পর্যবেক্ষণ যতটা আমরা পড়েছি, জেনেছি তাতে তিনি বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটাক্ষ করে কিছু বলেছেন বলে মনে হয় না। বরং তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বহুবার বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য তাঁর অসাধারণ অবদানকে স্বীকার করেছেন।

দ্বিতীয়ত, প্রধান বিচারপতি যে ‘আমিত্বের’ কথা বলেছেন, বা একক ব্যক্তি দ্বারা কোনো দেশ গঠিত হয় না বলে রায়ে যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, সেটি কোনো ব্যক্তি বিশেষকে লক্ষ করে নয়; বরং আমাদের রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক একনায়কত্ববাদের কথা বলেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হতে পারে, আইনি তর্কও চলতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই রায় নিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করা গণতান্ত্রিক রীতির পরিচয় নয়। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি যে ষোড়শ সংশোধনীর রায় ছাপিয়ে প্রধান বিচারপতির দেশপ্রেম, ধর্মবিশ্বাস ইত্যাদি নিয়েও কটাক্ষ করা হয়েছে। এখানে দু-একটি উদাহরণ তুলে ধরছি: ২৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতির বিচার জনতার আদালতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে জনতার আদালত তৈরি হচ্ছে।’ একই দিন বিএমএ আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘আপনার বাংলাদেশের কিছুই পছন্দ হয় না। আপনি বাংলাদেশ ত্যাগ করলেই পারেন। আবোলতাবোল কথার কিন্তু একটা সীমা আছে।’ যুব মহিলা লীগের মানববন্ধনে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা পাকিস্তানপ্রেম দেখান। কারণ, তিনি পাকিস্তানের দালাল।’ তবে আদালত অবমাননার দায়ে দণ্ডিত দুই মন্ত্রী-খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তর্জন-গর্জনে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। আওয়ামী লীগের সাংসদ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক রায় লিখে দিয়েছেন।

জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের কথা মেনে নিলে আওয়ামী লীগ সরকার একজন পাকিস্তানপন্থী লোককে ‘রাজনৈতিক বিবেচনায়’প্রধান বিচারপতি বানিয়েছে। তাও যোগ্যতা বিবেচনা করে নয়, সংখ্যালঘু হিসেবে অনুগ্রহ করে। তাঁদের জানা উচিত, বাংলাদেশের অনেক আগেই একজন হিন্দু পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। কোনো পত্রিকার সম্পাদক রায় লিখে দিয়েছেন বা লেখা রায় পেনড্রাইভে তাঁর কাছে চলে আসার কথা বলা কেবল ব্যক্তি নয়, গোটা বিচারব্যবস্থার প্রতিই অশ্রদ্ধা প্রকাশ পায়। প্রধান বিচারপতিকে পাকিস্তানে পাঠানো কিংবা জনতার আদালতে বিচার করার হুমকি নিশ্চয়ই রাজনৈতিক সুরুচি বা শালীনতার পরিচয় নয়। যখন কোনো মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় তাঁকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছে, তাঁর মাধ্যমে পদায়ন পাওয়া ব্যক্তিকেই খাটো করা হয় না, নিয়োগকর্তা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও হেয় করা হয়। সে ক্ষেত্রে তো প্রধান বিচারপতি সংসদ ও নির্বাহী বিভাগ সম্পর্কে যে শঙ্কা ব্যক্ত করেছেন, সেটাই সত্য বলে প্রতীয়মান হয়।

তবে আদালতের রায় নিয়ে কেবল ক্ষমতাসীন দলটিই বাড়াবাড়ি করেনি, বিরোধী দল বিএনপিও শুরু থেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করেছে। দেশের উত্তরাঞ্চল বন্যায় ভাসছে, সারা দেশে রাস্তাঘাট বেহাল, দুর্গত মানুষের আহাজারিতে বাতাস ভারী হচ্ছে—এসব
কিছুই বিএনপি নেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে না। তাঁরা রায় নিয়ে এমন ডঙ্কা বাজালেন যে মনে হচ্ছিল ক্ষমতার কাছাকাছি চলে এসেছেন। কিন্তু রায়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত শাসনকে যে ব্যানানা রিপাবলিক এবং তাকে ‘নোংরা রাজনীতির নিয়ামক’বলে বিএনপির নৈতিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে, অথচ সে বিষয়ে তাঁরা একটি কথাওবলছেন না। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের অপব্যবহার যে বিএনপি আমলেও বেশ ঘটেছে, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছাড়াই তিন জেলা জজকে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রেষণে পাঠানো তার একটি উদাহরণ মাত্র।

যখনই দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসনের ঘাটতির কথা আসে, আওয়ামী লীগ নেতারা বুলন্দ আওয়াজ তোলেন, স্বাধীনতার পর বেশির ভাগ সময় তাঁদের ভাষায় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশ শাসন করেছে বলেই এই দুর্গতি। তাহলে ৪৬ বছরের দায় কেন আওয়ামী লীগ নিজের কাঁধে নিল এবং বিচার বিভাগকে শত্রুর কাতারে দাঁড় করাল?

রায়ে ক্ষমতাসীনেরা যদি সত্যি সত্যি আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, তঁাদের উচিত রিভিউর জন্য আবেদন করে প্রতিকার চাওয়া। আদালতকে রাজপথে নিয়ে আসা যেকোনোভাবেই কারও জন্য কল্যাণকর নয়, সে কথাটিই আরও পরিষ্কার করে বলেছেন
প্রখ্যাত সাংবাদিক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী। তিনি লিখেছেন, ‘এবারের বিতর্কে যদি বিচার বিভাগের ক্রেডিবিলিটি নষ্ট হয়, তাহলে নির্বাহী বিভাগের ক্রেডিবিলিটিও নষ্ট হবে, তাহলে নির্বাহী বিভাগের ক্রেডিবিলিটিও রক্ষা পাবে না। বিচার বিভাগের মর্যাদা যতটা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে, তা উদ্ধারে বহু যুগ লাগবে। আওয়ামী লীগের যেসব মন্ত্রী ও নেতা লাগামহীন কথাবার্তা শুরু করেছেন, তাঁরা যেন সতর্ক হন। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে শূন্যাবস্থা সৃষ্টি করে তাঁরা যেন সেই শূন্যাবস্থা পূরণে একটি অপশক্তির পথ খুলে না দেন। (আগুন নিয়ে খেলা, যুগান্তর, ২৮ আগস্ট ২০১৭)।

বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে এই ‘আত্মঘাতী যুদ্ধ’ বন্ধ হোক।

সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।

এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


ভূচর পাখি কালচে দামা = আলম শাইন

সোমবার, ২৮ আগস্ট ২০১৭

ভূচর পাখি। শীতে পরিযায়ী হয়ে আসে। এতদাঞ্চলে প্রজনন ঘটে না। চেহারা মোটামুটি আকর্ষণীয়। প্রাকৃতিক আবাসস্থল তুষারপাত হয় এমন তৃণভূমি অঞ্চল। পাথুরে এলাকায়ও দেখা যায়। বিচরণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে। পুরুষ পাখির গানের গলা ভালো। গাছের উঁচু ডালেবসে খুব ভোরে এবং গোধূলীলগ্নে গান গায়। স্বভাবে লাজুক। বেশির ভাগই একাকি বিচরণ করে। প্রজনন মৌসুমে জোড়ায় জোড়ায় দেখা যায়। খাদ্যের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায় লতাগুল্ম কিংবা ঝোঁপের নিচে। পরিত্যক্ত বা স্যাঁতস্যাঁতে এলাকার লতাপাতা উল্টিয়ে এবং ঘন ঘন ঠোঁট চালিয়ে খাবার খোঁজে। দ্রুত দৌড়াতে পারে, অসম্ভব দ্রুত। দুই পা একত্রিত করে লাফানোর মতো দৌড়ায়। গাছের উঁচুতে বিচরণ করে না। মাঝারি আকৃতির ফাঁকাডালে বেশি দেখা যায়। দেশের সর্বত্র দেখা যাওয়ার নজির নেই। বৈশ্বিক বিস্তৃতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী হুমকি নয়।

alt
পাখির বাংলা নাম:‘কালচে দামা’, ইংরেজী নাম:‘নাউম্যান’স থ্রাস’(Naumann’s Thrush) বৈজ্ঞানিক নাম: Turdus naumanni।
প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ২৩-২৫ সেন্টিমিটার। ওজন ৬৩-৮১ গ্রাম। মাথা, ঘাড় ও পিঠ জলপাই বাদামির সঙ্গে কালো ছিট। ডানার প্রান্ত পালক পাটকিলে। লেজ কালচে জলপাই। চোখের ওপর দিয়ে সাদা চওড়া টান ঘাড়ে ঠেকেছে। গলা আঁশটে ক্রিমসাদা। বুক থেকে লেজতল পর্যন্ত কালো-সাদা বুটিক। চোখ কালো। উপরের ঠোঁট কালচে, নিচের ঠোঁট হলদে জলপাই। পা ময়লা হলদে, নখ কালচে।
 প্রধান খাবার: কীটপতঙ্গ, পোকামাকড় ও কেঁচো।
প্রজনন মৌসুম মে থেকে জুন। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। সাইবেরিয় অঞ্চলে অধিক প্রজনন ঘটে। বাসা বাঁধে ভূমি থেকে ২-৭ মিটার উঁচুতে। গভীর কাপ আকৃতির বাসা। উপকরণ হিসাবে ব্যবহার করে শৈবাল, শুকনো ঘাস ও লতাপাতা। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় ১৪-১৫ দিন।
লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ। ধষধসংযরহব@মসধরষ.পড়স


ভারতীয় সেনা অফিসার কর্নেল শ্রীকান্ত পুরোহিত কি জঙ্গি?

শুক্রবার, ২৫ আগস্ট ২০১৭

ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্ণেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিতের জামিন হয়েছে ৫বছর পর।জঙ্গিবাদী তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।প্রমাণের আলামত গোপন করতেই এতো দীর্ঘসময় লেগেছে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, হিন্দু জঙ্গি  স্বয়ং এই বিশাল বাহিনীর কমান্ডিং রেংকের অফিসাররা? ঘটনা নতুন নয়।তবে সামরিক বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা চাকরীরত থাকা অবস্থায় জঙ্গিবাদী বিদ্বেষের নেতৃত্ব করার বাস্তবতা নিশ্চয়ই ভারতের নত্যন পরিচয় দিচ্ছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী বা প্রতিরক্ষাবাহিনীর এই নতুন পরিচয় কি ভারতে জন্যে শান্তি স্থিতিশীলতা ওসমৃদ্ধি উৎপাদনে সক্ষম?প্রতিবেশী দেশ ও সমাজের সাথে সৌহার্দ্য বাড়াবার লক্ষণ?নাকি স্থায়ী তিক্ততার আগ্নেয়গিরি গড়ার পথ? এশিয়া প্যাসিফিকের এই বিশাল জনসংখ্যার দেশের এই রাজনৈতিক ধারার বিষয়টি সমাজবিজ্ঞানী,  রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের  গবেষণার প্রাধান্যে উঠে আসছে বলেই ধারনা করা যায়। সন্দেহভাজন হিন্দু জঙ্গি পরিচয়ে সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতারের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রমান হাতেনাতেই ধরা পড়লো। মুসলমান সংখ্যাধিক্য এলাকায় বোমাবর্ষণ করে বিশেষ ধর্ম বিশ্বাসী মানুষ হত্যা করা এবং ভয় বিভীষিকা ছড়ানোর এই লোমহর্ষক নিষ্ঠূরতায় কর্ণেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত গ্রেফতার হওয়ায় ভারতে উগ্রপন্থী জঙ্গিবাদের উৎসের প্রকৃত চেহারা উম্মোচিত হলো।
 তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ২৯সেপ্টেম্বর ২০০৮ মালিএগাঁও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বোমাবর্ষণের জিনিষ সামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন।এই সিরিজ বোমা হামলায় ৬জন মৃত্যু বরণ করে এবং আহতের সংখ্যা ছিলো অনেক।এই মানুষগুলো মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে আসছিলো।বোম্বে হাইকোর্ট ২০১৬সনে তাঁর জামিন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলো।তিনি প্রায়ই ৯বছর জুডিশিয়াল কাষ্টডিতে আটক আছেন।তার এই ঘটনা বেরিয়ে আসার পর রেডিক্যাল হিন্দু জঙ্গিবাদের রাষ্ট্রীয় করনের আলামত চলে আসলো।
এসপ্তাহের নয়া খবর হলো লেঃকর্ণেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিতের জামিন হয়েছে ন্যাশানাল ইনভেষ্টিগেষান এজেন্সীর আপত্তির কড়া অবস্থান দেখানোর পরও।ধারণা করা হচ্ছে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিত্বকে সরকারীকরণ ও রাষ্ট্রীয়করণ করে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্রে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া চালু হয়েছে বলেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ থাকলেও অভিযুক্ত কর্ণেল সাহেব জামিন পাচ্ছেন এবং সামরিক বাহিনীতে ফিরে যাবেন।এতে অর্থ কি দাঁড়ায়? এটা পরিষ্কার হলো, তিনি অভিযোগমুক্ত না হলেও সামরিক বাহিনীতে কর্মরত থাকার সুযোগ তাকে দেয়া হচ্ছে।ভারতীয় সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা মুসলমান হত্যার সন্ত্রাসকে অনুমোদন দেয়।নীরিহ নির্দোষ ভারতীয় নাগরিক মুসলমান হবার দায়ে ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তার হত্যার টার্গেট হওয়াকে নীতিসিদ্ধ করেছে।এমতাবস্থায় ভারতকে বা ভারত সরকারকে মুসলমান বিদ্বেষী বলা যায়।বলা যায় জঙ্গি সন্ত্রাসী।  
লেঃকর্ণেল শ্রীকান্ত প্রসাদ পুরোহিত এবং স্বামী অসীমানন্দ সাম্প্রতিককালের জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছিলো। অসীমানন্দ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবা সংঘ(আর.এস.এস)র কর্মী। তিনি ২০০৭ সনে সমযোতা এক্সপ্রেস হামলা এবং আজমীর শরীফ দরগাহ্‌ হামলার   প্রধান পরিকল্পনাকারীরূপে অভিযুক্ত তালিকাভূক্ত আসামী। তিনি আরো সাম্প্রদায়িক হত্যাকান্ড এবং বোমা বিস্ফোরণে মূল পরিকল্পনাকারী বলে সনাক্ত করেছে ন্যাশানেল ইনভেষ্টিগেষন এজেন্সি বা এন.আই.এ।ভারতের এই তদন্ত সংস্থা সে দেশে সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসবিষয়ক ঘটনাবলী তদন্ত পারদর্শী।তাদের মতে, অসীমানন্দ মহারাষ্ট্রের মালেগাঁও সহ বহু সন্ত্রাসী ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আছে।২০০৬সনের মালেগাঁও বোমাবাজিতে ৪০জন ভারতীয় মুসলমান নাগরিক হত্যা করা হয়েছিলো। খাজা মঈন উদ্দীন চিশতির মাজার শরীফে হামলায় ৩জন হত্যা ও কমপক্ষে ১৫জন জখম হয়েছিলো।ভারত-পাকিস্তানে যোগাযোগের ট্রেন সমঝোতা এক্সপ্রেসে প্রায় ৭০জন যাত্রীকে হত্যা করা হয়েছিলো।
 অসীমানন্দ গ্রেফতার হয়েছিলেন ২০১০সনে। সন্ত্রাসের অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিলো।ট্রেনের ঘটনা সহ ২০০৬-২০০৮ দুই বছরে  আরো ৫টি বড় আকারের সন্ত্রাসের কথা সে স্বীকার করেছিলো।হিন্দু মৌলবাদী জঙ্গিত্বের লক্ষ্যে ভয় ভীতি ছড়িয়ে তাদেরকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যেই এই সন্ত্রাস করা হয় বলে সে জানায়। সন্ত্রাসী সুনিল যোশী দেবেন্দ্র গুপ্তের ঘনিষ্ট বন্ধু এই স্বামী অসীমানন্দ আর এস এস সংগঠনের ছায়ায় সন্ত্রাস করে করে নাম কামিয়েছে।
গ্রেফতার হয়েছে সাজাও পেয়েছে অপরাধ প্রমান হবার পর।ঝারখন্ডে জামতাদা এলাকার এই লোক জিলা প্রচার সম্পাদকের পদে ছিলেন আর এস এসের।তাদের সাথে তৃতীয় অপরাধী ব্যক্তিটির নাম ভবেশ প্যাটেল। তার নাম আর এস এসের কোন পদ পদবীতে না থাকলেও প্রধান অপরাধীরূপে আদালতে প্রমানিত হয়েছিলো আজমীর শরীফ দরগাহে বোমা আক্রমণ করে মুসলমান হত্যার অপারেশনে। এই অপরাধী অসীমানন্দ আদালতে স্বীকারও করেছে সে হায়দ্রাবাদে মক্কা মসজিদে,সমঝোতা ট্রেন এবং মালেগাঁও বোমাবাজি করে হত্যাকান্ড ঘটানোর সত্যতা।  
মৌলবাদী ধর্মান্ধ হিন্দু জঙ্গিবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হয়েই তিনি রাজনৈতিক বিতর্কে নিজেকে অধিক ঠেলে দিয়েছেন।মুলতঃভারতে এই ধর্মীয় মৌলবাদী জঙ্গিবাদকে বিভিন্ন প্রদেশে এবং সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার গঠনে প্রশ্রয় দেয়ার কারণে দেশটায় আভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা তুফানের বেগে ছড়িয়ে পড়ছে।তারপরও আদালত যখন স্বামী শ্রীকান্তকে নির্দোষ বলে খালশ দেয়, তাতে কি মানুষ প্রশ্ন করছেনা আদালতের বিচারক কেনা বেচা হয়েছে কিনা?
অর্থাৎ সরকারী দল ভিজেপি আর এস এসের আনুগত্যের প্রমান মিলছে কি এই নির্দোষের দূষণে?  ভারতে কম্যুনিষ্টদের বিরুদ্ধে শসস্ত্র লড়াই করেছে আর এস এস। এই হিন্দু জঙ্গিদের মধ্যে অনেকেই এই লড়াইকে তাদের আদর্শ বলে গণ্যও করে। স্থানীয় মাস্তানীর জন্যে সবাই এই জঙ্গিবাদ ধারণ করেছে কথাটা ঠিক নয়।


হোয়াইট হাউস কুর্সির কিচ্ছা কাহিনী = আব্দুল মালেক

বুধবার, ২৩ আগস্ট ২০১৭

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান কৌশলবিদ হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট স্টিভ ব্যাননকে তার চাকরি থেকে অবশেষে সাত মাসের মাথায় বরখাস্ত করা হলো। সূত্র মতে ব্যাননকে দুই সপ্তাহের জন্য সময় দিয়ে পদত্যাগ অথবা বরখাস্ত এই দুটি বিকল্প দিয়ে অবশেষে বাধ্য করা হলো সরে যেতে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব সারা হাকাবি স্যান্ডার্স ব্যাননের প্রস্থান নিশ্চিত করেছেন, এই বলে ‘হোয়াইট হাউসের প্রধান স্টাফ জন কেলি এবং স্টিভ ব্যানন পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়েছেন যে শুক্রবারই হবে তার কর্মের শেষ দিন। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রথমবারের মতো বড়সড় এক ছুটি কাটাচ্ছেন তখনই ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলে ঘটে গেল শেতাঙ্গ উগ্র বর্ণবাদী নাম অভিহিত হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট, ক্লু ক্লাক্স ক্লান ও নিও নাৎসীদের সঙ্গে মানবতাবাদী কর্মীদের ভয়াবহ সংঘর্ষ- এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত। কিন্তু প্রেসিডেন্ট যখন উভয় পক্ষকে সমভাবে দোষারোপ করে বক্তব্য দিলেন তখন এটি সমগ্র আমেরিকায় তুলেছে প্রবল সমালোচনার ঝড়।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসীনের পর থেকে মার্কিন রাষ্ট্রপতি ভবনে পরিস্থিতি একে একে এমন বিপর্যস্ত অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে মিডিয়া কর্তৃক যাকে আখ্যা দেয়া হয়েছে ‘সিভিল ওয়্যার ইন হোয়াইট হাউস!’ একের পর এক হায়ার ফায়ারের গোলাগুলির মধ্যে অবস্থাটি চূড়ান্ত রূপ ধারণ করল হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট স্টিভ ব্যাননের এই বরখাস্ত। তার পূর্বে কম্যুনিকেশন ডিরেক্টর এ্যান্থনি স্ক্যারামুচি গত ২৫ জুলাই নিয়োগ পেয়ে বরখাস্ত হলেন ১১ দিনের মাথায়। মুচির আগে আগে গেলেন হোয়াইট হাউস চিফ রেনো প্রিভিস। মুচিতো স্বপদে যোগদান করেই মিডিয়ায় প্রকাশ্য বিষোদ্গার করা শুরু করেছিলেন প্রিভিসের বিরুদ্ধে। অথচ রিপাবলিকান দলের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন প্রিভিসের সর্বাত্মক সমর্থনের বলেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্টাককির্ন হোয়াইট হাউসের যাত্রা পথ সহজ হয়েছিল অনেকটাই। লোকে বলে তদানীন্তন হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ প্রিভিসকে উৎখাতের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে প্রেসিডেন্টই নাকি তলে তলে ইন্ধন যুগিয়েছেন তার তখনকার ‘প্রিয়মানুষ’ নিউইয়র্ক ওয়াল স্ট্রিটের এই এ্যান্থনি স্ক্যারামুচিকে। কিন্তু বড়র পিরিতি এমনি বালুর বাঁধ যে মাত্র ১১ দিনেই মুচির হাতের চাঁদ পরিণত হলো রজ্জুতে-দড়ি হাতে তাকেও বিদায় হতে হলো। প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার সম্পর্কে অনাগ্রহ দেখিয়ে ইতোপূর্বে ট্রাম্প তাকে ও বাই বাই করলেন যেমনটি হয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে। ইতোপূর্বে তো ট্রাম্পের হাতে ফায়ার হতে হয়েছে ফর্মার এফবিআই প্রধান জেমস কৌমিকে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হায়ার করা নতুন হোয়াইট হাউস চিফ সিভিলিয়ান নন, তিনি ছিলেন ট্রাম্প মন্ত্রিসভার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান। তিনি হচ্ছেন একজন সাবেক জেনারেল নাম জন কেলি। জে. কেলি গত মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড একাডেমি অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ট্রামকে একটি ক্ষুরধার তরবারি হস্তান্তর করে মজাদার এক ঠাট্টা করেছিলেন : ‘প্রেসকে শায়েস্তা করার জন্য এটি ব্যবহার করুন, স্যার।’ তখুনি রতœ হিসেবে ট্রাম্পের নজর কেড়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের নতুন প্রধান হিসেবে এখন জেনারেল সাহেবের নিজেরই কিছু অস্ত্রের প্রয়োজন। তবে অবাধ্য সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে নয়, হোয়াইট হাউসের পশ্চিম ডানাকে শায়েস্তা করার জন্য। সামরিক বাহিনীর কায়দায় অদ্ভুতভাবে তিনি ফল ইন করালেন হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টাসহ সমুদয় ২০০ জন্য কর্মীকে। প্রিভিস সাহেব হোয়াইট হাউসের চীফ অব স্টাফ থাকাকালীন অবস্থায় ওয়েস্ট উইঙ্গে চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। তাকে একেবারে পাত্তা না দিয়ে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ রাষ্ট্রপতির কাছে সরাসরি রিপোর্ট এবং প্রতিশ্রুতি আদায় করার রীতি প্রচলন করেছিলেন। হোয়াইট হাউসকে শিক্ষা দেয়ার মতো বিশ্বের কঠিনতম দায়িত্ব পালন এক জন জেনারেলের পক্ষে সম্ভব কিনা তা দেখার বিষয়। তাছাড়া অভিজ্ঞ সমরবিদ হলেও রাজনীতির সঙ্গে কখনই তার কোন যোগ সূত্র ছিল না। তাই প্রেসিডেন্টের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি সিনেটর ও প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের কাছে লবিং করতে কতটুকু সহায়কের ভূমিকা পালন করতে পারবেন সেটা বলা মুশকিল। তা ছাড়া সমালোচকরা বলেন ওয়েস্ট উইংয়ের যাবতীয় সমস্যার মূলে যেখানে রয়েছেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট সেখানে কোথায় লাগবেন জেনারেল সাহেব!
আমেরিকার বিগত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে এফবিআইয়ের গঠিত একটি স্পেশাল কাউন্সিল জোরেশোরে তাদের তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এক ফেডারেল গ্রান্ড জুরির মাধ্যমে তদন্ত করছে প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টর রবার্ট মুলারের নেতৃত্বে এই কাউন্সিল। ইলেকশন ক্যাম্পেনকালীন সময়ে ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা নিয়ে এর অন্তর্ভুক্ত থাকছে রাশিয়া কর্তৃক মার্কিন নির্বাচন হ্যাকিংসহ প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেন বিষয়। মুলারের স্পেশাল কাউন্সিল ও এফবিআই ব্যাপারটি নিয়ে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে। এই সংশ্লিষ্টতায় ট্রাম্প ক্যাবিনেটের প্রথম ন্যাশনাল সিকিউরিটি এডভাইজার মাইকেল ফ্লিনের সঙ্গে রাশার যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক লেনদেন হয়েছে এই অভিযোগে মাত্র ২৪ দিনের মাথায় তাকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। এবার নতুন করে হোয়াইট হাউসের কাছে সাবেক সেই এডভাইজার ফ্লিনের রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন বিষয়ে নথিপত্র চেয়েছেন রবার্ট মুলার। প্রসঙ্গ ক্রমে স্মরণ করা যেতে পারে ১৯৯৮ সালে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে পলা জোন্স নামে এক নারী যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একটি ল’ স্যুট দায়ের করেছিলেন। ফলে পারজুরি এবং অবস্ট্রাকশন অব জাস্টিসের কারণে কংগ্রেস ক্লিনটনকে ইমপিচমেন্টের সম্মুখীন করেছিল গ্রান্ড জুরি। আর এই বর্তমান গ্রান্ড জুরি তদন্তের স্বার্থে যে কোন ব্যক্তিকে যেমন সমন জারি করতে পারবে তেমনি পারবে যাবতীয় নথিপত্র তলব করতেও। এসব ব্যাপারে কোন তথ্য গোপন করা কিংবা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া অপরাধ বলে গণ্য হবে। সুতরাং সহজেই অনুমেয় স্পেশাল কাউন্সিল একটি কঠিন ঠাঁই। আসলে ডোনাল্ড ট্রাম হোয়াইট হাউসের অধিবাসী হওয়ার পর থেকেই তার এক সময়ের বন্ধুদেশ রাশিয়ার গেরো আক্ষরিক অর্থেই তার পিছু ছাড়ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়ার বিষয়টিকে ‘উইচ হান্টিং’ আখ্যা দিয়ে আসছেন শুরু থেকে। কিন্তু ইদানীং সেই মন্তব্য ঘটমান ঘনঘটার হালে পানি দিতে অপারগ।
নির্বাচন ’১৬তে নিজ ক্যাম্পেনের রাশান সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্তে রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প খুবই রুষ্ট ও বিক্ষুব্ধ। নানা মহল থেকে অভিযোগ এসেছে রাশান ইনভেস্টিগেশন বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কৌমীকে বরখাস্ত করেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির বক্তব্য হলো যে প্রাক্তন এফবিআই ডিরেক্টর জেমস কৌমি বরখাস্ত হওয়ার পূর্বে তিনটি অকেশনে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন রাশিয়ান ইনভেস্টিগেশনের টার্গেট কি ট্রাম্প নিজেই এবং প্রতিবারেই এর জবাব পেয়েছিলেন না সূচক। তিনি এই বরখাস্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল রোজেনস্টাইনের কৌমি বরখাস্ত সংক্রান্ত একটি মেমো যেটিকে তিনি এ্যাটর্নি জেনারেল জেব সেশনের হাতে হস্তান্তর করেছিলেন। উল্লেখ্য, ক্ষমতায় বসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ট্রাম্পই রোজেনস্টাইনকে নিয়োগ দেন। আশ্চর্যের কথা প্রশাসন কর্মকর্তারা যে রোজেনস্টাইনের লিখিত মেমোকেই বহুল বিতর্কিত কৌমি বরখাস্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আবার সেই একই ব্যক্তি কিছু দিন পরেই রবার্ট মুলারকে প্রধান করে গঠন করেছেন এমন শক্তিশালী কাউন্সিল। যার মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারাভিযান কালে রাশিয়ান সরকার এবং সংশ্লিষ্ট যে কোন লিঙ্ক অথবা সমন্বয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফেডারেল অপরাধের ধারায় ক্রিমিনাল চার্জ আনার ক্ষমতা প্রদান করেছেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল। যাই হোক ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন তদন্ত কাজে মুলার যে দু’ডজনের বেশি এ্যাটর্নি নিয়োগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছে হিলারি ক্লিনটনের সমর্থক ব্যক্তিরা। তিনি আরও বলছেন সবচেয়ে বড় কথা রবার্ট মুলার স্বয়ং একজন অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই চীফ এবং বহুল আলোচিত চাকরিচ্যুত এফবিআই প্রধান কৌমির বন্ধু।
প্রেসিডেন্টের চারপাশে পুতিনের দেশ নিয়ে চলছে নানা ঘটন অঘটন। বর্তমান এ্যাটর্নি জেনারেল জেব সেশন তার এ্যাটর্নি জেনারেল পদটি নিশ্চিতকরণ শুনানির শপথের সময় বলেন, যে নির্বাচনকালীন সময়ে রাশিয়ান কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার কখনও যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে খবর প্রকাশিত হয় যে আমেরিকায় নিযুক্ত সে সময়ের রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত সের্গেই কিসালাকের সঙ্গে তার দু’বার সাক্ষাত হয়েছিল। চলবে...
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

(শেষাংশ)
এ্যাটর্নি জেনারেল হয়ে পরবর্তীতে ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের তদন্ত কাজ থেকে তিনি নিজেকে প্রত্যাহার করছেন। কিন্তু তার ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল এই স্পেশাল কাউন্সিল গঠন করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জেব সেশনের বিরুদ্ধে অত্যšন্ত ক্ষুব্ধ হলেন স্বভাবতই। একাধিক টুইটের মাধ্যমে তিনি মতামত ব্যক্ত করেছেন এই বলে যে জেব এভাবে তার কাছ থেকে সরে যাবেন সেটি জানলে তিনি তাকে এ্যাটর্নি জেনারেল বানাতেন না। নির্বাচনকালীন সময়ে সেশনসই প্রথম সিনেটর যিনি প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সর্বাত্মক সমর্থন জানান। কিন্তু এমন কঠিন মন্তব্যে গুঞ্জন উঠেছিল ট্রাম সেই শুভাকাক্সক্ষী সেশনকে বরখাস্ত করতে যাচ্ছেন। সে কারণে তাকে সমর্থন করে রুষ্ট সিনেটর বন্ধুগণ প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে হুঙ্কার ছেড়েছে সেশনকে সরালে পরিণতি ভাল হবে না। এরপর ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন প্রিভিসকে বিদায় করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান থেকে জেনারেল কেলিকে হোয়াইট হাউস চীফ হিসেবে নিয়োগ দিলেন তখন জেব সেশন্স ফের ট্রাম্প মুখো হয়ে ঘোষণা দিয়েছেন মিডিয়ায় গোপন তথ্য ফাঁসকারীদের কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। বলা বাহুল্য নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্টসহ নানা মিডিয়ায় ৬০টিরও অধিক তথ্য ফাঁসের ঘটনা মার্কিন মডার্ন প্রেসিডেন্সি যুগে সৃষ্টি করেছে সর্বোচ্চ রেকর্ড। ট্রাম্প বলেন এটি সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকা- ছাড়া আর কারও নয়। কারণ আমেরিকার ১৭টি গোয়েন্দা সংস্থা এক বাক্যে বলছে নির্বাচনে রাশিয়ান হস্তক্ষেপের কথা। ইন্টেলিজেন্স কমিটি সেটি নিয়ে তদন্ত করছে এবং বব মুলারের নেতৃত্বে স্পেশাল কাউন্সিলের তদন্ত জাল ছড়িয়ে পড়ছে নানাদিকে।
খবরে এসেছে ৩০ বছর ধরে ট্রাম্পের পার্সোনাল সেক্রেটারি রোহন গ্রাফকে সিনেট কমিটিতে শুনানির জন্য হাজিরা দিতে ডাকা হয়েছে। কৌমির অপসারণের ব্যাপারে তথ্য চেয়ে বিদায় নেয়া হোয়াইট হাউস চীফ রেনো প্রিভিসকে কে তলব করেছে স্পেশাল কাউন্সিল। ইতোপূর্বে ট্রাম্পের ক্যাম্পেন চেয়ারম্যান পল ম্যানফোর্টের ভার্জিনিয়ার আলেকজেন্দ্রিয়াস্থ গৃহে কোর্ট কতৃক সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে তল্লাশি চালিয়েছে এফবিআইএর একটি তদন্তকারী দল। লবিস্ট পল কর্তৃক বিদেশী ব্যাংকে লেনদেন, ট্যাক্স রেকর্ডসহ যাবতীয় নথিপত্র তারা সার্চ করেছে। এর পূর্ব দিনে পলকে হাজির হতে হয়েছিল সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির সামনে। পল ম্যানফোর্ট হলেন একজন খ্যাতনামা আমেরিকান আইনজীবী, লবিস্ট এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা এবং ইতোপূর্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড, রোনাল্ড রিগান, জর্জ বুশ এবং জিওপি দলনেতা বব ডোলের পরামর্শক ছিলেন। উল্লেখ্য, এক সময় তিনি রাশান সমর্থন পুষ্ট সাবেক ইউক্রেন সরকারের পক্ষে মার্কিন কংগ্রেসে লবিং করেছিলেন। এ বিষয়ে জনকণ্ঠে আমার একটি লেখা ‘ইউক্রেনে উত্তাপ ও আমেরিকান লবিং ব্যবসার মধুমাস’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল বিগত ১৪ সালের ৩১ মে তারিখে। যাই হোক একই কমিটিতে হাজিরা দিয়ে রাশিয়া বিষয়ে আড়াই ঘণ্টা জেরার সম্মুখীন হতে হয়েছে ট্রাম জামাতা কুশনারকেও। ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ পুত্র ডোনাল্ড জুনিয়র ক্যাম্পেনকালে রাশান সরকারের একজন ল’য়ারের সঙ্গে নিউইয়র্কে মিটিংয়ের খবর প্রকাশিত হওয়ার কারণে তাকেও সেখানে হাজিরা দিতে হবে। ডোনাল্ড জুনিয়র যদিও বলেছেন হিলারি শিবির সম্পর্কে গোপন তথ্য দেয়া হবে বলে তাকে এক ই-মেইলে জানানো হয়েছিল। কিন্তু এ রকম কোন তথ্যই পাওয়া যায়নি বলে বৈঠকটিকে তিনি নিষ্ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এভাবেই ট্রাম ক্যাম্পেনে প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠজনেরা জড়িয়ে যাচ্ছেন তদন্তের জালে। আর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটু একটু করে চারদিক দিয়ে ঘিরে ফেলছে সেই জাল। নির্বাচনে রাশিয়ান সংশ্লিষ্টতা ক্রমশই যেন একটি আশঙ্কাজনক পরিণতির দিকে ধাবমান। হোয়াইট হাউস কুর্সির ওপর ঘন কালো মেঘের বিস্তার দেখে ট্রাম্প সাহেব নিশ্চুপ বসে নেই। ভার্জিনিয়ার এক বিশাল র‌্যালিতে উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চানÑএখানে কি কোন রাশান আছেন?
Ñসমস্বর জবাব ছিলÑনা!
-না রাশান নেই, আপনাদের ভোটেই আমি জিতেছি।
এরপর তার মন্তব্য ছিল ‘এসব বলার কারণ হিলারির পরাজয় তারা মেনে নিতে পারেনি।
এই কথা শুনে ট্রাম্প শিবিরের মানুষজন দাবি করলেন লিবিয়ার বেনগাজিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হত্যার পেছনে হিলারির ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করার। ট্রাম তার বিরুদ্ধে তদন্তকারীদের উদ্দেশে বললেন এর বদলে বরং হিলারির ডিলিট করা ৩৩ হাজার ই-মেইলের তদন্ত করতে। তিনি প্রশ্ন তুলে আরও বলেন ‘ওবামার শাসন আমলে কথিত এই ঘটনাটি ঘটেছিল কিন্তু এই তিনি কোন তদন্ত করেননি কেন ? ‘সে যাই হোক মার্কিন নির্বাচন পরিচালনাকারীরা দাবি করেন নির্বাচনের সময় রাশিয়া ভোটিং মেশিনগুলো হ্যাক করতে পারেনি।
মার্কিন মিডিয়ায় আশঙ্কা প্রয়াস করা হচ্ছে ট্রাম্প নাকি মুলারকে বরখাস্ত করার কথা বিবেচনা করছেন। যদিও হোয়াইট হাউস ও প্রেসিডেন্টের আইনজীবীরা সিএনএনের কাছে দেয়া তার এক বন্ধুর এই মন্তব্যকে বলেছেন স্র্রেফ গুজব এবং সেটি তার ভাবনার মধ্যেই নেই বরং তিনি মুলারকে সহযোগিতায় করে যাচ্ছেন। কিন্তু এতে আশ্বস্ত হয়নি কংগ্রেস। বরং রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট এক জোট হয়ে এমন একটি নয়া আইন করতে যাতে রাষ্ট্রপতি এই কাজ করতে না পারেন। এই দুই পার্টির যুগল মিলনে প্রেসিডেন্ট সাহেব প্রথম সাত মাসে তার নির্বাচন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আইন পাশে কোন সফলতা অর্জনে সক্ষম হননি। এসবের মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হেলথ কেয়ার রিফর্ম ও ইমিগ্রেশন। ট্যাক্স রিফর্ম ,মক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ ইত্যাদির কোনটাই আলোর মুখ দেখতে সক্ষম হয়নি। ওবামা কেয়ার বাতিল করে তদস্থলে একটি নয়া হেলথ কেয়ার বিল পাসের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন তিনি। কিন্তু নতুন বিল পাসের প্রাক্কালে রিপাবলিকান সিনেট সদস্যরা মধ্য রাতে যখন প্রায় ঐকমত্যে পৌঁছিলেন তখন শেষ মুহূর্তে নিজ দলের প্রবীণ সিনেটর যিনি বর্তমানে ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত এরিজোনার সিনেটর ম্যাককেইন ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটরদের সঙ্গে শলাপরামর্শ শুরু করলেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট তাকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। রাত সাড়ে তিনটায় টিভিতে দেখা গেল বিশ পঁচিশজন ডেমোক্র্যাট ম্যাককেইনকে ঘিরে ধরে কথা বলছে। এরপর বিল পাসের সিদ্ধান্তমূলক ভোটটি না সূচক দিয়ে অধিবেশন ত্যাগ করলেন। বিলটি পাশ না হওয়ায় ট্রাম্প দলের সিনেটরদের তিরস্কার করে বললেন -আজ তারা ওবামা কেয়ার বহালে সহায়তা করলেন অথচ সাত বছর ধরে তারাই এর বিরোধিতা করে আসছিলেন।
এত দুর্বিপাকের ভেতরেও ট্রাম্পের জন্য স্বস্তির বিষয় হলো আমেরিকার অর্থনৈতিক উন্নতি এবং স্টক মার্কেটের সর্বোচ্চ সূচকে অবস্থান এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি যা জুলাই মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৬ বছরের মধ্যে বেকারত্বের সর্বনিম্ন হার এবং সর্বপরি নিজ দলের সমর্থকদের মধ্যে তার দৃঢ় অবস্থান। ২০২০ সালে ৫২% রিপাবলিকান তাকেই প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান। তবে জাতীয়ভাবে তার সমর্থন মাত্র ৩৬% যা ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণে সর্বনিম্ন। তবে এর বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন কি বেড়েছে। সেটি আলোর দিকে তুলে ধরলে দেখা যাবে সাম্প্রতিক সমীক্ষায় গরিষ্ঠ মার্কিন লোকজন মনে করে ট্রাম্প বিরোধিতা করা ছাড়া তাদের আর কোন এজেন্ডা নেই। তারা ধরেই নিয়েছিল হিলারি নির্বাচনে জিতবেন, কিন্তু হোয়াইট হাউস কুরসি হারানোর বেদনায় তারা এখনও উদ্বেল। তাই বলতে হয় ইয়ে এক কিচ্ছা কুরসি কি কাহানি!
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক