Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

অন্ধকারে জোনাকী নিউ ইয়র্কের অদ্ভুত ভিক্ষুক

সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭
মনিজা রহমান : নিউইয়র্ক থেকে : নিউ ইয়র্কের এই ভিক্ষুকদের মতো এমন সুখী সুখী চেহারার ভিক্ষুক মনে হয় পৃথিবীতে কোথাও মিলবে না। তদুপরি এমন সুন্দর চেহারাও। ভিক্ষুকদের চেহারায় যেমন একটা আরোপিত দুঃখী ভাব থাকে, তাদের অবয়বে তার সামান্যতম লেশ নেই। চেহারার মধ্যে কেমন বেপরোয়া, নির্লজ্জ ভাব। কোনো দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য মনে হবে চাঁদা চাইতে নেমেছে তারা।

জ্যাকসন হাইটসের সেভেন্টি ফোর স্ট্রিটে কিছুকাল ধরে এই ধরনের ভিক্ষুকদের উৎপাত বেড়েছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে তারা একটা কাগজের ঠোঙ্গা জাতীয় জিনিস সামনে এনে ধরে। মানে ডলার দাও। কেউ কেউ শিশুদের নিয়ে এসে তাদের দেখিয়ে ভিক্ষা চায়। ভিক্ষায় প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আইসক্রিম খায়। চিপস খায়। বেশ একটা পিকনিক ভাব!
সেদিন জ্যাকসন হাইটসের সেভেন্টি ফাইভ স্ট্রিটে এক রেস্টুরেন্টে বসে স্যুপ খাচ্ছি, দেখি একদল ভিক্ষুক এসে হাজির। তারা টেবিলে টেবিলে গিয়ে ভিক্ষা চাইছে।
নিউ ইয়র্কের সাধারণ ভিক্ষুকরা কিন্তু এমন না! ট্রেনে এসে কেউ কেউ বেশ তেজদ্বীপ্ত বক্তৃতা দেয়। তারপর ভিক্ষা চায়। বেশির ভাগ রাস্তায় ‘হোমলেস’ ‘হাংরি’ এসব লিখে উদাস-নির্লিপ্ত চেহারা নিয়ে বসে থাকে। এই ভিক্ষুকদের শিকড় কোথায় এই নিয়ে নানাজনে নানা কথা বলে! কেউ বলে, ওরা নিউজার্সি থেকে দামি গাড়ি হাঁকিয়ে আসে। মিশরীয় এসব পরিবারের একটা ব্যবসা হলো ভিক্ষা করা। অনেকে বলে, সিরিয়ান উদ্বাস্তু। একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, বাড়ি কোথায়? ও বলল, ‘বুলগেরিয়া’।

Picture
বসনিয়া, সারাইয়েভা, কসোবা, আলবেনিয়ানদের ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ে বললো, সেদিন আমার এক পরিচিত জ্ঞানী মানুষ খাইরুল আনাম। তিনি জানালেন, নারী-পুরুষ ভেদে ওই অঞ্চলের সব মানুষ দেখতে খুব সুন্দর হয়। আমেরিকার মিডওয়েস্টে প্রায় সব মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় কিছু ভিক্ষুকদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কয়েক বছর আগে এক মিটিং শেষ করে বের হয়ে দেখি এক সুন্দরী তরুণী ভিক্ষা চাইছে। আমাদের মধ্যে একজন ওকে বাসায় কাজের প্রস্তাব দিল। কিন্তু মেয়েটি ওর কথায় কানই দিল না। কয়েক পা সরে গিয়ে আবার সে ভিক্ষা চাইতে লাগলো। এই ভিক্ষুকদের দেখে মনে হবে না এদের ‘অভাবে স্বভাব নষ্ট হয়েছে।’ আসলে এদের স্বভাবটাই এরকম। হতে পারে ওরা যেসব এলাকা থেকে এসেছে, তারা শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে, বিশেষ করে নারীশিক্ষার কোন প্রসার নেই, স্বামীরা হয়তো যুদ্ধে মারা গেছে, সেটা দেশকে ভালোবেসে হোক কিংবা গাদ্দারি করেই হোক, তারপর থেকে ওরা হয়তো উদ্বাস্তু, একটা মেয়াদ পার হওয়ার পরে ওরা হয়তো আর কোনো সাহায্য পাচ্ছে না। তাই তারা হয়তো ভিক্ষা করে। চাকরি করে না, কারণ সেটা করার যোগ্যতা কিংবা মনোবৃত্তি ওদের নেই।
ওরা ভিক্ষা করাটাকে একটা চাকরি মনে করে।
পরিচয় যা-ই হোক, ওদের ভিক্ষা করার ধরণটা খুব বিরক্তিকর। যে দেশে কাজের কোনো অভাব নেই, সেখানে এমন সুখী সুখী, স্বাস্থ্যবান মানুষদের ভিক্ষা করতে দেখলে মেজাজ তো খারাপ হবেই।
আমি যখন খুব ভোরে ছোট ছেলেকে স্কুল বাসে দিতে বাড়ির নিচে নামি, একটা চীনা বয়স্ক মহিলাকে প্রায় প্রতিদিন রাস্তায় দেখি। সে ফুটপাতে রাখা ময়লার ব্যাগ থেকে পানির বোতল টোকায়। তারপর সেই বোতলে গ্লু দিয়ে স্টিকার লাগায়। কি পরম ধৈর্যের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কাজটা করে যায় ওই বৃদ্ধা, দেখে খুব অবাক লাগে। জানি না, ওই পুরনো বোতল বিক্রি করে সে কয় সেন্ট আয় করে!
কাজটা খুব নোংরা, নিম্ন প্রকৃতির… তবু কাজ তো কাজই! ভিক্ষা তো সে করে না।


আবদুল্লাহ জাহিদের “নির্বাসিত ভালবাসা” একুশের বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে

সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

বাপ্ নিউজ : আবদুল্লাহ জাহিদের “নির্বাসিত ভালবাসা” একুশের বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে। আবদুল্লাহ জাহিদের জন্ম ময়মনসিংহে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ময়মনসিংহ থেকে ফিসাারজ এ অনার্স। সিটি ইউনিভারসিটি অফ নিউ ইয়র্ক থেকে লাইবব্রেরি এন্ড ইনফমেশন সায়েন্সে মাসটার্স। বর্তমানে নিউ ইয়র্কের কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত। দেশে এবং প্রবাসের পত্রপত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। সাপ্তাহিক যায়যায়দিন এর নিয়মতি কলামিষ্ট ছিলেন। ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবের আজীবন সদস্য।

আবদুল্লাহ জাহিদের “নির্বাসিত ভালবাসা” একুশের বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে  

গল্পগুলিতে প্রবাসী জীবনের নানা চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রবাসীরা যত দূরেই থাকুক তাদের মন পরে রয় দেশে বেড়ে উঠা সেই নদীর তীরে— যার আলো বাতাস গায়ে মেখে সে বড় হয়েছে। এই বইয়ে সংকলিত ছোট গল্পগুলির বেশির ভাগই প্রবাসীদের দু:খ সুখের নানা ঘটনা নিয়ে লেখা। গল্পগুলির সব চরিত্রই কাল্পনিক। প্রকাশক: ভাষাচিত্র। বইটি মেলায় স্টল নং ৬১০ এবং ৬১১ তে পাওয়া যাচ্ছে।


একুশের সেক্স অ্যাপিল ও দুটি অশ্লীল সত্য ঘটনা

বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

কদিন আগেই চোখে পড়লো এক অতি মজার জিনিস। আমাদের সময় নামক এক দৈনিক পত্রিকায় ছাপা হয়েছে "একুশের রান্না"! আমি অনেকক্ষণ ব্যাপারটির দিকে তাকিয়ে রইলাম, বুঝতে চেষ্টা করলাম যে রন্ধনশিল্পী মূলত একুশের খাবার-দাবার নাম দিয়ে কী পরিবেশন করতে চাইছেন। ভদ্রমহিলার নাম আমি আগে কখনো শুনিনি, সেদিনই প্রথম। এবং বলাই বাহুল্য যে প্রথম অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর ছিল না! যাই হোক, খাবারের আয়োজনে কী কী ছিল বলি-

 একটা কেক, যাতে কিনা সাদা ক্রিমের ওপরে স্থানে স্থানে রক্তের ছোপ ছোপ দেয়া। দুটি চোখ আছে, সেগুলো দিয়ে রক্ত বিন্দু ঝরছে! সব মিলিয়ে অতি ভয়াবহ অবস্থা। রক্তের ছোপ ছোপ দেয়া কিংবা কান্নারত দুটি চোখের ছবি দেয়া কেক মানুষ কীভাবে কেটে খাবে বা কীভাবে রুচিতে কুলাবে, সেটা আমার কাছে বিরাট প্রশ্ন হয়ে রইলো। আয়োজনে আরও ছিল ভুনা খিচুড়ি, ইলিশের একটা রান্না এবং সুইস রোল। কেক এবং সুইস রোল যে বাঙালি খাবার, সেটাও আমি ওই পত্রিকা থেকেই প্রথম জানতে পারলাম! আমি বিগত কয়েকমাসে এই খাবারগুলোর চাইতে রুচিহীন আর কিছু দেখেছি বলে মনে পড়ছে না!
অবশ্য, এদেরকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। আজকাল আমাদের দেশে সবকিছুই উৎসব। বলা ভালো যে ডেটিং করার বা সেলফি দেয়ার, বিভিন্ন স্থানে চেক ইন দেয়ার একটা বাহানা কেবল! এমনকি, লোকজন নাকি আজকাল বই মেলাতেও যায় চেকিং আর সেলফি দিতে, বই কেনে না কিছুই। এদের অত্যাচারে বরং আসল পাঠকেরাই অস্থির! এই চেক ইন আর সেলফি তোলা জাতির জন্য একুশে ফেব্রুয়ারিও যে একটা উৎসব বিশেষ, সেটা মোটেও বলার অপেক্ষা রাখে না। বেশ কয়েক বছর ধরেই একুশের সাজ নামে কিছু জিনিস পত্রিকায় ফ্যাশন পাতাগুলোয় দেখতে পাওয়া যায়।বিগত বছরগুলোতে দেখা যেতো বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের বর্ণমালা লেখা শাড়ি-জামা কিংবা বাচ্চাদের জন্য পোশাক। বেশ রুচিশীল ভাবে পরা, বেশ রুচিশীল ভাবে লেখাও। যদিও একুশে ফেব্রুয়ারি যে নতুন পোশাক পরে আনন্দ করার দিন না, দিনটি আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস হলেও ইতিহাসের কারণেই যে বিনম্র শ্রদ্ধার সাথে পালন করা উচিত- সেটা এই দেশের বেশীরভাগ মানুষের মাথায় কখনোই ঢোকেনি। অন্যান্য সকল দিবসের মত এটাও খুব আনন্দের একটা দিবস এই দেশে। রাঁধুনিরা রান্নার রেসিপি দেয়, ফ্যাশন হাউজগুলো নতুন কালেকশন আনে, ফোন আর ইন্টারনেট কোম্পানি নতুন অফার আনে, মানুষজন সেজেগুজে বেড়াতে যায় আর সেলফি তোলে, পত্রিকায় ছাপা হয় একুশের সাজসজ্জা বিষয়ক পরামর্শ...
 
অবশ্য আজকাল যা দেখতে পাই সেগুলোকে সাজ বলার চাইতে বরং একুশের যৌন আবেদন বলাই ভালো। ২/১ বছর আগেই একটি পত্রিকা "একুশের সাজ" নামে একটি আয়োজন করে বেশ বিতর্কিত হয়েছিল (ছবিটি প্রচ্ছদের দেখতে পাবেন)। তবে পরিস্থিতির যে পরিবর্তন হয়েছে, সেটা কিন্তু নয়। কালই দেখলাম অত্যন্ত স্বনামধন্য এক নায়িকা "একুশের পোশাক" পরিধান করে মারাত্মক যৌন উত্তেজক ভঙ্গিতে পোজ দিয়েছেন। একুশের পোশাক ও ভাবগাম্ভীর্য কেমন হওয়া উচিত সেটার একটা জ্বলন্ত উদাহরণই বটে! অবশ্য আমরা সেই জাতি, যাদেরকে বারবার অনুরোধ করতে হয় জুতো পায়ে শহীদ মিনারে না ওঠার জন্য। আমাদের কাছ থেকে তো যৌন উত্তেজক ভঙ্গিতে একুশের সাজ, অশ্রুঝরা চোখের ছবি দেয়া কেক, শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে সেলফি ইত্যাদির বাইরে আর বেশি কিছু আশা করা যায় না। তাই না?

Picture

 
এবং দুটি অশ্লীল সত্য ঘটনা-
আজ আমার আম্মুর জন্মদিন (যদিও একুশে ফেব্রুয়ারিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সেটা আমরা আগামীকাল পালন করবো)। মায়ের জন্য শুভেচ্ছা উপহার কিছু কেনা যায় কিনা ভেবে একটি নামকরা ফ্যাশন হাউজে ঢুকেছি। বলাই বাহুল্য যে সেখানে অনেক রকমের "নতুন কালেকশন" আছে! দুটি মেয়ে শপিং করছেন। মেয়ে মানে কিশোরী নন, ২৭/২৮ বছরের তরুণী। গলায় অফিসের আইডি কার্ড ঝোলানো। তাঁদের কথোপকথন যেটুকু শুনতে পেয়েছি, তুলে দিলাম এখানে। বাকিটা পাঠকের বিবেচনা-
 
-"ওই শাড়িটা পরবি না কেন, সমস্যা কী? ব্লাউজ বানায় ফেলসিস না?"
-"শাড়িটা বেশি ভারী। অনেক মোটা। ছবিতে আমাকে মোটা মনে হবে।"
-"এখন তো নতুন ব্লাউজ বানানোর টাইম নাই!"
-"নতুন বানাবো না, ওই ব্লাউজের সাথে ম্যাচিং করে একটা শাড়ি নিয়ে নিব। কালকে ওর সাথে আমার প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারি। আই হ্যাভ টু লুক হট!'
এই পর্যায়ে আমি একটু ভিরমি খেলাম।প্রেমিক বা স্বামীর সাথে প্রথম একুশে ফেব্রুয়ারি ভালো কথা, কিন্তু হট দেখাতে হবে কেন???
-"তাহলে অন্য রঙের শাড়ি নিতি। কালো আর সাদাতে বুড়ি বুড়ি লাগে।"
-"ধুর, সাদা-কালোই একুশে ফেব্রুয়ারির ট্রেন্ড, সবাই পরবে। তুই আমাকে ভালো দেখে একটা শাড়ি বেছে দে। পাতলা দেখে। সি থ্রু শাড়িতে আমাকে স্লিম লাগে।"
-"এদের কাছে মনে হয় পাতলা শাড়ি নাই, অন্য কোথাও যাবি?"
-"চল। নেইল পলিশও কেনা হয় নাই। একটা ক্রিমসন রেড কালারের লিপস্টিক লাগবে, ওর সব ফ্রেন্ডরা কালকে দেখবে আমাকে...পারফেক্ট লুক না হলে ও খুব মাইন্ড করবে।প্রেস্টিজ ইস্যু!"
 
জানিনা কেন, দোকানের মাঝে দাঁড়িয়েই আমার কেমন বমি বমি পাচ্ছিল! আমাদের মেয়েরা কি আজীবনই এমন নির্বোধ ছিল, নাকি এরা নতুন সংস্করণ? সে সাহসী, দুর্বিনীত, শিক্ষিত, রুচিশীল বাঙালি নারীরা কোথায়? আমাদের মা, খালা, বড় বোনদের যেমন দেখেছি... সেই দারুণ বাঙালি মেয়েরা কোথায়? আজকালকার বাঙালি নারীরা কেন সানি লিওন সাজতে না পেরে বিমর্ষ হয়, একুশে ফেব্রুয়ারির ভাবগাম্ভীর্যের নামে যৌন উত্তেজক পোজ দেয় আর পত্রিকার পাতায় একুশের রেসিপি ছাপে? কেন?!!!
 
উত্তর মিলল না, কিন্তু রাতের বেলা দেখলাম আরও একটি আঘাত লাগার মত বিষয়। ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে একটি ভিডিও, সেটি। ভদ্রমহিলাকে আজ পর্যন্ত আমি খুবই পছন্দ করতাম, সঙ্গত কারণেই নামটি বলছি না। একজন নামকরা অভিনেত্রী, ক্যামেরার সামনে শহীদ মিনারে জুতো নিয়ে ওঠা বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। পারিবারিক শিক্ষা নেই বলেই এমন হচ্ছে মন্তব্য তাঁর। খানিক বাদেই দেখা গেলো তিনি নিজেই জুতো পায়ে শীদ মিনারে হাঁটাহাঁটি করছেন! জানি না কেন, আমি ভীষণ অপমানিত বোধ করতে শুরু করলাম। অপমানে, লজ্জায় নীল হয়ে যেতে থাকলাম।
 
কোন একটা অজ্ঞাত কারণে, একুশে ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে যত নির্বুদ্ধিতা ও কুৎসিত ব্যাপার চোখে পড়েছে, সবগুলোর সাথেই নারীরা জড়িত। আঁচল একদিকে সরিয়ে যৌন উত্তেজক পোজ হোক, রেসিপি দেয়া হোক বা ক্যামেরার সামনে জ্ঞানের কথা বলে নিজেই সেই অসভ্য আচরণ করা... যা চোখে পড়েছে সবই নারীকেন্দ্রিক। এই লেখাটি লিখতে লিখতে আমি নিউজফিডে আমজনতার সেলফি দেখছি। চড়া মেকআপ নিয়ে প্রেমিক প্রেমিকার হাত ধরে বেড়াতে যাওয়ার সেলফি তো আছেই, শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে ফুল হাতে ধরা সেলফিও দেখলাম এক ছেলে ও তার প্রেমিকার। সাথে লেখা- "গাইজ, আমরা চলে এসেছি। একটু পরই ফুল দিতে যাচ্ছি। রেসপেক্ট!" প্রেমিকার হাতে ফুল, প্রেমিক ভি সাইন দেখাচ্ছে।
 
বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসাবে আমি কুৎসিত রকমের লজ্জিত বোধ করছি। আমাদের রাষ্ট্রভাষাটি মনে হয় উর্দু হওয়াই উচিত ছিল। তাহলে হয়তো এত খারাপ লাগতো না...
 
পরিশিষ্ট-
লেখার শেষে একটু আত্মবিজ্ঞাপন করি। একুশে গ্রন্থমেলায় এই অধমের তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে এবার।
 
অবলৌকিক- বিদ্যা প্রকাশ (স্টল নং ৩৭০-৩৭১-৩৭২)
প্রিয় সম্পর্ক- জাগৃতি প্রকাশনী (স্টল নং ১৫৮-১৫৯-১৬০)
পুনঃশায়াতিন- জাগৃতি প্রকাশনী (স্টল নং ১৫৮-১৫৯-১৬০)
এছাড়া বাসায় বসে বই হোম ডেলিভারি পেতে চাইলে কল করতে পারেন রকমারি ডট কমে। নম্বর- 16297
 
এবং একটি বিনীত অনুরোধ-
কেবল সেলফি তোলার জন্য বইমেলায় যাবেন না, প্লিজ। এতে পাঠক ও লেখক হিসাবে আমরা অপমানিত বোধ করি। কেবল বইয়ের সাথে সেলফি তুললেই জ্ঞানী হওয়া যায় না, জ্ঞানী হবার জন্য বই পড়তে হয়!
 
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
 

[প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।


ভোটের রাজনীতি সম্পর্কে কিছু কথা - আবুল কাসেম ফজলুল হক

সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

যখন যুক্তরাষ্ট্রে রোনাল্ড রিগ্যান রাষ্ট্রপতি এবং যুক্তরাজ্যে মার্গারেট থ্যাচার প্রধানমন্ত্রী তখন তাঁদের উদ্যোগে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থার পুনর্গঠনের কিছু আয়োজন দেখা যায়। তাঁরা বিশ্বপরিসরে মুক্তবাজার অর্থনীতি, অবাধ প্রতিযোগিতাবাদ, ‘উদার’ গণতন্ত্র, বহুত্ববাদ (pluralism), এককেন্দ্রিকতাবাদ (unipolerism), নারীবাদ, মৌলবাদ-বিরোধিতা, এনজিও, সিএসও (Civil Society organization) ইত্যাদির ঘোষণা দেন এবং বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল, বিবিসি, ভয়েস অব আমেরিকা, জাতিসংঘ ইত্যাদির মাধ্যমে এগুলোর বাস্তবায়ন আরম্ভ করেন। সেটি আশির দশকের ঘটনা। তথ্য-প্রযুক্তি ও জীবপ্রযুক্তির বিপ্লব তখন আরম্ভ হয়েছে মাত্র। পশ্চিমা অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ তখন নতুন প্রযুক্তির বিস্তার দেখে বিশ্বায়ন (Globalization) কথাটি ব্যবহার করতে আরম্ভ করেছেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলোপ যে আসন্ন, এটা তখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য বুঝে ফেলেছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যায়। এর আগে ও পরে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে এবং সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বব্যবস্থা পুনর্গঠিত হয়ে চলে।

আমাদের দেশের রাজনীতিতে তখন মৌলিক পরিবর্তন ঘটে যেতে থাকে। যাঁরা মস্কোপন্থী ও পিকিংপন্থী বলে পরিচিত ছিলেন, কার্যত তাঁরা কোনো ঘোষণা না দিয়ে ওয়াশিংটনপন্থী হয়ে যান। মৌলবাদবিরোধী আন্দোলন, নারীবাদী আন্দোলন, পরিবেশবাদী আন্দোলন ইত্যাদিতে তাঁরা মেতে ওঠেন এবং এনজিও, সিএসও ইত্যাদিতে নিজেদের সমর্পণ করেন। সাম্রাজ্যবাদের অনুসারী হয়ে কার্যত তাঁরা না সমাজতন্ত্রী, না গণতন্ত্রী হয়ে যান। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি তখন তাদের দলীয় ঘোষণাপত্র পরিবর্তন করে মুক্তবাজার অর্থনীতি ইত্যাদি ঘোষণাপত্রে গ্রহণ করে সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের অন্ধ অনুসারী হয়ে যায়। দুটি দলই তখন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেদের এতটাই সমর্পণ করে যে ক্ষমতার স্বার্থে তারা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি রাষ্ট্রের স্থানীয় দূতাবাসগুলোতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দিষ্ট ডেস্কে ক্রমাগত ধরনা দিতে থাকে। বামপন্থীরা তখন এ নিয়ে টুঁ শব্দটিও করেননি। এর মধ্যে এনজিও এবং সিএসও মহলের অঘোষিত প্ররোচনায় পরিচালিত হয়ে জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনকালীন অরাজনৈতিক, নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তন করা হয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোকে এবং ভারতকে ডেকে আনা হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এই রাজনীতি কি গণতান্ত্রিক? সমাজতান্ত্রিক? দুই দলের নেতারাই জনসমক্ষে সব সময় উদার গণতন্ত্র কথাটা আওড়িয়ে থাকেন। সেই ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি কি গণতন্ত্রের দিকে এগিয়েছে? সমাজতন্ত্রের দিকে এগিয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতা অবলম্বন করে চলছে? বাংলাদেশের রাজনীতি ও শিক্ষানীতি কি সংবিধান নির্দেশিত পথে চলছে? বাংলাদেশের রাজনীতিতে একমাত্র যে নীতি কার্যকর আছে, তা কি নিছক সুবিধাবাদী নয়? ইসলামপন্থী দলগুলো কি ইসলাম অবলম্বন করে চলছে?

এখন বাংলাদেশে ২০১৮-১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কিছু কথাবার্তা চলছে। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে নানা আয়োজন দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। তা নিয়েও দুই পক্ষে দুই মত দেখা যাচ্ছে। আসলে এসব আলোচনায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা আগ্রহী। এনজিও এবং সিএসও আগ্রহী। প্রচারমাধ্যম আগ্রহী। জনসাধারণ যে এগুলোতে আগ্রহী, তা আমার মনে হয় না। জনগণ রাজনীতি ও রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা হারিয়ে ফেলেছে। সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি নেই। কেবল দলাদলি আছে। বৃহৎ শক্তিবর্গের বিরাজনৈতিকীকরণের নীতি বাংলাদেশে খুব কার্যকর হয়েছে। জনগণের কথাবার্তায়—গ্রামে ও শহরে—শোনা যায়, ‘দেশে শেখ হাসিনা ছাড়া আর কোনো নেতা নেই আর আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দল নেই। …’ জনগণের কথাবার্তা শুনলে মনে হয়, জাতীয় সংসদের আগামী নির্বাচনে অবশ্যই আওয়ামী লীগ বিরাট সংখ্যাধিক্য নিয়ে জয়ী হবে। এই অবস্থায় নির্বাচনকে খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ ও ব্যয়বহুল না করাই বাঞ্ছনীয়।

alt  

নির্বাচন যেভাবে হয়ে আসছে, তাতে নির্বাচন নিয়ে জনগণের উন্মত্ত হয়ে ওঠার কোনো কারণ নেই। নির্বাচন দিয়ে কি সব সময় গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়? নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রবিরোধী, গণবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় আসে—এমন দৃষ্টান্তও অনেক আছে। হিটলার অসাধারণ জনপ্রিয় ও নির্বাচিত ছিলেন। মুসোলিনি অসাধারণ জনপ্রিয় ও নির্বাচিত ছিলেন। সালাজার, ফ্রাংকে—এমন আরো অনেক বিখ্যাত শাসকের নির্বাচিত হওয়ার কথা বলা যায়। নির্বাচন হলেই গণতন্ত্র হয় না, নির্বাচিত হলেই কোনো ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক হয় না। নির্বাচন আর গণতন্ত্র এক না।

বাংলাদেশে ভুল ধারণা প্রচলিত হয়েছে যে নির্বাচনই গণতন্ত্র। বাংলাদেশের রাজনীতিতে বংশানুক্রমিক নেতৃত্ব আছে, পরিবারতান্ত্রিক শাসনপদ্ধতি আছে, নির্বাচনের নামে আজব সব কর্মকাণ্ড আছে। সর্বত্র দুর্নীতি আছে। বাংলাদেশের চলমান ঐতিহাসিক প্রবণতা গণতন্ত্রের দিকে নয়। গণতন্ত্রের জন্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।

নারীর ক্ষমতায়ন বাংলাদেশে চলছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধী দলের নেতা, রাজনৈতিক দলের প্রধান, প্রশাসনব্যবস্থার উচ্চপর্যায়, হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ইত্যাদি অবস্থানে নারীরা আছেন। নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে। কিন্তু সমাজের স্তরে স্তরে নারী নির্যাতন বাড়ছে। নারী হত্যা বেড়ে চলছে। স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক ও পরিবার শিথিল হচ্ছে। নারী ও পুরুষ উভয়েরই অশান্তি বাড়ছে। শিশুহত্যা বেড়ে চলছে। মানুষের নৈতিক পতন বাড়ছে। সমাজে স্তরে স্তরে কিছু লোক সীমাহীন জুলুম-জবরদস্তি চালাচ্ছে। জুলুম-জবরদস্তি বাড়ছে। ২০১৯ সালে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর জুলুম-জবরদস্তির গতি আরো বাড়তে পারে। সরকারি অফিসে দুর্নীতি বাড়ছে। সাধারণ মানুষ মনোবলহারা—অসহায়। কোনো কিছু নিয়েই তাদের কোনো অভিযোগ নেই। রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-বাদলকে যেমন লোকে মেনে নেয়, তেমনি জুলুম-জবরদস্তিকেও লোকে মেনে নিচ্ছে। কোনো রাষ্ট্রের জনজীবনে এই মনোবলহারা অবস্থাই সেই রাষ্ট্রের দুর্গতির চরম পর্যায়। কিন্তু এ সম্পর্কে রাজনৈতিক মহলে কোনো সচেতনতা খুঁজে পাওয়া যায় না। সরকার মনে করছে, সরকার সব কিছু ঠিক করছে—সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বুদ্ধিজীবীদের প্রধান অংশ এনজিও এবং সিএসওতে ব্যস্ত। কবিতায়, গল্পে, উপন্যাসে, নাটকে গভীরতর কোনো জীবনবোধের পরিচয় নেই। এর সঙ্গে সুস্থ, স্বাভাবিক, গভীর চিন্তা কিছু আছে। কিন্তু সেগুলো প্রচারমাধ্যমে গুরুত্ব পায় না, শিক্ষিত সমাজও সেগুলোর প্রতি আকর্ষণ বোধ করে না। অন্ধকারকে অন্ধকার মনে না করে সবাই নিশ্চিন্ত আছে।

সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের প্রতি অন্ধ আনুগত্য নিয়ে চলছে সবাই। ক্লিনটন-হিলারি-ওবামার নীতির প্রতি যাঁদের অন্ধ আস্থা ছিল, তাঁরা ট্রাম্পের উত্থানে বিচলিত হয়েছেন। ট্রাম্প কী করবেন, করতে পারবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ভালো কিছু হবে, তা মনে হয় না। ট্রাম্প বলছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উন্নতির জন্য কাজ করবেন, অনুন্নত রাষ্ট্রের উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নেবেন না। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নারীবাদে আস্থাশীল নন, তিনি হিউম্যানিজমে বিশ্বাস করেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করে দেবেন। তিনি Armed Islamic Fundamentalist-দের বিরুদ্ধে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এমনই আরো নানা কথা। এসবের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশে আমাদের বুঝতে হবে যে আমাদের চলতে হবে আত্মনির্ভর (Self-relient) হয়ে। উন্নত বিশ্ব থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান-প্রযুক্তি আমাদের গ্রহণ করতে হবে। ইউরোপ-আমেরিকার একটা প্রগতিশীল দিক আছে—যার পরিচয় রয়েছে তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদি আদর্শে। এদিকটাকে আমাদের গ্রহণ করতে হবে। এর দ্বারা আমরা প্রগতির পথ পাব। কিন্তু ইউরোপ-আমেরিকার আরেকটা দিক হলো, তাদের অপক্রিয়ার দিক। এতে রয়েছে তাদের উপনিবেশবাদ, ক্রুসেড, ফ্যাসিবাদ, সাম্রাজ্যবাদের দিক। এদিকটায় রয়েছে আগ্রাসী যুদ্ধ। এটা বর্জনীয়। পাশ্চাত্য প্রগতিশীল বিষয়গুলোকে আমরা আমাদের মতো করে যত গ্রহণ করতে পারব ততই আমাদের মঙ্গল।

যে দুর্গত অবস্থা বাংলাদেশে চলছে, তাতেও যাঁরা সুস্থ-স্বাভাবিক ও প্রগতিশীল মনোভাব এবং চিন্তা ও কর্ম নিয়ে আছেন, তাঁদের এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে। জাতীয় অবস্থার সঙ্গে বৈশ্বিক অবস্থাকেও পূর্ণ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় গ্রহণ করতে হবে। দুনিয়াজুড়ে রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করতে হবে।

লেখক :আবুল কাসেম ফজলুল হক,অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


তপন দেবনাথ এর গল্পগ্রন্থ ‘চোখের আলোয় দেখেছিলেম’ একুশের গ্রন্থমেলায় বের হয়েছে

শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

বাপ্ নিউজ : লস এঞ্জেলেস প্রবাসী তপন দেবনাথ এর ২৩তম গ্্রন্থ ‘চোখের আলোয় দেখেছিলেম’ অমর একুশে গ্রন্থমেলায় বের হয়েছে। ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের পক্ষে বইটি প্রকাশ করেছেন জহিরুল আবেদীন জুয়েল। প্রচ্ছদ করেছেন আদিত্য অন্তর। অবসেট পেপারে ৮৮ পৃষ্ঠার বইটির মুল্য রাখো হয়েছে ১৫০ টাকা। বইতে মোট ৮টি গল্প রয়েছে।

alt 

গল্পগুলো হলো ঈর্ষা, দেশি ভাই, চোখের আলোয় দেখেছিলেম, কী লজ্জা! আত্মজা, প্রাক-প্রতিরোধ, যুদ্ধ ও ক্ষুধা এবং মিথ্যাচারের বিশ্বায়ন। ৮টি গল্পের মধ্যে ৪টি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গল্প। সবগুলো গল্পই ইতোপূর্বে সাপ্তাহিক ঠিকানা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। বর্তমান বইটি নিয়ে তপন দেবনাথ এর প্রকাশিত বই এর সংখ্যা ২৩ এ দাঁড়াল। জীবন ও সমাজকে অত্যন্ত কাছের থেকে পর্যবেক্ষণ করে বাস্তব ও কল্পনার মিশেলে লেখা গল্পগুলো সব বয়সী পাঠকের ভালো লাগবে বলে আশা করা যায়। ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের ২৯১-২৯৪ নং স্টলে মেলার প্রথম দিন থেকেই বইটি পাওয়া যাচ্ছে।


ভ্যালেন্টাইন ডে এই রবিবার উতোল বাসন্তী হাওয়ায় প্রাণে লাগে সুখের দোলা

বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন:মনের উঠোনে আজ বসন্তের উতল হাওয়া। প্রাণে প্রাণে লাগবে সুখের দোলা, মুখ রেখে দখিনা বাতাসে চুপি চুপি বলার দিন ‘সখী, ভালোবাসি তারে।’ এই রবিবার ভালোবাসা দিবস। সেন্ট ভ্যালেন্টাইন’স ডে। রোমান বিশ্বাসে-বসন্তের আবিরে স্নানশুচি হয়ে রবিবার কিউপিড ‘প্রেমশর’ বাগিয়ে ঘুরে ফিরবে হূদয় থেকে হূদয়ে। অনুরাগ তাড়িত পরান এফোঁড়-ওফোঁড় হবে দেবতার বাঁকা ইশারায়। রবিবার হূদয় গহনে তারাপুঞ্জের মত ফুটবে চন্ডীদাসের সেই অনাদিকালের সুর:“দুঁহু তরে দুঁহু কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/ অর্ধতিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/সখি কেমনে বাঁধিব হিয়া...। আকুতি ঝরবে— ‘তুমি কি দেবে না সাড়া প্রিয়া বলে যদি ডাকি, হেসে কি কবে না কথা, হাত যদি হাতে রাখি।’

i105
পৃথিবীর সব সাহিত্য ডুবে অছে ভালোবাসা নিয়ে কাব্য-মহাকাব্য, গল্প, কবিতা, গান, উপন্যাসের অতলান্তে। অতলান্তকে তল পাওয়া গেছে, তারপরও  ’ভালোবাসা কী?’ এই প্রশ্নে খেই হারিয়েছেন। কবিগুরুর ভাষায়, ’তোমরা যে বলো দিবস রজনী ‘ভালোবাসা’ ‘ভালোবাসা’সখী ভালোবাসা কারে কয়! সে কি কেবলই যাতনাময়। সে কি কেবলই চোখের জল? সে কি কেবলই দুঃখের শ্বাস? জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ভাষায় : ‘আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়, মনে পড়ে মোরে প্রিয়, চাঁদ হয়ে রব আকাশের গায়, বাতায়ন খুলে দিও।’ আধুনিক কবির কণ্ঠে প্রেয়সীকে বলা : ‘পৃথিবীর কাছে তুমি হয়তো কিছুই নও, কিন্তু কারও কাছে তুমিই তার পৃথিবী।’ অথবা ‘সুখী হবার জন্য তোমার চারপাশে অসংখ্য মানুষের দরকার নেই, শুধু সেই সত্যিকারের কয়েকজনই যথেষ্ট যারা, তুমি যা তার জন্যই তোমাকে ভালোবাসবে।’ একালের কবির অনুভব ‘তোমার সাথে প্রতিটি কথাই কবিতা, প্রতিটি মুহূর্তেই উত্সব—তুমি যখন চলে যাও, সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর সব আলো নিবে যায়...।’

alt

ভালোবাসার কথা প্রকাশের জন্য সুদৃশ্য মলাটে মোড়া বইয়ের আটপৌরে দিন ফুরিয়েছে। আঙুল কেটে রক্তে রক্ত মিলিয়ে দেয়া, চিঠির ভাঁজে গোলাপের পাপড়ি গুঁজে দেয়া, দি¯াÍয় দিস্তায় কাগজ নষ্ট করে কাব্য চর্চা এখন ম্রিয়মাণ।া
বাঙালির বসন্ত বরণের দিন। একদিকে ঋতুরাজ বসšেতর আগমন অপরদিকে আজ রবিবার এসেছে ভালোবাসা দিবসের ছোঁয়া। প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের গবেষকদের অনেকে বলে থাকেন, ফেব্রুয়ারির এই সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায় লাজুক আর ঢলঢলে হতে থাকে। অনেক দিবসের ভিড়ে ভালোবাসা দিবস আলাদা মাত্রায় উত্কীর্ণ। এর সাথে প্রেম এবং অনুরাগের অমনিবাস। এই দিবসটির সূচনা সেই প্রাচীন দুটি রোমান প্রথা থেকেই। এক পাদ্রি ও চিকিত্সক ফাদার সেইন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে দিনটির নামকরণ হয়েছে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’।

খ্রিস্টীয় এই দিবসের রেশ ধরে আমাদের দেশে ও বিদেশে এদিন ১৪ ফেব্রুয়ারি কেবল প্রেমবিনিময় নয়, তরুণ-তরুণীদের মাঝে গোপনে বিয়ের বাতিক দেখা যায়। রাজধানীর উদ্যানমালা, বইমেলা, ক্যাম্পাস, কফিশপ, ফাস্টফুড শপ, লং ড্রাইভ, নিভৃতে কাটান প্রণয়কাতর তরুণ-তরুণীরা। ফুল দোকানে থরে থরে সাজানো মল্লিকা, জুঁই, গাঁদা উঠে আসবে ললনাদের খোঁপায়।

 লেখক,সাংবাদিক,রাজনীতিক,সদস্য ও মুখপাএ সিঊিএলজি,ইঊএসএ, সভাপতি,আমরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন,এডিটর-বাপসনিঊজ


ভ্যালেন্টাইন প্রাক্তনদেরও ভালোবাসার দিন

বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

কে এম মিজানুর রহমান, কাজান (রাশিয়া) থেকে : ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে। যদিও ভালোবাসা কোনো দিনকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় না, তারপরও যেকোনো কিছুতেই দিবসের তাৎপর্য অস্বীকার করা যায় না। সারা বিশ্বব্যাপী ভ্যালেন্টাইন ডেকেন্দ্রিক এই যে মাতামাতি, তা ছুঁয়ে যায় প্রতিটি প্রেমিক যুগলের মন। ছুঁয়ে যায় আমার মতো যারা প্রেমিক না অথবা যারা প্রেমের কাব্যে প্রাক্তনের খাতায় নাম লিখিয়েছেন তাদের মনেও। আজকের লেখাটি সকল প্রাক্তন প্রেমিক–প্রেমিকাদের জন্য উৎসর্গকৃত।
কারও সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করা কোনো সহজ বিষয় নয়। বিশেষত সেটা যদি হয় কোনো প্রেমিক যুগলের গুরুত্বপূর্ণ আবেগময় প্রেমের সম্পর্ক। আমার ধারণা প্রেম আবেগ দিয়ে পরিচালিত অদ্ভুত এক মায়া ও এক আকর্ষণের নাম। যেটা কখনো বাস্তবতার ধার ধারে না। তাইতো কোনো প্রকার ওষুধ, সান্ত্বনাই প্রেমের সম্পর্কচ্ছেদের যাতনা আর ব্যথা প্রশমনের জন্য যথেষ্ট নয়। তারপরও সম্পর্কচ্ছেদের এতসব কঠিন বাস্তবতা যেগুলোর সঙ্গে আপনি প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করছেন এর কিছু উপকারী দিকও আছে। যেখান থেকে আপনি খুঁজে নিতে পারেন প্রেমে সার্থকতার নানা দিক আর আত্মসান্ত্বনার বাণী।
আমাদের বেশির ভাগেরই ধারণা ভালোবাসায় বিচ্ছেদ হচ্ছে কোনো একটা মুহূর্তের ছোট্ট ভুল। কিন্তু সত্যিটা হলো প্রতিটা সম্পর্কচ্ছেদের অন্তরালে লুকিয়ে থাকে কিছু নিষ্ঠুর বাস্তবতা। তাই এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে বিয়ের মতো একটি সামাজিক ও পারিবারিক কঠিন বন্ধনে যাওয়ার আগে এই সম্পর্কচ্ছেদ যে কারণেই হোক না কেন, সেটা আপনার জন্য মঙ্গলই বয়ে আনবে। যেখানে আপনি আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার চাওয়া–পাওয়া, না পাওয়া, ভালো লাগা ভালোবাসা সর্বোপরি তার আবেগ বুঝতে অক্ষম ছিলেন যেখানে আপনি কীভাবে সেই আবেগের সঙ্গে যখন পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা যোগ হতো তা উপলব্ধি করতে পারতেন। শখের ঘুড়ি যে আকাশেই উড়ুক না কেন, তার আপন মনে ওড়ার মধ্যেই আপনার সুখ খুঁজে নিন। এই বিচ্ছেদে না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাস হয়তো থাকবে কিন্তু ভালোবাসা টিকে থাকবে আজীবন।

প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন—‘পৃথিবীতে বালিকার প্রথম প্রেমের মতো সর্বগ্রাসী প্রেম আর কিছুই নাই। প্রথম যৌবনে বালিকা যাকে ভালোবাসে তাহার মতো সৌভাগ্যবানও আর কেহই নাই। যদিও সে প্রেম অধিকাংশ সময় অপ্রকাশিত থেকে যায়, কিন্তু সে প্রেমের আগুন সব বালিকাকে সারা জীবন পোড়ায়।’
রবীন্দ্রনাথ যদি ঠিক বলে থাকেন তবে বিচ্ছেদ সত্ত্বেও আপনি নিজেকে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান ভাবতেই পারেন।
আর হ‌ুমায়ূন আহমেদ বলেছেন—‘ভালোবাসার মানুষের সাথে বিয়ে না হওয়াটাই বোধ হয় ভালো। বিয়ে হলে মানুষটা থাকে ভালোবাসা থাকে না। আর যদি বিয়ে না হয় তাহলে হয়তোবা ভালোবাসাটা থাকে, শুধু মানুষটাই থাকে না। আর মানুষ এবং ভালোবাসা এই দুয়ের মধ্যে ভালোবাসাই হয়তো বেশি প্রিয়।’
আপনি কতটা কষ্টসহিষ্ণু তারও একটা প্রমাণ পেতে পারেন প্রেম বিচ্ছেদের মাধ্যমে। সেটা কীভাবে। প্রাত্যহিক জীবনে প্রতিনিয়ত আমাদের মুখোমুখি হতে হয় নানা রকম রূঢ় বাস্তবতার। আপনি কর্মক্ষেত্রে ঢোকার আগেই আপনার যদি প্রেমে বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে তাহলে আপনি সহজেই এই সকল বাস্তবতার মুখোমুখি হতে ও সকল কিছুকে উপেক্ষা করে সফল হতে পারবেন। অন্য সবার চেয়ে অনেক দ্রুত কোনো সন্দেহ নেই। কারণ সহজেই অনুমেয়, সকল প্রাক্তন প্রেমিক যুগল মাত্রই জানেন বিচ্ছেদের কষ্ট আর মানসিক চাপের কাছে অন্য সব পাওয়া, না পাওয়া, বিরহ। আর চাপ নিতান্তই ডাল ভাত। শুধু তাই নয়, প্রাক্তন প্রেম ও বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া শিক্ষা আপনাকে পরিণত হতে সাহায্য করবে ভবিষ্যতের একজন দায়িত্বশীল সম্পর্কের অভাবনীয় মানুষ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে।
এবার আসা যাক প্রেমে আপনি সফল না বিফল সেই হিসাব নিকাশে। প্রেমে সফলতার সংজ্ঞা কি? নিশ্চয় সবাই উত্তর দেবেন প্রেমে সফলতা হচ্ছে মনের মানুষটাকে বিয়ের মাধ্যমে চিরদিনের জন্য অর্জন করা। কিন্তু আমার কাছে সফলতার সংজ্ঞা ভিন্ন। সফলতা হচ্ছে বিসর্জন। যদি আপনার প্রিয়জন আপনাকে ছেড়ে চলে যেতে চায় তাকে যেতে দিন। জোর করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখলে সেখানে একজন রক্ত মাংসের শরীর টিকে থাকবে, ভালোবাসা না। আপনার প্রেমিকা বা প্রেমিক আপনাকে ছেড়ে গেল মানে আপনি তার বয়সকে বেঁধে ফেললেন। আর যাই হোক আপনার মনের মণিকোঠায় সে কখনো বুড়িয়ে যাবে না। তার হাসি তার কান্না, তার পাওয়া না পাওয়ার অনুভূতি, তার মান অভিমান সবকিছু থাকবে চির সবুজ অম্লান।
আপনার প্রেম আপনার মনের ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসে ষোড়শী বালিকার মতো খেলা করবে আজীবন। আপনার প্রেম কাহিনিকে নির্ভর করে গড়ে উঠবে তাজমহল, রচিত হবে নাটক, উপন্যাস আর কত শত কবিতা। কারণ সফল প্রেম কাহিনি নিয়ে কখনো মহাকাব্য রচনা হয় না, রচিত হয় বিচ্ছেদ নিয়ে। ওয়াশিংটন অলসটন বলেছেন—‘প্রেমের ক্ষেত্রে জয়ী হয়ে কেউ শিল্পী হতে পারে না, বড় জোর বিয়ে করতে পারে।’ আপনার প্রেমিকা আপনার বউ হবে সেখান থেকে সে পরিণত হবে আপনার সন্তানের মা। এই পরিচয় বদলের খেলায় একদিন দেখবেন আপনাদের প্রেমিক পরিচয় হারাতে বসেছেন।
তাইতো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন—‘স্বামীরা প্রেমিক হতে অবশ্যই রাজি, তবে নিজের স্ত্রীর সঙ্গে নয়। নিজের স্ত্রীর প্রেমিক হওয়ার বিষয়টা কেন যেন তারা ভাবতেই চায় না।’ আর গোবিন্দ চন্দ্র দাস বলেছেন—‘মিলন হইতে দেরী বরঞ্চ বিরহ ভালো, দেখিব বলিয়া আশা থাকে চিরকাল।’
প্রতীকী ছবি। সংগৃহীততাইতো কী দরকার সুন্দর ভালোবাসার সম্পর্কগুলোকে নষ্ট করার। থাকুক না একজন প্রেমিক বা প্রেমিকা সারা জীবনের প্রেমিক বা প্রেমিকা হয়ে।
ভালোবাসা হচ্ছে বাঁধনহারা বল্গা হরিণ। তাকে চার দেয়ালের একঘেয়েমির মাঝে বাঁধতে নেই। প্রাক্তন হওয়ার মধ্যেই প্রেম ও ভালোবাসার সার্থকতা নিহিত। দূরে চলে যাওয়া ভালোবাসার মানুষদের জন্য নিঃশব্দে নীরবে কান্নার মধ্যে কোনো স্বার্থপরতা থাকে না। পাওয়া না পাওয়ার হিসাব নিকাশ থাকে না। সে কান্নার মধ্যে লুকিয়ে থাকে শুধুই ভালোবাসা, মায়া আর মমতা। সত্যিকারের ভালোবাসা বেঁচে থাকে সকল প্রাক্তন প্রেমিক যুগলের হাহাকার আর না পাওয়ার দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে।
রবি ঠাকুর নিজেও বলে গেছেন—‘বিচ্ছেদের দুঃখে প্রেমের বেগ বাড়িয়া উঠে।’
সকল প্রাক্তনদের ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা।

কে এম মিজানুর রহমান: পিএইচডি শিক্ষার্থী, কাজান (ভলগা রিজিয়ন) ফেডারেল ইউনিভার্সিটি, কাজান, রাশিয়ান ফেডারেশন।


বঙ্গবীর ওসমানী = সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

আপন তিনি সুজন তিনি
কাছ থেকে দেখি
সময় মেনে নিয়ম মেনে
চলতেন সে কি।

কথাতে আর কাজেতে তিনি
দেন নেই ফাঁকি
জীবন যাপনে সহজ সরল
চোখে ছবি আঁকি।

মায়ের মায়া মায়ের ছায়া
মনে ছিলো বাঁধা
চির কুমার ছিলেন তিনি
মন ছিলো সাদা।

সকলে রাখবে মনে ধরে
সকলে যে চিনি
সাহসেতে দেশ জয়ে জয়ী
ওসমানী তিনি।

বঙ্গবীর পরিচয় তার যে
সারা দেশে আছে
আমাদের ভালোবাসায় তিনি
আমাদের কাছে।


বাঙলা ভাষার পুঁথি = জুলি রহমান

শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

ষোলো বছরের বেলাল বেগকে জানাই তিরাশি কোটি সালাম।
তাঁর নামে ভাষা আন্দোলনের বয়ান শুরু করিলাম।
আহা বেশ বেশ। অ আহা বেশ বেশ।
ওরে অ মন্টু ভাই ধরি পায় আর নাড়াসনে বুদ্ধি মাথার গনা-গাঁথা কেশ।
শোনো শোনো আদনান ভাই!
এক খাইল্লা ঠিল্লার গল্প বইল্লা যাই।
আ আ আ হা হা হা হা
কেমনে পেলাম অ আর আ?
ওরে বোন ও মনিজা ;তুই যে আমার কলিজা।
আমি জুলি নগন্যা  ;সেই আজিজা।
ও তোর ডাগর চোখের কাজল ধুয়ে ডাকিসনা-রে  বান।
বাঙ্গাল কথা শোনার জন্য করি আহবান!
কচুর পাতায় জলের ফোটা যেমন টলোমলো।
বঙ্গ ভংগের তালে আইন ছিলো এলোমেলো।
এবার চলো আসল কথায় যাই।
বাঙলা ভাষার ইতি কথা সকলকে জানাই।

আরে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনকবে কারা করলো উত্তোলন?
বাঙলা ভাষা কবে এলো কেমনে এলো সেই কথাটাই বলি।
বাংলা সবার প্রাণের ভাষা মারেন হাতে তালি।
alt
সাতচল্লিশ সালে ভারত ভাগে পাকিস্তান ভাষার।
এখানে অবস্থানটা দেখাই একবার।
চৌধুরী খালেকুজ্জামান নবাব লিয়াকত আলী খান!
ভাষার বুকে রিফিউজি যেনো উর্দুপাকিস্তান।
তখন চুয়ান্ন লক্ষ উর্দুভাষী ছিলো ছিলো মোহাজের।
করাচী আর হায়েদ্রাবাদে পশতু বেলুচের।
জিন্নাহ রত্না দীনা বাঈ মোম্বাই গুজরাট।
আরে রুমির টুপি মাথায় দিয়া ঘটাইলো বিভ্রাট।


উর্দু নয়রে নিজের ভাষা তবু উর্দুর জন্য টান।
বাঙালীর বাঙলা ভাষা ভেঙে করতে চায় খান খান।
ডঃ শহীদ সলিমুল্লাহ ভেবে হয়রান।
পূর্ব বাঙলার ছাত্র সমাজ শক্ত নওজোয়ান।
ঢাকায় প্রগতি লেখক শিল্পী সংঘের বসলো যে বৈঠক।

স্বাস্থমন্ত্রী হাবিবুল্লাহর মনের কথা বোঝা ভার।
আরে গোমড়া মুখের খ্যামড়া তোলে চায় চারিধার।
খাজা নাজিমুদ্দীন ভেবে কয়
উর্দু হবে রাষ্ট্রভাষা এর বিকল্প নয়।
তখন গোল টেবিল বৈঠক বসে
বুদ্ধিজীবি গন অংক কষে।
দিন গলে রাত হয় রাত গলে দিন।
বাঙলা ভাষার আয়ু যেনো হয়ে আসে ক্ষীণ।

বাঙলার বাঘ শেরে বাঙলা তেড়ে ওঠেন তাই!
তাঁরই সংগে কন্ঠ মিলান ভাষানী ভাই।
রাজপথে মিছিল নামে ।
পুলিশ থাকে তারই বামে।
ডাঃ মোঃশামসুদ্দুহা বাঙলার প্রথম বুদ্ধিজীবি।
নিজের প্রাণটা বিলিয়ে দিয়ে ফোটায় বাঙলার ছবি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র দলে শ্লোগান তোলে।
বাঙলা মোদের প্রাণের ভাষা বাঁচবো মুখের বোলে।
সালাম বরকত রাস্তায় নামে।
রফিক শফিক কেউ রইলো না ধরাধামে।
শত্রুদের বাড়ে মনে দ্বেষ।
সন্তান হারা মায়ে কাঁদে ছড়িয়ে কেশ।


ঝরায় রক্ত বাড়ায় ভক্ত বাঙলার সন্তান।
জিরো পয়েন্ট টা হয়ে গেলো নিঠুর কবরস্থান।
ঘটনাটা ঘটে গেলো বায়ান্ন সালে।
এই রক্তঝরা দিনটিকে একুশে ফেব্রুয়ারী বলে।
নতুন প্রজন্মের কাছে করি নিবেদন।
এই দিনটির রাখিও সন্মান।
মনে রেখো খেলার মাঠে দূর্বাদলে পায়ে পায়ে জড়িয়ে ধরে।
খেলার সাথী নাইরে।
কতো রক্তে গড়াগড়ি ঢাকারই শহর।
কতো মায়ে সন্তান হারা কাঁদে তাদের অন্তর।
সেই বাঙলাকে বাঙলার মানুষ ভালোবাসো ভাই।
এই কামনায় আমি জুলি ইতি টানতে চাই-।

২১শে ফেব্রুয়ারীর জন্য।১লা ফেব্রুয়ারী ২০১৭ইং নিউইর্য়ক-


একুশের চেতনা - জুলি রহমান

শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

একুশ আমাদের শেকড়।যার হাত ধরে গুটি গুটি পায়ে হেঁটে হেঁটে পেয়েছি স্বাধীনতা।দু শো বছরের গোলামীর কারাগার ভেঙে পেয়েছিলাম  অবাধ সাঁতার।গাঙচিল শংখ্খ চিলে উড়া আকাশ আর সূর্য্য আভার নয়া ভোর।তাই একুশই আমাদের প্রথম চিৎকার।বাঙালী জাতিকে অনুপ্রানিত করার পূর্ব শর্ত ।সাহস একুশ।তাই অনুরোধ একুশকে পোশাকী না করে অতি সাচ্চা নিয়মে
আমাদের প্রাণের ভেতরে এর আসন পেতে দেওয়া।বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা।কতো রক্ত ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে পাওয়া এই  একুশ।

একুশে ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা দিবস প্রতি বছর অতি নিষ্ঠার সাথে পালিত হচ্ছে।ইউনেস্কো এই দিনটিকে বিশ্ব মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।পৃথিবীর ইতিহাসে এই বৃহৎ কর্মটি করেছে একটা জাতি তা হলো আমরা এই বাঙালী জাতি।বাঙালী ও বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে অত্যান্ত গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা এবং একটা সংবেদনশীল;একটা দিবস হিসাবে একুশ উদ্যাপিত হয় হচ্ছে।

Picture

গেলো বছর জাতিসংঘের মূল চত্বরে
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সন্মানে একটি ভাস্কর্য স্থাপিত হয়।তাতে বাঙলা অক্ষর দেয়া হয়।
এই মার্কিন মুল্লুকের বাঙালী তথা
ভাষাপ্রেমী বাঙালীকঠিন শীতকে উপেক্ষা করে বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সময়ে ছবি তুলেছেন মনের সুখে।
একটা সুখের সংবাদ বাংলা ভাষাকে
জাতি সংঘের অন্যতম একটি দাপ্তরিক ভাষা হিসাবে গৃহিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশের মাননীয় পররাস্ট্র মন্ত্রী জাতি সংঘের সব কটি দেশের
পররাস্ট্র মন্ত্রীকে আবেদন করেছেন।বাংলা ভাষাকে বিশ্বের অন্যতম ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে ।আমরা যারা প্রবাসে ছড়াই বাংলার শব্দবীজ ।তাদের কথা অবশ্যই বলতে হবে ।আমরা শব্দ চাষা গড়ি বাংলা।করি লালন বাংলায় ফোটাই কবিতার
খই। এই প্রবাসে চল্ছে বাঙলা চর্চা তুখর গতিতে।প্রয়াত কবি শহীদ কাদরী র একটি কবিতা সন্ধা।নীরা পরিচালিত এই কবিতা সন্ধা বিভূঁই ভূমিতে সাহিত্যকে করেছে আরো সম্নৃদ্ধি।এছাড়াও মাসিক সংগঠন গুলোতে প্রবাসী লেখক কবি শিল্পী বাচিক শিল্পী গন তাদের মেধা মননকে প্রতিনিয়তই শান দিচছে।যেমন সাহিত্য
একাডেমী, গাংচিল,স্বদেশ ফোরাম, বহুবচন,সাজুফতা ও উনোবাঙ্গাল ইত্যাদি।এখানে কয়েকজন কবির কবিতার উদ্ধৃতি দিচ্ছি-

কবি শহীদ কাদরী
হে নবীনা, এই মধ্য ম্যানহাটনে বাতাসের ঝাপটায়
তোমার হঠাৎ খুলে যাওয়া উদ্দাম চুল
আমার বুকের পর আছড়ে পড়লো।

শামসাল মমীন
বন্ধুরা জীবন একঘেঁয়ে;এ কথা বলো না।
এখনো আকাশে রঙ বদলায়,সমুদ্র উজ্জ্বল ভালোবাসা দিয়ে ঢেউ তোলে--

ফকির ইলিয়াস-
একদা পরিব্রাজক হয়ে পরিভ্রমন করবো তোমার নগরী সে আশায়
তাকিয়েছিলাম বৃষ্টির কৃতিত্বের দিকে।
ভাষার আয়নায় লিখেছিলাম সোনালী আলোর রেশম।

তমিজ উদ্দীন লোদী
একাকিত্বের  একটি ভাষা আছে।
এ ভাষা আমি রপ্ত করেছিলাম শৈশবে
বৃক্ষ লতাগুল্ম ও ঝোপের ভেতর থেকে
রোদ্দোরে ও চন্দ্রিমায় এক অজানা শব্দের ঘ্রাণ উঠে আসতো।

জুলি রহমান-
রাত্রির মৌনতা ভেঙে চলেছো তুমি সাথে সবুজ সকাল
উদ্বেল কথার মালায়
গেঁথে যাও দুধেল শব্দ
অথচ ঘ্রাণটা ত্রুমাগত
ঘন হয়ে উঠার বিষয়
যেমন বর্ণের চিতই বাষ্প কেবল-

হাসান আল আব্দুল্লাহ

আকাশ কাঁপানো শব্দ ওঠে ব।
সম্মিলিত আওয়াজ আসে হ হ হ
আপনি কইছেন বায়ান্ন
কর্তা হাসেন ,ঠিকই ধরছ

সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

শহীদ মিনার গেলে সবার
আকুল হয় যে মন,
সব শহীদের মান রাখতে
করছে সবাই পণ।

সংস্কৃতির পৃষ্টপোষক স্যার মমতাজউদ্দীন আহমদ
কাজ করে গ্যাছেন স্যার মমতাজ উদ্দীন ।বলেছেন-
ভাষার শহীদরা স্বাধীনতার যোদ্ধারা রক্তের দরিয়ায় স্নাত হয়ে তাকিয়ে আছে প্রিয় বাঙলার দিকে।তাই ভাষার শহীদ আর স্বাধীনতার শহীদকে একসাথে বুকে নিয়ে মিনার স্থাপিত করবো।এই প্রবাসে।

প্রবাসে শেকড় গেড়েছে বাঙলা ভাষা।
আর তো কোনো দুঃখ নাই।লক্ষলক্ষ বাঙালীর সন্তান নতুন প্রজন্ম কবিতা পড়ছে লিখছে।নাচে গানে নাটকে অংশ নিচ্ছে।আবৃত্তি করছে কবিতা।বাচিক শিল্পীগন সন্মানিত এই প্রবাসে ।কবিদের ফুটিয়ে তুলছেন নিরলস প্রচেষ্টায়।বাঙলাতেই ।জি এইচ আর্জু,শ্যামন্তী ওয়াহেদ।মুমু আনসারী,গোপন সাহা , মিজান, ক্লারা রোজারিও,আরো অনেকই বাংলা যেনো এদের ষাস্টাংগে শেকড় পুতেছে। তেমনি গানের প্রথিত যশা শিল্পী শাহ মাহবুব,তাহমীনা শহীদ, খায়রুল ইসলাম সবুজ।সাঈদা নাসরীন চৌধুরী,তাজুল ইমাম।গুরু মোত্তালিব বিশ্বাস।সেলিমা আশরাফ।কাবেরী দাস।আরো অনেকে।

এই প্রবাসে আমরা ধনে ধান্যে পরিপূর্ণ তাই পাশে পেয়েছি এমন ই একজন পূজনীয় ব্যাক্তিত্ব।মিডি মিউজিক স্বনাম ধন্য গীতিকার সুরকার নাদিম আহমদ।যিনি সুরকে শব্দকে কন্ঠে ধারন করিয়ে বইয়ে দেন আনন্দের ফল্গু ধারা।
আরো একজনের নাম না নিলে আমি অকৃতজ্ঞ থাকবো গীতিকার সুরকার
হারুন সাহেব।
এই প্রবাসে বাঙলা পত্রিকা গুলোর নাম না নিলে সম্পূর্ণ রুপে অসমাপ্ত থেকে যাবে সকল কথার কথা।এই পত্রিকার অবদান লেখক কবি সামাজিক রাজনৈনিত সকল ক্ষেত্রে সমান ভূমিকা রাখছে।কোনো একটা দিকেও বাঙলা অপূর্ণ নয় প্রবাসে।বাঙলা পত্রিকা আবু তাহের।ঠিকানায় জনাব ফজলুর রহমান ,শাহীন,বাঙালীতে কৌশিক সাহেব বর্ণমালায় মাহফুজ।আজকাল সহ আরো বহু পত্রিকা মনের যোগান দিয়ে যাচ্ছে।শুধু তাই নয়।এই সুদূর মার্কিন মুল্লুকে প্রতি বছর বই মেলার আয়োজন করেন সকলের প্রিয় বিশ্বজিৎ।তিন দিনের এই আয়োজনে বিশাল বাঙলার প্রান্তরে উপনীত হয় এই প্রবাস মাটি।কানায় কানায় পূর্ণ সোঁদাগন্ধময়।

উপসংহারে এটাই বলবো যে উত্তর গ্রাসী শাসক গোষ্ঠী বাঙলা ভাষা নিধনে স্বত্রুিয় হয়ে ওঠেছিলো সেই বেনীয়াদের ঘায়েল করতে সক্ষম হয়েছে বাঙালী জাতি।তাই সুদূর প্রবাস নিবাস বলে কোন কিছু নেই।বাঙালী চাঁদে গেলেও বাংলাকে সাথে নিয়ে যাবে।কারন বিশ্বব্যাপী বাংলা এবং বাঙালী।একুশের চেতনায় উদ্বোদ্ধ হয়েই একসাথে পা ফেলে হাঁটছেন এবং হাঁটবেন।বাঙালীর প্রতিদিনের জীবন চেতনায় একুশ গেড়েছে আসন।


ন্যায়কণ্ঠ বিতর্কমুক্ত থাকুক সার্চ কমিটি

শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৭

নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর নির্বাচন কমিশন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যূন চারজন নির্বাচন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগদান বিষয়ে সংবিধানে সুস্পষ্টরূপে উল্লেখ রয়েছে, এতদবিষয়ে প্রণীত কোনো আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ৪৫ বছর অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক পদগুলোয় নিয়োগদান বিষয়ে কোনো আইন প্রণীত হয়নি। বর্তমানে যে নির্বাচন কমিশনটি কার্যকর রয়েছে এটি একাদশ নির্বাচন কমিশন। এটির কার্যকাল ফেব্রুয়ারিতে সমাপ্ত হবে। একটি নির্বাচন কমিশনের কার্যকাল শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পুনঃনিয়োগ বারিত হলেও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারের প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদে নিয়োগ বারিত নয়।

বর্তমান একাদশ নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় দেখা গেছে, গঠন-পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে সাংবিধানিক পদধারী চার ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি সার্চ বা বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই বাছাই কমিটিতে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারক সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। সদস্য হিসেবে ছিলেন সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি। দ্বাদশ নির্বাচন কমিশন গঠনের উদ্দেশ্যে একাদশ নির্বাচন কমিশনের মতো সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগেকার সার্চ কমিটির সঙ্গে এটির পার্থক্য হল, এটিতে সদস্য হিসেবে অতিরিক্ত দু’জনের স্থান মিলেছে। তারা দু’জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অপরজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। বর্তমান কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব যিনি পেয়েছেন তিনি আগেকার কমিটিরও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান কমিটির অপর তিন সদস্যের পদবি আগেকার কমিটির অনুরূপ হলেও ব্যক্তি হিসেবে তারা ভিন্ন।

আমাদের বর্তমান সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থায় সরকারের সব নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর ওপর ন্যস্ত। এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধানরূপে রাষ্ট্রের অন্যসব ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করলেও প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি এ দুটি পদের নিয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া রাষ্ট্রপতি তার অন্যসব দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী সমাধা করে থাকেন। এ দুটি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির পক্ষে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের কোনো সুযোগ নেই।

একাদশ নির্বাচন কমিশন ও বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে, আমাদের সংবিধান বা অন্য কোনো আইনে অনুরূপ সার্চ কমিটির উল্লেখ নেই। এ বাস্তবতায় এ ধরনের সার্চ কমিটির আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক গঠিত বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতির পক্ষে এ ধরনের সার্চ কমিটি গঠনের সুযোগ নেই।

বর্তমান সার্চ কমিটি গঠন বিষয়ে বঙ্গভবন, আইন মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র উল্লেখ করে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, ২৫ জানুয়ারি সকালে আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে এক নারী প্রতিনিধিসহ ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি পাঠায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়। বঙ্গভবনের চিঠি পাওয়ার পর নাম নির্ধারণ এবং এটি গেজেট আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এরপর তারা দু’জন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎপূর্বক তার সঙ্গে আধঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রধান বিচারপতি কর্তৃক সার্চ কমিটির প্রধান ও সদস্য হিসেবে দু’জন বিচারককে মনোনয়ন দেয়ার পর পূর্ণাঙ্গ সার্চ কমিটি গঠন করা হয়, যার প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সার্চ কমিটি গঠনের আগে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর সেটি আবার পাঠানো হয় রাষ্ট্রপতির কাছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। উপরোক্ত সামগ্রিক প্রক্রিয়া অবলোকনে প্রতীয়মান হয়, সার্চ কমিটিতে যারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির যে সাংবিধানিক অবস্থান তা যথারীতি প্রতিপালিত হয়েছে।

বর্তমান সার্চ কমিটিও ধারণা করা যায় আগেকার সার্চ কমিটির মতো প্রতিটি পদের বিপরীতে দুটি করে নামের সুপারিশ রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রেরণ করবে। আগেকার সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে যে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিল, তা এ পর্যন্ত গঠিত নির্বাচন কমিশনগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিতর্কিত ও সমালোচিত। সার্চ কমিটির পক্ষে দলীয় মতাদর্শী ও সুবিধাভোগী নয় এমন সৎ, দক্ষ, যোগ্য, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং বাস্তবিক অর্থেই নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করে সুপারিশ প্রদান সম্ভব। এমন ব্যক্তির সংখ্যা আমাদের দেশে অপর্যাপ্ত নয়। তাদের খুঁজে বের করতে যা দরকার তা হল, নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দৃষ্টি প্রসারিত করে দলীয় মতাদর্শী, দলীয় সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের বিবেচনায় না নিয়ে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্নদের সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রেরণ। স্বভাবতই প্রশ্নের উদয় হতে পারে, দলীয় সুবিধাভোগী ও দলীয় মতাদর্শী কারা? এ বিষয়ে বিজ্ঞজনের সুচিন্তিত মত হল, অবসরের পর বিশেষ বিবেচনায় যারা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর ও সংস্থায় চুক্তিভিত্তিক বা মেয়াদি পদে নিয়োগ লাভ করেছেন তারা হলেন দলীয় সুবিধাভোগী আর যাদের জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক বিবেচনায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর ও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হয়েছে তারা দলীয় মতাদর্শী। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয় সরকারের আমলেই এ ধরনের অগণিত কর্মকর্তা মেধা, দক্ষতা, সততা ও যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও অতিমূল্যায়িত হয়ে পুরস্কৃত হয়েছেন। তাদের কাছে দেশ ও জাতির স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থ অনেক বড়। এ ধরনের ব্যক্তিরা এর আগে জাতিকে কখনও ভালো কিছু দিতে পারেননি। আর ভবিষ্যতেও যে দিতে পারবেন না, এ বিষয়ে সচেতন দেশবাসীর মনে কোনো সংশয় নেই।

এ প্রশ্নে কোনো বিতর্ক নেই যে, সার্চ কমিটি কর্তৃক রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রতিটি পদের বিপরীতে যে দুটি নামের সুপারিশ যাবে তার একটির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে তার পরামর্শ ব্যক্ত করবেন। সার্চ কমিটি প্রেরিত সুপারিশে প্রকৃত অর্থেই দলীয় সুবিধাভোগী ও মতাদর্শী নয় এমন ব্যক্তির ঠাঁই হলে আশা করা যায়, জাতি এমন একটি নির্বাচন কমিশন পাবে যেখানে সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমাবেশ ঘটবে। অতীতে সার্চ কমিটি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে কিনা, তা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি অনুধাবনের মধ্য দিয়েই দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট। সার্চ কমিটির আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতা নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের সুপারিশের মধ্যে এমন নামের অন্তর্ভুক্তি ঘটাতে পারে, যা সার্বিক বিবেচনায় কমিশনকে যে কোনো ধরনের দলীয় আবরণের দায় থেকে মুক্ত রাখবে।

আমাদের দেশে এর আগে দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে যেমন সরকারি দল জয়ী হয়েছে, অনুরূপ দলীয় সরকারের অধীনে গঠিত নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরকারি দলের বিজয় হয়েছে। অপরদিকে কর্মরত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন অস্থায়ী সরকার, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিরোধী দলের বিজয় লাভ ঘটেছে। উপরোক্ত সরকারগুলো ক্ষমতাসীন থাকার সময় একটি মাত্র ক্ষেত্র অর্থাৎ অষ্টম নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন কর্মরত নির্বাচন কমিশন ছাড়া দলীয় সরকার কর্তৃক গঠিত অপর সব নির্বাচন কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। অষ্টম সংসদ নির্বাচনকালীন যে নির্বাচন কমিশন কর্মরত ছিল সেটি সপ্তম সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক গঠিত হয়েছিল। ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক গঠিত নির্বাচন কমিশনের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারার পেছনের মূল কারণ হল, সে সময় কর্মরত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ করেনি।

সংবিধানের বর্তমান বিধান অনুযায়ী একাদশ সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন দ্বাদশ নির্বাচন কমিশন কর্মরত থাকবে। স্বভাবতই এ নির্বাচন কমিশনে দলীয় সুবিধাভোগী ও দলীয় মতাদর্শী ব্যক্তিদের ঠাঁই হলে নির্বাচনী ফল কী হবে, তা দেশের সচেতন মানুষ অনুধাবন করতে সক্ষম। আর এ কারণেই দ্বাদশ নির্বাচন কমিশনে নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তি জরুরি।

দশম সংসদ নির্বাচন ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনের মতো একতরফা, ভোটারবিহীন ও সহিংস ছিল। উভয় নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। এ দুটি নির্বাচনের মধ্যে পার্থক্য হল, প্রথমোক্তটি অনুষ্ঠানের পর যে সংসদ গঠিত হয়েছিল তা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত বিল পাস করার ফলে অবলুপ্তির মধ্য দিয়ে সে সরকারের বিদায় ঘটে; পক্ষান্তরে শেষোক্তটি অনুষ্ঠানের পর একই সরকার বহাল রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান প্রবর্তিত হয়; অপরদিকে ২০১৩ সালে ক্ষমতাসীন সরকার একতরফাভাবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অবসান ঘটায়।

১৯৯০-পরবর্তী দেশে পর্যায়ক্রমে বড় দুটি দল সরকার পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করে আসছে। দশম সংসদ নির্বাচন একতরফা হলেও আশা করা যায়, একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচন কতটুকু অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে, তা বহুলাংশে নির্ভর করছে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন কর্মরত নির্বাচন কমিশনের ওপর। এ কমিশন গঠন বিষয়ে এরই মধ্যে সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিবন্ধিত দলগুলো থেকে সম্ভাব্য কমিশনারদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। নিবন্ধিত দলগুলো এরই মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সার্চ কমিটির কাছে তালিকা হস্তান্তর করেছে। বড় দুটি দলসহ বিভিন্ন দলের তালিকায় কাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, এ বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এর সত্যতা নিয়ে বড় দুই দল এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কিছুই বলা হয়নি। প্রকাশিত নামগুলোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের সবাই যে সৎ, দক্ষ, যোগ্য, নিরপেক্ষ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এমনটি জোর দিয়ে বলা যাবে না। আর তাই এদের মধ্যে প্রকৃত অর্থেই কারা সৎ, দক্ষ, যোগ্য, নিরপেক্ষ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এটি নির্ধারণের দায়িত্ব অবশ্যই সার্চ কমিটিকে পালন করতে হবে। এ দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্য আগামী অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেবে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কর্তৃক সুপারিশকৃত নয় এমন ব্যক্তির নাম কাক্সিক্ষত যোগ্যতাসম্পন্ন বিবেচনায় সুপারিশে অন্তর্ভুক্তি সার্চ কমিটির জন্য বারিত নয়। সার্চ কমিটি কী পন্থা ও পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কমিশনে নিয়োগের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বরাবর তালিকা সংবলিত সুপারিশ প্রেরণ করবে, তা তাদের একান্ত নিজস্ব বিষয় হলেও এর স্বচ্ছতা নিয়ে যেন কোনো প্রশ্ন না ওঠে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের ওপরই ন্যস্ত।

সার্চ কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে গঠিতব্য নির্বাচন কমিশনটি নিয়ে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে তা শুধু কমিশন নয়, সার্চ কমিটি নিয়েও বিতর্কের জন্ম দেবে। আর এ ধরনের বিতর্ক যে আমাদের জন্য অবমাননাকরভাবে বহুজাতিক সংস্থার নেতৃত্বে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ প্রশস্ত করবে- অন্তত এ সত্যটি উপলব্ধি করে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন, এটিই আজ দেশবাসীর প্রত্যাশা।

ইকতেদার আহমেদ : সাবেক জজ; সংবিধান, রাজনীতি ও অর্থনীতি বিশ্লেষক