Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

সজিব ওয়াজেদ জয় শিশু-মুক্তিযোদ্ধা= সিরাজী এম আর মোস্তাক

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭

২৭ জুলাই, জনাব সজিব ওয়াজেদ জয়ের শুভ জন্মদিন। তিনি ১৯৭১ সালের এদিনে মুক্তিযুদ্ধের কঠিন মুহুর্তে তৎকালিন পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) দেশরতœ শেখ হাসিনার কোলে জন্মলাভ করেন। তখন চারদিকে ছিল শুধু আর্তনাদ আর লাশের বিদঘুটে গন্ধ। দেশের ত্রিশ লাখ শহীদ ক্রমান্বয়ে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিচ্ছিল। তাঁর স্বনামধন্য পিতা মরহুম ড. এম. এ. ওয়াজেদ মিয়া তখন ইয়াহিয়া সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরমাণু শক্তি কমিশনে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর মহামান্য নানাজী বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালিন পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন। তাঁর নানীজী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও খালাম্মু শেখ রেহানা তাঁর বিশেষ পরিচর্যায় ছিলেন। তাঁর আদরের ছোট্ট মামা শিশু শেখ রাসেল কাছেই ছিলেন। তখন তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা সবই ছিল শঙ্কাপুর্ণ। এ কঠিন মুহুর্তে তাঁর আবির্ভাবে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তিনি বঙ্গবন্ধু পরিবারের জন্য ত্রাতা হিসেবে জন্মলাভ করেন। তাঁর নিস্পাপ মায়াবী কচিমুখের বদৌলতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যগণ পাকবাহিনীর হাত থেকে রেহাই পান। আজ তাঁর শুভ জন্মদিনে সে কঠিন সময়ের কথা ভাবতেই মুখে আসে, তিনি একজন শিশু-মুক্তিযোদ্ধা।
মুক্তিযুদ্ধ ৭১ বাংলাদেশের রক্তাক্ত অধ্যায়। এতে শরিক ছিল শিশু-কিশোর নির্বিশেষে তখনকার সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালি সবাই। বঙ্গবন্ধু একথা বহুবার বলেছেন। এ প্রসঙ্গে মাননীয় মন্ত্রী জনাব রাশেদ খান মেনন স্বীয় গ্রন্থে উল্লেখ করেন, দেশের মানুষের কার্যত সকল অংশই মুক্তিযুদ্ধে শরিক হয়েছিল। ক্যান্টনমেন্টের বিদ্রোহী সেনাবাহিনী, বিডিআর, পুলিশ থেকে একজন সাধারণ কৃষক পর্যন্ত কেউই বাদ থাকেনি এই মুক্তিযুদ্ধে। যারা মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারেনি তারাও এগিয়ে এসেছে সহযোগিতার হাত নিয়ে। অর্থ দিয়ে খাবারের যোগান দিয়ে, আশ্রয় দিয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থন জুগিয়েছে। আর যারা তা করতে পারেনি তারা অবরূদ্ধ দেশের মধ্যে বসে উদ্ধিগ্ন প্রহর গুনেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাফল্যে আনন্দে উদ্বেল হয়েছে। অসাফল্যে মুষড়ে পড়েছে। আসলে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের এই সমর্থন না থাকলে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে সম্ভবই ছিল না কোনো প্রকার প্রতিরোধ গড়ে তোলার। বাংলাদেশে কোনো দুর্গম-পাহাড়-জঙ্গল ছিলনা, যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা লুকিয়ে থাকতে পারে। পানির মধ্যে মাছের মতো এই জনগণের মাঝেই মুক্তিযোদ্ধারা মিশে থেকেছে। আর এই মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দেয়ার অপরাধে তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পাকবাহিনী মেয়েদের ধরে নিয়ে গেছে। এই মানুষদের দিয়ে কবর খুঁড়িয়ে তার পাশে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে ঐ কবরে ফেলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই দেখা গেল সেই ঐক্যবদ্ধ মানুষকে বিভক্ত করে দেয়া হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে। যারা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে ভারতে গেছে তারাও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত হলেও দেশের অভ্যন্তরে এই মানুষগুলোর ত্যাগ-তিতিক্ষার, অবরূদ্ধ দেশে এক ভয়ঙ্কর পরিবেশের মধ্যে তাদের সংগ্রামের কোনো স্বীকৃতি মেলেনি, যে দেশ তারা সবাই মিলে স্বাধীন করলো, সেই দেশটাই যেন চলে গেল দখলে।(রাশেদ খান মেনন,  রাজনীতির কথকতা, পৃষ্ঠা-১৫-১৬, ঢাকাঃ মৃদুল প্রকাশনী, ২০১০)। এতে স্পষ্ট হয়, মুক্তিযুদ্ধে শিশুদেরও ভূমিকা ছিল। জনাব সজিব ওয়াজেদ জয় এর সুস্পষ্ট প্রমাণ।
মুক্তিযুদ্ধে প্রাণদানকারী ত্রিশ লাখ শহীদের মাঝে বহু শিশু রয়েছে। তাদের প্রাণদান বৃথা নয়। তারাও মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে শিশুদের ভূমিকা নিয়ে বহু বর্ণনা রয়েছে। যুদ্ধকালে ভারত প্রত্যাগত শরণার্থীদের মাঝে একটি শিশুর করুণ পরিণতি সম্পর্কে লেখক ফজলুল কাদের কাদরী উদ্ধৃত করেন- পিটিআই-এর খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ভারতীয় সীমান্তের কাছে ৫০ শরণার্থীর একটি দল টহলরত পাকিস্তানী সৈন্যরা আসছে জেনে একটি পাটক্ষেতের ভিতর লুকায়। ঐ শরণার্থীদের এক মহিলার ৬ মাস বয়সী শিশুটি হঠাৎ করেই কেঁদে ওঠে। শিশুটির কান্না থামাতে না পারলে শরণার্থীদের ওপর হামলা হতে পারে এটা বুঝতে পেরে ঐ মহিলা তার শিশুটিকে গলাটিপে মেরে ফেলে।(বাংলাদেশ জেনোসাইড এন্ড ওয়ার্ল্ড প্রেস, পৃষ্ঠা-২০৫, (বাংলা অনুবাদ-দাউদ হোসেন), ঢাকাঃ সংঘ প্রকাশন, প্রথম বাংলা সংস্করণ ফেব্রুয়ারী, ২০০৩)। এভাবে ১৯৭১ সালে প্রাণদানকারী ত্রিশ লাখ শহীদের মাঝে বহু শিশু রয়েছে। প্রত্যক্ষ যুদ্ধ না করলেও তাদেরকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেয়ার সুযোগ নেই। তারাও আত্মত্যাগী মুক্তিযোদ্ধা। মাননীয় দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি ৫৮ জন শব্দসৈনিককে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করেছেন। তারাও অস্ত্র নিয়ে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ করেননি। তাদের তুলনায় জনাব সজিব ওয়াজেদ জয়ের ভূমিকা মোটেও কম নয়। সুতরাং ত্রিশ লাখ বীর শহীদ ও শব্দ সৈনিক মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায় জনাব সজিব ওয়াজেদ জয়ও শিশু-মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি প্রাপ্য।
বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ খেতাব প্রদান করেছেন। এছাড়া ১৯৭১ এর দেশের সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালিকেই তিনি মুক্তিযোদ্ধা গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধু শিক্ষা দিয়েছেন যে, ৬৭৬ যোদ্ধা থেকে মাত্র ৭জন শহীদ যেমন বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা তেমনি সাড়ে সাত কোটি বীর বাঙ্গালি থেকে ত্রিশ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রমহারা নারীগণ সর্বোচ্চ মানের মুক্তিযোদ্ধা। উক্ত শহীদ ও আত্মত্যাগী বীরদের বাদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অস্বীকার করার শামিল। তাই মুক্তিযুদ্ধকালে প্রাণ বাঁচাতে যারা ভারতে শরণার্থী হয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু তাদেরকেও মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করেছেন। তিনি নিজেও একজন বন্দী ও আত্মত্যাগী মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়েছেন। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে ১৯৭১ এর কেউ বাদ যায়নি। অথচ বাংলাদেশে এখন মুক্তিযোদ্ধা তালিকা রয়েছে মাত্র প্রায় দুই লাখ। যেন এ দুইলাখ যোদ্ধাই দেশ স্বাধীন করেছেন, মুক্তিযুদ্ধে অন্য কারো ভূমিকা ছিলনা। এ দুইলাখ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে কোটা ও ভাতা প্রদানের নামে কোটি কোটি টাকা বাজেট-বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আর ত্রিশ লাখ বীর শহীদ ও সম্ভ্রমহারা নারীদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। তাদের অবদান অস্বীকার করা হয়েছে। এমনকি বর্তমান মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় স্বয়ং বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জনাব এম.এ.জি ওসমানীর নামও নেই। অর্থাৎ তারা কেউ মুক্তিযোদ্ধা নন। যেন বর্তমান তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাগণ বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার চেয়েও বড় মানের মুক্তিযোদ্ধা। এভাবে মহান অবদান সত্ত্বেও সজিব ওয়াজেদ জয় মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃত নন।
২৭ জুলাই, জনাব সজিব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা নেই। শুধুমাত্র ১৯৭১ সালে জন্ম বলেই তা পালন হয়না। এটি আমাদের চেতনাগত ব্যর্থতা। বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজেই তাঁর নাম রেখেছেন ‘জয়’। তিনি আমাদের বিজয়ের প্রতীক। বাংলাদেশে তাঁর অবদান অসামান্য। তিনি মাননীয় দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইটি উপদেষ্টা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের অন্যতম রূপকার। তিনি জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশে অবদান রেখে চলেছেন। ১৯৭১ সালে তাঁর জন্ম ও আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি না হলে, হয়তো তখনই বঙ্গবন্ধু পরিবারকে হারাতাম। তাই তাকে শিশু-মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি প্রদান, সময়ের দাবি। এতে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে সকল মতভেদ দুর হবে। স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক প্রণীত প্রচলিত দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও কোটা বাতিল হবে। দেশে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা বিভাজন দূর হবে। বাংলাদেশের ষোল কোটি নাগরিক সবাই ৭১ এর সাড়ে সাত কোটি বীর বাঙ্গালি ও লাখো শহীদের পরিবারভুক্ত হবে। মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর মহান আদর্শ বাস্তবায়ন হবে।
শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ঢাকা।
এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে। .


নিউইয়র্কের পুলিশ = সুলতানা রহমান

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭

গ্রীষ্মে নিউইয়র্কে পড়ন্ত বিকেল মানে রাত ৮টা! রোদের তাপ কমে এক মোহনীয় আলোক রশ্মি দ্যুতি ছড়ায়। ফুরফুরে হাওয়ায় উবে যায় সারাদিনের জ্বালা ধরানো উত্তাপ। এমন বিকেলে হিলসাইডে বাঙালি পাড়ায় হাঁটতে হাঁটতে হারিয়ে গেলাম বাংলাদেশের চিরচেনা সবুজ গ্রামে। না, কল্পনায় নয়, বাস্তবে। লাউয়ের মাচায় উঁকি দিচ্ছে সাদা সাদা ফুল, বাতাসে লকলক করছে কচি কচি ডগা। লাউয়ের পাতাগুলো এতো সুন্দর জিভে পানি এলো-আহা স্বাদের লাউ পাতা চিংড়ি মাছের ভর্তা! লাউয়ের মাচার নিচে বেগুন টমেটো উঁকি দিচ্ছে। ঘরের দাওয়ায় বসে খোশগল্পে মশগুল মেয়ে বউ শাশুড়ি। পাশেই আপন মনে খেলছে ছোট শিশুরা। শীতকালে আবহমান গ্রাম বাংলার উঠান লাগোয়া যেন পৌষের দুপুর গড়ানে বিকেল! হাঁটতে হাঁটতে নিউইয়র্কে রাস্তার দু'ধারের এমন দৃশ্যে আত্মভোলার মনে চৈতন্য এলো পেছন থেকে আসা নারী কণ্ঠের বাংলা চিৎকারে-'তোর দুই পা ধইরা ছিড়া ফালামু!' আচমকা ঘুরে তাকালাম, ১৩/১৪ বছরের মেয়ের উদ্দেশ্য বলছে একজন মধ্য বয়স্ক নারী। সম্ভবত মা মেয়ে। লিকলিকে গড়নের দু'জনেরই মাথার হিজাব। প্যান্ট টি শার্ট পরা মেয়েটি ঘাড় ঘুরিয়ে চোখ খিচিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে সোজা হেঁটে গেলো! মা বিড়বিড় করছে। মনে পড়লো কয়েক মাস আগে এই বয়সেরই বাংলাদেশি একটি মেয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে জানা গেলো, অতিরিক্ত শাসন আর ঘরে বাইরে ভিন্ন সংস্কৃতির দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট হতাশায় ভুগছিলো মেয়েটি।  

Picture

বছর দেড়েক আগে বাংলাদেশি এক মা তার দুই মাসের সন্তানকে জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেলে হত্যা করে। সেই মা এখন জেলে। তার চরম বিষন্নতা ছিলো। এসব ভাবতে ভাবতে আনমনে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ পরিচিত এক ভাবির সঙ্গে দেখা। পথের ধারে সিঁড়িতে বসে গল্পরত তার শাশুড়ি এবং শাশুড়ির বান্ধবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন। ফোকলা মুখে দুই বান্ধবী মিষ্টি হাসি দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন-বাড়ি কোথায়? এ কথা, সে কথার পর বললেন-প্যান্ট গেঞ্জি না পরে ছেলের বউয়ের মতো সালোয়ার কামিজ পরি না কেন! বললাম-আমি তার ছেলের বউয়ের মতো 'ভালো মেয়ে' নই! বহু বছর পর এমন কথা শুনে হাসতে হাসতে তাদের পানের ডিব্বার দিকে হাত বাড়াই, পান খেয়ে আবার চলতে শুরু করি।  

মাথায় ঘুরছে মা মেয়ের সেই বাক্য! আমেরিকায় অভিবাসীদের মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন একজনের সঙ্গে দেখা। তাকে বললাম ঘটনাটি। খুব বিরক্তি নিয়ে বললেন- এদের নিয়ে আর পারি না! কেউ অভিযোগ করলেই মেয়েটিকে পুলিশ নিয়ে যেতো এবং শেলটার হোমে পাঠিয়ে দিতো। বাংলাদেশি একটি পরিবারের চলমান এমন এক ঘটনার কথা বললেন। এক মা তার মেয়েকে মেরে হাতে দাগ ফেলেছে। স্কুলের সহপাঠীরা তা দেখে টিচারকে বলেছে। টিচার জানিয়েছে পুলিশকে। পুলিশ তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে। ওই মায়ের দুই মেয়ে এখন শেলটার হোমে আর মাকে পাঠিয়েছে কারেকশন সেন্টারে! বড় মেয়েটি পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে-মা মারে না, কিন্তু পুলিশ বিশ্বাস করেনি!

(লেখিকার ফেসবুক পেইজ থেকে সংগৃহীত)


গান ৪১৩ , ৪১৪= জুলি রহমান

বুধবার, ২৬ জুলাই ২০১৭

Picture

গান ৪১৩

আকাশে মেঘ জমেছে
তোমার প্রেমে মন রেঙেছে
উতল বাদল হাওয়ার সনে
গল্প করার ফাঁদ পেতেছে---ঐ

ভবঘুরে হৃদয় কাহার
কাটিয়ে ঐ মেঘের আধাঁর
ছুটে চলে অভিসারে
পাগল পরাণ বৃষ্টি নেশায় সুর পেয়েছে--ঐ

এই গভীর বনের ব্রোন্কসডিলে
কী সুখ পেলো তাঁর দিলে
অধর রাঙা হাসি ঢেলে চলে সে দোলে দোলে
বাওকুমারী হাওয়ার প্রেমে মন মজেছে--ঐ

গতকাল আমাদের ব্রোন্কস সোসাইটির পিকনিক ছিলো। যখন সবাই এনজয় করছিলোআমি এক ফাঁকে বৃক্ষরাজির সংগে কথা বলার জন্য কিছুটা সময় একা হয়ে যাই।তখন কে যেনো চলছিলো অনতি দূরে আমার পাশে পাশে।আকাশে মেঘের ঘনঘটা।অভিমানী প্রিয়া যেনো অংগে পরেছে কালো শাড়ি।প্রিয়তমের সাথে আড়ি।কথা কাটাকাটি।কথাচ্ছলে কাদো কাদো চোখ।নিচের পৃথিবীতে অনাবিল সুন্দরের বন।নদীর জলের ঢেউয়ের দাপাদাপি।হঠাৎ নেমে এলো মেঘবালা।পথ চলে সে আমারই সাথে।তাঁর মন ভালো হয়ে গ্যাছে।হেসে উঠলো।পরন্ত বিকেলের সোনা রোদ নিয়ে।আজ সকালে তাঁর আবার কী হলো? কাঁদছে তো কাঁদছেই।গলে গলে পড়ছে।

তাই কাল লেখা গানের সাথে আজকের প্রকৃতির কোনো মিল নেই।সুতরাং আবার আমাকে নতুন করে ভাবতেই হবে-

গান ৪১৪

জুলি রহমান

হাওয়ার কাঁপন বইছে জানালায়
বন্ধু আমার কতো দূরে কেমন আছে হায়
দিলাম চিঠি মেঘের কাছে
মেঘ ভেসে যায় অন্য কোনো গায়--ঐ

পাই না বন্ধু মনের খবর
মনটা আমার উদাস জবর
দোঁহের পরাণ বান্ধা পড়ে
হারায় চিঠি মেঘের আঙিনায়--ঐ

বইছে মনে শোকের বাতাস সে যে কতোদূরে
দিবানিশি দেখার আশায় মনযে পুড়ে
বৃষ্টি তুমি ধুয়ে নাও আমার চোখের জল
আসবে সে যে কদিন পড়ে চোখ রাখিবে চোখের পাতায়--ঐ


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকায় হিন্দুজঙ্গিদের আগুণ।আবু জাফর মাহমুদ

বুধবার, ২৬ জুলাই ২০১৭

অবাক করা নীরবতা।পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা যেনো কানা,বোবা এবং বধির।কিছু দেখেনি,শোনেওনি।অথবা তাদের উপর নির্দেশ কিছু না জানার ভান করে থাকা।বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকায় আগুন দিয়ে তা লাফিয়ে লাফিয়ে পায়ে দলন করেছে লাথি মেরে মেরে।ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির যুবকর্মীরা কলকাতায় একান্ড ঘটিয়েছে ১লা জুলাই ২০১৭।একমাস হয়ে যাচ্ছে, টু শব্দ নেই সরকারের, মাথা নীচু করে আছে সরকার,জাতীয় সংসদ এবং আওয়ামীলীগ।উদাসীন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী। আহারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা! কচুগাছেরও সরম হয় আমাদের মতো নির্লজ্জদের ভার বহন করতে।     
 নিউইয়র্কে কদিন ধরে আলাপ করে দেখলাম মুজিব সৈনিক,হাসিনা সৈনিকদের কয়েকজনের সাথে।জিজ্ঞাসা করলাম,প্রতিবাদ করছেননা কেনো এই আঘাতের? জবাবে তারা আমাকেই প্রশ্ন করছেন,কোথায়,কেনো,কি হয়েছে?সন্ধ্যার আলোঝলমল জ্যাকসন হাইটসে ইচ্ছে হচ্ছিলো নিজেই আবার নিজের  চেহরাটা দেখি।দেখি আমরা কতো মর্যাদাহীন জাতি,কতো বেশী আত্নসম্মানহারা বাঙালি।অসম্মান মেনে নেওয়ানোর অভিযানে শত্রুরা কতটুকু হয়েছে সফল?আমরা নীচমনারা অসম্মানে অভ্যস্থ থাকতে থাকতে ওভাবেই জীবনবোধে নিজেদেরকে মানিয়ে নেয়ার কতটুকু তলানিতে নেমে  গেছি।     
 গত সপ্তাহে সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকায় “হিন্দুজঙ্গিবাদী উৎপাতে বিভক্ত হচ্ছে ভারত”শিরোনামে প্রথম পাতায় নিয়মিত কলামে  প্রথম অনুচ্ছেদে জানিয়েছিলাম, “ভারতে জঙ্গিহিন্দুদের দল বিজেপি,বিশ্ব হিন্দু পরিষদ,বজরং ও শিবসেনার যুবজঙ্গিরা ১লা জুলাই  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কুশপুত্তলিকায়  আগুন দিয়ে তা লাফিয়ে লাফিয়ে পায়ে দলন করেছে লাথি মেরে মেরে।তাদের শারিরীক অঙ্গভঙ্গিতে বোঝানো হচ্ছিলো তারা  বাংলাদেশের উপর আগুণ জ্বালিয়ে দিয়েছে,এযেনো অনেক দিনের প্রতিশোধ।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।বাংলাদেশীদের সকলের ক্ষোভ বেড়েছে ভারতীয় সরকারী দলের এই নোংরা আচরণে।একাজের প্রতিশোধ সাথে সাথেই নেয়া যায়।কিন্তু ভারতীয় এই জঙ্গিদের মতো এতো নীচুজাতের মানুষ আমরা নই বলে প্রতিবেশীর প্রতি অসহিষ্ণু হয়নি বাংলাদেশ।তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা মুখার্জী এই ন্যাক্কারজনক উস্কানীর প্রতিবাদ করেছেন।সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করেছেন তিনি,তাদের এই সাহস হলো কিভাবে?”   
মমতাদিদির আগেই আমাদের প্রশ্ন ওদের এই সাহস হলো কি করে? প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী অথবা দেশটির এমন কি অপরাধ তাদের কাছে,যা কূটনৈতিক আলোচনার এজেণ্ডায় তোলা যায়না অথচ সে দেশের প্রধামন্ত্রীর কুশপুত্তলিকায় আগুণ দেয়া ছাড়া আর কোন পথ তাদের জানা নেই অথবা তাদের মুরুব্বীদের জানা থাকলেও এই হঠকারি আচরণ কেনোই বা তারা করলেন,তা নিয়েই আমাদের এই আপত্তি।মমতাদিদি নিজেকে পরিস্কার করেছেন যে,নীচ জাতের কাজটি তার রাজ্যে ঘটলেও এই এতো নীচে নামা তার সম্ভব নয়।
আর এই জঘন্য ঘটনাটি ঘটিয়ে যদি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপর চাপ দেয়া এবং বাংলাদেশকেও একইসাথে তাচ্ছিল্য করার লক্ষ্য থাকে,সেক্ষেত্রে যার যার অবস্থান থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যায় এবং সরকারকে সন্তুষ্ট করার দায়িত্ব তো আছেই।সন্তুষ্ট করার অর্থ জবাব দেয়া।এক্ষেত্রে কেন্দ্রের অধীনস্থ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার জবাব দিয়েছে ঠিকই,স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হা করছেনা মুখ খুলে।যেনো গলায় অনেক ভারি শেকল পরা আছে,যাতে চাপ পড়লে বুঝি নিঃশ্বাস নিঃশেষ হয়ে যায় যায়।
ভারতকে সন্ত্রাসের আঞ্চলিক সদর দপ্তর বলে বহু আগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিলো অনেকের মতো আমারও গবেষণায়।দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও  স্থিতিশীলতার সন্ধানে প্রকৃত বাধা কোথায়?এই প্রশ্নের জবাব তো যেকোন ভাবেই বলা যায়।তবে শক্তি না থাকলে তো সন্ত্রাস করা যায়না।সন্ত্রাস  করতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা জরুরী হয়।দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রটিকে বিশাল সন্ত্রাসী থাবা থেকে রক্ষা করার ভাবনা থেকেই এই অনুসন্ধান শুরু।স্বাধীনতা যুদ্ধ করে উক্ত অঞ্চলের একটিমাত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশ  স্বাধীন হয়েছে।এই রাষ্ট্রকে রক্ষার অর্থ মানব সভ্যতায় স্বাধীনতার চেতনা ও মূল্যবোধকে সম্মান করা। এই রাষ্ট্রের ক্ষতি করার অর্থ মানুষের স্বাধীনতাবোধের শত্রু হওয়া।
 ভারতের জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসের উপর বাংলাদেশী এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় অনেক প্রতিবেদন এবং প্রবন্ধ লিখেছি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিরোধীতার লক্ষ্যে পর্যবেক্ষন করতে


প্রবাসীদের কাছের মানুষ নার্গিস আহমেদ

সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭

 তার নাম দিল আফরোজ আহমেদ, কিন্তু তাকে সবাই নার্গিস আহমেদ নামেই চেনে। দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। প্রবাসে পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সমাজ সেবাসহ আমেরিকার মেইন স্ট্রিমে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন কৃতি এই প্রবাসী নারী। সম্প্রতি তিনি দেশে এসেছেন। নানা ব্যস্ততার ফাঁকে একদিন বিকেলে এসেছেন প্রবাস মেলা কার্যালয়ে। তার প্রবাস জীবনের নানা বিষয় নিয়ে মুখোমুখি হয়েছেন প্রবাস মেলা’র রিপোর্টার মো: মোস্তফা কামাল (মিন্টু)। তাদের আলাপচারিতার চুম্বক অংশ এখানে তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলায় জন্মগ্রহণ করা নার্গিস আহমেদ ঢাকার আজিমপুর গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ঢাকা ইডেন কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও বৈবাহিক সূত্রে এখানে পড়াশোনা না করেই ১৯৮১ সালে স্বামীর সাথে আমেরিকায় চলে যান। আমেরিকায় তিনি ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম এর উপর পড়াশোনা করেন। এরপর তিনি জুরিস ওয়ার্ল্ডে ম্যানেজার হিসেবে ট্রাভেল ট্যুরিজম পেশায় যোগদান করেন। এখানে তিনি ফুলটাইম ট্রাভেল এজেন্ট এবং সাপোর্টিং হিসেবে একটানা ২৪ বছর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করেন।

নার্গিস আহমেদ ১৯৮৬ সালে রুপসী বাংলা নামে একটি সাপ্তাহিক বাংলা টিভি প্রোগ্রামের নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করেন। এটি ছিলো বাংলাদেশের বাইরে প্রথম বাংলা টেলিভিশন অনুষ্ঠান।

এরপর তিনি ধীরে ধীরে কমিউনিটি অর্গানাইজার হিসেবে একটিভ হতে লাগলেন। বাঙািল কমিউনিটির ১১ জন সদস্য নিয়ে ১৯৮৮ সালে গঠন করলেন ‘বাংলাদেশ সংসদ’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। তখন ‘বাংলাদেশ সংসদ’ ছিলো আমেরিকায় বাংলাদেশিদের প্রথম এবং একমাত্র মানব হিতৈষী সামাজিক সংগঠন যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইংরেজি শিক্ষা দেয়া, আমেরিকান কাস্টমস ম্যানার এন্ড ইথিক্স প্রশিক্ষণ দেয়া, নতুন আভিবাসীদের চাকরির ব্যবস্থা করা, বাংলাদেশিদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ অন্যান্য সামাজিক ও মানবহিতৈষী কাজে এগিয়ে আসে। তিনি বলেন, যখন ওপি ওয়ান ভিসা শুরু হয় তখন যাদের ভিসা হত তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে লাগলো এই সংগঠন। নার্গিস আহমেদ একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমরা আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে একটি কনফারেন্স করলাম। ঘটনাক্রমে মিডিয়ার মাধ্যমে আমার নাম্বারটা অনেকের কাছে চলে যায়। ফলে অনেক জায়গা থেকে আমার কাছে ফোন আসতো। এয়ারপোর্টে আমাদের সংগঠনের নাম্বার দেয়া থাকতো। এমনও হয়েছে আমি আমার পেশাগত কাজ শেষ করে অফিস থেকে বাসায় এসে দেখি এক বাঙালি মহিলা তার বাচ্চাসহ আমার বাসার সামনে হাজির। আমি দীর্ঘ ৬ মাস তাকে আমার বাসায় রাখি।

alt

‘বাংলাদেশ সংসদ’ এর পক্ষ থেকে পুরুষদের গাইডেন্স ক্লাব খোলা হল। যেখানে আমেরিকান লাইফের বিভিন্ন করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়াবলী শেখানো হত। তিনি বলেন, এমন ঘটনাও ঘটেছে যে বাংলাদেশের বর্র্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রেফারেন্সেও আমাদের কাছে বাঙালিরা গিয়েছেন। অর্থাৎ এ সংগঠনটা এত পরিচিতি পেয়েছিলো যে মানুষের একটা আস্থা তৈরি হয়েছিলো এখানে গেলে বোধ হয় কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

নার্গিস আহমেদের সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি আমেরিকার বাংলাদেশ সোসাইটির কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি ২০০৬/২০০৭ সালের আমেরিকার বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। সংগঠনটি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। যার সদস্য প্রায় ১৮ হাজারের বেশি। তিনি বাংলাদেশ সোসাইটির প্রথম এবং একমাত্র নির্বাচিত মহিলা প্রেসিডেন্ট ছিলেন। প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়ে তার উল্লেখ্যযোগ্য কাজের কথা জানতে চাইলে বলেন, বয়স্কদের ইংরেজি ভাষা শেখানো, বাচ্চাদের বাংলা ভাষা শেখানো, কম্পিউটার এর প্রশিক্ষণ দেয়া, সেসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য কমিউনিটি থেকে অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশে পাঠানো, প্রবাসীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করা। তাছাড়াও বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোকে দলমত নির্বিশেষে পালন করতে পারাকে তার অন্যতম কৃতিত্ব বলে দাবি করেন।

এছাড়াও নার্গিস আহমেদ ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ আমেরিকান পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ফ্রন্ট (বিএপিএএফ) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশিদেরকে অমেরিকান মেইন স্ট্রীম পলিটিক্সের সাথে যুক্ত করার স্বার্থে কাজ করেন। তিনি এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। এ সংগঠনটি আমেরিকায় বাংলাদেশি সম্প্রদায় এবং অভিবাসীদের অধিকার আদায়ে কাজ করেন বলে নার্গিস আহমেদ জানান। তার নেতৃত্বে এ সংগঠন আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এর নির্বাচনের সময় ফান্ডরাইজার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

নার্গিস আহমেদ ২০০১ সালে ফোবানা’র (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা) নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিভিন্ন নাগরিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে প্রবাসে বাঙালি সঙ্গীত, থিয়েটার, এবং শিল্পের উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ড্রামা সার্কেল’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন সফল উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন। নার্গিস আহমেদ বলেন, আমেরিকায় বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখককে বড় আকারে পালন করতে ‘ড্রামা সার্কেল’ অগ্রণী ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, ‘ড্রামা সার্কেল’ এর মাধ্যমেই আমেরিকায় ১ বৈশাখকে ১ বৈশাখে উদযাপন শুরু হয়। এটার মাধ্যমে আমরা যে দিনের যে উৎসব সে দিনে সে উৎসব পালন করতে শুরু করি। আমেরিকাতে মাটির পাত্র সানকির প্রচলন, সুতি শাড়ীর প্রচলন ‘ড্রামা সার্কেল’ এর মাধ্যমেই শুরু হয় বলে তিনি জানান। এভাবে কাজ করতে করতে তিনি প্রবাসীদের অনেক কাছের মানুষ এ পরিণত হন।

নার্গিস আহমেদ আমেরিকার মূলধারার রাজনীতির সাথেও সক্রিয় রয়েছেন। তিনি এশিয়ান আমেরিকান ডেমোক্র্যাটিক অ্যাসোসিয়েশন অফ কুইন্স এর ভোটার নিবন্ধন কমিটির সহ-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দক্ষিণ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। গত ১৫ বছর ধরে তিনি কমিউনিটি বোর্ড এইট এর দক্ষিণ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম ফিমেইল সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। জ্যামাইকাতে সিনিয়র সিটিজেন রিক্রিয়েশন সেন্টার প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি এ প্রতিষ্ঠানের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

মানবসেবায় নিয়োজিত নার্গিস আহমেদ তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হল, এফএল- সিআইও, ইমিগ্রান্টস ডিগনিটি কমিশন, এশিয়ান আমেরিকান ডেমোক্র্যাটিক অ্যাসোসিয়েশন অব কুইন্স, বাংলাদেশ সোসাইটি অফ নিউইয়র্ক, বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্ক সহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। অামেরিকার বিশিষ্ট ব্যাক্তিকর্গ বিভিন্ন সময় তার কাজের ব্যাপক প্রশংসা করে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা হলেন, কংগ্রেসম্যান Yvette Clark, সিটি কাউন্সিল মেম্বার Jhon Liu, David Waprin, Halen Sears, Senator Jhon D. Sabini, Senator Ada L.Smith, Assemblyman Jose Peralta। এছাড়া তিনি ২০০৭ সালে William C.Thompson এবং ২০১৪ সালে ‍Scott M. Strainger পুরষ্কারে ভূষিত হন।

প্রবাস জীবনে কেমন কাটছে জানতে চাইলে নার্গিস আহমেদ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি। নিজের জীবন নিয়ে আমি অনেক খুশি। প্রবাসে দেশের মায়া বেশি অনুভব হয় জানিয়ে নার্গিস আহমেদ বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশিরাই বেশি বাঙালিয়ানা প্রকাশ করেন। প্রবাসে বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাাদেশকে তুলে ধরতে পারা তার জীবনের অন্যতম সফলতা বলে তিনি দাবি করেন। আমেরিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশে প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থে কামানো রেমিটেন্সে দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীদের বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কিছু করা উচিত।

ব্যাক্তিগত জীবনে নার্গিস আহমেদ দুই মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে জামাইকার হিলসে বসবাস করছেন। তার দুই মেয়ে মুনীরা আহমেদ ও কায়েনাত আহমেদ। দুজনই গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছেন। তার স্বামী মোস্তাক আহমেদ পেশায় একজন ফার্মাসিস্ট।


শ্রদ্ধার্ঘের ফুল = জুলি রহমান

সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭

পন্চ পারিজাতে সাজিয়ে ছিলাম ফুল।
হয়নি তাতে কোনোই ভুল!
ভালোবাসা শ্রদ্ধার্ঘে মিলে যে তোড়া
এক ফুলেতে হয়না তাঁর জোড়া---

একাকী অতন্দ্র দেঢ়শ বছর
ঘুরেছি পৃথিবীর পথ নদী সাগর
মায়াবী মৌনতা নিয়ে চিন্তাযুক্ত
তাকে আমি বলি ভালোবাসি পাকাপুক্ত---

নয় সময় নয় বয়স সংযমী মন
বিশুদ্ধ আয়োজনে এ বন্ধন!
অকোতভয় ব্যাধিকে করে জয়
একঘেয়ে গোঙানি তাঁর সহ্য নয়--

ট্রেনের চাকায় পিষ্ট নিচের মাটি
যন্ত্রনায় ধরিত্রী ব্রুকলীনের ঘাঁটি
হঠাৎ বারতা সেতো সুস্থ এখন!
স্বস্থির শ্বাস ফেলে রেলটি থামলো তখন---

Picture

নোট-

আজ আমি বেলাল ভাইয়ের অসুস্থতায় ভীষণ রকম উদ্বিগ্ন ছিলাম।যে মানুষটি এই বিরাশিতম বয়সে ও উদিচীর বৈশাখ পার্বণে প্রাণ খোলে নাচতে পারেন;তিনি কী রকম অসুস্থ হলে হাসপাতালে সহ্যাশায়ী হন।ব্রুকলীন যাবার পথে এমনি ভাবছিলাম।এ-ছাড়া আমার অসুস্থতার সময় কড়া শাসনে নিয়মের কথা গুলোই বলতেন।শেষবার বল্লেন।দেখো জুলি তুমি যদি এমন অসুস্থ থাকো আমি কিন্তু তোমার সাথে যোগাযোগই বন্ধ করে দেবো।আরো কতো কথা।আজ উনি নিজেই হাসপাতালে।কতো যে ভয়ে ছিলাম।
আল্লাহর অশেষ মেহের বাণী যে আমাদের প্রাণপ্রিয় বেলাল ভাই সুস্থ আছেন।শাদা আর লালের যে গোলাপ তোড়া তা শত ভালোবাসার অর্ঘ্য স্বরুপ।থাকলো  থাকবে। বিনিময় আপনি দীর্ঘায়ু হউন।কবিতাটি মন দিয়ে পড়ুন।
ব্রোন্কস নিউইয়র্ক-
অন্তমিলে অক্ষর বৃ্ত্তে-


ঢাকার জলজট ও পানিবন্দি মানুষ----অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই ২০১৭

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঢাকার নিম্নাঞ্চলে বিশেষ করে ডিএনডি বাঁধের ভিতরে মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। অতিবৃষ্টি হলেই ঢাকার বর্ধিত এলাকাগুলো পানিমগ্ন হয়। এমনকি অভিজাত গুলশান ও বারিধারায়ও দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। মিডিয়া কর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েন মানুষের দুর্ভোগের ছবি তুলতে। ছবি সত্য কথা বলে। ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলার কথা তুলে ধরেন তারা। বেশিরভাগ সময়ই রিকশা উল্টে যায় পানিতে ও ময়লায় একাকার অর্ধ ডুবন্ত যাত্রীকে দেখানো হয়। কিন্তু ঢাকা শহরের ড্রেনগুলো কিভাবে বন্ধ হলো, কতটুকু ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখনও টিকে আছে, সেগুলো অকেজো হওয়ার পিছনে অর্ধ ডুবন্ত ব্যক্তির কোনো ভূমিকা আছে কিনা তা নিয়ে মিডিয়ায় খুব কমই প্রশ্ন তোলা হয়।

alt
কী পরিমাণ বর্জ্য আমরা যত্রতত্র এবং সরাসরি ড্রেনে ফেলছি তার হিসেব কে করবেন? ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা আমাকে বলেছেন, ঢাকার ড্রেনে পাওয়া যায় না এমন কিছু আর অবশিষ্ট নেই।  মৃত মানুষ, গরু, ফ্রিজ, মোবাইল, ভ্যাট তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বা বাদ পড়া কোনো আইটেমই বাদ নেই। সীমিত সামর্থ্য, সেকেলে প্রযুক্তি এবং অদক্ষ দাস শ্রেণির (জীবনমানের বিবেচনায়) অপর্যাপ্ত জনবল নিয়ে শত চেষ্টা করেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব নয়। ধরা যাক, আমাদের বর্তমানে যতটুকু ড্রেনেজ ব্যবস্থা অবশিষ্ট আছে তার শতভাগ কাজ করছে। তাহলেও কি ঢাকার জলজট তাত্ক্ষণিকভাবে নিরসন সম্ভব? দিন-রাতে মিলে যদি ১৩৩ মিলি লিটার বৃষ্টি হয়, তাহলে তাত্ক্ষণিকভাবে এই পানি নিষ্কাশনের জন্য ঢাকা শহরের অধিকাংশ রাস্তাকেই ড্রেনে রূপান্তর করতে হবে। একদিনে এতো বৃষ্টি হলে পৃথিবীর কোনো শহরেই তাত্ক্ষণিকভাবে এতো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। নিউইয়র্ক শহরে যখন বরফ পড়ে তখন পাঁচ সাত দিন পর্যন্ত কেউ ঘর থেকে বের হতে পারে না। কোনো কোনো রাস্তায় পাঁচ ফুট পর্যন্ত বরফে ঢাকা থাকে। স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যায়। বিমানবন্দর এবং স্টেশনে আটকা পড়ে হাজার হাজার যাত্রী। নিউইয়র্কে বরফ পড়ে, ঢাকায় পানি জমে এই যা ব্যতিক্রম। ভোগান্তি প্রায় একই রকম, শুধু ময়লা-আবর্জনা নেই। তবে এই দুর্ভোগ মোকাবিলায় আমেরিকানরা ধৈর্য দেখায়। ঘরেই বসে থাকে আর আমরা রিকশা বা অন্যের কাঁধে চড়ে স্কুল-কলেজে রওনা হই। বাচ্চাদের নিয়ে টানাটানি করি। আমি তো মনে করি জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিলে স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। যা পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্লাস নিয়ে পুষিয়ে নেওয়া যেতে পারে। উন্নত দেশে বরফে ঢেকে গেলে এমনটিই করা হয়।জলাবদ্ধতার জন্য অতিবৃষ্টিকে কারণ হিসেবে দেখা হলেও এর জন্য দায়ী মানুষ। ডিএনডি বাঁধের ভিতরে জলাবদ্ধতার জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে দায়ী করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কেউ কেউ বাঁধের ভিতরে মাছ চাষকে দায়ী করছেন। যারা মাছ চাষ করছেন তারা অবৈধভাবে বৈধ কাজটিই করছে। পুরো দোষ মাছ চাষি বা মাছের নয়। যেখানে পানি আর মাছ থাকার কথা ছিল সেখানে গিয়ে মানুষ থাকলে যা হওয়ার তাই হবে। আসলে হয়েছেও তাই। ষাটের দশকে যখন ডিএনডি প্রজেক্ট তৈরি করা হয় তখন সেচ প্রকল্প হিসেবে সেটা তৈরি করা হয়। প্রকল্প এলাকায় মাছ ও সবজি চাষ করে ঢাকাবাসীর প্রোটিন ও ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করাই এর লক্ষ্য ছিল। ওখানে হাইরাইজ ভবনাদি তৈরি করে বসতি স্থাপনের কথা ছিল না। বর্তমানে পাম্প দিয়ে সেচ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চলছে। এক রাতে যদি অঝোরধারায় বৃষ্টি হয় তারপর যদি আর দশ দিন বৃষ্টি না হয়, তাহলেই কেবল বর্তমানে চালু পাম্প দিয়ে এক রাত্রির বৃষ্টির পানি দশ দিনে নিষ্কাশন সম্ভব। বর্ষাকালে প্রতিদিনেই বৃষ্টি হয়। এ হিসেবে পানি নিষ্কাশনে পাম্পের সংখ্যা ও ক্ষমতা দশগুণ বাড়ালেও ডিএনডি বাঁধের  ভিতরের জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়। বাঁধের ভিতরের ইউনিয়নগুলোই নাকি এতোদিন বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমতি দিত। প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিয়ন কাউন্সিলের এ ধরনের ভবন নির্মাণে অনুমোদনের সক্ষমতা ও ক্ষমতা ছিল কিনা? বর্তমানে ইউনিয়নগুলোকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতার সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা আমি দেখছি না। আরো অনেক দিন ডিএনডি বাঁধের ভিতরে হাওরে বসবাসের অভিজ্ঞতা নিয়ে থাকতে হবে বলে মনে হচ্ছে। ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাট নির্মাণেও হাওরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। এখনই অবশিষ্ট খালগুলোতে ছোট নৌকা চলাচলের উপযোগী করে তোলা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখা যেতে পারে। বৃষ্টি আর পানির সাথে তাল রেখেই অবকাঠামো ও বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
আমরা যেমন ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে মানুষকে সতর্ক করি, তেমনি ঢাকায় সম্ভাব্য  জলাবদ্ধতার পূর্বাভাস দিতে হবে যাতে মালামালের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা যায়। টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে অন্তত শিশুদের স্কুলগুলো বন্ধ রাখা যেতে পারে। সিটি করপোরেশনের পানি ব্যবস্থাপনার থেকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেশি মনোযোগী হতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেশি দক্ষতা অর্জন করা গেলে পয়ঃব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ওয়াসার উপর না চাপিয়ে কিছু কৃতিত্ব সিটি করপোরেশনও পেতে পারে। বর্জ্যমুক্ত নগরীই কেবল এই সীমিত অকেজো ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ‘জলজট’কে কিছুটা হলেও কমাবে। আরেকটা বিষয়, আগাম সতর্ক হওয়া দরকার। সেটা হচ্ছে এ বছর বন্যার ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। ঢাকার চারপাশের নদীর পানি স্ফীত হলে জলাবদ্ধতা আরো বাড়বে বৈ কমবে না। দীর্ঘমেয়াদে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ঢাকার আশেপাশের নদ-নদী দখলমুক্ত করা বা খনন করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু এ বছরের উদভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের জরুরি কৌশল গ্রহণ করতে হবে। মানুষের সাময়িক দুর্ভোগ কমানোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণই হবে সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার কাজ।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান : উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


তোমাদের মাদিবা আমাদের ম্যান্ডেলা = এস এম মুকুল

বুধবার, ১৯ জুলাই ২০১৭
alt

মাদিবাখ্যাত নেলসন ম্যান্ডেলা একটি নাম, একজন নেতা, একজন অসাধারণ মানুষ। বিশ্ব রাজনীতির নেতৃত্বে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী। কালো মানুষের নেতা, বঞ্চিত-শোষিত মানুষের নেতা, বিশ্বনেতাসহ অনেক অভিধায় অভিহিত করা যায় তাকে। কিন্তু তার প্রয়োজন পড়ে না, কারণ তিনি নিজেই এখন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বিশেষণের একটি। সাত শ কোটি মানুষের মধ্যে তিনি একজনই ম্যান্ডেলা। বৈচিত্র্য, বৈপরীত্যের মাঝে ঐক্য স্থাপনে অসাধারণ নেতৃত্বের অনুপম উদাহরণ সৃষ্টি করে পৃথিবীর রাজনীতিকদের দেখিয়ে দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রক্ষমতার মোহ, জনপ্রিয়তার দাপট এবং দলের নেতৃত্ব থেকে কিভাবে দূরে সরে যেতে হয় বিশ্ব রাজনীতিবিদদের সে শিক্ষার পথও দেখিয়েছেন তিনি। ধৈর্য ধারণের ক্ষেত্রে তিনি অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। নেতা নন মানুষ, মানুষ নন সেবক-তার এই জীবন দর্শন আজ বিশ্বে অনুসরণীয়। তিনিই পেরেছেন ১৯৯৯ সালে ক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরে দাঁড়াতে। ক্ষমতার বলয়ে না থেকে তিনি ঘুরে বেড়ালেন, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বিনিময় করলেন তার রাজনৈতিক দর্শন আর আদর্শের মূলমন্ত্র। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৮ জুলাইকে ‘ম্যান্ডেলা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতার ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৮ জুলাই ম্যান্ডেলার জন্মদিন বলে তার স্মরণে এ দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

নেলসন ম্যান্ডেলার জন্ম ১৯১৮ সালে। তার বাবা ছিলেন ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের থেম্বো রাজকীয় পরিবারের কাউন্সিলর। বাবা নাম রেখেছিলেন রোলিহ্লাহ্লা ডালিভুঙ্গা মানডেলা। স্কুলের এক শিক্ষক তার ইংরেজি নাম রাখলেন নেলসন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার আপামর মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ‘মাদিবা’। তরুণ বয়সে নেলসন ম্যান্ডেলা চলে আসেন জোহানেসবার্গে, সেখানে তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের যুব শাখার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে।

ম্যান্ডেলা নিজের আদর্শের প্রতি ছিলেন অবিচল আস্থাবান। দূরদর্শিতা, আত্মসংযম, একনিষ্ঠতা আর সংগ্রামের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে তিনি নিজের জায়গা ঠিক করতেন। এ কারণে ম্যান্ডেলার নেওয়া জাতিগত সম্প্রীতির আদর্শ এখন অনেকের কাছেই অনুরণীয় হয়ে থাকবেন। সদা বিনয়ী ম্যান্ডেলা কখনই প্রশংসার ¯্রােতে গা ভাসাতেন না। নৈতিক আদর্শের প্রতি তার অটল অবস্থানকে আফ্রিকার সুউচ্চ পর্বত থাবানার চেয়ে দৃঢ়ত্ব হিসেবে তুলনা করেছেন কেউ কেউ। আবার রাজনৈতিক সংগ্রামে কৌশল গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন কোমলে আর কঠিনে মেশানো অসাধারণ নেতা। তার অদম্যতা তাকে ঐতিহাসিক রিভোনিয়া ট্রায়াল ও রোবেন দ্বীপে ২৭ বছর কারা নির্যাতনের পরও নীতি থেকে টলাতে পারেনি। তাই ক্ষমতাধর আফ্রিকান সাদারা কালো ম্যান্ডেলার অদম্য-অহিংসতার কাছে আত্মসমর্থন করতে বাধ্য হয়েছিল। ১৯৬৪ সালে

পাতানো বিচার চলার সময় ম্যান্ডেলার সেই উক্তিটা রীতিমতো বাণী হয়ে থাকবে-‘আমি শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্যের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়েছি, কালোদের আধিপত্যের বিরুদ্ধেও একইভাবে লড়েছি।’

ম্যান্ডেলা খাপছাড়া চিন্তা করতেন না। সফল হোক বা না হোক, পরিকল্পনাগুলো লিখে রাখতেন। তার রাজনৈতিক কর্মকা- ছিল সুসংগঠিত। দক্ষিণ আফ্রিকায় শাসক গোষ্ঠীর চলমান অত্যাচার নির্যাতনের বিপক্ষে প্রতিবাদের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন মাদিবা খ্যাত ম্যান্ডেলা। কালো মানুষদের সমঅধিকারের পক্ষে, বর্ণবাদের বিপক্ষে ক্রমাগত আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদী কণ্ঠের প্রতীকী নাম পুরুষ হয়ে ওঠেন তিনি। পরিণতি হিসেবে ২৭ বছর কারাগারে বন্দি থেকে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হয়। ১৯৬২ সালে পাঁচ বছর ও ১৯৬৪ সলে যাবজ্জীবন দেওয়া হয় তাকে। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো জেলে গিয়েও স্বপ্নহারা হননি ম্যান্ডেলা। ১৯৯০ সালে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ক্ষমতায় গিয়ে বিরোধীদের ওপর সামান্যতমও প্রতিশোধ নিলেন না।

ম্যান্ডেলাকে বলা হয় মাস্টার কমিউনিকেটর। দেহের ভাষা থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানেও সিদ্ধহস্ত ম্যান্ডেলা কারাবন্দি থেকেও অনুসারীদের সঙ্গে আদর্শগত যোগাযোগ ঠিকই বজায় রেখেছেন। তিনি এমনি একজন নেতা, যিনি ১৯৬৪ সালে যাবজ্জীবন কারাদ- হওয়ার পর সারাবিশ্বে বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে ওঠেন। ২৭ বছর কারাগারে অন্তরীণ থেকেও বর্ণবাদ আন্দোলনের প্রাণ হারাতে দেননি। অসীম ধৈর্য আর অপেক্ষায় মুক্তির রূপরেখা এঁকেছেন জেলখানায় বসে। স্বাধীনতার স্বাদ পেয়ে, ক্ষমতার অধরা শক্তি হাতের মুঠোয় পেয়েও এককালের নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে গেলেন না। প্রতিশোধ নিলেন না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলেন। রাষ্ট্র পরিচালনা করলেন দক্ষতার সঙ্গে। দেশটির অর্থনৈতিক আদল পরিবর্তনে বিশেষ ভূমিকা রাখলেন। ম্যান্ডেলা শিখিয়েছেন, দেশকে বিভক্ত রাখা নয়, তাকে ঐক্যবদ্ধ করাই সফল রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রমাণ। তারপর ১৯৯৯ সালে ক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠার

সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরে দাঁড়ালেন। ঘুরে বেড়ালেন, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে, বিনিময় করলেন তার রাজনৈতিক দর্শন আর আদর্শের মূলমন্ত্র। এরপর ২০০৪ সালে লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন। আর দুনিয়ার মানুষদের উদ্দেশে বললেন- ‘তোমরা আমাকে খোঁজ কর না, আমিই তোমাদের খুঁজে নেব।’

ম্যান্ডেলা কখনো নিজেকে আন্দোলনের প্রধান নেতা হিসেবে বিবেচনা করেননি। নেতৃত্বের কথা এলেই তিনি ‘আমি’ না বলে ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করতেন। তার আত্মজৈবনিক গ্রন্থ লং ওয়াক টু ফ্রিডমে ম্যান্ডেলা লিখেছেন, একজন নেতা হলেন মেষপালকের মতো। মেষের দল থাকবে সম্মুখে। যারা সবচেয়ে চতুর ও দ্রুত পথচলায় সক্ষম, মেষপালক তাদের সামনে এগোনোর পথ করে দেবে। অন্যরা তাকেই অনুসরণ করে চলবে, অথচ জানতেও পারবে না পেছন থেকে কে তাদের পরিচালিত করছে। তার বন্দিজীবনের রোবেন দ্বীপের কারাগারকে তিনি আখ্যা দিয়েছিলেন রোবেন ইউনিভার্সিটি হিসেবে। ম্যান্ডেলা তার জীবনীতে লিখেছেন, কারাগারে ম্যান্ডেলা ও তার সহবন্দিরা একটি চুনাপাথরের খনিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কারাগারেও বর্ণভেদ প্রথা চালু ছিল। কৃষ্ণাঙ্গ বন্দিদের সবচেয়ে কম খাবার দেওয়া হতো। সাধারণ অপরাধীদের থেকে রাজনৈতিক বন্দিদের আলাদা রাখা হতো। রাজনৈতিক বন্দিরা সাধারণ অপরাধীদের চাইতেও কম সুযোগ-সুবিধা পেত। তাকে সবচেয়ে কম সুবিধাপ্রাপ্ত বন্দিদের তালিকায় রাখা হতো। ম্যান্ডেলা সত্তরের দশকে তার জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাপঞ্জি নিয়ে স্মৃতিকথা লিখে প্লাস্টিক কন্টেইনারে ভরে জেলখানার বাগানে পুঁতে রাখেন পরবর্তীতে এ বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষের গোচরে এলে শাস্তিস্বরূপ তার কারা লাইব্রেরিতে পড়াশোনার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তারপরও তিনি উদার ও আদর্শিক মানসিকতায় সারাবিশ্বের রাজনীতিকদের জন্য একটা উদাহরণ তৈরি করে গেছেন। ক্ষমতায় আসার পর নিজের দলবল নিয়ে পড়ে থাকেননি। সব

ধরনের মন-মানসিকতার লোকদের জড়ো করে তৈরি করতেন আলাপ ও তর্কের পরিবেশ। রাজনৈতিক দূরদর্শী এই মহান নেতা আদর্শ রাজনীতির পথ দেখিয়েছেন এই বলে যে, ‘তোমার প্রতিপক্ষের সঙ্গে যদি শান্তি চাও, তাহলে তার সঙ্গে একযোগে কাজ কর। দেখবে, সে শত্রু নয়, তোমার সহযোগীতে পরিণত হয়েছে।’

২০১২ সালের ডিসেম্বরে ৯৫ বছর বয়সে এই বিশ্বনেতা পিত্তথলির সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আবার ২০১৩ সালের মার্চে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসাপাতালে যেতে হয়। জুন মাসের ৮ তারিখে ফুসফুসের সংক্রমণে আবারও হাসপাতালে ভর্তি হন। তখন থেকেই সারাবিশ্বের নজর তার পরিণতির দিকে। নির্যাতন, আন্দোলন, কারারুদ্ধতা, মুক্তি, ক্ষমতায়ন, সম্প্রীতির দেশ গঠন, ক্ষমতার মোহ ত্যাগ, জনগণের আড়ালে যাওয়ার মাঝ দিয়ে বিশ্ব রাজনীতির প্রবাদ পুরুষ

হয়ে ওঠা মানুষটি দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পরলোকে

চলে যান ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর। ১০ ডিসেম্বর বিশ্বনেতারা তাকে সম্মান জানাতে একত্র হন এবং ১৫ ডিসেম্বর জন্মস্থান কুনু গ্রামে সমাহিত হন। নেলসন ম্যান্ডেলা, সবার প্রিয় মাদিবা চলে গেলেন। বিশ্বের মানুষদের জন্য রেখে গেলেন তার সারা জীবনের কীর্তি।

লেখক : বিশ্লেষক ও উন্নয়ন গবেষক


নিউ ইয়র্কে ‘শাহবাগের’ দেখা পেলাম

বুধবার, ১৯ জুলাই ২০১৭

সুলতানা রহমান: নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে :ফুটপাথে হাটছি। অন্য দিক থেকে হেটে আসা ২৪/২৫ বছরের একটা ছেলে আর মেয়ে আকষ্মিক ভাবে আমার পথ রোধ করে দাড়ালো। দুজনই সাদা চামড়া। মেয়েটা প্রেগনেন্ট। নিউ ইয়র্কে গ্রীষ্মের ৮৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় দুজনকেই শ্রান্ত মনে হলো।

মেয়েটা দরদর করে ঘামছে। অত্যন্ত বিনীতভাবে ছেলেটা ইংলিশে যা বললো তার মানে, তারা লং আইল্যান্ডে যাবে। কিন্তু পথে কেউ মেয়েটার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। তাদের কাছে কোনো টাকা নেই। ১৪ ডলার দিলে তারা ট্রেনের টিকিট কেটে ঘরে ফিরতে পারে।

মেয়েটা কোনও কথা না বললেও করুণ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। ছেলেটা বারবার বলছে তার বউ আট মাসের প্রেগনেন্ট, গরমে হাঁটতে হাঁটতে খুব কষ্ট পাচ্ছে।

আমার খুব মায়া হলো। ১৪ ডলার ট্রেন ভাড়া একজন অন্তঃস্বত্ত্বা বিপদগ্রস্ত নারীকে দেয়াই উচিত তা আমি নিজে যতই গরিব হই। ব্যাগের চেইন খুলতে খুলতে আমার সামনে পেছনে চলমান পথচারীদের দিকে তাকালাম। তাদের বেশির ভাগই সাদা চামড়ার মানুষ এবং কাউকেই গরিব মনে হলোনা। আমি কি দেখতে তাদের চেয়ে বড়লোক নাকি দেখতে বেকুব? খট করে মাথায় এই প্রশ্ন আসতেই নিজেরে বেকুব মনে হলো।

ব্যাগের চেইন বন্ধ করে বললাম, ‘সো সরি, আমার কাছে ক্যাশ টাকা নেই। চলো তোমাদের লং আইল্যান্ডের ট্রেনে তুলে দেই।’ মেয়েটা ‘ওহ নো’ বলে উঠল, আর ছেলেটা বলল, ‘ট্রেন তো অনেক দূর, তুমি হেঁটে যেতে পারবে আমাদের সঙ্গে?’

Picture

আমি কাছের স্টেশনটি দেখিয়ে বললাম, ‘এখান থেকে একটা ট্রেনে উঠে পরের স্টেশনে তোমাদের ট্রেন পাবে। তোমার বউকেও কষ্ট করে এতো দূর হাটতে হবে না।’

তারা আমার এ প্রস্তাবে রাজি নয়, থ্যাঙ্কু বলে হাটা শুরু করল। ওদের পথ আগলে বললাম, ‘আট মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে আমি এভাবে ছাড়তে পারব না, তোমরা দাঁড়াও, আমি ৯১১ এ কল করে হেল্প চাচ্ছি।’ জামাই, বউ এবার জোড়ে হাঁটা শুরু করলো।

মনে মনে বলি, ‘দেখতে বেকুব হলে কি হবে, তোমাদের ঠিকই চিনতে পেরেছি। তাদের হাঁটার গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আমি পৌঁছে গেলাম অনেক বছর আগে, শাহবাগের মোড়ে। সেদিন সন্ধ্যায় হঠাৎ এক লোক, ভিন্ন ভিন্ন বয়সী তিন নারী তার সঙ্গে, আমার পথ রোধ করে কান্না জুড়ে দিল। তাদের সঙ্গী দুটি শিশু ‘খিদা লাগছে’ বলে আহাজারি করছিল। তারা আকুতি জানালো বাস ভাড়ার। ছিনতাইকারী সব কেড়ে নিয়েছে।

ব্যাগে যে কটা টাকা ছিল, দিয়ে দিলাম। সপ্তাহখানেক বাদে একই গল্প নিয়ে তাদের পেলাম ধানমন্ডিতে! এত বছর বাদে নিউ ইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ায় শাহবাগের দেখা পেলাম…

লেখক: সাংবাদিক


ফরহাদ মজহার ও আমাদের নিরাপত্তাহীনতা = সিরাজী এম আর মোস্তাক

মঙ্গলবার, ১৮ জুলাই ২০১৭

০৬ জুলাই, ২০১৭ ইং তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে বিশিষ্ট লেখক ও কবি ফরহাদ মজহারের (০৩ জুলাই) অপহরণ বিষয়ে একটি ভয়ঙ্কর রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টটি সঠিক হলে, তা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। রিপোর্টটির শিরোনাম, “ফরহাদ মজহারকে মারধর করে অপহরণহারীরা (পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দি)”। সেখানে উল্লেখ হয়েছে, ‘অপহরণকারীরা ফরহাদ মজহারকে মাইক্রোবাসে তুলেই মারধর করে এবং বলে, ‘তুই বেশি বাড়াবাড়ি করছিস।’ বর্ণণাক্রমে সেখানে আরো উল্লেখ হয়েছে, ‘সেদিন (০৩ জুলাই)  রাতে ফরহাদ মজহার হানিফ পরিবহনে যশোরের নওয়াপাড়া বাজার অতিক্রম করে বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের সামনে এলেই বাসটি থামানো হয়। অভয়নগর থানার পুলিশ বাসটির সুপারভাইজার হাফিজুর রহমানকে ফোন করে বাসটি থামাতে বলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ ফরহাদ মজহারকে বাস থেকে নামিয়ে আনে। পরে র‌্যাব-৬ এর একটি দল তাঁকে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে তাদের গাড়িতে তোলে। এ নিয়ে পুলিশ ও র‌্যাবের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। ্একপর্যায়ে র‌্যাব তাঁকে নিয়ে উল্টোপথে খুলনার দিকে যেতে থাকে। তখন পুলিশের গাড়িটিও র‌্যাবের গাড়ির পিছু নেয়। প্রায় ১০ কিলোমিটার যাবার পর খুলনার ফুলতলায় ডিআইজির নির্দেশে পুলিশের আরো গাড়ি র‌্যাবের গাড়িকে ব্যারিকেড দেয়। র‌্যাবের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এই অবস্থায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর পুলিশ ফরহাদ মজহারকে ঢাকায় নিয়ে যায়।’ এ রিপোর্টটি সঠিক হলে জনাব ফরহাদ মজহারকে ০৪ জুলাই আদালতে তোলা ও জবানবন্দি নেয়ার প্রয়োজন ছিলনা। বিভিন্ন স্তরে তদন্তেরও দরকার ছিলনা। র‌্যাব-পুলিশের উল্লেখিত বিরোধে স্পষ্ট হয়েছে যে, ঘটনাটি সুপরিকল্পিত।

alt
ফরহাদ মজহার একজন সাদামাটা মানুষ। সবসময় লুঙ্গি ও পাঞ্জাবী পরেন। মানিব্যাগের পরিবর্তে মেয়েদের মতো কাছে রাখেন ছোট্ট ব্যাগ। জীবনের শেষ বয়সে এসে বিবেকের তাড়ণায় সত্যের পক্ষে সৎসাহস দেখান। হয়তো এ সৎসাহসের পরিণামই হাড়ে-হাড়ে টের পেলেন। রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে মুক্তির পর চরম মনোভঙ্গুর অবস্থা সত্ত্বেও আদালতে জবানবন্দি দিতে বাধ্য হলেন। এখন উক্ত জবানবন্দি ও পুলিশের তদন্তে পার্থক্য দেখা গেছে। হয়তো ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে সাধারণ মানুষও বলির পাঠা হচ্ছে। প্রশাসনের বহু কর্মকর্তাও এর শিকার হয়েছে। ফরহাদ মজহার ছাড়াও বহু ঘটনা রয়েছে।
২০১৬ সালে মহামান্য আদালত জঙ্গি ফাহিম নামে এক যুবককে ১০দিনের রিমান্ড দেয়। পুলিশের কাছে রিমান্ডে থাকার ২য় দিনে হাতকড়া অবস্থায়ই কথিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে সে নিহত হয়। এতে স্পষ্ট হয়, কথিত সন্ত্রাসীরা পুলিশের চেয়েও শক্তিশালী! তারা পুলিশের যিম্মায় থাকা ব্যক্তিকেও হত্যা করতে পারে। এ ঘটনায় পুরো জাতি স্তম্ভিত হয়। এর পরপরই কথিত সন্ত্রাসীদের দ্বারা দেশে বেশকটি দুর্ধর্ষ ঘটনা ঘটে। ০১ জুলাই, ২০১৬ তারিখে গুলশান হলি আর্টিজান রেষ্টুরেন্টে হামলা তার অন্যতম। সেদিন কথিত মাত্র ছয় জঙ্গি গ্রেনেড ছুঁড়ে ২পুলিশ হত্যা ও ৪০পুলিশকে আহত করার পর অবিশ্বাস্যভাবে ১৫বন্দিকে ছেড়ে দেয়। আর আমাদের দক্ষ প্রতিরক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিক অভিযান না চালিয়ে জঙ্গিদেরকে সারারাত অবকাশ দেয়। সন্ত্রাসীরা অবকাশ পেয়ে ২০জন বন্দিকে নির্মমভাবে হত্যা করে এবং হোটেলের রক্তাক্ত মেঝেতে সারারাত নিরবে কাটায়। পরদিন ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ শুরু হলে, সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করে নিহত হয়। তাদের পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়। কথিত পরিবার-পরিজন জঙ্গিদের লাশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। এতে সবাই বিস্মিত হয়। বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়।
এভাবে সিলেটে জঙ্গি অভিযানকালে ২/৩ মাইল জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি সত্ত্বেও আচমকা হামলায় র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান ও উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা আজাদ আহত হয়। তাকে বিমানে করে দ্রুত সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। মুমূর্ষু সত্ত্বেও একদিনের মধ্যে দেশে ফিরে আনা হয়। এরপর ২দিনের মধ্যে সে মারা যায়। সিঙ্গাপুরের মতো সভ্য দেশে একজন বিদেশী মুমূর্ষু রোগীকে এভাবে ছাড়পত্র দেয়ার কথা নয়। মূলত সরকার যা জানায়, জনগণকে তাই মানতে হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখার বা প্রতিবাদ করার সাহস কারো নেই। ফলে দেশের দক্ষ প্রতিরক্ষাবাহিনী, প্রতিবন্ধী বিরোধীদল ও সচেতন মানবাধিকার কর্মীসহ সবাই সরকার প্রদত্ত ‘সিঙ্গাপুরী বাঁশ’ মেনে নেয়। এতে দেশের নিরাপত্তাহীনতা প্রকাশ পায়।
উল্লেখিত বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোটেও ভালো নয়। র‌্যাব-পুলিশের বাগবিতন্ডা, পুলিশের যিম্মায় থাকা সত্ত্বেও কথিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে হত্যা, গুলশান হলি অর্টিজান রেষ্টুরেন্টে মাত্র ছয় জঙ্গির হলিখেলায় প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং সবশেষে সিঙ্গাপুরী বাঁশ দেখিয়ে সেনা কর্মকর্তা হত্যা, এসব মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। বরং আশংকা হচ্ছে, যেকোন সময়ে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়তে পারে। বিডিআর বিদ্রোহের মতো বা তার চেয়েও মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ফরহাদ মজহারের বিষয়টি একটি হুমকি ধরে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।
শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ঢাকা।


একটি ছায়া = জুলি রহমান

রবিবার, ১৬ জুলাই ২০১৭

রুপোর টুকরোটি আমার
পেতাত্নার মতো বেজে ওঠে
প্রত্ন কন্ঠস্বর কেউ নেই
কেবল একটি ছায়া--

ও তোমার মনের প্রতিবিম্ব
খুবলে ওঠা পাপবোধ সময়ের!
নদী কিংবা সাগর তোমার নেই আর
ওখানে জেগে ওঠা চরে হাজার বসতি
সুতরাং আমাকে রৌপ্য ভেবে ছুঁরে
দিলেও তোমার মুক্তি কিংবা স্বাধীনতা
কোনোটাই নেই আগের মতো---

তরচে হৃদয়কে বিশুদ্ধ করো
প্রেমে পূর্ণ করো আত্না
দেখবে কতো সহজেই মুক্তি মেলে
আর তোমার অবয়ব ?
কী যে মোহময়তায় ভরবে সূর্য প্রীতিম--

ছায়াকে ভয় পেলেও ছায়াই তোমার আপন!আজীবন সংগ সূধায়
তোমারই নিঃসংগের সারথী--