Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

মুক্তিযোদ্ধা তালিকা কমপক্ষে চল্লিশ লাখ = সিরাজী এম আর মোস্তাক

রবিবার, ১৪ মে ২০১৭

সম্প্রতি মুক্তিযুুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, মাঠ পর্যায় থেকে যাচাই-বাছাই করা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা ২০ মের মধ্যে জামুকা-তে না পৌছলে আগামী অর্থবছর থেকে সম্মানী ভাতা বা উৎসব ভাতা দেয়া হবেনা। (দৈনিক প্রথম আলো, ১১ মে ২০১৭, পৃষ্ঠা-৫)। বর্তমানে এ তালিকা নিয়ে চরম জগাখিচুরী চলছে। কর্মকর্তাগণ হিমশিম খাচ্ছেন। এর সহজ ও সুস্পষ্ট সমাধান দিয়ে গেছেন, বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর আদর্শ না মানাতেই যত্তোসব সমস্যা। আসুন, আমরা বঙ্গবন্ধুর মহান আদর্শ অনুসরণ করি এবং মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা দূর করি।
বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্র্চে পাকিস্তানীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, “তোমরা সাড়ে সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না।” একইভাবে ১০ জানুয়ারী, ১৯৭২ তারিখে দেশে ফিরে সমগ্র জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ঘোষণা করেন, “আজ আমার জাতি স্বাধীন হয়েছে। আমার স্বপ্ন-সাধ পূর্ণ হয়েছে। তোমরাই দেশ স্বাধীন করেছো। তোমরাই ত্রিশ লাখ প্রাণ দিয়েছো এবং দুই লাখ সম্ভ্রম হারিয়েছো। তোমাদেরকে স্যালুট। তোমরাই মুক্তিযোদ্ধা।” বিস্তারিত বক্তব্য অনলাইনে শুনতে ক্লিক করুন-(যঃঃঢ়ং://িি.িুড়ঁঃঁনব.পড়স/ধিঃপয?া=ঊীখ৫ণাঞঈীঈ)ি অথবা (যঃঃঢ়ং://িি.িুড়ঁঃঁনব.পড়স/ধিঃপয?া=ঈঢকষখঔই৯ঙ৮ঊ)।
আমরা জাতির জনকের এ ঘোষণা ভূলে গেছি। মাত্র দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে পড়ে আছি। বঙ্গবন্ধুর সময়ে দেশে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা বিভাজন ছিলনা। কারো জন্য মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বা কোটা সুবিধা ছিলনা। বঙ্গবন্ধু মাত্র ৬৭৬ জন যোদ্ধাকে বিশেষ খেতাব দিয়েছেন। মাত্র সাতজন শহীদকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব দিয়েছেন। এছাড়া শহীদ-গাজী নির্বিশেষে দেশের সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি নিজেও একজন বন্দী মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়েছেন। এটাই জাতির জনকের মুক্তিযোদ্ধা নীতি।


আজ আমরা বঙ্গবন্ধুর নীতিচ্যুত হয়েছি। ফলে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে সমস্যা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা-নীতি অনুসারে বর্তমানে এ তালিকা কোনোভাবেই চল্লিশ লাখের কম নয়। তাহলো, বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোন অবশ্যই সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর মতো প্রায় পাঁচ লাখ যুদ্ধবন্দীও মুক্তিযোদ্ধা। বিভিন্ন সময়ে গেজেটভুক্ত ও তালিকাভুক্ত প্রায় দুই লাখ ব্যক্তিও মুক্তিযোদ্ধা। আর কমপক্ষে এক লাখ ভারতীয় সম্মুখ যোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির যোগ্য। তাদের প্রচেষ্টা ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা অসম্ভব ছিল। এ চল্লিশ লাখ ছাড়াও যুদ্ধকালে দেশে অবস্থানকারী কোটি কোটি বাঙ্গালি সহযোগী যোদ্ধা হিসেবে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের স্বীকৃতি না দিলেও অন্তত উক্ত চল্লিশ লাখ মুক্তিযোদ্ধার কাউকে বাদ দেয়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের ষোল কোটি নাগরিককে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে এ চল্লিশ লাখ তালিকা অত্যাবশ্যক।
পৃথিবীর কোথাও শহীদ, বন্দী, আহত, পঙ্গু এবং গোয়েন্দা হিসেবে ছদ্মবেশধারী সহযোগীদেরকে যোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেয়ার নজির নেই। তেমনি শহীদ ও যোদ্ধার অনুপাত ত্রিশ লাখ ও দুই লাখ, এতো ব্যবধান নেই। ত্রিশ লাখ শহীদের তুলনায় মাত্র দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা কোনোভাবেই মানায় না।
সুতরাং মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে সৃষ্ট জখাখিচুরী কাটাতে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযোদ্ধা-নীতিই একমাত্র ভিত্তি। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে কারা এ নীতি অনুসরণ করে, তা দেখার বিষয়। যারা বঙ্গবন্ধুকে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক স্বীকার করেনা, তারা উক্ত চল্লিশ লাখ তালিকা মানবেনা। মূলত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে বড় মুক্তিযোদ্ধা কে আাছে? তাই যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তারা অবশ্যই স্বাধীনতার স্থপতি বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা-নীতি অনুসরণ করবে। তারা চল্লিশ লাখ তালিকা ভিত্তি ধরে দেশের আপামর জনতাকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের সন্তান স্বীকৃতি দেবে।  
শিক্ষানবিশ আইনজীবী, ঢাকা।


কারও সঙ্গে শুতে ইচ্ছে করলে শুয়েছি’: তসলিমা নাসরিন

রবিবার, ১৪ মে ২০১৭

প্রতিদিন মারছে। মেয়েরা নিজেদের মারবে কেন? মেয়েরা যখন আত্মহত্যা করে, নিজের অজান্তে তারা তখন পুরুষ হয়ে যায়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আকতার জাহান কিছুদিন আগে আত্মহত্যা করেছেন। শুনেছি আকতার জাহানের পারিবারিক জীবন সুখময় ছিল না।

স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়েছিল। শিশু সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতেন আকতার জাহান। স্বামী ওদিকে দ্বিতীয় বিয়ে করে নিয়েছেন।
এবং আকতারের চরিত্র খারাপ ছিল এ কথাও বলে বেরিয়েছেন চারদিকে। আত্মহত্যার কারণ খুঁজতে গিয়ে অশান্তি দুশ্চিন্তা একাকীত্ব অস্বচ্ছলতা ইত্যাদির উল্লেখ করছে অনেকে।
আমার মনে পড়ছে তিরিশ বছর আগের কথা। তিরিশ বছর আগে আমি ডিভোর্স দিয়েছিলাম একটি লোককে যাকে নোটারি পাবলিকের কাগজে সই করে বিয়ে করেছিলাম।

আইনের চোখে নোটারির বিয়ে হয়তো বিয়ে নয়। কিন্তু সেইসময় বিয়ে করেছি বলে মানুষকে যে জানিয়েছিলাম, সেটাই বিয়ে ঘটিয়ে দিয়েছিল।
যখন দেখলাম লোকটি বহুগামি, তাকে নির্দ্বিধায় ত্যাগ করলাম। তিরিশ বছর আগে একা বাসা ভাড়া নিয়েছি, একা থেকেছি, লোকে মন্দ কথা বলেছে, লোকের মন্দ কথায় বিরক্ত হয়েছি, কিন্তু ভেঙে পড়িনি।

কদিন পর পরই পত্র পত্রিকায় আমাকে নিয়ে নানা মিথ্যে কথা লেখা হতো, মেয়েদের নিয়ে যেসব কথা লিখলে লোকে তাদের ঘৃণা করে, সেসব কথা।
অসভ্য সমাজে মেয়ে হয়ে জন্মালে যা হয়। ব্যস্ত ছিলাম হাসপাতালের রোগিদের চিকিৎসা আর নিজের লেখাপড়া নিয়ে। বদ আর বদমাশেরা যা কিছুই বলুক, পরোয়া করিনি।
শুধু ধার্মিক আর মৌলবাদী নয়, আহমদ ছফা আর হুমায়ুন আজাদের মতো নামকরা নাস্তিকরাও হিংসে করতো।

Picture

প্রথম গদ্যের বই এর জন্যই আনন্দ পুরস্কার পেয়ে গেছি, এ নিয়ে কত ক্ষুদ্র কুৎসিত মনের লেখক যে জ্বলেছে পুড়েছে!

লক্ষ লক্ষ মৌলবাদী জোট বেঁধেছে, দেশ জুড়ে মিছিল মিটিং করে আমার ফাঁসি চেয়েছে, মাথার মূল্য ধার্য করেছে।
পরোয়া করিনি। আমার যা করতে ইচ্ছে করে করেছি।
যখন ধর্মের নিন্দে করতে ইচ্ছে করেছে, নিন্দে করেছি, কারও সঙ্গে শুতে ইচ্ছে করলে শুয়েছি, শুতে না ইচ্ছে করলে জগৎ উল্টে গেলেও শুইনি।
মেয়েরা কেন যে ভুলে যায় তারা একটা অসভ্য অশিক্ষিত নারীবিদ্বেষী সমাজে বাস করছে। ভালো মেয়েদের, বুদ্ধিমতী মেয়েদের, মেরুদণ্ড সোজা করে চলা মেয়েদের এই নষ্ট সমাজ নানাভাবে নানা কায়দায় অপমান করে, অপদস্থ করে, গালি দেয়, চরিত্র নিয়ে কুকথা বলে।
যে মেয়েদের এসব করা হয় না, যে মেয়েদের ‘ভালো মেয়ে’ বলা হয়, তারা আসলে মাথামোটা, গবেট, নির্বেোধ, মানসম্মানের ছিটোফোঁটা নেই এমন মেয়ে।
যে মেয়েরা বাধা পায়, গালি খায়, তারাই সত্যিকার হীরে। তারা বিচলিত হলে চলবে কেন! আত্মহত্যা করলে চলবে কেন! নারীবিদ্বেষী সমাজটাকে তুমুল অবজ্ঞা করা শিখতে হবে।
কাউকে পরোয়া না করে নিন্দুকের মুখে থুতু দিয়ে যা ইচ্ছে তাই করা শিখতে হবে। তিরিশ বছর আগে আমি যা পেরেছি, তা কেন পারবে না এখনকার মেয়েরা?
আমারও অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা ছিল, অশান্তি, দুশ্চিন্তা, একাকীত্ব ছিল, কিন্তু তাই বলে দমে যাইনি। এসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি বলেই যে কোনও পরিস্থিতিতে পথ চলতে পারি। আমি তো সাধারণ একটি মেয়ে।
যে কোনও মেয়ে চাইলেই পারবে আমি যা পেরেছি। কোনও মেয়ের আত্মহত্যার খবর আর শুনতে চাই না। পুরুষেরা তো মেয়েদের ধর্ষণ করে করে, নির্যাতন করে করে মেরেই ফেলছে।
প্রতিদিন মারছে। মেয়েরা নিজেদের মারবে কেন? মেয়েরা যখন আত্মহত্যা করে, নিজের অজান্তে তারা তখন পুরুষ হয়ে যায়।
পুরুষ যেমন করে মেয়েদের ঘৃণা করে, তেমন করে মেয়েরা নিজেদের ঘৃণা করে, পুরুষ যেভাবে মেয়েদের হত্যা করে, সেভাবে মেয়েরাও নিজেদের হত্যা করে।
তসলিমা নাসরিন


জন্মশত বার্ষিকী কবি গুরুর একশত ছাপ্পান্ন জন্মদিনে! শ্রদ্ধার্ঘ - জুলি রহমান

মঙ্গলবার, ০৯ মে ২০১৭

তখন সেই গভীর ঘন অমার যুগে সূর্য্য রশ্নি এক করে জোডাসাকুর ঠাকুর পরিবারে উদয় হলো নতুন সূর্য্য যার নাম রাখা হলো বুজি।সে রাতে ছিলো ঝডের প্রাদুর্ভাব।চৌদ্দতম সন্তানের জন্ম শুভক্ষণে কারো তেমন সাড়া না থাকলেও বিচ্ছিন্ন একটা আতুর ঘরে বাঁকালতায় জ্বলছিলো একটা মৃদু সলিতার লেরিট তেলের নিষ্প্রভ সেজ।

পূবের আলোর উদ্ঘাটন না হলেও একটি আলো মনন জোতিতে ঠিকইই
জ্বলে ওঠলো জন্ম থেকেই।দাই মা র দাম সোনার মোতিহারে চুকিয়ে দিয়ে পিতৃ ঋণের দায় চুকিয়ে পুত্রের মুখ দেখতেই হলো কর্তাবাবু মহর্ষি দেবন্দ্রনাথকে ।মাতা সারদাসুন্দরীর
পাশে শায়িত দেব শিশু ছোট্ট কুটির টিককে আলোকিত করেছে।পিতা চক্ষুস্মান এই চতুর্দশতম পুত্র সন্তানের
ছোঁয়ায় সকল অবহেলা টুটে অকৃপণ মায়ায় অন্তর শীতল হলো পিতৃদেবের।

সখ করে তাই নাম রাখলেন বুজি। বড় বুবু নাম রাখলেন রবি।তখন কে জানিত একদিন এই রবি জ্বলে উঠবেন সত্যিকারের রবি হয়েই।পঁচিশে বৈশাখ।
সারারাত বৈশাখী ঝড়ের তান্ডবেই রাত দুই টা তিরিশে জন্ম হলো বুজির অর্থাৎ রবির।বাংলা ১২৬৮ ২৫শে বৈশাখ।১৮৬৮ ৭ই মে।

ঝড় আর বৃষ্টিকে সাথে নিয়েই এসেছিলেন বলেই কি-না জানি না।
জলপড়ে পাতা নড়ে প্রথম সৃষ্টি হলো  ।শৈশবের ছড়া মেঘদূত বলে অভিহিত !
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এলো বান।
শুধু কী তাই?তাঁর ক্ষণিকা কাব্যেও বর্ষা আর বসন্তের প্রার্দুরভাবের লক্ষণ খুব প্রখর রুপে ধরাসায়ী হয়।
দিনে দিনে রবির শিক্ষাদীক্ষা অন্য সবার চেয়ে ব্যাতিক্রম বলেই মনে হতে লাগলো পরিবারের সকলের।সেই সাথে কবি সুলভ মনোভাবের লক্ষণ গুলোও সবার চোখে ধরা পড়তে থাকে।সাত বছর বয়সে বাড়িতে উঠলেন সেঝ বৌদি মনি কাদম্বরী।সাত বছরের এই বালিকা বধূটি হলেনপড়ার সাথী,খেলার সাথী, লেখালেখির সারথী।নিত্যদিনের এই বৌদিমণি সকল ভালো লাগায় ভালো কাজের সমব্যাথী।লেখালেখির সকল বিষয়ে তাঁর সু পরামর্শ ছাড়া যেনো কোনো লেখাই ছাপার অক্ষরের মুখই দর্শনই করে না।
চলবে-


"সভ্যতার প্রতিটি ইট,বালু,পাথরে যাদের ফোটা ফোটা ঘাম জড়িয়ে আছে তারা কিন্তু কখনোই সভ্যতার আশীর্বাদধন্য শ্রেনী ছিলনা,এখনো নয় "- দেওয়ান আরশাদ আলী (বিজয়)

মঙ্গলবার, ০৯ মে ২০১৭

দেওয়ান আরশাদ আলী (বিজয়): ওয়াশিংটন ডিসি যুক্তরাষ্ট্র : ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’  স্লোগান দেয়ার দিন পহেলা মে। বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশের এক ঐতিহাসিক গৌরবময় দিন আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস যা ‘মে দিবস’ নামেই অধিক পরিচিতি লাভ করেছে। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় দিন। মে দিবস শ্রমিকদের একটি বড় বিজয়। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রমিকেরা বিজয়ের ইতিহাস রচনা করেছে।
আন্দোলনের উদযাপন দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলো রাজপথে সংগঠিতভাবে মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে ১ মে জাতীয় ছুটির দিন। আরও অনেক দেশে এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়।
আমেরিকা ও কানাডাতে অবশ্য সেপ্টেম্বর মাসে শ্রম দিবস পালিত হয়। সেখানকার কেন্দ্রীয় শ্রমিক ইউনিয়ন এবং শ্রমের নাইট এই দিন পালনের উদ্যোগতা। হে মার্কেটের হত্যাকান্ডের পর আমেরিকার তৎকালিন প্রেসিডেন্ট গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড মনে করেছিলেন ১ মে তারিখে যে কোন আয়োজন হানাহানিতে পর্যবসিত হতে পারে। সে জন্য ১৮৮৭ সালেই তিনি নাইটের সমর্থিত শ্রম দিবস পালনের প্রতি ঝুকে পড়েন।
পূর্বে শ্রমিকদের অমানবিক পরিশ্রম করতে হত, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা আর সপ্তাহে ৬ দিন। বিপরীতে মজুরী মিলত নগণ্য, শ্রমিকরা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করত, ক্ষেত্রবিশেষে তা দাসবৃত্তির পর্যায়ে পড়ত। ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোশহরের একদল শ্রমিক দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ করার জন্য আন্দোলন শুরু করেন, এবং তাদের এ দাবী কার্যকর করার জন্য তারা সময় বেঁধে দেয় ১৮৮৬ সালের ১লা মে। কিন্তু কারখানা মালিকগণ এ দাবী মেনে নিল না। ৪ঠা মে ১৮৮৬ সালে সন্ধ্যাবেলা হালকা বৃষ্টির মধ্যে শিকাগোর হে-মার্কেট নামক এক বাণিজ্যিক এলাকায় শ্রমিকগণ মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হন। তারা ১৮৭২ সালে কানাডায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল শ্রমিক শোভাযাত্রার সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে এটি করেছিলেন। আগস্ট স্পীজ নামে এক নেতা জড়ো হওয়া শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলছিলেন। হঠাৎ দূরে দাড়ানো পুলিশ দলের কাছে এক বোমার বিস্ফোরন ঘটে, এতে এক পুলিশ নিহত হয়। পুলিশবাহিনী তৎক্ষনাত শ্রমিকদের উপর অতর্কিতে হামলা শুরু করে যা রায়টের রূপ নেয়। রায়টে ১১ জন শ্রমিক শহীদ হন। পুলিশ হত্যা মামলায় আগস্ট স্পীজ সহ আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়। এক প্রহসনমূলক বিচারের পর ১৮৮৭ সালের ১১ই নভেম্বর উন্মুক্ত স্থানে ৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। লুইস লিং নামে একজন একদিন পূর্বেই কারাভ্যন্তরে আত্মহত্যা করেন, অন্যএকজনের পনের বছরের কারাদন্ড হয়। ফাঁসির মঞ্চে আরোহনের পূর্বে আগস্ট স্পীজ বলেছিলেন, "আজ আমাদের এই নি:শব্দতা, তোমাদের আওয়াজ অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী হবে"। ২৬শে জুন, ১৮৯৩ ইলিনয়ের গভর্ণর অভিযুক্ত আটজনকেই নিরপরাধ বলে ঘোষণা দেন, এবং রায়টের হুকুম প্রদানকারী পুলিশের কমান্ডারকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করা হয়। আর অজ্ঞাত সেই বোমা বিস্ফোরণকারীর পরিচয় কখনোই প্রকাশ পায়নি।
শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের "দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার" দাবী অফিসিয়াল স্বীকৃতি পায়। আর পহেলা মে বা মে দিবস প্রতিষ্ঠা পায় শ্রমিকদের দাবী আদায়ের দিন হিসেবে, পৃথিবীব্যাপী আজও তা পালিত হয়।

বর্তমানে সমগ্র বিশ্বের মত আমাদের দেশেও মে দিবস পালন করাটা ফ্যাশানে পরিণত হয়েছে। মালিকপক্ষ বলেন শ্রমিকরা এ দিনটিতে ছুটি তো পাচ্ছে। এটা ঠিক  যে সরকার দিনটিকে সরকারী ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ দিনটিতে রাষ্ট্রপতি, সরকার প্রধান ও সংসদের বিরোধী দলের প্রধানও বাণী দিয়ে থাকেন। শ্রম মন্ত্রণালয় আয়োজন করে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানমালা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শ্রমিক সংগঠনগুলো  বর্নাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করে থাকে। শ্রমিকরা (অবশ্যই কিছু সংখ্যক) নেচে-গেয়ে কিছু সময় আনন্দ করে। সহযোগী সংগঠন বা অঙ্গ সংগঠন যে নামেই হোক, কিছু শ্রমিক সংগঠন থাকলেও সেগুলো প্রকৃত শ্রমিকের প্রতিনিধিত্ব করে কি না তা শ্রমিকরাই ভালো জানেন। এ দিনটিতে প্রচার মাধ্যমগুলোর আয়োজনও থাকে চোখে পড়ার মত।  তবে প্রকৃতার্থে মে দিবসের অর্জন কতখানি, আর  শ্রমিকরা আদৌ তা  কতটুকু অনুধাবন করছে তা নিঃসন্দেহে ভাববার বিষয়।
মে দিবস পালন যাতে ফ্যাশন থেকে সত্যিকার অর্থে শ্রমিকের দাবি ও অধিকার আদায়ের দিন হিসেবে পরিগণিত হয়, শ্রমিকরা যেন ন্যায্য মজুরি পায়, সরকারি ছুটি পায়, অতিরিক্ত শ্রমের জন্য প্রাপ্য অর্থ পায় সেসব দিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়গুলো নজর দিলেই সত্যিকার অর্থে মে দিবসের চেতনা বাস্তবে পরিণত হবে। শ্রমিকের কল্যাণই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।

দেওয়ান আরশাদ আলী (বিজয়)
ওয়াশিংটন ডিসি
যুক্তরাষ্ট্র


ধষর্কের ধর - জুলি রহমান

মঙ্গলবার, ০৯ মে ২০১৭

মানুষেরা ফিরে যাচ্ছে গুহা চত্বরে।
ধষর্কের ধরের বড়ো দাম  রে!
আঠারো হাজার মখলুকাতে
নারী নয় মানুষ!

সৃষ্টির শুরুতেই তাই জ্যান্ত কবর।
এখন লালনে পালনে যদিও বা স্বজন।
পরশ্রী কাতরের চোখের নেশায় বিদ্ধ নারী ?

হায় পুরুষ! এতো কী শক্তি তোমার?
দুবর্ল নারীকে মারো ঘাতকী ছোবল?

তোমাদের শরীরের তাবৎ বল প্রয়োগে
গড়তে যদি দেশ ;যেমন ভাঙাপুল।
যৌবনে দাও না টীকা;কর্মে ঢেলে প্রাণ।
আহা তোমার মতো বিশুদ্ধ মানব
আছে বলো কজন?

তোমার ঔরুষজাত নারী কন্যা বধূ মাতা!
তেমনি ঐ নারীর গর্ভজাত ও তুমি!
শুধু মননে হওনি মানব! কাপুরুষ!

Picture
সাফাত, আশরাফ কেমন স্বর্ণকার?
ধূরন্ধর বাজিকর;জনম বৃথা।
জানে না ওরা;স্বর্ণকারে সোনা চিনে।
কাসারু রা  কাসা; সতী নারী হরণে
যারা আনে অসতীর বান !

জনম ওদের শতবার!
যতোবার করবে লেহন!


বিশ্ব অঙ্গনে প্রথম বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবি শেখ রেহানার

মঙ্গলবার, ০৯ মে ২০১৭

এম. নজরুল ইসলাম : ১৯৭৯ সালের ১০ মে স্টকহোমে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা বিশ্ববাসীর কাছে আবেদন জানিয়ে বক্তব্য রাখছেন

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ঘটনার আকস্মিকতায় সেদিন জাতি যখন স্তম্ভিত, দিকনির্দেশনাহীনÑদলের অনেকেই তখন ঘাতকদের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে ব্যস্ত। সামরিকতন্ত্রের বুটে পিষ্ট গণতন্ত্র। রুদ্ধ বাকস্বাধীনতা। অবিশ্বাস্য ও নারকীয় হত্যাকা-ের ঘটনায় শোকে মুহ্যমান জাতি ছিল দিশাহারা। কিন্তু থেমে ছিলেন না জাতির জনকের দুই কন্যা। তাঁরা বিশ্বমানবতার কাছে বিচার চেয়েছিলেন ইতিহাসের এই নৃশংস হত্যাকা-ের। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার চেয়ে প্রথম আবেদন রাখা হয় ১৯৭৯ সালের ১০ মে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বিশ্বমানবতার কাছে এই আরজি পেশ করেছিলেন কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা।

১০ মে ১৯৭৯। সেদিন স্টকহোমে অনুষ্ঠিত সর্ব ইউরোপীয় বাকশালের সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তখন ভারত থেকে সুদূর সুইডেনে গিয়ে সম্মেলনে যোগ দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। সর্ব ইউরোপীয় নেতারা শেখ হাসিনার প্রতিনিধিত্ব করতে লন্ডনে অবস্থানরত শেখ রেহানাকে অনুরোধ করেন। দিল্লি থেকে ফোনে শেখ হাসিনাও বোনকে বলেন সম্মেলনে যেতে। অনুষ্ঠানে কী বলতে হবে সে বিষয়ে তিনি টেলিফোনে ছোট বোনকে নির্দেশনা দেন। শেখ রেহানা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

Picture

এটাই ছিল কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে শেখ রেহানার প্রথম বক্তব্য রাখা। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তিনিই সর্বপ্রথম পঁচাত্তরের কলঙ্কজনক ও অমানবিক হত্যাকা-ের বিচারের দাবি তোলেন। সেদিন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিশনের চেয়ারম্যান, আমেরিকার কংগ্রেসের হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রধানদের কাছে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচারের প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। পঁচাত্তরের পৈশাচিক বর্ণনা দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেখ রেহানার আবেগঘন বক্তব্য সে অনুষ্ঠানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।

ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। এখান থেকেই নতুন এক সম্ভাবনার ইঙ্গিত পান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা। ১৯৭৯ সালের জুন মাসে বিলেতের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়ামস কিউসিএমপির কথা শেখ রেহানার মাথায় আসে। তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশিষ্ট কৌঁসুলি ছিলেন এই ব্রিটিশ আইনজীবী। তাঁকে দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলা পরিচালনা করা যায়। এ ব্যাপারে তিনি টেলিফোনে দিল্লিতে বড় বোনের সঙ্গে পরামর্শ করেন। শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী ১৯৮০ সালের ২০ জানুয়ারি সেন্ট্রাল লন্ডনের কনওয়ে হলে সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ড. সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। ড. শফিক সিদ্দিক সভাপতি পদে প্রস্তাব করেন স্যার টমাস উইলিয়ামসের নাম, যা সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। স্যার টমাস উইলিয়ামসের সম্মতি নেওয়ার জন্য ১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে ‘হাউস অব কমন্সে’ গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শেখ রেহানা ও ড. শফিক। এবং তাঁকে জানান, বিদেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচার করার লক্ষ্যে সম্প্রতি সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি পদের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে। ১৯৮০ সালের ৪ এপ্রিল শেখ হাসিনা তাঁর ছেলে ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি থেকে লন্ডন যান। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে একদিন স্যার টমাস উইলিয়ামস শেখ হাসিনাকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আমন্ত্রণ জানান। শেখ হাসিনা তাঁর আমন্ত্রণ রক্ষা করেন। ওই সময় শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার তদন্ত কমিশন গঠন করার দায়িত্ব নিতে তাঁকে অনুরোধ করেন। এতে তিনি সম্মত হন। কিছু দিন পর আবার স্যার টমাস উইলিয়ামসের সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করেন। সেদিন সিদ্ধান্ত হয়, বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন। ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাঙালিদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি এবং স্যার টমাস উইলিয়ামস কিউসি এমপি প্রধান বক্তা ছিলেন। ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে ড. কর্নরাড উড ও লেবার পার্টির দুজন পার্লামেন্ট সদস্য বক্তব্য দেন। টমাস উইলিয়ামস বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতার হত্যাকারীদের আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করার ব্যাপারে উপযুক্ত কর্মপন্থা গ্রহণ করবেন বলে শেখ হাসিনাকে প্রতিশ্রুতি দেন।

১৯৮০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনের হাউস অব কমন্সের নিকটবর্তী কুন্দুন রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্যার টমাস উইলিয়ামস কিউসি এমপি বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের তদন্ত কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন স্যার টমাস উইলিয়ামস কিউসি এমপি, সদস্যরা হলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিখ্যাত আইরিশ আইনজীবী সন ম্যাকব্রাইড, লেবার পার্টির আইনবিষয়ক মুখপাত্র জেফরি টমাস কিউসি এমপি এবং সলিসিটার অব্রে রোজ। অব্রে রোজকে কমিশনের সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালের হত্যাকা-ের বিচারের পক্ষে বিশ্ববিবেক জাগ্রত করতে এই তদন্ত কমিশন গঠন ছিল শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নিরন্তর চেষ্টার ফসল।

১৯৮১ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সদস্য জেফরি টমাস কিউসি এমপি ও সলিসিটার অব্রে রোজ বাংলাদেশ সফরের জন্য লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভিসার আবেদন করেন। কিন্তু তাঁদের ভিসা মেলেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকা-ে জে. জিয়া জড়িত থাকা সম্পর্কে তথ্য চাপা দেওয়া সম্ভব হবে না বলেই তদন্ত কমিশনের সদস্যদের ভিসা নামঞ্জুর হয়। ১৯৮১ সালের ২৮ জানুয়ারি লর্ড ফেনার ব্রকওয়ে তদন্ত কমিশনের সদস্যদের বাংলাদেশের ভিসা নামঞ্জুর করার বিষয়টি হাউস অব লর্ডসে উপস্থাপন করেন, যা ৪ ফেব্রুয়ারি হাউস অব লর্ডসে আলোচিত হয়। ওই আলোচনায় তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড ক্যারিংটনসহ অনেকে অংশ নেন। ১৯৮২ সালের ২০ মার্চ আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং চার জাতীয় নেতার হত্যা সম্পর্কে প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করে।

১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রায় ছয় বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসীন করেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি’ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়ে গেলে দেশের প্রচলিত আইনে স্বাভাবিক পন্থায় সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৯৭ সালের ১২ মার্চ বিচার শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বিচারক কাজী গোলাম রসুল মামলার রায় ঘোষণা করেন। ১৫ জনের মৃত্যুদ-ের রায় হয়। এই বিচারের মধ্য দিয়ে জাতি আজ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার প্রথম সোপান রচিত হয়েছিল ১৯৭৯ সালের এই দিনে।

লেখক : অস্ট্রিয়াপ্রবাসী মানবাধিকারকর্মী
লেখক ও সাংবাদিক


দৈহিক সম্পর্ক আমার একটি অন্যরকম নেশা তসলিমা নাসরিন

শনিবার, ০৬ মে ২০১৭

তসলিমা আরো বলেন, প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি নির্বাসনে দিনযাপন করছেন। মৌলবাদীদের আর্শীবাদপুষ্ট বিএনপি সরকারও তাকে দেশে ফিরতে দেননি। স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি হিসাবে দাবী করা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে দেশে ফেরার সুযোগ দেননি। তিনি এখন ক্লান্ত। দেশে ফিরতে চান। দেশেই বাকিটা জীবন কাটাতে চান।
তসলিমা নাসরিন আগের মতো এখন আর লিখতেও পারছেন না বা লিখছেন না। ’উতল হাওয়া, ’আমার মেয়ে বেলা’, ’ভ্রমর কইও যাইয়া’, বা ’ক’ -এর মতো বই আর আসছে না। আগের মতো কাব্যও নেই, কবিতাও না।

Picture


একাধিক স্বামী ও একাধিক পুরুষের সাথে তার দেহজ সম্পর্কের কথা তিনি বেশ রসিয়ে রসিয়ে লিখেছেন। কিন্তু আজকাল বয়সের কারণে নারী হিসেবে আর এই সম্পর্ক অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তসলিমা এখন হতাশ, চোখের নিচে কালি পড়েছে, চামড়ায় বয়সের চাপ, শরীরের মধ্যে নানারকম ব্যথাতো আছেই। একাকিত্ব তাকে আরও পঙ্গু করে দিচ্ছে। এমনি অবস্থায় বিদেশের কোথাও থিতু হতেও পারছেন না। দেশে ফেরাও তার জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে গেছে। যেই মৌলবাদীদের ভয়ে তিনি দেশ ছেড়ে ছিলেন, সেই ভয় এখনও তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে তিনি তুলে ধরলেন তার এখনকার বিস্তারিত জীবনানুভুতি। সাক্ষাতকারটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
প্রশ্ন: আপনার কাছে একটা প্রশ্ন। এই যে লেখালেখি করলেন, এর মূল উদ্দেশ্য কি ছিল, দেহের স্বাধীনতা না চিন্তার স্বাধীনতা?

তসলিমা: প্রশ্নটা আপেক্ষিক। আসলে আমিতো পেশায় ছিলাম চিকিৎসক। আমার বাবা চেয়েছিলেন তার মতো হতে। আমিও অধ্যাপক ডা. রজব আলীর মতো একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক হই। শৈশবে, কৈশোর এবং যৌবনে আমি অনুভব করি, নারীরা আমাদের সমাজে ক্রীতদাসীর মতো। পুরুষরা তাদের ভোগ্যপণ্যের মতো ব্যবহার করে। এ কারণেই বিষয়গুলো নিয়ে প্রথমে লেখালেখির কথা ভাবি।

প্রশ্ন: স্বাধীনতার দাবিতে কি আপনার এই লড়াই?
তাসলিমা: আমি প্রথমত নারীর জরায়ুর স্বাধীনতার দাবি তুলি। একজন পুরুষ যখন চাইবে, তখনই তার মনোস্কামনা পূর্ণ করতে ছুটে যেতে হবে। এটা তো হতে পারে না। অথচ তখন ছুটে না গেলে জীবনের সব পূণ্য নাকি শেষ হয়ে যাবে। চিন্তার স্বাধীনতা না থাকলে ভালো লেখক হওয়া যায় না।

দেহের স্বাধীনতার বিষয়টা গৌণ। তবে একেবারে ফেলনা নয়। পুরুষই একচেটিয়া মজা লুটবে, নারী শুধু ভোগবাদীদের কাছে পুতুলের মতো হয়ে থাকবে, এটা মেনে নিতে পারিনি।

প্রশ্ন: আপনি পরিকল্পিতভাবে নিজেকে আলোচিত করে তোলেন। আজ বাংলা সাহিত্যে বা বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে আপনি তো চরমভাবে অবহেলিত।
তাসলিমা: আমি একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছি। সত্য কথা সাহিত্যে অনেকের জন্য কষ্টদায়ক হয়। আমি আমার বহু স্বামী ও ভোগ্য পুরুষদের নামধাম প্রকাশ করে দেয়ায় অনেক বন্ধু আমাকে এড়িয়ে চলেন।

বাংলা সাহিত্যের অনেক দামি দামি পুরুষও চান না যে আমি দেশে ফিরি। এক সময় আমার বিপক্ষে ছিল কট্টর মৌলবাদীরা। এখন প্রগতিশীল অনেক সাহিত্যিকও বিপক্ষে। কারণ এদের নষ্ট মুখোশ আমি খুলে দিয়েছি।

প্রশ্ন: আপনি চিকিৎসক থাকলেই ভালো করতেন। মিডিয়াতে কেন এলেন? সাহিত্যেই বা কেন?
তাসলিমা: আমি নারীর অধিকার নিয়ে ভেবেছি। কিন্তু এখন মনে হয় আমি মানবিকভাবে আশ্রয়হীন। আর এ কারণেই আমি অন্য স্রোতে সুখ খুঁজেছি। পরিবার হারালাম, স্বামী সন্তান হলো না, ঘর-সংসার হলো না। তখন দৈহিক সম্পর্কে নেশাগ্রস্ত না থেকে আর কোনো পথ খোলা ছিলো না।
প্রশ্ন: এখন আপনি কী চান?


তাসলিমা: অনেক কিছু। আমার হারিয়ে যাওয়া জীবন, যৌবন, ভোগ-উপভোগ, স্বামী-সন্তান, পরিবার-পরিজন। কিন্তু দিতে পারবেন কি? আজ আমি নিজ দেশের কাউকে দেখলে কুণ্ঠিত ও লজ্জিত হই। খ্যাতি, অর্থ, পুরস্কার সবই আছে, তবুও মনে হয় আমি ভীষণ পরাজিত। দিনে হইচই করে কাটাই, রাত হলে একাকিত্ব পেয়ে বসে। আগের মতো পুরুষদের নিয়ে রাতকে উপভোগ করার মতো শরীর মন কোনোটাই নেই।
প্রশ্ন: এখন কেমন পুরুষ বন্ধু আছে?


তাসলিমা: এক সময় অনেক ব্যক্তিত্ববানদের পেছনে আমি ঘুরেছি। ব্যক্তিত্বহীনরা আমার পেছনে পেছনে ঘুরেছে। আজকাল আর সুখের পায়রাদের দেখি না। মনে হয় নিজেই নিজেকে নষ্ট করেছি।
পরিচিত হয়েছি নষ্ট নারী, নষ্টা চরিত্রের মেয়ে হিসেবে। লেখালেখি করে তাই এসব পুরুষদের উপর আমার রাগ, ঘৃণা ও অবহেলাকে প্রকাশ করেছি। যৌনতার রানী হিসেবে প্রকাশিত হলাম, অথচ এই রানীর কোনো রাজাও নেই প্রজাও নেই। এই জন্য আজ হতাশায় নিমজ্জিত আমি।
প্রশ্ন: ধর্ম-কর্ম করেন?


তাসলিমা: মাঝেমধ্যে মনে হয় সব ছেড়ে নামাজ-রোজা করি, তাওবা করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করি। কম্যুনিস্টরাও তো এক সময় বদলে যায়। আমার জন্ম ১২ ই রবিউল আউয়াল, মহানবীর জন্মদিনে। নানী বলেছিলেন, আমার নাতনী হবে পরহেজগার। সেই আমি হলাম বহু পুরুষভোগ্য একজন ধর্মকর্মহীন নারী। বলা তো যায় না, মানুষ আর কত দিন বাঁচে। আমার মা ছিলেন পীরের মুরীদ। আমিও হয়ত একদিন বদলে যাবো।
প্রশ্ন: বিয়ে-টিয়ে করবার ইচ্ছে আছে কি?


তাসলিমা: এখন বিয়ে করে কি করবো? পুরুষটিই বা আমার মধ্যে কি পাবে? সবই পড়ন্ত বেলায়। যে বিয়ে করবে, সে যদি আমার মধ্যে যৌন সুখ না চায়, সন্তান না চায়, এমন মানব পেলে হয়ত একজনকে সঙ্গী করার কথা ভাবতেও পারি।
প্রশ্ন: আপনি কি একেবারে পুরিয়ে গেছেন?


তাসলিমা: না, তা ঠিক নয়। তবে পুরুষতো শত বছরেও নারীকে সন্তান দেয়। মেয়েরা তো পারে না। আমার এখনও রজস্রাব বন্ধ হয়নি। মেশিনারি ঠিক আছে। তবে নতুন বা আনকোরাতো নয়, লক্কর ঝক্কর মেশিনারির মতো আরকি? পুরুষদেরও বয়স বাড়লে খাই খাই বেড়ে যায়। এতটা মেটানো তো আর এই বয়সে সম্ভব হবে না।
প্রশ্ন: বয়স বাড়লে পুরুষেদের সেক্স বাড়ে এটা কিভাবে বুঝলেন?

তাসলিমা: কত বুড়ো, মাঝ বয়সী ও প্রবীণ বন্ধুদের নিয়ে দেহজ খেলায় মেতেছি, এটা আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।
প্রশ্ন: রাত যখন বিশ্বকে গ্রাস করে, আপনার ঘুম আসছে না- তখন আপনার বেশি করে কি মনে পড়ে?
তাসলিমা: খুব বেশি মনে পড়ে আমার প্রথম প্রেম, প্রথম স্বামী, প্রয়াত কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে। অনেক কাঁদি তার জন্য। পেয়েও হারালাম তাকে। রাগ হয়েছিল বিয়ের রাতেই। আমি তো ডাক্তার তার পুরুষদণ্ডে ক্ষত দেখি। বুঝতে পেরেছিলাম যাকে জীবন দিয়ে ভালবাসি, সে বেশ্যাবাড়ি যায়। সিপিলিস-গনোরিয়ায় আক্রান্ত সে। তবু তাকে বলি, আজ বাসর রাতে যৌনকেলি হবে না। তোমার শরীরে রোগ। এখন আমার শরীরে তুমি ঢুকলে আমিও এ রোগে আক্রান্ত হবো। তোমাকে সুস্থ করে তুলবো, তারপর হবে আমাদের আনন্দ বাসর।

কিন্তু পুরুষতো জোর করতে চাইলো, ব্যর্থ হয়ে চলে গেলো পতিতার বুকেই।
প্রশ্ন: অন্য স্বামীদের কথা মনে পড়ে না?
তাসলিমা: তারা এমন উল্লেখযোগ্য কেউ নন। তাদের মুরোদ আমি দেখেছি। তার চেয়ে বহু বন্ধুর মধ্যে আমি দেখেছি, কেমন উন্মত্ত তেজ। ওদের স্মৃতি মনে পড়ে মাঝে মধ্যে।
প্রশ্ন: দেশে ফিরবেন না?
তাসলিমা: দেশই আমাকে ফিরতে দেবে না। আর কোথায় যাবো? বাবা-মা-ভাই-বোন সবাইকে আমি লেখাতে জবাই করে দিয়েছি। আসলে নেশাগ্রস্তই ছিলাম, অনেক কিছু বুঝিনি। আজ আত্মীয়-স্বজনও আমাকে ঘৃণা করে। মরার পর লাশ নিয়ে চিন্তা থাকে, আমার নেই। যে কোন পরীক্ষাগারে দেহটা ঝুলবে। ছাত্রদের কাজে লাগবে।


পা = জুলি রহমান ( মে দিবসের কবিতা )

বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০১৭

পাথর চাপায়।
যাবার বেলায় তোদের একটা লাথ্থি দিলাম।
যাদের কারনে আমার আমাদের মৃত্যু হলো।
জানুক পৃথিবী।
দেখুক দুনিয়া।
আমি একজন সাধারন শ্রমিক হলেও
তোদের প্রহার করার ক্ষমতা রাখি।
আমি তোদের জন্য ইতিহাস করলাম
আমার একটি পা-

Picture

যতোদিন দেখবে মানুষ!
ততোদিন একবার করে
তোদের ঘৃণা করবে
আমার আমাদের মতো খেটে খাওয়া
দিন মজুরেরা হা ভাতে শ্রমিকেরা

আমাদের তরল ঘামেই
তোদের বাবুয়ানা বাহারী সাজ
বিলাস বৈভব জীবন!
আমাদের ঘারে পা ফেলে ফেলে
তোরা তৈরী করিস সিড়ির পর সিড়ি
তোদের পায়ের তলায় পিস্ট হতে হতে
আমাদের ঘার পিঠ বাঁকা
তোদের পকেট ভারী করতেই
আমাদের বাজারের থলিতে গলিত মাছ
পঁচা নর্দমার গন্ধযুক্ত রেশনের চাল।
ডালভাত একটা ডিমে চারভাগ
বস্তির নর্দমায় একচালা বসত।
আমাদের তোরা পুরিয়ে মারিস!
ফাটলে ফেলে জীবন্ত কবর খুড়িস
তোদের ক্ষমতার শেষ নেই।
আমার আমাদের কিছু নেই
তোদের ঘায়েল করার
আছে শুধু একটি পা
তাই রেখে গেলাম।

২৪শে এপ্রিল রানাপ্লাজার পা।
নিউইর্য়ক-


বৈশাখ শুধু পথমেলা নয়।ঘরোয়া আড্ডায় ও তাঁর রেশ রয়= জুলি রহমান

বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০১৭

মাস জুডেই বৈশাখের অনুষ্ঠান করলাম।গত রবিবার রেক্সোনা মজুমদার আয়োজিত বৈশাখী আড্ডার এক ঘরোয়া পরিবেশে উনি সাজালেন গোটা বাংলাদেশ।পোশাকে খাবারে  সাজ সজ্জায় ওই উঠোন টি ছিলো বাংলার প্রান্তর। সন্চালিকা ডাঃ নাহিদের মধুঝরা বাণীতে গমগম করছিলো ১৯৫০ বাডিটির গতর।আকাশটা অভিমানী ছিলো একটু। বোধকরি বটবৃক্ষ হয়ে আমাদের ছায়া প্রদান করার পরিকল্পনায় আকাশ সেজেছিলো হাল্কা মেঘের সাজে।

রেক্সোনা মজুমদার!আইনজীবি এন মজুমদার যার জীবনের অংশ।এই পরিবারটি প্রতিবছর যে বৈশাখকে ধারন করেন বরণকরেন আপন পরিমন্ডলে সেখানে চুল পরিমান অভাব থাকেনা।চুরি ফিতা বেলোয়ারী পাখা কোলা ডালা ঢোল তবলা বাঁশরী। খাদ্য মেনু? কী নাই?পিঠা পায়েস ভর্তা মাছ মাংস বেগুন ভাজা
শুকতা পাতার অপূর্ব স্বাদের সুস্বাদ ব্যান্জনা।মাংস কাবাব কোপ্তা । এতো গেলো ভুরিভোজ অর্থাৎ কি-না পেট পূজা।

পান খেয়ে শুরু হলো গান কবিতা কথা।কারা ? কবিতায় আবৃত্তিতে ডাঃনাহিদ তাহরীনা প্রীতি।স্বরচিত কবিতা পাঠে পলি শাহিনা ।বৈশাখের গীতি কবিতায় জুলি রহমান সংগে থাকে তাহরীনা প্রীতি কাজী আরজু সৈয়দা মাহমুদা কবীর,শিউলি শেলু জুবাইদা ,পেছনে অনুপ যন্ত্রে ।

কথা বলেন মিলিনিয়াম টিভির মালিক সম্পাদক  ও তাঁর স্ত্রী
কথা বলেন প্রবন্ধকার সোনিয়া কাদের। শুভেচ্ছা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিউনিটির পরিচিত মুখ এন মজুমদার।স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের হোস্ট রেক্সোনা মজুমদার।কথা বলেন উপস্থিত মজুমদার পরিবারের বিশেষ অতিথি মন্ডলীর অনেকেই।এরপর শুরু হয় জমপেশ আড্ডা গান এবং নৃত্য।সমগ্র অনুষ্ঠানটি সন্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আমাদেরসকলের প্রিয় মুখ প্রিয় ব্যাক্তিত্ব ডাঃ নাহিদ খান। খুশি মনে পানের রসাস্বাদন যোগে সকলে ঘরে ফিরলেন সেই বিকেলের মেঘ কুসুম রোদ মেখে গায়ে।


ভারতে শিশুদের হত্যার প্রশিক্ষণ আর.এস.এস ও বিজেপির- আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০১৭

আর.এস.এস ২০১৯ সালে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দিল্লি হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাচার কমিটির প্রধান রাজিন্দর সাচার।২২ডিসেম্বর ১৯৮৫সনে তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব থেকে অবসরে যান।ইনি ভারতের মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কিত রিপোর্ট প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত ভারত সরকারের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটির প্রধান ছিলেন। ২৪এপ্রিল সোমবার গণমাধ্যমে তার এ সংক্রান্ত মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

এদিকে ভারতের কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিআই(এম) নেতা পি বিজয়ন বলেছেন, ‘আর.এস.এস শিশুদের সহিংসতার পাঠ দিয়ে হত্যা করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সংগঠনটি তাদের মতাদর্শ অনুসারে শিশুদের সহিংস করে তোলার দিকে ঝুঁকেছে।’ বিধানসভায় বিধায়ক জন ফার্নান্ডেজের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি  এই মন্তব্য করেন।

আর.এস.এসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী পি বিজয়ন বলেন, ‘আরএসএস শিক্ষার্থী এবং শিশুদেরও হত্যার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।’তিনি সম্প্রতি মাদ্রাসার এক আলেমকে হত্যা ও জগন্নাথ মন্দিরে সহিংসতাকে 'আরএসএসের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল' বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এ সবের মাধ্যমে আরএসএস সমাজে সাম্প্রদায়িক বিষ ঢালতে চাচ্ছে।  

বিজয়ন বলেন, ‘এক অজ্ঞাত ব্যক্তি মসজিদ চত্বরে ঢুকে মাওলানাকে গলা কেটে হত্যা করে। তদন্ত রিপোর্টে প্রকাশ, ওই মাওলানাকে হত্যা সামাজের দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার ফল। মাদ্রাসার মাওলানাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না বা এ নিয়ে কোনো অভিযোগও ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাকে হত্যা করা হয়েছে। এর পিছনে আরএসএসের একটাই উদ্দেশ্য ছিল সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টি করা এবং উত্তেজনা ছড়ানো। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন ও সরকার সময় থাকতেই তা ব্যর্থ করে দিয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গে ধর্মের নামে কোনরকম দাঙ্গা বরদাস্ত করব না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ২৭এপ্রিল আলিপুর দুয়ার জেলার বীরপাড়ায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় মমতা ওই মন্তব্য করেন।মমতা বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, ‘যে ধর্মকে ভালবাসে সে ধর্মকে রাস্তায় বিক্রি করে না। কেউ কেউ পয়সা দিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে এসে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। আমি সব ধর্মকে ভালোবাসি, বিশ্বাস করি। বিজেপি বাংলায় দাঙ্গা লাগাচ্ছে, কুৎসা ও অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে। বিজেপি বাংলাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরী করছে।’  

কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে উদ্দেশ্য করে মমতা বলেন, ‘বাংলা আপনাদের চোখ  রাঙানিকে ভয় পায় না। বাংলার মাটি পবিত্র মাটি, সংস্কৃতি,শিক্ষা ও সভ্যতার মাটি। বাংলার মাটি সোনার মাটি, এখানে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, নেতাজী, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব জন্মেছেন। আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে,ভালো থাকতে হবে।’ মমতা বলেন, ‘আমি বাংলার মানুষের পাহারাদার হয়ে থাকব। ৩৪ বছরে সিপিএম  বাংলাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, ওদের দেনা এখন আমাদের শোধ করতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ওরা (বিজেপি) গুজরাট সামলাতে পারে না, বাংলাকে পথ দেখাতে আসছে। ওরা তৃণমূলকে ভয় দেখায়। কারণ আগামীদিনে তৃণমূল দিল্লিকে পথ দেখাবে।’মমতা  বিজেপি’র সঙ্গে সিপিএমের সখ্যতা নিয়ে কটাক্ষ করে ছড়া কেটে বলেন,  ‘দিল্লি থেকে এল রাম, সাথে জুটে গেল বাম’, ‘বিজেপির কোলে সিপিএম দোলে’।বিজেপি আর বামপন্থিরা মিলে গুন্ডাগিরি করে, আমরা এসব সমর্থন করি না’ বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন।

   ভারতীয় তেলেঙ্গানার পুলিশই আই.এস.আই.এস?  

-----------------------------------------------

ভারতের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং ১লা মে সোমবার অভিযোগ করেছেন, দেশটির তেলেঙ্গানা রাজ্যের পুলিশ আই.এস.আই.এস'র নামে ভুয়া ওয়েবসাইট চালু করে মুসলিম তরুণদেরকে উগ্রবাদী করছে। তাদেরকে আই.এস.আই.এসে যোগ দিতে বাধ্য করছে।তিনি এক টুইট বার্তায় একাধারে অনেকবার এ অভিযোগ করার পর নতুন করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উত্তেজনা সৃষ্টিকারী তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মুসলিম তরুণদের উস্‌কে দেয়াটা কতটা নৈতিক সে প্রশ্নও করেছেন কংগ্রেসর সাধারণ সম্পাদক।“ইন্ডিয়া টুডে” টেলিভিশনসহ অনেক ভারতীয় মিডিয়া ঘটনার দিনেই দিয়েছে এই সংবাদ।তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী দায়েশকে ভারতসহ বিশ্বের অনেকস্থানেই আইএসআইএস, আইএস বা আইএসআইএল বলা হয়।বাংলাদেশে এভাবে ভূয়া সন্ত্রাসী সাজানোর ফাঁদ করার চর্চায় বার বার সফল হবার পর এবার নিজের দেশে কৃতিত্ব পাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে প্রতিবেশী বিশেষজ্ঞদের।  

 

অবশ্য তার টুইটবার্তা প্রকাশিত হওয়ার পর তেলেঙ্গানা রাজ্যের সরকার ও পুলিশ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তেলেঙ্গানার পুলিশ ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।বিষয়টি বেশ উত্তেজনা ও বিতর্ক ছড়ালেও জঙ্গি জঙ্গি দায় তুলে দিয়ে ভারত-বাংলাদেশে মুসলমান বিরোধী ধারাবাহিক আক্রমণের ভেতরের বিড়াল ম্যাঁও ম্যাঁও করছে বলে শোনা যাচ্ছে।ভারতব্যাপী জঙ্গিত্ব উৎপাদনের কারখানার দিকে নজর চলে যাচ্ছে সবার।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন,ভারতীয় সমাজের ঐতিহ্যে হিন্দু শ্রেষ্ঠত্বের ঝোঁক নতুন বিষয় নয়।অতীতে এদের পূর্ব পুরুষরা এই অপরাধ করেছে এবং ভারত লুন্ঠনে ব্যবহৃত হয়েছে।ভারতকে বিভক্ত করেছে।এখনো ঐপথ ধরেই অগ্রসর করা হচ্ছে ভারতের হিংস্র অপরাধীদেরকে।গান্ধীজীর হত্যাকারী গোপাল গড্‌সের অনুসারীরা ভারত শাসনের সুযোগ পেয়েছে।তারা নিজেদের হিংস্রতাকে বিস্তৃত করতে চাওয়া নিশ্চয়ই অস্বাভাবিক নয়।  

ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক হত্যাকান্ড এবং হিংস্রতাকে রাজনৈতিক নীতিতে অগ্রাধিকার দিয়ে হিন্দু ধর্মের আধিপত্য বৃদ্ধির পথ ধার্মিক হিন্দুরাই প্রত্যাখ্যান করছে।ভারতীয় দেশপ্রেমিকরা তাদের রাজনৈতিক যোগ্যতাকে জঙ্গিত্ব চিহ্নিত করা এবং তা থেকে মানুষদের রক্ষা করার চেতনায় ঘুরে দাঁড়াবেন-এটাই স্বাভাবিক।   

 আরএসএস ২০১৯ সালে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দিল্লি হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাচার কমিটির প্রধান রাজিন্দর সাচার। ২৪এপ্রিল সোমবার গণমাধ্যমে তার এ সংক্রান্ত মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।  

ভারতে বেশ কিছুদিন ধরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি সাচার বলেন, ‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে এবং এটা কেবল


শেখ হাসিনাতেই আস্থা, কিন্তু বাকিরা করছে কী?

মঙ্গলবার, ০২ মে ২০১৭

শেখ আদনান ফাহাদ : আওয়ামী লীগ এর সমর্থক, কিন্তু অনেক সামাজিক, অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ইস্যুতে সরকারের মন্ত্রী-এমপির সমালোচনায় মুখর হন, এমন মানুষের সংখ্যা সমাজে কম নয়। এরা দলের বা সরকারের নানা কাজের সমালোচনা করলেও শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখছেন দীর্ঘদিন ধরে। এমনও বলতে শোনা যায় যে, শেখ হাসিনা ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করেন না তারা। শেখ হাসিনার দল করেন না এমন মানুষও আস্থা রাখতে শুরু করেছেন তাঁর উপর; জাতীয় নেতা হিসেবে এই বাঙালি নারীর জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বাড়ছে।

ব্যক্তি শেখ হাসিনা মানুষের এই অনুধাবন, আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। সব দল মিলে অন্য রাজনীতিবিদরা এই কাজটি করতে পারেননি। কিন্তু আর কতদিন এভাবে একা এত চাপ সামলে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি? তিনি সারাজীবন থাকবেন না। বাকি মন্ত্রী, এমপিদের ভেতরে উনার মত সক্রিয়তা আসবে কবে? একই দল, একই মন্ত্রীপরিষদ, একই রাষ্ট্র। তাহলে বাকিদের ভেতরে দেশপ্রেম, সততা আর তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামর্থ্য নাই কেন?

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই কি উনার সামর্থ্য বেশি? আমার মনে হয় না। তিনি যখন বিরোধীদলে ছিলেন তখনও বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সবার আগে গিয়ে হাজির হয়েছেন। দলের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে ক্ষমতাসীনদের বিব্রত করেছেন। তিন বছর প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়াটিমে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি, শেখ হাসিনা নির্লোভ ও মানবতাবাদী। এত বড় দলের প্রধান তিনি, টানা আট বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ছিলেন পাঁচ বছর। কিন্তু খাদ্যাভ্যাসে, কাপড়চোপড়ে কত সহজ, সাধারণ, সুন্দর। অনেক নেতার ভোগ-বিলাস আর যেনতেন ভাবে অর্থকড়ি কামাই করার অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখলে দলের প্রধানের সাথে এদের মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

Picture

বড় বড় দার্শনিক, অধ্যাপকরা যেখানে ‘প্রগতি’ আর ‘ধর্মে’র মধ্যে তাল মেলাতে পারেন না, সেখানে শেখ হাসিনা স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত, বিএনপির কট্টর সমর্থকগোষ্ঠী আর কিছু অপরিণামদর্শী প্রগতিশীল ছাড়া বাদবাকি বাংলাদেশির আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন বলে আমার ধারণা। দেশের শীর্ষ কয়েকটি পত্র-পত্রিকা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কৌশলে মানুষের মনকে বিষিয়ে তুলছে। যেমন কিছু পত্রিকা স্বাধীনতার পরপর কৌশলী সাংবাদিকতা করে বঙ্গবন্ধু সরকার সম্পর্কে মানুষের মনকে বিষিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু এখন যুগ পাল্টে গেছে। দুয়েকটি পত্রিকার মনোপলি ভেঙে দিয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের কনসেপ্ট।

প্রতিটি ব্যক্তিই এখন গণমাধ্যম হয়ে উঠছেন যেন। ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমকে মানুষ বেছে নিয়েছে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। দুয়েকটি মিডিয়ার আধিপত্য খর্ব করে দিয়েছে অনেকগুলো অনলাইন নিউজপেপার। সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা কোন কিছুই আর গোপন থাকছে না। মানুষ নিজেই ভাল-মন্দের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। ফলে সরকার শুধুই ব্যর্থ কিংবা সরকার শুধুই সফল এমন অযৌক্তিক মূল্যায়ন মানুষ করছে না। প্লাস-মাইনাস করে মানুষ একটা সঠিক মূল্যায়ন করতে পারছে। ফলে সরকারের সাফল্যসমূহ মানুষ দেখতে পাচ্ছে, মেহসুস করতে পারছে। ব্যর্থতার বার্তাগুলো একতরফাভাবে মানুষকে নৈরাশ্যবাদী করছে না।

মানুষ দেখছে, বড় বড় বিপদে শেখ হাসিনাই সর্বশেষ আশ্রয় হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। মন্ত্রীরা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করছেন না, বলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সব তদারকি করছেন। মন্ত্রী মানে একটা মন্ত্রণালয়ের প্রধান ব্যক্তি। মন্ত্রীরা যদি সব কাজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য ফেলে রাখেন তাহলে উনি উনার নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কখন করবেন? উনাকে সবগুলো মন্ত্রণালয় যেমন দেখতে করতে হয়, আবার উনার নিজেরও মন্ত্রণালয় আছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি তো আছেই। সবাই মিলে এত চাপ উনাকে কেন দিচ্ছে?

সর্বশেষ ঘটনায় হাওর অঞ্চলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হল বানের পানির সাথে সাথে দুশ্চিন্তার পানিও কমে গেল! একান্তই ব্যক্তিগত অনুভূতি। সাধারণীকরণ বা সরলীকরণ আমি করব না। ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যদিও আমার মত অনেকেই হাওর অঞ্চলের মানুষগুলোর জন্য কিছুই করেনি কিন্তু গরিব মানুষগুলোর জন্য দুশ্চিন্তা হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যাই সমাজে বেশি।

প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগকবলিত মানুষের কাছে গেলেন, ঘুরে ঘুরে হাওর এলাকা পরিদর্শন করলেন। অনেকগুলো আকাক্সিক্ষত ঘোষণা দিলেন। শেখ হাসিনা পানির দেশে যাওয়াতে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ যে খুশি হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন হাওর অঞ্চলের জলে ভাসা মানুষগুলো।

ভারত থেকে আসা বানের পানি থেকে সৃষ্ট এই আকস্মিক বন্যায় একমাত্র ফসল বোরো ধান হারিয়ে, পানির নিচের মাছ হারিয়ে সুনামগঞ্জ-নেত্রকোণাসহ আশপাশের হাওর অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। মূলধারার মিডিয়ায় হাওরে আগাম বন্যার খবর প্রথমদিকে খুব বেশি প্রচার পায়নি। কিন্তু ফেসবুকে সক্রিয় ছিলেন তরুণ সমাজ। ফেসবুকের চাপে পড়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও বেশ প্রচার পেতে শুরু করে।

প্রথমদিকে সরকারের কয়েকজন সচিব এবং মন্ত্রী হাওর অঞ্চলকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে চাননি। একজন সচিব বলেছিলেন, গরু-ছাগল মারা গেলে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা যায় না। যেন মানুষের মৃত্যুর অপেক্ষায় ছিলেন সেই সচিব! এরকম মানুষ-মারা সচিব দেশে আছে বলেই ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে আজও সমাজের বড় একটা অংশ হতদরিদ্র।

পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিপর্যয়ের ২৬ দিন পর হাওর অঞ্চলে গিয়েছিলেন। সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাবেন শুনে পানিসম্পদ মন্ত্রী তাড়াহুড়া করে হাওর এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রকৃতির উপর সব দোষ চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের দায়মুক্ত করতে চাইলেন। বললেন, পানি আগে এসে যাওয়ায়, বাঁধের উচ্চতা কম থাকায় নাকি বানের পানিতে সব ভেসে গেছে। কর্মকর্তা-প্রকৌশলী-ঠিকাদার সিন্ডিকেটের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে উনার অসুবিধা কোথায়? প্রধানমন্ত্রীতো ঠিকই বললেন, হাওর ব্যবস্থাপনা ও বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। শেখ হাসিনা বলতে পারেন, কারণ তার সততার শক্তি আছে বলে দেশের মানুষ জানে।

দুর্নীতি দমন কমিশন আগের থেকে অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে। এইজন্যই আমরা দেখছি কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, কোটি টাকার গাড়ি পানির নিচে, হাতিরঝিলের রাস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুদক গ্রেপ্তার করছে। এগুলো ভালো লক্ষণ। যাদের দুর্নীতির হাতেখড়ি এখনো হয়নি, তারা সহজে শুরু করবে না আর দুর্নীতি করা যাদের রক্তে মিশে গেছে তারাও কিছুটা ক্ষান্ত দেবেন।

আমার মতে হাওরে সরকারি-বেসরকারি সিন্ডিকেটের দুর্নীতির মাত্রা ও পরিধি চিহ্নিত করা এবং দোষীদের খুঁজে বের করার জন্য দুদক এর বিশেষ টিম গঠন করা উচিত। দেশের মানুষকে বোকা মনে করার কোন কারণ নেই। সাধারণ মানুষ দেখছে, দেশের রাস্তা-ঘাটের কাজের মান কেমন হচ্ছে। কারা কীভাবে কাজ পায়, কাজ কতটুকু করে, সবই দেশের মানুষ বোঝেন।

গত আট বছরে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রকে অনেক কিছু দিয়েছে। শুরুতে বিডিআর বিদ্রোহ না ঘটলে দেশ আরও এগিয়ে যেত। বড় বড় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে এই সরকার। ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের পেট্রোলবোমা সন্ত্রাস সামলে স্থিতিশীল বাংলাদেশ স্থাপনে আপাত সফল বর্তমান সরকার। রহস্যময় জঙ্গিবাদী তৎপরতাও ভালোমত সামাল দিচ্ছে সরকার।

ভারত-মিয়ানমারকে আইনি লড়াইয়ে পরাজিত করে সুমদ্রে বিশাল অঞ্চল অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মঙ্গা পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে। ২০১৬ সালের বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে অতিদারিদ্রের হার কমে ১২.৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদন মতে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পুরোপুরি অতিদারিদ্র্যমুক্ত হবে। মানবউন্নয়ন নানা সূচকে বাংলাদেশ ভারতকেও অনেক পেছনে ফেলছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার নিয়মিতভাবে সাতের উপর।

ফলে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রাপ্তি আছে অনেক এই সরকারের আমলে। আমরা অর্থনীতিবিদ নই। পারলে অর্থনীতিবিদগণ একটু গবেষণা করে দেখুন না, স্বাধীনের পরে কোন সরকারের আমলে কতটুকু উন্নতি হয়েছে। সিপিডি জাতীয় প্রতিষ্ঠান এ ধরনের গবেষণা করবে বলে মনে হয় না। আওয়ামী লীগে এমন গবেষক আছে বলেও আমার মনে হয় না। দলে দক্ষ অর্থনীতিবিদ থাকলে এক আবুল মাল আব্দুল মুহিত এতদিন অর্থমন্ত্রী থাকতেন না। যাই হোক, এত সাফল্যের সাথে সাথে বিতর্কও আছে অনেক।

বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্র ও গণপরিবহন ইত্যাদি কয়েকটি ক্ষেত্রে আট বছরে আওয়ামী লীগ সরকার বেশ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, বহু বছর ধরে। যাইহোক, এত সমস্যার ভেতরে আমাদের আশাবাদী হতে হবে। শুধুই সমালোচনা কখনো কাম্য নয়।

২০১৯ সালের নির্বাচন সামনে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর নির্বাচন। স্পর্শকাতর এ কারণে যে, আওয়ামী লীগ বিরোধী স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো সব একসাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে। দেশের মানুষ উন্নয়নের রাজনীতি মেনে নিয়েছে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টিতে শেখ হাসিনা যে ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্বের দাবিদার সেটা বলা বাহুল্য।

সাম্প্রতিককালে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট- আইআরআই এর একটি জনমত জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা সরকারের থেকেও এক শতাংশ বেশি! সরকারের জনপ্রিয়তা যেখানে ৬৬ শতাংশ সেখানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা ৬৭ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জরিপে অংশ নেয়া ৬২ শতাংশ মানুষ মনে করেন দেশ সঠিক পথেই এগুচ্ছে। এই সংখ্যা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে আইআরআই এর আগের জরিপের চেয়ে ছয় শতাংশ বেশি। জরিপে অংশ নেয়া ৭২ শতাংশ মনে করেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতিবাচক। আর অংশগ্রহণকারী ৬২ শতাংশ জননিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং ৬৪ শতাংশ রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে মত দিয়েছিলেন।

সরকারের জনপ্রিয়তা থেকে ব্যক্তি শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেশি-এ কথাটা শুনতে খুব ভালো লাগলেও সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী ও আমলাদের ব্যর্থতাকে তুলে ধরে। মুশকিল হল, অন্য অনেক মন্ত্রী একথা স্বীকার করতে চান না যে তারা ব্যর্থ। তারা হাস্যকরভাবে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চান। দেশের কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিবেশ পেয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এদের বড় অংশ রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর নয়, ব্যক্তি শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখছেন।

কিন্তু শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, মন্ত্রী, দেশের সকল রাজনীতিবিদকে সততা আর সক্রিয়তা দিয়ে কাজ করতে হবে। অথচ সবাই কেমন যেন শুধু নিজের উন্নতি, নিজের মঙ্গলের জন্যই দিন দিন লালায়িত হয়ে যাচ্ছে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়