Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

নেশায় ভ্রষ্ট পথশিশুসহ ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা = আলম শাইন

শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

আলম শাইন : সম্প্রতি মানবকন্ঠ পত্রিকায় আমার একটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে, ‘শিশুরা রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার’ শিরোনামে। লেখাপাঠে পাঠক তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। গঠনমূলক সমালোচনার মধ্য দিয়ে পাঠক তাদের মতামত পেশ করেছেন। তন্মধ্যে ঘনিষ্টদের একজন পরামর্শ দিয়েছেন, জামায়েত-শিবির নিয়ে কিছু না লিখতে। তিনি সাফসাফ জানিয়েছেন, আওয়ামীলীগ-বিএনপি-জাতীয়পার্টি নিয়ে লেখা যাবে কিন্তÍু জামায়েত-শিবির নিয়ে লেখা যাবে না। যুক্তি দেখিয়েছেন, ওরা প্রতিশোধ পরায়ন। যে কোন  সময় রক্তারক্তি কান্ড ঘটিয়ে দিতে পারে। হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া ওদের পুরনো অভ্যাস, কাজেই সাবধান হতে হবে। জানিনা এ কেমন ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে রাজনীতি করছে দলটি! মানুষ জবাই করতে বোধে বাধে না কেন তাদের তা বোধগম্য নয় আমার। যে এলাকার ঘটনা পূর্ব প্রকাশিত লেখায় স্থান পেয়েছে, সেখানে মাঝেমধ্যে অমনটি ঘটে বিধায় তিনি আমাকে সতর্ক করেছেন। ভদ্রলোক তৎসঙ্গে আরো জানিয়েছেন যে, ‘আমাদের দেশের রেওয়াজই এমন। সব দলই আজকাল শিশুদেরকে রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবহার করছে, কাজেই নিদৃষ্ট কোন দলের কথা না বলাই শ্রেয়’। সেই উক্তির রেশ ধরেই বলছি, আসুন আমরা শিশুদেরকে শিশুর মতোই গড়ে তুলি। কোন দলেই যেন এরা ঠাঁই না পায় সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখি। সজাগ দৃষ্টি রাখি পথশিশুরা যেন বিপদগামী না হয় সে দিকটায়। কারন আমাদের দেশের পথশিশুরা শুধু রাজনৈতিক সহিংসতায়ই ব্যবহার হচ্ছে না, ব্যবহার হচ্ছে মাদক পাচারের কাজেও, এবং নিজেরাও জড়িয়ে পড়ছে মাদকের ভয়ঙ্কর জালে। জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ীরা নিরাপদ ভেবে পথশিশুদেরকে মাদক পাচারে ব্যবহার করছে। তার আগে অবশ্য ওদেরকে মাদকাসক্ত করে তুলছে মাদক ব্যবসায়ীরাই।  

http://www.mujibsenanews.com/uploads/images/1456496182_alam_sahin_647.jpg" alt="">


সম্প্রতি খবরের কাগজের এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে জানা গেছে, ‘আইসিডিডিআরবি’ ও বেসরকারি সংস্থা ‘মোস্ট অ্যাট রিস্ক অ্যাডোলেসেন্ট’ (এমএআরএ)-এর ২০১২ সালের তথ্য মোতাবেক বাংলাদেশের মোট পথশিশুর সংখ্যা ৪ লাখ ৪৫ হাজার। তন্মধ্যে রাজধানীতে রয়েছে ৩ লাখেরও বেশি পথশিশু। এদের বেশি সংখ্যকই মাদকাসক্ত।  প্রায় ৪৪ ভাগ পথশিশু মাদক গ্রহণ ও বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত। ৩৫ শতাংশ পথশিশু পিকেটিং এবং বোমাবাজির সঙ্গে জড়িত। বাকি ২১ শতাংশ পথশিশু ছিনতাই ও আন্ডারগ্রাউন্ডের সন্ত্রাসীদের সোর্স হিসাবে কাজ করছে এবং অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে। জড়িত হচ্ছে ছিঁচকে চুরির সঙ্গেও।
অপরদিকে ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম’ এক পরিসংখ্যানে জানিয়েছে, রাজধানীর ৮৫ শতাংশ পথশিশু কোন না কোন ধরনের মাদক গ্রহনের সঙ্গে জড়িত। আরেক পরিসংখ্যানে সংস্থাটি জানিয়েছে, রাজধানীতে মাদক সেবীদের ২২৯টি স্পট রয়েছে। সে তথ্য মোতাবেক জানা যায়, রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, চাঁনখারপুল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাইকোর্ট প্রাঙ্গন, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম চত্বর, কমলাপুর রেল স্টেশন, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাস টার্মিনালসহ অন্যান্য স্থানে অবাধে হেরোইন, গাঁজা, ঘুমের ওষুধসহ নানা ধরনের মাদক গ্রহন করছে পথশিশুরা।
সমীক্ষায় জানা যায়, পথশিশুরা মাদকাসক্ত হওয়ার মূল কারন অবিভাবকত্বহীনতা। এ ছাড়াও দারিদ্রতার অজুহাতে পথশিশুদেরকে নামতে হয় উপার্জনের পথে। উপার্জনের হাতেখড়ি হয় পুরনো কাগজপত্র সংগ্রহ এবং বোতল বা প্লাস্টিক সামগ্রী সংগ্রহের মাধ্যমে। ফেলে দেয়া নানা সামগ্রী কুড়াতে গিয়ে এরা প্রথমে নেশার রাজ্যে পা রাখে।  দেখা যায় ভাঙ্গারি দব্যাদি কুড়াতে গিয়ে সাক্ষাত মিলে কোন মাদকসেবীর সঙ্গে। ওরা মাদক গ্রহনের পর অবশিষ্ট অংশটুকু বাড়িয়ে দেয় শিশুটির দিকে। আবার অনেক মাদক ব্যবসায়ীরা আছে এদেরকে খুঁজে বের করে একটু-আধটু নেশাজাতীয় সামগ্রী হাতে ধরিয়ে দেয়, শিখিয়ে দেয় ব্যবহার পদ্ধতিও। ব্যস্  শুরু হয়ে গেল ওদের নেশার রাজ্যে পদচারণা। নেশায় তাড়িত হয়ে শিশুরা তখন মাদক ব্যবসায়ীর কথায় ওঠবস করতে আরম্ভ করে। এ সুযোগে ওদের ময়লা-আবর্জনার ব্যাগে নেশাজাতীয় দ্রবাদি ঢুকিয়ে যথাস্থানে পৌঁছে দিতে হুকুম করে। এভাবেই পথশিশুরা একদিন হয়ে ওঠে তুখোড় নেশারু।
সমীক্ষায় জানা যায়, পথশিশুদের পরেই রাজধানীতে মাদকাসক্ত হচ্ছে বেশি ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা। বাবার অগাধ অর্থ-কড়ি নাশের মোক্ষমস্থান হিসাবে বেছে নেয় এরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসকে। এখানকার মাদকসেবীরা ‘মডার্ণ স্টুডেন্ট’ হিসাবে পরিচিত। নেশাজাতীয় দ্রবাদির সঙ্গে জড়িত হতে না পারলে বন্ধুদের কাছে যেন ওদের মান-ই থাকে না। ফলে বাধ্য হয়ে ভালো ছাত্রটিকেও ভিড়তে হয় নেশারুদের দলে। এতদস্থানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুধু ছাত্রই নয় ছাত্রীরাও সামান তালে এগিয়ে আছে। এদের বেশির ভাগই ইয়াবাসেবীর দলভূক্ত। কেউ কেউ গাঁজা, হেরোইন চর্চাও করে।
চিত্রটি তুলে ধরার পেছনে আমাদের কোন অসৎ উদ্দেশ্য নেই। নেই ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল-কলেজকে হেয় করার অভিপ্রায়। এ নিবন্ধন লেখার মূল উদ্দেশ্যটি হচ্ছে অবিভাবকদেরকে সচেতন করা। কারন আমাদের অবিভাবকরা এখন অনেকটাই সন্তাননির্ভর হয়ে পড়েছেন। সন্তানের কথায় ওঠবস করাটকে আভিজাত্য হিসাবে দেখছেন। কাড়িকাড়ি কড়ি সন্তানের হাতে তুলে দিতে না পারলে যেন তাদের স্বস্তি নেই। হাত নিশপিষ করে। এ ধরনের মহান অবিভাবকদের কল্যাণেই ‘ঐশী’র জন্ম। এটা আমাদের ভুলে গেলে চলবেনা যে, ঐশীকে তার মা-বাবার হন্তারক হতে সাহায্য করেছে নিজের মা-বাবাই। সুতরাং বোধকরছি এ বিষয়ে আর তেমন কিছু বলার নেই আমাদের। শুধু এটুকুই বলার আছে, মর্মšু‘দ এ ঘটনার যেন পুনরাবৃিত্ত না হয় দেশে তার প্রতি  সচেষ্ট হবেন।  
লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


প্রাগ প্রবাসী বাংলাদেশী নাদিরা মজুমদারের নতুন দু’টি বই

শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

মাঈনুল ইসলাম নাসিম : প্রবাসের খ্যাতিমান লেখিকা নাদিরা মজুমদারের নতুন দু’টি মূল্যবান বই প্রকাশিত হয়েছে অতি সম্প্রতি। ‘আইনস্টাইন সুপারস্টার’ প্রকাশ করেছে ঢাকার বাংলা একাডেমি, অন্যদিকে ‘একমেরু বনাম বহুমেরু’ (চার দেশের কাহিনী) বইয়ের প্রকাশক ঢাকা থেকেই মাওলা ব্রাদার্স। বিজ্ঞান লেখার পাশাপাশি নাদিরা মজুমদার একাধারে একজন গবেষক, সাংবাদিক, মাইগ্রেশন এন্ড ইন্টিগ্রেশন কনসালটেন্ট। চেক প্রজাতন্ত্রে বসবাস করছেন ৩৫ বছর ধরে। ১৯৮১ সালে রাজধানী প্রাগে স্থায়ীভাবে চলে আসার আগে তাঁর জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং লেখাপড়া সবই ঢাকায়। বিএসসি অনার্স ও এমএসসি পাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে পাকাপোক্ত চাকরিজীবন শুরু করেছিলেন সাংবাদিকতা দিয়ে। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নারী ‘ইনভেস্টিগেটিভ’ স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন তিনি।

সাপ্তাহিক রোববারে নিয়মিত বিজ্ঞান পাতা চালু করেন তখন নাদিরা মজুমদার। বিজ্ঞানকে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার আইটেমে পরিণত করেন, যা নিয়মিত ট্রেন্ডে পরিণত হয়। পদার্থবিদ্যার বাইরে আরো কিছু বিষয় তিনি বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। বিজ্ঞান গণশিক্ষা কেন্দ্র তথা সেন্টার ফর ম্যাস এডুকেশন ইন সায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নাদিরা মজুমদার। ইউরোপিয়ান রিসার্চ ফোরাম অন মাইগ্রেশন এন্ড এথনিক রিলেশনসের মেরি কুরি স্কলার এই স্বনামধন্য বাংলাদেশী। মাইগ্রেশন এন্ড ইন্টিগ্রেশন চ্যাপ্টারে চেক রিপাবলিক সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে টানা এক দশক সুনামের সাথে কর্মরত ছিলেন তিনি। চেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এসাইলাম এন্ড মাইগ্রেশন পলিসি ডিপার্টমেন্টে ছিল তাঁর সরব পদচারনা।

চেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের পর টানা পাঁচ বছর ছিলেন চেক শ্রম মন্ত্রনালয়ে। মাইগ্রেশন ও ইন্টিগ্রেশন ইস্যুতে প্রাগে তাঁর বহু প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশিত হয় বিভিন্ন সময়ে। চেক প্রজাতন্ত্রের ঐতিহ্যবাহী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজ করেছেন নাদিরা মজুমদার। জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর)-এর প্রাগ অফিসে ‘এক্সটার্নাল কনসালটেন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন নাদিরা মজুমদার। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে প্রমোট করার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (আয়েবা) কর্তৃক তিনি সম্মানিত হয়েছেন। নাদিরা মজুমদারের প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে আরো রয়েছে শিশু একাডেমি কর্তৃক ‘এই আমাদের পৃথিবী’, ‘আগ্নেয়গিরি’ ও ‘ভূমিকম্পের কাহিনী’ এবং বাংলা একাডেমি কর্তৃক ‘কৃত্রিম উপগ্রহ’, ‘নানারঙের বিজ্ঞান’ ইত্যাদি।

Picture

চলতি বছর প্রকাশিত ‘আইনস্টাইন সুপারস্টার’ বইয়ের ভূমিকায় নাদিরা মজুমদার লিখেছেন, “বিংশ শতাব্দি অনেক অনেক নামিদামি বিজ্ঞানীর জন্ম দিয়েছিল। আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন তাঁদেরই একজন। তিনিই বোধকরি একমাত্র বিজ্ঞানী যিনি এতো বিপুল সুনাম ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন, অনায়াসে পরিণত হন সেলিব্রেটিতে। তাঁর বিশেষ ও সাধারণ আপেক্ষিক তত্ত্বদুটো মিডিয়া দ্বিধামুক্তমনে লুফে নেয়, যে যার মতো করে বুঝে নেয়। মিডিয়ার উৎসাহ, আচরণ আইনস্টাইন বিলক্ষণ উপভোগও করতেন। কারণ, তিনি কোনোদিনই মিডিয়া বা সাংবাদিকের পান্ডিত্য নিয়ে অভিযোগ করেননি কিংবা আগ বাড়িয়ে তাদের জ্ঞান বিতরণেরও চেষ্টা করেননি, কোনো সাংবাদিককে অবজ্ঞা করা বা ‘না’ বলে ফিরিয়েও দেননি। ফলে, হয়েছিলেন জননন্দিত বিজ্ঞানী সেলিব্রেটি । সেলিব্রেটি মাত্রই সুপারস্টার হিসেবে গণ্য হয়ে থাকেন। সবকিছু মিলিয়ে আইনস্টাইনও তাই ‘সুপারস্টার’। সুপারস্টার বিজ্ঞানী তিনি। একবিংশ শতাব্দিতে তাঁকে যে ‘মেগাস্টার’ বলা হতো না, কে বলতে পারে! ‘আইনস্টাইন সুপারস্টার’ তাই বইটির নাম”। মাত্র ১৯০ টাকা শুভেচ্ছা মূল্য দিয়ে এটি কেনা যেতে পারে বাংলা একাডেমির যে কোন বিক্রয়কেন্দ্র থেকে।

নাদিরা মজুমদার জানিয়েছেন, ‘একমেরু বনাম বহুমেরু’ (চার দেশের কাহিনী) পাওয়া যাচ্ছে রকমারি ডট কমে। বইটির প্রাসঙ্গিক কথায় প্রফেসর এমিরিটাস ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী লিখেছেন, “খুব যে অতীতে তা নয়, নিকটেই একটা সময় ছিল যখন রাজনৈতিক বিশ্ব পরস্পরবিরোধী দু’টি শিবিরে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল। একটি পুঁজিবাদী, অপরটি সমাজতান্ত্রিক। সমাজতান্ত্রিক বিশ্ব যখন পড়ো পড়ো তখন আবির্ভাব ঘটেছিল তিন বিশ্ব তত্ত্বের। চীন দিয়েছিল তত্ত্বটি। চীনের বক্তব্য ছিল এই রকমের দু’টির বাইরে আরো একটি বিশ্ব আছে যেটি অনুন্নত; এই অনুন্নত দেশগুলোর এক সাথে থাকা দরকার, আর তাদের নেতৃত্ব দেবে চীন। সে অবস্থাও এখন আর নেই। এখন দুই বা তিন নয়, দেখা যাচ্ছে বহু মেরু প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিশ্বের ঘটনাবলী, বিশেষ করে ইউক্রেন, ইয়েমেন, সিরিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে যে সব ঘটনা ঘটছে এবং আগামীতে ঘটবে সেগুলো বলে দিচ্ছে যে এক মেরু ত্যাগ করে বিশ্ব চলেছে বহু মেরুর দিকে।

প্রফেসর এমিরিটাস আরো লিখেছেন, “নাদিরা মজুমদারের বইটি আন্তর্জাতিক বিশ্বের এই পরিবর্তনধারার ওপরই আলোকপাত। নাদিরা লিখেছেন প্রাঞ্জল ভাষায়। এর মূল কারণ তাঁর বক্তব্য। বক্তব্যের ব্যাপারে তাঁর অত্যন্ত পরিষ্কার ধারণা রয়েছে। বক্তব্য তৈরি হয়েছে কৌতূহল, অধ্যয়ন ও ব্যক্তিগত সংযোগ থেকে। নাদিরা দীর্ঘকাল ধরে পূর্ব ইউরোপে থাকেন, কর্মসূত্রে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে তিনি জেনে ও বুঝে লিখতে পেরেছেন। বিষয়গুলো একাডেমিক, সেভাবেই তারা প্রবন্ধে এসেছে। যেসব ঘটনা যা ঘটেছে তার পেছনে স্বার্থের টানাপোড়েন, জ্বালানি সম্পদের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, আধিপত্য বিস্তারের লোলুপতা ইত্যাদি কি ভাবে কাজ করছে সবই তাঁর কাছে স্পষ্ট। দেশগুলোর ইতিহাস তিনি জানেন, তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও তিনি পুরোপুরি অবহিত”।

খ্যাতিমান অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর মতে, “একাডেমিক বিষয় নিয়ে রচনা সাধারণত নিষ্প্রাণ হয়। নাদিরা মজুমদারের লেখায় সেটা নেই। তাঁর উপস্থাপনা সজীব, ভাষা সতত প্রবহমান। জ্ঞানের বিষয় নিয়ে লিখছেন, কিন্তু ভাবটা শিক্ষাদানের নয়, পুরোপুরি কথোপকথনের। তাঁর আছে প্রসন্ন কৌতুকবোধ, যার দরুন যা বলছেন তা আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এগুলোর গতিবিধি না বুঝতে পারলে আন্তর্জাতিক বিশ্বে কি ঘটছে ও ঘটতে যাচ্ছে তা টের পাবো না। তাছাড়া ওইসব ঘটনা আমাদেরকেও প্রভাবিত করছে এবং প্রভাবিত করতে থাকবে। আমাদের নিজেদের ভবিষ্যতও সারা বিশ্বের ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িত বৈকি। বাংলা ভাষাকে আমরা উচ্চশিক্ষার মাধ্যম করতে চাই। সেজন্য অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপরও আমাদের অনেক অনেক লেখা প্রয়োজন। কিন্তু তেমন লেখা পাওয়া যায় না। যাঁরা লেখেন তাঁরা ইংরেজীতে লেখাই পছন্দ করেন। অন্যদিকে বাংলা ভাষায় যা পাওয়া যায় তা হালকা ধরনের, তাতে তাৎক্ষণিকতা এবং সাংবাদিকতার ধরন ও ছাপ থাকে। নাদিরা বাংলায় লিখেছেন, চমৎকার বাংলায় এবং গভীর ও গম্ভীর বিষয়ে অনায়াসে লিখেছেন”।


৫২’র একুশঃবর্তমানে তার হালহকিকত ---আবু জাফর মাহমুদ

বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

মহান ২১শে ফেব্রুয়ারী মানবজাতির মাতৃভাষা দিবস বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।এই দিবসের জন্মদাতা বাংলাদেশী বাঙালি সমাজ।পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও বাঙলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় না পেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলো ছাত্রসমাজ।এতে বিরক্ত হয় ক্ষমতাসীন মুসলিমলীগ সরকার।সরকারের পুলিশ অস্ত্র চালায় নিরস্ত্র ছাত্রদের মিছিলে।পুলিশের অভিযানে মিছিলকারীদের মধ্যে প্রাণ হারায় কয়েকজন।এতে জনরোষ প্রতিরোধের পর্যায়ে পৌঁছে যায়।ভাষা শহীদরা সবাই ছিলেন মুসলমান বাঙালি।আন্দোলনে ছিলেন জাত ধর্ম নির্বিশেষে সবাই।পূর্ব পাকিস্তানী  বাঙালি ছাত্রসমাজ পাকিস্তানী সরকারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে নেতৃত্ব করে একুশকে অমর করেছে।

এই ছাত্রসমাজের পরবর্তী বংশধর বিপ্লবীছাত্রসমাজই ’৭১এ রাজনীতিকদেরকে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরুর জন্যে চাপের মুখে রেখে নিজেদের আরাধ্য স্বাধীনতার লক্ষ্যে সমর্থনে থাকতে বাধ্য করেছিলো।পাকিস্তান সরকারের অনৈতিক  সিদ্ধান্তের সাথে আপোষ করার আলোচনার পথে বাধা সৃষ্টিকারী এই বাঙালিবীর ছাত্রসমাজকেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পিতার সম্মান দেয়া হয়।তাদের অনুসারী প্রজন্ম বীর ছাত্রসমাজই স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরুর আগে স্বাধীনতাযুদ্ধের পক্ষের একমাত্র সংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি বলেই দলিল প্রমাণ পাওয়া যায়।     

বাংলাদেশে ২১শে ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠানের খবর দেখতে পত্রিকায় চোখ দিতেই নজরে পড়লো পঞ্চগড়ের ট্র্যাজিক ঘটনা।এক হিন্দু পুরোহিতকে ভোর ৭টার সময় হত্যা করে পালিয়ে গেছে মোটর সাইকেলে আরোহী আগন্তুকরা।এই নিষ্ঠুরতা অনাকাঙ্ক্ষিত।নিন্দনীয়।মানুষের মৃত্যু অনিবার্য্য,এনিয়ে কোন সংশয় নেই।কিন্তু অনাহুত হত্যাকান্ড অসহনীয়।ইসলামিক ষ্টেট বা আই এস স্বীকার করেছে এই অপারেশান তাদের।কি তাদের লক্ষ্য একমাত্র তারাই বলতে পারে।আই এস মধ্যপ্রাচ্যে গড়া হয়েছে অমুসলিম একটি জাতির স্বার্থে বলে আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমে দাবি করা হয়ে থাকে।এও বলা হয়,অনেক বড় শক্তি রয়েছে আই এস সংঠিত করার পেছনে। বাংলাদেশের শান্তিকামী সমাজ এই কাপুরোষোচিত নির্মমতার নিন্দা করে।   

বাঙালির জীবনে বাংলাভাষা আন্দোলন এবং একুশের গৌরবদীপ্ত অমিত তেজের ঐতিহ্যের স্মরণে বাংলাদেশে মহান একুশ উদযাপন করা হয়ে আসছে।একুশ বাঙালির জাতীয় দিবস।বাংলাদেশের জাতীয় দিবস।উর্দুর সাথে বাংলা ভাষার বিরোধ ছিলোনা,ছিলো উর্দুভাষী রাজনীতিকদের সাথে বাংলাভাষী রাজনীতিক এবং বাঙ্গালি জাতির বিরোধ। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সংখ্যাগুরু নাগরিকদের ভাষা বাংলার পরিবর্তে উর্দু করার জন্য পাকিস্তানে সরকারের তোড়জোড়ের মুখে ছাত্রসমাজের প্রতিরোধের ফলাফলেই মহান একুশের আবির্ভাব।

Picture

মহান একুশের এই স্ফুলিঙ্গ পরবর্তীতে দাবানল সৃষ্টি করে ৬দফা ভিত্তিক স্বায়ত্বশাসন আন্দোলনকে সফল করে ১৯৭০সনের পাকিস্তান জাতীয় সংসদ এবং পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা উপহার দিতে সক্ষম হয়েছিলো।
পাকিস্তানের শাসক হবার অনিবার্য্য দাবীদার করে দিয়েছিলো বাঙ্গালিদের।যে বাস্তবতার শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করতে যাওয়ার পরিণতিতে আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১এ বাংগালীর জাতীয় রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করলাম। দুনিয়ার মানচিত্রে বাঙালির একমাত্র রাষ্ট্র বাংলাদেশ গড়লাম।
তার ফলে পাকিস্তানকে প্রত্যাখ্যান করে আমরা হয়েছি ভারতের মিত্র দেশ।সীমান্তে কাঁটাতারে ঘেরাও এবং অবরুদ্ধ করে রাখা ভারতের কাছে বাংলাদেশ হচ্ছে সাহসী জাতির রাষ্ট্র,মানব-স্ফুলিঙ্গের এক বিশাল আগ্নেয়গিরি।ইতিমধ্যে বাঙলাদেশের জনসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯কোটি ৪৮লক্ষ।
প্রচুর বিদেশী সহ এতো লোকের ভারে লোকারণ্য এই রাষ্ট্র পরিচালনা বড় জটিল কাজ।৫৬হাজার বর্গমাইলের ঘনবসতির এই দেশে নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্ন শুরু থেকেই।আগ্রাসনের মুখে আক্রান্ত এই দেশ জন্ম পাবার সময় থেকেই।এই আগ্রাসনের বাস্তবতা মেনে নেয়া বাংলাদেশ রাজনীতির মুখ্য বিষয়।আগ্রাসনের মুখে আমরা আছি নিরাপত্তাহীন।
শক্তির নিজস্ব প্রবণতা থাকে।নিজেকে প্রকাশ করা তার অন্যতম স্বভাব।এই স্বভাব চর্চা হয় দূর্বলের উপর,দূর্বলকে আঘাত না করে সবলের নিজের পরিচয় অপূর্ণ থাকে।সবল এজন্যে চুপচাপ থাকেনা,থাকতে পারেনা।থাবা মেলে,সক্রিয় থাকে।ভারত বাংলাদেশে হিন্দি চাপিয়ে দিতে শুরু করেছে।তারা চাইছে পশ্চিম বঙ্গের মতো হিন্দির পেটে বাঙলা গিলিয়ে দিতে।ধীরে ধীরে কৌশলে করছে তারা।বন্ধুর পরিচয়েই আসছে এই থাবা।
হিন্দি-বাংলা মিশিয়ে এক ধরণের ‘হিংলা ভাষা’য় চলছে ভারতীয় অঙ্গরাজ্য পশ্চিম বাংলা।ওখানে বাংলা হচ্ছে দরিদ্রের ভাষা।বিত্তবান পশ্চিমবঙ্গীয়রা কথা বলে হিন্দি ভাষায়।মজুর এবং দারিদ্র পীড়িত বাঙালিদের ভাষারূপে বাংলাকে দেখা হয় ভারতে।জাতীয়ভাবে ধনীদের ভাষা হিন্দি।তবে ভারতের সংখ্যাগুরু নাগরিকের ভাষা হিন্দি নয়।তবু হিন্দি ভারতের রাষ্ট্র ভাষা।কেননা শক্তিশালীদের ভাষা হিন্দি।পাকিস্তানে যেমন উর্দু।
ভারতীয় আধিপত্য বাংলাদেশ কেনো,প্রতিবেশী সকল দেশের উপর বিস্তৃত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।এটা শক্তির বৈশিষ্ট্য আগেই উল্লেখ করেছি।আমাদের তা হচ্ছে,আমরা তাকে স্বাগতঃ করেছি,তাই।প্রতিবেশী আরো দেশ আছে,যারা ভারতের আধিপত্য গ্রহন করেনি।পাকিস্তান ভারতীয় নাক দেখলেই নাক বরাবর গুলি করে দেয়। নেপাল এতোদিন যাবত ভারতীয় কলোনী ছিলো, একমাত্র হিন্দু রাষ্ট্র ছিলো কাগজে-দলিলে।
এই একক সংখ্যাগরিষ্ট হিন্দু জনগোষ্ঠী নেপালিরাও এখন আর ভারতীয় আধিপত্যে থাকতে চাইছেনা।শাসনতন্ত্র পরিবর্তন করেছে হিন্দু রাষ্ট্র থেকে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে।নেপালে নেপালি ভাষার পাশাপাশি হিন্দি চালু আছে।নিজেরা দেখেছি অনেক ব্যবসায়ী নেপালি মুদ্রা নয়,এমনকি মার্কিন ডলার সহ বিদেশী আর কারো মুদ্রা গ্রহন করেনা, কেবলমাত্র ভারতীয় রুপী গ্রহন করছে।এই রুপী ব্যাতীত অপর কোন মুদ্রায় তারা ব্যবসা করেনা।
বাংলাদেশে ভাষা-সংস্কৃতিকে বাঙলা থেকে সরানো জরুরী ভারতীয়দের স্বার্থে।এই স্বার্থ পাকিস্তান আমলে ছিলো পাকিস্তানী ধনীক গোষ্ঠী এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর।বাঙলাদেশ হবার পর ভারতীয় ধনিক গোষ্ঠী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্বার্থ রক্ষার জন্যে চলছে একই ধারা।
পাকিস্তান আমলে মুসলিম লীগ পাকিস্তানী শাসকদের জন্যে বাঙলা বলি দিয়ে তাদের রাজনৈতিক,আর্থিক এবং সামাজিক মর্যাদার স্বার্থ খুঁজে বেড়াতো।বাংলাদেশ হবার পর আওয়ামীলীগ একই ধরনের সুযোগ নিচ্ছে ভারত থেকে,বলির বিষয় একই থাকছে।তবে বাংলাদেশে অন্যান্য দল বিএনপি,জাতীয় পার্টিও একই ধারার যাত্রী।ছোট খাট দলগুলো এই বিষয়ে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে।
ভাষা আন্দোলনকে রাজনীতিকরা সব সময় ভাষা সংস্কৃতি এবং বাঙ্গালীর ঐতিহ্য রক্ষার মৌলিক উপাদান থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক পণ্যরূপে ব্যবহার করে চলেছেন।এটি কোন অভিযোগ নয়। তা হচ্ছে,তারা প্রয়োজনেই তা করছে।এটা হচ্ছে চোখে দেখা বাস্তবতা।রাজনীতির বক্তৃতায় পাবলিকের সামনে আমাদের নেতা নেত্রীদের কথার অর্থ একরকম এবং জনতার আড়ালে অন্যস্থানে তাদের একই কথার অর্থ তারা ব্যাখ্যা দেন আলাদা করে।

ভাষা শিক্ষার কথার বিতর্কে আমরা অনেক যুক্তি শোনি।শুধু বাংলা শিখে কি হবে?আন্তর্জাতিক জগতে বিচরণের ভাষা শিখতে হবেনা?তাতো বটে,যত বেশী ভাষা শিখবো,ততো বেশী জাতিকে জানার পথ খুলে যাবে,ওপথে যত সুযোগ তা নিতে হাত বাড়াতে পারবো।
কিন্তু শিশুবেলায় আমাদের সন্তানদেরকে বাংলা শিখতে না দিয়ে উচ্চ জাতে তোলার নামে শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার উপদেশ বাংলাদেশে কার স্বার্থে দেয়া হয়? এতে কি আমাদের প্রজন্মকে বাংলাদেশ এবং বাংলা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া নয়? এই ধারায় কি শেষ পর্যন্ত তার বাবা মা,দাদা দাদী,নানা নানীকে আর যোগাযোগ রাখতে পারে?পূর্ব পুরুষের সমাজ বা নিজের সমাজের সাথে পরিচয় রাখতে পারে?
এই শিশুরা কি আত্নীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক রাখতে পারে?নিজের শেকড়ের থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্যেই শিশুকে শিকড়ের ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার কাজটি বড় নিষ্ঠুরতা শিশুদের প্রতি।অনেকে ভালবেসে নিজের অজান্তেই এই নিষ্ঠুর কাজ করেন, প্রিয় জনের প্রতি।এটি অপরাধ।ভয়ংকর অপরাধ।
এই অপরাধকে কোন কোন পরিস্থিতিতে মনে করা হয় প্রগতিশীল কাজ।এই প্রগতিবাদীরা হারায় শেকড়ের অবস্থান,উঠতে পারেনা আকাশেও।সবদিক হারিয়ে হয়ে যায় পরিচয়হীন।শেকড়হীন বা পরিচয়হীন জীবনের কষ্ট মৃত্যুর চেয়েও বেশী আফসোসের।ভালবেসে নিজের আপনজনকে এভাবেই ফতুর করে দেন এই ধরনের প্রগতিশীলরা।
পৃথিবীটাকে জানতে আমরা অনেক ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা দৃঢ়ভাবে বলি।শিক্ষা হচ্ছে মানুষের নিজেকে চেনার প্রধান শক্তি।নিজের আদি পরিচয় জানার একমাত্র হাতিয়ার।এই হাতিয়ার-বঞ্চিত মানব তাদের জীবনে জ্ঞানের জগতে হয়ে যান সব চেয়ে অসহায়।এই অসহায়ত্বের জন্যে নিজে দায়ী যতটুকু তার চেয়ে দায়ী অন্যেরা,যাদের উপর ছিলো তার শক্ষার দায় ভার।
বাংলাদেশকে একুশের গৌরব থেকে বঞ্চিত করতে একটি শক্তি অনেক দিন ধরে ব্যায়াম চর্চা করে চলেছে। তারা বাংলাকে হিন্দু ধর্মীয় মূর্তি পূজার অংশরূপে দেখাতে তৎপর।এটি নতুন ঘটনা নয়,নিউইয়র্কে এমন ঘটনা ২০১৬সনের ২১শে একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে টেলিভিশন এবং পত্রিকায়।যে যার বিশ্বাসের প্রতিফলন করবে,দোষের কিছু নয়।বাঙালী জাতির এই অহংকারকে কেউ তার ধর্মীয় বিশ্বাসের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থাপন করায় অপরাধ দেখিনা আমি। এতে প্রতারণার বিষয় চোখে এসে গেলে মানুষ তার প্রতিবাদ করতেই পারে।এই প্রতিবাদও তাৎপর্য্যপূর্ণ।
বাংলাদেশে এবং বিদেশে অন্যান্যভাবে আসছে একুশকে খেলো করার হীনমন্যতা। শহীদ মিনারে একুশে অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলবাজি এবং অশ্লীলতাকে উস্কিয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীরা।এখানে তাদের রাজনৈতিক দলীয় প্রভাব দেখাতে গিয়ে যে ধাক্কাধাক্কি করেনা এমন দলের নাম করা কঠিন। শহীদ মিনারে অশোভন পরিস্থিতি করাকে রাজনৈতিক কৃতিত্বের সাথে এক নজরে ধারণা করা বর্তমানে বাংলাদেশ রাজনৈতিক কালচারে।সভ্যতার দাবীদার রাজনীতিকদের এব্যাপারে সতর্ক হয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি সংশোধন জরুরী।আমরাও জানি,নিশ্চয়ই সম্মানিত রাজনীতিকরাও জানে,কারো কৃতিত্ব রক্ষার জন্যে জোর করা দরকার হয়না,আর যা কৃতিত্বরূপে চাপিয়ে দেয়া হয়,তা জোর করে টিকিয়ে রাখাও সম্ভব নয়।
(আবু জাফর মাহমুদঃরাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং চেয়ারম্যান,বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। email: এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে। )


কে রাজাকার! কে ধর্ষক! পারিবারিক ও সামাজিক বিপর্যয়। প্রতিকার = সিকদার গিয়াসউদ্দিন

মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

জনৈক H Rehman Milu নামে 'অপরাজেয় বাংলা'নামের সংগঠনের আহ্ববায়ক দাবী করে ফেসবুকে স্বাধীনতা আন্দোলন বিরোধীদের চিহ্নিতকরনের প্রক্রিয়ায় একজন চেতনা ব্যবসায়ী হিসাবে কক্সবাজারের ইতিহাসে একসময়ের জনপ্রিয় ও দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে রামু রাজার কুলের চেয়ারম্যান জাফর আলমকে একজন ধর্ষক ও রাজাকার হিসাবে চিহ্নিত করে আমাদের কক্সবাজারের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে যে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে-তা যে কোন বিবেকবান ও নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ মেনে নেয়ার কথা নয়।এটি দস্তুরমতো আইনকে নিজের হাতে তুলে নিয়ে খোদ রামু কক্সবাজারবাসীদের প্রতি কটাক্ষের সামিল।স্বাধীনতা আন্দোলনে সম্পর্কিত লোকদের অপমান মানেই সরাসরি স্বাধীনতা আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।যার লেখার কোন দালিলিক বা আইনগত ভিত্তি নেই।মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী লোকদের চিহ্নিতকরনের নামে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়কে দিকনির্দেশনা প্রদানের মতো কক্সবাজারের স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি বা সাংবাদিক সমাজ কিংবা স্থানীয় সচেতন মানুষকে উপেক্ষা করে একটি প্রাতিষ্টানিক আবরনে শিষ্টাচার বহির্ভূত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবসায় এরা যেভাবে লিপ্ত হয়েছে-তা রীতিমতো বিস্ময়কর ও শিউরে উঠার মতো।শুধু তাই নয়-দূ'জন মহীয়সী নারী এবং জাফর আলমের সন্তান-সন্ততিকেও বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।মহিয়সী স্বপ্নাদির মৃত্যুর পরও বিবেকহীন চেতনা ব্যবসায়ী নামের পশুরা মুক্তি দেয়নি।স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এদের জীবিত আত্মীয় স্বজন ও সন্তান-সন্ততিদের মানসিক অবস্থান,সামাজিক অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে- সে বিবেচনায় না গিয়ে অতি উৎসাহী এসব  হাইব্রীড চেতনা ব্যবসায়ীদের কারনে দল হিসাবে আওয়ামী লীগ ও সরকারের ভাবমূর্তি,দেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সাংবাদিকরা থাকা স্বত্ত্বেও যে সামাজিক বিশৃঙ্খল পরিবেশ এরা তৈরী করে-তার দায়ভার কে নেবে?
জাফর আলমের পূরো নাম জাফর আলম সিকদার।পরে উনি নিজে নিজেই নিজেকে জাফর আলম চৌধূরী নামে জাহির করেন ও লেখেন।রামু কক্সবাজারে অনেক সিকদার নাম বদলিয়ে চৌধূরী হিসাবে আত্মপ্রকাশের নজির আছে।স্বাধীনতা আন্দোলনের পর পরই টেকনাফ থেকে চকরিয়া পর্য্যন্ত বিজয়ের আনন্দে সম্ভবত ২০/২১শে ডিসেম্বর অবিভক্ত রাজারকুল ইউনিয়নের মিঠাছডী হাইস্কুল ময়দানে সর্বদলীয় বিজয় সভা অনুষ্টিত হয়।লাটি হাতে হাজারে হাজারে ট্রাকে ট্রাকে একদিকে টেকনাফ থেকে অন্যদিকে চকরিয়া থেকে লোকজন আসতেই থাকে।স্কুলের পাশেই ছিলো কক্সবাজারের পাকিস্তানপন্থী শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান কনভেনশন মুসলিম লীগের ন্যাশনাল এসেম্বলীর জাফর আলম চৌধুরী।যিনি একডাকে 'জাফর মিয়া'নামে খ্যাত।কক্সবাজার শহরের পরিবর্তে বিজয় সভা করার এটিই ছিলো কারন।সেদিন লোকজন যাতে জাফর মিয়ার বাড়ীতে আগুন লাগাতে না পারে-সেজন্য একদিকে খ্যাতনামা  ছাত্রনেতা বিপ্লবী কন্ঠখ্যাত প্রয়াত টেকপাডার ছুরত আলম,গর্জনিয়ার তৈয়বউল্লাহ সিকদার,উখিয়ার দিদারুল আলম চৌধূরী,মেরোংলোয়ার বিখ্যাত যুবনেতা ওবাইদুল হকের নেতৃত্বে,মুক্তিযোদ্ধা জহরলাল,নূর মোহাম্মদ,নূরুল হক,আবু আহমদসহ অনেকে সর্বোপরি খরুলিয়ার জমাদার ফজল করিম,রাজারকুলের আনসার কমান্ডার আবদুল হক ও চাকমারকুলের আনসার কমান্ডার মো:হোছাইনের নেতৃত্বে আনসার বাহিনী শৃঙ্খলা রক্ষায় বিরাট নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করেছিলো।আমি সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র হলেও দেখতে ছোটখাট ছিলাম কিনা-সারারাত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী ও জাফর আলম সিকদার এবং আমার মা শিখিয়ে পডিয়ে দিলে-পরবর্তি দিন কক্সবাজারের ইতিহাসে প্রথম ও শেষবারের মতো-আনন্দঘন সর্বদলীয় বিজয় সভায় টুলের উপর দাঁড করিয়ে,সভায় আমার উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে সভা শুরু করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন মহুকুমা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফসার কামাল চৌধূরী,বক্তব্য রাখেন-এডভোকেট জহিরুল ইসলাম,(পরে গন ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা)এ কে এম মোজাম্মেল হক,(পরে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি)এডভোকেট মওদুদ আহমদ,(পরে জাসদ নেতা)ন্যাপ মোজাফফরের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মোশতাক আহমদ(পরবর্তিতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অধ্যক্ষ),প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী(পরবর্তিতে অধ্যক্ষ,এম্ব্যাসেডর ও বিশিষ্ট সমাজসেবক হিসাবে খ্যাতিমান)ও সর্বশেষে গণপরিষদের নির্বাচিত এডভোকেট নূর আহমদ(পরে জাসদ নেতা)।অনুষ্টান পরিচালনা করেন জাফর আলম সিকদার।
একথা সত্য যে জাফর আলম সিকদারের বাবা আশরাফুজ্জামান সিকদার সহ স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে জড়িত অনেকের বাবা বা বড় ভাইরা মুসলিম লীগ বা জামাত করতো অথবা শান্তি বাহিনীর সদস্য ছিলো।রামু কক্সবাজার খুঁজলে অনেক পাওয়া যাবে।অনেকেই ইতিমধ্যে ইহধাম ত্যাগ করার কথা।তবে ১৯৬৬ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর অতি প্রিয়জন খ্যাত জমাদার ফজল করিমের মাধ্যমে বনজঙ্গল ও গাছপালায় ভরা রাজারকুলের ভায়রা আবদুল হক ও শালী মরিয়ম সেই সময়কার সাহসী মেয়ে হিসাবে এলাকায় পরিচিত থাকায় মুসলিম লীগের আশরাফুজ্জামান সিকদারের মেয়ে বিধায় এবং বিখ্যাত জমিদার ঈশান পালের বিশেষ স্নেহভাজন বিধায় আবদুল হক ও মরিয়মের নদীর পাড়ের ঘর হয়ে উঠে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার আওয়ামী লীগের গোপন আস্তানা।১৯৭১'সালে একই দিনে একই সময়ে ন্যাপের মোশতাক আহমদ,আওয়ামী লীগের ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী ও অনেক হিন্দু-বৌদ্ধের ঘর এবং রাজারকুলের ঈশান পালের প্রাসাদোপম বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ,লুটপাট,আবদুল হকের বাড়ী নদীতে নিক্ষেপ ও লুঠপাঠ এবং মরিয়মসহ সন্তান সন্ততিদের গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়।এর সরাসরি তত্তাবধানে ছিলো 'জাফর মিয়ার'ছেলে দিদারুল আলম চৌধূরী যে 'দিদার মিয়া'নামে পরিচিত।({এখানে ছাত্রনেতা উখিয়ার দিদারুল আলম চৌধুরী নয় কারন তিনিও তখন পাকিস্তানের শত্রুপক্ষের সংগ্রাম কমিটির নেতা এবং যেরকম জাফর আলম সিকদার রামু আওয়ামী লীগ ও সংগ্রাম কমিটির নেতা)}'দিদার মিয়ার'নেতৃত্বে{যে 'দিদার মিয়াকে'জাফর আলম সিকদারের বোন মরিয়ম নির্বাচন কেন্দ্রে অনিয়মের জন্য থাপ্পর মারার পর বাবা আশরাফুজ্জামান ও মেয়ে মরিয়মের মধ্যে প্রচন্ড বাকযুদধ হয় এবং যা কোনদিন সমাধান হয়নি।}জালাল আহমদ গংদের সহযোগিতায় ঈশান পালের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ,আবদুল হকের বাডী নদীতে নিক্ষেপ ও লুটপাট সংঘটিত হয়।উল্লেখ থাকে যে,পাক হায়েনাদের আগমনের খবরে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ও আনসার কমান্ডার আবদুল হক দখলকৃত থানার অস্ত্রশস্ত্র সহ তাঁদের স্ব স্ব পরিবারকে কোনরকম ঈঙ্গিত প্রদান না করে দলবল সহ আত্মগোপনে চলে যান।এবং পরবর্তিতে রাজারকুলস্থ ডিয়াংপাডার একজন অতি গরীব আত্মীয় ছিদ্দিক আহমদ ও আবদুল হকের ছোটভাই লোকমান হোসেনের সহযোগিতায় ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী ও আবদুল হকের পরিবার খালবিল,নদীনালা,বনজঙ্গল পেরিয়ে অজানার উদ্দ্যেশ্যে পাড়ি দেন।পথিমধ্যে আবদুল হকের মেয়ে শিরিন আক্তার লুৎফুন্নেছা খাওয়া দাওয়া ও পথ্যের অভাবে বাবা বাবা বলে মৃত্যুবরন করে।স্বাধীনতার বলি।সেসময় রাজারকুলের আত্মগোপনকারীদের মধ্যে পরিমল পাল,জাফর আলম সিকদার,ফরিদুল আলম সিকদার,ওবাইদুল হক সিকদার,মাষ্টার আনোয়ার ও ফেরদাউস সিকদার অন্যতম।
জাফর আলম সিকদার সাতকানিয়ার কানুনগো পাড়া স্যার আশুতোষ কলেজ থেকে বি এ পাশ করার পর পরই ওসমান সরওয়ার আলমের সহযোগী হিসাবে ও ভগ্নিপতি জমাদার ফজল করিম ও ভগ্নিপতি আবদুল হকের অনুপ্রেরনায় কক্সবাজার আওয়ামী লীগের জন্য দিবারাত্রি পরিশ্রমের বিষয়টি সেই প্রজন্মের সকলের জানার কথা।১৯৭১'এর ৭'ই মার্চের পর রামু চৌমুহনীতে প্রকাশ্য জনসভায় সর্বসম্মতিক্রমে সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয় ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী,মোশতাক আহমদ ও রামু স্কুলের প্রধান শিক্ষক আক্তার আহমদের নেতৃত্বে।সেই কমিটিতে অন্যতম সদস্যের একজন ছিলেন জাফর আলম সিকদার।দেশ স্বাধীন হলে রাজারকুলের পন্চায়েত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।রিলিফ চেয়ারম্যান হিসাবে বদিউল আলম সিকদার দায়িত্ব পালন করেন।পরবর্তিতে ধারাবাহিকভাবে কয়েকযূগ নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।আমি ১৯৮১'সালে দেশত্যাগ করি।আমার জানামতে ১৯৭৫'পূর্ব সময়ে ভীষন জনপ্রিয় ছিলেন।অত:পর ১৯৮১'সাল পর্য্যন্ত মোটামুটি জনপ্রিয় ছিলেন।এরপর প্রবাসে অনেকে উনার স্বেচ্ছাচারিতার কথা আমাকে জানাতে থাকে।মানুষে মানুষে হানাহানি,মামলা দায়ের,সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ এলাকার সাধারন মানুষের জমি গ্রাসের সংবাদ শুনতে পাই।এমনকি এক পর্যায়ে আমার মায়ের স্বর্ন ও জমি গ্রাস করার খবর পাই।তবে আমার মা আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে অনুরূধ করেন-আমি যেনো মামা জাফর আলম সিকদারকে কিছু না বলি।অবশ্য আমার বাবার সাথে ইতিমধ্যে সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঠের পাই।আমি উনাকে পত্র লিখে জানাই নেলসন ম্যান্ডেলা হওয়া কঠিন তবে স্বেচ্ছাচারিতার শেষ ভালো নয়।অর্থ ও ক্ষমতা করো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়।আরো নানা নীতিনৈতিকতাবর্জিত খবরও ছিলো।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামীলীগের চট্টগ্রাম থেকে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও কক্সবাজার থেকে জাফর আলম সিকদারের গ্রেফতারের খবর পত্রিকার খবরের শিরোনাম ছিলো।আমার মা' আমাকে কলের পর কল করে ভাইকে জামিনে বের করার জন্য বলতে থাকে।আমি দেশে গমন করি।ছাত্রাবস্থায় পরিচিত অগ্রজ,সহপাঠি বা অনুজ অনেকের সাথে কথা বলি।সকলের পরামর্শ ও উপদেশে গুরুত্ব সহকারে শুনি।আমারই অগ্রজ এক বন্ধু মেঝর জেনারেলের সাথে আলাপে উনার অনেক কৃতকর্মের কথা জানতে পারি।তারপর উনারও পরামর্শ গ্রহন করি।পরে সিভিল প্রশাসন আর আদালতের যাবতীয় ফরমালিটিজ সমাপন করে আইনী উপায়ে জামিনের ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে আমার মাকে দ্রুত সূস্থ হয়ে উঠতে দেখি।আমি দেশে সাধারন মানুষের জন্য স্থানীয় সূশিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের মাধ্যমে স্কুল ও কলেজ স্থাপন করার সময় শুনি,জাফর আলম সিকদার স্কুল প্রতিষ্টার বিপক্ষে।কারন গরীবের ছেলেমেয়েরা লেখাপডা করলে সিকদার বংশের রাজত্ব চলে যাবে।এই জাতীয় হীন ও সামন্তবাদী চিন্তার জন্য চল্লিশ বছর আগে যা হওয়া উচিত ছিলো-তা হয়নি।রাস্তা থেকে ছেলেমেয়েদের ধরে এনে ভর্তি করানো হয়।চতুর্দিকে চার পাঁচটি বড় বড় মাদ্রাসার মাঝে স্কুলটিতে এখন ৬০০ জন ছাত্র/ছাত্রী।৮০পার্সেন্ট ছাত্রী।সবাই খেটে খাওয়া দিন মজুরের সন্তান।এখন দশম শ্রেনী পর্যন্ত।পরবর্তিতে কলেজ সম্প্রসারনের উদ্দ্যোগ চলছে।স্থানীয় সুশিক্ষিত যুবসম্প্রদায়ের সাথে প্রশাসনের সর্ব্বোচ কয়েকজন অগ্রজ বন্ধু ও আওয়ামীলীগের স্থানীয় এম পি,উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রশাসন এবং কয়েকজন জাতীয় পর্যায়ের লোকজন নিজেরা উদ্দ্যোগী হয়ে রিকোয়ারমেন্ট হিসাবে অবহেলিত,রিমোট অঞ্চল বিধায় আইনিভাবেই অন্যান্য যা যা দরকার তার সবই পূরন করে এম পি ও ভূক্তি করেন।এরপর জাফর আলম সিকদার আর চেয়ারম্যান হতে পারেননি।সম্ভবত জনসচেতনতা।
H Rehman Milu নামের জনৈক 'অপরাজেয় বাংলা'সংগঠনের নামধারী নেতা কোন অধিকারে স্বাধীন রাষ্ট্রে স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত লোকদের ব্যক্তিগত চরিত্র হনন বা রাজনৈতিক চরিত্র হনন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও লোকাল প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করতে পারে বা এরা চেতনা ব্যবসার নামে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার মতো চক্রান্তের অংশ কিনা-সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও গোয়েন্দাসংস্থা কিংবা র্যাব ও পুলিশ বাহিনীর খতিয়ে দেখা দরকার নয় কি?তাছাডাও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার মতো ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা এসব অননুমোদিত সংগঠন উপদলীয় কোন্দলের ফায়দা লুট করে চেতনা ব্যবসার নামে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার কোন কৌশল কিনা তা খূঁজে বের করে যত দ্রুত সম্ভব-দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হলে ক্যান্সারের মতো এরা সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে।
H Rehman Milu'রা জাফর আলম সিকদারের চেয়ারম্যান থাকাকালীন স্বেচ্ছাচারিতার,অন্যায়-অবিচারের,দুর্নীতির,সম্পদ গ্রাসের,মানুষে মানুষের হানাহানি বা মারামারির কিংবা একজনকে আরেকজনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে মামলা দায়েরের কিংবা রাজনৈতিক ও নৈতিক পদস্থলনের জন্য সাক্ষীসাবুদ আর প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সহ সংবাদ সম্মেলন অথবা আদালতের স্মরনাপন্ন হতে পারতো।তা না করে সহজলভ্য প্রচার মাধ্যম সংক্রান্ত সোস্যাল মিডিয়া আইন লংঘন করে চেতনা ব্যবসায়ী সেজে একজন সত্যিকারের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত সংগ্রাম কমিটির সদস্যকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা রাজাকার ও ধর্ষক বানিয়ে আবার কোন সাহসে ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দিয়ে,এবং তা Milu'গংরা  ঊনিশ বার শেয়ার করে তা বোধগম্য নয়।এমতাবস্থায় তা যে কোন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য দস্তুরমতো ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টির মতো।এসব মিডিয়া সন্ত্রাসবাদ বা সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের উপাদান নয় কি? রামু ও কক্সবাজারের এম পি সাইমুম সরওয়ার কমলের নামকে জাফর আলম সিকদারের নামের সাথে জড়িয়ে গুলিয়ে ফেলার কারন কি?এর পেছনে কোন ষডযন্ত্র ও চক্রান্ত আছে কিনা তা খূঁজে বের করা দলীয় তদন্ত সাপেক্ষ।যেটি অত্যন্ত দূ:খজনক তা হচ্ছে-আমাদের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের দূ'জন  নারী সেনানী সকলের শ্রদ্ধেয়া রত্নাদি ও প্রয়াত স্বপ্নাদির নাম জড়িয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্য/সদস্যাদের বিব্রতকর এবং মানসিক ভারসাম্যহীন করে তোলার জন্য দীর্ঘ চুয়াল্লিশ বছর পর যে পরিস্থিতি,পরিবেশ ও অবস্থা তৈরী করেছে,জেনেশুনে তাঁদের পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের যে ক্ষতিসাধন করেছে-যে অবমাননাকর দৃশ্যের অবতারনা করেছে-তা এইসব জঘন্য মনোবৃত্তি সম্পন্ন,বিবেকহীন পশুরা সেই ক্ষতি কখনো পুষিয়ে দিতে পারবে কি?এসব চেতনা ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করার এখনই সময়।সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য,আইনের সুষ্ট প্রয়োগে জনমনে আস্থার সংকটের মুক্তির জন্য,স্বাধীনতা আন্দোলনকে নিয়ে এধরনের গর্হিত আচরন করে জনমনে শঙ্কার সৃষ্টির জন্য এদের দমন অতীব জরুরী।
সিকদার গিয়াসউদ্দিন
লাস ভেগাস,২১'শে ফেব্রুয়ারী/২০১৬।


আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০১৬ ॥ সবার দৃষ্টি আইওয়াতেই = আবদুল মালেক

মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

আবদুল মালেক : অবশেষে সবার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু এখন আইওয়াতেই স্থির হয়ে আছে। কারণ ককাস কর্তৃক ভোটাভুটির মাধ্যমে দলীয় প্রার্থী বাছাই শুরু হয় সর্বপ্রথম আইওয়াতেই। ককাসকে এক কথায় বলা যায় আমেরিকান প্রেসিডেন্টসিয়াল ক্যান্ডিডেট নমিনেটিং কনভেনশন। তবে একমাত্র ককাসই নয়, এই উদ্দেশ্যে নির্বাচনপূর্ব একটি নির্দিষ্ট সময়ে আমেরিকার অঙ্গরাজ্যগুলোতে কোথাও ককাস, কোথাও প্রাইমারী, কোথাওবা যুগপৎভাবে ককাস কিংবা প্রাইমারী কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। 

যদিও আমেরিকার একটি ক্ষুদ্র অঙ্গরাজ্য আইওয়া তথাপি সেখানে হারজিতের ফল নিঃসন্দেহে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম কারণ হিসেবে বলা যায় ‘মর্নিং শোজ দ্যা ডে’ এবং দ্বিতীয়টি আছে বাংলা প্রবাদে ‘শাদির পয়লা রাতে মারিবে বিড়াল’! বিগত ২০০৮ সালে আইওয়া ককাসে পয়লা রাতে বিড়াল মারতে না পারার এক অবিস্মরণীয় ঘটনা ঘটেছিল। রাজনীতিতে স্বল্প পরিচিত একজন কালো যুবক, শিকাগোর নবীন সিনেটর বারাক ওবামার সেই বিজয়ের কথা আজ ইতিহাস। সে বছর আইওয়া ককাসে নিজ তুলনায় নামগোত্রহীন একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছে হেরে যাবেন সে কথা হয়ত স্বপ্নেও ছিল না দেশে-বিদেশে খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব ও প্রবল প্রতাপান্বিত প্রার্থী হিলারি ক্লিন্টনের। ডেমোক্র্যাট দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিলারি বাছাইয়ের এই প্রথম কনভেনশনে হেরে পরবর্তীতে অর্জন করেছিলেন শুধুই পরাজয়। এবারের আইওয়া ককাস দেখতে দেখতে এসে পড়েছে পয়লা ফেব্রুয়ারি -একেবারে নাকের ডগায়। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থী বাছাইয়ের দ্বিতীয় পর্বটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একই মাসের নয় তারিখে নিউ হ্যাম্শায়ারে। একই কায়দায় ধারাবাহিকভাবে অন্য অঙ্গ রাজ্যগুলোতেও ককাস/প্রাইমারী/ককাস+প্রাইমারীর সিরিজ কনভেনশন ও ভোট হতে থাকবে।

ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এক সময় আমেরিকার রাজনৈতিক দলগুলো আমাদের দেশের মতো নিজেরাই দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দিত। কিন্তু ১৯৩৬ সালে রিপাবলিকান দলীয় প্লাটফর্মে বেশ ক’জন মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক হলেন। যাদের মধ্যে দু’জন ছিলেন একেবারেই নাছোড়বান্দা- একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ও ক্যানসাস স্টেটের গভর্নর আলফ্রেড ল্যানডন, অন্যজন সিনেটর উইলিয়াম বরাহ। মনোনয়ন পাওয়ার আশায় তখন তারা স্টেটে স্টেটে ঘুরে নিজেদের পক্ষে নেতাকর্মীদের সমর্থন চেয়ে প্রচারণা চালালেন। এই উপায়ে গভর্নর আলফ্রেড ল্যানডন রিপাবলিকান দলের মনোনয়ন লাভে সমর্থ হলেও ক্ষমতাসীন ডেমোক্রাট দলীয় প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেলটের কাছে তিনি পরাজিত হন। এরই পথ বেয়ে পরবর্তীতে শুরু হয় প্রাইমারী এবং যে সব স্টেট প্রাইমারী মানে না সেসব স্টেটে রয়েছে ককাস। ফেব্রুয়ারিতে সূচনা হওয়া আমেরিকার এসব বাছাই নির্বাচনের সিরিজসমূহের পরিসমাপ্তি ঘটবে জুন মাসে। এরই ভিত্তিতে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কনভেনশন ২৫ জুলাই ঘোষণা করবে পার্টির মনোনীত প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের নাম- স্থান ফিলাডেলফিয়ার পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টার। একই কায়দায় মনোনীত রিপাবলিকান দলীয় দুই প্রার্থীর নাম ঘোষিত হবে ওই মাসটির ১৮ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত ওয়াহাইও রাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে অনুষ্ঠিত কনভেনশনের মাধমে। 

আইওয়া রাজ্যে ককাসের দিনক্ষণ সন্নিকটে বলে নির্বাচনী যুদ্ধে উত্তেজনার পারদ উর্ধ থেকে উর্ধগামী। প্রতিদ্বন্দ্বীকে ধরাশায়ী করতে সকল প্রার্থী নিক্ষেপ করছেন উত্তপ্ত বাক্যবাণ। কিন্তু এরই মধ্যে ফের যেন গাড্ডায় পড়ে গেলেন হিলারি। সেই শুরুতেই তো ই-মেইল ও লিবিয়ার বেনগাজী নিয়ে নাকানি-চুবানি খেতে হয়েছিল তাকে। আইওয়াতে সি এন এনের সর্বশেষ নির্বাচনী সমীক্ষায় এগিয়ে গেলেন সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। বার্নির এই এগিয়ে থাকা তথা এমনতর উত্থানটি পোড় খাওয়া হিলারিকে যে অতিশয় উদ্বিগ্ন করে তুলবে তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই। সিএনএন সমীক্ষায় বার্নির ঝুলিতে জমা হলো ৫১% ভোট এবং হিলারির প্রাপ্ত ভোট হলো ৪৩%। ফলে প্রথম থেকেই স্বামী ও কন্যাকে নিয়ে হিলারী ঝাঁপিয়ে পড়েছেন লড়াইয়ের ময়দানে। কিন্তু পরবর্তী প্রাইমারী নিউ হ্যাম্শায়ারের একটি পোলেও বার্নি তার চাইতে এগিয়ে রয়েছেন বড় ব্যবধানে। ফক্স নিউজে প্রকাশিত ২৫ জানুয়ারির পোলে বার্নি ৫৬% ও হিলারি পেয়েছেন ৩৪%। যদিও এবিসি নিউজ/ওয়াশিংটন পোস্ট কর্তৃক ২৬ জানুয়ারির ন্যাশনাল পোলে হিলারি বড় ব্যবধানে স্যান্ডার্সের থেকে এগিয়ে। সেখানে হিলারির প্রাপ্তি ৫১% এবং বার্নির ৩৭%। 

ভারমন্টের ৭৩ বছর বয়স্ক স্বল্প পরিচিত সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সনের এই জনপ্রিয়তার কারণ হলো ওয়াল স্ট্রিট, কর্পোরেট আমেরিকা ও সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের সমুদয় ধনসম্পদের মালিকদের, যাদের সংখ্যা ১% মাত্র, তিনি তুলো ধুনো করে ছাড়ছেন। প্রচার অভিযানের এই বক্তব্যে আকৃষ্ট হচ্ছেন হতাশাগ্রস্ত ওয়ার্কিং গ্রুপে ও মধ্যবিত্ত লোকজন। 

এবার তাকাই বিপরীত শিবির রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের দিকে। নির্বাচনী প্রচার করতে নেমেই বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে মাঠ সরগরম করতে শুরু করেছিলেন বিলিয়নিয়ার ডোনাল্ড ট্রাম্প। আমেরিকাবাসী অনেকবারই নির্বাচন শুরুর দিকে যদিও তাকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে দেখেছে; কিন্তু সেটা যেন ছিল শখের বসে কোন বালকের রাজা সাজার খেলা। তারপর বরাবর যা হতো সেটা খেল খতম পয়সা হজমের মতো। তিনি মাঠ ছেড়ে কখন যে বিদায় নিতেন কেউবা খোঁজ রাখত! 

কিন্তু ’১৬ সালের জন্য রিপাবলিকান দলের টিকেট প্রত্যাশী ট্রাম্প মাঠে দাঁড়িয়ে পড়েই এবারে এমন ল-ভ- করে ছাড়বেন চারদিক সেটা ছিল ভাবনার অতীত। রিপাবলিকান দল থেকে মনোনয়নের নিশ্চিত মুকুটটি বুশ বংশের আর এক সন্তান ফ্লোরিডা রাজ্যের সাবেক গভর্নর জেব বুশ পরবেন সেটা অনেকের ধারণায় ছিল। নিউজার্সির করিতকর্মা গভর্নর ক্রিস কৃষ্টিকেও ঠেলে ফেলা যায়নি।

কিন্তু শুরু থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প জারক রসে ডোবান নব নব বিতর্কের জন্ম দিয়ে মন হরণ করে চলেছেন বহু মানুষের। প্রেসিডেন্টসিয়াল প্রার্থীর তীক্ষè বাক্যবাণ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীরা রেহাই পাবেন না সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ট্রাম্পের কাছ থেকে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ক’জন সাংবাদিকও পেয়েছেন অতি অপমানজনক আচরণ। শুধু তাই নয়, কখনও কখনও হুঙ্কার দিয়ে কোন বিশেষ জাতি, গোষ্ঠী বা ধর্মকে পর্যন্ত ছিন্নভিন্ন করে ছেড়েছেন তিনি। অবশ্য এবংবিধ আচরণে বা কথায় চারদিকের অনেক রক্ষণশীল মানুষকে মাতোয়ারা বানিয়েছেন তাতে সন্দেহ নেই। ভোটের হিসাবের অঙ্কে প্রতিটি প্রার্থীকে টেক্কা দিয়ে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত রয়েছেন শীর্ষে। সর্বশেষ ন্যাশনাল পোলে পেয়েছেন ৩৯% ভোট, যা অন্যান্য প্রার্থী থেকে ২০% বেশি। এছাড়া আলোচিত আইওয়ায় ট্রাম্প পেলেন ৩১% ও সিনেটর ট্রেড ক্রুজ যাকে ট্রাম্প ক্যানাডিয়ান বর্ণ বলে হেনস্থা করছেন তিনি পেয়েছেন ২৬%। নিউ হ্যাম্শায়ারে ট্রাম্প ৩২% ও ক্রুজ ১৩%।

অবশেষে নির্বাচনী পাদপ্রদীপের আলোয় বিতর্কিত মন্তব্যে আর এক খ্যাতির অধিকারী আলাস্কার সাবেক গবর্নর সারা পলিন আইওয়াতে তরী ঠেকালেন ট্রাম্প মহোদয়কে এন্ডোর্স করতে। সারার আলাস্কার বাড়ির ব্যাক ইয়ার্ড থেকে রাশিয়া দেখা যায়- এরকম মন্তব্য নিয়ে হুলস্থুল হাসি-ঠাট্টা হয়েছিল। এবার তিনি যেদিন দেখা দিলেন সেদিন তার পুত্ররতœকে গ্রেফতার করা হয়েছে গার্লফ্রেন্ড নির্যাতনের অভিযোগে।

লেখক : আমেরিকা প্রবাসী


ভাষা আন্দোলনের তৃতীয় দফা এখনও পূরণ হয়নি = অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান

সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

১৯৪৭ সালে ভ্রান্ত দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে এই উপমহাদেশ ভাগ করা হয়। আর এর মাধ্যমেই পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি জন্ম হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্র হওয়ার পিছনে বাংলা ভাষাভাষী এই অঞ্চলের মুসলমানদের বড় ভূমিকা ছিল। সে সময় পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের নেতৃবৃন্দ পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করে পাকিস্তান রাষ্ট্র কায়েম করেন। এই পাকিস্তান রাষ্ট্র কায়েম করার অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুসহ যারা পাকিস্তান আন্দোলনের সাথে সক্রিয় ছিলেন তাদের অনেক নেতাই অনুধাবন করেছিলেন, এটি একটি বড় ধরনের ভুল হয়েছে।

বাঙালির মাতৃভাষা আক্রান্ত হলো পাকিস্তান সৃষ্টির ভুলের প্রথম মাশুল। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৮ সালেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকেই চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা শুরু হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আমাদের উপর প্রথম আক্রমণ আসে ভাষার উপর। বাঙালি জাতীয়তাবোধ শাণিত হওয়ার ক্ষেত্রে ভাষার উপর এই ধাক্কা বিরাট উপাদান হিসেবে কাজ করেছিল। তখন আমাদের সব কিছুর উপর একের পর এক হামলা আসতে শুরু করলো। পঞ্চাশের দশকের শেষে এবং ষাটের দশকের শুরুতে রবীন্দ্র সঙ্গীতের উপর হামলা আসে এবং রবীন্দ্র সঙ্গীত গাওয়া যাবে কিনা এনিয়ে বিরোধিতা শুরু হয়। সে সময় যারা বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন করলেন তাদেরকে ভারতের দালাল হিসেবে গালাগালি করা শুরু হয়। তারা অনেকেই জেল-জুলুম অত্যাচার-নিপীড়ন এবং উৎপাতের শিকার হয়েছেন। পরবর্তী পর্যায়ে ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হলেন অর্থাৎ তাদের বুকের তাজা রক্ত দানের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতার চেতনা জাগ্রত হয় ও ১৯৭১-এ আমরা স্বাধীনতা লাভ করি।

এ কথা আজ সর্বজনবিদিত যে, ভাষাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের জন্ম আমাদের বড় অর্জন। ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনের মূলত তিনটি দাবি ছিল। এই তিন দাবিতে আন্দোলনকারীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন থেকে মিছিল বের হয়েছিল। সেই মিছিলেই দাবি তিনটি  ছিল। এগুলো হলো- এক. রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, দুই. রাজবন্দীদের মুক্তি চাই, তিন. সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু চাই। ভাষা আন্দোলনের ব্যানার প্ল্যাকার্ডে মূলত এই তিনটি স্লোগানই  ছিল।  

উক্ত তিন দাবির মধ্যে ১৯৭২ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।  দ্বিতীয় দাবি রাজবন্দীদের মুক্তির বিষয়টি তো আগেই ফয়সালা হয়েছে। তাদেরকে আমরা ভাষা সৈনিক হিসেবে সম্মান করেছি। ভাষা আন্দোলনের তিন দাবির মধ্যে উক্ত দুই দাবি সম্পূর্ণরূপে পূরণ হয়েছে। কিন্তু তৃতীয় দাবিটি সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু বা ব্যবহার বাস্তবায়ন হয়নি। ভাষার মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র পাওয়ার পর বাংলা ভাষাকে যেভাবে সর্বস্তরে চালু হওয়ার কথা ছিল তা এখনও হয়নি। ভাষা নিয়ে আমাদের জাতীয় প্রত্যাশা ততটা পূরণও করতে পারিনি।

Picture


আমাদের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র, যেখানে বাংলা ভাষা চালু করার কথা ছিল তা হয়নি। আইন-আদালত, বিশেষ করে উচ্চতর আদালতে বাংলা ভাষার প্রয়োগ হচ্ছে না। অবশ্য দুই একজন সম্মানিত বিচারপতি বাংলায় রায় দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মামলার রায়গুলো যাদের উপর বর্তায়, অর্থাৎ বাদী এবং বিবাদী উভয়েই বাঙালি। কিন্তু তারপরও সেখানে বাংলা ভাষার প্রয়োগ নেই। এমন অনেক লোক আছেন যারা বাংলাও ঠিক মতো বোঝে না, তাদের জন্য রায় লেখা হয় ইংরেজিতে। আদালতে বাংলাভাষা প্রয়োগ না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় দেশে উচ্চ শিক্ষায় বাংলা ভাষার ব্যবহারও সীমিত।

আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, তখন বরং অনেক বেশি বাংলা ভাষা ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু এখন বাংলা ভাষার ব্যবহার কমে আসছে। উচ্চ শিক্ষায় ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে বাংলার ব্যবহার একেবারেই নেই। সেখানে বাংলা ভাষার ব্যবহার একেবারেই উঠে গেছে। এর মূল কারণ পাঠ্যপুস্তকের বড় ধরনের সংকট। উচ্চ শিক্ষায় বেশির ভাগই পাঠ্যপুস্তক ইংরেজিতে সেজন্য এই সমস্যা আরো প্রকট। ব্যবসা-বাণিজ্যের যেসব পাঠ্যপুস্তক রয়েছে সেগুলো এক সময় অনেকে বাংলা করার চেষ্টা করেছিলেন। যেমন ব্যবস্থাপনা এবং হিসাব বিজ্ঞানের কিছু বই বাংলায় বের হয়েছিল। ‘বাজারজাতকরণ’ বিষয়ে বাংলায় কোনো বই ছিল না। সত্যিকার অর্থে ২০ বছর আগে ‘বাজারজাতকরণ’ বিষয়ে আমি বাংলায় একটি বই লিখি। কিন্তু এই ধারাটা পরবর্তী পর্যায়ে একেবারেই থেমে যায়। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে বেসরকারি এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পরস্পর প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়া।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যখন ব্যবসা-বাণিজ্য শিক্ষা ইংরেজি মাধ্যমে শুরু করে, তখন এটাকে অনুসরণ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে বাংলা আর ব্যবহার না হওয়ায় যারা বাংলায় ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ক বই লিখলেন তারাও উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। এতে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য শিক্ষার ভাষা হয়ে যায় ইংরেজি। ব্যবসা যেহেতু এখন আন্তর্জাতিক বিষয়, কাজেই কেউ কেউ আবার ইংরেজির পক্ষে কথা বলেন। আমাদের ব্যবসার সাথে আমদানি-রফতানি জড়িত, কাজেই ইংরেজি লাগবে। কিন্তু এর বিপরীত ভাষ্যও কিন্তু আছে। যারা ইংরেজিতে পড়াশুনা করে তাদের মাত্র কয়েকজন আমদানি-রফতানির সাথে জড়িত। বিদেশে এই আমদানি-রফতানির জন্য কেবল মাত্র চিঠিপত্র লিখতে হয়। এ কারণে পুরো কোম্পানিতে ইংরেজিতে চিঠিপত্র লিখতে পারেন এমন একজন লোক থাকলেই তো চলে। বাকিরা যারা অন্যান্য পণ্য বিক্রি করবেন তাদের জন্য ইংরেজি জানার প্রয়োজন নেই। পরিকল্পনার এবং সৃজনশীল কাজের জন্য তো ইংরেজি জানার প্রয়োজন নেই। যেমন গার্মেন্টস সেক্টরে আমদানি-রফতানি যোগাযোগ করার জন্য ইংরেজি জানা একজন লোক থাকলেই তো চলে।

চীন এখন বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। সারা পৃথিবীর বাজার এখন তাদের দখলে। কিন্তু চীনে ইংরেজি জানে ক’জন। আসলে ইংরেজির ব্যবহার আমাদের অনেকটাই দাসত্ব মনোবৃত্তি। ইংরেজির সাথে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। ইন্টারনেটে ইংরেজিতে যোগাযোগের জন্য এক ধরনের সহজ পদ্ধতি আছে তা অনুসরণ করলেই হয়। সবার উচ্চমাত্রার ইংরেজি জানার দরকার নেই। কিন্তু আমরা সবাই ইংরেজির উপর অতিমাত্রায় জোর দিচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে আমরা কেউ ভালোভাবে ইংরেজি শিখতেই পারছি না। কারণ উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বাংলায় পড়াশুনা করে। উচ্চ শিক্ষায় এসে হঠাৎ করেই ইংরেজিতে পড়তে হয়। এতে ভাষার কারণে এক ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। যার কারণে বিষয়ের উপর নজর না দিয়ে ভাষার পিছনে সময় নষ্ট হয়। যদি বাংলায় পড়তে পারত তাহলে তারা আরো বেশি সৃজনশীল হতো। আমি ক্লাসে দেখি তারা বিষয়টি বোঝে কিন্তু যখন তাদেরকে বলতে বলা হয়, দেখা যায় তারা বিষয়টি ইংরেজিতে বলতে পারে না। অর্থাৎ কোনো পরিকল্পনা বা বিষয় মাতৃভাষায় প্রকাশ করে যে স্বস্তি এবং স্বাচ্ছন্দবোধ অনুভব করা যায়, ইংরেজিতে কিন্তু ততটা হয় না।

আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া পৃথিবীতে এই চারটি দেশের বাইরে আর কোথাও ইংরেজি নেই। ইংল্যান্ডের নদীর ওই পাড়ে ফ্রান্স। কিন্তু সেখানে কেউ ইংরেজিতে কথা বলে না। জার্মানি, ইতালিতেও কেউ ইংরেজিতে কথা বলে না। ইউরোপে প্রায় সব দেশ একে অপরের সাথে জড়িত। কিন্তু সেখানেও তারা সব কিছুতেই নিজেদের ভাষা ব্যবহার করে। তবে তারা ভালো ভালো ইংরেজি বইগুলো নিজেদের মাতৃভাষায় অনুবাদ করে নিয়েছে। আর এই কাজ করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। বাংলা একাডেমিতে এক সময় পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর জন্য আলাদা বিশেষ কার্যক্রম ছিল। সে সময় বাংলা একাডেমির লোকজন ইনস্যুরেন্স কোম্পানির মতো লেখকদের পিছনে ঘুরে ঘুরে পাণ্ডলিপি সংগ্রহ করতেন। আজ থেকে ২০ বছর আগে বাংলা একাডেমির তাগিদে কৃষিপণ্যের বাজারজাকরণ বই আমি যখন লেখি, তখন তাদের লোক প্রতিদিন আমার অফিসে পাণ্ডুলিপির জন্য বসে থাকত। তখন বাংলা একাডেমির কর্মকর্তাদেরকে বই ছাপানোর জন্য টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হত। ভাষা আন্দোলনের অন্যতম অর্জন হলো এই বাংলা একাডেমি। কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে যেভাবে জোর দিয়েছে, সে তুলনায় একাডেমিক পাঠ্যপুস্তকের বিষয়ে তারা আরো জোড়ালো ভূমিকা রাখতে পারত। এতে প্রত্যেক বছর আমরা নির্ধারিত বিষয়ে একটি করে বই বের করতে পারতাম।

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় মিলে একশ’ বা ১২০ এর মতো বিষয় পড়ানো হয়। এই সব বিষয়ে বছরে একটি করে বই বের হলে দশ বছরে ১২০০ পাঠ্যপুস্তক বাজারে পাওয়া যেত। একজন একটি করে বই লেখতে সক্ষম এমন লোক বাংলাদেশে আছে। এই কাজটি অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে রুটিন মোতাবেক করতে হবে। আমরা পদ্মসেতু নিজেদের অর্থায়নে করতে পারি, কিন্তু পাঠ্যবই তৈরি করতে পারব না- এটা হয় না। বিদেশে নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের অনেক ভালো শিক্ষকরা আছেন। তাদেরকে যদি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ মহল থেকে চিঠি দেওয়া, সম্মানসূচক প্রণোদনা এবং স্বীকৃতি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে তাদের কাছ থেকে পাঠ্যবই বের করে আনা কঠিন কোনো কাজ হবে না। বাংলা একাডেমি প্রত্যেক বছর বই মেলায় অনেক বই বের করে। কিন্তু এসব বইয়ের অনেকগুলোই আছে, যার কোনো আলো নেই; অনেকগুলো অপাঠ্য। অধ্যাপক হুমায়ূন আজাদ বলেছিলেন, ‘এইগুলো পড়লে আলোকিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এগুলো আগুনে পুড়ালে হয়তো কিছু আলো জ্বলবে।’ এগুলো কাগজ এবং কালির অপচয়।

আমাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে হবে। এখন ইউনিয়ন পর্যন্ত স্বাস্থ্য এবং তথ্যসেবা পৌঁছে গেছে। এই স্বাস্থ্যসেবা এবং ইন্টারনেট সুবিধা যারা পাচ্ছেন, তাদের ভাষা তো বাংলা। রোগীরা  চিকিৎসকের কাছে আসেন, চিকিৎসক তাদের ব্যবস্থাপত্র লিখেন ইংরেজিতে। এগুলোর সাথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। চিকিৎসক নিজে বাঙালি তার রোগী দরিদ্র বাঙালি। কাজেই সেখানে ইংরেজি ব্যবহারের কোনো প্রশ্নই উঠে না। চিকিৎসক বাংলায় ‘প্যারাসিটামল’ লিখতে পারতেন, সকালে একটি এবং বিকালে একটি এমনটি না লিখে চিকিৎসক লিখেন ইংরেজিতে। তারা লিখেন সাংকেতিক ভাষায় ওয়ান প্লাস জিরো প্লাস ওয়ান। যেটা সাধারণ রোগীদের বোঝার কোনো উপায় নেই। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট ইংরেজিতে লেখার কোনো প্রয়োজন নেই। দেশের যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তারা বাঙালি, যাদের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে তারাও বাঙালি। কাজেই এক্ষেত্রেও বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।  

প্রথমত, আমাদের কতকগুলো বিষয় আইনগত বাধ্যবাধকতার ভিতর নিয়ে আসতে হবে। দ্বিতীয়ত, আমাদের মনমানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। মাঝে মাঝে ইংরেজি বলতে এবং লিখতে পারা মানে বড় কিছু হয়ে যাওয়া- এই মনমানসিকতা থেকে বের হয়ে আসা খুবই জরুরি। আর একটি বিষয় হলো বিশ্বায়নের যুগে আমাদের শিল্প-সাহিত্য চর্চা। এই বিষয় এখন সারা বিশ্বে আদান-প্রদান হচ্ছে। এক দেশের সাহিত্য অন্য দেশে অনূদিত হচ্ছে এবং প্রভাব পড়ছে। বিশ্ব শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, স্থাপত্য জানতে হলেও আমাদের বাংলা ভাষার দুয়ার খুলতে হবে। পৃথিবীর সেরা সাহিত্যগুলো কিন্তু ইংরেজি ভাষায় নয়। আমাদের অনুবাদ সাহিত্য আরো বাড়াতে হবে। কালজয়ী বইগুলো বাংলায় অনুবাদ করতে হবে। আমাদের মনোজগতে ইংরেজি নিয়ে একটি ঔপনিবেশিকতা তৈরি হয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসন নেই কিন্তু তাদের চিহ্ন থেকে আমরা বের হতে পারিনি। আমরা চাচ্ছি সর্বস্তরে বাংলা চালু হোক, বাংলা ভাষা যথাযথ মর্যাদা পাক কিন্তু এই ঔপনিবেশিক মনোভাব থেকে বের হতে না পারলে তা সম্ভব হবে না। আমরা খাদ্য দূষণ, ফরমালিন, ভেজাল তেল, দুধে পানি মেশানোসহ ভোগ্যপণ্যের বিষয়ে খুবই সচেতন।  কিন্তু আমাদের ভাষা দূষণ হচ্ছে সে বিষয়ে আমরা কথা বলি না। বর্তমানে এফএম রেডিওতে ভাষার কি পরিমাণ দূষণ হয়েছে তা বর্ণনাতীত। বাংলা ভাষার ঐতিহ্য হারিয়ে আমরা জগাখিচুরি অবস্থায় উপনীত হয়েছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে শব্দ নিয়ে আমরা যে ভাষা তৈরি করছি তা আমাদের আত্মমর্যাদার জন্য অসম্মানজনক। বাংলা ভাষায় কিছু বিদেশী শব্দ রয়েছে যেগুলো আমরা বাংলা হিসেবেই গ্রহণ করেছি।

বাংলা অনেক সমৃদ্ধ ভাষা। এর শব্দ ভাণ্ডার অফুরন্ত। রয়েছে নানা বৈচিত্র্য এবং মাধুর্য। শিক্ষিত সমাজ, শিক্ষকদের এবং গণমাধ্যমের জন্য একটি পরিমিত বাংলা ভাষা দরকার। শিক্ষকরা যদি নিজেই ভালো বাংলা না বলতে পারেন তাহলে শিক্ষার্থীদের শেখার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের গ্রামে এবং শহরে মাধ্যমিক এবং প্রাথমিক পর্যায়ে বাংলা পড়ানোর মতো ভালো কোনো শিক্ষক নেই। এটি একটি বড় সংকট। এক সময়ে স্কুলে পণ্ডিত মশাইরা ছিলেন যারা বাংলা পড়াতেন। শব্দের উৎপত্তি, বাংলা ব্যাকরণে তাদের ভালো দখল ছিল। রাজনৈতিক নানা কারণে সেই পণ্ডিত মশাইরা এখন দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এই সব শিক্ষকরা অত্যন্ত অধ্যবসায়ী ছিলেন। আমরা তথ্য-প্রযুক্তির উপর জোর দিয়েছি, কিন্তু ভাষার দিকে খেয়াল নেই। এতে আমরা ভালো বাংলা বা ইংরেজি শিখতে এবং বলতে পারছি না। আমরা এখন দাবি করছি জাতিসংঘের ভাষা হবে বাংলা। সেজন্য যদি পরিভাষা তৈরি করতে না পারা যায়, তাহলে আমরা সমস্যায় পড়ব। আইন, বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ে পরিভাষার তৈরি করতে হবে। কারণ জাতিসংঘ নানা আইন প্রণয়ন করে থাকে। বাংলাকে জাতিসংঘের ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আগে আমাদের উচিত হবে বাংলাকে আরো সমৃদ্ধ করা।  

ব্যাংকের ভাষা ইংরেজি করার কোনো দরকার নেই। কারণ সেখানে সবাই বাঙালি গ্রাহকরাই লেনদেন করে থাকেন। যারা এলসি খুলবে তাদের জন্য কেবল ইংরেজি থাকলেই চলবে। আর্থিক লেনদেনসহ যাবতীয় বিষয় বাংলা ভাষায় সম্পন্ন হলে প্রতারণা এবং জালিয়াতি কমবে এবং সকলে সুবিধা ভোগ করবে। অনেক কাজের সাথে ভাষা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ব্যাংক থেকে নানা কাগজ দেয়া হয়, কিন্ত ইংরেজি হওয়ার কারণ অনেকে বুঝতেই পারেন না কোনটা আসলে কি? শেয়ার বাজারের যাবতীয় কার্যক্রম ইংরেজিতে। কিন্তু সেখানে তো তেমন কোনো বিদেশি লোকজন জড়িত নয়। আর যদি থাকেও তাহলে তাদের নিজস্ব লোক থাকার দরকার।

সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন থেকে বলে দেয়া উচিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক প্রতিবেদন বাংলায় হবে। ইংরেজিতে হওয়ার কোনো কারণ নেই। সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠানকে বাংলা ভাষা সর্বস্তরে প্রয়োগের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আদালতে বাংলার ব্যবহার করতেই হবে। উচ্চ শিক্ষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের জন্য বাংলা একাডেমির আলাদা একটি কার্যকরী সেল গঠন করতে হবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব-নিকাশ, বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরিসহ সব কর্যক্রম বাংলায় করতে হবে। ভাষা আন্দোলনের দাবি ছিল সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করা। কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি। কাজেই এখন জাতীয় দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতেই হবে। যে জাতি মাতৃভাষাকে গ্রহণ করে না, সে জাতি এগিয়ে গেছে এরকম কোনো নজির বিশ্বের ইতিহাসে নেই। চীন, কোরিয়া, জাপানসহ অন্যান্য জাতি নিজেদের মাতৃভাষাকে ব্যবহার করেই উন্নত হয়েছে। অন্যের থেকে ধার করা ভাষা ব্যবহার করে তারা উন্নত হয়নি।

লেখক : উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


কে রাজাকার! কে ধর্ষক! পারিবারিক ও সামাজিক বিপর্যয়। প্রতিকার -------সিকদার গিয়াসউদ্দিন

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

জনৈক H Rehman Milu নামে 'অপরাজেয় বাংলা'নামের সংগঠনের আহ্ববায়ক দাবী করে ফেসবুকে স্বাধীনতা আন্দোলন বিরোধীদের চিহ্নিতকরনের প্রক্রিয়ায় একজন চেতনা ব্যবসায়ী হিসাবে কক্সবাজারের ইতিহাসে একসময়ের জনপ্রিয় ও দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে রামু রাজার কুলের চেয়ারম্যান জাফর আলমকে একজন ধর্ষক ও রাজাকার হিসাবে চিহ্নিত করে আমাদের কক্সবাজারের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে যে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে-তা যে কোন বিবেকবান ও নীতি-নৈতিকতা সম্পন্ন মানুষ মেনে নেয়ার কথা নয়।এটি দস্তুরমতো আইনকে নিজের হাতে তুলে নিয়ে খোদ রামু কক্সবাজারবাসীদের প্রতি কটাক্ষের সামিল।স্বাধীনতা আন্দোলনে সম্পর্কিত লোকদের অপমান মানেই সরাসরি স্বাধীনতা আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।যার লেখার কোন দালিলিক বা আইনগত ভিত্তি নেই।মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী লোকদের চিহ্নিতকরনের নামে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়কে দিকনির্দেশনা প্রদানের মতো কক্সবাজারের স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তি বা সাংবাদিক সমাজ কিংবা স্থানীয় সচেতন মানুষকে উপেক্ষা করে একটি প্রাতিষ্টানিক আবরনে শিষ্টাচার বহির্ভূত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবসায় এরা যেভাবে লিপ্ত হয়েছে-তা রীতিমতো বিস্ময়কর ও শিউরে উঠার মতো।শুধু তাই নয়-দূ'জন মহীয়সী নারী এবং জাফর আলমের সন্তান-সন্ততিকেও বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।মহিয়সী স্বপ্নাদির মৃত্যুর পরও বিবেকহীন চেতনা ব্যবসায়ী নামের পশুরা মুক্তি দেয়নি।স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এদের জীবিত আত্মীয় স্বজন ও সন্তান-সন্ততিদের মানসিক অবস্থান,সামাজিক অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে- সে বিবেচনায় না গিয়ে অতি উৎসাহী এসব  হাইব্রীড চেতনা ব্যবসায়ীদের কারনে দল হিসাবে আওয়ামী লীগ ও সরকারের ভাবমূর্তি,দেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা সাংবাদিকরা থাকা স্বত্ত্বেও যে সামাজিক বিশৃঙ্খল পরিবেশ এরা তৈরী করে-তার দায়ভার কে নেবে?
জাফর আলমের পূরো নাম জাফর আলম সিকদার।পরে উনি নিজে নিজেই নিজেকে জাফর আলম চৌধূরী নামে জাহির করেন ও লেখেন।রামু কক্সবাজারে অনেক সিকদার নাম বদলিয়ে চৌধূরী হিসাবে আত্মপ্রকাশের নজির আছে।স্বাধীনতা আন্দোলনের পর পরই টেকনাফ থেকে চকরিয়া পর্য্যন্ত বিজয়ের আনন্দে সম্ভবত ২০/২১শে ডিসেম্বর অবিভক্ত রাজারকুল ইউনিয়নের মিঠাছডী হাইস্কুল ময়দানে সর্বদলীয় বিজয় সভা অনুষ্টিত হয়।লাটি হাতে হাজারে হাজারে ট্রাকে ট্রাকে একদিকে টেকনাফ থেকে অন্যদিকে চকরিয়া থেকে লোকজন আসতেই থাকে।স্কুলের পাশেই ছিলো কক্সবাজারের পাকিস্তানপন্থী শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান কনভেনশন মুসলিম লীগের ন্যাশনাল এসেম্বলীর জাফর আলম চৌধুরী।যিনি একডাকে 'জাফর মিয়া'নামে খ্যাত।কক্সবাজার শহরের পরিবর্তে বিজয় সভা করার এটিই ছিলো কারন।সেদিন লোকজন যাতে জাফর মিয়ার বাড়ীতে আগুন লাগাতে না পারে-সেজন্য একদিকে খ্যাতনামা  ছাত্রনেতা বিপ্লবী কন্ঠখ্যাত প্রয়াত টেকপাডার ছুরত আলম,গর্জনিয়ার তৈয়বউল্লাহ সিকদার,উখিয়ার দিদারুল আলম চৌধূরী,মেরোংলোয়ার বিখ্যাত যুবনেতা ওবাইদুল হকের নেতৃত্বে,মুক্তিযোদ্ধা জহরলাল,নূর মোহাম্মদ,নূরুল হক,আবু আহমদসহ অনেকে সর্বোপরি খরুলিয়ার জমাদার ফজল করিম,রাজারকুলের আনসার কমান্ডার আবদুল হক ও চাকমারকুলের আনসার কমান্ডার মো:হোছাইনের নেতৃত্বে আনসার বাহিনী শৃঙ্খলা রক্ষায় বিরাট নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরী করেছিলো।আমি সপ্তম শ্রেনীর ছাত্র হলেও দেখতে ছোটখাট ছিলাম কিনা-সারারাত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী ও জাফর আলম সিকদার এবং আমার মা শিখিয়ে পডিয়ে দিলে-পরবর্তি দিন কক্সবাজারের ইতিহাসে প্রথম ও শেষবারের মতো,আনন্দঘন সর্বদলীয় বিজয় সভায় টুলের উপর দাঁড করিয়ে,সভায় আমার উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদানের মাধ্যমে সভা শুরু করা হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন মহুকুমা আওয়ামী লীগ সভাপতি আফসার কামাল চৌধূরী,বক্তব্য রাখেন-এডভোকেট জহিরুল ইসলাম,(পরে গন ফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা)এ কে এম মোজাম্মেল হক,(পরে জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি)এডভোকেট মওদুদ আহমদ,(পরে জাসদ নেতা)ন্যাপ মোজাফফরের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক মোশতাক আহমদ(পরবর্তিতে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও অধ্যক্ষ),প্রাদেশিক পরিষদে নির্বাচিত ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী(পরবর্তিতে অধ্যক্ষ,এম্ব্যাসেডর ও বিশিষ্ট সমাজসেবক হিসাবে খ্যাতিমান)ও সর্বশেষে গণপরিষদের নির্বাচিত এডভোকেট নূর আহমদ(পরে জাসদ নেতা)।অনুষ্টান পরিচালনা করেন জাফর আলম সিকদার।
একথা সত্য যে জাফর আলম সিকদারের বাবা আশরাফুজ্জামান সিকদার সহ স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে জড়িত অনেকের বাবা বা বড় ভাইরা মুসলিম লীগ বা জামাত করতো অথবা শান্তি বাহিনীর সদস্য ছিলো।রামু কক্সবাজার খুঁজলে অনেক পাওয়া যাবে।অনেকেই ইতিমধ্যে ইহধাম ত্যাগ করার কথা।তবে ১৯৬৬ সাল থেকে বঙ্গবন্ধুর অতি প্রিয়জন খ্যাত জমাদার ফজল করিমের মাধ্যমে বনজঙ্গল ও গাছপালায় ভরা ভায়রা আবদুল হক ও শালী মরিয়ম সেই সময়কার সাহসী মেয়ে হিসাবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।মুসলিম লীগের আশরাফুজ্জামান সিকদারের মেয়ে বিধায় এবং বিখ্যাত জমিদার ঈশান পালের বিশেষ স্নেহভাজন বিধায় আবদুল হক ও মরিয়মের নদীর পাড়ের ঘর হয়ে উঠে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার আওয়ামী লীগের গোপন আস্তানা।১৯৭১'সালে একই দিনে একই সময়ে ন্যাপের মোশতাক আহমদ,আওয়ামী লীগের ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী ও অনেক হিন্দু-বৌদ্ধের ঘর এবং রাজারকুলের ঈশান পালের প্রাসাদোপম বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ,লুটপাট,আবদুল হকের বাড়ী নদীতে নিক্ষেপ ও লুঠপাঠ এবং মরিয়মসহ সন্তান সন্ততিদের গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়।এর সরাসরি তত্তাবধানে ছিলো 'জাফর মিয়ার'ছেলে দিদারুল আলম চৌধূরী যে 'দিদার মিয়া'নামে পরিচিত।({এখানে ছাত্রনেতা উখিয়ার দিদারুল আলম চৌধুরী নয় কারন তিনিও তখন পাকিস্তানের শত্রুপক্ষের সংগ্রাম কমিটির নেতা এবং যেরকম জাফর আলম সিকদার রামু আওয়ামী লীগ ও সংগ্রাম কমিটির নেতা)}'দিদার মিয়ার'নেতৃত্বে{যে 'দিদার মিয়াকে'জাফর আলম সিকদারের বোন মরিয়ম নির্বাচন কেন্দ্রে অনিয়মের জন্য থাপ্পর মারার পর বাবা আশরাফুজ্জামান ও মেয়ে মরিয়মের মধ্যে প্রচন্ড বাকযুদধ হয় এবং যা কোনদিন সমাধান হয়নি।}জালাল আহমদ গংদের সহযোগিতায় ঈশান পালের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ,আবদুল হকের বাডী নদীতে নিক্ষেপ ও লুটপাট সংঘটিত হয়।উল্লেখ থাকে যে,পাক হায়েনাদের আগমনের খবরে ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী ও আনসার কমান্ডার আবদুল হক দখলকৃত থানার অস্ত্রশস্ত্র সহ তাঁদের স্ব স্ব পরিবারকে কোনরকম ঈঙ্গিত প্রদান না করে দলবল সহ আত্মগোপনে চলে যান।এবং পরবর্তিতে রাজারকুলস্থ ডিয়াংপাডার একজন অতি গরীব আত্মীয় ছিদ্দিক আহমদ ও আবদুল হকের ছোটভাই লোকমান হোসেনের সহযোগিতায় ওসমান সরওয়ার আলম চৌধূরী ও আবদুল হকের পরিবার খালবিল,নদীনালা,বনজঙ্গল পেরিয়ে অজানার উদ্দ্যেশ্যে পাড়ি দেন।পথিমধ্যে আবদুল হকের মেয়ে শিরিন আক্তার লুৎফুন্নেছা খাওয়া দাওয়া ও পথ্যের অভাবে বাবা বাবা বলে মৃত্যুবরন করে।স্বাধীনতার বলি।সেসময় রাজারকুলের আত্মগোপনকারীদের মধ্যে পরিমল পাল,জাফর আলম সিকদার,ফরিদুল আলম সিকদার,ওবাইদুল হক সিকদার,মাষ্টার আনোয়ার ও ফেরদাউস সিকদার অন্যতম।
জাফর আলম সিকদার সাতকানিয়ার কানুনগো পাড়া স্যার আশুতোষ কলেজ থেকে বি এ পাশ করার পর পরই ওসমান সরওয়ার আলমের সহযোগী হিসাবে ও ভগ্নিপতি জমাদার ফজল করিম ও ভগ্নিপতি আবদুল হকের অনুপ্রেরনায় কক্সবাজার আওয়ামী লীগের জন্য দিবারাত্রি পরিশ্রমের বিষয়টি সেই প্রজন্মের সকলের জানার কথা।১৯৭১'এর ৭'ই মার্চের পর রামু চৌমুহনীতে প্রকাশ্য জনসভায় সর্বসম্মতিক্রমে সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয় ওসমান সরওয়ার আলম চৌধুরী,মোশতাক আহমদ ও রামু স্কুলের প্রধান শিক্ষক আক্তার আহমদের নেতৃত্বে।সেই কমিটিতে অন্যতম সদস্যের একজন ছিলেন জাফর আলম সিকদার।দেশ স্বাধীন হলে রাজারকুলের পন্চায়েত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।রিলিফ চেয়ারম্যান হিসাবে বদিউল আলম সিকদার দায়িত্ব পালন করেন।পরবর্তিতে ধারাবাহিকভাবে কয়েকযূগ নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।আমি ১৯৮১'সালে দেশত্যাগ করি।আমার জানামতে ১৯৭৫'পূর্ব সময়ে ভীষন জনপ্রিয় ছিলেন।অত:পর ১৯৮১'সাল পর্য্যন্ত মোটামুটি জনপ্রিয় ছিলেন।এরপর প্রবাসে অনেকে উনার স্বেচ্ছাচারিতার কথা আমাকে জানাতে থাকে।মানুষে মানুষে হানাহানি,মামলা দায়ের,সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ এলাকার সাধারন মানুষের জমি গ্রাসের সংবাদ শুনতে পাই।এমনকি এক পর্যায়ে আমার মায়ের স্বর্ন ও জমি গ্রাস করার খবর পাই।তবে আমার মা আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে অনুরূধ করেন-আমি যেনো মামা জাফর আলম সিকদারকে কিছু না বলি।অবশ্য আমার বাবার সাথে ইতিমধ্যে সম্পর্কের মারাত্মক অবনতি ঠের পাই।আমি উনাকে পত্র লিখে জানাই নেলসন ম্যান্ডেলা হওয়া কঠিন তবে স্বেচ্ছাচারিতার শেষ ভালো নয়।অর্থ ও ক্ষমতা করো চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়।আরো নানা নীতিনৈতিকতাবর্জিত খবরও ছিলো।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামীলীগের চট্টগ্রাম থেকে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও কক্সবাজার থেকে জাফর আলম সিকদারের গ্রেফতারের খবর পত্রিকার খবরের শিরোনাম ছিলো।আমার মা' আমাকে কলের পর কল করে ভাইকে জামিনে বের করার জন্য বলতে থাকে।আমি দেশে গমন করি।ছাত্রাবস্থায় পরিচিত অগ্রজ,সহপাঠি বা অনুজ অনেকের সাথে কথা বলি।সকলের পরামর্শ ও উপদেশে গুরুত্ব সহকারে শুনি।আমারই অগ্রজ এক বন্ধু মেঝর জেনারেলের সাথে আলাপে উনার অনেক কৃতকর্মের কথা জানতে পারি।তারপর উনারও পরামর্শ গ্রহন করি।পরে সিভিল প্রশাসন আর আদালতের যাবতীয় ফরমালিটিজ সমাপন করে আইনী উপায়ে জামিনের ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে আমার মাকে দ্রুত সূস্থ হয়ে উঠতে দেখি।আমি দেশে সাধারন মানুষের জন্য স্থানীয় সূশিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের মাধ্যমে স্কুল ও কলেজ স্থাপন করার সময় শুনি,জাফর আলম সিকদার স্কুল প্রতিষ্টার বিপক্ষে।কারন গরীবের ছেলেমেয়েরা লেখাপডা করলে সিকদার বংশের রাজত্ব চলে যাবে।এই জাতীয় হীন ও সামন্তবাদী চিন্তার জন্য চল্লিশ বছর আগে যা হওয়া উচিত ছিলো-তা হয়নি।রাস্তা থেকে ছেলেমেয়েদের ধরে এনে ভর্তি করানো হয়।চতুর্দিকে চার পাঁচটি বড় বড় মাদ্রাসার মাঝে স্কুলটিতে এখন ৬০০ জন ছাত্র/ছাত্রী।৮০পার্সেন্ট ছাত্রী।সবাই খেটে খাওয়া দিন মজুরের সন্তান।এখন দশম শ্রেনী পর্যন্ত।পরবর্তিতে কলেজ সম্প্রসারনের উদ্দ্যোগ চলছে।প্রশাসনের সর্ব্বোচ কয়েকজন অগ্রজ বন্ধু ও আওয়ামীলীগের স্থানীয় এম পি,উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রশাসন এবং কয়েকজন জাতীয় পর্যায়ের লোকজন নিজেরা উদ্দ্যোগী হয়ে রিকোয়ারমেন্ট হিসাবে অবহেলিত,রিমোট অঞ্চল বিধায় আইনিভাবেই অন্যান্য যা যা দরকার তার সবই পূরন করে এম পি ও ভূক্তি করেন।এরপর জাফর আলম সিকদার আর চেয়ারম্যান হতে পারেননি।সম্ভবত জনসচেতনতা।
H Rehman Milu নামের জনৈক 'অপরাজেয় বাংলা'সংগঠনের নামধারী নেতা কোন অধিকারে স্বাধীন রাষ্ট্রে স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে সম্পর্কিত লোকদের ব্যক্তিগত চরিত্র হনন বা রাজনৈতিক চরিত্র হনন করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও লোকাল প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করতে পারে বা এরা চেতনা ব্যবসার নামে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার মতো চক্রান্তের অংশ কিনা-সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও গোয়েন্দাসংস্থা কিংবা র্যাব ও পুলিশ বাহিনীর খতিয়ে দেখা দরকার নয় কি?তাছাডাও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার মতো ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা এসব অননুমোদিত সংগঠন উপদলীয় কোন্দলের ফায়দা লুট করে চেতনা ব্যবসার নামে সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার কোন কৌশল কিনা তা খূঁজে বের করে যত দ্রুত সম্ভব-দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না হলে ক্যান্সারের মতো এরা সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে।
H Rehman Milu'রা জাফর আলম সিকদারের চেয়ারম্যান থাকাকালীন স্বেচ্ছাচারিতার,অন্যায়-অবিচারের,দুর্নীতির,সম্পদ গ্রাসের,মানুষে মানুষের হানাহানি বা মারামারির কিংবা একজনকে আরেকজনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে মামলা দায়েরের কিংবা রাজনৈতিক ও নৈতিক পদস্থলনের জন্য সাক্ষীসাবুদ আর প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সহ সংবাদ সম্মেলন অথবা আদালতের স্মরনাপন্ন হতে পারতো।তা না করে সহজলভ্য প্রচার মাধ্যম সংক্রান্ত সোস্যাল মিডিয়া আইন লংঘন করে চেতনা ব্যবসায়ী সেজে একজন সত্যিকারের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত সংগ্রাম কমিটির সদস্যকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা রাজাকার ও ধর্ষক বানিয়ে কোন সাহসে ফেসবুকে ষ্ট্যাটাস দিয়ে,এবং তা Milu'গংরা  ঊনিশ বার শেয়ার করে।এমতাবস্থায় তা যে কোন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্য দস্তুরমতো ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টির মতো,মিডিয়া সন্ত্রাসবাদ বা সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্টের উপাদান নয় কি? রামু ও কক্সবাজারের এম পি সাইমুম সরওয়ার কমলের নামকে জাফর আলম সিকদারের নামের সাথে জড়িয়ে গুলিয়ে ফেলার কারন কি?এর পেছনে কোন ষডযন্ত্র ও চক্রান্ত আছে কিনা তা খূঁজে বের করা দলীয় তদন্ত সাপেক্ষ।শুধু তাই নয়-দূ'জন আমাদের মহান স্বাধীনতা আন্দোলনের নারী সেনানী সকলের শ্রদ্ধেয়া রত্নাদি ও প্রয়াত স্বপ্নাদির নাম জড়িয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্য/সদস্যাদের বিব্রতকর এবং মানসিক ভারসাম্যহীন করে তোলার জন্য দীর্ঘ চুয়াল্লিশ বছর পর যে পরিস্থিতি,পরিবেশ ও অবস্থা তৈরী করেছে,জেনশুনে তাঁদের পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের যে ক্ষতিসাধন করেছে-যে অবমাননাকর দৃশ্যের অবতারনা করেছে-তা এইসব জঘন্য মনোবৃত্তি সম্পন্ন,বিবেকহীন পশুরা সেই ক্ষতি কখনো পুষিয়ে দিতে পারবে কি?এসব চেতনা ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহন করার এখনই সময়।সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য,আইনের সুষ্ট প্রয়োগে জনমনে আস্থার সংকটের মুক্তির জন্য,স্বাধীনতা আন্দোলনকে নিয়ে এধরনের গর্হিত আচরন করে জনমনে শঙ্কার সৃষ্টির জন্য এদের দমন অতীব জরুরী।
সিকদার গিয়াসউদ্দিন
লাস ভেগাস,২১'শে ফেব্রুয়ারী/২০১৬।


এস এম মুকুলের নতুন বই = জানা-অজানার রহস্যপুরী

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

আয়েশ আক্তার রুবি,বিশেষ সংবাদদাতা , বাপসনিউজ:এস এম মুকুলের নতুন বই জানা-অজানার রহস্যপুরী। নামটিতেই বিষয় ও অর্থের ইঙ্গিত অনুমেয়। বইটিতে উপস্থাপিত বিষয়গুলোর বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এসব বিষয়ে অনেকের কিছুটা জানা কিছুটা অজানা রহস্যকে পুরোমাত্রায় জানান দিতেই এই আয়োজন। যেমন ধরুন সাপ কি ভয়ঙ্কর প্রাণী, আঙুল ফোটানো নিরাপদ নয়, চুইংগাম চিবানোতে ক্ষতি আছে কি,  কেন ডোরাকাটা হয় সৈনিকের পোশাক, বাদুড় কিভাবে অন্ধকারে উড়ে বেড়ায়, পশুপাখি কি ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পায়, জোনাকি পোকার আলো কিভাবে জ্বলে, সিনেমার পর্দা অমসৃন ও সাদা হয় কেন, সাপ কিভাবে শব্দ শুনে, উঁচু থেকে পড়লেও বিড়ালের কিছু হয় না কেন, লোহা পানিতে ডুবে কিন্তু জাহাজ ভেসে বেড়ায়, হঠাৎ আলো থেকে অন্ধকারে চোখ ধাঁধায়, টিকটিকি কেন লেজ খসায়, সাপ কেন খোলস ছাড়ে, পানিতে কিভাবে আগুন নিভে, কুকুর জিভ দিয়ে লালা ঝরায় কেন, মাছ ভাসে এবং শ্বাসকার্য চালায় কিভাবে, বৃষ্টি কেন ফোটায় ফোটায় পড়ে- এইসব প্রশ্নে উত্তর জানা যাবে বইটিতে। 

Picture

যেসব পাঠকের অনুসন্ধানী মন উত্তর খুঁজে বেড়ায়। ভাবনায় খটকা লাগে। এইসব চেনা-জানা প্রশ্নের সহজিয়া উত্তরের জটলা খুলবে এইবার। জ্ঞান, আনন্দ, মজা, রোমাঞ্চ- এইসব মিলে জানা-অজানার রহস্যপুরী। ছবি চিত্রে সাজানো বইটির দাম মাত্র ৭৫ টাকা। বইমেলায় ২৫% কমিশনের পাওয়া যাবে। প্রচ্ছদ এঁকেছেন- মুকুল মোহাম্মদ। প্রকাশ করেছে পুঁথি নিলয় প্রকাশনী। বইমেলায় স্টল নম্বর ৪৬৭-৪৬৮তে পাওয়া যাবে বইটি।

alt
লেখকের অন্যান্য বছরে প্রকাশিত বইগুলো- প্রেম কাহানি, জীবন সূত্র, বিজনে বিজ্ঞান, বহুমাত্রিক হুমায়ুন আহমেদ, সাদা মনের কালো মানুষ- নেলসন মেন্ডেলা, ক্যারিয়ার সাফল্য, সাংবাদিকতায় ক্যারিয়ার, সামাজিক পুঁজি সহ আরো বই পাওয়া যাবে- মিজান পাবলিশার্স এর ২০৫-২০৬-২০৭ নম্বর স্টলে।  
  এস এম মুকুল, এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে। ,
এস এম মুকুল, লেখক ও সাংবাদিক, মোবাইল- ০১৭১২ ৩৪২ ৮৯৪


জবি উপাচার্য স্যারের বাজারজাতকরন বইটি বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
জবি উপাচার্য স্যারের বাজারজাতকরন বইটি বইমেলায় পাওয়া যাচ্ছে

আয়েশা আকতার রুবী,বাপসনিঊজ:জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য  প্রফেসর ড: Mijanur Rahman স্যারের বাজারজাতকরন (marketing)  নিয়ে লিখা বইটি পাওয়া যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ৩০৩-৩০৪ নং স্টল,মেরিট ফেয়ার প্রকাশনীতে। 


প্রকাশনাশিল্পের গুরু বাশার ভাই - ড. রুবেল আনছার

শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

প্রকাশনাশিল্পের গুরু বাশার ভাই - ড. রুবেল আনছার

কোনো একটি গ্রন্থ প্রকাশনার কথা ভাবতে গেলে বাংলাবাজারের কথা মনে পড়ে। কেন না বাংলাদেশের অধিকাংশ স্বনামধন্য প্রকাশনা-প্রতিষ্ঠান এখানেই গড়ে উঠেছে। বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত এই বাংলাবাজারের এক সময়কার নামি-দামি কিছু প্রকাশনা-প্রতিষ্ঠান আজ বিলুপ্তপ্রায়। নতুন নতুন অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও তার অধিকাংশই কেবল নোট-গাইড প্রকাশ করে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। খুবই সীমিতসংখ্যক প্রতিষ্ঠান শিল্প-সাহিত্যের মানসম্মত গ্রন্থ, গবেষণামূলক গ্রন্থ, আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য অবলম্বনে রচিত গ্রন্থ প্রকাশ করে বাংলাদেশের প্রকাশনা-শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এই সীমিত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গতিধারা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বর্তমান প্রজন্মের অনন্য প্রকাশনা-প্রতিষ্ঠান গতিধারা। দীর্ঘদিন ধরে গতিধারা সৃজনশীল শিল্প-সাহিত্যে মানসম্মত গ্রন্থাদি প্রকাশ করে পাঠকের আকাক্সক্ষা নিবৃত্ত করে চলেছে। এ প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনা হলো বাংলাদেশের সমন্ত জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং আঞ্চলিক ইতিহাসগ্রন্থের প্রকাশনার উদ্যোগ। ইতোমধ্যে এ সিরিজের অনেক গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। যে লক্ষ্য নিয়ে গতিধারা এগিয়ে চলেছে, তাতে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ইতিহাস নির্মাণের পথিকৃতের আসনটি এ প্রতিষ্ঠান অর্জন করবে। আর এর সমন্ত সাফল্যের মূলে রয়েছেন গবেষক-প্রকাশক সিকদার আবুল বাশার। তিনিই এ যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।
বাশার ভাইয়ের সঙ্গে আমার পরিচয় এক দশক ধরে। এর মধ্যে কিছু সময় বাংলাবাজারের বিউটি বোডিং এবং শ্রীশদাস লেনের একটি বাড়িতে আমার অবস্থানের সুবাদে বাশার ভাইকে খুব কাছ থেকে চেনার সুযোগ হয়েছিল। এ সময় আমি প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যায় গতিধারায় যেতাম। আর সেখানে গেলে কত বিষয়ে যে গল্প শুরু করে দিতেন, সন্ধ্যা থেকে কোনোদিন রাত ১১টা অবধি চলতো। ভীষণ আড্ডাবাজ মানুষ তিনি। একবার কোনো বিষয়ে কথা শুরু করলে আর থামতেই চাইতেন না। মানুষকে কাছে থেকে চেনার, মানুষের নানা প্রবৃত্তি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভের প্রয়াস তার মধ্যে সর্বদা দেখেছি। যাঁর সঙ্গে যে বিষয়েই কথা শুরু হোক না কেন, কথায় কথায় বাশার ভাই তাঁর ইতিহাস-ঐতিহ্য খোঁজার চেষ্টা করতেন। কারণ তিনি মনে প্রাণে চান বাংলার সমন্ত মানুষের ইতিহাস, সমন্ত বাংলার ইতিহাস হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করে তা কালের অক্ষরে লিপিবদ্ধ করতে। এর জন্য তিনি বাংলার নানা জনপদে ছুটে বেরিয়েছেন, বিভিন্নভাবে ছড়ানো ছিটানো ইতিহাসের টুকরো টুকরো পাপড়িগুলো তুলে এনে ইতিহাস-মালা রচনার প্রয়াস পেয়েছেন। আর এ কাজে তার সঙ্গে আরো অনেকে যুক্ত রয়েছেন। কেন না একজনের পক্ষে সব জেলার সব জনপদের ইতিহাস-ঐতিহ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ তুলে আনা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। তবে সংগৃহীত উপাদানগুলি গ্রন্থাকারে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে নান্দীপাঠ থেকে যবনিকা পর্যন্ত থাকে বাশার ভাইয়ের সযতœ প্রয়াস। আর এ জন্য গতিধারার প্রকাশনার মান এ জগতে স্বতন্ত্র স্থান করে নিয়েছে। উল্লেখ্য যে, এ জন্য গতিধারা কয়েকবার শ্রেষ্ঠ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের এবং বাশার ভাই শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদশিল্পীর পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
পুরস্কার, সম্মাননা, যশ-খ্যাতির জন্য দুনিয়া পাগল। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এসবের মাপকাঠিতেই আমরা মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের চেষ্টা করি। আমি বাশার ভাইকে যতখানি চিনেছি, তিনি যশের পাগল নন। তবে সবসময় ভালো কিছু করার চেষ্টা থেকে সরেননি কখনো। এ জন্য আমি তাকে শুধুই একজন বই-প্রকাশক বা গবেষক মনে করি না, বরং তিনি নিজেই একটা বই। পৃথিবীর সমন্ত সম্পদের লয় আছে, কিন্তু একটা বইয়ের মধ্যে যে সম্পদ থাকে তার কোনো ক্ষয় নেই, ধ্বংস নেই। তাই বাশার ভাই যতœ করে নিজের সমন্ত রাগ-অনুরাগে সিক্ত করে একেকটা বই প্রকাশ করেন। একটা বই প্রকাশ করার মানে তিনি নিজেকে প্রকাশ করার মতো দেখেন। একজন মা যেমন দশ মাস দশ দিন পেটে ধরে অনেক কষ্ট করে একটি সন্তান জন্ম দেন, বাশার ভাইয়ের প্রত্যেকটি বই প্রকাশনার পেছনে তেমনি শ্রম ও যতœ ক্রিয়াশীল। তিনি মনে করেন যে, মানুষ চিরদিন বেঁচে থাকে না, বেঁচে থাকে মানুষের ভালো কাজ। তাই ভালো কাজ হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন ভালো মানের বই প্রকাশ করাকে।
সিকদার আবুল বাশার অনেক বড় গবেষক, ইতিহাস সংগ্রাহক ইত্যাদিকে আমি তার পরিচয় হিসেবে দেখি না। আমার কাছে তিনি একজন মানুষ। যে মানুষটি সবসময় বাংলার নানা শ্রেণির মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার অংশিদার হতে চেয়েছেন, তাদের জীবন-সংগ্রামের প্রকৃত ইতিবৃত্তকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন। একজন মানুষ হিসেবে তিনি সবসময় মানুষের সঙ্গে খোলা মনে মেশার চেষ্টা করেন। ফলে বয়সে ছোট কি বড়, তা বড় ব্যাপার নয়, যে কোনো মানুষের সঙ্গে তার বন্ধুত্বটাও হয়ে যায় খুব সহজে। সত্যি কথা বলতে দ্বিধা নেই যে, আজকাল প্রতিযোগিতার যুগে মানুষের হৃদয়বৃত্তির মূল্য কমতে কমতে যান্ত্রিকতার জটাজালে মনুষ্যত্ব জবাই করা মুরগির মতো ডানা ঝাপটাচ্ছে। ভাই ভাইয়ের শত্র“ হিসেবে মারামারি কাটাকাটি করছে, এসব অবস্থা দেখে দেখে সাধারণ মানুষ হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে বেশি করে। এমন হতাশার কালে বাশার ভাইয়ের মতো মানুষেরই বেশি দরকার, কোনো গবেষক বা ঐতিহাসিক নয়। কেন না গবেষক, ঐতিহাসিক শুধু মানুষের সবকিছুকে নির্দিষ্ট ছকে ভাবেন, কিন্তু বন্ধু মানুষ মানুষের সবকিছুকে মন দিয়ে অনুভব করেন। বাশার ভাইও মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা সবকিছুকে মন দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন।
সিকদার আবুল বাশার গতিধারা পাবলিকেশনের একটা ছোট ঘরে বসেন, কোনো মিডিয়ার কারিশমা ছাড়াই তিনি প্রকাশনাশিল্পে যে কৃতিত্ব দেখিয়ে চলেছেন তা সম্ভব হয়েছে তার বন্ধুসুলভ আচরণের দ্বারাই। আমি মনে করি যে, প্রকৃত শিল্পচর্চার কাজের মূল্যায়ন করার সময় এসেছে, সময় এসেছে আমাদের পুরাতন গ্লানি মুছে ফেলে সোনালি ভবিষ্যৎ গড়ার। বাংলাদেশের প্রকাশনাশিল্পে সেই সোনালি ভবিষ্যৎ নির্মাণের গুরু বাশার ভাইসহ সকল প্রকাশক ভাইকে অগ্রিম অভিনন্দন জানাই। বাশার ভাই এবং গতিধারা যে গতিতে আমাদের প্রকাশনাশিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তা আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাকÑএই আজকের প্রজন্মের প্রত্যাশা।

ড. রুবেল আনছার : প্রাবন্ধিক ও প্রধান (ভারপ্রাপ্ত), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।


মহান একুশ ও নিঃশব্দ অনুভূতি = এস এম শামিম

শুক্রবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

তোমরা বলো, এসেছে মহান একুশ, এসেছে ফাল্গুন
আমি আহাজারি শুনতে পাই
ছেলে হারা শত-সহ¯্র মায়ের বেদনা¯œাত হৃদয়ের,
আমার কর্ণকুহুরে ধ্বনিত হয়, শত শত বোনের,
ভাই হারানোর বেদনার্ত ক্রন্দন,
আমি হাহাকার শুনতে পাই পলাশ আর কৃষ্ণচূড়ার।
আমি আহত হয়ে যাই,
যখন শুনি দোয়েল শ্যামা আর পাপিয়ার বেদনা বিধুর গান
আর হৃদয়ের অবয়বে উদীয়মান হয়,
সালাম রফিক বরকত জব্বারের প্রতিচ্ছবি।
তোমরা বলো এসেছে ভাষার মাস
আমার প্রতিটি শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত হয় এক অনুপম নিঃসীম শিহরন।
আর শুনতে পাই - ভাষা শহীদদের দীপ্ত শ্লোগান,
“রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই” অ  আ  ক  খ।
আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই  নাম না জানা কতশত ভাষা শহীদের।
আমার নিবিড় অনুভূতিতে শুধু অনুভব করি তাঁদের রক্ত¯œাত পরশ,
আর খুঁজে ফিরি তাদের চিরায়ত মানব প্রতিবিম্ব।
তোমরা বলো গাই একুশের গান -
আমার হৃদয়ে কান্নাপ্লুত আবেশে হয়ে উঠে ভারাক্রান্ত।
বাতাস ভারী হয়ে যায়, আর হৃদয় গভীরে কি যেন থেকে থেকে ঘা মারে।
আমি অবিশ্রান্ত হয়ে যাই, অবগাহন করি অতৃপ্ত অনুভূতির গহীনে,
আর অবচেতন মনে উদ্ভাসিত হয় -
হে বীর সেনানী, তোমরা ছিলে, তোমরা আছ, আজীবন থাকবে
বাংলা বর্ণমালার প্রতিচ্ছায়ায়।
এ আমার নিঃশব্দ অনুভূতি।।