Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

ডাক্তার ভাইকে রাষ্ট্রীয় সম্মান না দেয়া দেশ ও জাতির জন্য লজ্জাস্কর

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫

 
বছরের পর বছর ধরে সুদূর নিউজিল্যান্ড থেকে ফান্ড এনে যিনি মধুপুরের প্রত্যন্ত গ্রামকে আলোকিত করেছেন হতদরিদ্র মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়ে, তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতে পারতেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও। হতাশাজনক হলেও সত্য, না সরকার প্রধান না রাষ্ট্রপ্রধান কেউই শোক প্রকাশ করেননি। যদি করতেন তবে গনভবন-বঙ্গভবন সর্বত্রই জ্বলে উঠতো দায়িত্ববোধের আলো, পতপত করে উড়তো বিবেকবোধের নিশান, এমনটাই মনে করছেন নিউজিল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশীরা। রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী কারো তরফ থেকে ডাক্তার ভাইয়ের সমাধিতে পুষ্পস্তবকও অর্পিত না হওয়ায় অনেকটা ক্ষোভও প্রকাশ করা হয়েছে ওয়েলিংটন, ডুনেডিন, ক্রাইস্টচার্চ ও অকল্যান্ডের বাংলাদেশ কমিউনিটিতে।

Picture
 
ড. এড্রিক বেকারের খুব কাছের বন্ধুদের দু’জন এই প্রতিবেদককে আক্ষেপ করেই বললেন, “ডাক্তার ভাই যেহেতু মৃত্যুর আগে বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধই তাঁকে স্থায়ীভাবে টেনে এনেছিল বাংলাদেশে, পাশাপাশি দরিদ্র মানুষদের নিঃস্বার্থ সেবাদানের যে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন, তাতে করে যৌক্তিক কারণে খুব স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রীয় সম্মান ও মর্যাদা অনায়াসে পেতে পারতেন তিনি”। অকল্যান্ড প্রবাসী ডা. মোহাম্মদ ইসলাম শাখু জানান, “ডাক্তার ভাইয়ের যুগান্তকারী কর্মযজ্ঞ নোবেল কমিটির কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নিচ্ছিলাম আমরা, কিন্তু সেই সম্মানের আগেই কিছুটা অসময়ে চলে গেলেন তিনি”। গরীবের এই ডাক্তারকে বাংলাদেশ সম্মান না করায় রাজধানী ওয়েলিংটনের বাংলাদেশী গুণীজনেরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেন, টাঙ্গাইলে ডাক্তার ভাইয়ের শেষকৃত্যে যেখানে যোগ দিতে পারতের স্বয়ং রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী, সেখানে সামান্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীরও সময় হয়নি কাইলাকুড়ির মাটিতে পা ফেলার।
 
১৯৭৭ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করছেন চার্টার্ড একাউন্টেন্ট আতাউর রহমান জেপি (জাস্টিস অব পিস)। অন্যদিকে ডা. এড্রিক বেকার বাংলাদেশের অধিবাসী ১৯৭৯ সাল থেকে। বহু বছরের ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব ছিল দু’জনের। বাংলাদেশী অধ্যুষিত অকল্যান্ডে অনারারি কনসাল জেনারেলের দায়িত্বে থাকা আতাউর রহমান খুব দুঃখ পেয়েছেন ডাক্তার ভাইয়ের মতো একজন জাতীয় বীরের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শিত না হওয়ায়। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে তিনি আমাকে বলছিলেন, আমার শরীরটা দিনেদিনে খারাপ হয়ে যাচ্ছে, জানিনা আর কতোদিন ‘আমার’ বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকতে পারবো”। ডা. এড্রিক বেকারের মহাপ্রয়ানে বাংলাদেশ তাঁর সোনার সন্তানকে হারালো, এমনটাই মনে করেন অনারারি কনসাল।
 
এদিকে টাঙ্গাইল মধুপুরের কাইলাকুড়িতে চিরনিদ্রায় শায়িত ‘বাংলাদেশের নাগরিক’ ডা. এড্রিক বেকারকে যত দ্রুত সম্ভব মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরষ্কারে ভূষিত করার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন নিউজিল্যান্ড ইনকর্পোরেটেড (বানজি)’র প্রেসিডেন্ট ড. আনোয়ার জাবেদ এবং বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি’র প্রেসিডেন্ট ড. দাউদ আহমেদ। নেতৃবৃন্দ এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে বলেন, “ডাক্তার ভাই আরো ২০-২৫ বছর আগেই বাংলাদেশের নাগরিকত্ব যেমন পেতে পারতেন তেমনি তাঁর জীবদ্দশাতেই যদি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেতেন তবে বাংলাদেশই সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হতো বিশ্ব দরবারে, একইসাথে স্বার্থক হতো আমাদের দেশপ্রেম”।


যেখানে মনে পড়ে দেশের কথা

রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫

Picture

যাওয়ার পথ এত আঁকাবাঁকা যেন আমাদের বান্দরবানের কথা মনে করিয়ে দেয়। গাড়ি চালাচ্ছিলাম আমি। মনের অজান্তেই বারবার আমার দেশের কথা মনে পড়ছিল। এমন সরু রাস্তা আর বাঁক শুধু আমাদের দেশেই আছে বলে জানতাম এত দিন। এখন দেখি আমেরিকার মতো দেশেও রাস্তার এই অবস্থা।
কেবিনের সামনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জার্সি পরে কয়েকজনআমরা আমাদের থাকার জন্য মাউন্টেনের ভেতর কেবিনের ব্যবস্থা করেছিলাম। এই দেশে কত রকম ব্যবস্থা আছে না দেখলে বোঝা যায় না। চারদিকে জঙ্গল মাঝখানে পাঁচটা কেবিন। অন্য রকম অনুভূতি। আমরা আশা করেছিলাম রাতে দুই-একটা ভালুক দেখব। সেটা হয়নি। শুধু হরিণ দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো।
পরদিন সকালে আমরা রওনা দিলাম পার্কের ভেতরে ঝরনা দেখতে। ব্ল্যাক ওয়াটার ফলসে তিন রঙের পানি পড়ে। এত সুন্দর ঝরনা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। আসলে এই জায়গা আরও সুন্দর লাগে অক্টোবরের মাঝামাঝি এলে। তখন fall burst শুরু হয়। যারা জানেন না তাদের জানাচ্ছি, fall burst-এর সময় চারদিকে এত সুন্দর রং দেখা যায় যা কল্পনার রাজ্যকেও হার মানায়।
জর্জ ব্রিজঝরনা দেখার পর আমরা সবাই বোটিং করার জন্য রেডি হলাম। সেখানে পৌঁছানোর পর জানতে পারলাম সব নৌকা একদিন আগে থেকেই ভাড়া হয়ে গেছে। কী আর করার সবার মন খারাপ করা ছাড়া আর উপায় নাই। সিদ্ধান্ত নিলাম আজকে রাতেই আমরা বার-বি-কিউ করব। কথায় আছে মন ভালো করার জন্য সব থেকে ভালো উপায় হলো খাওয়া দাওয়া। আর বাংলাদেশি হলে তো খাওয়া দাওয়ায় একটা উৎসব চলেই আসে। আমরা রাতে আমাদের কেবিনের পেছনে চিংড়ি বার-বি-কিউ করলাম। অনেক দিন পর সত্যিকার কাঠের আগুনে রান্না, মজাটাই আলাদা।
পরদিন সকালে আমরা সবাই আমাদের প্রিয় ক্রিকেট টিমের জার্সি পরলাম। আমাদের ক্রিকেট টিম আমাদের গর্ব। টাইম ডিফারেন্স কারণে সারা রাত জেগে খেলা দেখি। তারপর সকালে অফিসে যাই। কোনো কষ্ট লাগে না যদি আমরা জিতি। হেরে গেলেও আমরা আমাদের টিমকে সমর্থন দিয়ে যাবই যাব।লেখক ও তার স্ত্রী
ফেরার পথে আমরা গেলাম নিউ রিভার জর্জ ব্রিজে। এত সুন্দর সেতু যা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। এই সুন্দর আসলে এর উদ্ভাবন ও স্থাপত্য কৌশলের জন্য। সেতুর পাশ দিয়ে সরু রোদ একদম নদীর কাছে নিয়ে যাবে। পাথুরে নদীতে তীব্র স্রোত। ওয়াটার রাফটিং জন্য পারফেক্ট। সন্ধ্যা হওয়াতে আমরা রওনা দিলাম আমাদের বাসার উদ্দেশে। ফেরার পথে আরেকবার উপভোগ করলাম সন্ধ্যার পাহাড় ও মেঘের এক অপূর্ব রূপ।
আমরা সব সময় বলি আমাদের দেশ সবুজের দেশ। এখানে বেড়াতে এসে বারবার আমাদের দেশের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। এখনো কি আমাদের দেশে এই সবুজ আছে?


রোহিঙ্গাদের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশিদের দুর্ভোগ - আলম শাইন

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

Alam Shain
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশসহ সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের পদচারণা ক্রমেই বেড়ে চলছে নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য এটি সুখবর। এই মানুষগুলো আমাদের কাছে প্রবাসী বাঙালি হিসেবেই পরিচিত। এদের অল্পসংখ্যক ভালো অবস্থানে থেকে কাজ করার সুযোগ পেলেও অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ। শ্রমজীবী হলেও তারা আমাদের কাছে অতি সম্মানিতদের একজন। আমরা জানি টাকা-পয়সা খরচ করে বিদেশে ভ্রমণে যাননি তারা গিয়েছেন দৈহিক শ্রমের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করতে; যে অর্থের ভাগীদার হচ্ছি আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের এ শ্রমজীবী মানুষের দারুণ খ্যাতি রয়েছে। দুটি কারণে সাধারণত এ খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তারা। বিশ্বস্ততা এবং স্বল্পমূল্যে শ্রম দান করার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে রীতিমতো বাঙালিদের জয়জয়কার শোনা যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটে থাকলেও তা ধর্তব্যের আওতায় পড়ছে না। কিন্তু বর্তমানে ছোটখাটো ভুলভ্রান্তিগুলোকে অনেক বড় করে দেখছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকার। এর প্রধান কারণ হচ্ছে রোহিঙ্গাদের উপদ্রব। তারা বাংলাদেশি পাসপোর্ট হাতিয়ে ওমরাহ ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে পালিয়ে থেকে যাচ্ছে। চুরি-চামারিসহ নানা অপকর্ম করে ধরা পড়লে বাংলদেশি বলে পরিচয় দিচ্ছে। কাগজে কলমেও প্রমাণ মিলছে বাংলাদেশি, ফলে এক্ষেত্রে আর সাফাই গাওয়ার মতো সুযোগ থাকছে না। রোহিঙ্গারা এসব করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, তারা অধিক কাজ প্রাপ্তির লোভে নিজেদের শ্রমের মূল্যও কমিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশি শ্রমিকরাও বাধ্য হচ্ছেন তাদের শ্রমের মূল্য আরো কমিয়ে দিতে। এতে বিপাকে পড়ে গেছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। অধিক পরিশ্রম করেও পর্যাপ্ত অর্থকড়ি নিজ দেশে প্রেরণ করতে পারছেন না। অন্যদিকে আগের মতো বুক টান করে বিদেশের মাটিতে চলাফেরাও করতে পারছেন না। বাংলাদেশি পরিচয় জানলে সন্দেহের চোখে দেখছেন সেসব অনেকেই। অথচ আদতেই বাংলাদেশিরা অমন ধাঁচের নয় সেটি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন রোহিঙ্গাদের কারণেই। রোহিঙ্গারা সত্য-মিথ্যা বলে বিদেশিদের কান ভারি করছেন, এ রকম তথ্যও আমরা পত্রিকা মারফত জানতে পেরেছি। অথচ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের দয়া দাক্ষিণ্যের ওপর থেকেই লালিত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের পাসপোর্ট হাতিয়ে নিচ্ছে।
বাংলাদেশে মোট চার ধাপে রোহিঙ্গারা (মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়) অনুপ্রবেশ করে। তারা প্রথম অনুপ্রবেশ করে ১৭৮৪ সালে। তখন রাজা ‘বোদাওপায়া’ আরাকান দখলে নিয়ে রাজধানী গঠন করেন। দ্বিতীয়বার অনুপ্রবেশ করে জাপান কর্তৃক বার্মা (মিয়ানমার) দখল হলে। তৃতীয় ধাপে অনুপ্রবেশ করে ১৯৭৮ সালে। তখন প্রায় ২ লাখের বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। জেনারেল নে উইন অপারেশন কিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নথিবদ্ধ করার প্রাক্কালে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে ওই সময়ে। চতুর্থবার অনুপ্রবেশ করে ১৯৯১-৯২ সালে। তখন দ্য স্টেট ল’ অ্যান্ড অর্ডার রেজিস্ট্রেশন কাউন্সিল (এসএলওআরসি) উত্তর রাখাইন রাজ্যে মুসলিম সন্ত্রাসী দমনের উদ্যোগ নিয়ে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। দেখা গেছে মিয়ানমারে যখনই রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন বেড়ে যায় তখনই তারা তৎপর হয় ওঠে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য। বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে আমাদের সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এক সময় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে পরক্ষণে স্থায়ী আবাসন গড়ার চিন্তা করে। এভাবে অনুপ্রবেশের ফলে বর্তমানে তাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখের মতো। এ সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা ভোটার তালিকায় স্থান করেও নিয়েছে এবং নিচ্ছে নানা কৌশল অবলম্বন করে। উল্লেখ্য, রিফিউজি রেজিস্টার্ডভুক্তরা ভোটার তালিকায় স্থান না পাওয়ার কারণে স্বার্থান্বেষী মহলের ইঙ্গিতে রোহিঙ্গারা পালিয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন গ্রামে বসবাস করছে। পরে সুযোগ বুঝে ভোটার তালিকায় নাম উঠিয়ে নিচ্ছে। এ ধরনের তথ্যচিত্রের খবর আমরা প্রথম জানতে পারি ২০০৭-২০০৮ সালের দিকে। ওই সময় পাবর্ত্য এলাকায় ১২টি উপজেলায় পালিয়ে বেড়ানো রোহিঙ্গারা ভোটার হওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। বিষয়টা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিগোচরে এলে ২০০৯ সালে তা খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেয় কমিশন। এতে করে প্রায় ৪৮ হাজার ৬৭৩ জন রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় স্থান পাওয়ার সত্যতার প্রমাণ পায় নির্বাচন কমিশন। সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর এদের ভোটার তালিকা থেকে বাদও দেয় তৎকালীন নির্বাচন কমিশন।  
রোহিঙ্গা শরণার্থীরা শুধু বাংলাদেশের ভোটারই হচ্ছে না, তারা ভোটার আইডি কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশি পাসপোর্ট বানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাড়িও জমাচ্ছে। জানা যায় প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা বিভিন্ন ধরনের কূট-কৌশল অবলম্বন করে এ দেশের পাসপোর্ট হাতিয়ে নিয়েছে। এদের অধিকাংশই এখন সৌদি আরবে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছে। এ সংখ্যা ক্রমান্বয়েই বাড়ছে, যা আমাদের জন্য অশনী সংকেত বলে মনে করছেন বিজ্ঞজনেরা। তারা আরো মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার ধরে রাখতে না পারলে আমাদের দেশ নি¤œ-মধ্যবিত্তের গণ্ডি পেরুতে হিমশিম খাবে। কাজেই ভবিষ্যতে যেন এমনটি আর না ঘটতে পারে সে দিকে দৃষ্টি দেয়া জরুরি কর্তব্য। এতে করে যেমনি বাঁচবে দেশের মান তেমনি বাড়বে দেশের অর্থনীতির গতি।  
লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।
এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


একটিমাত্র ছবি, প্রত্যাশা অনেক অনেক এথেন্সে

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

মাঈনুল ইসলাম নাসিম : ওয়াশিংটন ডিসি’র বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রবল প্রিয়ভাজন ব্যক্তি এম জসীম উদ্দিন রাষ্ট্রদূতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে অতি সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন গ্রীসের রাজধানীতে বাংলাদেশ দূতাবাসে। পেশাদার এই কূটনীতিক সর্বশেষ ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘মিশন উপপ্রধান’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জাঁদরেল ডিপ্লোম্যাট হয়েও একাধারে একজন প্রতিভাধর সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে দেশে দেশে প্রবাসীদের ভালোলাগা ও ভালোবাসার পাত্র হয়েছেন এম জসীম উদ্দিন। গানের ডালি নিয়ে মঞ্চে কখনো সুরের মূর্ছনায়, কখনো আবৃত্তির ছন্দে মাতোয়ারা করেছেন তিনি সবাইকে।

এথেন্সে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এম জসীম উদ্দিন একাধারে একজন মানসম্পন্ন উপস্থাপক। সহধর্মিনী শায়লা জসীমও গুণী সঙ্গীতশিল্পী ও উপস্থাপিকা। ওয়াশিংটন প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে তিনি ‘জসীম ভাই’ হিসেবেই সমাদৃত ছিলেন, জুলাই-আগস্টে চোখের জলে যাঁরা বিদায় জানান তাঁদেরকে। ৩১ আগস্ট এথেন্সে দায়িত্ব গ্রহনের আগে ঢাকায় অবস্থানকালীন সময়ে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তাঁর দফতরে সৌজন্য সাক্ষাত করেন রাষ্ট্রদূত এম জসীম উদ্দিন। প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাবার এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রথা মোতাবেক তাঁকে ‘ফেয়ারওয়েল’ প্রদান করে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

ওয়াশিংটনের আগে টোকিও, দিল্লী ও ইসলামাবাদে বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন পদে গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এম জসীম উদ্দিন এমন এক সময়ে এথেন্সে বাংলাদেশ দূতাবাসের হাল ধরলেন, যখন দূতাবাসকে যে কোন ক্যাটাগরির দালাল-সিন্ডিকেট মুক্ত দেখতে চান দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশীরা। সর্বশেষ দায়িত্ব পালনকারী রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ ২০১৩ সালে দূতাবাসকে দালালমুক্ত করতে সফল হলেও লক্ষ লক্ষ ইউরোর সিন্ডিকেট বানিজ্যের হোতারা এথেন্সে ও ঢাকায় স্তরে স্তরে কালো টাকা বিনিয়োগ করে ‘ফেব্রিকেটেড’ নারী কেলেংকারীর ভূয়া ভিত্তিহীন বানোয়াট অভিযোগ চাপিয়ে দিয়ে তাঁকে ঢাকায় ফেরত পাঠাতে ব্যবহার করে বসে খোদ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়েরই কয়েকজন কর্মকর্তাকে।

Picture

পূর্ন সচিব মর্যাদার হতভাগ্য সিনিয়র কূটনীতিক গোলাম মোহাম্মদকে ‘ডিজিটাল জালিয়াতি’র মাধ্যমে গত বছরের শেষার্ধে এথেন্স থেকে বিদায় করার পর দালাল-সিন্ডিকেট দূতাবাসকে পুনরায় তাদের অভয়ারন্যে পরিণত করে। এ বছরের শুরু থেকে আগস্ট অবধি রাষ্ট্রদূত না থাকার পরিণতিতে দায়িত্বে থাকা চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স তারিকুল ইসলাম এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার রাজিব আহমেদকে ম্যানেজ করে দূতাবাসকে ঘিরে রমরমা কায়কারবার পুনরায় চালু হয়ে যায় পুরনো স্টাইলে। দালালদের হাতে জিম্মি নিরীহ প্রবাসীরা তাই আশা করছেন, নতুন রাষ্ট্রদূত তাঁর নিজ গুণে দূতাবাসকে সব ধরণের দালালমুক্ত করবেন এবং খেটে খাওয়া প্রবাসীদের জন্য সব ধরণের সার্ভিস সরাসরি পাওয়া নিশ্চিত করবেন দূতাবাসে।

দূতাবাসকে দালাল-সিন্ডিকেট মুক্ত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়টিই শুধু নয়, এখানকার প্রবাসীদের প্রত্যাশা, নয়া রাষ্ট্রদূত তাঁর মাধ্যমতো উদ্যোগ নেবেন গ্রীস জুড়ে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশীদের বহুবিধ সমস্যা লাঘবে। বিভিন্ন স্ট্রবেরি খামার সহ মালিকের অধীনে যাঁরা রেগুলার কাজ করছেন অথচ বৈধ স্টে পারমিট নেই, তাঁদেরকে শর্তসাপেক্ষে হলেও বৈধ করে নিতে রাষ্ট্রদূত এম জসীম উদ্দিন গ্রীক কর্তৃপক্ষকে ‘কনভিন্স’ করাতে যাতে সক্ষম হন। বলার অপেক্ষা রাখে না, রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদের সময়পোযোগী দৌড়ঝাপ তথা ক্যারিশমেটিক মুভমেন্টের সুফল হিসেবে ২০১৩ সালে গ্রীক সরকার বৈধ করে নিয়েছিল ঐসব বাংলাদেশীদের, যাঁরা নিজ মালিক কর্তৃক গুলীবিদ্ধ হয়েছিলেন বকেয়া বেতনের দাবীতে আন্দোলন করতে গিয়ে।

বিভিন্ন স্ট্রবেরি খামারগুলোতে কয়েক হাজার বাংলাদেশীকে বছরের পর বছর নির্মমভাবে শোষণ করে আসছিল স্বদেশী সুপারভাইজার তথা রক্তচোষা ‘মাস্তুরা’ চক্র। একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ কারো রক্তচক্ষুকে পরোয়া না করে গ্রীক প্রশাসনের সহযোগিতায় মাস্তুরা চক্রের বিষদাঁত ভেঙ্গে দিতে সক্ষম হন। মাস্তুরাদের অনেকের সাথেই যেহেতু ছিল দূতাবাসের ‘ট্রেড মার্কড’ দালালদের দহরম মহরম, তাই অত্যন্ত যৌক্তিক কারণেই সকল প্রকার অপকর্মের কুশীলবদের চক্ষুশূলে পরিনত হয়েছিলেন আজীবনের সৎ কূটনীতিক গোলাম মোহাম্মদ। আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হয়েছিলেন তিনি যে চেয়ারে বসে, তাতেই আজ আছেন নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত এম জসীম উদ্দিন। প্রবাসীদের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর সফল পথচলা কামনা করছেন সবাই।  


জুজুবুড়ি বনাম সিডও সনদ ॥ মিলন আহমেদ ॥

শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫

৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক ‘সিডও’ দিবস উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রি মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, ‘সিডও সনদ বাস্তবায়নে সমাজ এখনো প্রস্তুত নয়’। কথাটি শুনে যেমন চমকে গিয়েছি, তেমনি থমকেও গিয়েছি। মাননীয় প্রতিমন্ত্রি নিজে একজন নারী হয়েও এবং নারীর ক্ষমতায়ন ব্যতিত কোনোমতেই দেশকে মধ্যম আয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া অসম্ভব তা জেনেও কিভাবে তিনি সিডও সনদ বাস্তবায়নে অনিহা প্রকাশ করছেন তা সচেতন দেশবাসীর ভাবনার উদ্রেক করবে বলেই মনেহয়।

‘সিডও’ হচ্ছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সম্পর্কিত সনদসমূহের অন্যতম যার অর্থ দাঁড়ায় ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ’। ‘জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল মানুষ জন্মগতভাবে সমান মর্যাদার অধিকারী’ মহান এই মর্মবাণী কার্যকর করার লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘের সৃষ্টি হয়েছিল। বিশ্বের সকল মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণের মাধ্যমে শান্তি ও প্রগতি নিশ্চিত করাই জাতিসংঘের উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেখা গেল যে, বিশ্বের দেশে দেশে নারী চরমভাবে অবহেলিত এবং দানবের মতো টিকে থাকা পুরুষতান্ত্রিকতা জাতিসংঘের মূল লক্ষ্যকেই চরমভাবে ব্যাহত করছে। তাই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের তাগিদে Convention on Elimination of all forms of Discrimination Against Women ms‡¶‡c CEDAW (সিডও) নামে একটি সনদ ১৯৭৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহিত হয়। মোটকথা হাজার হাজার বছর ধরে চলমান নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার ফসল হল ‘সিডও’ সনদ। অর্থাৎ ‘সিডও’ সনদের মূলনীতি হল উন্নয়ন কর্মকা-ে নারী যুগ যুগ ধরে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে তার যথাযথ স্বীকৃতি দান। বলা যেতে পারে, মানুষের মৌলিক অধিকার ও মর্যাদার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা বিধানের গুরুত্ব উপস্থাপন করা এবং নারীর অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দানই হচ্ছে এই সনদের উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে উক্ত সনদ ১৯৮১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বব্যাপী কার্যকর হতে শুরু হয়। সেই থেকে ৩ সেপ্টেম্বর সিডও দিবস।
 
বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালের ৬ ডিসেম্বর সিডও সনদে স্বাক্ষর করেছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের মতো দেশসমূহেই সিডওর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি কারণ এখানকার নারীরা সবচেয়ে বেশি অধিকারহীন। সনদে স্বাক্ষর করা মানেই নিজ দেশে ‘সিডও’ বাস্তবায়নে অঙ্গিকারাবদ্ধ হওয়া। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, স্বাক্ষরের ৩১ বছরেও সনদের গুরুত্বপূর্ণ ধারাসমূহ বাংলাদেশে বাস্তবায়ন হয়নি। ১৯৯৭ সালে প্রথম এশিয়ান হিসাবে বাংলাদেশের সালমা খান ‘সিডও’ এর চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা ছিল বাংলাদেশের জন্য গর্বের একটা বিষয়। ইসমত জাহান নামে আর একজন বাংলাদেশী কূটনীতিক ২০১০ সালে ব্যাপক সমর্থনের মধ্য দিয়ে ‘সিডও’ এর সদস্য নির্বাচিত হয়ে যথারীতি দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়া ২০০৬ সালে ফেরদৌস আরা বেগমও ১৮৫টি সদস্য রাষ্ট্রের ১৪০টির সমর্থন পেয়ে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট ‘সিডও’ কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। কাজেই বলা যেতে পারে ‘সিডও’-তে বাংলাদেশ ভালমতোই প্রতিনিধিত্ব করে আসছে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সালমা খান, ফেরদৌস আরা বেগম এবং ইসমত জাহান বাংলাদেশের মহিলাদের দুরবস্থার কথা কতটুকু উপস্থাপন করেছেন তা আমরা অনেকেই জানি না। তবে ‘সিডও’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সবারই অবগত থাকা উচিত। আশ্রিতা হয়ে, পরমুখাপেক্ষী হয়ে, বোঝা হয়ে, দুর্বিসহ যন্ত্রণা নিয়ে নারীকে এদেশে বেঁচে থাকতে হয় এহেন অবস্থার পরও এবং তিন দশকের অধিক পূর্বে থেকে জাতিসংঘের কাছে ওয়াদাবদ্ধ থাকার পরও সরকার ‘সিডও’ সনদের প্রধান দু‘টি ধারা ২নং ও ১৬(১) (গ)নং কেন বাস্তবায়ন করছে না তা বোধগম্য নয়। আমরা আশা করেছিলাম এবছর সিডও দিবসে হয়তো আশাব্যঞ্জক কোনো কথা সরকারের কাছ থেকে শুনবো, কিন্তু উক্ত প্রতিমন্ত্রির বক্তব্য আমাদের হতাশ করেছে এবং এদেশের ভাগ্যাহতা নারীর একটু আলোর মুখ দেখার আশা আবারো দূরাশায় পর্যবসিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।  

সনদের ২নং ধারার বক্তব্য হচ্ছে “সংবিধান অথবা অন্য কোনো উপযুক্ত আইনে পুরুষ ও নারীর সমতার নীতি অন্তর্ভূক্ত না হয়ে থাকলে তা অন্তর্ভূক্ত করা এবং আইনের মাধ্যমে ও অন্যান্য উপযুক্ত উপায়ে এই নীতির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।” ১৬(১) নং ধারার (গ) উপধারার মূল বক্তব্য হলো ‘বিবাহের ক্ষেত্রে এবং বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষের একই দায়িত্ব এবং অধিকার থাকবে’। অর্থাৎ দুটি ধারাই সম্পূর্ণরূপে সমতার নীতি বহন করে এবং সেগুলি মানবিক,  যা আরো অনেক আগেই বাস্তবায়ন করা উচিত ছিল। লিঙ্গবৈষম্য মানেই অগণতন্ত্র। নারী-পুরুষের সমতা ব্যতিত বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রই সমৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি, তা পরীক্ষিত। নারী শিক্ষার হার কিছুটা বেড়েছে বলেই যে বাংলাদেশ নি¤œ-মধ্যম আয়ের দেশের তালিকাভূক্ত হতে চলেছে, তাও পরীক্ষিত। তবে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সবদিক দিয়ে নারী-পুরুষের পূর্ণসমতার কোনো বিকল্প নেই। এসব ধ্রুবসত্যকে পাশ কাটিয়ে সরকার ভোঁতা যুক্তি উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে যা দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাবে। সেই ১৯৯৬-৯৭ সালে সরকার যে অজুহাত দেখাতো আজও একই একই অজুহাত দেখাচ্ছে। সমাজ নাকি উপযুক্ত হয়নি। সমাজ কেন উপযুক্ত হয়নি, এর কি কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা আছে? নেই। অথচ নারীর অধিকারহীনতার কারণে সৃষ্ট সমস্যার কথা সরকারের জানা উচিত। রাষ্ট্র যখন নারীকে ক্ষমতাহীন করে রাখবে তখন নারী অসহায় হয়ে থাকবে, তাই স্বাভাবিক। নারী তাই নির্যাতিত। নারীর প্রতি সহিংসতার খুব অল্পকিছুই পত্রিকা পর্যন্ত পৌঁছায় এবং মামলা পর্যন্ত গড়ায়। গত ২ সেপ্টেম্বর তারিখে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১৫ সালের জানুয়ারী থেকে জুলাই পর্যন্ত সাতমাসে নথীভূক্ত নারী নির্যাতনের সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৭টি। এরমধ্যে ধর্ষণের ঘটনা ৫৭৫টি এবং গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৪ জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা করা হয়েছে ৫১ জন নারীকে। যৌতুকের কারণে খুন হয়েছে ১১৬ জন নারী। অন্যান্য বিভিন্নকারণে হত্যা করা হয়েছে ৩৯৮ জন নারীকে। এসব অপরাধের জন্য ধর্ষক-খুনি-নির্যাতকরাই শুধু দায়ী নয়, লিঙ্গবৈষম্যমূলক পারিবারিক আইন চালু রেখে নারীকে ক্ষমতাহীন করে রাখার অপরাধ থেকে রাষ্ট্র দায় এড়াতে পারে না। ঘরে বা বাইরে প্রতিনিয়ত সহিংসতার ঝুঁকির মধ্যে থাকে বাংলাদেশের নারীরা। আর এই সহিংসতার অন্যতম কারণই হচ্ছে নারী ও পুরুষের মধ্যাকার ব্যাপক অসমতা এবং ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা। একই কারণে গোটা সমাজই নারীর বিপক্ষে তাই গ্রাম্য সালিশের নামেও নারীকে নির্যাতন করা হয়, ফতোয়া দেওয়া হয়। বাল্যবিবাহের হার এখানে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ পুলিশের দেয়া রিপোর্ট অনুযায়ী এদেশে বছরে দশ হাজার অর্থাৎ প্রতিদিন আটাশ জন মানুষ আত্মহত্যা করে শুধুমাত্র গলায় রশি দিয়ে আর বিষপান করে। এসব আত্মহত্যার প্রায় সবই যে নারী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের নারীরা আজও এভাবে নির্মম পারিবারিক সহিংসতার শিকার। ঢাকা মেডিক্যালের বার্ণ ইউনিটে সর্বদাই স্বামী কর্তৃক আগুনে পুড়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করে গৃহবধূ। গ্রামে পাটের ক্ষেতে, ভূট্টার ক্ষেতে বা ডোবা-নালায় ধর্ষিতা নারীর লাশ পাওয়া যাচ্ছে। বিষপান করে অথবা সিলিংফ্যানে ঝুলে নারীর আত্মহত্যার ঘটনা এদেশের এখন অত্যন্ত স্বাভাবিক। ৭০ ভাগ নারী এদেশে অপুষ্টি এবং রক্তস্বল্পতার শিকার। প্রসূতি মৃত্যুহার বছরে ২০ হাজার। যৌতুক নামক ভাইরাসে গোটা জাতি আক্রান্ত। নারী হয়ে জন্ম নেয়ার অপরাধে সারাজীবন তাদের নির্যাতিত হতে হয়, নিজের অধিকার এবং প্রাপ্য স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। এমতাবস্থায়ও যদি সিডও বাস্তবায়নের জন্য সমাজ প্রস্তুত না হয় তবে আর কত হাজার নারীর জীবন যাওয়ার পর সমাজ প্রস্তুত হবে তা উক্ত মন্ত্রির কাছে জানতে চাই।

বাংলাদেশ জাতিসংঘের সক্রিয় সদস্য এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কৃতিত্বপূর্ণ অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে, তথাপি সিডও চুক্তির বাস্তবায়ন করছে না বাংলাদেশ। সনদে স্বাক্ষরিত দেশ সমূহকে প্রতি চার বছর পর জাতিসংঘ সিডও কমিটির কাছে সনদ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে রিপোর্ট পেশ করতে হয়। প্রতিবারই সিডও কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য অনেক টাকা খরচ করে বাংলাদেশ উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি প্রেরণ করে। গত ৩১ বছরে বাংলাদেশ মোট ৮ বার জাতীয় সিডও রির্পোট দাখিল করেছে। প্রত্যেক রিপোর্টেই  সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস দেয়া হয়। সর্বশেষ রিপোর্ট দাখিল করেছে মাস চারেক আগে এবছরের মে মাসে। জানা গেছে উক্ত রিপোর্টে পূর্ণ সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস রয়েছে বটে তবে উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্মীয় নেতারা একমত না হলে এটা করা কঠিন। এটি একটি হাস্যকর যুক্তি, যেন জুজুবুড়ির ভয়। বাল্যবিবাহের বিষয়েও উক্ত রিপোর্টে বাবা-মায়ের মানসিকতাকে দায়ী করা হয়েছে, এও আরেক ধরনের জুজুবুড়ির ভয়। এসব হচ্ছে অর্ধেক জনগোষ্ঠীর ভাগ্য নিয়ে তামাশা করা। এভাবে বার বার আশ্বাস দিয়েও সিডও এর গুরুত্বপূর্ণ দু‘টি ধারা বাস্তবায়ন না করার কারণে সিডও কমিটির সদস্যগণ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা সনদ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জন্য যে দুইটি ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তা হল প্রথমতঃ সংবিধানে প্রদত্ত নারী-পুরুষের সমতাকে উপেক্ষা করে সরকারের পক্ষে এখনো বৈষম্যমূলক আইনসমূহকে বজায় রাখা ও সিডও সনদের ২নং ও ১৬(১) (গ)নং ধারার সংরক্ষণ বহাল রেখে বৈষম্যকে আরো জোরদারকরা এবং দ্বিতীয়তঃ আশঙ্কাজনক হারে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধি ও এর নিষ্ঠুরতম বহিঃপ্রকাশ যথা এসিড নিক্ষেপ, ফতোয়া, যৌতুক বলি এবং নারীপাচার রোধে সরকারের ব্যর্থতা। বাংলাদেশের সংবিধান সম্পূর্ণরূপে ‘সিডও’ সনদের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ও সহায়ক। সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে রাষ্ট্রের সব নাগরিক আইনের চোখে সমান। ‘নাগরিক’ বলতে এখানে নিশ্চয়ই পুরুষ বা মহিলাকে আলাদা করে বোঝানো হয়নি। তাছাড়া ২৮নং ও ২৯নং এর সব উপধারায়ও পরিস্কারভাবে নারী পুরুষের সমান অধিকারের বর্ণনা রয়েছে। সংবিধানের ২৮(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন’। কাজেই ‘সিডও’ বাস্তবায়নের কাজ আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্বও বটে। সরকারের এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত কুসংস্কার টিকিয়ে রেখে নারী নির্যাতন বাড়াবে, না-কি ‘সিডও’ এর পূর্ণ বাস্তবায়ন করে এবং সংবিধান অনুযায়ী নারী-পুরুষের সমতাভিত্তিক পারিবারিক আইন চালু করবে। এই মূহূর্তেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত একটি সভ্য জাতি হিসাবে আমরা গড়ে উঠব না কি কুসংস্কারের অন্ধকারে যুগ যুগ ধরে ডুবে থাকব। আইনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসমতা ও নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা শুধু নারী সমাজের প্রতি হুমকিস্বরূপ নয়, বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রগতিতে বিরাট প্রতিবন্ধক। নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক এবং অধিকারের ক্ষেত্রে কোনো তফাৎ নেই, এইরূপ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিষ্ঠা সমাজের সকল ক্ষেত্রে জরুরী। কাজেই একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে অবশ্যই ‘সিডও’ সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরাধিকারে পুত্র ও কন্যার সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা করা এই মুহুর্তের জন্য অত্যন্ত জরুরী।

 
 


দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্ব দিন - মোঃ আতিকুর রহমান

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫

উন্নয়ণ প্রশাসনকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালীকরণ অধিক জরুরী। এই ধরণের প্রশাসনের দূর্বল দিক গুলো যথাযথ সংস্কার করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও গ্রামীন দারিদ্রপীড়িত জনগণের মৌলিখ অধিকার নিশ্চিত করণের পাশাপাশি তাদের জীবন ধারার মান উন্নয়নে এই ধরনের প্রশাসন ব্যবস্থা কার্যকরীকরণ বর্তমান দেশের জন্য একান্ত অপরিহার্য। জনগণের ক্ষমতায়ন, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা ব্যতিত বিক্ষিপ্ত  ও অপরিকল্পিত ভাবে টাকা ব্যয় করে দারিদ্র্য বিমোচন করা সম্ভব নয়। সকল পর্যায়ে গণতন্ত্রায়নের জন্য প্রয়োজন নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার। যে ব্যবস্থায় অসহায়া গরিব মানুষ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে ক্ষমতায় যেতে পারে। যেখানে পুঁজিবাদীদের কু-দৃষ্টি এই কাজের প্রধান প্রতিবন্ধকতা এবং দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রধান অন্তরায়। দেশের শতকরা অর্ধেক মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নীচে স্থিতাবস্থায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ সামঙ্গিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য দারিদ্র্য জনগণের দিকে লক্ষ করে হলেও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকরী ও শক্তিশালীকরণ পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণের প্রসার সাধনে সরকার, ব্যাংক ও এনজিওদের সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করা অধিক জরুরী। এমনিতেই এদেশের জনগণ চলমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানাবিধ বিপর্যয়ের মধ্যদিয়ে কোনরকম দিন অতিবাহিত করছে। এর মধ্যে আবার দূব্যমূল্যের সীমাহীন উর্ধ্বগতি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বাড়ীভাড়া ও জ্বালালি তৈলের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সেগুলির দারুণ সংকটের কারণে বর্তমানে এদেশের জনগণ একপ্রকার দিশেহারা ও ওষ্ঠাগত হয়ে পরেছে।
বর্তমানে পুঁজিবাদীদের কথা মতো মুক্ত বাজার অর্থনীতি গ্রহণ করতে গিয়ে আমাদের মতো দেশগুলি তাদের শর্তের ফাঁদে পরে আতœঘাতী ধ্বংসাক্তক দিকে আমরা ক্রমাগত অগ্রসর হচ্ছি, যা সত্যিই ভয়াবহ ভীতির কারণ। এক্ষেত্রে এদেশে পুঁজিবাদীরা তাদের উৎপাদন পন্যের বাজার সম্প্রসারণ, প্রচার ও প্রসার করছে ঠিকই কিন্তু পক্ষান্তরে আমাদের দেশের উৎপাদিত পন্যের বাজার ধনী রাষ্ট্রগুলিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে তৈরী করছে হাজারে শর্তের দেয়াল। এক্ষেত্রে আমাদের বিকল্প পথ দেখতে হবে, এই ধরনের  বিশাল বৈষম্য রোধে নতুন অর্থনৈতিক নীতি প্রবর্তন করতে হবে এবং নতুন অর্থনৈতিক দর্শনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। যেখানে সামাজিক বাজার অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্র মূল প্রহরীর ভুমিকা পালন করবে।
এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার কেন্দ্রিক উন্নয়ন ভাবনা সংবিধান নির্দেশিত পথে যথাযথ পরিচালিত করতে হবে এ ব্যাপারে নীতি নির্ধারকদের কোন প্রকার টালবাহানা চলবে না, এর জন্য স্থানীয় সরকারের অনুকুলে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও ক্ষমতায়ন যথাযথ প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সম্ভব হলে শতকরা ৪০% রাজস্ব বাজেট সরাসরি স্থানীয় সরকারকে দিতে হবে। সকল সিডিউল ব্যাংকের কমপক্ষে শতকরা ৫-৬ ভাগ দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য দিতে হবে। স্থানীয় সরকারকে গ্রামীন জনগণের জন্য উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তৈরী করতে হবে। স্থানীয় সরকারের সাথে গ্রামীণ অর্থনীতি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির সংযোগ স্থাপন করতে হবে। এগুলো  করতে পারলে দারিদ্র্য বিমোচনের পথ সুগম হবে এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হবে বলে আমরা আশা রাখি। দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে ভুমি সংস্কারের দিকেও সরকারকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জন্য অধিক বরাদ্দ ও বিনিয়োগ বোর্ডকে কার্যকরী করতে হবে। কৃষিপন্য উৎপাদন ও ইহা রফতানির জন্য সরকারকে বিশেষ সহযোগিতা দানের ব্যবস্থা করতে হবে। গ্রামীন অবহেলিত জনগণের জন্য দূর্যোগ তহবিল ট্রাষ্ট গঠন করতে হবে। এক পদ্ধতির শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। জিডিপিতে শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখতে হবে। শর্তহীন বাজার অর্থনীতি বাতিল করতে হবে। উৎপাদিত পন্য ও কৃষিক্ষেত্রে ওপর অধিক ভর্তুকি দানের ব্যবস্থা করতে হবে এই ক্ষেত্রে লাভ ক্ষতির বিষয় গুলো বিশ্লেষন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। আমাদের দেশের সামাজিক পরিবর্তনের ধারক যেমন - ক্ষুদ্র চাষী, প্রবাসী শ্রমিক, ক্ষুদ্র শিল্প মালিক, গামের্ন্টস ও টেক্সটাইল শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি ও পেশাজীবী গোষ্ঠী এদের যথাযথ ক্ষমতায়ন করতে হবে। এদের বাদ দিয়ে দেশে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্রের উচিত দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য এদের হাতকে আগে অধিক শক্তিশালী করা ।

Picture
বর্তমানে আমাদের দেশের নীতি-নির্ধারক, রাজনীতিবিদ, আমলা, উচ্চবিত্ত এদেরকে কথায় না সত্যিকার অর্থে  দেশ প্রেমিক হতে হবে এবং ধনী ও গরীব, গ্রাম ও শহরের মধ্যে বৈষম্য রোধে একদৃষ্টি মনোভাব ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে । মূলত: এই বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে ভুমি ব্যবস্থার অসম মালিকানা ও বন্টনের  মাধ্যমে, ট্যাক্সের টাকা প্রতিরক্ষাসহ  নীতি-নিধারকদের ব্যক্তিগত অন্যান্য খাতে অধিক ব্যয় এর মাধ্যমে। যদিও আমরা সকলেই ভাল ভাবে জানি, এদেশে পুঁজিবাদীদের স্বার্থ রক্ষা করে এই রাষ্ট্রের একার পক্ষে দারিদ্র্য হ্রাস করা করা সম্ভব না। তারপরও আশা রাখি যদি এদেশের নীতি নির্ধারকরা দারিদ্র্য বিমোচনকে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডায় রেখে কৃষি প্রধান আমাদের এই দেশে প্রয়োজনীয় কৃষি ব্যবস্থার সংস্কার, সার্বজনীন আধুনিক শিক্ষা, কৃষি ও কারিগরী শিক্ষা সবার জন্য নিশ্চিত করণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও স্থানীয় উন্নয়নে স্থানীয় প্রশাসন দ্বারা বাজেট প্রণয়ন এবং তা যথাযথ বাস্তবায়ন করা পথ তৈরী করা যায় তবে দারিদ্র্য বিমোচনের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে মুক্ত বাজার অর্থনীতির নামে পুঁজিবাদের থাঁবা থেকে দেশ ও জাতিতে মুক্ত করতে হবে। যতদিন না পর্যন্ত এই থাঁবা থেকে আমরা মুক্তি না পাচ্ছি ততদিন পর্যন্ত দারিদ্র্যতা হ্রাস করা সম্ভব হবে না। এই কাজটি বাস্তবায়ণে সরকারকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সকল পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের মতামত ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে নতুন অর্থনৈতিক দর্শনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং দারিদ্র্য বিনোচনে উদ্যোগী হতে হবে এই ক্ষেত্রে নিজেদের সমস্যা নিজেদেরকেই সমাধানের পথ আবিস্কার  করতে হবে।
অতি স্বল্প সময়ে মধ্যে আমাদের এই ছোট দেশের ঈষণীয় অগ্রগতি ও বড় বড় সাফল্য যা অন্য দেশকে ভাবিয়ে তুলছে। আবার অনেকের কাছে আমাদের এই অগ্রগতি তাদের চোখের শুলে পরিণত করছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে ও বর্হিবিশ্বে দেশকে নিয়ে না ষড়ষন্ত্র চলছে, যা কাম্য নয়। ৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বড় সাফল্য। আমাদের দেশের কৃষকরা পারে বাম্পার ফসল ফলাতে, আমাদের আছে বিশাল মানবসম্পদ এদেরকে যদি একটু সহযোগিতা করা যায় এবং স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মের জন্য উপযোগী করে গড়ে তোলা যায়, তবে এদেশকে  ঘুড়ে দাঁড়াতে তেমন বেশি সময় লাগবে না। যে দেশের মাটি সোনার চেয়েও খাঁটি এবং যে দেশের মাটি থেকে সোনা ফলে যে দেশ কেন পিছিয়ে থাকবে, ঋণের জন্য পুঁজিবাদীদের ঋণের বিশাল ফাঁদে পা দেবে ? আমাদের সামাজিক পুঁজিকে কাজে লাগাতে উদ্যোগী হতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলো যে ভাবে নিজেদের ভাগ্য নিজেরা রচনা করেছে এই দর্শনে আমাদের কর্মপরিধি ঠিক করতে হবে। দেশে বিরাজমান টলমলে রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েমের চেয়ে সামাজিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিকে বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। সামাজিক গণতন্ত্র যেসব দেশে বিরাজমান সেইসব দেশের জনগণ তাদের সর্বনি¤œ চাহিদা মিটিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। যার কোন কর্মসংস্থান নেই সেইও দারিদ্র্যের অভিশাপে অভিশপ্ত হন না। এই ক্ষেত্রে সমাজই এগিয়ে আসে ঐসব দুস্থ ও দারিদ্র্যদের সাহায্যে এবং তাদের প্রয়োজন মেটাতে। আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের দেশের নীতি নিধারকরা এই ধরনের সৃষ্টিশীল উদ্যোগ গ্রহণের দিকে নজর দেওয়ার সময়ই পায়নি। আমাদের দেশের নীতি-নির্ধারকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ ক্ষমতার উৎস এইসব জনগনের ভাগ্য নির্মানে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করুন এবং এদেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করুন। শুধু আপনাদের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যায়ের প্রভাব-বৈভর হিসেবে না দেখে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে মজবুত এবং স্থিতিশীল করুন, পুঁজিবাদী ও প্রভুরাষ্ট্রের শক্তির মনতুষ্ঠির চেষ্টা থেকে বিরত থাকুন এবং এদেশের ১৬ কোটি মানুষের ওপর আস্থা ও ভরসা রাখুন । গ্রামীন অবহেলিত জন মানুষের ভাগ্য নির্মানে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা ব্যতিত দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সহ জাতীয় উন্নয়ন অর্জন করা সম্ভব নয়। এই ক্ষেত্রে দেশের রাজনৈতিক নেতাদের কাছে অনুরোধ আপনাদের রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে প্রভুরাষ্ট্রের গোলামী ভুলে দেশের সার্বিক উন্নয়নে দেশকে ভালবাসুন পাশাপাশি ক্ষমতার উৎস জনগণের সার্বিক মঙ্গল সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন, দারিদ্র্য বিমোচনই হোক আপনাদের দেশ ও জাতির অর্থনীতির মুক্তির জন্য প্রধান এজেন্ডা।  


Nagar sarkar & BD's administrative structure prospect - Abu Taleb

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫

Once, Bangladesh was a rural country; but now, Bangladesh is a rural-urban country; as we see, the villages in the unions are constantly changing in many ways, and the fast pace of urbanization is a reality in Bangladesh. As predicted, 50% of the Bangladesh will be urban by the year 2020, and Bangladesh will fully become an urban country by the year 2050. In fact, right now about 35% of the Bangladesh’s people live in the urban areas; by 2020, 50% of the people will live in the urbanized areas, and by 2050, 100% people will live in the fully urbanized Bangladesh. Therefore, facing and shaping the grave challenges in the urban areas and facing and shaping the challenges in the rapidly changing rural areas simultaneously, Bangladesh needs now to establish a dynamic administrative structure at its all administrative layers. Bangladesh also needs to systematize its disorganized local administrative units and layers, and it needs to reduce the number of
 local units and layers. Towards that end, attached please find a proposed dynamic systematized administrative structure of Bangladesh prepared on the basis of predicted/projected changes and challenges by the years 2020 and 2050. The structure has two parts; one part of the structure is designed for the rural-urban Bangladesh, and another part of the structure is designed for the future 100% urban Bangladesh. In the proposed graphical structure, it is clearly shown that the rural units in Bangladesh will be progressively abolished; in other words, the unions and villages will be transformed into nagars (urban units); and, ultimately, Bangladesh will consist of a number of nagars (urban units) and nagar sarkars only. As designed, Bangladesh will have a two-layered local government system, and, it could have a reduced number of local administrative units as desired, as needed. As a result, the operational costs, on the one hand, will be reduced and the
 developmental costs, on the other hand, might be increased. So, we sense that the importance of the proposed structure is increasing among the different groups of peoples due to the CDLG’s targeted campaign since 1997. It should be mentioned that the proposed systematized administrative structure was prepared by Mr. Abu Taleb and presented by him at a national seminar held in Dhaka on 13 January 1997. In reality, we are now more confident that either of the two proposed administrative structures, if implemented now, could shape the future of Bangladesh and its peoples. However, if the attached graphical governmental structures (one for the rural-urban Bangladesh and another for the future  urban Bangladesh) and their significances are not fully clear to you, please let us know your informational questions on them, and feel free to express your opinions on them as well. Keep in mind, since the future Bangladesh means an urban Bangladesh, everyone
 should know understand the proposed administrative structure prospect of the urban Bangladesh.
With best regards,
Bapsnews, New York


ফাগুনে দেখা বৈশাখে প্রেম - জুলি রহমান

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৫

ভূগভর্স্থ ফিফটি নাইনের এ্যাস্ক্যালেটর বেয়ে উপরে ওঠেই জয় ভাবে কোথায় দেখেছিলাম
এর আগে তাকে? আজ আবার দেখা।কিন্তু ক্ষনিকের। ট্রেনটি ছেড়ে দিলো ; আশ্চযর্ কেনোই বা দেখা হলো তবে?

জয়ের মনটা খারাপ হয়ে গেলো।সেভেন ট্রেনে বসে সে হরেক শব্দে নিজেকে ডুবিয়ে
রাখলেও অপ্সরীকে ভুলতে পারছেনা।ট্রেনটি
থেমে আছে রেল কতর্ৃপক্ষ বিলম্ব হওয়ার কারন বলছে আর বার বার ক্ষমা চেয়ে নিচেছ!জয় ভাবছে ইস সিক্স ট্রেনটি কেনো
এমন লেট করলোনা? আমি ঐ অচেনা অনিন্দ অনন্যাকে আরেকটু দেখে নিতাম।
তাঁর সান্নিধ্যের নিবিড় আননদটুকু আরো খানিক্ষণ উপভোগ্য হয়ে ওঠতো।

প্রচন্ড শীতের দাপটে তীক্ষ্নতর চাবুকের মতো শরীরের বহিরাংশ যেনো কেটে নিয়ে
যেতে চায়। তবুও দরজার কাছ থেকে ওঠে অন্যত্র বসার বিন্দুমাত্র ইচছা হলোনা। যেনো বার বার হৃদয়ের গভীর চিত্ততল থেকে একটি আশা প্রবল হয়ে এ কথাই উত্থিত হতে লাগলো হয়তো বা ভুল করে ঐ অপরিচতা মেয়েটি সেভেন ট্রেনে এসে বসবে
তারই বিপরীথমুখী হয়ে।

জেবা টিকেট কাটতে জ্যাকসনহাইট যাবে ।ম্যানহাটন কসকোতে  শপিং করতে করতে ভাবে জেবা ।বাবার কথা  .!
এবার আর তাঁর
উপেক্ষা করার কোনো উপায় নেই।বন্ধু নোহাকে বলে জেবা।
নোহা আমি বুঝতে পারছিনা তুই কী করে একটা অপরিচিত জনকে নিজের স্বজন করে
নিবি? তা-ও কী-না বাংলাদেশী ছেলে!
জেবা বাবা মায়ের স্বপ্নতো সন্তানের পূরণ করতেই হবে।আমার বাবা মা নিশ্চয়ই অযোগ্য কোনো ছেলের কাছে আমাকে পাত্রস্থ করবেন না।

আমি পারবনা এই আমেরিকায় বাই বণর্ হয়ে
একজন বাঙালীকে জীবনের সাথে জড়াতে।
অ মাই গড! প্লীজ সেভ মি।
জেবা হাসে ।দেখাই যাকনা এই ডিজিটাল যুগে ও আমি বিয়ের পরই প্রেম করতে চাই।

জয়ও টিকেট কাটবে দেশে যাওয়ার জন্্য কিন্তু  এই মূহূত্তের্ সে ডিসিশান চেইন্জ করলো দেশে সে যাবে না।ঐ মেয়টির সংগে
যদি তার আবার দেখা হয় সেই আশায়।জয়
সেভেনটি থ্রী স্ট্রীটের সোনালী ট্রাভেলস থেকে
বের হয়ে  সেভেন্টি টুর দিকে মোর নিতেই জেবা সোনালী ট্রাভলসে ঢুকে।

জয়ের বাবার ফোন আসে বাংলাদেশ থেকে।
হ্যালো বলতেই  জয়ের বাবা প্রফেসার জামান বলে ওঠেন কী বাবা তোমার আসার ডেট কনফামর্ হলো? আমাকে জানাও। আমি
জাকির ভাইকে পাকা কথা দিয়েছি। আমার
কথার  উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁরা স্বপরিবারে দেশে আসছে।

এপাশ থেকে জয় বলে, আব্বু আমার একটু
প্রবলেম হয়ে গ্যাছে তাই আর কয়টা দিন দেরী  হবে।

ফোন ছেড়ে দিয়ে জয় ভাবতে থাকে কেনো এই অপরুপার সাথে দেখা হলো? হলোই যদি কথা কেনো হলো না?তাঁর দু চোখ বষর্ার ভরা নদী এখন আমাকে কেবলই ভাসিয়ে নিয়ে যাচেছ কোন অজানার  ঠিকানায়।জয়ের চোখের কোনে যে দৃশ্যটি
জীবন্ত হয়ে আছে তা হলো মেয়েটির ক্ষীন স্ফিত শান্ত সুশীল হাসি। যে হাসির মাধ্যমে
তাঁর হৃদয় দুয়ার খুলে দিয়ে আমার ঘুমন্ত মনটিকে জাগিয়ে দিয়ে গেলো। এখন আমি
নিদ্রাহীন কাল কীভাবে কাটাবো?

আজ জেবার বাবা মা ভাই বোন তৈরী
হচেছ স্বপরিবারে দেশে যাওয়ার জন্য!

জয় ম্যানহাটনের  খোলা চত্তরে একটা পাথরের উপর বসে ।হেরাল্ড পাকের্র রুপ পরিগ্রহ করতেই বিস্তৃত কঠিন ধাতব দীপ্তিতে ফেটে পড়া আকাশে চোখ রাখে সে।
এতো যে রোদের দ্বীপ্তি তাও গায়ে কোনো উত্তাপ তৈরী করেনা।শুধু আগাগোরা এক নীলের মিরাকল্ ।জয়ের এতো ভালো লাগছে কেনো এই পৃথিবী?তবে কী সে ফাগুনের স্পশর্ পেলো?একেই কী বলে প্রেম?মনের কোনে একটা
মেঘ ছেঁড়া কাগজের মতো হঠাৎই উড়ে এসে বসলো। আচছা ঐ মেয়েটি যদি কারো বিবাহিতা বৌ হয়তো লাভ কী হলো?
এই প্রথম জয় নিজেকে ভীষণ বোকা মনে
করলো। এবার সে উঠে দাঁড়ায়।

এয়ারপোটের্ এসে জেবার বাবা আবার প্রাক্তন বন্ধু প্রফেসর জাকির সাহেবকে কল দেন।
আমরা রওয়ানা দিয়ে দিলাম ।দোয়া করবেন।

জয়ের বাবা অস্থির হয়ে ওঠেন। ছেলেকে আবার কল করেন।
শোন বাবা তোমার ভাবি শ্বশুরের কাছে আমাকে ছোট করোনা। তাঁরা আজ রওয়ানা
দিয়েছেন।আর তুমি টিকেট কনফামর্ করলে না।তবে কী তুমি আমার অবাধ্য হবে? বলেই জয়ের বাবা ফোন কেটে দেয়।

জয় ভাবনায় পড়ে যায়।বাবার অবাধ্য কখনো সে হয়নি এখন কোথায় পাবো তাঁর ঠিকানা?

জেবাদের বাড়িতে এক প্রকার বিয়ের আনন্দ।জাকির সাহেব স্বপরিবারে ঢাকা সিটিটা ঘুরে ঘুরে দেখেছন দীঘর্ দশ বছর পর।

জয় চলে আসাতে জামান সাহেবের মনের কোনে এক স্বস্থিরতা ফিরেএসেছে।

তিনি ছেলেকে বলেন ড্রাইভারকে বলে দিচিছ তুমি একটু যমুনা ফিচার ঘুরেএসো।
কিছু কেনাকাটাও হলো আবার দেশের পরিস্থতিটাও দেখে নিলে। তবে একা কোথাও যেওনা।

জেবা ঘুরে যমুনা ফিচার শপিং মলটা দেখলো।কিছু কেনাকাটাও করলো।

স্বচছ কাঁচের এলিভটরে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জেবা।

দূর থেকে জয়ের দষ্টি পড়ে জেবার উপর।জয় ভূত দেখার মতোই চমকে উঠে এটা কীকরে সম্ভব?সেই মেয়েটি এখানে?হ্যা সেই তো!

জয় দৌড়ে কাছে যেতেই ওরা গাড়ি ছেড়ে দিলো।

আজ জয় দেখতে যাবে তাঁর হবু স্ত্রীকে কিন্তু তাঁর মন পড়ে রইলো বর বার দেখা সেই ষোড়শীর কাছে।

জয় মনে মনে ভাবে  কেনো আমার এমন লাগছে?মনে হচেছ  ওকে ছাড়া আমার বেঁচে থাকাই বৃথা।কেনো আজ আবার তাঁর সংগে এখানে দেখা? কে এই রহস্যময়ী নারী?  বাবার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে না করলে
বাবার মান সম্নান বাঁচবেনা। কিন্তু আমি ঐ মেয়েকে না পেলে আমার এ জীবনের কোনো
দাম নেই। কাল আমি তাঁকে এই কথাটাই বুঝিয়ে বলবো।

জেবার ঘুম আসছেনা কাল তাঁরজীবনের চরম ফায়সালা। বাবার সুখের মূল্য দিতে গিয়ে তাঁর জীবনটা যদি নরকে পরিনত হয়?
ঐ ছেলে আমেরিকায় থাকে অথচ বাবা তাঁকে একটি বার দেখার প্রয়োজন বোধ করলো ন? বাবার বন্ধু প্রীতির প্রশংসা করতে হয়।

জেবাদের বাড়িতে হৈ চৈ পড়ে গেলো।আজ তাঁদের বড় মেয়ের আথর্ বলে কথা।অবশেষে
জয় ও তাঁর পরিবার কণে বাড়িতে এলো।
বেশ গুছানো পরিপাটি ঘরটি জয়ের খুব
পছন্দ হলো কিন্তু মেয়েটিকে কী করে তাঁর
মনের কথা খুলে বলবে?কতো আশায়বুক বেঁধে যে বধূ হবার স্বপ্ন দেখছে তাঁর একটি কথায়
সব তছনছ হয়ে যাবে।কিন্তু আমি -ই-বা ক করতে পারি?
জয়ের সাত পাঁচ ভাবনার ভেতর কণেকে নিয়ে এক সময় হাজির হলেন গৃহ কতর্ৃ মিসেস জাকির।
জেবা অতি ঘরোয়া স্বাভাবিক সাজেই জয়ের
মুখোমুখি বসলো।জয় তাঁর ভাঙা হৃদয় নিয়ে আকুতি ভরা চোখে একবার তাকাতেই চার
চোখের দৃষ্টি এক হতেই যা সে দেখলো তাতে সে নিবর্াক নিথর হয়ে অপলক শুধু
চেয়েই থাকলো।আবার যদি সে হারিয়ে যায়;
এই ভয়ে সে দৃষ্টিকে স্থবির করে রাখলো এক জোড়া ভ্রমর কালো রেটিনায়!


দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে আইসিটি মিনিস্টারের শিষ্টাচার !

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৫

মাঈনুল ইসলাম নাসিম : ৫৭ ধারা যে দেশে কখনো কখনো ১১৪ বা ২২৮ ধারায় রূপ নেয়, মতপ্রকাশের অবাধ(?) স্বাধীনতার সেই দেশে নাকি অনেক কিছুই চেপে যেতে হয়। দেশ এবং জাতির জন্য লজ্জাজনক বিষয়াদিও নাকি মাঝেমধ্যে ‘ইগনোর’ করতে হয় লেখক-সাংবাদিক হয়েও। শত সহস্র ছবির ভিড়ে এই ছবিটি নিয়ে বিশেষ শ্রেনীর চাটুকারদের অবসার্ভেশন এমন হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। চাটুকারিতার পাইপলাইন ক্লিয়ার রাখতে এবং প্রবল ক্ষমতাধর আইসিটি মন্ত্রনালয়ের রোষানলে পড়তে চান না বলেই হয়তো অনেকেই রুচি ও বিবেকবোধের মাথা খেয়ে ছবিটি দেখেও না দেখার ভান করেছেন। প্রবাসীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ছাড়াও বাংলাদেশের সাথে বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক বিষয়াদি নিয়ে মাথা ঘামাই বলে লিখতে হলো ‘অপ্রিয়’ এই ইস্যুতেও।

Picture
স্যোশাল মিডিয়া সহ বাংলাদেশের গনমাধ্যমে ইতিমধ্যে প্রকাশিত এই ‘নেক্কারজনক’ ছবিটি ক্যামেরাবন্দী করা হয় গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে। চীনা অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান ও পরিকল্পনায় থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং সার্বিক দিক নিয়ে আলোচনা করতে ঢাকা থেকে এখানে এসেছিলেন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ২৭ আগস্ট বৃহষ্পতিবার বেইজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি মিলিত হন চীনের ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড আইটি মন্ত্রনালয়ের ডেপুটি মিনিস্টার লিউ লিহুয়ার সাথে। জুনাইদ আহমেদ পলক এবং লিউ লিহুয়া দু’জনেই প্রতিমন্ত্রী তথা সমান মর্যাদাসম্পন্ন হলেও একজনের বসার স্টাইল বাইল্যাটেরাল শিষ্টাচার বহির্ভূত হওয়ায় দৃষ্টিকটু ঠেকেছে খোদ চীনাদের কাছেই।

চীনা ডেপুটি মিনিস্টারের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সেদিন বাংলাদেশের ‘ইয়ঙ্গেস্ট’ ডেপুটি মিনিস্টার তার চাইনিজ কাউন্টারপার্টের ‘বডি ল্যাংগুয়েজ’ আমলে না নিয়ে ‘প্রচলিত শালীনতা’র গন্ডি পেরিয়ে একতরফাভাবে ‘পায়ের উপর পা’ তুলে বসে কথা বলেছেন। বৈঠকে পা তুলে বসতেই পারেন যে কেউ কিন্তু সেটা অবশ্যই নির্ভর করবে সমকক্ষ কাউন্টারপার্টের ওপরও। প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ‘বডি ল্যাংগুয়েজ’ চীনা মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের নিকট ‘দৃষ্টিকটু’ লাগার বিষয়টি বেইজিং থেকে এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র। সাইকোলজি এবং বডি ল্যাংগুয়েজ যেখানে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে একে অপরের পরিপূরক, সেজন্য বিষয়টিকে ছোট করে না দেখে বাংলাদেশের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা আগামীতে আরো সতর্ক হবেন, এমন পরামর্শ চীনা মিনিস্ট্রি অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড আইটি’র সাথে সংশ্লিষ্ট জনৈক বাংলাদেশী এক্সপার্টের। 


এথেন্সে নয়া রাষ্ট্রদূত, দালাল-সিন্ডিকেটের পুনঃদখলমুক্ত হোক দূতাবাস

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

এথেন্সে নয়া রাষ্ট্রদূত, দালাল-সিন্ডিকেটের পুনঃদখলমুক্ত হোক দূতাবাস

মাঈনুল ইসলাম নাসিম:নিয়োগ পাবার দীর্ঘ ৬ মাস পর অবশেষে এথেন্সের বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগ দিয়েছেন নয়া রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। ৩১ আগস্ট সোমবার গ্রীসের রাজধানীতে অফিস করেছেন প্রবল সংস্কৃতিমনা মেধাবী এই কূটনীতিক। দিল্লী, ইসলামাবাদ, টোকিও এবং ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ মিশনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলভাবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই পেশাদার ডিপ্লোম্যাটকে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গ্রীসে পাঠাবার সিদ্ধান্ত হয় ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ৬ মাস বিলম্ব হবার সুযোগে এথেন্সের কুখ্যাত দালাল-সিন্ডিকেট চক্র পুনরায় দখলে নিয়ে নেয় দূতাবাসের নিয়ন্ত্রণ।

চলতি বছরের শুরু থেকেই রাষ্ট্রদূত না থাকার পরিণতিতে দায়িত্বে থাকা চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স সহ দূতাবাসের দুর্নীতিবাজ কয়েকজনকে ম্যানেজ করে আগেকার সেই চিহ্নিত দালাল চক্র তাদের পুরনো স্টাইলে অপকর্মের অভয়ারন্যে পরিণত করে দূতাবাসকে। মুখচেনা ঐ দালালদেরকে দূতাবাস থেকে বিতাড়ন করতে গিয়েই গত বছর ভয়ানক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন ২০১৩-১৪ দায়িত্বপালনকারী সফল রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদ। একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আজীবনের সৎ এই মানুষটির বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিতভাবে নারী কেলেংকারীর মিথ্যা অভিযোগ এনে রাতকে করা হয় দিন আর দিনকে করা হয় রাত।

মূলতঃ ২০১৪ সাল ছিল গ্রীস তথা ইউরোপের প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য, একইসাথে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জন্য একটি কলংকের বছর। গ্রীসের কুলাঙ্গার কিছু দালালদের সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের পাতা ফাঁদে তখন পা দিতে হয় সেগুনবাগিচাকে। পাসপোর্ট পিসি-কেনাবেচা দুই নাম্বার এমনকি তিন নাম্বার সার্টিফিকেট বানিজ্যের মাধ্যমে ২০১১-১২ ভরা মৌসুমে দালালরা দূতাবাসকে ঘিরে লাখ লাখ ইউরোর যে রমরমা বানিজ্য গড়ে তুলেছিল কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ যোগসাজশে, তার ছন্দপতন ঘটান অকুতোভয় কূটনীতিক গোলাম মোহাম্মদ। যে কোন মূল্যে তাঁকে সরাতে তাই মরনকামড় দেয় দালাল-সিন্ডিকেট। হোম-মেইড ভূয়া অডিও ক্লিপ তৈরী করে ঢাকায় পানি ঘোলা করার পাশাপাশি জনৈক বাংলাদেশী মহিলাকে দিয়ে তথাকথিত যৌন নিপিড়নের বানোয়াট অভিযোগ আনা হয়।

প্রভাবশালী দালালচক্র অর্থ ও উপঢৌকনের মাধ্যমে আগে থেকেই হাত করে রাখে ঢাকার কয়েকজন ব্যক্তিবিশেষকে। এরই মধ্যে ঢাকা থেকে এথেন্সে পাঠানো হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। তাদেরকেও অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে নেয় এথেন্সের দালাল-সিন্ডিকেট। সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশের খোদ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় যেখানে তার সৎ-নির্দোষ কর্মকর্তার পাশে থাকেনি, সেক্ষেত্রে যা হবার তাই হয় গত বছরের শেষার্ধে। একাত্তরের রণাঙ্গণের বিজয়ী বীর গোলাম মোহাম্মদ ‘চাপিয়ে দেয়া’ ফ্রেব্রিকেটেড কলংক মাথায় নিয়ে বিদায় নেন এথেন্স থেকে। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের নেক্কারজনক আনাড়িপনায় সত্যিকারের কলংক মাখা হয়ে যায় লাল-সবুজ পতাকায়।

রাষ্ট্রদূত গোলাম মোহাম্মদের দুর্ভাগ্যজনক প্রস্থানের পর দালাল-সিন্ডিকেট কর্তৃক পুনরায় দখলকৃত বাংলাদেশ দূতাবাসেই এখন থেকে শোভা বর্ধন করবেন নয়া রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। তাঁর হাতেই থাকবে স্টিয়ারিং। অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞে ভয়াবহভাবে নিপতিত রাষ্ট্র গ্রীসের খেটে খাওয়া মেহনতী প্রবাসী বাংলাদেশীদের সুখ-দুঃখের কতটা সাথী হবেন নতুন এই অভিভাবক, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তিনি কি পারবেন দূতাবাসের সকল সার্ভিসকে শতভাগ দালালমুক্ত করতে ? বাংলাদেশ ভিত্তিক রাজনীতি চর্চার কলংক আর জেলা-থানার ইজম-আঞ্চলিকতার বিষবাষ্প থেকে তিনি কতটা মুক্ত থাকবেন সক্রেটিসের দেশে ? গ্রীস-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন তাঁর মেধাকে কিভাবে কতটা কাজে লাগান, সেটাও বলে দেবে সময়।


শরৎ - ডা.সুরাইয়া হেলেন

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০১৫

শরৎ,জলহীন মেঘনীল আকাশ,
নদীর পারের শ্বেত শুভ্র কাশ !
পেঁজা পেঁজা তুলো তুলো মেঘ সাদা সাদা,
কমলা রং বোঁটা শিউলী দুধ-সাদা !
হালকা রং গোলাপী স্থল-পদ্ম,
ঘাসের ওপর পড়েছে শিশির সদ্য !
নদীর জলে আকাশের সুনীল ছায়া,
আকাশের নীলে মেঘের ভেলার কায়া!
বাবা-মায়ের মুখের নির্মল হাসি,
ভাইবোনের খুনসুটি বাঁজায় বাঁশি !
ভালোবাসা হাসি-খুশি সুখ-আনন্দ,
বিরহের দুখ কষ্ট-হারা ছন্দ !
এই নিয়েই শরৎ আসে বাংলায়,
শিশির অশ্রু ঝরিয়ে নেয় বিদায় !

suraiya_helen লেখক ডাঃ সুরাইয়া ‍‍‍‍হেলেন