Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

থ্যাংক্স গিভিং - জুলি রহমান

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৫

থ্যাংক্স গিভিং
উৎসগর্ে - বিশেষ বোদ্ধাজন শব্দের কারিগর- : খোন্দকার আনোয়ার হোসেন।
জুলি রহমান
জ্যামাইকা হীল সাইড সাথফিন ব্লোবাডর্!
বলেছি , বসে আছে সবে ;কবির প্রতিক্ষায়।
বাচ্চারা ফুল নিয়ে, নারীরা খাবার হাতে।
আমি আনোয়ার টাকর্ীর রেসিপি নিয়ে।

কবি আসবে আসর জমবে; গান ও কবিতায়।
গীতিকাব্য হলে মন্দ হয়না ।আজ  তবে-
থ্যাংক্সগিভিং এর উপর হলেই ভালো হয়।

Picture

মাথা নস্ট সেলিমা আশরাফ যেখানে
সেখানে আমার গান? বড়ো বেশী বেমানান।
হতে পারে থ্যাংক্সগিভিং কেনো বা কী?
কোথায় এর বুৎপত্তিগত মানে লোকানো;
বতর্মান বেড়ে ওঠা প্রজন্মের  কাছে তাই
বলে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ।কেবল নিতে পারি
বড়জোর আমরা।

ভাবনায় ব্যাকুল পরাণ ; চৈত্রের দ্বগ্ধ মাটি নেই!
তবুও খড়া !ফসলের ফসিল হওয়ার কথা
ইতিহাস হয়ে রইলো?বন বিলাসী টাকর্ী আর কুমড়োর ঝার ঘুচালো তিতকূটে অভাবের ঘ্রাণ?
একান্নবতী পরিবার
গুলো এতে যুথবদ্ধ হলো।
হলো নতুন পরিবার গঠন।
এও কম কিছু নয়।

অভিবাসী হলেও আমরা আমাদের বংশধর
শেকড় পুঁতেছে এই মাটির ভেতর!
সেই শেকড়ের দরাদরিতে অধিকার আমাদের।
অতিমাত্রায় সন্তানদের একত্রিকরন ।
সংস্কৃতির সকল দ্বার উন্মোচন করার।
থ্যাংক্সগিভিং শুধু টাকর্ীতে তাই সীমাবদ্ধ নয়।
থাক পারিবারিক বন্ধন অটুট।
খাবার টেবিল,কষ্টাজির্ত ফসলের ফলন।।
অথর্নৈতিক কাঠামো সেই সাথে বুনিয়াদী মনন।বন্ধুর বন্ধুত্ব ;আদরে যেমন বাড়ে তার মান।


নিজেকে হারিয়ে খুঁজি - এবিএম সালেহ উদ্দীন

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৫

বেশ কিছুদিন গরিয়ে গেল খুব একটা লেখালেখি হয় নি। কারণ নিতান্ত ব্যক্তিগত। যখনই ভাবি কিছু একটা শুরু করবো; অনেক প্রসঙ্গ চলে আসে এবং সবই সংগত। কিন্তু কোনটাই এগুয় না। এমনটি কেন হচ্ছে? বুঝে উঠার আগেই নানাবিধ প্রসঙ্গের করুণ চিত্রগুলো চোখের সামনে ভেসে আসে। মনের মাঝে একধরণের কষ্টবোধ ও আক্ষেপ যেন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে! কেন যেন কোন কিছু শুরু করতে পারছি না। শুরু হলেও শেষ হয় না। এতকাল নিজেকে নিয়ে ভাববার কোন সময় ছিল না। বলা যায়, জীবন সম্পর্কে এক ধরণের উদাসীনতাই সকল ব্যর্থতার মুল কারণ। এ জন্যেই হয়ত: বলা যায় সবকিছু খুঁইয়ে ইদানিং নিজেকে নিয়ে ভাবছি।
 
কেন ভাবছি তাও জানিনা। ভাবনার এলোমেলো বিচিত্রবিভায় মনে হয় পৃথিবীতে মানুষের আগমনের যে উচ্ছ্বাস আছে, তা যেন ক্রমে ক্রমে ম্লান হয়ে যাচ্ছে। আমার চাইতে কত জ্ঞানীÑগুণী, কত বড় মাযের মানুষজন অকালে এ নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। অথচ আমরা এখনো বেঁচে আছি।  
 দুনিয়ার অধিকারহারা  সুখবঞ্চিত মানুষ কী করুণভাবে মৃত্যুবরণ করছে! মানুষের পৃথিবীতে মানুষের বসবাসের যে সুন্দরতম অধিকার থাকার কথা তা ক্রমেই যেন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পৃথিবীর সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষের আয়ু®ক্ষয়ের যে করুণ চিত্র(!) ফুটে উঠছে, তাতে বিমর্ষ  না হয়ে উপায় নেই।
 যে পৃথিবী এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষেরই জন্য নিবেদিত। যেখানে মানুষের নিরাপদ বাসস্থান হওয়ার কথা সেখানে রাষ্ট্রের রক্ষক ও ক্ষমতাসীনদের উগ্র ছোবলে এ পৃথিবী ক্রমান্বয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। নৃশংসতা,বর্বরতা আর মানব বিধ্বংসী কর্যক্রম, দেশে দেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের সৈরতান্ত্রিক আচরণ, অত্যাচার, নির্যাতন- নিষ্পেষণে সাধারণ মানুষের জীবনপাত ঘটছে করুণ ভাবে। এমন একটি দিনক্ষণ নেই যেখানে মানুষের প্রতি নির্যাতন, নিষ্পেষণ আর নির্মম হত্যাযজ্ঞের ঘটনা ঘটছে না। সমাজ ও দেশ থেকে যখন সুশিক্ষা, শিক্ষার প্রভার এবং শিক্ষার মর্যাদা উঠে যায়। অশিক্ষা, কুশিক্ষা ও কুসংস্কারের প্রভাবে সর্বত্র  ছেঁয়ে যায় বর্বররতায়। তখন অনাচার বাড়ে। সামাজিক অবক্ষয়, অনৈতিকতা ও ধ্বংসাত্মক  কার্যক্রম বেগবান হয়। দেশে তখন অপরাধ প্রবণতার পরিবৃদ্ধি ঘটে। তেমনই কোন রাষ্ট্রে যখন মানুষের বেঁচে থাকার নৈতিক অধিকার এবং বাক স্বাধীনতা না থাকে সেখানে অপরাধ মূলক কার্যক্রমের পরিবৃদ্ধি ঘটবেই। দু:খ জনক হলেও সত্যি যে, আজকের বাংলাদেশে অস্থিরতাই ক্রমাগত প্রকট হয়ে উঠছে। সেখানে ন্যায়-নীতির কোন মানদন্ড নেই। দুর্নীতি,স্বজন-প্রীতি, আর নানাবিধ অপরাধ কর্ম বেড়ে যাচ্ছে এবং সামাজিক অসংগতি মাথাচড়া দিয়ে উঠছে।
সর্ব শ্রেণীর মানুষের কথা না ভেবে যখন ক্ষমতাসীনদের সুবিধার কথাই গুরুত্ব পায়! আইন প্রয়োগকারীরা যেখানে সেখানে বর্বর কায়দায় ক্রসফায়ার কিংবা অন্যভাবে ন্যায বিচার ছাড়া বর্বর কায়দায় হত্যাকান্ড চালিয়ে গোটা দেশকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।
 যে সমাজে
 রাষ্ট্রীয়ভাবে যখন বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডকে উচকে দেয়া হয়, অন্যায়ভাবে যেখানে সেখানে সাধারণ মানুষকে নির্যাতনের মাধ্যমে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। সে দেশটি তখন ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যায়। আজকের বাংলাদেশের অবস্থা অনেকটা সে রকম। যেখানে রাজনৈতিক হানাহানি ও সামাজিক অবক্ষয়ের এক চরম পর্যায়ে। মানুষের মধ্যকার সংক্ষুব্ধতার জের হিসাবে সর্বত্রই এখন হতাশাব্যঞ্জক পরিবেশ। একদিকে ধর্মের নাম করে অধর্ম ও বর্বরোচিত হত্যাকান্ডকে উচকে দেয়া হচ্ছে। অনবিজ্ঞ মৌলভী আর বখাটে মোড়লদের ফতুয়াবাজিতে নারী নির্যাতন,শিশু নির্যাতন হচ্ছে। তথাকথিত জঙ্গিবাদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে যেখানে সেখানে বোমাবাজি করবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে অগণতান্ত্রিক সরকারের ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করে নেবার পায়তারা চলছে। সেই সুবাদে
দেশের অন্যমতের রাজনীতির ধারাকে গলা টিপে হত্যা করার চক্রান্ত পাকাপোক্ত হচ্ছে। কোথাও কোন অঘটন ঘটলেই অন্য রাজনৈতিক দলের উপর দোষ চাপিয়ে তাদের উপর চালানো হচ্ছে নির্যাতনের ষ্টিমরোলার। দেশের সর্বত্র বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম, হত্যা,ধর-পাকরের  প্রতিযোগিতা। ফলে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সরকারের দূরত্ব বেড়ে গিয়ে দা-কুমরোর মতো অবস্থা।


Abm_Salehuddn___SaKiL

আসলে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মধ্যে থেকে সাধারণ মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা মনে না রাখাটাই হলো বড় অপরাধ। ক্ষমতাসীনদের বোধগম্যে আসে না যে, সরকার বিরোধীদের অন্যায়ভাবে দমন-পীড়ন, নির্যাতনমূলক আচরণ ও নির্মম পদ্ধতির মাধ্যমে কখনও জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায় না।  জনপ্রিয়তার অর্জনের জন্যে উচিত রাজনৈতিক দল সমূহের প্রতি হিংসাত্মক মনোভাব ও নির্দয় আচরণ বন্ধ করা। মনে রাখতে হবে যে, সাধারণ মানুষের সুখ-দু:খের সঙ্গী হয়ে সব মানুষের মাঝে লীন হয়ে যেতে পারলেই মানুষের ভালবাসা অর্জন করা যায়। আর ভালবাসা থাকলে তার জয় হবেই।
রাষ্ট্রপুঞ্জের হর্তা-কর্তাদের মাঝে এই উপলব্ধি আসা উচিত যে, দেশে সামগ্রিকভাবে শান্তির পরিবেশ উঠে গেছে। মানুষের মাঝ থেকে সুখ ও আনন্দ উঠে গেছে। সর্বদিকে বিরাজ করছে চরম আতংক।
 কোথাও স্বস্থি নেই, শান্তি নেই। মানুষ নির্বিঘেœ ঘুমাতে পারছে না । অথচ সরকার বলছে দেশে কোন সংকট নেই, সমস্যা নেই। চরম অস্থিরতায় সমগ্র দেশজুড়ে আতংকের মধ্যেও কারো দৃষ্টিতে উন্নয়নের জোয়ার বইছে বলে দাবী করা হচ্ছে।  কিন্তু প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশের সর্বত্র এখন যে ত্রাহিভাব বিরাজিত ; তার অপনোদন দরকার।
রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অবক্ষয়ের ফলে সন্ত্রাস,দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অত্যাচার আর নানাবিধ
অপরাধ কর্ম এখন আর এক জায়গায় নেই।  সর্বত্রই ছড়িয়ে গেছে সংক্রামক ব্যধির মতো। নারী ও শিশুদের উপর পাশবিক নির্যাতন যেখানে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। যেখানে সেখানে খুন-খারাবি,ধর্ষন,নারী নারী ও শিশু নির্যাতনসহ নানা রকম অপরাধ বেড়ে গেছে। প্রকৃত হত্যাকারীরা প্রশাসনের সহযোতিায় ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। অবস্থা এতই করুণ যে, কেউ জোর গলায়  বলতে পারবেন না যে, বাংলাদেশ নিরাপদ আছে। অথচ সুবিধাবাদীরা বলে যে, বাংলাদেশে এগিয়ে চলেছে। উন্নয়নের চাকা চলছে পুরোদমে। থেমে নেই।
 বাংলাদেশের বর্তমান করুণ অবস্থার কথা ভাবলে খুব কষ্ট লাগে। একটি স্বাধীন দেশের মানুষের উপর এমন বৈশাদৃশ্য, অগণতান্ত্রিক,অমানবিক ও পাশবিকতা কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়া যায় না। কত রকমের করুণ মৃত্যুর মুখোচ্ছবি যখন তখন ভেসে আসে চোখের সামনে। রাজন, রাকিবসহ জানা-অজানা শিশুদের উপর  পাশবিক নির্যাতনের নানা রকম নৃশংস হত্যাকান্ডের বিভৎস চিত্র দেখে মনে হয় না যে, এটি কোন নিরাপদ দেশ। সর্বত্র শুধু অপরাধ আর অপরাধ। ফতোয়ার নামে কিংবা ধর্মীয় জাত-অজাতের নাম করে বিভিন্ন রকম অনাকাঙ্খিত কার্যক্রম ও অনাচারে ভরে গেছে গোটা দেশ। বাংলাদেশের এত রকমের অকাল মৃত্যুর এই কঙ্কাল উপত্যকাকে যারা বলে দেশে কোন অরাজকতা নেই। সবই স্বাভাবিক আছে ।  চারিদিকে শুধু উন্নয়ন আর সাফল্য!  তাদের এসব  উদ্ভট কথাবার্তা শুনে লজ্জা ও লজ্জা পায়।  মাইকেল রীড এর একটি উক্তি দিয়ে শেষ করবো। তিনি বলেছেনÑ‘ যে সমাজ অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকে, সে সমাজ মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী’। আমাদের প্রত্যাশা বাংলাদেশ যেন একটি অপরাধমুক্ত শান্তিময় ও আত্ম মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বে মাথা উচু করে টিকে থাকে।
লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে অভিনন্দন - সুব্রত বিশ^াস

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৫

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুই শীর্ষ যুদ্ধারপরাধীকে শোলে চড়িয়ে আপনি আপনার বাবার অসমসাহসিকতার পরিচয় দেখিয়েছেন। তাই সমগ্র জাতি আপনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে নানা দোদুল্যমাননতা ও দোলাচল আপনাকে মোহগ্রস্থ করেছে বটে, কিন্তু  শাহবাগ্ গণজাগরনমঞ্চের প্রাণপ্রিয় জনগণ আপনার বিভ্রান্তি শুধ্রিয়ে দিয়েছে। আপনি শীরদাড়া সোজা করে দাঁড়িয়েছেন। উপলব্দি করতে সক্ষম হয়েছেন, শাহবাগের ভাষাই আপনার ভাষা। এরাই আপনার শক্তির উৎস। এটিই আপনার পিতার নির্দেশিত পথ। তাই আপনি ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। পরাশক্তির আবদার ও তাদের অনুগত প্রতিভু জাতিসংঘ প্রধানের অনুরোধের তোয়াক্কা করেননি। সব চক্রান্তের জাল উপেক্ষা করে তাকেও শোলে চড়িয়েছিলেন। পরবর্তীতে কামরুজ্জামানের রায় কার্যকর করার ব্যাপারেও আপনার দৃঢ় অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেনি।  
তারই ধারাবাহিকতায় দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোজাহিদের রায় কার্যকর করায় সমগ্র জাতি আপনাকে কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানাতে একটুও দেরি করেনি। রটনা ছিল এই দুই শীর্ষ কুলাঙ্গারের ফাঁসি শেখ হাসিনা দিতে পারবেন না। বাপ্কা বেটি, অনুঘটকদের মুখে থুথু দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। গাছের একটি পাতাও নড়েনি। যেমনটি আপনার বাবা ৭০ সালে খুলনার মুসলিম লীগের লাল মিয়ার চ্যালেঞ্জে চুড়ি কিনে রাখতে বলেছিলেন।
গত বিজয় দিবসে আপনার এক অনুষ্ঠানে শহীদ ডঃ আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডঃ নুযহাত চৌধুরী বক্তব্য রাখ্ছিলেন। আপনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বাবার খুন হওয়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে অঝর ধারায় চোখের জল ফেলেছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, ’আমি আমার বাবার ¯েœহময় বুকের ওপর ঘুমাতাম। বাবা সমস্ত ¯েœহ উজাড় করে দিয়ে জড়িয়ে ধরে আদর করতেন। খুনীরা বাবাকে ধরে নিয়ে গেল। বাবার সেই স্œেহময় বুকখানি বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ঝাঝরা করে বাবাকে ওরা খুন করলো। সেই থেকে আমার বুকের মধ্যে পিতার মমতার অভাব ও খুনের জ¦ালা বহন করে চলেছি। আজকে আমি আপনার কাছে কোন কিছু চাইতে আসিনি। হাজার হাজার শহীদের সন্তানদের হয়ে একটিই চাইতে এসেছি। আপনি আমাদের পিতৃহন্তাদের বিচার করে দেন। সভায় আসার সময় মাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মা আজ আমি প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে যাচ্ছি, কি বলবো সেখানে। মা বলেছিলেন, বেশি কিছু বলিসনা, কারণ তিনিও তো আমাদের মতো স্বজনহারা দুঃখী। তাই বলেছিলেন শুধু বলবি, দেশটাকে যেন মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন বাংলাদেশ করে দেন।
ডঃ নুযহাত যতক্ষণ বক্তব্য রেখেছেন এবং কেঁদেছেন আপনার চোখ দিয়েও অশ্রু গড়িয়ে পড়তে আমরা দেখেছি। ডঃ নূযহাতের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ এবং আপনার অন্তরের স্বজন হারানোর অনুতাপ একাকার হয়ে গেছে সেদিন। তাই চোখের পানি আট্কিয়ে রাখতে পারেননি। বার বার রুমাল দিয়ে চোখের জল মুখতে হয়েছে। বক্তৃতা শেষে তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উভয়ের দুঃখ লাঘব করার চেষ্টা করেছেন। ডঃ নুযহাতের চোখের পানি মুছে দিয়েছিলেন। সেদিন বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে তাকে কি শান্তনা এবং আশ^াস দিয়েছিলেন জানিনা। তবে দুই যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর করায় বুঝতে অসুবিধা হয়নি আপনি সেদিন ডঃ নুযহাতকে ধরে কি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। চোখের জলের ভেতর দিয়ে সেদিন আপনার মনে যে প্রতিজ্ঞা দৃঢ়মূল হয়েছিল সম্ভবত তারই অভিব্যক্তি দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের  রায়। রায়ের পর ডঃ নুযহাত, শহীদ জননীর ছেলে সহ অজ¯্র শহীদ সন্তানেরা চোখের জলে আপ্লোত হয়ে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞা জানিয়েছে। তবে এবারে তাদের কান্না ছিল সুখের কান্না। চল্লিশ বছর পর হলেও তাদের বৃকের দহন কিছুটা লাঘব হয়েছে যেমন সত্য, সমগ্র জাতি দায় মুক্তির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল সেটিও সত্য।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার জন্মদাতা পিতা আমাদের জাতির পিতা দেশ ও জনগণের প্রতি তার লক্ষ্য দু’টি এতিহাসিক উক্তির মাধ্যমে সমগ্র বিশ^কে জানিয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ’পৃথিবীতে দু’টি শ্রেণী, একটি শোষিত অন্যটি শোষক। আমি শোষিতের পক্ষে।’  আরও বলেছিলেন  দেশ ও জনগণের জন্য আমার লক্ষ্য ও ব্রতে উপনীত হওয়ার পথে যদি আমাকে আলেন্দের অবস্থা বরণ করতে হয় তাতেও আমি দ্বিধা করবো না’। সেই দু’টি বক্তব্যই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু পরওয়ানা দেশি-বিদেশি চক্রের কাছে অবধারিত হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু আলেন্দের অবস্থা বরণ করে নিয়েছেন তবু দেশ ও জাতির কাছে বেঈমানী করেননি। তাঁর হিমালয়সম ভাবমুর্তির কাছে শত্রুরা সামনে এসে আক্রমণের সাহস পায়নি। কাপুরুষের ন্যায় পেছন থেকে ছুপি মেরেছে। আর যারা মেরেছে তারা কোন সাধারণ জনগণ নয়। তারা বঙ্গবন্ধুর আশে পাশেই ঘাপটি মেরে ছিল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি বলেছেন, মৃত্যু পরোয়ানা মাথায় নিয়েই আপনি কাজ করছেন। একেবারেই রূঢ় সত্য কথা। টুঙ্গিপাড়ায় হেলিকেপ্টারের পাশে বোমা পুতে রেখে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। চট্টগ্রামে মিছিলে গুলি চালিয়ে চেষ্টা হয়েছে। ২১শে আগষ্ট আপনি সহ দলবল মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা আপনাকে সকল বিপদ থেকে উত্রিয়ে এনেছে। এবার আপনার প্রতিশোধের পালা। সে প্রতিশোধ কিন্তু প্রতিহিংসার নয়। ন্যায়পরায়ণতার, দায়মুক্তির। তাই আপনার দৃঢ়চেতা মনোবল আমরা লক্ষ্য করছি। বলেছেন, কোন রক্তচক্ষু, ঘাতকের ছুরি আপনি পরোয়া করেননা। আপনার সভায় ডঃ নূযহাত বলেছেন, আপনি এগিয়ে যান আমরা আছি আপনার পাশে। হ্যাঁ ডঃ নূযহাতের সাথে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই গণজাগরণ মঞ্চ তথা দেশের আপামর জনগণ আছে আপনার পাশে। আপনার আপনার অভীষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে যান।
কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পিতার ন্যায় আপনি যখন বলেন, দেশি-বিদেশী আন্তর্জাতিক চক্রান্ত  বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত। সাংবাদিকরা যখন জানতে চেয়েছেন কে বা কারা সেই চক্রান্তকারী। বঙ্গবন্ধু যেমন তার অবস্থান পরিস্কার করতে দ্বিধা করেননি। আপনিও পিতার ন্যায় কোন প্রকার কুণ্ঠাবোধ না রেখে উত্তর দিয়েছেন, তারপরও বলতে হবে কারা তারা? তাই বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যের পর আমরা যেমন তাকে নিয়ে আশঙ্কিত ছিলাম আজ আপনাকে নিয়েও আমাদের শঙ্কা এবং আশঙ্কা। আপনি বিঙ্গোলের বিরুদ্ধে কথা বলবেন অথচ আপনার অবস্থান? বঙ্গবন্ধুর পাশে মোশতাক চক্র থাকলেও বঙ্গবন্ধুর আরো অনেক অকৃত্রিম অনুসারী ছিলেন। কিন্তু আপনার চারপাশে?  যখন দেখি আপনি না নড়লে কোন কিছু নড়ে না। আশঙ্কা হয় আপনার চারপাশে কতকগুলো মোশতাক-তাহের ঠাকুরদের গুন গুন দেখে। আশঙ্কা হয় যখন জানতে পারি ১৭০০০ হাজার জামাত আপনার দলে দলভুক্ত করা হয়েছে শুনে। শঙ্কিত হই যখন দেখি আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী নির্বাচনে পাশ করার জন্য জেলার পুরো জামাতকে দলে টেনে নেন। শঙ্কা হয় যখন দেখি হেফাজতের নেতার কাছে দোয়া প্রার্থনা করতে যেতে দেখে।আশঙ্কিত হই যখন দেখি ইসলামী ব্যাংকের টাকায় হাজার জাতীয় পতাকার মিছিল হয়, এশিয়া গেমস্-এর খেলা চলে, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার এলাকা চাঁদপুরে ইসলামী ব্যাঙ্কের শাখা উদ্বোধন করে বলেন ’এটি জাতীয় ব্যাংক, জনগণের ব্যাংক’।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাকশালের গভর্ণররা জেলায় জেলায় ফিরে গেলেই ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু শত্রুরা বুঝতে পেরে বঙ্গবন্ধুকে সে সুযোগ তারা দেয়নি। আপনি শত্রু চিহ্নিত করবেন, শত্রুকে নিশ্চিহ্ন করার কার্যক্রম চালাবেন অথচ দলের অভ্যন্তরের শত্রুদের চিহ্নিত করবেন না। তাদের যাছাই, বাছাই করে দল ও আপনার চারপাশ পরিস্কার করবেন না সেখানেই আমাদের আশঙ্কা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার সামনে বিরাট কাজ। আপনাকে বহুদূর যেতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একুশ আগষ্ট সহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করতে হবে। জামাত-শিবির ও ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। জামাতের অর্থের সকল উৎস রাষ্ট্রের অধীনে এনে এই অর্থ শহীদ পরিবারের এবং দেশের গরীব মানুষের ছেলে মেয়ের শিক্ষার কাজে লাগাতে হবে। এই কাজগুলো সমাপ্ত করার লক্ষ্যে সকল সংকীর্ণতা ও দুর্বলতা পরিহার করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। জনগণ এবং গণজাগরণ মঞ্চের অনুসারীরাই আপনার প্রধান শক্তি। যে ঐক্যবদ্ধ শক্তি মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী দেশ গড়ার কাজে জনগণকে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। এই ঐক্যবদ্ধ শক্তিই কেবল আপনার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। এই শক্তিই আপনার অভীষ্ট লক্ষ্য তথা ডঃ নূযহাত ও তার মায়ের দাবি মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন বাংলাদেশ নির্মানের চুড়ান্ত পর্যায় উপনীত করতে পারে।


সাকা-মুজাহিদের দায় স্বীকার প্রমাণ করে বিএনপি-জামাত উভয়ই যুদ্ধাপরাধী দল - সুব্রত বিশ^াস

শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৫

বিএনপি এতদিন মুক্তিযুদ্ধের দল বলে দাবি করে আসছিল। এই অবস্থান থেকে তারা  যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে এবং বিচারকার্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হতে হবে এই দাবির কথা বলে মূলত তাদের দুরভিসন্ধি আড়াল করছিল। অতীতে কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের রায় কার্যকর করা নিয়ে তারা মুখ খুলেনি। তবে আকারে ইঙ্গিতে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। এমনকি নিজের দলের যুদ্ধাপরাধী আব্দুল আলীমের ব্যাপারেও দল কোন কথা বলেনি। তার সদস্যপদও বাতিল করেনি। দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মানবতাবিরোধী শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরীর ব্যাপারেও নিশ্চুপ ছিল। দল মুখ খুলতে রাজি হয়নি। সম্ভবত বিএনপি’র আশা বা ধারনা ছিল শেষ পর্যন্ত সরকার সাকাকে শাস্তি দিতে পারবেনা। বিএনপি’র মুরব্বি বা নীতি নির্ধারক পাকিস্তান তাকে রক্ষা করবে। এজন্য মানুষের মাঝে এরূপ একটি ধারনা দেওয়ারও অপচেষ্টা হয়েছে যে, পাকিস্তান ও মুসলিম দেশগুলোর সাথে সাকার একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অন্যদিকে কোর্ট, বিচার, আইন ও আইনজ্ঞদের নিয়ে সাকা নানান নাটক, দম্ভুক্তি ও কটাক্ষ দেখিয়ে বিষয়টি প্রমাণের চেষ্টা করেছে। মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নানা নাটকের অবতারনা করা হয়েছে। জালজালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবশেষে সরকার যখন রায় কার্যকর করে ফেলে তখন তাদের ভ্রম ভাঙ্গে। পাকিস্তান থেকে অহি নাজেল হয় দলের অবস্থান পরিস্কার করে দিতে।   
তাৎক্ষণিক দলের অবস্থান তুলে ধরতে দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন। যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দন্ডপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে নিয়ে এটি ছিল দলের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলনে সাকা মানবতাবিরোধী অপরাধে দন্ডিত আদালতের রায়কে অগ্রাজ্য করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলে অভিযোগ করা হয়। দলের আরেক মুখপাত্র গয়েশ^র রায় বলেন এটি কোর্টের রায় নয়, সরকারের নির্দেশিত রায়। অথচ মজার ব্যাপার, দলের স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য যিনি সাকার মামলার প্রধান কৌশলীও বটে, তিনি বললেন, নথিপত্র দেখিয়ে যুক্তিতর্ক করে আদালতের কাছে আমরা হেরে গেছি। আমরা আদালতের রায় মেনে নিয়েছি।
প্রথমত বিএনপি’র মুখপাত্ররা এসব বক্তব্য দিয়ে  মুলত আদালত অবমাননা করেছেন এজন্য তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা উচিৎ। দ্বিতীয়ত পাকিস্তানের নির্দেশেই যে তাদের এই সাংবাদিক সম্মেলন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকার ও জামাতের বিবৃতি সেটি স্পষ্ট করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের মানবাধিকার সংগঠক আসমা জাহান আরো পরিস্কার করে বলেছেন, বাংলাদেশের দুই যুদ্ধাপরাধী সাকা ও মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড দেওয়া নিয়ে পাকিস্তান যে ভূমিকা পালন করেছে তাতে প্রমাণ করে সাকা ও মুজাহিদ পাকিস্তানের চর ছিল।
অন্যদিকে সাকা ও মুজাহিদ দায় স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ায় দু’টি বিষয় পরিস্কার হয়ে গেছে। প্রথমত মুজাহিদ সব সময় বলে এসেছে বাংলাদেশের সাথে পাকিস্তানের কোন যুদ্ধ হয়নি। যুদ্ধ হয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। সুতরাং বাংলাদেশে কোন যুদ্ধাপরাধী নেই। প্রাণ ভিক্ষার মাধ্যমে দায় স্বীকার করে প্রমানিত হয়ে গেছে তারা যুদ্ধাপরাধী। তাদের দল জামাতে ইসলামও একই অভিযোগে অভিযুক্ত।
অপরদিকে বিএনপি দীর্ঘদিন থেকে বাগাড়ম্বর করে বলে আসছিল তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে দল। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়া একজন মুুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার ঘোষক। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারেও একই দ্বিচারিতা করেছে। কিন্তু সাকা দায় স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির অবস্থান পরিস্কার হয়ে গেছে। প্রমাণ হয়ে গেছে পচাত্তরের পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াই জামাতের প্রতিষ্ঠাতা। পরিস্কার হয়ে গেছে বিএনপি-জামাত একই মায়ের সন্তান। রাজনৈতিক জোটবদ্ধতার কথা বলে এতদিন জামাত ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করার অপচেষ্টা হয়েছে। আসলে বিএনপি হলো অধুনালুপ্ত মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী প্রভৃতি সাম্প্রদায়িক দলের উত্তরসুরী। জিয়াকে সামনে রেখে এরা এবং জামাত মিলেই জিয়াকে দিয়ে বিএনপি গঠন করা হয়। সুতরাং আজকে আর বলার অপেক্ষা রাখেনা, জামাতকে প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার অপরাধে বিএনপিও একইভাবে অপরাধী। এজন্য বিএনপি এমনকি জিয়ারও মরনোত্তর বিচার হওয়া উচিত। জামাতের ন্যায় বিএনপিকে নিষিদ্ধ করা উচিত।
আসা যাক পাকিস্তানের ব্যাপারে। পাকিস্তান সরকার ও জামাতে ইসলামী সাকা ও মুজাহিদের মৃত্যুদন্ড নিয়ে তাদের পক্ষে বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করেছে। কাদের মোল্লার মৃত্যুদন্ড নিয়েও তারা একই কাজ করেছে। অন্যদিকে তাদের এই অনধিকার হস্তক্ষেপ ও মায়াকান্নার মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে গেছে সাকা, মুজাহিদ, জামাত ও বিএনপির সাথে তাদের গভীর যোগসূত্র রয়েছে। উভয়েই পাকিস্তানের আদেশ নির্দেশ পরামর্শে পরিচালিত হয়। আমাদের সরকার প্রতিবারই রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এনে সতর্ক করে বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে। কিন্তু আজকে সময় এসেছে পাকিস্তানের এই হস্তক্ষেপের জন্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কোর্টে মামলায় যাওয়া। কারণ পাকিস্তান আজও আমাদের হিস্যা দেয়নি। কথা দিয়েছিল ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে তারা বিচার করবে। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। সুতরাং তাদের সাথে আর সম্পর্কের ব্যাপার নয় প্রয়োজনে কুটনৈতিক সম্পর্ক বন্ধ করতে হবে। একই সাথে জামাত-বিএনপির সাথে তাদের যোগসূত্র বন্ধ করার লক্ষ্যে দু’টি দলকেই যুদ্ধাপরাধী অপরাধের দায়ে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা অপরিহার্য। 


মাটির সবুজ গাঁ-য় : শামীমআরা আফিয়া

মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৫



Afia___SaKiL

মাটির  সবুজ গাঁ-য়
নদীর বুকে ভেসে বেড়াই
ময়ুরপঙ্খী  না-য়
বালুর চড়ে ঝিঝি ডাকে
শাপলা হাসে ঢেউয়ের ফাঁকে
পানকৌড়ি তারি সাথে
জলকেলি খেলায়।
 
পল্লীবধু কলসি কাঁখে
জলকে চলে নদীর বাকে
পরনে লাল শাড়ির আঁচল
ঢেউয়েতে দোল খায়
তার লাজে রাঙা মুখটি
শাড়ির আঁচলে লুকায়।
 
নদীর বুকে পানসী চলে
আছে মাঝি জেলে নায়
একটা ইলিশ মাছের লাগি
সকাল সন্ধ্যা রাত কাটায়
রূপালী ইলিশ রূপালী চাঁদ
ঢেউয়ের সাথে রঙ খেলায়।

রাখাল ছোটে মাথলা মাথে
সূর্য্য চলে সাথে সাথে
কৃষ্ণচূড়ার লাল রং তার
অঙ্গে রং ছড়ায়|
হালের গরুর কাদার খেলা
দেখে প্রাণ জুড়ায়।

কৃষাণ চলে কাস্তে হাতে
কৃষাণী হাটে সাথে সাথে
খাবার নিয়ে প্রহর গুনে
বটবৃক্ষ ছায়।
পাশে ছোট্ট মরা নদী
সাগরপানে ধায়।
 
ঝর্ণা ঝরে পাহাড় চিড়ে
ঝরছে শুন ধীরে ধীরে
সুরের পরশ ছড়িয়ে দিয়ে
রূপসী বাংলায়
গানের পাখি কোকিলও তার
সুরে সুর মিলায়।

পলাশ ফুলের ডালে ডালে
আসছে পাখি দলে দলে।
রূপের রাণী পলাশও তার
 দেহে রঙ বুলায়
হাজার পাখীর রঙের মেলা
দেখে চোখ জুড়ায়।

আরও কত ফুলের শোভা
শতরঙের মিলন আভা
ফুল পাখি আর নদী নিয়ে
জারি-সারি হয়
কবিগানের বুদ্ধিবিচার
মুখে মুখে রয়।
 
মাঠে হলুদ সরিষা বনে
ভ্রমর অলির গুঞ্জরণে
মৃদু মাতাল সমীরণে
দোদুল দোল দুলায়
কলমিলতা জড়িয়ে ঘাসে
বেগুণী রং ফোটায়।
 
সবুজ ঘাসে সোনালী ধান
সবার চোখে খুশির বাণ
আসবে ঘরে নতুন  ফসল
সবার মুখে হাসি
সবুজ শ্যামল কোমল গড়ন
দেশটা ভালবাসি।


সন্ত্রাস বুঝেন,যুদ্ধ বুঝেন না? আবু জাফর মাহমুদ

রবিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৫

দেখে মনে হয়না এগুলো রাজনীতি।রাজনীতি সারা বিশ্বেই নিরস্ত্র কর্মকান্ড।বাংলাদেশে যা হচ্ছে,এটাকে রাজনীতি বলতে পারিনে।এটা রাজনীতির আড়ালে অন্যকিছু।যা বাম চরমপন্থি দেরকে ব্যবহার করে অথবা ডান চরমপন্থী উৎপন্ন করে লক্ষ্য হাসিল করা,যে অর্জন প্রচলিত রাজনীতি দিয়ে সম্ভব নয়।বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির সাথে আগেকার ধারাবাহিকতার ধারা মিলানো অনেকের জন্যে কঠিন।
এখানে জীবন সন্ত্রস্থ।সারাক্ষণ অস্বাভাবিকতা।সন্ত্রাস এবং সন্ত্রস্থ থাকা  নিয়েই  রাজনীতি এবং       কথোপকথন সবখানে। রাজনৈতিক  দলের কর্মসুচী নিয়ে কথা আর তেমন শোনা যায়না।‘যুদ্ধ-যুদ্ধ’ ভাব  বজায় রেখে সরকারের বামপন্থী কয়েকজন খুঁটি কথা বলছেন বহুদিন যাবত।এই একতরফা ছদ্মবেশী যুদ্ধের বিজয়ে বিএনপি এবং জামাতে ইসলামী দলকে নিশ্চিহ্ন করার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে সরকার।  
 সরকারের তরফ থেকে তার বামপন্থী অংশীদারদের মুখে পাওয়া আভাসে আছে বাংলাদেশে তারা প্রতিপক্ষদের দমন করছে যুদ্ধের ভাষায়।যদিও প্রচলিত যুদ্ধ নয়,কৌশলগত যুদ্ধের কথাই তারা বুঝান। জামাতের নেতাদের কে ফাঁসিতে ঝুলানো,লক্ষ লক্ষ বিরোধী দলীয় নেতা,কর্মীদেরকে জেলখানায় আটক,গুম,হত্যা এবং দেশ ছাড়া করে দিয়েই তারা বর্তমানে বিজয়ে আছেন।টিকে আছেন নির্বাচন ঘোষণা দিয়ে নিজেদেরকে বিজয়ী বলে কাগজপত্রে লিখে সরকারী সিল স্বাক্ষর মেরে।সরকার পক্ষের এই যুদ্ধ একপক্ষীয় হয়ে গেছে বিএনপি সহজেই পলায়ন করায়।   
বিএনপি-জামাত জোটের মেধাগত অক্ষমতা এবং সরকার পক্ষে বাস্তবতা উপলব্ধির সফলতাই যুদ্ধের ফলাফলের পরিস্থিতি এনে দিয়েছে বলে অনেকের বক্তব্য।প্রথম পক্ষ প্রচুর জনসমর্থন থাকা স্বত্বেও নিজের অবস্থান হারিয়ে হয়ে গেছে নিঃস্ব,শুধু নেতৃত্বের অযোগ্যতায়।দ্বিতীয় পক্ষ বা সরকার নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পেরেছে রাজনৈতিক জনবিচ্ছিন্নতা অবস্থা থেকে নিজেকে তুলে এনে।গুরুর কাছে আত্নসমর্পনের ফলে।
সরকারী জোট জিরো থেকে হিরো হয়ে গেছে জোটেরই কল্পনার বাহিরে।তারা জুয়ায় জিতে মিলিওনিয়র হয়ে যাবার মতো কান্ড ঘটিয়েছে।নিজের ভেতরের শুন্যতা ঢেকে রেখে তাদের ক্ষমতার উৎস ভারত সরকার বা বা ভারতীয় গোয়েন্দাদের সাথে ভাঁড়ামি করেনি।অনুগত থেকেছে।সম্পুর্ণ আত্নসমর্পণ করে রাজত্বের বিজিনেস করেছে।ফলে সর্বদিকে লাভবান হয়েছে শেখ হাসিনাদের পরিবার এবং নিকটতম মানুষরা।রাজত্ব এলো,এলো রাজত্বের দীর্ঘ মেয়াদ এবং এলো দাপটের সাথে রাজা বাদশাহদের মতো ধন দৌলত।    
এসব কথা কম বেশী সবাই জানেন এবং বোঝেন।তবে যেসব সন্ত্রাসী ক্যাডার দিয়ে আজ পাড়া-মহল্লায় সরকার তাদের প্রতিপক্ষ,সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ এবং প্রতিপক্ষের সমর্থকদেরকে সন্ত্রস্থ করা হয়ে চলেছে,এসব ক্যাডার  ইতিপূর্বে এতো ক্ষমতাধর ছিলোনা।এরা হিসেবেও ছিলোনা সেসময়।বিএনপি দলীয় ক্যাডারদেরকে বিএনপি আমলে সেই  সরকার নিজেরা খুন করে।যারা শত্রুর সামনে বুক পেতে বিএনপিকে টিকিয়ে রেখেছিলো তাদেরকে সামরিক কায়দায় পিষিয়ে খুন করা হয়েছিলো খালেদা জিয়ার নির্দ্দেশে।
ছাত্র-যুবকদের একধরণের শুন্যস্থান পূরণ করেছে ছাত্রলীগ থেকে বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসীরা।বর্তমানে রাজনৈতিক দলের পরিবর্তিত বাস্তবতায় সরকারী দল বা সরকার সন্ত্রাসে ‘না’ বলা ভুলে গেছে।সারা দেশ আজ ওদের মতো অনেক খন্ড খন্ড সরকারের মাধ্যমে চলছে।   
লাগামহীন স্বাধীনতা আছে সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের।তারা সন্ত্রাস করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের অজুহাতে,বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের অজুহাতে,যুদ্ধাপরাধী নির্মূলের অজুহাতে, রাজাকার দমনের অজুহাতে, পাকিস্তানী দালাল নির্মূলের অজুহাতে।বর্তমানে গণতন্ত্র আর সুবাস ছড়ায়না বাংলাদেশে।
গোলাপের গন্ধ থাকে তার কৈশোর ও যৌবনে,সব রকম অবস্থায় তার সুগন্ধ থাকেনা।নিরন্তর দলন-পীড়নে গোলাপ ফুলের সুগন্ধ   হারিয়ে যায়,তদস্থলে দুর্গন্ধ ছড়ায়।ঠিক ঐরকম।গণতন্ত্রকে রাজনীতিকরা বাংলাদেশে সমাজ পঁচানোর বিষে রূপান্তর করেছে।সামনে আরো হবে।রাজনীতিকে পরিকল্পিতভাবেই অন্যরূপ দেয়া চলছে।মানুষের জন্যে রাজনীতি করার রাজনীতিক নেই,অথচ আমরা আশা করছি মানবিকতার রাজনীতি।রাজনীতি চলে যে চালায় তার চাহিদার আনুগত্যে।যেমন রাজনীতিক,তেমন আমাদের রাজনীতি।
আম গাছে তাল ধরেনা।যেমন গাছ,তেমন ফল।তাই যেমন ফুল তেমন গন্ধ।বাংলাদেশী গণতন্ত্র দুর্গন্ধ ছড়ায়,বর্তমানের গণতন্ত্র রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করার অবাধ স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ করে দিয়েছে লোভী রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক সিন্ডিক্যাটগুলোকে।এই কৃতিত্ব রাজনৈতিক দলীয় নেতাদের এবং দলের।    
 আওয়ামীলীগ-জাসদ জাতীয় পার্টি ইত্যাদি দলগুলো ভারতীয় নির্দ্দেশে বাংলাদেশে ভারত-নির্ভর রাজনীতি করতে ওয়াদাবদ্ধ হয়েছে বলে আমরা তাদেরকে দায়ী করে থাকি।একই নীতিতে বিএনপি এবং তার জোটও রাজনীতি করে।বাংলাদেশকে ভারতীয় কলোনী করতে দেয়ার বিনিময়ে সরকার চালনার চুক্তি করতে উভয় জোট প্রতিযোগীতা করে আসছিলো।ভারতের কাছে সিদ্ধান্ত নেবার প্রক্রিয়াটি খুবই সহজ।তাদের বিশ্বস্থতার প্রশ্নে শেখ হাসিনা-রেহানার কাছে খালেদা জিয়া কি টিকতে পারার কথা?না খালেদা জিয়া টিকেননা।
তাহলে খালেদা বিরোধী দলে আর হাসিনা সরকারে থাকার কথা।কিন্তু খালেদাকে সম্পূর্ণ মাইনাস করার নীতি আসলো কেনো?জামাতকে রাজনীতিতে বে-আইনী ঘোষণার সংবাদ দিচ্ছেন কেনো মন্ত্রীরা?অসংখ্য বিএনপি এবং জামাত নেতাদের কে নির্মূল করা কেনো?এসবের উত্তর সন্ধান করা দরকার।এসব উত্তর কেবলমাত্র বিএনপি অথবা আওয়ামী লীগের নেতাদের মুখের দিকে চেয়ে কেউ আজতক পায়নি।
আঞ্চলিক ও বিশ্বশক্তিগুলোর স্বল্পমেয়াদী এবং দীর্ঘ মেয়াদী স্বার্থ হিসেবে এনেই বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর দিলে বুঝা যেতে পারে কেনো এখন রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব এতো কমে গেছে।প্রধান বিশ্বশক্তি আমেরিকা চীনের বিশাল উত্থানকে নিয়ে ব্যস্ত,ব্যস্ত সিরিয়া নিয়ে।ভারতের মনোযোগ হচ্ছে ১৯৭১সনে পাকিস্তান মিলিটারীদের কাছ থেকে দলিল স্বাক্ষরের মাধ্যমে পাওয়া বাংলাদেশে একক কর্তৃত্ব যতবেশী পারা যায় নিরংকুশ করে নেয়া।
 চীন ভারতের এই নিরংকুশ আধিপত্যের প্রশ্নে অসন্তুষ্ট হলেও বাংলাদেশ না চাইলে নিজে থেকে এখানে রাজনৈতিক বা সামরিক ভূমিকা নেবার নীতির বিরোধী তারা।এমতাবস্থায় নিজের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে শেখ হাসিনাকে একক করে পেয়ে লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা কি বুদ্ধিমানের কাজ নয়?বঙ্গোপসাগর ও  বাংলাদেশের বন্দরগুলো নিজেদের সম্পুর্ণ কর্তৃত্বে আনতে এই পরিস্থিতির চেয়ে আর কি বিকল্প বেশী গ্রহন যোগ্য ভারত সরকারের কাছে?   
 এদিকে আফগানিস্তানে যে সুবিধা পাবার আশা ছিলো তা ভারত পায়নি, তাতে পাকিস্তান একচেটিয়া এগিয়ে গেছে।পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদেরকে বাংলাদেশী নেতাদের মতো কেনাকাটা করেও দেশটাকে করদ রাজ্যে রূপান্তরের স্বপ্ন ভেস্তে গেছে ভারতের।চীন পাকিস্তানকে আরো দুইশত বছর চলবার মতো আর্থিক অনুদান দিয়ে দিয়েছে,যে অনুদানের প্রায়ই ৬০%হলো সামরিক সরঞ্জামের।যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক আর্থিক এবং সামরিক সহায়তাতো আছেই।তদুপরি পাকিস্তান রাশিয়ার সহায়তাও পেয়ে চলেছে।পারমানবিক শক্তির দেশ পাকিস্তানের এই উত্থান একপাশে অপরপাশে চীনের বিশ্বশক্তি রূপে উত্থানে ভারতের প্রতিরক্ষাবহরের নীতিনির্ধারকরা যেভাবে ভীত হয়েছে এতে তাদের অস্থিরতা প্রকাশ পাবার সম্ভাবনাও বাতিল করে দেয়া যায়না।ছোট্ট দেশ নেপাল ছিলো কাগজেপত্রে একমাত্র হিন্দু রাষ্ট্র।সেওএখন চীনের দিকে ঝুঁকছে,ভারতের বগল থেকে বেরিয়ে।
এমতাবস্থায় বাংলাদেশের কর্তৃত্ব নিজের পায়ের নীচে রাখায় ভারতীয় সামরিক মর্যাদার বিষয় বলে কারো কারো ধারণা থাকা অমূলক নয়।মালাক্কা প্রণালী পর্যন্ত নিজের আধিপত্য বিস্তারকে লক্ষ্যে রেখে ভারতের দীর্ঘকালের অভিযান বাস্তবায়নে বাংলাদেশ দখলে রাখা তার খুবই জরুরী।তাই,ভারতের সরকার তার অগ্রাভিযান অব্যাহত রাখতে কট্টর ইহুদীদের স্বার্থের সাথে নিজের মৌলিক মিল খুঁজে নেয়ার কাজ তো তাদের সফলতাকেই প্রমাণ দেয়।বাংলাদেশে যে ছদ্মবেশী যুদ্ধ চাপিয়ে চলেছে তাতে আই এস আই এল নামে  ইজরাইলের ছদ্মবেশী ইসলামী খেলাফত যোদ্ধাদের বাংলাদেশে জিহবা উদ্যত করা নিয়ে আর সন্দেহ থাকবে কেনো?   
মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছেন বলে ইরানের বার্তা সংস্থা ইরণা দাবী করেছে।এদিকে, প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর মালয়েশিয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।মালয়েশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহেদ হামিদি গত ২১ নভেম্বর বলেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সংগঠন আসিয়ানের ২৭তম শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আগামী শনি ও রোববার মালয়েশিয়ায় আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।আসিয়ানে হামলা করার হুমকিও এসেছে।এতে চীনও সতর্ক হয়েছে বলে জানা গেছে।

সন্ত্রাসের এই চাপ বাড়ার ধারাবাহিকতায় ভারতীয় সেনাবাহিনী বা ভারত সরকার নিজেদের সীমান্তে নিজেদের  কর্তৃত্বের নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় আরো মনোযোগীতো হতেই পারেন।এহেন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে চলেছে তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশী বিচক্ষণ ব্যক্তিরা।

তাই বাংলাদেশে চীন অথবা পাকিস্তানের অথবা চীন-পাকিস্তান উভয়ের সমর্থন পেয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে এহেন শক্তিগুলোকে শিকড়হীন করে ফেলছে ভারত।শিকড়হীন করার এই তৎপরতা রাজনীতি নয়,এটি সামরিক নীতির আওতায় সামরিক নির্মমতায় হয়।দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমান  যুদ্ধক্ষেত্রের নাম বাংলাদেশ।এখানে সন্ত্রাস হয় রাজনীতির নামে।আসলে সন্ত্রাসের অজুহাতে জায়েজ করে চলেছে ছদ্মবেশী একতরফা যুদ্ধ।     
(আবু জাফর মাহমুদ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও রাজনীতি বিশ্লেষক এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে। ).


শেখ হাসিনা কতোটা নিরাপদ ?

বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৫

তবে তাঁর নেদারল্যান্ড সফরকালীন সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার পর ব্রিটেনে আলোচনার জন্ম দেয়। শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় যুবদলের এক নেতাকে। বাংলাদেশে থাকা কালীন সময়ে বিএনপির গুম হয়ে যাওয়া নেতা এম ইলিয়াস আলী সিলেট আসলে ঐ নেতার গাড়িতেই চড়তেন বলে জানা যায়। ওই নেতা যুক্তরাজ্যে আসার পরও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। তবে সম্প্রতি তারা দুই ভাই একসাথে আওয়ামী লীগে সরব হয়েছেন।

এই মানুষটি কবে, কিভাবে আওয়ামী লীগে বা যুবলীগে যোগ দিলেন তা কেউ জানে না । কার হাত ধরে শেখ হাসিনার এতো কাছে যাওয়ার সুযোগ পেলেন এই নিয়ে ও প্রশ্ন তুলছেন অনেক নিবেদিত আওয়ামীলীগকর্মী। দীর্ঘদিন ধরে যারা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত , নানা রকম হামলা মামলার শিকার হয়েছেন, তাঁদের অনেকেরই সৌভাগ্য হয়নি আজ পর্যন্ত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ লাভ। যুবদলের এই নেতা বছর দুয়েক আগেও ব্রিটেনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধ্,আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধ্ রাজপথে মিছিল মিটিং করেছেন। সেই একই ব্যাক্তি রাতারাতি আওয়ামী লীগার হয়ে একদম শেখ হাসিনার পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন!

সরকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়ার সময় নানা ভাবে তাঁদের অতীত রাজনৈতিক ইতিহাস যাচাই করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনার কাছাকাছি যারা যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁদের ব্যাক্তিগত ও পারিবারিক ইতিহাস যাচাইয়ের কি কোন ব্যবস্থা আছে? অশুভ চক্র ১৯৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাঁদের মানুষ কে নিয়োগ করেছে। ছোবল দেয়ার সময় এরা খোলস
১৯৭৫ সালে স্বপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে হত্যার সময় সৌভাগ্য ক্রমে বিদেশে থাকায় সেদিন বেচে গিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বোন শেখ রেহানা। খুনীরা হয়তো ধরে নিয়েছিল এই দুই কন্যা আর বাংলাদেশে কোনদিন ফিরে যাবে না। খুনীদের সেই ধারণা কে মিথ্যে করে দিয়ে দেশে ফিরেছিলেন শেখ হাসিনা। এর পর একে একে ছোট বড় মিলিয়ে ১৯ বার হত্যার উদ্দ্যেশ্যে তাঁর উপর হামলা হয়েছে। বারবার তিনি নেতা কর্মীর বুকের রক্তে কখনো ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছেন। এই খুনি চক্র আজ ও হাত পা গুটিয়ে বসে নেই।

চলতি বছরের মে মাসে শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের ‘নিরাপত্তা হুমকি’ থাকায় ওই পরিবারের সাত সদস্যের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় ১৩টি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি ছয় ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বাসভবনের চারপাশে সুউচ্চ ভবনের বাসিন্দাদের ওপর সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি করা হবে। এমনকি আবাসস্থলের আশপাশে কোনো ভবন, স্থাপনা বা অবস্থান থেকে কোনো প্রকার হুমকি সৃষ্টি করার মতো অবস্থা থাকলে ওই স্থাপনা অপসারণ কিংবা পরিবর্তনের মাধ্যমে আবাসস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

Picture

২৫ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রজ্ঞাপন সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয় জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন-২০০৯’-এর ৪ (৩) ধারা অনুযায়ী বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। ওই ধারায় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত আবাসনের ব্যবস্থা ও এই বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকার তাদের সার্বক্ষণিক নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দেবে। নিরাপত্তার জন্য তাদের বাসভবন, ভবনের আশপাশের ভবনে নজরদারি করবে। আবাসস্থলে কোনো ব্যক্তি বা বস্তু ঢোকানোর আগে পরীক্ষা করা হবে। আবাসস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বের হওয়ার জন্য এক বা একাধিক বিশেষ নির্গমন পথের ব্যবস্থা করা হবে। আবাসস্থলে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয়সংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রাখা হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তাঁদের আবাসস্থলের পাশের কোনো ‘ভবন, স্থাপনা বা অবস্থান’ হতে ‘কোনো প্রকার হুমকি সৃষ্টি করিবার মতো অবস্থা থাকিলে’ তা অপসারণ কিংবা পরিবর্তন করা হবে। আবাসস্থলের চারপাশে সুউচ্চ ভবনে বসবাসকারীদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। এ ছাড়া তাঁদের আবাসস্থলে গমনাগমনের পথ যেকোনো ধরনের আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা, সার্বক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভির গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার কথাও বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন আবাসস্থলের মেরামত, সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেবে সরকার। একজন ড্রাইভার ও প্রয়োজনীয় পেট্রলসহ তাঁদের গাড়ির সুবিধা দেবে সরকার। বাসভবনে সব সময়ের জন্য স্বয়ংসম্পূর্ণ চিকিৎসা অ্যাম্বুলেন্স রাখা হবে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। দেশে-বিদেশে সরকারি খরচে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। তাঁদের গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেটের খরচও দেবে সরকার।

তা ছাড়া তাঁদের জন্য সরকারি খরচে একজন ব্যক্তিগত সহকারী, দুজন বেয়ারা, একজন বাবুর্চি, একজন মালী ও একজন ঝাড়ুদার নিয়োগ করা হবে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এসবের বাইরেও অন্য কোনো প্রকার ‘সহায়তা বা আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বা দ্রব্যাদির প্রয়োজন’ হলে সরকারের ‘অন্যান্য মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও সংস্থা’ তা প্রদান করবে। আইন অনুযায়ী, ‘পরিবার-সদস্য অর্থাৎ জাতির পিতার জীবিত দুই কন্যা এবং তাঁহাদের সন্তানাদি’।

এই আইনের ফলে কি আসলেই নিরাপদে আছেন শেখ হাসিনা বা তাঁর পরিবার? ১৯৭৫ সালে ও খুনীদের সাথে হাত মিলিয়েছিল খন্দকার মোশতাক। মুশতাকের রক্ত আওয়ামী লীগ থেকে মুছে যায় নি। সারা জীবন যারা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেছে, বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে উপহাস করেছে।বঙ্গবন্ধুদের খুনীদের বাহবা দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। নারী নেতৃত্ব হারাম বলে ফতোয়া জারী করেছে। আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে দেশ ভারত হয়ে যাবে, দেশে কোন মসজিদ থাকবে না। আযানের বদলে উলুধ্বনি শোনা যাবে, সেই সব মানুষ দলে দলে জয়বাংলা বলে আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে। এদিকে বাস্তবিক প্রধানমন্ত্রীর সে সব বক্তব্য তোড়াই কেয়ার করছেন দলের আঞ্চলিক নেতা বা এমপিরা।

গত বছরের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের অন্তত ২০ হাজার নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে বলে গণমাধ্যমের খবরে এসেছে। বলা হচ্ছে, কেবল জামায়াত থেকেই আওয়ামী লীগে ভিড়েছে ৫ হাজার জন।

ভিন্ন দল থেকে ভেড়ানোর জন্য নিজের দলের নেতাদেরই দায়ী করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

“গ্র“পিংয়ে দল ভারী করতে অনেকে নিয়ে নেয়,” বলেছেন শেখ হাসিনা।

দলীয় নেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “তারা (যোগদানকারী) আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে অন্তঃদ্বন্দের সৃষ্টি করে এবং পরবর্তীতে দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা করে।“আওয়ামী লীগের লোক মারা গেলেই শুধু কোনো অসুবিধা নেই। তারা ভালো সেজে ঢুকেই হত্যা করে।”

শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের রোকন নওশের আলী স্থানীয় যুবলীগ আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের হাতে ফুল দিয়ে ক্ষমতাসীন দলে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী যখন বলছেন বিএনপি জামায়াত থেকে লোক নিবেন না ঠিক তার পরেরদিন শরীয়তপুরে এক ইউনিয়নে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন ৯৯ জন ।

আরেকটি ১৫ আগস্টের হুমকি ধামকি প্রায়ই শুনতে হয়। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি ও খুব ভালো করেই জানে গণতান্ত্রিক উপায়ে তাঁদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ নেই। মাঠ পর্যায়ের তাঁদের নেতা কর্মীরা ও বিশ্বাস করে, স্বপ্ন দেখে শেখ হাসিনা কে যে কোন সময় হত্যার মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতায় আসবে। তখন সাধারণ মানুষ কে এই দলবদল লোকদের নেত্রীর কাছাকাছি যাওয়ার ক্ষেত্র যারা তৈরী করে দিচ্ছেন তাঁদের কে নিয়ে ও প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। তাঁদের কাছে আসলেই কতোটা নিরাপদ শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নিরাপত্তার জন্য এতো আয়োজন, আইন প্রণয়ন সবই কাগুজে বাঘ ছাড়া আর কিছুই নয় কি? এমনটাই মনে করেন আওয়ালীগ নেতারা।

বিষয়টি সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ নেতা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এমন কিছু হয়ে থাকলে বিষয়টি নি:সন্দেহে উদ্বেগের। উদ্দেশ্যমূলকভাবে কিছু মহল আওয়ামীলীগের দলীয় শৃক্সখলা নষ্ট করতে তৎপর রয়েছে। তবে প্রাণপ্রিয় নেত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা যেকোন পদক্ষেপ নিতে সদা সচেষ্ঠ। বিষয়টি সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলগের নেতৃস্থাণীয় বেশ কয়েকজন নেতার সাথে যোগাযোগ করলে কেউই সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানতে চাননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক নেতাই বলেছেন, আওয়ামীলীগকর্মীদের সতর্ক থাকা খুবই জরুরী, ছদ্দ বেশে আবার না নতুন কোন মোশতাক ঢুকে পরে দলে। ব্রিকলেন


ভয়ে আতঙ্কে আমারও পেট পোড়ে : সামিয়া রহমান

বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৫

খুব ছোটবেলায় ঘরের কাজে সাহায্য করার জন্য বাসায় একটি মেয়ে এসেছিল। মেয়েটি সারা দিন হাসিমুখে কাজ করত আর কাজের ফাঁকে ফাঁকে সুযোগ পেলেই কাঁদতে বসত। একদিন না পেরে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি এত কাঁদো কেন? মেয়েটির উত্তর ছিল, আমার বাড়ির জন্য পেট পুড়ে। আমারও না পেট পোড়ে। আমার দেশের জন্য আমার পেট পোড়ে। ভয়ে পেট পোড়ে, আতঙ্কে পেট পোড়ে। চারদিক থমথমে। একের পর এক মুক্তচিন্তার মানুষের ওপর হামলা হচ্ছে। গত বত্রিশ মাসে ব্লগার, প্রকাশকসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়েছে। রাতের আঁধারে, দিনের প্রকাশ্য আলোয়। শুধু এ বছরই খুন হয়েছেন পাঁচজন। গণমাধ্যম বলে, গোয়েন্দা সংস্থারও আশঙ্কা আরও মৃত্যু হবে। এই নভেম্বরেই নাকি আরও মৃত্যু দেখব আমরা। ২০০৪ সালের ২৭ ফেব্র“য়ারি বইমেলা থেকে বের হওয়ার পথে চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়েছিল অধ্যাপক লেখক হুমায়ুন আজাদকে। দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী সংসদে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন আজাদের ‘পাক সার জমিন সাদ বাদ’ বইটি ব্যানের ঘোষণা করে এবং তার ওপর ব্লাসফেমি আইন জারির দাবি করে।

২০০৬ সালে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ-এর কমান্ডার র‌্যাবের কাছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলার দায় স্বীকার করে। সেই শুরু। অবশ্য এর শুরু আরও আগে ১৯৭১ সালে। দেশের স্বাধীনতার অস্তিত্বে অবিশ্বাসীরা বারবার আঘাত হেনেছে মুক্তচিন্তার ওপর। অবশ্য ইস্যুটি এখন আর শুধু মুক্তচিন্তায় থেমে থাকেনি। দেশ বিভাজিত হয়ে গেছে আস্তিকতা আর নাস্তিকতায়। একদল ঘোর ধর্মান্ধ, উগ্রপন্থি আর একদল ঘোর অবিশ্বাসী। দুই এর রেষারেষিতে সবাই বিপণ্ন। ব্লগার মানেই নাস্তিক তকমা দিয়ে যাকে তাকে নৃশংস খুন এখন জায়েজ। প্রতিটি ঘটনার পর মামলা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে একটি মামলারও বিচার শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত একাধিক মামলার তদন্তই শেষ হয়নি। র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, প্রতিটি মামলার তদন্ত হচ্ছে, কিছুই হচ্ছে না এটি মিডিয়ার বাড়াবাড়ি প্রচার। মিডিয়া সেনসেশন তৈরি করছে। আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা সেনসেশন তৈরি করছি কিনা জানি না। কিন্তু আনসারুউল্লাহ বাংলা টিম আমাদের মতো গণমাধ্যমের নগণ্য নারী কর্মীদেরও হুমকির মধ্যে রেখেছে। আমাদের দোষ আমরা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বলি, আমরা নারী হয়ে বেপর্দা চলি। শিক্ষক হয়ে হুমকির আতঙ্কে থাকি, নারী হয়ে ধুলায় লুটিয়ে পড়ার হুমকিতে থাকি। হুমকি, ধমকি, ভয়, নিরাপত্তাহীনতা আমাদের ঘরবন্দি করে ফেলছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন, আইন দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না। নাগরিক সম্পৃক্ততা দরকার।
ব্যক্তিত্বে ফ্যাশনে সামিয়া রহমান
বিশেষজ্ঞরা বলেন, সংকট আদর্শের, সংকট রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক। আইনের নয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের এতটাই বেপরোয়া করে দিয়েছে যে, ওরা গোপন থেকে প্রকাশ্যে যে কোনো স্থানে এমনকি ঘরের মধ্যে খুন করে হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে পারে। পুলিশের যুগ্ম কমিশনার বলেন, বর্তমান আইনশৃক্সখলা রক্ষাবাহিনী দিয়ে এই জঙ্গিদের ধরা সম্ভব নয়। এর জন্য বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজন। অথচ বিশেষায়িত বাহিনী নামেই ২০০৪ সালে পুলিশের মধ্যে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে র‌্যাবের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। র‌্যাব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর র‌্যাবের হাতে এ পর্যন্ত একহাজার চৌষট্টি জন জঙ্গি ধরা পড়েছে যার মধ্যে জেএমবির সংখ্যাই ছয়শ’র অধিক। তারপরও হামলা বন্ধ হচ্ছে না, মৃত্যু কমছে না। মৃত্যু শুধু এখন মুক্তচিন্তার মানুষের মধ্যে থেমে থাকেনি। পুলিশও এর শিকার হচ্ছে মর্মান্তিকভাবে। বিএনপি-জামায়াতের অবরোধ সহিংসতার সময়ে পুলিশ আক্রান্ত হয়েছে বহুবার। তাদের মাথা থেঁতলে দেওয়া থেকে শুরু করে হত্যা করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য থাকা সত্ত্বেও পুলিশের চেকপোস্টে হামলা চালিয়ে পুলিশকে হত্যা করে পালিয়ে যায় জঙ্গিরা। তিনজন মোটরসাইকেল আরোহীর আক্রমণে পাঁচটি চাইনিজ রাইফেল হাতে থাকা আমাদের পুলিশ সদস্যরা জঙ্গিদের নিবৃত্ত করতে পারে না। পুলিশ হত্যা হয়, আক্রান্ত হয়, পালিয়ে যায় শালবনে। গণমাধ্যমে খবর আসে রাইফেলে গুলিই নাকি ছিল না। সামনে অত্যন্ত প্রভাবশালী দুই যুদ্ধাপরাধী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াত নেতা মুজাহিদের আপিল বিভাগে রিভিউয়ের রায় হওয়ার কথা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী বলছে, যুদ্ধাপরাধীদের রায় বানচালের লক্ষ্যে সন্ত্রাসীরা মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। দুই বিদেশি হত্যা, পুলিশ খুন, তাজিয়া মিছিল প্রস্তুতিস্থলে বোমা হামলা, ব্লগার-প্রকাশক হত্যা- ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ। যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লগার হত্যাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে দাবি করতে চান, কিন্তু তিনি এও বলেছেন, সবকিছুর আদি উৎস জামায়াত। এরা কখনো জেএমবি, কখনো হরকাতুল জিহাদ, কখনো আনসারুউল্লাহ বাংলা টিম নামে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। সরকারের অভিযোগের তীর বিএনপির দিকে আর বিএনপির অভিযোগ বরাবরের মতো আওয়ামী লীগের দিকে। এ দেশে ব্লেম গেমের রাজনীতি দুষ্টচক্রের মতো চলছেই। এই ব্লেম গেমের রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়িতে জঙ্গিবাদ আরও প্রবলভাবে জেঁকে বসেছে। জঙ্গিবাদের উৎস নিয়ে, প্রসার নিয়ে চায়ের টেবিলে, মাঠে ময়দানে, টকশোর পর্দায় জোর আলোচনা চলছে। দেশে আইএস আছে কি নেই এক ধোঁয়াশার মধ্যে আছি আমরা।

সরকারের বিরুদ্ধে নিষ্পৃহতার অভিযোগ আসে। অভিযোগ আসে অতিকথনের। মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করা এই সরকারের যেমন সবচেয়ে বড় সাফল্য, তেমনি প্রশ্ন আসে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হলে অতি ক্ষমতাবান যুদ্ধাপরাধীরা যে তা-ব শুরু করবে সে ব্যাপারে সরকারের প্রস্তুতি কেন ছিল না? সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে ব্লগার হত্যায় সরকার কেন নীরব থাকে? জঙ্গিদের বক্তব্য মুক্তমতের নামে ব্লগাররা ধর্মকে অবমাননা করছে। সরকারও ব্লগার বিষয়ে একই ধরনের চিন্তা পোষণ করে কি না সেই প্রশ্ন এখন সবার সামনে। আমার দেশের জন্য আমার পেট পোড়ে। সরকার বলে দেশ স্বাভাবিক আছে। আমি দেখি অদ্ভুত নীরবতা। কিছুটা আতঙ্কে, কিছুটা জীবিত মানুষ হওয়ার তাগিদে মৃত্যু নিয়ে মাঝে মাঝে শোরগোল তুলি। যদিও দিন চলে যাচ্ছে দিনের নিয়মে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। একতরফা বক্তৃতায় ছাত্র-ছাত্রীদের বিভ্রান্ত করি। স্কুলে বাচ্চাদের আনতে যাই। সেখানে নারী বন্ধুরা একটি বাক্যে দেশ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে চলে যায় শাড়ি, গয়না, রান্নার আলাপে। সেই গল্পেও অংশ নেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে। দেশ তো স্বাভাবিকই আছে।

রাতে টকশো’র টেবিলে জবাবদিহিতার তুমুল ঝড় তুলি। দেশ, সমাজ, জাতি উদ্ধার করে, সরকারকে তুলোধনা করি। কিছুই উদ্ধার হয় না। পেটপুরে ভাতঘুম দিয়ে সুবিধাবাদী নাগরিক জীবনের আরও একটি রাত পার করি। ওদিকে রাতের অন্ধকারে, দিনের প্রকাশ্য আলোয় মরতে থাকে অভিজিৎ, ওয়াশিকুর, নীল, অনন্ত, দীপনরা, আমাদের রক্ষা করার জন্য পুলিশ সদস্যরা। রাজনীতি বলে এ প্রতিপক্ষের চাল। হুমকিদাতা জঙ্গিরা বলে হিজাব পরে বন্দী হও, মুখে কুলুপ আঁটো। আর কত মুখে কুলুপ আঁটলে, আর কত মৃত্যু, কত হামলা আর নৃশংসতা হলে এই হত্যার উৎসব বন্ধ হবে? আমি এই আতঙ্কের শহরে থাকতে চাই না। পালাতেও চাই না। চাই না স্বেচ্ছায় বন্দী হতে। চাই না মৃত্যু নিয়ে সংবাদের উৎসব করতে। আমার ছোট বাচ্চাটা বলে, মা তুমি আর কাজ করতে যেও না। ওদের বিরুদ্ধে কথা বলো না। বাবা বলেন, কী দরকার আমার টকশো’তে এত খোঁচাখুঁচি করার, এত প্রশ্ন করার? একাত্তর-এর সম্পাদক মোজাম্মেল বাবুভাই বলেন, ধর্ম নিয়ে যৌক্তিক অযৌক্তিক কোনো প্রসঙ্গই তুলো না। আইনশৃক্সখলা রক্ষাবাহিনী বলে সতর্ক থাকুন। এত না না, এত সতর্কতা, এত নৃশংসতার মধ্যে আমি এবং আমরা কি বেঁচে আছি? আমার বাড়ির সেই মেয়েটির মতোই আমার মন পোড়ে, পেট পোড়ে একটু শান্তির জন্য, স্বস্তির জন্য, দেশ নামক প্রিয় বাড়িটার জন্য। সূত্র-বাংলাদেশ প্রতিদিন

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর, একাত্তর টেলিভিশন।


রবীন্দ্রনাথ ও আমাদের সংস্কৃতি - মুহম্মদ মতিউর রহমান

মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৫

আমাদের স্বাধীনতা ও জাতীয়তার প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথ সম্পূর্ণ অবান্তর ও অপ্রাসঙ্গিক। আমাদের স্বাধীনতা ও জাতীয়তার মূলে কয়েকটি ঐতিহাসিক ঘটনা-পরম্পরার উলেখ অপরিহার্য। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ, ১৯০৬ সালে ‘মুসলিম লীগ’ গঠন, ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, ১৯১৯-২২ সালে খেলাফত আন্দোলন, ১৯৩৭ সালে নির্বাচন এবং নির্বাচনে মুসলিম লীগের বিজয়ের পর শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের প্রধানমন্ত্রিত্বে মন্ত্রিসভা গঠন, ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে গৃহীত ‘লাহোর প্রস্তাব’ (যা পাকিস্তান প্রস্তাব নামেও পরিচিত) ইত্যাদি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে।
প্রধানত ইংরেজ শাসকদের শাসনকার্যের সুবিধার জন্যই বঙ্গভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নবগঠিত প্রদেশের রাজধানী ঢাকায় স্থাপিত হওয়ায় রবীন্দ্রনাথসহ সব হিন্দু জমিদার বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হন। কারণ তাদের জমিদারি পূর্ববঙ্গে হলেও তারা অধিকাংশই বসবাস করতেন কলকাতায়। জমিদারি হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তারা বঙ্গভঙ্গের প্রচণ্ড বিরোধিতা করেন। এমনকি, যেসব হিন্দু জমিদার ঢাকায় বসবাস করতেন, তারাও বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেন। এর কারণ সম্পর্কে কমরেড মুজফফর আহমদ বলেন : ‘পূর্ববঙ্গের বড় হিন্দু জমিদাররা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনে প্রচুর সাহায্য করছিলেন। জমিদাররা ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন যে, মুসলিম কৃষক প্রজাপ্রধান পূর্ববঙ্গে না জমিদারি প্রথা বিলোপ হয়ে যায়।’ (আমার জীবন ও ভারতে কমিউনিস্ট পার্টি; পৃষ্ঠা-৭; ১৯৭৭, ঢাকা সংস্করণ)।
যেদিন বঙ্গভঙ্গ ঘোষিত হয়, সেদিন কংগ্রেস দেশব্যাপী ‘শোক দিবস’ পালন করে, ওইদিন তারা উপবাস করে, সব রকম কাজ-কর্ম পরিত্যাগ করে আত্মশুদ্ধির জন্য সকাল বেলা খালি পায়ে গঙ্গাস্নানে যায়। গঙ্গাস্নান থেকে ফেরার পথে সবার হাতে রাখী পরিয়ে দেয়। হিন্দুদের বঙ্গভঙ্গ রদের এ আন্দোলন অচিরেই মুসলিম-বিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। নানা স্থানে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয়। বঙ্গভঙ্গ রদের জন্য ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য মোহন চাঁদ করম চাঁদ গান্ধী ‘স্বরাজ আন্দোলন’ ও বিদেশি পণ্য বর্জন আন্দোলন শুরু করেন। অবশেষে ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম জর্জ হিন্দুদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১১ সালে ভারত সফরে আসেন। ভারতের হিন্দু নেতারা সম্মিলিতভাবে দিল্লির রাজদরবারে তাকে বিপুলভাবে সংবর্ধনা জানান। রবীন্দ্রনাথ সে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজার গুণগান গেয়ে ‘জনগণ মন অধিনায়ক জয় হে, ভারত ভাগ্য-বিধাতা’ গানটি রচনা করে এবং গেয়ে রাজার মনোরঞ্জন করেন। ইংল্যান্ডের রাজা পরের দিনই বঙ্গভঙ্গ রদের আদেশ জারি করেন। এভাবে বাংলা ও আসামের অধঃপতিত-বঞ্চিত-শোষিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের পথ রুদ্ধ হলেও এতে রবীন্দ্রনাথের আভিজাত্যবাদী, হিন্দু জাতীয়তাবাদী ও ঔপনিবেশিক শক্তির প্রতি দাস্য মনোভাবের বিজয় ঘোষিত হয়।
বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ববঙ্গ ও আসামের ভাগ্যবঞ্চিত জনগণ বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়। নবাব সলিমুল্লাহ তখন ইংরেজ সরকারের কাছে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। পূর্বাঞ্চলীয় জনগণের বঞ্চনার কথা চিন্তা করে অবশেষে তাদের ‘গরু মেরে জুতা দান’ করার মতো ইংরেজ সরকার ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে অন্তত এ এলাকার যুব-সম্প্রদায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ পাবে—এ আশায় এ অঞ্চলের মানুষ কিছুটা আশ্বস্ত হয়। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও তুমুল বিরোধিতা করেন। কলকাতা ইউনিভার্সিটি কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাবু গিরিশ বানার্জি, ড. স্যার রাসবিহারী ঘোষ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আশুতোষ মুখার্জির নেতৃত্বে একদল হিন্দু বুদ্ধিজীবী বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জের সঙ্গে দেখা করে ১৮ বার স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। ১৯১১ সাল থেকে ১৯২০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট পাস হওয়া পর্যন্ত কবি রবীন্দ্রনাথসহ হিন্দু নেতারা অবিরাম এর বিরোধিতা করেছেন।
এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর কাজী জাকের হোসেন বলেন—“ঘোষণা দেয়া মাত্র ওপার বাংলার তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেল। ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা? কী অলক্ষণে কথা! ‘চাষার ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে বাসার চাকরি করবে কারা!’ যে ২২ জন ‘মহাজ্ঞানী ব্যক্তি’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে এক নম্বরে নাম ছিল আমাদের সর্বজনশ্রদ্ধেয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কলকাতার গড়ের মাঠে যে সভা হয়, তাতে সভাপতিত্ব করেছিলেন আমাদের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এসব বাধার কারণে ১৯১১ সালে ঘোষণা দিলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি আঁতুর ঘরে পড়ে থেকে মৃত্যুর প্রহর গুনছিল। শোনা যায়, অবশেষে নানা বিষয়ে সমঝোতা হয়, যার মধ্যে ছিল মনোগ্রামে ‘সোয়াস্তিকা’ এবং ‘পদ্ম’ ফুলের প্রতীক থাকবে। প্রতিবাদকারীরা খুশি হন। অতঃপর ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।” (ডক্টর কাজী জাকের হোসেন : বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আমাদের কোন নীতিমালা আছে কি?’, দৈনিক ইনকিলাব, ১০ মার্চ, ২০০২)।
উপরে ডক্টর কাজী জাকের হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে সমঝোতার কথা উল্লেখ করেছেন, তারপরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সরকারের গড়িমসি দেখে অবশেষে ঢাকার নবাবের দানকৃত সাড়ে তিনশ’ একর জমি এবং নবাব আলী চৌধুরী তার জমিদারি বন্ধক রেখে সাড়ে তিন লাখ টাকা দান করায় অবশেষে ইংরেজ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়। অবশেষে দীর্ঘ প্রায় এক দশক কাল পরে ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯১৯-২২ সালে খেলাফত আন্দোলনকালে ভারতীয় মুসলিম নেতাদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনার্থে মোহন চাঁদ করম চাঁদ গান্ধী খেলাফত আন্দোলন সমর্থন করেন। এটি ছিল ভারতে মুসলমানদের একটি আবেগ-প্রসূত ব্যাপার। তত্কালীন বাঙালি সব মুসলিম নেতা এ আন্দোলনে শরিক হন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ এটা অপছন্দ করেন। খেলাফত আন্দোলনের অনেক পরে তিনি ৪ মার্চ, ১৩৩৬ তারিখে রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়কে লেখা একটি চিঠিতে লেখেন : “...ব্রিটিশ সাম্রাজের প্রতি লক্ষ্য করলে হিন্দু-মুসলমানের বিরোধ সাধনকে পুণ্য কর্মই বলা যায়। বিশ্ব-মুসলমানির প্রচেষ্টাও সেই লক্ষ্য অভিমুখে। প্যান-ইসলামীয় প্রচেষ্টা ভারত সাম্রাজ্যের অনুকূল নয়। তার অর্ঘ্য রাজদ্বার পেরিয়ে চলে যায়।”
ভাষার প্রশ্নেও রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমাদের ব্যবধান দুস্তর। বাংলা ভাষা আমাদের ও রবীন্দ্রনাথ উভয়েরই মাতৃভাষা। মাতৃভাষার প্রতি অনুরাগ ও অকৃত্রিম প্রীতিবোধ সবার সহজাত। এ মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য আমরা অর্থাত্ বাংলাদেশের মুসলমানরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, রক্ত দিয়েছি এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণের বিনিময়ে বাংলাকে আমাদের রাষ্ট্রভাষা ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে’র স্বীকৃতি অর্জন করেছি। অন্যদিকে, রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবির বিরোধিতা করেছেন। ১৯১৮ সালে মোহন চাঁদ করম চাঁদ গান্ধী যখন ভবিষ্যত্ স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রভাষা কী হবে সে সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের মতামত জানতে চান, তখন তিনি নির্দ্বিধায় বলেন : ্তুঞযব ড়হষু ঢ়ড়ংংরনষব হধঃরড়হধষ ষধহমঁধমব ভড়ত্ রহঃবত্-ঢ়ত্ড়ারহপরধষ রহঃবত্পড়ঁত্ংব রং ঐরহফর রহ ওহফরধ্থ
১৯১৮ সালে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় সম্মেলনে ১৯ জন বিশিষ্ট পণ্ডিতের মধ্যে রবীন্দ্রনাথসহ ১৮ জনই হিন্দিকে ভারতের রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মত দেন। সেখানে একমাত্র মুসলিম প্রতিনিধি ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলার পক্ষে মত দেন। রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘শহীদুল্লাহর বক্তব্য আবেগবহুল। এর মধ্যে যুক্তি নেই। হিন্দির পক্ষে যারা বলেছেন তাদের কথাই সত্য ধরতে হয়, ভারতের সামগ্রিকতার কথা চিন্তা করলে। আমার মনে হয়, হিন্দিকে গুরুত্ব দেয়া উচিত।’
মূলত ভাষার প্রশ্নে বাঙালি হিন্দু ও বাঙালি মুসলমানের দৃষ্টিভঙ্গি সর্বদাই স্বতন্ত্র। বিশেষত বাংলা ভাষার প্রতি সংস্কৃত পণ্ডিত ও উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের বৈরিতা ঐতিহাসিক ও সর্বজনস্বীকৃত। বৌদ্ধ ও পাল যুগে বাংলা ভাষার উত্পত্তি। পালদের পরাজিত ও বিতাড়িত করে দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক থেকে আগত সেন বংশীয় আর্য-ব্রাহ্মণরা গৌড়ের সিংহাসন অধিকার করেন। সেনদের ভাষা সংস্কৃত, তারা আর্য বংশোদূ্ভত বর্ণ হিন্দু। অনার্যপ্রধান বাঙালির বাংলা ভাষাকে তারা ঘৃণা করতেন। সেন আমলে বাংলা ভাষার চর্চা ছিল নিষিদ্ধ। মুসলিম শাসনামলে বাংলা ভাষার চর্চার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। তখন থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালি মাতৃভাষা বাংলার চর্চা করার অবাধ স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। সেন আমলে নিষিদ্ধ দীনহীন বাংলা ভাষা আরবি, ফারসি, তুর্কিসহ বিভিন্ন ভাষার অসংখ্য শব্দরাজি আত্মস্থ করে অল্পদিনের মধ্যেই সমৃদ্ধ ও মনের বিচিত্র ভাব প্রকাশের উপযোগী হয়। তবে আরবি-ফারসি শব্দ সাধারণভাবে বাংলা ভাষায় প্রবিষ্ট হলেও বাঙালি হিন্দু থেকে বাঙালি মুসলামানের ব্যবহারিক ভাষায় এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে অধিক।
ফলে বাঙালি মুসলমানের বাংলা ওই সময় থেকেই বাঙালি হিন্দুর জবান থেকে খানিকটা পৃথক হয়ে পড়ে। উভয়ের রচিত সাহিত্যেও এ পার্থক্য সুস্পষ্ট। শুধু এ পার্থক্যের কারণেই মধ্যযুগে বাঙালি মুসলমান রচিত বিশাল সাহিত্যকে ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন, ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ডক্টর সুকুমার সেন প্রমুখ হিন্দু পণ্ডিত একে ‘পুঁথি সাহিত্য’, ‘বটতলার সাহিত্য’ ‘মুসলমানি বাংলা সাহিত্য’, ‘ফারসি বাংলা সাহিত্য’ ইত্যাদি বিভিন্ন তুচ্ছাত্মক শব্দে অভিহিত করেন। ইংরেজ আমলে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের খ্রিস্টান পাদ্রী ও ব্রাহ্মণ পণ্ডিতদের যৌথ ষড়যন্ত্রে বাংলা ভাষার স্বাভাবিক রূপ পরিবর্তিত হয়। বাংলাকে ‘সংস্কৃতের দুহিতা’ হিসেবে প্রমাণ করার জন্য তারা প্রচলিত বাংলা ভাষা থেকে আরবি-ফারসি-উর্দু শব্দগুলো বিতাড়িত করে সে স্থলে অপ্রচলিত ও দুর্বোধ্য সংস্কৃত শব্দ সমন্বয়ে কৃত্রিম বাংলা ভাষা তৈরি করে তার নাম দেন ‘সাধু বাংলা’। রবীন্দ্রনাথ সে সাধু বাংলাকে কলকাতাকেন্দ্রিক আঞ্চলিক বাংলা ভাষার আদলে গড়ে তোলেন। তার বিশাল অবদানের ফলে সে ভাষাই কালক্রমে স্ট্যান্ডার্ড বাংলা ভাষার স্বীকৃতি লাভ করে। কিন্তু বাঙালি মুসলমানের ব্যবহৃত ভাষার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ভাষার দূরত্ব সহজেই পরিদৃশ্যমান। অর্থাত্ সংস্কৃতি বিনির্মাণে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যে ভাষা, সেক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পার্থক্য সুস্পষ্ট।
মুসলিম সমাজের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিদ্বেষের অন্যতম আরেকটি কারণ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। ১৯৩৭ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে শেরেবাংলা একে ফজলুল হককে প্রধানমন্ত্রী করে অবিভক্ত বাংলায় শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা গঠনের পর শেরেবাংলার ঐকান্তিক চেষ্টায় ১৯৩৮ সালে ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন, ১৯৩৯ সালে প্রজাস্বত্ব আইন পাস এবং ১৯৪০ সালে মহাজনী আইন পাসসহ বহুবিধ জনকল্যাণমূলক আইন পাস হয়। এতে দীর্ঘকাল ধরে বঞ্চিত-শোষিত-নিপীড়িত সাধারণ মানুষ, যাদের অধিকাংশই মুসলিম, তারা লাভবান হয়। হক-মন্ত্রিসভা ওই সময় বহুসংখ্যক ব্রিটিশবিরোধী রাজবন্দিকে মুক্তি দান করে। এছাড়া, রবীন্দ্রনাথের জন্য সর্বাধিক দুশ্চিন্তার কারণ হয় যখন শেরেবাংলা বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ করার প্রস্তাব করেন। রবীন্দ্রনাথের এ উদ্বিগ্নতার বিষয় তিনি এক চিঠিতে এভাবে উল্লেখ করেন : “আমাদের দুর্ভাগ্য দেশে সম্প্রতি রাষ্ট্র-ব্যবস্থায় মুসলমান কর্তৃত্বের উপলক্ষে সাহিত্যে সাম্প্রদায়িক শাসনের যে নতুনত্ব রুদ্রমূর্তি ধরল, তার উপরে যদি সোভিয়েট বা নাজি শাসন চালানো না যায়, তাহলে তো নৌকাডুবি হবে।” (চিঠিটি ১৩৪৬ সালে ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ছাপা হয়)।
১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদে মুসলমানদের সংখ্যানুপাতে আসন নির্ধারণের ব্যাপারে ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হিন্দু মহাসভা প্রবল প্রতিবাদ জানায়। এ উপলক্ষে আয়োজিত হিন্দু মহাসভার প্রতিবাদ সভায় রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং সভাপতিত্ব করেন। (দ্র: মাহমুদ শাহ্ কোরেশী : ‘সৈয়দ আলী আহসান ও বিশ্ব সংস্কৃতি’, পৃষ্ঠা-৭৫)। এসব ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বার্থ আর রবীন্দ্রনাথের স্বার্থ কখনও এক ছিল না। বরং মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের এবং মুসলমানদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার দেয়ার ক্ষেত্রে তার ঘোরতর আপত্তি ছিল এবং তিনি কখনও মুসলমানদের উন্নতি চাননি। ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা, অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে মুসলমানদের স্বার্থ, প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার বিপরীত প্রান্তে রবীন্দ্রনাথের অবস্থান। অতএব, রবীন্দ্র-সাহিত্য আমাদের কাছে সর্বতোভাবে অভিপ্রেত হলেও তার চিন্তাধারা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের সুস্পষ্ট বিরোধ বিদ্যমান। অবশ্য তার সাহিত্য পাঠ ও তা থেকে রস সংগ্রহের জন্য তার চিন্তাধারা ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিল থাকা অপরিহার্য নয়।
সন্দেহ নেই, রবীন্দ্রনাথের ধর্ম হিন্দু (অথবা অংশত ব্রাহ্ম)। তার সংস্কৃতি হিন্দু সংস্কৃতি। তিনি বেদ-উপনিষদের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তার মন-মানস লালিত বৈদিক ঋষি বা তপোবনের আদর্শে। তিনি মহাভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী এবং হিন্দু নবজাগরণের অন্যতম প্রবক্তা। তিনি বাঙালি মুসলমানের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদের উন্মেষে সর্বদা নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। সর্বোপরি তিনি চরম মুসলিম-বিদ্বেষী ও মুসলমানদের বিশ্বাস ও স্বতন্ত্র অস্তিত্বের বিরোধী। সুতরাং তার আদর্শ ও চিন্তা-চেতনার সঙ্গে আমাদের অর্থাত্ বাংলাদেশের শতকরা নব্বই জন মানুষের কোনো মিল নেই।
বাংলাদেশের শতকরা নব্বই জন অধিবাসীর ধর্ম ইসলাম। তাদের সংস্কৃতি ও জীবনাচরণের মূল উত্স ইসলাম। ইসলামী আদর্শ, ঐতিহ্য ও বিশ্বজনীন ইসলামী ভাবধারায় (প্যান ইসলামিজম) তারা আজন্ম লালিত। ইসলামী আদর্শ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কারণেই বাঙালি মুসলিম শতাধিক বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে এবং রবীন্দ্রনাথ ও তার স্বগোত্রীয় প্রবল পরাক্রান্ত হিন্দু সমাজের বিরোধিতা সত্ত্বেও অগণিত জান-মাল কোরবানির বিনিময়ে নিজেদের জন্য যে স্বতন্ত্র স্বাধীন আবাসভূমি প্রতিষ্ঠা করেছে, তার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের আদর্শ, সংস্কৃতি ও চেতনার মিল খুঁজতে যাওয়া শুধু নিরর্থকই নয়, সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও আরোপিত দায়বোধের নির্লজ্জ বহিঃপ্রকাশ। এ দায়বোধ কতিপয় বর্ণচোরা নব্য-উপনিবেশবাদীর লেজুড়বৃত্তিকারী স্বার্থান্ধ ব্যক্তির আত্মগত উপলব্ধি হলেও—সাধারণ বাংলাদেশীদের যে তা হীন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গোলামিতে আবদ্ধ করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র, তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। এ ষড়যন্ত্রের জালে আবদ্ধ হওয়ার অর্থ আমাদের ধর্মীয়, আদর্শিক, ঐতিহ্যিক, সাংস্কৃতিক ও জাতিগত স্বাতন্ত্র্য বিসর্জন দেয়া। তাই এ সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রত্যেক দেশপ্রেমিক নাগরিকের একান্ত কর্তব্য।
সংস্কৃতি বিনির্মাণে ধর্মের প্রভাব সর্বাধিক। হিন্দু ধর্মের বহুত্ববাদ বা তেত্রিশ কোটি দেব-দেবীর স্থলে ইসলামের তৌহিদ বা একত্ববাদ, হিন্দুদের সকার বা পৌত্তলিকতার স্থলে মুসলমানদের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী অসীম স্রষ্টার অস্তিত্বে আস্থা বা বিশ্বাস, হিন্দুদের মন্দিরের পরিবর্তে ইসলামের মসজিদ, হিন্দুদের জাতিভেদ প্রথা বা শ্রেণী-বৈষম্যের স্থলে ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের সর্বজনীন আদর্শের ভিত্তিতে নতুন সমাজ গঠিত হয়। হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ বেদ একমাত্র ব্রাহ্মণ পুরুষ ছাড়া অন্যদের স্পর্শ করা নিষিদ্ধ, ইসলামের ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষ স্পর্শ ও পাঠ করতে পারে। কারণ আল কোরআন শুধু মুসলিমদের জন্য নয়, সমগ্র মানবজাতির জন্য বিশ্ব- স্রষ্টার কাছ থেকে অবতীর্ণ। এভাবে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে হিন্দুদের সঙ্গে মুসলমানদের পার্থক্য থাকার ফলে মুসলিম শাসনামলে স্বতন্ত্র ইসলামী বা মুসলিম সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে।
বৌদ্ধ-পাল যুগে বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে বৌদ্ধ মন্দির, বৌদ্ধ স্থাপত্য-ভাস্কর্য, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও জীবনাচার গড়ে ওঠে। সেন আমলে তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং সে স্থলে হিন্দু মন্দির, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের আদলে স্থাপত্য-ভাস্কর্য, শিল্প-সংস্কৃতি ও জীবনাচার গড়ে ওঠে। মুসলিম শাসনামলে ইসলামী আদর্শ-চিন্তা-চেতনার আলোকে ভিন্নতর এক সাংস্কৃতিক জীবনধারা গড়ে ওঠে। মুসলমানদের মসজিদ, সৌধরাজি বা বিভিন্ন স্থাপত্য-ভাস্কর্য, শিল্পকলা ও সাহিত্যে ইসলামী আদর্শ, ঐতিহ্য ও জীবনচেতনার সুস্পষ্ট প্রকাশ ঘটে। ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের প্রভাবে বাঙালি মুসলমানের জীবন-যাপন পদ্ধতি, রীতি-নীতি, রুসুম-রেওয়াজ, চাল-চলন, সমাজিক আচার-অনুষ্ঠান, বিয়ে-শাদি, আকিকা-খত্না, ইবাদত-বন্দেগি, এমনকি মৃত্যু-পরবর্তী জানাজা-দাফন-কাফন ইত্যাদি সবকিছু হিন্দুদের থেকে আলাদা। এ কারণে সেন আমলে বির্নিমিত হিন্দুর সংস্কৃতির পাশাপাশি মুসলিম শাসনামলে বাঙালি মুসলমানদের এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন নতুন সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। এ ভিন্ন সংস্কৃতির প্রভাব উভয়ের ভাষা, সাহিত্য ও জীবনের ধ্যান-ধারণা, আশা-অভীপ্সাতেও প্রতিফলিত হয়। কিন্তু এ ভিন্নতা কখনও কোনো সংঘর্ষের জন্ম দেয়নি। ইসলামের সাম্য-ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সহনশীল মানবিক আদর্শের কারণেই সব ধর্ম ও মতের লোকেরা শত শত বছর ধরে শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবন যাপন করে সবাই সম্মিলিতভাবে নিজের ও দেশের উন্নয়নের কাজে নিয়োজিত থেকেছে।
অতএব এটা সুস্পষ্ট যে, রবীন্দ্রনাথ আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ নন, বরং আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে তার সাপে-নেউলে সম্পর্ক। রবীন্দ্রনাথের সাংস্কৃতিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হলে আমাদের স্বতন্ত্র জাতিসত্তা গড়ে উঠত না, স্বতন্ত্র স্বাধীন দেশও প্রতিষ্ঠিত হতো না। তা সত্ত্বেও যারা রবীন্দ্রনাথের আদর্শে দেশগড়ার কথা বলেন, রবীন্দ্রনাথকে আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে দাবি করেন, জনগণকে রবীন্দ্র-চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে দরিদ্র জনগণের বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময়ে রবীন্দ্রনাথের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী সারা বছর ধরে পালন ও রবীন্দ্রনাথের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা বলেন, তারা হয়তো আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য, আমাদের পূর্ব পুরুষদের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সংগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ অথবা বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের ক্রীড়নক মাত্র।
পরিশেষে বলতে চাই, রবীন্দ্রনাথের আদর্শ, চিন্তা-চেতনা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এটা অনস্বীকার্য যে, তার সাহিত্য আমাদের তথা সমগ্র বাংলা সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তাকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য কখনও পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। রবীন্দ্রনাথের বিশাল অবদান, বিশ্বের দরবারে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে মহিমান্বিত আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। এজন্য তিনি সর্বদা আমাদের কাছে বরেণ্য ও পরম শ্রদ্ধেয়। তাকে আমরা চিরকাল স্মরণ করব, তার জন্য গর্ব করব। তার সঙ্গে বহু ক্ষেত্রে আমাদের অমিল থাকা সত্ত্বেও তার সাহিত্য আমাদের তথা সমগ্র বাংলা সাহিত্যের পরম গৌরবময় সম্পদ। তবু স্পষ্ট করে একথা বলতে চাই যে, রবীন্দ্রনাথের আদর্শ, চিন্তা-চেতনা ও সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণার মহাভারতীয় সরোবরে অবগাহন করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সাধারণভাবে তার সাহিত্যের রসাস্বাদন করার উদ্দেশ্যেই আমরা রবীন্দ্র-সাহিত্য পাঠ করব। যেমন বিশ্বসাহিত্যের অনেক বরেণ্য কবি-সাহিত্যিকের লেখা পাঠে আমরা আমাদের চিত্তবৃত্তির উত্কর্ষ সাধন করে থাকি। (সমাপ্ত)
e-mail : এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


Proposed administrative structure of BD by Abu Taleb

সোমবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৫

Bapsnews:Once, Bangladesh was a rural country. Now, Bangladesh is a rural-urban country; both are not same, both’s challenges and significances are not same, both’s developmental plans and goals are not same, and both’s administrative structures and their functions should not be the same; it should be soon understood by the people of Bangladesh, and it should be officially recognized by the government of Bangladesh. As we see, the rural villages in the unions are constantly changing in many ways, and the fast pace of urbanization is a reality in Bangladesh. In fact, Bangladesh is also heading towards becoming a completely unban country. As predicted, 50% of the Bangladesh will be urban by the year 2020, and Bangladesh will fully become an urban country by the year 2050. In other words, right now about 35% of the Bangladesh’s people live in the urban areas; by 2020, 50% of the people will live in the urbanized areas, and by 2050, 100% people will live in the fully urbanized Bangladesh. The question is, as a nation, are we prepared for that? And as a country, is Bangladesh preparing for that? The answer is clearly no. So, facing and shaping the grave challenges in the urban areas and facing and shaping the challenges in the rapidly changing rural areas simultaneously, Bangladesh needs now to establish a dynamic administrative structure at its all administrative layers. Bangladesh also needs to systematize its disorganized local administrative layers and units, and it needs to reduce the number of local administrative layers and units. Towards that end, attached please find a proposed dynamic systematized administrative structure of Bangladesh prepared on the basis of predicted/projected changes and challenges by the years 2020 and 2050. The structure has two parts; unlike a rural country, one part of the structure is designed for the present rural-urban Bangladesh; and, unlike a rural-urban country,  another part of the structure is designed for the future 100% urbanized Bangladesh. In the proposed graphical structure, it is clearly shown that the rural local administrative units in Bangladesh will be progressively abolished; in other words, the unions and villages will be transformed into nagars and nagar sarkars (urban administrative units); and, ultimately, Bangladesh will consist of a number of nagars (urban units) and nagar sarkars only. As designed, Bangladesh will have a two-tier local government system, and, it could have a reduced number of local administrative units as desired, as needed. As a result, the operational costs, on the one hand, will be reduced and the developmental costs, on the other hand, might be increased. By the way, it should be mentioned that the proposed systematized administrative structure was prepared by Mr. Abu Taleb and presented by him at a national seminar held in Dhaka on 13 January 1997. Since then, because of the CDLG’s continual campaign and targated advocacy on the proposal, we sense that the importance of the proposed structure is increasing among the different groups of peoples. In reality, we are now more confident that either of the two proposed administrative structures, if implemented now, could shape the present and future of Bangladesh and its peoples. However, if the attached graphical governmental structures (one for the present rural-urban Bangladesh and another for the future urban Bangladesh) and their significances are not fully clear to you, please let us know your informational questions on them, and feel free to express your opinions on them as well. Since the future Bangladesh means an urban Bangladesh, since the present Bangladesh means a  rural-urban Bangladesh, and since present Bangladesh is not a rural Bangladesh, everyone, especially members of the government policy and law making bodies, should know understand deeply the proposed administrative structure prospect for the 65% rural-35% urban Bangladesh as well as for the the 100% urban Bangladesh, and everybody should prepare act accordingly.

Abu Taleb BAPS
With best regards,
Bapsnews, New York


সন্ত্রাস ও ইসলাম এক নয়

সোমবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৫

ফারিহা : সন্ত্রাসের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে জোর তর্ক তুলে দিল প্যারিস। পৃথিবীজুড়ে যত জঙ্গি হামলা, তার সবক’টির দায় নাকি ইসলামেরই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি একাংশের।জঙ্গি হামলায় প্যারিসের মাটি রক্তাক্ত হওয়ার পর থেকেই নানা ইসলাম বিরোধী মন্তব্যে সরগরম ফেসবুক-টুইটার। পাল্টা প্রতিবাদ আছড়ে পড়তেও অবশ্য সময় লাগেনি।

জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বহু মানুষ বলছেন, সন্ত্রাসের কোনো ধর্ম হয় না। যুক্তি-পাল্টা যুক্তিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে।প্যারিস হামলা সবচেয়ে বেশি বিপদে ফেলেছে যাদের, তারা শরণার্থী। প্রাণ বাঁচাতে, পরিবার বাঁচাতে সিরিয়ার বধ্যভূমি ছেড়ে যারা শ’য়ে শ’য়ে, হাজারে হাজারে পাড়ি দিতে শুরু করেছিলেন ইউরোপের দিকে, বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ এবার তাদের আর আশ্রয় দিতে নারাজ।শরণার্থীদের ভিড়ে মিশে সিরিয়া থেকে কোনো আইএস জঙ্গি ঢুকে পড়েছিল ফ্রান্সে প্রাথমিক এমনটাই ধারণা ফরাসি সরকারের।

Picture

ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে সব দেশ সিরীয় শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে শুরুতে রাজি হয়নি, তারা এখন সোচ্চার। শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া মোটেই উচিত হয়নি, বলছেন অনেক রাষ্ট্রপ্রধান।জার্মানির মতো যে সব দেশ শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে ছিল, প্যারিসের ঘটনার পর তারাও দ্বিধায়।

সন্ত্রাস আর ইসলামের ‘অঙ্গাঙ্গী যোগ’ নিয়ে যে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে প্যারিস, তা ঠান্ডা না হলে শরণার্থীদের দুর্ভোগ বাড়বে বলে ওয়াকিবহাল মহলের মত।

মুসলিম বিশ্ব কিন্তু প্যারিসে জঙ্গি হামলার কঠোর সমালোচনা করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হাইদার আল আবাদি কড়া ভাষায় প্যারিস হামলার নিন্দা করেছেন।সৌদি আরব এবং কুয়েতের মতো ইসলামি দেশের বিদেশ মন্ত্রীরাও কঠোর ভাষায় আইএসকে আক্রমণ করেছেন। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো-ও প্যারিস হামলার তীব্র সমালোচনায় সরব।

শুধু ইসলামি রাষ্ট্র নয়, বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামি সংগঠনও নিরীহ সাধারণ মানুষের উপর আইএসের জঘন্য আক্রমণের প্রবল নিন্দা করেছে। প্রত্যেকেরই বক্তব্য, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এমন জঘন্য হিংসাকে ইসলাম কখনই সমর্থন করে না।জেহাদের নামে যারা এই বর্বরতায় মত্ত, তারা কখনই প্রকৃত মুসলিম হতে পারে না বলেও বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন মন্তব্য করেছে।

একের পর এক ইসলামি রাষ্ট্র প্যারিস হামলার নিন্দা করা সত্ত্বেও কেন ইসলামকে সন্ত্রাসের সঙ্গে জুড়ে দেখা হবে? প্রশ্ন বিশ্বের একটা বিরাট অংশের। আইএস-এর মতো ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্য সংখ্যা পৃথিবীর মোট মুসলিম জনসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নগণ্যই।তাই এক বিরাট অংশের মানুষ বলছেন, মুষ্টিমেয় কিছু বর্বর ইসলামের নামে সন্ত্রাস করছে বলে, সব মুসলিমকে সন্ত্রাসবাদী তকমা দেওয়া মানবতার অপমান। তাদের প্রশ্ন, এই প্রবণতা না থামলে মৌলবাদকেই কি আরো বেশি প্রশ্রয় দেওয়া হবে না?

সব মুসলিমের গায়ে সন্ত্রাসবাদী ছাপ্পা লাগিয়ে দেওয়া কি মানবজাতির একটি বিরাট অংশকে কোণঠাসা করার নামান্তর নয়?

এ বিতর্ক সহজে থামার নয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় আছড়ে পড়া বিতর্কে ইসলামকে সন্ত্রাসের সমার্থক বলতে নারাজ যারা, তাদের সংখ্যাই এখনো বেশি। এমন দুর্যোগের মুহূর্তে আশার আলো বোধ হয় সেটুকুই।