Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

জানা-অজানার রহস্যপুরী

বৃহস্পতিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

আয়েশ আক্তার রুবি,বিশেষ সংবাদদাতা ,বাপসনিঊজ:লেখক এসএম মুকুলের ২১তম বই জানা-অজানার রহস্যপুরী। নামটিতেই বিষয় ও অর্থের ইঙ্গিত অনুমেয়। বইটিতে উপস্থাপিত বিষয়গুলোর বৈজ্ঞানিক ও যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এসব বিষয়ে অনেকের কিছুটা জানা কিছুটা অজানা রহস্যকে পুরোমাত্রায় জানান দিতেই এই আয়োজন।

Picture

যেমন ধরুন সাপ কি ভয়ঙ্কর প্রাণী, আঙুল ফোটানো নিরাপদ নয়, চুইংগাম চিবানোতে ক্ষতি আছে কি,  কেন ডোরাকাটা হয় সৈনিকের পোশাক, বাদুড় কিভাবে অন্ধকারে উড়ে বেড়ায়, পশুপাখি কি ভূমিকম্পের পূর্বাভাস পায়, জোনাকি পোকার আলো কিভাবে জ্বলে, সিনেমার পর্দা অমসৃন ও সাদা হয় কেন, সাপ কিভাবে শব্দ শুনে, উঁচু থেকে পড়লেও বিড়ালের কিছু হয় না কেন, লোহা পানিতে ডুবে কিন্তু জাহাজ ভেসে বেড়ায়, হঠাৎ আলো থেকে অন্ধকারে চোখ ধাঁধায়, টিকটিকি কেন লেজ খসায়, সাপ কেন খোলস ছাড়ে, পানিতে কিভাবে আগুন নিভে, কুকুর জিভ দিয়ে লালা ঝরায় কেন, মাছ ভাসে এবং শ্বাসকার্য চালায় কিভাবে, বৃষ্টি কেন ফোটায় ফোটায় পড়ে- এইসব প্রশ্নে উত্তর জানা যাবে বইটিতে।  যেসব পাঠকের অনুসন্ধানী মন উত্তর খুঁজে বেড়ায়। ভাবনায় খটকা লাগে। এইসব চেনা-জানা প্রশ্নের সহজিয়া উত্তরের জটলা খুলবে এইবার। জ্ঞান, আনন্দ, মজা, রোমাঞ্চ- এইসব মিলে জানা-অজানার রহস্যপুরী। ছবি চিত্রে সাজানো বইটির দাম মাত্র ৭৫ টাকা। বইমেলায় ২৫% কমিশনের পাওয়া যাবে। প্রচ্ছদ এঁকেছেন- মুকুল মোহাম্মদ। প্রকাশ করেছে পুঁথি নিলয় প্রকাশনী। বইমেলায় স্টল নম্বর ৪৬৭-৪৬৮তে পাওয়া যাবে বইটি।এস এম মুকুল, লেখক ও সাংবাদিক, মোবাইল- ০১৭১-২৩৪-২৮৯৪


৩০ লাখ শহীদে লাভ-ক্ষতি = সিরাজী এম আর মোস্তাক

মঙ্গলবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

বর্তমানে বাংলাদেশে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে মাত্র দুই লাখ এবং গেজেটভুক্ত বীরাঙ্গনা মাত্র ৪১ জন। শহীদ মাত্র সাতজন, তারা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত। এটাই মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদের প্রকৃত তালিকা। এছাড়া আর কোনো তালিকা নেই। অর্থাৎ আমাদের স্বাধীনতা ও বিজয় শুধুমাত্র এ দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা, ৪১ বীরাঙ্গনা ও সাতজন শহীদের একক অবদান। আর কারো কোনো অবদান নেই। খোদ বঙ্গবন্ধুও মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভূক্ত নন। একইভাবে ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনেরও তালিকা নেই। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর উক্ত নির্ধারিত সংখ্যক তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভবও নয়। এখন প্রশ্ন হলো, এ ত্রিশ লাখ শহীদ সংখ্যায় লাভ বা ক্ষতি কী?
ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের সংখ্যাটি নির্ধারণ করেছেন, বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি যুদ্ধের সময়ে পাকিস্তানে অবরূদ্ধ ছিলেন। তার সাথে আরো প্রায় পাঁচ লাখ বাঙ্গালি পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে বঙ্গবন্ধু দেশ-বিদেশের সকল যোদ্ধা ও শহীদদেরকে এক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ৬৭৬ জন যোদ্ধাকে চার ধরণের (বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক) খেতাব প্রদান করেন। এছাড়া অবশিষ্ট সমগ্র জনতা ও শহীদদেরকে তিনি সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করেন। তিনি যেহেতু বাংলাদেশের জনক, তাই তার কাছে কোনো নাগরিকই মুক্তিযোদ্ধা বা অমুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। অর্থাৎ বর্তমানে প্রচলিত দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও তালিকার অবৈধ বৈষম্যটি তার সৃষ্টি নয়। তার কাছে ত্রিশ লাখ শহীদ যেমন মুক্তিযোদ্ধা, ঠিক তেমনি ‘৭১ এর সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালি প্রত্যেকে এক একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিতে ত্রিশ লাখ সংখ্যাটি সুনির্ধারিত ও সুবিদিত। এ বিষয়ে কোনো সংশয়ের অবকাশ নেই।
ত্রিশ লাখ শহীদের সংখ্যাটি সন্দেহপূর্ণ হয়েছে, মূলত মুক্তিযোদ্ধা কোটার কারণে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে অসাধু রাজনীতিবিদগণ নিজেদের স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধা কোটানীতি চালু করেছে। তারা দেশের মানুষকে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা, পাকিস্তানী দালাল ও ভারতীয় দালালে বিভক্ত করেছে। মাত্র প্রায় দুই লাখ ব্যক্তিকে তারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। দেশের মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ সম্পুর্ণ অবৈধভাবে উক্ত মুক্তিযোদ্ধাদেরকে ভাতা হিসেবে প্রদান করেছে। তাদের অযোগ্য সন্তান-সন্ততিদেরকে অন্যায় বৈষম্যের মাধ্যমে কোটাসুবিধা দিয়েছে। খোদ বঙ্গবন্ধু কন্যা এ সুবিধা আরো বহুগুণে বৃদ্ধি করেছেন। তিনি অবৈধ তালিকাভুক্তদের নাতি-নাতনিদেরকেও কোটা সুবিধায় সংযুক্ত করেছেন।

৩০ লাখ শহীদে লাভ-ক্ষতি 

প্রচলিত দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধার অবৈধ কোটানীতি বাতিল হলে, ত্রিশ লাখ শহীদের সংখ্যাটি চিরসত্যরূপে বিবেচিত হতো। কারণ, শহীদের সংখ্যা ত্রিশ লাখ হলে মুক্তিযোদ্ধাদের মাত্র দুই লাখ সংখ্যাটি মোটেও মানায় না। কোনো যুদ্ধে শহীদের চেয়ে যোদ্ধা কখনো কম হয়না। বরং যোদ্ধাদের মধ্যে শহীদ, গাজী, আহত ও বন্দী সবই থাকে। সকল যোদ্ধা কখনো শহীদ হয়না। যোদ্ধাদের কতক শহীদ হয়, কতক বন্দী হয় আর অনেকে হয় গাজী। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও তাই হয়েছে। এদেশের সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালির মধ্যে ত্রিশ লাখ শহীদ হয়েছে, দুই লাখ নারী সম্ভ্রম হারিয়েছে, বঙ্গবন্ধুসহ প্রায় পাঁচ লাখ বাঙ্গালি বন্দী দিন কাটিয়েছে, প্রায় এক কোটি বাঙ্গালি ভারতে শরণার্থী হয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করেছে এবং অবশিষ্ট সকল বাঙ্গালি দেশে অবস্থান করে যে যেভাবে পেরেছে, প্রাণপণ লড়াই করেছে। তারা প্রত্যেকে এক একজন মুক্তিযোদ্ধা। তাই যতোদিন বাংলাদেশে প্রচলিত মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও তালিকা বাতিল না হবে, ততোদিন ত্রিশ লাখ শহীদদের সংখ্যাটি বিতর্কিতই থাকবে।
অতএব, সকল প্রকার লাভ-ক্ষতি পরিত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে প্রাণদানকারী ত্রিশ লাখ শহীদের বিষয়টি নিস্পত্তি করা উচিত। বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য অনুসারে প্রচলিত মুক্তিযোদ্ধা কোটা ও তালিকা বাতিল করত: বাংলাদেশ-ভারত নির্বিশেষে মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা পালনকারী বীর শহীদ ও যোদ্ধা সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করলেই তা নিস্পত্তি হবে। যেমন নিস্পত্তি হয়েছে, হিটলার কর্তৃক ইহুদী হত্যাকা-ের ষাট লাখ সংখ্যাটি। সেখানে কেউ বিশেষ যোদ্ধা পরিচয় দেয়নি বা অবৈধ কোটাসুবিধা ভোগ করেনি বিধায় ষাট লাখ অবাস্তব সংখ্যাটিও সঠিকরূপে গৃহীত হয়েছে। বাংলাদেশেরও তা সম্ভব। দেশের বর্তমান ষোল কোটি নাগরিক সবাইকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে ঘোষণা করলেই ত্রিশ লাখ শহীদের সংখ্যাটি সঠিকরূপে গৃহীত হবে।
এ্যাডভোকেট, ঢাকা।


চিচিং ফাঁক মাচ ২০১৬ কবিদের কবিতা প্রকাশিত হয়েছে

সোমবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

Chiching
হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ: নিউইয়র্কের সাহিত্যিকদের ব্যাতিক্রম ধর্মী চিচিং ফাঁক সংগঠনের মাচ  ২০১৬ কবিদের প্রকাশিত কবিতা স্যোশাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ায় সর্ব মহলে প্রকাশিত হয়েছে।


মুক্তচিন্তা - প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতির্হ্য : দেলোয়ার জাহিদ

সোমবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

একুশেতে এবারই প্রথম কানাডার এডমন্টন পাবলিক লাইব্ররীতে (অবর্টসফিল্ড)অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলা বইমেলা, ও ১৯ ফেব্রুয়ারী  ইউনিভার্সিটি অব ম্যাকইউনে বহুসংস্কৃতির উপর একটি খোলা সঙ্গীতানুষ্ঠান সহ নানাবিদ আয়োজন।

গেলো বছর কানাডার আলবার্টা প্রদেশের কালচারাল এন্ড ট্যুরিজম মিনিষ্টার ও ম্যানিটোবা প্রদেশের বহুসংস্কৃতিবাদ ও স্বাক্ষরতা বিষয়ক মন্ত্রী বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা (বিপিসিএ) এর সভাপতি বরাবর পৃথক পৃথকবার্তায় মায়ের ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সচেতনতা প্রসারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে একটি মোক্ষম উপলক্ষ্য হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন। ভাষা সংরক্ষণ, মাতৃভাষার মান উন্নয়ন এবং গুরুত্বারূপ, আলবার্টাপ্রদেশের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক, যা চিরাচরিত ধারা ও আমাদের ঐতিহ্যকে আরো উজ্জ্বল করতে এবং পূর্বপুরুষদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে, অতীতের সাথে সংযোগ স্থাপন করার একটি উপায়। এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস. ভবিষ্যতের জন্য ভাষা সংরক্ষণ মাতৃভাষার প্রতি ক্রমাগত আগ্রহ সৃষ্টিতে অনুপ্রাণিত করবে. বহুসংস্কৃতি আমাদের প্রদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় সমৃদ্ধ করার উৎকৃষ্ট একটি উদাহরণ- হবে এসব উদ্যোগ।

alt

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে কানাডার বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা ও বাংলাদেশ  হেরিটেজ মিউজিয়াম এর পক্ষ থেকে উষ্ণ সম্ভাষণ জানানো হয়েছে।  মায়ের ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সচেতনতা প্রসারের একটি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে উত্সাহিত করার জন্য সকল সহযোগি আয়োজকদের ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা. জানিয়ে ভাষা সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে জানাতে এবং এর প্রশংসা করার জন্য একেকটি সংস্কৃতি প্রচার করার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়. বহুসংস্কৃতিকে উত্সাহ দান এবং তা পালন ও চর্চা করা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের  মাধ্যমে, জ্ঞান লাভ এবং সম্মান প্রদর্শন দ্বারা আমাদের সচেতনতা বাড়াতে একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে.  মাতৃভাষা এতে বৈচিত্র্য আনবে তা আমাদের দৃঢ় আশা আলবার্টা, ম্যানিটোবা ছাড়া আরো ৮টি প্রদেশ ও ৩টি টেরেটরিস এর রাজনৈতিকনেতৃবৃন্দ এবং জনগনকে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূলভাবের সাথে সম্পৃত্ত করার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব অব আলবার্টা ও বাংলাদেশ  হেরিটেজ মিউজিয়াম অগ্রভাবে সুনির্দ্দিষ্ট কিছু কর্মসুচী নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে.. বাংলাদেশ প্রেসক্লাব (বিপিসিএ) এ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপর গত বছর একটি তথ্যমূলক ওয়েবসাইট চালু করেছে- (http://motherlanguageday.ca/) যা একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের তথ্যসূত্র হিসেবে কাজ করছে।

alt

প্রবাসে বসবাসরত নতুন প্রজন্মের বাঙালির কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উদযাপন উপলক্ষে ইউরোপ, নর্থ আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া সহ নানা দেশে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে ডাচ বাংলা ব্যাংক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা শীর্ষক এক ভাস্কর্য স্থাপন করা হলো ।এটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রবাসে বাঙালির জাতীয় জীবনে সংযোজিত হলো আরো এক নতুন অধ্যায়ের। অর্জিত হলো আন্তর্জাতিক গৌরব ও সাফল্যের এক নতুন সূচক।  মুক্তধারা ফাউন্ডেশন ও বাঙালির চেতনা মঞ্চের উদ্যোগে  ম্যানহাটানের ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ও ৪৭ স্ট্রিটের কর্নারে মাসব্যাপী এই ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে।

অনুজতুল্য সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর ফেব্রুয়ারি মাসকে ‘বাংলা হেরিটেজ মাস’ হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন, তার ভাষায়  "একুশকে বলি শেকড় খোঁজার মাস। বাঙালীর জন্মের ইতিহাসের আঁতুরঘর যেন এই  ফেব্রুয়ারি। দেশে কি প্রবাসে, ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা বাঙালী হওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতায় মেতে উঠি। কতো অনুষ্ঠান, কতো আয়োজন। প্রবাসের বৈরীতা, সীমাবদ্ধতা কোনো কিছুই আমাদের গতিকে থামাতে পারে না। কিন্তু আমাদের গতিটা কোনদিকে ধাবিত?

সে প্রশ্ন নিয়েই শুরু করতে চাই...১৯৬৪ সালের ৪ঠা নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা ,বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা ইউনেস্কো'র সাধারণ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মূলনীতি ঘোষিত হয়। এ ঘোষণার মাধ্যমে মানবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক সংহতির ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত। সংবিধান ছাড়াও সংস্কৃতির ব্যাপক আশ্লেষ, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং শান্তি, মানবতার শিক্ষা, মানুষের মর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করা, সন্মান প্রদর্শনের অপরিহার্যতাকে তুলে ধরা সহ সমস্ত জাতির পারস্পরিক সহায়তা ও উদ্বেগের উপর গুরুত্বারূপ করা হলো এ ঘোষণার মূল কথা।

alt

এর আলোকে প্রবাসে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়ে আমাদের অনেককিছুই করণীয় রয়েছে। যার ভিত্তি হতে পারে- একুশে। বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার করা খুবই তাৎপর্যবহ এবং একে প্রতিটি রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরার ও বাহন হতে পারে একুশে. সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীত্বশীল সরকার,কর্তৃপক্ষ, সংগঠন,সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান ক্রমাগত একটি নীতির দ্বারা পরিচালিত হতে পারে। এ উদ্দেশ্যে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা ও এর মূলনীতির আলোকে শিক্ষা, বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বিষয়ে রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রনীত হতে পারে। তাহলে আন্তর্জাতিকভাবে (দেশে দেশে) সাংস্কৃতিক দূরত্ব কমে আসবে। সাংস্কৃতিক সংঘাতের পরিবর্তে সহনশীলতা ও বৃদ্ধি পাবে।

সাংস্কৃতিক সহযোগিতার মাধ্যমে একে অপরের প্রতি তাদের জ্ঞান এবং দক্ষতার বিনিময় করা উচিত,যা সব মানুষের এবং সব জাতির জন্য একটি অধিকার ও দায়িত্ব...কানাডা একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পন্ন বড় দেশ।  সৃজনশীল ও প্রতিভাবান মানুষ দ্বারা পূর্ণ এ দেশ! যারা বছরে $৪৬ বিলিয়ন উৎপন্ন করে এবং ৬,৩০,০০০ এর উপর লোক এখানে কাজ করে। কানাডিয়ান সংস্কৃতি কানাডার অর্থনীতিকে পূর্ণ সমর্থন করে। আর এ  সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের মতো  অনেক দেশের সম্মিলিত সংস্কৃতির লোকজনের সমন্বয়ে।

বাংলাদেশ হেরিটেজ এবং  এথনিক সোসাইটি অব আলবার্টা (BHESA) বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কানাডার আলবার্টা প্রদেশে বেশ সফলতার সাথে তুলে ধরেছে। বাংলাদেশী স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন অব আলবার্টা ইউনিভার্সিটি (BSAUA) বাংলাদেশী ছাত্রদের একটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক নিবন্ধিত সংগঠন । এর কার্যক্রম ও বাংলাদেশী ছাত্রদের সমষ্টিগত কল্যাণের জন্য। বাংলাদেশ কানাডা এসোসিয়েশন অব এডমন্টন ( BCAE ) বাংলাদেশী অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করে এর রয়েছে সাংস্কৃতিক সামাজিক ও অলাভজনক কাজের দীর্ঘ ঐতির্হ্য । বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব কালগেরী (BCAOC) ১৯৬৪ সালে এর যাত্রা শুরু। কানাডায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে টেলিভিশনে (১৯৭১ সালে) স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় বলিষ্ট ভুমিকা রাখে। স্বাধীনতাযুদ্ধকালীন ও পরবর্তী সময়ে এখানে মাইগ্রেট করতে বাঙ্গালীদের তা অনেক সাহায্যে এসেছে। এ এসোসিয়েশন ও প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে অনেক উজ্জ্বল করেছে। বাংলাদেশি কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন অব সাস্কাচেওয়ান (বিকাশ)আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে স্বীয় প্রদেশে প্রশংসনীয় কাজ করছে।

alt

গত জুলাই ৮, ২০১৫ কানাডার টিভি চ্যানেল 'সিটিভি এডমন্টন মর্নিং লাইভ' এ বাংলাদেশ হেরিটেজ এবং জাতিগত সোসাইটি এর   এডমন্টন হেরিটেজ ফেস্টিভালে অংশ গ্রহন উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে। এতে অংশ নেন সভাপতি দেলোয়ার জাহিদ, উপদেষ্টা ডঃ হাফিজুর রহমান, ও জুলফিকার আহমেদ ।

হেরিটেজ উত্সবের মূলভাবকে সমুন্নত করতে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির কথা তুলে ধরেন দেলোয়ার জাহিদ,  'বাংলাদেশ হেরিটেজ ম্যাগাজিন' প্রকাশের কথা  এবং এতে  কানাডার মহামান্য গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনস্টন, প্রধানমন্ত্রী , আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার এর সাফল্য কামনা করে বার্তা পাঠানোর তথ্য দেন। ডঃ হাফিজুর রহমান ও জুলফিকার বাংলাদেশী পাকুড়া তৈরীর পাক প্রনালী সরাসরি শোতে দেখান।

সিটিভি এডমন্টন মর্নিং লাইভ এর উপস্থাপক ব্রান্ট পুসকারেনকো জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন।  উল্লেখ্য,  প্রতি বছর এ উত্সবে ৩৫০ হাজার এর উপর দর্শক  উপস্থিত হয় এবং নর্থ আমেরিকার একটি বড়মেলা হিসেবে তা পরিচিত। এডমন্টন উইলিয়াম হাউরিলক পার্কে আগস্টের দীর্ঘ ছুটির দিনে (১ম, ২য় ও ৩য়)  সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও  বৈচিত্র্য নিয়ে এ দিবসটি সংগঠিত হয়. ১৯৭৬ সাল থেকে এডমন্টন হেরিটেজ ফেস্টিভাল এসোসিয়েশন এ উত্সব আয়োজন করে আসছে।   এডমন্টন হেরিটেজ ফেস্টিভালে মানুষ তাদের সাংস্কৃতিক শিকড় এবং স্থানীয় ও জাতীয় সম্প্রদায়গুলোকে উপস্থাপন করে। তিন দিনের এ মেলায় প্রায় ৬০টি তাঁবুতে ৮৫ এর বেশি সংস্কৃতির মানুষ তাদের দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরবে. যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।। সাংস্কৃতিক উপস্থাপন ছাড়াও সুস্বাদু খাদ্য, দর্শকদের জন্য কারুশিল্প, শিল্পকলা ও পণ্য, এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

কানাডা সরকারের বর্তমান অবকাঠামো ও সম্প্রদায়গুলোর মন্ত্রী অমরজিৎ সুহি গত বছর তার দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে এসেছিলেন এডমন্টন হেরিটেজ ফেস্টিভাল বাংলাদেশ পেভিলিয়নে। সুহি ২০১৫ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন  এবং অবকাঠামো ও সম্প্রদায়গুলোর মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। বাংলাদেশ কানাডার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেশ উচ্চতায় অবস্থান করছে।

alt

 বাংলাদেশের সংস্কৃতি স্বদেশের গন্ডি পেরুয়ে প্রবাসে ও তার স্থান দখল করে নিয়েছে। নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত এমন সংগঠনের সংখ্যা প্রবাসে নিতান্ত কম নয়, তবে স্থানাভাবে তাদের সকলের কথা এখানে তুলে ধরা সম্ভব না হলেও তাদের প্রয়াসকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়। বাংলাদেশের মানুষের জীবনের পথ বিবর্তিত সামাজিক গোষ্ঠী,সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য,বাংলার ১৯ হাজার রেনেসাঁ এবং  ২০ শতাব্দীর বাংলা লেখক,বিজ্ঞানী,গবেষক,সঙ্গীত,চিত্রশিল্পী এবং চলচ্চিত্র প্রস্তুতকারকদের তথা চিন্তাবিদদের এ সংস্কৃতির উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকার প্রশংসা করতে হয়। বাংলার রেনেসাঁ একটি জায়মান যাতে রাজনৈতিকভাবে জাতীয়তাবাদের বীজ রয়েছে এবং আধুনিক ভারতীয় শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লবের পূরোধা বলা চলে বাঙ্গালীদের। বাংলাদেশের সংস্কৃতি যৌগিক, শতাব্দী ধরে ইসলাম, হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান প্রভাব এতে সম্পৃক্ত করেছে। শিল্প নৈপুণ্য ও লোকাচারবিদ্যা এবং ভাষা ও সাহিত্য ;দর্শন ও ধর্ম ; উৎসব ও তা পালনের মধ্যে এ সংস্কৃতি বিকশিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে মানবজাতির বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক সংহতির সাথে একাত্ম হয়েছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতির ব্যাপকতা ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, শান্তি, মানবতার শিক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আমাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শরীক করেছে। এ নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রবাসে ঐক্যব্দ্ধ ও সমন্বিত ভাবে আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে।

লেখক: দেলোয়ার জাহিদ, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সেন্টার অব আলবার্টা ও বাংলাদেশ হেরিটেজ মিউজিয়াম এর সভাপতি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কানাডা ইউনিট কমান্ডের নির্বাহী সদস্য

ফোনঃ ১ (৭৮০) ২০০-৩৫৯২ এবং (৭৮০) ৭০৫-০১১৭...


বিপ্রতীপ অনুভবে -রওশন হাসান

রবিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

মায়াময় পৃথিবী, প্রতিদিনের প্রভাত রবি
আমি জাগি নয়নপাতে, এক সম্ভিতে,
যদিও এ মায়া, এ ছায়া মনে হয় প্রবঞ্চময়
তবুও চোখ মেলি বিস্ময়ে, ভয়ে-নির্ভয়ে
সুখ-দুঃখের অভিনয়, জীবনের জয়-পরাজয় l
R hasan   Baps 55
অনুভবে অনুক্ষণে, উদাসী তুমি বিনে
মরি বাঁচি অগনীত শতবার
সীমাহীন অভিপ্রায়ে অলিখিত মলয়ে
দিন-রাতের নিত্য এ পারাপার l

উত্তাপে, উত্তালে শীতাতপে, পঙ্কিলে
বিপ্রতীপ প্রহর যায় বয়ে
চাওয়া ও পাওয়াতে হিসেব মেলাতে
আত্মজ জীবনী যায় ক্ষয়ে ক্ষয়ে l


আমিনুল ইসলাম মামুনের ঘুড়ির মাঠে আয় রে সবে

রবিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

আয়েশা আকতার রুবী,বাপসনিঊজ: আমিনুল ইসলাম মামুন বর্তমান সময়ে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে এক পরিচিত নাম। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকাগুলোতে। ছড়াকার হিসেবে পরিচিতি অর্জন করলেও কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, অনুবাদ, প্রবন্ধ, ফিচার, গান, গ্রন্থালোচনা প্রভৃতিসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায়ই রয়েছে তার অবাধ বিচরণ। একুশে বইমেলা ২০১৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে তার ছড়াগ্রন্থ ‘ঘুড়ির মাঠে আয় রে সবে’।

ইতোপূর্বে তার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হচ্ছে; দুষ্টু ছেলের দল (ছড়া-২০০৪), কানামাছি (ছড়া-২০০৭), মন ছূঁয়েছে মন (উপন্যাস-২০০৯), শিকল ভাঙার ছড়া (ছড়া-২০১০), এক জীবনের গল্প (উপন্যাস-২০১২), তারা জ্বলে কথা বলে (ছড়া-২০১৪), পরীর নাম লজ্জাবতী (শিশুতোষ গল্প-২০১৫), ভূত দেখেছি কয়েকবার (শিশুতোষ গল্প-২০১৫)। তিনি সম্পাদনা করছেন সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক ম্যাগাজিন ‘তুষারধারা’। তার এবারের বইমেলায় প্রকাশিত ‘ঘুড়ির মাঠে আয় রে সবে’ গ্রন্থটি মেলার রাতুল গ্রন্থপ্রকাশের স্টলে [স্টল # ৫৯২] পাওয়া যাচ্ছে। বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী অরূপ মজুমদার, অলংকরণ করেছেন শেখ সাদী। পিন বাই-িং করা চমৎকার এ গ্রন্থটির মূল্য রাখা হয়েছে ৮০ টাকা মাত্র।  
==০==গ্রন্থ পরিচিতিমূলক তথ্য:

Aminui Ilslam   Baps

গ্রন্থ            : ঘুড়ির মাঠে আয় রে সবে
লেখক            : আমিনুল ইসলাম মামুন
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান    : রাতুল গ্রন্থপ্রকাশ  
বইয়ের ধরণ        : ছড়াগ্রন্থ
গ্রন্থে অন্তর্ভূক্ত ছড়া    : ১২টি
প্রচ্ছদ            : অরূপ মজুমদার
অলংকরণ        : শেখ সাদী   
বাঁধাই            : পিন বাইন্ডিং  
ফর্মা সংখ্যা        : ২ ফর্মা
মূল্য            : ৮০ টাকা মাত্র
প্রকাশনার ঠিকানা    : রাতুল গ্রন্থপ্রকাশ
  বাড়ি নং- ৫/১  
  রোড নং-১, শ্যামলী
  ঢাকা-১২০৭।
চলনালাপনী       : ০১৫১৯৫২১৯৭১।  

লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থ    : ৯টি -  
১.    দুষ্টু ছেলের দল (ছড়া-২০০৪)
২.     কানামাছি (ছড়া-২০০৭)
৩.    মন ছূঁয়েছে মন (উপন্যাস-২০০৯)
৪.    শিকল ভাঙার ছড়া (ছড়া-২০১০)
৫.    এক জীবনের গল্প (উপন্যাস-২০১২)
৬.    তারা জ্বলে কথা বলে (ছড়া-২০১৪)
৭.    পরীর নাম লজ্জাবতী (শিশুতোষ গল্প-২০১৫)
৮.    ভূত দেখেছি কয়েকবার (শিশুতোষ গল্প-২০১৫)
৯.    ঘুড়ির মাঠে আয় রে সবে (ছড়া-২০১৬)  
            
পরিবেশক / মেলায় প্রাপ্তিস্থান: রাতুল গ্রন্থপ্রকাশের স্টলে [স্টল # ৫৯২]  


সৌদি- ইজরাইল- মার্কিণ মিত্রশক্তির অভিযান চলছে সিরিয়া ও ইয়েমেনে = আবু জাফর মাহমুদ

রবিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

সৌদি ইজরাইল মার্কিণ মিত্রশক্তির অভিযান চলছে সিরিয়া ও ইয়েমেনে।সৌদি আরবের সামরিক অপরাধগুলোর পেছনে এই দেশগুলোই প্রধান শক্তির ভূমিকায় থাকার তথ্যটি জনসমক্ষে এনেছে ১৩ জানুয়ারী সংখ্যার নিউইয়র্ক টাইম্‌স।উল্লেখিত দেশদুটি মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান আঞ্চলিক মিত্র সৌদিকে ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান তৈরী এবং কর্তৃত্ব সম্প্রসারণ করছে।মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ মুসলমান দেশগুলোকে বিভক্ত করে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের উত্থানের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে ইজরাইল-মার্কিণ শক্তি।   
 এদিকে সাম্রাজ্যবাদ বনাম ইসলামের বিরোধের বর্তমান পর্যায়ে তেল-গ্যাস সম্পদ এবং এই সম্পদ পরিবহনের যোগাযোগ পথ দখল-বেদখল নিয়ে যুদ্ধ এবং Yeamab BApsহানাহানি চলছে হরদম।মুসলমান শাসিত সম্পদশালী এদেশ গুলোকে আভ্যন্তরীণভাবে দুর্বল করছে মার্কিণ   পরাশক্তি এবং তার ঘনিষ্ট দোসর ইজরাইল।মধ্যপ্রাচ্যে পরোক্ষ কলোনী করা বা এ সকল কথিত মিত্রদেরকে পরাশক্তির উপর নির্ভরশীল করার এই বিকল্পযুদ্ধ প্রচলিত যুদ্ধের চেয়ে ভিন্ন এবং আলাদা।ইসলামী ষ্টেট বা আই এস সৃষ্টিও এই ধারার পরিকল্পনার অংশ বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।যদিও দেখানো হচ্ছে আমেরিকা আই এস দমনের উদ্দেশ্যে বোমা ফেলছে।আমেরিকার এই ভূমিকাকে অনেকে বলছেন প্রক্সিওয়ার।    
 উল্লেখ্য,সামরিক আক্রমণের জন্যে যে কোন একটা ‘শত্রু’র অস্তিত্ব নিশ্চিত থাকা  জরুরী।নইলে কার বিরুদ্ধে হবে যুদ্ধ?বড়শক্তিরা আজকাল আর প্রচলিত যুদ্ধের ধারা অনুসরণ করছেনা।মধ্যপ্রাচ্যে নিজেরাই শত্রু তৈরী করে দিয়ে তাকে দমনের নামে চালানো হচ্ছে এই যুদ্ধ।তেল-গ্যাসের সরবরাহ পাওয়ার জন্যে  এবং বিভেদ সৃষ্টির  জন্যে আরব দেশগুলোকে এতোদিন ‘কথিত বন্ধু’র সম্পর্কের মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়ে আসছে।ইদানিং এসকল বিশাল দেশগুলোকে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো করা এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন সাগর-পথগুলোকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীভূত করার জন্যে আমেরিকা ও ইজরাইল সৌদি আরবকে খোলাখুলিভাবে কাজে লাগাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।       
নিউইয়র্কের টাইম টিভির টোক শো অনুষ্ঠানে ৯জানুয়ারী রাতে আমি যখন একই কথা  প্রসঙ্গক্রমে বলছিলাম,একজন সাংবাদিক এবং হিন্দু মৌলবাদী নেতা নিউইয়র্ক প্রবাসী বন্ধু সিতাংশু গুহ উল্টো তর্কে বলেছিলেন,জাফর সাহেব যা বলছেন,তা সত্য নয়। ইজরাইল কেনো সৌদির আরবের সাথে জোট করবে?মুসলমান বা ইসলামী দেশের সাথে ইজরাইল জোট করেনা।আমি তার জবাবে বলেছিলাম,এই জোট ধর্মীয় কারণে নয়,হয়েছে ভিন্ন কারণে। আমেরিকা-ইজরাইলী সুদূরপ্রসারী প্রয়োজনে।আপনি যা  জানেননা,তা নিয়ে উল্টো তর্ক করবেননা।আমি ঠিক বলেছি,দায়িত্ব নিয়ে বলছি,আমি সত্য বলেছি।ইয়েমেন ও সিরিয়ায় চলছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ।এটা আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়।
 তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ বিশাল এলাকার এই দেশগুলো সহ মধ্যপ্রাচ্যে আলাদা আলাদা ছোট ছোট দেশ করার মাধ্যমে মানচিত্র পরিবর্তনের রোডম্যাপ রয়েছে তাদের।দেশগুলোর বন্দরে কর্তৃত্ব পাওয়া তাদের অন্যতম টার্গেট।মার্কিণ-ইজরাইলের প্রধানমিত্র সৌদি  বাদশাহ পরিবারকে ইয়েমেন ও সিরিয়ায় যুদ্ধে জড়িয়ে পরিবারটির আত্নহননের ক্ষেত্র  সাজানো চলছে।ইরাক এবং লিবিয়ার দিকে নজর দিয়ে দেখা গেছে সে দেশগুলোর উপর যুদ্ধ চাপানোর আগে সে দেশগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সত্য প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।অথচ দেশগুলোর নেতৃত্ব এবং উন্নয়ন কাঠামো শেষ  করে দেয়া হয়েছে।             
 মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস সিরিয়ায় সংকট সৃষ্টিতে মার্কিন ও সৌদি গোয়েন্দা সংস্থার গোপন সহযোগিতার কথা ফাঁস করেছে।দৈনিকটি কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০১৩ সালে সিরিয়ায় লড়াইরত বিদ্রোহী তথা সন্ত্রাসীদের গোপনে সাহায্য করতে মার্কিন গোয়েন্দা-সংস্থা সিআইএ’র প্রতি নির্দেশ দেন। আর এই গোপন মিশনের শরিক ও অর্থের যোগানদাতা হিসেবে সিআইএ বেছে নেয় সৌদি সরকারকে।
 সৌদি সরকার সন্ত্রাসীদের বিপুল অংকের অর্থ ছাড়াও যোগান দেয় অস্ত্রের। আর সিআইএর একে-৪৭ রাইফেল ও ট্যাংক-বিধ্বংসী রকেট চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়। ২০১৩ সাল থেকে সন্ত্রাসীদেরকে গোপনে অস্ত্র, অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে সিআইএ। সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় জর্দানে সিআইএ’র মাধ্যমে। প্রশিক্ষিত এইসব সন্ত্রাসীর অনেকেই পরে যোগ দেয় তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ তথা আইএসআইএল-এ।
 ইজরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্যালেষ্টাইন সংক্রান্ত নির্মম নীতি এবং ইরান আক্রমণ নীতির সাথে সহমতে না থাকায় মার্কিণ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে এবং মার্কিণ রাষ্ট্রের উপর প্রতিশোধের কট্টরপন্থীদের প্রতিক্রিয়া দেখতে দুনিয়ার অনেক অংশে অনেকেই অপেক্ষা করতেইতো পারেন।নিউইয়র্ক টাইমসের মালক কে বা কারা আমি জানিনা।তবে এই সত্য প্রকাশের সাথে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নাকি হোয়াইট হাউসের শক্তির দিকে ঢিল মেরে প্রতিশোধ করা হয়েছে,তা নিয়েও চুল ছেঁড়া বিশ্লেষণ চলছে।  
ইয়েমেনি ভাষায় ইহুদিবাদী ইসরাইল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন দরিদ্র এবং অনুন্নত ইয়েমেনিদের ওপর বোমা বর্ষণ করতে সৌদি আরবের কাছে জঙ্গি বিমান পাঠাচ্ছে বলে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র শরিফ লুকমান অভিযোগ করেছেন।
তিনি ২১ জানুয়ারী(বৃহস্পতিবার)বলেছেন, ইসরাইলি, মার্কিন ও ব্রিটিশ জঙ্গি বিমানগুলো ইয়েমেনে সরাসরি বোমা ফেলছে; কারণ, সৌদি পাইলটরা আধুনিক জঙ্গি বিমান দিয়ে যুদ্ধ-অভিযান চালাতে সক্ষম নয়।
লুকমান বলেছেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী এবং আনসারুল্লাহ’র যোদ্ধারা এ পর্যন্ত তিনটি এফ-সিক্সটিন জঙ্গি বিমান, ১০টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।
 তিনি আরও বলেছেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হয়ে লড়াই করার জন্য ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকার ৪০০ সামরিক কর্মীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আর সৌদি আরবের পক্ষে যুদ্ধ করতে আসা ল্যাটিন আমেরিকার ভাড়াটে সেনাদের মধ্যে মূলত কলম্বিয়ার সেনা-সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। গত মাসে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে হুথি যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াইয়ে কলম্বিয়ার ৬ সেনা এবং একজন অস্ট্রেলিয়ান কমান্ডার নিহত হয়।
আরব-আমিরাতের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ইয়েমেনের যুদ্ধে কলম্বিয়ার ভাড়াটে সেনা পাঠানো হয়েছে বল ইয়েমেনি সূত্রগুলো এর আগে জানিয়েছিল।চিলি, পানামা ও সালভাদরের একদল সেনাও এই বাহিনীতে রয়েছে। এ ছাড়াও অতীতে ব্ল্যাক-ওয়াটার নামে পরিচিত মার্কিন নিরাপত্তা কোম্পানিও সৌদি আরবের জন্য ভাড়াটে সেনার যোগান দিচ্ছে।
 মার্কিন সরকারও ইয়েমেনের ওপর সৌদি আগ্রাসনে গোয়েন্দা তথ্যসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তাই অনেক বিশ্লেষক বলছেন, ইয়েমেনের যুদ্ধ আসলে একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধ।
ওদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে ক্লাস্টার বোমা বা গুচ্ছ-বোমাসহ নানা ধরনের নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, সৌদি সরকার এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে আসলেও বাস্তবে তারা আমেরিকার তৈরি ক্লাস্টার বোমা এখনও ব্যবহার করে যাচ্ছে বলে নানা দলিল-প্রমাণ রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী গত বছরের মার্চ মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিহত ও ২৮ হাজার আহত হয়েছে। ইয়েমেনের শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়ারও খবর দিয়েছে জাতিসংঘ। এ আলোচনা গত ১৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বলে কথা ছিল।
 জাতিসংঘের অনুমোদন বা সমর্থনবিহীন এই যুদ্ধের শুরু থেকেই আগ্রাসী সৌদি বাহিনীকে সহায়তা দিতে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ-ভুক্ত কয়েকটি রাজতান্ত্রিক সরকার ইয়েমেনে সেনা পাঠিয়েছে। নানা দেশের এইসব ভাড়াটে সেনা প্রায়ই ইয়েমেনের সশস্ত্র ও বিপ্লবী সেনাদের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে এবং এভাবে নিহত-হওয়া ভাড়াটে সেনার সংখ্যা কয়েক’শ ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেনে সৌদি সামরিক-হস্তক্ষেপ এবং দেশটির বিরুদ্ধে পশ্চিমা শক্তিগুলোর নানা ষড়যন্ত্রের ফলে তা একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। সৌদি সামরিক অভিযানের কমান্ড-কেন্দ্রগুলো পরিচালনা করছে মার্কিন, ফরাসি, ব্রিটিশ ও ইসরাইলি সামরিক বিশেষজ্ঞরা। ইয়েমেনের দৈনিক আলমাসার এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। দৈনিকটির বিশ্লেষক আলী আলজাহেজের মতে ইয়েমেনের বিষয়ে ইহুদিবাদী ইসরাইলের এক মহা-ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে মূলত ব্রিটেন, ফ্রান্স ও আমেরিকা এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এক্ষেত্রে অনুচর মাত্র।
  তিনি লিখেছেন, অনুচরসুলভ ভূমিকার কারণেই সৌদি সরকার ইয়েমেন সংকট বিষয়ক প্রতিটি শান্তি-আলোচনার পর হঠকারিতার আশ্রয় নিয়ে নানা অঙ্গীকার ভঙ্গ করছে। তার মতে, যুদ্ধবিরতির সময় শান্তি আলোচনা যুদ্ধ-চলাকালীন সময়ের চেয়ে বেশি ধ্বংসাত্মক বলে প্রমাণিত হয়েছে। কারণ, যুদ্ধ-বিরতির সময় সৌদি জোট গণহত্যা এবং দখলদারিত্ব তীব্রতর করছে।
 আল মাসিরা টেলিভিশন জানিয়েছে, সৌদি জঙ্গি বিমানগুলো দক্ষিণ ইয়েমেনের আব প্রদেশের একটি বাজারে হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় বেসামরিক দুই ব্যক্তি নিহত ও ১০ জন আহত হয়। এদিকে ইয়েমেনে আগ্রাসনে জড়িত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে আরও ৩০০ সেনা পাঠিয়েছে বাহরাইনের রাজতান্ত্রিক আলে খলিফার সরকার। ভাড়াটে এই সেনারা বহু সাঁজোয়া যান নিয়ে দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেন প্রদেশের একটি বন্দর দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেছে।
 ইয়েমেনে সৌদি আরবের নির্বিচার বিমান হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেনের পাল্টা হামলাগুলো সৌদি আরবের নানা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের নির্বিচার হামলা অব্যাহত রেখেছে সৌদি আরব। সম্প্রতি ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ও জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ আন্দোলনের সমর্থিত স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর ব্যাপক পাল্টা হামলার পর সৌদি বিমান পশ্চিম ইয়েমেনের একটি ডেইরি ফার্ম বা দুধের খামারে বোমা বর্ষণ করেছে।ইয়েমেনিদের অর্থনৈতিক সম্পদ ও অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করাই এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য।
কথা আসছে সৌদি আরবের এমন কি স্বার্থ যাতে সৌদি আরবে এভাবে নির্বিচারে হত্যাকান্ড ও বোমা বর্ষণ করতে হবে?এর কোন যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়না।বেপরোয়া হয়ে গেছে সৌদির জোট। যুদ্ধে হেরে যাবার আগে শত্রু বাহিনী যা করে থাকে এমনটাই যেনো এই বাহিনী করছে।

সৌদি আরবে আভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার অবস্থাও বিপজ্জনক পর্যায়ে নেমে চলেছে।ওখানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বেড়েছে। সৌদি রাজ পরিবারে নিজেদের ভেতরের ভিন্ন মতগুলো শত্রুতায় রূপ নিচ্ছে।রাজতন্ত্র ও ভেঙ্গে পড়ার দিকে ঝুঁকছে।এতে করে নাগরিকদের ভেতর নতুন ধরনের জাগরণ চোখে পড়ছে।বলা যায়,সৌদি আরবে পরিবর্তন আসছে শোনে অনেকেই খুশী হন,কিন্তু পরিবর্তনের সাথে সংশ্লিষ্ঠ অন্যান্য উপাদানগুলো ইসলামি ধারাবাহিকতার বাহিরে এবং অসংগতির দিকে যেনো যায় সেদিকে রয়েছে অনেকের ঝোঁক।
 ইসলামী সম্পদ ও শক্তি বনাম সাম্রাজ্যবাদের আজকের বিশ্ব-সঙ্ঘাতের যুগে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছেন অনেক বিশ্লেষক।ইসলাম কোন পক্ষ-বিপক্ষে লড়ছেনা।ইসলামকে শত্রু ধরে নিয়েই একপক্ষ একতরফা যুদ্ধ করে চলেছে।      
(লেখক আবু জাফর মাহমুদ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক e-mail: এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে। )।


হিংসুটে পাখি তামাপিঠ লাটোরা = আলম শাইন

রবিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

আলম শাইন : অনিয়মিত পরিযায়ী পাখি। বাংলাদেশ ছাড়া বৈশ্বিক বিস্তৃতি ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, ইরান ও তুরস্ক পর্যন্ত। বিচরণ করে আবাদি জমি, বনপ্রান্তরের খোলা মাঠে এবং ঝোপ-জঙ্গলের কাছাকাছি এলাকায়। পতঙ্গ শিকারের উদ্দেশ্যে এতদস্থানে ওড়াউড়ি করে। এ ছাড়াও বাঁশের খুঁটি কিংবা গাছের ডালে বসে শিকারের প্রতীক্ষায় সময় কাটায়। স্বভাবে হিংসুটে। স্বজাতির কেউ নিজ সীমানার কাছাকাছি এলে সহ্য করতে পারে না, চেঁচিয়ে বিদায় করে।
হিংসুটে পাখি তামাপিঠ লাটোরাপ্রিয় পাঠক, এবার অন্য প্রসঙ্গে। মুন্সীগঞ্জের একজন জনপ্রিয় মানুষ জেলার প্রেসক্লাব সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল এবং জেলা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘আলোর প্রতিমা’ সম্পাদক মাহবুব আলম জয়, দু’জন মিলে ঠিক করলেন ‘আলোর প্রতিমা সম্মাননা-২০১৪’ আমাকে ভূষিত করবেন। কারণ আমি বন-বনানী ও বন্যপ্রাণীকে ভালোবাসি তারই প্রতিদান দিতে চায় সংগঠনটি। বিষয়টা শুনে সম্মতি দিয়েছি। তারা দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছে পর্যন্ত। এরই মধ্যে ব্যক্তিগত ঘটনার প্রেক্ষিতে আমার সিদ্ধান্তটা বদলে ফেললেও তাদের আন্তরিকতার বিষয়টি আজ অবধি ভুলতে পারিনি। ভুলতে পারিনি তাদের ভালোবাসার কথাও। আসলে প্রকৃতিকে ভালোবাসলে যে সেটি বৃথা যায় না তা জানান দেয়ার চেষ্টা করলাম মাত্র। প্রচার কিংবা প্রসারের উদ্দেশ্যে এটি জানান দেয়া নয়। জানান দিয়েছি তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে, প্রকৃতিকে ভালোবাসতে। যেমনটি নিজ সন্তান কিংবা মা-বাবাকে ভালোবাসেন। তাহলে প্রতিদান পেয়ে যাবেন আপনিও। যাই হোক, আবার পাখি প্রসঙ্গে ফিরে যাচ্ছি।
পাখিটির বাংলা নাম: ‘তামাপিঠ লাটোরা’, ইংরেজি: ইন্ডিয়ান বে-ব্যাকড শ্রাইক (ওহফরধহইধু-নধপশবফ ঝযৎরশব), বৈজ্ঞানিক নাম: খধহরঁং ারঃঃধঃঁং। এরা ‘লালচে-পিঠ কসাই’ নামেও পরিচিত।
এরা দৈর্ঘ্যে কমবেশি ১৭-১৮ সেন্টিমিটার। ওজন ২০-২৮ গ্রাম। কপাল কালো। মাথা ফিকে ধূসর, ঘাড় গাঢ় ধূসর। পিঠের মধ্যখানটা তামাটে বাদামি। পাশের দিকে কালোর ওপর   সাদা ছোপ। লেজ কালো। গলা সাদাটে। দেহতল বাদামি সাদা। স্ত্রী পাখির কপালের কালো অংশটুকু সরু। উভয়ের চোখ বাদামি। কালচে বাদামি। পা ময়লা কালচে।
প্রধান খাবার ফড়িং, পঙ্গপাল, ঝিঁঝিঁ পোকা, টিকটিকি ইত্যাদি। প্রজনন মৌসুম জুন থেকে জুলাই। বাসা বাঁধে ভূমি থেকে ৪ মিটার উচ্চতায় গাছের ডালে। বাসা বানাতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে শুকনো ঘাস, পশম, মাকড়সার জাল ইত্যাদি। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১৪-১৬ দিন।  
লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।


সব্যসাচী প্রকাশক সিকদার আবুল বাশার ‘গতিধারা’র প্রাণপুরুষ = রাজিব আহমেদ

রবিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

সব্যসাচী প্রকাশক সিকদার আবুল বাশার ‘গতিধারা’র প্রাণপুরুষ = রাজিব আহমেদ

কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে যারা এগিয়ে যান, তাদের কখনো পিছন ফিরে তাকানোর প্রয়োজন হয় না। আর তার সঙ্গে যদি যুক্ত হয় গতি, গতির ধারার মিশেলে ‘গতিধারা’র প্রাণপুরুষ, বাংলাদেশে প্রকাশনা শিল্পের জীবন্ত কিংবদন্তি সিকদার আবুল বাশারÑ যিনি শুধু সৃজনশীল প্রকাশকই নন, একাধারে গবেষক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও অঙ্কন-শিল্পী।
সৃষ্টিশীল এই মানুষটি একের পর এক মানসম্পন্ন ও দৃষ্টিনন্দন প্রকাশনার মাধ্যমে ‘গতিধারা’কেই শুধু প্রকাশনাশিল্পের শীর্ষে পৌঁছে দেন নি, নিজেকেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন অতি উচ্চ একটি মাত্রায়। লেখক যদি সব্যসাচী হতে পারেন, সিকদার আবুল বাশার অবশ্যই সব্যসাচী প্রকাশক।
সিকদার আবুল বাশার-এর প্রকাশনার দিকে চোখ ফেরালেই তার রুচিশীলতার প্রমাণ মেলে। গতিধারা প্রকাশিত হাজারো গ্রন্থ তার মেধা, মনন, পরিশ্রম ও শিল্পবোধের সাক্ষী হয়ে আছে। এর মধ্যে একদিকে রয়েছে সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের মতো বিষয়, অন্যদিকে ভাষাতত্ত্ব, লোকসাহিত্য, প্রাচীন ও সমসাময়িক সাহিত্য, অভিধান, নন্দনতত্ত্বসহ নানা বিষয়বৈচিত্র্য। তিনি বিশ্বাস করেনÑ লেখক নয়, গ্রন্থের বিষয় প্রকরণই প্রকাশনার মূল উপজীব্য হওয়া উচিত।
আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চার পথিকৃৎ, চারণ গবেষক ও ব্যতিক্রমী প্রকাশক সিকদার আবুল বাশারের জন্ম ৩০ ডিসেম্বর ১৯৬৫ তারিখে ঝালকাঠি জেলার তারুলি গ্রামে। বাবা আবদুল সামাদ শিকদার, মা সৈয়দা আশ্রাফুন নেছা (ফকেরুনেছা)। বিভাগ-পূর্বকালে আবদুস সামাদ শিকদার কলকাতায় ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলে শিক্ষাজীবন শেষ করে ভারতের জামসেদপুর টাটা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ চাকরি করতেন। তাদের আদি পুরুষ ছিলেন নবাব সিরাজদ্দৌলার রাজসভার কর্মচারী। নবাবের পতন ঘটলে তারা এদেশে চলে আসেন এবং কীর্তিপাশা ও বাসণ্ডার জমিদারের এক অংশের জমিদারি লাভ করেনÑ যেটি বর্তমানে তারুলি গ্রাম।
শিকদার পরিবারের উদ্যোগেই ১৯৩৩ সালে তারুলি গ্রামে নিজবাড়িতে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৯৫৭ সালে একটি উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ বিদগ্ধজনের সঙ্গে শিকদারবাড়ির নিবিড় যোগাযোগ ছিল। তৎকালীন পূর্ববাংলায় ইসলাম প্রচারের জন্য ভারতের জৈনপুর থেকে আধ্যাত্মিক ধর্মীয় নেতারা যখন এদেশে আসতেন, তখন শিকদারবাড়িই হতো তাদের মূল আশ্রয়স্থল।
সৃষ্টিশীল মানুষেরা সবসময়ই কিছুটা একরোখা ও প্রচারবিমুখ হয়ে থাকেন, বাশারও এর ব্যতিক্রম নন। তিনি বলেন, সেই মুঘল আমল থেকে আমাদের বংশীয় মর্যাদা দৃষ্টান্তমূলক। দাদা তাহসিন উদ্দীন শিকদার তিন ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। সততা ও সমাজসেবা, ন্যায়বিচারের জন্য ‘মুন্সিমিঞা’ খেতাবপ্রাপ্ত। চাচা ছাবেদ আলি শিকদার ব্রিটিশ-ভারতের জেলা রেজিস্ট্রার, সমাজসেবক ও বরিশালের ওয়াকফ এস্টেটের মুতাওয়াল্লি। চাচাতো ভাই এম. ফজলুর রহমান শিক্ষাজীবনের সকল পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী। প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক। তিনি পূর্বপাকিস্তানের শিক্ষা উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় পাকিন্তান সরকার কর্তৃক নির্যাতিত হন। তিনি পাকিস্তান পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য থাকা অবস্থায় লন্ডনে প্রয়াত হন। উপরোক্ত সবাই ছিলেন সমাজ তথা দেশের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, কিন্তু প্রচারবিমুখ।
সাদা মনের মানুষ আবুল বাশার নাড়ির টানেই বারবার গ্রামে ফিরে যান। শিক্ষার আলো জ্বালানোর লক্ষ্যে তিনি নিজগ্রামে একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু নিজ গ্রামেই নয়, বাংলাদেশের যে কোনো অঞ্চলে এমন উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান নীরবে নিভৃতে সৌজন্যমূলক গ্রন্থ ও আর্থিক সহযোগিতা করে।
সংগ্রামী মানুষ সিকদার আবুল বাশার মনে করেন, একজন মানুষের সফলতা যুগ যুগ অম্লান রাখতে তাকে অন্তত তিনটি ভালো কাজ করে যেতে হবেÑ প্রথমত, সুযোগ্য সন্তান তৈরি করে যাওয়া, দ্বিতীয়ত, একটি ভালো বই লিখে রেখে যাওয়া, তৃতীয়ত, বৃক্ষরোপণ করা। রূপক অর্থে ব্যবহৃত বৃক্ষরোপণ বলতে তিনি বুঝিয়েছেনÑ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার অথবা এমন কিছু প্রতিষ্ঠা করা, যা তার মৃত্যুর পরেও জ্ঞানের আলো ছড়াবে বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা বিস্তার ও ফলদানের মতো।
উদ্যমী এই মানুষটির অর্জন একেবারে কম নয়। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তিনি পেয়েছেন সম্মাননা ও স্বীকৃতি। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০০৮-এ সেরা মানের গ্রন্থ প্রকাশনার জন্য তিনি সম্মাননা লাভ করেন। ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ সালে পরপর তিনবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র কর্তৃক শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদশিল্পী নির্বাচিত ও পুরস্কৃত হন। প্রকৃত অর্থেই তিনি একজন ঝবষভ-সধফব সধহ। পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি থেকে বইয়ের মলাটবন্দিতা পর্যন্ত যে ক’টি ধাপ পেরুতে হয়, তার প্রতিটিতেই থাকে তার আন্তরিক শ্রম ও যতেœর ছোঁয়া।
সিকদার আবুল বাশার তার সফলতার নেপথ্যে দেশের বরেণ্য ইতিহাসবিদ এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গবেষকের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্বীকার করেন। তাঁদের সমর্থন না পেলে এত অল্প সময়ে কঠিন সব কাজ করা সম্ভব হতো না বলে মনে করেন। বাশার বলেন, দেশ ও জনগণের জন্য যে দায় নিয়েছি তাতে সরকারি আনুকূল্য আশা করি না। তবে সরকার যেন বিভিন্ন পাঠাগার ও প্রতিষ্ঠানের জন্য ভালো মানের বই কেনেন, আমাদের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর প্রকাশিত গ্রন্থ অধিক হারে সংরক্ষণ করেনÑ সেটাই আশা করি। ভবিষ্যতপ্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই কিনতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোরও এগিয়ে আসা উচিত।
অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, বাংলাদেশের প্রকাশকেরা যতটা সৃজনশীল ও সৃষ্টিশীল, তার চাইতে অনেক বেশি বাণিজ্যিক ধ্যান-ধারণা পোষণ করেন। যেহেতু তিনি বিনিয়োগ করেন, সেহেতু ব্যবসার দিকটি প্রাধান্য পাবেÑ এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু লেখকের সৃজনশীলতার পুরস্কার যদি সম্মানের পরিবর্তে অবজ্ঞা হয়, সেটা দুঃখজনক। সিকদার আবুল বাশার এক্ষেত্রে অধিকাংশ প্রকাশকের চেয়ে আলাদা।
অধিকাংশ প্রকাশক যখন বাণিজ্য তরণীর কুশন চেপে বসে বৈতরণী পার হওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টায় রত, তখন এর বিপরীতে তরী ভাসিয়েছেন বাশার। তিনি উপলব্ধি করেছেনÑ যে জাতির ইতিহাস নেই সে জাতি পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন। তাই তিনি নিজেই মাথায় তুলে নিয়েছেন জাতির ইতিহাস উদ্ধারের দায়।
হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস পুনঃপ্রকাশ করে তিনি যেমন অতীতকে তুলে আনছেন, তেমনি বাংলাদেশের সব জেলার স্থানীয় ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিজে উদ্যোগী হয়ে লিখিয়ে নিয়ে প্রকাশ করছেন, জাতীয় দায়িত্ব পালন করছেন। সমাজে এমন দু’একজন মানুষ তো থাকবেনই যারা লাভ-লোকসানের হিসাব না কষে জাতীয় দায় কাঁধে তুলে নেন। সিকদার আবুল বাশার অবশ্যই সে শ্রেণিতে অবস্থান করছেন।
আঞ্চলিক ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহের কারণ জানতে চাইলে বাশার বলেন, ‘আজ থেকে কয়েক যুগ বা শতাব্দী আগে যখন বিভিন্ন ইতিহাসের বই লেখা হয়েছে, সেই একই সময় অনেকেই হয়তো গল্প-উপন্যাস-কবিতা লিখেছেন। বই আকারে সেসব প্রকাশিতও হয়েছিল। কিন্তু অনেক বছর পেরিয়ে এসে কেউ কি সেইসব সৃজনশীল সাহিত্যের কথা মনে রেখেছেন? রাখেন নি। অথচ পাঠক এখনো ইতিহাস-ঐতিহ্যের বইগুলো খোঁজেন।  কারণ মানুষ তার নিজের অস্তিত্বের প্রয়োজনেই অতীতকে জানতে চায়। এই চাওয়াটা চিরন্তন। আমি যখন ইতিহাস-ঐতিহ্যের বইয়ের দু®প্রাপ্যতা উপলব্ধি করলাম, তখনই এই দিকে মনোনিবেশ করি। কারণ শেকড় দুর্বল হলে গাছ দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারে না। আমি তাই জাতির শেকড় সন্ধানে নেমেছি।’
গতিধারা প্রকাশনা সংস্থার প্রায় সকল বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পী সিকদার আবুল বাশার নিজেই। অসম্ভব সুন্দর সেইসব প্রচ্ছদ। প্রচ্ছদ দেখলে যে কেউ তার শৈল্পিক বোধের মুন্সিয়ানা স্বীকার করে নেবেন। জাতশিল্পী বোধহয় একেই বলে! তিনি খুব সুন্দর পরিচ্ছন্ন, কোমল হৃদয়ের অধিকারী এবং বিনয়ী একজন মানুষ। বিশেষ করে এতিম শিশু ও দুঃস্থদের প্রতি তার যে দরদ, সেটা সচরাচর বিরল।
একবার তার প্রতিষ্ঠানের কোনো এক কর্মচারীর অসততা ঘটনাচক্রে তার কাছে ধরা পড়ে যায়। তখন পর্যন্ত ঘটনা জানা গেলেও কে ঘটিয়েছে সেটা জানা যায় নি। বাশার ভাই তার সকল কর্মচারীকে একত্রিত করে ঘোষণা দিলেনÑ যে এই অসৎ কাজের সঙ্গে জড়িত, স্বীকার করলে তার বেতন বাড়িয়ে দেওয়া হবে! সিকদার আবুল বাশার-এর যুক্তি হলো, আমি তাকে যে বেতন দেই তাতে হয়তো তার চলে না বলেই অসৎ  পথে পা বাড়িয়েছে। সুতরাং স্বীকার করলে বেতন বাড়িয়ে দেব। যেন আর অসৎ কাজ করতে না হয়। কী অদ্ভুত ঘোষণা! এমন ধারণা যেন কেবল তার মুখেই মানায়।
তিনি মাঝে মাঝে এমন কথা বলেন, যা শুনলে হাস্যকর মনে হবে, কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে সিকদার আবুল বাশার-এর চিন্তার গভীরতা উপলব্ধি করা যায়। যেমন তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোটি টাকার উপরে ঘুষ বৈধ করে দেওয়া উচিত এই শর্তে যে-ঘুষের অর্থ লেনদেন হবে প্রকাশ্যে এবং নগদে! কোনো চেক গ্রহণযোগ্য হবে না। তার মতে, এক কোটি টাকা গুনে নেয়া অত সহজ নয়। তথাপি কেউ যদি একটি একটি করে এক কোটি টাকা গুনে নিতে পারে, তবে তাকে তা ভোগ করার সুযোগ দেওয়া উচিত!
কৃতি এই প্রকাশক এতটাই প্রচারবিমুখ যে অনেক সময় নিজের পরিচয়টাও ঠিকমতো দেন না। হয়তো অপরিচিত কেউ একজন গতিধারা’র শো-রুমে ঢুকে জানতে চাইলো, ভাই সিকদার আবুল বাশার-এর সঙ্গে দেখা করতে চাই। উনি স্বয়ং বলে বসবেন, বস্ তো বাইরে ব্যস্ত আছেন, আমি তার ম্যানেজারÑ কী বলতে হবে আমাকে বলেন!
লেখক দেখলেই অনেক প্রকাশক নাক উঁচু করে ফেলেন। ভাবখানা এমন যে নিতান্ত কৃপা করে পাণ্ডুলিপি দেখেন আর দয়াপরবশ হয়ে বই ছাপেন। কিন্তু সিকদার আবুল বাশার এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি বিশ্বাস করেনÑ লেখক যত নবীনই হোক, বই ছাপা হোক বা না হোক অন্তত ভালো ব্যবহার এবং উপযুক্ত দিক-নির্দেশনা তার প্রাপ্য। নিজে লেখক বলেই বোধহয় অন্য লেখকের প্রতি তিনি এতটাই পরিশীলিত। যে কোনো মানুষকে অতি দ্রুত আপন করে নেয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তার রয়েছে।
বাংলাবাজারের বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কর্তাব্যক্তিটিকে সাধারণত দেখা যায় চেয়ারে বসে থাকেন নবাবি হকিকতে। মালিক হিসেবে তার দায়িত্ব যেন শুধু হুকুম করা আর টাকা গোনা। কিন্তু মালিক-বিক্রেতা সিকদার আবুল বাশার ক্রেতা এলে নিজ হাতে বই নামিয়ে দেখাতে দ্বিধা করেন না। তার সুভাষণ, প্রয়োজনীয় যোগান ও ব্যবহার নিমিষেই সবাইকে মুগ্ধ করে ফেলে। হাতেনাতে তার প্রমাণও মেলে ক্রেতা তখন একটি বই কিনতে এসে অনেকগুলো বই কিনে ফিরে যান।
সিকদার আবুল বাশার-এর কাছে যদি নতুন কোনো পরিকল্পনা ব্যক্ত করা যায়Ñ যদি সেটা তার মনে দাগ কাটে, তাহলে তিনি তার শেষ দেখে ছাড়েন। লাভ-ক্ষতির বিবেচনা তখন তার কাছে গৌণ। তিনি একজন স্পষ্টবাদী মানুষ। যা বিশ্বাস করেন, মুখের উপর বলে দিতে দ্বিধা করেন না। এতে কে কী মনে করল তাতে তার কিছু যায় আসে না। তাঁর বিশ্বাস ও নীতির বিরুদ্ধে তাকে দিয়ে কিছু করানো সম্ভব নয়।
সিকদার আবুল বাশার কর্মপ্রাণ, সৃজনশীল একজন মানুষ। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তার প্রকাশনা সংস্থায় বসে এক মনে কাজ করেন। কী করেনÑ সেই বর্ণনার চাইতে কী করেন না সেই তালিকা তৈরি করাটাই বোধহয় সহজ। ‘সকল কাজের কাজী’ সিকদার আবুল বাশার কীভাবে যে একাই সবকিছু সামলান, খুব কাছ থেকে না দেখলে বলে বোঝানো যাবে না। কাজের প্রয়োজনে তার কাছে কোনো শুক্র-শনি নেই। সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে যিনি এত সহজে বুড়ো আঙুল দেখাতে পারেন, আর কিছু না হলেও সাফল্য তার বশ মানতে বাধ্য।

রাজিব আহমেদ : গবেষক। অসংখ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখক
ও বিক্রয় প্রশিক্ষক।


Relevance and Models for Bangladesh = Mohammad Ahsanul Karim

বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৬

DemocraticState Area Institutions, Democratic Defense Structure, Bicameral Parliament and Parliamentary Care Taker Government:
Relevance and Models for Bangladesh = MohammadAhsanul Karim

Democratic Basic Concepts and Institutions
In his historical speech, US President Abraham Lincoln said “---that this nation, under God, shall have a new birth of freedom; and that government of the people, by the people, for the people, shall not perish from the earth”. The first part of his statement on democracy is “freedom of the people”; and the other part isdemocratic government i.e. “government by the people, for the people”. But definition of Democracy in Bangladesh has become, “government by the people” only as like as “Greek Democracy”. There is no indispensable institution that stands “government for the people”.
At the time of Abraham Lincoln, the concept of “equal rights of the people” did not yet develop exceptsomeelementary stage. Without equal rights,freedom of the people is undefined, incomplete, conflicting and unprotected. Almost a hundred years before of Lincoln, French philosopher Rousseau postulated the ideology of “Liberty andEquality of the people”, the foundations of modern democracy. Without the laws and institutions in real life, the ideologyof liberty andequality is a poem—not the systems of a state. Laws and institutions of liberty andequality in real life aredemocratic family which develop democratic i.e. liberty andequality behavior and culture of individualsin social horizons.
About twelve hundreds years ago, the family Statutes(marriage & inheritance)initiated in 534 AD in the Eastern Roman Empire, following Christianfamily philosophy is the first democratic Statutes in the world. But those equal-democraticStatutes produced increasing divorce rate and various crises in family and social lives. To get rid of the increasing crises of inequality and economic systems (Slavism, Feudalism, Capitalism, etc.) out of Roman Catholic Inheritance Statues, the European states gradually replaced those laws by the equal-democratic Christian Inheritance Law (Britain in 1925).
People got rid of long severe crisesbutthis lawhas generated increasingdivorce rate and variouscrises in family and social lives. After about one hundred year and half later new Equitable-democratic Family Statues of the Islam religion reduces those crises in both family and social lives.While the Christianistic and Islamic equal-democratic social philosophy-statues has emerged as universal fundamental citizen rights and their representative government systemas foundations of Modern Democracy.
Most states in modern era are about hundreds time bigger than the small city-states in the ancient Greece. People living inthousandsvillages and cities are nationally integrated based on the hierarchalunited area sub-units, viz. sub-districts, districts, regions, provinces, etc. and run by local and national governments. Therefore, the family institutions, state area unitesstructure and governments are basic foundational institutions of a big state. On the net effect of the nature of those institutions, the nature of a state may be autocratic, democratic, or anarchic.If the nature of those three basic institutions is democratic separately, the institutions of the state would be higher developing democratic one.
Only the “yearly basis electoral government” of the 6-7% adult male citizens of about hundred thousand population was Greek Democracyagainst Monarchy.  So, the national integrity, security and stability issuesin Greek states were not as much vitalas those are in modern states. The contemporary social, economic, cultural and political lives of a larger state arediverse based on races, regions, and religionsas well as organizations, technologies and professions. Except a society, forum, party;or a local government ofvillages and small cities,even a Mega-City cannot be run by Greek Democracy.It is impossible to runa national government of a larger state by the Greek democraticconcepts and institutions.

M Qarim 9
Democratic State Area Unites Structureand Defense Structure
As born and bought up on agriculture and environment of alluvial soil of Bangladesh, the values and culture of Bengalis nationhood is very liberal. Secondly, the family statues and institutions of 10% Hindu-Buddhist peoplestill are semi-democratic, but the same of 90% Christian-Muslim peopleare democratic about thousand years. Thirdly, constitutional provisions of Bangladesh guaranteed the equal citizen rights with religious freedom. The religious freedom also protectedthe democratic family lawsandinstitutions of hundreds year. The family laws Christian-Muslimsand liberal ethnicities of Bengalissimultaneously make the family institutions of Bangladesh into highly democratic. So, the state institutions of Bangladesh would be democratic if the state area unites structure (SAUS) and the government institutions were democratic. The defense structure is a part of the government institutions.
The SAUSinstitution of Bangladeshwas autocratic for inherited4 Divisions, 18Districts (Average 4 districts per Division) and average 68Mahakams (3.8 Mahakams per District)after 1947.The defense structure of Bangladesh also was autocratic as it was based on 4Regional Cantonments. The constituted government system of unitaryBangladesh has become autocratic as itis based on unicameral Parliament with party control system.So, Bangladesh had become a higher autocratic state as its threefundamental institutions, viz,the SAUS, defense structure and government system were autocratic.Without reforming thosethreeautocratic institutions into democratic ones are the institutional way of transforming Bangladesh into a democratic state.
M Qarim 3
Upgrading of old 460 Thanas into sub-Districts and 64 Mohkumas into Districts as per proposal of this author are revolutionary reforms. But the SAUS institutionbecame anarchic formaintaining4 Divisionsafter creating 64 Districts (average 16 districts per division); andBangladesh has become an increasing anarchic/terrorist state as it generatedanarchism/terrorism values. After creating more 3 Divisions i.e. dividing into 7 Divisions, the SAUS of Bangladesh has become a moderate democratic one.  
Though the rate has decreased, anarchism/terrorism is still on increasingas districts are not fairly distributed per division. If Bangladesh is divided into 9 divisions(average 7.1 districts per division)as proposed, the SAUS institution shall be highly democratic. Consequently, the character of all the government and private agencies and authorities would be highly democratic. The average economic growth rate would increase to a higher level aslike as Japan and Koreain 1950-90s as the structure and institutions of the market economy would be higher progressive.The increasing anarchic/terrorism would retard for democratic structures and institutions.
During1982-09, the anarchism/terrorism was increasing as the SAUS institution was higher anarchic. While the autocratic government institutions also acceleratedautocraticgoverning. The political situation was further worsened after political turmoilin 1987; and government was in shake of change by military coup. To make structural andinstitutionalconstraint against another coup, the Rangpur and the Mymensingh Cantonments were upgradedto Regionalones by separating those from Bogura and Dhaka as proposed by this author. Defense structure now has become moderately democratic as it is based on 7 Regional Cantonments. The defense structure would be further democratic if the Sylhet Cantonment is upgraded to Regional by separating from Comilla. If a Regional Cantonmentis setup at Barishal Division, defense structure and internal security would be higher democratic.
Government System of Bangladesh
Since 1972, the primary crisis of our state institutions is the autocratic government system. The constituted parliamentary system of the government headed by Prime Minister based on Unicameral Parliamentunder party control was highly autocratic. This crisis could not be possible to solve by introducing by separating executive government system headed by ExecutivePresident in 1975 even under multi-parties political system. The uproar of the people in 1975 and 1990 was a revolt against the prevailing autocratic presidential government including the vote-rights and neutral elections. After the re-introduction of earlier parliamentary governmentsystem headed by Prime Minister, the autocracy of the government again has increasedfurther.
The Great Movement of 1996 for Care Taker Government (CTG) system during election of National Parliamentand the political crash of 1/11/2007 were revolts against the prevailingautocratic parliamentary government systemand demands forvoting rights and neutral elections. The root of the autocratic crisis of prevailed Presidential or prevailing parliamentary government system was/isUnicameral Parliament with party control system.As party controlcannot be completely removed, establishing aBicameral Parliamentis the only way to solve the higher autocracy and political crisis when a party represents over two-third in the Parliament.
M Qarim 5
Bicameralism is a usual custom in union or federal states. It is also prevailing overthirty-two unitary states including France and Japan. After American Civil War, Bicameral Parliamenthad been setup in all constituent unitary states of the USA to reduce political crisis and promote federal integrity. The USA, France, and Japan are not states those organized and run by the mads. They did not enact Bicameral Parliamentary system without necessity. Whoever says that the Bicameral Parliamentis not necessary in Bangladesh undoubtedly has no political wisdom about democracy or may be a Marxist (Marx had no wisdom about state institutions). The Bicameralism would removethe disadvantages and crisis of the Unicameralismwould be removedand would addadvantages of democracy.
Bicameral Parliamentary system also has some minor shortcomings, but ensuresinstitutions of1) the necessary separation and integration of the Parliament, Executive and Judicial organs, 2) self-control in making neutral democratic laws, 3)  keeping the Parliament, Executive and Judicial organsunder the constitution and laws as well as strengthening the greater public relation; 4)preventing tyranny of the majority party and the rise of dictatorship, 5) removing the current political crisis, and giving directions by mid-term election, 6) strengthening, continuing and protecting constitutional institutions against military coup or political failure, 7) removing some sort of structural disadvantages of democracy i.e. federal states structure and division of authority among many governments that are absent in the unitary state, 8) narrowing Position and Oppositions in political process, ensuring attendance and active participation of opposition partiesin parliamentary sessions, and 9) additional election and forum of developing democratic value and society, etc.
Bangladesh should follow the prevailing models tested by the developed nations of the world. In Bicameral Parliamentary system, the present Parliament shall be transformed as the First House. The Second House shall consist of two representatives from each District as like as in USA, France, and Russia. There shall be women representatives in Second House proportionalto party’srepresentatives analogous to First House, but based on Divisions. The term ofboth of the Houses shall be four years and shall be elected after two years in rotational system.No House shall be dissolved without standing the other. The Second House shall have the authority to return simple bills onetimeand constitution amendment billstwice to the First House with specified and explicit recommendation(s). Other conventional system shall prevail.
The First House shall be Sovereign and shall form regular parliamentary government headed by Prime minister. The Executive authority shall be vested in Prime Minister (or if is vested in President, the President shall be bound to run the government in consultation of the Prime Minister). For efficiency of the government, maximum one-third non-MPshall be included the Council of Ministers. No member of the Second House shall be member of the Council of Ministers except dissolution of the First House. After introducing Bicameral Parliamentary system, the parliamentary government system headed by Prime Minister or headed by President would be like Japan andGermanyor India respectively.


Parliamentary Care Taker Government
By Government’s interruption in referendums and national elections, the vote-rights and neutral election werereduced in 1980s. To get rid of these situations, national election was held in 1991 under a Care Taker Government (CTG) system during parliament electionby the national consensus. From exemplary experience, the CTG system had been enacted by the 13th Amendment of the Constitution by the Parliamentary Consensus of all parties and independent representatives in 1996 after a Movement led by then Opposition Leader Sheikh Hasina.
Thethe 13th Amendment has been voided by the Supreme Court as undemocratic in 2011 upon a writ petition.However, the Supreme Court did not deny the severe necessity of the CTG system; and has advised to hold10th& 11th Parliament elections under the voided 13th Amendment for public security.Instead of enactinga DemocraticCTG system,the15thAmendment revive the old system by the present Prime Minister who denied that and lead a movement when was Opposition Leader.
Four Parliament elections were very neutral and acceptable under the CTGsystem. However, the governance of the elected Government has become more and more un-neutral; and the party political collisions are increasing more and more accordingly. As a result, the political observers, researchers, and analysts are also in favor of CTG system during parliament election. Some are thinking that the obstacles of neutral election may be overcome by neutralization and strengthening the Election Commission. But Election Commission is neither the Government nor the substitute of the Government.
Both Awami League (AL) and Bangladesh Nationalist Party (BNP)have been the ruling party by rotation since 1991. From the very beginning the AL and the BNP were not only competitive opposition parties, but also have severe animosity towards each other in many respects. Election under any one party is not acceptable to each other.Their political collision over power and election has not guaranteed security for the public. It also tested that without participation of all parties and people, one sided elected government loses capacity to govern the country and brings political crises and crash.
If Bicameral Parliament is introduced, a Parliamentary CTG system also may be introduced as per Constitution. In Parliamentary CTG, with dissolution or postponing of the session of the First House, the Council of Ministers headed by Prime Minister automatically dissolved. The Executive authority shall automatically be vested in President;and President shall be bounded to run the government in consultation of the Chief Adviser after his appointment.
Council of Advisers of Fifteen Members headed by Chief Adviser shall be organized with five members of the last party in power,five members of the last opposition party from the Second House,and five members from the wise citizens outside of the Parliament. The President shall appoint the Chief Adviser from among the five members from the wise citizens out of Second House by mutual opinion or by lottery; No Retired or running Judge of the Appellate Division of the Supreme Court shall be included in the Council of Advisers.
In early 1990s, Commonwealth Secretary General Sir Ninian Stephen, once advised a CTG system keeping the sitting Prime Minister as Head of the Government with the fiveministers from the both oppositions. The Opposition Leader (Present PM) did not agree with this model as voting rights and neutral election may not be ensured as the character of the Government would not change. How the decision would be taken from equal oppositions whose have severe animosity to each other. Therefore, without the five members including Chief Adviser from the wise citizens, the CTG would not function an Executive government.
As the Supreme Court voided the 13th Amendment as unconstitutional, the same articles cannot be revived again in the Constitution. We need new provisions of CTG in accordance to the Constitution. Parliamentary CTG from the Second House is political, representative, and accountable. As it is under the framework of the constitution, Parliamentary CTG cannot run over three months. Rather, it is provision of protection for continuing Constitution as parliament will never be a vacuum. It would reduce the rise of 1//11 event in future.
The advices of the article: to institute democracy in Bangladesh; the following four democratic reforms are indispensable in continuation of other democratic reforms since 1982:
•Â Â   Creating Mymensingh and Comilla Divisions;
•Â Â   Upgrading Sylhet Cantonment into Regional one;
•Â Â   Introducing Bicameral Parliamentary system; and
•Â Â   Parliamentary Care taker government (CTG) system
------------
* The article is written on the basis of the statement submitted to Appellate division of Bangladesh Supreme Court, “Opinion on Care Taker Government and relevant issues (2011), “Points of Amendment in the Constitution (2010)”, “Progressive Democracy (1991) and “Outlines of Progressive Democratic institutions (1985)”.

** The author isa State Institutions Expertise, Ex-BCS Officer and a Freedom Fighter; and initiator of democratic Reforms of basic Institutions in Bangladesh since 1982.

[This Paper was read in a Seminar on February 26, 2012 at the National Press Club, Dhaka, Bangladesh]


তবু মানুষই বেশি কাঁদে = এবিএম সালেহ উদ্দীন

বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০১৬

গত সংখ্যা ঠিকানায় আমার প্রবন্ধের সমাপ্তি ছিল বাংলাদেশের নিরাপদ জন জীবনের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে । কারণ সেখানে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। এমনকি ক্ষমতাধরের মনেও আশঙ্কা থাকে যে কোন মুহুর্তে ত দের উপরও বিপদ নেমে আসতে পারে। আমাদের জনজীবন কিংবা আর্থ- সামাজিক অবক্ষয়ী দেশে নিরাপদে বেঁচে থাকা ভাগ্যের ব্যাপার। যেখানে সিংহভাগ মানুষের কান্নার শেষ নেই। সেখানে গুটি কতেকের সুখ উল্লাসেও অনেকের ক্ষোভ আসে । কষ্ট লাগে।
 এবারের বিষয়বস্তু হচ্ছে মানুষ কেন কাঁদে। কান্নার কি শেষ আছে?  কান্নাকে তো সঙ্গে বয়েই মানুষের পৃথিবীতে আবির্ভাব! মাতৃজঠর থেকে প্রথম কান্নার মধ্যদিয়েই প্রত্যেক শিশুর জন্ম হয়। তারপর ক্রমে বড় হওয়ার পর থেকেই শুরু হয় কান্নার যাত্রা। কেউ বলতে পারবে না যে, সে কাঁদবে না। হৃদয়বান মানুষসহ সকল মানুষের মাঝে যেমন কান্না আছে তেমনই পাশব-পাষাণের মাঝেও যে কান্না লুকায়িত থাকে সেটাও কোন এক সময় প্রকাশ পাবেই। নানা কারণেই মানুষ কাঁদে। কেউ আপনজন হাঁরিয়ে কাঁদে। বিপদ-আপদে পড়ে কিংবা অসুস্থতায় পড়েও কেউ কাঁদে। কেউ কাঁদে ক্ষমতায় যাওয়ার আশায়। আবার কেউ আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্যেও কাঁদতে পারেন। দার্শনিক হেনরি হেলমস্ এর একটা বিখ্যাত উক্তি হচ্ছেÑ‘ প্রতিটি মানুষের জীবনে, সে যত বড় পাষাণই হো না কেন, একবার না একবার তাকে কাঁদতেই হবে’। সর্বকালেই কান্না ছিল মানুষের জীবনসঙ্গী। তবে আমার মনে হয় আগের চাইতে
পৃথিবীর সর্বত্রই এখন মানুষের অসহনীয় কান্না ও আর্তনাদের শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ।
Abm_Salehuddn___SaKiL
কত ভাবে বাংলাদেশের মানূষ প্রাণ হারায়। হায়! এখনো চোখে ভাসে শিশু রাজনের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় কেঁদে ওঠে রাকিব,সাঈদসহ কত নাম জানা অজানা অপ্রাপ্ত বয়সের শিশু, নারী, বুড়ো-গুড়ো নানা বয়সের মানুষের অকালে ঝরে যাওয়ার কথা মনে করে। পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে কি করুণভাবে আমাদের দেশের নি:ষ্পাপ শিশু ও নিরাপরাধ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। স্বজনহারার কান্না ও আর্তনাদ কতটা হৃদয় বিদারক , তা যদি ঐ মানব বিধ্বংসী পশুরা বুঝতো? শুধু কি শিশু, নারী,অপ্রাপ্ত বালিকা ? সব ধরণের মানুষ করুণভাবে মারা যাচ্ছে। নির্মম হত্যাকান্ড ছাড়াও মানব পাচারকারীদের ধোকায় পড়ে দেশের কত অসহায় মানুষ মর্মন্তিকভাতে মৃত্যুবরণ করেছে।
 আহ! কি করুণ মৃত্যু হলো সাভারের রানা প্লাজায়? চিরতরে হাঁরিয়ে গেল ভাগ্যাহত নারী ও শিশুসহ নানা বয়সের শ্রমিক ভাই বোনেরা। মৃত্যুর বিভীষিকার নায়ক অপদার্থ সেই রানা (যে সরাসরি যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিল)  নামের সেই কুখ্যাত লোকটির  বিচার এখনও হয় নি। আরও ভয়াবহ ছিল নারায়ন গঞ্জের সেভেন মার্ডারের ঘটনা। অবশ্য ইতিমধ্যে রজন,রাকিব এবং শিশু সাঈদসহ কয়েকটি নির্মম হত্যাকান্ডে বিচার হয়েছে। এটি একটি ভাল দিক। বিচারে অভিযুক্তদের রায় দ্রুত কার্যকরী হওয়া বাঞ্চনীয়।
মনে পড়ে, স্বাধীন বাংলাদেশের শুরুর দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোমহর্ষক সেভেন মার্ডারের ভয়বহ চিত্র। যে হত্যাকান্ডে জড়িত ছিল তধকালীন সরকার দলীয় ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। তেমনই নারায়ন গঞ্জের হত্যাকান্ডেও সরকারের সাথে লালিত সন্ত্রাসের হোতা,ক্যাডার এবং র‌্যাব সরাসরি জড়িত! আর বর্তমান আমলের ছাত্রলীগের কথা উল্লেখ না করাই ভাল। এছাড়া রাজনৈতিক হত্যাকান্ড ছাড়া এবং সন্ত্রাসীদের হাতে বাংলাদেশে অহরহ মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে। রাজনীতির নামে হরতাল, আর বোমাবাজির মাধ্যমেও কত মানুষ মারা গেছেন। কত মানুষ চিরকালের জন্য পঙ্গু হয়ে গেেেছন।
বাংলাদেশ এবং পার্শ্ববর্তী দেশ সমূহের কোথাও মানুষের জীবনের স্বস্তি নেই, শান্তি নেই। তেমনই পৃথিবী জুড়ে বয়ে চলছে মানবতার আর্তনাদ। সর্বত্র নিরীহ মানুষ নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে। কোন কোন দেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীন শোষক শ্রেণীর নিষ্পেষণ আর নির্যাতনে মরছে মানুষ।
 বাংলাদেশে গুম-হত্যা বহুবিধ। তবে সন্ত্রাসীদের হত্যাকান্ডের সাথে যোগ হয়েছে রাজনৈতিক হত্যাকান্ড। যার বেশির ভাগই ঘটছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। দেশের প্রশাসন যদি ক্ষমতাসীনদের অন্যায় হুকুম তামিলে ব্যস্ত থাকেন এবং অপরাধ কর্মে লিপ্ত হয়ে যায়(!) সেখানে বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে এবং সে কান্না কখনও থামে না। কান্ন অবিরাম বয়ে চলছে বাংলাদেশে। গুটিকতেক
সুবিধাবাদীদের বাদ দিলে বেশির ভাগ মানুষের দিন নিরাপত্তাহীনতায় কাটে। তাদের জীবন-জীবিকায় শান্তি নেই এবং দিন কাটে ভীতিকর অস্বস্তিতে।
নৃশংসতা শুধু  সরকার কিংবা পুলিশ-র‌্যাবের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। নৃশংসতা ছড়িয়ে গেছে সর্বস্তরে। সামাজিক অবক্ষয়ের প্রান্ত:সীমায় এখন আজকের বাংলাদেশের জীবনচিত্র! সাধারণ মানুষের কারো কারো মাঝে এমন নৃশংসতার ঘটনাও ঘটছে অবলীলায়।


আমরা জানি বাংলাদেশের বেশির মানুষ ধর্ম পরায়ন। ধর্মের নামে কোন মানব বিধ্বংসী বর্বরতার সাথে তাদের কোন সম্পর্ক নেই। তবুও সুযোগ সন্ধানীরা তথাকথিত জঙ্গীবাদের ছুঁতোয় ঢালাও ভাবে মুসলমানদের দায়ী করবার একটা প্রয়াস চালায়। যারা মানুষ হত্যার উন্মাদনায় সšা¿সী কর্ম-কান্ডে লিপ্ত থাকে তারা ইসলাম ও মানবতার শত্র“। কতিপয় বিপদগামী লোক ধর্মের নাম করে বিভিন্ন দেশে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে এবং বাংলাদেশেও নৃশংসতার মাধ্যমে নানা রকম অপরাধকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক যে, এই পাপিষ্ট বিপদগামীরা আমাদের প্রাণপ্রিয় ইসলামের নাম করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। হয়রানি আর দুর্ভোগের শিকার হয় সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ।
 অনেক ইসলামিক স্কলারের নিকট থেকে জানা যায় যে এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে বলা যায় যে, এইসব সন্ত্রাসী হত্যাকান্ড ইসলাম কখনও সমর্থন দেয় না। এই ধরণের দুষ্কর্মে লিপ্ত সন্ত্রাসীরা কোন ধর্মেরই প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। এরা মানবতার শত্র“। তবুও ধমের্র দোহাই দিয়ে তাদেরকে এক করে  অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে  দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
কিছুদিন আগে একজন সৃজনশীল প্রকাশককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারও বেশ আগে বইমেলায় অভিজিৎ নামে একজন মুক্তমনা তরুন লেখককে নির্মমভাবে হত্যা করা করো হয়েছে। ইতিপূর্বের আরও লেখায় সে বিষয়টির উল্লেখ করেছিলাম এবং অভিজিৎ রায়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছি। আজ পর্যন্ত সে সব হত্যাকান্ডের বিচার হয় নি। যে সমাজে স্বাধীনভাবে মতামত ব্যক্ত করা যায় না(?) স্বাধীনভাবে কথা বলা যায় না। সেটাকে স্বাধীন দেশ বলা যায় না। অতএব এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সরকারের উচিত সকল মতের রাজনীতিসহ সকল মতের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা। কিন্তু অতীব দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, বাংলাদেশের বর্তমান ক্ষমতাসীনরা পদে পদে গণ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোর উপর এক ধরণের খড়গ চাপিয়ে রাখছে। এ মুহুর্তে  মহাত্মা গান্ধীর একটি উক্তি মনে পড়ছে। তিনি বলেছেনÑ‘ মানুষের বাক স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করা স্বৈরতন্ত্রেরই নামান্তর’। বাংলাদেশে খুন হত্যা ও গুমের কারবার এখন তুঙ্গে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই। নেই বিরোধী রাজনীতির সুশীল ধারা। সব ধরণের হত্যাকান্ডের বিচার নিরপেক্ষভাবে হচ্ছে না বলে এসবের উপর অনেক কথা উঠেছে। যেখানে সব ধরণের অপরাধ কর্ম বিশেষ করে গুম-হত্যার সঙ্গে লিপ্ত অপরাধীদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেখানে  
সরকারি সুবিধাবাদীরা বলছেন এ সব হত্যাকান্ডের বিচার করতে অনেক সময়ের দরকার। কিন্তু  যারা নির্মমভাবে খুন হলেন তাদের মা-বাবা ও পরিবার বর্গের কান্না আর স্বজনহারা আর্তনাদ যে কতটা হৃদয় বিদারক তা ভুক্তভোগি ছাড়া কারো উপলব্ধিতে আসবে না। নির্মমভাবে খুন হওয়া জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধারের অসহায় বাবা বুদ্ধিজীবি অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের কাতর কন্ঠে শোনা যায, একাত্তুরের পর জীবনে এমন নিরাপত্তাহীন ক্রান্তিকাল আর কখনো আসে নি। অথচ দেশের এই করুণ অবস্থায়ও দুর্মুখদের মুখে শোনা যায় যে, দেশে কোন সমস্যা নেই। দেশের মানুষ নাকি নিরাপদ আছেন এবং সুখেই আছেন।
শুধু কি বাংলাদেশে? সারা পৃথিবী জুড়েই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে নিরীহ মানুষের জীবনপাত ঘটছে। কিছুদিন আগে প্যারিসের হত্যাযজ্ঞে নিরীহ মানুষ মারা গেলেন। তেমনই ক্যালিফর্নিয়ায় হত্যাকান্ডের উন্মাদনায় সবাই স্তম্ভিত! কি হচ্ছে পৃথিবীজুড়ে ? কারা এ সব নির্মমতার পেছনে কাজ করছে। কাদের সাহায্যে চলছে পৃথিবীতে নৃশংসতা?
আগেই উল্লেখ করেছি যে, শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যেই আরব দেশের কয়েকটি রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশে অনেক নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটছে। ক্ষমতাসীনরা তাদের গদি ঠিক রাখার জন্য যে কোন অমানবিক কর্মকান্ড, নিষ্ঠুরতা ও নির্মম পদ্ধতি গ্রহন করতে কুন্ঠিত হয় না। গণ মানুষের মানুষের কান্না তাদের কানে পৌঁছায় না। কারণ ক্ষমতার উগ্র নেশায় তারা অন্ধ, বধির, মুক এবং তাদের মাঝে কোন শুভবুদ্ধি উদয় হয় না। তারা নিষ্ঠুরতার মধ্যদিয়েই শোষণ,নির্যাতন মূলক ব্যবস্থগুলোকে  ছলে বলে কৌশলে জায়েজ করে নেয়। কেই কেউ আবার ধর্মের নাম করে নিষ্ঠুরতাকে উচকিয়ে দেয়। বোমা হামলা করে সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। ঐ দুষ্টরা জানে না যে, ধর্মে মানুষের প্রতি দয়া-দাক্ষিন্য সহনশীলতার কথা বলে এবং সেখানে অমানবিকতা , বর্ববরতা ও নিষ্ঠুরতার কোন স্থান নেই। টমাস ফুলার-এর উক্তি দিয়ে শেষ করবোÑ “নিষ্ঠুর লোক এবং যে কোন নিষ্ঠুরতাই ঈশ্বরের দুশমন”। অতএব মানব ধ্বিংসী সকল কর্মকান্ড থেকে সরে এসে সবাইকে সুশীল জীবন ও শান্তির পথে আসতে হবে। মনে রাখা উচিত এ পৃথিবীতে মানুষ কেঁদে কেঁদে মরতে আসে নি।  মানবতার সর্ব প্রকার উত্তম কাজের মধ্যদিয়ে শান্তি ও স্বস্তির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। পৃথিবীর মানুষের অহর্নিশ কান্না, শোক ও আর্তনাদের কথা ভেবে বর্বরতার পথ পরিহার করে ফিরে আসতে হবে স্বস্তি ও শান্তির পথে।
------------লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।