Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

ভুল সবই ভুল - ডা.সুরাইয়া হেলেন

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০১৫

আমার চেনায় ভুল ছিল কি ভুল ছিল?
মালায় তাহার ফুল ছিল না কাঁটা ছিল?
আমার চাওয়ায় ভুল ছিল কি ভুল ছিল?
ভালোবাসার সাগরে কূল ছিল না দোল ছিল?
আমার পাওয়ায় ভুল ছিল কি ভুল ছিল?
সোনার না কি হীরের নাক-ফুল ছিল?
আমার দেয়ায় ভুল ছিল কি ভুল ছিল?
আদর-মাখা চোখ নিয়ে সে ঢুলছিল?
আমার নেয়ায় ভুল ছিল কি ভুল ছিল?
আঁজলা ভরা সুখ ছিল না দুখ ছিল?
আমার সাজে ভুল ছিল কি ভুল ছিল?
লম্বা বেণী চুল ছিল না খোঁপা ছিল?
 
আমার ফেরায় ভুল ছিল কি ভুল ছিল?
তাহার ফেরায় মিল ছিল না ঝুলছিলো?
আমার মেঘে ভুল ছিল কি ভুল ছিল?
আকাশ তখন নীল ছিল না ফুঁসছিলো?
আমার চাঁদে ভুল ছিল কি ভুল ছিল?
জোছনা না কি অমা-রাতের পুল ছিল?
আমার তারায় ভুল ছিল কি ভুল ছিল?
কথামালা না সুরের তানে মূক ছিল?
আমার স্বপ্ন ভুল ছিল কি ভুল ছিল?
স্বপ্ন যখন সত্যি নয় ভুলই ছিলো?
সবকিছুতেই ভুল ছিল ভুল ছিল?
জীবনটা কি পুরোপুরি ভুলই ছিল?
ভুল ছিল……….?


একটি ফুল ও ছোটদের প্রেম-ভালবাসা - ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০১৫

 একটি ফুল ও ছোটদের প্রেম-ভালবাসা - ড. সরদার এম. আনিছুর রহমান এইত ক’দিন আগে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএন একটি ছবি প্রকাশ করে। ছবিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়। ছবিটিতে দেখা যায়- স্পেনের ভালডেনোসেডার একটি সমাধিতে ৫-৬ বছর বয়সী ছোট একটি ছেলে একটি ছোট মেয়েকে ফুল দিচ্ছে। এসময় আরেকটি ছোট মেয়েকে মন খারাপ করে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। জানি না, ওই তিন শিশুর প্রেক্ষাপট কী ছিল, তবে সেখানেও যে প্রেম-ভালবাসার একটা কাহিনী নিহিত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। 

আমরাও শিশুদের পছন্দ করি, ভালবাসি। ইসলামেও শিশুদের ভালবাসা সুন্নাত।অন্য ধর্মেও শিশুদের ভালবাসার কথা বলা আছে। আল্লাহর রাসূল এবং অন্য ধর্মের মনিষীরাও শিশুদের ভালবাসতেন। শিশুরা দেখতে সুন্দর, তাদের হাসি-কান্না, কথা-বার্তা, চলাফেরা, খেলাধূলা সব কিছুতেই যেন সৌন্দর্য্যের অপূর্ব সমাহার। সব চেয়ে বেশি সুন্দর শিশুদের ভালবাসা। যেখানে নেই কোনো খাঁত, নেই কোনো কপটতা। ওই ভালবাসায় যেন পবিত্রতার ছুঁয়া।

প্রসঙ্গত, একটি শিশু জন্মের কিছুদিন পর যখন তার বাবা-মা, ভাই-বোন, দাদা-দাদী, নানা-নানী কিংবা অন্য কোনো স্বজনকে সম্বোধন করে তখন যেন খুশিতে সবার হৃদয় বিগলিত হয়ে যায়। ছোট কচি খোকার এমন সম্বোধনের চেয়ে ভাল লাগার আর কী থাকতে পারে!তাই কে না ভালবাসতে চায় শিশুদের! 

তবে আমরা যে শিশুদেরকে ভালবাসি সে কথা কিন্তু বিভিন্নভাবে ফুটিয়ে তুলি। আর সব সময় বড়দের প্রেম-ভালবাসা নিয়ে ঘাটাঘাটি করি। আর তাই নাটক-সিনেমা, গল্প-কবিতায় সর্বত্রই বড়দের তথা তরুণ-তরুণীদের প্রেম-ভালবাসার ছাপ। এতে সহজেই প্রশ্ন জাগে, তাহলে প্রেম-ভালবাসা কি শুধু বড়দেরই সম্পত্তি? ছোটরা শুধু বড়দের কাছ থেকে ভালবাসা পেয়ে থাকে, তাদের মাঝে এসব কোনো কিছু নেই?

প্রেম ভালবাসা নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। মনিষীরা অনেক কথাই বলেছেন। এর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, আনন্দকে ভাগ করলে দুটি জিনিস পাওয়া যায়; একটি হচ্ছে জ্ঞান এবং অপরটি হচ্ছে প্রেম।

আইরিশ অভিনেত্রী ম্যালানি ক্লার্ক বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই ভালোবাসার ওপর মূল্য নির্ধারণ করতে পারি না, কিন্তু ভালোবাসার জন্য দরকারি সব উপকরণের ওপর মূল্য নির্ধারণ করতেই হবে।,

অস্কার ওয়াইল্ড বলেন, ‘আমি সেই নারীকে ভালবাসি যার অতীত আছে আর সেই পুরুষকে ভালবাসি যার ভবিষ্যত আছে।’

সমরেশ মজুমদারের ভাষায় ‘ছেলেরা ভালোবাসার অভিনয় করতে করতে যে কখন সত্যি সত্যি ভালোবেসে ফেলে তারা তা নিজেও জানে না। মেয়েরা সত্যিকার ভালোবাসতে বাসতে যে কখন অভিনয় শুরু করে তারা তা নিজেরাও জানে না।’

জর্জ বার্নাডশ বলেন, ‘ভালবাসার ব্যাপারে পুরুষরা চিরকালই শিকার, আর মেয়েরা শিকারী, একজন শিকারী যেমন শিকারের জন্য তার বন্দুককে ভালবাসে, একজন মেয়ে মানুষও তেমনি সৃষ্টির প্রয়োজনে পুরুষকে ভালবাসে। এ ভালবাসা বন্দুকের প্রতি শিকারীর প্রেম ভালবাসার সঙ্গেই একমাত্র তুলনীয়।’

মেরী বেকার হার্ডির মতে ‘যে গভীরভাবে ভালবাসতে জানে বয়স তার কাছে কোন বাধা নয়।’

ডেল কার্নেগীর ভাষায় ‘পৃথিবীতে ভালবাসার একটি মাত্র উপায় আছে, সেটা হল প্রতিদান পাওয়ার আশা না করে শুধু ভালবেসে যাওয়া।’

কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়- ‘যে ভালবাসা দুজনকে দুদিক থেকে আকর্ষন করে মিলিয়ে দেয়, সেটা ভালবাসা নয়, সেটা অন্য কিছু বা মোহ আর কামনা।’

অনেকের মতে, দু'জনের সখ্যতার আরেক নাম ভালবাসা। আর এই ভালবাসা মানুষের জন্মগত প্রবণতা। সব বয়সের সব মানুষের মাঝেই আছে। সন্তানের প্রতি মাতার ভালবাসা, পিতার ভালবাসা, মাতা-পিতার প্রতি সন্তানের ভালবাসা, ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের ভালবাসা, ভাইয়ের প্রতি বোনের ভালবাসা, বোনের প্রতি ভাইয়ের ভালবাসা, বোনের প্রতি বোনের ভালবাসা, মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা। প্রতিটি ভালবাসাই আলাদা স্বকীয়তার স্বাক্ষ্য বহন করে। আবার তরুণ-তরুণীর ভালবাসা, স্বামী-স্ত্রীর ভালবাসা ইত্যাদি। 
 
তাই বলা হয়ে থাকে প্রেম-ভালবাসা মানুষের চিরন্তণ প্রবণতা। ফলে প্রেম যে শুধুই বড়দের বিষয় না, তা সহজেই বলা যায়।

প্রসঙ্গত, ছোটকালে আমরাও প্রেম-ভালবাসার বাইরে ছিলাম না। আজও স্মরণে আছে- আমার এক মামাতো বোন ছিল, তার আর আমার বয়সের ব্যবধান মাত্র ৭দিনের। ফলে সেই একেবারে ছোটকাল থেকেই লেখাপড়া, ঘুরাফেরা, খেলাধূলা, খাওয়া-ধাওয়া, ঘুমানো অর্থাৎ সব কিছুতেই আমরা পরস্পরের সাথী ছিলাম। একে অপরকে ছাড়া যেন আমাদের এক মুহূর্তও চলতো না। আমাদের এই সম্পর্ক দেখে অন্যদের ঈর্ষা হতো।

এছাড়া স্কুল জীবনেও সহপাঠীদের পরস্পরকে অনেক ভালবেসেছি। ক্লাশের ফাঁকে অনেক ঘুরাফেরা ও আড্ডা দিয়েছি। খেলাধূলার সাথি হয়েছি, পড়ার সাথি হয়েছি। কই কোনো দিন তো অন্য কোনো কিছু ভাবিনি, অসততা ও অপবিত্রতা আমাদের স্পর্শ করেনি কিংবা কারো পক্ষ থেকে কোনো আপত্তিও উঠেনি।

কিন্তু আজকাল প্রেম-ভালা নিয়ে কী হচ্ছে? আর সেসব প্রেম-ভালবাসার অবাধ প্রচার-প্রসার শিশুদের উপরও এর প্রভাব পড়ছে।

এইত কিছু দিন আগে একটা নিউজটা পড়ে রীতিমত ভীমরি খেলাম। রাজধানীর 'রায়েরবাজারে প্রেম ঘটিত কারণে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীর আত্মহত্যা।'  ‘প্রেমঘটিত কারণে দিনাজপুরে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীর আত্মহত্যা’।

শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, কেন যেনো এমনটাই বাস্তব হচ্ছে প্রতিদিন। একটু একটু করে পাল্টে যাচ্ছে আমাদের চারপাশটা। প্রেমের নাম করে যৌনতার অবাধ বানিজ্যিকরণের প্রভাব পড়ছে শিশুদের উপরও। এর দায় কাদের?

শহর তো বটেই, পাল্টে যাচ্ছে আমাদের গ্রামবাংলার চিত্রও। আমাদের গ্রাম একেবারে অজপাড়া গাঁ ছিল। কয়েক বছর আগেও যেখানে বিদ্যুতের আলো ছিল না। কিন্তু আজ সেই গ্রামেই ঘরে ঘরে টেলিভিশন, হয়েছে  বিউটিপারলার এবং আমাদের বোন-ভাবী, খালা-ফুফুরা সেখানে গিয়ে সিরিয়ালের নায়িকাদের মত সাজগোজ করছে। চলাফেরায় তাদের মধ্যে এখন আধুনিকতা। আমার ই ভীমরি খাবার যোগার! এর সাথে সাথে আমাদের পুরনো কিছু সংস্কৃতির সমাধি! এবার শহরে আসুন। আমার মনে হয়না ঢাকাতে এমন কোন মহিলা বা মেয়ে আছে যারা ইন্ডিয়ান সিরিয়ালের ভক্ত নয়।

আমি নিজে্ও স্কুলের সামনে মহিলাদের এমন সিরিয়াল
নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুনেছি। এর ফলে আমাদের ছেলেমেয়েরাও আলট্রা মডার্ন হয়ে উঠছে, এবং ইন্ডিয়ান প্রতিটা দিবস, জাতীয়দিন, পূজা, ফ্যাশান সম্পর্কে রীতিমত বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠছে। আমিও কয়েকটি সিরিয়াল দেখার চেষ্টা করেছি। আশ্চর্য হলেও সত্য যে প্রতিটা সিরিয়াল এর কাঠামো এবং কাহিনি খুব ই কাছাকাছি। পরকিয়া এবং অমুলক সন্দেহ হল এই সব সিরিয়াল এর হট কেক।

আজকাল পত্রিকা গুলোতে স্বামীরহাতে স্ত্রী, স্ত্রীর হাতে স্বামী, ছেলেমেয়ের হাতে পিতা মাতা, ভাই বোন খুন হবার মেলা খবর দেখা যায়। আমি স্বীকার করি যে সমস্ত কিছুই সিরিয়ালের জন্য হয়না। কিন্তু বাংলাদেশে পরকিয়া কে ব্যাধি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে কিন্তু এই সিরিয়াল। সবার মনে সন্দেহ ঢুকিয়েছে এই সিরিয়াল।
নৈতিকতার সর্বনাশ করেছে এই সিরিয়াল। কথায় কথায় ডিভোর্স, সম্পর্ক ভাঙ্গাও সিরিয়ালের অবদান। পারিবারিক হিংসাও এর ই সৃষ্টি। কেউ মানুক আর না মানুক, এগুলো সত্যি ও বাস্ত। আমাদের দেশের চ্যানেল গুলোর ব্যর্থতাও এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। টি ভি চ্যানেল গুলো অতি মাত্রায় ব্যবসায়ী আচরন করে। বাঙলা চ্যানেল দেখতে বসলেই বিরক্ত লাগে। বিজ্ঞাপন আর ফালতু কাহিনীর নাটক দিয়ে চ্যানেল গুলো ভর্তি। খবর আর টক শো গুলো না থাকলে কি হত বলা মুশকিল। ইন্ডিয়ানদের চেয়ে আমাদের মেধা মনন কম নেই। তবে কেন এই হাল!

শিশুরা বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ভুলে যাচ্ছিলো বলে বিভিন্ন কার্টুন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হল। কিন্তু তাদের জন্য কি বিকল্প বিনোদন ব্যবস্থা হয়েছে? সেই তো কম্পিউটার গেম ই ভরসা। আজকাল তো বাচ্চারা মাঠেও খেলার সুযোগ পায়না পড়ালেখার প্রতিযোগিতা আর মাঠের অপ্রতুলতার জন্য। তাদের শৈশবের কি কোন মূল্যই নেই ! দোষ কি খালি শিশুদের। মা-বোনরাই তো তাদের পাশে বসিয়ে ওইসব আজগুবি পরকিয়ার  সিরিয়াল দেখাচ্ছেন। ঈদ-পূজার বাজারে খালি ইন্ডিয়ান পোশাক (নামও ইন্ডিয়ান সিরিয়াল, মুভির নামে!)। সব কিছুই ইন্ডিয়ান। আবার কিছু হলেই ইন্ডিয়ানদের দোষ। তারা আমাদের বাজার নিয়ে যাচ্ছে। আরে, আমরাই তো ডেকে ডেকে তাদেরকে দিচ্ছি!

কোথায় প্রেমের কচকচানি নেই ? নাটক, শিল্প-সাহিত্য, বিজ্ঞাপন, গান, সিনেমা সব জায়গায় প্রেম। ছোটবেলা থেকেই যখন একটা শিশু এসব দেখে বড় হতে থাকে, তখন এই প্রেম জিনিসটার প্রতি প্রবল আগ্রহ জন্মায়। তাই দেখা যাচ্ছে টিনএজের শুরুর দিকেই বেশীরভাগ ছেলেমেয়ে জড়িয়ে পড়ছে প্রেমে। বয়ঃসন্ধির সময়টা এমনিতেই সবার জন্য একটি সঙ্কটকাল। তাই প্রেম ঘটিত কারণে অতি আবেগের বশবর্তী হয়ে তারা আত্মহত্যার মত কাজ্ও করে ফেলছে।

এর পিছনে যে জিনিসটা বেশী কাজ করছে, সেটা হলো টিভি চ্যানেলগুলো। শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত টিভি চ্যানেল না থাকায়, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত অনুষ্ঠাণগুলো দেখতে হচ্ছে শিশুদের। যার ফলে শিশুদের মনোজগতে এই বিষয়গুলো বেশী আগ্রহ তৈরী করছে। অবাক লাগে, যখন দেখি শিশুদের জন্য নির্মিত রিয়েলিটি শো গুলোতে শিশুদের দিয়ে বড়দের গান গাওয়ানো হচ্ছে, প্রাপ্তবয়স্কদের গানে শিশুদের নাচানো হয়। এভাবেই ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে শিশুদের মনোজগতকে।

আরেকটা বিষয় মোবাইল-ইন্টারনেট। যেটার ক্ষতিকর প্রভাবের শিকার হয় কিশোরীরা। বেশীরভাগ বাবা-মাই এখন প্রাইমারী স্কুলে থাকা অবস্থাতেই শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দিচ্ছেন। যার ফলে মোবাইলের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে অল্প বয়সেই। এ ক্ষেত্রে সমাধান কি? তা নিয়ে আমাদের ভাববার সময় এসেছে। আমাদের রাষ্ট্রের হর্তাকর্তরা শিশু অধিকার নিয়ে অনেক গলাবাজিই করেন। কিন্তু তারা কি শিশুবান্ধব পরিবেশ নিয়ে একটু কখনো ভেবে দেখেছেন?

সবশেষে, এ দেশের শিশুরা বেড়ে উঠুক শিশুবান্ধব পরিবেশে। সুস্থ সংস্কৃতি অর সুস্থ মননের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠুক। আর এক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং অভিভাবকদের সচেতনতাই পারে শিশুদের একটি সুন্দর পরিবেশ উপহার দিতে।
লেখক: শিক্ষা ও সমাজ বিষয়ক গবেষক এবং কলাম লেখক। ই-মেইল: এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


”1971 ICT Trail!” - Sachin.Karmakar

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৫

After assuming power for the second time in 2009 PM SK.Hasina took mission of completing the August massacre trail on priority basis. She assured nation about her second mission of war criminals trail, there were some skeptical about her intention. In the past politicians has compromised the principals of liberation war in their meanest party interest. The August killers have been served justice with death penalty by hanging.
As promised, PM SK.Hasina proceeded with the trail of war criminals with priority two and she has intensified the process after hanging the August killers. We have already observed two executions and may witness another two by the middle of next month to reinforce her commitment to ICT case. There are different opinion exists on war crime trail, majority people wants justice to the victims of liberation war. But a countable number of reactionaries, with support of petro dollar are working against the trail process. They appointed international lobbyist and tried to penetrate to our judiciary system. As an attempt to foil trail, reactionaries have killed two foreign nationals to intimidate our judges and government. It now seems all conspiracy has failed; SQ.Chy & Mujahid has reached their last destination of journey to central jail gallows.
Sk.Hasina has proofed her courage, wisdom, determination and commitment to the war of liberation spirit by uprooting Rajakers from the soil. She has recorded her name in the history as Joan of Arc of East Asia; people will read about Bangladesh ICT trail side by side with Nuremburg trail & glorify Bangladesh.
By completing the sensitive war criminal trial of SQ Chy & Mujahid by the able doughtier of funding father she has gained the respect of millions in home and abroad. More people in home and abroad now trust SK.Hasina more than before for her strong will, which will help her to remain in power for at least two more term without much hassle. But she has fifth columnist Khondoker Mostaque Ahmed’s disciple in the party; without debut during crisis conspirators will extend their hand to the Rajakers like August 15 & 1/11. She needs to remain vigilant and on guard form the conspirators. People are at large supports her leadership; she can now depend on popular support. But there are many black ships like MP. Liton in the party, who are embarrassing PM & the government now and then, and one such incident may spark countrywide violence for greater social unrest?  
All section of people must gather behind SK.Hasina government to complete the unfinished business of 1971. There are no body in the party, except SK.Hasina who would take such a risk on her life for the country and people. Government needs the support of the security forces and administration for making the country Rajaker free. Our pro-liberation judges are supporting the causes of liberation war, is a plus point for the Prime Minister.
Government may reorganize freedom fighters under one umbrella as a second line of defense and assign them with some responsibilities. SK.Hasina can rely on minorities and freedom fighters for obvious reason, minorities has no chance of survival in Bangladesh without SK.Hasina and Awami League. The same reasons are also applicable to the freedom fighters; they have received social recognition and financial benefit from this government. By any chance if a reactionary radical party comes in power, freedom fighters will lose all these facilities without doubt. In such scenario minority and freedom fighters will have no other choice but to support SK.Hasina & AL.


মায়ের ডাক - সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৫

মায়ের কথা মনে পড়ে ¯েœহময়ী যিনি,
পরম আদর দিয়ে বড় করেছেন তিনি।
বাল্যকালে বাপ হারিয়ে পেলাম মায়ের মায়া,
পথ চলতে তাইতো ভাসে সেই মায়েরই ছায়া।
দুখের মাঝে মাকে পাই দু’চোখ যখন বুজি,
এ পৃথিবীর কাছে তখন আর কিছু না খুঁজি।


বিপদগ্রস্ত পাখি দেশি রাতচরা- আলম শাইন

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৫

আলম শাইন : দেশের স্থায়ী বাসিন্দা। গ্রামগঞ্জে বাস। বিশেষ করে হালকা ঝোপজঙ্গল কিংবা বাঁশবনে এদের বিচরণ লক্ষ্য করা যায়। প্রজনন মৌসুম ছাড়া বেশিরভাগই একাকী বিচরণ করে। দিনে ঘুমিয়ে কাটায়। সূর্যাস্তের খানিকটা পরেই ঝোপজঙ্গলের ভেতর থেকে ‘চউঙ্ক-চউঙ্ক-চউঙ্ক’ সুরে ডাকতে থাকে। কণ্ঠস্বর সুমধুর না হলেও সুরে তাল-লয় রয়েছে। রাত বাড়লে ডাকাডাকি বন্ধ। দেখতে মোটেও আকর্ষণীয় নয়। শারীরিক গড়নটাও একটু ব্যতিক্রম। গায়ের বর্ণ অনেকটাই গাছের মরা ডাল বা শুকনো পাতার মতো। গাছের ডালে বসলে খুব সহজে পাখি হিসেবে শনাক্ত করা যায় না। অপরদিকে মাটিতে বসে থাকলে শুকনো পাতার মতোই মনে হতে পারে। মাড়িয়ে গেলেও টের পাওয়া যায় না যে, এরা পাতা নাকি পাখি! বর্ণচোরা বিধায় নিরাপদে থাকার খানিকটা সুযোগ পায় ওরা।
প্রজাতিটি এক সময় সুলভ দর্শন ছিল। হালে অসুলভ হয়ে উঠছে। প্রধান কারণই হচ্ছে আবাস সংকট। গ্রামে আগের মতো ঝোপজঙ্গলও নেই, নেই বাঁশঝাড়ও। যাতে করে প্রজাতিটি বিপদগ্রস্ত হয়ে বিপদগ্রস্ত পাখি দেশি রাতচরাপড়েছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র বিশ্বেও এরা ভালো নেই। ফলে আইইউসিএন প্রজাতিটিকে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ ছাড়া উত্তর-পশ্চিম ভারত, উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তান, হিমালয়ের দক্ষিণাংশ, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার ও ভিয়েতনাম পর্যন্ত।
পাখির নাম: ‘দেশি রাতচরা’, ইংরেজি নাম: ‘ইন্ডিয়ান নাইটজার’ (Indian Nightjar), বৈজ্ঞানিক নাম: Caprimulgus asiaticus। দেশে মোট পাঁচ প্রজাতির ‘রাতচরা’ পাখির দেখা মেলে।
রাতচরা লম্বায় ২১-২৪ সেন্টিমিটার। ওজন ৪০-৪৬ গ্রাম। গায়ের উপরের রঙ কালচে-বাদামি মিশ্রিত ছিট। চোখের পাশ থেকে চিবুক পর্যন্ত অল্পস্বল্প খাড়া লোম। লেজ ও ডানা সামান্য লম্বা। বুক থেকে পেট পর্যন্ত রয়েছে আড়াআড়ি ডোরা দাগ। গলায় হালকা ক্রিমসাদা বন্ধনী। লেজের তলার পালক ফিকে রঙের। পা কালচে। স্ত্রী-পুরুষ দেখতে একই রকম মনে হলেও সামান্য পার্থক্য রয়েছে।
প্রধান খাবার ঝিঁঝি পোকা, ফড়িং, গুবরে পোকা ও উড়ন্ত কীটপতঙ্গ। বিশেষ করে নিশাচর কীটপতঙ্গ শিকার করে বেশি।
প্রজনন সময় জুন থেকে জুলাই। অঞ্চলভেদে প্রজনন মৌসুমের হেরফের রয়েছে। বাসা বাঁধে সরাসরি মাটির ওপরে। শুকনো পাতা জড়ো করে তার ওপরে ডিম পাড়ে। ডিমের সংখ্যা ২টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে  ১৬-১৭ দিন।
লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ। এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


বাংলাদেশের রপ্তানী বানিজ্যে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ‘টিপিপি’

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৫

মাঈনুল ইসলাম নাসিম : যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রুনাই, চিলি, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, পেরু, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুর এই ১২টি দেশের মধ্যকার বিশেষ মুক্তবানিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার মধ্য দিয়ে অতি সম্প্রতি ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) যাত্রা শুরু করায় ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখে পতিত হয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানী বানিজ্য। আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বানিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট এক্সপার্টরা ‘টিপিপি’-কে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের জন্য। শুধু এক ভিয়েতনামই অবধারিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে দখল করে দেবে বাংলাদেশী গার্মেন্টসের বিশাল বাজার, এই প্রতিবেদককে এমনটাই জানিয়েছেন ২০১০ থেকে ২০১৪ ভিয়েতনামে দায়িত্বপালনকারী বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা।

পেশাদার এই কূটনীতিক গত বছরের শেষার্ধ থেকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত আছেন মেক্সিকো সিটিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে। ল্যাটিন আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি মেক্সিকো, যাদের বার্ষিক রপ্তানী ৮শ’ বিলিয়ন ইউএস ডলার। সঙ্গত কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় শুল্কমুক্ত এই নতুন জোট টিপিপি’র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ ১২ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত মেক্সিকো। টিপিপি ইস্যুতে একান্ত আলাপচারিতায় রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, “এখানে আসার আগে পাঁচ বছরে ভিয়েতনামে থাকাকালীন ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) নিয়ে আমি অনেক স্টাডি করেছি, শুধুমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কাউকে বাদ রাখিনি রিপোর্ট লিখতে, যাতে সম্ভাব্য বিপদ থেকে বাংলাদেশকে বাঁচানো যায়”।

Picture


রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “রাষ্ট্রদূত হিসেবে হ্যানয় থেকে আমি আমাদের মাননীয় বানিজ্য মন্ত্রীকেও লিখেছিলাম। মনে হয় আমার পাঠানো রিপোর্টগুলো কেউ কোনদিন পড়েও দেখেনি। আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা কোন ফলো-আপ করি না। চলতি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ১২টি দেশ বহুল আলোচিত-সমালোচিত এগ্রিমেন্টে সই করে ফেলায় বাংলাদেশকে ১৬-১৭% ট্যাক্স দিয়ে পন্য রপ্তানী করতে হবে টিপিপি ভুক্ত অধিকাংশ দেশে, যাদের সাথে বাংলাদেশের আগে থেকে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) নেই। যুক্তরাষ্ট্রে আগে আমরা যে সুবিধা পেতাম সেটা না থাকায় এমনিতেই বিপদে ছিল আমাদের গার্মেন্টস সেক্টর, তার উপর এখন টিপিপি’র বদৌলতে ভিয়েতনাম শুল্কমুক্ত সুবিধা নিয়ে যে কাজটা করবে, তাতে করে শুধু এই একটি দেশের কাছেই শেষ হয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট সহ আরো বেশ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশী গার্মেন্টস পন্যের বাজার”।

রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা আরো জানান, “প্রায় ২২টি দেশ ও গ্রুপের সাথে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করার জন্য ভিয়েতনাম গত ১০-১২ বছর ধরে নিগোসিয়েশন করে এসেছে। এখন টিপিপি’র সুফল কড়ায়গন্ডায় পাবে তারা। জাপান ও কোরিয়ার সাথে আগেই ‘এফটিএ’ ছিল ভিয়েতনামের। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথেও তারা শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করেছে। আমরা বাংলাদেশের জন্য যদি আরো আগে থেকে বিভিন্ন দেশের সাথে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করে রাখতে পারতাম, তবে আজ এই ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চালু হবার পর কিছুটা হলেও রেহাই পেতাম। কারণ টিপিপি ভুক্ত ১২টি দেশই নিয়ন্ত্রন করছে এবং করবে গোটা বিশ্বের মোট বানিজ্যের চল্লিশ শতাংশ”।

টিপিপি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের স্বার্থ বিনষ্ট হবার আশংকা প্রকাশ করেছেন গত ৬ বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আবদুল মোমেন। এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, “টিপিপি’র কথা আমি শুনেছি। যদিও এই নোগোসিয়েশনের সাথে আমি সম্পৃক্ত ছিলাম না, তবে এটা বলতে পারি যে, টিপিপি এগ্রিমেন্ট বাংলাদেশের জন্য খুব ক্ষতিকারক হবে”। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক অধ্যাপক ড. মোমেন স্পষ্ট করেই বলেন, “বিশেষ করে ভিয়েতনাম আমাদের কমপিটিটর, তারা যখন সস্তায় টিপিপি কান্ট্রিতে পন্য বিক্রি করবে, তখন বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বো আমরা”। উল্লেখ্য, ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) নিয়ে ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকার ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।


যুবক হলো বলির পাঠা ! - মুকুল মোহাম্মদ

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৫

আবারো যুবক-কে আটকাতে বিশেষ আদালত গঠনের প্রস্তাব। এরআগে যুবক নিয়ে পরপর দুইবারে ২টি কমিশন এবং একটি মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। তারও আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদন্ত-তল্লাশিতে গেছে ১ বছর। ১/১১-র দাবানলে গেছে ২ বছর। সবমিলিয়ে যুবক সঙ্কটের ৯ বছরেও সদস্যদের পাওনা পরিশোধের কোনো কুলকিনারা হয়নি। ২০০৬ সালের ২৪ মে যুবকের একটি প্রকল্পের নামে অভিযোগ উত্থাপন দিয়ে ঘটনার শুরু। তারপর দায়িত্বহীন সংবাদ প্রতিবেদনের ফলে সদস্যদের মাঝে দেখা দেয় চরম হতাশা। শুরু হয় মামলা, মোকদ্দমা, আটক, অফিস ভাংচুর ও লুটপাট। অভিযোগ ছিলো যুবক বিভিন্ন প্রকল্পে নামে টাকা নিয়ে ২৩টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। অনেকের মতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অদূরদর্শীতার কারণেই যুবককে বলির পাঠা হতে হয়েছে। ২০০৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যুবকের কার্যক্রমকে ঠিক রেখে দায়পরিশোধে সময়সীমা বেধে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করলেই সমস্যা এতদূর গড়াত না। যে প্রকল্পটির নামে অভিযোগ ছিলো সেটি বন্ধ রেখে বাকি প্রকল্পগুলো সচল রাখা দেশের ও সদস্যদের স্বার্থে উচিত ছিলো। আরটিভি, যুবক ট্যুরিজম, যুবক ফোন, যুবক হ্উাজিং, কৃষি বাংলা, হ্যাচারি এমন ২৩টি প্রকল্প বা প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যত অনিশ্চিত করা জাতীয় স্বার্থে কাম্য ছিলোনা। যুবক বিষয়ে ২০১০ সালের ২রা মে দৈনিক জনকন্ঠে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়- বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের বিশাল পরিকল্পনায় ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করে যুবক। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা আর ষড়যন্ত্রের গ্যাঁড়াকলে পড়ে মাঝপথেই থমকে দাঁড়ায় সংগঠনটি। ফলে আমানতকারীরা আস্থা হারায়। অনুসন্ধান চালিয়ে আইএফআইসি ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যুবক আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার কিনতে গিয়েই দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত শিল্প গ্রুপের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে যায়। সেখান থেকেই শুরু হয় যুবকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন দেশের শীর্ষ পর্যায়ের একটি সংবাদপত্রকে যুবকের বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হয়।

যুবক নিয়ে কতিপয় মিডিয়ার অতি উতসাহের কারণ রহস্যজনক। পত্রিকাগুলো একদিকে যুবককে অবৈধ বা প্রতারক বলছে- যদিও সে অভিযোগ এখনো ষ¦তসিদ্ধ প্রমাণিত নয় এবং যা সংবাদপত্রের এখতিয়ারের বাইরে। প্রশ্ন তোলা যেতে পারে- যুবকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যদি সত্যিই হবে তাহলে ৯ বছর তদন্তের পরও কেন নতুন আইন করে যুবককে আটকাতে হচ্ছে! অপরপক্ষে আরটিভি ও টেলিবার্তা (যুবক ফোন)-এর মতো বিশাল বিনিয়োগের প্রতিষ্ঠান বিশেষ গ্রুপের অবৈধ দখলে থাকার পরও তারেকে কেন অবৈধ বা প্রতারক বলা হচ্ছেনা। এ বিষয়ে সেসব উতসাহী মিডিয়ার নিরব ভুমিকার কারণ কি দেশের জনগণ জানতে পারবে? মিডিয়ার অতি উতসাহ সম্পর্কে দৈনিক আমাদের অর্থনীতির পত্রিকার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে সম্পাদকমন্ডলির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন- কেন যুবককে নিয়ে লিড নিউজ করা হলো? আজ যদি বিএনপি ক্ষমতায় থাকতো তাহলে হলমার্ক এক কোটি টাকা দিয়ে ম্যানেজ করতো!


বিপদের সুযোগ নেয় সুযোগসন্ধারীরা
বাংলাদেশ ব্যাংক যুবককে ক্ষুুদ্র ঋণের অনুমতি দেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকলেও বিগত জোট সরকারের শেষের দিকে সেটি আটকে দেয় প্রতিপক্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রভাবশালীরা। উল্টো চাপ দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে যুবকের নামে শোকজ করা হয়। যুবক ফোনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পর ইমেজ সঙ্কটের অভিযোগে ঢাকা ব্যাংক ৪০০ কোটি টাকা লোন বন্ধ করে দেয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নামাকাওয়াস্তে একটি পত্রিকার মালিক যিনি নতুন দলও করেছিলেন তিনি নিজেকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী দাবি করে যুবকের কাছ থেকে নানা কৌশলে ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, আরটিভির সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক শাহ নেওয়াজ দুলাল জনকণ্ঠকে বলেন- আরটিভি প্রতিষ্ঠাকালে যুবকের শেয়ার ছিল শতকরা ৫৭ ভাগ। মোসাদ্দেক আলী ফালুর ৪০ ভাগ এবং আইএফআইসি ব্যাংকের পরিচালক বাদলের ৩ ভাগ। ১৪ আগস্ট, ২০১৪ দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশ- গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের কোনো উদ্যোগ না নেয়া হলেও অনেক সম্পত্তি বর্তমানে যুবকের দখলে নেই । নারায়ণগঞ্জ, ভোলা, বরিশাল, খুলনা ও বাগেরহাটে জমি বেদখল হয়ে গেছে। ‘মোসাদ্দেক আলীর কাছ থেকে আরটিভির বেশির ভাগ শেয়ার কিনে নেয় যুবক। পরে ৫৭ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা বুঝে পায়।’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় টাকা ছাড়াই যুবকের মালিকানা লিখে নেয় বেঙ্গল গ্রুপের মোর্শেদ আলমের পরিবার। ২৬ নভেম্ব^র ২০১৪, দৈনিক আমাদের সময় সংবাদে বলা হয়- মামলাধীন জমি, বিকে টাওয়ার নির্মাণ, আরটিভির শেয়ার, ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শেয়ার, অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের বকেয়া ভাড়া নিয়ে দ্বিপক্ষীয় বিরোধ চলছে। অর্থনীতি প্রতিদিন ৭ জানুয়ারি, ২০১৪ এক প্রতিবেদনে উল্লেখ- য্বুকের টাকায় চলছে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। ২০০৬ সালে ৮০ শতাংশ মালিকানা  শেয়ার দেয়ার শর্তে ১৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে যুবক।

কমিশনের প্রতি হতাশা
২৩ এপ্রিল ২০১৩ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশ কমিশনের রিপোর্ট তৈরিতে লেগেছে সাত বছর। যুবকের পক্ষ থেকে সম্পত্তি বেদখল, সম্পত্তি ঘিরে চাঁদাবাজি বৃদ্ধির অভিযোগ করা হয়েছে। খুলনায় যুবক কমিশনের চিঠির দোহাই দিয়ে ২ হাজার শতক জমিতে নির্মিত বাগেরহাট হ্যাচারি স্থ’ানীয় ইউএনও দখল নিয়েছে। বগুড়ায় ৪ কোটি টাকার সম্পত্তি ক্ষুব্ধ যুবক সদস্যরা দখল করে নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৩শ’ শতক জমি জোরপূর্বক রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে কতিপয় অসদস্য দুর্বৃত্ত। ভোলার সাবেক সচিব ৭৩৪ শতাংশ জমির পুরো মূল্য গ্রহণ করে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছে। যুবকের কাছ থেকে মূল্য গ্রহণের পরও প্রায় ৭ কোটি টাকার জমি দখল করে আছে ভোলার চেয়ারম্যান মজনু মোল্লা। এছাড়া তেজগাঁওয়ে ৫০ শতক জমির ওপর নির্মিত ৪ তলা ভবনটির মাসিক ২ লাখ টাকা ভাড়া পাওনাদার যুবক সদস্যদের নামে জোরপূর্বক আদায় করে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালীরা।

টাকা ফেরত দেয়ার ক্ষমতা নেই কমিশনের
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ২৬ জুলাই ২০১৫, প্রতিবেদনে বলা হয়- ২০১০ সালের ২৬ জানুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদকে চেয়ারম্যান করে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০১১ সালের মে মাসে সাবেক যুগ্ম-সচিব রফিকুল ইসলামকে চেয়ারম্যান করে গঠন করা হয় যুবকবিষয়ক স্থায়ী কমিশন। এ কমিশনের দায়িত্ব ছিল যুবকের সম্পদ আয়ত্তে নিয়ে গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের। কিন্তু আইনি জটিলতায় তা করতে সমর্থ হয়নি কমিশন।  শেষে ২০১৩ সালের জুনে যুবকে প্রশাসক নিয়োগের সুপারিশ করে অর্থমন্ত্রীর কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে যুবক কমিশন। এ বিষয়ে ২০১২ সালের ২০ জুন দৈনিক কালের কন্ঠের প্রতিবেদনে বলা হয়- যুবকের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেয়ার ক্ষমতা নেই কমিশনের! কমিশন বলছে, আইন অনুযায়ী তারা তা পারবে না। গ্রাহকরা যুবকের কাছে কত টাকা পায় এবং কোন পদ্ধতিতে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়া যাবে- এ দুটি বিষয় নির্ধারণ ছাড়া বাকি কোনো কিছুই আইন অনুযায়ী তারা করতে পারবে না। তাই যুবকের সম্পত্তি বিক্রি করে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের যে দায়িত্ব কমিশন গঠনের সময় সরকার দিয়েছিল, কমিশন বিশিষ্ট আইনজীবী ড. এম জহিরের মতামত নিয়ে তা বাদ দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছেন যুবক কমিশনের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম। ১১ আগস্ট, ২০১৪ দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশ- আইন মন্ত্রণালয়ের এ অভিমতের ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে যুবকে প্রশাসক নিয়োগের জন্য বলা হলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, আইনের কোনো বিধান নেই যুবকে প্রশাসক নিয়োগের। বিষয়টি আরও গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মর্তুজা রেজা চৌধুরী জানান, আমরা পরীক্ষা করে দেখেছি যুবকে প্রশাসক নিয়োগ সম্ভব নয়। কারণ প্রশাসক নিয়োগ-সংক্রান্ত আইনের কোনো বিধান পাওয়া যায়নি। এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।

২০১৫ সালে আগস্টে দৈনিক প্রথম আলো বলছে- ঝুলেই রইল গ্রাহকদের পাওনা, যুবক কার্যক্রম বন্ধের নয় বছর পার হয়েছে কিন্তু বিষয়টির সুরাহার পথ এখনো বের করতে পারেনি সরকার। জনকন্ঠ ৮ ডিসেম্ব^র ২০১৪ সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে- পৃথক আইন দিয়ে একটি স্থায়ী কমিশন বা সংস্থা তৈরি করা যেতে পারে। ওই কমিশন যুবকের সম্পত্তি সরকারের  হেফাজতে নেয়া, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনা ও বিক্রি করে অর্থ প্রকৃত গ্রাহকদের মূল পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে বিদ্যমান কোম্পানি আইনে এ নতুন ধারা সংযোজন বা নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগের জন্য আইন ও নীতিমালা পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তাহলে সহসাই প্রশ্ন জাগতে পারে- ৯ বছর তদন্ত অনুসন্ধানের পর যদি নতুন আইন করেই যদি যুবককে আটকাতে হয় তাহলে যুবকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো কি অসত্য ছিলো?
- মুকুল মোহাম্মদ, উন্নয়ন গবেষক


নিরাপত্তাহীনতার জের বাংলাদেশের জন্যে ভয়ানক - আবু জাফর মাহমুদ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৫

‘বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যেতে থাকলে দেশী-বিদেশী চক্র মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। বাংলার মানুষ মাথা উঁচু করে চলতে চাইলে, নিজ দেশে উন্নয়নের বিশ্বস্বীকৃতি অর্জন করলে,ঠিক তখনই বাংলাদেশে বিদেশী হত্যাকরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। এগুলো পরিকল্পিত হত্যাকান্ড’।মন্তব্যগুলো করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘তোমরা আমাদের দাবায়া রাখতে পারবানা’ বলে বংবন্ধুর ভাষনের উল্লেখ করে তিনি দৃঢ়তার  সাথে দাবী করেছেন,বাংলাদেশকে কেঊ দাবিয়ে রাখতে পারবেনা। ভারত,নেপাল,ভূটানকে নিয়ে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়া এবং চীনকে নিয়ে বাণিজ্যিক অঞ্চল করার কথা তিনি উল্লেখ করেছেন।ঢাকায় এফ বিসিসিআই এর দেয়া সম্বর্ধনার জবাবে তিনি কথাগুলো বলেছেন।      

ইতালি ও জাপানের নাগরিক হত্যার পর এযাবৎ ১২টি দেশ তাদের নাগরিকের জীবন এবং স্থাপনার নিরাপত্তা বাড়াতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে। ২৯সেপ্টেম্বর থেকে ১১অক্টোবর পর্যন্ত এসময়ে নিরাপত্তার তাগিদ দিয়েছে দেশগুলো। কোন কোন দেশ অবশ্য একাধিকবার নিরাপত্তা চেয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তর প্রথম আলোকে বলেছে,এপর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, জাপান, ইতালি, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নিরাপত্তা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে।   
বিদেশীদের নিরাপত্তা বাড়াতে সকল জেলায় নির্দ্দেশ পাঠানোর কথা জানিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে,কেউ নিরাপত্তা চেয়ে ব্যর্থ হবার কোন তথ্য এখনো তাদের কাছে আসেনি। বরঞ্চ বিদেশীদের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,বিদেশীদের যারা খুন করেছে তাদের খুঁজে বের করবোই। বিচারও করবো। দেশের ভাবমূর্তি যারা ক্ষুন্ন করেছে,যারা জঙ্গিবাদের মদদ দিচ্ছে,তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এদিকে বাংলাদেশে জঙ্গি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জে এম বি আবার নতুন নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে টার্গেট কিলিং করছে বলে জাতীয় পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম হয়েছে। সরকারের দায়িত্বশীল মহলের বরাত দিয়েই সংবাদ হয়েছে।

অর্থ দাঁড়াচ্ছে,বাংলাদেশ জঙ্গির দেশ বলে প্রচারকারীদেরকে সমর্থন দিলো সরকার। সরকারের এতোদিনের কথিত জঙ্গি-বিরোধী লড়াইকেও ছেদ করে নব উত্থানে মেতেছে এই জঙ্গিরা। ভাবটা কি এরকম?কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের  একচেটিয়া রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের ভেতর  জামাত-বিএনপি কোণঠাসা থাকা অবস্থায় জেএমবির রাজনৈতিক মঞ্চ কারা?
স্থানীয় সরকারকে রাজনৈতিক দলীয় পদায়নের সরকারের নীতি দেখা গেছে অতিসম্প্রতি,কিন্তু স্থানীয় সরকারকে স্থানীয় উন্নয়নের কার্যকর প্রতিষ্ঠান না করে তাকে কেন্দ্রীয় সরকারের দায় বহন এবং জনগণের মুখোমুখী করার ধারণাটিকে জনগণের উপর রাষ্ট্রীয় জঙ্গিত্ব বলবত করার কৌশল ভয়ানক কৌশল বলা যায়।
পৃথিবীর দেশে দেশে জঙ্গিদেরকে রাষ্ট্রীয় জঙ্গিত্বের উদাহরণ কম নয়। আভ্যন্তরীণ সংঘাত সাজিয়ে তাতে সামরিক, রাজনৈতিক,বাণিজ্যিক,সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক প্রভুত্ব করার ধারণার সাথে অনেকেই এখন পরিচিত হয়ে আসছেন।  বাংলাদেশ তেমন আগ্রাসনের বাহিরে কি? আমরা বাংলাদেশের জন্যে ক্ষতিকর হত্যাকান্ডগুলোর পেছনের শক্তি সন্ধানে অতটুকু পর্যন্ত যাওয়া আসার সাহস রাখি কিনা তাও ভেবে দেখা দরকার।
বাংলাদেশে আই এস বা ইসলামিক ষ্টেট তৎপরতার অগ্রিম আভাস সরকারকে দেয়ার কথা আমরা শোনেছি। এই জঙ্গিগোষ্ঠী কি অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করছেনা প্রচলিত যুদ্ধে নিজেদেরকে বিশাল শক্তিরূপে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে? যদি তা আমরা স্বীকার করি, একথাও কি স্বীকার করতে পারি যে, তূলনামূলক দূর্বল রাষ্ট্রগুলোয় নিজেদের নয়া উপনিবেশ কার্যকর করার কার্যক্রমেই এসব জঙ্গিদের প্রজনন এবং লালন করার জঙ্গি ইন্ডাষ্ট্রীর মালিকও  শক্তিশালী শত্রুরা?         
বাংলাদেশে নিরাপত্তাহীনতাজনিত বিষয়ে আস্থাহীন হয়েছে অনেক দেশ।নিজ দেশের নাগরিকদেরকে বাংলাদেশে আসা যাওয়ায় রেড এলার্ট দিয়েছে তারা। রাজধানী ও রংপুরে দুই বিদেশী হত্যা হবার পর দেশগুলো সতর্ক হয়েছে।পর্যটন এলাকা রাঙামাটিতে বেড়াতে গেলে ঢাকার পর্যটক এবং তাদের গাইডকে গুম করা হয়েছে।এধরনের সন্ত্রাসের সম্ভাবনার আভাস আগেভাগে বাংলাদেশ সরকারকে দেয়া হলেও তা সামান্যও আমলে নেয়া হয়নি।  
অথচ পরিস্কার করে নাগরিকদেরকে পরিস্কার ভাষায় সন্তুষ্ট করার কোন জবাব দেয়া হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তৃতায় বলেছেন, বেগম জিয়া লন্ডনে বসে দেশের বিরিদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেয়া দোষ চাপানো বক্তৃতা মনে করতে চাইনা। তবে  তার কাছে থাকা প্রমাণাদি জনসমক্ষে প্রকাশ করার উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কেউই তা আমলে নিচ্ছেনা।
কোন পক্ষ থেকে বলার চেষ্টা হচ্ছে সম্প্রতি ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত আসামীদের পক্ষ হতে দেশে অস্থিরতা দেখানোর উদ্দেশ্যেই বিদেশীদেরকে হত্যা করা হয়েছে। বিদেশী হত্যার মাধ্যমে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ জানানো সহজ বলছেন তারা। এযুক্তির পক্ষেও সামান্য যাওয়া যায়। কিন্তু তাদের আন্তর্জাতিক কানেকশান এতো শক্তিশালী প্রমাণ করার নমুনা কেউ দেখাতে পারছেনা।
তাহলে বিদেশীদের হত্যার সন্দেহে জামাত-বিএনপির কর্মীদেরকে গ্রেফতার করে পিটিয়ে কি আসল বিপদ থেকে সবার মনোযোগ সরানোর ফল কি দাঁড়াবে? একটা ফল হতে পারে সরকারের আভ্যন্তরীণ প্রতিপক্ষদের দূর্বল করে বা ভয়-ভীতির মধ্যে অধিকতর চাপে রাখার রাজনীতি সচল রাখা। ধরলাম এতে ক্ষমতাসীনরা নিজেদেরকে নিরাপদ করছেন জামাত-বিএনপির সাংঠনিক দাপটের কবল থেকে। এতেই কি শেষ? স্থায়ী নিরাপত্তা কি নিশ্চিত হলো বর্তমান সরকারের?        
এবার হংকং সতর্কতা জারি করলো বাংলাদেশে। সিকিউরিটি ব্যুরো অব দ্য গভর্নমেন্ট অব হংকং স্পেশাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটেড রিজিয়ন তার ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে একটি ওই সতর্কতা আপডেট করেছে। তাতে বলা হয়েছে, যেসব নাগরিক বাংলাদেশ সফর করতে চান অথবা যারা এরই মধ্যে বাংলাদেশে এসেছেন তাদেরকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে ইতিপূর্বে শোনা গেছে, মার্কিণ রাষ্ট্রদূত বিদেশী হত্যাকান্ডের ঘটনার পর হাসিনা সরকারকে সহযোগীতা করার প্রতিশ্রুতি  দিয়েছেন দেখলাম টেলিভিশনে।ইদানিং তাদের আর তেমন কথাবার্তা শোনা যাচ্ছেনা। সরকারের তরফ থেকে বিদেশী হত্যাকান্ডের বিষয়ে নানান বক্তব্য আসার স্রোতে কি তা হারিয়ে গেছে? নাকি আমেরিকার সাথে ভেতরের  লেনদেন সপন্ন হয়ে গেছে? কথাটা এজন্যে এসেছে প্রতিটি বহির্শক্তিই বাড়তি আদায়ের জন্যে চাপ দেয়ার সুযোগ নেয় এবং তা কড়ায়গণ্ডায় আদায় করে ভালবাসা ও বন্ধুত্বের আনুষ্ঠানিক ভাষায়। এটাই নাকি কূটনীতি!
বাংলাদেশে সামগ্রিক যে রাজনৈতিক বাস্তবতা, তাতে ধর্মীয় জঙ্গিবাদি রাজনীতি জনসমর্থন পাওয়া তো দূরের কথা, এমন জঙ্গিদের অস্তিত্বকে সাধারণ পাবলিকই জনবিচ্ছিন্ন করে রাখা এবং সরকারের সহযোগীতায় জঙ্গিদের নির্মূলে সক্রিয় থাকার কথা। মানুষ স্বভাবগতভাবেই  শান্তি প্রিয়। জঙ্গিত্ব তো ঠাট্টা মশকারির বিষয় নয়! নিরাপত্তা কেড়ে নেয়ার ভয়াল ভয়ংকর হাতিয়ার।বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মানুষরা মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন ও সহনশীল জাতিগতভাবেই। আশপাশ থেকে অনবরত উস্কানী স্বত্বেও সাম্রদায়িক হচ্ছেনা এরা। তাই প্রশ্ন আছেই, জঙ্গিত্বের এই হাতিয়ার শানিত হয় কার প্রশ্রয়ে? বাংলাদেশে সরকারের চেয়ে কে আছে শক্তিশালী? অথবা বর্তমান সরকারকে সর্বপথে সহায়তাকারী আঞ্চলিক ও অন্যশক্তিই কি বাংলাদেশকে আরো পদানত করার পথ নির্মাণ করে চলেছে  জঙ্গিত্বের মুখোশ পরিয়ে দিয়ে?
বার্মায় মুসলমান গণহত্যা হয়েছে বছরের পর বছর।এই মুসলমানরা চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগের কারণে বার্মিজ ভাষা ছাড়াও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথাবলে। রোহিঙ্গা এই মানুষগুলোকে গোন নিপীড়ন ও গণহত্যা দেখে বাংলাদেশে সকল বিবেকবান মানুষ স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেছে নিজ নিজ ধর্মমতে। সহানুভূতি জানিয়েছে নীরিহের প্রতি। কোন জঙ্গি আক্রমণ করতে যাওয়া অথবা জঙ্গি সংগঠন করে প্রতিবেশীদের বিষয়ে নাক গলাতে তো যায়নি বাংলাদেশের কেউই!
এমনকি মিডিয়ায় চালিয়ে দেয়া কথিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর একটিও তা করার খবর কেউ দেখেনি। বরং ইদানীং পার্বত্য অঞ্চলে বার্মিজ নামে শসস্ত্র গেরিলা দলের তৎপরতার খবর আসছে, বাংলাদেশী মুসলমানদের কাউকে তো ওসব নামে আজ অবধি মিডিয়া উল্লেখ পর্যন্ত করতে পারেনি। তবে যেভাবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক জঙ্গির অভয়ারণ্যরূপে পরিচয় দেয়ার পথ নেয়া হয়েছে,তা বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাহীনতার লক্ষ্যেই করা হচ্ছে বলা যায়। নিরাপত্তাহীনতার এই জের বাংলাদেশের জন্যে ভয়ানক।  
(লেখক আবু জাফর মাহমুদ,বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে। ).


বাঙালির বোধোদয় হবে কবে?

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৫

Picture

প্রবীর বিকাশ সরকার, টোকিও (জাপান) থেকে : সম্প্রতি বাংলাদেশে দুজন বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়েছি। বিশেষ করে জাপানি নাগরিক হত্যার ঘটনায় জাপানিরা বিস্মিত ও হতাশ। বাংলাদেশে বসবাসরত অনেক জাপানি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন পেশার জাপানি বন্ধুরা ফোন করে একই কথা বললেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বহু প্রাচীন। এই দেশে একজন সাধারণ জাপানি নাগরিক খুন হবেন তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। কল্পনা করিনি আমি নিজেও। আমার জাপানি স্ত্রীও! তাই ধাক্কাটা সামলাতে পারছি না।

শেখ হাসিনার চিঠি পড়ছেন আজুমা দম্পতিদুদিন ধরে ভাবছিলাম, একটা রাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্র কতখানি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে গেলে পরে বিদেশিরা পর্যন্ত অবাধে খুন হতে পারে তা আর ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। একেবারেই নগ্ন হয়ে গেলাম আমরা অন্ততপক্ষে জাপানের কাছে। জাপান নামক এই দেশটি বাঙালিকে বিগত শত বছর ধরে কী সম্মানই না প্রদর্শন করে আসছে। তার বিনিময়মূল্য দেওয়া হলো সে দেশের একজন নিরপরাধ নাগরিককে গুলি করে হত্যার মধ্য দিয়ে দিনদুপুরে প্রকাশ্যে। এ যে কত বড় দুঃসহ ঘটনা বাংলাদেশের রাষ্ট্র বিধাতারা বুঝতে সক্ষম হলে তাৎক্ষণিকভাবে বেফাঁস ‘ছেলেমানুষি’ মন্তব্য করতে পারতেন না। মানসিকভাবে তারা যে কী পরিমাণ অসুস্থ ভেবে লজ্জিত হওয়া ছাড়া উপায় দেখছি না।
জাপানের রাষ্ট্রীয় পদক গ্রহণ করছেন অধ্যাপক আজুমাস্বাধীনতার পর থেকেই জাপান সরকার কতভাবেই না যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটাকে ওপরের দিকে টেনে তোলার জন্য অর্থ দিয়ে, প্রযুক্তি দিয়ে, কারিগর পাঠিয়ে, প্রকল্প স্থাপনের মধ্য দিয়ে চেষ্টা করে আসছে—এমনটি নজিরবিহীন। যে পরিমাণ সাহায্য জাপান বাংলাদেশকে দিয়েছে সেটা ভারত পেলে বহু আগেই উঠে দাঁড়িয়ে যেত! কিন্তু বাংলাদেশ পারেনি। বিতর্কিত একটি নির্বাচন সত্ত্বেও জাপান সরকার প্রধানমন্ত্রীকে জাপানে আমন্ত্রণ জানিয়ে সম্মান তো দিয়েছেই, বাংলাদেশের উন্নয়নকে আরেকবার গতি দেবার জন্য বিপুল অঙ্কের আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা ঘোষণা করেছে। এই টাকা সরকারের টাকা নয়, জনগণ ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত মূল্যবান করের টাকা। এটা ভুলে গেলে চলবে না।
মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী জাপানি সাংবাদিক প্রয়াত তানাকা তোশিহিসাউল্লেখ করতে হয় যে, কয়েক বছর আগে আরেকটি কেলেঙ্কারির জন্য জাপানে আমরা প্রবাসীরা নিদারুণ লজ্জায় অবনত হয়েছিলাম! অবশ্যই তাতে করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে ব্যাপকভাবেই। বাংলাদেশের সিলেটে ‘বাংলাদেশ-জাপান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নামে একটি মৈত্রী প্রতিষ্ঠান স্থাপনের প্রকল্প দিয়েছিলেন দারাদ আহমেদ নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে জাপান শীর্ষ রবীন্দ্রগবেষক অধ্যাপক কাজুও আজুমা। যিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দোভাষী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানারও আমৃত্যু শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। ওই প্রকল্পের সাড়ে ছয় কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়েছে দারাদ। যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার আজ পর্যন্ত হয়নি। এমনকি অধ্যাপক আজুমার সহধর্মিণী মাদাম কেইকো আজুমা প্রধানমন্ত্রীকে বাংলা ভাষায় চিঠি লেখার পরও কোনো সমাধান তিনি পাননি। চিঠির কোনো সৌজন্যমূলক উত্তরও তিনি পাননি বলে জানান। যার জন্য তিনি এই ৭৯ বছর বয়সেও প্রতীক্ষা করছেন। উল্লেখ্য যে, এই বিপুল পরিমাণ টাকা প্রয়াত অধ্যাপক কাজুও আজুমার নিজের নয়। বিভিন্ন বাংলাদেশপ্রেমী ধনী জাপানি, সাধারণ নাগরিক, বৌদ্ধমন্দির ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা হিসেবে সংগ্রহ করেছিলেন। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর অসুস্থ শয্যাশায়ী কাজুও আজুমা বাকরহিত হয়ে পড়েছিলেন। সেই অবস্থায় অব্যক্ত বেদনায় মুহ্যমান ছিলেন মৃত্যু পর্যন্ত। ২০১১ সালের ২৮ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী অধ্যাপক ড. পেমা গিয়ালপোউল্লেখ্য যে, ২০০৭ সালে কলকাতার সল্টলেকে প্রতিষ্ঠিত ভারত-জাপান সংস্কৃতি: রবীন্দ্র-ওকাকুরা ভবনের সঙ্গে একই সময়ে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানটিরও উদ্বোধন করার কথা ছিল তার। কিন্তু তা হয়নি। যে সকল জাপানি নাগরিক চাঁদা দিয়েছিলেন তাদের কাছে এই আজুমা দম্পতি কী পরিমাণ ছোট হয়েছেন তা ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়! কোনো জবাবদিহি করতে পারেননি অধ্যাপক আজুমা ও তার স্ত্রীও। জবাবদিহিতা জাপানিসমাজে দৈনন্দিন জীবনজীবিকার প্রধান শর্ত—যার জন্য তীব্র দহনে দগ্ধ হয়েছেন বাংলা ভাষা ও রবীন্দ্রঅন্তপ্রাণ তথা বাংলাদেশপ্রেমী এই কিংবদন্তিতুল্য জাপানি এই দম্পতি। কী লজ্জার কথা!
বিদেশি পুরস্কার ও পদকের জন্য বাংলাদেশের নেতারাসহ বুদ্ধিজীবীরা মুখিয়ে থাকেন অথচ বিদেশিদের অবদানের মূল্যায়নস্বরূপ রাষ্ট্রীয় সম্মান জানাতে আইনের দরকার হয়ে পড়ে। ২০১০ সালে অধ্যাপক আজুমা যখন প্রচণ্ড অসুস্থ, হাসপাতালে মৃত্যুশয্যাশায়ী, এমন সময় জাপান সফরে এসেছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। তিনি অধ্যাপক আজুমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চাইলেন, কিন্তু চিকিৎসকের নিষেধের কারণে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। মহাপরিচালককে আমি একদিন সারা দিন টোকিও শহরের দু-তিনটি বিশেষ স্থানে নিয়ে যাই যেগুলো বিখ্যাত বাঙালির স্মৃতিবিজড়িত। সন্ধ্যাবেলা হোটেলে ফিরে তাকে একটি অনুরোধ করি যে, অধ্যাপক আজুমা তার অবদানের জন্য ভারতে বিভিন্ন সময়ে সম্মানিত হয়েছেন, পুরস্কার, পদক অর্জন করেছেন যেমন, বিশ্বভারতীর দেশিকোত্তম, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রবীন্দ্র পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। জাপানের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছেন। বাংলাদেশই তাকে যথার্থ সম্মান প্রদান করেনি। বাংলা একাডেমি তাকে কী সম্মানিত করতে পারে না? তাকে একটি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করুন তা না হলে বাংলাদেশ ‘অকৃতজ্ঞ’ বলে বিবেচিত হবে দুই দেশের শতবর্ষ প্রাচীন সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কের ইতিহাসে। আমি প্রচুর ছবি ও দলিলপত্র তার হাতে হস্তান্তর করি অধ্যাপক আজুমার জীবন ও কর্মকাণ্ড বিষয়ে।
তিনি বললেন, দেশে ফিরেই তিনি একটা উদ্যোগ নেবেন। তিনি উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং ২০১০ সাল শেষ হয় হয় সময়ে বাংলা একাডেমির রিসার্চ ফেলো নাকি লাইফ লং ফেলো ওই জাতীয় কী একটা সম্মান প্রদানের ব্যবস্থা করলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিঠির উত্তরের জন্য প্রতীক্ষারত মাদাম কেইকো আজুমাআমি ফোনে বললাম, বাংলা একাডেমি পুরস্কার দিলে অসুবিধে কোথায়? বিশেষ একটি পুরস্কারও তো দেওয়া যেতে পারে।
তিনি বললেন, বিদেশিদের পুরস্কার প্রদানের আইন বাংলা একাডেমির নেই। আমরা ফেলোশিপ দিয়েছি এটা কম সম্মান নয়।
ঠিক আছে আমি মেনে নিলাম।
তিনি বললেন, ফেলোশিপের সদনপত্র কীভাবে পাঠাব? জাপানি দূতাবাসে জমা দিলে হবে?
আমি বললাম, হবে। কর্তৃপক্ষ মাদাম কেইকো আজুমাকে পাঠাবেন যদি আপনারা দূতাবাসকে অনুরোধ করেন।
তখন আমার মনে একটা সন্দেহ হয়েছিল সনদপত্রটি ঠিকমতো দূতাবাসে জমা দেওয়া হবে কি না!
বলা নিষ্প্রয়োজন কেইকো মাদাম আজ পর্যন্ত বাংলা একাডেমির সেই সম্মানজনক ফেলোশিপের সনদপত্র বা ওই জাতীয় কিছুই পাননি, জানেনও না! কাকে কী বলব ভেবে নিজেই নিজের কাছে বিব্রত হলাম।
বললে আরও বলতে হয়, ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিপুল দলবল নিয়ে জাপান সফর করেছিলেন। অনেক জাপানি তার সাক্ষাৎ লাভ করে ধন্য হয়েছেন। কিন্তু আজুমা দম্পতি জানেন না তাদের বন্ধু বঙ্গবন্ধুর কন্যা জাপান সফর করছেন। শত ব্যস্ততার মধ্যেও শেখ হাসিনা অধ্যাপক আজুমার খোঁজখবর নিতে পারতেন। জাপানে বসবাসরত আওয়ামীপন্থীরাও একবার তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়নি অধ্যাপক আজুমা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। শেখ হাসিনা কিংবদন্তিতুল্য অধ্যাপক কাজুও আজুমার নাম জানেন না তাতো নয়!
অথচ, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় গ্রেনেড হামলায় আক্রান্ত তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে এই ঘটনার সমস্ত বিবরণ জানিয়ে তাদের সহযোগিতা আহ্বান করেছিলেন চিঠির মাধ্যমে। সেই চিঠির একটি কপি আমি অনেক কষ্ট করে অসুস্থ অধ্যাপক আজুমার হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সেই চিঠি পড়ে কী রকম বিচলিত ও ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন সেটা আমি ও আমার সঙ্গী বঙ্গবন্ধু পরিষদ জাপান শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ এমদাদ হোসেইন স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছি। তৎক্ষণাৎ তিনি কাঁপা কাঁপা হাতে ইংরেজিতে লিখিত চিঠিটির জাপানি অনুবাদ করতে বসে পড়েন স্ত্রীকে নিয়ে। সেই অনূদিত চিঠি নিয়ে গিয়ে শেখ এমদাদ বিতরণ করেছিল বিশিষ্ট জাপানি ব্যক্তিদের কাছে। শুধু তাই নয়, এই চিঠিকে কেন্দ্র করে একটি বড় প্রতিবেদনও তিনি প্রকাশের ব্যবস্থা করেন বহুলপ্রচারিত বৌদ্ধ ফেডারেশনের পত্রিকা চুউগাই নিপ্পোতে। প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত শেখ হাসিনার ছবি আমিই দিয়েছিলাম।
সরকার স্বাধীনতা পদক দিয়েছে বহু বিদেশিকে। জানি না সেখানে অধ্যাপক কাজুও আজুমা, সাংবাদিক তানাকা তোশিহিসা, তিব্বতে জন্ম বিশিষ্ট জাপানি গবেষক ও রাজনীতিবিদ অধ্যাপক ড. পেমা গিয়ালপো প্রমুখের নাম তালিকাবদ্ধ আছে কি না। মুক্তিযুদ্ধে তাঁদের অবদান অবিস্মরণীয়।
১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে শাপলা নীড় নামে একটি বড় জাপানি সংস্থা কাজ করে আসছে। রেখেছে উল্লেখযোগ্য অবদান। দুই দেশের সাংস্কৃতিক বিনিময়েও এই সংস্থার পরিচালক ফুকুজাওয়া ইকুফুমির অবদান অসাসান্য। জাপানে পুরস্কৃতও হয়েছে সংস্থাটি। অথচ বাংলাদেশ সরকার এই সংস্থাটিকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান করতেই পারে। কিন্তু এই বিষয়ে নীরব সরকার।
সরকার বলে কথা নয়, আজকে মন থেকে কয়েকটি কথাই শুধু উচ্চারিত হচ্ছে। এই সব ঘটনায় বাঙালির বোধোদয় হবে কবে? আর কত বছর গত হলে পরে!
হায় জাপান ও তার নাগরিকবৃন্দ কার জন্য এত করছে! যথেষ্ট হয়নি কী? এবার জাপানের চশমা পাল্টানোর সময় এসে পড়েছে। বাংলাদেশকে যে চশমা দিয়ে জাপান দেখে এসেছে সেই চশমার কাচ অনেক পুরোনো ও ঘোলাটে হয়ে গেছে বদলানো দরকার।

(জাপান প্রবাসী লেখক ও গবেষক)


“Greeting on Durga Puja”

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০১৫

Sachin Karmakar : DURA depicts a common Bengali family like yours; she visits her parents house once in a year with two sons and doughtier. Hindus be lave in matrimonial society and respects their female member. We have more female god than male god. In other religion there are hardly any female angels or saints. Hindus make deities with hay and clay, which is also a form of sculpture arts. Devi Sharaswati is our Venus; she is the prettiest of all. All things used in the festival is belongs to the land, like banana plant, tree leaf, flower, seasonal fruits etc: It’s a culture of the land, Hindus never restricted participation of female in the temple, and rather the festival is more dominated by the females. We worship our mother, nature and good against bad or devil. There are no brutality in the festival, visitors share joy and happiness with each other in a festive mood. No expression of hate against any community or person is permissible in Hindu religion. This is why Hindu religion survived against many odds during Arab occupation and contributed to the world peace and harmony.


ইরান হিজবুল্লাহ ও মার্কিণবাহিনীর বুঝাপড়া। -আবু জাফর মাহমুদ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৫

আরবে শক্তির মেরুকরণে আসছে সাপ-নেউলের বন্ধন।যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গড়ছে দীর্ঘকালের শত্রুদের সাথে। ইরানের সাথে ঐতিহাসিক চুক্তি হবার প্রেক্ষিতে এসেছে নতুন প্রেক্ষাপট।অনাক্রমণের সম্পর্ক বিস্তৃতির খুলেছে দুয়ার।সিরিয়ার পক্ষে রাশিয়া দাঁড়ানোয় ইরানের সকল আঞ্চলিক মিত্রদের সুদিন হয়েছে উজ্জ্বল।ইরাক তো আছেই,লেবাননের হিজবুল্লাহ ও প্যালেষ্টাইনের পি এল ও সহ সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়ছে জঙ্গি তাড়ানোয়।       

রাশিয়া লড়ছে আই এস এবং যাভাত আল-নুসরা জঙ্গি সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও স্থাপনা ধ্বংসে।বিমান আক্রমণ  চালাচ্ছে আমেরিকার সম্মতিতে।অর্থাৎ পরোক্ষে সমর্থন দিয়েছে আমেরিকা।নতুন বাস্তবতার মুখে এসেছে প্রধান পরাশক্তি।বদলে যাচ্ছে আরব এলাকায় সংঘাতও মিত্রতার চিত্র।আলকায়দা জঙ্গীদেরই বিভিন্ন নামে খাটাচ্ছে আর উৎসর্গ করছে প্রভূরা বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন নামে।দীর্ঘকালের শত্রুদেরকে মিত্র করে আমেরিকার স্বার্থ আদায় কমেনি বরং বেড়েছে।     

কালো মুখোশে চেহারা গোপনকারী আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘আই এস’ বা ‘ইসলামিক ষ্টেট’ নামে গড়া জঙ্গি  বাহিনী বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যার আত্নস্বীকৃত খবরে অনেকেই বিচলিত হয়েছেন।কিন্তু সিরিয়ার টাইগার্স  ফোর্সের সাঁড়াসী অভিযান ও রাশিয়ান বিমান যোদ্ধাবাহিনীর লাগাতার ক্রুশ মিজাইল আক্রমণে এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর স্থাপনাগুলো একের পর এক ধ্বংসের খবরে বিশ্বব্যাপী ছড়াচ্ছে প্রশান্তির শিহরণ।    

যুদ্ধজাহাজ থেকে জঙ্গিদের ১১টি স্থাপনা লক্ষ্য করে ২৬টি ক্রুজ মিশাইল নিক্ষিপ্ত হয়েছে এবং বেসামরিক লোকের ক্ষয় ক্ষতি ছাড়াই লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়েছে বলে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্জেই সুগো  জানিয়েছেন।  সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক এই তথ্য সমর্থন করেছে।একই সঙ্গে সিরিয়ার সামরিকবাহিনী সজোরে নির্মূল করে চলেছে পলায়নরত সন্ত্রাসী শত্রুদের।এই খবরে ইরাক অঞ্চল থেকেও পালাচ্ছে আই এস জঙ্গিরা।কাশপিয়ান সাগরে অবস্থানরত ৪টি যুদ্ধ জাহাজ থেকে ১০০০ মাইল দূরে নির্দ্দিষ্ট শত্রুর উপর হচ্ছে এই আক্রমণ।    

‘যাবাত আল-নুসরা’ নামে জঙ্গিদের প্রধান ঘাঁটি লাটাকিয়া এবং সিরিয়ার পশ্চিমাংশের হামায়।প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতেই রাশিয়ার পার্লামেন্ট প্রেসিডেণ্ট পুটিনকে সিরিয়ায় জঙ্গি আক্রমণের অনুমোদন দেয়।উল্লেখ্য,আই এস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সিরিয়া-রাশিয়ার সাথে রয়েছে ইরান ও ইরাকের সর্বাত্নক সমর্থন।ইরাক বর্তমানে ইরানের ঘনিষ্ট মিত্র।এছাড়াও জঙ্গি প্রতিরোধে অংশ নেয় ফিলিস্তিন যোদ্ধারা এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ।   
অনেক সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে,আই এস আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থার তৈরী বাহিনী।এদেরকে সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ এবং অর্থায়ন করার ব্যবস্থাপনায় আরো রয়েছে আমেরিকান মিত্র বৃটেন, ইসরাইল,ফ্রান্স,সৌদি আরব,কাতার,তার্কি এবং জর্ডান।যে খবরটি সংবাদ মাধ্যমে প্রায়ই আসেনা।বর্তমান নাম ধারণ করার আগে এই বাহিনীর নাম ছিলো ‘ইরাকি আল-কায়েদা’।তারা ২০১৪সালে(ইসলামিক ষ্টেট অব ইরাক এন্ড সিরিয়া,ইসলামিক ষ্টেট অব ইরাক এন্ড দ্য লেভান্ট)নামে পরিবর্তিত পরিচিতি ধারণ করে।ওয়াল ষ্ট্রীট জার্নাল রিপোর্ট করেছে,রাশিয়ান এয়ার ষ্ট্রাইক ইন সিরিয়া টার্গেটেড ‘সি আই এ ব্যাক্ট রেভেল্‌স’ শিরোনামে।   

জঙ্গিদের দমন রাশিয়ার বিমান যোদ্ধা এবং সিরিয়া আরব বাহিনীর যৌথ আক্রমনের প্রাথমিক টার্গেট বলে জানা  গেছে।তবে স্ক্রেপী রিপোর্ট বলছে,রাশিয়ার বিমান যোদ্ধারা আক্রমণের লক্ষ্যের আওতায় আরো অন্তর্ভূক্ত করে রেখেছে আল-লাটামিনাহ,কাফর জিটা,দ্য জাবাল আল-জাওইদ,কাসসাব এবং ডীয়ের হান্না অঞ্চলও। বর্তমানে আল-কায়েদার সিরিয়া শাখাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।তবে অচিরেই সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের জঙ্গি   স্থাপনাগুলোকেও আঘাত হানা হবে।
জানা গেছে,সিরিয়া বাহিনীর টাইগার ফোর্সেস ইউনিট পূর্ব আলেপ্পো ফ্রন্টে আক্রমণ করে কুওইয়ার্স মিলিটারী  এয়ারপোর্ট  মুক্ত করেছে।এছাড়াও আরো নয়া কিছু স্থান তারা মুক্ত করে গুছিয়ে নিচ্ছে,যাতে সেগুলো পরবর্তী বড় ধরনের আকাশ যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত রাখা সম্ভব হয়।অদূর ভবিষ্যতে রাশিয়া ইরাকের বিশাল আকাশ সীমা ব্যবহার করবে।ভৌগোলিক বাস্তবতায় পূর্ব-সি্রিয়ায় বিমান আক্রমণের জন্যে বেশী সময় লাগবেনা। সীমিত আক্রমনই যথেষ্ট হবে জঙ্গিদের পক্ষে প্রসস্থ হাইওয়েগুলো ব্যবহারের অল্প ক্ষমতার প্রেক্ষাপটে।সাউথফ্রন্ট দাবি করেছে, আই এস অপারেশনে সমন্বয় করার লক্ষ্যে রাশিয়া,ইরান,ইরাক ও সিরিয়ার তথ্যকেন্দ্র বাগদাদে  স্থাপন করার চুক্তি করেছে।  

ইতিমধ্যে সিরিয়াবাহিনী ব্যাপক আক্রমনে নেমেছে।এদের সাথে প্যালেষ্টাইন লিবারেশন আর্মি(পি এল এ),ইন্তিফাদা এবং প্যালেষ্টাইনী বাহিনীও যুক্ত হয়েছে আই এস জঙ্গি দমনের অভিযানে।
মজার ঘটনা হলো, বর্তমান যুদ্ধ আরবে আমেরিকাকে নতুন এক কোয়ালিশনের পরিস্থিতিতে টেনে আনবে।যা ইতিপূর্বে ভাবাই যায়নি।ইজরাইলের জঙ্গি রাজনীতিবিদরা যে সম্ভাবনা এড়াতে কড়া অবস্থান নিয়ে রেখেছেন ওবামা-কেরীর নেতৃত্বাধীন ইরান বিষয়ক কূটনীতির বিপক্ষে।তা হলো,রাশিয়া-সিরিয়া-ইরান-ইরাক-এবং লেবাননের হিজবুল্লা্‌হ বাহিনীর সাথে একত্রিত হয়ে আই এস এবং যাভাত আল-নুসরা দমনে যৌথজোট গঠন।

তাছাড়াও বর্তমান ঘটনাপ্রবাহ রাশিয়ার বিমান এবং মেরিন বাহিনীর মেডিটারিয়ান সমুদ্রে এক স্থায়ী অবস্থান নেয়ার প্রেক্ষিত গড়ছে বলে আন্দাজ করছি।আমেরিকা এই নয়া পরিস্থিতিতে তা-ই মেনে নিতে পারে।ইরানকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই আমেরিকার।সেই অর্থে ইরানের সকল মিত্রই যখন জঙ্গী-বিরোধী অভিযানে নেমেছে।তাদের ঐক্যবদ্ধ জোটের বাহিরে থাকার সুযোগ কোথায় আমেরিকার?নতুবা আমেরিকাকে প্রকাশ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে নামতে হবে আই এসের পক্ষে।       
রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুটিন বলেছেন,আমরা সিরিয়ায় কেবলমাত্র আই এস এলের বিরুদ্ধে নেমেছি। এতে আর কোন উদ্দেশ্য নেই।রাশিয়ান কূটনৈতিক কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনাক্রমণমূলক বা বিনয়ী আচরণ অব্যাহত রেখেছেন।আমেরিকান ষ্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জন কিরবি বলেন,বোমা বর্ষনের দিন সকাল বেলা বাগদাদে আমেরিকান দূতাবাসকে সেদিন আই এস এলের স্থাপনার উপর বোমাবর্ষনের খবর দেয়।তিনি অধিকন্তু অনুরোধ জানিয়েছিলেন,এই মিশনকালীন যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়ার আকাশ ব্যবহার না করার জন্যে।একঘণ্টার মধ্যে আকাশ সীমা ত্যাগের নোটিশ দেন।
গার্ডিয়ান পত্রিকা(২অক্টোবর২০১৫)জানায়,আক্রমণ মিশন শেষ করার পরও রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান সিরিয়ার  আকাশসীমা ত্যাগ না করায় আমেরিকান কোয়ালিশনে পেনিক বাড়তে থাকে।রাশিয়া সিরিয়ার বিরোধী দলের উপর আক্রমণের অজুহাত দিয়ে রাশিয়াকে সিরিয়ার আকাশসীমা ত্যাগ করার জন্যে নোটিশ দেয় আমেরিকান নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন।নোটিশে রাশিয়াকে উল্লেখ করা হয় এখনই বোমা বর্ষণ বন্ধ করে ফিরে যাও।
রাশিয়ার সিরিয়ায় হস্তক্ষেপের প্রেক্ষিতে জাতিসঙ্ঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার টুইটারে বলেন,  সিরিয়ায় বিরোধী দল এবং নাগরিক হত্যা বন্ধ করার জন্যে আমরা আহবান জানাই।উল্লেখ্য মুসলমান প্রধান সিরিয়া হচ্ছে ইরাকের মতো আরেকটি ধর্ম-নিরপেক্ষ দেশ।এদেশগুলো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উগ্রবাদী বা মৌলবাদ প্রশ্রয় দেয়না।    
মাইকেল চসুডোভস্কি তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন,আল-কায়েদার সামর্থ্যায়িত আল-নুসরা জিহাদি সংগঠন যা অগণিত ভয়ানক অপরাধের জন্যে দায়ী।একিউ এবং আল-নুসরা ২০১২সাল থেকেই আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা পেয়ে আসছে এবং সিরিয়ায় নানানভাবে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে।রাশিয়ান সন্ত্রাস-বিরোধী আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে আল-নুসরা জঙ্গি।আল-নুসরা জঙ্গিরা হচ্ছে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি বা স্বাধীন সিরিয়া সেনার অংশ বলেই বিবেচিত।
আমেরিকা ২০১২ সালে আল-নুসরাকে জঙ্গি সংগঠনরূপে চিহ্নিত করেছিলো।অপরদিকে তাদেরকে গোপণে জনবল সংগ্রহ,অস্ত্র,প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসে।তার্কি,ইসরাইল,সৌদি আরব এবং কাতারের মাধ্যমেই এই সহায়তা চলে আসছে।যুক্তরাষ্ট্রের‘সন্ত্রাস-বিরোধী’যুদ্ধের সমালোচনা করেন তিনি।
মার্কিণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাষ্টন কার্টার বলেছেন,সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের বিমান হামলা চালানোর জন্যে রাশিয়াকে অচিরেই মূল্য দিতে হবে।তিনি বলেন সন্ত্রাসীদের হামলায় রাশিয়ার অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে।৮অক্টোবর বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে মার্কিণ নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের এক সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারী দেন তিনি।রাশিয়া কাশফিয়ান সাগর থেকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করার একদিন পর এই মন্তব্য করেন তিনি।  
লেখার শেষ পর্যায়ে খবর আসলো সিরিয়া বাহিনীকে ইরানের পক্ষ হতে উপদেশ দেয়ার দায়িত্বে রত ইরানি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন হামাদানি নিহত হয়েছেন।    
 (লেখক আবু জাফর মাহমুদ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে। ).