Editors

Slideshows

http://bostonbanglanews.com/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/605744Finding_Immigrant____SaKiL___0.jpg

কুইন্স ফ্যামিলি কোর্টে অভিবাসী

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দ্যা ইন্টারফেইস সেন্টার অব নিউইয়র্ক ও আইনী সহায়তা সংগঠন নিউইয়র্ক এর উদ্যোগে গত ২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকাল ৯ See details

http://bostonbanglanews.com/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/455188Hasina__Bangla_BimaN___SaKiL.jpg

দাবি পূরণের আশ্বাস প্রধানমন্ত্

বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে আলোচনা না করে আন্দোলন করার জন্য পাইলটরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। পাইলটদের আন্দোলনের কারণে ফ্লাইটসূচিতে জটিলতা দেখা দেয়ায় যাত্রীদের কাছে দুঃখ See details

http://bostonbanglanews.com/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/701424image_Luseana___sakil___0.jpg

লুইজিয়ানায় আকাশলীনা‘র বাৎসরিক

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ লুইজিয়ানা থেকে ঃ গত ৩০শে অক্টোবর শনিবার সনধ্যায় লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির ইণ্টারন্যাশনাল কালচারাল সেণ্টারে উদযাপিত হলো আকাশলীনা-র বাৎসরিক বাংলা সাহিত্য ও See details

http://bostonbanglanews.com/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/156699hansen_Clac__.jpg

ইতিহাসের নায়ক মিশিগান থেকে বিজ

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ ইতিহাস সৃষ্টিকারী নির্বাচনে ডেমক্র্যাটরা হাউজের আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হলো না। সিনেটে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হলেও আসন হারিয়েছে কয়েকটি। See details

http://bostonbanglanews.com/components/com_gk3_photoslide/thumbs_big/266829B_N_P___NY___SaKil.jpg

বিএনপি চেয়ারপারসনের অফিসে পুলি

হাকিকুল ইসলাম খোকন/বাপ্‌স নিউজ/প্রবাসী নিউজ ঃ বষ্টনবাংলা নিউজ ঃ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস্থ আলাউদ্দিন রেষ্টুরেন্টের সামনে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি তাৎক্ষণিক এক বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এই See details

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

তুমিও বদলে গেছো = এবিএম সালেহ উদ্দীন

রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৬

alt

শেষ পর্যন্ত তুমিও নেমে গেছো আদাজল খেয়ে
যেমন কবিতার নামে কোন কোন কবি নামে উদগ্র ঈর্ষানলে
 কবিতার খেঁড়োখাতায় ওদের অহমিকার পেরেকগুলো
ঝাঁজরা করে অনেকের বুক।
তুমিও বদলে গেছো
যেমন বদলে যায় সময়ের বুদ্ধিজীবি
স্বার্থের টানাপোড়নে ওদের মগজগুলো এখন শোষকের হাতিয়ার।
এত ধ্বংসলীলা(!) এত কান্না দেখেও তাদের মন গলে না।
মানুষকে বাঁচানোর জন্যে কেউ কথা বলে না।
এক সময় তোমার মাঝে প্রেম ছিল
 হৃদয় নিংড়ানো মমতা ছিল
দেশ, মাটি ও মানুষের জন্যে ছিল গভীর ভালোবাসা।
অথচ ইদানিং অন্য রকম।
কেমন যেনো বদলে গেছো তুমি(?)। এখন আর চেনা যায় না তোমাকে।
কারো বেদনার অবিশ্রান্ত কান্নায় জল আসে না তোমার চোখে।
 নীল কুয়াশার ঝাপসা আঁধারে কোথায় যেন লুকিয়ে গেল সব।
আমি ভাবতেও পারি না
কীভাবে এমনভাবে বদলে গেলে তুমি!
অথচ এখনও তোমায় খুঁজে বেড়ায় চেনা মন।
যেমনটি তুমি ছিলে হৃদয় মন্দিরে;তেমনই আসবে ফিরে তোমারই নিবাসে।
তাই
এখনও তোমায় খুঁজে ফেরে পাগল মন
অন্তহীন স্বপ্নের গাঢ়তম আঁধারে
অহর্নিশ শুধু তোমাকেই খুঁজে বেড়ায়।।    

 


নিবাধ চোখ = মাইনুল আমিন

রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৬

সবাক জানালা কাছে নির্বাক দাঁড়িয়ে আছি দূরে
স্টেশন পেছনে রেখে ছুটছে ট্রেন ধীরি হাওয়ায় |

দৃষ্টি রেখায় স্টেশন-বস্তির ঊর্বশী মূক এক   
উদোম; নির্বাক শিশু !
বিস্মিত চোখ- নামিয়ে আনি সহসাই |
 
অযতনে ক্ষুধার্ত আঁচলে নতমুখ ন্যুয়ে আছে জানালায়
ক্ষুধার্ত চোখ তার অম্লান
ক্ষুধার্ত পেট অর্পেছে- শরীর এবং শোকের সম্মান |   
 
জানালায় বাড়ছে লোকের সংখ্যা আরো আরো   
জোড়চোখ লুটছে শরীরের কলা-কৌশল কারো না কারো |  

টুপি দাঁড়ি টিকি গোপ মেকি কিংবা সুশীল প্রমুখ-
ক্ষুধার্ত শরীরের ভাঁজে ভাঁজে হাঁটে- এ চোখ ও চোখ |

ট্রেন ছুটছে রাতের বিবাস ফেলে ধুক-ধুক
চোখগুলো স্টেশনেই, দৃষ্টিধর্ষে- অবোধ অপ্সরিসুখ ।

ট্রেন গন্তব্যে পৌঁছে; যাত্রা আগামীদিনের ভোরের
স্টেশনের নির্বিকার তরুণী-মা-রমনীর বুক ছুয়েঁ  
স্টেশন বদলে যায়- বদলেনা যাত্রীর অভাব  
একবিন্দু বদলেনা এইসব নষ্টচোখের স্বভাব !


চীনের ঋণ, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প, শ্রীলংকার দৃষ্টান্ত ও ভারতের দৃষ্টি

রবিবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৬

চীনের প্রেসিডেন্টের আগমনে বাংলাদেশে তো বটেই, পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় আলোড়ন তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন, বাংলাদেশের শত্রু পাকিস্তান।বাংলাদেশের হৃদ্যতা ভারতের সঙ্গে, পাকিস্তান-নেপাল এবং সীমান্ত নিয়ে চীনের সঙ্গে ভারতের নানা টানাপোড়েন।

শ্রীলঙ্কায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ নিয়ে কিছুটা জটিলতায় চীন। মায়ানমারে ভারতের আগমন, আমেরিকার সমর্থন ভারতের প্রতি। চীনের দীর্ঘদিনের মিত্র মায়ানমারে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য কিছুটা কমছে। শ্রীলঙ্কার গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়ে চীন-ভারত-শ্রীলঙ্কা টানাপোড়েন চলছে। শত প্রতিকূলতা অতিক্রম করে ‘মানবাধিকার-মত প্রকাশ’ বিষয়ক মার্কিন চাপ তুচ্ছ করে আকাশমুখী চীনের অর্থনীতি।

এমন একটি অবস্থায় বাংলাদেশ সফরে এলেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন । সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা।

১.
রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনা সরকারের জন্যে এটা একটা বিরাট সাফল্য। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে একটা বড় অভিযোগ, ‘একমুখী ভারতনীতি’র। ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ভারতের সমর্থন নিয়ে তিনি তার সরকার টিকিয়ে রেখেছেন। ভারতের থেকে কিছু পাচ্ছেন না, শুধু দিয়ে যাচ্ছেন- বিনিময়ে ক্ষমতায় থাকছেন। এই অভিযোগ যখন জোরালো এবং দৃশ্যমান, তেমন একটা সময়ে চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশে আগমন, শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্য তো বটেই, আশীর্বাদও।

চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফরটিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেকে অন্য উচ্চতার রাষ্ট্র প্রধানের মর্যাদায় নিজেকে পরিচিত করতে পেরেছেন। চীনের প্রেসিডেন্টের সফরকে তীক্ষ্ণভাবে নজর রাখছিল ভারত এবং ভারতের গণমাধ্যম। ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার ঢাকা এসে কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারটি ‘দ্য হিন্দু’ প্রকাশ করেছে চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশে আগমনের দিন, ১৪ অক্টোবর। একজন পরিপক্ব রাষ্ট্রনায়ক আঞ্চলিক-আন্তর্জাতিক এবং দ্বিপাক্ষিক, সামরিক ও বাণিজ্যিক বিষয়ে যতটা দক্ষতার পরিচয় দিয়ে, পরিশীলিত দৃঢ়তায় কথা বলতে পারেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠিক ততটা যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন।

সার্ক বর্জন, ভারত এবং চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, বাংলাদেশ এখন চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ছে কিনা... বিষয়ক প্রশ্নগুলোর জবাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ভাষায় দিয়েছেন, এর চেয়ে ভালো জবাব আর কিছু হতে পারত বলে মনে হয় না। (যদিও এই সাক্ষাৎকারেই দেশের রাজনীতি নিয়ে যা বলেছেন, তার সঙ্গে বড়ভাবে দ্বিমত আছে। সেই আলোচনা আজকের এই লেখায় আনছি না।) ভারত ছাড়া আর কাউকে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে না, চীনের প্রেসিডেন্টের সফরে এবং শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে, এই অভিযোগের অনেকটাই খণ্ডন করা গেছে।

২.
রাজনৈতিক-কূটনৈতিক সাফল্য শেখ হাসিনাকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশ যে আঞ্চলিক রাজনীতি এবং অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ, তা আবারও প্রমাণ হলো। জাপান-চীন-ভারতের সম্মিলিত আগ্রহ, তা প্রমাণ করছে। চীনের অর্থনৈতিক ঋণ সহায়তার বিষয়গুলো, সরকার কিভাবে কাজে লাগাবে বা লাগাতে পারবে, তার উপর সামগ্রিক সাফল্যের অনেক কিছু নির্ভর করবে। এখন পর্যন্ত ঋণ চুক্তি গুলো অস্বচ্ছ এবং গোপণীয়। যত দূর জানা গেছে, চীনের ১৩টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের ১১টি বেসরকারি, ২টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১৩৬০ কোটি টাকার চুক্তি হয়েছে। আরও বেশ কিছু চুক্তি আগামী দিনে হবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে অনেকগুলো।

মোট ঋণ সহায়তা কত বিলিয়ন ডলারের, তা নিশ্চিত করে এখনও জানা যায়নি। ইতিপূর্বে বাংলাদেশকে ২ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল ভারত। জাপান ৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। চীনের ঋণ সহায়তার পরিমাণ ভারতের ২ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় তো বটেই, জাপানের ৬ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও দুই বা তিনগুণ বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারত ২ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ২০ লাখ ডলার পদ্মাসেতুর জন্যে অনুদানের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু বাকি অর্থ ছাড়ে কঠিন শর্ত এবং নজীরবিহীন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা করছে। ফলে ভারতীয় ঋণে বাংলাদেশের কোনো উন্নয়নই দৃশ্যমান হয়নি। ঋণ ছাড়ের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন না করে, ট্রানজিট সুবিধা নেয়ায় ভারতের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশে। এমন অবস্থায় চীনের বিশাল ঋণ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এ ধরনের ঋণে ভারতই যে শুধু কঠিন শর্ত দিয়েছে, তা নয়।

চীন-কোরিয়া এমনকি জাপানও কঠিন শর্ত দেয়। ইতিপূর্বে এমন কঠিন শর্তে ঋণ দিয়েছে, সুইডেনসহ ইউরোপের কিছু দেশও। ঋণের শর্ত সহজ-কঠিন বিষয়টি নির্ভর করে দর কষাকষির যোগ্যতা-সততা-সক্ষমতার উপর। অবিশ্বাস্য হলেও কঠিন সত্যি এই যে, এই তিনটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের ভয়ানক রকমের দুর্বলতা আতঙ্কজনকভাবে লক্ষণীয়।

৩.
চীনের ঋণ সহায়তার সুদের হার কত হবে, তা জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে সুদের হার হতে পারে ২ শতাংশ। কত বছরে এসব ঋণ শোধ করতে হবে, তা এখনও জানা যায়নি। কমিটমেন্ট ফি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ কোনো প্রকল্পই ঠিক সময়ে শেষ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ  না করতে পারলে, কমিটমেন্ট ফি বড় বিপদের কারণ হতে পারে। চীনের বিনিয়োগের আরেকটি চরম নেতিবাচক দিক, অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানে তা বড় ভূমিকা রাখে না।

পদ্মাসেতুর বিশাল বিনিয়োগের মূল কাজ করছে চীনা প্রতিষ্ঠান। অর্থের তুলনায় অভ্যন্তরীণ কর্মসংস্থানে তা বড় ভূমিকা রাখছে না। কারণ সেতুর স্টিল অবকাঠামোর মূল কর্মযজ্ঞ চলছে চীনে। যা জাহাজে করে এনে কংক্রিটের সেতুর উপর স্থাপন করা হবে। পুরো প্রক্রিয়া চীনাদের দ্বারাই সম্পন্ন হবে। ভারতীয় ঋণে যেমন ৭৫% জিনিস ভারত থেকে কেনার শর্ত থাকে, চীনের শর্তও প্রায় তেমনই।

বাংলাদেশে যা সহজলভ্য তেমন জিনিসও ঋণদানকারী দেশ থেকে কিনতে হয়। ৫ টাকার জিনিস ১০ বা ১৫ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। ভারতীয় বা কোরিয়া ঋণে ঠিকাদার হতে হয় ভারতীয় বা কোরীয়। চীনের ঋণেও একমাত্র চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানই কাজ করতে পারবে। এক্ষেত্রের শর্তটা ভয়ানক কঠিন। কোনো টেন্ডার আহ্বান করা যায় না। চীনেরও একাধিক প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাজ পাওয়ার সুযোগ রাখা হয় না।

চীন যে প্রতিষ্ঠানটিকে ঠিক করে দেয়, সেই প্রতিষ্ঠানকে তাদের নির্ধারিত মূল্যে কাজ দিতে হয়। এযাবতকালে বাংলাদেশে চীনের ঋণে এই প্রক্রিয়াতেই কাজ হয়ে আসছে। প্রত্যাশিত ছিল চীনের প্রেসিডেন্টের আগমনের এই সময়ে বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা বা দরকষাকষি করে চুক্তি স্বাক্ষর করবে। বাস্তবে এমন আলোচনা হয়েছে, তা জানা যায়নি। যতদূর জানা গেছে, এমন কোনো আলোচনা হয়নি।

৪. 
চীনের ঋণ সহায়তায় বড় বড় অনেক প্রকল্প হবে। দেশের অর্থনীতিতে একটা গতিশীলতা আসবে। প্রশ্ন হলো, শেষ পর্যন্ত এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের কতটা বাস্তবায়ন হবে? এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা খুব একটা আশাপ্রদ নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরকালে অনেকগুলো চুক্তি-সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। বাস্তবে অগ্রগতি তেমন একটা জানা যায়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় প্রায় ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল। এক্ষেত্রেও অগ্রগতির অবস্থা বড়ই করুণ।

চীনের ক্ষেত্রে কী ঘটবে তা আগামীতে জানা যাবে। পরবর্তী মনিটরিং, বাস্তবায়নে বাংলাদশের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে বা হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যাবে, আশা করাটা ঠিক হবে বলে মনে হয় না। ফলে চীনের প্রেসিডেন্টের এত আলোড়ন তোলা
সফর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কতটা কাজে লাগাতে পারবে, তা নিয়ে বড় সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। 

৫.  
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ বিপুল পরিমাণ ঋণ নিচ্ছে বিশ্বব্যাংক, আইএসএফ এবং বিভিন্ন দেশ থেকে। দেশীয় কর্মীদের পাঠানো অর্থে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ছে। ঋণের অর্থে অনেক প্রকল্প চলছে। অর্থনীতিতে গতিশীলতা আছে। কঠিন প্রতিযোগিতায়ও দেশীয় পোশাকসহ অনেক শিল্প যোগ্যতার সঙ্গে টিকে আছে, ভালো করছে। কৃষক উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। দমন-পীড়ন, জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা থাকলেও, রাজনীতিতে দৃশ্যমান অস্থিরতা নেই। শিল্প-ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যে যা সহায়ক। যদিও আর্থিক খাতের অব্যবস্থাপনা আশঙ্কাজনক পর্যায়ের অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ।

এমন অবস্থায় কঠিন শর্তের এসব ঋণ সঠিক পথে, প্রয়োজনীয় প্রকল্পে ব্যবহার করতে পারা না পারার উপর দেশের ভবিষ্যতের অনেক কিছু নির্ভর করছে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে আসতে পারে শ্রীলঙ্কার প্রেক্ষাপট। শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাজা পাকসে গৃহযুদ্ধের মতো ভয়ঙ্কর কঠিন বিপদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে পেরেছেন। জনগণের আস্থাও অর্জন করেছিলেন। বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা চালিয়েছেন কয়েক বছর ধরে। শ্রীলঙ্কার অবকাঠামোগত উন্নয়নেও মূল বিনিয়োগ ছিল চীন নির্ভর।

শ্রীলঙ্কায় চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলার। রাস্তা, ফ্লাইওভার, ব্রিজ, পাঁচ তারকা হোটেল, স্টেডিয়াম, এয়ারপোর্ট... নির্মিত হয়েছে চীনের ঋণে। সমুদ্র ভরাট করে শ্রীলঙ্কাকে দুবাই বানানোর পরিকল্পনা নিয়েছিলেন রাজা পাকসে। তার নিজের এলাকা হামবানতোতাকে একটি আন্তর্জাতিক নগরীতে পরিণত করেছেন। একাধিক ফাইভ স্টার হোটেল, আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম, বিমানবন্দর তৈরি করেছেন।

বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে এর পেছনে। একটা আন্তর্জাতিকমানের দৃষ্টিনন্দন শহরে পরিণত করেছেন তার এলাকাকে। এসব কাজ হয়েছে চীনের ঋণ এবং বুদ্ধিতে। আন্তর্জাতিক এই বিমানবন্দরটিকে এখন বলা হয় ‘এম্পটি এয়ারপোর্ট’। খালি পড়ে থাকে এয়ারপোর্ট, ব্যবহার নেই কিন্তু পরিচালনার বিপুল খরচ আছে। পাঁচ তারকা হোটেলগুরোর অবস্থাও প্রায় একই রকম। ঋণের অর্থ সঠিক পথে বা পরিকল্পনায় ব্যবহার হয়নি।

এত 'উন্নয়ন' করেও রাজা পাকসে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। এখনকার প্রেসিডেন্ট সমুদ্র ভরাট প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছেন, পরিবেশের ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে। চীনের ঋণে শ্রীলঙ্কা গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করেছে। ভারত তাতে অখুশি। চীনের বিপুল ঋণের কাজে স্থানীয় কর্মসংস্থান না হওয়া এবং গভীর সমুদ্র বন্দর করায় ভারতের খুশি না হওয়া, রাজা পাকসের পরাজয়ের কারণ বলে ধারণা করা হয়। এখন বিপুল ঋণের ভারে শ্রীলঙ্কা জর্জরিত।

বাংলাদেশ চীনের থেকে তো ঋণ নিচ্ছেই, রাশিয়ার থেকেও পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্যে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিচ্ছে। চীনের সঙ্গে যে ১৩৬০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হয়েছে, প্রায় এই পরিমাণ ঋণ চুক্তি করেছে রাশিয়ার সঙ্গে একটি পারমাণবিক প্রকল্পের জন্যে। জাপানের ঋণে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা আছে বাংলাদেশের। যদিও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্ষমতার ৩০% ব্যবহার করতে পারে বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম এবং সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবহার খুবই সীমিত। কোনো বিবেচনাতেই নতুন আরেকটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে না। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র শুধু ঝুঁকিই নয়, অর্থনৈতিক বিবেচনাতেও লাভজনক নয়। চীনের ঋণের কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ। দেশের ভেতরে ভারতীয় বিনিয়োগের রামপাল নিয়ে যেমন প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আছে।

চীনের বিনিয়োগের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো নিয়েও নানা জটিলতা, প্রতিবাদ আছে। রাজা পাকসের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, যা চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়েছিল বলে বলা হয়। এসব ঋণের প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশে সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতি। বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না বাংলাদেশ। ঋণের অর্থে বাংলাদেশ কি শ্রীলঙ্কার পরিণতি বরণ করবে না, সত্যিকার অর্থেই বিদ্যুৎ খাত ও অবকাঠামো উন্নয়ন করে এগিয়ে যাবে? প্রশ্নের উত্তর খুব সহজ নয়। কপালে বড় ভাঁজ পড়ার মতো দুশ্চিন্তা আছে। 

৬.
বাংলাদেশের জন্যে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর অপরিহার্য, চীন তা করতেও চেয়েছিল। ভারত চায়নি, চীন বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর করুক। ফলে বাংলাদেশ চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফরে বিষয়টি আলোচনাই করতে পারল না। ভারতের বাধায় বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর করতে না পেরে বসে থাকেনি চীন। মায়ানমারে গভীর সমুদ্র বন্দর করে ফেলেছে চীন। যা বাংলাদেশের প্রস্তাবিত স্থান সোনাদিয়া থেকে খুব দূরে নয়। মায়ানমারের আগে গভীর সমুদ্র বন্দর করতে না পেরে বড় ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কায় গভীর সমুদ্র বন্দর এবং সেখানে চীনের সাবমেরিনের উপস্থিতি ভারত তার নিরাপত্তার জন্যে হুমকি মনে করে। আমেরিকাও ভারত মহাসাগরে চীনের এই সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাশা করে না। বাংলাদেশেও যদি চীন গভীর সমুদ্র বন্দর
করে, তা ভারতের জন্যে ভালো হবে না বলে ভারত মনে করে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের মনে করা খুব একটা গুরুত্ব পাচ্ছে না। বাংলাদেশ গভীর সমুদ্র বন্দর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

শ্রীলঙ্কার গভীর সমুদ্র বন্দরের কাছে চীনের সাবমেরিনের আগমন, রাজা পাকসের পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছে বা ভারতকে রাজি করিয়ে চীনকে দিয়ে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের দিকে যেতে পারে কিনা, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাহলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি তথা ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।

আশঙ্কার কথা, শ্রীলঙ্কা এবং মায়ানমারের গভীর সমুদ্র বন্দরের পর, এই অঞ্চলে আর একটি গভীর সমুদ্র বন্দর আদৌ লাভজনক প্রকল্প হবে কিনা! কারণ একটি গভীর সমুদ্র বন্দর বাংলাদেশ একা ব্যবহার করলে, তা লাভজনক হবে না। প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকলেও, অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের সম্ভাব্য গভীর সমুদ্র বন্দর ইতিমধ্যেই অনেকটা গুরুত্ব হারিয়েছে কিনা!

৭.
কঠিন শর্তের ঋণে অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন,অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের আধিক্য এবং দুর্নীতি কমাতে না পারলে, এত বিপুল ঋণ বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্যে সঙ্কটজনক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাজনৈতিক-কূটনৈতিক সাফল্য দিয়ে, ঋণের বোঝা হালকা করা যাবে না।

গোলাম মোর্তোজা : সম্পাদক, সাপ্তাহিক।
s.mortoza@gmail. com 


China will flash out India from Bangladesh! Capt.Ret. Sachin.Karmakar

শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৬

Chinese civilization is one of the oldest civilization of the world. The great land was occupied and ruled by Mongols, Japanese, British, and French for decades. China entered into the modern age through communist revolution in 1949 under the leadership of Mao.  China is the third largest economy of the world and Mao Stung is the father of modern China. Country has long term military and political objective in the region. After enclosing Tibet region with main land in 1950, China focused on India to intimidate against any adventure attempt with Dali Lama by engaging in a short term decisive war in 1962. China enclosed some part of Kashmir and Arunachal region and claims further more Indian territory for long term intimidation. By registering military victory over India, China has removed threat from Indian border permanently. China used the same strategy with Vietnam which back fired and outcome was just opposite of India.
My observations are little different from others, China gave lot of money to Si-Lankan, now they controls all the infrastructure of the country. It happen in Peru and Argentina before with World Bank. Investment is good but borrowing excessive money can cripple your economy. China is not investing, they are simply landing money. We have the experience of Indonesia, Philippine, Malaysia, Peru & Argentina in front of us. Chinese dredger don't function after 3-4 years, whereas Dutch dredger is still working after 25 years of procurement.
Please don't buy junk like Chinese battery rickshaw for commission and destroy your environment? Do Bangladesh has the capability of absorbing 30-40 billion dollar loan? We are developing well don't want to rush and fall in to trouble.     
China is a traditional century old trusted friend of Pakistan and all other anti-Indian forces in the region. We know about Confucianism and Atish Dipankar who carried the massage of Buddha from India to China. Beijing helped the legitimate government of Pakistan with supply of arms and by deploying red army alongside China- India border during 1971 war. China never supported Bangladesh first government due to the Indian imposed secularism in the constitution. An Islamic government always stands grantee for China against its urge rival secular and democratic India. China supported political parties and their leaders considered liberation was as a dog fight between the two animals.

China only recognized Bangladesh after 1975 massacre and remained committed to the two nation theory. The very famous August killer Major Shariful Haque Dalim became the first defense adviser in Beijing after 1975 coup. In 1971 & 1975 China was a big player in East Pakistan with Saudi Arabia and USA. First Bangladesh government of 1972 wanted to balance India by joining OIC and establishing contact with war criminal Pakistan in 1974? After nearly forty years Bangladesh is trying to balance India by China again.

Traditionally people of Bangladesh are anti-Indian in character due to the mindset of 1947 partition. China is the only country in the region who can balance India militarily like 1962 Indo-China war? Since China is militarily stronger in the region and hostile to India, Bangladesh considers China a better friend than others. Enemy's enemy is always a best friend, very recent announcement of supporting India against Pakistan was a calculative move of Dhaka. China is a traditional ally of General Zia and BNP, they would like to see BNP in power with popular support. Awami League and SK.Hasina would be no match to BNP & Begum Zia in popularity and in fair ballot.

After this historic visit of Chinese President, new polarization in politics will began in Bangladesh for a shift in the center of gravity.


আমি একজন সাংবাদিক, কিন্তু সাংবাদিকতা আমার পেশা নয়!

শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৬

ছোট্ট একটি মফস্বল শহরে বড় হয়েছি আমি। এটা ঝিনাইদহ সদর থানার একটি বড় বাজার। ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করার সুযোগ পায়নি। ২০০৭ সালে গ্রামের পার্শ্বস্থ টিআইসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, গান্না বাজারে অবস্থিত আলহাজ্ব মশিউর রহমান কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি ও ঝিনাইদহ সরকারি কে, সি কলেজ থেকে ২০১৩ সালে বাংলায় স্নাতক হয়েছি। এর মধ্য থেকে কতই বা শিখতে পারি। আমি যখন ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন বাবা মার্ডার হয়। তখন বিএনপি সরকারের আমল। বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারনে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যের চাপে আমার পরিবার মামলাটি তুলে নিতে বাধ্য হয়। তখন সেই সংসদের কথায় আমার বাবাকে সন্ত্রাস বানিয়ে কয়েকটি পত্রিকায় নিউজ ছেপেছিল। রাজনৈতিক ক্রিয়া বিক্রিয়া গুলি দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। আজও কিছুই করার নাই।

২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলো। আমিও স্নাতকে ভর্তি হলাম। শহরে ঘোরাফেরা করি পরিচিতি বাড়ে মানুষের সাথে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের জন্য মনের মধ্যে থাকা ভালোবাসা আরও বেড়েই চলে। নিজেকে পরিচয় দেয় ছাত্রলীগ কর্মী হিসাবে। শহরের বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে যাই। ইউনিয়নে ঘুরিফিরি। এর মধ্যে ২০১২ সালের জুন মাসে গান্না বাজারের উপরের একটি জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ বাধে। দখল পক্ষ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকে প্রতিদিন টাকা দিতে থাকলো। নেতারা তাদের আশ্বাস দিল জমি তাদের দখল করে দেবে। নেতাদের আশ্বাসে দখল পক্ষ একটি বিল্ডিং তুললো। অসহায় পূর্ব মালিক পক্ষে কথা বলার কেউ নেই। আমি মালিক পক্ষের একজনকে ঝিনাইদহ শহরের মানবাধিকার অফিস, সেটেলমেন্ট অফিস ও প্রেস ক্লাব নিয়ে যায়। চক্ষুশুলে পরিণত হই। দু’য়েকদিনের মধ্যে এলাকায় মালিক পক্ষে ব্যপক জনমত তৈরি হয়। কিন্তু সেদিনও কোন সাংবাদিক আমার কথায় নিউজ করেনি। তাদের সরেজমিনে আসার গাড়ি ভাড়া দিতে পারেনি বলে।

১০ই জুন সন্ধ্যা বেলা গান্না বাজারে এলাকার লোক মিছিল বের করে। সেই রাত্রে পাইকপাড়া গ্রামের আঃ অহাব নামের একজন প্রতিবাদকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। সেদিন থেকে খুব ইচ্ছা হয় সাংবাদিকতা করার। ২০১৪ সালে আমার এক শুভাকাঙ্খীর জন্য স্থানীয় একটি পত্রিকায় লেখার সুযোগ হয়। আমি আজও আয়ের উৎস খুঁজে পায়নি। তাই সারাদিন সারা জেলাতে ঘুরে ঘুরে নিউজ সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। আমার এলাকা থেকেই ছোট ছোট খবর পাঠাই। কিন্তু এমন হয়েছে আমার সম্পাদক অনেক সময় আমার পাঠানো নিউজ ছাপেনি বা কর্তন করেনি। আমি যখন কোন অপরাধ নিয়ে লিখতে গেছি তখন তিনি আমাকে বলেছেন এই খবর ছাপালে তোমার ও আমাদের পত্রিকার সমস্যা হবে।

আমি আমার সম্পাদক সাহেবকে বাবার মত শ্রদ্ধা করি। তিনিও আমাকে বাস্তবতা বোঝান। আমি আমার এলাকার ছোট ছোট খবর পাঠাই। তাতেও বাধে বিপত্তি। প্রায় মাসে খেতে হয় মৃত্যুর হুমকি। অপরাধীরা মনে করে অপরাধ তাদের নয় । অপরাধ আমার লিখছি বলে। আমি সন্ত্রাসকে সন্ত্রাস বললে দোষ, চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ বললে দোষ। কিন্তু আমার কী দোষ!


শেখ হাসিনাও নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দাবি রাখেন

শনিবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৬

ফরিদুন্নাহার লাইলী : কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসকে এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। কলম্বিয়ার গৃহযুদ্ধ অবসানে কমিউনিস্ট ফার্ক (রেভ্যুলুশনারি আর্মড ফোর্সেস অব কলম্বিয়া) বিদ্রোহীদের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদনের জন্যে তাকে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।

দীর্ঘ্ চার বছর আলোচনার পর সম্পাদিত ওই চুক্তির মাধ্যমে অর্ধশতাধিক বছর ধরে চলা এ গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটে।ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ব্যাপারে দেশের ভিতর থেকেই শক্ত বিরোধিতা থাকলেও এ চুক্তির ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন প্রেসিডেন্ট সন্তোস।

কলম্বিয়ার শান্তিচুক্তির সঙ্গে আমি আমাদের একটি শান্তিচুক্তির সাদৃশ্য খুঁজে পাই। তাই ওই ঘটনার বিবরণে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করছি।
শেখ হাসিনাও নোবেল পুরস্কার পাওয়ার দাবি রাখেন
বাংলাদেশের তিনটি জেলা পার্বত্য চট্টগ্রাম হিসাবে পরিচিত। জেলাগুলো হলো- খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান। একসময় ছিলো এই এলাকাগুলিতে মানবাধিকার বলে কিছুই ছিলো না। ওই এলাকার নাগরিকদের সকল মৌলিক অধিকার ছিলো উপেক্ষিত। স্বাভাবিকভাবেই এই এলাকাগুলোতে বিস্তার ঘটতে থাকে সামাজিক বিশৃংখলা। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট-পরবর্তী সময়ে সামরিক জান্তাদের অদূরদর্শি সিদ্ধান্তের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিষিদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়েছিলো। দুই দশক স্বাভাবিক জীবনযাত্রার চাকা বন্ধ ছিলো। তাই এই পার্বত্য এলাকায় শৃংখলা প্রতিষ্ঠার জন্যে সর্বদা মনোযোগী ছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রথম সরকার গঠন করে এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা পার্বত্য এ অঞ্চলগুলিতে শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। দেশরত্ন শেখ হাসিনার এই উদ্যোগে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই সময় পার্বত্য এই এলাকাগুলিতে প্রায় ১০ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস ছিলো।প্রতি মুহূর্তে অস্থিরতা ও নিরাপত্তা ঝুকিতে থাকা এই বিপুলসংখ্যক মানুষের ঞ্জীবন-জীবীকা নিরাপদ হয়েছে শুধু একটি শান্তিচুক্তির মধ্যদিয়ে।

এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর পার্বত্য এলাকা তার স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পায়। সমসাময়িক সময়ে দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সফল রাজনৈতিক পরিসমাপ্তি আমাদের দেশের এ্ক বিরল অর্জন হিসাবে গণ্য হয়। একারণে শেখ হাসিনার ইউনেস্কো পুরস্কার প্রাপ্তি ছিলো শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি।


চুক্তির পর পার্বত্য অঞ্চলজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিকাশ যথেষ্ট বেগবান হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বজথেস্ট, এই চুক্তির ফলে পার্বত্য অঞ্চলে মানুষগুলো বেঁচে থাকার নতুন স্বপ্ন খুঁজে পায়।


শান্তি ও মানবাধিকার সুরক্ষায় শেখ হাসিনার আরো একটি বড় অর্জন না উল্লেখ করলেই নয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের গত মেয়াদে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় চুক্তি ছিলো মানবাধিকার সুরক্ষার আরো একটি যুগান্তকারী ঘটনা। ৬৮ বছর দেশের পরিচয়বিহীন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ দেশের নাগরিক পরিচয়ে বেঁচে থাকার সুযোগ পেয়েছে শুধু শেখ হাসিনার দূরদর্শী কূটনৈতিক সফলতার মাধ্যমে। এই চুক্তি সম্পাদনের পূর্ব পর্যন্ত বিশ্বমানব গণনায় এই অঞ্চলে্র মানুষগুলির নাম অন্তর্ভুক্ত ছিলো না। তারা জানতোই না, আসলে তারা কোন দেশের নাগরিক। যেন আপন বসতভূমিতে পরবাসী তারা। বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় চুক্তির ফলে এই মানুষগুলো ফিরে পেয়েছে আপন দেশ, বিশাল আকাশ, বিস্তীর্ণ প্রান্তর, আপন পরিচয়, বাঁচার মৌলিক অধিকার।

এছাড়াও অতীতে দেখা গেছে দারিদ্র দূরীকরণের জন্যে শান্তিতে নোবেল দেয়া হয়েছে। অথচ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই দেশ দারিদ্র্য থেকে কিভাবে বেরিয়ে এসেছে তার রেফারেন্স টানলে পরিষ্কার হওয়া যায়। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অতিদরিদ্র মানুষের সংখ্যা ১২ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিক অগ্রগতি এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক মনে করে, বাংলাদেশের এই অর্জন দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, পাকিস্তান কিংবা ভুটানের চেয়েও প্রশংসনীয়।

বিশ্বব্যাংকের আরো একটি প্রতিবেদন আমাদের আশা জাগায়। গত বছরের পহেলা জুলাই বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় এখন ১,৩১৪ ডলার। এই হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ এখন নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে।

তাই বলছি, আজ যদি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস তাঁর দেশের একটি সংঘাত দূর করার জন্যে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান, তাহলে আমাদের রাষ্ট্রনায়ক, শান্তিকন্যা শেখ হাসিনাও নোবেল পুরস্কারপাওয়ার দাবি রাখেন। কারণ তিনি তৎকালীন নানান দলও মতকে উপেক্ষা করে পার্বত্য শান্তিচুক্তি করে দশ লক্ষাধিক মানুষকে নিরাপদে বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছেন। ক্ষুধা ও দারিদ্র দূরীকরনের মাধ্যমে ১৬ কোটি মানুষের ছোট এই দেশকে শান্তিতে রেখেছেন। যদিও কে না জানে, নোবেল কমিটির একান্ত আস্থাভাজন না হলে, তাদের গলায় সুর মিলিয়ে না চললে যোগ্যতা যতই থাকুক পুরস্কার জোটে না। তারপরও বাংলার মানুষ প্রত্যাশা করে, শান্তিকন্যা শেখ হাসিনা শান্তিতে নোবেল পাবেন, পাওয়ার দাবি রাখেন।

লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ


সুগন্ধী ফুল হাসনাহেনা

মঙ্গলবার, ১১ অক্টোবর ২০১৬

লেখা ও ছবিঃ মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী : বাপ্ নিউজ : হাসনাহেনা আমাদের দেশে অতিপরিচিত এক ফুলের নাম। এর আদিনিবাস
দ্বীপ রাষ্ঠ ওয়েষ্ট ইন্ডিজ।বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র এ ফুল গাছ দেখা যায়। ইংরেজী নাম:Night queencwievi:Salanaceae উদ্ভিদ তাত্বিক নাম:Cestrum nocturnum.।হাসনাহেনা ঝোপালো আকৃতির দ্রুত বর্ধনশীল ফুল গাছ।গাছের শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত,ছাটাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাছের আকার-আকৃতি ছোট-বড় করে রাখা যায়।পাতা গাঢ় সবুজ রঙের,মধ্যশিরা স্প্রষ্ট এবং কচি শাখা- প্রশাখার চামড়ার রঙও সবুজ হয়ে থাকে।শাখা-প্রশাখা খুব বেশী শক্ত মানের নয়।

alt

গাছের প্রতি শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে গুচ্ছভাবে একত্রে প্রচুর পরিমাণে ফুল ধরে।ফুলের গঠন নলাকৃতির,চিকন,লম্বা এবং ফুলের প্রস্ফুটিত অংশ পাঁচটি ভাগে বিভক্ত ও দেখতে তারকার মতো দেখায়। রঙ সাদা থেকে ঘিয়ে রঙের হয়ে থাকে।রাতের বেলা এর ফুল ফোটে এবং ফুলের সুভাস চারদিক মোহনীয় করে তোলে এবং দূর থেকেও তা অনুভব করা যায়।তীব্র সু-গন্ধীর কারণে হা¯œাহেনা ফুলের কদরও একটু বেশী।শীত ঋতু ব্যতীত প্রায় সারাবছর গাছে ফুল ফোটে।তবে গ্রীষ্ম বর্ষা ও শরৎ-এ গাছে অধিক পরিমাণে ফুল ফোটে। প্রায় সব ধরনের মাটিতে এ ফুল গাছ জন্মে,হাল্কা ছায়া ও স্যাঁতসেতে মাটিতেও এদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়না।গাছ বেশ কষ্ট সহিষ্ণু এবং রোগ-বালাইয়ের আক্রমন কম হয়।বাসা-বাড়ী,অফিস,আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগানে হা¯œাহেনা ফুল গাছ উৎপাদন ও লালন-পালন দেখা যায় চোখে পড়ার মতো। তাছাড়া হা¯œাহেনা ফুল গাছ বাগানের জীবন্ত বেড়া হিসেবেও বাগানের কিনারায় রোপণ উপযোগী ফুল গাছ।ডাল কাটিং এর মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা হয় এবং দ্রুত বর্ধশীল বিদায় কাটিং রোপণের অল্পদিনের মাঝে গাছে ফুল ধরে।


সানাউল হক নিরু

সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০১৬

সানাউল হক নিরু -----মিন্টু আমার নাম। এটি কোন সিনেমার গল্প নয়, আমার জীবনের একজন পরম বন্ধুকে নিয়ে,_তার স্মরণে আজ এই লেখা। বন্ধু, তুমি নিশ্চয়ই ভালো আছো, কেননা তুমি যে এক মহান প্রভূর সান্নিধ্য ! প্রিয় বন্ধু শফিকুল ইসলাম মিন্টু, আমার জীবন চলার পথে সুখ দু:খের একান্ত সাথী। ১৯৭৮ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তির পর থেকে একই সাথে দীর্ঘ ৩৬টি বছর, ৫ জুলাই ২০১৫ সালে প্রিয় বন্ধুকে বিশ্ব চরাচরে অনন্ত অসীমের পানে দ্রুত ধাবমান স্রষ্টার সান্নিধ্য শুভ বিদায়। ১৪৩৬ হিজরী, ১৭ই রমজান সামান্য ডায়েরিয়া কারণে বাসা থেকে হেঁটে নিজ গাড়িতে চড়ে গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে গিয়েছিলে, ইলেকট্রোলাইড ইনব্যলেন্স হয়ে দ্রুত কমায় চলে গিয়ে শেষপর্যন্ত আর ফিরে আসেনি। এখনো অনেক বন্ধুরা সে বেঁচে নেই একথা শুনলে বিশ্বাস করতে চায় না। এমন প্রানবন্ত বন্ধুবৎসল মানুষ জীবনে খুব কম দেখেছি। আমার সবচেয়ে প্রিয়জন, হারিয়ে যাওয়া এক পরম বন্ধু চিরদিনের সাথী। এমন তো কথা ছিলোনা !

alt

পাখিরাও নীড়ে ফিরে যাবে, যেমনটি তুমি চলে গেলে নিরবে _ কাউকে কিছু বুঝতে দিলে না। তুমি মুক্তি পেলেও আমরা দু:খী, এতিম হলাম। একজন বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালোবাসার মানুষকে হারালাম। আমি স্রষ্টার কাছে অনেক কিছুই চাই, কিন্তু কতটুকুইবা তাকে চিনতে পেরেছি? আমার দোয়া, চাওয়া তার চাওয়ার সাথে যদি মিলে যায়, তাহলে তোমার জন্য অনেক কিছুই চাই। স্রষ্টা অনেক বড় আর আমি অতি ক্ষুদ্র, তার এক নগণ্য বান্দা _ আশেকে রাসুল (সা:) এবং আশেকে খোদা ! আমার ক্ষুদ্র চাওয়া যদি পৃথিবীর মহা অধিশ্বর আল্লাহ্ পাক পূরণ করতে না পারেন, তাহলে যতো সুন্দর নামে তাকে ডাকি _ তাঁর অপার রহমত, দয়া, ক্ষমা, রাহিম, রাহমান এবং আরও অসংখ্য, অগুণিত নামে তাকে জেনেছি এবং ডেকেছি তাতে তার গৌরব কি একটুও ভূলুন্ঠিত হবে না? তুমি ছিলে মানবের ( আদমের) অন্তর্লোকে, আদম ছুরত, মানব তোমাকে সর্বলোকে প্রতিষ্ঠিত করলো। আর সেই তুমি কি বান্দাকে বিমূখ করবে? জানি, তোমার মহত্বের মাঝে একটু আচরও পড়বে না। কেননা তুমি আদি, অকৃত্রিম, সদা এবং সর্বত্র বিরাজমান। এবং এই আমিই তো তুমিই, নাকি তোমারই ছায়া !


কবিতা = জুলি রহমান

রবিবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৬

প্রিয় মনিকাদি কে

ত্রিশূলের ও ত্রিতাপ ঢেলে অন্তর করে লীন।
কারা ওরা সবর্নাশা নেশায় খড়গে বিদ্ধ করে
খুবলে তুলে তনুর লুহ!

অথচ ওর দুটো পা ছিলো ,এখন নেই।
দুটো হাত ছিলো ,এখন নেই।
যিশু খ্রীস্টের পেরেকে গাঁথলো যে হাত।
সেই সুখ বুকে নিয়ে হাসে অজর্ুন?
শুধু জানে না নিবর্োধ বালক
ঝরে পরা রক্ত পূজেই জমে জীবানু
আর অণু -প্রাণ কীট পত্ংগ হয়ে উড়বে যখন পৃথিবীর বুকে গমকে গমকে;
নিধনে আসবে মরন তাঁরও।

Picture

পুরাণ বলে দেবতার ও অহম থাকে।
তুমিতো দেবতা নও!প্রেমহীন এক যুবক।
কালের চৌকাঠ না পেরুতেই এতো ঠাঁট?

সে যদি হয় হৈমবতী!
তবে তোমার চরিত্র চিত্রনে ভূমিকা কী?
ভেবে দেখোতো বালক রিপু মুক্তির পথ কোথায়?
নয়তো সারাৎসার এ জগতে চোখের জটিল
ব্যামু উপসমের পথ নেই কোনো।
খেলোনা এমন  তামাশার হুলি---


তিনি ছিলেন উদার, আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক = সৌমিত্র দেব

রবিবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৬

প্রয়াত সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী আমার খুব কাছের মানুষ ছিলেন। মৃত্যু তাকে সশরীরে দূরে সরিয়ে দিলেও এখনো তার স্মৃতি তার কর্ম তাকে আমার নিকটবর্তী করেই রেখেছে। এবং আমি এও জানি, শুধু আমি নই আমার মতো লক্ষ লক্ষ মানুষ তাকে তাদের কাছের মানুষ বলেই মনে করত। এখনো করে। আর এটা সম্ভব হয়েছে তাঁর দুর্লভ কিছু গুণাবলীর জন্য।
মহসিন আলীর নাম আমি প্রথম শুনি আমার হাফপ্যান্ট পরা শৈশবে। আমার বাবা সরকারি চাকরিজীবী হলেও খুব রাজনীতি সচেতন ছিলেন। তাঁর অনুজপ্রতীম বন্ধু ছিলেন প্রতিবেশী ডা. সত্যরঞ্জন দাশ। তারা দুজনে সব সময় শলাপরামর্শ করতেন, ‘পৌরসভা নির্বাচনে এবার যেভাবেই হোক মহসিনকে জিতিয়ে আনতে হবে।’ তার পরেই দেয়ালে দেয়ালে দেখতাম আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সৈয়দ মহসিন আলীর ছবি। মার্কা ঘড়ি। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাজ্জাদুর রহমান পুতুল। সেই ছোট বয়সেই টের পেতাম, পুতুল মিয়া বাবাকে পটানোর জন্য ঘন ঘন আমাদের বাসায় আসতেন। আমাকে আদর করতেন। কিন্তু বাবা মহসিন বলতে অজ্ঞান। সেবারের নির্বাচনে মহসিন আলী বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। এর আগের বার নাকি পুতুল মিয়ার কাছেই হেরে গিয়েছিলেন। পরপর তিনবার পৌর নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন মহসিন আলী। জীবন সায়াহ্নে এসে মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে আমার পাতে খাবার তুলে দিতে দিতে শ্রদ্ধার সঙ্গে বাবার অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি। মিন্টু রোডে সেই দুপুরে খাবার টেবিলে তখন ছিলাম আমরা তিনজন। আমাদের দুজনের সঙ্গে ছিলেন তাঁর বন্ধু কলকাতা থেকে আসা সমশের সাহেব। আমার স্মৃতি তখন চলে গেছে ১৯৮৬ সালের ১২ মার্চ রাত তিনটায়। আমার বাবা মারা গেছেন। নিকট আত্মীয়দের কেউ কেউ চলে এসেছেন। দেব ভবনের উঠোনে তুলশী তলায় শোয়ানো হয়েছে বাবার মৃতদেহ। সেই গভীর রাতেই লুঙ্গী পরে ছুটে এসেছেন সেই সময়ের এমপি আজিজুর রহমান ও পৌরসভার চেয়ারম্যান সৈয়দ মহসিন আলী। পিতৃশোক ভুলে গিয়ে আমি তখন চিন্তা করেছিলাম, রাজনীতিবিদরা কি রাতে ঘুমান না! সুকান্তের কবিতায় সেই রানারের মতো জীবনের সব রাত্রিকে অল্পদামে কিনে নিতে পেরেছিলেন বলেই আজিজুর রহমান, মহসিন আলীরা জননেতা হতে পেরেছেন। সেই রাতেই আমি প্রথম মহসিন চাচার সঙ্গে কথা বলার সাহস সঞ্চয় করি। আমার নিজের কাকাদের চেয়েও আপন মনে হয় তাকে।syed
বাবার মৃত্যুর এক বছর পর আমি ম্যাট্রিক পাস করি। কলেজে জড়িয়ে পড়ি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে। তিনি আওয়ামী লীগের নেতা। রাজনৈতিক সম্পর্ক ভিন্ন মেরুতে হলেও পারিবারিক সম্পর্কে কোনো চিড় ধরেনি। বরং সহযোগিতাই পেয়েছি সব সময়। কিন্তু মুখচোরা স্বভাবের কারণে খুব একটা যাওয়া হতো না তার কাছে। তবে আমার লেখালেখির খবর তিনি রাখতেন। আমাকে কবি বলে সম্বোধন করতেন। ২০০৩ সালে সংস্কৃতি সংসদ নামে একটি আবৃত্তি সংগঠন গঠন করি। পুরাতন হাসপাতাল রোডে ব্যবসায়ী কুতুব চাচার বাসায় আমাদের মহড়া হতো। কুতুব চাচার মেজো মেয়ে তহুরা ছিল আমার সহপাঠী বন্ধু। ওর ছোট দুই বোন সাকো, লিমা ও একমাত্র ভাই নাসির ছিল সংস্কৃতি সংসদের সদস্য। সাকোর বন্ধু নিপা ছিল খুব উদ্যোগী। আমরা নিয়মিত অনুষ্ঠান করতাম পৌরসভা মিলনায়তনে। বিনা ভাড়ায় অনুষ্টান করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন মহসিন চাচা। আমার এখনো মনে আছে আমাদের প্রথম অনুষ্ঠানে মহসিন চাচা ছিলেন প্রধান অতিথি। আর আমি ছিলাম সভাপতি। তার পাশে বসতে গিয়ে নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। তিনি আমাকে কথা বলে স্বাভাবিক করেন। আমাকে মাঝখানের চেয়ারে বসান। বলেন, সভাপতিকে অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হতে হয়। তিনিই প্রথম আমাকে একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরেন। পৌরসভার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমার নাম তালিকাভুক্ত করে নেন। অন্যদিকে আমি তখন দেখেছি ব্যক্তিত্বে তিনি মহীরূহ হয়ে উঠেছেন। তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শে ছিলেন নিষ্ঠাবান, দলীয় কর্তব্যে ছিলেন অবিচল। রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিরুদ্ধ শক্তি থাকার পরেও কখনো কোনো প্রলোভন বা ভয়-ভীতি তাকে বিচ্যুত করতে পারেনি। কিন্তু দলের প্রতি বিশ্বস্ত থেকেও ভিন্ন মতাবলম্বীর প্রতি শ্রদ্ধা বা স্নেহ প্রদর্শনেও কখনো তিনি পিছপা ছিলেন না। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান মৌলভীবাজারের দুটি আসনে প্রার্থী হয়ে দুটিতেই জামানত হারিয়েছিলেন। সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে টেকনোক্র্যাট অর্থমন্ত্রী করেন। দূরদর্শী সৈয়দ মহসিন আলী সাইফুর রহমানকে মৌলভীবাজারের কৃতিসন্তান বিবেচনা করে পৌরসভার পক্ষ থেকে এক বেনজির সংবর্ধনা দিয়েছেন। দলীয় বিবেচনাকে বড় করে না দেখে গুণী মানুষকে সম্মান করে নিজেই বড় হয়েছেন তিনি।
২০০৩ সালে জীবিকার প্রয়োজনে আমি ঢাকা চলে যাই। কাজ শুরু করি দৈনিক প্রথম আলোয়। ২০০৪ সালে যোগ দেই মানবজমিনে। সে সময় পৌরসভা নির্বাচনের নিউজ কাভার করতে মৌলভীবাজারে যাই। মহসিন চাচা সেই নির্বাচনেও প্রার্থী ছিলেন। তখনো তিনি আমাকে নানা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন। ওই নির্বাচনকে সেই সময়কার শাসক দল বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিতর্কিত করে তুলেছিলেন। মহসিন চাচাসহ অন্য প্রার্থীরা দুপুরের মধ্যে নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করলে অনায়াসে জয়ী হন বিএনপি প্রার্থী ফয়জুল করিম ময়ূন।
২০০৫ সালে একটি সাহিত্য সম্মেলনে আমেরিকা ঘুরে আসি। তারপর নেপাল ও চীন। মৌলভীবাজারে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে এই সংবাদ জানালে তিনি বলেন, আমার সব খবরই তার কাছে আছে। তিনি গর্ববোধ করেন আমাকে নিয়ে।

sm
২০০৮ সালে হঠাৎ করে খবর পাই মহসিন চাচা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন ঢাকায়। ছুটে যাই তাকে দেখতে। তিনি অভিমানের সঙ্গে বলেন মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক তার বন্ধু মতিউর রহমান চৌধুরী একবারও তাকে হাসপাতালে দেখতে আসেননি। আমি খবরটি মতিউর রহমানকে জানালে তিনি লজ্জিত হন। হাসান শাহরিয়ার, জগলুল আহমদ চৌধুরীসহ দেশের অনেক বড় সাংবাদিক ব্যক্তিগতভাবে তার বন্ধু ছিলেন। শ্যামল দত্ত, পীর হাবিবুর রহমান, মুন্নী সাহা প্রমুখ সাংবাদিকরাও তাঁর স্নেহধন্য ছিলেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে মহসিন চাচা বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দোর্দন্ড প্রতাপশালী রাজনীতিবিদ সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান। সেই নির্বাচনে আমি তাকে ভোট দিতে মৌলভীবাজারে গিয়েছিলাম। কিন্তু তার বিজয়ের পেছনে কোনো ভূমিকা রাখতে পারিনি। তিনি অবশ্য ডাকেনওনি আমাকে। বরং নির্বাচনের আগে একাধিকবার বিভিন্ন কৌশলী জনসভায় বক্তৃতা করতে আমাকে কালিহাতী নিয়ে গিয়েছিলেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তাই সঙ্গত কারণেই লতিফ সিদ্দিকী সাহেবের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল বেশি। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি না করলেও লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবার পর প্রেসক্লাবে আমার অনুষ্ঠানেই প্রথমবারের মতো প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন। ২০০৯ সালের ২রা এপ্রিল অনলাইন গণমাধ্যম রেডটাইমস বিডি ডটকমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় সেদিন। এ সময় খবর পাই এমপি হবার পরেও এলাকায় কোণঠাসা হয়ে আছেন মহসিন চাচা। সেই সময়ের চিফ হুইফ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ তাকে কোনো কাজ করতে দিচ্ছেন না। প্রশাসন তাকে উপেক্ষা প্রদর্শন করছে। এমনকি মৌলভীবাজারে কোনো অনুষ্ঠানে তাকে অতিথি হিসেবেও রাখা হয়না। এসব খবর শুনে আমি সিদ্ধান্ত নেই চাচাকে নিয়ে মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠান করব। ডিসেম্বর মাসে আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের একটি অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার পাবলিক লাইব্রেরিতে তাকে প্রধান অতিথি করা হয়। বিশেষ অতিথি ছিলাম আমি। সভাপতি ছিলেন এডভোকেট ডাডলি ডেরিক প্রেন্টিস। আমার এই উদ্যোগে চাচা খুব খুশী হন।
এই ঘটনার মাসখানেক পরে চাচার অনুসারীরা মৌলভীবাজারে একটি পাট বস্ত্র মেলার আয়োজন করে। তাদের অনুরোধে সেই মেলায় প্রধান অতিথির ভূমিকা পালনের জন্য তখনকার পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সম্মতি আদায় করি। সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মহসিন আলী এমপি। কিন্তু প্রতিপক্ষের হস্তক্ষেপে জেলা প্রশাসক সেই মেলার আয়োজনে বাগড়া দেন। ক্ষেপে যান সিদ্দিকী। শেষ পর্যন্ত তিনি অসম্মতি প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে। জেলা প্রশাসক ক্ষমা চাইলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। অপমানিত বোধ করেন মহসিন আলী। তিনি আমার সঙ্গে লতিফ সিদ্দিকীর হেয়ার রোডের বাসায় যান। আবদুস শহীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিদ্দিকী। সে সময় চাচার সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ উপনেতা সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। তিনি মহসিন চাচাকে সাদর সম্ভাষণ জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে সব সময়ই আমরা মহসিন ভাইয়ের সহযোগিতা পেয়েছি। কিন্তু আমার কাছে অতীতের সেই চেয়ারম্যান মহসিন আলীর চেয়ে অনেক বেশি অসহায় মনে হয় জাতীয় সংসদ সদস্য মহসিন আলীকে।

SAMSUNG CAMERA PICTURES

২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর মন্ত্রী পরিষদে চমক আসে। আমার চাচা সৈয়দ মহসিন আলী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। খবর পেয়ে ছুটে যাই তার ন্যাম ফ্ল্যাটের বাস ভবনে। গিয়ে দেখি আমার কাকা শ্রীমঙ্গল উপজেলার চেয়ারম্যান রণধীর দেবসহ বহু লোক। আমাকে দেখে সবার সামনেই উল্লাস প্রকাশ করে চাচা বললেন, ভাতিজা তোমার কবিতার বই কই? বহুদিন তোমার কবিতা শুনি না। এই হলেন মহসিন আলী। অনেক উপেক্ষার পর যে মন্ত্রিত্ব তিনি লাভ করেছেন সেই আনন্দের চেয়েও বড় তার কাছে আমার কবিতা। কিন্তু কি বিচিত্র কারণে যেন প্রথম থেকেই মিডিয়া তাকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরল। তার অসতর্ক সরল কথাবার্তা নিয়ে শুরু হলো মশকরা। আমি চাইলাম মিডিয়ার সঙ্গে তার একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে। কিন্তু সুযোগ পেলাম না। টের পেলাম একটা কৃষ্ণ বলয় তাকে ধীরে ধীরে আমাদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছে। যাদেরকে কোনো দিন আগে দেখিনি এমন সব লোক তার ডানেবামে। পরবর্তীতে সেখানে আরও যোগ হলো অযোগ্য, অপদার্থ আরও কিছু লোক। এদের কারণে ঘটতে লাগলো একের পর এক দুর্ঘটনা। প্রকাশ্যে ধূমপানের কারণে যখন মিডিয়ায় ঝড় উঠল তখন কলম না ধরে থাকতে পারলাম না। লিখলাম আমার অনলাইন মাধ্যমে। তারপর যখন পতিতাপল্লী উচ্ছেদকারীদের শিরশ্চেদের হুমকি দিয়ে আবার মিডিয়ার কাছে ভিলেন হলেন তখনো আমি তার ভূমিকাকে যীশু খ্রিষ্টের সঙ্গে তুলনা করলাম। সমগ্র মিডিয়া সাম্রাজ্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চাচার পক্ষে কলম হাতে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম। চাচার অনুসারীরা সেগুলো শেয়ার করে ছড়িয়ে দিল ফেসবুকে। আমি ভাবতাম এগুলো নিশ্চয়ই মন্ত্রী মহোদয়ের চোখে পড়েছে। অনেক পরে জেনেছি মহসিন আলী আদৌ অনাইন বান্ধব ছিলেন না। আমার লেখাগুলো কেউ তাকে দেখায়নি। আমার প্রতি তার স্নেহের কমতি ছিল না। কিন্তু সেটা এই লেখার জন্য নয়। পারিবারিক সম্পর্ক আর কবিতার জন্য। আমি খবর পেতাম চাচা অনেক অনুষ্ঠান করেন তার বাসায়। কিন্তু আমি খবর পাই পরে। একদিন তাকে জিজ্ঞেস করি। আর তখনই বেরিয়ে আসে থলের বেড়াল। চাচা ভাবতেন, আমি দাওয়াত পেয়েও তাকে উপেক্ষা করি। আর আমি ভাবতাম তিনি দাওয়াত দেন না। মাঝখানে এক কুচক্রী মহল এই কারসাজি করছে। তখন থেকে তিনি তার মিন্টু রোডের বাসায় প্রায় সকল অনুষ্ঠানে আয়োজকের দায়িত্ব দেন আমাকে। অন্যদিকে চাচার মধ্যম কন্যা সৈয়দা সানজিদা শারমিন আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে চাচার জীবনী রচনার। তবে কাজটি সহজ ছিল না। কারণ সৈয়দ মহসিন আলী ভোর থেকে গভীর রাত্রি পর্যন্ত ছিলেন মানুষের জন্য নিবেদিত। নিজের জীবন কথা শোনানোর মতো সময় কোথায় তার।

somaj
এরই মধ্যে কাটাবনে আমার অফিস উদ্বোধন করতে যান। কনকর্ড এম্পোরিয়ামে বেসম্যান্টে অফিস। তার হাঁটুতে ব্যথা। এসব নিয়েই পরম স্নেহে আমার অফিস উদ্বোধন করেন। আলোচনা চলছে অফিসে। কিন্তু তিনি চেয়ারে বসে নেতিয়ে পড়েছেন। নিজেকে আমার অপরাধী মনে হচ্ছিল। অফিস উদ্বোধন করতে নিয়ে এসে এই অসুস্থ মানুষটিকে কষ্ট দিচ্ছি। হঠাৎ চাচা বলেন, চা আনো। দৌড়ে চা নিয়ে আসা হলো। পান করলেন। তারপর অনুমতি চাইলেন ধূমপানের। পরপর তিনটে সিগারেট ধরালেন। ততক্ষণে আমি তার কাছে ক্ষমা চেযে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানছি। কিন্তু তিনি আমাকে থামিয়ে দিয়ে অসাধারণ এক আলোচনা শুরু করলেন। এরপর সবার অনুরেধে একের পর এক গান। সবাই অবাক। চোখ বন্ধ করে তিনি যে সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন সেটা বুঝতেও কারও বাকি থাকল না। কাটাবন কনকর্ড এম্পোরিয়ামের সেই মার্কেট নববর্ষের বই মেলাতেও তিনি এসেছিলেন আমার আমন্ত্রণে। আয়োজনে দীনতা ছিল, কিন্তু ভাতিজার আমন্ত্রণ গ্রহণে কখনোই কার্পণ্য ছিল না চাচার।
প্রেসক্লাব ও পাবলিক লাইব্রেরির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সৈয়দ মহসিন আলীর সঙ্গে বিশেষ অতিথির মর্যাদা লাভ করেছি। ঢাকা ক্লাবও বাদ যায়নি। কিন্তু দূরে কোথাও তার সফরসঙ্গী হবার সুযোগ হয়নি আমার। মন্ত্রী হবার কয়েক মাস পর শ্রীমঙ্গলে বালিশিরা ভ্যালিতে তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে সঙ্গে গিয়েছিলাম আমি। সেখানে তিনি এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন গান গেয়ে আসর মাতিয়ে তুলেছিলেন। চাচার অনুরোধে সেখানেও কবিতা পাঠ করি আমি। পরে তার আমন্ত্রণে শ্রীমঙ্গলেই থার্টি ফার্স্ট নাইট ও বর্ষবরণের অনুষ্ঠান অংশ নেই।
একবার বাংলাদেশ রেলওয়ের বিশেষ সেলুনে তার সফরসঙ্গী হবার সুযোগও পেয়েছিলাম সেখানে আমার খাওয়া, ঘুম সবকিছু ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সব ব্যাপারেই ছিল তার সজাগ দৃষ্টি। পিতার মমতা নিয়ে তিনি অনেক সময় আমার মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে তাকে নেপাল সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সে দেশের রাষ্ট্রদূত। সেখানে তিনি তার খরচে আমাকে সফরসঙ্গী করতে চেয়েছিলেন। জমা নিয়েছিলেন আমার পাসপোর্ট। তাকে ঘিরে থাকা অযোগ্য অদক্ষ, কুচক্রীকূলের মুখ কালো হয়ে গিয়েছিল। পরে যখন বিশেষ কারণে সেই সফর বাতিল হলো তখন যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ল তাদের। কারণ আমি সঙ্গে গেলে তাদের অনেক জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাবে। বিশেষ করে আমি পাশে থাকলেই মিডিয়ায় সৈয়দ মহসিন আলীর ইতিবাচক ইমেজ গড়ে উঠবে এটা বুঝতে তাদের অসুবিধা হচ্ছিল না। এটা একটা প্রমাণিত সত্য ছিল, যতগুলো জায়গায় তিনি প্রকাশ্যে ধূমপান করেছেন, অকথ্য গালাগাল করেছেন সাংবাদিকদের তার কোনটিতেই আমি পাশে ছিলাম না। শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত এই লোকটিকে ওই অপদার্থরা উত্তেজিত করত তাদের কীর্তিকলাপ দিয়ে। আর তার বিস্ফোরণে ঘটত নানা অঘটন।
ব্যক্তিজীবনে লেখক, শিল্পী, সাংবাদিকদের খুবই শ্রদ্ধা করতেন সৈয়দ মহসিন আলী। তিনি গুণীর কদর করতে জানতেন। প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় তিনি শিল্পীদের সাহচর্য নিতেন। বসাতেন কবিতা ও গানের আসর। মাহফিল শেষে ছোটবড় সবাইকে একসঙ্গে আপ্যায়ণ করতেন নৈশভোজে। রাত গভীর হলে তাদের যাতায়াতের ব্যবস্থাও করতেন। পরবর্তীকালে মিন্টু রোডের সেই বাড়িতেই গুণী শিল্পীদের জন্য গড়ে তুলেছিলেন অতিথিশালা।
গরিব মানুষরা খুব সহজেই এই ব্যতিক্রমধর্মী রাজনীতিবিদের কাছে যেতে পারত। তার দরজা ছিল সবার জন্য খোলা। আমি নিজের চোখে দেখেছি ময়লা পোশাকের অনেক নরনারী এসে মন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরছে। তাদের সুখ দুঃখের গল্প শোনাচ্ছে। তিনি তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করছেন। তার বাসায় প্রতিদিন কয়েক শ মানুষের রান্না হতো। গরিব রোগীদের জন্য তিনি চিকিৎসার ব্যবস্থা করতেন। এমনকি নিজের বাস ভবনেই গড়ে তুলেছিলেন গরিব রোগীদের জন্য মিনি হাসপাতাল। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত তিনি সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। তাদের প্রতিকারের ব্যবস্থা করতেন। আমি একদিন ক্ষোভের সঙ্গে তাকে বলেছিলাম, আপনি এখন দেশের মন্ত্রী। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি নন। সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন কখন। জবাবে তিনি বলেছিলেন, এই সাধারণ মানুষেরাই সাইফুর রহমানের মতো জাঁদরেল রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে আমাকে ভোট দিয়েছে। বিনিময়ে তাদের কথা আমাকে শুনতেই হবে। ভুপেন হাজারিকার ‘মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্যে’ গানটি তিনি খুব ভালোবাসতেন। এর কথাগুলো মনে প্রাণে গ্রহণও করেছিলেন। তিনি সমাজতন্ত্রের সমর্থক ছিলেন। আমি বলতাম, আপনার কথাবার্তা তো বামপন্থীদের কাছাকাছি। তিনি বলতেন আওয়ামী লীগ একটা প্লাটফর্ম। এর মধ্যে ডানপন্থী আছে। বামপন্থীও আছে। তিনি অবশ্যই বামপন্থী আওয়ামী লীগার।
সৈয়দ মহসিন আলী কোনো খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অনেক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে আমরা বিপথগামী হতে দেখেছি। কিন্তু সৈয়দ মহসিন আলীকে আমরা দেখেছি মনে ও মননে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করতে। তিনি ছিলেন উদার, আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব।
সৈয়দ মহসিন আলী কট্টরপন্থী ধার্মিক ছিলেন না। তবে নাস্তিকও ছিলেন না। তিনি সুফীবাদী তরিকায় আস্থাশীল ছিলেন। পীর-ফকিরে তার আস্থা ছিল। মাজার সংস্কৃতির প্রভাব ছিল তার মধ্যে। তার অন্তিম শয্যাও হয়েছে হজরত শাহমোস্তফা (রঃ) এর দরগায়। তিনি জানতেন যুক্তিতে বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত, বিশ্বাসে ধর্ম। একজন যুক্তিবাদী বিশ্বাসী হতে পারেন। আবার একজন বিশ্বাসীও যুক্তিবাদী হতে পারেন। সৈয়দ মহসিন আলী ছিলেন সে রকমই একজন মানুষ। তিনি লোক দেখানো ধর্ম কর্মে আগ্রহী ছিলেন না। সঙ্গীত ছিল তার কাছে প্রার্থনার মতো।


সহিংসতার বৃত্তের বাইরে = সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা

রবিবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৬

বদরুলের উপযুক্ত শাস্তি, খাদিজার সুস্থতা সব মানুষের চাওয়া এখন। কিন্তু সুস্থ হয়ে উঠলেও স্বাভাবিক জীবন আর খাদিজা পাবে কিনা জানা নেই। কিন্তু বাংলাদেশের নারীরা জানলো, যত কুলাঙ্গারই হোক পুরুষের প্রেমের আহ্বান ফিরিয়ে দিলেই বীভৎস আক্রমণ।

একটি মেয়ের স্বাধীন ও সহজ জীবনযাপনের অন্যতম শর্ত— তার শরীরটিকে কীটদংশন থেকে বাঁচিয়ে রাখা। কিন্তু সেটিই অসম্ভব হয়ে পড়ছে বদরুলদের জন্য। বদরুল কুপিয়েছে, কেউ অ্যসিড মারে, কেউ ধর্ষণ করে। বাংলাদেশের সমাজ এখন আর সম্পূর্ণভাবে পুরুষতন্ত্র ও তার ধ্বজাধারীদের কবলে নেই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষকে লিঙ্গপরিচয়ের ঊর্ধ্বে দেখার চোখ তৈরি হচ্ছে। কিন্তু এসব কাণ্ড বলে দেয় নারীকে হেয় করে দেখে যে সমাজ, তার ব্যাপকতার তুলনায় এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অতি ক্ষুদ্রপরিসরে বিরাজমান।

সিলেটের ঘটনা সমাজের চোখ খুলবে কিনা ঠিক নেই, তবে আলোচনা হচ্ছে। বারবার যখন এমন ঘটে তখন প্রশ্ন আসে, একটি মেয়ে শুধু কিছু মাংস ও যৌনগ্রন্থির পুঁটুলি এই মনোভাবের উৎস কোথায়? এটা কি প্রাকৃতিক নিয়ম যে পুরুষ নারীর সম্মতির পরোয়া করবে না? না কি তা পরিবেশ দূষণের মতোই ভোগাকাঙ্ক্ষী মানুষের দূষিত চরিত্র? পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কি এরা কোনো শিষ্টাচারের শিক্ষা পায়নি?

সহিংসতার বৃত্তের বাইরে  


অনেকে বলছে নিগ্রহকারীদের নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন, তাই কঠোর শাস্তির পাশাপাশি  মনের সংশোধনে নজর দিতে হবে। কিন্তু তার পথ কতটা খোলা রেখেছি আমরা? মা-বোন ছাড়াও যে একটি মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব আর প্রীতির সম্পর্ক রাখা যায়, দক্ষতা ও মেধায় মেয়ে আর ছেলেতে কোনও তফাত নেই,  এই বোধ স্কুল, কলেজে ছেলে মেয়েদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার এক বড় বাধা মেয়ে ও ছেলেদের আলাদা স্কুল ও কলেজ। লিঙ্গ সচেতনতার পাঠ ঠিকভাবে নিতে হলে আরো সব স্কুল কলেজকে কো-এডুকেশন সিস্টেমে আনতে হবে। তবেই ছেলেরা শিখবে যে মেয়েটি তার পাশে সেও তার মতো মানুষ। এই সংবেদনশীল বোধ কত জরুরি প্রতিটি পরিবার আজ বুঝছে হারে হারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন বদরুলের কঠিন শাস্তি হবে। তার রাজনৈতিক পরিচয়ের চাইতে বড় পরিচয় সে অপরাধী। আমরা আশ্বস্ত হতে চাই। সমাজের সর্বত্র যে আলোড়ন উঠেছে, আশা করি বদরুল সত্যিই উপযুক্ত শাস্তি পাবে। কিন্তু অবাক হয়ে লক্ষ্য করার বিষয় এর মধ্যেই কিছু লোক বদরুলের পক্ষে যুক্তি দেখাবার চেষ্টা করেছে, সেটিতে কিছু লোক আবার সমর্থনও দিচ্ছে। তাই বলতেই হয় মূল অভিযুক্ত যেমন আইনের চোখে দণ্ডের যোগ্য, নারীর প্রতি হিংসাকে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে সমর্থন করেন, নিজের দায়বদ্ধতা পালন না করে অথবা কর্তব্যের সীমা উল্লঙ্ঘন করে, তাদেরও প্রাপ্য অপরাধীর শাস্তি ও জনমানস থেকে প্রত্যাখ্যান।

পুরুষরা মেয়েদের কী চোখে দেখছে? দখলদারির বাইরে গিয়ে কোনও সম্পর্ক স্থাপন করা কি আদৌ সম্ভব নয়? সিলেটের ঘটনার পর উত্তর খুঁজছে পুরুষরাও। উত্তর খুঁজতে হবে রাষ্ট্রকেও। একটা দেশের অর্ধেক নাগরিক যদি একটা প্রান্তিক অবস্থায় নির্বাসিত হয়, তাদের ক্রমাগত অবিচার, লাঞ্ছনা এবং সহিংসতার শিকার হয়, তা হলে সেই দেশের পক্ষে সত্যিকারভাবে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব।  বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নতির পথে চলতে সংকল্পবদ্ধ, কিন্তু পারছেনা। এই খুনি বদরুলরা সমাজের স্তরে, স্তরে, ঘরে ঘরে পথ আগলে বসে আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পারিবারিক হিংসা দৈহিক আঘাত থেকে শুরু করে মানসিক অবসাদ, নানা ধরনের স্বাস্থ্য-সমস্যা সৃষ্টি করে। সমস্যাগুলির পারস্পরিক সম্পর্কও অনেক সময়েই রীতিমত প্রবল। যেমন, পারিবারিক হিংসা মেয়েদের যে মানসিক সংকটে ফেলে, অন্তঃসত্ত্বা মেয়েদের ক্ষেত্রে তার একটা বাড়তি প্রতিক্রিয়া থাকে— নবজাতকের ওজন কম থাকে, যা শিশুর স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির পক্ষে ক্ষতিকর। মেয়েদের উপর হিংসার ফলে মেয়েদের আয়, কর্মক্ষমতা এবং সাফল্যের সম্ভাবনা ব্যাহত হয়, বিচ্ছিন্নতা বাড়ে, কাজ করার সামর্থ্য বিপন্ন হয়, কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ কমে, নিজেদের ও শিশুদের দেখভাল করার সামর্থ্য কমে। তাই, মেয়েদের উপর হিংসা প্রকারান্তরে প্রবৃদ্ধিকে রোধ করছে।

অনেক দেশেই নারী নির্যাতন রোধে আইন হচ্ছে, বাংলাদেশও ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু সেইসব আইন প্রয়োগের জন্য দেশকে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে তৎপর হতে হবে, যাতে প্রশাসনের দায়বদ্ধতা বাড়ে, অপরাধীরা শাস্তি পায়।  যারা সমাজের সর্বস্তরে কাজ করছেন তাদের সঙ্গে নীতিকারদের যোগাযোগ বাড়াতে হবে। একটা সামগ্রিক উদ্যোগ জরুরি। সেই উদ্যোগে পুরুষের ভূমিকা, ছেলেদের ভূমিকা, সমাজনেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যে গভীর লিঙ্গবৈষম্যের মানসিকতা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে নারীদের প্রতি হিংসা বাড়ায় তাকে সমাজের মন থেকে নির্মূল করার কাজে নামতে হবে।

সমাজকে অনুধাবন করতে হবে সুস্থির গণতান্ত্রিক সমাজ, স্বচ্ছ এবং দায়বদ্ধ প্রশাসন, শান্তি ও নিরাপত্তা, বাজার অর্থনীতির সমৃদ্ধি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রসার চাইলে নারীর প্রতি যে সহিংসতার বৃত্ত বিরাজান তার বাইরে যেতে হবে। নারীর সুস্থ, নিরাপদ জীবন যাপন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং ক্ষমতায়নে সমান সুযোগ  পরিবার, সমাজ এবং জাতির সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে।