Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

স্বাগতম ২০১৭ সাল -- পৃথিবী হয়ে উঠুক শান্তিময় : এবিএম সালেহ উদ্দীন

শুক্রবার, ০৬ জানুয়ারী ২০১৭

সময় কীভাবে চলে যায়। সময় কারো জন্য অপেক্ষা করে না। সময় তার গতিতেই চলে। এই চলার মধ্যে কোন বিরতি নেই। যেমন দেখতে দেখতে চলে গেল ২০১৬ সাল। পৃথিবীর মানুষের আনন্দ, বেদনা, কষ্ট-নিকষ গ্লানিবোধ থেকে কিংবা আনন্দের অবগাহনে গত বছরটি কালের গর্ভে হারিয়ে গেল চিরকালের তরে। আগমন ঘটলো নতুন বছর ২০১৭ সাল। একটি বছরের হিসাব নিকাশের ফলাফল যোগ-বিয়োগ করলে দেখা যাবে পৃথিবীর প্রাপ্তির চেয়ে হারানোর পরিমানই বেশি। বিগত একটি বছরে কী পরিমান মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান নেই। অথচ প্রত্যেকের মাঝে প্রতিবছর আগামী দিনের শাšিতর প্রত্যাশায় যে অঙ্গীকার থাকে তার সিংহভাগ অপূর্ণই থেকে যায়।
এই ক্ষেত্রে মানুষের কথা যদি বলি- তা’হলে দেখা যাবে মানুষই মানুষের শত্র। মানুষের হিংস্রতা, পাশবিকতা ও ধ্বংসের উন্মাদনা এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে তখন ঐ মানুষ আর মানুষ থাকে না। হিংস্র পশুর চেয়েও অধম এমন অমানুষদের বর্বরতায় নিরীহ মানুষের
মর্মাšিতক  প্রাণহানি ঘটে। এখানে নীটসের বিখ্যাত উক্তিই সত্য। তিনি বলেছেন ” মানুষ আর পশুর মাঝে খুব একটা পার্থক্য নেই। মানুষ সর্বদা সহজাত প্রবৃত্তির তাড়নায় লোভ, লালসা, আহার মৈথুনের ব্যবস্থায় তৎপর থাকে, কখনও সে পশুর চেয়ে ভয়ংকর ও পাশবিক হয়ে ওঠেÑ কিন্তু অন্য সব প্রাণীকুল তার বিপরিত।” -হ্যাঁ, মানুষের মাঝে ভয়ংকর হিস্ত্রতা এতই প্রবল যে, অনেক সময় সে পশুর চাইতেও বেশি বিপজ্জনক। ক্ষমতা, লোভ-লালসা আর হীন স্বার্থ চরিতার্থের জন্যে মানুষ অনেক ভয়ংকর কাজ করতেও দ্বিধা করে না। কখনও সে অত্যন্ত নির্মম,নৃশংস হিংস্র হয়ে ওঠে। আর সে কারণেই আজকের পৃথিবীতে মানুষের করুণ অবস্থা। বর্ববরতা ও হীন স্বার্থপরতার কারণেই আজকের চলমান পৃথিবীটা বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। মানুষের ভেতর থেকে উঠে গেছে দয়া, মায়া ও ভালোবাসা। সর্বত্র শুধু  মানবতার সংকট।
আবার এটাও সত্যিই কিছু মানুষের উদ্যোগ, ত্যাগ ও বলিষ্ঠ ভূমিকার ফলেই পৃথিবীর শাšিত ও স্বস্থির দুয়ার খুলে যায়। ঐ সব ভালো মানুষগুলোর কারণে পৃথিবী এখনও টিকে আছে।
প্রথম মহাযুদ্ধের পর ১৯২০ সালে ’লীগ অব ন্যাশন’ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল শাšিতর জন্য। কিন্তু শাšিত প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় নি। তিরিশের দশকে পৃথিবীর কোন কোন দেশের  স্বৈরতন্ত্র এতই প্রবল হয়ে উঠলো যে, বিশ্বময় শাšিতর পরিবেশ নষ্ট গেল। চারিদিকে উগ্র ক্ষমতাসীন শোষকদের জাঁতাকলে বিপন্ন হলো শান্তি ও স্ব¯িত। শুরু হলো  দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ। তারপর ‘ইউনাইটেড ন্যাশন’ জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা। যার লক্ষ্য ছিল স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া। পৃথিবীকে শাšিতময় রাখা এবং মানুষের স্বাধীনতার পথ উন্মোচন করা। প্রতিটি দেশের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। মানুষকে শান্তিতে বসবাসের উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, জাতিসংঘ তা করতে পারে নি।
বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার,শেষাšেত জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাগিতে মানব বিধ্বংসী যে, ভয়ংকর বোমাবর্ষনে হয়েছিল কী পরিমান অতি নিরীহ সাধারণ মানুষের মর্মান্তিক প্রাণহানি ঘটেছিল? কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে সেই বিষাক্ত বোমায় যারা মারাত্মক বিষাক্রান্ত হয়েছিল তারা শুধু বিকলাঙ্গই হয়ে যায় নি। তাদেরঔরশজাত সন্তানও বিকলাঙ্গ হয়েছে। তার পরবর্তী সব ইতিহাস কমবেশি সবারই জানা।
  পৃথিবীর অনেক দেশ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আটকা ছিল। স্বাধীনভাবে চলার অধিকার ছিল না । তন্মধ্যে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের চিত্র ছিল ভয়ংকর। ভারতবর্ষসহ অনেক দেশে বৃটিশ অপশক্তির রাজত্ব ছিল। কিন্তু শেষ পর্যšত বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিষ্পাপ ছড়ানো বীজ রেখেই কোন কোন দেশের খন্ডিত স্বাধীনতার ব্যবস্থা হলো। যার পরিণতি ছিল আরও ভয়াবহ। যেমন ভারতবর্ষ সেই বীষে এখনও আক্রাšত। পাকি¯তান ও ভারতের খন্ডিত স্বাধীনতার ফলাফল ভাল হয় নি। এখনও ঐসব দেশের কোন কোন অঞ্চলে গণ মানুষের মুক্তির লড়াই এখনও থেমে যায় নি। তবে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যের দিক হচ্ছে যে, তথাকথিত দুষ্টু পাকি¯তানী শাসকদের বৈষম্য ও অনাচার থেকে মুক্তি লড়াই,সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভুদ্বয় ঘটে।
বলাবাহুল্য, বৃটিশের ফেলে যাওয়া তরকার উপর একই নিয়মে কথিত পাকি¯তান ও ভারতের শাসকদের মাধ্যমে জনগণের উপর নিপীড়নের চিত্র এখনও জম্মু কাশ্মীরসহ অনেক অঞ্চলেই দেখা যায়।
তেমনই ফিলি¯িতন দেশটির অ¯িতত্ব বিলুপ্ত করে দেয়ার দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় ইসরাঈল নামের রাষ্ট্রপুঞ্জের আগ্রাসনে ঐতিহ্যবাহী ফিলি¯িতন ও লেবাননের অ¯িতত্ব বিলীন হওয়ার পথে। সেই দেশটির প্রায়উ সবই এখন ইসরাঈলের দখলে। ফিলি¯িতনের ভুখন্ডে ইসরাঈলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে ফিলি¯িতনের অসহায় মানুষের দুর্দশার পেছনেও ছিল সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশের ষড়যন্ত্র।    
বলাবাহুল্য, ইসরাঈলের আগ্রাসনে ঐসব দেশ সমূহের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটেছে তার কোন পরিসংখ্যান নেই। সেই ১৯৪৭-৪৮ থেকে ইসরাঈলী বর্ববরতা, হিংস্রতা ও পাশবিকতার বীভৎস কলংক সমগ্র পৃথিবীকে কাঁদিয়েছে। সবই ঘটেছে সাম্রজ্যবাদের ছত্রছায়ায় এবং বড় দেশের প্রতক্ষ মদদে। অন্যদিকে ভারববর্ষে বিভিন্ন সময়কার বীভৎস দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও রক্তপাতের ইতিহাস অনেকের জানা আছে।
বিশ্বযুদ্ধের পর সাম্রাজ্যবাদী চেতনায় স্বাধীনতার নামে আরও দেশের উদ্ভব ঘটলো। তথাকথিত প্রতাপশালী দেশগুলোর নাটকের অংশ হিসাবেই কোন কোন রাষ্ট্রের উদ্ভব। যার ফলশ্র“তিতে কয়েক দশকের মধ্যে কীভাবে পৃথিবীর স্বৈরতন্ত্র ভয়ংকর থেকে আরও বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠলো।

alt
জাতিসংঘ কিছুই করতে পারলো না। বরং তার গড়া রাষ্ট্রপঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের নাট্যমঞ্চকে সরব রেখেই পৃথিবীর নানা প্রাšেত স্বৈরতন্ত্র ও শোষকশ্রেণী আরও বেশি পোক্তভাবেই  মাথাচড়া দিয়ে ওঠে এবং অনেকে এখনও বহাল রয়েছে।
হায়রে কপাল! সবাই শুধু হিটলারকে দোষারোপ করে নিজের উগ্রতা ও শক্তিমতার উন্মত্ততাকে আরও বেগবান করার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। সবাই কিন্তু শাšিতর কথা বলেই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধকে প্রলম্বিত করছে। অথচ সেইসব যুদ্ধের শিকার হয় নিরীহ মানুষ।  আর এটাও সত্যি যে, স্বৈরতন্ত্রের হিংসাত্মক অভিলাষের উন্মত্ত প্রদর্শনের জন্য অনেক দেশের রাষ্ট্রপুঞ্জ খুব ব্যতিব্য¯ত। ফলে, পৃথিবী আরও অনাকাঙ্খিত ধ্বংসের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে।
ধ্বংসের দিকে এগিয়ে গোটা বিশ্বকে অশাšত করণে পারমানবিক বোমা মজুতকারী দেশের সাথে আরও কিছু ছোট ছোট দেশ উগ্রবাদী নীতিতে স্ব স্ব দেশে শক্তি সঞ্চয় করে যাচ্ছে। তারা অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ক্রয় করে নিরীহ মানুষের উপর প্রয়োগ করছে।
মনে আছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট দ্বিতীয় জর্জ বুশ সন্ত্রাস নির্মূলের কথা বলে ইরাক আক্রমণ করেছিলেন। সেই জাতিসংঘের অনুমোদন ছিল না। পৃথিবীর সব অধিকাংশ দেশ এবং বিশ্বের শাšিতকামী মানুষ সেই অমানবিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু জর্জ বুশ কারো কথা শোনেন নি। তিনি আগ্রাসন চালালেন। সংগে ছিলেন বৃটেনের টনি বেয়ার। সাদ্দাম হোসেনের গড়া আধুনিক ইরাক ধ্বংস হয়ে গেল। সাদ্দামের ফাঁসি হলো। ইরাকী জনগণের দু:খ, দুর্দশা কমলো না। বরং হাজারগুনে বেড়ে গেল। সন্ত্রাস বন্ধ হলো না। বরং শতগুনে সন্ত্রাসের আন্ডা-কন্ডাসহ বেড়ে গেল ভয়াবহভাবে। বড় দেশের ছত্রছায়ায় আলকায়েদা, তালিবান,কিংবা আই এস নামের জঙ্গীবাদী দুষ্টু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে। শাšিত আসে নি। বর্তমানে ভয়ংকর ভাবে সন্ত্রাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বময়।
স্বৈরতন্ত্রের কোন সুফল নেই। স্বৈরতন্ত্র সর্বদাই মানবতার শত্র“। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশে স্বৈরতন্ত্রই শক্তিশালী ।  সিরিয়ায় জগদ্বল পাথরের মতো চেপে থাকা স্বৈরশাসক বাশার আসাদের অত্যাচার ও নিষ্পেষণে এ পর্যšত লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিনিয়ত সেখানে নিরীহ মানুষের করুণ মৃত্যু হচ্ছে। অসহায় নারী-শিশুসহ লক্ষ লক্ষ মানুষ দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
মিশরের স্বৈরশাসক মোবারকের পতন হলেও সেখানে আবারও চেপে বসেছে স্বৈরতন্ত্র। সৌদী স্বৈরতান্ত্রিক রাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য পার্শবর্তী দেশ ইয়ামেন ধ্বংস হয়ে গেছে। যে দেশটি এক সময় এই সৌদী রাজতন্ত্রের স্রষ্টা আবদুল আজীজ ও তার পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছিল। তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করেছিল। সেই দুর্দিনের বন্ধু দেশটিকে অত্যšত নির্মমভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে বর্তমান সৌদী শাসক। ইয়েমেনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও জনগণের জীবন জীবিকার সম¯ত কিছু ভয়ংকর বোমার আঘাতে আঘাতে তছনছ করে দিয়েছে। বলাবহুল্য, সৌদী আরবের সেই সব মারণাস্ত্রের যোগানদাতা হচ্ছে ইসরাঈল। উপরে আলখালা আর ভিতরে রাজতন্ত্রের বিষাক্ত ছোঁয়ায় সৌদী সরকারের মানববিধ্বংসী এক তরফা যুদ্ধ ও বর্ববরতায় ইয়ামেনের হাজার হাজার মানুষের করুণ মৃত্যু হয়েছে। ফকির হয়ে গেছে দেশটি ও তার জনগণ।
পৃথিবীর অধিকাংশ দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাসীনদের স্বৈরতন্ত্রী মানসিকতার ফলে কী পরিমাণ ধ্বংস নেমে আসে তার অসংখ্য নজীর আছে। এই নিবন্ধের মাধ্যমে তা তুলে ধরা সম্ভব নয়। তবে,গত বছরের মধ্যপ্রাচ্যসহ পশ্চিম এশিয়ার দেশ সমূহের করুণ অবস্থায় পৃথিবী কাঁদবে অনেক দিন।
দক্ষিন এশিয়ার দিকে নজর দিলে দেখা যায়, ভারত, পাকিস্তান ও আফগানি¯তানের কোন একটা পরিবর্তন ঘটেনি। বিশেষ করে পাকি¯তান ও আফগানি¯তানে জঙ্গী তৎপরতা ও বেপরোয়া সন্ত্রাসী হামলা অনবরতই হচ্ছে। পালায় পালায় দেশ দু’টিতে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে বহু মানুষের অকাল মৃত্যু হচ্ছে করুণ ভাবে।
অতীব দূর্ভাগ্যের বিষয় যে, ঐসব দেশের সন্ত্রাসের রেশ বাংলাদেশেও গিয়ে পৌঁছেছে। রাষ্ট্রীয় বিতর্কিত বিধি বিধানের মধ্যেও সেখানে এক ধরণের উদ্ভট জঙ্গীবাদের সৃষ্টি হয়েছিল। ধর্মের দোহাই দিয়ে এক ভূয়া জিগির তুলে দেশময় আতঙ্ক ছড়িয়ে জঙ্গীদের হামলায় বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানী ঘটেছে। বিশেষ করে, গুলশানের হলি আর্টিজান হোটেলে জঙ্গী হামলায় কয়েকজন বিদেশী নাগরিকসহ বেশকিছু মানুষের মর্মাšিতক মৃত্যু হয়েছে। ঐ পাশবিক হামলায় সারাদেশ ও বিশ্ব ¯তম্ভিত হয়ে পড়েছিল। বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগি পদক্ষেপের ফলে পরবর্তীতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কিছুটা কমতি থাকলেও রাষ্ট্রপুঞ্জের ছত্রছায়ায় সমগ্র দেশের রাজনৈতিক নেতা কর্মী গুম,হত্যাকান্ড এবং সামাজিক অবক্ষয় ও পাশবিকতা বেড়ে গেছে। সংখ্যালঘুদের উপর সন্ত্রাসী হামলার চিত্র ছিল আরও করুণ আরও ভয়াবহ।
  সমগ্র পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের করুণ অবস্থার চিত্রের বর্ণনা দেয়া কঠিণ। তবে একটি মানববিধ্বংসী কিট সর্বস্ব দেশ বার্মার বর্ববরতার চিত্র এতই করুণ এবং ভয়াবহ(!) তা বর্ণনা করা অসম্ভব। একটি ছোট দেশ। অথচ তার শাসকবর্গ পশুর চেয়েও বর্বর ও অসভ্য। সেই দীর্ঘকালের সামরিক হিংস্র জাšতা’র বর্বরতা,অত্যাচার ও নির্যাতনের ভয়াবহতার বর্ণনা দেয়া দু:সাধ্য ব্যাপার। যুগ যুগ ধরে দেশটির শাসকদের দুশাসনে এ যাবত কী পরিমাণ নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে তার হিসাব নেই। এক সময়কার আরাকান সভ্যতার লীলাভূমি এই বার্মার সব রকম মানবিক ঐতিহ্যময় ইতিহাসকে ম্লান করে দিয়েছি। বর্তমান হিংস্র শাসকদের মাধ্যমে ঐ দেশটির সভ্যতার ঐতিহ্যের মূলৎপাটন ঘটিয়ে পৃথিবীর সর্ব নিকৃষ্টতম এমন এক অদ্ভুত রাষ্ট্রীয় প্রশাসন চালু আছে;যার আপাদ-মস্তক অসভ্যতা ও বর্বরতায় ভরা। যার সামাজিক কোন মানবিক ভিত্তি নেই। যার প্রত্যক্ষ মদদে দেশের উগ্র জনতা পাশবিকভাবে সর্বদাই শুধুমাত্র রোহিঙ্গার নিরীহ মানুষগুলো মারে। বর্তমান পৃথিবীর আর কোথাও এমন নির্দয় ও নৃশংসতা আছে? যেখানে নিরীহ নির্বিচারে হত্যা করে। জীবন্ত শিশু ও নারীকে আগুনে ছুড়ে ছুড়ে নৃশংসভাবে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয় ? হায়! রোহিঙ্গার ঐ নিরাপধ অবোধ শিশুদেরকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশগুলোকে খোলা মাঠে সারিবদ্ধ রেখে পেট্রোল ঢেলে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। এতেই বুঝা যায় যে, সভ্যতা বলতে আর কিছু আছে কিনা। এমন পাশবিকতার কীভাবে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো এবং জাতিসংঘ নিরব থাকে?
প্রতি বছর পালায় পালায় সেখানে শুধুমাত্র রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যা করা হয়। তাদের হাজার বছরের ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। প্রানের ভয়ে সেই হতভাগ্য মানুষ জীবন বাঁচানোর জন্য কেউ কেউ নৌপথ কিংবা যে কোনভাবে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চাইলেও সেই অসহায় নারী-শিশু ও ভাগ্যহারা মানুষগুলোকে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে পুশব্যাক করে নদীর দিকেই ঠেলে দেয়া হয়। যার পরিণতি মৃত্যু আর মৃত্যুর মধ্যদিয়েই যবনিকা টানা হয়। রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষার ক্ষেত্রে কারো কোন মাথা ব্যথা নেই।
বিশেষ করে বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের নির্লিপ্ত ভূমিকায় সবাই ¯তম্ভিত। কেমন করে এমন নির্দয়ভাবে বাংলাদেশের সরকার নিরব হয়ে থাকলো। উন্নত বিশ্ব ও জাতিসংঘের কাছে বাংলাদেশ অšতত:  তার পার্শ্বদেশ বার্মার অমানবিক বর্ববরতা বন্ধের জোরালো দাবী জানাতে পারে। কেননা মায়ানমারের এই নৃশংস ও বর্বর হত্যাযজ্ঞে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর শাšিতর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি আšতর্জাতিকভাবে সফলভাবে তুলে ধরতে পারলে অবশ্যই বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মানবিক মর্যাদা বাড়বে। এ ব্যাপারে ভারতের নির্লজ্জ নিরবতা বাংলাদেশকে আরও নির্লিপ্ত থাকার সুযোগ করে দিয়েছে।

এত নৃশংসতা, পাশবিক নির্যাতন আর হত্যাযজ্ঞের পরও জাতিসংঘ কিংবা কোন মানবিক দেশ বার্মিজ কুত্তা শাসকদের থামাতে এগিয়ে আসে না।
বর্তমান বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা (যিনি আগেভাগে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন ) মায়নমার সফর করেছিলেন কিন্তু ওখানকার অমানবিক শাসনকার্যের প্রকিতারে কিছুই করে নি। তিনি তথাকথিক নোবেল জয়ী সূচির সাথে দেখা করেছেন। কিন্তু যুগ যুগ ধরে সেই দেশের অসহায় রোহিঙ্গদের বাঁচানোর বিষয়ে কোন কথা তুলেন নি! তার আট বছরে অনেক ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু এইসব মানবিক দিকগুলোকে সুকৌশলেই এড়িয়ে গেছেন। এই হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর অবস্থা।
২০১৭ সালের শুভ্রালোকে পৃথিবীর পরিস্থিতি কোন দিকে ধাবিত হবে(?) তা একমাত্র ভাগ্য নিয়ন্তাই জানেন। তবে বরাবরের মত পৃথিবীর তাবৎ মানুষ শান্তির আশাই করবে। শান্তির জন্য প্রার্থনা করবে।
এদিকে পৃথিবীর অন্যতম আধুনিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে গেল। অনেক স্পশকাতর প্রশ্নবাণের ধুম্রজালের মধ্যেই একজন আপাদ-ম¯তক
ধন্যঢ্য ব্যবসায়ী (যিনি বিশ্ব রাজনৈতিক ও মানবিক আদর্শের ধার-ধারেন না) উচ্চাভিলাষি ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসাবে ঘোষিত হয়েছেন। যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের খেটে খাওয়া মানুষ কিংবা জাতি,বর্ণ নির্বিশেষে সর্ব¯তরের মানুষের খুব একটা সম্পর্ক নেই। যিনি কখনও রাজনীতিও করেন নি। সারাজীবন উপর তলায় জীবনভোগকারী এই ব্যক্তির কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের দু:খী মানুষের কষ্টবোধ অন্তরের ব্যথাকে কীভাবে অনুভূত ও  উপলব্ধ হবে (?) তা-ই চলমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
 যে মহান মানবিক আদর্শকে সামনে রেখে সকল মানুষের কল্যাণ ও মানবিক মূল্যবোধকে  সংবিধানের মূল চালিকাশক্তি হিসাবে পৃথিবীর সর্বোন্নত মানবিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। যে দেশের মানুষের অন্তরে শুধু মানুষেরই স্থান সে রকম দেশের প্রেসিডেন্ট এই মহান রাষ্ট্রকে কোন নীতিতে চালাবেন। সেটাই আজ বড় প্রশ্ন।
এখানে মানবতাবাদী এক মহীয়সী রমনী মাদার তেরেসাঁ’র একটি বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করতে চাই। তিনি বলেছেনÑ“ অসহায়,গরীব,দু:খী তথা সর্বোস্তরের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতে হলে, মানুষের মাঝে লীন হয়ে যেতে হয়।” মানুষের অন্তরের কষ্ট ও দু:খ উপলব্ধি করবার জন্য মানবিক ও মহৎ হৃদয় থাকতে হয়।
আমাদের প্রত্যাশা পৃথিবীর সুশীল ও উন্নত দেশগুলোর রাষ্ট্র নায়কগণ সে রকম মানবদরদী হবেন। এ প্রত্যাশ্যা সবার। যারা পৃথিবীর শান্তির পরিবেশকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারেন। সেই সকল রাষ্ট্র নায়ক, বিশ্ব রাজনীতির পরিচালকদের নিকট প্রত্যাশা। এই সুন্দর পৃথিবীকে আপনারাই পারেন রক্ষা করতে।
নতুন বছরের শুরুতে আগামী দিনের পৃথিবীতে শাšিত ও স্ব¯িতর প্রত্যাশায় এই প্রার্থনাÑ
  Ñ‘বিভিন্ন দেশের দুষ্টু শাসক ও পশুরাজদের প্রতি চাপ প্রয়োগ করে তাদের স্ব স্ব দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, শাšিত ও নিরাপত্তা বিধানের ব্যবস্থা করা হোক। সেই সাথে বিশ্বের মানববিধ্বংসী সন্ত্রাসের মূলৎপাটন ঘটিয়ে আগামী পৃথিবীতে শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করে মানুষ ও মানবতাকে বাঁচানোই হোক সকলের প্রতিজ্ঞা।’
সুন্দর ও শাšিতময় হয়ে উঠুক আগামীর পৃথিবী। জয় হোক মানুষের। জয় হোক মানবতার।
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।।
ÑÑÑÑÑÑলেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।


ফকির ইলিয়াসের একগুচ্ছ কবিতা

শুক্রবার, ০৬ জানুয়ারী ২০১৭

পুষ্ট ঝর্ণা গায়ে মাখি। পেরিয়ে শীতভোর, সূর্যকে বলি-
তুমি কি লিখবে আমার নাম। তুমি কি ধারণ করবে
আমার কবিতার জ্যোতি, আমার ধ্যানে ঘেরা সবুজ
ফসল, ফুলের বৃন্তে আঁকা প্রেমিকার জলজ কুসুম।
 
বিগত সময় বুকে আঁকি। পুকুরের বালিহাঁস, যেভাবে
টলমল স্মৃতি ঝেড়ে ছায়া খুঁজে পাড়ের রোদে, ঠিক
সেভাবেই ঘাসগুচ্ছের মাঝে রাখতে চাই হাত, পদরেখা
ডাক দিতে চাই, কাছে এসো নবীনার পালের নৌকো।
 
পুনরায় প্রেমচিঠি লিখি। হারিয়ে গেল যেসব মানুষ
অনেকগুলো কথা বাকি রেখে, আহা! বর্ষের বেদনা-
শুধু তুমিই তো জানো, বৃষ্টিবৃত্তে ফিরে যে জীবন
মানুষই কেবল অনুগত তার- পাশে রেখে কাললগ্ন ক্ষণ।

****
 Picture
তোমার ছায়ার কাছে

আমি কি কোনও ভুল করিনি! আমি কি একটি বারও
তাকাইনি সমুদ্রশামুকের দিকে! একটিবারও কি বলিনি
ঘোর কেটে গেলে এই সবুজকেই ঘিরে রাখে ভোর-
আর তার বিনম্র প্রকাশ, ছায়া হয় সকল মানুষের।
 
অনেক কিছুই করেছি আমি। অনেক আত্মদগ্ধ জোনাকীর
জালে জালে আটকে থাকে যে রাত- তাকেও বলেছি
মুক্ত রাখো বাহু হে! আবার কোনও চন্দ্র জড়াবার
দরকার হতে পারে। যেতে হতে পারে অবিচল ঝড়ের কাছে।
 
কোনও অপরাধের ক্ষমাই চাইবো না তোমার কাছে আজ।
কোনও সকালকেই বলবো না- আরেকটু ধীরে বও!
অনেক কিছুই হারিয়ে গিয়েছে। আরো যাক- আরো,
আঁধার চিরে ভাসুক মুখ তোমার- প্রিয়তমা পৃথিবী আমার।
 
****

ভূমিকম্পের আগে

তোমার কাঁপন দেখলেই বুঝতে পারি, কেউ
সমুদ্রে গভীর রাতে খেলেছে ঢেউখেলা। দিগন্তের
আড়মোড়া ভেঙে উঠছে পূবের সূর্য। কামকুয়াশায়
ভেজা পৌষের শেষ সন্ধ্যা- কয়েকটি রক্তজবা হাতে
অপেক্ষা করেছে আরেকটি কাঁপনের।
 
পৃথিবী কেঁপে উঠলে ভয় পায় মানুষ। মানুষ কেঁপে
উঠলে গোলাপ ছড়িয়ে দেয় তার প্রথম পরাগ।
 
পরাগায়ণের প্রথম নিশীথে- একটি উটপাখি কাঁধে
তুলে নিয়েছিল পৃথিবীর ভার। সেই পাখিটির একটি
পালক খসে পড়লেই আমাদের চারপাশে ভূমিকম্প
হয়। আমাদের প্রেমিকারা স্পর্শের বিজলীতে আবার
খুলে দেয় তাদের খোঁপার সম্ভার।
 
****

বিনম্র বিষের মায়া

সাক্ষী দিতে গিয়ে দেখি আমার ছাউনি সরিয়ে নেয়া হয়েছে
বেশ আগে। দংশনের বিপক্ষে কথা বলার আগে, আমিই হয়েছি
দংশিত লখিন্দর। বিনম্র বিষের মায়া আঁকড়ে ধরেছে আমার
সর্বাঙ্গ। ভঙ্গ করে সকল অঙ্গীকার আমি দাঁড়িয়েছি জলের
কাঠগড়ায়। বৃষ্টিতে ভিজে একটি আশ্বিন খুঁজে বার বার গিয়েছি
সমবেত শরতের কাছে। এভাবে চিনে নিতে হয়, ঠিক এভাবে
অতিক্রম করে যেতে হয় সময়ের দংশনকাল। মহাল করায়ত্ব
না-ই বা হলো। তবুও নীল অমরতা এলে তাকেই দেখানো
যাবে শবদেহের মুখ। স্তরে স্তরে সাজানো প্রেমের শববৃত্তান্ত।
 
****

পুনরায় জন্মজীবনে

খুব বেশি হাঁটতে পারিনি। খুব বেশি বলতে পারিনি
এখানে দাঁড়াও। আমার জন্য অপেক্ষা করো, অথবা
আমিই থেকে যাবো অপেক্ষায়- এমন ওয়াদা,
কোনোদিনই দেয়া-নেয়া হয়নি আমার। বিরহী জলে
আর অবশিষ্ট মেঘাবর্তে- শুধুই লিখেছি মরম, মৃত্তিকা।
 
একদিন ভূমিষ্ঠ হবো, তা যেমন জানা হয়নি, তেমনি
জানা হয়নি হামাগুড়ির কৌশল, পদরেখার ছাপতন্ত্র
জেনে লিখে রাখবো নতুন কোনো বিধান- সারতে
পারিনি সেই প্রস্তুতিও। কেঁপেছি- কেবলই কেঁপেছি।
 
মানুষের একজীবন কেঁদেই কেটে যায়। একজীবন
কেটে যায় ধূসর আকাশের রঙ দেখে দেখে। যে জীবন
আরাধ্য থাকে, কিছু স্রোত জমে উঠে তার কিনারে।

ফকির ইলিয়াস : নিউইয়র্ক থেকে 


এক বিজয়ের গল্প - জুলি রহমান

সোমবার, ০২ জানুয়ারী ২০১৭

একদিন একজন বলেছিলেন-
আপনার কবিতা এতো লম্বা কেনো?
অ আপনি তো আবার শামসুর রাহমান হতে চান!
দোষ কী তাতে আমি তো কবিতায় থাকি  বহমান!
তিনি এ কথা বলেন নি  আপনার কবিতা
আবার  ছয় ,আট লাইনেও বেশ বুনট বাবুই।
খরকুটু সম্বলে যেনো সোনার সূতোয় বোনা-

এই সুবাদে একটা গান হলো-
হায়রে জুলির এমন কপাল
জনম জনম রইলি আড়াল!

একটা ম হঠাৎ উড়ে এসে
বল্লমের মতো বিঁধে গেলো বুকে।
বল্লো হেসে উল্লাসে ;অ - আপনার তো কোনো আসনই নেই-
দশ দুয়ারী হয়ে ঘুরে বেড়ানোটাই স্বাভাবিক।

কোনো প্রতিবাদ নয় ;নীরব দৃস্টিতে দেখলাম
শুধু চেয়ে চেয়ে দেখলাম এ শহর বন্দর
কেমন এক রৈখিকতায় মোড়ানো!
তবে কী এখানে শক্তিধর ঈশ্বর বসবাস করেন?

ইতোমধে্য বিজয় এসে কড়া নাড়ে।
বলে সন্ধা সাজাও লিখো কবিতা।
কবিতা! কবিতা কেউ পড়ে  আজকাল?
পড়লে তো এতোদিনে ওদের হাতের
ধারালো বনেদী অস্ত্রগুলো ফুলে পরিনত হতো। কূট কথারা পুষ্পিত চন্দনে শোভিত।
alt
দেয়ালভেদী বণর্ বৈষম্য পিড়িত রোহিজ্ঞা মানব শিশু সাগরে রক্তে না ভেসে
মায়ানমারের মাটিতে ফলাতে পারতো সোনাবীজ।

একজোড়া বহুবাচ্চী ঠোঁট নড়ে নড়ে
দ্বারে  দ্বারে ছড়ায় কুহক
উনি তো আবার বহুবচন ভোগী।
তৈরী হলো আরেকটি কবিতা
অবিশ্বাসের ঘোরে মরে শালিকটা
কেউ আবার তাঁরই ছায়া টেনে ডুবায় জলে
স্থলের পিপিলিকা ;আহা কী সুখ মনে--

এই যা কবিতা তো আবার লম্বা হতে চল্লো
কী আর করা বন্ধু !বুকের ভেতর যে কথার
পরাজ্ঞী ধান !খই হয়ে টগবগিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। নীরব শব্দ গহীন গাজ্ঞের কুমের মতো
পাকাইয়া পাকাইয়া ঘোরপাক খাইতাছে।
তাইতো এই চলতি সাধু কৃৎ তদ্ধিত ক্রিয়া পদে সমাপিকা অসমাপিকায় দানা বান্তাছে--

পড়বো না আর কবিতা ,উনি বলেন !
নাও পড়ো ,ধীরে ধীরে।
আমি পড়লাম আর কাঁদলাম
উনি হাসলেন আর হাসলেন
বাহ বাহ বাহ-

সাংবাদিক কৌশিক না-কি মোমীন?
কিছু কী একটা বল্লেন?
হ্যা উনি শহীদ কাদরী--

২।মাটির ঘড়া উপুর করা
জুলি রহমান
তাহলে এটাই শান্তি চুক্তি?
উনি আসবেন, আসন পাবেন না।
কথা যতো আমার তুমি অনুসংগ!

জয় বাংলা ।আজ আমার মনটা ভালো!
যদিও বাউলের মৃত্যু বাষর্িকী।
যা বলছিলাম প্রতিষ্ঠিত কবিকে নিয়ে কথা
বলতে ফেইস বুকে আঙুল নাড়াতে আপনার
বুক একটুও কাঁপলো না?

হাসান আল আবদুল্লাহ বোকার দৃস্টি মেলে
ধরে বার বার।বোদ্ধারা না বুঝে হাসে না কাঁদে ও না।নজরুল চোখে দু বার তাকালো  মাত্রএমন মুখটা দু-বার দেখলাম।
মোমীন ভ্রু- কুচকালো-সাংবাদিক তাসের
ভেংচি কাটলেন,মোড়ক উন্মোচনে এসব কী?

সবাই দাঁড়ালো বেহেস্তের দরোজা খুলে
মুনকের নকীরের জবানীতে
শুধু আমি একা অগ্নি উত্তাপে বসে আছি ঠাঁয়
শরীরে আগুন বায়ু বয়
দিতে হবে আজিজের পরিচয়!
চৈত্রের তুফানে জিহবা থেকে শব্দ বাতাসে মিলায় ভুলভাল উচ্চারণে--

নেশাখোর মানুষের মতো টলতে টলতে
বসতেই একজন বলে উঠেন
আপনি তো মেকাপ সুন্দরী।
দেখি ওর ঠোঁটে আজরাঈলের ধারালো দন্ত
যা দিয়ে আমাকে চিবিয়ে মারছে।
মেকাপ তোর বাপের টাকায় কেনা নয়!
উঠে দাঁড়াতেই ধীমান শৃগাল টা সামনে হাজির।
আলু বেগুন পটলের মতো কেমন সুস্বাদু চরিত্র নিয়ে!
৩।ভাগ্যিস মাদাম কুড়ি বেঁচে নেই
জুলি রহমান
ওই মাগী তোর মদর্া কই লো?
বুকের ভেতর যে লাফা বেগুন
ওইডারে চাইপ্পা রাহিস কইলাম-
শরম নাই?বেসিয়ারের ফিতা বাইর কইরা আডস---
না একজন বিখ্যাত পুরুষের দুই খান কথা
কবিতার লাইন আর কী?
আচ্ছা পুরুষ কবিরা এতো বজ্বাত কেনো?
শুধু শুধু নারীর বস্ত্র হরণ করে!
নারী কী ওদের অন্তর বাস খুলছে কোনোদিন
না খুলবে?হাসে মানিক বন্দোপাধ্যায় আরে যা নারী কী কবি না কি যে খুলবে?বঙ্কিম বাঁকা চোখে তাকালেন।
তসলীমা তো এই কারনেই দেশ ত্যাগী।
আযাদ দুনিয়া ত্যাগী।তা যা বাবা পাকসার
জমিন সাদবাদ!
ভাগি্যস ব্যাকরণ শাস্ত্রবিদ মাদামকুড়ি
বেঁচে নেই!রিংকু সারথী এ লজ্জা রাখতো কোথায়?

তা যা বলছিলাম ;আমার আবার একটু নেশা
না করলে ভালো কিছু হয় না বুঝলে তো!
বোঁদলেয়ার শীতল মানিক এরা সবাই খেতো তো
সাধে কী একুশের পদক সুনাম যশ
একটু আধটু দিগম্বর না হলে চরিত্রের চিত্রন
ঘটাবে কী গো হুঁ?
নারীর চুল ছাড়া আফিমের গন্ধ কী দুষ্প্রাপ্য নয়?
চুলেও তো হিংসা ক্রোধ প্রিয়ার বুকে লুটানো বলেই।
আর ভয় কেনো সততায় স্থির করো মন।।
লক্ষে পৌছাতে বস্ত্রের বাগান লুট নয়।
বুঝে নাও সৃস্টির উন্মাদনা।
যেমন কচি ডালে ফুলের প্রসব ব্যাথা
ডুব দিয়ে বুকের নদীতে খুঁজো শব্দ কুসুম
তার জন্য ধার করা অভিজ্ঞতার কঠিন শব্দ
অভিধান ঘেঁটে ঘুঁটে বার করার দরকার তো নেই!
প্রেমের শ্বেতচন্দনে গড়ো মাটি মা মানুষ।
এই অখন্ড জীবন সন্ধানই কবিতা
এ সংগতি স্বভাবে না এলে কী হবে বস্ত্র হরণে ?কী হবে অভিজ্ঞানে ?নিঃস্বার যদি হয় বুকের পাঁজর।
আমার কবিতা পোশাক অপোশাকের ধার ধারেনা অভিজ্ঞানের  পৃষ্ঠা নাড়ে না।
কাদার ভেতর লুকিয়ে কই শিং এর ঘর
সবল বলে তাই ওরা সামনে দাঁড়ায়
খলখলিয়ে হাসে যেনো সুনালী দিনের ভোর--


গীতিকাব্য = বিজয় বীথির কথা : জুলি রহমান

মঙ্গলবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৬

সন ঊনিশ শ  একাত্তর সনে।
বাংলা মাস আটই ফাগুনে।
বিজয় বীথির কথা আসে।
সোনার  নতুন  বাংলাদেশে।

বলি বিজয় বীথির যুদ্ধ জয়ের কথা।
সুখে ভরে অন্তর;পেয়ে জয়ের বারতা!
খুশীতে আত্নহারা বিজয় ধরে গান।
ওগো কংকাবতী বীথি জুড়াবো প্রাণ।

হয়নি বাসর গড়া;হৃদয় ব্যাকুল উতল বাও।
রাত্রি নিঝুম আকাশ কালো ভাঙা চাঁদের গাও।
বাঁকা শশী ঐ দেখা যায় গগন বিছানায়।
বধূর বিরহে পরাণ বিধূর  বুঝি বা হারায়।

শরীর ছুঁয়েছে মাতাল বাতাসে মন হলো
উধাও।
বিরহীনি কান্তা আজ বাতাসে কথা বিলাও।

বীথির বুকেও মনোবাসনা বেঁধেছে বাসা।
স্বামী তাঁর আসছে ফিরে পুরবে মনের আশা।

রচে সে বাসর ফুলের অঘর্ে্য নিজের বুকের ছাঁচে।
রসনার রসে স্বপ্ন স্বগর্;বিশাল সাধনার কাছে।
দু-চোখে তাঁর জড়ায় লাজ; প্রেমের আকুতিতে।
আবেগ মথিত নয়ন চকিত রঙিন চণ্চুতে।

মরণ  মহিমার  দ্বার আজ পেরিয়ে ঘরনা স্বামী।
সতীর দেবতা বুঝি পাঠালো গূঢ় অন্তযার্মী।

বাতসের রন্ধে্র রন্ধ্রে ঝরে পড়ে সুর।
বিদ্যুৎ ঝলকে বিজয় পথ করে যে দূর।

হায় !বধূ তার একলা ঘরেই করে যে হাহাকার।
বিধাতা বৈরী বিজয়কে দ্যাখে পাক হানাদার!

চিরচেনা পথ ধরে বিজয় আপন মনে ছুটে।
যেনো সে চলে হাল্কা হাওয়ার হিরণ ঠোঁটে।


নয়টি মাস হয়েছে গত নয়া বৌ তাঁর ঘরে!
পরাণ খোলে দেখবে আজ সাথীটিরে
কাঁধের রাইফেল রাখে বিজয় যখন মাটির গায়।
দ্যাখে বধূ তার পা-দুটো রাঙা করেছে আলতায়।

হৃদয়ের গোপন কথা ঢিপ ঢিপ নরম বুকে।
প্রথম প্রেমের নবীন ছোঁয়ায় ওঠে ধুকে ধুকে।
কতো কথা হলো দু-জনার চার চোখের মিলনে।
নিবার্ক ঠোঁটে ফোটে না ভাষা  মনের গহনে।

নিভৃত নীরব বাঙময় কথা চোখের  ভাষাতে
যেনো ভিজে ওরা দ্বিপ্র বাহুর মধুর ঘামেতে।
ক্ষণে ক্ষণে বজ্র তুফান  হৃদয় অলীন্দে
উঠছে ধেয়ে বিরহ ব্যাথার মিলন আনন্দে!

গাছে -গাছে ডাকে -পাখি বৌ গো কথা কও।
ওগো -সূধা-সুর তুমি দক্ষিণা হয়ে বও!
চাঁদের নীলিমা  বিলাও জোছনা;আঁধার ঘুচাও না।
কুন্চিকা কুন্কুম তাঁর ছোঁয়াও কপোলে
সাজাও কবরী গন্ধ চাঁপা ফুলে।
alt
এতো সুখকালে হঠাৎ তাদের কী হলো যে হায়।
দুহের চোখেতে নীরব আঁধার কেনো যে জড়ায়?
ভূমি কম্প যেনো কাঁপায় ঘরের শরীর
বুলেট নিহিত বৃষ্টির আঘাতে হলো ওরা  অধীর।

পাক হানাদার মুক্তিসেনা বিজয়কে ঘিরে
মারনাস্ত্রের কঠিন আঘাত উভয়কে ছুঁড়ে!

বিজয় বীথির দুটো দেহ একই সূতোয় গাঁথা।
মরনেও রইলো ওরা প্রেম বিরত্তে মাখা।

হায় বিধাতা ! কেনো সইলো না সুখ ওদের কপালে।
যে বিজয় পরালো জয়ের টিকা জাতির ভালে।
  নিউইয়কর্-২২শে ডিসেম্বর


বিএনপি শক্তিশালী হবে কীভাবে = মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান

বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৬

পার্টি অফিসে বা সেমিনার সিম্পোজিয়ামে বক্তৃতা-বিবৃতি দেওয়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়। এগুলো এনজিওবাজদের কাজ।
বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল কিন্তু এই দল এখন বিস্ফোরণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। বিএনপি এখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। দলের সব দায়-দায়িত্ব এক বা দুজনের ওপর। পৃথিবীর তাবৎ রাজনৈতিক দলই এভাবে চলে। বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু দলের শীর্ষ নেতা বা নেতৃত্ব দলকে পরিচালিত করে যাতে দলের প্রতিটি নেতা-কর্মী দলকে শক্তিশালী করতে সবসময় সচেষ্ট থাকে। বিএনপিতে এর উল্টো। দলে অন্য কোনো নেতৃত্বের বলয় নেই। নেই কোনো ছাত্রনেতা যে নিজের সাহসে ও ক্ষমতায় রাজনীতিতে কোনো সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। তেমনি নেই কোনো গ্রহণযোগ্য যুবনেতা বা শ্রমিক নেতা বা কোনো পেশাজীবী নেতা বা আঞ্চলিক বা জেলা নেতা। এমনকি নিজের পরিচয়ে কথা বলার কোনো জাতীয় নেতাও নেই। আছে কতগুলো চাকর-বাকর যারা নেত্রীরই চারপাশে ঘুর ঘুর করে পদ ভিক্ষা করে। ‘পদ পাইলেই বিশাল নেতা’ না হলে সমাজে দাঁড়ানোর মতো ভিত তাদের নেই। দলের ভিতরে কোনো ঘর্ষণ নেই, তাই দলের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় না। ম্যাডাম একমাত্র দলের ভিতরে ক্ষমতার উৎস। ম্যাডামের সংযোগ বা স্পর্শ ছাড়া তার তথাকথিত ক্ষমতাশালী পুত্রধনের বাতিও জিরো পাওয়ারের। কিন্তু ম্যাডামকে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে ঘরে বসিয়ে দিয়ে তার ক্ষমতাকেও হ্রাস করে দিয়েছে। ম্যাডাম এখন চার্জার থেকে বিচ্ছিন্ন বিশাল শক্তিশালী একটি ব্যাটারি যার পাওয়ার দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ সরকার ম্যাডামের চার্জার বা ক্ষমতার উৎস জনগণের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে এখন পর্যন্ত সফল হয়েছে। যদি বিএনপি আরেকজন সমান্তরাল নেতৃত্ব সৃষ্টি করে দলকে জনগণের কাছে নিয়ে না যেতে পারে তাহলে ম্যাডামকে জনবিচ্ছিন্ন করার সরকারের পরিকল্পনা সফল হবেই।

সরকার ভালো করেই জানে যতক্ষণ পর্যন্ত ম্যাডাম নিজে মাঠে না নামবেন ততক্ষণ দলে আর কোনো নেতাই নেই যার কথায় জনগণ মাঠে নেমে আসবে। বিএনপি প্রচণ্ডভাবে ম্যাডামকেন্দ্রিক যা বিএনপির তথা ম্যাডামের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান বলে অনেকেই মনে করে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ আপাতত দেখা যাচ্ছে তিনটি। প্রথমটি হলো ম্যাডামকে ঘর থেকে বেরিয়ে মাসে মাসে অন্তত জেলায় জেলায় সাংগঠনিক সফর ও জনসভা করতে হবে। দ্বিতীয়টি হলো ম্যাডাম না পারলে তারেক রহমানকে বাংলাদেশে এসে সেই কাজগুলো করতে হবে। তৃতীয়টি হলো যদি ম্যাডাম বা তারেক রহমান না পারেন তাহলে অন্য কোনো বিশ্বস্ত ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতাকে সেই দায়িত্ব ও ক্ষমতা দিয়ে সারা দেশে সাংগঠনিক সফর ও জনসভা করার জন্য পাঠাতে হবে। যদি বিশ্বাসযোগ্য একজন কাউকে না পাওয়া যায় তাহলে যে কোনো তিনজন নেতাকে একসঙ্গে সর্বাত্মক ক্ষমতা দিয়ে সেই দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দিতে হবে। এর বাইরে কিছু করতে গেলে সময় ও সুযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো ১৯৯১ সালের মতো সুযোগ আসতেও পারে!
বিএনপি শক্তিশালী হবে কীভাবে
এ মুহূর্তে সময়ের দাবি, বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে ঢেলে সাজাতে হবে। ঢাকায় বসে কমিটি করলে হবে না। তৃণমূল থেকে বিএনপিকে আবার গঠন করে নিয়ে আসতে হবে। উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া বা অনুমোদিত কমিটি করার রেওয়াজ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দলকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। দলের মধ্যে দলীয় আনুগত্য সৃষ্টি করতে হবে। পকেট কমিটির রাজনীতি বা ম্যাডামের দয়ায় পদ বা কমিটি করার চাকর-বাকর রাজনীতির চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সময় দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ৬.৯ রিখটার স্কেলে বাংলাদেশে ভূমিকম্প হয়েছে, তার মানে যদি কেউ মনে করে বার বার বাংলাদেশে ভূমিকম্প হবে তাহলে স্টিলমিল মালিকদের পোয়াবারো হবে কিন্তু ভূমিকম্প আরেকবার খুব কাছাকাছি সময়ে আসবে কিনা সন্দেহ। আমি প্রতি রাতে অন্তত স্বপ্ন দেখতে চাই এ সরকার ক্ষমতা থেকে সরে গেছে। আমি আরও বিশ্বাস করতে চাই বিএনপি খুব তাড়াতাড়ি ক্ষমতায় আসছে। আমাকে শুধু ম্যাডামের কাছে গিয়ে এ কথাগুলো বলতে হবে। তাহলে আমার মতো যে কারও পক্ষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া কোনো সমস্যাই নয়! তবে দোয়া করি ম্যাডাম যেন সফলকাম হন।

পরিশেষে ম্যাডামের কাছে আমার কিছু মিনতি নিচে উল্লেখ করলাম। বিবেচনা ম্যাডামের ইচ্ছা।

১. তৃণমূল গ্রাম কমিটি : প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডের মধ্যে থেকে একজন নেতা ও ন্যূনতম ২০ জন সদস্য নিয়ে যত সংখ্যক কমিটি পাওয়া যায় তত সংখ্যক যার যার মতো কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটির নাম হবে বিএনপির তৃণমূল গ্রাম কমিটি বা তৃণমূল বিএনপি। এই তৃণমূল গ্রাম কমিটি কেন্দ্র সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় একটি ডাটা বেইস সার্ভার ব্যবহার করা হবে, যেখানে এ কমিটিগুলো নিবন্ধিত থাকবে। প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনে এ কমিটিগুলো নিবন্ধিত হবে। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিলে প্রাথমিকভাবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর এ চার মাসকে তৃণমূল গ্রাম কমিটি নিবন্ধনকাল ঘোষণা করে দেশব্যাপী একযোগে তৃণমূল গ্রাম কমিটি গঠন সম্পন্ন করা যেতে পারে। পরবর্তীতে এলাকার জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধি বিবেচনা করে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনকে নতুন কমিটি নিবন্ধনের পক্ষ ঘোষণা করে নতুন নতুন আরও কমিটি নিবন্ধন করা যেতে পারে। তবে তৃণমূল কমিটি গঠনের কিছু অত্যাবশ্যক শর্ত নিম্নরূপ হতে হবে :

১.১। গ্রাম পর্যায়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূল গ্রাম কমিটি একাধিক থাকতে পারবে। ১.২। তৃণমূল গ্রাম কমিটির সদস্যদের ক্রমতালিকা তাদের স্ব স্ব অবস্থান, প্রভাব ও গুরুত্ব অনুযায়ী তালিকাভুক্ত হবে এবং যেভাবে কমিটির সদস্যদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে তা কখনোই পরিবর্তন করা যাবে না। ১.৩। তৃণমূল কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ২১ এর কম বা বেশি কোনোটাই হতে পারবে না। ১.৪। একজন ব্যক্তি কোনোভাবেই একাধিক তৃণমূল গ্রাম কমিটির সদস্য হতে পারবে না। ১.৫। তৃণমূল সদস্যের বয়স যে বছর তালিকাভুক্ত হবে সে বছরের ১ জানুয়ারি ন্যূনতম ১৮ বছর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রধারী হতে হবে। ১.৬। সদস্য বলতে নারী-পুরুষ উভয়কেই বোঝাবে। ১.৭। সদস্য তালিকায় সদস্যদের স্ব স্ব জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। না হলে সদস্যপদ বৈধ হবে না। ১.৮। তৃণমূল কমিটি চিরস্থায়ী হবে। মৃত্যু বা স্বহস্তে পদত্যাগ ছাড়া কমিটিতে কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না। ১.৯। তৃণমূল গ্রাম কমিটির নেতৃত্বেও কোনো পরিবর্তন আনা যাবে না। ১.১০। প্রতি বছর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নতুন কমিটি সরাসরি কেন্দ্রে স্বপ্রণোদিতভাবে নিবন্ধিত হবে। ১.১১। তৃণমূল গ্রাম কমিটির প্রথম পাঁচজন সভাপতিসহ স্থায়ী সদস্য বলে পরিচিত হবে এবং স্থায়ী সদস্য বলে ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হবে। এ ছাডা প্রতি দুই বছরের জন্য আরও পাঁচজন কমিটির সব সদস্যের কণ্ঠভোটে তৃণমূল ওয়ার্ড কমিটির সদস্য নির্বাচিত হবে। ১.১২। তৃণমূল কমিটির প্রতি মাসে (প্রতি মাসের তৃতীয় শুক্রবার বিকালে) অন্তত একটি সভা করতে হবে। ১.১৩। প্রতি দুই বছর অন্তর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচনী সভা করে ওয়ার্ড কমিটির সদস্য নির্বাচন করা হবে। কোনো সদস্য একনাগাড়ে দুই মেয়াদের বেশি নির্বাচিত হতে পারবে না, তবে এক বা একাধিক মেয়াদের বিরতি দিয়ে বার বার নির্বাচিত হতে পারবে। ১.১৪। যে আগে নিবন্ধনের আবেদন করবে সে ভিত্তিতে কেন্দ্র প্রতিটি তৃণমূল গ্রাম কমিটির ওয়ার্ডের নাম প্রথমে উল্লেখ করে চার সংখ্যাবিশিষ্ট নিবন্ধন ক্রমিক নাম্বার বরাদ্দ করবে, যেমন সুরমা-০০০১।

২. ওয়ার্ড নির্বাহী কমিটি : ওয়ার্ডের তৃণমূল গ্রাম বিএনপির প্রতিটি কমিটি হতে পাঁচজন স্থায়ী এবং পাঁচজন নির্বাচিত এই দশজন সদস্য নিয়ে যত সংখ্যা হোক তত সংখ্যাবিশিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপি কমিটি গঠিত হবে। ওয়ার্ড বিএনপি নিম্ন শর্ত অনুযায়ী কাজ করবে।

২.১। কমিটির মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর। প্রতি দুই বছর অন্তর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ওয়ার্ড কমিটি গঠিত হবে। ২.২। কমিটি গঠিত হওয়ার পরের দ্বিতীয় জানুয়ারির ৩১ তারিখে কমিটি আপনা আপনিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ২.৩। ওয়ার্ড কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো সুযোগ থাকবে না। ২.৪। ওয়ার্ড বিএনপিতে একজন সভাপতি, দুজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ ও একজন দফতর সম্পাদক ওয়ার্ড বিএনপির সব সদস্যের কণ্ঠভোটে কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পরবর্তী অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে পরবর্তী মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হবে। বাকি সব সদস্য ওয়ার্ড বিএনপির নির্বাহী সদস্য হবে। ২.৫। ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি, সহ-সভাপতিদ্বয়, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, দফতর সম্পাদক এ সাতজন পদাধিকারবলে ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হবে। এই সাতজন একজন একজনকে সাথী হিসেবে আরও সাতজনকে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য নির্বাচিত করবে। ২.৬। মাসে অন্তত একবার (মাসের প্রথম শুক্রবার বিকালে) ওয়ার্ড কমিটি সভায় মিলিত হবে। ২.৭। একই নির্বাহী পদে কেউ দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারবে না। তবে দুই মেয়াদ অন্তর বা ভিন্ন পদে কোনো বাধা থাকবে না। ২.৮। কমিটি গঠনে কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না। বৈধভাবে গঠিত ওয়ার্ড কমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেন্দ্রে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। কোনো ওয়ার্ড কমিটির বৈধতার প্রশ্ন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে উপজেলা বিএনপির সভাপতি যে রায় দেবে তাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

৩। ইউনিয়ন বিএনপি নির্বাহী কমিটি : প্রতিটি ওয়ার্ড  থেকে সাতজন নির্বাহী পদধারী এবং সাতজন সাথী সদস্য নিয়ে মোট ৬৩ সদস্যবিশিষ্ট ইউনিয়ন বিএনপি গঠিত হবে। ইউনিয়ন বিএনপি নিম্ন শর্ত অনুযায়ী কাজ করবে। ৩.১। কমিটির মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর। প্রতি দুই বছর অন্তর ফেব্রুয়ারি মাসে ইউনিয়ন কমিটি গঠিত হবে। ৩.২। কমিটি গঠিত হওয়ার পরের দ্বিতীয় ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে কমিটি আপনা-আপনিই বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ৩.৩। ওয়ার্ড কমিটির মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো সুযোগ থাকবে না। ৩.৪। ইউনিয়ন বিএনপির ৬৩ জন সদস্যের কণ্ঠভোটে একজন সভাপতি, দুজন সহ-সভাপতি, একজন সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন কোষাধ্যক্ষ, একজন দফতর সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে। বাকি সবাই নির্বাহী সদস্য থাকবে। ৩.৫। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, সহ-সভাপতিদ্বয়, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, দফতর সম্পাদক এ সাতজন পদাধিকার বলে উপজেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হবে। এ সাতজন একজন একজনকে সাথী হিসেবে আরও সাতজনকে উপজেলা বিএনপির সদস্য নির্বাচিত করবে। ৩.৬। মাসে অন্তত একবার (মাসের প্রথম শুক্রবার বিকালে) ওয়ার্ড কমিটি সভায় মিলিত হবে। ৩.৭। একই নির্বাহী পদে কেউ দুই মেয়াদের বেশি থাকতে পারবে না। তবে দুই মেয়াদ অন্তর বা ভিন্ন পদে কোনো বাধা থাকবে না। ৩.৮। কমিটি গঠনে কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না। বৈধভাবে গঠিত ওয়ার্ড কমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেন্দ্রে নিবন্ধিত হয়ে যাবে। কোনো ওয়ার্ড কমিটির বৈধতার প্রশ্ন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে জেলা বিএনপির সভাপতি যে রায় দেবে তাই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।   ইউনিয়ন পর্যায় অর্থাৎ একদম তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপির একটি ধারণাপত্র সংশ্লিষ্ট সব মহলের বিবেচনার জন্য লিখলাম। আগামীতে উপজেলা পর্যায় থেকে উপরের দিকের সাংগঠনিক কাঠামোর বিষয়ে কিছু লেখার আশা রাখি।

সবাইকে ধন্যবাদ।
লেখক : সাবেক সংসদ সদস্য।


সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে = আলম শাইন

মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৬

বছর দুয়েক আগে কুড়িগ্রাম থেকে এক ভদ্রলোক ফোন করেন। যদিও তিনি আমার পূর্ব পরিচিত কেউ নন, তবে বন্যপ্রাণী নিয়ে আগ্রহ থাকার সুবাদে পরিচিত হয়েছেন। মাঝে-মধ্যে আলাপচারিতা চলে। সেই ভদ্রলোক জানিয়েছেন পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটা অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছেন এলাকায়, আমি যেন সেই অনুষ্ঠানে অতিথি হই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও সম্ভাব্য যে তারিখগুলোর কথা তিনি জানান ওই তারিখে অংশগ্রহণ করার মতো সুযোগ ছিল না। আমি সবিনয়ে জানিয়েছিও সে কথা। তিনি নাছোড়বান্দা। বারবার অনুরোধ করছেন। এক পর্যায়ে আমাকে আকৃষ্ট করতে তিনি জানালেন, আমাদের অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ অমুক (নাম উল্লেখ করলাম না) থাকবেন। তিনি আপনার লেখাটেকা পড়েন সে সুবাদে আপনাকে অনুষ্ঠানে আনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্যার। বললাম, স্যারকে ক্ষমা করতে বলবেন। আমি দেশের বাইরে যাওয়ার চেষ্টায় ব্যস্ত আছি। স্যারের নাম্বারটা দিন আমি কথা বলব। প্রসঙ্গক্রমে জিজ্ঞেস করলাম স্যার কোন কলেজে আছেন? এবার তিনি আমাকে অবাক করে দিয়ে জবাব দিলেন, তিনি একটি কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ! ভদ্রলোকের কথা শুনে আমি নীরব হয়ে গেলাম। আর বাক্য ব্যয় না করে তার অনুরোধের সমাপ্তি ঘটালাম। ভাবতে লাগলাম অধ্যক্ষ পদবির বেহালদশা নিয়ে।

সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরেযে বিষয়টি নিয়ে লিখছি তা দেশের এক জায়গার ঘটনা নয় প্রায় প্রতিটি কিন্ডারগার্টেনের ঘটনা এটি। প্রধানের পদবি অধ্যক্ষ। যে অধ্যক্ষদের বেতনাদি হাজার দুয়েকের মধ্যে। শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বড়জোর। আর সহকারী শিক্ষকদের বেতন হাজার-দেড় হাজারের মধ্যে (কিছু কিছু কিন্ডারগার্টেনে বেশি হতে পারে)। তারা অবশ্য এ বেতনাদি নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেন। তার প্রধান কারণ তিনি শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন এবং এর ফলে তার টিউশনি করার সুযোগ বেড়ে যায়। আর কিন্ডারগার্টেন কর্তৃপক্ষেরও পোয়াবারো, রদ্দিমাল চালিয়ে কম বেতনাদি দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তারা। এ হচ্ছে দেশের কিন্ডারাগার্টেনের হালহকিকতের যৎসামান্য নমুনা। লাভবান প্রতিষ্ঠান বিধায় দেশের কিন্ডারগার্টেনগুলো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম যা আছে তা উল্লেখযোগ্য নয়। শহরের পাশাপাশি মফস্বল শহরেও কিন্ডারগার্টেন গড়ার হিড়িক পড়ছে। ব্যক্তির ধারণা কোনোমতে প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করাতে পারলেই কেল্লাফতে। পরবর্তীতে বছরের পর বছর সুফল বয়ে আনবে। যা ধরে রাখতে শিক্ষকরা মরিয়া হয়ে ওঠেন এবং শিশুদের নিয়মিত ঘষামাজা করতে থাকেন। বইয়ের বোঝা, পাঠের চাপ চাপিয়ে শিক্ষার্থীকে বিকলাঙ্গ বানিয়ে ফেলেন। এ রকম একটি সংবাদ ক’দিন আগে দৈনিক মানবকণ্ঠ পত্রিকায় পড়েছি। ‘নিয়ন্ত্রণহীন কিন্ডারগার্টেন’ শিরোনামের ওপর নজর পড়তেই পুরনো সেই ঘটনাটি মনে পড়েছে আমার।
মানবকণ্ঠ পত্রিকার সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থী কিন্ডারগার্টেনে পড়াশোনা করলেও এগুলোর ওপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং সহায়ক বইয়ের চাপে শিশুদের ত্রাহী ত্রাহী অবস্থার কথাও জানতে পেরেছি। সংবাদপাঠে যেমন বিচলিত হয়েছি তেমনি হাইকোর্টের নির্দেশে আশ্বস্তও হয়েছি। গত ৮ ডিসেম্বর দেশের অধিকাংশ জাতীয় দৈনিকগুলোর সংবাদ শিরোনাম ছিল শিশুদের পিঠে শরীরের ওজনের ১০ শতাংশ ওজনের বেশি ব্যাগ বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত যেন না হয় সে জন্য সরকারকে এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা দেন আদালত। নির্দেশনা দেন রায়ের কপি পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে এটি কার্যকর করার। নিঃসন্দেহে বলতে হয় এটি ভালো একটি পদক্ষেপ। কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা নিরুৎসাহিত করছি না। নিরুৎসাহিত করছি কিন্ডারগার্টেনের ব্যবস্থাপনাকে। সরকারি নীতিমালা না থাকার কারণে কিন্ডারগার্টেন কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব মনগড়া স্কুল পরিচালনা করছেন। শিশুদের চৌকস করে গড়ে তোলার নামে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এতে করে শুধু শিশুদের পিঠে বইয়ের বোঝা-ই সওয়ার হচ্ছে না, সওয়ার হচ্ছে অভিভাবকের পিঠেও খরচের বাড়তি চাপ। বলা যায়, নানা ধরনের সহায়ক বইয়ের চাপে শিশুরা যেমন নাজেহাল হচ্ছে তেমনি অতিরিক্ত ফি আদায়ের ফলে অভিভাবকরাও নাজেহাল হচ্ছেন।
এতসব খরচাদি করে এবং শিশুদের দিয়ে বাড়তি বোঝা টানিয়েও আমরা খুব ভালো কিছু ফলাফল আশা করতে পারছি না পরবর্তীতে। শিশুরা সাময়িক ভালো রেজাল্ট করলেও পিছিয়ে পড়ছে শারীরিক ও মানসিক চাপে বিধ্বস্ত হয়ে। বাস্তবতা থেকে ছিটকেও পড়ছে। ছিটকে পড়ছে সৃজনশীলতা থেকেও। ফলে উপরের ক্লাসে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে গেলে হাস্যকর ফলাফল নিয়ে ঘরে ফিরে আসতে হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রাইভেট ভার্সিটি কিংবা মেডিকেল কলেজে স্থান পেলেও সৃজনশীলতার ধারে কাছেও পৌঁছার সুযোগ পায় না তারা। অর্থাৎ মেধাবী হতে গিয়ে মেধাশূন্য হয়ে হতাশায় ভোগা ছাড়া আর কোনো উপায়ন্তর থাকে না তখন তাদের। এ ধরনের শিক্ষার্থীকে কর্মজীবনেও দুর্গতি পোহাতে দেখেছি।
প্রসঙ্গক্রমে বলতে হচ্ছে আজকে যারা দেশের কর্ণধার কিংবা উচ্চপর্যায়ে আসীন তাদের অধিকাংশই সনাতনি শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ চুকিয়ে এসেছেন। আকাশচুম্বী সফলতাও অর্জন করেছেন তারা। তাদের কিন্ডারগার্টেনে পড়তে হয়নি। পড়তে হয়নি ইংলিশ মিডিয়ামেও। অথচ তারা কম  মেধাবী তা বলা যাবে না কোনোভাবেই। দেশের প্রতিটি ক্ষেত্র এখনো তাদের মেধার স্রোতে সিক্ত। সেই মেধাবী মানুষগুলোর কথা মনে এনে আমরা বলতে পারি খুব কঠিন এবং খুব বেশি বইয়ের প্রয়োজন পড়ে না মেধাবী শিক্ষার্থী গড়তে হলে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ভাবতে হবে সরকারকে। হাইকোর্টের নির্দেশ আইনে পরিণত করে কিন্ডারগার্টেনগুলোকে নীতিমালার আওতায় আনতে হবে দ্রুত।
লেখক: বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ গবেষক


স্বাধীনতাযুদ্ধের বিজয়ের ধারাবাহিকতা = আবু জাফর মাহমুদ।

মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর ২০১৬

স্বাধীনতাযুদ্ধে বিজয়ের দিন ১৬ডিসেম্বর।বীরমুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার বংশধর আত্নীয়,বন্ধু ও প্রতিবেশীর কাছে এদিনের গৌরবের সীমা  দিগন্তহীন।বিজয়ের গৌরবে উজ্জীবিত বংশধররা এদিন উদযাপান করেন পবিত্র আনন্দে। জাতির আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে হবে যে কোন মূল্যে।এই লক্ষ্যে মেধা,সাহস ও প্রতিযোগীতার যে কোন চ্যালেঞ্জে চ্যাম্পিয়ান হয়ে বীর পূর্বপুরুষদের বিজয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে নবীনরা।বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে মুক্তিযোদ্ধাদের আশা এতটুকুই।রাষ্ট্র গঠনে মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের বড় শর্ত ছিলো ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলে বাঙালির ঐক্য।এই রাষ্ট্র রক্ষা এবং বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্র হবার জন্যেও জরুরী বাঙালির ঐক্য।যে কোন মূল্যে বিভিক্তির ধারা থেকে মুক্ত হবার ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ার প্রত্যয় সঙ্গহত করতে হবে চিন্তাশীল বাংলাদেশীদের।     
প্রতিবেশী বার্মা অথবা ভারতের এই গৌরব নেই বাংলাদেশের মতো।এই দুই বিশাল আয়তন ও ভয়ানক অপরাধী রাষ্ট্রের মাঝখানে অবস্থিত বাংলাদেশ।বাংলাদেশীরা ওদের ঐতিহ্যগত অপরাধের সাথে প্রকাশ্যে দ্বিমত করবে।তাদের অনুসরণে নিজ দেশের মানুষদের প্রতি কখনো বিদ্বেষ ঘৃণা নয়।ভালবাসা ও একতার উষ্ণতায় পারস্পরিক নিরাপত্তার বন্ধনে নিজেদের ঐতিহ্যগত শক্তি সুসংগঠিত করে চলবে বাংলাদেশ।ধর্ম বা নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগত পরিচিতির কোন অজুহাতেই হিংসা বা জুলুম হবেনা বাংলাদেশে।যা করার জন্যে উস্কানো আসছে প্রতিবেশী উভয় দেশ থেকে।     
পূর্বপাকিস্তান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কয়েকজন ছাত্রনেতা তাদের পূর্বসুরী একজন নেতা সিরাজুল আলম খানের চিন্তা চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে   নেতৃত্বের শৃঙ্খলা মেনে নিয়ে জাতীর মুক্তির অভীষ্ট লক্ষ্যে আদর্শিক পথ ধরে দৃঢ় প্রত্যয়ী হয়।ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রস্তাব পাশ করে সিদ্ধান্ত নেয় স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠন করে মানচিত্র পরিবর্তনের।এতে ছাত্রলীগ দুই ধারায় বিভক্ত হয় নিজেদের  পরস্পরের মধ্যে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রস্তাবের বিপক্ষ গ্রুপ যায়,অভিযোগ জানায় আওয়ামীলীগের প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে। সংবাদ শোনে বিচলিত হন নেতা।বিপ্লবী ছাত্রকর্মীদের কয়েকজনকে ডেকে এনে বকাঝকা করেন তিনি।অবাধ্য হবার সিদ্ধান্ত নেয় এই  তরুণরা।সেই প্রেক্ষিতে কৌশল নেয় তারা।এই আদর্শিক পথে সাংগঠনিক বিস্তারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সারা প্রদেশের কলেজ পর্যন্ত নিজস্ব বলয় গড়ে।অতঃপর থানা কমিটি পর্যন্ত তারা স্বাধীনতাপন্থী গ্রুপের বিস্তৃতি করে ফেলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে।   
সাংগঠনিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের সামাজিক বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক দলীয় আপোশকামি নেতাদেরকে প্রভাবিত করা শুরু করে ছাত্রলীগের  নেতারা।সফলতা আসতে থাকে দ্রুতগতিতে।অনেক ক্ষেত্রে তাদের মতামতকে অতিক্রম করে ছাত্র-যুব সমাজ ও আপামর শ্রমিক কৃষক,নিম্নবিত্তের মানুষদেরকে উজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়েছিলো স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্যে।১৯৭০সনের নির্বাচনে ৬দফার পক্ষের ভোটের রায়ে বাঙালি জিতবে।বাঙালিরা পাকিস্তানে সংখ্যায় বেশী।তবে এই গণরায় গ্রহন করে বাঙালির হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা না দিলে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যে যুদ্ধ করতে হবে পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে,এই ছিলো ছাত্রদের মনোভাব।৬দফার প্রচার করতে গিয়ে সারা পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রনেতারা এমন নির্বাচনী প্রচারণাটাই করতাম আমরা।প্রশ্ন ছড়িয়ে দেয়া হয় ৬দফা না মানলে ক্ষমতা না দিলে তারপরের করণীয় কি?
এভাবেই রব-শাহজাহান সিরাজ গ্রুপ দ্রুতগতিতে গণ মানুষের প্রগতিশীল রাজনৈতিক মিলিট্যান্ট শক্তিরুপে আত্নপ্রকাশ করলে শেখ মুজিব তাদের সাথে নিজের সরাসরি অনুগতদের আপোষ করে দেন। মণি,রাজ্জাক,তোফায়েল সিদ্দিকি মাখনদেরকে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্ব মেনে আন্দোলনে যুক্ত করে দেন।নিজের রাজনৈতিক প্রভাবে উভয় মতামতকে কাজে লাগান।এমনকি জয় বাংলা বাহিনীর অভিবাদনেও আর আপত্তি করেননি তিনি।স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করে তাকে শনিয়ে দেয়া হয় পল্টন ময়দানে জনসভায়।যেখানে আসম রবের কমান্ডে অভিবাদন গ্রহন করতে হয় শেখ মুজিবের। এসব ঘটনা ধারা বাহিকভাবে ঘটতে থাকে নির্বাচনে বিজয়ের পর  পাকিস্তানের সরকার গঠণ করতে ব্যর্থ হবার কালে। পাকিস্তানী পতাকা নামিয়ে তদস্থলে বাংলাদেশ পতাকা তৈরী করে উত্তোলন করে দিলে তাও তিনি হজম করেন মুজিব। উত্তপ্ত পরিস্থিতি গড়ে তুলেছিল এই তরুণ বিপ্লবীরা।
জনমত স্বাধীনতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গেছে দেখে দেশদ্রোহী হবেন, স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা দেবেন নাকি জনতার আকাঙ্ক্ষার সাথে সংগতি রেখে বক্তৃতা দেবেন সেরকম জটিল পরীক্ষার মাঝে ঘেরাও হয়ে যান তিনি।মানসিকভাবে জাতি শসস্ত্র হয়।অপেক্ষা করে নেতার শসস্ত্র হবার।নেতা সিদ্ধান্ত নিতে দেরী হয়। তার প্রস্তুতি নেই স্বাধীনতা ঘোষণার।দীর্ঘ সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী আক্রমণ শুরু করে দেয় ২৫মার্চ।করতে থাকে গণহত্যা। রাতের মধ্যেই ঢাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেলে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী।   
চট্টগ্রাম থেকে ইপিআর বাহিনীর অফিসার সৈনিকরা উপায় না দেখে সিদ্ধান্ত নেয় মরবোই যখন যুদ্ধ করেই মরি।যোগাযোগ করলো স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সাথে সমর্থনের আশায়।প্রতিরোধ শুরু করলো বিদ্রোহীরা।শুরু হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ।যুক্ত হলো ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট,পুলিশ, আনসার ছাত্র যুবক জনতা।২৬মার্চ থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে উভয়পক্ষের এই রক্তক্ষয়ীযুদ্ধ।বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ী হলেন।বাংলাদেশ রাষ্ট্রের উত্থান হলো মানচিত্রে।বাঙালি শাসক হলো নিজ দেশ শাসনে।শুরু হলো মুক্তিযোদ্ধা নিধনের ধারা।মুক্তিযোদ্ধা বিভক্তির চানক্য কৌশলে জাতি হতে থাকলো অসহায়।দূর্বল নিরাপত্তাহীন।নেতার হত্যা রোধ আর সম্ভব হলোনা।জাতি ধীরে ধীরে অনিবার্য্য পরিণতির খাদে নামতে লাগলো। অথচ এই বীর জাতি আশা করে আছে নিরাপদ হবে নিজেরা ,নিজেদের রাষ্ট্র।সমৃদ্ধ হবে উন্নত রাষ্ট্রের মানুষদের মতো।       
 বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিজয়ের স্মরণে বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেমন  দেশ সৃষ্টির স্মৃতি রোমন্থন করছি,৪৬তম এই দিবস উদযাপনকে দলীয়  রাজনৈতিক  ফায়দায় ব্যবহার করছেন সরকার ও বিরোধী দলগুলো।সংশ্লিষ্ট এই সকল দলগুলোর পথ অনুকরণযোগ্য নয়।মুক্তিযুদ্ধ গোটা জাতির গৌরবের বিষয়।মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিক দলবাজির বিষয়ে সীমিত করে জনগণের ভালবাসা ও আত্নত্যাগ থেকে রাষ্ট্রকে বঞ্চিত করে চলেছে এসব নেতারা।জনগণের সক্রিয় সমর্থন ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ হয়না।আমাদের দেশেও তাই হয়েছে।কৃতিত্বের লোভে উম্মাদদের উম্মত্ততায় রাজনীতি বিদদের মুখোস যত বেশী ছিটকে পড়েছে,রাষ্ট্র ততো বেশী দূর্বল হয়েছে।রাষ্ট্রের বড় বড় সম্পদের নিরাপত্তাও ততই কমেছে।ক্রমান্বয়ে গোপনে থাকা শত্রুরা বাংলাদেশে গুপ্ত হত্যা বাড়িয়েছে।     
এসব নেতারা বীরমুক্তিযোদ্ধাদেরকে বিভক্ত করে একজনকে অপরজনের বিরুদ্ধে শত্রু রূপান্তর করেছেন মুক্তিযুদ্ধের অর্জন লুন্ঠনের নেশায়।এই  অপরাধ তারা করে আসছেন১৯৭২সন থেকে।ইন্ধন দিচ্ছে ভারতীয় গোয়েন্দারা।নিজেদের জীবনও বীরত্বে গড়া বংলাদেশের রাজনৈতিক দলবাজ নেতারা সরকারের রাজনৈতিক পদে বসেই পাকিস্তানী হানাদার হায়েনা বাহিনীর চরিত্রে রূপ নেয়।পরবর্তীতে রাজনৈতিক সুবিধাবাদীরা পূর্ববর্তীদের করা অপরাধের নজির অনুকরণ করেছে নিজেদের মনোভাবের মিল থাকার কারণে।মুক্তিযোদ্ধা খতমে মেতে ওঠে।এতে বাংলাদেশের সমৃদ্ধির গতি দূর্বল থেকেছে ঠিকই।তারপরো জাতির বীরত্বের উজ্জ্বলতায় প্রকৃত বীরের আনন্দের অনুভূতি ও মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বনাম   লুটেরাদের ছদ্মবেশী মুখোসের ভিন্নতা স্পষ্ঠ হচ্ছেই।  
 
আমরা জানি বাংলাদেশী জাতি প্রতিবেশী সকল জাতির চেয়ে মর্যাদার বিবেচনায় সর্বোচ্চে উঠেছে।জালেম বৃটিশ শোষক শাসকদের কাছ থেকে  অনুগত রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অপরাধীর দায়িত্ব নিয়ে ভারত পাকিস্তানের নেতা হবার গৌরবের চেয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধ করে বাংলাদেশ রাষ্ট্র অর্জনের পর এই দেশের একজন নাগরিক হবার গৌরববোধ কি এক হতে পারে?  নিশ্চয়ই না।     
আজকের এই মহান গৌরবের দিনে শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতায় স্মরণ করছি সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যাদের অবদানে বিশ্বের মানচিত্রে এই বাংলাদেশ।  স্মরণ করছি সকল রাজনীতিক,আমলা ও জনসাধারণকে যাদের রাজনৈতিক উপস্থিতি ও সমর্থন মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ে আনুষ্ঠানিকতা দিয়েছে।যে সকল মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে ও পরবর্তীতে মৃত্যুবরণ করেছেন,তাদের সকলের আত্নাকে বেহেশতের সাথে সংযোগ করার জন্যে প্রার্থনা করছি আল্লাহ্‌র দরবারে। হানাদার দখলদার এবং তাদের  অনুগতদের আক্রমণে মৃত্যুবরণকারীদের জন্যে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের আজ একই প্রার্থণা।দেশী জালেমদের দুঃশাসনে বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধারা নিপীড়িত হয়েছেন,মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের আত্নাকেও বেহেশতের সাথে সংযুক্ত করার প্রার্থনা করছি।  
 আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেসকল সমর্থন  আমাদের বিজয়কে সহায়তা দিয়েছে আমরা সেই সমর্থনকেও সম্মানের সাথে স্মরণ করছি আন্তর্জাতিক সমপর্কের রীতিতে।সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক ইউনিয়ন আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১সালে  ছিলো প্রধান বৈশ্বিক সমর্থক। স্বাধীনতাযুদ্ধকালীন <


সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেবলই এক ‘মিথ’

রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬

রোবায়েত ফেরদৌস-: অনেকে বলতে ভালোবাসেন যে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির স্বাক্ষর বহন করছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে ভিন্নতা থাকলেও এ দেশের হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সুদৃঢ় সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ; কিংবা আরও আগবাড়িয়ে কেউ কেউ বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এ দেশে নিরাপদে আছে। বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা উৎসব হিন্দু-মুসলমান মিলেমিশে উপভোগ করে। কিন্তু আমি বিনয়ের সঙ্গে এসব ভাবনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করি। সর্বশেষ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দুই দফা আক্রমণ, প্রতিমা ভাঙচুর আর অগ্নিসংযোগ এর নিকৃষ্ট উদাহরণ।

যেখানে সব ধর্মের মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেখানে ২০১১ সালের আদমশুমারিতে দেখা গেছে, হিন্দু জনসংখ্যা ১০ লাখ কমেছে; নিজ ভূমির মায়া ত্যাগ করে তারা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এটা হয়েছে ‘ফোর্সড মাইগ্রেশন’ বা ‘জবরদস্তিমূলক অভিগমন’-এর কারণে। বিগত কয়েক বছরে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, হামলা-মামলা, তাদের জায়গা-জমি দখল যেন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। রামুতে বৌদ্ধমন্দির জ্বালিয়ে দেওয়া, পাবনার সাঁথিয়ায় হিন্দুদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলা, নওগাঁয় চারজন সাঁওতাল কৃষককে হত্যা করা, দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির উচ্ছেদের চেষ্টা, চিরিরবন্দরে হিন্দু উপাসনালয়ে আক্রমণ, পাবনার হেমায়েতপুরে শ্রীশ্রী অনুকূল ঠাকুরের আশ্রমের সেবায়েতকে হত্যা—এ রকম বহু নজির আমাদের স্মৃতিতে এখনো জ্বলজ্বল।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলতে গিয়ে অনেকে ইতিহাসকে সাক্ষী মানেন যে যুগ যুগ ধরে হিন্দু-মুসলিমরা শান্তিতে এ অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, ভারত-পাকিস্তান ভাগই হয়েছিল উগ্র সাম্প্রদায়িক দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে, যার মূল কথা ছিল হিন্দু ও মুসলিম দুটি আলাদা জাতি (যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই), তাদের আর একসঙ্গে থাকা চলে না।

 

ভারত ভাগ নিয়ে হিন্দু, মুসলিম আর শিখ ধর্মের মানুষেরা ইতিহাসের ভয়ংকরতম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মেতে উঠেছিল। কলকাতা, নোয়াখালী, বিহার আর পাঞ্জাবের এসব দাঙ্গায় কমপক্ষে ১২ লাখ মানুষ নিহত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতা পাকিস্তানেও চলেছে। রামমন্দির-বাবরি মসজিদ দাঙ্গার কথা আমরা জানি, দাঙ্গার ধাক্কা বাংলাদেশেও লেগেছিল, বহুসংখ্যক হিন্দু মানুষ তখন দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি জেতার পর দেশের হিন্দু নারী-পুরুষের ওপর যে সাম্প্রদায়িক নিপীড়ন নেমে এসেছিল, তা নিশ্চয়ই কেউ ভোলেনি। তখনো অনেক হিন্দু দেশ ছেড়েছিল। এখনো সেই ধারা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে বলা যাবে না।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু যেমন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, আহমদিয়া জামাত কিংবা জাতিগত সংখ্যালঘু যেমন চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো, সাঁওতাল, হাজংসহ বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের জমিজমা দখল হয়ে যাচ্ছে; সত্য যে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি—এর কারণ ‘দাঙ্গা’ বা ‘রায়ট’ শব্দের মানে দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে মারামারি-খুনোখুনি, যাকে বলে রক্তাক্ত ভায়োলেন্স। স্বাধীন বাংলাদেশে যা হয়েছে, তা হচ্ছে একপক্ষীয় সন্ত্রাস।

অর্থাৎ, এখানে সংখ্যাগুরু মুসলিমরা সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের একতরফা আক্রমণ করেছে, সংখ্যালঘুরা কোনো পাল্টা আক্রমণ বা প্রতিরোধ করতে পারেনি। কাজেই অন্যরা বাংলাদেশে কোথায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেখলেন, তা বোধগম্য নয়। আমি বরং বদরুদ্দীন উমরের সঙ্গে একমত। বদরুদ্দীন উমর বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও সমাজের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক চেতনার বীজ রয়ে গেছে।’ কাজেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেবলই এক ‘মিথ’—বাস্তবে বা নিকট অতীতে যার প্রমাণ আমরা দেখি না। বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান দেখে বহুমুখী লেখক হুমায়ুন আজাদ আশির দশকে খেদোক্তি করেছিলেন এই বলে যে আমরা ‘প্রতিক্রিয়াশীলতার দীর্ঘ ছায়ার নিচে’ জীবন অতিবাহন করছি; আর বর্তমান বাংলাদেশ দেখে প্রতীতি জন্মাচ্ছে, ‘প্রতিক্রিয়াশীলতার ধারালো চাপাতির নিচে’ আমরা এখন জীবনোপায় খুঁজে বেড়াচ্ছি।

হুমায়ুন আজাদ নিজেও কোপের শিকার হয়েছিলেন—তাঁরই উপন্যাসের মতো জঙ্গিরা তাঁকে চাপাতি দিয়ে ‘ফালি ফালি করে কাটা চাঁদে’ পরিণত করেছিল। সত্য বটে প্রবৃদ্ধি বাড়ছে, সমান্তরালে চাপাতির কোপও বাড়ছে। মানবাধিকার আন্দোলনের নেত্রী সুলতানা কামাল যথার্থ প্রশ্ন তুলেছেন, জীবনের নিরাপত্তা যদি না থাকে, কী করব এই প্রবৃদ্ধি-জিএনপি-জিডিপি দিয়ে? কী লাভ পার-ক্যাপিটা-ইনকামের হিসাব কষে? কথা তো ঠিক। আমরা যে ধর্মাবলম্বীই হই না কেন, প্রতিক্রিয়াশীলের চাপাতির কোপের রেঞ্জের বাইরে কেউ-ই নই। টার্গেট যেন সবাই! সবার নামেই মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করা আছে। এ যেন ‘জন্ম মানেই আজন্ম মৃত্যুদণ্ড বয়ে বেড়ানো’।

সংখ্যালঘুদের জমিজমা-সম্পদরাজি দখলের জন্য প্রথমত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর; দ্বিতীয়ত, বসতবাড়িতে লুটতরাজ-অগ্নিসংযোগ; তৃতীয়ত, উপাসনালয় আক্রমণ এবং চতুর্থত, সংখ্যালঘুদের হুমকি-ধমকি-মামলা দেওয়া হয়; এসবে কাজ না হলে তাদের মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়, যাতে সংখ্যালঘু মানুষের পক্ষে এলাকায় সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকা আর সম্ভব না হয়; এর ফলে তারা হয় অন্যত্র নয়তো অন্য দেশে চলে যেতে বাধ্য হয়।

সংখ্যালঘুদের জমি দখল বা তাদের ওপর আক্রমণে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত—কেউই পিছিয়ে নেই। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ভূমি নিয়ে যারপরনাই এক অমানবিক, নিষ্ঠুর আর রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয়ে চলেছে। এই সাম্প্রদায়িক দখলবাজির প্রতিকারের জন্য কেউ নেই, নেই কোনো প্রতিবিধান। আর জঙ্গিবাদ? আমরা মনে করি, জঙ্গিবাদ এই সাম্প্রদায়িকতারই এক উগ্র রূপ ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’-এর নামে যে তার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

সহযোগী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ  সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


45th victory day= Sachin Karmakar

শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬

Within 24 years of first independence in 1947 Bangladesh achieved its second independence in 1971. Is it the last or people still have appetite for the third independence? Preparation for third independence is underway with building up innumerable Islamic institution- madrasa all over the country.  Secularism was replaced in the 1972 constitution by transplanting religion Islam by a martial law decree in 1988 by General Ershad. If General Ershad live another ten years, he could become our third father of the nation of Islamic Republic of Bangladesh after Mohammed Ali Jinnah and Banghabandhu? You may recall General Ershad introduced Friday as national holiday, began broadcasting AZAN in the Television and made RED CROSS- RED CRESCENT.
Modern Bangladesh concept began forming from 1952 language movement, which led the way to independence in 1971. Today we have begun to change from our traditional Bengali culture to Arabian culture and Arabian dress. Foot soldiers for the third independence movements are madrasa students, who are passing out in hundred thousand every year with complete religious motivation? Our government offices transforms in to mosque during prayer time, there are no official dress code in the government offices, male wears FATUA and females “BLACK GOWN” it was unthinkable in 1960’s. The change is silent and rapid under the full protection of administration.
Majority Muslims will choose “SHARIA LAW” in the country, if put to the referendum? Secular Muslims and non-Muslims (Hindus) are likely to face another onslaught like 1971 by their own fellow Bangladesh Jihadists. To make it happen quickly international action plan has begun in ARAKAN land with force migration of ROHINGYAS to Bangladesh. Radical elements has penetrated in to our security forces: police torching SHATALS house in “GOVINDAGANJ” is a blunt example of radicalization.  Political parties and politicians has made some understanding of with radicals for coexistence and power sharing?  Because of nationwide fast expanding intolerant Arabian culture destruction of temple and deities will continue unstill the last non-Muslim lives Bangladesh or SHATIA law is enforced.   
No law can protect minorities in Bangladesh, it’s all are eye wash and too late? Because entire political & social system of Bangladesh has been contaminated with radical thoughts. Please think about protecting secular Muslims now, which might help protect Bangladesh sovereignty from ISIS takeover? Rohingyas are peace loving docile people, no one heard about them before August 1975 massacre. Rohingya issue has been created from pan Islamic Arab thoughts of General Zia and his aid General Nurul Islam Shishu - General Amin Ahmed Chowdhury. Today innocent Rohingyas are paying the cost of General Ziaur Rahamans wrong policy? General Zia has left, Saudi NGO Rabeta Al-Alam Al-Islami has left but legacy of Zia-ur Rahman didn’t leave Bangladesh?  As part of the master plan Muslim settlers ware brought from the plains to the Chittagong Hill Tracks to make 98% non-Muslim tribal people minority in their own land. Plan went well, 98% tribal people are 45% minority today in CHT. So far several thousands more Rohingya has arrived from Myanmar apart from previous five lac to make CHT a complete green land of IS? Rohingyas won't live Bangladesh nor do we sincerely desire that to happen in the greater interest of Muslim Uma. A new Rohingya-Palestine issue is under formation in south Asia?


ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত মরিচা কপাল ডোরাডানা = আলম শাইন

রবিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৬

আলম শাইন : মাথায় চমৎকার ঝুঁটি। দেহের তুলনায় লেজ খানিকটা লম্বা। দেখতে বুলবুলি পাখির মতো মনে হতে পারে। আসলে এরা বুলবুলি প্রজাতির কেউ নয়। প্রজাতিটি দেশের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও যত্রতত্র দেখা যায় না। প্রাকৃতিক আবাসস্থল নাতিশীতোষ্ণ এলাকার ক্রান্তীয় আর্দ্র পার্বত্য অরণ্য। এ ছাড়া লতাগুল্মের ঝোপ কিংবা সুঁচালো চিরহরিৎ বনে বিচরণ রয়েছে। এরা একাকি বিচরণ করে না বললেই চলে। ছোট দলে বিচরণ করে। দলে কমপক্ষে ৬ থেকে ১২টি পাখি দেখা যায়। শুধু প্রজনন ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত মরিচা কপাল ডোরাডানামৌসুমে দলত্যাগ করে জোড়ায় জোড়ায় বিচরণ করে। এদের চেহারা রাগীরাগী হলেও স্বভাবে হিংস  নয়। দলের সবাই একত্রে বা মিলেমিশে থাকতে পছন্দ করে। বাংলাদেশ ছাড়া বৈশ্বিক বিস্তৃতি উত্তর-পূর্ব ভারত, নেপাল (হিমালয়ের পাদদেশ), ভুটান, পশ্চিম মিয়ানমার, চীন (ইউনান) পর্যন্ত। বিশ্বে এদের অবস্থান খুব বেশি সন্তোষজনক নয় বিধায় আইইউসিএন প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।
পাখির বাংলা নাম : ‘মরিচা কপাল ডোরাডানা’,  ইংরেজি নাম : ‘রাস্টি ফ্রন্টেড বারউইং’ (Rusty-fronted Barwing), বৈজ্ঞানিক নাম : Actinodura egertoni। এরা ‘লালমুখ দাগিডানা’ নামেও পরিচিত।
প্রজাতিটি দৈর্ঘ্যে ২২-২৪ সেন্টিমিটার। ওজন ৩৩-৩৮ গ্রাম। কপাল মরিচা লাল। মাথা ও ঝুঁটি ডার্ক-বাদামি। পিঠ পাটকিলে। ডানা পাটকিলের সঙ্গে সাদা-কালো মিশ্র ডোরাদাগ। লেজ পাটকিলে হলেও অগ্রভাগ কালচে, নিচের পালকের অগ্রভাগ সাদা। থুতনি মরিচা-লাল। দেহতল বাদামি-ধূসর। ঠোঁট খাটো হলদেটে ত্বক বর্ণ। পা ত্বক বর্ণের। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় তেমন কোনো পার্থক্য নেই।
প্রধান খাবার: পোকামাকড়, ফড়িং, বীজ, কচিপাতা। ছোট ফলের প্রতিও আসক্তি রয়েছে।
প্রজনন মৌসুম এপ্রিল থেকে জুলাই। ভূমি থেকে ৬ মিটার উচ্চতার মধ্যে কাপ আকৃতির বাসা বাঁধে। বাসা বাঁধতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে শুকনো ঘাস-লতা, শৈবাল, ফার্ন, শিকড় ইত্যাদি। ডিম পাড়ে ২-৪টি। ডিম ফুটতে কত দিন সময় লাগে সে তথ্য জানা যায়নি।

লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ।


ঘুম কাঁতুরে দূতাবাস ও কনস্যুলেট : এতিম প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি!

শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০১৬

মনোয়ারুল ইসলাম : রাত পোহালেই দুঃসংবাদ। হামলা, হেট ক্রাইমসহ নানা অশুভ সংবাদ আসছে। স্বপ্ন ভংগের ট্রাম্পীয় ছায়া ইমিগ্র্যান্টদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আমরা ভালো নেই।ভালো নেই বাংলাদেশ কমিউনিটি। ঘুম কাঁতুরে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কন্সুলেট নীরব। এ ঘুম চোখের নয়। নয় রাত্রি নিশির ঘুম। এটি নির্লিপ্ততার ঘুম। দায়িত্বহীনতার ঘুম। কমিউনিটির অস্বস্তি ও উদ্বেগে সাড়া নেই। বরং সংগীত সন্ধ্যায় ব্যস্ত তারা। অবশ্য কনসাল জেনারেল শামীম আহসান একজন সংগীত পিয়াসী সজ্জন মানুষ। এ নিয়ে তার খ্যাতিও আছে। কিন্তু—–। নিউইর্য়কস গোটা আমেরিকায় লাখো বাংলাদেশী ভালো যে নেই তার খবর কি রাষ্ট্রদূত ও কনসাল জেনারেল সাহেবরা রাখেন? আমেরিকার নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের পর মুসলমানদের ওপর হেট ক্রাইম বেড়েছে।মসজিদে মসজিদে চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দেয়া হছে। বাস ও ট্রেনে হেজাব পরিহিত মহিলাদের ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।এমন কি মুসলমান পুলিশ অফিসারও হেট ক্রাইম থেকে রক্ষা পাননি । ৪ ডিসেম্বর ব্রুকলিনে এনওয়াইপিডি মুসলমান পুলিশ অফিসার হেট ক্রাইম এর শিকার হয়েছেন।কাগজপত্রহীন প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে ফিরে যাছেন ভয় ও নানা উৎকন্ঠায়।

ঘুম কাঁতুরে দূতাবাস ও কনস্যুলেট : এতিম প্রবাসী বাংলাদেশ কমিউনিটি!  

কমিউনিটির অতি পরিচিত মুখ আনোয়ার হোসেন ২৭ বছরের প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে গেলেন। নির্বাচন চলাকালীন সময়ে মুসলমানদের ইমিগ্রেশন সাময়িক বন্ধ ও পরর্বতিতে মুসলমান অভিবাসীদের জন্য আলাদা রেজিষ্ট্রি করার ঘোষণায় সবাই আতংকগ্রস্ত। অথচ কমিউনিটির এই দুঃসময়ে রাষ্ট্রদূত ও কনসাল জেনারেলদেরই পাশে থাকার কথা।প্রবাসীদের রক্ত-ঘামে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ও দেশের সাধারণ মানুষের অর্থেই আমেরিকায় তাদের বিলাশবহুল জীবন যাপন পরিচালিত হয়।ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচিত হবার পরপরই মেক্সিকো ও বলিভিয়ার রাষ্ট্রদূত এবং কনসাল জেনারেলরা তাদের দেশের কমিউনিটির নেতা ও সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছেন।আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়াতেই মেক্সিকোর ১০টি কনসুলেট রয়েছে। তারা সার্বক্ষনিকভাবে মেক্সিকান-আমেরিকান কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ রাখছে।ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা আনাস্থ মেক্সিকান কন্সাল জেনারেল মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে প্রতিকুল পরিবেশে করণীয় তুলে ধরেছেন।আমাদের কুটনীতিকরা ঘুমিয়ে আছেন? রবীন্দ্র-নজরুল সঙ্গীতে মত্ত আছেন। অথবা ব্যস্ত আছেন দেশ থেকে বেড়াতে আসা ভিআইপিদের প্রোটকল / সেবা প্রদানে। তারাতো ভুলেই গেছেন দেশ ও প্রবাসীদের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালনে। তাদেরই অন্যতম দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে (১)নিজ দেশের জনগনের দুর্দশা কিংবা জরুরী অবস্থায় সাহায্য করা (To help its own citizens in distress or other emergency situations)।(২)হোষ্ট দেশের পরিবেশ পরিস্থিতি, রাজনৈতিক, সামাজিক,অর্থনৈতিক ও সামরিক অবস্থা সরকারকে জানানো এবং দিক নির্দেশনা নিয়ে প্রবাসীদের সাহায্য করা (It informs its home government about important political, social, economical, military and other events happening in the host country and give the direction to the expatriate) ।বরং নিউইর্য়ক সিটি মেয়র একধাপ এগিয়ে এসেছেন। গত ১ ডিসেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাচনী ফলাফলে শঙ্কিত ও হতাশাগ্রস্থ ইমিগ্র্যান্টদের মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক কর্মসূচী হাতে নিয়েছেন। যে কোন ইস্যুতে প্রবাসীদের যোগাযোগের জন্য হট লাইন নাম্বার চালু করেছেন।
ইতিমধ্যে প্রবাসীদের কল্যাণে তৎপর সংগঠন “ড্রাম” নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে।আতংকগ্রস্থ প্রবাসী তথা মুসলমানদের প্রয়োজনে আইনীসহায়তা ও সচেতনতা বৃ্দ্ধিতে কাজ করছে।২ ডিসেম্বর ২০১৬ তাদের উদ্দ্যোগে কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস্থ ডাইভারসিটি প্লাজায় ১০০ সংগঠনের অংশগ্রহণে সহস্রাধিক মানুষের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে নিউইর্য়কের কুইন্সকে বিদ্বেষমুক্ত অঞ্চল ঘোষণা দেয়া হয়।
শংকিত-উদ্বিগ্ন ও হতাশাগ্রস্থ বাংলাদেশীদের পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়।মসজিদের ইমাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট, কমিউনিটি লিডার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের নিয়ে রাষ্ট্রদূত এবং কনসাল জেনারেলের উচিৎ সর্বজনীন বৈঠক ডাকা। প্রবাসীদের হিলিং করার বিকল্প নেই। নইলে এর নেতিবাচক প্রভাব আমরা বহন করতে পারব না। এ ব্যাপারে ঠিকানার পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগাযোগ করা হয়। রাষ্ট্রদূত জিয়া উদ্দীন ছুটিতে বাংলাদেশে রয়েছেন। বাংলাদেশী কমিউনিটির উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রশমনে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষকে আশ্বস্ত করতে দূতাবাস ও কন্সুলেট কোন উদ্যোগ নিচ্ছে কি না তা জানতে চাওয়া হয় দূতাবাসের মিনিষ্টার, কন্সুলার শামসুল আলম চৌধুরীর কাছে। তিনি বলেন, এমন কোন উদ্যোগ এখনও নেয়া হয়নি।তবে আমি কমিউনিটির কল্যানে কাজ করে যাচ্ছি। এই যে এখন ডালাসে আছি কমিউনিটির সেবাতেই। তাছাড়া, আমিতো ভারজেনিয়া, মেরিল্যান্ড ও ডালাসের লোকজনদের সাথে কথা বলছি-তাদের মধ্যেতো এমন কিছু দেখছি না।প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ট্রাম্প আগে দায়িত্ব নিক এবং তার পদক্ষেপ দেখে আমরা এগুবো। নিউইর্য়কস্থ কনসাল জেনারেল শামীম আহসান একই প্রশ্নের জবাবে বলেন, কমিউনিটির মেম্বাররা যাতে অযথা হয়রাণির শিকার না হন সে জন্য আমরা সবসময় স্থানীয় আইনশৃংখলা বাহিনীর সাথে যোগাযোগ রাখছি। বাংলাদেশী কমিউনিটির উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রশমনে কোন উদ্যোগের ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু তিনি বলেননি।

লেখক : মনোরুল ইসলাম সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ডিআরইউ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।

লেখক : মনোরুল ইসলাম সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ডিআরইউ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।