Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে চাই = সিরাজী এম আর মোস্তাক

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ স্বাধীন করে যেভাবে চির স্মরণীয় হয়ে আছেন, তেমনি আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং শাসন ক্ষমতায় আজীবন চাই। এটি আষাঁঢ়ে প্রত্যাশা নয়। এখনই উপযুক্ত সময়। শুধু নির্বাচনে জয়ী হয়ে নয়, বর্তমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে স্থায়ীভাবে ক্ষমতা লাভের সুযোগ এসেছে। মায়ানমারের সামরিক জান্তা আরাকানের ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রত্যাখ্যান করে রোহিঙ্গাদের প্রতি জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এটি আর মায়ানমারের নিজস্ব বিষয় নয়, বাংলাদেশের জন্য কঠিন বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশ রীতিমতো সার্বভৌমত্ব সংকটে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়েছে। মায়ানমারের ঘাতকদের ধিক্কার জানাচ্ছে। বিশ্ববাসীর এ প্রতিবাদ বাংলাদেশের জন্য সুবর্ণ সুযোগ। বিশ্ববিবেকের সমর্থন নিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানস্বরূপ আরাকান বিজয়ের এখনই উপযুক্ত সময়। মাননীয় নেত্রীকে চাই, আগামী নির্বাচন ইস্যু বাদ দিয়ে আরাকান দখলে দেশবাসীকে সংগঠিত করবেন এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের শাসনকর্তা হয়ে আজীবন আসীন থাকবেন।
শুধুমাত্র বিশ্ব মানবতার স্বার্থেই আরাকান দখল করতে হবে। এজন্য দুটি বিষয় অতি জরুরী। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো এবং দেশের ষোল কোটি নাগরিককে সুসংগঠিত করা। বাহ্য দৃষ্টিতে কতিপয় পরাশক্তির ধৃষ্টতা পরিলক্ষিত হলেও বিশ্বমানবতার সামনে তাদের স্থায়ীত্ব একেবারেই ক্ষীণ। তাই অশুভ পরাশক্তি জুজুর ভয়ে ভীত না হয়ে বিশ্ববিবেকের সমর্থন নিয়ে দ্রুত আরাকান অভিযান করা উচিত।


আরাকান অভিযানে প্রথমত আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী ঢেলে সাজাতে হবে। গতবছর ০১ জুলাই, ২০১৬ তারিখে গুলশান হলি আর্টিজান হামলায় ব্যর্থ সেনাভিযানের জন্যই বিদেশি নাগরিকগণ হত্যার শিকার হন। সেদিন মাত্র ৬/৭ জঙ্গি গ্রেনেড মেরে ২ পুলিশ হত্যা ও ৪০ পুলিশকে আহত করে। তারপর জঙ্গিরা হোটেলে প্রবেশ করে আশ্চর্য্যজনকভাবে ১৫ বন্দিকে নিরাপদে ফেরত দেয়। তখন জঙ্গিদেরকে সারারাত অবকাশ দেয়া হয়। তারা সারারাত ২০ বন্দীকে নির্মমভাবে হত্যা করে হোটেলের রক্তাক্ত মেঝেতে নিরবে কাটায়। পরদিন সকালে অপারেশন থান্ডারবোল্ট শুরু হলে জঙ্গিরা নিহত হয়। জঙ্গিদেরকে সারারাত অবকাশ দেয়া ও দেরিতে অপারেশন পরিচালনায় বিশ্ববাসী অবাক হয়। সম্প্রতি আরো বহু ঘটনায় দেখা যায়, পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মাঝে বন্দুকযুদ্ধে শুধুমাত্র পুলিশের কাছে আটক ব্যক্তিরাই নিহত হয়। এতে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের ভিত্তিহীন জঙ্গি-সন্ত্রাস নিকৃষ্টভাবে প্রচার হয়েছে। তাইতো মায়ানমারের মতো স্বল্প ক্ষমতার দেশও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার চেষ্টা করেছে। তারা রোহিঙ্গাদেরকে সংখ্যালঘু মুসলিম না বলে বাঙ্গালি জঙ্গী-সন্ত্রাসী নামে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। অন্যদিকে ভারতও সেদেশের বাঙ্গালি ও রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার চেষ্টা করছে। এজন্য এখনই প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তিমত্তা দেখাতে হবে। সফলভাবে আরাকান দখল করে দেশের আয়তন বৃদ্ধি ও দৃঢ় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
একইভাবে আরাকান বিজয়ে বাংলাদেশের ষোলকোটি নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সকল নাগরিকের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সাড়ে সাত কোটি নাগরিককে যেভাবে সম্পৃক্ত করেছিলেন, এখনও তাই করতে হবে। আরাকান জয়ের পর ষোলকোটি নাগরিকের মাঝে বৈষম্য করা যাবেনা। প্রতিটি নাগরিককে বীরযোদ্ধা ঘোষণা করতে হবে। যেমনটি ১৯৭১ এর পরে করা হয়নি। তখন ৩০লাখ বাঙ্গালি প্রাণ বিসর্জন করলেও তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। ফলে আজও বাংলাদেশে লাখো শহীদের বংশ ও পরিবারের কোনো অস্তিত্ব নেই। শুধুমাত্র দুই লাখ ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকাভুক্তদের সন্তান-সন্ততিদেরকে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসুবিধা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশিদেরকেই ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী সাব্যস্ত করে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশে মারাত্মক বৈষম্য, অনৈক্য ও ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়েছে। আরাকান বিজয়ের পর এসকল বৈষম্য বাতিলের দৃঢ় ঘোষণা দিতে হবে। তবেই বাংলাদেশের ষোলকোটি নাগরিক ঐক্যবদ্ধ হবে। লাখ লাখ প্রত্যাখ্যাত রোহিঙ্গাদের নিয়ে আরাকান জয় করবে।
অতএব আমরা মাননীয় নেত্রীকে চাই, তিনি দেশের সার্বভৌমত্ত্ব রক্ষায় অযথা সময় নষ্ট না করে আরাকান দখলে মনোনিবেশ করবেন। বাংলাদেশে আর কোনো জঙ্গি-যুদ্ধাপরাধী না খুঁজে, সকল নাগরিককে আরাকান অভিযানে সুসংগঠিত করবেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা আরাকান দখলে জীবন-পণ লড়াই করবো। মাননীয় নেত্রীকে একক, অদ্বিতীয় ও স্থায়ী শাসকরূপে গ্রহণ করবো। তিনি বাংলাদেশের আয়তন বৃদ্ধি করে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের কর্ণধাররূপে আজীবন থাকবেন, এটাই চাই।
শিক্ষানবিস আইনজীবী, ঢাকা।


টরন্টোতে একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্কের সমাধান কী?

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

ড. মঞ্জুরে খোদা (টরিক) : টরন্টোতে একই দিনে বাঙালিদের একাধিক অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক চলছে। কারণ একই দিনে বিভিন্ন সংগঠন/ব্যক্তির একাধিক অনুষ্ঠান হলে দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি কমে যায়। এই ক্ষোভটা কেবল লক্ষ্য করেছি সংগঠক ও আয়োজকদের মধ্যে। কিন্তু আপনারা কি একবারও আমন্ত্রিতদের বিড়ম্বনার কথা ভেবেছেন? যখন কোন আয়োজনে উদ্যোক্তারা যার যার পরিচিত ও ঘনিষ্টদের অনুষ্ঠানে নিশ্চিত উপস্থিতি আশা করেন, তখন কেমন বিপত্তি-বিড়ম্বনাটা দেখা দেয়? সেটা নিয়ে মান-অভিমান, ভুল বুঝাবুঝি ও কেমন বিরূপ সম্পর্ক হয় তৈরী হয়, সেটা ভেবেছেন..?
আমার বিবেচনা, কমিউনিটির অবয়ব বিবেচনায় একাধিক অনুষ্ঠান হতেই পারে। দর্শক-শ্রোতা-আমন্ত্রিতারাই তাদের রুচি, সংস্কৃতি, মানসিকতা অনুযায়ী সেটা ঠিক করে নেবে, কে কোথায় যাবে। তাতে আশা করি আয়োজক/উদ্যোক্তাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরী হবে এবং অনুষ্ঠানের মানও বাড়বে। দর্শক-শ্রোতারাও তখন যে কোন অনুষ্ঠান অনেক বেশী উপভোগ করবে!
বৃহত্তর টরেন্টেতে প্রায় ৫০ হাজার বাঙালি বসবাস করে। সেখানে একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ৪ টি অনুষ্ঠান হলে তো কোন সমস্যা দেখি না। ৫০ হাজারের মধ্যে ১ হাজার বাঙালিও যদি ৪টি অনুষ্ঠানে ভাগ হয়ে যায়, তাতেও ২৫০ জন করে গড়ে উপস্থিত থাকবে। আর দুই হাজার হলে- সেটা হবে গড়ে ৫০০ করে। সেটাই বা কম কিসে? আর কর্মকান্ড বাড়ালে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যাও বাড়বে। এখানে যে জায়গাগুলোতে এই অনুষ্ঠান হয়, তার সব জায়গায় ৫০০ মানুষের বসার ব্যবস্থা নেই। তাহলে সমস্যা কোথায়? গুটিকতক মানুষের/পরিচিতের মধ্যে এই আয়োজনগুলো সীমাবদ্ধ না রেখে, তার পরিসরকে আরও বৃদ্ধি করতে হবে। পরষ্পর অভিযোগ না করে এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।

Picture
আমি তো বাহবা প্রদান করি বাঙালি কমিউনিটিকে, ভাগ্যিস সংগঠনগুলো একই জায়গায় একই এসময়ে যার যার অনুষ্ঠান আহ্বান/ঘোষণা করেনি! সেটাই তো আমাদের সৌভাগ্য! সেটা হলে তো লঙ্কাকান্ড! অনেক বাঙালি একসাথে থাকবে, দলাদলি, লাঠালাঠি করবে না, এটাই বা কম পাওয়া কিসে? এর জন্য আমাদের শুকরিয়া আদায় না করে, বরং ক্ষোভ প্রকাশ করছি! আসলে যে কোন বিষয়ে আমরা একক কৃতিত্ব আশা করি। অনেকের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতে চাই না, নিজেদের যোগ্যতা-শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করতে অনিচ্ছুক।
তারপও কমিউনিটির আয়োজক, সংগঠক ও ব্যক্তিত্বরা যদি মনে করেন একই দিনে সমমনা ও সমধারা বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠান আয়োজন করলে, তাতে বিশৃংখলা তৈরী হয় এবং সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভেদ-বিভ্রান্তি বাড়ে, তাহলে তা নিয়ন্ত্রনে একটা “প্রোগ্রা মনিটরিং কমিটি/সেল” গঠন করা যেতে পারে। তাতে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরী হতে পারে এবং কমিউনিটিতে শৃংখলা ফিরে আসবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেন্টার বা সবার সাথে আলোচনা সাপেক্ষ কোন একটি সংগঠনকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। যারা অনুষ্ঠান করবে তাদের আবেদনের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেই কমিটি/সংগঠন এই বিষয়ে ক্রমবিন্যাসের সিদ্ধান্ত জানাবে।
অনুষ্ঠান হোক, অনুষ্ঠান আরও বাড়ুক, দর্শক-শ্রোতা বাড়ুক, অনুষ্ঠানের মানও বাড়ুক! শত ফুল ফুটতে দাও, বৈরিতা ছাপিয়ে কমিউনিটির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাক!
লেখকঃ প্রাবন্ধিক-গবেষক, এবং সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।


আপ্লুত হৃদয় = লেখক : এস ই ইসলাম

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

আছো তুমি আখিঁর ও মাঝে
মম হৃদয় বানী সাঁেজ,
বাজে তান পুরাটার তারে।
তব আখিঁর আবেদন,
পেয়েছে পূর্ণতা মম প্রাণে।
আকূল ও আবেগে আপ্লুত হৃদয়ে,
প্রভাত প্রাতে খুজেঁছি তোমারে,
হে মোর প্রিয়া, প্রিয়া।
নিশিতে আখিঁর ও ভুবনে রবে
রাখিবে তোমার আচঁলের ছায়ে
সৌরভিত হবে নিবির পূর্নিমাতে
একাকি জাগিবে তব অঙ্গঁনে
ভাবনায় পাবে সুবাসিত সঙ্গ।
মিটিতে ও পারে একাকিত্ব।


বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাঁ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার---এস ইবাদুল ইসলাম

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

বলপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাঁ নাগরিক, যাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে আশ্রয় দেওয়া হয় বাংলাদেশে। সেই রোহিঙ্গাঁ নাগরিকদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আর্ন্তজাতিক কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে আর্ন্তজাতিক চাপ সৃষ্টি অব্যহত রাখতে পরার্মশ দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সাথে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে অবৈধ অভিবাসি হিসেবে চিহ্নিত করা অপচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা চ্যালেঞ্জকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপুর্ন চ্যালেজ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় কমিঠির বৈঠকে।
সংসদ ভবনে বুধবার কমিটির সভাপতি ডা: দীপু মনির সভাপতিতে¦ অনুষ্টিত সভায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়। কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী পররাষ্ট প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, মোহাম্মদ ফারুক খান, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স এবং বেগম মাহজাবিন খালেদ সভায় অংশ গ্রহন করেন। সভায় রোহিঙ্গা সর্ম্পকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মিয়ানমারের অভ্যান্তরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর সাম্প্রতিক নৃশংস নির্যাতনের প্রেক্ষিতে আবারও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহনকরেছেন। জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ব্রিটেন, সুইজারলেন্ড, ইউনেসকো, ইউএনএফপিএ সহ বিভিন্ন দেশ ও আর্ন্তজাতিক সংস্থা থেকে প্রতিনিধি কর্তৃক পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের কর্তৃক বলপূর্বক মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের আশ্রয় শিবির পরির্দশন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।এছাড়া যে সকল রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বসবাস করছে তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং নতুন করে যারা আসছে তাদেরও ফিরিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার পরার্মশ দেওয়া হয়।এবং প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারত সহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে প্রতিবেশী সুলভ বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সর্ম্পক বজায় রাখার ওপর ও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সুতরাং আমি লেখক হিসাবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি পাঠক সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি যে বন্ধু প্রীতি দেশ গুলো যাতে আমাদের বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা ফেরত কার্যক্রম কে ত্বরান্বিত করতে অগ্রনী ভুমিকা রাখেন। এতে করে নিপিড়িত নির্যাতিত রোহিঙ্গারা ও তাদের নিজ দেশে পৌঁছতে পারবে। সেটাই হবে বর্তমান প্রেক্ষাপটের ন্যায্য সমাধান। আর এই সমাধানটি হয়ে গেলে এটি ইতিহাসের পাতায় মানবতার বিশাল জয়’ বলে পরিগনিত হবে।


একটি অশ্লীল শিরোনাম ‘প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পেয়েছেন’ - শাহ আলম ফারুক

শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৭

এই দেশে এর আগে ২০ জন প্রধান বিচারপতি ছিলেন । কাউকে নিয়ে এমন তোলপাড় হয় নি কখনো, দেশের একুশতম প্রধান বিচারপতি মি: সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে  আগস্টের প্রথম থেকে যা হচ্ছে । ষোড়শ সংশোধনীর রায় এবং রায় সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে প্রধান সরকারী দলের প্রতিক্রিয়া এক অর্থে নজীরবিহীন। নির্বাহী বিভাগের শীর্ষ থেকে শুরু করে মন্ত্রী পাতি নেতা এমপি যে যেভাবে পেরেছে প্রধান বিচারপতিকে আক্রমণ করেছেন । এর মধ্যে কারো ভাষা ছিল অপক্ষাকৃতে শালীন । কারো ভাষা মাত্রাতিরিক্ত অশ্লীল ও অশোভন । এর মধ্যে প্রায় অন্তরীণ প্রধান বিচারপতিকে তাঁর ইচ্ছার বাইরে চিকিৎসার জন্য ছুটি প্রদান নিয়ে বেশ জমজমাট কিছু দৃশ্য জাতি অবলোকন করেছে । অসুস্থ বলে ছুটি নেয়ার কথা প্রচার করে শেষ রক্ষা হয় নি বলে শেষ পর্যন্ত মাননীয় আইনমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন ডেকে সেখানে মি: সিনহার ছুটির দরখাস্ত প্রকাশ করেছেন । যে স্বাক্ষরের সাথে আবার বিভিন্ন জাজমেন্টে দেয়া স্বাক্ষর মেলে না বলে অভিযোগ উঠে।

সে যাক এরিমধ্যে একটা খবর খুব ফলাও করে প্রচার হলো প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পেয়েছেন । একটা দেশের প্রধান বিচারপতি অন্য দেশে  তিন বছরের ভিসা পেয়েছেন এটা এমন কি বিশেষ খবর যে তা ফলাও করে জানাতে হয় । যদিও অস্ট্রেলিয়া এ পর্যন্ত কোন দেশের প্রধানপতির ভিসার আবেদন রিফিউজ করেছে কি না জানা নেই ।

অস্ট্রেলিয়া হোক ইউরোপ হোক কিংবা আমেরিকা কানাডা হোক সাধারণত: ভিসা ইস্যুর ব্যাপারে যথেস্ট সতর্ক থাকার চেস্টা করে । তাই বলে যে কোন সরকারের উচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত কোন ব্যক্তির ভিসা আবেদন তারা রিফিউজ করবে অবস্থা অত আশংকাজনক স্তরে যায় নি । কিন্তু বাংলাদেশে যে ভাবে এমনকী ইত্তেফাকের মত পত্রিকায় যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে নিউজটি প্রধান বিচারপতির অস্ট্রেলিয়ার ভিসা পাবার খবর ছাপা  হয়েছে তাতে হতবাক হতে হয় । নিউজটি পড়ে যে কারো মনে হতে পারে যে প্রধান বিচারপতির হয়তো ভিসা না পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল । ব্যতিক্রম হিসেবে, মাঝে মাঝে মোদী বা আমাদের দেশের বিশেষ কোন বাহিনীর ব্যাপারে ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা থাকে, আবার তা এক সময়ে প্রত্যাহার বা পূণর্বিবেচিতও হয় ।
সে যাক হয়তো আমরা সবাই মিলে প্রধান বিচারপতিকে এমন ধরাশায়ী করে ফেলেছিলাম যাতে মনে হতে পারে এমন শক্তিহীন মানুষকে হয়তো অস্ট্রেলিয়ানরা ভিসা নাও দিতে পারতো !  একজন মন্ত্রী যখন বলে ফেলেন- তাঁর (প্রধান বিচারপতি) যদি সামান্যতম জ্ঞান থাকে, সামান্যতম বুঝ থাকে, তাহলে স্বেচ্ছায় চলে যাবেন। তা না হলে সেপ্টেম্বর মাস থেকে আইনজীবীরা তাঁর বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন।’ শেষমেশ এমন এক পরিস্থিতি সৃস্টি করা হলো যে তাকে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ছুটিতে পাঠিয়ে দেয়া হলো ডেট লাইন অনুসারে সেপ্টেম্বরের পর পর অক্টোবর মাসে।
এমন কিছু পদ আছে যেটা যত না ব্যক্তিক তার চেয়েও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক সাংবিধানিক গুরুত্বের । মি: সিনহা ব্যক্তিগতভাবে প্রধান বিচারপতি হলেও প্রধান বিচারপতি পদটি ব্যক্তি মি: সিনহাকে ছাড়িয়ে অনেক বেশি মর্যাদামন্ডিত ও শ্রদ্ধেয়। একটা বিশেষ ব্যক্তির পর্যবেক্ষণ কে কেন্দ্র করে যারা প্রধান বিচারপতি তথা বিচার বিভাগের মর্যাদা ও ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে ক্ষুন্ন করেছেন ইতিহাস কখনো তাদের ক্ষমা করবে না- এ আশাটুকুতো করাই যায় ! নইলে হতাশা ছাড়া যে কোন ভবিষ্যৎ থাকে না।

শাহ আলম ফারুক : লন্ডন প্রবাসী মানবাধিকার কর্মী
আইনজীবী, সাবেক সিনিয়র তদন্ত কর্মকর্তা,
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক )
এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


অনুত্তর প্রশ্ন ! -সুহাস বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭

কোথায় থাকো স্রষ্টা তুমি? কোথায় তোমার বাড়ী ?
দেখতে তুমি কেমন প্রভু? পুরুষ কিংবা নারী ?
স্রষ্টা বলে জানে তোমায়, নানান ধর্ম - জাতে ,
বিশ্ব জুড়ে বিশ্বাসীরা ডাকছে দিনে রাতে!
তোমার কথা বলে গেলো মুসা, ঈসা, নবী !
কেউ দেখেনি তোমার কায়া, কেউ আঁকেনি ছবি !
ধর্ম লইয়া এলো প্রচারক দূত, পুত্র বলে ?
ধর্মের  নামে ভাগ হয়ে গেলো মানুষেরা দলে দলে !
কেনো দিলে তুমি এতো প্রচারক? গ্রন্থ, গ্রন্থ,বাণী ?
ধার্মিকেরা বাণী পড়ে পড়ে করে যায় হানাহানী !
তুমি জানি সদা সর্বজ্ঞ, সবার মন যে জানা !
ধর্ম দূতেরা ভুল করে যাবে, কেন করিলেনা মানা ?
স্রষ্টা আছো ? কেমন আছো? কেউ ভাবে না যে তাহা !
তোঁমার কাছে চেয়েই গেলো, যার মন চায় যাহা।
কোথায় আছো স্রষ্টা তুমি, কোথায় দেখা পাই ?
বিশ্বাস ছাড়া, বিশ্বাস করা, অন্য পথ কি নাই?
বিশ্বাসে দেখি বিড়ম্বনা, বিশ্বাসী বিভ্রান্তে !
মতবাদে বিশ্বাসীরা, ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে ?


মুসলিম হলেই সন্ত্রাসী, অন্যরা নিঃসঙ্গ শিকারি!

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭

হিসেবেই বিশ্বাস করেন। লাস ভেগাসের সন্ত্রাসী হামলার পরপরই মার্কিন সংগীত শিল্পী আরিয়ানা গ্রান্ডে তার টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে দাবি জানান, ওই হামলাকে তার প্রকৃত নামে আখ্যায়িত করতে। এর আগেও কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অরোরাতে সিনেমা হলে হামলাকারী জেমস হোমস (হামলায় ১২ জন নিহত হয়), কিংবা নর্থ ক্যারোলিনায় গির্জায় হামলাকারী (হামলায় ৯ জন নিহত হয়), সেগুলো মার্কিন প্রশাসনে ‘নিঃসঙ্গ হামলাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
লন্ডন সাবওয়ে হামলার হোতা কে এবং তার উদ্দেশ্য কী ছিলÑ তা বিন্দুমাত্র প্রকাশিত হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উক্ত ব্যক্তিকে ‘পরাজিত সন্ত্রাস’ আখ্যা দিয়ে তার ‘মুসলিম ব্যান’ এর যৌক্তিকতা তুলে ধরার প্রয়াস চালান। নেভাডা অঙ্গরাজ্যের আইনে সন্ত্রাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট বিধিমালা থাকলেও এসব ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা আখ্যা দেওয়া হয়নি।

Picture

ইরাকি বংশদ্ভূত ব্রিটিশ সাংবাদিক মেহেদি হাসান তার প্রবন্ধে বলেছেন, প্রতি তিনজন কথিত ‘মুসলিম জিহাদি’র দুজনই পাশ্চাত্যে জন্মলাভ করেছে কিংবা পাশ্চাত্য ভাবধারায় লালিত-পালিত।
এ প্রসঙ্গে ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি পাশ্চাত্যের যুবসমাজের উদ্দেশে লেখা পত্রে যথার্থই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এ প্রশ্ন তুলতেই হবে, পাশ্চাত্যে জন্মগ্রহণ করা ব্যক্তিরা যারা বুদ্ধিবৃত্তিক এবং পাশ্চাত্য মানসিকতায় বেড়ে উঠেছেÑ কেন এসব উগ্রবাদী গোষ্ঠীর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে? এটা কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য, তাদের কেউ কেউ মাত্র দু-একবার যুদ্ধ ক্ষেত্রে গিয়েই এতটা উগ্রবাদী হয়ে পড়েছে। এমনকি নিজেদের সহযোদ্ধাদের বুলেটে এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিতেও দ্বিধা করছে না?’

গার্ডিয়ান পত্রিকার এলান ট্রেভিসের প্রকাশিত ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআই ফাইভ’ এর এক রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ‘ধর্মান্ধ মুসলিম’ হওয়া তো দূরের কথা, এসব সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িত অধিকাংশ ব্যক্তিই ধর্মীয় আচার পালনই করে না; বরং তারা মাদকাসক্ত এবং অসামাজিক জীবনযাপন করে থাকে।
মেহেদী হাসানের প্রবন্ধে দেখা যায়, পাশ্চাত্য যাদের মুসলিম সন্ত্রাসী আখ্যায়িত করতে ক্ষণকালও দ্বিধা করে না, তাদের অধিকাংশেরই অ-ইসলাম সংশ্লিষ্ট সহিংস ইতিহাস বিদ্য মান। যেমন লন্ডন হামলার হোতা ৫২ বছর বয়সী খালেদ মাসুদ, যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা যুক্তরাজ্যেই এবং ২০০৩ সালে জেলে অবস্থানরত অবস্থায় খ্রিস্টধর্ম থেকে ইসলাম গ্রহণ করে। ইসলাম গ্রহণের আগেই তার রয়েছে নৃশংস ঘটনা ঘটানোর ক্রিমিনাল হিস্ট্রি। ১৯৮৩ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে, আবার ২০০০ সালে এবং ২০০৩ সালে (ইসলাম গ্রহণের আগেই) তার বার বার সহিংস কর্মকা-Ñ কিংবা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার ইতিহাস কারোর অজানা নয়। প্রখ্যাত ব্রিটিশ একাডেমিক এড্রিয়েন হিল্টন এ সিদ্ধান্তেই পৌঁছেন, ‘ইসলাম খালেদ মাসুদকে সহিংস করে তোলেনি; বরং আগে থেকেই সে একটা অমানুষ ছিল।’
কিন্তু কে শোনে কার কথা! মার্কিন প্রশাসন, হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র সেবাস্টিয়ান গোর্কা ফক্স নিউজকে জানাচ্ছেন, ‘যুদ্ধটা বাস্তবিক! প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসী আইন আর মুসলিম ব্যান যুক্তিযুক্ত।’

লেখক : কলামিস্ট


দেশী বৌদ্ধদের কি দোষ, ওদেরকে কেন মারছেন?

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৭

ইমতিয়াজ মাহমুদ : এখন রোহিঙ্গাদের কথা কি বলবো? ওদের প্রতি মানবিক সহমর্মিতা তো আমাদের আছেই। আমাদের সরকারও ওদেরকে সাহায্য করছে। আমাদের সরকার চেষ্টা করছে রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক ফোরামে নিয়ে গিয়ে সেখানে মায়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে করে ওরা রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নেয়, ওদের অধিকার রক্ষা করে, ওদেরকে আইনের সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাবস্থা করে। আর মানবিক সাহায্যের ব্যাপারে তো আমাদের দেশের সকলেই একমত- অনেকটা জাতীয় ঐক্য যেন তৈরি হয়েছে।

কিন্তু আমাদের দেশী বৌদ্ধদের কি দোষ। ওদেরকে কেন মারছেন? এটা কি ধরনের অন্যায়? এটা কি ধরনের প্রতারণা? এটা কি ধরনের ভণ্ডামি? এটা তো পুরা ভণ্ডামি রে ভাই। কেন এটাকে ভণ্ডামি বলছি?
মায়ানমারের কাছে আমরা কি দাবী করছি? আমরা দাবী করছি যে রোহিঙ্গারা হিন্দু কি মুসলিম কি বৌদ্ধ সেটা মুখ্য বিষয় নয়, ওরা প্রায় হাজার বছর ধরে বার্মায় বসবাস করছে, ওরা বার্মার নাগরিক, ওদের বিরুদ্ধে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করা অন্যায়। বলছি না আমরা এই কথা? বলছি না যে কেবল ধর্মের কারণে মায়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদেরকে ভিন্ন চোখে দেখতে পারে না? বলছি তো। তাঁর মানে আমরা কোন নীতিটা প্রতিষ্ঠা করতে চাইছি? আমরা চাইছি যে একটা জনগোষ্ঠীর সাধারণ ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের উপর অত্যাচার নিপীড়ন করা যাবে না। তাইলে আমরা কেন ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে অন্যদেরকে মারবো। এটা ভণ্ডামি না? বার্মাকে বলবো ধর্মের কারণে বৈষম্য করছ- সেটা অন্যায়, আর আমরা নিজেরা ধর্মের কারণে মানুষের উপর অত্যাচার করবো?
একটা ভিডিও পাঠিয়েছেন এক বন্ধু, সেখানে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু প্রাণভয়ে কাতর হয়ে ওকে যা বলতে বলছে তাই বলছে ক্যামেরার সামনে। আশপাশ থেকে গালাগালি আর হুমকির আওয়াজ ভেসে আসছে। এটা নাকি বেনাপোলের ঘটনা। আমার পিচ্চি দোস্ত অংপ্রু (আমি ওকে ডাকি বাবু বলে), ওর কাছে আরও কয়েকজনের কাছে শুনলাম চট্টগ্রামে অক্সিজেন এলাকায় নাকি হুমকি দেওয়া হয়েছে, ১৬ তারিখের মধ্যে সকল বৌদ্ধদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে, তাইলে ওদের খবর আছে। অক্সিজেন এলাকায় অনেক পাহাড়ি আদিবাসী বাস করে- অনেকেই ছাত্র, অনেকে শহরে নানারকম চাকরী বাকরি করে।
কিছুদিন আগে মিরপুরে একটি বৌদ্ধ বিহারে হুমকি দিয়েছে। বৌদ্ধদেরকে মেরে ফেলা হবে, কিয়াং ভেঙে ফেলা হবে ইত্যাদি। মিরপুরে নাকি পুলিশ প্রহরা বসানো হয়েছে বিহারের আশেপাশে। কিন্তু দেশের অন্যত্র? পাহাড় থেকে ছেলেমেয়েদের বার্তা পাই। ওরা ভয় পাচ্ছে। অজানা অচেনা লোকজন আনাগোনা করছে। রাতের অন্ধকারে কারা যান ট্রাক নিয়ে একখান থেকে আরেকখানে যাচ্ছে।
আমি ভয় পাচ্ছি। ভয় পাচ্ছি, তবে কি রোহিঙ্গাদের প্রতি আমাদের মানবিক সহানুভূতিকে ব্যাবহার করে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এদেশে সাপ্রদায়িক অশান্তি তৈরি করবে? আপনারা যারা লিবারেল গণতন্ত্রমনস্ক মানুষরা আছেন, আপনারা কিছু বলবেন না? আমরাও কি তবে মায়ানমারের মতোই মানুষ মারতে থাকবো? মানুষই তো। মায়ানমারের ওরা রোহিঙ্গা মারছে, ওরাও মানুষ, আর আমাদের বৌদ্ধরাও মানুষ। মানুষই তো। শেষ বিচারে মৃত্যু তো হয় মানুষেরই।
মেহেরবানি করে সকলে একটু বলেন, মুখ খোলেন। সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস আমরা সহ্য করবো না। বৌদ্ধ বলেই কাউকে মারতে ধরবেন না, হেনস্তা করবেন না। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষকে অত্যাচার করা সেটা সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের কাজ।
হিন্দু উগ্রবাদী, মুসলিম উগ্রবাদী এরা সকলেই এক এই ব্যাপারে। আর আছে ধর্মকে যারা রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার বানাতে চায় ওরা। আমাদের এখানে জিয়াউর রহমান যেরকম আমাদের জাতীয় পরিচয়ে আর রাজনীতিতে ধর্মীয় উপাদান ঢুকিয়েছিলেন, একইভাবে মায়ানমারের মিলিটারি শাসকরাও ধর্মীয় উপাদান ঢুকিয়েছে। জিয়াউর রহমান ঢুকিয়েছেন ইসলাম আর বার্মার ওরা ঢুকিয়েছে থেরোবাদি বৌদ্ধ ধর্ম। আপনি যদি আসলেই উদার গণতন্ত্রী হয়ে থাকেন, আসলেই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকেন আর আসলেই যদি আধুনিক হয়ে থাকেন তাইলে আপনাকে এদের বিরুদ্ধে কথা বলতেই হবে।
এমনকি আপনি যদি রোহিঙ্গাদের প্রতি প্রকৃতই সহানুভূতিসম্পন্ন হয়ে থাকেন তাইলেও আপনাকে বৌদ্ধদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমার এই প্রিয়তম স্বদেশে ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের হাতে মানুষ হত্যা সহ্য করবো? আপনি বলেন, করবেন?
(ফেসবুক থেকে নেওয়া)


শয়তান এবং ইয়াজিদের নাচ।আবু জাফর মাহমুদ

মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০১৭

আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমানের এক চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়েছিলো কারবালার যুদ্ধে।নিশ্চিত মৃত্যুর  খবর জেনেই আল্লাহ্‌র প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষাকে দৃঢ়চিত্তে কবুল করার উদাহরণ হচ্ছে হুসেইন এবং ৭২জন শহীদ।বদরের যুদ্ধে মুসলমানদের কাছে পরাজিত হয়ে জীবন ভিক্ষা চেয়ে  ইসলাম গ্রহনকারী  যোদ্ধা  মু’আবিয়ার পুত্র ইয়াজিদ।শয়তানের পথে অনুগত হতে অস্বীকার করার ফলে  অনিবার্য্য হয় এই  রক্তপাত।
 ইয়াজিদ মদিনায় নিযুক্ত উমাইয়া শাসক ওয়ালিদ ইবনে উতবাকে নির্দেশ দিয়েছিল-“ হুসাইনকে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমরকে, আবদুর রহমান ইবনে আবুবকরকে ও আবদুল্লাহ ইবনে যোবাইরকে শক্তভাবে বায়আত করার জন্য পাকড়াও কর। যে-ই বায়আত তথা আমার আনুগত্য প্রকাশ করতে অস্বীকার করবে তার মাথা কেটে আমার কাছে পাঠিয়ে দাও” (মাকতালই খাওয়ারিজমি, ১ম খণ্ড, ১৭৮-১৮০পৃ.)
 অভিশপ্ত ইয়াজিদ ইমাম হুসাইন (আ.)কে শহীদ করার ঘটনার পর বলেছিল: আমার পূর্বপুরুষরা যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে তারা দেখতেন যে, কিভাবে আমি মুহাম্মাদের পরিবার ও (তাঁদের গোত্র) বনি হাশিমের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি।  
অভিশপ্ত ইয়াজিদ এক কবিতা আবৃত্তি করে বলেছিল: আমি আহমদের (রাসূল-সা.) কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি বদর যুদ্ধের বদলা হিসেবে যা সে (তিনি) করেছিল ওই যুদ্ধে আমাদের পূর্ব পুরুষদের বিরুদ্ধে।
 
লম্পট ও মদ্যপ ইয়াজিদ আরো বলেছিল: মদ যদি দ্বীনে মুহাম্মাদিতে হারাম হয়ে থাকে তবে ঈসা ইবনে মারিয়মের ধর্ম তথা খ্রিস্টান ধর্মের আলোকে হালাল হিসেবে খাও!!! (তাফসিরে ইবনে মাজহারি, খ-৫, পৃ-২১১-১২)  
 ইয়াজিদ  মুহাম্মদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিয়েছে বদরের যুদ্ধে তার বাবাদের শোচনীয় পরাজয় এবং আত্নসমর্পনের।ইতিপূর্বে ইয়াজিদকে প্রিন্স  ঘোষণা দিয়েও মু’আবিয়া সফল হয়নি।পরবর্তীতে নিজেকে বাদশাহ ঘোষণা করে কিছুদিন নির্মমতা চালিয়ে প্রতিটি ঘাতক মানবজাতির কাছে চরম অপমানিত ও দুর্ভোগ হজম করে মৃত্যুর কাছে পরাজিত হয়।পরবর্তীতে বিদ্রোহের উত্থান হয়। খুঁজে খুঁজে জালেমদেরকে গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়া হয় এবং অবশিষ্ট বাকিরা অন্ধ অথবা ভয়ানক রোগে আক্রান্ত হয়ে নিজেদের দুর্দশায় নিজেরাই পাপ স্বীকার করে করে এখানে ওখানে মরেছে।  
 আবদুল্লাহ বিন খাজালাতুল ঘুসাইল (সাহাবী) থেকে জানিয়েছেন, ওই সাহাবি ইমাম ওয়াকিদি বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম যে ইয়াজিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করলে আল্লাহর আজাব হিসেবে আকাশ থেকে আমাদের ওপর পাথর বর্ষিত হবে, খোদার কসম, (এই বিশ্বাসে) নিশ্চিত হওয়ার পরই আমরা বিদ্রোহ শুরু করি ইয়াজিদের বিরুদ্ধে।’ ইয়াজিদপন্থীরা তথা ইয়াজিদের অনুসারী ও সাঙ্গপাঙ্গরা নিজ মা, বোন ও কন্যাদের বিয়ে করা শুরু করেছিল (জাহেলি যুগের মত), তারা প্রকাশ্যে মদ পান করত এবং নামাজকে উপেক্ষা করত।(সুয়ুতির তারিখুল খোলাফা পৃ-১৬৭)।   
ঐতিহাসিক মহ্‌রম মাসে মিয়ানমার-ভারত-বাংলাদেশে নিজেদের জীবন এবং জীবন- স্রষ্টার সম্পর্কের সাথে আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট নিয়ে ভাবতেই ভেসে আসে বাংলাদেশকে ঘির ফেলা শক্তিগুলোর চেহারা।ইয়াজিদের ন্যায় ওরা বিশাল সেনাশক্তি ও সামর্থ্যের অধিকারী,ওরা প্রবল আগ্রাসী।মু’আবিয়া-ইয়াজিদের পছন্দের তৎকালীন অপরাধগুলোর ধারা চালু করার চেষ্টা চলছে উক্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনে।শয়তানের নির্দ্দেশিত রাজনীতির আলোকেই মানুষদেরকে অশ্লীলতার প্রতি  অনুগত হবার চাপ প্রয়োগে সচেষ্ট রাষ্ট্রগুলো।মিয়ানমার ও ভারতের দিকে তাকালে অনেক বর্বরতার মিল খুঁজে পাওয়া যায়।তবে এয়াওব বর্বরতা সবাই মানছে তা নয়, মানুষদের প্রার্থনা এবং নিরন্তর সংগ্রামও চলছে নিরাপদ জীবনের আশায়।          
 পশ্চিম বঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি’র বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে এবং বাঙালি-বিদ্বেষী   প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে।৭ই অক্টোবর শনিবার তৃণমূল নেতা-কর্মীরা পশ্চিম বঙ্গের রাজধানী কোলকাতার পাশাপাশি জেলার বিভিন্নস্থানে বিজেপিবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ও প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ান। ঘটনার শুরু বিজেপির বাড়াবাড়ি দিয়ে।   
দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের  চড়-থাপ্পর-কিল-ঘুষি মারার নেপথ্যে তৃণমূলের হাত থাকার কথা দাবি করে আগের দিন শুক্রবার কোলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্নস্থানে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। কোলকাতায় পোড়ানো হয় মুখ্যমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা। ওই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর অবমাননা হয়েছে অভিযোগ করে রাজ্য তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় গতকাল বিজেপির বিরুদ্ধে পথে নামাসহ প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর নির্দেশ দেন।  
বৃহস্পতিবার ৫ই অক্টোবর দার্জিলিং সফরে গেলে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষকে নিগ্রহ করে সেখানকার ক্ষুব্ধ মানুষজন। দিলীপ বাবুদের সঙ্গী সাথীদের মারধর করাসহ 'দিলীপ ঘোষ গো ব্যাক' ধ্বনি দেন বিক্ষোভকারীরা।মারমুখো জনতার হাত থেকে কোনোক্রমে পালিয়ে দার্জিলিং সদর থানায় আশ্রয় নেন দিলীপ বাবুরা। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের দাবি, তাদের নিগ্রহের পিছনে তৃণমূলের হাত আছে। তৃণমূল অবশ্য ওই দাবি নাকচ করে দিলীপ ঘোষ অশান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পাহাড়ে গেছেন বলে মন্তব্য করছে।  
এইসব বাদানুবাদের যুক্তি যাই থাকুক, জঙ্গি হিন্দুত্ববাদীদের রাষ্টময় ক্ষমতার বেহাল দশার চিত্র দেখা গেলো বাঙালির রাজ্যে।এভাবে হিন্দু গণশত্রুদের ধোলাই দেয়ার বিপ্লবী চেতনায় বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে যে দৃঢ়তা দেখা দিয়েছে,তা অবশ্যই লক্ষ্যণীয়।এই মহান চেতনার অংশীদার মুসলমান,খৃষ্টান,বৌদ্ধ ও অন্যান্যেরা। বাঙালি এবং অপরাপর জাতির শান্তিকামী মানুষরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন ভবিষ্যতের নিরাপত্তার বিবেচনায়।
সীমান্তের ওপারে এই জঙ্গি ষড়যন্ত্রকারীদেরকে গণধোলাই দেবার বাতাস বয়ে যেতে তো পারেই।ঝড় তুফান জলোচ্ছ্বাসের সীমান্ত অতিক্রম দেখে দেখে বড় হয়েছি।এই দুর্যোগের ব্যপকতা নিয়ে চিন্তা কিছুটা তো হতেই পারে। এপারের মানুষের মধ্যে শ্লোগান উচ্চারিত হতেই পারে “জয় বাঙালি”,“জয় মমতাদি”  “জয় মানবতা” “জয় বাঙালির একতা”।   
নরেন্দ্র মোদীদের জঙ্গিহিন্দুপন্থি রাজনৈতিক স্বৈরাচারিতা  দেখেও চোখ বন্ধ করে রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশে।কানে কিছু না শোনার ভান করে থাকতে হচ্ছে।এতে নিজেদের লাভ-অলাভের বিষয় জড়িত।বাংলাদেশ সরকারের রাজনীতিকরা জাতে মাতাল তালে ঠুং ঠাং।


হা-হা-কার = এস ই ইসলাম

সোমবার, ০৯ অক্টোবর ২০১৭

এ জগতের সৃষ্টির শ্রেষ্ট যারা,
স্বার্থেও উর্ধ্বে যায় নাকো তারা।
সোনার হরিণের মিছে আশা,
বিলিন করে মনুষত্বতা।
নিরাপদ নাই এ বাস,
আছে শুধুই হা-হা-কার।
প্রতিযোগীতায় চলে সদা,
দিনে দিনে বাড়ছে বাঁধা।
শৃঙ্খলিত হতে আসে,
আগমনী সতর্ক বার্তা
উৎসাহিত হয় সকল কর্তা
বেড়িয়ে আসুক খোলস খুলে,
সকল দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভুলে।
প্রতিবাদেও ঝড় তুলে,
সকল দায়িত্ব নিলে।
ঐক্যের বাক্যের আহ্বান,
গ্রহণ করলো জনগণ।
তবুও রয়ে গেল আজও
অপ্রাপ্তির হা-হা-কার
সর্বাগ্রে নৈতিকতার উন্নয়ন দরকার।
জ্ঞানী গুনিজন মিলে
সমাধানের পথ দেখালে
তবেই হবে এর উত্তরণ।


অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ ---সামছুল ইসলাম মজনু

বৃহস্পতিবার, ০৫ অক্টোবর ২০১৭

দীর্ঘদিন যাবৎ দেশে ছেড়ে প্রবাসে আছি কিন্তু কেন জানি বাংলাদেশের ভাল খবরে পুলকিত হই একই সাথে মন্দ খবর শুনলে শিহরিত হই। সব সময় বাংলাদেশের ভাল শুনতে চাই এটাই আমাকে আশান্বিত করে। একটা মানুষ হিসাবে জন্মভূমিকে কখনও ভুলতে পারে না। দীর্ঘ আটাশ বছরের পদযাত্রায় অনেক কিছুর সাক্ষী, যদিও অনেকে আসেন ক্ষনিকের বিনোদনের জন্য। সততার সাথে উন্নত জীবনের তাগিদে এই প্রবাস জীবন বেঁচে নিয়েছি। এখানে কেহ বা সফল হয়েছে কেউ বা নয়, এটা আমার কাছে এই মুহুর্তে মুখ্য নহে, তবে দেশ প্রেমিকের পরীক্ষায় যে উত্তীর্ণ হয়েছি এটা বলতে দ্বিধা নাই, আর তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এ লেখা।

বাংলাদেশ এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন হয়, বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্থান হয়, এই স্বাধীনতা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তর্ক রয়েছে আমি সেখানে যাব না, তবে এটা বলতে দ্বিধা নেই, সবার মধ্যেই দেশ প্রেম আছে হয়ত দৃষ্টিকোণ ভিন্ন, দেশ প্রেম থাকাটাই স্বাভাবিক এটাই কাম্য। আমরা যারা দীর্ঘ সময় প্রবাসে আছি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়া নিয়াছি এবং প্রশ্ন করা হয় কোনটা আগে আমি বাংলাদেশকেই বেঁচে নিব, যদিও বিষয়টা খুব কঠিন তবুও বলবো জন্মভূমির প্রতি রয়েছে দূর্বলতা, আর তারাই সূত্র ধরে আজকের এই লেখা।

বাংলাদেশের ভৌগলিক রাজনীতিতে একটা অশান্তি বিরাজ করছে যা নাকি এতদিন আমরা মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিনকে নিয়া দেখেছি। অত্র অঞ্চলে একেক রাষ্ট্র একেক ভূমিকা রাখছে, কেউ বা নিজের প্রভার বিস্তার করার চেষ্টায় মত্ত্ব আবার অন্যরা নিজেদের অস্তিত্ব ঠিকিয়ে রাখার চেষ্টা, তার উপর রয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ।

ভাষার ভিত্তিতে রাষ্ট্র হচ্ছে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের শুরুটাই ছিল বিতর্কিত কারণ বাংলাদেশের প্রধান ভাষা বাংলা হলেও বাংলা ভাষাভাষী বিশাল পরিমাণ লোক এখনো বাংলাদেশের বাহিরে রয়ে গেছে, যদি একটু পিছনের দিকে তাকাই তাহলে সহজেই দেখতে পাই বৃহত্তর সিলেটের কাছাড় হতে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা তদানিন্তন বার্মা তথা আজকের মিয়ানমারের আরকান রাজ্য যা নাকি রাখাইন হিসেবে বর্তমানে পরিচিত, তার সবটাই বাংলা ভাষা ভাষী লোকের সংখ্যাই বেশী অথাৎ বাংলাবাসী যদিও ধর্মীও দৃষ্টিকোণে আমরা সবাই বিভক্ত এক্ষেত্রে এই সব বাঙালীরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতো তা হলে কি হতো? উত্তরটা এ মুহুর্তে আমার জানা নাই, ভাল মন্দ হিসাব করে চুলচেরা বিশ্লেষণের যোগ্যতা আমার নেই, তবে আজকের লেখনিতে আমি ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের স্বাধীন বাংলাদেশ নিয়ে আমার এই লেখা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যেকোন রাষ্ট্রের মৌলিক ভিত্তি, যখন এটার উপর আঘাত আসে তখন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নিয়া প্রশ্ন উঠে আসে এখানেও রয়েছে রাজনৈতিক বির্তক। যেভাবেই লিখা লিখতে চাই না কেন, দেখা যাচ্ছে কেন জানি বির্তকের মাঝে জড়ায়ে পড়তেছি এসকল বির্তককে পাশ কাটিয়ে ‘অনিশ্চিত গন্তব্যের বাংলাদেশ’ সেটার অনুকূলে কিছু লিখাই আমার উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা সতের কোটি, ছোট্ট একটা দেশ, মাত্র ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল যার আয়তন, পরম করুনাময় আল্লাহ আমাদের প্রতি সহায় হউন এই কামনা দিবা নিষি। এই ঘনবসতির দেশে সর্বস্থরে দুর্নীতিবাজ বা দুর্নীতি পরায়ন, সুষম বন্টনের অভাব, শেষ ভরসাস্থল বিচার ব্যবস্থায় রয়েছে বিশৃঙ্খলা, যদিও এগুলো ঠিক ঠাক থাকত, তবে হয়ত সুষম বন্টনের মধ্যে হলেও কিছুটা উত্তরণের পথ বাহির করা যেত। এখানে দিনে দিনে কোটিপতির সংখ্যা বাড়ছে অন্যদিকে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী দারিদ্র সীমার নিচ থেকে আরো অবনতি হচ্ছে। অপুষ্টি অনাহারে বেড়ে উঠছে বেশীর ভাগ, রয়েছে অসংখ্য সমস্যা।

ভাটির দেশ বাংলাদেশ, শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রয়োজন অথচ কোন পানির প্রবাহ নাই, খাল বিল প্রায় পানি শুন্য থাকে শুষ্ক মৌসুমে। অথচ বর্ষাকালে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি প্রবাহ, পানির উৎস স্থলের সাথে আলোচনা করে একটা সমাধানের উপায় বাহির করার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেশী দেশের অসহযোগিতার কারণে এটার সমাধান হচ্ছে না। আবার বর্ষাকালে পানির এত চাপ যার ফলশ্রুতিতে সমগ্র উত্তর বঙ্গে বন্যায় ভেসে যায় এর প্রভাবে কৃষি পণ্যের উৎপাদনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আবার এদিকে দক্ষিণ পূর্বাচলে বষায় নদীতে সাগরের পানি উঠে আসে তাতে করে পানি তার গতি হারিয়ে এখানেও বন্যার মাঝে থাকতে হয়। সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় পানি নিষ্কাষন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি এবং অবহেলা। এক্ষেত্রে যদি নদী, বিল খালের সংস্কার করা গেলে হয়ত এ অবস্থা থেকে রেহায় পাওয়া যেত, বর্ষাকালে দেখা যায় মেট্রোপলিটন শহরে বসবাস করেও নৌকাই হয়ে উঠে একমাত্র বাহন।
এদিকে আবার ইতিমধ্যে দশ লাখের ও অধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীর অনুপ্রবেশ ঘটছে বাংলাদেশে। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে চলছে বাঙালী মুসলমান নিধণ, বাড়ী ঘর জ্বালিয়ে নিরহ মানুষদের হত্যা করছে মিয়ানমারের আধা সামরিক সরকার। যুবক/যুবতীদের পৈাসাচিক আচরণ করে ক্ষান্ত নয় তারা তাদের অঙ্গ প্রতঙ্গ ছিন্ন করে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরালে প্রচার করছে। অমানুষিক নির্যাতনে বাঁচার জন্য হাজার হাজার নয় লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। রোহিঙ্গাদের যারা আসছে তাদের বেশীর ভাগই বৃদ্ধ, মহিলা ও শিশু, প্রাপ্ত বয়স্ক যুবকের অনুপস্থিত। পর্যালোচনা করে এবং পরিবারের লোকের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, এই সকল যুবকরাই সেনাবাহিনীর প্রথম টার্গেট। একটা জাতিকে ধ্বংস করে দিতে চাইলে যুব সমাজকে ধ্বংশ করলেই যথেষ্ট, যুব সমাজই মূল চালিকা শক্তি। এতে করে সহজেই অনুন্নেয় এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করার জন্য দীর্ঘ প্রয়াস চলছে। আজ সারা বিশ্বে হোলিকাষ্টের ঘটনার জন্য সমালোচিত হিটলার ও তার বাহিনী, যে পরিমাণ ইহুদিকে সেদিন হত্যা করা হয় তার চেয়ে অনেক বেশী পরিমাণ মিয়ানমারের মুসলিম বাঙালীকে হত্যা করা হচ্ছে, যারা প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশে অথচ দু একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারা বিশ্ব নিশ্চুপ। বাংলাদেশ একা কিভাবে সামাল দিবে এই বিপুলসংখ্যক শরনার্থীদের খাদ্য, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। এমনিতেই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বাংলাদেশকে জঙ্গি তকমা দেয়া হয় তার উপর এই রোহিঙ্গাদের মধ্যে থেকে যদি জিগাংসার সৃষ্টি হয় এবং সত্যই এরা যদি জঙ্গি কার্যকলাপের সাথে জড়িয়ে যায় তখন কিভাবে সামাল দেয়া হবে আর বাংলাদেশকে ধ্বংস করার জন্য হায়েনাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হয় তখন কোথায় যাব আমরা?

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য চাই মেধা সম্পন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা, চরম দূভাগ্যের বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের সরকারী দল বা বেসরকারী দল কেহই আমার কাছে মনে হয় কূটনৈতিক তৎপরতায় পারদর্শী নহে, সঠিক পররাষ্ট্রনীতি থাকলেও দেখা যায় এই কূটনৈতিক তৎপরতা যেন শুধুমাত্র চাটুকারিতায় ভরা, আসলে সুষ্ঠ নীতিমালা রয়েছে কিনা তা প্রশ্নাতিত আমাদের ফেলানীকে গুলি করে মারা হয়, আমাদের ন্যায্য পানির হিস্যা পাই না, আমাদের সংস্কৃতির আকাশ শিকল বন্দী তার উপর ইদানিং আমাদের আকাশ সীমায় কয়েকবার মিয়ানমারের হেলিকপ্টার টইল দেয় কোথাও কি আমরা শক্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছি। উল্লেখ্য আজকের বিশ্বে ছোট্ট রাষ্ট্র ইসরাইল তার কূট চাল/কূটনৈতিক তৎপরতা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশকে একে একে তার তল্পিবাহক বানাচ্ছে, যার সর্বশেষ চেষ্টা চলছে স্বাধীন কুর্দিস্থান তৈরী করা, এতে করে তৈল গ্যাস সমৃদ্ধ অঞ্চলকে নিজের করায়ত্ব করা।
রাজনীতিতে রয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা অবস্থা, গণতন্ত্রের লেবাসে চলছে স্বৈরতন্ত্র, কিভাবে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা যায় সে চেষ্টায় মত্ত্ব, বিরোধী পক্ষের কথা বলা বা প্রতিবাদ করার কোন জো নাই, একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবীতে সারা দেশের মানুষ সোচ্চার হলেও দেশের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দল, তার কোন কর্ণপাত করতেছে না, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সম্মিলিত প্রয়াসকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়াছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

আমার রাজনৈতিক পরিচয়ে আমি হয়ত একটা দলের পক্ষে বলব, কিন্তু নিজেকে নিরপেক্ষ রেখে যদি পর্যালোচনা করি তবুও নিন্দুকেরা হয়ত আমার সমালোচনা করবেন। পাঠকের কাছে এই প্রশ্নগুলো রেখে আজকের লিখার ইতি টানতে চাই, যেভাবেই বলুন না কেন, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কোথায় যাচ্ছে বা যাবে আপনি আমার সাথে একমত না হয়ে পারবেনা না, লিখার সাথে সহ মত পোষণ করে আপনিও কিছু লিখেন। ধন্যবাদ।

সামছুল ইসলাম মজনু
ব্রায়ারউড, নিউইয়র্ক।