Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

বিশ্ব অঙ্গনে প্রথম বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার দাবি শেখ রেহানার

মঙ্গলবার, ০৯ মে ২০১৭

এম. নজরুল ইসলাম : ১৯৭৯ সালের ১০ মে স্টকহোমে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের জন্য বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা বিশ্ববাসীর কাছে আবেদন জানিয়ে বক্তব্য রাখছেন

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ঘটনার আকস্মিকতায় সেদিন জাতি যখন স্তম্ভিত, দিকনির্দেশনাহীনÑদলের অনেকেই তখন ঘাতকদের সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে ব্যস্ত। সামরিকতন্ত্রের বুটে পিষ্ট গণতন্ত্র। রুদ্ধ বাকস্বাধীনতা। অবিশ্বাস্য ও নারকীয় হত্যাকা-ের ঘটনায় শোকে মুহ্যমান জাতি ছিল দিশাহারা। কিন্তু থেমে ছিলেন না জাতির জনকের দুই কন্যা। তাঁরা বিশ্বমানবতার কাছে বিচার চেয়েছিলেন ইতিহাসের এই নৃশংস হত্যাকা-ের। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার চেয়ে প্রথম আবেদন রাখা হয় ১৯৭৯ সালের ১০ মে। বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে বিশ্বমানবতার কাছে এই আরজি পেশ করেছিলেন কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা।

১০ মে ১৯৭৯। সেদিন স্টকহোমে অনুষ্ঠিত সর্ব ইউরোপীয় বাকশালের সম্মেলনে শেখ হাসিনাকে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তখন ভারত থেকে সুদূর সুইডেনে গিয়ে সম্মেলনে যোগ দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। সর্ব ইউরোপীয় নেতারা শেখ হাসিনার প্রতিনিধিত্ব করতে লন্ডনে অবস্থানরত শেখ রেহানাকে অনুরোধ করেন। দিল্লি থেকে ফোনে শেখ হাসিনাও বোনকে বলেন সম্মেলনে যেতে। অনুষ্ঠানে কী বলতে হবে সে বিষয়ে তিনি টেলিফোনে ছোট বোনকে নির্দেশনা দেন। শেখ রেহানা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

Picture

এটাই ছিল কোনো রাজনৈতিক সমাবেশে শেখ রেহানার প্রথম বক্তব্য রাখা। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তিনিই সর্বপ্রথম পঁচাত্তরের কলঙ্কজনক ও অমানবিক হত্যাকা-ের বিচারের দাবি তোলেন। সেদিন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব, জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কমিশনের চেয়ারম্যান, আমেরিকার কংগ্রেসের হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের প্রধানদের কাছে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচারের প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। পঁচাত্তরের পৈশাচিক বর্ণনা দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেখ রেহানার আবেগঘন বক্তব্য সে অনুষ্ঠানে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।

ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। এখান থেকেই নতুন এক সম্ভাবনার ইঙ্গিত পান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা। ১৯৭৯ সালের জুন মাসে বিলেতের প্রখ্যাত আইনজীবী স্যার টমাস উইলিয়ামস কিউসিএমপির কথা শেখ রেহানার মাথায় আসে। তথাকথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বিশিষ্ট কৌঁসুলি ছিলেন এই ব্রিটিশ আইনজীবী। তাঁকে দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলা পরিচালনা করা যায়। এ ব্যাপারে তিনি টেলিফোনে দিল্লিতে বড় বোনের সঙ্গে পরামর্শ করেন। শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী ১৯৮০ সালের ২০ জানুয়ারি সেন্ট্রাল লন্ডনের কনওয়ে হলে সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ড. সেলিমকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়। ড. শফিক সিদ্দিক সভাপতি পদে প্রস্তাব করেন স্যার টমাস উইলিয়ামসের নাম, যা সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। স্যার টমাস উইলিয়ামসের সম্মতি নেওয়ার জন্য ১৯৮০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে ‘হাউস অব কমন্সে’ গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শেখ রেহানা ও ড. শফিক। এবং তাঁকে জানান, বিদেশে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচার করার লক্ষ্যে সম্প্রতি সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি পদের জন্য তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে। ১৯৮০ সালের ৪ এপ্রিল শেখ হাসিনা তাঁর ছেলে ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দিল্লি থেকে লন্ডন যান। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে একদিন স্যার টমাস উইলিয়ামস শেখ হাসিনাকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আমন্ত্রণ জানান। শেখ হাসিনা তাঁর আমন্ত্রণ রক্ষা করেন। ওই সময় শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার তদন্ত কমিশন গঠন করার দায়িত্ব নিতে তাঁকে অনুরোধ করেন। এতে তিনি সম্মত হন। কিছু দিন পর আবার স্যার টমাস উইলিয়ামসের সঙ্গে শেখ হাসিনা বৈঠক করেন। সেদিন সিদ্ধান্ত হয়, বঙ্গবন্ধুর শাহাদাতবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকবেন। ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের ইয়র্ক হলে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাঙালিদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি এবং স্যার টমাস উইলিয়ামস কিউসি এমপি প্রধান বক্তা ছিলেন। ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে ড. কর্নরাড উড ও লেবার পার্টির দুজন পার্লামেন্ট সদস্য বক্তব্য দেন। টমাস উইলিয়ামস বঙ্গবন্ধু ও চার জাতীয় নেতার হত্যাকারীদের আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করার ব্যাপারে উপযুক্ত কর্মপন্থা গ্রহণ করবেন বলে শেখ হাসিনাকে প্রতিশ্রুতি দেন।

১৯৮০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর লন্ডনের হাউস অব কমন্সের নিকটবর্তী কুন্দুন রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্যার টমাস উইলিয়ামস কিউসি এমপি বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের তদন্ত কমিশন গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। কমিশনের চেয়ারম্যান হলেন স্যার টমাস উইলিয়ামস কিউসি এমপি, সদস্যরা হলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী বিখ্যাত আইরিশ আইনজীবী সন ম্যাকব্রাইড, লেবার পার্টির আইনবিষয়ক মুখপাত্র জেফরি টমাস কিউসি এমপি এবং সলিসিটার অব্রে রোজ। অব্রে রোজকে কমিশনের সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালের হত্যাকা-ের বিচারের পক্ষে বিশ্ববিবেক জাগ্রত করতে এই তদন্ত কমিশন গঠন ছিল শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার নিরন্তর চেষ্টার ফসল।

১৯৮১ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সদস্য জেফরি টমাস কিউসি এমপি ও সলিসিটার অব্রে রোজ বাংলাদেশ সফরের জন্য লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ভিসার আবেদন করেন। কিন্তু তাঁদের ভিসা মেলেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকা-ে জে. জিয়া জড়িত থাকা সম্পর্কে তথ্য চাপা দেওয়া সম্ভব হবে না বলেই তদন্ত কমিশনের সদস্যদের ভিসা নামঞ্জুর হয়। ১৯৮১ সালের ২৮ জানুয়ারি লর্ড ফেনার ব্রকওয়ে তদন্ত কমিশনের সদস্যদের বাংলাদেশের ভিসা নামঞ্জুর করার বিষয়টি হাউস অব লর্ডসে উপস্থাপন করেন, যা ৪ ফেব্রুয়ারি হাউস অব লর্ডসে আলোচিত হয়। ওই আলোচনায় তৎকালীন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড ক্যারিংটনসহ অনেকে অংশ নেন। ১৯৮২ সালের ২০ মার্চ আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারবর্গ এবং চার জাতীয় নেতার হত্যা সম্পর্কে প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করে।

১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রায় ছয় বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে স্বদেশ ভূমিতে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর আবার আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসীন করেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে কুখ্যাত ‘ইনডেমনিটি’ অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়ে গেলে দেশের প্রচলিত আইনে স্বাভাবিক পন্থায় সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৯৭ সালের ১২ মার্চ বিচার শুরু হয়। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বিচারক কাজী গোলাম রসুল মামলার রায় ঘোষণা করেন। ১৫ জনের মৃত্যুদ-ের রায় হয়। এই বিচারের মধ্য দিয়ে জাতি আজ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার প্রথম সোপান রচিত হয়েছিল ১৯৭৯ সালের এই দিনে।

লেখক : অস্ট্রিয়াপ্রবাসী মানবাধিকারকর্মী
লেখক ও সাংবাদিক


দৈহিক সম্পর্ক আমার একটি অন্যরকম নেশা তসলিমা নাসরিন

শনিবার, ০৬ মে ২০১৭

তসলিমা আরো বলেন, প্রায় দেড় যুগ ধরে তিনি নির্বাসনে দিনযাপন করছেন। মৌলবাদীদের আর্শীবাদপুষ্ট বিএনপি সরকারও তাকে দেশে ফিরতে দেননি। স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি হিসাবে দাবী করা আওয়ামী লীগ সরকারও তাকে দেশে ফেরার সুযোগ দেননি। তিনি এখন ক্লান্ত। দেশে ফিরতে চান। দেশেই বাকিটা জীবন কাটাতে চান।
তসলিমা নাসরিন আগের মতো এখন আর লিখতেও পারছেন না বা লিখছেন না। ’উতল হাওয়া, ’আমার মেয়ে বেলা’, ’ভ্রমর কইও যাইয়া’, বা ’ক’ -এর মতো বই আর আসছে না। আগের মতো কাব্যও নেই, কবিতাও না।

Picture


একাধিক স্বামী ও একাধিক পুরুষের সাথে তার দেহজ সম্পর্কের কথা তিনি বেশ রসিয়ে রসিয়ে লিখেছেন। কিন্তু আজকাল বয়সের কারণে নারী হিসেবে আর এই সম্পর্ক অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তসলিমা এখন হতাশ, চোখের নিচে কালি পড়েছে, চামড়ায় বয়সের চাপ, শরীরের মধ্যে নানারকম ব্যথাতো আছেই। একাকিত্ব তাকে আরও পঙ্গু করে দিচ্ছে। এমনি অবস্থায় বিদেশের কোথাও থিতু হতেও পারছেন না। দেশে ফেরাও তার জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে গেছে। যেই মৌলবাদীদের ভয়ে তিনি দেশ ছেড়ে ছিলেন, সেই ভয় এখনও তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে তিনি তুলে ধরলেন তার এখনকার বিস্তারিত জীবনানুভুতি। সাক্ষাতকারটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
প্রশ্ন: আপনার কাছে একটা প্রশ্ন। এই যে লেখালেখি করলেন, এর মূল উদ্দেশ্য কি ছিল, দেহের স্বাধীনতা না চিন্তার স্বাধীনতা?

তসলিমা: প্রশ্নটা আপেক্ষিক। আসলে আমিতো পেশায় ছিলাম চিকিৎসক। আমার বাবা চেয়েছিলেন তার মতো হতে। আমিও অধ্যাপক ডা. রজব আলীর মতো একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক হই। শৈশবে, কৈশোর এবং যৌবনে আমি অনুভব করি, নারীরা আমাদের সমাজে ক্রীতদাসীর মতো। পুরুষরা তাদের ভোগ্যপণ্যের মতো ব্যবহার করে। এ কারণেই বিষয়গুলো নিয়ে প্রথমে লেখালেখির কথা ভাবি।

প্রশ্ন: স্বাধীনতার দাবিতে কি আপনার এই লড়াই?
তাসলিমা: আমি প্রথমত নারীর জরায়ুর স্বাধীনতার দাবি তুলি। একজন পুরুষ যখন চাইবে, তখনই তার মনোস্কামনা পূর্ণ করতে ছুটে যেতে হবে। এটা তো হতে পারে না। অথচ তখন ছুটে না গেলে জীবনের সব পূণ্য নাকি শেষ হয়ে যাবে। চিন্তার স্বাধীনতা না থাকলে ভালো লেখক হওয়া যায় না।

দেহের স্বাধীনতার বিষয়টা গৌণ। তবে একেবারে ফেলনা নয়। পুরুষই একচেটিয়া মজা লুটবে, নারী শুধু ভোগবাদীদের কাছে পুতুলের মতো হয়ে থাকবে, এটা মেনে নিতে পারিনি।

প্রশ্ন: আপনি পরিকল্পিতভাবে নিজেকে আলোচিত করে তোলেন। আজ বাংলা সাহিত্যে বা বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে আপনি তো চরমভাবে অবহেলিত।
তাসলিমা: আমি একটা আলোড়ন সৃষ্টি করেছি। সত্য কথা সাহিত্যে অনেকের জন্য কষ্টদায়ক হয়। আমি আমার বহু স্বামী ও ভোগ্য পুরুষদের নামধাম প্রকাশ করে দেয়ায় অনেক বন্ধু আমাকে এড়িয়ে চলেন।

বাংলা সাহিত্যের অনেক দামি দামি পুরুষও চান না যে আমি দেশে ফিরি। এক সময় আমার বিপক্ষে ছিল কট্টর মৌলবাদীরা। এখন প্রগতিশীল অনেক সাহিত্যিকও বিপক্ষে। কারণ এদের নষ্ট মুখোশ আমি খুলে দিয়েছি।

প্রশ্ন: আপনি চিকিৎসক থাকলেই ভালো করতেন। মিডিয়াতে কেন এলেন? সাহিত্যেই বা কেন?
তাসলিমা: আমি নারীর অধিকার নিয়ে ভেবেছি। কিন্তু এখন মনে হয় আমি মানবিকভাবে আশ্রয়হীন। আর এ কারণেই আমি অন্য স্রোতে সুখ খুঁজেছি। পরিবার হারালাম, স্বামী সন্তান হলো না, ঘর-সংসার হলো না। তখন দৈহিক সম্পর্কে নেশাগ্রস্ত না থেকে আর কোনো পথ খোলা ছিলো না।
প্রশ্ন: এখন আপনি কী চান?


তাসলিমা: অনেক কিছু। আমার হারিয়ে যাওয়া জীবন, যৌবন, ভোগ-উপভোগ, স্বামী-সন্তান, পরিবার-পরিজন। কিন্তু দিতে পারবেন কি? আজ আমি নিজ দেশের কাউকে দেখলে কুণ্ঠিত ও লজ্জিত হই। খ্যাতি, অর্থ, পুরস্কার সবই আছে, তবুও মনে হয় আমি ভীষণ পরাজিত। দিনে হইচই করে কাটাই, রাত হলে একাকিত্ব পেয়ে বসে। আগের মতো পুরুষদের নিয়ে রাতকে উপভোগ করার মতো শরীর মন কোনোটাই নেই।
প্রশ্ন: এখন কেমন পুরুষ বন্ধু আছে?


তাসলিমা: এক সময় অনেক ব্যক্তিত্ববানদের পেছনে আমি ঘুরেছি। ব্যক্তিত্বহীনরা আমার পেছনে পেছনে ঘুরেছে। আজকাল আর সুখের পায়রাদের দেখি না। মনে হয় নিজেই নিজেকে নষ্ট করেছি।
পরিচিত হয়েছি নষ্ট নারী, নষ্টা চরিত্রের মেয়ে হিসেবে। লেখালেখি করে তাই এসব পুরুষদের উপর আমার রাগ, ঘৃণা ও অবহেলাকে প্রকাশ করেছি। যৌনতার রানী হিসেবে প্রকাশিত হলাম, অথচ এই রানীর কোনো রাজাও নেই প্রজাও নেই। এই জন্য আজ হতাশায় নিমজ্জিত আমি।
প্রশ্ন: ধর্ম-কর্ম করেন?


তাসলিমা: মাঝেমধ্যে মনে হয় সব ছেড়ে নামাজ-রোজা করি, তাওবা করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করি। কম্যুনিস্টরাও তো এক সময় বদলে যায়। আমার জন্ম ১২ ই রবিউল আউয়াল, মহানবীর জন্মদিনে। নানী বলেছিলেন, আমার নাতনী হবে পরহেজগার। সেই আমি হলাম বহু পুরুষভোগ্য একজন ধর্মকর্মহীন নারী। বলা তো যায় না, মানুষ আর কত দিন বাঁচে। আমার মা ছিলেন পীরের মুরীদ। আমিও হয়ত একদিন বদলে যাবো।
প্রশ্ন: বিয়ে-টিয়ে করবার ইচ্ছে আছে কি?


তাসলিমা: এখন বিয়ে করে কি করবো? পুরুষটিই বা আমার মধ্যে কি পাবে? সবই পড়ন্ত বেলায়। যে বিয়ে করবে, সে যদি আমার মধ্যে যৌন সুখ না চায়, সন্তান না চায়, এমন মানব পেলে হয়ত একজনকে সঙ্গী করার কথা ভাবতেও পারি।
প্রশ্ন: আপনি কি একেবারে পুরিয়ে গেছেন?


তাসলিমা: না, তা ঠিক নয়। তবে পুরুষতো শত বছরেও নারীকে সন্তান দেয়। মেয়েরা তো পারে না। আমার এখনও রজস্রাব বন্ধ হয়নি। মেশিনারি ঠিক আছে। তবে নতুন বা আনকোরাতো নয়, লক্কর ঝক্কর মেশিনারির মতো আরকি? পুরুষদেরও বয়স বাড়লে খাই খাই বেড়ে যায়। এতটা মেটানো তো আর এই বয়সে সম্ভব হবে না।
প্রশ্ন: বয়স বাড়লে পুরুষেদের সেক্স বাড়ে এটা কিভাবে বুঝলেন?

তাসলিমা: কত বুড়ো, মাঝ বয়সী ও প্রবীণ বন্ধুদের নিয়ে দেহজ খেলায় মেতেছি, এটা আমার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।
প্রশ্ন: রাত যখন বিশ্বকে গ্রাস করে, আপনার ঘুম আসছে না- তখন আপনার বেশি করে কি মনে পড়ে?
তাসলিমা: খুব বেশি মনে পড়ে আমার প্রথম প্রেম, প্রথম স্বামী, প্রয়াত কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহকে। অনেক কাঁদি তার জন্য। পেয়েও হারালাম তাকে। রাগ হয়েছিল বিয়ের রাতেই। আমি তো ডাক্তার তার পুরুষদণ্ডে ক্ষত দেখি। বুঝতে পেরেছিলাম যাকে জীবন দিয়ে ভালবাসি, সে বেশ্যাবাড়ি যায়। সিপিলিস-গনোরিয়ায় আক্রান্ত সে। তবু তাকে বলি, আজ বাসর রাতে যৌনকেলি হবে না। তোমার শরীরে রোগ। এখন আমার শরীরে তুমি ঢুকলে আমিও এ রোগে আক্রান্ত হবো। তোমাকে সুস্থ করে তুলবো, তারপর হবে আমাদের আনন্দ বাসর।

কিন্তু পুরুষতো জোর করতে চাইলো, ব্যর্থ হয়ে চলে গেলো পতিতার বুকেই।
প্রশ্ন: অন্য স্বামীদের কথা মনে পড়ে না?
তাসলিমা: তারা এমন উল্লেখযোগ্য কেউ নন। তাদের মুরোদ আমি দেখেছি। তার চেয়ে বহু বন্ধুর মধ্যে আমি দেখেছি, কেমন উন্মত্ত তেজ। ওদের স্মৃতি মনে পড়ে মাঝে মধ্যে।
প্রশ্ন: দেশে ফিরবেন না?
তাসলিমা: দেশই আমাকে ফিরতে দেবে না। আর কোথায় যাবো? বাবা-মা-ভাই-বোন সবাইকে আমি লেখাতে জবাই করে দিয়েছি। আসলে নেশাগ্রস্তই ছিলাম, অনেক কিছু বুঝিনি। আজ আত্মীয়-স্বজনও আমাকে ঘৃণা করে। মরার পর লাশ নিয়ে চিন্তা থাকে, আমার নেই। যে কোন পরীক্ষাগারে দেহটা ঝুলবে। ছাত্রদের কাজে লাগবে।


পা = জুলি রহমান ( মে দিবসের কবিতা )

বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০১৭

পাথর চাপায়।
যাবার বেলায় তোদের একটা লাথ্থি দিলাম।
যাদের কারনে আমার আমাদের মৃত্যু হলো।
জানুক পৃথিবী।
দেখুক দুনিয়া।
আমি একজন সাধারন শ্রমিক হলেও
তোদের প্রহার করার ক্ষমতা রাখি।
আমি তোদের জন্য ইতিহাস করলাম
আমার একটি পা-

Picture

যতোদিন দেখবে মানুষ!
ততোদিন একবার করে
তোদের ঘৃণা করবে
আমার আমাদের মতো খেটে খাওয়া
দিন মজুরেরা হা ভাতে শ্রমিকেরা

আমাদের তরল ঘামেই
তোদের বাবুয়ানা বাহারী সাজ
বিলাস বৈভব জীবন!
আমাদের ঘারে পা ফেলে ফেলে
তোরা তৈরী করিস সিড়ির পর সিড়ি
তোদের পায়ের তলায় পিস্ট হতে হতে
আমাদের ঘার পিঠ বাঁকা
তোদের পকেট ভারী করতেই
আমাদের বাজারের থলিতে গলিত মাছ
পঁচা নর্দমার গন্ধযুক্ত রেশনের চাল।
ডালভাত একটা ডিমে চারভাগ
বস্তির নর্দমায় একচালা বসত।
আমাদের তোরা পুরিয়ে মারিস!
ফাটলে ফেলে জীবন্ত কবর খুড়িস
তোদের ক্ষমতার শেষ নেই।
আমার আমাদের কিছু নেই
তোদের ঘায়েল করার
আছে শুধু একটি পা
তাই রেখে গেলাম।

২৪শে এপ্রিল রানাপ্লাজার পা।
নিউইর্য়ক-


বৈশাখ শুধু পথমেলা নয়।ঘরোয়া আড্ডায় ও তাঁর রেশ রয়= জুলি রহমান

বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০১৭

মাস জুডেই বৈশাখের অনুষ্ঠান করলাম।গত রবিবার রেক্সোনা মজুমদার আয়োজিত বৈশাখী আড্ডার এক ঘরোয়া পরিবেশে উনি সাজালেন গোটা বাংলাদেশ।পোশাকে খাবারে  সাজ সজ্জায় ওই উঠোন টি ছিলো বাংলার প্রান্তর। সন্চালিকা ডাঃ নাহিদের মধুঝরা বাণীতে গমগম করছিলো ১৯৫০ বাডিটির গতর।আকাশটা অভিমানী ছিলো একটু। বোধকরি বটবৃক্ষ হয়ে আমাদের ছায়া প্রদান করার পরিকল্পনায় আকাশ সেজেছিলো হাল্কা মেঘের সাজে।

রেক্সোনা মজুমদার!আইনজীবি এন মজুমদার যার জীবনের অংশ।এই পরিবারটি প্রতিবছর যে বৈশাখকে ধারন করেন বরণকরেন আপন পরিমন্ডলে সেখানে চুল পরিমান অভাব থাকেনা।চুরি ফিতা বেলোয়ারী পাখা কোলা ডালা ঢোল তবলা বাঁশরী। খাদ্য মেনু? কী নাই?পিঠা পায়েস ভর্তা মাছ মাংস বেগুন ভাজা
শুকতা পাতার অপূর্ব স্বাদের সুস্বাদ ব্যান্জনা।মাংস কাবাব কোপ্তা । এতো গেলো ভুরিভোজ অর্থাৎ কি-না পেট পূজা।

পান খেয়ে শুরু হলো গান কবিতা কথা।কারা ? কবিতায় আবৃত্তিতে ডাঃনাহিদ তাহরীনা প্রীতি।স্বরচিত কবিতা পাঠে পলি শাহিনা ।বৈশাখের গীতি কবিতায় জুলি রহমান সংগে থাকে তাহরীনা প্রীতি কাজী আরজু সৈয়দা মাহমুদা কবীর,শিউলি শেলু জুবাইদা ,পেছনে অনুপ যন্ত্রে ।

কথা বলেন মিলিনিয়াম টিভির মালিক সম্পাদক  ও তাঁর স্ত্রী
কথা বলেন প্রবন্ধকার সোনিয়া কাদের। শুভেচ্ছা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিউনিটির পরিচিত মুখ এন মজুমদার।স্বাগত বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠানের হোস্ট রেক্সোনা মজুমদার।কথা বলেন উপস্থিত মজুমদার পরিবারের বিশেষ অতিথি মন্ডলীর অনেকেই।এরপর শুরু হয় জমপেশ আড্ডা গান এবং নৃত্য।সমগ্র অনুষ্ঠানটি সন্চালনার দায়িত্বে ছিলেন আমাদেরসকলের প্রিয় মুখ প্রিয় ব্যাক্তিত্ব ডাঃ নাহিদ খান। খুশি মনে পানের রসাস্বাদন যোগে সকলে ঘরে ফিরলেন সেই বিকেলের মেঘ কুসুম রোদ মেখে গায়ে।


ভারতে শিশুদের হত্যার প্রশিক্ষণ আর.এস.এস ও বিজেপির- আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০১৭

আর.এস.এস ২০১৯ সালে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দিল্লি হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাচার কমিটির প্রধান রাজিন্দর সাচার।২২ডিসেম্বর ১৯৮৫সনে তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব থেকে অবসরে যান।ইনি ভারতের মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কিত রিপোর্ট প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত ভারত সরকারের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটির প্রধান ছিলেন। ২৪এপ্রিল সোমবার গণমাধ্যমে তার এ সংক্রান্ত মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।

এদিকে ভারতের কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিআই(এম) নেতা পি বিজয়ন বলেছেন, ‘আর.এস.এস শিশুদের সহিংসতার পাঠ দিয়ে হত্যা করার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সংগঠনটি তাদের মতাদর্শ অনুসারে শিশুদের সহিংস করে তোলার দিকে ঝুঁকেছে।’ বিধানসভায় বিধায়ক জন ফার্নান্ডেজের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি  এই মন্তব্য করেন।

আর.এস.এসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মুখ্যমন্ত্রী পি বিজয়ন বলেন, ‘আরএসএস শিক্ষার্থী এবং শিশুদেরও হত্যার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।’তিনি সম্প্রতি মাদ্রাসার এক আলেমকে হত্যা ও জগন্নাথ মন্দিরে সহিংসতাকে 'আরএসএসের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল' বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এ সবের মাধ্যমে আরএসএস সমাজে সাম্প্রদায়িক বিষ ঢালতে চাচ্ছে।  

বিজয়ন বলেন, ‘এক অজ্ঞাত ব্যক্তি মসজিদ চত্বরে ঢুকে মাওলানাকে গলা কেটে হত্যা করে। তদন্ত রিপোর্টে প্রকাশ, ওই মাওলানাকে হত্যা সামাজের দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনার ফল। মাদ্রাসার মাওলানাকে হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না বা এ নিয়ে কোনো অভিযোগও ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাকে হত্যা করা হয়েছে। এর পিছনে আরএসএসের একটাই উদ্দেশ্য ছিল সমাজে বিদ্বেষ সৃষ্টি করা এবং উত্তেজনা ছড়ানো। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন ও সরকার সময় থাকতেই তা ব্যর্থ করে দিয়েছে।’

পশ্চিমবঙ্গে ধর্মের নামে কোনরকম দাঙ্গা বরদাস্ত করব না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ২৭এপ্রিল আলিপুর দুয়ার জেলার বীরপাড়ায় এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় মমতা ওই মন্তব্য করেন।মমতা বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, ‘যে ধর্মকে ভালবাসে সে ধর্মকে রাস্তায় বিক্রি করে না। কেউ কেউ পয়সা দিয়ে বহিরাগতদের নিয়ে এসে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। আমি সব ধর্মকে ভালোবাসি, বিশ্বাস করি। বিজেপি বাংলায় দাঙ্গা লাগাচ্ছে, কুৎসা ও অপপ্রচার করে বেড়াচ্ছে। বিজেপি বাংলাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে, মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরী করছে।’  

কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারকে উদ্দেশ্য করে মমতা বলেন, ‘বাংলা আপনাদের চোখ  রাঙানিকে ভয় পায় না। বাংলার মাটি পবিত্র মাটি, সংস্কৃতি,শিক্ষা ও সভ্যতার মাটি। বাংলার মাটি সোনার মাটি, এখানে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, নেতাজী, রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব জন্মেছেন। আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে,ভালো থাকতে হবে।’ মমতা বলেন, ‘আমি বাংলার মানুষের পাহারাদার হয়ে থাকব। ৩৪ বছরে সিপিএম  বাংলাকে ধ্বংস করে দিয়েছে, ওদের দেনা এখন আমাদের শোধ করতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ওরা (বিজেপি) গুজরাট সামলাতে পারে না, বাংলাকে পথ দেখাতে আসছে। ওরা তৃণমূলকে ভয় দেখায়। কারণ আগামীদিনে তৃণমূল দিল্লিকে পথ দেখাবে।’মমতা  বিজেপি’র সঙ্গে সিপিএমের সখ্যতা নিয়ে কটাক্ষ করে ছড়া কেটে বলেন,  ‘দিল্লি থেকে এল রাম, সাথে জুটে গেল বাম’, ‘বিজেপির কোলে সিপিএম দোলে’।বিজেপি আর বামপন্থিরা মিলে গুন্ডাগিরি করে, আমরা এসব সমর্থন করি না’ বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন।

   ভারতীয় তেলেঙ্গানার পুলিশই আই.এস.আই.এস?  

-----------------------------------------------

ভারতের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং মধ্যপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং ১লা মে সোমবার অভিযোগ করেছেন, দেশটির তেলেঙ্গানা রাজ্যের পুলিশ আই.এস.আই.এস'র নামে ভুয়া ওয়েবসাইট চালু করে মুসলিম তরুণদেরকে উগ্রবাদী করছে। তাদেরকে আই.এস.আই.এসে যোগ দিতে বাধ্য করছে।তিনি এক টুইট বার্তায় একাধারে অনেকবার এ অভিযোগ করার পর নতুন করে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উত্তেজনা সৃষ্টিকারী তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে মুসলিম তরুণদের উস্‌কে দেয়াটা কতটা নৈতিক সে প্রশ্নও করেছেন কংগ্রেসর সাধারণ সম্পাদক।“ইন্ডিয়া টুডে” টেলিভিশনসহ অনেক ভারতীয় মিডিয়া ঘটনার দিনেই দিয়েছে এই সংবাদ।তাকফিরি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী দায়েশকে ভারতসহ বিশ্বের অনেকস্থানেই আইএসআইএস, আইএস বা আইএসআইএল বলা হয়।বাংলাদেশে এভাবে ভূয়া সন্ত্রাসী সাজানোর ফাঁদ করার চর্চায় বার বার সফল হবার পর এবার নিজের দেশে কৃতিত্ব পাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে প্রতিবেশী বিশেষজ্ঞদের।  

 

অবশ্য তার টুইটবার্তা প্রকাশিত হওয়ার পর তেলেঙ্গানা রাজ্যের সরকার ও পুলিশ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তেলেঙ্গানার পুলিশ ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।বিষয়টি বেশ উত্তেজনা ও বিতর্ক ছড়ালেও জঙ্গি জঙ্গি দায় তুলে দিয়ে ভারত-বাংলাদেশে মুসলমান বিরোধী ধারাবাহিক আক্রমণের ভেতরের বিড়াল ম্যাঁও ম্যাঁও করছে বলে শোনা যাচ্ছে।ভারতব্যাপী জঙ্গিত্ব উৎপাদনের কারখানার দিকে নজর চলে যাচ্ছে সবার।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন,ভারতীয় সমাজের ঐতিহ্যে হিন্দু শ্রেষ্ঠত্বের ঝোঁক নতুন বিষয় নয়।অতীতে এদের পূর্ব পুরুষরা এই অপরাধ করেছে এবং ভারত লুন্ঠনে ব্যবহৃত হয়েছে।ভারতকে বিভক্ত করেছে।এখনো ঐপথ ধরেই অগ্রসর করা হচ্ছে ভারতের হিংস্র অপরাধীদেরকে।গান্ধীজীর হত্যাকারী গোপাল গড্‌সের অনুসারীরা ভারত শাসনের সুযোগ পেয়েছে।তারা নিজেদের হিংস্রতাকে বিস্তৃত করতে চাওয়া নিশ্চয়ই অস্বাভাবিক নয়।  

ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক হত্যাকান্ড এবং হিংস্রতাকে রাজনৈতিক নীতিতে অগ্রাধিকার দিয়ে হিন্দু ধর্মের আধিপত্য বৃদ্ধির পথ ধার্মিক হিন্দুরাই প্রত্যাখ্যান করছে।ভারতীয় দেশপ্রেমিকরা তাদের রাজনৈতিক যোগ্যতাকে জঙ্গিত্ব চিহ্নিত করা এবং তা থেকে মানুষদের রক্ষা করার চেতনায় ঘুরে দাঁড়াবেন-এটাই স্বাভাবিক।   

 আরএসএস ২০১৯ সালে ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দিল্লি হাইকোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি ও সাচার কমিটির প্রধান রাজিন্দর সাচার। ২৪এপ্রিল সোমবার গণমাধ্যমে তার এ সংক্রান্ত মন্তব্য প্রকাশ পেয়েছে।  

ভারতে বেশ কিছুদিন ধরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বিচারপতি সাচার বলেন, ‘মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে এবং এটা কেবল


শেখ হাসিনাতেই আস্থা, কিন্তু বাকিরা করছে কী?

মঙ্গলবার, ০২ মে ২০১৭

শেখ আদনান ফাহাদ : আওয়ামী লীগ এর সমর্থক, কিন্তু অনেক সামাজিক, অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক ইস্যুতে সরকারের মন্ত্রী-এমপির সমালোচনায় মুখর হন, এমন মানুষের সংখ্যা সমাজে কম নয়। এরা দলের বা সরকারের নানা কাজের সমালোচনা করলেও শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখছেন দীর্ঘদিন ধরে। এমনও বলতে শোনা যায় যে, শেখ হাসিনা ছাড়া আর কাউকে বিশ্বাস করেন না তারা। শেখ হাসিনার দল করেন না এমন মানুষও আস্থা রাখতে শুরু করেছেন তাঁর উপর; জাতীয় নেতা হিসেবে এই বাঙালি নারীর জনপ্রিয়তা ক্রমাগত বাড়ছে।

ব্যক্তি শেখ হাসিনা মানুষের এই অনুধাবন, আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। সব দল মিলে অন্য রাজনীতিবিদরা এই কাজটি করতে পারেননি। কিন্তু আর কতদিন এভাবে একা এত চাপ সামলে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি? তিনি সারাজীবন থাকবেন না। বাকি মন্ত্রী, এমপিদের ভেতরে উনার মত সক্রিয়তা আসবে কবে? একই দল, একই মন্ত্রীপরিষদ, একই রাষ্ট্র। তাহলে বাকিদের ভেতরে দেশপ্রেম, সততা আর তড়িৎ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামর্থ্য নাই কেন?

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেই কি উনার সামর্থ্য বেশি? আমার মনে হয় না। তিনি যখন বিরোধীদলে ছিলেন তখনও বন্যাকবলিত মানুষের পাশে সবার আগে গিয়ে হাজির হয়েছেন। দলের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করে ক্ষমতাসীনদের বিব্রত করেছেন। তিন বছর প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়াটিমে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি, শেখ হাসিনা নির্লোভ ও মানবতাবাদী। এত বড় দলের প্রধান তিনি, টানা আট বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ছিলেন পাঁচ বছর। কিন্তু খাদ্যাভ্যাসে, কাপড়চোপড়ে কত সহজ, সাধারণ, সুন্দর। অনেক নেতার ভোগ-বিলাস আর যেনতেন ভাবে অর্থকড়ি কামাই করার অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেখলে দলের প্রধানের সাথে এদের মধ্যে কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

Picture

বড় বড় দার্শনিক, অধ্যাপকরা যেখানে ‘প্রগতি’ আর ‘ধর্মে’র মধ্যে তাল মেলাতে পারেন না, সেখানে শেখ হাসিনা স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত, বিএনপির কট্টর সমর্থকগোষ্ঠী আর কিছু অপরিণামদর্শী প্রগতিশীল ছাড়া বাদবাকি বাংলাদেশির আস্থা অর্জন করতে পেরেছেন বলে আমার ধারণা। দেশের শীর্ষ কয়েকটি পত্র-পত্রিকা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কৌশলে মানুষের মনকে বিষিয়ে তুলছে। যেমন কিছু পত্রিকা স্বাধীনতার পরপর কৌশলী সাংবাদিকতা করে বঙ্গবন্ধু সরকার সম্পর্কে মানুষের মনকে বিষিয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু এখন যুগ পাল্টে গেছে। দুয়েকটি পত্রিকার মনোপলি ভেঙে দিয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের কনসেপ্ট।

প্রতিটি ব্যক্তিই এখন গণমাধ্যম হয়ে উঠছেন যেন। ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা মাধ্যমকে মানুষ বেছে নিয়েছে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। দুয়েকটি মিডিয়ার আধিপত্য খর্ব করে দিয়েছে অনেকগুলো অনলাইন নিউজপেপার। সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতা কোন কিছুই আর গোপন থাকছে না। মানুষ নিজেই ভাল-মন্দের সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। ফলে সরকার শুধুই ব্যর্থ কিংবা সরকার শুধুই সফল এমন অযৌক্তিক মূল্যায়ন মানুষ করছে না। প্লাস-মাইনাস করে মানুষ একটা সঠিক মূল্যায়ন করতে পারছে। ফলে সরকারের সাফল্যসমূহ মানুষ দেখতে পাচ্ছে, মেহসুস করতে পারছে। ব্যর্থতার বার্তাগুলো একতরফাভাবে মানুষকে নৈরাশ্যবাদী করছে না।

মানুষ দেখছে, বড় বড় বিপদে শেখ হাসিনাই সর্বশেষ আশ্রয় হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছেন। মন্ত্রীরা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করছেন না, বলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সব তদারকি করছেন। মন্ত্রী মানে একটা মন্ত্রণালয়ের প্রধান ব্যক্তি। মন্ত্রীরা যদি সব কাজ প্রধানমন্ত্রীর জন্য ফেলে রাখেন তাহলে উনি উনার নিজের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো কখন করবেন? উনাকে সবগুলো মন্ত্রণালয় যেমন দেখতে করতে হয়, আবার উনার নিজেরও মন্ত্রণালয় আছে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি তো আছেই। সবাই মিলে এত চাপ উনাকে কেন দিচ্ছে?

সর্বশেষ ঘটনায় হাওর অঞ্চলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হল বানের পানির সাথে সাথে দুশ্চিন্তার পানিও কমে গেল! একান্তই ব্যক্তিগত অনুভূতি। সাধারণীকরণ বা সরলীকরণ আমি করব না। ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যদিও আমার মত অনেকেই হাওর অঞ্চলের মানুষগুলোর জন্য কিছুই করেনি কিন্তু গরিব মানুষগুলোর জন্য দুশ্চিন্তা হয়েছে এমন মানুষের সংখ্যাই সমাজে বেশি।

প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগকবলিত মানুষের কাছে গেলেন, ঘুরে ঘুরে হাওর এলাকা পরিদর্শন করলেন। অনেকগুলো আকাক্সিক্ষত ঘোষণা দিলেন। শেখ হাসিনা পানির দেশে যাওয়াতে দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ যে খুশি হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন হাওর অঞ্চলের জলে ভাসা মানুষগুলো।

ভারত থেকে আসা বানের পানি থেকে সৃষ্ট এই আকস্মিক বন্যায় একমাত্র ফসল বোরো ধান হারিয়ে, পানির নিচের মাছ হারিয়ে সুনামগঞ্জ-নেত্রকোণাসহ আশপাশের হাওর অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। মূলধারার মিডিয়ায় হাওরে আগাম বন্যার খবর প্রথমদিকে খুব বেশি প্রচার পায়নি। কিন্তু ফেসবুকে সক্রিয় ছিলেন তরুণ সমাজ। ফেসবুকের চাপে পড়ে মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও বেশ প্রচার পেতে শুরু করে।

প্রথমদিকে সরকারের কয়েকজন সচিব এবং মন্ত্রী হাওর অঞ্চলকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে চাননি। একজন সচিব বলেছিলেন, গরু-ছাগল মারা গেলে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা যায় না। যেন মানুষের মৃত্যুর অপেক্ষায় ছিলেন সেই সচিব! এরকম মানুষ-মারা সচিব দেশে আছে বলেই ৩০ লাখ মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে আজও সমাজের বড় একটা অংশ হতদরিদ্র।

পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিপর্যয়ের ২৬ দিন পর হাওর অঞ্চলে গিয়েছিলেন। সম্ভবত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাবেন শুনে পানিসম্পদ মন্ত্রী তাড়াহুড়া করে হাওর এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রকৃতির উপর সব দোষ চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের দায়মুক্ত করতে চাইলেন। বললেন, পানি আগে এসে যাওয়ায়, বাঁধের উচ্চতা কম থাকায় নাকি বানের পানিতে সব ভেসে গেছে। কর্মকর্তা-প্রকৌশলী-ঠিকাদার সিন্ডিকেটের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে উনার অসুবিধা কোথায়? প্রধানমন্ত্রীতো ঠিকই বললেন, হাওর ব্যবস্থাপনা ও বাঁধ নির্মাণে কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠিন ব্যবস্থা নেয়া হবে। শেখ হাসিনা বলতে পারেন, কারণ তার সততার শক্তি আছে বলে দেশের মানুষ জানে।

দুর্নীতি দমন কমিশন আগের থেকে অনেক বেশি সক্রিয় হয়েছে। এইজন্যই আমরা দেখছি কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে, কোটি টাকার গাড়ি পানির নিচে, হাতিরঝিলের রাস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুদক গ্রেপ্তার করছে। এগুলো ভালো লক্ষণ। যাদের দুর্নীতির হাতেখড়ি এখনো হয়নি, তারা সহজে শুরু করবে না আর দুর্নীতি করা যাদের রক্তে মিশে গেছে তারাও কিছুটা ক্ষান্ত দেবেন।

আমার মতে হাওরে সরকারি-বেসরকারি সিন্ডিকেটের দুর্নীতির মাত্রা ও পরিধি চিহ্নিত করা এবং দোষীদের খুঁজে বের করার জন্য দুদক এর বিশেষ টিম গঠন করা উচিত। দেশের মানুষকে বোকা মনে করার কোন কারণ নেই। সাধারণ মানুষ দেখছে, দেশের রাস্তা-ঘাটের কাজের মান কেমন হচ্ছে। কারা কীভাবে কাজ পায়, কাজ কতটুকু করে, সবই দেশের মানুষ বোঝেন।

গত আট বছরে আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রকে অনেক কিছু দিয়েছে। শুরুতে বিডিআর বিদ্রোহ না ঘটলে দেশ আরও এগিয়ে যেত। বড় বড় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছে এই সরকার। ২০১৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোটের পেট্রোলবোমা সন্ত্রাস সামলে স্থিতিশীল বাংলাদেশ স্থাপনে আপাত সফল বর্তমান সরকার। রহস্যময় জঙ্গিবাদী তৎপরতাও ভালোমত সামাল দিচ্ছে সরকার।

ভারত-মিয়ানমারকে আইনি লড়াইয়ে পরাজিত করে সুমদ্রে বিশাল অঞ্চল অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে মঙ্গা পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে। ২০১৬ সালের বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে অতিদারিদ্রের হার কমে ১২.৯ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের গবেষণা প্রতিবেদন মতে, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ পুরোপুরি অতিদারিদ্র্যমুক্ত হবে। মানবউন্নয়ন নানা সূচকে বাংলাদেশ ভারতকেও অনেক পেছনে ফেলছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার নিয়মিতভাবে সাতের উপর।

ফলে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রাপ্তি আছে অনেক এই সরকারের আমলে। আমরা অর্থনীতিবিদ নই। পারলে অর্থনীতিবিদগণ একটু গবেষণা করে দেখুন না, স্বাধীনের পরে কোন সরকারের আমলে কতটুকু উন্নতি হয়েছে। সিপিডি জাতীয় প্রতিষ্ঠান এ ধরনের গবেষণা করবে বলে মনে হয় না। আওয়ামী লীগে এমন গবেষক আছে বলেও আমার মনে হয় না। দলে দক্ষ অর্থনীতিবিদ থাকলে এক আবুল মাল আব্দুল মুহিত এতদিন অর্থমন্ত্রী থাকতেন না। যাই হোক, এত সাফল্যের সাথে সাথে বিতর্কও আছে অনেক।

বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্র ও গণপরিবহন ইত্যাদি কয়েকটি ক্ষেত্রে আট বছরে আওয়ামী লীগ সরকার বেশ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে, বহু বছর ধরে। যাইহোক, এত সমস্যার ভেতরে আমাদের আশাবাদী হতে হবে। শুধুই সমালোচনা কখনো কাম্য নয়।

২০১৯ সালের নির্বাচন সামনে। খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর নির্বাচন। স্পর্শকাতর এ কারণে যে, আওয়ামী লীগ বিরোধী স্থানীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো সব একসাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে। দেশের মানুষ উন্নয়নের রাজনীতি মেনে নিয়েছে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টিতে শেখ হাসিনা যে ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি কৃতিত্বের দাবিদার সেটা বলা বাহুল্য।

সাম্প্রতিককালে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট- আইআরআই এর একটি জনমত জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা সরকারের থেকেও এক শতাংশ বেশি! সরকারের জনপ্রিয়তা যেখানে ৬৬ শতাংশ সেখানে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা ৬৭ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

জরিপে অংশ নেয়া ৬২ শতাংশ মানুষ মনে করেন দেশ সঠিক পথেই এগুচ্ছে। এই সংখ্যা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে আইআরআই এর আগের জরিপের চেয়ে ছয় শতাংশ বেশি। জরিপে অংশ নেয়া ৭২ শতাংশ মনে করেন, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ইতিবাচক। আর অংশগ্রহণকারী ৬২ শতাংশ জননিরাপত্তা পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং ৬৪ শতাংশ রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে মত দিয়েছিলেন।

সরকারের জনপ্রিয়তা থেকে ব্যক্তি শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেশি-এ কথাটা শুনতে খুব ভালো লাগলেও সরকারের অন্যান্য মন্ত্রী ও আমলাদের ব্যর্থতাকে তুলে ধরে। মুশকিল হল, অন্য অনেক মন্ত্রী একথা স্বীকার করতে চান না যে তারা ব্যর্থ। তারা হাস্যকরভাবে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চান। দেশের কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, সৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক স্থিতিশীল পরিবেশ পেয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এদের বড় অংশ রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর নয়, ব্যক্তি শেখ হাসিনার উপর আস্থা রাখছেন।

কিন্তু শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, মন্ত্রী, দেশের সকল রাজনীতিবিদকে সততা আর সক্রিয়তা দিয়ে কাজ করতে হবে। অথচ সবাই কেমন যেন শুধু নিজের উন্নতি, নিজের মঙ্গলের জন্যই দিন দিন লালায়িত হয়ে যাচ্ছে।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়


ফকির ইলিয়াস এর কবিতা ( নিউইয়র্ক )

মঙ্গলবার, ০২ মে ২০১৭
 

বিনয়ী কোদাল হাতে

ভাবনাগুলো লেখকের নিজস্ব অথবা মতামতের জন্য সম্পাদক
দায়ী নহেন, এমন কিছু নিয়মাবলি মেনে শুরু হয় দুপুরের দ্বৈত
জ্যোতিকরণ। বিপণন প্রভাতের কাছে বন্ধক রেখে মানুষের মেধা
সূর্য উঁকি দেয় এই ভূপালে, কেউ কুড়োয় রোদ- কেউ কুড়োয় কষ্ট
আর কেউ ঘামলব্ধ সংবিধানে হামাগুড়ি দিতে দিতে ভিজায় গামছা।

কারো মতের জন্য কাউকে দায়ী থাকতেই হয়। কারো চেতনার
বিকাশ ঘটাতে কাউকে মেনে নিতে হয় গারদের লৌহজীবন।
গাণ্ডিব হাতে উষর মরুর দিকে কিংবা কোদাল হাতে চৈত্রের
খরার দিকে তাকাতে তাকাতে , বলে দিতে হয়
আমি ভেঙেছি আল, তুমি পারো তো ভেঙে দিও সব আর্যবলয়।

প্রকাশিত ভবিষ্যতের দিকে

কারারক্ষীর ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দরোজা। আমরা
অতিক্রম করবো বলে ভেদ করছি সবটুকু সংবেদ, আর
পালিয়ে বেড়ানো রাতের পালকে মুখ গুঁজে অনেকটা
পার করে দিতে চাইছি ঘোর মৈথুনের কংক্রিট কালাকাল।

জমাট ভোরগুলো তাকিয়ে আছে প্রকাশিত ভবিষ্যতের দিকে
মিথাশ্রয়ী পায়ের নুপুর বেজেই চলেছে। মধ্যরাতের পর বাঈজী
তারাদের নাচ থেমে গেলে মাটিও যেমন নিস্তেজ হয়ে পড়ে।

আবার জড়িয়ে ধরার উষ্ণতা খুঁজে কে যেনো হারায়, কে যেনো
জাগে । মাথার উপর ঝুলে থাকে কিছু দণ্ডাদেশ , কিছু পদছাপ।

Picture

সাজানো জলের ছায়া

কিনারার কদর জানে নদী। ভাঙার শব্দ পেলেই ছাড়ে
নি:শ্বাস আর তাকায় নিজের উচ্চতার দিকে।ঢেউ এলে
যে গভীর শ্রাবণের নিদ্রা আমাদের দুপুর ঘিরে রাখে,ঠিক

তেমনি কোনো ছায়াকে সাজায় নদী, বিভাসূত্রের তন্দ্রায়।

জীবন তন্দ্রা ভালোবাসে।
আর ঋতু ভালোবাসে একটু উষ্ণতা

নদীতে বটপাতা ভাসিয়ে কার মুখ দ্যাখে ঋতু
কার অনামিকা বাজায় দোতারার গোধূলিয়া সুর ! 

পরিণয়ের নেপথ্য কাঠি

কেউ হাত বুলিয়ে দেয়। মাথায় ,মননে চাঁদের বিন্দু জমে
নামে মেঘ। ভারী বর্ষণ হবে রাতের নদীতে। জলে জল মিশে
একাকার হয়ে যাবে প্রাণের পরত। শরত এলে কাশফুলে ভরে
যাবে বন, এমন গুন্জন নিয়ে ভোর এসে ডাকে কাছে , এসো

মানব-মানবী । ভাবি , এই হাত কার ? কোন জনম তার গর্বের
আকাশে প্রথম ছড়িয়েছিল রঙের নিদ্রা। ঢুলুঢলু চোখে সমুদ্র
সান্নিধ্যে গিয়ে বসেছিল একজোড়া দোয়েল। তবে কি তাদের
হাতেও ছিল পরিণয়ের নেপথ্য কাঠি। এতোটুকু নতুন নৃত্যমেঘ !

সার্বজনীন সন্ধ্যার ঘ্রাণ

বলয় নিয়ে বাড়ন্ত আকাশের ও একটা গৌরব থাকে। দিন
কিংবা রাতের শরীরে নির্মাণ করে যাবার প্রহর এবং প্রত্যয়
ধারন করে শিল্পীর চোখ তাকায় জ্বলন্ত ইচ্ছেগুলোর দিকে।
কে পোড়ায় এই প্রতিশ্রুতির নন্দন কানন! কার পদছায়া
জমা থাকে মনের শোকেসে! কোন নিখিলের প্রথম অভিজাত
অভিষেকে বার বার প্রবাহিত হয় সারিবদ্ধ মানুষের বিমূর্ত পরাণ।

অনেক মেঘ উড়ে। অনেক সার্বজনীন সন্ধ্যার ছায়া মাড়িয়ে ঝরে
বৃষ্টির বহুগামী রূপ। প্রথম কে এলো তৃষ্ণার সমুদ্রপাড়ে, তার নাম
লেখা থেকে যায় তিস্তাতোরণের দৈর্ঘ্যে, নিঃশ্বাসের বিনম্র আষাঢ়ে।

নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে


সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ইসলাম

সোমবার, ০১ মে ২০১৭

Picture

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) অনন্য নজির স্থাপন করে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সাবধান! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো মুআহিদ (ইসলামি রাষ্ট্রের চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিক)কে অত্যাচার করবে, তার কোনো অধিকার নষ্ট করবে, তার সামর্থ্যের বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেবে, মনের একান্ত ইচ্ছা ছাড়া তার কোনো সম্পদ নিয়ে নেবে তাহলে জেনে রেখো, আমি তার বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন তর্ককারী হব।’ (অর্থাৎ তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে নালিশ করব) (আবু দাউদ: ২/৪৩৩)

অমুসলিমের ওপর অত্যাচার করলে পরকালেও রয়েছে কঠোর শাস্তি।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ যে ব্যক্তি কোনো মুআহিদকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ ৪০ বছরের দূরত্ব থেকে জান্নাতের ঘ্রাণ পাওয়া যাবে’। (বোখারি: ৬৫১৬)

অন্য এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ‘ মুআহিদ বা অন্য কোনো ব্যক্তির প্রতি জুলুম করা থেকে আমার রব আমাকে নিষেধ করেছেন।’ (কানজুল উম্মাল: ২/২৭০) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সাবধান! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এমন মুআহিদকে হত্যা করবে, যাকে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসুল নিরাপত্তা দান করেছেন, তাহলে অবশ্যই সে আল্লাহ তায়ালার নিরাপত্তা বিধানের খেয়ানত করল। সুতরাং সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ ৪০ বছরের দূরত্ব থেকে জান্নাতের ঘ্রাণ পাওয়া যাবে।’ (তিরমিজি:১৪০৩)

উপর্যুক্ত আলোচনা দ্বারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষার গুরুত্ব এবং এটি কেউ নষ্ট করলে তার শাস্তির কথা বুঝে আসলো। তাই আসুন, রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর আদর্শ অনুকরণ করি এবং সংখ্যালঘু অমুসলিমদের সঙ্গে উদার আচরণ করি।


স্থানীয় সরকারের প্রকার, স্তরসংখ্যা ও গন্তব্য ঠিক করুন; ‘উপজেলা’ ও ‘গ্রাম সরকার’ বিষয়ে মিথগুলো জানুন, বুঝুন ---- হাকিকুল ইসলাম খোকন

শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭

আগে স্থানীয় সরকারের প্রকার, স্তরসংখ্যা ও শেষ গন্তব্য কেন ঠিক করতে হবে তা জানতে হলে, বুঝতে হলে বিদ্যমান স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা ও এর অতীত সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতে হবে; পাশাপাশি অতীতে স্থানীয় সরকার কেন্দ্রীক অবৈধ শাসকদের অসৎ উদ্দেশ্যমূলক কর্মকান্ড, তার ধারাবাহিকতা, কুফলগুলো ও মিথগুলো কিভাবে জনগণ, সরকার, রাজনৈতিক দল, সুশীলসমাজ ও এনজিওগুলিকে প্রভাবিত করে চলেছে তাও ভালভাবে জানতে হবে, বুঝতে হবে। এই লেখাটি অবয়বে ছোট্ট রাখতে কেবল বাংলাদেশ আমলের দুইজন অবৈধ শাসক এর অপকর্মের স্মারক হিসেবে “উপজেলা” ও “গ্রাম সরকার” সংক্রান্ত মিথগুলো ও এগুলোর কুপ্রভাব কীভাবে গোটা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে সাংঘাতিকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে, করছে তা জানার, বুঝার প্রয়াস নেয়া যেতে পারে। এই প্রয়াসের মধ্য দিয়ে আগে স্থানীয় সরকারের প্রকার, স্তরসংখ্যা ও গন্তব্য কেন ঠিক করতে হবে তা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়। সেসঙ্গে এই নিবন্ধে সামগ্রিকভাবে স্থানীয় সরকার বিষয়ক অনেক অনেক দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গক্রমে উপস্থাপিত ও আলোচিত হয়েছে বিধায় ২০২০ সাল ও ২০৫০ সাল নাগাদ পরিবর্তনশীল বিষয়গুলি (জাতীয় ও বৈশ্বিক প্রেক্ষিত) বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১, স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২, এমপো, ১১ দফা ও সমাধানমূলক অন্যান্য উপায়গুলো জানতে, বুঝতে সহজতর হবে (স্তরবিন্যাসকরণদ্বয়, এমপো ও ১১ দফা এই নিবন্ধের শেষে সংযুক্ত রয়েছে)। এবং ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারিতে ঢাকায় উপস্থাপিত ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’টি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা, এর সুদূরপ্রসারী উপকারীতা ও তাৎপর্য অনুধাবন করতে সহায়ক হবে। স্থানীয় সরকারের প্রকার ও শেষ গন্তব্য সঠিকভাবে বুঝা ও ঠিক হওয়া কেন জরুরি তাও স্পষ্টভাবে জানা, বুঝা যাবে;  তা বুঝা ও ঠিক হওয়ার সঙ্গে কেন সঠিকভাবে স্থানীয় সরকারের স্তরগত কাঠামো নির্ধারিত হবার বিষয়টি যুক্ত রয়েছে তাও স্পষ্ট হবে; ১৯৯৭ সালে শুরুতেই উপস্থাপিত এই রূপরেখায় নির্দিষ্ট সময় বিবেচনায় ২০২০ সাল ও ২০৫০ সাল নাগাদ স্থানীয় সরকারের গন্তব্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, স্থানীয় সরকারের প্রকারভেদকরণ ও স্তরবিন্যাসকরণ কি অবস্থায় গিয়ে পৌঁছাবে, বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও সমাজ কোন স্তরীয় হবে, ১৯৯৭ সালে কারও কারও কাছে এসব কেবল কাল্পনিক অবাস্তব বলে মনে হলেও এখনকার বাস্তবতায় সেসবের দৃশ্যমান অবস্থা কতটুকু বোধগম্য হচ্ছে তা সুনির্দিষ্টভাবে, সুস্পষ্টভাবে জানা যাবে, বোঝা যাবে। এই নিবন্ধে একসময়ের কৃষিজ সমাজ, কৃষিপ্রধান দেশ তথা গ্রামীণ দেশ থেকে বর্তমানকার গ্রামীণ-নগরীয় সমাজ তথা গ্রামীণ-নগরীয় দেশ এবং গ্রামীণ-নগরীয় সমাজ থেকে পরিপূর্ণ নগরীয় সমাজ তথা পরিপূর্ণ নগরীয় দেশ তথা পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশমুখী পরিবর্তনসমূহ ও সময়ের সাথে সাথে রূপান্তর প্রক্রিয়াটির চলমান অবস্থা বোঝা যাবে, জানা যাবে; তা জানা, বোঝা ও নির্দিষ্ট সময় ভিত্তিক ভবিষ্যৎ অনুমানে ঘোষিত ফোরকাস্টের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের জন্য প্রস্তাবিত প্রকারভেদকরণ ও স্তরবিন্যাসকরণ বিষয়দ্বয় ভালভাবে বোঝা ও জানার সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গিভাবে কেন জড়িত রয়েছে তা পরিষ্কার হবে। স্থানীয় সরকারের একটি সমন্বিত স্তরবিন্যাসকরণ গ্রহণ ও তা একইসঙ্গে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জোর না দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে একেক সময় একেকটি ইউনিট (যেমন কখনও গ্রাম সরকার, কখনও উপজেলা) নিয়ে প্রবল টানাটানি ও হইচই করা হয়েছে, হচ্ছে; দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এই বিষয়টি বৈধ-অবৈধ সব শাসকদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়; তারই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক কালে অসফল অর্থমন্ত্রি মুহিত সাহেবও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে জাতীয় বাজেট বক্তৃতায় কেবল জেলা ও জেলা বাজেট নিয়ে অনুরূপ হইচই, টানাটানি করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন, যেটি মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদ বাকহীন থেকে অনুমোদন দিয়ে চলেছে; এখানে সেই বিষয়টি এবং বিশেষভাবে দুইজন অবৈধ শাসকের অপকর্মমূলক, অপরাধমূলক বিষয় (এরশাদের উপজেলা ও জিয়ার গ্রাম সরকার) আলোচনায় সমালোচনায় এনে তা গভীরভাবে জানার, বোঝার প্রয়াস নেয়া হল।
অবৈধ শাসক এরশাদ প্রবর্তিত উপজেলা হচ্ছে মূলত একটা মিথ, একটা মিথ্যা নোশান এবং এটি বেশ দায়দায়িত্বহীন, স্বশাসনহীন একটি মধ্যবর্তী প্রশাসনিক ইউনিট। উপজেলা নামকরণটিও সার্থক ও যথার্থ নয়; দেশের আইনকানুন ও বইপুস্তকে বর্ণিত এর সংজ্ঞাটিও বাস্তবতার নিরিখে সঠিক নয়। অথচ গোটা জাতি এই মিথ, এই দায়দায়িত্বহীন ইউনিট, এই স্বশাসনহীন মধ্যবর্তী ইউনিট, এই অসার্থক নামকরণ আর ভুল সংজ্ঞার বেড়াজালেই ঘুরপাক খেয়ে চলেছে। এই বিষয়গুলো বিশেষভাবে তলিয়ে দেখলে তা বুঝতে কারও অসুবিধা হবার কথা নয়; কিন্তু তা বুঝতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, মন্ত্রীপরিষদ, নিকার, একনেক, পরিকল্পনা কমিশন ও জাতীয় সংসদ’র বেশ অসুবিধা হচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। অনুরূপভাবে আরেক অবৈধ শাসক জিয়া প্রবর্তিত ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ এবং পরবর্তীতে একে ঘিরেই ‘পল্লী পরিষদ,’ ‘গ্রাম সভা,’ ‘গ্রাম পরিষদ,’ ‘গ্রাম সরকার’ ও ‘ওয়ার্ড সভা’ নিয়ে গোটাদেশ মিথ্যা নোশানের বেড়াজালে ঘুরপাক খেয়েছে, খাচ্ছে; ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত প্রতিটি গ্রাম কেন্দ্রীক কিংবা প্রতিটি ওয়ার্ড কেন্দ্রীক এসব অপ্রয়োজনীয় ইউনিট নিয়ে এক সময় প্রচুর মাতামাতি, লাফালাফি হয়েছে, হচ্ছে; সবাই ভালভাবে জানে যে, তাতে কাজের কাজ কিছু-ই হয়নি, হচ্ছেনা। দেশের এই দু’জন অবৈধ শাসক (প্রেসিডেন্ট জিয়া ও প্রেসিডেন্ট এরশাদ) এর সাংঘাতিক অপকর্ম আর হিমালয়সম দুর্নীতির স্মারক হিসেবে এই গ্রাম সরকার ও উপজেলাকে নিয়ে গোটা জাতির প্রচুর মাতামাতি ও লাফালাফিটা ইতিহাসের পাতায় জাতিগতভাবে ও সমষ্টিগতভাবে ভুল করার, ভুলের মধ্যে ডুবে থাকার এক মহা জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে থাকবে। এবং এর মাধ্যমে জনগণও যে সমষ্টিগতভাবে ভুল করতে পারে, ভুলের মধ্যে ডুবে থাকতে পারে তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল; তাতে, জনগণ ভুল করেনা, জনগণ ভুল করতে পারেনা-এই ধরনের আপ্ত বাক্য যাঁরা কথায় কথায় বলে থাকেন, তাঁদেরও বোধদয় হবে বলে আশা করা যায়।
কেবল ‘উপজেলা’ কেন একটা মিথ, কেন একটা মিথ্যা নোশান, কেন মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে এটি বেশ দায়দায়িত্বহীন তার কারণগুলি ভালভাবে জানা ও বোঝাই জরুরি নয়, পাশাপাশি, এই মিথ্যা নোশানের বেড়াজাল থেকে গোটাদেশ যেন বের হয়ে আসতে পারে তার জন্য সঠিক করণীয় ঠিক ও তা বাস্তবায়ন করাও খুবই জরুরি কর্তব্য। মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক ইউনিটগুলির মধ্যে উপজেলা হচ্ছে অন্যতম মধ্যবর্তী ইউনিট। এর উপরে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট যেমন জেলা ও বিভাগ, এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট যেমন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, এবং কোনো কোনো জেলায় এর পাশে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট যেমন “সিটি কর্পোরেশন”; এই অবস্থাটা হচ্ছে একটি চরম হ-য-ব-র-ল অবস্থা;  এসব স্থানীয় ইউনিটের মধ্যে উপজেলায় অর্পিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিলে অনুপোযুক্ত বলে প্রতীয়মান হয়; স্থানীয় ইউনিটগুলির, স্থানীয় সরকারগুলোর এমনতরো এলোমেলো, গোজামিল অবস্থা কারও কাছেই কোনোভাবেই কাম্য নয়; তাই আমরা সবসময় বলি যে, এই এলোমেলো গোজামিল অবস্থার নিরসনকল্পে স্থানীয় সরকারের একটি সঠিক ও সমন্বিত স্তরবিন্যাস তথা স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো আগে গ্রহণ করতে হবে; সেই গৃহীত প্রশাসনিক কাঠামোয় সর্বাদিক গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট (জেলা সরকার কিংবা বিভাগীয় সরকার) ও সর্বনিম্ন ইউনিটদ্বয়কে (একদিকে গ্রামীণ এলাকায় ‘ইউনিয়ন সরকার’ ও  অপরদিকে নগরীয় এলাকায় ‘নগর সরকার’) কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে; তা না করে স্থানীয় ইউনিটগুলি ও স্তরগুলির এলোমেলো অবস্থা বজায় রেখে, স্থানীয় ইউনিটগুলির অসঠিক প্রকারভেদকরণ বজায় রেখে, স্থানীয় ইউনিটগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ইউনিট ও সর্বনি¤œ ইউনিটদ্বয় ঠিক না করে এবং তাতে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে কেবল একটি মধ্যবর্তী ইউনিট তথা ছাগলের তৃতীয় বাচ্চা তুল্য উপজেলাকে নিয়ে গোটাদেশ অতি উৎসাহ, অতি মনোযোগ, অতি তৎপরতা দেখিয়ে আসছে; ফলে এই উপজেলার জন্মলগ্ন থেকে প্রতিটি নির্বাচনে প্রতিটি উপজেলায় সংশ্লি¬ষ্ট পদপ্রার্থীদের সহিংস কর্মকান্ড অতি মাত্রায় চলে আসছে। পাশাপাশি, হীন রাজনৈতিক স্বাথর্, ব্যক্তি বিশেষের প্রভাব, প্রশাসনিক দুর্নীতি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মন্ত্রিপরিষদ, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, নিকার ও একনেক’র অদূরদর্শি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে উপজেলার সংখ্যা কমে আসার পরিবর্তে এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে, এবং আরও নতুন নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া, প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে; তাতে প্রশাসনিক সিস্টেম কস্ট বাড়ছে; উন্নয়ন ও সেবামূলক ব্যয়ে ঘাটতি থাকছে। অথচ বাংলাদেশে উপজেলার সংখ্যা বাড়ানোর অপ্রয়োজনীয়তা নিয়ে সিডিএলজি, বাপসনিউজ ও এমপো বাস্তবায়ন ফোরাম ছাড়া অন্য কারও বক্তব্য শোনা যায় না; এ এক আশ্চর্য ব্যাপার নয় কি?
বাস্তব ঘটনাগুলো হল, উপজেলায় তেমন কোনো কাজকর্ম নেই, দায়দায়িত্ব নেই, এতে পরিপূর্ণ স্থানীয় সরকার কাঠামো নেই, স্বশাসন নেই, এর নিজস্ব আয়ের তেমন কোনও উৎস নেই, নিজস্ব রাজস্ব আয়ের উৎস সৃষ্টির সুযোগও তেমন একটা নেই বললে চলে, এটির নিজস্ব রাজস্ব আয় সৃষ্টির কিছু সুযোগ তৈরী করতে গেলে তৃণমূলের ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের রাজস্ব আয়ের বেশ কিছু উৎস কর্তন করতে হবে, আর তা করতে গেলে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে বিরোধ অনিবার্য হয়ে পড়বে; উপজেলায় জনগণকে সেবামূলক সার্ভিস দেয়ার মত তেমন কোনো সুযোগ নেই বললে চলে, কিংবা এর মাধ্যমে যেসব সেবামূলক সার্ভিস দেয়ার কথা বলা হয় তা দেয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই, কারণ সেসব সার্ভিস অনায়াসে ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে দেয়া সম্ভব; অন্যসব স্থানীয় ইউনিটগুলি যেমন ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা, বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এর সম্পর্ক কেমন হবে, কিভাবে কতটুকু থাকবে তা সুনির্দিষ্ট, সুস্পষ্ট করা নেই; বিশেষত ইউনিয়ন ও পৌরসভার সঙ্গে উপজেলার এক ধরনের সাপে নেউলে সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে, এই সাপে নেউলে সম্পর্ক যে কোনো সময় সংঘাতরূপে প্রকাশ্যে রূপ নিতে  পারে, যা কোনো অবস্থাতেই কারোরই কাম্য নয়।
এই ধরনের একটা নাজুক দৃশ্যমান চলমান অবস্থার মধ্যে অন্য ধরনের আরেকটা দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায় তা হল, উপজেলার প্রতিনিধিগণের জন্য গাড়ী, ড্রাইবার, বাসা, বিশাল দাপ্তরিক ভবন, পিয়ন, সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে লোভনীয় পদবী, বেতন-ভাতা, সামাজিক মর্যাদা, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, বিদেশ ভ্রমণ, অপক্ষমতা ও নানাবিধ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সুযোগসুবিধার দৃশ্য; এসব লোভনীয় বিলাসবহুল সুযোগসুবিধা থাকায় পদপ্রার্থী হবার জন্য, পদাধিকারী হবার জন্য এক ধরনের প্রচন্ড মোহ, লোভ তৈরী হয়; পাশাপাশি, উপজেলা নির্বাচনে যারা চেয়ারপারসন ও ভাইস-চেয়ারপারসন পদপ্রার্থী হয়, হতে চায়, তাদের লক্ষ্য কিন্তু উপজেলায় দায়িত্ব পালন করা নয়, উপজেলা কেন্দ্রীক উন্নয়নমূলক, সেবামূলক কর্মকা- নিয়ে চিন্তাভাবনা করাও নয়, তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারী সুযোগসুবিধা ও পদবী কাজে লাগিয়ে জাতীয় সংসদ এর সদস্য হবার পথে উপজেলাকে মই হিসেবে ব্যবহার করা, এবং অন্যসব উপায় অবলম্বনে কেবল নিজস্ব ভাগ্য উন্নয়নে প্রচেষ্টা চালানো; আর কাজকর্ম, দায়দায়িত্ব ছাড়া কেবলই ‘বাবুগিরি,’ ‘নেতাগিরি’ করার, কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে সদায় তৎপর থাকার, নিজেকে একজন বিকল্প ‘এমপি’ ভাবার যে সুযোগসুবিধা রয়েছে তা কার না ভাল লাগে; ফলে এই উপজেলা নির্বাচনে দলীয় ও নির্দলীয় প্রার্থীগণের বেশী বেশী আগ্রহ ও বেশী বেশী সহিংস আচরণ দেখা যায়।
এতে একটি বিষয় পরিষ্কার যে, এই উপজেলার জন্মগত অসৎ উদ্দেশ্য ও জঘন্য কলংক এখনো বহাল রয়েছে; জেনারেল এরশাদ অবৈধ উপায়ে ক্ষমতায় এসে অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত ও পাকাপোক্ত করতে এবং স্থানীয় মধ্যবর্তী পর্যায়ে নিজস্ব অনুগত দলীয় মোড়ল তৈরী করতে উপজেলা সৃষ্টি করেন, এবং তিনি বিশেষ ব্যবস্থায় সমস্ত আইনকানুন লংঘন করে রাষ্ট্রীয় অর্থ ও ক্ষমতা বিলিয়ে দিয়ে উপজেলার প্রতি প্রবল মোহ ও একটি অনুগত মোড়লগোষ্ঠী তৈরী করতে সক্ষম হন। আর এই অনুগত মোড়লগোষ্ঠীই পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী মধ্যবর্তী খুঁটি হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়; একটু খোঁজ নিলে দেখা যাবে এঁরাই এখনকার জাতীয় পার্টির স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে মূল খুঁটি হিসেবে কাজ করছে। রাষ্ট্রীয় অর্থে ও সরকারী ক্ষমতাবলে নিজস্ব দলীয় খুঁটি, মোড়ল তৈরী করাটা হচ্ছে মহা অপরাধ, মহা দুর্নীতি; এই মহা অপরাধ, এই মহা দুর্নীতির কথা মনে রাখা, আমলে নেয়া উচিত নয় কি? অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় এসব অপরাধ, এসব দুর্নীতি যেন কিছু-ই না। এসব বিষয়ে দেশের অন্য সব রাজনৈতিক দলও নীরব; তাই তো দেখা যায়, অবৈধ শাসক এরশাদ, তাঁর দল জাতীয় পার্টি, তাঁর শাসনিক মিত্র জেএসডি, কিছুসংখ্যক অবুঝ ব্যক্তি ও চরম চাটুকারকে এখনও ‘উপজেলা’ তথা ‘উপজ্বালা’ নিয়ে গর্ব করতে, উদাহরণ দিতে শোনা যায়! এবং কথায় কথায় বলতে শোনা যায়, জেনারেল এরশাদ ও তাঁর দল না কি এই ‘উপজেলা’র জন্যই চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে! প্রশ্ন হল, যেখানে কোনও একদিন জনাব আবু তালেব প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ অথবা স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ অনুযায়ী “উপজেলা” নামটি থাকবেনা, যখন উপজেলা সম্পর্কীয় মিথগুলি জনমনে খোলাসা হতে থাকবে, এবং যখন মানুষ চাটুকারীয় গর্বমূলক তাৎপর্যহীন কথামালায় একদম কর্ণপাত করবে না; তখন সেখানে অবৈধ শাসক এরশাদ ও তাঁর দল চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে কীভাবে? অনুরূপভাবে, জনাব আবু তালেব প্রস্তাবিত স্তরবিন্যাসকরণদ্বয় অনুযায়ী নগরায়িত প্রবাহে উপনিবেশিক শাসক বৃটিশ প্রবর্তিত ও আয়ুবীয় গন্ধযুক্ত “ইউনিয়ন” নামটিও থাকবেনা, এবং তাতে এই নামটিকে ঘিরে আবর্তিত বৃটিশ উত্তরাধিকার ও আয়ুবীয় গন্ধও মুছে যাবে। আরও বলা প্রয়োজন যে, এই রূপরেখা অনুযায়ী “বিভাগ” স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট হলে মধ্যবর্তী ইউনিট হিসাবে “জেলা” নামটিও এক পর্যায়ে মুছে যাবে, আর জেলাকে স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট করা হলে বিভাগকে একইসঙ্গে মুছে দিতে হবে। তা হলে স্বাধীন দেশে স্বাধীন ভাবনায় নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো সর্বস্তরীয় অর্থাৎ তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত অথবা কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত একটি গণতান্ত্রিক প্রশাসনিক কাঠামো পাওয়া যাবে। এটি ভালভাবে অনুধাবন করতে এই নিবন্ধের শেষে সংযুক্ত প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ ও স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ মনোযোগ দিয়ে ভালভাবে লক্ষ্য করার জন্য, বুঝার জন্য পাঠক-পাঠিকাকে বিনীত অনুরোধ করছি।
সে যাই হোক, এই ধরনের একটি শাসনিক অবস্থার মধ্যেই আরও অনেকে ক্ষমতা, সুবিধা ও অর্থ লোভের পাশাপাশি বুঝে, না বুঝে উপজেলার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যান। বেশ কিছু এনজিও দাতা সংস্থার টাকায় দেশীয় শাসকের চাহিদায় আয়োজিত সভা-সমাবেশে এই উপজেলাকে নিয়ে বেশ মাতামাতি, লাফালাফি করে; আবার কিছু কিছু এনজিও কর্মকর্তার মধ্যে নিজস্ব ব্যক্তিগত স্বার্থে এনজিও কমসূচী, অর্থ, জনবল ইত্যাদি কাজে লাগিয়ে নিজস্ব উপজেলায় চেয়ারপার্সন, ভাইস-চেয়ারপার্সন হবার খায়েশ ও লোভ প্রচন্ডভাবে ক্রিয়াশীল থাকায় উপজেলা কেন্দ্রিক অতি তৎপরতাও লক্ষ্য করা যায়। এদের সঙ্গে যুক্ত হয় জাতীয়ভাবে পরিচিত কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি, যাঁরা প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বোঝে না, মওকা বুঝে কথায় কথায় গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে অথচ গণতন্ত্রায়ন বোঝে না, গণতন্ত্রায়ন শব্দটি উচ্চারণ করতে চায়না, গণতন্ত্রায়ন কর্মসূচী সম্পর্কে ধারণা নেই; বিশেষত এঁরা সুবিধাবাদী অবস্থান থেকে সুবিধাজনক শব্দ “সং¯কার” শব্দটি নিয়ে সব ধরনের শাসনিক আমলে পাগলপ্রায় থাকে, থেকে কেবল সুযোগসুবিধা হাতিয়ে নেয়; এঁরা মূলত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ, প্রকারভেদকরণ, সার্থক নামকরণ, সঠিক সংজ্ঞায়িতকরণ, অর্থায়ন, দায়িত্ব বণ্টন, পারস্পরিক সম্পর্ককরণ, ক্ষমতার পৃথকীকরণ, নির্বাহিক ও বিধানিক পরিষদের পার্থক্য সম্পর্কে জানেনা বুঝেনা, বুঝতে চায়ওনা; এঁরাই স্থানীয় সরকার আর কেন্দ্রীয় সরকারের কাঠামোতে নারীর শতভাগ (১০০%) প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিগতভাবে (যা অবশ্যই চমক, দয়া, করুণা বা বাহাবা কেন্দ্রিক নয়) নিশ্চিত করতে এমপো ও ১১ দফার প্রয়োগ চায়না, ইত্যাদি ইত্যাদি; অথচ তাঁরা নিজেদেরকে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ হিসেবে সবসময় পরিচয় দিয়ে থাকে এবং এনজিও আয়োজিত সভা, সেমিনার, মানববন্ধন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার টকশোতে কখনও অতিথি বক্তা, কখনও অযাচিত বক্তা হয়ে বিশেষত উপজেলা কেন্দ্রিক অসার কথামালা জোর গলায় ব্যক্ত করেন। এঁদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মিডিয়ার বেশকিছু সাংবাদিক, সম্পাদক, উপস্থাপক কর্মকর্তা, যাঁরা আর্থিক সুযোগসুবিধার বিনিময়ে উপজেলা বিষয়ক সংবাদ প্রকাশে প্রচারে সহযোগিতা দিয়ে থাকেন; এই সম্পর্কিত বিভিন্ন সভায় সঞ্চালক  হয়ে সভা সঞ্চালনায় বিশেষ কৃতিত্ব নিয়ে থাকেন; এবং এঁদেরই কেউ কেউ মাঝেমধ্যে স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত অসার প্রতিবেদন প্রচার প্রকাশের মাধ্যমে ‘স্থানীয় সরকার বিষয়ক সাংবাদিক/প্রতিবেদক’ এর পরিচয় দাঁড় করিয়ে বিশেষ সুবিধা-সুনাম আদায়ে সচেষ্ট থাকেন। এ কি হল স্থানীয় সরকার বিষয়ক সাবাদিকতা?

alt
পাশাপাশি, খুবই দুঃখজনক হলেও শতভাগ সত্যি যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠায় ও তার ক্রমাগত উন্নয়নে আকাংখা, পরিকল্পনা, কর্মসূচী ও প্রস্তুতি রয়েছে এমনতরো একটি রাজনৈতিক দলও খুঁজে পাওয়া যায় না, যায়নি; অথচ রাজনৈতিক দলগুলি গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন প্রসঙ্গে সবসময় লিপ সার্ভিস দিয়ে থাকে; এই লিপ সার্ভিস আর অন্তর্গত বিশ্বাস কখনো এক ছিলনা, এখনো নেই বলে প্রতীয়মান হয়; অপ্রিয় হলেও সত্য কথা হল, বাংলাদেশে কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনই হয়নি, হচ্ছেনা; বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে মিশ্রিত লক্ষ্য প্রসূত রাস্তার, মাঠের আন্দোলন হয়েছে, হয়; আপাত দৃষ্টিতে ওইসব আন্দোলনে সফলতা দেখা গেলেও সেই সফলতা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তার উন্নয়নে কাজে লাগেনি; কারণ সমাজ, দল ও দেশের সার্বিক অর্থে গণতন্ত্রায়ন সম্পন্ন করার শিক্ষাগত ও মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ প্রক্রিয়া এসব আন্দোলনে, সংগ্রামে একেবারেই ছিলোনা বললে অত্যুক্তি হবেনা। সে যাই হোক, বড় দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সময়ে সময়ে বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্য সাধন করতে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিগণকে, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি হতে আগ্রহী দলীয় ব্যক্তিবর্গকে ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ব্যবহার করতে দেখা যায়; এবং জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার উন্নয়ন প্রসঙ্গ বেশ জোরালোভাবে উপস্থাপিত করা হয়। তা করতে গিয়ে এসব দলের কিছু সুচতুর নকলবাজ ব্যক্তি প্রতিটি জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বলগ্নে দলীয় ইশতেহার প্রণয়ন কালে স্থানীয় সরকার ও গণতন্ত্র বিষয়ে নকল করার মহড়ায় নেমে থাকে। এসব নকলবাজ ব্যক্তিরা অন্য কারো আইডিয়া, স্লোগান, গবেষণা কর্ম, প্রণীত বিষয়, প্রস্তাবিত বিষয় ও কর্মসূচী জাতীয় স্বার্থে অনুসরণের জন্য, গ্রহণের জন্য নিয়মনীতি মেনে দলীয় ইশতেহারে কিংবা দলীয় কর্মসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করেন না, করতে চান না; তাঁরা দেশের ব্যক্তি বিশেষের নিজস্ব স্ট্যাডি, গবেষণা, কর্মসূচী, শ্লোগান, ক্যাম্পেইন, অবদানকে অস্বীকার করার, চুরি করার বাতিকগ্রস্ততা থেকে কেবল নগ্নভাবে চুরিতে, নকলেই সিদ্ধহস্ত; এঁরা মূলত বুদ্ধিবৃত্তিক চোর এবং জনগণের অর্থ ও সম্পদ চোর তো বটেই। অথচ এঁরা স্ব স্ব দলের কাছে সম্মানীয় বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, নির্বাচনী ইশতেহার প্রণেতা, দলীয় কর্মসূচী প্রণেতা, ইত্যাদি ইত্যাদি! এ এক মহা আজব কারবার নয় কি! তাই তো দেখা যায়, এসব দলের উপজেলা সম্পর্কীয় ইশতেহারগত অংগীকার শুধু কথার ফুলঝুরি আর অন্তঃসার শূন্য কথামালায় ভরপুর; কারণ স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে উপজেলার অবস্থান, গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, ক্ষমতা, দায়দায়িত্ব, স্বশাসন, অর্থায়ন, কাঠামো ইত্যাদি সম্পর্কে এসব দলের জেনে বুঝে কোনও সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট অবস্থান, কর্মসূচী নেই; এ হচ্ছে একজন অবৈধ শাসকের চরম অপকর্মের কুফলে প্রভাবিত হয়ে উত্তরাধিকার বহনে রাজনৈতিক দলগুলোর অশুভ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকা ছাড়া অন্য কিছু নয়; এ যেন এক চরম হ-য-ব-র-ল অবস্থার মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকহারা হয়ে ছোটাছুটিতে লিপ্ত থাকা। পাশাপাশি দেখা যায় যে, জনগণেরও একটা বিরাট অংশ উপজেলা নির্বাচন কালীন সময়ে নগদে পাওয়া আদর আপ্যায়ন আর কদরেই তুষ্ট থাকে। নির্বাচনে ও তার পরে কি হল তা তাঁদের নজরদারি ও তদারকির বিষয় হিসেবে থাকে না। ভোটারগণ মূলত জানেওনা উপজেলায় কি কি দায়িত্ব সম্পন্ন করানোর জন্য উপজেলা চেয়ারপারসন-ভাইস চেয়ারপারসনদ্বয় নির্বাচিত করেছে, করছে; ঠিক যেমন পদপ্রার্থীগণ ভালভাবে জানেনা কি কি দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্বাচিত হতে চায়, হয়েছে। অতএব, সার্বিক অর্থেই বলা যায়, উপজেলা হচ্ছে একটা মিথ, একটা অলীক স্বপ্ন, একটা মিথ্যা নোশান, একটা দায়দায়িত্বহীন, স্বশাসনহীন মধ্যবর্তী ইউনিট। গোটাদেশ এই মিথ্যার বেড়াজালে ঘুরপাক খাওয়াটা, সরব থাকাটা হচ্ছে এক মহা আশ্চর্যজনক ব্যাপার!
অনুরূপভাবে, গোটা জাতি আরেকটা মিথ, আরেকটা মিথ্যা নোশানের বেড়াজালে ঘুরপাক খেয়ে আসছে; সেই মিথ আর মিথ্যা নোশানটা হল, অবৈধ শাসক প্রেসিডেন্ট জিয়া প্রবর্তিত তথাকথিত ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’। এই মিথ তথা অপকর্মের কুফলে প্রভাবিত হয়ে এবং একে ঘিরেই পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শাসক দ্বারা সৃষ্ট পল্ল¬¬ী পরিষদ, গ্রাম সভা, গ্রাম পরিষদ, গ্রাম সরকার ও ওয়ার্ড সভা নামের অপ্রয়োজনীয় ইউনিটগুলি নিয়ে গোটা জাতি মিথ্যার বেড়াজালে জড়িয়ে থাকে; ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিটি গ্রাম কিংবা প্রতিটি ওয়ার্ডে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অবৈধ ও বৈধ শাসকগণ দ্বারা এসব অপ্রয়োজনীয় ইউনিট গঠিত হয় কিংবা গঠন করার অপচেষ্টা চলে; এসব ইউনিট কেন অপ্রয়োজনীয়, কেন মিথ, কেন মিথ্যা নোশান, কেন অপচয়মূলক আর অসৎ উদ্দেশ্যমূলক তার স্বরূপ বুঝাটাও খুবই জরুরী। এর স্বরূপ বুঝার মাধ্যমে এও বুঝা যাবে যে, কেন স্থানীয় সরকারের স্তরসংখ্যা, প্রকার ও শেষ গন্তব্য আগে ঠিক করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
মূলত, ইউনিয়ন-ই হওয়া উচিত গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের মৌলিক গ্রামীণ প্রশাসনিক ইউনিট; সাধারণত ১০ থেকে ১৫টি গ্রাম নিয়ে একেকটি ইউনিয়ন গঠিত হয়ে থাকে; এই ইউনিয়নের মধ্যে অবস্থিত হাট-বাজার-ঘাট-গঞ্জগুলিও কোনো না কোনও গ্রামের মধ্যেই অবস্থিত। সেজন্য দেশের মানুষের কাছে ইউনিয়ন মানে গ্রাম আর গ্রাম মানেই ইউনিয়ন; গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী নগরীয় স্থানীয় সরকারের নগরীয় প্রশাসনিক ইউনিট (পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড) এর সংখ্যা ও আয়তন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ ইউনিট হিসেবে ইউনিয়নের মোট সংখ্যা ও আয়তন কমে আসার কথা; কিন্তু প্রশাসনিক দুর্নীতি আর অশুভ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ইউনিয়নের সংখ্যাও বেড়েই চলেছে, এবং আরও কিছু নতুন নতুন ইউনিয়ন গঠনের প্রচেষ্টা চালু রয়েছে; তাতে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক সিস্টেম কস্ট অনেক অনেক গুণ বেড়ে গেছে, এবং তা আরও বাড়তে থাকবে; অথচ ইউনিয়নের সংখ্যা যথাসম্ভব কমিয়ে এনে প্রশাসনিক সিস্টেম কস্ট যথাসম্ভব সীমিত রেখে তাতে উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক ব্যয় বাড়ানো খুবই জরুরি প্রয়োজন বলে প্রতীয়মান হয়।
গ্রামীণ এলাকায় প্রশাসনিক ইউনিট হিসেবে ইউনিয়ন কেন্দ্রীক সার্বিক উন্নয়ন মানেই ১০-১৫টি গ্রামের উন্নয়ন, গ্রামীণ মানুষের উন্নয়ন; অথচ, প্রকৃত ঘটনা হল, এই ইউনিয়ন ভিত্তিক গণতন্ত্রায়ন ও তার  সার্বিক উন্নয়ন সাধনে আজ অবধি কোনো বিশেষ উদ্যোগ, বিশেষ আয়োজন গৃহীত ও দৃশ্যমান হয়নি, হচ্ছেনা। বরং এই ইউনিয়নকে পাশ কাটিয়ে এর নীচে যেমন গ্রাম সরকার ও এর ওপরে যেমন উপজেলা নামক অপ্রয়োজনীয় ইউনিটগুলো গঠনের নামে নানান সময়ে নানান রকমের অপতৎপরতা চালানো হয়েছে, হচ্ছে; ওই সব অপতৎপরতার সঙ্গে দেশের অনেক নামকরা, নামী দামী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জড়িত। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান অবৈধ উপায়ে ক্ষমতায় এসে ও থেকে, রাষ্ট্রীয় অর্থে ও সরকারী ক্ষমতায় নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন ও গ্রামীণ তৃণমূলে অনুগত, চাটুকার দলীয় কর্মী-সমর্থক তৈরীর লক্ষ্যে ইউনিয়নের মধ্যে ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার’ গঠন করার উদ্যোগ নেন; এবং এই ইউনিট কেন্দ্রীক বেশী বেশী দলীয় কর্মী-সমর্থক তৈরী করার লক্ষ্যে নতুন নতুন গ্রাম সৃষ্টিতে প্রবল উৎসাহ যোগায়; তাতে গ্রামের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে ৬৮ হাজার থেকে ৮৭ হাজারের বেশী সংখ্যক গ্রামে উন্নীত হয়ে যায়; কারণ যত বেশী বেশী গ্রাম, তত বেশী বেশী গ্রাম সরকার, আর তত বেশী বেশী অনুগত, চাটুকার, টাউট, সুবিধাবাদী, নীতিহীন, আদর্শহীন দলীয় সদস্য; এতে দীর্ঘকালের প্রতিটি গ্রামভিত্তিক দৃঢ় সামাজিক বন্ধন ও একতা ভেঙ্গে তছনছ, চুরমার হয়ে যায়; জাতীয় অর্থ, শ্রম ও সময়ের বিপুল অপচয় ঘটে; ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে পড়ে চরম উপেক্ষিত, এবং গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক গ্রামীণ ইউনিটের পরিবর্তে ইউনিয়ন হয়ে পড়ে গুরুত্বহীন এক মধ্যবর্তী ইউনিট। বহুল পরিচিত প্রচারিত শ্লোগান “৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে, বাংলাদেশ বাঁচবে” শ্লোগানটি হয়ে পড়ে প্রকৃত তথ্যভিত্তিক ঘটনায় অসঙ্গতিপূর্ণ; বিদ্যমান বাস্তবতায় এই শ্লোগানে গ্রামের সংখ্যাগত ভুল তো রয়েছেই; পাশাপাশি প্রশ্ন এসে যায় এই শ্লোগানে নগর, নগরীয় এলাকা আর নগরীয় মানুষ কোথায়? তা তো এই কবিতে কবিতায় অনুপস্থিত রয়েছে; কবিকে কবিতা লেখায়ও যে তথ্যগতভাবে আপডেট থাকতে হবে তা ভুললে চলবে কী? প্রকৃত ঘটনা হল, বাংলাদেশ এখন গ্রামীণ-নগরীয় দেশ; তাই গ্রাম আর নগরকে নিয়েই বাংলাদেশকে বাঁচতে হবে, এগিয়ে যেতে হবে; তাই কবিতায়, গানে, শ্লোগানে, ভাবনায়, পরিকল্পনায়, কর্মপ্রচেষ্টায় গ্রাম আর নগর একসঙ্গে থাকতে হবে; এটি একসঙ্গে ততদিন পর্যন্ত বজায় রাখতে হবে, যতদিন পর্যন্ত গ্রাম বজায় থাকবে। সে যাই হোক, অবৈধ শাসক জিয়া কর্তৃক রাষ্ট্রীয় অর্থে, দাপটে কেবল-ই ব্যক্তিগত ও নতুন রাজনৈতিক দলীয় কর্মী-সমর্থক তৈরীর স্বার্থে পরিচালিত এই সরকারী উদ্যোগ ছিলো এক মহা দুর্নীতি, এক মহা অপরাধ; এ হল অবৈধ শাসকের অবৈধ ক্ষমতায় সৃষ্ট এক মারাত্বক বিষফোঁড়া, যার যন্ত্রণায় গোটা জাতি এখনো খেসারত দিয়ে চলেছে। অবৈধ শাসক জিয়ার এই মহা অপরাধ, এই মহা দুর্নীতি আর এই সাংঘাতিক বিষফোঁড়ার বিষয় হালকাভাবে নেয়া একদম উচিত নয়। এই মহা অপরাধ, এই মহা দুর্নীতির কথা অবৈধ ক্ষমতাবলে সৃষ্ট সংশ্লিষ্ট দলটি (বিএনপি) স্বার্থগত কারণেই হালকাভাবে নিয়ে থাকে এবং তা চাপিয়ে রাখতে চায়, লুকিয়ে রাখতে চায়; কারণ একটু অতীতে গেলে, একটু অতীত স্মরণ করতে চেষ্টা করলেই মনে পড়ে যাবে যে, জিয়াউর রহমান তখনকার গ্রাম সরকারের মাধ্যমেই তৃণমূলে সুবিধাবাদী, নীতিহীন, আদর্শহীন, টাউট ও বাটপার জাতীয় লোকদের নিয়ে বিএনপি’র সমর্থক ও কর্মী গোষ্ঠী তৈরী করে ছিলেন; পরবর্তী কালে এঁরাই গ্রামে বিএনপি’র শক্ত খুঁটি হয়ে দাঁড়িয়ে যায়; তৃণমূলের মত জাতীয় পর্যায়েও অনুরূপ চরিত্রের লোকজন নিয়েই জিয়াউর রহমান বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তৈরী করেছিলেন; তখন একটি কথা বেশ চালু ছিল তা হল, ‘দিনে বায়তুল মোকাররম, রাতে বঙ্গভবন’; ওই সময়ে পল্টন ময়দানে সভা সমাবেশ করা বন্ধ রেখে বায়তুল মোকাররমে পার্শ্ব রাস্তায় সভা সমাবেশ করতে বাধ্য করা হয়। মূলত, ওই সময় থেকেই বাংলাদেশে অবৈধ ক্ষমতাবলে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী বেচাকেনা শুরু হয়, সেজন্য ওই কথা মনুষ্য মুখে মুখে এমনিতেই দেশময় চালু হয়ে যায়। সেজন্য অবৈধ শাসক জিয়ার এসব অপকর্ম স্বার্থগত, জন্মগত কারণেই বিএনপিকে ভুলে থাকতে হয়, চাপিয়ে যেতে হয়। কিন্তু অন্যসব রাজনৈতিক দল ও  গোটা জাতি কেন তা ভুলতে বসেছে? তা কি ভুলে যাওয়া উচিত? এই প্রশ্ন থাকল সকল মানুষের প্রতি। একই ধারায় পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন স্থানীয় সরকার বিষয়ক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রি ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের নেতৃত্বে একবার ‘গ্রাম সভা’ গঠন করার অপচেষ্টা চালায় এবং আরেকবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মান্নান ভূঁঞার নেতৃত্বে প্যাডসর্বস্ব ‘গ্রাম সরকার’ গঠন করতে গিয়ে দেশের প্রচুর অর্থ, শ্রম ও সময় নষ্ট করা হয়, এবং এই প্যাডসর্বস্ব গ্রাম সরকারের জন্য রাষ্ট্রীয় শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে করাপশনকে গ্রামীণ তৃণমূলে বিস্তৃত করা হয়। উভয় বার ক্ষমতায় থাকা কালে বিএনপির যেসব নেতা স্থানীয় সরকার বিষয়ক দায়িত্বে পরামর্শে ছিলেন, তাদের দ্বারা স্থানীয় সরকারের কেবল ক্ষতিই সাধিত হয়েছে; তারাসহ এই দলের গোটা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার স্থাপন ও তার উন্নয়নমুখী কোনো চিন্তাভাবনা করেছে কিংবা করতে চেয়েছে এমনতরো নজির একদম খুঁজে পাওয়া যায়না, যদিও ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ বিএনপির নীতিনির্ধারকগণের কাছেও বার বার তুলে ধরা হয়েছিল; তা তারা সবাই এক কান দিয়ে শুনেছে, আরেক কান দিয়ে তা বের করে দিয়েছে; তারা দেশ, দল ও সমাজের সার্বিক গণতন্ত্রায়ণ ও গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত হিসেবে স্বশাসিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আমলে নেয়ার প্রয়োজনীয়তা কখনও উপলব্ধি করেনি, করতে চায়নি, আর এখনও এই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এসব বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে বলে, করতে চায় বলে একদম প্রতীয়মান হয়না; আর এই দলের জন্মগত কলংকিত চরিত্র একটুও পরিবর্তনমুখী হয়েছে বা হতে চেয়েছে বলে কোনও নজির কি দলে কিংবা রাষ্ট্রে রয়েছে? তারপরও কি বিএনপি’র স্থানীয় সরকার, গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রায়ন বিষয়ক অবস্থান, আকাংখা বুঝতে আর কিছু বাকি থাকে? সেসঙ্গে অবৈধ শাসক জিয়ার ওই অপকর্মের প্রভাব কিভাবে অন্যসব রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রভাবিত করেছে তাও গভীরভাবে জানার, বুঝার প্রয়োজন রয়েছে। এই প্রসঙ্গে ধরা যাক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কথা; এই দল ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে গ্রামীণ তৃণমূলে দলীয় ভিত্তি আরও মজবুত করার এক অলীক স্বপ্নে তাড়িত হয়ে এ্যাডভোকেট রহমত আলীর নেতৃত্বাধীন স্থানীয় সরকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান (পরে তিনি মাননীয় রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন) এর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে তেমন কোনো আলাপ আলোচনা ছাড়াই অত্যন্ত তাড়াহুড়ার সহিত স্বল্প সময়ে ইউনিয়নের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ড কেন্দ্রিক ‘গ্রাম পরিষদ’ গঠন করার বিল পাস করা হয় ও তা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়ে আইনে পরিণত হয়, এবং তাঁরই নেতৃত্বে তা বাস্তবায়নের জন্য অপচেষ্টা চলে; বিন্তু সেই অপচেষ্টা কেবল জনাব আবু তালেব এর বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবল বাধার মুখে বন্ধ হয়ে যায়; প্রসঙ্গক্রমেই বলা প্রয়োজন যে, এ্যাডভোকেট রহমত আলী কমিশনের ওয়ার্ড ভিত্তিক তথাকথিত ‘গ্রাম পরিষদ’ গঠনের সুপারিশটি ও অন্যসব সুপারিশগুলো একদম অপরিপক্ক, ভঙ্গুর, খন্ডিত আর গোজামিলে ভরপুর; এক কথায় বলা যায় যে, রহমত আলী কমিশনের গোটা প্রতিবেদনটি সার্বিক বিবেচনায় বাস্তবায়নের অযোগ্য একটি প্রতিবেদন। তা সত্ত্বেও, বাস্তব অবস্থা দেখে মনে হয়, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকগণ এ্যাডভোকেট রহমত আলী কমিশনের ওই গারবেজ তুল্য প্রতিবেদনটি নিয়ে এখনও সন্তুষ্ট কিংবা দ্বিধাগ্রস্ত রয়েছেন; পাশাপাশি আওয়ামী লীগের প্রায় সকল কেন্দ্রীয় নেতাগণ ও রহমত আলী কমিশনের সকল সদস্যগণ ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ সম্পর্কে বার বার অবগত হয়েছেন, এবং এর সবিস্তার ব্যাখ্যা শুনেছেন, জেনেছেন; তার পরও এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে, উপলব্ধিতে নিতে, বাস্তবায়নে যেতে এতবেশী সময় লাগার কারণ একদমই বোধগম্য নয়। সে যাই হোক, এখন তো বিএনপিকে ‘স্বনির্ভর গ্রাম সরকার,’ ‘গ্রামসভা’ ও ‘গ্রাম সরকার’ নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় না, শোনা যায় না। জাতীয় পার্টিকে ‘পল্ল¬ী পরিষদ’ নিয়ে কথা বলতে শোনা যায় না, দেখা যায় না; অবস্থা দৃষ্টে মনে হয়, অবৈধ শাসক এরশাদকে “পল্লী” শব্দ কেন্দ্রীক, “পল্লী পরিষদ” কেন্দ্রীক ও “পল্লীনিবাস” কেন্দ্রীক ‘পল্লীবন্ধু’ বানানোর খায়েশও এই দলের ফুরিয়ে গেছে বলে মনে হয়! আর আওয়ামী লীগকে ইউনিয়নে ওয়ার্ড ভিত্তিক তথাকথিত ‘গ্রাম পরিষদ’ নিয়ে কোনও বক্তব্য দিতে, টুঁ শব্দ করতে দেখা যায় না, শোনা যায় না। তবে প্রতি গ্রামে কিংবা ইউনিয়নের প্রতি ওয়ার্ডে ওইসব তথাকথিত ইউনিট গঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে যেসব ব্যক্তি নানাবিধ ফায়দা লুঠেছে, অপ্রয়োজনীয় বই-টই লিখে প্রচুর টাকাপয়সা কামিয়েছে, স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ পরিচিতি মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করেছে, দাতা গোষ্ঠীর টাকায় সভা-সেমিনার করেছে, নতুন নতুন এনজিও যেমন ‘স্থানীয় সরকার সহায়ক কমিটি’ গঠন করেছে, তারা এখনো মাঝেমধ্যে ওইসব অপ্রয়োজনীয় ইউনিট গঠনের পক্ষে আড়ালে-আবড়ালে, চুপিসারে সাফাই গাইতে দেখা যায়। এসব অপকর্মকান্ডের বিরুদ্ধে, ইউনিয়নের মধ্যে ওইসব অপ্রয়োজনীয় ইউনিট গঠনের বিরুদ্ধে সিডিএলজি’র লাগাতার ক্যাম্পেইন ও তীব্র প্রতিবাদ এর কারণে এক দিকে ওইসব ব্যক্তির জোরগলা বেশ ক্ষীণ ও দুর্বল হয়েছে; অপর দিকে ওইসব রাজনৈতিক দল বুঝতে পেরেছে যে, ইউনিয়নের মধ্যে ওইসব অপ্রয়োজনীয় ইউনিট গঠন করার নামে আবার লাফালাফি, মাতামাতি করলে হালে আর পানি পাওয়া যাবে না; তাই তারাও চুপসে গেছে বা চুপসে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে বোঝা যায়। শেষ তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গঠিত একটি স্থানীয় সরকার বিষয়ক কমিটিও ইউনিয়নের মধ্যে প্রতি ওয়ার্ডে ‘ওয়ার্ড সভা’ ও নগরীয় ওয়ার্ডে ‘ওয়ার্ড কমিটি’ গঠনের সুপারিশ করে; এই কমিটির জন্য অন্যসব খরচ ছাড়া শুধু ওই তথাকথিত সুপারিশ প্রকাশের জন্য ঢাকায় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক সভার জন্য ব্যয় করা হয়েছে প্রায় সোয়াশ কোটি টাকা, এর মাধ্যমে জাতীয় অর্থের অপচয় কারে কয়, তা ওই কমিটি ও স্থানীয় সরকার বিভাগ ভালভাবে দেখিয়েছে! ওই কমিটির প্রধান ড. শওকত আলী পুরস্কার স্বরূপ শেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও হয়েছেন; তথাকথিত ওয়ার্ড সভা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনের সুপারিশসহ ওই কমিটির অন্য সুপারিশগুলিও বড্ড সেকেলে, খন্ডিত ও বাস্তবায়নের একদম অযোগ্য; প্রথম দিকে মিডিয়াসহ অনেকেই না জেনে, না বুঝে ওই কমিটির প্রতিবেদনটির প্রতি সমর্থন জানায়, আবার জেনেবুঝেই কেবল স্বার্থগত কারণে তার পক্ষে শেষ তত্বাবধায়ক সরকারের গর্ভে সৃষ্ট ‘গভার্নেন্স কোয়ালিশন’ নামের একটি এনজিও গ্রুপ দাতা সংস্থার টাকায়, শেষ তত্বাবধায়ক সরকারের সেবাদাস হিসেবে সভা-সেমিনার আয়োজনের মাধ্যমে বেশ হইচই করে থাকে, ‘হাঙ্গার প্রজেক্ট’ নামের আরেকটি এনজিও’র বাংলাদেশস্থ কর্ণদার (ড. বদিউল আলম মজুমদার) এর বিশেষ ব্যক্তিগত স্বার্থে ওই এনজিওটিও অনুরূপ কাজে লিপ্ত থাকে, আর এই হাঙ্গার প্রজেক্ট এরই পকেট সংগঠন ‘সুজন’ও ওই প্রতিবেদন নিয়ে মাঠ গরম করার অপচেষ্টা চালায়, ‘ডেমক্রেসিওয়ার্চ’ নামের আরেকটি সুবিধাভোগী এনজিও ওই প্রতিবেদনের পক্ষে প্রচার প্রচারণায় সচেষ্ট থাকে, এবং এই এনজিও ইউনিয়ন পরিষদের তথাকথিত ‘স্থায়ী কমিটি শক্তিশালীকরণ’র নামে দাতা সংস্থার লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতে লোক দেখানো সভা সেমিনারও আয়োজন করত; অথচ ওই এনজিও বিধানিক পরিষদীয় বা সংসদীয় স্থায়ী কমিটি কি, তা-ই বুঝত না, বুঝে না; মিসেস তালেয়া রেহমান কর্তৃক পরিচালত এই এনজিওটি গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার চায়, বুঝে তার কোনও লক্ষণ এর কর্মকা-ে কখনও প্রতিফলিত হয়নি, হয়না। ওই অসার প্রতিবেদনটির পক্ষে বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রও নিজস্ব স্বার্থগত কারণে প্রবল প্রচার প্রচারণায় যুক্ত হয়ে পড়ে; ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ নামক একটি এনজিও অনুরূপ কর্মকা-ে লিপ্ত থাকে, যদিও এই এনজিওতেও স্থানীয় সরকার বুঝে, জানে এমন কোনো কর্মকর্তা দেখা যায়নি; তখন এই এজিও’র এক বিশেষ সুবিধাভোগী কর্মকর্তা স্থানীয় সরকার বিষয়ক গার্বেজ তুল্য একাধিক নিবন্ধ ডেইলি স্টার নামক একটি ইংরেজী পত্রিকায় প্রকাশ করায় এবং ইউরোপের একটি দেশ থেকে একটি স্কলারশিপ বাগিয়ে নেয়। অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ‘সিপিডি’ও ওই অসার প্রতিবেদনের পক্ষে জোর অবস্থান নেয়, যদিও এই প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার, গণতন্ত্রায়ন বুঝে, জানে এমন কোনও গবেষক, কর্মকর্তা আছে বলে আমাদের অন্তত জানা নেই; কিন্তু সিডিএলজির বুদ্ধিবৃত্তিক তীব্র আন্দোলনের ফলে ওই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলির অসারতা, দুর্বলতা খোলাসা হতে থাকায় তার প্রতি অনেকের সমর্থন ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়েছে, এবং ওই কমিটির সদস্যদের উচ্চকণ্ঠ আস্তে আস্তে ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতম হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়; ওই কমিটির সুপারিশগুলি (মূলত একেও নকলবাজদের নকল বলাই শ্রেয়) এবং ওইগুলির ভিত্তিতে প্রণীত আইনকানুন বিধিবিধান যত দ্রুত সম্ভব বাতিল হয়ে যাওয়া উচিত। এই শেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্যোগেই তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি স্থানীয় সরকার কমিশনও গঠিত হয়; এ কমিটির সদস্যরা কেবল বেতন, ভাতা, অফিস, গাড়ী, বাড়ি, পদমর্যাদা ও নানা রকমের সুযোগসুবিধা নিয়েই ভীষণ ব্যস্ত সময় কাটিয়েছে; এঁদের একজনেরও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার, বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও এর অভ্যন্তরীণ স্ট্যাটাসগত ও গুণগত পরিবর্তন সম্পর্কে তত্ত্বগত ও বাস্তব ধারণা ছিলোনা; এঁদেরই একজন (ড. তোফায়েল আহমেদ) এখনও বিলুপ্ত কমিশনের পদবী ব্যবহার করে মিডিয়াসহ অন্যসব জায়গায় নানা রকমের সুযোগসুবিধা নিয়ে থাকেন, এবং তিনি তার অসার গার্বেজ তুল্য বক্তব্য কথায় লেখায় সবসময় তুলে ধরেন। তাজ্জব ব্যাপার হল, এই তিনি, যিনি আর্থ-সামাজিক স্তরীয় অবস্থা বুঝে স্থানীয় সরকারের প্রকার ঠিকভাবে করতে পারেন না, সর্বনি¤œ ইউনিট কতটি তা বুঝতে পারেন না, সর্বোচ্চ ইউনিট বিভাগ না জেলা তা ঠিক করার ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ করার প্রয়োজনীয়তা বুঝেন না, নির্বাহিক ও বিধানিক পরিষদের পার্থক্য বুঝেন না, সমন্বিত স্তরবিন্যাসকরণ ও তার গুরুত্ব বুঝেন না, সার্থক নামকরণ ও যথার্থ সংজ্ঞায়িতকরণের গুরুত্ব অনুধাবন করেন না, ন্যায়পাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন না, নারীর গণতান্ত্রিক ক্ষমতায়নে ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি তথা এমপোতে বিশ্বাস করেন না, গ্রামীণ তথা কৃষিপ্রধান থেকে গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশের রূপান্তরিত উপস্থিতি এখনও টের-ই পাননা, বিদ্যমান গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ থেকে একটি পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ এ উন্নীত হবার চলমান প্রক্রিয়া উপলব্ধিতে নিতে চাননা, স্থানীয় সরকারের শেষ গন্তব্য কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা জানেন না, বোঝেন না, বোঝতে চাননা, ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ মিডিয়া কর্মিরা তাঁকে (এবং ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ড. আকবর আলি খান, ড. শওকত আলী সহ আরও কয়েক জনকে) স্থানীয় সরকার “বিশেষজ্ঞ” হিসেবে প্রচার প্রকাশ করেই চলেছে; এতে তাঁরা খুবই পুলকিত বোধ করেন! প্রশ্ন হল, এসব ব্যক্তিসহ আরও কিছু ব্যক্তি (কারা তা বুঝে নিলে খুশী হব) ও কিছু এনজিও সম্পর্কে মিডিয়া কর্মিরা কবে সচেতন হবে? কবে শেষ হবে স্থানীয় সরকার নিয়ে সব ধরনের অপতৎপরতা, অপপ্রচার? আর কবে শেষ হবে অসার, বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার প্রকাশের লাগাতার মহড়া?
প্রকৃতপক্ষে, স্থানীয় সরকার বিষয়ক যত রকমের মিথ আর অপতৎপরতা রয়েছে, তার বিরুদ্ধে সর্বাত্বক বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে সূচিত হয় ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারী থেকে। ওই দিন ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরে এক জাতীয় সেমিনারে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ উপস্থাপিত করেন স্থানীয় সরকার ও গণতন্ত্রায়ন বিষয়ক গবেষক আবু তালেব, এবং সেই ১৩ জানুয়ারী ১৯৯৭ সাল থেকেই তাঁর উদ্যোগে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ও ২০২০ সালের মধ্যে একটি উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তথা “গণস্বপ্ন ২০২০” প্রতিষ্ঠার বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন সূচিত হয়, প্রকৃত অর্থে স্বপ্ন (ভিশন) ভিত্তিক আন্দোলন সংগ্রাম সূচিত হয়; আর এই আন্দোলনই স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত যত রকমের মিথ, মিথ্যা নোশান, আনফাউন্ডেড নোশান, অপচেষ্টা, অপতৎপরতা রয়েছে তা আস্তে আস্তে দূরীভূত করে আসছে; শুরুতে অনেকেই এই আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য বুঝতে পারেননি; ইউনিয়নের মধ্যে প্রতিটি গ্রাম কিংবা ওয়ার্ড ভিত্তিক স্থানীয় সরকারের ইউনিট স্থাপনের কোনো প্রয়োজন নেই, জনাব আবু তালেবের এই দৃঢ় বক্তব্যের, অবস্থানের সারবত্তাও অনেকে একেবারেই বুঝতে পারেননি, এবং অনেকেই তাঁর এই দৃঢ় বক্তব্যকে, অবস্থানকে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেননি বলে তাঁকে অনেকেই ভুল বুঝেছেন, ক্ষুরধার সমালোচনা করেছেন। অনুরূপ কঠোর সমালোচনায় পড়তে হয়েছিল “গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা” নামকরণে “গণতান্ত্রিক” শব্দটি লাগানোর জন্যও। তাতে কিন্তু তিনি একটুও দমে যাননি; তিনি তাঁর সুদৃঢ় বক্তব্য নিরলসভাবে গোটা জাতিকে সাধ্যমত লাগাতার জানিয়ে বুঝিয়ে চলেছেন। এটা তো ঠিক যে, সমষ্টিগত কিংবা জাতিগত ভুল ভাঙ্গানো সহজ কাজ নয় এবং এও ঠিক যে, যে কোনো সত্য বিষয় সহজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়না, যায়নি। এসব বিষয় মাথায় রেখেই সিডিএলজি লাগাতার বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার স্থাপন, কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক না হওয়া পর্যšত সিডিএলজি’র এই বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন, সংগ্রাম অবশ্যই চলতে থাকবে। ফলে, আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, স্বনির্ভর গ্রাম সরকার, পল্ল¬ী পরিষদ, গ্রাম সভা, গ্রাম পরিষদ, গ্রাম সরকার ও ওয়ার্ড সভার মত উপজেলাও একটা মিথ ও অপ্রয়োজনীয় ইউনিট হিসেবে একদিন না একদিন অবশ্যই প্রমাণিত হবে; এবং তথাকথিত ‘গ্রাম সরকার’র মত উপজেলার প্রতিও দেশবাসী ও জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রবল মোহ ভঙ্গ হবে; আর সেজন্য, ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারী থেকে পরিচালিত দেশের সার্বিক গণতন্ত্রায়নের ও গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিরতিহীন বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন ও তার অপরিসীম গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে, এই ১৩ জানুয়ারীকেই “স্থানীয় সরকার দিবস” হিসেবে ঘোষণা ও পালন করার জন্য সিডিএলজি, এমপো বাস্তবায়ন ফোরাম ও বাপসনিউজ জোর দাবী জানিয়ে আসছে। আমরা আশা করি সরকার তা বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে তার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
প্রাসঙ্গিকভাবে দুইটি বিষয় পাঠক-পাঠিকা সমাজের অবগতির জন্য স্পষ্ট করা দরকার বলে মনে হয়; তার একটি হল, “সিটি কর্পোরেশন” শব্দবন্ধটি নিয়ে; অনেকে ভুলবশত “সিটি” শব্দটির বাংলা “মহানগর” বলে থাকেন, লিখে থাকেন যেমন ঢাকা মহানগর, চট্রগ্রাম মহানগর, রাজশাহী মহানগর ইত্যাদি; গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দলগুলো, স্থানীয় প্রতিনিধিগণ, আইনপ্রণেতাগণ ও নীতিপ্রণেতাগণও তাই বলে-কয়ে চলেছেন। মূলত “নগর” শব্দটির ইংরেজী অনুবাদ হবে “সিটি” কিংবা “সিটি” শব্দটির  বাংলা অনুবাদ হবে “নগর”; “মহানগর” হল কীভাবে? তা তো মাথায় আসেনা। এবং সবাই জানে যে, “কর্পোরেশন” শব্দটি সাধারণত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ব্যবহার হয়ে থাকে, এবং এই “কর্পোরেশন” শব্দটি বললে বা শুনলে মানুষের মানসপটে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কথাই ভেসে ওঠে, এবং মুনাফা, লাভালাভ কেন্দ্রিক কর্মকান্ডের কথা চলে আসে; প্রশ্ন হল, স্থানীয় সরকার কি মুনাফামুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান? তা তো নয়; তাইলে “কর্পোরেশন” শব্দটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নাম হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে কেন? এ কি “ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি” তুল্য নাম? এই দুইটি বিষয় বিবেচনায় এনে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখায় জনাব আবু তালেব কেবল “নগর” আর “নগর সরকার” শব্দবন্ধদ্বয় ব্যবহার করেছেন। তাই তো আমরা সবসময় বলে আসছি যে, গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা অনুযায়ী কল্যাণমূলক, সেবামূলক ও উন্নয়নমূলক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানকে ভুল নামকরণ “মহানগর” নামটি থেকে আর মুনাফার গন্ধ যুক্ত নামকরণ “কর্পোরেশন” নামটি থেকে অবিলম্বে মুক্ত করতে হবে; আমরা আশা করি এই ধরনের বড় ভুল আর গোজামিল থেকে সরকারসহ সবাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দায় স্বীকার করেই বের হয়ে আসবেন। অপরটি হল, সরকারসহ অনেকেই ভুল ধারণা বশত শুধু সিটি কর্পোরেশনগুলোকে আরবান ইউনিট মনে করে থাকে; এই ভুল ধারণাটি ভাঙ্গতে ও প্রকৃত বিষয় তুলে ধরতে এই প্রতিবেদনে ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ অনুযায়ী নগর, নগরীয় ইউনিট ও নগরীয় এলাকা বলতে সিটি কর্পোরেশনগুলোর পাশাপাশি দেশের সকল পৌরসভা ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডগুলোকেও বুঝানো হয়েছে। প্র্রকৃত অর্থে, নগর ও নগরায়ন বোঝেনা, গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বোঝেনা এমন সব ব্যক্তি ও সরকারী কর্মকর্তাগণ (বিশেষত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, একনেক, নিকার, মন্ত্রিপরিষদ, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, সংসদ, বিচার ও রাষ্ট্রপতির সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের কর্মকর্তাগণ) এর কারণে নগরীয় এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিটগুলোকে বিভিন্ন নীতি, আইন ও বিধিতে বিভিন্ন নাম দিয়ে একটা বিভ্রান্তিকর অবস্থায় রাখা হয়েছে; একই আইনে গ্রামীণ এলাকার স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট “ইউনিয়ন” নামকরণের মত একই আইনে নগরীয় এলাকার স্থানীয় ইউনিটগুলিও শুধু “নগর” নামে পরিচিত হতে পারতো, হতে পারে, এবং ইউনিয়ন ও নগরে যথাক্রমে ইউনিয়ন সরকার ও নগর সরকার গঠিত হতে পারত, হতে পারে। ইউনিয়নগুলির মধ্যে আয়তন, জন সংখ্যা, রাজস্ব আয়-ব্যয় ও গুরুত্বে যেমন পার্থক্য রয়েছে, ঠিক তেমনি নগরগুলোর মধ্যেও আয়তন, জনসংখ্যা, রাজস্ব আয়-ব্যয় ও গুরুত্বে পার্থক্য রয়েছে; যদি গ্রামীণ এলাকায় “ইউনিয়ন” নামকরণে অসুবিধা না থাকে, নগরীয় এলাকায় এক ধরনের নাম “নগর” হতে অসুবিধা কোথায়? সেই বিষয়টি একেবারেই বোধগম্য নয়। আবার, ইউনিয়নের জন্য ‘ইউনিয়ন সরকার’ গঠন করার বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ইউনিয়নের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় ‘ওয়ার্ড সভা’ গঠনের আইন রয়েছে, এবং নগরগুলির জন্য ‘নগর সরকার’ গঠন করার বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে প্রতিটি নগরীয় ওয়ার্ডে অপ্রয়োজনীয় ‘ওয়ার্ড কমিটি’ গঠন করার আইনও রয়েছে; এও এক ধরনের পাগলামি ছাড়া অন্য কিছু নয়। সে যাই হোক, বাংলাদেশ এখন আর শুধু গ্রামীণ দেশ নয়, কেবল কৃষিজ সমাজ নয়; বিদ্যমান বাস্তবতায় এখনকার বাংলাদেশ হচ্ছে গ্রামীণ-নগরীয় দেশ, গ্রামীণ-নগরীয় সমাজ, অর্থাৎ একটি মিশ্র সমাজ; গ্রামীণ বাংলাদেশ আর গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ এক বিষয় নয়; এই দু’টোর সম্ভাবনা, সমস্যা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ধরনের নয়; কৃষিজ সমাজ আর গ্রামীণ-নগরীয় সমাজের ধ্যান-ধারণা ও জীবনাচরণ এক নয়; তাই এই দু’টোর প্রশাসনিক কাঠামো ও তার কার্যাবলীও এক ধরনের হওয়া উচিত নয়; দুঃখজনক বিষয় হল, অন্যান্য পঞ্চ বার্ষিক পরিকল্পনার মত ৭ম পঞ্চ বার্ষিক (২০১৬-২০২০) পরিকল্পনার চূড়ান্ত খসড়ায়ও তার ইঙ্গিত, স্বীকৃতি ও প্রস্তুতিমূলক বিষয় একদম নেই বললে চলে। রাজনৈতিক দলসহ মিডিয়াও এই বিষয়টি বুঝতে পারছেনা বলে প্রতীয়মান হয়। জনাব আবু তালেব বাংলাদেশের স্ট্যাটাসগত ও গুণগত এই বিরাট পরিবর্তনের কথা সর্বপ্রথম ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারী ঢাকায় আয়োজিত এক জাতীয় সেমিনারে তুলে ধরেন; সেই থেকে অনেক সময় পার হয়েছে; নতুন কোনও কিছু বুঝে ওঠতে সময় লাগতেই পারে; কিন্তু এত বেশী সময় লাগাটা একদম মেনে নেয়া যায়না। এই বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব মিডিয়া, নীতিপ্রণেতাগণ, আইনপ্রণেতাগণ ও গোটা সমাজকে বুঝতে হবে, এবং সরকার কর্তৃক বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রামীণ-নগরীয় দেশ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে; গ্রামীণ সমাজ তথা কৃষিজ সমাজ থেকে গ্রামীণ-নগরীয় সমাজের ধ্যান-ধারণায় ও জীবনাচরণে অভিযোজন প্রক্রিয়া সচেতনভাবে সম্পন্ন করতে হবে, তার ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রণীত, গৃহীত ও বাস্তবায়িত হতে হবে, এবং তারই ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো, ক্ষমতা ও কার্যাবলী ঠিকঠাক করতে হবে। এই তো গেল একটা দিক; অন্য দিক হল দ্রুত নগরায়নের ফলে বিদ্যমান গ্রামীণ-নগরীয় দেশ থেকে বাংলাদেশ একটি পরিপূর্ণ নগরীয় দেশ হবার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে; একটি গ্রামীণ দেশ, কৃষজ সমাজ থেকে একটি পরিপূর্ণ নগরীয় দেশ, নগরীয় সমাজ হবার পথে গ্রামীণ-নগরীয় দেশ, গ্রামীণ-নগরীয় সমাজ হচ্ছে একটা মধ্যবর্তী পর্যায়; তবে এর স্থায়িত্ব কালও কম সময় নয়; তা মাথায় রেখেই পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ এর সমস্যা ও তার সম্ভাব্য সমাধানসূত্র বাস্তবায়নের জন্য সামগ্রিকভাবে মানসিক ও শিক্ষাগত প্রস্তুতিও এখন থেকে নিতে হবে। এক হিসাব অনুযায়ী দ্রুত নগরায়নের ফলে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ৫০% এলাকা হয়ে যাবে নগরীয় এলাকা এবং ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ১০০% এলাকা হয়ে যাবে নগরীয় এলাকা; অন্যভাবে বলা যায়, গ্রামীণ ইউনিটগুলি যেমন ইউনিয়নগুলি বিলুপ্ত হয়ে যাবে; তাতে কি হবে? তাতে গোটাদেশ নগরীয় ইউনিটে বিভক্ত হয়ে পড়বে। ফলে আজকের যে গ্রাম কিংবা আগের যে সনাতন গ্রাম তা মূলত জাদুঘরে ও বই-পুস্তকে ঠাঁই পাবে; বাস্তবে সেই গ্রামের চিহ্ন কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবেনা। এই বিষয়টি আরেকভাবে অনুধাবন করা যেতে পারে, বর্তমানে প্রায় ৩৫% জনগোষ্ঠী নগরীয় এলাকায় বসবাস করে, ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০% জনগোষ্ঠী নগরীয় এলাকায় বসবাস করবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০% জনগোষ্ঠী নগরবাসী হয়ে যাবে। চলমান এই নগরায়ন প্রক্রিয়ায় একদিকে গ্রামীণ কৃষি পেশাতে কর্মসংস্থান বিপুলভাবে কমছে, কমতে থাকবে, এবং অন্যদিকে অন্যসব নতুন নতুন অকৃষি পেশাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, হতে থাকবে। তার আলামত প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে, বুঝা যাচ্ছে। সুতরাং, দৃঢ়তার সঙ্গে বলা যায় যে, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ মানে পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ; তাই গ্রামীণ বাংলাদেশ থেকে বিদ্যমান গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশও চিরকাল গ্রামীণ-নগরীয় দেশ থাকবেনা; এটি একটি মধ্যবর্তী পর্যায়; এই মধ্যবর্তী পর্যায় থেকে দ্রুত নগরায়নের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায় হচ্ছে পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ, নগরীয় সমাজ, নগরীয় সভ্যতা; বাংলাদেশ খুব দ্রুত তালে সেদিকেই এগিয়ে চলেছে। এই বিষয়টি বিশ্বাসে রেখে, তারই ভিত্তিতে একটি পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত নগরীয় বাংলাদেশ, নগরীয় প্রশাসনিক ইউনিট ও তার জন্য গতিশীল ‘নগর সরকারের রূপরেখা’ ও তা স্থাপন সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট সুস্পষ্ট প্রস্তাব সর্বপ্রথম ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারীতে ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’য় উপস্থাপিত করা হয়েছে; এটি একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বিধায় তখন অনেকেই তা বুঝে উঠতে পারেনি, দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও এখনও অনেকে তা বুঝে উঠতে পারছেনা বলে প্রতীয়মান হয়; বিশেষত দুঃখজনক বিষয় হল, ১৯৯৭ সাল থেকে সিডিএলজি’র এই বুদ্ধিবৃত্তিক ক্যাম্পেইন চলমান ও দৃশ্যমান থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, পল্লী উন্নয়ন বোর্ড, পল্লী উন্নয়ন একাডেমী, কৃষি মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ, একনেক, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ, মন্ত্রীপরিষদ ও জাতীয় সংসদ তা পুরোপুরি বুঝতে অপারগ কিংবা বুঝতে চায়না বলে প্রতীয়মান হয়; এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণের সেকেলে চিন্তাভাবনা ও কর্মকা- জাতিকে অনেক অনেক পেছনে ফেলে রেখেছে; বাংলদেশকে পিছনে ফেলে রাখার সেই অদূরদর্শি ধারা পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক প্রণীত ৭ম পঞ্চ বার্ষিক (২০১৬-২০২০) পরিকল্পনার চূড়ান্ত খসড়ায়ও রয়েছে; আর যারা নগরীয় ইউনিটে মেয়র ও কাউন্সিলর হয়েছে কিংবা হতে চায় তারাও “পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত” নগর, নগরায়ন, নগরবাদ, নগরীয় কৃষি, নগরীয় সভ্যতা, নগরীয় কালচার, নগরীয় জীবনধারা ও নগর সরকারের রূপরেখা নিয়ে তেমন একটা চিন্তাভাবনা করে বলে প্রতীয়মান হয়না; সেই ১৯৯৭ সালে জনাব আবু তালেব “পরিকল্পিত” শব্দটির আগে “পরিবেশবান্ধব” শব্দটি জুড়িয়ে দিয়ে আগে “পরিবেশ” বিষয়টি সকলের সামনে নিয়ে আসেন-যার গুরুত্ব ও তাৎপর্য এখনও অনেকে বুঝেন না বলে বুঝা যায়; তবে “পরিবেশবান্ধব” শব্দটি আস্তে আস্তে হলেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে; বুঝে হোক আর না বুঝে হোক লেখালেখিতে শব্দটি প্রায়োগিক গুরুত্ব পাচ্ছে। শুরুতে অনেকেই এই শব্দটির ব্যবহার বাঁকা চোখে দেখতেন, এ নিয়ে জনাব আবু তালেব কর্তৃক বাড়াবাড়ি বলে আলোচনা-সমালোচনা করতেন এবং এই শব্দ আর স্থানীয় সরকারের রূপরেখা-এ দু’য়ে সম্পর্ক কোথায় তা নিয়েও প্রশ্ন করতেন। এতো সত্য যে, ২০২০ ও ২০৫০ সালদ্বয়কে সামনে রেখে প্রতিটি নগর ভিত্তিক পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সেবামূলক সার্ভিস পরিচালিত করার লক্ষ্যে নগরীয় প্রশাসনিক ইউনিটগুলো সাজানো ও তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা ও কর্মসূচী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নেই, তা স্পষ্টভাবে বুঝা যায়; এ এক মহা হতাশাজনক চিত্র; এর অবসান হওয়া খুবই জরুরি বৈকি। সেক্ষেত্রে আশার আলো হল, এটি নিয়ে সিডিএলজি, বাপসনিউজ, এমপো বাস্তবায়ন ফোরামসহ আরও অনেকে লাগাতার ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছে; ফলে একদিন না একদিন এই হতাশাজনক চিত্র একটি আলোকিত চিত্রে পরিণত হবে, হতে বাধ্য।
সে যাই হোক, সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের প্রয়োজন হচ্ছে একটি দুই স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার পদ্ধতি; আর কেন্দ্রীয় সরকারসহ বাংলাদেশের প্রয়োজন হচ্ছে একটি তিন স্তরবিশিষ্ট সরকার পদ্ধতি। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে একটি দুই স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করার দিকে যেতে হবে; দুইয়ের চেয়ে বেশী স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো থাকলে তাতে মধ্যবর্তী ইউনিট থাকবে, এখন যেমন উপজেলা রয়েছে; এই অপ্রয়োজনীয়, দায়দায়িত্বহীন, স্বশাসনহীন মধ্যবর্তী ইউনিটের অস্তিত্ব বজায় রাখাটা হচ্ছে, হবে কেবলই অপচয়মূলক ও অসৎউদ্দেশ্যমূলক; এই মধ্যবর্তী ইউনিট নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক সময় ও অর্থ নষ্ট করা হয়েছে; আশাকরি, আর কাল বিলম্ব না ঘটিয়ে এই বিষয়টি নীতিপ্রণেতা ও আইনপ্রণেতাগণ যত দ্রুত সম্ভব বুঝার চেষ্টা করবেন এবং তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। ভুল ধারণা বশত বাংলাদেশকে এখনও একটি গ্রামীণ দেশ (রুরাল কান্ট্রি) মনে করা হয়; কিন্তু বাংলাদেশ এখন আর শুধু গ্রামীণ দেশ নেই; এই ভুল ধারণার পরিবর্তে বিদ্যমান বাস্তবতায় বাংলাদেশকে একটি গ্রামীণ-নগরীয় (রুরাল-আরবান) দেশ হিসেবে ধরে নিয়ে এবং ২০২০ ও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ ও বিশ্বময় পরিবর্তনশীল বিষয়গুলি বিবেচনায় নিয়ে ১৯৯৬ সালে স্থানীয় সরকার ও গণতন্ত্রায়ণ বিষয়ক গবেষক আবু তালেব স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ ও স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ প্রণয়ন করেন, এবং তিনি তা ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারী ঢাকায় জতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক জাতীয় সেমিনারের মাধ্যমে জনগণ ও বাংলাদেশ সরকারের বিবেচনার্থে উপস্থাপিত করেন; এটি গ্রামীণ বাংলাদেশ এর পরিবর্তে গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ এর জন্য গণতান্ত্রিক স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার প্রথম উদ্যোগ, প্রথম প্রচেষ্টা; দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকা- ধাপে ধাপে (কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত) ধারাবাহিকতায় স্থিতিশীল গতিশীল প্রক্রিয়ায় পরিচালিত করার জন্য স্থানীয় সরকারের একটি স্তরবিন্যাসকরণ দেশের সূচনা লগ্ন থেকে ঠিক করার প্রয়োজন থাকলেও আজ অবধি এই কাজটি সচেতনভাবে সঠিকভাবে করার কোনো উদ্যোগ গৃহীত হয়নি, হচ্ছেনা; তা অবশ্যই দুঃখজনক ঘটনা; সে যাই হোক, তিনি উক্ত স্তরবিন্যাসকরণদ্বয়ে মধ্যবর্তী ইউনিটগুলি, যেমন উপজেলা, ও অন্যান্য গ্রামীণ ইউনিটগুলি, যেমন ইউনিয়ন, কীভাবে আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হয়ে যাবে তা রেখাচিত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে দেখিয়েছেন; এবং, ওই প্রস্তাবিত স্তরবিন্যাসকরণদ্বয়ে গোটা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কীভাবে একটি দুই স্তরবিশিষ্ট কাঠামো হয়ে ওঠবে তাও গ্রাফে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন; তাতে তিনি সরকারের আকার আয়তন আস্তে আস্তে ছোট করার ব্যবস্থা করেছেন, ফলে কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সিস্টেম কস্ট কমে গিয়ে উন্নয়নমূলক ও সেবামূলক ব্যয় বৃদ্ধি পাবে। উভয় কাঠামোতে ২০৫০ সালে কিংবা তার আগেই একটি পরিপূর্ণ ‘নগরীয় (আরবান) বাংলাদেশ’ গঠনের স্বপ্ন ও তার বাস্তবরূপ তুলে ধরা হয়েছে। বিদ্যমান ‘গ্রামীণ-নগরীয় (রুরাল-আরবান) বাংলাদেশ’ কি প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে আস্তে আস্তে পরিপূর্ণ ‘নগরীয় (আরবান) বাংলাদেশ’ হয়ে ওঠবে এবং পরিপূর্ণ ‘নগরীয় বাংলাদেশ’ এ কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় সরকার তথা শুধু নগরীয় স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ কি রূপ নিবে, নিতে পারে, তা ওই স্তরীয় কাঠামোগত রেখাচিত্রে সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ও বোধগম্য করা হয়েছে; এ এক মহা দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কাজ; এ এক মহা বিস্ময়কর ব্যাপার, বিষয়। যে কেউ এই কাজের গভীরতা ও তাৎপর্য বুঝতে পারলে শ্রদ্ধায় ভালবাসায় নত হয়ে যাবারই কথা; আমাদের প্রবল বিশ্বাস হচ্ছে, জনাব আবু তালেব ২০৫০ সালের মধ্যে “নগরীয় বাংলাদেশ” এর স্বপ্নদ্রষ্টা ও ক্যাম্পেইনার হিসেবে, আগে পরিবেশ এই বিষয়টি মাথায় রেখে “পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত নগর ও নগরায়ন” শব্দবন্ধের ইনকুবেটার ও ক্যম্পেইনার হিসেবে, ২০২০ সালের মধ্যে একটি ‘উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ নির্মাণের স্বপ্নদ্রষ্টা ও তার বাস্তবায়নমূলক পরিকল্পনার প্রণেতা ও ক্যাম্পেইনার হিসেবে, দেশের সকল ক্ষেত্রে সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০২০ ও ২০৫০ সাল কেন্দ্রিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মান্য করানোর প্রবক্তা ও ক্যাম্পেইনার হিসেবে, নারীর ৫০% প্রতিনিধিত্বের প্রচলিত ত্রুটিপূর্ণ ধারণার পরিবর্তে নারীপুরুষের জন্য এমপো তথা একশো একশো (১০০-১০০) প্রতিনিধিত্ব ফর্মুলা ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত বিবেচনায় প্রণীত ১১ দফার ইনকুবেটার ও ক্যাম্পেইনার হিসেবে, গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’র প্রণেতা হিসেবে, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের রূপরেখার প্রণেতা হিসেবে, গণতান্ত্রিক আইনসভার রূপরেখার প্রণেতা হিসেবে, গণতন্ত্রায়ন বিষয়ক অনেকগুলি শ্লোগানের রচয়িতা হিসাবে, গ্রামীণ বাংলাদেশ এর পরিবর্তে বর্তমান বাস্তবতায় একটি “গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ” এর ধারণা তুলে ধরার জন্য ইতিহাসের পাতায় চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এখানে আরও জানিয়ে রাখা উচিত হবে যে, তার এই প্রশাসনিক স্তরীয় কাঠামোগত রূপরেখা হচ্ছে ২০২০ সাল ও ২০৫০ সাল ভিত্তিক কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রথম প্রস্তাবিত পরিকল্পনা, প্রথম দৃষ্টান্ত; যেটি দেশের অন্যসব ক্ষেত্রের জন্য ২০২০ সাল ও ২০৫০ সাল ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সবাইকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে আসছে। প্রসঙ্গত বলা দরকার যে, তিনি এই রূপরেখায় ২০২০ সালের মধ্যে একটি ‘উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ (যেটি ‘গণস্বপ্ন ২০২০’ নামে বহুল পরিচিত) নির্মাণ করার যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন ও তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা হাজির করেছেন তা অনেকে পরিপূর্ণভাবে না বুঝে কিংবা বুঝে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ‘উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ‘ ও ‘উন্নত বাংলাদেশ’ এর মধ্যেকার বিশাল তফাতকে গুলিয়ে ফেলে বক্তব্য হাজির করার অপচেষ্টা করছেন বলে প্রতীয়মান হয়; ঠিক যেমন অনেকে না বুঝে এক সময় ‘জাতীয় সরকার/কেন্দ্রীয় সরকার’ আর ‘জাতীয় একতা সরকার’ বিষয়দ্বয়ের মধ্যেকার তফাত গুলিয়ে ফেলতেন; ওই তফাতের বিষয়টি গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখায় সর্বপ্রথম সুস্পষ্টভাবে হাজির করার পর তা গুলিয়ে ফেলার বিষয়টি প্রায় বন্ধ হয়েছে বলে মনে হয়। এখন একইভাবে ‘উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ আর ‘উন্নত বাংলাদেশ’ এর মধ্যেকার ফারাক গুলিয়ে ফেলার বিষয়টি বন্ধ হলে ভাল হয়; এটি যাঁদের উদ্দেশ্যে বলা হল, আশা করি, তাঁরা তা বুঝবেন এবং নিজেদেরকে সংশোধন করবেন। সে যাই হোক, বর্তমানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ অনেকেই ২০২০ সালের কথা বলছে, ২০২১ সালের কথা বলছে, ২০৩০ সালের কথা বলছে, ২০৪০ সালের কথা বলছে, ২০৪১ সালের কথা বলছে, ২০৫০ সালের কথা একটু আধটু উচ্চারণ করছে, স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বলছে এবং সর্বোপরি এডহক ভিত্তিক পরিচালিত কর্মকা-ের পরিবর্তে স্বপ্ন (ভিশন) ভিত্তিক কর্মকা- পরিচালনার কথা বলছে; মনে রাখা দরকার যে, তার উৎস, অনুপ্রেরণা, পথপ্রদর্শক, অনুঘটক হচ্ছে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা, ওই রূপরেখায় উপস্থাপিত স্তরবিন্যাসকরণদ্বয় অর্থাৎ জনাব আবু তালেব, যার লাগাতার ক্যাম্পেইন তিনি নিউ ইয়র্ক থেকে সূচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সফলভাবে পরিচালিত করেন। তবে জনাব আবু তালেব এর আহবান ও পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯৯৭ সাল থেকে যদি ২০২০ ও ২০৫০ সাল ভিত্তিক দেশের সকল স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন, গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হত, যদি ‘গণস্বপ্ন ২০২০’ ভিত্তিক ২৫টি ক্ষেত্রে ২৫টি গণতস্ত্রায়ন কর্মসূচী নিয়ে ‘উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ নির্মাণ প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন শুরু হত, যদি ‘গ্রামীণ বাংলাদেশ’ এর পরিবর্তে ‘গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ’ এর ধারণা সবাই বুঝত ও গ্রহণ করত, যদি ‘গণস্বপ্ন ২০৫০’ ভিত্তিক পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত ‘নগরীয় (আরবান) বাংলাদেশ’ মুখী নির্মাণ প্রক্রিয়া প্রচেষ্টা সচেতনভাবে শুরু হত, যদি ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি তথা ‘ এমপো’ ও ১১ দফা অনুযায়ী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে শুরু হত, যদি স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ অথবা স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ অনুযায়ী স্থানীয় সরকার কাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হত, তাহলে আজ বাংলাদেশ আরো অনেক অনেক দূর সকল ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে পারতো; কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূল তথা ইউনিয়ন ও নগর পর্যন্ত ধাপে ধাপে ক্ষমতাশীল দায়িত্বশীল দায়বদ্ধ গতিশীল সরকার কাঠামো দাঁড়িয়ে যেতে পারতো; সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গড়ে উঠতে পারতো। তবে বিলম্বিত হলেও স্বপ্ন ভিত্তিক কর্মকান্ডের প্রয়োজনীয়তা বোঝা ও কোনো কোনো বিষয়ে স্বপ্ন ভিত্তিক কর্মকান্ড শুরু হওয়াটা অবশ্যই প্রশংসনীয়; এতে বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা রয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই; তা সত্ত্বেও একে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাই। সে যাই হোক, বরাবরের মত এখনো জাতীয় নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের সবিনয় অনুরোধ হল, প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ ও স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ আরও ভালভাবে জানুন এবং তা আরও গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। আমরা তো সবসময় বলে আসছি যে, আগে স্থানীয় সরকারের একটি সমন্বিত স্তরবিন্যাসকরণ গ্রহণ করতে হবে, এবং সে অনুযায়ী গ্রামীণ-নগরীয় স্থানীয় সরকার হিসেবে সর্বোচ্চ ইউনিট (বিভাগীয় সরকার অথবা জেলা সরকার) ও সর্বনিম্ন ইউনিটদ্বয় (একদিকে গ্রামীণ স্থানীয় সরকার হিসেবে “ইউনিয়ন সরকার” ও অন্যদিকে নগরীয় স্থানীয় সরকার হিসেবে “নগর সরকার”) কার্যকর করতে হবে। স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট বিভাগ, না জেলা তা আজ অবধি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত করা হয়নি; ক্ষমতা ও দায়িত্ব বিভিন্ন স্তরে যথাযথভাবে বণ্টনের স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি কেন ঠিক করা হয়নি সে প্রশ্ন রেখেই বলব সর্বোচ্চ ইউনিট কোন্টি তা অবশ্যই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঠিক করতে হবে। বর্তমানে বিভাগ হচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোয় মাঠ পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ইউনিট; এই বিভাগ স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট হলে উপজেলার পাশাপাশি জেলাও হয়ে যাবে মধ্যবর্তী ইউনিট এবং জেলার ক্ষমতা ও দায়িত্ব মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে নির্ধারিত করতে হবে; বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিভাগ বজায় থাকায় উপজেলার মত জেলাও মধ্যবর্তী প্রশাসনিক ইউনিট; ফলে জেলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে কতটুকু থাকবে তা বুঝতে হবে; বর্তমান কাঠামোয় মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে জেলার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা উপজেলার মতই হবে, হতে বাধ্য; মনে রাখা দরকার যে, বহু স্তরীয় স্থানীয় সরকার কাঠামোয় মধ্যবর্তী ইউনিট থাকলে তা সাধারণত বেশ গুরুত্বহীন হয়ে থাকে। এই বিষয়টি সেকেলে মনোভাবগত কারণে অনেকেই বুঝতে পারছেন না বলে প্রতীয়মান হয়; এই অনেকেরাই “বিভাগ” বিষয়েও অন্ধ-বোবা সাজেন; অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে? বিভাগ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত অবশ্যই নিতে হবে। মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে জেলা সম্পর্কিত বিষটি উদাহরণ দিয়েই দেখা যাক; পার্বত্য ৩ জেলা ছাড়া বাকি ৬১টি জেলায় ৬১ জন নিযুক্ত ‘নিধিরাম’ জেলা পরিষদ প্রশাসক রয়েছেন, যাদের সঙ্গে দায়দায়িত্ব পালনের কোনো সম্পর্ক নেই, যাদের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই, যাদের উপস্থিতি, কর্মতৎপরতা একদম টেরযোগ্য নয়; এর বড় কারণ হচ্ছে উপজেলার মত জেলাও বিদ্যমান ব্যবস্থায় গুরুত্বহীন, কামকাজহীন মধ্যবর্তী ইউনিট; এতে ক্ষমতা ও দায়িত্ব তথা কর্মকান্ড দৃশ্যমান নয়। কিন্তু এই ৬১ জন প্রশাসকের জন্য আরাম আয়েস ও সুযোগসুবিধার কোনো কমতি নেই; এটি হচ্ছে স্থানীয় সরকারের নামে সংকীর্ণ স্বার্থে সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রয়োগ; ঠিক যেমন স্থানীয় সরকারের নামে কেবল ব্যক্তিগত ও দলগত স্বার্থে অবৈধ শাসক প্রেসিডেন্ট জিয়া ও অবৈধ শাসক প্রেসিডেন্ট এরশাদ যথাক্রমে গ্রাম সরকার ও উপজেলাকে নিয়ে করেছেন। তাতে তখনকার সময় ও পরিস্থিতিতে উভয় অবৈধ প্রেসিডেন্টদ্বয় ব্যক্তিগতভাবে ও দলগতভাবে লাভবান হয়েছেন; কিছু সুবিধাবাদী ক্ষমতালোভী নীতিহীন টাউট লোককে নতুন দল দু’টির জন্য হাতিয়ার হিসেবে পেয়েছেন, এবং ওইসব সুবিধাবাদী মানুষগুলোই ওই দু’টো দলের বর্তমানকার আসল কান্ডারি হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় ৬১টি জেলায় ৬১ জন প্রশাসক দ্বারা এই সরকার ও এই দল (আওয়ামী লীগ) এখন লাভবান হবার কোনও সম্ভাবনা নেই; কারণ এই দু’টো কাজের সময় ও পরিস্থিতি একদম এক রকম নয়। তা বর্তমান সরকারকে, আওয়ামী লীগকে অবশ্যই বুঝতে হবে; আশাকরি, বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার ও আওয়ামী লীগ চিন্তাভাবনা করবে, এবং সেজন্য প্রয়োজনীয় উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি, প্রাসঙ্গিকভাবে জেলা সংক্রান্ত আরেকটি বিষয় নিয়ে কিছু কথা বলা উচিত হবে, তা হল সার্বিক বিবেচনায় একজন অসফল অর্থমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত জনাব মুহিত কর্তৃক উপস্থাপিত জাতীয় বাজেটে বার বার কেন্দ্রীয় সরকারের তথাকথিত ‘জেলা বাজেট’ প্রসঙ্গ উত্থাপন; জেলা বাজেট হবার কথা জেলা সরকারের, কেন্দ্রীয় সরকারের নয়; প্রশ্ন হল, জেলা সরকার কোথায়? স্বাভাবিকভাবে মনে এই প্রশ্নও এসে যায় যে, কেন্দ্রীয় সরকার কি তাইলে বিভাগীয় বাজেট, উপজেলা বাজেট, নগরীয় বাজেট, ইউনিয়ন বাজেটও করবে? জেলা বাজেট বিষয়টি জাতীয় বাজেট বক্তৃতায়, দলিলে বার বার আসাটা শুধু অর্থমন্ত্রী ও অর্থ মন্ত্রণালয় নয়, মন্ত্রিপরিষদ ও জাতীয় সংসদের অপরিপক্কতারই পরিচয় বহর করে; সিপিডিসহ কয়েকটি এনজিও এবং কিছু ব্যক্তি স্বার্থগত কারণে এই বাজে বিষয়টিকে সমর্থন দিয়ে থাকে; প্রকৃত অর্থে স্থানীয় সরকার না বুঝলে, ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন সম্পর্কিত বিষয় জানা না থাকলে এমনটি-ই হয়! হবার কথা! জনাব আবু তালেব ১৯৯৬ সালে সর্বপ্রথম ‘জেলা সরকারের রূপরেখা’ প্রণয়ন করেন এবং সেসঙ্গে একটি শ্লোগানও প্রণয়ন করেছিলেন; শ্লোগানটি হল, ‘জেলায় জেলায় গণতন্ত্রায়ন, জেলার জনগণের ক্ষমতায়ন’; জনাব মুহিত জনাব আবু তালেবের সঙ্গে এক ফোনালাপে ‘জেলা সরকার’ নামকরণ ও ‘জেলা সরকারের রূপরেখা’ বিষয়ক প্রস্তাবনার প্রতি প্রবল আপত্তি জানিয়ে ছিলেন; অথচ এই মুহিত সাহেব পরবর্তীতে ‘জেলায় জেলায় গণতন্ত্রায়ন’ শ্লোগানের আদলে ‘জেলায় জেলায় সরকার’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেছিলেন; তাতে তিনি জনাব আবু তালেব ও তাঁর জেলা সরকারের রূপরেখা প্রসঙ্গ একটুও উল্লেখ করেননি; এই হল জনাব মুহিত কর্তৃক বুদ্ধিবৃত্তিক চুরির, ডাকাতির, অসততার একটি নজির মাত্র। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে বলতে চাই যে, কোনো না কোনো একদিন অর্থমন্ত্রীর এই তথাকথিত ‘জেলা বাজেট’ বিষয় হারিয়ে যাবে; এই ভুলের জন্য অর্থমন্ত্রী, মন্ত্রিসভা ও জাতীয় সংসদকে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে; সিপিডি’রও তোষামোদী মুখোশ উন্মোচিত হবে; আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, জনাব আবু তালেব কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘জেলা সরকার’ ও ‘জেলা সরকারের রূপরেখা’ একদিন না একদিন বাস্তব প্রয়োজনে সামনে চলে আসবে; তাতে শয়তানিপনা না থাকলে জাতি বিশেষভাবে উপকৃত হবে; তবে, সিডিএলজির সমালোচনার মুখে কেন্দ্রীয় বাজেট ২০১৬-১৭ তে তথাকথিত ‘জেলা বাজেট’ বিষয় উবে গেলেও এই বাজেটে জেলা নিয়ে অন্য শয়তানিপনা প্রকাশ পেয়েছে; জনাব মুহিতের সেই শয়তানিপনা কি মন্ত্রীগণ ও সাংসদগণ বুঝতে পেরেছেন? তা তো বাজেট আলোচনায়-সমালোচনায় একদম বোঝা যায়নি। অনুরূপ আরেকটি চুরি-ডাকাতি কিংবা বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার ঘটনা ‘বিভাগীয় সরকার’ ও বিভাগীয় সরকারের রূপরেখা’ নিয়ে ঘটিয়েছেন ‘কবিতা চোর’, ‘বৌ চোর’ ও ক্ষমতা দখলদার হিসেবে খ্যাত জেনারেল এরশাদ, তাঁর দল জাতীয় পার্টি ও তাঁর রাজনৈতিক ও শাসনিক সহযোগী জেএসডি; ১৯৯৭ সালের ১৩ জানুয়ারী ঢাকায় এক জাতীয় সেমিনারে জনাব আবু তালেব গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখায় বিভাগ এর বিলুপ্তি কিংবা বিভাগের গণতন্ত্রায়ন এই নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন, এবং বিভাগ থাকলে বিভাগগুলির গণতন্ত্রায়নের লক্ষ্যে ‘বিভাগীয় সরকারের রূপরেখা’ উপস্থাপিত করেন; তখন রাষ্ট্রপতি এরশাদ কারাগারে ছিলেন এবং তাঁর দল ও তাঁর শাসনিক মিত্র জেএসডির বিভাগ নিয়ে কিংবা বিভাগীয় সরকার নিয়ে কোনো ধরনের বক্তব্য, কর্মসূচি ছিলনা; জনাব আবু তালেব এর প্রস্তাব অনুযায়ী বিভাগের বিলুপ্তি কিংবা বিভাগীয় সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন যখন বুদ্ধিবৃত্তিক গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছিল, ঠিক তখনই, এরশাদ সাহেব কারাগার থেকে বের হবার কয়েক বছর পর বিভাগকে ‘প্রদেশ’ নামকরণ ও তাতে বিভাগীয় সরকারের রূপরেখার আদলে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ‘প্রাদেশিক সরকার’ করার দাবী করেন; এর কিছুদিন পর এরশাদের অনুসরণে জনাব আ.স.ম. আবদুর রব, জনাব সিরাজুল আলম খান ও জেএসডি অনুরূপ বক্তব্য, দাবী উপস্থাপিত করেন, অথচ উভয় দল কোথাও কখনও জনাব আবু তালেব কিংবা গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখার কথা বলেননি, বলেননা; একে এক কথায় বলা যায় চরম রাজনৈতিক অসততা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি কিংবা ডাকাতি। এইসঙ্গে প্রাসঙ্গিকভাবে আরও একটি বিষয় তুলে ধরা দরকার তা হল, ১৯৯৭ সালে ১৩ জানুয়ারীতে এই রূপরেখায় পার্বত্য চট্রগ্রাম সমস্যার রজনৈতিক সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে ‘পার্বত্য বিভাগ’ নামে একটি নতুন বিভাগ গঠন করার প্রস্তাব করা হয়, এবং তাতে দেশের অন্যান্য বিভাগের মত, যেমন বরিশাল বিভাগে ‘বরিশাল বিভাগীয় সরকার’, পার্বত্য বিভাগে ‘পার্বত্য বিভাগীয় সরকার’ প্রতিষ্ঠার আহবান জানানো হয়, কারণ পার্বত্য চট্রগ্রামের বিষয়টিও অনেকাংশে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার বিষয়ক, স্থানীয় শাসনিক বিষয়ক একটি বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক ১৯৯৭ সালেই শেষ মাসে তথা ডিসেম্বরই সম্পাদিত পার্বত্য শান্তি চুক্তিতে ‘আঞ্চলিক পরিষদ’ গঠন মূলত ‘বিভাগীয় সরকারের রূপরেখা’র আদলে কিছুটা বিকৃত রূপে করা হয়; কিন্তু এই চুক্তি প্রণয়নে যুক্ত ব্যক্তিবর্গের বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার জন্য ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’, বিভাগীয় সরকারের রূপরেখা তথা জনাব আবু তালেব এর অবদানের কথা, প্রস্তাবের কথা কোথাও বলা হয়নি, হয়না; অথচ, জনাব আবু তালেব তাঁর প্রণীত গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখার কপি নিজ হাতে নিউ ইয়র্কে সরকার কর্তৃক গঠিত পার্বত্য চট্র্রগ্রাম বিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক জনাব আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহকে প্রদান করেছেন এবং তাঁর প্রস্তাবিত পার্বত্য চট্রগ্রাম বিষয়ক সমাধানমূলক প্রস্তাবনা বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন; সেই সময় এই প্রতিবেদকসহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক যথাক্রমে জনাব আব্দুস ছালাম ও আতাউর রহমান শামীম উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে এই দলেরই বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদগুলির মধ্যে একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এই পার্বত্য এলাকার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়; তার মাধ্যমে ‘পার্বত্য বিভাগ’ গঠনের নীতিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ গ্রহণ করেছে, কবুল করেছে, অথচ এই বিষয়টিও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোথাও স্বীকার করেননি, করেননা; এও একটি চরম বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা নয় কি? অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও; ৮ জন বুদ্ধিবৃত্তিক ডাকাতের ডাকাতির ফসল হচ্ছে বর্তমানকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর; এই অপকর্ম সম্পর্কে দেশের কয়েকশত বিশিষ্ট ব্যক্তি জানেন; তিনি সরকারীভাবে মুক্তিসংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণ করতে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান কেন্দ্রিক আরও একটি যুগান্তকারী প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন; দেখা যাক এ নিয়ে কি ঘটে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কি ঘটান! এসব কারণে বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা যে একটা বড় ধরনের অপরাধ, বড় ধরনের রোগ তা বাংলাদেশে মানুষকে বুঝানোর জন্য, জানানোর জন্য এবং তা বন্ধ করানোর জন্য একটি বুদ্ধিবৃত্তিক প্রবল আন্দোলন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলে প্রতীয়মান হয়; প্রাসঙ্গিকভাবে আরো উল্লেখ করা সমীচীন হবে যে, জনাব আবু তালেব প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে অন্যান্য বিষয়ক সম্পাদক পদ যেমন রয়েছে, ঠিক তেমন ‘স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক’ পদ সৃষ্টি করতে আহবান জানিয়ে আসছেন; যাতে স্থানীয় সরকার বিষয়টি দলীয় কমিটিতে, দলীয় ভাবনায়, দলীয় কাজে বিশেষ গুরুত্ববহ হয়; প্রায় সব রাজনৈতিক দলেই শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ধর্ম, ক্রীড়া, সমাজকল্যাণ, সাংগঠনিক, দপ্তর, প্রচার, প্রকাশনা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ত্রাণ, শ্রম, জনশক্তি, বন, সমবায়, প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক, মহিলা ইত্যাদি বিষয়ক সম্পাদকীয় পদ রয়েছে, অথচ স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদকীয় পদ নেই; কেন? এতে এটা কি বোঝা যায়না, রাাজনৈতিক দলীয় কাঠামোতে স্থানীয় সরকার ও তার ভাবনাচিন্তা চরমভাবে গুরুত্বহীন রয়েছে। স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক পদ সৃষ্টিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও আজ অবধি সাড়া দেয়নি; আমরা আশা করেছিলাম, জনাব আবু তালেবের আহ্বান অনুয়ায়ী, এই বছর ২০১৬ সালে ঢাকায় ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনে ৬ হাজার ৭০ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ‘স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক’ এর পদ সৃষ্টি করবেন, সেজন্য ড. আব্দুর রাজ্জাক নেতৃত্বাধীন গঠনতন্ত্র উপকমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনাব আবু তালেব এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে উদার হবেন, এবং বুদ্ধিবৃত্তিক অসততার দায় থেকে নিজ দলকে মুক্ত রাখতে প্রয়াস নেবেন; কিন্তু ৬ হাজার ৭০ সদস্যবিশিষ্ট একটি মহাঢাউস কাউন্সিলে কয়েকজন চাটুকারের অপ্রাসঙ্গিক চাটুকারিতা ছাড়া দলীয় ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র নিয়ে আালোচনায়-সমালোচনায় অংশ নেয়া কি সম্ভব ছিল? গঠনতন্ত্র উপকমিটি ও জাতীয় নির্বাহী কমিটি কি স্থানীয় সরকার উন্নয়ন বিষয়ে আপডেট ও আন্তরিক ছিল? আমরা হ্যাঁ সূচক লক্ষণ তো একটুও দেখিনা। সে যাই হোক, জেলা স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট হলে বিভাগ অবশ্যই বিলুপ্ত হতে হবে; সেক্ষেত্রে উপজেলা শুধু মধ্যবর্তী ইউনিট হিসেবে থাকবে, এবং তা আস্তে আস্তে কিংবা দ্রুততার সঙ্গে বিলুপ্ত হতে থাকবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট ও সর্বনিম্ন ইউনিটদ্বয় নির্ধারিত না হলে স্থানীয় সরকারের প্রতিটি ধাপে ক্ষমতা ও দায়িত্ব যথাযথভাবে ঠিকঠাক হবে-ই বা কেমন করে? সর্বোচ্চ ইউনিট এবং সর্বনিম্ন ইউনিটদ্বয়ে ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রদান করার পর মধ্যবর্তী ইউনিট যেমন উপজেলায় ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেয়ার মত কিছু থাকলেই তো তা দেয়া যাবে। স্থানীয় সরকারের এসব জটিল ও কঠিন বিষয়গুলির একটি সুনির্দিষ্ট সমন্বিত সমাধান ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’য় রয়েছে। এতে সর্বপ্রথম বিভাগীয় সরকারের রূপরেখা, জেলা সরকারের রূপরেখা, উপজেলা সরকারের রূপরেখা, ইউনিয়ন সরকারের রূপরেখা ও নগর সরকারের রূপরেখা একসঙ্গে উপস্থাপিত করা হয়েছে; যাতে একটি সমন্বিত স্তরবিন্যাসকরণ (প্রশাসনিক কাঠামো) গৃহীত হলে তার প্রতিটি টায়ার এ প্রয়োজন মত সুনির্দিষ্ট সরকার কাঠামো বসানোর কাজটি সহজে করা সম্ভব হয়। এই রূপরেখায় ইউনিয়ন ও নগর এর মধ্যে অন্য কোনো ইউনিট গঠনের প্রয়োজনীয়তা, প্রচেষ্টা একদম সমর্থন করা হয়নি, তার পরিবর্তে সর্বনি¤œ ইউনিট হিসেবে সমস্ত মনোযোগ, কর্মপ্রচেষ্টা এক দিকে গ্রামীণ এলাকায় ইউনিয়ন কেন্দ্রীক ও অপর দিকে নগরীয় এলাকায় নগর কেন্দ্রিক করার সুস্পষ্ট সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে; এবং এর মাধ্যমে শুধু গ্রামীণ এলাকা কেন্দ্রীক স্থানীয় সরকারের সর্বনি¤œ ইউনিট বিষয়ক দীর্ঘদিনের ভুল ধারণা ধরিয়ে দিয়ে গ্রাম ও নগর কেন্দ্রীক একই স্তরে সর্বনি¤œ ইউনিটদ্বয় (ইউনিয়ন ও নগর এবং ইউনিয়ন সরকার ও নগর সরকার ) কেন্দ্রীক ধারণা উপস্থাপিত করা হয়। সম্প্রতি সরকার জেলায় ‘জেলা সরকারের রূপরেখা’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ না নিয়ে অত্যন্ত তড়িগড়ি করে অত্যন্ত ভঙ্গুর, সেকেলে জেলা পরিষদ অধ্যাদেশ জারী করেছে এবং তা অল্প কয়েকদিনের মাথায় মন্ত্রিপরিষদ সংশোধনও করেছে; তাতে স্থানীয় সরকার বিষয়ে ভাল মানসিক, শিক্ষাগত ও আইনগত প্রস্তুতি যে এই মন্ত্রিসভার নেই তা ভালভাবে ফুটে উঠেছে; এবং সব জেলায় গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার তেমন কোনো প্রস্তুতি যে আওয়ামী লীগেরও নেই তা জোর দিয়েই বলা যায়; দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিরও একই অবস্থা। আরও দুঃখজনক ঘটনা হল এই যে, এই সংক্রান্ত বিলও কোনো ধরনের আলোচনা-সমালোচনা ছাড়া স্বল্প সময়ে জাতীয় সংসদে পাস হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হল যে সংসদ সদস্যগণেরও স্থানীয় সরকার বিষয়ে কোনো আইনগত, গবেষণামূলক ও শিক্ষামূলক প্রস্তুতি নেই; এতে আরও প্রমাণিত হল যে, শুধু হাত তোলা আর নামানোর মধ্য দিয়ে জাতীয় সাংসদগণ নিজ নিজ বিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন! জাতীয় সংসদে পাসকৃত এই বিলটি অসম্পূর্ণ, ভঙ্গুর, সেকেলে ও গারবেজতুল্য; তাছাড়া, এই বিলটি হচ্ছে প্রত্যাখাত আয়ুবীয় মৌলিক গণতন্ত্র বাংলাদেশে র্চ্চা করতে নগ্ন প্রয়াস। এই ধরনের একটি কঠিন অথচ চরম খারাপ পরিস্থিতিতে আমরা জোর দাবী করছি যে, জনাব আবু তালেব প্রণীত জেলা সরকারের রূপরেখাটি গভীরভাবে বিবেচনায় নিয়ে পার্বত্য তিন জেলাসহ সকল জেলায় একরূপ জেলা সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হোক; জেলা স্থানীয় সরকারের সর্বোচ্চ ইউনিট না মধ্যবর্তী ইউনিট তা ঠিক করা হোক; জেলা মধ্যবর্তী ইউনিট হলে এতে গ্রামীণ স্থানীয় সরকার হিসেবে জেলা সরকার প্রতিষ্ঠা করা হোক, আর জেলা সর্বোচ্চ ইউনিট হলে এতে গ্রামীণ-নগরীয় স্থানীয় সরকার হিসেবে জেলা সরকার স্থাপন করা হোক; তাতে ক্ষমতার পৃথকীকরণ করা হোক; এতে নারীর ১০০% প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এমপো’র প্রয়োগ করা হোক; জেলা সরকারের বিধানিক পরিষদ হিসেবে “জেলা সংসদ” গঠন করা হোক; প্রতি জেলায় জেলা সাংসদ কতজন থাকবে তা সংশ্লিষ্ট জেলায় কত জনসংখ্যা রয়েছে তা বিবেচনায় নিয়ে জেলা নির্বাচনী ওয়ার্ড/এলাকা নির্ধারিত করা হোক; প্রতিটি জেলা নির্বাচনী ওয়ার্ডে/এলাকায় এমপো অনুযায়ী ১জন মহিলা জেলা সাংসদ ও ১জন পুরুষ জেলা সাংসদ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করা হোক; জেলা সরকারের প্রধান হিসেবে জেলা চেয়ারপারসন ও দুই জন ভাইস-চেয়ারপারসন (১ জন নারী ও ১ জন পুরুষ) এর পদ সৃষ্টি করা হোক এবং ওসব পদ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করা হোক; প্রসঙ্গক্রমে জানিয়ে রাখা উচিত হবে যে, এমপো অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রেক্ষিতে প্রণীত ১১ দফায় ৯ম দফা অনুযায়ী স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক প্রণীত খসড়া জেলা পরিষদ অধ্যাদেশে ১জন মহিলা ভাইস-চেয়ারপারসন ও ১জন পুরুষ ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত করতে একটি বিধান ছিল, তা কেন সংসদে পাসকৃত জেলা পরিষদ বিলে যুক্ত হলো না? এই প্রশ্ন থাকল। সে যাই হোক, জেলা ন্যায়পালের পদ সৃষ্টি করা হোক; জেলার সঙ্গে সিটি কর্পোরেশন ও অন্যান্য স্থানীয় ইউনিটের সম্পর্ক কিরূপ হবে তা ঠিক করা হোক; জেলা নির্বাচনী বোর্ড গঠিত হোক; তথাকথিত আয়ুবীয় কায়দায় পরিচালিত চলতি নির্বাচনী প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা হোক, ইত্যাদি ইত্যাদি; এক কথায় বলব যে, জনাব আবু তালেব প্রণীত, প্রস্তাবিত গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখায় উপস্থাপিত জেলা সরকারের রূপরেখাটি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হোক, এবং “জেলায় জেলায় গণতন্ত্রায়ন, জেলার জনগণের ক্ষমতায়ন” এই শ্লোগানে প্রতিটি জেলাকে মুখরিত করা হোক, আন্দোলিত করা হোক।
এই গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখায় গ্রামীণ বাংলাদেশ তথা শুধু কৃষি ভিত্তিক সমাজ, দেশ এর চিরায়ত ধারণার পরিবর্তে বিদ্যমান বাস্তবতার নিরিখে গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ তথা কৃষি ও অকৃষি পেশা ভিত্তিক সমাজ, দেশ এর ধারণা তুলে ধরা হয়েছে, যার মাধ্যমে এই প্রথম বাংলাদেশের স্ট্যাটাসগত ও গুণগত পরিবর্তন জনিত নতুন পরিচিতি উপস্থাপিত করা হয় এবং তা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারীভাবে গ্রহণ করার দাবী জানানো হয়, তবে এই বিষয়টি তখন ও এখন অনেকেই বিশেষত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, একনেক, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, মন্ত্রিপরিষদ, জাতীয় সংসদ, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলগুলো বুঝতে পারছেনা বলে প্রতীয়মান হয়; প্রসঙ্গত এই বিষয়ে আরও জানানো উচিত হবে যে, গ্রামীণ বাংলাদেশ আর গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ এক বিষয় নয়, এক রূপ নয়, এক অবস্থা নয়; এ দু’টোর সমস্যা, সমাধান প্রক্রিয়া, গুরুত্ব ও তাৎপর্য এক রকম নয়; তাই, এই দু’টোর প্রশাসনিক কাঠামো, ক্ষমতা ও দায়িত্বও একরূপ হতে পারেনা; এই দু’টোতে মানুষের মনোগত, ভাবনাগত পার্থক্য থাকে, থাকবে। তাই এখন থেকে, গ্রামীণ বাংলাদেশ ভিত্তিক নয়, গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ ভিত্তিক সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণীত, গৃহীত ও বাস্তবায়িত হতে হবে; এটি যত দ্রুত সম্ভব দেশের নীতিপ্রণেতাগণ, আইনপ্রণেতাগণ, বিধি-প্রবিধি প্রণেতাগণ ও মিডিয়াকে বুঝতে হবে এবং তার স্বীকৃতি ও পরিচিতি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান দিতে হবে যে, বাংলাদেশ এখন হচ্ছে একটি গ্রামীণ-নগরীয় দেশ; বাংলাদেশ একদা গ্রামীণ তথা কৃষিজ দেশ ছিলো, এখন আর তা নেই, এবং একে অবশ্যই একটি গুণগত পরিবর্তন হিসেবে নিতে হবে; সেইসাথে এও মনে রাখতে হবে যে, এই স্ট্যাটাসগত ও গুণগত পরিবর্তন কয়েক দশক স্থায়ী থাকবে; তা রাতারাতি উবে যাবেনা; আবার এও মনে রাখতে হবে যে, এই সময়টাতেই একটি পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ এর জন্য গোটা জাতিকে মানসিক ও শিক্ষাগত প্রস্তুতি যথাসম্ভব সম্পন্ন করতে হবে, এবং এই সময়ের মধ্যেই একটি নগরীয় বাংলাদেশের মানে, গুরুত্ব ও তাৎপর্য যথাসম্ভব অনুধাবন করতে সচেষ্ট থাকতে হবে। সেসঙ্গে যাঁরা অকৃষি পেশায় যুক্ত রয়েছেন, সন্তানগণকে অকৃষি পেশায় নিযুক্ত করছেন, নগরীয় সুযোগ-সুবিধা বেশ উপভোগ করছেন, অথচ অন্যদেরকে কেবল কৃষি পেশায় রাখতে, গ্রামীণ সমাজ হিসেবে রাখতে ওকালতি করছেন, কান্নাকাটি করছেন, কুমতলব আঁটছেন, গলাবাজি, লেখাবাজি করছেন, তাঁদেরকে অবশ্যই চোখে চোখে রাখতে হবে, নজরদারিতে রাখতে হবে; এটি যেন আমরা ভুলে না যাই।
গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের এই রূপরেখায় কেন্দ্রীয় সরকারের জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকারের জন্য প্রস্তাবিত সংসদগুলো গঠনের ক্ষেত্রে এমপো ও ১১ দফা’র প্রয়োগ করা হয়েছে; এমপো ও ১১ দফা এই নিবন্ধের শেষে সংযুক্ত করা হয়েছে, তা বিশেষভাবে দেখুন ও জানুন; এমপো তথা নারীপুরুষের জন্য একশো একশো প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি অনুযায়ী, উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইউনিয়ন সংসদ ও নগর সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ১ জন নারী সদস্য ও ১ জন পুরুষ সদস্য প্রতিনিধিত্ব করবে, জেলা সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলা সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা/ওয়ার্ড হতে একজন নারী সাংসদ ও একজন পুরুষ সাংসদ জেলা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবে এবং জাতীয় সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিটি সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা থেকে ১ জন নারী সাংসদ ও ১ জন পুরুষ সাংসদ প্রতিনিধিত্ব করবেন; যদি তা হয়, তার মাধ্যমে বিধানিক সংসদ গঠনের ক্ষেত্রে নারীর জন্য অবমাননাকর “সংরক্ষিত আসন” শব্দবন্ধটি আর থাকবে না এবং তা এক কলংকিত অধ্যায় হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে। প্রসঙ্গক্রমে মনে রাখতে বলব যে, এমপো শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, গোটা দুনিয়ার প্রতিটি দেশের প্রতিটি ধাপের/স্তরীয় সরকারের প্রতিটি বিধানিক সংসদ/পরিষদ গঠন করার জন্য বাস্তবায়নযোগ্য এক নতুন গণপ্রতিনিধিত্ব ফর্মুলা হিসেবে উপস্থাপিত করা হয়েছে; এর মাধ্যমে নারীর জন্য অবমাননাকর সংরক্ষিত পদ্ধতি, ৩৩% পদ্ধতি, ৫০% পদ্ধতি, প্রতি তিন ওয়ার্ডে একজন সংরক্ষিত নারী সদস্য পদ্ধতি, সংরক্ষিত ঘূর্ণায়মান নারী সদস্য পদ্ধতির সীমাবদ্ধতাগুলো, দুর্বলতাগুলো সংশোধিত হয়ে যাবে; নারী ও পুরুষ উভয় একই সাধারণ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবেন; নারী যে পদ্ধিতে নির্বাচিত হবেন সেই একই পদ্ধতিতে পুরুষও নির্বাচিত হবেন বলে নারীর জন্য প্রয়োগকৃত “সংরক্ষিত” শব্দটি ইতিহাসে স্থান পাবে; চমক সৃষ্টি করতে দু’একজন নারীকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে দিয়ে বাহবামূলক কাজের পরিবর্তে নারীর জন্য পদ্ধতিগত ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে। তার জন্য বিশ্বজুড়ে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্যাম্পেইন চলছে; এই এমপো তথা একশো একশো প্রতিনিধিত্ব ফর্মুলার সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য হচ্ছে এক বিস্ময়কর ব্যাপার। নারী ও পুরুষ উভয়ের যে কেহ এই ফর্মুলার সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য বুঝতে পারলে, অনুধাবন করতে পারলে নিজ থেকে নিজ নিজ শক্তিতে বলিয়ান হয়ে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে; তাই দেশের প্রতিটি মানুষের প্রতি আমাদের বিশেষ অনুরোধ হল, একশো একশো প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি তথা এমপো গভীরভাবে জানার বুঝার চেষ্টা করুন; নিজেকে একুশ শতকের এই মহান আন্দোলনের সঙ্গে, সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করুন; তাতে আপনার ও গোটা মানব জাতির জন্য যারপর নাই এক মঙ্গলময় পরিবেশ বয়ে আনবে। (প্রিয় রিডার এই বিষয়টি আরও ভালভাবে জানতে চাইলে, বুঝতে চাইলে এই নিবন্ধের শেষে সংযুক্ত এমপো ও ১১ দফা বিশেষ মনোযোগ দিয়ে পড়–ন, দেখুন ও বিবেচনা করুন।)
সে যাই হোক, সুচতুর দলীয় ও নির্দলীয় নকলবাজগণ এই গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখার কিছু কিছু জনপ্রিয়, পছন্দনীয় বিষয় বারবার কাটাছেঁড়া ও বিকৃত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে, এবং এর কিছু কিছু বিষয় নকলবাজরা নিজেদের নামে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে; কিন্তু নকলবাজগণ, বুদ্ধিবৃত্তিক চোর-ডাকাতগণ এই রূপরেখার সমন্বিত রূপের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব একটুও খাটো করতে সক্ষম হননি, হবেনও না; বরং এই রূপরেখার কালজয়ী উপযোগিতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই, সরকারের প্রতি আমাদের বিনীত অনুরোধ হল, যদি গ্রামীণ বাংলাদেশ এর পরিবর্তে বিদ্যমান বাস্তবতায় গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ এর জন্য সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত হিসেবে গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান, যদি গ্রামীণ-নগরীয় বাংলাদেশ এর জন্য তিন প্রকারের স্থানীয় সরকার তথা গ্রামীণ স্থানীয় সরকার, নগরীয় স্থানীয় সরকার ও গ্রামীণ-নগরীয় স্থানীয় সরকার স্থাপিত হোক চান, যদি স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতা ও দায়িত্ব ধাপে ধাপে পাশাপাশি অর্পিত ও পালিত হোক চান, যদি স্থানীয় সরকারের একটি সমন্বিত স্তরবিন্যাসকরণ (প্রশাসনিক কাঠামো) প্রতিষ্ঠিত ও কার্যকরী হোক চান, যদি দ্বি-স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা স্থায়ী রূপ নিক চান, যদি স্থানীয় সরকারের প্রতিটি ধাপে নারীর শতভাগ (১০০%) প্রতিনিধিত্ব তথা এমপোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চান, যদি স্থানীয় সরকারের প্রত্যেক ধাপে ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি কার্যকর হোক চান, যদি স্থানীয় সরকারে বিধানিক পরিষদ (যেমন ইউনিয়ন সংসদ, নগর সংসদ) স্থাপিত হোক চান, যদি প্রতিটি স্থানীয় ইউনিটে ন্যায়পাল এর পদ চালু হোক চান, যদি ২০২০ সালের মধ্যে ২৫টি ক্ষেত্রে ২৫টি গণতন্ত্রায়ন কর্মসূচী বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ তথা “গণস্বপ্ন ২০২০” বাস্তবায়িত হোক চান, যদি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বস্তরীয় গণতন্ত্রায়ন দ্বারা জনগণের সর্বস্তরীয় ক্ষমতায়ন হোক চান, যদি ২০৫০ সাল কিংবা তার আগে পরিবেশবান্ধব পরিকল্পিত “নগরীয় বাংলাদেশ” তথা “গণস্বপ্ন ২০৫০” বাস্তবায়িত হোক চান, যদি পরিপূর্ণ নগরীয় বাংলাদেশ এর জন্য প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১ অথবা স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ বাস্তবরূপ নিক চান, যদি খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে “নগরীয় কৃষি” ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক চান, যদি “নগর মানে কৃষি নয়” এর পরিবর্তে “কৃষিকে নিয়েই নগর” বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত হোক চান, যদি দক্ষ সরকার গড়তে সরকারের আকার আয়তন আস্তে আস্তে ছোট হোক চান, তাইলে আর কালবিলম্ব না করে ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’র প্রতিটি বিষয় স্থাপন ও কার্যকর করার প্রকৃত উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করুন; প্রসঙ্গত এও বলব যে, তা যেন নকলবাজী না হয়, তা যেন বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি, ডাকাতি না হয়, তা যেন জনাব আবু তালেব এর অবদান অস্বীকার করার অভিপ্রায়, প্রয়াস না হয়। যিঁনি স্বপ্ন দেখেন, যিঁনি স্বপ্ন দেখান, যিঁনি স্বপ্ন বাস্তবায়নের উপায় বাতলান, যিঁনি স্বপ্ন সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন, যিঁনি স্বপ্নের বিষয়ে মানুষকে অনুপ্রাণিত করেন, সর্বোপরি যিঁনি স্বপ্ন বিষয়ে লাগাতার বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন পরিচালিত করেন, তাঁকে অস্বীকারের সামান্যতম প্রয়াসও মহা অপরাধ, মহা অন্যায়, মহা কলংক হয়ে থাকবে; ঠিক যেমন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ৮ (আট) জন অসৎ লোক তা করেছে এবং তার জন্য এদেরকে মহা অপরাধের দায়ে মহা কলংক বহে বেড়াতে হচ্ছে, হবে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় এই মহা কলংকজনক বিষয়টি সম্পর্কে জনাব সৈয়দ হাসান ইমাম, জনাব নাসির উদ্দিন ইউসুফ, জনাব ড. মুনতাসির মামুন, জনাব ডা. মুশতাক হোসেন, জনাব শাহরিয়ার কবির সহ দেশ ও বিদেশের কয়েক শত বিশিষ্ট ব্যক্তি বিশেষভাবে অবগত রয়েছেন, সেসব ব্যক্তিরকথা লিখতে গেলে অনেক অনেক পৃষ্ঠা কাগজ লাগবে বইকি; নিউ ইয়র্ক থেকে পরিচালিত মুক্তিসংগ্রাম বিষয়ক গবেষণা ও স্মৃতি সংরক্ষণ করতে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরসহ ৫টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ও ক্যাম্পেইন বিষয়ে প্রয়াত কবি সুফিয়া কামাল, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, ভাষা সৈনিক এডভোকেট গাজিউল হক, অধ্যাপক কবির চৌধুরী, কবি শামসুর রাহমান, সাহিত্যিক শওকত ওসমান, কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদসহ আরও অনেকে ভালভাবে জানতেন। তথাপি এই কয়জন (৮ জন) লোক তাদের অসৎ কর্ম থেকে শুদ্ধতায় যায়নি, যাচ্ছেনা; এঁরা যেন দুই কান কাটা মানুষের মত রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলার আচরণে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে; সে ধারা বজায় রেখে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়ে চরম বানোয়াট কাহিনী সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলোতে (১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ সংখ্যায়) দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বিবৃত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে দেয়া বক্তব্যও চরম মিথ্যাচার; কারণ, ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় নির্বাচনী ইস্তেহারটিতে সরকারী উদ্যোগে “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর” প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে স্পষ্ট ঘোষণা ছিল; সেই সালেই প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণ করেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি কোথায় প্রতিষ্ঠিত হবে তা স্পষ্টভাবে জাতিকে জানিয়ে ছিলেন; কেন তা বাস্তবায়িত হয়নি সেই প্রশ্ন থাকলেও এ কথা দৃঢ়তায় বলা যায় যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নূরগংয়ীও অপকর্ম ভালভাবেই জানতেন। সেসব কারণেই, স্বভাবতই প্রশ্ন এসে যায় যে, মহান মুক্তিসংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনে নির্মিত প্রতিষ্ঠান গড়ার স্মৃতি নিয়ে, মানুষের আবেগ জড়িত বিষয় নিয়ে যাঁরা মিথ্যাচার করে বেড়ায়, কল্পিত কাহিনী শোনায় তাঁদের হাতে মুক্তিসংগ্রামের স্মৃতি সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন কতটুকু নিরাপদে আছে, থাকবে? তা নিয়ে ভাবা উচিত নয় কি? “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর” শব্দবন্ধটি যাঁর কাছ থেকে জানা যায়, সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগে “মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর” প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব সম্পর্কে যাঁর কাছ থেকে জানা যায়, তাঁকে ও তাঁর ক্যাম্পেইনকে, উদ্যোগকে, প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করে চরম মিথ্যাচার করার জন্য মন্ত্রী হিসেবে, সাংসদ হিসেবে নূরের এখনই পদত্যাগ করা উচিত, আর সংস্কৃতিবিষয়ক একজন কর্মী হিসেবে তাঁর লজ্জিত হওয়া উচিত। যাইহোক, তাই তো বলি, অনুরূপ ঘটনা যেন স্থানীয় সরকার স্থাপনের ক্ষেত্রে না ঘটে, সেটি সরকারসহ সবাই মনে রাখবেন বলে আশা করি। আরও মনে রাখা দরকার যে, জনাব আবু তালেব তদবির চালিয়ে নবেল প্রাইজ নেয়ার লোক নয়, প্রতিবাদ আর দাবিতে স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পুরস্কার আদায় করার লোকও নয়; তিনি নিজস্ব মিডিয়ায় কিংবা তোয়াজী কায়দায় অন্য মিডিয়ায় আতœ-প্রচারণায় বিশ্বাসী মানুষও নন।
পুনশ্চ: প্রতিবেদনটি পাঠক সমাজের ভালভাবে বোঝার সুবিধার্থে স্থানীয় সরকার ও গণতন্ত্রায়ন বিষয়ক গবেষক এবং সিডিএলজি’র নির্বাহী পরিচালক জনাব আবু তালেব প্রণীত ‘গণতান্ত্রিক স্থানীয় সরকারের রূপরেখা’ থেকে প্রস্তাবিত স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-১, স্থানীয় সরকারের স্তরবিন্যাসকরণ-২ এবং মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো) ও তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রেক্ষিত বিবেচনায় প্রণীত ১১ দফার কপি নিচে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাতে, আমরা আশা করি, পাঠক-পাঠিকাগণ, গবেষকগণ, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিগণ, নীতিপ্রণেতাগণ, আইনপ্রণেতাগণ, বিধিপ্রণেতাগণ, মন্ত্রীগণ, সরকারী কর্মকর্তাগণ, সাংবাদিকগণ, আইনজীবীগণ, প্রকৌশলীগণ, কৃষিবিদগণ ও দেশের সকল পর্যায়ের সকল জায়গার নীতিনির্ধারকগণ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। এসব বিষয়ে যে কোনো ধরনের প্রশ্ন থাকলে, তথ্যমূলক প্রশ্ন থাকলে, কোনো কিছু অস্পষ্ট বলে মনে হলে তার জন্য সঠিক উত্তর যোগাতে আমরা যথাসাধ্য সচেষ্ট থাকব বলে অঙ্গীকার থাকল। পাঠক-পাঠিকার বোঝার সুবিধার্থে আরও একটি বিষয় বলতে চাই তা হল, জনাব আবু তালেব এর গবেষণামূলক প্রস্তাবনাগুলোর উপস্থাপন পদ্ধতি হচ্ছে একজন দক্ষ চিত্রকরের মত; দক্ষ চিত্রকরের চিত্র দেখে তাঁর বিষয়, তাৎপর্য ও গভীরতা যেমন বুঝে নিতে হয়, ঠিক তেমনি তাঁর উপস্থাপিত রেখাচিত্র দেখে ও স্বল্প কথা পড়ে এর বিষয়গত সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য ও গভীরতা পাঠক-পাঠিকাকে গভীর মনোযোগ দিয়ে বুঝতে হবে, অনুধাবন করতে হবে। তবে এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রায় দুই দশক সময় লেগে যাচ্ছে দেখে খুবই দুঃখ লাগে বইকি?

মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো)

alt
একশো একশো প্রতিনিধিত্ব; একশো একশো ক্যাম্পেইন
alt

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এমপো অনুযায়ী প্রণীত ১১ দফা
(১) জাতীয় সংসদের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা হতে একজন মহিলা জাতীয় সংসদ সদস্য ও একজন পুরুষ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে হবে; (২) জাতীয় সংসদে একজন মহিলা ডেপুটি স্পীকার ও একজন পুরুষ ডেপুটি স্পীকার নির্বাচিত করতে হবে; (৩) ইউনিয়নের প্রতি ওয়ার্ডে একজন মহিলা মেম্বার ও একজন পুরুষ মেম্বার নির্বাচিত করতে হবে; (৪) ইউনিয়নে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করতে হবে; (৫) পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতি ওয়ার্ডে একজন মহিলা কাউন্সিলর ও একজন পুরুষ কাউন্সিলর নির্বাচিত করতে হবে; (৬) পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে একজন মহিলা ডেপুটি মেয়র ও একজন পুরুষ ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত করতে হবে; (৭) উপজেলায় ‘মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো)’ অনুযায়ী নির্বাচিত একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন এর ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দিতে হবে; (৮) উপজেলা সংসদ, জেলা সংসদ ও বিভাগীয় সংসদ এর প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা হতে একজন মহিলা সদস্য ও একজন পুরুষ সদস্য নির্বাচিত করতে হবে; (৯) জেলা ও বিভাগে একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপার্সন ও একজন পুরুষ ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে; (১০) জাতীয় সভা (জাতীয় আইনসভার উচ্চকক্ষ হিসেবে যদি কখনও এটি গঠিত হয়) গঠনের ক্ষেত্রে প্রতিটি জেলাকে একেকটি নির্বাচনী এলাকা ধরে নিয়ে প্রত্যেক জেলা হতে একজন মহিলা জাতীয় সভাসদ ও একজন পুরুষ জাতীয় সভাসদ প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত করতে হবে; (১১) ‘মিলেনিয়াম প্রোপোজাল পার্ট ওয়ান (এমপো)’ এর আলোকে অন্যান্য ক্ষেত্রেও ১০০-১০০ প্রতিনিধিত্বে নরনারীর ক্ষমতায়ন যথাসম্ভব সুনিশ্চিত করতে হবে। (১১তম দফা অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকার ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়দ্বয়ে একজন মহিলা উপ-উপাচার্য ও একজন পুরুষ উপ-উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছেন; এই প্রদ্ধতি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর করা যেতে পারে। এই এমপো অনুযায়ী উপজেলায় একজন মহিলা ভাইস চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন, ৭তম দফা অনুযায়ী তাঁর ক্ষমতা ও দায়িত্ব যথাসম্ভব সুনির্দিষ্ট করতে হবে। ১১ দফার ২য় দফা অনুয়াযী জাতীয় সংসদে সরকার একজন মহিলা ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত করতে পারতেন। তাতে না গিয়ে কেবল চমক সৃষ্টি করতে, কেবল বাহবা পেতে একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে স্পিকার করেছেন, এবং তাতে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি বিধানিক প্রধান পদে দায়িত্ব পালনে বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা নারীর ক্ষমতায়নের নামে চমক, করুণা আর দয়া চাইনা, চাই এমপো অনুযায়ী, ১১ দফা অনুযায়ী নারীর পদ্ধতিগত গণতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন হোক; যেখানে অভিজ্ঞতায় ঘাটতি দিয়ে নির্বাহিক, বিধানিক ও বিচারিক কাজে দেশের কোনও ক্ষতি সাধিত হবে না, ক্ষতি সাধনে সম্ভাবনা থাকবে না; তাই আমরা সবাইকে এমপো ও ১১ দফা গভীরভাবে অনুধাবনে সচেষ্ট হতে অনুরোধ করব; এবং নারী মানুষের ক্ষমতায়ন পদ্ধতি বিষয়ক স্থানীয়, জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, কর্মসূচী বুঝতে, জানতে বলব। তা হলে এমপোর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব ও তাৎপর্য বুঝতে কিছুটা সহজ হবে বলে প্রতীয়মান হয়।)
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখক,সিনিয়র সাংবাদিক,রাজনীতিক,সদস্য ও মুখপাএ সিঊিএলজি যুক্তরাষ্ট্র,এডিটর বাপসনিঊজ এবং সভাপতি আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিন।ফোন:৯১৭-৮৩৭-৪৭০০


বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে ‘মীজানুর রহমান মডেল’

শনিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৭

প্রশ্ন হলো, নিয়োগের এই অভিনব তত্ত্ব যিনি আবিষ্কার করেছেন, তিনিও বিশেষ যোগ্যতায় নিয়োগ পেয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। তবে তিনি উপাচার্য পদে আসার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তিনি মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হয়েছিলেন বিশেষ যোগ্যতা ছাড়াই। এখন যে তিনি বিশেষ যোগ্যতায় চাকরি দিয়েছেন, সেটি যে তাঁর নিজের ইচ্ছেয় নয়, তা-ও স্বীকার করেছেন। বলেছেন, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চাকরি দিতে তিনি বাধ্য। এরপর সম্ভবত বলবেন, বিশেষ যোগ্যতাধারীদের পাস করিয়ে দিতেও তিনি বাধ্য। তাহলে তো বিশ্ববিদ্যালয়ে এত শিক্ষকেরই দরকার পড়ে না।

এর আগে তাঁর পূর্বসূরি মেসবাহউদ্দিন আহমেদ নিয়োগ দিয়েছিলেন ২২ জনকে। সেদিক থেকে মীজানুর রহমান সাহেব একটু পিছিয়ে আছেন। তিনি মেজবাহউদ্দিন আহমদের সমসংখ্যক ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়োগ দিতে না পারলেও সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন এ কথা বলে যে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ছাত্র বা চাকরিপ্রার্থী বলতে কিছু নেই। এখানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই চাকরি পাবেন। এটাই তাঁদের বিশেষ যোগ্যতা।’

Picture

আমরা জানি না, দেশে এখন এই বিশেষ যোগ্যতার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধিতে সংযুক্ত করা হয়েছে কি না। করা না হলে উপাচার্য মহোদয় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য তা বাধ্যতামূলক করতে পারেন। তাতে সুবিধা হবে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী নন, এমন কেউ চাকরির আবেদনই করবেন না। চাকরিদাতাদেরও অযথা বহুসংখ্যক চাকরিপ্রার্থীর দরখাস্ত যাচাই-বাছাই করতে হবে না। বিশেষ যোগ্যতা আছে, এমন প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া সহজ হবে। এখনো দেশে অনেক মানুষ আছেন, যারা মনে করেন, ছাত্রলীগ না করেও হয়তো পড়াশোনার যোগ্যতা দিয়ে চাকরি পাওয়া সম্ভব। উপাচার্য মহোদয়ের এই বার্তার পর তারা নিশ্চয়ই অনুধাবন করবেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করতে হলে বিশেষ যোগ্যতাই একমাত্র যোগ্যতা। সাম্প্রতিককালে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির থেকে শত শত নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর এসেছে, তার পেছনেও বিশেষ যোগ্যতা অর্জনের তাগিদ আছে কি না, উপাচার্য মহোদয় জানালে বাধিত হব।

পত্রিকার খবর অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ কর্মকর্তা হিসেবে সৃষ্ট পদটি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন অনুমোদন করেনি। অননুমোদিত কোনো পদে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেতন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে যাওয়ার কথা নয়। হয়তো বিশেষ যোগ্যতায় তা-ও পেয়ে যাবেন।
আওয়ামী লীগ একটানা আট বছর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও অভিযোগ আসে প্রশাসনে অনেক ‘দুষ্টচক্র’ রয়ে গেছে। এ কারণে সরকারের নীতি ও কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে না। মীজানুর রহমান সাহেবের পথ অনুসরণ করলে সেই সমস্যা থাকবে না। বিশেষ যোগ্যতায় বিশেষভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারবেন। আশা করি, সারা দেশে এখন থেকে নিয়োগের ক্ষেত্রে মীজানুর রহমান মডেল অনুসৃত হবে। তখন ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতি কেউ রুখতে পারবে না।

পত্রিকার খবর অনুযায়ী, গত ১৯ মার্চ উপাচার্যের আগের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক মাস আগে ফেব্রুয়ারিতে অস্থায়ীভাবে ও চুক্তিভিত্তিক এই ১২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ওপর বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে। ২০ মার্চ মীজানুর রহমান দ্বিতীয় মেয়াদে আরও চার বছরের জন্য উপাচার্যের দায়িত্ব পান। এর আগে ২০১২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছাত্রলীগের ৩১ জন নেতা-কর্মী নিয়োগ পেয়েছেন।

মীজানুর রহমান বেশ জোরের সঙ্গে বলেছেন, ‘ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের চাকরি দিতে আমি বাধ্য। নিয়োগপ্রাপ্ত ওই ১২ জন কঠোর পরিশ্রমী নেতা-কর্মী ছিলেন। এর মধ্যে দুজন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা। এটাই তাঁদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।’

বিশেষ কর্মকর্তা পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য আনোয়ার হোসাইন ও মিজানুর রহমান; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি দানেশ মিয়া, আরেফিন কাওসার, প্রশান্ত মৃধা, আবদুল্লাহ আল মামুন, এ কে এম কামরুজ্জামান, জিয়াউর রহমান ও আবদুস সালাম; আপ্যায়ন সম্পাদক নুরুল হুদা, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক আশিকুজ্জামান, কর্মী বিশ্বজিৎ মল্লিক। তাঁরা রেজিস্ট্রার দপ্তরের অধীনে বিভিন্ন বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের নিয়োগপত্রে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপত্র কথাটি উল্লেখ রয়েছে। তবে কত দিনের জন্য নিয়োগ তা বলা হয়নি।

২০১৩ সালের মার্চে উপাচার্য নিযুক্ত হন মীজানুর রহমান। এর ছয় মাসের মাথায় সেকশন অফিসার গ্রেড-২ পদে চারজন ও স্টোর অফিসার পদে একজনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আবেদন করেছিলেন ছাত্রলীগের ৫০ নেতা-কর্মীসহ ৪৭০ জন। কিন্তু ছাত্রলীগের নয়জনসহ ১১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য দুজন ছিলেন উপাচার্যের ‘পছন্দের কোটার’। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসারের (গ্রেড-১) মধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীই দুই-তৃতীয়াংশ।
উপাচার্য মহোদয় আরও চার বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন। আশা করি, দ্বিতীয় মেয়াদে এটি শতভাগ পূরণ করতে পারবেন।


বয়স বেড়েছে = কুলসুম আক্তার সুমি

বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৭

মেঘের আড়াল থেকে শত চেষ্টা করেও সূর্যটা উঁকি দিতে পারছে না।

বাতাসে এখনো হিমেল আবেশ।

মন ভালো করা খুনসুটি হয় না কতদিন!

ব্যস্ত পৃথিবীর সাথে সবাই আমরা ব্যস্ত।

প্রতিদিনই তো পূব আকাশ রাঙ্গিয়ে সূর্য উঠে,

দিন শেষে ডুবে ও যায় যথারীতি।

দেখা হয়না কতদিন!

শেষ কবে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ শুকেছি...

মনে পড়ে না।

ফেব্রুয়ারি হারিয়ে গেছে স্মৃতির ভীড়ে।

'ছি ছি তুমি এত খারাপ?'...  

কিংবা,

'হাওয়া মে উড়তা জা য়ে'...

ঠোঁটে ঠোঁটে আওড়াই না যেন যুগান্তর ধরে।

ঋতুপর্ণার উদ্ভট পোশাক,

অসামঞ্জস্যপূর্ণ ডায়লগ

আর বস্তাপঁচা চিত্রনাট্য নিয়ে...

চায়ের কাপে ঝড় তুলি না, সেও তো বহুকাল।

আজিজে ফতুয়া, গাউসিয়ায় অন্তর্বাস,

বসুন্ধরায় কসমেটিক...

কেনা

কেনার ভান করা

দেখে দেখে দিন কাটানো....

আলস্যমূখর দিনগুলো কোথায় হারিয়ে গেল!

সে রকম ইচ্ছা কি হবে আর কখনো???

হবে না, হওয়ার উপায় নেই....

পৃথিবীর বয়স বেড়েছে, আমারও।