Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

ইসরাইলী পদ্ধতিতে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে = আবু জাফর মাহমুদ

রবিবার, ২৯ অক্টোবর ২০১৭

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মেরুকরণে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে অনেকেই উদগ্রীব হয়ে থাকেন।বাংলাদেশের সরকারী তথ্য প্রচারযন্ত্রের উপর আস্থাহীনতা কমে যাওয়ায় বহির্বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেছেন অনেকে। দেশে গণতন্ত্রের মুখোশে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ব্যাপকতা অতীতের যেকোন সময়ের তূলনায় হয়েছে ভয়ানক ব্যাপক।

 এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সর্দারগিরি রয়েছে বিশ্বের প্রধান শক্তির দুই আঞ্চলিক খুঁটি ইসরাইল এবং ভারত সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা।ইসরাইল চীন আমেরিকা উভয়ের আস্থার সম্পর্কে আছে।ভারত নিজের প্রয়োজনে আমেরিকা ও চীনের সাথে ঘড়ির পেন্ডুলামের মতো এদিক ওদিক করছে।ভারতে সরকার গঠনকারী জঙ্গি হিন্দু রাজনৈতিক শক্তিটি আমেরিকা ও ইজরাইল লবির সাথে ঘনিষ্ট হয়েছে এবং রাশিয়া ও ইরানের দিক থেকে অনেকটা মুখ ফিরিয়েছে।চীনের প্রধানমিত্র পাকিস্তানের সাথে আরো ঘনিষ্ট হয়েছে ইরান ও রাশিয়া।

বাংলাদেশের অপর সীমান্তের মিয়ানমার চীনের আজ্ঞাবহ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলছে ঐতিহ্যগতভাবে।গণতান্ত্রিক নির্বাচনে নোবেললরিয়েট অংসান সুকির দল বিজয়ী হয়ে সরকার গঠণ করে।আমেরিকা ও ইওরোপীয় ইউনিয়ন তাকে সমর্থন দেয় ও তার সরকারের সাথে সম্পর্ক বাড়ায়।সহায়তা দিতে থাকে মিয়ানমারকে।চীন এক্ষেত্রে সামান্য কষ্ট পায়।

সেনাবাহিনী চীনের প্রশ্রয়ে রাখাইনে ইজরাইলী ধারায় আবার মুসলমান নিধন ও তাদেরকে দেশত্যাগে বাধ্য করতে থাকে।

 এই রোহিঙ্গা মুসলমানদের ৬লক্ষ পৌঁচেছে বাংলাদেশে।আরো যাচ্ছে।লক্ষাধিক ভারত,থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে।এদিকে জাতিসংঘ আমেরিকা ও ইওরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার প্রক্রিয়া অগ্রসর করছে এবং অপরদিকে রোহিঙ্গাদেরকে ফেরত নিয়ে কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট ও প্রস্তাবমার আলোকে তাদেরকে পুনর্বাসনের চাপ দিতে থাকে।

পরিস্থিতির বাস্তবতায় ভারত সরকার আমেরিকার চাপে কলিজার বিষাক্ততা লুকিয়ে রেখে,মুখে লেগে যাওয়া রোহিঙ্গা  মুসলমানদের রক্তের দাগ তাড়াহুড়ো করে মুছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে বাংলাদেশে পাঠায় বিমানবাহিনীর বিমানে। বেঈমান কপটরা যেমন দ্রুত কথা পাল্টায়,ঠিক তেমনই।ভারতের জঙ্গিবাদী সরকারও গত সময়ের কথা বেমালুম পালটে দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,পররাষ্ট্রমন্ত্রী,সাবেকপ্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সংসদের অপর রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির নেতার সাথে দেখা করেন।

বাংলাদেশের মানুষের ভাষায় সুর মিলিয়ে বিবৃতি দিয়ে মুখ রক্ষা করে ফিরে যান। ভারত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে যা বললেন এবং যে সব তৎপরতা করলেন তাকে কূটনীতি বলতে পারা গেলোনা, বরঞ্চ বাধ্য হয়ে  নিজেদের সরকারের নীতির বাহিরে অনিচ্ছায়  মুসলমান পুনর্বাসন করায় সমর্থনের কথা উচ্চারণ করলেন।কেউ কেউ বলছেন,তিনি সতর্ক কূটনীতি করে গেছেন। মুখে যত পরিবির্তিত কথাই তিনি বলেছেন তাতে ভারতীয় বিদ্বেষ নীতিতে পরিবর্তন হয়নি।    

ইসরাইলি ব্যবস্থা চালু ভারত বাংলাদেশ সীমান্তেঃ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান বন্ধে খুব শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ইসরাইলি মডেল।আজ (সোমবার) কোলকাতা থেকে প্রকাশিত এক বাংলা দৈনিকি এখবর দিয়ে আগামী বছর থেকে সীমান্তে ইসরাইলি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে বলা হয়েছে।

বিএসএফের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (দক্ষিণবঙ্গ) অজয় কুমার বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। খুব শিগগিরি আরো কয়েকটি প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাও চালু করার কাজ শুরু হয়ে যাবে।ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের এক কর্মকর্তা বলেন, ওই ব্যবস্থা চালু হলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। ইসরাইলে ওই ব্যবস্থা থাকায় এটিকে ‘ইসরাইল মডেল’ও বলা যেতে পারে।

বিএসএফ সূত্রে প্রকাশ, সীমান্তে ১৫০ মিটার পরপর নাইট ভিশন সিসিটিভি ক্যামেরায় এক ধরনের সফটওয়্যার বসানো থাকবে। সীমান্তের পাঁচশ’ মিটার এলাকায় লোকজনের যাতায়াত হলে কিংবা সেখানে অবস্থানগত কোনও পরিবর্তন হলে বিএসএফ ক্যাম্পের কন্ট্রোল রুমে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। এরপরেই দ্রুত ‘কুইক রিঅ্যাকশন টিম’ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। গোটা ব্যবস্থাটিই প্রযুক্তি নির্ভর।

সীমান্ত সমস্যা নিয়ে সম্প্রতি বিএসএফের ত্রিপুরা সীমান্তের মহাপরিদর্শক এস আর ওঝা বলেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আমাদের খুব সহযোগিতা করছে। কখনো কখনো বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যরা চোরাচালান ছাড়াও অপরাধমূলক কাজকর্ম, অনুপ্রবেশ ও অবাঞ্ছিত গতিবিধিতে নজরদারি চালাতে যৌথভাবে টহলদারি চালায় বলেও এস আর ওঝা বলেন।

ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধানকে দাওয়াত করেও প্রবেশ নিষেধঃমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও দেশটিতে ঢুকতে পারেননি ইন্দোনেশিয়ার সেনাপ্রধান জেনারেল গাতোত নুরমানটিও। রাজধানী জার্কাতা থেকে ওয়াশিংটনের বিমানে ওঠার ঠিক আগের মুহূর্তে তিনি জানতে পারেন যে তার আমেরিকায় ঢোকার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের পক্ষ থেকে জেনারেল গাতোত এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সাথে সাথেই আমেরিকা সফর স্থগিত করে দেন তিনি। উগ্রবাদ বিরোধী প্রতিরক্ষা সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য তার ওয়াশিংটনে যাওয়ার কথা ছিল। এ সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মার্কিন সেনাবাহিনীর চেয়ারম্যান অব স্টাফ জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড।মার্কিন উপ রাষ্ট্রদূতকে সোমবার ২৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে এ ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেন্টিনো মারসুদি। এদিকে, ইন্দোনেশিয়ার মার্কিন দূতাবাস এ ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।এদিকে, গত বছরও একই সম্মেলন আয়োজন করেছিলেন জেনারেল ডানফোর্ড। তাতে ইন্দোনেশিয়াসহ ৪৩ দেশ যোগ দিয়েছিল।

 আমেরিকাকে পাকিস্তানের কঠিন জবাবঃপাকিস্তান ভূখণ্ডে আমেরিকাকে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। কেবল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীই নিজ দেশে অভিযান পরিচালনা করবে। পাকিস্তানের বিভিন্ন সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দৈনিক এক্সপ্রেস। পত্রিকাটি লিখেছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে নিজের এ সংক্রান্ত অবস্থানের কথা জানিয়ে দেবে।পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও বলা হবে, নয়া নীতি-কৌশল অনুযায়ী বিশ্বের কোনো দেশই পাকিস্তানে সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমতি পাবে না।

আগামীকাল (মঙ্গলবার) পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। টিলারসনের সফরের আগের দিন পত্রিকাটি এ খবর প্রকাশ করেছে।

আমেরিকা এ পর্যন্ত বহুবার পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে এবং পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে প্রতিবেশী আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের সমর্থক হিসেবে ঘোষণা করে বলেছে, ইসলামাবাদ সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলোকে ধ্বংস না করলে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর পাকিস্তান নিজের সামরিক নীতি-কৌশলে পরিবর্তন এনেছে।  

আমেরিকার ওপর আর নির্ভর করতে হবে নাঃ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসি বলেছেন, সামরিক এবং অন্যান্য সরঞ্জামের জন্য তার দেশকে আমেরিকার ওপর আর নির্ভর করতে হবে না।আরব নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। গতমাসে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেয়ার পর পাকিস্তান ফিরে এ সাক্ষাৎকারে দেন তিনি।

তিনি বলেন, একটি উৎস বন্ধ হয়ে গেলে পাকিস্তানকে অন্যান্য উৎসের সন্ধানে যেতে হবে। এতে হয়ত খরচ বাড়তে পারে এবং বেশি সম্পদ ব্যবহার হতে পারে কিন্তু পাকিস্তানকে সে যুদ্ধের মোকাবেলা করতেই হবে বলে জানান তিনি। যাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন তাদের সবাইকে একই কথা বলেছেন বলেও জানান তিনি।ইসলামাবাদ এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে তখন এসব কথা বললেন তিনি।

 মার্কিন অবসরপ্রাপ্ত পাইলটদের তলবঃ মার্কিন অবসরপ্রাপ্ত পাইলটদের তলব করার মধ্যদিয়ে আমেরিকার অন্তহীন যুদ্ধের মানসিকতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন ম্যাগাজিন ‘ভ্যাটারেন্স টুডে’র সিনিয়র সম্পাদক গর্ডন ডাফ ইরানের  স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেন- সৌদি আরব, ইসরাইল ও তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আমেরিকাকে স্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। গর্ডন ডাফ বলেন, “এই দেশগুলো মার্কিন আইন প্রণেতাদেরকে অর্থ দিয়ে আমেরিকাকে অবৈধ স্থায়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২০০৩ সালে ইরাকে যেভাবে আমেরিকা অবৈধ আগ্রাসন চালিয়েছিল ঠিক তেমন আগ্রাসনের দিকে ঠেলে দিয়েছে এই তিন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা।"

তবে এই অন্তহীন যুদ্ধের বিষয়টি তিনি পরিষ্কার করেন নি। ধারণা করা হচ্ছে- ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা, আফগান যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সেনা মোতায়েনের দিকে ইঙ্গিত করেছেন গর্ডান ডাফ। গত শনিবার মার্কিন বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা অন্তত ১,০০০ অবসরপ্রাপ্ত পাইলটকে তলব করতে পারে। জাতীয়ভাবে যে পাইলটের মারাত্মক সংকট চলছে সে ঘাটতি মেটাতে এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় কথিত সন্ত্রাসী হামলার পর সে সময়কার প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন। এ বিষয়টি অনেকটা তারই মতো।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন  বার্তা নিয়ে পাকিস্তান সফরে গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডন। ইরাক ও আফগানিস্তানে গোপন সফর শেষে তিনি ইসলামাবাদ যান। পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে ২৫ অক্টোবর মঙ্গলবার  বৈঠকে টিলারসন বলেন, "আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান আমাদের কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশটির সঙ্গে বড় রকমের অর্থনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও সুযোগ রয়েছে।" এর আগে গতকাল তিনি আফগানিস্তানে বলেন, আমেরিকার সঙ্গে সুসম্পর্কের জন্য সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তানের সহযোগিতা জরুরি। আমেরিকার অন্য কর্মকর্তারাও একই কথা বলছেন এবং পাকিস্তানের ওপর রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করেছেন।

 টিলারসন আরো বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই ও পাকিস্তানের ভেতরে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলা উগ্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসলামাবাদকে সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে।<


সরকার চাইলেও কি মিয়ানমারের জনগণ রোহিঙ্গাদের মেনে নেবে!

শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

সজিব খান: বিভিন্নরকমের চাপের মুখে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী অং সান সু চি’র সরকার রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফিরিয়ে নিলেও দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের মেনে নেবে কিনা প্রশ্ন থেকেই যায়। কেননা রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেশটির সাধারণ জনগণের অনেক আগে থেকেই বিরূপ মনোভাব রয়েছে।

দেশটির সাধারণ জনগণ মনে করেন রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়, তারা বাঙালি জাতি। রোহিঙ্গাদের অনাকাংক্ষিত এবং অগ্রহণযোগ্য বলেও মনে করেন তারা । মূলত দেশটির দীর্ঘ সময়ের সরকারি নীতিই রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে জনগণের মনে এই ধরনের মনোভাবের জন্ম দিয়েছে। যুগ যুগ ধরে মিয়ানামরের মুসলিম বিদ্বেষীরা রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচার প্রচারণা চালিয়ে এমনটা করেছেন ।

বিশ্বজুড়ে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকটকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হলেও দেশটির নাগরিকরা বিষয়টিকে সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখছে। তাই রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা হত্যার প্রতি দেশটির জনগণের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে।

Picture

রোহিঙ্গা নিধন সম্পর্কে একবৌদ্ধ সন্ন্যাসিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের অধিবাসী নয়। রোহিঙ্গা নারীরা বেশি বেশি বাচ্চা জন্ম দেয়। এ কারণে স্থানীয় বৌদ্ধ জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গারা। তবে এখন যে কোনোভাবে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা এখান থেকে চলে গেছে। তারা চলে যাওয়ায় ভগবান বুদ্ধকে ধন্যবাদ জানাই। তারা আমাদের জমি, আমাদের খাবার, আমাদের পানি ইত্যাদি চুরি করে নিয়েছিল। আমরা কখনই তাদের আর ফিরিয়ে নেব না।’

অপরদিকে জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের হাতে রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ওপর গত কয়েক মাসে মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে হত্যাযজ্ঞ, গণধর্ষণ ও তাদের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগের তাণ্ডব চালিয়েছে, তার শক্ত দলিলও প্রমাণাদি থাকা শর্তেও সব অভিযোগ অস্বীকার করে দেশটির সরকার উল্টো দাবি করেছে, রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের ঘর-বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে। রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের লোককে হত্যা করেছে। এমতাবস্থায় মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে নিলেও সে দেশে গিয়ে রোহিঙ্গারা একটি বিশাল জনগোষ্ঠির কাছে কতটুকু গ্রহণ যোগ্যতা পাবেন, দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধেদের কাছে রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হবেন কিনা শংকা থেকেই যায়।


নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন = এস ইবাদুল ইসলাম

শুক্রবার, ২৭ অক্টোবর ২০১৭

লেখক: এস ইবাদুল ইসলাম : নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে একটি অন্যতম আলোচিত বিষয়। যুগযুগ ধরে শিক্ষায় দিক্ষায় পিছিয়ে আছে নারীরা। পরিবার ও সমাজে তাদের স্থান এখনো পুরুষের সমকক্ষ হয়নি। পুরুষ শাসিত সমাজ মনে করে পারিবারিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে নারীর মতামতের খুব প্রয়োজন নেই। যেহেতু নারী তার ন্যায্য অধিকার এখনো পাইনি।
মুখে মুখে শুধু আওয়াজ তুললেই হবে না। নারীর অবদান এই সমাজ সংসারে গ্রহনীয় পর্যায়ে যায় নি। সামাজিক অবহেলার কারনে নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং অধিকার কাঙ্খিত পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পঞ্চাশের দশকের আগে অনেক উন্নত দেশেই নারীর ভোটাধিকার ছিল না। অনেক দেশে জাতিয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলে ও প্রাথী হিসাবে নারীর প্রতিদ্বন্ধিতা করার অনুমতি ছিল না। তাই নারীর রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্ব নেতারা এগিয়ে আসেন। সত্তরে দশক থেকে মধ্য প্রচ্যের  দেশগুলো ছাড়া  প্রায় সব দেশেই নারীরা ভোটাধিকার পায়। সৌদি আরবে নারীদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৫ সালে এবং ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বরে পৌর নির্বাচনে  তারা ভোটাধিকার প্রয়োজন মনে করেন। ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘে সিডও সনদ অনুমোদিত হয় নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দুরীকরনে। তা র্কাযকর হয় ১৯৮১ সালে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সহ ১৮০ টির ও বেশী দেশ অনুমদনে সাক্ষর করেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত সিডও সনদের আলোকে কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাঙ্গনে নারী ও শিশুর প্রতি সকল ধরনে হয়রানী বন্ধে দিক নির্দেশনা দিয়াছেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সরকার ২০১০ সালে সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন প্রনয়ন করেছেন। নারীর নীতিমালা মানব পাচার সংক্রান্ত আইন, পর্নোগ্রাফি আইন, শিশু নীতিসহ অনেক আইন প্রনয়ন করা হয়েছে,যা নারী ও শিশুর সুরক্ষায় ভুমিকা রয়েছে।
জাতিসংঘ কর্তৃক ২০০০ সালে গৃহিত সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য সমুহের মধ্যে লিঙ্গসমতা নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার সার্বজনীন শিক্ষা এবং শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য বাংলাদেশ অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে পুরণ করতে সক্ষম হয়েছে। এখন আমাদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা অজর্নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। জাতিসংঘে এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে বিশ্ব কর্মঘন্টার দুই তৃতীয়াংশ সময় কাজ করে নারী কিন্তু বৈশ্বিক আয়ের মাত্র ১০শতাংশ তারা আয় করে থাকে। যাহা তাহাদের জন্য অপ্রত্যুল ও নিজের পথে দাড়াবার মত সুযোগ থাকে না। সেক্ষত্রেই তাদেরকে পুরুষ এবং মহিলা গনকে সমান ভাবে সকল কর্ম এবং সফলতায় দাড় করানো উচিত। সম-মর্যাদার ক্ষেত্রটি এক সমতায় রাখা উচিত।
পৃথিবীর অন্যান্য দেশে নারীরা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক অগ্রগামী এবং বিশেষ বিশেষ পদমর্যায় অগ্রনী ভুমিকা  রাখছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নারীরা তুলনা মুলক ভাবে শিক্ষার ক্ষেত্রে এগিয়ে অনেক উর্ধে আছে যেমন ঃ আইনজীবি, ডাক্টার, সাংবাদিক, শিক্ষা ও কারিগরি, পোষাক শিল্প, ফ্যাশন, ডিজাইনার, আর্কিটেক্্রার ইত্যাদি ক্ষেত্রে কাজ করলেও কাঙ্খিত স্থানে পৌছাতে পারছে না সুতরাং নারীদের শিক্ষা ও কর্মস্থানে মর্যাদা ও সহযোগিতা পুর্ন পরিবেশ সৃষ্টির এখনি সময়। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক ও পারিবারিক অঙ্গনে তাদের ভুমিকা আমাদের জন্য একটি বড় ধরনের সহায়ক হয়ে দাড়িয়েছে। তাই সমাজ পরিবার ও রাষ্ট্রের সকলকে নৈতিকতা পূর্ন আচরনিক বৈশিষ্ট গুলো উন্নয়ন প্রয়োজন, এমনকি স্বজনদেরও। আমি লেখক হিসাবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে যা দেখেছি এবং জেনেছি সেক্ষেত্রে বলবো আমাদের মত কিছু শ্রেনীর পুরুষ শাসিত নৈতিকতা নারীর এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছেন। তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলবো আপনার সংসারেও মেয়ে , মা, বধু আছে তাদের উন্নয়নের দিকে চিন্তা করে সকল নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে তাদের চলার পথে সহায়তা প্রদান করুন তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সাহায্য করুন। তাদের চলা নিরাপদ করুন নৈতেকতা ও দৃষ্টি ভঙ্গি পরির্বতন করুন। আসুন নারী ও পুরুষ সকলে মিলে দেশ ও দশের উন্নয়ন করি। একটি শিক্ষিত মা ই পারে একটি রাষ্ট্রকে উপহার দিতে সুযোগ্য উত্তরাধিকারী সুতরাং সে মায়ের জাতিকে  সস্তির নিশ্বাস নিতে এগিয়ে আসুন। বর্তমানে নারীর আশ্রয় স্থান হয়েছে তার জন্য মৃত্য ফাঁদ। উচ্চ শিক্ষিত ব্যাক্তিকেও এখন নিরাপদ মনে করেনা অভিবাবকরা। একটি নিরাপদ সংসার, কর্মস্থান, শিক্ষালয়, ও সামাজিক অঙ্গন নারীদের জন্য দুস্কর হয়ে দাড়িয়েছে। স্বামী স্ত্রীকে মেরে ফ্যানে ঝুলিয়ে দিয়েছেন, বালিস চাপা দিয়ে মেরেছেন, চক্ষু ুনষ্ট করে দিয়েছেন, লেখা পড়ার জন্য হাত কেটে ফেলেছেন, স্ত্রীকে মেরে সুটকেসে রেখেছেন, বাড়ীর ছাদ দিয়ে ফেলে মেরেছেন, এসিড, পেট্রোল দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছেন। আরও কত ঘটনা রয়েছে প্রতিদিনের আমাদের অজানা। একটি মেয়ে শিক্ষাঙ্গনেও নিরাপদ নয়।
অতএব, আমরা শিক্ষায় শিক্ষিত হলে হবেনা। সর্ব প্রথমে নৈতিকতার উন্নয়ন প্রয়োজন। তাহলে এই সকল পৈশাষিকতা থেকে আমরা রক্ষা পাব। এখানে আমি শ্রদ্ধাভরে মাননীয় প্রধান মন্ত্রিকে অভিন্দন জানাচ্ছি যে, তিনি তার গুরুত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত গুলির মধ্যে নারীর ও শিশুর নিরাপদ জীবন নিশ্চত করনে বিভিন্ন নীতিমালা ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প পাশ করেছেন। এসিড নিক্ষেপ কারীর মৃত্যু দন্ড আইন প্রনয়ন করেছেন। যৌতুক বাল্যবিবাহ ও ইফটিজিং এর মত বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন ও বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে। তাই সকলের সহযোগিতা থাকলে নারীর নিরাপদ জীবন বাস্তবায়ন  সময়ে ব্যপার মাত্র।                                 


রুপায়িত
লেখক: এস ইবাদুল ইসলাম
পাহাড়ের কান্না যায় না দেখা,
আকাশের কান্না সবার জানা।
নদীর হাসি কলকল বয়ে চলা,
উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ে,
 নাবিক হয় দিশেহারা।
চাঁদের আলোর সিগ্ধতা,
সূর্যের তাপের প্রখরতা,
এ সকলই আমাদের জানা।
অমবস্যার গ্লানি যায়না ভোলা,
প্লাবিত বর্ষা শান্ত পৃথিবী।
গুল্মরাজিরাও পায় স্বস্তির দিশা,
তোমায় পাওয়া নিশা।
মনের মাঝে জাগে ,
প্রকৃতির বুকে সবাই সাজে,
যার যার রুপে সে ভাসে।
ক্লান্ত পথিক থমকে দাড়ায়
একটুখানি  বিশ্রাম নেয়।
দেবদারু আর বটের ছায়ায়,
হে প্রকৃতি তোমার দিশা বুঝা দায়।


সব ভাঁড়ই গোপাল হয় না’

বুধবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৭

এক

‘সব ভাঁড়ই গোপাল হয় না’ এ কথাটি চোখে পড়েছিল সামাজিক মাধ্যমে। সত্যি কথা, সবার বুদ্ধি ও চিন্তার পরিধি সমান হয় না। এমন না হওয়াটা দোষের কিছু নয়, কিন্তু না মেনে নেওয়াটা দোষের। ‘চাপাবাজ’ ছাত্রের ধরা খাওয়ার গল্পটা বলি।

শিক্ষক ছাত্রকে জিজ্ঞেস করছে, ‘কী রে, নেপাল কোন মহাদেশে?’

‘স্যার নেপাল তো বাড়িতেই, কোনোও হানে যায় নাই কা।’

‘আরে গাধা সেই নেপাল না, দেশের নাম নেপাল।’  

ছাত্রের উত্তর, ‘স্যার যে কী জিগান, ওইহানে আমি মায়ের লগে দুইবার গেছি বেড়াইতে।’

‘বলতো সুইটজারল্যান্ড কোথায়?’

‘স্যার কী যে কন না। বাপের হানিমুনে আমরা তো ওইহানেই গেছিলাম, ‘ফাসকেলাছ ছিনারি’।’

স্যার বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘জিওগ্রাফি কী জানিস?’

‘আগেই কইছিলাম, স্যার খালি আমারে ঝাড়ি দেয়। ওইহানেও তো আমি এক হপ্তা আছিলাম।’

চাপাবাজি আর বুদ্ধিমত্তা দুই জিনিস। চাপা মেরে কিছুটা সময় হয়তো পার পাওয়া যায়, কিন্তু ঠেকে গেলে বুদ্ধিই কাজে লাগে। ‘জিওগ্রাফি’তে যে থাকা যায় না, এটা বুঝতে গেলে বুদ্ধি লাগে, চাপা নয়। 

Picture

দুই

‘রোহিঙ্গা ক্রাইসিসে’ বাংলাদেশের সাথে সবাই আছে এমন কথা শুনছি অনেকদিন থেকেই। বলা হলো ভারত আমাদের সাথে রয়েছে। মোদি মিয়ানমারে গিয়ে ঘোষণা দিয়ে এলেন, ভারত আছে মিয়ানমারের সাথেই। চীন নিয়ে কথা হলো, চীনও বলল, তারা মগদের পাশেই থাকবে। রুশরাও একই সুরে গলা সাধলেন। এখন শুনছি চীন-রাশিয়ার অবস্থানের না কী আগের চেয়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে, জাপানসহ অন্যান্যরাও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক। একই ধরনের কথা বলেছেন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বয়ং। সম্প্রতি সাংবাদিকদের রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রগতি জানাতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। খুবই আশা জাগানিয়া কথা। এমন হলে তো আমরা বেঁচে যাই। কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি কী এসব কথায় সায় দিচ্ছে? যদি দিত তাহলে বিশ্বব্যাংকের অনুদানের কথা উঠত না, তুরস্কের আবাসন তৈরির ব্যাপারটিও হয়তো সামনে আসত না। দুবলা না পাতলা কী চর যেন নাম, সেখানে রোহিঙ্গা বস্তি তৈরির প্রস্তাবও থাকত অগোচরে।

এসব বাদ। আসি জাতিসংঘের কথায়। জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেফ্রে ফেল্টম্যান মিয়ানমার গিয়েছিলেন পাঁচ দিনের সফরে। তার মিশন ছিল বাস্তুহারা রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নেওয়া এবং রাখাইনে জাতিসংঘের ত্রাণ কর্মীদের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা নির্বিঘ্ন করা। তার মিশন সম্পর্কে গত বৃহস্পতিবারের গণমাধ্যমের শিরোনাম, ‘মিয়ানমার থেকে শূন্য হাতে ফিরলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা’। এরপরও সাফল্য বিষয়ক ‘গপ্পে’ বলার কিছু থাকে কী!

সু চি এবং মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয় এক কথায় পত্রপাঠ বিদায় করেছেন ফেল্টম্যানকে। তবে ফেল্টম্যান বিদায় হলেও আমাদের অনেকেই কিন্তু বিদায় হননি, বলতে পারেন ক্ষান্ত দেননি। তারা দাবি করছেন সাফল্যের, এমন সাফল্যময় দাবির সমর্থনে গণমাধ্যমে নিবন্ধও প্রকাশ হচ্ছে। ক্ষান্ত না দিয়ে ধৈর্য্য ধরাটাও একটি সাফল্য, অনেকটা ‘রবার্ট ব্রুসে’র মতন। ব্যর্থ জাতিসংঘের বিপরীতে আমাদের আশা জাগানিয়া এমন সাফল্য ছোট করে দেখার বিষয় নয়। তবে জাতিসংঘ যেখানে ব্যর্থ, সেখানে আমাদের সাফল্যের পরিমাপকটা কী তা বড় জানতে ইচ্ছে করে। 

আরেকটা গল্প বলি। আমাদের এলাকায় এক ভিখারি আছেন। পেটে ভাত না জুটলেও তার ‘গপ্পো’ ছিল সেইরকম। একদিন কথায় কথায় সে এলাকার দুই রাজনৈতিক প্রভাবশালীর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব মেটানোর ‘গপ্পো’ ফাঁদলেন। বললেন, এটা কোনোও ব্যাপার না, আমি দুইজনের সাথেই কথা বলেছি, তারা রাজি আমি শুধু সময় দিতে পারছি না বলেই ক্যাচালটা মিটছে না। এমন ‘গপ্পোবাজ’দের কী বলবেন? বোকা, না বেশি চালাক? তবে তার এমন গপ্পে মজা পেতেন অনেকেই। চায়ের দোকানে ডেকে চা খাইয়ে তার ‘গপ্পো’ শুনতেন লোকজন। বেচারীও বিনিপয়সার চায়ে চুমুক দিত, আর ‘গপ্পো’ চালিয়ে যেত। তবে একদিন হঠাৎ করেই তার ‘গপ্পোবাজি’ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে আরেক ‘গপ্পো’ আরেকদিন বলা যাবে। 

তিন

‘আবার তোরা মানুষ হ’ এর কারিগর খান আতাকে নিয়ে সমালোচনা চলছে। আমি অনেকটা সিনেমা বিমুখ মানুষ। বিনোদন জগতে কী হলো না হলো তা নিয়ে আমার মাথাব্যাথা ছিল না, নেইও। কিন্তু তারপরেও খান আতা’র ওই চলচ্চিত্রটিতে ‘আল-মনসুর’ অভিনয় করেছিলেন। যিনি সম্পর্কে আমার বড়ভাই, আমাদের বেলাল ভাই, আমার মেঝ খালার ছেলে। ফোন করে জানতে চাইলাম, ‘আবার তোরা মানুষ হ’তে তার চরিত্রের নামটি। মজার মানুষ। বললেন, সাতদিন আগের কথাই আমার মনে থাকে না, আর তুই জিগাইছস চল্লিশ বছর আগের কথা। সাথে বললেন’ ‘আবার তোরা মানুষ হ’তে অলমোস্ট মুক্তিযোদ্ধারাই অভিনয় করেছিলেন। তিনিও মুক্তিযোদ্ধা, মাঠের যোদ্ধা, কাগুজে নন। তার ছোট ভাই আল-মাহমুদ, হেলাল ভাই, সেও মুক্তিযোদ্ধা এবং মাঠের। বাংলাদেশের অভিনয় জগতে আর যাই হোক আল-মনসুরকে ফেলে দেওয়া যাবে না। যেমন যাবে না বাংলাদেশের সিনেমা ও সংগীতের ইতিহাস থেকে খান আতা’র নাম। সুতরাং খান আতাকে নিয়ে যখন কথা হয়, তখন কানটা স্বাভাবিকভাবেই খাড়া হয়ে ওঠে। মনে বাজে, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে যিনি ছবি বানিয়েছেন, অভিনয় করিয়েছেন, তাকেই বলা হলো কী না রাজাকার! বড়ই বিচিত্র, আজিব কারবার। 

আমাদের দেশে যে কয়জন গুণী ‘সিনেমা মেকার’ ছিলেন বা রয়েছেন, তার প্রথম সারিতেই খান আতা’র স্থান। আর সুরকার ও শিল্পী হিসেবেও তিনি প্রথমসারির মানুষ। সব ‘গুণী’ই মানুষ হয়, তবে সব মানুষই ‘গুণী’ হয় না, খান আতাও তাই। তর্ক বা বিতর্ক কাম্য হলেও কুতর্ক থেকে দূরে থাকাই সমীচীন। কুতর্ক না থামালে নগরের আগুন দেবালয়ও স্পর্শ করবে। সুতরাং কুতর্কের নামে নগরে আগুন না লাগানোই ভালো। 

অবশ্য বলতে পারেন, ভালো-মন্দ বিষয়টি আপেক্ষিক। এই মুহূর্তে যা ভালো পরমুহূর্তে তা খারাপ। সময়ের ওপর নির্ভর করে অনেক ভালো-মন্দের বিষয়। ছোট বেলায় বিড়াল আমার খুব প্রিয় ছিল, এখনও আছে। তখন মা থাকতেন ‘ডিপথেরিয়া’র ভয়ে। সময়ের ফেরে জানা হলো, বিড়াল থেকে ওই রোগ হওয়ার কোনোও সম্ভাবনা নেই। ‘মা’ আধুনিক, সময়ের সাথে ‘টিউনড’। সুতরাং এখন মা’ও আছেন এবং ‘ম্যাঁও’ আছে। অবশ্য কারও কারও সময়ের সাথে চলার ক্ষমতা নেই। তাদের মাথায় বিড়ালের মতোই গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকে ‘ডিপথেরিয়া’ জাতীয় চিন্তা। ঠিক খান আতা’র সেই গানের মতন, ‘এ খাঁচা ভাঙব আমি কেমন করে’। 

চার

অনেকে বলেন ‘সিনহা’ ইস্যুকে ‘টিস্যু’র মতো ঝেড়ে ফেলতেই খান আতা বিতর্ক শুরু। খালেদা জিয়া’র গ্রেফতারি পরোয়ানাও তাই। রাজনীতি থাক; আমি ছা-পোষা মানুষ এসব রাজ-রাজড়ার নীতি নিয়ে মাথা ঘামাতে চাই না। এমনিতেই আমাদের দেশে ইস্যু’র অভাব নেই। একটি কিছু ঘটতে না ঘটতেই আরেকটি হাজির। গণমাধ্যমের অনেক ‘রিপোর্টার’ বলেন ভাইরে, ইস্যু’র চাপে অনেক সময় ‘হিসু’ করার ‘টাইম’ থাকে না। চাপ আসলেই ভয়াবহ জিনিস। চাপের চোটে কোনো কিছুই ঠিক থাকে না। যেমন থাকে না গোপাল ভাঁড়ের।

পুরানো গল্পটা আবার বলি। গোপালের গরু হারানোর গল্প। গরু খুঁজতে হয়রান গোপাল বাড়ি ফিরেই দাওয়ায় বসে পড়ল। বাপের ‘হাতে হ্যারিকেন অবস্থা’ দেখে ছেলে সামনে যেতেই গোপালের হাঁক, এক গ্লাস ‘জল’ দে তো ভাই। 

ঘর থেকে গিন্নি চেচিয়ে উঠল, মিনসের কী মাথা খারাপ হলো গো, ছেলেকে বলছে ভাই। 

গরুর শোকে বিপর্যস্ত গোপালের পর্যুদস্ত প্রত্যুত্তর, গরু হারালে এমনি হয় মা। 

গরু হারালে মানে চাপে আর কী, এমন অবস্থাই হয়, হিতাহিত জ্ঞান থাকে না। তখন হয় ‘বাছা, আপন প্রাণ বাঁচা’ অবস্থা। সুতরাং যেখানে গোপালেরই এই অবস্থা, তখন অন্যদের দোষ দিয়ে আর লাভ কী।


মহাঅপরাধের নাম মিয়ানমার।আবু জাফর মাহমুদ

শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত ১৮ আগস্ট প্রথমবারের মত রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ভাষণ দিতে এসে দাবি করেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে আর কোনো দমন অভিযান চালানো হয়নি। একই কথা বলেছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উপদেষ্টা ।এই  বক্তব্য নাকচ করে কফি আনান বলেন, সহিংসতা যদি বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে এখনো দলে দলে মানুষ কেন দেশ ছাড়ছে? এর কারণ কি ক্ষুধা, সন্ত্রাসী দলের তৎপরতা, নাকি রোহিঙ্গাদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ভয়? কফি আনান জোর দিয়ে বলেন, কারণ যা-ই হোক, সহিংসতা বন্ধ করতে হবে।এদিকে এইচআরডব্লিউ বলছে, ৫ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত ৬৬টি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার প্রমাণ তাদের হাতে থাকা স্যাটেলাইট ছবিতে রয়েছে।
এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিভাগের উপ পরিচালক ফিল রবার্টসন বিবৃতিতে বলেন, রাখাইনের সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কেন পালিয়ে বাংলাদেশে গেছে, ওই স্যাটেলাইট ছবিতেই তা স্পষ্ট।তিনি বলেন, “বার্মিজ মিলিটারি শয়ে শয়ে রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে; হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা পালাতে বাধ্য হয়েছে।”   
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে চলমান সব ধরনের সামরিক সহযোগিতা চুক্তি পর্যালোচনা করার হুমকি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সেইসঙ্গে মিয়ানমারের সেনা প্রধানসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সব ধরনের আমন্ত্রণ স্থগিত করেছে ইউরোপের দেশগুলোর এই জোট।সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নকারীদের বিচার করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, “নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগের আলোকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান এবং জ্যেষ্ঠ অন্যান্য সেনা কর্মকর্তাদের সব আমন্ত্রণ স্থগিত করবে। পদক্ষেপগুলো নেয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।”
এছাড়া, মিয়ানমারে সঙ্গে ইউরোপের দেশগুলোর রয়েছে যেসব প্রতিরক্ষা চুক্তি, তা পর্যালোচনার কথাও জানিয়েছে ইউরোপীয় কাউন্সিল।
রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের তথ্য অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। তবে ২৮ দেশভুক্ত ইইউ তা মেনে নেয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, “রোহিঙ্গাদের ওপর ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন, নিপীড়ন ও বর্বর হামলার বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। এগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করতে হবে। এর অংশ হিসেবে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের তথ্যানুসন্ধান মিশনকে অবাধে অবিলম্বে রাখাইনে তদন্তের সুযোগ দিতে হবে।”  
বিবৃতিতে বলা হয়, “রাখাইনে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভয়াবহ। এখনও সেখানে অগ্নিসংযোগ, জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। নির্বিচারে গুলি করা হচ্ছে, বসানো হয়েছে স্থলমাইন। নারীদের ওপর নিপীড়ন চলছে। এটা মেনে নেয়া হবে না এবং অবিলম্বে অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। স্বল্পতম সময়ের মধ্যে ৫ লাখের বেশি মানুষের দেশত্যাগ দৃঢ়ভাবে এ ইঙ্গিত দেয়, সংখ্যালঘুদের বিতাড়নের জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে এসব করা হয়েছে।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “শরণার্থীদের নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে ফিরিয়ে নিতে হবে। রাখাইনে জাতিসংঘ, রেডক্রসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অবাধে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ পূর্ণ বাস্তবায়ন তথা দেশহীন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে। এ কাজে তারা মিয়ানমার সরকারকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের তাদের আদি নিবাসে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক তৈরির জন্য নেপিডোকে পরামর্শ দেয়া হয়। কঠিন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ গঠনমূলক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে দেশটির প্রশংসা করা হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিবৃতিতে।
বাংলাদেশ সফররত মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আহমদ জাহিদ হামিদি আজ কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বলেছেন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব।আজ সকালে কক্সবাজার পৌঁছে তিনি ক্যাম্পের বিভিন্ন ব্লক ঘুরে দেখেন এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় মালয়েশিয়ার মানবউন্নয়নমন্ত্রী রিচার্ড রিওদ ও স্থানীয় পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।
মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ একা নয়। নতুন করে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা


জীবহত্যা মহাপাপ : রোহিঙ্গারা কী জীবের বাইরে?

শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭

Picture

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতোমধ্যেই নারী ধর্ষণের যথেষ্ট আলামত পেয়েছে। শিশু নির্যাতনের খোঁজ অবধি পেয়েছে। কিন্তু জোরালো তেমন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, মিয়ানমার সরকার বলছে, রাখাইনরাজ্যের নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের সংবাদ সঠিক নয়, মিথ্যে গুজব। তাহলে কোন সুখে লাখো রোহিঙ্গা নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে বাংলাদেশে আসছেন! ধর্ম নিয়ে কোনো বিতর্ক নয়। ধর্ম বিতর্ক করার জিনিসও নয়। তারপরও একটি জিনিস বারবার অন্তরে খোঁচা দিচ্ছে। বুদ্ধদেব জীবনভর যে মহাবাণী প্রচার করে গেছেন, তার মাঝে অহিংসা পরম ধর্ম, জীবহত্যা মহাপাপ, ইত্যাদি উক্তি কালজয়ী হয়ে আছে। প্রশ্ন হলো, রোহিঙ্গারা কি তাহলে জীবের বাইরের কিছু? নাকি বুদ্ধদেবের এ মহাবাণী তাদের জন্য নয়?

আমরা বিশ্বাস করি, ধার্মিক ব্যক্তি কখনও সন্ত্রাস হতে পারে না। কারণ ধর্ম ও সন্ত্রাসের মাঝে রাতদিনের ফরক। তাই আপনি যে ধর্মেরই হোন না কেনো, ধার্মিক হোন। কোনো ধর্মই তার অনুসারীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেয় না। তাই আপনি ধর্মের বুলি উচ্চারণ করে সন্ত্রাসী করলে মনে করা হবে ধর্মের পোশাক পরে আপনি অধর্ম করছেন। ধর্ম নিয়ে সংঘাত আরম্ভ করছেন। কোনো ধর্মই এরূপ কর্মকাণ্ডের অনুমোদন দেয় না। ইরশাদ হচ্ছে ‘যে ব্যক্তি প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে, সে যেনো সব মানুষকেই হত্যা করলো। আর যে কারোর জীবন রক্ষা করে, সে যেনো সবার জীবন রক্ষা করলো। (সুরা মায়িদা : ৩৩)। তাছাড়া মানবতার নবী (সা.) বিদায়হজের ভাষণে বলেছেন সাবধান! ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি কোরো না। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে।’ আরও বলেছেন ‘কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করবে না।

রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রতিবাদে ইতোমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, জাতি, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এরপরও এখনও রোহিঙ্গা মুসলমানরা নির্যাতিত হয়ে পালিয়ে আসছে নাফনদীর তীরে। বিভিন্ন গণমাধ্যমই এর বড় সাক্ষী। এই হত্যাযজ্ঞ মানবতাহীন কাজের নিন্দাসহ কার্যকরী স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়া দরকার। মধ্যযুগীয় বর্বরতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রয়োজন। আপন বিবেককে জাগ্রত করা দরকার। সর্বোপরি আগত রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসা চাই। সরকার প্রধানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমার সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসনে তৎপর হওয়া আমাদের ইমানি দায়িত্ব ও কর্তব্য।

লেখক : শিক্ষার্থী, গওহরডাঙ্গা মাদরাসা, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ


সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী যুদ্ধের বিপরীত যাত্রা।আবু জাফর মাহমুদ

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

পাকিস্তানের মাওলানা হাফিজ সাঈদকে গ্রেফতার করতে ও্যাশিংটন ১০মিলিয়ন মার্কিণ ডলার ঘোষণা জারির পর জাতিসংঘ তাকে এবং তার দল জমাতে দাওয়াকে নিষিদ্ধ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে।পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান সরকার তাকে গৃহবন্দী করে জানিয়ারি মাসে।তাকে এন্টি টেরোরিজম এক্ট(আটা)র ধারায় আটক দেখানো হয়েছে। মনে করা হচ্ছে আমেরিকার মন রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত গিলেছিলো পাকিস্তান।

এদিকে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষ দুদিন পর অর্থাৎ ১৫ই অক্টোবর রোববার হাফিজ সাঈদ ও তার দলের বিরুদ্ধে দেয়া সন্ত্রাসের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।সম্ভবতঃ জাতিসংঘ তাকে শীঘ্রই অভিযোগ মুক্ত করতে চলেছে।পাঞ্জাব সরকারের এক কর্মকর্তা সুপ্রীম কোর্টের একটি রিভিউ বোর্ডকে জানিয়েছেন, প্রাদেশিক সরকার হাসিজ সাঈদ এবং তার দলকে সন্ত্রাসের অভিযোগ তালিকায় এবার আর অন্তর্ভূক্ত করেনি।  

১৩ই অক্টোবর শুক্রবার তার আইনজীবী এ কে ডোগার জানিয়েছেন পাঞ্জাব সরকার তার ডিটেনশনের মেয়াদ আরো  ৩মাস দীর্ঘ করেছে।তিনি দাবি করেন, যেহেতু তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ নেই তাকে এবং তার ৪ সঙ্গী আব্দুল্যা ওবায়েদ,জাফর ইকবাল,আব্দুর রহমান আবিদ এবং কাজী কাশিফ নিয়াজকে মুক্তিদেয়া হউক। লাহোর হাইকোর্ট এই আবেদনের সুনানী আশা করছে এবং সাঈদ ও তার দলের বিরুদ্ধে উত্তাপিত অভিযোগের প্রমাণ দাখিল করতে নির্দ্দেশ দিয়েছে।সন্ত্রাসের প্রমাণ হাজির করা সম্ভব হয়নি।বিচারপতি মুজাহির নাখভি আগেই সরকার পক্ষকে সতর্ক করে রেখেছিলেন, তথ্যপ্রমাণাদি হাজির করতে অপারগ হলে সাঈদকে তিনি মুক্তির আদেশ দেবেন।   

২০০৮সনে মোম্বাই সন্ত্রাসের জন্যে তাকে অভিযুক্তকারী ভারত-আমেরিকা বলয় নি;সন্দেহে এই বাস্তবতায় বড় শব্দ করার যুক্তি হারিয়ে ফেলছে।পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের অভিযোগে চাপে রাখার কৌশলের বেড়াজাল থেকে বের হবার এই ঘটনা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতির অনেক ঘটনা বিশ্লেষণে সহায়ক হবে আশা করি। এতে বিশ্বপরিস্থিতিতে নয়ামেরুকরণের একটা আভাসও মিলে।  

সন্ত্রাসবাদের অজুহাত খাড়া করে কোন কোন দেশকে বা কোন দেশের সরকারকে চাপের মধ্যে ফেলে সরকার পতন করানো বা সরকারপ্রধানকে হত্যা করার ঘটনা কয়েক দশকে বিশ্বের দেশে দেশে দেখা গেছে।অহরহ এই ঘটনা ঘটছে।জনপ্রিয় দেশপ্রেমিক নেতাদেরকে হত্যা করে হত্যাকারীদের অনুগত কাউকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সরকারের।

 আমেরিকায় ইলেক্টরেল ভোটারদের বিশেষ কৌশলে ধনবীর ডোনাল্ড ট্রাম্ফকে নির্বাচিত প্রেসিডেণ্ট ঘোষণা দেয়ার পর থেকে তিনি হোয়াইট হাঊসের প্রধান ক্ষমতাধর আইকন হলেন।যাকে ইচ্ছে তাকে ধমক দেন,যাকে ইচ্ছে তাকে বরখাস্ত করেন।যেখানে ইচ্ছে সেখানে বোমা ফেলার আদেশ দেন।পাকিস্তানকে ধমক দেয়ার পর আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র এই দেশ ঘাড় সোজা রেখে শিং উঁচু করে আভাস দিয়েছে আর কিছু না হোক আফগানিস্থানে আসা যাওয়ার পথ বন্ধ করে দিলাম তাহলে।

 মোদীর সাথে ফিস ফিস করে বেশী মদ গিলোনা।জঙ্গিইহুদী নেতাদের চেয়েও পিছলা এই জঙ্গিহিন্দুরা।মোদী চীনের সাথে আপোষ করতে অন্ধকারে যোগাযোগ রাখে।ওদিকে তোমাকে দেখায় পীরিতের অভিনয়। সোজা হয়ে যাও পুরানা আত্নীয়তা রাখো যতটুকুন দরকার, বেশী হুমকি ধমকি দিওনা।তোমাকে না হলেও পাকিস্তানের এখন চলে।বরঞ্চ পাকিস্তান হারালে তুমি অনেক কিছু হারাবে।

মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সবাই দেখলো।জাতিসংঘ দেখলো।কেবল দেখলেনা তুমি,মোদী এবং  নেতানিয়াহু-এই তিন মানব।তোমাদের মুখে সন্ত্রাস-বিরোধী যুদ্ধ সম্পুর্ণ বেমানান।দুনিয়া কি দেখছেনা সন্ত্রাসের উৎস শক্তি কারা?কারা সন্ত্রাসের পৃষ্টপোষক? কারা সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে শসস্ত্র করে এবং সন্ত্রাসের ফলে আর্থিক,ভৌগোলিক ও বাণিজ্যিক লাভ করছে? বিরান করছে সম্পদের অধিকারী বিভিন্ন দেশ জাতি সমাজকে। দুর্বল লোভী নেতৃত্বকে কিনে নিয়ে নিঃস্ব করছে গরীবদেরকে।

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধের নামে দ্বিমুখীনীতি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জঙ্গিদেরকে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং কেজিবির সাবেক পরিচালক ভ্লাদিমির পুটিন।এই অস্পষ্টতা বিদায় করতে এবং সন্ত্রাস নির্মূলের লড়াইকে জোরদার করতে যৌথ প্রচেষ্টার আহবান জানান তিনি।রাশিয়ার আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের ১৩৭তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে ১৪ই অক্টোবর শনিবার এই মত প্রকাশ করেন।

তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন, দ্বিমুখীতাবাদ বাদ দিয়ে এবং গোপন এজেন্ডা গ্রহন না করেই সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই জরুরী।তিনি মন্তব্য করেন,কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক  স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত হবেনা।তিনি বলেছেন,কু-মতলবে বিদেশী হস্তক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করেছে,সন্ত্রাসবাদে ঠেলে দিয়েছে।

 উল্লেখ করা দরকার,দ্য ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন বা আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়ন গঠিত হয়েছিলো ১৮৮৯সনে।এবং ১৭৩টি দেশের সাংসদ এবং ১১টি আন্তঃসংসদীয় প্রতিষ্ঠানকে একত্রিত করেছে।আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, জাতি গোষ্ঠীর মধ্যেকার সম্পর্ক উন্নয়ন,মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো এবং সাংসদীয় ধারার উন্নয়নে অবদানের নীতিতে বিশ্বাসী এই প্রতিষ্ঠান।বাংলাদেশের সাবের হোসেন সভাপতি থাকায় এই মহান অনুষ্ঠানের তিনি সভাপতিত্ব করেছেন। রাশিয়ার উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের স্পীকারগণ এতে উপ্সথিত ছিলেম।রাশিয়ান প্রেসিডেণ্ট আই পি ইউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরীকে অর্ডার অব ফ্রেন্ডশীপ এওয়ার্ড তুলে দিয়ে সম্মানিত করেন।    

আজ ভারত বাংলাদেশ মিয়ানমার অঞ্চল জুড়ে যে রাষ্ট্রীয় নাশকতা ও সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে তাতে ভুক্তভোগী সাধারণ নীরিহ মানুষ।সরকারগুলো পত্রিকা টেলিভিশনে বলে যাচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিজ্ঞার কথা। অথচ তারা একত্রে একই নীতিতে সন্ত্রাসী ভয়ানক অপরাধী।মাত্র কয়েকজন প্রভাবশালী বা ক্ষমতাধর মানুষের সিন্ডিকেটের এই অমানবিক তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ- ধর্ম জাতি নির্বিশেষে।তাদের এই সন্ত্রাসী জঙ্গিবাদী অপরাধের পেছনে কারা সমর্থন জোগাচ্ছে?   

এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেণ্ট যে নীতির কথা ঘোষণা দিয়েছেন এবং বিশ্বরাজনীতির যে চিত্র তুলে ধরেছেন,তাতে বাংলাদেশ এবং তার আশপাশের জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে।ইরান সিরিয়ার মানুষের চিন্তার প্রতিফলন হয়েছে।তার এই চিন্তার অনুভূতি কে স্বাগতঃ জানাই।কথা হচ্ছে রাষ্ট্রনায়ক বা সরকার প্রধানরা যে রাজনীতির গুরুত্ব প্রকাশ করেন তাতে থাকে তাদের জাতীয় স্বার্থের হিসেব নিকেশ।এই হিসেব নিকেশের সাথে তাল মিলিয়ে ভুক্তভোগী জাতিগুলো তাদের নেতা এবং রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিজ নিজ জাতির স্বার্থে গড়তে পারলে একটি নয়া বিশ্বধারা চালু করা সম্ভব হতে পারে। 


মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে চাই = সিরাজী এম আর মোস্তাক

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ স্বাধীন করে যেভাবে চির স্মরণীয় হয়ে আছেন, তেমনি আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এবং শাসন ক্ষমতায় আজীবন চাই। এটি আষাঁঢ়ে প্রত্যাশা নয়। এখনই উপযুক্ত সময়। শুধু নির্বাচনে জয়ী হয়ে নয়, বর্তমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে স্থায়ীভাবে ক্ষমতা লাভের সুযোগ এসেছে। মায়ানমারের সামরিক জান্তা আরাকানের ইতিহাস-ঐতিহ্য প্রত্যাখ্যান করে রোহিঙ্গাদের প্রতি জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। এটি আর মায়ানমারের নিজস্ব বিষয় নয়, বাংলাদেশের জন্য কঠিন বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে। বাংলাদেশ রীতিমতো সার্বভৌমত্ব সংকটে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ববিবেক জাগ্রত হয়েছে। মায়ানমারের ঘাতকদের ধিক্কার জানাচ্ছে। বিশ্ববাসীর এ প্রতিবাদ বাংলাদেশের জন্য সুবর্ণ সুযোগ। বিশ্ববিবেকের সমর্থন নিয়ে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানস্বরূপ আরাকান বিজয়ের এখনই উপযুক্ত সময়। মাননীয় নেত্রীকে চাই, আগামী নির্বাচন ইস্যু বাদ দিয়ে আরাকান দখলে দেশবাসীকে সংগঠিত করবেন এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের শাসনকর্তা হয়ে আজীবন আসীন থাকবেন।
শুধুমাত্র বিশ্ব মানবতার স্বার্থেই আরাকান দখল করতে হবে। এজন্য দুটি বিষয় অতি জরুরী। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো এবং দেশের ষোল কোটি নাগরিককে সুসংগঠিত করা। বাহ্য দৃষ্টিতে কতিপয় পরাশক্তির ধৃষ্টতা পরিলক্ষিত হলেও বিশ্বমানবতার সামনে তাদের স্থায়ীত্ব একেবারেই ক্ষীণ। তাই অশুভ পরাশক্তি জুজুর ভয়ে ভীত না হয়ে বিশ্ববিবেকের সমর্থন নিয়ে দ্রুত আরাকান অভিযান করা উচিত।


আরাকান অভিযানে প্রথমত আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী ঢেলে সাজাতে হবে। গতবছর ০১ জুলাই, ২০১৬ তারিখে গুলশান হলি আর্টিজান হামলায় ব্যর্থ সেনাভিযানের জন্যই বিদেশি নাগরিকগণ হত্যার শিকার হন। সেদিন মাত্র ৬/৭ জঙ্গি গ্রেনেড মেরে ২ পুলিশ হত্যা ও ৪০ পুলিশকে আহত করে। তারপর জঙ্গিরা হোটেলে প্রবেশ করে আশ্চর্য্যজনকভাবে ১৫ বন্দিকে নিরাপদে ফেরত দেয়। তখন জঙ্গিদেরকে সারারাত অবকাশ দেয়া হয়। তারা সারারাত ২০ বন্দীকে নির্মমভাবে হত্যা করে হোটেলের রক্তাক্ত মেঝেতে নিরবে কাটায়। পরদিন সকালে অপারেশন থান্ডারবোল্ট শুরু হলে জঙ্গিরা নিহত হয়। জঙ্গিদেরকে সারারাত অবকাশ দেয়া ও দেরিতে অপারেশন পরিচালনায় বিশ্ববাসী অবাক হয়। সম্প্রতি আরো বহু ঘটনায় দেখা যায়, পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মাঝে বন্দুকযুদ্ধে শুধুমাত্র পুলিশের কাছে আটক ব্যক্তিরাই নিহত হয়। এতে আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের ভিত্তিহীন জঙ্গি-সন্ত্রাস নিকৃষ্টভাবে প্রচার হয়েছে। তাইতো মায়ানমারের মতো স্বল্প ক্ষমতার দেশও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানার চেষ্টা করেছে। তারা রোহিঙ্গাদেরকে সংখ্যালঘু মুসলিম না বলে বাঙ্গালি জঙ্গী-সন্ত্রাসী নামে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। অন্যদিকে ভারতও সেদেশের বাঙ্গালি ও রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার চেষ্টা করছে। এজন্য এখনই প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তিমত্তা দেখাতে হবে। সফলভাবে আরাকান দখল করে দেশের আয়তন বৃদ্ধি ও দৃঢ় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
একইভাবে আরাকান বিজয়ে বাংলাদেশের ষোলকোটি নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সকল নাগরিকের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে এদেশের সাড়ে সাত কোটি নাগরিককে যেভাবে সম্পৃক্ত করেছিলেন, এখনও তাই করতে হবে। আরাকান জয়ের পর ষোলকোটি নাগরিকের মাঝে বৈষম্য করা যাবেনা। প্রতিটি নাগরিককে বীরযোদ্ধা ঘোষণা করতে হবে। যেমনটি ১৯৭১ এর পরে করা হয়নি। তখন ৩০লাখ বাঙ্গালি প্রাণ বিসর্জন করলেও তাদেরকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। ফলে আজও বাংলাদেশে লাখো শহীদের বংশ ও পরিবারের কোনো অস্তিত্ব নেই। শুধুমাত্র দুই লাখ ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকাভুক্তদের সন্তান-সন্ততিদেরকে মুক্তিযোদ্ধা কোটাসুবিধা দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশিদেরকেই ঘাতক, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী সাব্যস্ত করে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশে মারাত্মক বৈষম্য, অনৈক্য ও ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়েছে। আরাকান বিজয়ের পর এসকল বৈষম্য বাতিলের দৃঢ় ঘোষণা দিতে হবে। তবেই বাংলাদেশের ষোলকোটি নাগরিক ঐক্যবদ্ধ হবে। লাখ লাখ প্রত্যাখ্যাত রোহিঙ্গাদের নিয়ে আরাকান জয় করবে।
অতএব আমরা মাননীয় নেত্রীকে চাই, তিনি দেশের সার্বভৌমত্ত্ব রক্ষায় অযথা সময় নষ্ট না করে আরাকান দখলে মনোনিবেশ করবেন। বাংলাদেশে আর কোনো জঙ্গি-যুদ্ধাপরাধী না খুঁজে, সকল নাগরিককে আরাকান অভিযানে সুসংগঠিত করবেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমরা আরাকান দখলে জীবন-পণ লড়াই করবো। মাননীয় নেত্রীকে একক, অদ্বিতীয় ও স্থায়ী শাসকরূপে গ্রহণ করবো। তিনি বাংলাদেশের আয়তন বৃদ্ধি করে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের কর্ণধাররূপে আজীবন থাকবেন, এটাই চাই।
শিক্ষানবিস আইনজীবী, ঢাকা।


টরন্টোতে একই দিনে একাধিক অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্কের সমাধান কী?

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

ড. মঞ্জুরে খোদা (টরিক) : টরন্টোতে একই দিনে বাঙালিদের একাধিক অনুষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক চলছে। কারণ একই দিনে বিভিন্ন সংগঠন/ব্যক্তির একাধিক অনুষ্ঠান হলে দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি কমে যায়। এই ক্ষোভটা কেবল লক্ষ্য করেছি সংগঠক ও আয়োজকদের মধ্যে। কিন্তু আপনারা কি একবারও আমন্ত্রিতদের বিড়ম্বনার কথা ভেবেছেন? যখন কোন আয়োজনে উদ্যোক্তারা যার যার পরিচিত ও ঘনিষ্টদের অনুষ্ঠানে নিশ্চিত উপস্থিতি আশা করেন, তখন কেমন বিপত্তি-বিড়ম্বনাটা দেখা দেয়? সেটা নিয়ে মান-অভিমান, ভুল বুঝাবুঝি ও কেমন বিরূপ সম্পর্ক হয় তৈরী হয়, সেটা ভেবেছেন..?
আমার বিবেচনা, কমিউনিটির অবয়ব বিবেচনায় একাধিক অনুষ্ঠান হতেই পারে। দর্শক-শ্রোতা-আমন্ত্রিতারাই তাদের রুচি, সংস্কৃতি, মানসিকতা অনুযায়ী সেটা ঠিক করে নেবে, কে কোথায় যাবে। তাতে আশা করি আয়োজক/উদ্যোক্তাদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরী হবে এবং অনুষ্ঠানের মানও বাড়বে। দর্শক-শ্রোতারাও তখন যে কোন অনুষ্ঠান অনেক বেশী উপভোগ করবে!
বৃহত্তর টরেন্টেতে প্রায় ৫০ হাজার বাঙালি বসবাস করে। সেখানে একই দিনে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ৪ টি অনুষ্ঠান হলে তো কোন সমস্যা দেখি না। ৫০ হাজারের মধ্যে ১ হাজার বাঙালিও যদি ৪টি অনুষ্ঠানে ভাগ হয়ে যায়, তাতেও ২৫০ জন করে গড়ে উপস্থিত থাকবে। আর দুই হাজার হলে- সেটা হবে গড়ে ৫০০ করে। সেটাই বা কম কিসে? আর কর্মকান্ড বাড়ালে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যাও বাড়বে। এখানে যে জায়গাগুলোতে এই অনুষ্ঠান হয়, তার সব জায়গায় ৫০০ মানুষের বসার ব্যবস্থা নেই। তাহলে সমস্যা কোথায়? গুটিকতক মানুষের/পরিচিতের মধ্যে এই আয়োজনগুলো সীমাবদ্ধ না রেখে, তার পরিসরকে আরও বৃদ্ধি করতে হবে। পরষ্পর অভিযোগ না করে এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।

Picture
আমি তো বাহবা প্রদান করি বাঙালি কমিউনিটিকে, ভাগ্যিস সংগঠনগুলো একই জায়গায় একই এসময়ে যার যার অনুষ্ঠান আহ্বান/ঘোষণা করেনি! সেটাই তো আমাদের সৌভাগ্য! সেটা হলে তো লঙ্কাকান্ড! অনেক বাঙালি একসাথে থাকবে, দলাদলি, লাঠালাঠি করবে না, এটাই বা কম পাওয়া কিসে? এর জন্য আমাদের শুকরিয়া আদায় না করে, বরং ক্ষোভ প্রকাশ করছি! আসলে যে কোন বিষয়ে আমরা একক কৃতিত্ব আশা করি। অনেকের মধ্যে প্রতিযোগিতা করতে চাই না, নিজেদের যোগ্যতা-শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করতে অনিচ্ছুক।
তারপও কমিউনিটির আয়োজক, সংগঠক ও ব্যক্তিত্বরা যদি মনে করেন একই দিনে সমমনা ও সমধারা বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠান আয়োজন করলে, তাতে বিশৃংখলা তৈরী হয় এবং সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভেদ-বিভ্রান্তি বাড়ে, তাহলে তা নিয়ন্ত্রনে একটা “প্রোগ্রা মনিটরিং কমিটি/সেল” গঠন করা যেতে পারে। তাতে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরী হতে পারে এবং কমিউনিটিতে শৃংখলা ফিরে আসবে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সেন্টার বা সবার সাথে আলোচনা সাপেক্ষ কোন একটি সংগঠনকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। যারা অনুষ্ঠান করবে তাদের আবেদনের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সেই কমিটি/সংগঠন এই বিষয়ে ক্রমবিন্যাসের সিদ্ধান্ত জানাবে।
অনুষ্ঠান হোক, অনুষ্ঠান আরও বাড়ুক, দর্শক-শ্রোতা বাড়ুক, অনুষ্ঠানের মানও বাড়ুক! শত ফুল ফুটতে দাও, বৈরিতা ছাপিয়ে কমিউনিটির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পাক!
লেখকঃ প্রাবন্ধিক-গবেষক, এবং সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।


আপ্লুত হৃদয় = লেখক : এস ই ইসলাম

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

আছো তুমি আখিঁর ও মাঝে
মম হৃদয় বানী সাঁেজ,
বাজে তান পুরাটার তারে।
তব আখিঁর আবেদন,
পেয়েছে পূর্ণতা মম প্রাণে।
আকূল ও আবেগে আপ্লুত হৃদয়ে,
প্রভাত প্রাতে খুজেঁছি তোমারে,
হে মোর প্রিয়া, প্রিয়া।
নিশিতে আখিঁর ও ভুবনে রবে
রাখিবে তোমার আচঁলের ছায়ে
সৌরভিত হবে নিবির পূর্নিমাতে
একাকি জাগিবে তব অঙ্গঁনে
ভাবনায় পাবে সুবাসিত সঙ্গ।
মিটিতে ও পারে একাকিত্ব।


বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাঁ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার---এস ইবাদুল ইসলাম

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭

বলপূর্বক বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গাঁ নাগরিক, যাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে আশ্রয় দেওয়া হয় বাংলাদেশে। সেই রোহিঙ্গাঁ নাগরিকদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আর্ন্তজাতিক কুটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে আর্ন্তজাতিক চাপ সৃষ্টি অব্যহত রাখতে পরার্মশ দিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একই সাথে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে অবৈধ অভিবাসি হিসেবে চিহ্নিত করা অপচেষ্টার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা চ্যালেঞ্জকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপুর্ন চ্যালেজ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয় কমিঠির বৈঠকে।
সংসদ ভবনে বুধবার কমিটির সভাপতি ডা: দীপু মনির সভাপতিতে¦ অনুষ্টিত সভায় এ পরামর্শ দেওয়া হয়। কমিটির সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী পররাষ্ট প্রতিমন্ত্রী মো: শাহরিয়ার আলম, মোহাম্মদ ফারুক খান, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স এবং বেগম মাহজাবিন খালেদ সভায় অংশ গ্রহন করেন। সভায় রোহিঙ্গা সর্ম্পকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মিয়ানমারের অভ্যান্তরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর সাম্প্রতিক নৃশংস নির্যাতনের প্রেক্ষিতে আবারও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহনকরেছেন। জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ব্রিটেন, সুইজারলেন্ড, ইউনেসকো, ইউএনএফপিএ সহ বিভিন্ন দেশ ও আর্ন্তজাতিক সংস্থা থেকে প্রতিনিধি কর্তৃক পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের কর্তৃক বলপূর্বক মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের আশ্রয় শিবির পরির্দশন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।এছাড়া যে সকল রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে বসবাস করছে তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং নতুন করে যারা আসছে তাদেরও ফিরিয়ে নিতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার পরার্মশ দেওয়া হয়।এবং প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ও ভারত সহ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে প্রতিবেশী সুলভ বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সর্ম্পক বজায় রাখার ওপর ও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সুতরাং আমি লেখক হিসাবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির প্রতি পাঠক সহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি যে বন্ধু প্রীতি দেশ গুলো যাতে আমাদের বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা ফেরত কার্যক্রম কে ত্বরান্বিত করতে অগ্রনী ভুমিকা রাখেন। এতে করে নিপিড়িত নির্যাতিত রোহিঙ্গারা ও তাদের নিজ দেশে পৌঁছতে পারবে। সেটাই হবে বর্তমান প্রেক্ষাপটের ন্যায্য সমাধান। আর এই সমাধানটি হয়ে গেলে এটি ইতিহাসের পাতায় মানবতার বিশাল জয়’ বলে পরিগনিত হবে।