Slideshows

ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার
ব্যানার

পরিচালনা পরিষদ 

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি

ওসমান গনি
 

প্রধান সম্পাদক

হাকিকুল ইসলাম খোকন
 

সম্পাদক

সুহাস বড়ুয়া হাসু
 

সহযোগী সম্পাদক

আয়েশা আকতার রুবী

লেখকদের কলাম

আশ্রিত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চায়---এস ই ইসলাম

সোমবার, ০২ অক্টোবর ২০১৭

লেখক আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পরিদর্শনকালে দেখতে পান দুর্বল হয়ে আসছে রোহিঙ্গা নারী-শিশুরা। নবজাতক থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি। এমনিতেই স্মরণার্থীদের মধ্যে পুষ্টিহীন শিশুর সংখ্যা বেশি। নবজাতকদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশুই মাতৃদুগ্ধ পাচ্ছে না। আবার অপুষ্টির শিকার হয়ে অনেক মা এখন মৃত্যু শয্যায়। এর সাথে যোগ হয়েছে সময় মতো খাবার না পাওয়া। ত্রাণের অপ্রতুল্যতা। স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিমান সম্পন্ন খাদ্যের অভাব। পরিবেশগত বিষয় তো আছেই। স্বজন হারানোর যন্ত্রণা, নির্যাতন আর বীভৎসতা রাতদিন কুরে-কুরে খাচ্ছে অনেক নারীকে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা কেহই ভালো নাই। দুঃখ, কষ্ট, আর যন্ত্রণায় তাদের প্রতিদিনের সূর্যাস্ত হয়। যদিও বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ ও সেনা তৎপরতার সুফল পাচ্ছে রোহিঙ্গারা। রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় সেনাবাহিনী মোতায়েন পর শৃঙ্খলা আনায়ন ত্রাণ তৎপরতা ও আশ্রয়ের ক্ষেত্রে দ্রুত সুফল আসছে। উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিতরণে সেনাবাহিনীর তৎপরতা শুরু না হলে পরিস্থিতি কি অবনতি হতো তা চিন্তা করা যায় না।
সেনাবাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জন প্রতিনিধি সরকারী কর্মকর্তা, এনজিও, দেশি-বিদেশী দাতা সংস্থা ও বিভিন্ন সংগঠনেরÑসেচ্ছা সেবকরা দিবা রাত রোহিঙ্গাদের জন্য সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, ঢাকায় সফররত জাপানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াং হরি বলেছেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী নিয়ে সৃষ্ট কঠিন সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের প্রতি টোকিও’র  পূর্ণ সমর্থন রয়েছে’। বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠকের পর জাপানের মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বিষয়টি (রোহিঙ্গা) জাপানের জন্যও উৎকন্ঠার। আমরা বাংলাদেশের জন্য সহায়তাও দিচ্ছি। জাপান শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে আছে, থাকবে। সর্বশেষ ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বিশ্ব মানবতার বাতিঘর’ হিসাবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন বিশ্ব নেতাদের কাছ থেকে। ৩৬ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় শেখ হাসিনা কেবল সেই মহান নেতার কন্যা তাঁর রাজনৈতিক উত্তর সূরি হিসাবে গণ মানুষের প্রধান নেতার আসনে স্থান পাননি। তিনি জেল, জুলুম, মামলা-হামলা, হত্যা প্রচেষ্টাসহ স্বজন হারানো ও হুমকির মুখে অটল থেকে নেতৃত্বের অগ্নিপরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়েছেন।
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহসী নেতৃত্ব জনগণের কাছে আদর্শের ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই আজ মহান কাজে বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন। তাঁর মত একজন সাহসী নারীর পক্ষেই সম্ভব হয়েছে রোহিঙ্গা আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তটি। তিনি বলেছেন, আমার যতটুকু আছে তা দিয়েই আমি এই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। যদিও অনেক দেশ রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভাবছে এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
পরিশেষে, তাদের (রহিঙ্গাদের) সাথে আলাপ কালে জানতে পারলাম যে, তারা নিজ দেশে ফিরতে চায়। নিরাপদ আশ্রয় হোক তাদের। বাসযোগ্য পৃথিবী তাদের একান্তকাম্য।


চলছে অবিরাম যদিও বিদেশে রাজনৈতিক দলের শাখা আইনগতভাবে বেআইনী ! -শাহ আলম ফারুক

বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে । তবু কোন দল তা মানছে না । গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৯০(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের বিদেশে শাখা থাকা বেআইনী। এ বিধান না মানলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধনও বাতিল হতে পারে।
২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী আইনে ব্যাপক সংস্কার সাধনের উদ্যোগ নিয়েছিল ড. এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন ইসি। এ সময় ইসি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে এ সংস্কারের বিষয়ে সংলাপ করেছিল । বিদেশে দলের শাখা নিষিদ্ধের প্রস্তাব সম্পর্কে বর্তমানে ক্ষমতাসীন  আওয়ামী লীগ বলেছিল, ‘প্রবাসীদের ভোটাধিকার স্বীকার করা হবে অথচ তাদের সংগঠন করার অধিকার থাকবে না—এমন বিধান হবে অযৌক্তিক।  কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, জাসদ (ইনু) ও ইসিকে একই মত জানিয়েছিল। জাতীয় পার্টি মত দিয়েছিল অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠন এবং বিদেশে দলের শাখা বন্ধ করার পক্ষে। এ বিষয়ে সব দলের অভিমত নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিল সিপিবি। বিভাজনের কারণে বিএনপির মূল অংশ ওই সময় সংলাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি।

alt
ওই বিধান করার পক্ষে ইসির বক্তব্য ছিল, দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে রাজনৈতিক দলের দপ্তর, শাখা কিংবা কমিটিও দেশের রাজনৈতিক বিভাজনকে বিদেশের মাটিতে সম্প্রসারিত করছে। বিদেশের মাটিতে যখন সব বাংলাদেশির একাত্ম হয়ে দেশের সুনাম অর্জনের চেষ্টা চালানোর কথা, তখন সেখানে হিংসাত্মক রাজনৈতিক বিভাজন শুধু প্রবাসীদের মধ্যে সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে তা-ই নয়, বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও যথেষ্ট ক্ষুন্ন করছে।

সরকারী দল কখনো বিদেশে বিক্ষোভ পছন্দ করে না । বিরোধীরা শুধু পছন্দই করে না বরং সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। গত সাত বছর ইউরোপ থাকার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, পৃথিবীর অন্য কোন দেশের অভিবাসী বা অনাবাসীরা অহরহ বিদেশের মাটিতে আমাদের মত করে রাজনীতি করে না ! কিন্তু দরকার মত মাঝে মাঝে প্রতিক্রিয়া যে ব্যক্ত করে না তা কিন্তু নয় । হাইড পার্ক কর্ণারে সিরিয়া ইরাক লিবিয়া শ্রীলংকাসহ কত কত দেশের মানুষের হাতে প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড দেখেছি, বিক্ষুব্ধ সমাবেশ দেখেছি । কিন্তু আমাদের মত কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি  দেখিনি ।  
রাজনৈতিক দল গুলোর এমন বিদেশ কমিটি গৌরবের কিছু নয় । ইউরোপ আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে বসে কেউ দেশকে নিয়ে ভাববে না তা হয় না । কিন্তু তা বলে দেশের মত সাজ সাজ রব করে রাজনীতি করে কেমন যেন লজ্জায় ফেলে দেয় স্বদেশকে ।  কয়েকজন প্রবীণ প্রবাসীর সাথে কথা হলে তাঁরা বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার,  নির্বাচন সংখ্যালঘু সহ দুর্বল জনগোষ্ঠীর উপর হামলা, মানবাধিকার বা যে কোন  দৈব দুর্রিপাকের কোন ঘটনায় সংহতি জানাতে সমস্যা নেই । স্বাধীনতার সময় বিলাত ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তৃতীয় কেন্দ্র। সে দিন দল মত নির্বিশেষে অর্থ কড়ি দিয়ে, বিভিন্ন সভা সমাবেশ, নাগরিক উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনে ব্রিটেনের প্রবাসীরা ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল ।   কিন্তু আজ কি হচ্ছে? রাজনীতির নামে বিদেশে বসে দেশীয় কায়দায় কমিটি করে অগ্নিভাষী বক্তৃতার রাজনীত, দেশের বা ঐ দেশে বসবাসকারী নাগরিকদের উপকারে কোন ভাবেই লাগছে না, বরং নানা কাঁদা ছোড়াছোডি্র কারণে  তা অনাবাসী-প্রবাসীদের ছোট করে দেয়। সংগঠিত মতামত থাকতে পারে । তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে প্রতিবাদ নানাভাবে হতে পারে। তা বলে রাস্তায় নেমে পঁচা ডিম ও জুতা ছোড়াছোড়ি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া অশোভন ও নিন্দনীয় । দেশের রাজনীতি নিয়ে অতি মাতামতির চেয়ে বরং রওশন আরাদের মত মূলধারার রাজনীতিতে স্থান করে নিতে পারলে দেশেরও ও প্রবাসীদেরও সমূহ উপকার হোত !

শাহ আলম ফারুক : লন্ডন প্রবাসী মানবাধিকার কর্মী
আইনজীবী, সাবেক সিনিয়র তদন্ত কর্মকর্তা,
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক )
এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


সুখের দেশের অসুখের মহাউ্যসব : ভারত ই রোগীদের শেষ ভরসা = গোলাম সাদত জুয়েল

বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

আমাদের দেশের স্বা্স্থ সেবা নিয়ে গবেষনার সময় এসেছে । প্রায়ই আমরা যারা প্রবাসী দেশের মা বাবা ভাই বোন ও আত্বীয় স্বজনদের অসুখের খবর আসে । তখন আমরা শুনতে পাই ডাক্তারের কাছে অনেক কষ্টে যাবার পর ডাক্তার সাহেব এক থেকে পাচ মিনিটে রোগীকে বসিয়ে রোগ সম্পর্কে শুনার আগেই এক গাদা টেষ্ট লিখে দেন , তারপর ৫০০ টাকা ভিজিট নিয়ে একাট ডায়গনস্টিক সেন্টারের কার্ড দিয়ে সেখানে পাঠিয়ে দেন । সরল বিশ্বাসে রোগীর আত্বীয় স্বজন সেখানে যান অপ্রয়োজনীয় সব টেষ্ট করে সেখানে ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকা খরচ করে ৩/৪ দিন পর ডাক্তারের চেম্বারে আসেন । সেদিন রোগী আর ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকতে পারেন না কারন তিনি ততদিনে পুরনো রোগী হয়ে গেছেন । ডাক্তারের সহকারী তার রিপোর্ট গুলো ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে যান । মহামান্য ডাক্তার সাহেব তখন তিন জন রোগী নিয়ে বসেছেন । রিপোট দেখার পর তিনি বেশ বড় আকারের প্রেসক্রিপশন লিখে দেন ,রোগীর সাথে কোন কথা না বলে । বলতে গেলে ডাক্তার রোগীর সাথে তেমন কোন কথাও দুদিনে বলেন না । তার সহকারী চেম্বারের পাশে একটা ফার্মেসী দেখিয়ে দেন , সেখানে আরও ৫০০টাকার মেডিসিন কিনে রোগী বাড়ী আসেন । ডাক্তার সাহেব ভিজিট নিলেন ৫০০ টাকা , ডায়গনষ্টিক সেন্টার থেকে ৩০ /৪০ শতাংশ কমিশন নিলেন সেখানে পেলেন ৭০০ টাকা তারপর প্রেসক্রিসশনের মেডিসিন থেকে পেলেন আরও ১০০ টাকা সবকিছু মিলিয়ে একজন রোগীর নিকট থেকে তিনি আয় করলেন ১৩০০ টাকা । অথচ কোন রোগ ধরতে পারলেন না । ১৫ দিন পর দেখা গেল রোগীর কোন পরিবর্তন নেই । এ চিত্র বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রামের সব জায়গার । ডাক্তার রা ডায়গনষ্টিক সেন্টার খুলেন , কোন প্যাথলজিষ্ট ছাড়া , কোন একজন প্যাথলজিষ্টকে নিয়োগ দেন তার সিগনেচার ব্যাবহার করার জন্য । তিনি সিগনেচার দিয়ে টাকা পান । আনাড়ি প্যাথলজিষ্ট সহকারীরা ডায়গনষ্টিক সেন্টার চালান । কোন অনুমোদন ছাড়া এগুলো চলে আসছে দেখার কেউ নাই ।

কয়েক দিন পর রোগীর আত্বীয় স্বজন যখন দেখলেন রোগীর কোন উন্নতি হছেছ না , তখন তারা ছুটলেন ঢাকায় আরও বড় ডাক্তারের কাছে । সেখানে সব কিছু আগের মত কিন্তু একটু গোছালো ও শিক্ষিত মান সম্পন্ন । তাই রেট একটু বেশী । ডাক্তারের ভিজিট ১০০০ টাকা, টেষ্ট ৩০০০ টাকা কিন্তু মেডিসিন কেনার জন্য কোন উপদেশ কেউ দেন না । তিনি যে কোন জায়গা থেকে মেডিসিন কিনতে পারেন না । ডাক্তার আগের রিপোর্ট গুলোকে ডাষ্টবিনে ফেলে নতুন টেষ্ট করালেন , একটু অনুমানে তিনি রোগী কথা শুনলেন মিনিট দুয়েক তারপর রোগীকে ছেড়ে দিলেন । ভাগ্য ভাল হলে হয়ত রোগী ভাল হয়ে যান নতুবা আত্বীয় স্বজন রা ছুটেন ভারতের উদ্দেশ্যে । এ ঘটনা কোন একজনেন নয় , এ চিত্র প্রতিদিনের সাড়া বাংলাদেশের । আর কেউ যদি আত্বীয় স্বজনকে ইউনাউটেড , এ্যাপলো , স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করান তাহলে তাকে প্রতিদিন গুনতে হবে ৩০/৪০ হাজার টাকা , সিষ্টেম একই নানা টেষ্ট ও নানা ষ্পেশালিষ্ট দেখিয়ে তাকে ২/৩ লাখের বিল দিয়ে আসতে হবে । নানান হিডেন বিল দিবে , শুধু ভেতরে বাইরে চাকচিক্য দিয়ে মুখি মাষ্ক পরিয়ে দেখাবে আধুনিক চিক্যিসা হছেছ । কিন্তু সব অপ্রয়োজনীয় খরচ দিতে হবে রোগীর আত্বীয় স্বজনকে । কেবিনে এক প্যাকেট টিসু বস্ক দিবে আপনাকে দিতে হবে ২০০ টাকা অথচ এটা বাজারে ৭৫ টাকা হবে । এরকম উদাহরন সারা বাংলাদেশের ঘরে ঘরে । বাংলাদেশে কেউ অসুস্থ হলেও তার ভোগান্তির শেষ নেই । আর সরকারী হাসপাতাল হল শুধু থাকার জায়গা , একটা বেড পেতে পারেন সোভাগ্যবান হলে তানাহলে মেঝেতে পড়ে থাকতে হবে । ইন্টার্নি ডাক্তাররা দেখবে মেডিসিন কিনতে হবে বাইরে থেকে । স্যালাইন সহ সব গর‌ীব রোগীকে এনে দিতে হবে । সব চলবে গরীব রোগীর টাকায় , অথচ সব মেডিসিন দিতে না পারলে শুধু থাকা ছাড়া কোন কাজ নেই সরকারী হাসপাতালে । অনেক অনিয়ম ও দুর্নিতীর কেন্দ্র সরকারী হাসপাতাল । সব মেডিসিন বাইরের ফামের্সীতে চলে যায় অসাধূ হাসপাতালের কর্মচারীদের যোগসাজসে ।

গত তিন বছরে ৭১টি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আর গত পাঁচ বছরে অনুমোদন নিয়ে নগরে ক্লিনিক-হাসপাতাল গড়ে উঠেছে ২৯টি। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত অনুমোদিত ক্লিনিক-হাসপাতালের সংখ্যা ৮৭টি আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৮০টি। এই তথ্য চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ের। আমরা যারা এই নগরে বাস করি আমরা জানি এর বাইরেও বিপুল সংখ্যক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক রয়েছে। শহরের অলি-গলিতে গজিয়ে ওঠা এইসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন নেই। আর এমন অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কত তা-ও জানে না সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়।
বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সন্তুষ্ট নয় দেশের মানুষ। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর রিপোর্টের ওপরও আস্থা রোগীদের। এর ফলে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক রোগী বিদেশে চিকিৎসার জন্য যান এবং তাতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও চলে যায় দেশের বাইরে। শুধু চিকিৎসার সংকট বা চিকিৎসকদের ওপর আস্থার অভাবেই নয়, দেশের সিংহভাগ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট বাইরের দেশের চিকিৎসকরা গ্রহণ করেন না। ভুল রিপোর্ট, ভুল চিকিৎসা, রোগীদের প্রতি চিকিৎসকদের অবহেলা নতুন নয়। প্রায় প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও এই সমস্ত সমস্যা নিয়ে চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে রোগী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছেই। এই ধরনের ঘটনা শুধু যে সরকারি হাসপাতালে ঘটে তা নয়। বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতাল, যেখানে রোগী বা রোগীর স্বজনরা অন্তত অর্থের বিনিময়ে সেবা পাবেন এমন আশায় যান সেখানের অবস্থাও হতাশাজনক।
বছরখানেক আগে র‌্যাবের পক্ষ থেকে নগরের হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তাতে নগরের অনেক খ্যাতিমান ও ব্যয়বহুল হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। তাদের জরিমানাও করা হয়।
অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সেবার মান দেখা এবং সে সাথে অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সিভিল সার্জন কার্যালয় ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কোনোরূপ ভূমিকাই পালন করেন না। যদিও এইসব অনিয়ম দেখা ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে এই দুটি কার্যালয়ের। সিভিল সার্জন ‘তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার নেই’ বলে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে র‌্যাবকে সহযোগিতা করতে পারতো ওই দুটি কার্যালয়। নগরের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে এই দুটি কার্যালয় কার্যত ব্যর্থ। এ বিষয়ে তা দের আগ্রহের মাত্রাও খুব বেশি নয়। যদি তাই হয়ে থাকে জনগণ প্রশ্ন তুলতে পারে এই দুটি কার্যালয়ের প্রকৃত কাজ কী তবে?
ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা নেই। নকল ও ভেজাল ওষুধ বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেই। এমনকি অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে দুটি কার্যালয়ের কাজ এবং তাদের করণীয় নিয়ে আমরা অসন্তোষ প্রকাশ না করে পারি না।

প্রতিদিন বাংলাদেশের রোগীরা ভারতে যাছেছন , বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে আস্থার অভাবে । বাংলাদেশের মার্কেট টা বড় তাই কোথাও কোন এফেক্ট পড়ছেনা । এত বিশাল মেডিকেল ফিল্ড , পপুলেশন বেশী তাই চাহিদাও বেশী , সেকারনে ভারতে চলে যাচেছ আমাদের এ সেক্টরের বিশাল একটি আয় । তদারকি করার ও কেউ নেই , সবাই দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন , আবার অনেকে দুনির্তী করে পাড় পাচেছন । এই সেক্টরের দুনির্তী সবচেয়ে বেশী । ভুয়া ডায়গনষ্টিক সেন্টার , ভুয়া মেডিসিন কারখানা , ভুয়া ডাক্তার ,ভুয়া প্যাথলজিষ্ট , ভুয়া রিপোর্ট সব কিছু চলছে । মাঝে মাঝে কোন কোন টিভি রিপোর্টার নিউজ করেন অনেক সত্য বেরিয়ে আসে । চলছে হযবরন অবস্থা । শুধূ চট্রগ্রামের একটি চিত্র উপস্থাপন করা হল , অথচ সারা বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলা ও ৪৩৫ টি উপজেলায় চলছে এ্ই স্বাস্থ্য সেবার দুনির্তীর মহাউ্যসব । মানুষে মৌলিক চাহিদার একটি অন্যতম চিক্যিসা সেবা , সেটা নাগরিকরা দাবী করলেও তা কখন্ও পায়নি । আবার টাকা দিয়েও তারা সঠিক মাপের সেবাটাও পাচেছ না । তাই সবাই ভারতমুখি । মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন , আমি আমার চিক্যিসা বাংলাদেশেই করাতে চাই । অথচ দেশের মন্ত্রী , এমপি সহ সব বিত্তশালী ও প্র্ভাবশালীরা কোন কিছু হলে বিদেশ ছুটেন । ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১০ কোটি মধ্যবিত্ত বা গরীব মানুষের একমাত্র ভরসাই বাংলাদেশের চিক্যিসা ব্যবস্থা । সবারই কামনা এ সবের সুষ্ট নিয়ন্ত্রন ও সেবার মান নিশ্চিত হোক । সকলেই সুস্থ ভাবে বাচতে চায় । চায় সুচিক্যিসা , নাগরিকদের এ দাবী সময়ের দাবী ।

গোলাম সাদত জুয়েল: সাংবাদিক -কলামিষ্ট ( ফ্লোরিডা )


রোহিঙ্গাদের অপরাধ, তারা বাঙ্গালি = সিরাজী এম আর মোস্তাক

বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

বাংলা ভাষায় কথা বলা কি অপরাধ? বাঙ্গালি জাতি কি মানবজাতির অংশ নয়? মায়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায় বাংলা ভাষায় কথা বলে। এজন্য মায়ানমারের সামরিক জান্তার অভিযোগ, রোহিঙ্গারা বাঙ্গালি। তারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা অবৈধ অভিবাসী, অনুপ্রবেশকারী ও ঘৃণিত বাঙ্গালি জাতি। বাংলাদেশই তাদের আবাসভূমি, মায়ানমার বা আরাকান নয়। রোহিঙ্গারা সুস্পষ্ট বাঙ্গালি, এ অপরাধে তাদের প্রতি সর্বকালের সর্বনিকৃষ্ট বর্বরতা চলছে। অথচ প্রাচীনকাল থেকেই তারা আরাকানে স্বাধীনভাবে বাস করে আসছে। মায়ানমারের মগদের তুলনায় রোহিঙ্গাদের আবাসন মোটেও কম সময়ের নয়। প্রাসঙ্গিক লিংক--(https://www.hrw.org/reports/2000/burma/burm005-01.htm)। প্রাচীন আমল থেকেই তারা বাংলায় কথা বলছে। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদ ১৯০৭ সালে আরাকান থেকেই উদ্ধার হয়েছে। সৈয়দ আলাওলসহ বাংলা সাহিত্যের বহু লেখকের আবাসভূমি আরাকান। তাই রোহিঙ্গাদের ভাষাগত রূপ ভিন্ন হলেও তারা বাংলাতেই কথা বলে। যেমন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভাষা হুবহু এক নয়। রোহিঙ্গারা শুধু মুসলিম নয়, তাদের মধ্যে হিন্দু, খ্রীষ্টান ও বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষই রয়েছে। ধর্ম যাই হোক, তাদের ভাষা বাংলা। তেমনি বাংলাদেশে নব্বই ভাগ মুসলিম হলেও সব ধর্মের মানুষই রয়েছে। অর্থাৎ ধর্ম যার যার, বাংলা ভাষা সবার। এ ভাষার জন্যই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস চালু হয়েছে। বাঙ্গালি জাতি বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ বাঙ্গালি জাতির জনক। রোহিঙ্গারা বাংলাকে তাদের মাতৃভাষা করেছে। আর এ অভিযোগে মায়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের ওপর নিকৃষ্ট গণহত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। তারা নিছক রোহিঙ্গা নিধন করছেনা, তারা বাঙ্গালি হত্যা করছে। তারা বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বা নির্মূল করছে। ফলে এখন প্রায় এক মিলিয়ন বাঙ্গালি উদ্বাস্তু হিসেবে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে এবং অবর্ণনীয় মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের একটাই অপরাধ, তারা বাঙ্গালি।
রোহিঙ্গারা বাঙ্গালি, তাই বলে কি তাদেরকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে এবং জঘন্য গণহত্যা চালাতে হবে? আরাকান তো রোহিঙ্গাদেরই আবাসভূমি। প্রাচীন আমল থেকেই তারা সেখানে বসবাস করে আসছে। একসময় তারা মগদের সাথে শাসন ক্ষমতাও পরিচালনা করেছে। প্রাসঙ্গিক লিংক- (http://www.newmandala.org/the-rohingya-and-national-identities-in-burma/)। দীর্ঘদিন যাবৎ সেনা বা স্বৈরশাসনের ফলে রোহিঙ্গারা এখন কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তাই মগের জান্তা সরকার নিছক বাঙ্গালি নিধনের ধুয়া তুলে রোহিঙ্গাদেরকে তাদের মুল্লুক থেকে তাড়িয়ে বাংলাদেশে পুশব্যাক করছে। অথচ পৃথিবীর বহু দেশে বাংলা ভাষাভাষী রয়েছে। ভারতের কলিকাতা ও সেনেগালে বাঙ্গালিদের একাধিপত্য রয়েছে। তাই বলে তারাও কি বাংলাদেশে পুশব্যাক হবে? তারাও কি বাংলাদেশ থেকে পলাতক বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে মুলোৎপাটিত হবে?

alt
আজ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে, মায়ানমারের ঘাতকেরা রোহিঙ্গাদের প্রতি এমন নিষ্ঠুরতা চালাতে পারতো না। বাঙ্গালি জাতির জনক তাদের এ নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণের চুড়ান্ত প্রতিশোধ নিতেন এবং বিশ্বসম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে আরাকান দখল করতেন। ভারতের অনাকাঙ্খিত অসহযোগিতার জন্য বাংলাভাষা প্রভাবিত কলিকাতাও দখল করতেন। ভারতের বর্তমান আচরণ কলিকাতার বাঙ্গালিদের জন্য সতর্কবার্তা। মায়ানমারের পর ভারতও সেদেশের বাঙ্গালিদেরকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করতে পারে। বাঙ্গালি জাতির জনক বেঁচে থাকলে তা অসম্ভব ছিল। তিনি তাঁর জাতিকে নিরাপদ রাষ্ট্র উপহার দিতেন। যেমন, তাঁর সবচেয়ে যোগ্যতম উত্তরসূরী শহীদ জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে রোহিঙ্গাদের সকল অধিকার ফিরে দিতে মায়ানমার সরকারকে বাধ্য করেছিলেন। তিনি শহীদ হবার পর অর্থাৎ ১৯৮২ সাল থেকেই মায়ানমারের সামরিক জান্তা রোহিঙ্গাদের ওপর আবার অত্যাচার শুরু করেছে। বাংলাদেশ হারিয়েছে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরী। ফলে মায়ানমার জান্তা জঘন্য অপরাধ করেও পার পেয়ে যাচ্ছে।
আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয় এতোদিনও নিরব ছিলেন। হাজার হাজার রোহিঙ্গার প্রাণহানির পর কেবলমাত্র বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ, বিশাল ত্রাণবহরের নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ পুরষ্কারের আশায় একেবারে অনিচ্ছা সত্তেও ১২ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা পরিদর্শনে যান। তিনি রোহিঙ্গাদেরকে বাঙ্গালি নয়, সংখ্যালঘু মুসলিম বলেন। জঘন্য গণহত্যা প্রত্যক্ষ করেও তিনি মায়ানমার সরকারকে হুমকি না দিয়ে বরং রোহিঙ্গাদের ফিরে নেবার সবিনয় অনুরোধ জানান। এতে মায়ানমার সামরিক জান্তা আরেকদফা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। রোহিঙ্গাদেরকে প্রকাশ্যে বাঙ্গালি ঘোষণা দিয়ে চিরতরে মুলোৎপাটন করছে।
যেহেতু রোহিঙ্গারা বাঙ্গালি, তাই তাদের প্রতি বাংলাদেশের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। আমাদের উচিত, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা অক্ষুন্ন রেখে তাদের নৈতিক সমর্থন করা। প্রয়োজনে আরাকান ও কলিকাতা দখল করে হলেও পৃথিবীতে বাংলা ভাষার স্থায়ীত্ব নিশ্চিত করা। মানবতাবিরোধী মায়ানমার জান্তাকে বাঙ্গালি নিপীড়ন বন্ধে বাধ্য করা। বাঙ্গালি হবার অপরাধে রোহিঙ্গাদের প্রতি অমানবিক আচরনের জন্য অং সান সুচি ও তাঁর সামরিক জান্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। তারা শুধু রোহিঙ্গাদের প্রতি অমানবিক আচরন করেনি; বাংলা ভাষার অবমাননা করেছে এবং বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বা নির্মূলের ষঢ়যন্ত্র করেছে। এজন্য আমাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, রোহিঙ্গারা নিছক মুসলিম নয়; তারা বাঙ্গালি ও আরাকানের স্থায়ী বাসিন্দা। তারা বাংলা ভাষা ব্যবহার করতেই পারে। বাংলা একটি আন্তর্জাতিক ভাষা। এটি জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষাভুক্ত হবে। পৃথিবীর সকল প্রান্তের মানুষ এ ভাষা কমবেশি চর্চা করবে। এটা কোনো অপরাধ নয়। এজন্য তারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী বিবেচিত হবেনা।
শিক্ষানবিশ আইনজীবি, ঢাকা।


দুঃশাসনের কুরুক্ষেত্র --শাহ আলম ফারুক

বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

প্রবাসের প্রতিটি দিন কাটে উদ্বিগ্নতার মধ্য দিয়ে।আর সেই উদ্বিগ্নতা কিন্তু প্রবাস জীবন নিয়ে নয়, ফেলে আসা মাতৃভূমিকে নিয়ে।  যেখানে আমাদের নাড়ীর টান। প্রশ্ন আসে কেন উদ্বিগ্নতা? এক কথায় উত্তর, যুদ্ধ করে পাওয়া স্বদেশ এখন আর মানুষের জন্য নিরাপদ কোন আবাস নয়। স্বদেশে’র শাসন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, আইন ও সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে গর্ব করার মত কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।

নতুন প্রজন্মকে সত্য মিথ্যা শেখানোর নামে কতগুলো হাইব্রিড প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আজকের এই হাইব্রিড নেশন তৈরিতে ৭২ এর পর থেকে কম বেশী সকল সরকারের বিশাল অবদান, তবে বর্তমানের শেখ হাসিনার সরকারের অবদান সকলকে ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ এখন মাফিয়াদের করতলগত একটি দেশ। আমরা নেতা নেত্রীদের নিয়ে যতই গর্ব করিনা কেন, তাদের বিরুদ্ধে যতই উচ্ছ্বসিত হইনা কেন, আদতে এদের কাছে মানুষের চেয়ে বিশেষ কিছু গোষ্ঠীর মুল্য এতো বেশি যে আমজনতা সেটি অনুধাবন করতে পারলে কখনই এমন হওয়ার সুযোগই থাকতো না। কিন্তু জনতার মূর্খতার কারনে আদর্শ চর্চাহীন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মাথায় তুলে প্রকারান্তরে মাফিয়াদের শাসনের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। আজকে পুলিশ র‍্যাব বিজিবি সবার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততার ওপেন সিক্রেট অভিযোগ, আদালতের বিরুদ্ধেও মাফিয়াদের সহযোগিতার অভিযোগ আর সরকারের বিরুদ্ধেতো কমিশন বাটোয়ারা অভিযোগ থাকছেই। নইলে পায়ে স্যান্ডেল ছিল না এমন রাজনৈতিক নেতারা ক্ষমতায় গিয়েই কোটিপতি হয় কি করে।
আমরা মানি আর না মানি, ১/১১ এর সরকারের বিরুদ্ধে এমনকি আমারও অভিযোগ রয়েছে; কিন্তু তারা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেছে নেতারাতো আছেই এমনকি তাদের ফুটফরমাশ খাটা পিয়নগুলোও কোটি কোটি টাকার মালিক।  তবে তারা এও দেখিয়ে গেছে যে এদেশে অবৈধ আয় আর অবৈধ কাজে জড়িতরাই সম্মান পায়।
শেখ হাসিনার সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে সবাইকে ব্ল্যাক মেইল করে এই সকল মাফিয়া গোষ্ঠীগুলোকেই প্রতিষ্ঠিত করেছেন দিনের পর দিন।  আজকে দুই দশক তাই কয়েকগুন বেশী ফাইভস্টার হোটেল হলেও সকল ফাইভ স্টারেরই জমজমাট ব্যবসা।
বাংলাদেশে ফোন করে কুশলাদি জিজ্ঞেস করলেও কোন আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব সরাসরি কথা বলতে ভয় পায়।  কেন ভয় পায়? আপনি আমি সবাই জানি; কিন্তু মুখ খুলতে পারি না। কারন আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে জনগণের মুক্তির কোন ব্যবস্থা করি নাই; আওয়াজ তুলি নাই; নিজেদের আখের গোছাতে গিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মাফিয়াদের গোলামী করে করে আমরা দেশকে আজকের অবস্থায় নিয়ে এসেছি।  আমাদের চারপাশের অনেক লোক গুম হয়ে গেছে, ক্রসফায়ারের নাটকে মরেছে; হতে পারে এরা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, কিন্তু এই দেশে কি প্রতিপক্ষরা পরিবার নিয়ে জীবিত থাকতে পারবে না? এই কি তবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা?

দুঃশাসনের কুরুক্ষেত্র -২

-শাহ আলম ফারুক

গত পর্বে সাধারন মানুষ এবং প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। এদিকে হঠাৎ করেই ভারতীয় একটি গোষ্ঠী প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা প্রচেষ্টার গল্প ফেদে বসেছে; যেটি সরকারের ভেতর থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ হয়েছে । আবার কিছু পক্ষেও বলা হচ্ছে। অনেক কিছুর গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে শেখ হাসিনা নোবেল পেয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে বেশি সম্মানিত হয়ে যাবেন সেটি মনে হয় বিশেষ একটি মহল কখনো মানতে চাইবে না ।

সে যাক, আজকে সহজ সরলভাবে আরও কিছু সত্যের অবতারণা করতে চাই। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারকে আমিও প্রথমত সমর্থন দিয়েছিলাম । প্রত্যাশা ছিল মানুষের জন্য তারা ভাল কিছু করবে, জনগণের জান ও মালের নিশ্চয়তা হবে, প্রশাসনসহ সর্বস্তরে জনগণের অধিকার পূণ:প্রতিষ্ঠিত হবে, বিচার বহির্ভূত হত্যা বন্ধ হবে, শোষনমুক্ত সমাজ তথা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাস্তবায়নের জন্য তারা কাজ করবে । কিন্তু দিনে দিনে সরকারের নানা কর্মকান্ডে আমার মোহভঙ্গ হয়েছে।

ব্যাংক থেকে ঋণের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হলো, অর্থমন্ত্রী বললেন এ নাকি সামান্য পিনাটের টাকা । দ্রুত বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থার কথা বলে কুইক রেন্টালের নামে কোটি কোটি টাকা অনৈতিক লাভের সুযোগ করে দেয়া হলো অনুগত ব্যবসায়ীদের । বছর বছর প্রশ্ন ফাঁসের নিয়মিত ঘটনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রাহি মধূসুদন অবস্থা । দেশের বিচার বিভাগের উপর অযাচিত হস্তক্ষেপের আকাংখা চরিতার্থ করার জন্য এক ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায় এবং রায়ের সাথে কিছু পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রধান বিচারপতির উপর চাপ সৃস্টি করতে এমনকী ক্ষমতার শীর্ষ পর্যায় থেকে যা বলা হচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষ শংকিত । ব্রাজিল থেকে পঁচা ও খাবার অনুপযুক্ত গম আনার জন্য যে মন্ত্রী দায়ী, সে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নি । এমনকী সাংবিধানিক সুস্পস্ট বিধিবিধান থাকার পরও সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক শাস্তিপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের অপসারণ বা পদত্যাগ না করিয়ে স্ব স্ব পদে বহাল রেখে সংবিধান লংঘন করা হয়েছে । ৫৭ ধারা, তথ্য সম্প্রচার আইনের খড়্গ দিয়ে মিডিয়াসহ ভিন্ন মতের মানুষের কন্ঠ রোধ ও নিয়ন্ত্রণ করার অপচেস্টা চালানো হয়েছে, এখনো হচ্ছে । কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ মন্দির ও বসতিতে হামলা,  ব্রাক্ষণবাড়িয়ার  নাসিরনগরে হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা নির্যাতনের ঘটনায় দলীয় লোকজন জড়িত থাকার প্রমাণ পাবার পরও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয় নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায় । ফরিদপুরে এক ধনাঢ্য হিন্দু পরিবারের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য করে তাদের দেশছাড়া করার অভিযোগ উঠে  প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্নীয়, এক ক্ষমতাধর মন্ত্রীর বিরুদ্ধে । আরেক জন মন্ত্রী গাজিপুরে হিন্দুদের রোহিঙ্গাদের মত দেশ ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়াতে সম্প্রতি বেশ তোলপাড় চলছে ।

সে যাক, ক্রস ফায়ার তথা বিচার বহির্ভূত হত্যার বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যে সব রাজনীতিবিদ সোচ্চার ছিলেন, তাদের মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন সবচেয়ে অগ্রগণ্য রাজনীতিক । মহাজোটের নির্বাচনী ইশতেহারেও এ নিয়ে সুস্পস্ট প্রতিশ্রুতি ছিল । কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর কি হলো ! শুধু ক্রস ফায়ার, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডই অব্যাহত থাকলো না উপরন্তু যোগ হলো গুম নামের মহা আতংক ।
সবচেয়ে ভয়ংকর যে তথ্যটি আমি পেয়েছি তা হলো বিরোধী রাজনৈতিক নেতা কর্মী হত্যার প্রকল্পটি নতুন আঙ্গিকে গোপন পদ্ধতিতে বিন্যাস করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগ, র‍্যাব ও পুলিশের মধ্যে যারা একটু হলেও ভবিষ্যৎ চিন্তা করেন,  তারা আর এ ধরণের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়াতে চাইছেন না; কারণ তাদের আশংকা -এর প্রতিক্রিয়ায় ভবিষ্যতে যে কেউ তাদের পরিবার বা সন্তানদের হত্যার পাল্টা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে । কিন্তু সরকার প্রধানের গোপন ইশারায় বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত সাবেক একজন গোয়েন্দা প্রধান, র‍্যাবের সাবেক উপ-প্রধানের সাথে আর কিছু অবসরপ্রাপ্ত অফিসারদের দিয়ে একটি কিলিং স্কোয়াড বানানো হয়েছে।

বৈধ অবৈধ সব কিছু মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে জায়েজ করার চেস্টা হয়েছে, যা আজো অব্যাহত হচ্ছে । বিবেচনার বিষয় হচ্ছে, এসব কিছুর সাথে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সামঞ্জস্য কতখানি সেটি নির্ণয়ের এখন সময় এসেছে।


শাহ আলম ফারুক : লন্ডন প্রবাসী মানবাধিকার কর্মী
আইনজীবী, সাবেক সিনিয়র তদন্ত কর্মকর্তা,
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক )
এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


সূচির মিথ্যা ভাষণ এবং মিয়ানমারের লজ্জা।আবু জাফর মাহমুদ

সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রাখাইন সংকট নিয়ে বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের চলতি সংখ্যার প্রচ্ছদ প্রতিবেদন করেছে।এতে রোহিঙ্গা সংকটকে “মিয়ানমারের লজ্জা” আখ্যা দিয়ে পত্রিকাটি বলছে,রোহিঙ্গাদের দুর্দশা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচিকে কলংকিত করেছে।মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যের গ্রামগুলোর ঘর-বাড়ি এখনো আগুণে পুড়িয়ে দেয়া চলছে।আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এমনেষ্টি ইন্টারন্যাশানাল স্যাটেলাইটের ছবি ও ভিডিওর প্রমাণ দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর।  

জাতিসংঘ এবং বিশ্বনেতারা মিয়ানমার সরকারের নেত্রী সুচির বিরুদ্ধে জাতিগত হত্যা অভিযানে সমর্থন দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন।সমালোচকরা বলছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযান বন্ধে সুচি ইচ্ছুক নন।এসব সমালোচনা প্রসঙ্গে সুচি বলেন, কোনো কিছুই অবাক করার মতো নয়।কারণ, অন্য সব মতামতের মতো বিশ্ব মতামতও বদলায়।তিনি বলেন, কিছু কিছু শরনার্থীদের ফিরিয়ে আনার জন্যে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করতে তিনি প্রস্তুত আছেন।যে কোন সময় এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

জাপানের নিকি এশিয়ান রিভিউ পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সুচি বলেন, শরনার্থীদের প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যাবার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতির উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়ার একদিন পরেই জাপানের পত্রিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে সুচি রোহিঙ্গা ইস্যুতে তার ভূমিকায় আন্তর্জাতিক সমালোচনা প্রসঙ্গে প্রসঙ্গেও কথা বলেন।    

জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে সুচি দাবি করেছিলেন,৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে রাখাইনে আর কোনো অভিযান হয়নি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি মিথ্যাচার করেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অভিযোগ  উঠেছে।

এদিকে ইরানের এটর্নি জেনারেল হুজ্জাতুল জাফর মোন্তাজেরি মিয়ানমারের মুসলমানদের ওপর অপরাধযজ্ঞ বন্ধ করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সব সক্ষমতা কাজে লাগানোর আহবান জানিয়েছেন। কয়েকটি দেশের কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি এই আহবান জানিয়েছেন।কাতার,তুরস্ক,মালয়েশিয়া ইন্দোনেশিয়া ওমান পাকিস্তান ও রাশিয়ার এটর্নি জেনারেলের কাছে তিনি চিঠি দিয়েছেন।

কথা হচ্ছে, রোহিঙ্গাদেরকে চাপ দিয়ে আরাকান বা রাখাইন রাজ্যখালি করার প্রক্রিয়া ঠিকই অব্যাহত রয়েছে।
Picture
 ভিটে বাস্তুচ্যুত ও ভয়ের ভয়াল বর্বরতার চরম ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশে আসা এই লক্ষ লক্ষ মানুষকে আশপাশে আশ্রয় দিচ্ছেনা কোন দেশ।আশ্রয়ের সমস্ত চাপ পড়ছে বাংলাশের উপর। দরিদ্র বাংলাদেশীদের সমাজে নির্মম নিষ্ঠুরতার অভিজ্ঞতা নিয়ে যারা আজ আশ্রয় নিতে চলেছে।তাদের বেঁচে থাকার জন্যে যেই সামাজিক জীবন প্রয়োজন।তার ব্যবস্থার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে সরল জীবনে অভ্যস্থ বাংলাদেশী সমাজ।এক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানে সামান্য জ্ঞান থাকা মানুষও বোঝেন যে রোহিঙ্গাদের সামাজিক মানসিকতা বাংলাদেশীদের সামাজিক মানসিকতার উপর জোর খাটাতে দ্রুতই উঠে পড়ে লাগবে।বা ইতিমধ্যেই তা ভেতরে ভেতরে সংঘাতে লেগে গেছে।

 যেহেতু বাংলাদেশ সরকারের মূল টার্গেট তার ক্ষমতার মেয়াদ পুনরায় হাতে পাওয়া, রাখাইন রাজ্য খালি করার পক্ষের শক্তিগুলোর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়া এবং তাদের আনুকল্য নিজেদের পক্ষে পাবার নিশ্চয়তা নেয়া, তাই তারা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প করে তাতে শৃংখলার জীবন বা অস্থায়ীভাবে তাদের প্রতি সেবা যত্ন দেয়ার ব্যাপারে মনোযোগ থাকছে খুবই কম।স্থানীয় অপরাধী, স্থানীয় প্রশাসন ও সরকার দলীয় স্থানীয় এমপি উপজেলা চেয়ারম্যান সহ প্রভাবশালী ছাত্রলীগ যুবলীগ সহ সরকারী দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর অপরাধের সাথে আন্তর্জাতিক অপরাধের ধ্রুত তৎপরতা বেড়ে গেছে।

 

এই প্রেক্ষাপটে বিদেশীদের দেয়া ঔষধপত্র,আর্থিক ও দ্রব্য সামগ্রীর চোরাকারবার জমজমাট হয়ে  ওঠবার খবর আসছে নিয়মিত।সরকার এসব অপরাধীদের অপরাধ শিকার করছেনা নিজ দলীয় ও নিজ গায়ে দায় এসে যায় সততা দেখাতে গেলে।অধিকন্তু বর্তমানে নির্বাচন ছাড়া সরকার থাকায় এবং আগামীতেও একই সরকার ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনার আভাস থাকায় সরকারের অপরাধ মহলগুলো বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল সহ রাজধানীকে অপরাধ সাম্রাজ্যে রূপান্তর করে বিনা বাধায় মতলব হাসল করে চলছে।

বাংলাদেশে আসা ত্রান সামগ্রী সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পাচারের খবর আসছে। প্রতিষ্ঠিত চোরাকারবারের নেটওয়ার্কে চোরাকারবারীরা সরকারী দলের আশ্রয়ে থাকায় ঠিক মতো ঘুষ এবং লাভের ভাগ দিয়ে তারা ম্যানেজ করে নিয়েছে আগে ভাগে।এতে একদিকে ত্রানগুলো রোহিঙ্গাদের মধ্যে না পৌঁছানো এবং রোহিঙ্গাদের জীবনকে অনিশ্চিত করে রাখার সুযোগে চেহারা দেখে দেখে মেয়েদেরকে কাজ দেবার লোভ দেখিয়ে অপরাধ জগতে বিক্রয় করা হচ্ছে।শিশুদের কলিজা চোখ হার্টগুলো বিক্রয়ের জন্যে এখান থেকে বিক্রয় করে দেয়া হচ্ছে।মনে রাখা দরকার।পুলিশের অতিরিক্ত আইজির বাসায় অনেক শিশুকে নিজেদের সন্তান বলে রেখে শিশু পাচার করার করার ঘটনা প্রকাশ হয়ে গেছিলো বহু বছর আগে।বর্তমান সময়ে সমাজ ও সরকারে থাকা বড় অপরাধীদের নেটওয়ার্কের উপর নির্ভর করে থাকা আওয়ামীলীগ-জাতীয় পার্টি ও জাসদের ঐক্যের বর্তমান সরকারের পক্ষে সততার সাথে রোহিঙ্গাদেরকে ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা করে এবং তাদেরকে আবার মিয়ানমারে ফেরত দেয়ার সামান্যঅ সম্ভাবনা আপাততঃ দেখা যাচ্ছেনা।এদিকে সরকারের রাজনৈতিক অংশের নেতৃত্ব থেকে আশা করা হচ্ছে সেনাবাহিনী,নৌবাহিনী,বিমান বাহিনী কোষ্টাল গার্ড সহ সমগ্র প্রতিরক্ষাবাহিনীকে দূর্নীতিগ্রস্থ করতে পারার নিজেদের রাজনৈতিক সফলতার আরেক কৃতিত্ব আছে।

 যাতে বলা যায়, রাজনীতিকরা একা চোর নয়,প্রতিরক্ষাবাহিনীওতো একই জিনিষ।তারাও চোর এবং রাজনীতিবিদের মতোই ফটকাবাজ।তাই,প্রতিরক্ষাবাহিনী রাষ্ট্রের নিরাপত্তাজ্ঞানে প্রশিক্ষিত থাকায় অপরাপর শক্তিগুলোর চেয়ে এগিয়ে এবং তারা  জীবনের বিনিময়ে হলেও তা কার্যকর করার জন্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকলেও তাদেরকে গুরুত্বে আনা হচ্ছেনা,গুরুত্বে আনবার সম্ভাবনাও নেই।এমতাবস্থায় বাংলাদেশে একটা স্থায়ী অপরাধ জগতের বিশাল আয়োজন বাস্তবায়িত করা হচ্ছে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়।

এমতাবস্থায় আমরা কি দেখতে পাই,বর্তমান চাপের মধ্যে সারা বাংলাদেশ কেঁপে কেঁপে উঠছে দেখেও সেদিকে নজর নেই সরকারের উপরের মহলের এবং বিরোধীদল বিএনপির।তারা উভয় পক্ষ ব্যস্ত তাদের রাজনীতির মার প্যঁচে জনগনের কাছে নিজেদের মুখোস ঠিক রাখতে।তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে জাতীয় সমস্যা নিয়ে একটা নীতি রাজনীতি নির্ধারণ করছেনা। সরকারপ্রধানকে দেখা যাচ্ছে খোশমেজাজে আনন্দ উৎসবে ফটকা কৃতিত্ব নিয়ে আমেরিকায় নিউইয়র্কে তামাশা করতে এবং বিএনপিকে দেখা যাচ্ছে লজ্জা শরম বাদ দিয়ে এখনো রাজনৈতিক বিবৃতি দিয়ে ক্যাঁ ক্যাঁ করতে।দুর্ভাগা জাতির লোভী নেতৃত্ব!নেতৃত্বহীন বাংলাদেশীরা ছুটে চলেছে ভয়াবহ অরাজকতা ও রক্তপাতের ভয়াল খাদের তলায়।নরপশুরা করছে ভয়াবহ অপরাধগুলো এবং মুখোশে ঢাকা হায়েনার বিষাক্ত দাঁতের কামড়ে কামড়ে দেশের প্রান শক্তি যাচ্ছে দূর্বলের চেয়ে দুর্বল হতে।   

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকারের সাথে সুসম্পর্ক আছে দেশী বিদেশী হায়েনাদের। তারা নিজেদের লোভ লালসা চরিতার্থ করতে যেভাবে মানুষ মারছে,তাদের সাথে যোগসাজশ রেখে যারা উপরে এক ভেত্রএ আরেক কূটনীতি ও রাজনীতি করছে,তাদের কাছে কোন মানুষ নিরাপদ হতে পারেনা।তা হউক বাংলাদেশ,ভারত অথবা অন্য কোনদেশে।    

এখন সবার দায়িত্ব হচ্ছে রোহিঙ্গাদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করে  ঐক্যবদ্ধভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের উপায় হচ্ছে মুসলিম দেশগুলো সহ ধর্মবিশ্বাসী সকল মানুষের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া এবং মিয়ানমারের নির্দয় সরকারের ওপর আর্থ-রাজনৈতিক চাপ দেওয়া। বাংলাদেশের জন্যে বেশী জরুরী হচ্ছে যে কোন কিছুর বিনিময়ে বাংলাদেশীদের জেবন যাপনে নিরাপত্তা দেয়া।প্রতিবেশী মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদেরকে খাবার চিকিৎসা ঔষধ দেয়া,শিশু ও তরুণদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা এবং রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভুতিশীল দেশ ও সরকার গুলোকে নিয়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক সভা আহবান করে তাদের জন্যে প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘের দেয়া সুযোগের প্রকৃত বাস্তবায়নে সামরিক তেজে তা কার্যকর করা।

আমরা বাংলাদেশ সরকারকে দুনিয়ার কারো কাছে ছোট হতে দিতে চাইনা।এমন কিছু আমাদের কাম্যও নয়।তবে বর্তমানে মিয়ানমারের ঘাতকগোষ্ঠী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের সাথে বাংলাদেশ সরকারের নিবিড় সম্পর্ক বাংলাদেশী দেশপ্রেমিকদের আহত করে।সন্দেহ বাড়াচ্ছে।রোহিঙ্গাদেরকে পূর্ণনাগরিকত্ব দিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ফেরত নিতে জনগণকে সাথে নিয়ে দেশব্যাপী ঐক্যমত গড়ার জন্যে পদক্ষেপ না নিয়ে রহস্যজনক গোপনীয়তা রক্ষার অর্থ কি?

দুনিয়াকে বাংলাদেশের নাগরিক ও সরকারের ঐক্যমত দেখানোতে জাতীয় সংহতি যেমন হয়,দেশের আন্তর্জাতিক সম্মানও বাড়ে অনেক গুণ।এই পদক্ষেপে ভয় পাবার রহস্য কি?এই সুযোগ থাকার পরও একা একা গোপনে গোপনে ফিস ফিস করার অর্থ কি?এই অর্থ বুঝতে কারো বাকি নেই।সোজা অর্থ হচ্ছে,তাদের রাখাইন রাজ্যে ফেরত দেয়ার বা তাদের বাংলাদেশ ত্যাগ করার অনিশ্চয়তা থেকে যাওয়া।কথা হচ্ছে রাজনীতির হাওয়া কোন দিন একই অবস্থায় থাকেনা।আমরা কোন কারণে প্রতিবেশীদের লজ্জার ভাগিদার হতে চাইনা।

কক্সবাজাররে উখিয়া টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদেরকে দ্রুত মানবিক সাহায্য বিতরণে সেনাবাহিনী নিয়োগ করায় ভাও হয়েছে,এই সিদ্ধান্ত দিতে দেরীর কোন যুক্তি নেই।প্রাকৃতিক দূর্যোগ চলার সময়েই আমরা দেখেছি সেনাবাহিনী নেমে গেছে দুর্যোগ মোকাবেলায়।সব সময়েই তা হয়ে এসেছে।কিন্তু এবারে রোহিঙ্গা দুর্যোগকে নিয়ে সরকারের উপরের মহলে গোপন রাজনীতির কারণে তা দেরী হবার বিষয়টি সবাই আমরা দেখছি।

ইতিমধ্যে দেশের সমাজের যতটুকু ক্ষতি হয়েছে,মানুষের যে কষ্ট হয়েছে এই দায় কার?পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সামরিক বাহিনীর সহযোগীতা নয়।কক্সবাজারে স্থানীয় প্রশাসনকে দিতে হবে সেনাবাহিনীর অধীনে। প্রথম দিকে যেনো সামরিক বাহিনীকে মানবিক সহায়তা এবং আইন সৃংখলার উপর কর্তৃত্ব দেয়া হয়।   

(লেখক আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের  চেয়ারম্যান)।


হে মহান বাংলার স্থাপতি -এস ই ইসলাম

সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

উৎসর্গ: বঙ্গবন্ধুর পরিবার বর্গ
হে মহান নেতা বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা
তোমার কৃতিত্ব বাংলার স্বাধীনতা,
লাল সবুজের পতাকা দিয়েছো
দিয়েছো পৃথিবীর মানচিত্রে,
স্বাধীন দেশের পরিচয়।

হে বঙ্গবীর মহানায়ক
তোমার সততায় উড়ছে,
শ্বেত কবুতর স্বাধীনতা দিবসে।
সমর যুদ্ধো জয়ের উল্লাসে
বাংলার মাটি আজও হাসে।
খাঁটি বাঙালীর পরিচয়ে
এ সবই তোমার অবদান।

বাঙালীর হৃদয়ে তুমি রবে,
স্মৃতি হয়ে অম্লান।
তোমার কৃতিত্ব রবে,
সারা বাংলায়।
তুমিই হলে বাংলার সংবিধান।


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দূর্নীতি চলছে পৌর কর্পোরেশন গুলোতে ---এস ই ইসলাম

সোমবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

যেভাবে নতুন করে ভ্যালুয়েশন ধার্য্য করা হয়েছে। কোন ভাবেই সেটা আইনত সঠিক হয় নাই। ইচ্ছাকৃত ভাবে জনগনকে হয়রানী করার জন্যই তাদের এই পরিকল্পনা। তাছাড়া জনগনের ঐ পরিমান টাকা দেওয়ার সামর্থ নাই। যেখানে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন এর প্রতিটি এলাকায় ১৫০০ টাকা ত্রয় মাসিক ফি ধার্য্য করা ছিলো। যা বর্তমানে অনেক গুন বেড়ে গেছে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এভাবে প্রতিটি ফ্ল্যাট ও বাড়ীর ভ্যালুয়েশন করে পার স্কয়ার ফিট ১৫ টাকা থেকে ২০-৩০ টাকা ধরা হয়েছে। পৌর কর অফিসে আপীল করলেও নাকি ১০% উপরে কমানো সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন। পৌর কর কমিশন হঠাৎ করে এভাবে পৌরকর বাড়িয়ে দেওয়ার কারন আমাদের বোধগম্য নয়। পৌর কর্মকর্তা  (মেয়র) সাহেবরা মন্ত্রীর পদমর্যাদা পাওয়ায় তাদের কাজ এতই বেড়ে গেছে যে তাদের সাথে দেখা করার ও ক্ষমতা নাই সাধারন জনগনের। তাই সাধারন মানুষের পক্ষ থেকে আজ আমি এ বিষয় টি তুলে ধরছি আমার লেখনির মাধ্যমে। যাতে করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী মহোদয়ে ও সংশ্লিষ্ট দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নিকট আমার অনুরোধ অতিদ্রুত পৌরকর সাধারন জনগনের কর প্রদান করার নাগালের মধ্যে ধার্য্য করে কর পরিশোধের আওতায় আনা যায়। সেটি ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলর দ্বারা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বিষয়টি আলোচনা, পর্যালোচনা, পর্যবেক্ষন পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মন্ত্রণালয়ে নির্দেশ প্রদান করে সাধারণ জনগনের ভোগান্তি লাগবে দেশের পৌরকর কাটামোর আশু পরিবর্তন একান্ত কাম্য। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নিজ গৃহে বা ফ্ল্যাট বসবাস করে তাদের ক্ষেত্রেও বাণিজ্যিক পৌরকর ধার্য্য করা হয়েছে। নিজের বসতবাড়ী যেটি কোন ভাবেই আয়ের উৎস নয় (ভাড়াটিয়া) নাই সেটিও তাড়া খতিয়ে না দেখে বেশী অংকের পৌরকর ধার্য্য করে নোটিশ প্রদান করেন বাড়ীর মালিকদের। যা পরিশোধ করার সামর্থ নাই। তাই পৌরকর বকেয়া পড়ে যায়। রাষ্ট্রীয় খাতে রাজস্বের ঘাটতি দেখা যায়। যার জন্য এটি একটি প্রধান কারন। উল্লেখ্য, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে যে পদ্ধতিতে পৌরকর আদায়ের প্রচলন ছিলো সেভাবেই যেন পূন: নির্ধারণ করা হয়। যেহেতু পৌর এলাকাবাসিরা কোন প্রকার পৌর মেয়রদের থেকে নাগরিক সেবা পাওয়া তো দূরের কথা প্রতিকারের দাবী নিয়ে গেলে তাদের দেখা পাওয়া যায় না। এহেন দ্বায়িত্ব কর্তব্য উদাসিনতার কারনই হলো তাদেরকে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা প্রদান। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিশেষ আবেদন উপযুক্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখে নাগরিকদের প্রাপ্ত সেবা পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা।
সিনিয়র আয়কর উপদেষ্টা এবং লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, অর্থনৈতিক বিষয়ক সমালোচক---এস ই ইসলাম


যে সকল কারণে শেখ হাসিনার নোবেল পুরস্কার পাওয়া উচিত --শাহ্ শহীদুল হক সাঈদ

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মহাজোট সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে গত ৬ বছরে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রের অন্তত ২০৪টি সেবাখাতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সংযুক্ত হয়েছে-যা পূর্বে ছিলনা। এখন তৃতীয় বিশ্বের মত একটি দেশের জনগণ প্রত্যক্ষভাবে এর সুফল পাচ্ছে। ইতিমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক একাধিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের এ উদ্যোগের স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রধামমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুয়াই) প্রোগ্রামের বর্তমান সরকারের অর্জন সম্পর্কিত প্রতিবেদন আছে। তাছাড়াও এসব-ই সেবার সাথে জনগণের পরিচিতির লক্ষ্যে সরকার দেশের ৬টি বিভাগীয় শহর-ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুরে বিভাগীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করছে। এতে জনগণের মনে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা ও চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪৫০১টি তথ্যসেবা কেন্দ্র-সারাদেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪৫০১টি তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে গ্রামীণ জনগনের তথ্যসেবা ও একই সাথে ৯ হাজার লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যকেন্দ্রগুলোতে সরকারি ফরম, বিজ্ঞপ্তি, সরকারি বিধিবিধান, জন্ম নিবন্ধন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার এমপিও ভুক্তির তথ্য, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডধারীদের ৫০টিরও বেশি অনলাইন সেবা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের আইটি প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার ফরম পূরণ-শিক্ষাকে আকর্ষনীয় করে তুলতে শিক্ষকদের যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে প্রতিবছর। তাছাড়া শারীরিক শিক্ষা বিষয়টি ২০১৩ থেকে বাধ্যতামূলক করার পর থেকে শিক্ষকদের প্রতিবছর দু-বার রি-ফ্রেশার কোর্স করানো হচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীদের কলেজ ইউনির্ভাসিটি ভর্তির ফরম পূরণ অনলাইনে ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্যাটেলাইট, ২য় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন ইত্যাদি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ, ভিওআইপি মুক্তকরণ, মোবাইল ব্যাংকিং চালুু-এসব অনন্য কার্যক্রমের স্বীকৃতি স্বরূপ দক্ষিণ এশিয়ার সম্মানজনক মন্থন এওয়ার্ড, ২০১০ এ মোট ৯টি পুরস্কার লা করেছে বাংলাদেশ। এর ৩টি বিশেষ পুরস্কারের মধ্যে একটি অর্জন করে বাংলাদেশ চিনি শিল্প করর্পোরেশনের ডিজিটাল পূর্তি ব্যবস্থাপনা বা ই-পূর্জি। বিশ্বেও ১৩৪টি দেশের মধ্যে নেটওয়ার্ক সক্ষমতা সূচকে এ বছরে ১২ ধাপ এগিয়ে গেছে। আর জিআইটি এর ২০১০ সালের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৮তম। ২০১০ সালে প্রতিনিধি সম্মেলনে ১৩টি পদের মধ্যে বাংলাদেশ ৬ষ্ঠ স্থান লাভ করে। সমুদ্র বিজয় ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নির্ধারণী মামলার রায়ে বাংলাদেশের বিপুল বিজয় হয়েছে। নেদারল্যান্ডের হেগে সালিশি ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিরোধপূর্ণ আনুমানিক ২৫৬০২ বর্গ কিঃ মিঃ সমুদ্র এলাকার মধ্যে ১৯৪৬৭ বর্গ কিঃমিঃ এলাকা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়েছে। ফলে সমুদ্রসীমা এখন ১,১৮,৮১৩ বর্গ কিঃমিঃ। তাছাড়া এর বেশি টেরিটোরিয়াল সমদ্র ২০০ নটিক্যাল মেইল একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে অবস্থিত সব ধরনের প্রাণিজ ও অপ্রাণিজ সম্পদের ওপর সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে। বাংলাদেশ ভারত ছিটমহল চুক্তি ১৯৪৭ সালের রেডক্লিফের মানচিত্র বিভাজন থেকেই উদ্ভব ছিলমহলের। সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ হেডকাউন্টিং এ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রয়েছে ১১১টি। ১৯৭৪ সালের মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে (অঙ্গরপোতা, দহগ্রাম ব্যতিত) ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের ছিটমহল ভারতের কাছে এবং বাংলাদেশের ভেতর অবস্থিত ভারতের ছিটমহল বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করা এবং উভয় দেশের অপদখলীয় এলাকাও সংশ্লিষ্ট দেশের কাছে হস্তান্তরের কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি মোদী সরকার আসার পর ভারতের লোক সভায় এই ছিটমহল বিল পাস হয়েছে। এটি মহাজোট সরকারের অবশ্যই কূটনৈতিক বিজয়। এছাড়া পার্বত্য শান্তি  চুক্তি, বিদেশ নীতি ও নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনা সরকারের সাফল্য নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য যথেষ্ট।  শান্তিবাহিনী ও বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর সঙ্গে সুদীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে যেভাবে বিনা রক্তপাতে বন্ধ করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসে মহাত্ম গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনকে হার মানায়। তিনি বিনা যুদ্ধে বিনা রক্তপাতে হাজার হাজার জীবন বাচিঁয়েছেন। “ঝযব রং ঃযব ঋরবষফ গধৎংযধষষ ড়ভ চবধপব.

লেখকঃ প্রতিষ্ঠাতা  ও সভাপতি, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস এন্ড ডেভেলপমেন্ট, ইউএসএ ।


নারী নির্যাতন বনাম পুরুষ নির্যাতন ---শাহ শহীদুল হক সাঈদ

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অতিরিক্ত নারী স্বাধীনতা সমাজকে নরকে ডুবায়। আমরা আধুনিক বিশ্বে নারীর মর্যাদা, নারীর সমান অধিকার রক্ষার্থে নারী আন্দোলনে যোগ দিয়ে আসছি। ইসলাম নারীকে সমহারে মর্যাদা দান করার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছে অথচ আল্লাহ কোন নারীকে নবী বা রাসূল রূপে দুনিয়াতে পাঠাননি। পশ্চিমা বিশ্বে নারীকে স্বাধীনতা দিয়েছে, ৯১১ কল দেয়ার সুযোগে ৬৫% তালাকের কোঠায় নারী তার অধিকার গ্রহণ এবং হরণ করছে। পুরুষ যদি নারী অধিকার হরণ করে তাহলে ৯১১ কল করে তাকে জেলে দেয়া যায়, কিšু‘ নারী যখন পুরুষকে নির্যাতন নিপীড়ন এবং পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয় তখন পুরুষ নির্যাতনের বিধান কোথায়?

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক তালাকের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কেননা মোটা অংকের কাবিন নিয়ে নারী তিন মাস না যেতেই মামলা এবং কাবিনের মোহরানা এখন বিরাট ব্যবসা। অতীত সরকার নারীর নির্যাতন আইন এবং কবিননামার মোহরানা স্ত্রীর অধিকার বলে আইন পাশ করে পুরুষ নির্যাতনের কায়দা করে দিয়েছে অথচ দিন দিন নারীর দ্বিচারীনী ব্যাস্যাবৃত্তির কোন বিধান আইনে নেই, তাই উচ্চ আদালতে হাজার হাজার মামলা ঝুলছে। নারী বর্তমানে আইনের ফাঁকে বেপোরোয়া, বেগতিক পুরুষ নির্যাতনে মারমূখী হয়ে উঠছে। অতএব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট নারী নির্যাতনের পাশাপাশি পুরুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন পাশ করে দুষ্ট নারীদেরকে সোজা করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।

লেখক সভাপতি, ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভলপমেন্ট ইউএসএ
৩৪৭-৪৭৬-৯৪২৪


মানবতার পাশে দাঁড়ালেন প্রধানমন্ত্রী--- এস ই ইসলাম

বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে কক্সবাজার এসে সেখানে থেকে উখিয়ার কুতুপালংয়ে আশ্রিত ও শরণার্থী-ক্যাম্প পরিদর্শণ কালে বক্তব্য রাখেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘আমরা সকল দেশের সঙ্গে সু-সর্ম্পক রাখতে চাই। নির্যাতন বন্ধ করুন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিন’। আর রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে করে বললেন, ‘যতদিন তারা নিজ দেশে ফিরতে পারবেনা ততদিন বাংলাদেশ তাদের পাশে থাকবে’। ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ইং তারিখ আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পরিদর্শণ কালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বোন শেখ রেহানা মিয়ানমারের বর্বরতার কাহিনী শুনে কাঁদলেন।
আর্ন্তজাতিক ভাবে পূর্ব কোন সমর্থন ও প্রতিশ্রুতি না পেয়েও বাংলাদেশ সরকার আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাজেশন (এ আর এন ও) মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত ও বিতাড়িত বিপুল সংখ্যক (প্রায় ৫ লাখ) রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে সংগঠনটি। এক বিবৃতিকে তারা জানিয়েছেন, আমাদের মতো অসহায় এক জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারময় মুর্হুতে মানবতার প্রথম হাতটি বাড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিরাপত্তা বিধানে সকল ব্যবস্থা করবেন এবং কুটনীতিক সহায়তার মাধ্যমে তাদেরকে নিজ দেশ ফিরে যাবার ব্যবস্থা চলছে।
রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার জন্য বলেছেন, ‘আমি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। নাগরিকত্বের অধিকারসহ সব ধরনের অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত। এই জন গোষ্ঠীর অস্তিত্বের সঙ্কট, নিষ্ঠুরতা এবং উৎখাতের শিকার সিমান্ত দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসার কারনে বাংলাদেশ এ সমস্যায় সরাসরি আক্রান্ত। একমাত্র মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকার। এই সমস্যার কারনে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা স্মরণার্থীদের সবাইকে একত্রে ও এক সাথে করে সন্ধীপের কাছে ঠেঙ্গারচরে সাময়িক ভাবে আশ্রয় দেয়া হবে। এ লক্ষে ইতোমধ্যে সরকার থেকে প্রায় ১০ হাজার একর জমি শনাক্ত করা হয়েছে। মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, থাকার ব্যবস্থা করা হবে। এরই সাথে বিশ্ববাসীকে জাগ্রত করতে কুটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বর্তমানে আপাতত রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার উখিয়া অঞ্চলে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে চলমান জাতিগত নিপীড়নের মুখে পালিয়ে আসা পাঁচ লাখের বেশী মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ইতিমধ্যে। গত ২৪ আগষ্ট রাখাইন পুলিশ পোষ্ট ও সেনা ক্যাম্পে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশণ আর্মির হামলার পর সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল নেমেছে। জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের ধারনা এবার প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা এ পর্যন্ত বাংলাদেশে এসেছে। লেখক নিজেই এই ঘটনায় কবলিত রোহিঙ্গাদের স্বচোখ্যে দেখে এসেছেন।
মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া তো দুরের কথা রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক হিসাবে মেনে নিতে ও তারা রাজি নয়।
রবিবার কাজাখস্থানের রাজধানী অস্তনার রাষ্ট্রপতি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ, এরদোগানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি ‘সেফ জোন’ করে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের থাকার ব্যবস্থা করার জন্য বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানান।
দক্ষিণ আফ্রিকার বনবাদ বিরোধী নেতা ডেসমন্ড টুটু। মিয়ানমারের নেত্রী নোবেল বিজয়ী অং সান সূচির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এই ধর্মযাজক এক খোলা চিঠিতে বলেছেন বাধক্য আমাকে গ্রাস করেছে। আমি এখন জরা গ্রস্ত। সব কিছু থেকে অবসর নিয়েছি, আর কিছু বলব না। কিন্তু আজ তোমার দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের গভীর সঙ্কটে সেই নীরবতা আমি ভাঙ্গছি। ৮৫ বছর বয়সী টুটু দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে সবকিছু থেকে দূরে রেখেছেন। তিনি প্রোষ্টেট ক্যান্সারের ভূগছেন প্রায় দুই দশক ধরে।
সূচীর উদ্দেশ্যে টুটু লিখেছেন হে, ‘আমার ভগ্নি মিয়ানমারের রাজনৈতিক ক্ষমতার শিখরে পৌঁছানোই যদি তোমার নীরবতার কারন হয়ে থাকে তার জন্যই সত্যিই বড় বেশী দাম দিতে হচেছ। আমার প্রার্থনা তুমি ন্যায় বিচারের পক্ষে মুখ খোল। মানবতার পক্ষে কথা বলো। দেশের মানুষের ঐক্যের কথা বলো। আমরা প্রার্থনা করি যাতে তুমি হস্তক্ষেপ কর’।
রাখাইনে চলমান সহিংসতার জন্য মুসলিম বিশ্বের তীব্র সমালোচনা সইতে হচ্ছে। গণতন্ত্রের ত্যাগের স্বীকৃতি হিসাবে ১৯৯১ সালে নোবেল পুরষ্কার জয়ী সূচির দল এখন মিয়ানমারের ক্ষমতায়।
বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ট মিয়ানমারের যুগ যুগ ধরে নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানের বিষয়ে নীরবতার কারনে পশ্চিমা বিশ্বে সুচীর কড়া সমালোচনা হচ্ছে। এমন কি তার নোবেল পুরষ্কার কেড়ে নেওয়ার দাবী তুলেছে কেউ কেউ। জয় হোক বিশ্ব মানবতার এটিই আমাদের কাম্য।

তুমি শুধু আমার
লেখক: এস ই ইসলাম

নদী তুমি স্বপ্ন হয়ে এসো,
আমার নয়ন তারায় বসো।
আমি তোমারই তোমারই,
তুমি শুধুই আমারই।
যখন তখন আমার প্রানে,
কাছাকাছি শুধু শুনি।
তোমার চলার শব্দের প্রতিধ্বনি,
বিভোর হয়ে হারিয়ে যাই।
তোমার চুলের সুবাসে,
ফিরে পাই সেই প্রভাতের।
স্পর্শ খানি ম্লান শেষের।
তুমি শুধুই আমারই,
নদী তুমি স্বপ্ন হয়ে এসো,
আমার নয়ন তারায় বসো ॥
মুক্ত ঝড়া হাসির বদন,
ব্যকুল করে আমায় যখন।
আমি তখন ভাবি,
তুমি শুধুই আমারই।
নদী তুমি স্বপ্ন হয়ে এসো,
আমার নয়ন তারায় বসো,
তুমি শুধু আমারই ॥
হাতটি বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেখবো
অনেক যতনে ঘুম পাড়িয়ে দিবো
কপোলে চুমে বলবো
নদী তুমি শুধু আমারই,
আমি তোমাইর তোমারই।

হাচার হাফিজুর রহমান
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস