logo

শতবাষির্কীতে রায়পুর এল, এম, পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়

সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৬

আলম শাইন : দেড়যুগ অবধি দেশের প্রথম শ্রেণীর জাতীয় দৈনিকগুলোতে লিখছি। লিখতে হচ্ছে দেশের বাইরের কয়েকটি খবরের কাগজেও। দু’হাতে লেখা বলতে যা বুঝায়, সেটিই করছি আমি। প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন কাগজে লিখতে হচ্ছে আমাকে। সাধারণত দু’টি কারনে লেখালেখি করছি। প্রথমত: জীবিকার তাগিদে। দ্বিতীয়ত: নেশার একটা ব্যাপার-স্যাপর জড়িত আছে তৎসঙ্গে। গল্প, উপন্যাস লেখার পাশাপাশি লিখতে হচ্ছে সমসাময়িক বিষয় নিয়েও। তন্মধ্যে বন্যপ্রাণী নিয়ে লিখতে হচ্ছে বেশি বেশি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বন্যপ্রাণীদের অবদান নিয়ে লিখে মানুষকে সচেতন করার প্রয়াসেই মূলত এ দিকটায় নজর দেয়া। তা ছাড়া এ বিষয়ে আরো উদ্বুদ্ধ হয়েছি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘বোষ্টন বাংলা নিউজ অ্যাওয়ার্ড’-এ ভূষিত হয়ে। ২০০৮ সালে জীবনধর্মী একটি উপন্যাসের জন্য ‘ড. মঞ্জুশ্রী’ পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছি। এ সব বলার উদ্দেশ্য শুধু একটিই, আর সেটি হচ্ছে আমি রায়পুর এল, এম, পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৮৭ইং ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলাম, আর সেই শিক্ষার্থীর সফলতাটা জানান দেয়া। ছাত্র হিসাবে খুব একটা ভাল ছিলাম না। আমার চেয়ে যারা অধিকতর ভাল ছাত্র ছিলেন, তারা নিশ্চয়ই আজ আকাশচুম্বী সাফল্য পেয়েছেন, যার তুলনায় আমি হয়তো নস্যি। তার পরও বলবো আজকের এ জায়গায় আশার মূলমন্ত্রটি কিন্তুু আমাকে শিখিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ। আর হ্যাঁ, বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর কথাটা না বললেই নয়। ওই রুমটায় পদচারণা না থাকলে হয়তো আজ নামের শেষে বিশেষণগুলো যোগ হতো না। ঋৃণী তাই আমি সবার কাছে। স্কুলের শিক্ষক এবং দপ্তরী থেকে শুরু করে ইট-সুড়কির ভবনটার কাছেও ঋৃণী আমি।

Alam Sahin
প্রিয় পাঠক, ছোট ভাইতুল্য ¯েœহভাজন আলমগীর হোসেন-এর পীড়াপীড়িতে লেখাটির অবতারনা। আলমগীরকে বলেছি নিজ বিদ্যালয় সম্পর্কে লেখার সাহস আমার নেই। কি রেখে কি লিখবো কিংবা কোন স্যারকে বাদ দিয়ে কোন স্যারকে নিয়ে লিখবো তা আমার কাছে কঠিন পরীক্ষা মনে হচ্ছে। আলমগীর নাচোড়বান্দা লিখতে-ই হবে কিছু না কিছু। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক লেখার চেষ্টা করলাম তাই।
জানি রায়পুর এল,এম, পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় সম্পর্কে ঢাকঢোল পিটিয়ে বলার তেমন কিছু নেই। এটি শুধু লক্ষ্মীপুর জেলাই নয়, বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার মধ্যে অন্যতম একটি স্কুল। স্কুলটি স্থাপিত হয়েছে ১৯১১ সালে। রায়পুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে স্কুলটি দাঁড়িয়ে আছে। যার সামনে দিয়ে চলে গেছে রায়পুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কটি। এতে করে শিক্ষার্থীদের যাতায়তের সহজ মাধ্যম তৈরি হয়েছে। তাই নি:সন্দেহে বলতে পারি বিদ্যালয়ের অবস্থানটি আদর্শস্থান দখল করে আছে। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত রাখতে স্থানটি যথেষ্ট সহায়কও। এ ছাড়াও রয়েছে স্কুলটির নান্দনিক দর্শন। যার ফলে একটি অমনোযোগী শিক্ষার্থীও স্কুলের সান্নিধ্যে এসে নিজদেরকে গড়ে তোলার মোক্ষম সুযোগ পেয়ে যায়। যার প্রমাণও রয়েছে ভূরিভূরি। এসএসসি-তে বারাবরই ভাল রেজাল্ট করছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যখন স্কুলে ভর্তি হয়েছি তখন থেকে আজ অবধি শুনে আসছি বিদ্যালয়ের জয় জয়কার। নিজ সন্তানদেরকে শুনিয়ে আত্মতৃপ্তি বোধকরি তা। রায়পুরে অবস্থান করলে অবশ্যই সন্তানদেরকে এ স্কুলের শিক্ষার্থী হিসাবে দেখার সুযোগ হতো আমার। সে সুযোগটি হাতছাড়া হওয়াতে বিষণœতায়ভোগী মাঝে মাঝে। তাই বলছি প্রাক্তন শিক্ষার্থী ভাইদেরকে যাদের অবস্থান রায়পুরে তারা যেন এ ভুলটি না করেন। আমরা চাই বংশ পরম্পরায় এই ঐতিহাসিক স্কুলটির ছাত্র হয়ে থাকতে।
সর্বশেষ বলতে চাই, এমন একটি ঐতিহাসিক স্কুলে পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে বিধায় গর্বিত আমি। যে স্কুলটির ‘শতবার্ষিকী অনুষ্ঠান’ পালিত হচ্ছে আজ ঘটা করে। যার জন্যে আরো সুভাগ্যবান মনে হচ্ছে নিজকে যে, বার্ষিকীটা দেখার সুযোগ হয়েছে মধ্যবয়সে এসেই।  
লেখক: আলম শাইন, কথাসাহিত্যিক, কলামিষ্ট, বন্যপ্রাণী বিশারদ ও পরিবেশবিদ। এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।


Copyright © 2010 Boston Bangla Newspaper.