logo

বাংলা ভাষা নিয়ে নতুন প্রজন্মের ভাবনা

সোমবার, ১৫ মে ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,আয়েশ আক্তার রুবি,বাপ্‌স নিউজ : শনিবার নিউইয়র্কে সারাদিন ছিল অঝোর ধারায় বৃষ্টি, সাথে ঝড়ো হাওয়া। এই বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে শতাধিক শিশু – কিশোর ও তাদের অভিভাবকেরা সমবেত হয়েছিল জ্যাকসন হাইটসের পাবলিক স্কুল ৬৯-এ।

Picture

এখানেই আয়োজিত হয়েছিল প্রথম আলো (উত্তর আমেরিকা)-র সহায়তায় ও মুক্তধারার উদ্যোগে সারাদিন ব্যাপী শিশু-কিশোর মেলা। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মেলায় নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও আলোচনার মাধ্যমে আমেরিকা প্রবাসী বাঙালিদের মাঝে তৈরী হয়েছে এক নতুন ইতিহাস। 

alt

পেছন থেকে আহ্বায়ক হাসান ফেরদৌস এর নেতৃত্বে মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের একদল কমী কাজ করলেও মূলত পুরো দিনের অনুষ্ঠানটি আগা-গোড়া অংশগ্রহণ ও পরিচালনা করে আমেরিকায় বেড়ে ওঠা-শিশু-কিশোররা। ইতিপূবে প্রবাসের নতুন প্রজন্ম বিভিন্ন সংগঠনের অনুষ্ঠানে অংশ্রগহণ করলেও এভাবে ইতিপূবে কখনো এমনটি ঘটেনি বলে তারাই তাদেরে বক্তব্যে উল্লেখ করেছে। বাংলা ও ইংরেজী দুই ভাষাতেই্ প্রায় পুরো অনুষ্ঠানটি পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পবে উঠে আসে বাংলা ভাষা নিয়ে নতুন প্রজন্মের ভাবনা।

alt

সকাল থেকেই ভিড় জমে যায় আগ্রহী প্রতিযোগীদের।  ঠিক দুপুর বারোটায় সাতটি ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে সকল প্রতিযোগীকে বয়সানুক্রমে বিভক্ত করে শুরু হয়ে যায় প্রতিযোগিতা। সবচেয়ে বেশি প্রতিযোগী ছিল ছবি আঁকা বিভাগে। মূল মঞ্চের ওপর উপুড় হয়ে বসে গভীর মনোযোগে দিয়ে তারা যখন ছবি আঁকছিল, মনে হচ্ছিল ঢাকায় কচিকাঁচার আসরের শিশু মেলা।  ছবির বিষয়বস্তু আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল – বাংলাদেশের পতাকা, শহীদ মিনার ও বাংলাদেশের গ্রাম। 

alt

এছাড়াও ছিল কবিতা আবৃত্তি, গান ও নাচ। আরো ছিল গল্পবলা প্রতিযোগিতা, ছোটদের জন্য প্রিয় রূপকথা, বড়দের জন্য মুক্তিযুদ্ধের গল্প। এদেশে বড় হওয়া ছেলেমেয়েদের ভাষা সমস্যার কথা মাথায় রেখে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে অধিকাংশই হয় বাংলায়, নয়ত বাংলা-ইংরেজি মিলিয়ে রচনা লেখায় বা গল্প বলায় অংশ নেয়।

alt

প্রায় ছয় ঘন্টা ধরে প্রতিযোগিতা চলার পর শুরু হয় পুরষ্কার বিতরণ। বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন বিজয়ী প্রতিযোগীদের হাতে পুরষ্কার ও সনদপত্র তুলে দিতে। সব গ্রুপের সেরা প্রতিযোগীরা যখন সবাই মঞ্চে জামাল উদ্দিন হোসেন ও মেলার অন্যান্য ব্যবস্থাপকদের নিয়ে ছবি তোলার জন্য ঘিরে দাঁড়ায়, শিশুদের মুখে তখন ছিল উল্লাস, তাদের পিতামাতার মুখে গর্ব।

alt

সন্ধ্যায় ছিল বিজয়ী প্রতিযোগী ও অতিথি শিশু তারকাদের অনুষ্ঠান। এই পর্বটি পরিচালনা করে দুটি কিশোর ও কিশোরী।  সন্ধ্যার অপর প্রধান আয়োজন ছিল শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে 

alt

একটি উন্মুক্ত আলোচনা, যার বিষয়বস্তু ছিল, বাবা-মা আমাকে বোঝে না। বিপুল কলরব ও হৈ-হুল্লোড়ের ভেতর দিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোররা খোলামেলা ভাবে পিতামাতার সাথে তাদের প্রজন্মগত ব্যবধানের সংকটের চিত্রটি তুলে ধরে। অভিভাবকেরাও ছেলেমেয়েদের কাছে তাঁদের প্রত্যাশার কথা বলেন। অধিকাংশ শিশু-কিশোর বক্তা অবশ্য একথায় একমত হয় যে বাবা-মায়ের কাছ থেকেই তারা বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের ইতিহাসের গল্প শুনেছে। সেজন্য তারা কৃতজ্ঞ, একথাটা তারা নিজেদের মত করে জানায়।

alt

উল্রেখ্য, ১৯৯২ সাল থেকে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত বইমেলায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে বাংলা লেখা, চিত্রাঙ্গণ প্রতিযোগিতা চালু হয়। ২৫ বছর পর এবারই প্রথম বইমেলার আগের সপ্তাহে অনিুষ্টিত হলো শিশু-কিশোর মেলা।

alt

আগামি ১৯ থেকে ২১ মে পযন্ত চলবে নিউইয়ক বইমেলা ও আন্তজাতিক বাংলা উৎসব। এই উৎসব উপলক্ষে যোগ দিচ্ছে ঢাকা, কলকাতা, ইউরোপ থেকে বিভিন্ন অতিথিবৃন্দ।


Copyright © 2010 Boston Bangla Newspaper.