logo

হাসানুর রহমানের ৭১তম জন্মতিথি ২২ আগস্ট

শুক্রবার, ০৪ আগস্ট ২০১৭

হাকিকুল ইসলাম খোকন,বাপসনিউজ:আগামী ২২ আগস্ট মংলবার নাটোরের কৃতি সন্তান নিউইয়র্ক প্রবাসী সুপরিচিত প্রবীণ শিশু সাহিত্যিক হাসানুর রহমানের ৭১তম জন্মতথি আগামী ২২ আগস্ট মংলবার।ইংরেজি ১৯৪৬ সালের ২২ আগস্ট (৫ ভাদ্র, ১৩৫৩ বাংলা) বাংলাদেশের নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার অন্তর্গত ছায়াঘেরা ঘুঘু ডাকা লালোর গ্রামের দারোগা বাড়ি‘র সুপরিচিত শিরি পরিবারে তাঁর জন্ম। হাসানুর রহমান মাত্র দু‘বছর দু‘ মাস বয়সকালে তাঁর মমতাময়ী মা‘কে হারান। মাতৃস্নেহ বিবর্জিত এই শিশুটি বেড়ে ওঠেন অব্যক্ত মানঃকষ্টের মধ্য দিয়ে।

কৈশোরই লেখালেখি শুরু করেন পঞ্চাশের দশকের শেষ দিক থেকে। তাঁর ‘খোকার সাধ‘ শিরোনামের প্রথম কবিতাটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ সালের ২০ নভে¤¦র ঢাকার দৈনিক ইত্তেফাকের ‘কচি কাঁচার আসরে‘। ষাটের দশক ছিল শিশু সাহিত্যিক হাসানুর রহমানের লেখালেখির সোনালী যুগ। এই দশকে তাঁর অসংখ্য কবিতা, ছড়া, কিশোর কবিতা, রূপকথা, নিবন্ধ, ছোট গল্প, বরণীয় মনীষীদের স¥রণীয় কথা, একাংকিকা, ইত্যাদি ইত্তেফাক ‘কচি কাঁচার আসর‘, আজাদ ‘মুকুলের মাহ্ফিল‘, সংবাদ ‘খেলাঘর‘, মাসিক আলাপনী, মাসিক ‘খেলাঘর‘, মাসিক ‘মধুমেলা‘, মাসিক ‘রংধনু‘, মাসিক ‘মুকুল‘, মাসিক ‘টাপুর-টুপুর‘, মাসিক ‘কচি ও কাঁচা‘, মাসিক ‘সবুজ পাতা‘, মাসিক দিলরুবা‘র ‘সবুজ সংঘ‘, সাপ্তাহিক পাকিস্তানী খবরের ‘কিশোর মেলা‘য়, ইত্যাদিতে নিয়মিত প্রকাশিত হত।

তখনকার রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্রের ছোটদের আসরে প্রচারিত হয় তাঁর চারটি শিশুতোষ নাটিকা। ১৯৬২-৬৪ সালে কুষ্টিয়ায় থাকাকালীন কুষ্টিয়া হতে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ‘যোগাযোগ‘ পত্রিকার শিশু সাহিত্য পাতা ‘খেয়াল খুশির আসর‘ পরিচালনা করেন।

alt

হাসানুর রহমান বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শিশু-কিশোর সংগঠন কচি-কাঁচার মেলার সাথেও জড়িত ছিলেন। ১৯৬০-৬১ সালে নোয়াখালীতে থাকাকালীন নোয়াখালীর মাইজদীতে ‘মৌমাছি কচি-কাঁচার মেলা‘ গঠন করেন এবং ১৯৬২-৬৪ সালে কুষ্টিয়া থাকাকালীন সময়ে কুষ্টিয়া ‘কোরক কচি-কাঁচার মেলা‘ প্রতিষ্ঠা করে এর সর্বপ্রথম আহবায়ক (১৯৬২-৬৩) নির্বাচিত হন। এসএসসি পাশ করেন ১৯৬৩ সালে কুষ্টিয়া জেলা ¯কুল থেকে এবং এইচএসসি পাশ করেন ১৯৬৫ সালে পিতার তৎকালীন কর্মস্থল বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে। ১৯৬৫-৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুললাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র থাকাকালীন বিপুল ভোটাধিক্যে এই হলের প্রথম বর্ষ ছাত্রদের সাং¯কৃতিক সংগঠন ‘সমন¦য়‘ -এর সভাপতি নির্বাচিত হন।জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত ড. একে আবদুল মোমেনকে বিজিত করে একই বছর বাংলা নববর্ষে এই হলের ছাত্রদের তরফ থেকে তাঁকে ‘লিডার অব দ্য কালচারাল রিভোলিউশন‘ নামে আখ্যায়িত করা হয়।
১৯৬৬-৭০ সালে হাসানুর রহমান ঢাকার অধুনালুপ্ত শিল্পী-সাহিত্যিক গোষ্ঠ ‘পূর্বাশা‘র  দফতর সম্পাদক ছিলেন। একই সময়ে ঢাকায় শান্তিবাদিী সংগঠন ‘এক ঝাক পায়রা‘ র সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ হতে কৃতিত্বের সাথে ১৯৬৮ সনে সম¥ান সহ বিএ এবং ১৯৬৯ সালে এমএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।


১৯৬২-৬৪  সালে কুষ্টিয়ায় অবস্থানকালে তিনি কুষ্টিয়ার তৎকালীন সাপ্তাহিক ‘যোগাযোগ‘ পত্রিকার শহর সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি  ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবেও  ঢাকার বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রের সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৭২ সালে প্রয়াত আবুল বাশার মৃধার সম্পাদনায় প্রকাশিত ঢাকা অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক সমাজ‘ পত্রিকার সাব-এডিটর হিসেবে কাজ করেন। অতঃপর পাট ও গ্যাস সেক্টরে পর্যায়ক্রমে খুলনা ও কুমিললায় তের বছর কাটিয়ে ১৯৮৬ সালে নভে¤¦রে ঢাকায় ফিরে এসে আবার লেখালেখি শুরু করেন।

অকাল প্রয়াত মা দৌলতুন নেসা শিরি‘র একমাত্র সন্তান হাসানুর রহমান স্নেহময়ী মায়ের স¥ৃতিকে জাগিয়ে রাখতে ১৯৯২ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মহানগরীতে প্রতিষ্ঠা করেন প্রতিষ্ঠা করেন শিশু সাহিত্য ও সাং¯কৃতিক সংগঠন ‘শিরি শিশু সাহিত্য কেন্দ্র‘। ঢাকার কেন্দ্রীয় শাখা ছাড়াও আমেরিকার নিউইয়ার্ক মহানগরীতে সংগঠনটি শাখা  গঠন হয়েছে ৩১ মে ১৯৯৮ সনে।
হাসানুর রহমানের স্ত্রী পারভীন রহমান ঢাকার ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তনের ডিপ্লোমা প্রাপ্ত (১৯৭৯) একজন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী। সত্তরের দশকে ছায়ানটের বিদ্যার্থী ও শিল্পী হিসেবে ঢাকার রমনার বটমূল এবং বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে সংগীত পরিবেশন করেছেন অনেকবার। হাসানুর রহমান নব্বই দশকের গোড়ার দিকে সপরিজনে নিউইয়র্কে আগমন করেন। এখানেও শিশু সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি তিনি  সাংবাদিকতার সাথে জড়িত রয়েছেন। তাঁর এ যাবৎ প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ১৩টি। এগুলো হলো-
১। চুমকি (ছড়া) ১৯৮৯ ইং,
২। একাত্তরের কথা (স¥ৃতি কাহিনী) ১৯৯০ ইং,
৩। বিবিজানের ডায়েরি (রম্য কাহিনী) ১৯৯০ ইং,
৪। ওরা ক‘জনা মুক্তিসেনা (কীর্তিময় মুক্তিযোদ্ধার গল্প) ১৯৯১ ইং,
৫। আল্পিনাপিন্ (ছড়া) ১৯৯২ ,
৬। বরণীয়দের স¥রণীয় কিছু ১ম খন্ড ১৯৯৫ ইং,
৭। সোনারঙ পাখি (উপকথা/রূপকথা) ১৯৯৭ ইং,
৮। ক্যামেরাপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী (জীবনালেখ্য) ২০০২ ইং,
৯। বরণীয়দের স¥রণীয় কিছু ২য় খন্ড ২০০৫ ইং,
১০। নাটোরের বনলতা সেন ২০০৯ ইং,

১১। নিশি ভিলা (ছড়া /কবিতা)২০১৫ইং,
১২। দুধে আলতা  (ঊপকথা/রুপকতা)২০১৫ইং,
১৩ ।তুতু বাবা  (গল্প  )২০১৬,
সৃজনশীল প্রতিভার স¦ীকৃতিসুরূপ  হাসানুর রহমান  হাজী মোহাম¥দ মহসিন স¦র্ণপদক ১৩৯৭ বাংলা, ভাস্কর নাট্যদল মিলেনিয়াম পুরস্কার ২০০০ ইং, খাজার স¥ৃতি পাঠাগার ফেলোশীপ ২০০২ ইং, প্রক্লেসেশন অব এপ্রেসিয়েসন (বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোকেপ্সি, নিউইয়র্ক প্রদত্ত) ২০১০ পুরস্কার পেয়েছেন। সাংবাদিকতা চর্চার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সাং¯কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের সাথেও জড়িত রয়েছেন।
একজন সাংবাদিক হিসেবেও হাসানুর রহমানের অনন্য ভূমিকা রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। ১৯৬২-৬৪ সনে পিতার তৎকালীন কর্মস্থল কুষ্টিয়ায় থাকাকালীন কুষ্টিয়ার অধুনা লুপ্ত সাপ্তাহিক যোগাযোগ পত্রিকার শহর সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা করেছেন তৎকালীন ঢাকার বেশ কয়েকটি সংবাদপত্রে। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের পর ঢাকার অধুনালুপ্ত দৈনিক ‘সমাজ’-এ সাব-এডিটর হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন। এরপর ১৯৯৬ সনের আগষ্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্ক মহানগরীতে প্রবাসী হবার পর এখানকার বাংলাদেশ কম্যুনিটির অন্যতম আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থ্ া‘বাপসনিউজ’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে অদ্যবধি সমাসীন আছেন। একাত্তোর বছরের প্রবীণ মনীষা হাসানুর রহমান আরো অনেক-অনেক বছর বেঁচে থাকুন এই আমাদেরও কামনা।

হাসানুর রহমানের পিতা প্রয়াত এ এফ সামসুর রহমান বৃহত্তর ঢাকা জেলার (বর্তমানের ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার সমন¦য়ে) এককালীন জেলা জজ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সর্বপ্রথম সলিসিটর (১৯৭২-৭৬) ছিলেন। নাটোরের কৃতি সন্তান হাসানুর রহমান দুই ছেলের জনক। বড় ছেলে বাজীর রহমান একজন তরুণ গীতিকার, সুরকার ও কন্ঠশিল্পী। ছোট ছেলে প্রকৌশলী আশেক রহমান নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।  ।


Copyright © 2010 Boston Bangla Newspaper.