logo

নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী = জেএফকে এয়ারপোর্ট স্লোগানে মুখরিত

সোমবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭

alt

হাকিকুল ইসলাম খোকন: বাপ্ নিউজ : নিউইয়র্ক থেকে :প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনে যোগদানের লক্ষ্যে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ইতিহাদ এয়ারওয়েজের বিমানটি নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে স্থানীয় সময় ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪ টা ৩৫ মিনিটে পৌঁছায়।

alt

প্রধানমন্ত্রী শনিবার বিকেলে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পররাষ্ট্রীমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ।

alt

এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত এম জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বিমান বন্দরে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় অত্যন্ত প্রফুল্ল এবং হাস্যোজ্জল ছিলেন শেখ হাসিনা। স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি সকলের কুশলাদিও জানতে চান।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক আগমনে উৎসবমুখর হয়ে ওঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে বাঙালী অধ্যুষিত নিউইয়র্ক। স্থানীয় সময় ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪ টা ৩৫ মিনিটে ইতিহাদ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বড় সফরসঙ্গী দল নিয়ে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর এক/দেড় ঘন্টা আগ থেকে সেখানে বিভিন্ন ব্যানার পোস্টার হাতে নিয়ে বিমান বন্দর টার্মিনালে সমবেত হন আওয়ালীগ-বিএনপি’র হাজারো নেতা-কর্মী। তবে এবার আওয়ামী পরিবারের বিশাল উপস্থিতির কারণে স্বল্প সংখ্যক বিএনপি’র নেতা-কর্মীর কাল পতাকা প্রদর্শনের অস্তিত্ব ম্লান হয়ে যায়।
‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য গ্লোবাল পীচ-শেখ হাসিনা’, চ্যাম্পিয়ন অব আর্থ শেখ হাসিনা’, ‘চ্যাম্পিয়ন অব হিউম্যান রাইটস-শেখ হাসিনা’, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি-শেখ হাসিনা ওয়েলকাম’, ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘বিশ্বশান্তির অগ্রদূত-শেখ হাসিনা’ ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত অবস্থায় জেএফকে এয়ারপোর্টে দলীয় নেতা-কর্মীরা স্বাগত জানায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

এদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুর থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেএফকে এয়ারপোর্টের ৪ নম্বর টার্মিনাল ছিল প্রবাসীদের দখলে। শত শত প্রবাসীর হাতে ছিল শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর প্লেকার্ড-পোস্টার-ব্যানার। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ প্রভৃতি সংগঠনের ব্যানারে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত নারী-পুরুষেরা। 

alt

এয়ারপোর্ট থেকে প্রশাসনের নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি বহর সহ শেখ হাসিনা ম্যানহাটানে গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে উঠেছেন। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই হোটেলে অবস্থান করেই তিনি জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন। হোটেল লবিতে শেখ হাসিনাকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা জানান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ। এদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুর থেকে অপরাহ্ন সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেএফকে এয়ারপোর্টের ৪ নম্বর টার্মিনাল ছিল প্রবাসীদের দখলে। শতশত প্রবাসীর হাতে ছিল শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানানোর প্লেকার্ড-পোস্টার-ব্যানার। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ প্রভৃতি সংগঠনের ব্যানারে দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াও ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত নারী-পুরুষেরা। আগের মত এবারও বিএনপির পক্ষ থেকে জেএফকে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে কালো পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে সাড়া মেলেনি। ২৫/৩০ জনের মত জড়ো হয়েছিলেন কিন্তু আওয়ামী পরিবারের হাজারো প্রবাসীর উপস্থিতির কারণে কাল পতাকা প্রদর্শনের অস্তিত্ব ম্লান হয়ে যায়। যদিও বিএনপির হুমকি-ধামকির কারণে এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।

alt

স্বাগত-সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারমান নিজাম চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম ফজলুর রহমান, সহ-সভাপতি আকতার হোসেন, লুৎফুল করিম, শামসুদ্দিন আজাদ, সৈয়দ বসারত আলী, মাহবুবুর রহমান এবং আবুল কাশেম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুগ্ম সম্পাদিকা আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক আহমেদ, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, আব্দুর রহিম বাদশা, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, বাংলাদেশী আমেরিকান ডেমক্র্যাটিক লীগের সভাপতি খোরশেদ খন্দকার, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগের সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল কাদের মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সভানেত্রী ও মহানগর আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোর্শেদা জামান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, যুব সম্পাদক মাহাবুর রহমান টুকু, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক সোলায়মান আলী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাখাওয়াত বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা তারেকুল হায়দার, সেবুল মিয়া, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী মফিজুর রহমান, মাসুদ হোসেন সিরাজি ও আমিনুল ইসলাম কলিন্স, মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী মমতাজ শাহানা, সবিতা দাস প্রমুখ।

অপরদিকে, লন্ডন থেকে গ্রীণ সিগন্যাল না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অধ্যাপক দেলোয়ার-গিয়াস-জিল্লুর-বাবুল-বাতিন- জাকির-সাঈদ গ্রুপের কেউই জেএফকে এয়ারপোর্টে বিক্ষোভ কর্মসূচি গ্রহণ করেননি। এদের চ্যালেঞ্জ দিয়ে বাবু-মিল্টন-জসীম গ্রুপ জেএফকে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে কাল পতাকা প্রদর্শনসহ বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। কিন্ত তা সফল হয়নি। এক ধরনের হতাশায় এই গ্রুপের কর্মীরা জেএফকে ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। অপর গ্রুপের নেতৃবৃন্দ জানান, সাড়ে বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।


Copyright © 2010 Boston Bangla Newspaper.