logo

পুটিনের মাথায় বিশ্বসমর্থনের রাজমুকুট আসছে।আবু জাফর মাহমুদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি প্রকৃতই প্রাণের শক্তিতে আরো সজিব হতে দেখে নিজেই প্রাণশক্তিতে আরো প্রেরণা অনুভব করলাম।মার জাতির জন্যে লিখতে বসলাম।শারীরিক জোরের দিকে আর তাকেতে পারলামনা।ইচ্ছে হলোনা ওটা ভাবি।আল্লাহ্‌ তার সৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রাখার এই বৃষ্টি দেখিয়ে যেনো আমাকেই জানালেন,জীবনের জন্যে আমার দিকে তাকাও।আমিই তোমাদের সকলের স্রষ্টা এবং মৃত্যুর একমাত্র মালিক।আমিই একমাত্র শক্তি,আর কোন শক্তি নেই।সবই আমার ইচ্ছার ফসল।তোমরা যুদ্ধ বোঝ,পারমানবিক বোমা বুঝ-আমাকে বুঝোনা?  

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যে লাল সংবাদ ইজরাইলের রাস্তায় রাস্তায়।প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তার মন্ত্রীপরিষদের সবার দূর্নীতির বিরুদ্ধে রাজধানী তেলাবিবের একটানা নবম সপ্তাহের বিক্ষোভ চলছে।গত রাতের বিক্ষোভেও হাজার মানুষের মিছিলের আগ্নেয়গিরি ক্ষোভের উত্তপ্ত লাভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েছে।এখনো তিনি এবং তার বিভ্রান্ত খেলোয়াড়রা যেনো সাবধান হন।বিক্ষোভকারীরা বলেছেন এবং হাতে উত্তোলিত প্ল্যাকার্ডের ভাষায় জানিয়েছেন নিতানিয়াহু তার পরিবার এবং মন্ত্রীপরিষদের সকলেই দূর্নীতিগ্রস্থ এবং ভয়ানক অপরাধী।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ঘুষনেয়া,প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের।তাকে গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ করে চলেছে দুটি আলাদা মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে।এর একটি হচ্ছে;ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে নেয়া উপহারের নামে ঘুষ গ্রহণ এবং বিনিময়ে পত্রিকায় ভালো কভারেজ দেয়ার জন্যে পত্রিকার মালিকের সঙ্গে সম্পর্ক করে দেয়া। অপর মামলা হচ্ছে, জার্মানি থেকে সাবমেরিন কেনার ক্ষেত্রে দূর্নীতি।    

এই ক্ষমতাধর রাজনীতিকের বিরুদ্ধে দূর্নীতির অভিযোগ অনেক আগে থেকেই।দাগি দূর্নীতিবাজরূপে ইজরাইলে তিনি কুখ্যাতি পেয়েছেন এবং তাদের কাছে তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ভয়ানক অপরাধী।এই দেশে বড় দাগের রাজনীতিকরা বড় অপরাধী হয়েই থাকেন এবং এটা যেনো তাদের নৈতিকতার অংশ.২০১৪সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইহুদ ওলমার্টের বিরুদ্ধে আনীত ঘুষবৃত্তি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দেড় বছর জেলখাটতে হয়েছে।এখন নেতানিয়াহু তার স্ত্রী এবং মন্ত্রীদের গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি উঠেছে প্রবল বিক্ষোভে।  
Picture
আমেরিকার প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচিত হবার সময় রাশিয়ার সাথে দেশের স্বার্থ বিরোধী সমঝোতার অভিযোগ তদন্তরত সেরা গোয়েন্দাদেরকে একের পর এক বরখাস্ত করে তিনি এখনো ক্ষমতায় আছেন প্রবল সমালোচনার পরেও।তার একই পথের দোস্ত নেতানিয়াহুও ইজরাইলে ক্ষমতায় টিকে আছেন পরিবারশুদ্ধু দূর্নীতিগ্রস্থ হবার অভিযোগ কাঁধে নিয়ে।সেক্ষেত্রে তিনি আরো এগিয়ে আছেন কয়েকডিগ্রী।তার সমগ্র মন্ত্রী পরিষদকেই অপরাধী বলছেন বিক্ষোভকারীরা। সবার বিদায়ের মধ্যেই ইজরাইলে দূর্নীতির বিচার দেখতে চেখতে চেয়েছে তারা।   
নিজেরদের মহাঅপরাধগুলো ঢাকবার উপায় হিসেবে তারা  নিজেদের দেশের সেনাবাহিনীকে যুদ্ধে ব্যস্ত করে রাখছেন। আমেরিকার দীর্ঘকালের মিত্রদেরকে আমেরিকার শত্রুশিবিরে ঠেলে দিচ্ছেন অন্যদের সাথে নিজ নিজ হিসেব নিকেশের নয়া বিবেচনায়।পঞ্চাশদশকের শুরু থেকে আমেরিকার প্রধান মিত্র পাকিস্তান্র উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন। ভেবেছেন,ভারতের নয়া জঙ্গি শাসকদের সাথে নেতানিয়াহু ষ্টাইলে পীড়িত বাড়িয়ে আমেরিকার জনগণের মুখে টেপ লাগাবেন।অস্ত্র বিক্রয় করে লাভবান হয়েছে নেতানিয়াহু এবং তার দেশ।বিক্রীর কমিশনে লাভের মধু নেতানিয়াহু এবং মোদীর জিহবায় লেগেছে,আমেরিকার সাথে অস্ত্র কেনার চুক্তি করে যে চুক্তিভঙ্গ করে হোয়াইট হাউসকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছে তার কি হলো?জবাব কি হোয়াইট হাউসের?    

আমেরিকার নয়া ধরনের রাজনীতিকের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে কি পাকিস্তান হা করে থাকে?  তাতো নয়।নিজের হাঁটুর জোর থাকলে নয়াদিগন্ত উম্মোচনের ক্ষমতা মানব জাতির জন্যে স্রষ্টা নিজেই দিয়ে রেখেছেন।প্রশ্নটা হচ্ছে,কে কিসের উদ্দেশ্যে স্রষ্টার উপহার কাজে লাগায়।   

পাকিস্তান-চীন যৌথভাবে পাকিস্তানে তৈরী জে এফ-১৭ জঙ্গিবিমান থেকে দৃষ্টি সীমার বাইরে বিমান থেকে ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ’ এবং ‘ইনফ্রারেড’ ধীর গতির লক্ষ্যবস্তুর উপর সফল নিক্ষেপ করেছে ২ফেব্রুয়ারী শুক্রবার।পাক বিমানবাহিনী নিশ্চিত  করেছে এটি লক্ষ্যবস্তুকে যথার্থভাবে আঘাত করেছে। পাকিস্তানী সোনমিয়ানি ফায়ারিং রেঞ্জ থেকে ছোঁড়া এই বিমান উড্ডয়ন করেছিলো।    

পারমানবিক অস্ত্রের অধিকারি মুসলমান দেশ পাকিস্তানকে আফগানিস্তানের সাথে বিবাদে জড়িয়ে ব্যস্ত রেখে মধ্যপ্রাচ্যে মুসলমান দেশগুলোয় যুদ্ধের দামামার আওয়াজ তুলে নেতানিয়াহুদের পক্ষে আমেরিকাকে ঝুঁকিতে ফেলছেন প্রেসিডেণ্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ইরানের ইসলামী গার্ড বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন সালামি বলেছেন, শিগগীরই আমেরিকা ইসরাইল,সৌদি আরব এবং তাদের মিত্রদের পতন হবে।ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশের উরমিয়া শহরে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

এদিকে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর ফিলিস্তিনি হামাসের রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে কথিত সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।৩১জানুয়ারী তিনি এই সিদ্ধান্ত জারি করেন।তুরস্ক ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করে বলেছেন,তার এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি ও সঙ্ঘতি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করবে।আরো বলেছেন,ট্রাম্পের এই ঘোষণা জেনেও আঙ্কারা হামাসকে দেয়া মানবিক সহায়তা চালু রাখবে এবং গাজায় উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ফেব্রুয়ারী শুক্রবার লেবাননের হিজবুল্লাহকেও কালোতালিকাভুক্ত ও নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং  পররাষ্টমন্ত্রণালয় বিব্ব্রিতি দিয়েছে একইদিন।মার্কিণ পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে,হামাসের সামরিক শাখা যারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করছে তাদের সঙ্গে হানিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।ইসমাইল হানিয়া ইসরাইলের নাগরিক হত্যায়ও জড়িত বলেও দাবি মার্কিণ পররাষ্ট্র দফতরের।

হোয়াইট হাউস ৩ফেব্রুয়ারী বিবৃতিতে বলেছে,নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় বাণিজ্য বন্ধ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থা হয়েছে।


Copyright © 2010 Boston Bangla Newspaper.